খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

arrest-jug_54490_1502082987.jpg

কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেহেরুন নেছা নামে চট্টগ্রামের এক শিল্পপতির স্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। ঋণ খেলাপীর ৯ মামলায় তাকে গ্রেফতারের পর ইমিগ্রেশন পুলিশ চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

গ্রেফতারকৃত মেহেরুন চট্টগ্রাম নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারের নবী দোভাষের মেয়ে এবং বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলমগীর ফেরদৌস খানের স্ত্রী তিনি।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রনব চৌধুরী জানান, সোমবার বিকেলে গ্রেফতারের পর ওই নারী ব্যবসায়ীকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। খেলাপী ঋণের তিনটি মামলায় মেহেরুন নেছার সাজা হয়েছে। সাজামূলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। আরও ৬টি মামলায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত পরোয়ানা আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছিলেন।

ওসি বলেন, ‘আমরা তার বিরুদ্ধে পরোয়ানার বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলাম। বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশনে তাকে আটক করা হয়।’

বাগদাদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তানভীর খান বলেন, ‘মেহেরুন নেছা বাগদাদ গ্রুপ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো পদে নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্যও তিনি কোনো ঋণ নেননি। ব্যক্তিগত কাজে তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আমি যতদূর জানি, ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি দেড় কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই।’

he3xs.jpg

টেস্টার দিয়ে খুঁচিয়ে মিলন নামে এক যুবকের চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন লিমনের (১৮) পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১২ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করার পর আসামিরা বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে লিমনের পরিবার।

লিমন বাড়ি উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের বানিয়ারচালা রাজাবাড়ি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) মিলনের মা জাহানারা বেগম ও বড় বোন নাছরিন সংবাদমাধ্যমে জানান, রাজাবাড়ি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মামুন (২৩), মাজেদ দেওয়ানের ছেলে আলামিন (১৯) ও দাড়িয়াপুর গ্রামের লুলু হোসেনের ছেলে কবির হোসেনের (৩৫) সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল। প্রতিশোধ নিতে তারা মিলনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর গত ১২ এপ্রিল বিকালে মিলনকে মমিননগরের আলিম মুনসির বাসায় নিয়ে যান মামুন, আলামিন ও কবির। বাসার ছাদে নিয়ে মিলনের হাত-পা বেঁধে প্রথমে টেস্টার ঢুকিয়ে দুটি চোখ অন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

ওই সময় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আসামিরা মিলনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর পরিবারকে ফোন করে জানায়, মিলন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। মিলনের পরিবার হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়। মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিন, মা জাহানারা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে আসল ঘটনা জানতে পারেন।

মিলনের মা জানিয়েছেন, কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করা হলেও চোখ দুটি রক্ষা করা যায়নি।

ঘটনার পর মিলনের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মামুন, আলামিন ও কবিরকে আসামি করে গত ৯ মে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আসামি মিলনের পরিবারকে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে আসছে বলে অভিযোগ তাদের। এ অবস্থায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে মির্জাপুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামি মামুন ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি কবির পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

shafi2.jpg

সরকার দেশে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিশেষ কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবের অনুমতি দিয়েছে। উদ্যোক্তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে জামানত ছা্ড়াই ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম হবে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি’। এর অপরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে পরিশোধিত মূলধন থাকবে ২০০ কোটি টাকা।

স্টার্টআপে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়তে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে।

‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি’ থেকে স্টার্টআপদেরকে মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে সিড স্টেজে সর্বোচ্চ ১ কোটি এবং গ্রোথ গাইডেড স্টার্টআপ রাঊন্ডে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে। এই ঋণ পেতে উদ্যোক্তাদের কোনো জামানত দিতে হবে না।

মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, উদ্যোক্তারা আইডিয়া দিয়েই এই কোম্পানি থেকে টাকা পাবেন। ব্যাংকের লোন পেতে যে মর্টগেজসহ কতকিছু লাগে এখানে তার কিছুই লাগবে না। এখানে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার কত হবে তা কোম্পানি কাজ শুরু করলে ঠিক করা হবে।

তিনি জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান হবে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব। পরিচালকের সংখ্যা হবে ৭ জন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা পর্ষদে থাকবেন।

bazll.jpg

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী বজলুল হুদা’র কবরের এফিটাফে এখনও লেখা রয়েছে ‘শহীদ’ এবং ‘জাতীয় বীর’। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানালেও এখন পর্যন্ত নামফলকটি সংশোধন বা অপসারণ করা হয়নি।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যার পর কর্নেল ফারুককে ‘অল আর ফিনিশড’ বলে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন খুনি বজলুল হুদা। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর খুনি বজলুল হুদা এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‌‌‘শেখ মুজিবকে আমি নিজের হাতে গুলি করে মেরেছি। কার সাধ্য আছে আমার বিচার করে? এদেশে শেখ মুজিব হত্যার বিচার কোনোদিনই হবে না। সেদিনই এ দেশে শেখ মুজিব হত্যার বিচার হবে, যেদিন আমার হাতের তালুতে চুল গজাবে।’

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উল্লাস মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জিইয়ে রাখতে পারেনি বজলুল হুদা। ইতিহাসের নৃসংশ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শাস্তি তাকে পেতেই হয়েছে। ১৯৯৬ সালে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। এরপর সর্বোচ্চ আদালত আপিল ডিভিশনের রায়ের পর ২০১০ সালে এই খুনি বজলুল হুদাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

অথচ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া গ্রামে জাতির জনকের হত্যাকারী বজলুল হুদার কবরের এপিটাফে খোদাই করে লিখে রাখা হয়েছে শহীদ এবং জাতীয় বীর।

এদিকে সোমবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি উল্লেখ করে বিশ্ব সন্ত্রাস বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাবরা খান লিখেছেন, এই লজ্জা আমার, আপনার সবার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর খুনির কবরের নামফলকে এখনো ‌শহীদ এবং জাতীয় বীর উপাধি থাকায় তিনি চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গার আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধিক্কার জানান।

nur-du2-20190312200656.jpg

গতচৌদ্দ মাসে মোট আট বার ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন এসময় তিনি এসব হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট বুধবার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন ভিপি নুর। এসময় নুর ছাড়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা আহত হোন। পরে পুলিশ গিয়ে নুরকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে নুর তাঁর ওপর হামলাকারীদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিন। কারণ অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করে তার মুখ বন্ধ রাখা যায় না।

গত ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছেন উল্লেখ করে নুর বলেন, প্রতিবার প্রকাশ্যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতায় চেয়েও পাওয়া যায়নি। পুলিশের নিরব ভূমিকা ছিলো সন্ত্রাসীদের সহায়ক।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ, কিছুদিন আগেও বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি নিজেই বলেছেন, ‘সরকারের সমালোচনা করতেই বাধা নেই, দেশে ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।

একারণে আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, ভিন্নমতের মানুষের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। দেশে শাসন প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করুন।’

গত ১৪ আগস্টের ঘটনার দিন হামলার আশঙ্কায় গলাচিপা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও গলাচিপা থানার ওসি তাকে কোনো ধরণের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন নুর। তিনি বলেন, গত ১৪ আগস্ট পুলিশের উপস্থিতিতেও সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায় এবং পুলিশও আমার আত্মীয়-সমর্থকদের গ্রেফতারের হুমকিও দেয়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নগ্ন হামলা চালালেও ওসি হামলার কথা অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় আমি আমার প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছি।

অন্যায়ের-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন। আমি কোন অন্যায়- অপরাধ করিনি। শুধুমাত্র অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীরা বার বার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের স্বীকার হয়েছি।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নুর।

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘গত ১৪ আগস্ট চর বিশ্বাস থেকে আমার বোনের বাড়ি দশমিনা যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে পটুয়াখালী-৩ সংসদ সদস্য এস. এম শাহজাদা সাজুর নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ’র নেতৃত্বে তার ভাই নুরে আলম, লিটু পেদা, আব্বাস পেদা, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রণো, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক, উলানিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ফরিদ আহসান কচিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ আসিফ, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ, তূর্য্যসহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড, স্টীলের পাইপ ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় প্রায় ২০-২৫ জনকে আহত, ১০টি মটরসাইকেল ভাংচুর, দুটি ডিসএলআর ও ৮৯ হাজার টাকা ছিনতাই হয়।

তিনি বলেন, ‘অমি নিজে, রবিউল, ইব্রাহিম, জাহিদ, রিয়াজসহ পাঁচ জন গুরুতর আহত হই। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি আমাকে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছে।

ডাক্তার সিটি স্ক্যান ও ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করার জন্য বরিশাল মেডিকেলে রেফার করলেও সন্ত্রাসীরা এবং পুলিশ আমাকে জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

sena1.jpg

বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে রোববার সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দলের ওপর একই দিনে দু দুটো হামলার ঘটনায় উদ্বেগের পাশাপাশি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসিকে বলেন, তিনি এই হামলার ঘটনায় হতভম্ব হয়েছেন।

“শান্তি প্রক্রিয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরণের হামলার কথা আমি শুনিনি…হঠাৎ করে এই অ্যামবুশ,” বলেন ব্রিগেডিয়ার হোসেন যিনি নব্বইয়ের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন ব্রিগেড কম্যান্ডার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সেনাবাহিনীর ওপর বড় কোন হামলার কথা শোনা যায়নি।

তবে, গত প্রায় বছর-খানেক যাবত পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে পরপর বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং তার পরদিনই আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর গত কয়েক মাসে পরপর আরো কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেসবের পেছনে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইকেই দায়ী করা হয়।

ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এখন কারা কোন উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করলো?

রোববারের ঘটনা সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক লাইনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে কাউকেই সন্দেহ করা হয়নি।

তবে বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে একাধিক পর্যবেক্ষক অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন আরাকান আর্মি নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি রোববারের হামলা সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি হাতে পেয়েছেন যা দেখে তার মনে হয়েছে হামলাকারীরা দেশের বাইরে থেকে আসা।

“তাদের (হামলাকারীদের) হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল যেগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের হাতে দেখা যায়, তাদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল, এবং গড়ন দেখে মনে হয়না যে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কোনো একটি সদস্য।”

রাঙ্গামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহি বলেন, রাজস্থলী নামে যে এলাকায় এই হামলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা কেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল।

বিবিসিকে মি. এলাহি বলেন, “বছর দুই আগে রাজস্থলী উপজেলা থেকেই আরাকান আর্মির অন্যতম শীর্ষ নেতা রেনিন সোয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবং সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি দলের উপস্থিতির কথা আমরা জানি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মগ লিবারেশন পার্টি নামে নতুন একটি দলের নামও শোনা যাচ্ছে।”

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আরকান আর্মি তাদের হয়ে লড়াই করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা থেকে ‘রিক্রুট’ করার চেষ্টা করছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, আরাকানের বৌদ্ধদের সাথে পার্বত্য এলাকার কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর চেহারা এবং গড়নে অনেক মিল রয়েছে। “অনেক সময় তাদের দেখে আলাদা করা কঠিন।”

কিন্তু যোদ্ধা রিক্রুট করার সন্দেহ যদি সঠিকও হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করার কারণ কী থাকতে পারে?

ব্রিগেডিয়ার হোসেন মনে করেন, এটা ইচ্ছাকৃত উস্কানি হতে পারে।

“উস্কানি দিলে যদি সেনাবাহিনী বড় কোনো অভিযান শুরু করে তাহলে এই এলাকা থেকে স্থানীয় যুবকদের রিক্রুট করা তাদের (আরাকান আর্মির) জন্য সুবিধা হবে।

তবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্রিগেডিয়ার হোসেন। “কিছুদিন আগে আরাকান আর্মির কিছু সদস্যকে ধরে মিয়ানমারের হাতে তুলে দেওযা হয়েছিল, তার বদলা হিসাবেও এই হামলা হতে পারে।”

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, যদি এটা উস্কানি হয় এবং সেনাবাহিনী যদি সেই উস্কানিতে সাড়া দেয় তাহরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন না হলেও উৎকণ্ঠার অনেক কারণ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল করেছে। এই ঘটনার পর তারা যদি আবার শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে আরেক ধরণের সমস্যা হতে পারে।

রোববারের হামলার পর সম্পৃক্তদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হতে পারে এমন আশংকায় রাজস্থলী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল সোমবার।

রাজস্থলী উপজেলার চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বিবিসিকে বলেছেন, ভয়ে অনেক লোক গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।

“এলাকায় ভয়ভীতি বিরাজ করছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পালিয়ে আছে তারা। এখন অশক্ত বয়স্ক মানুষেরাই কেবল আছে এলাকায়।”

সুত্রঃ বিবিসি-বাংলা

me4w.jpg

সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আটক হয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সাগর পাড়ে পুলিশের হাতে আটক হন ওই দুই প্রতারক।

আটকের পর তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পত্নী বেগম রওশন এরশাদ এমপি, চিত্রনায়ক আলমগীর, কর্নেল তাহেরের ভাই নেত্রকোনার এমপি ওয়ারিশ উদ্দিন বেলালের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছে।

আটক প্রতারকরা হচ্ছেন- সোহেল আহমদ শেখ (৩৮) ও গোলাম মোস্তফা শেখ (৩৬)। তারা সিরাজগঞ্জ সদরের দরগা রোড এলাকার বাসিন্দা। আটক সোহেল আহমদ শেখ হচ্ছেন ওই এলাকার মৃত করিম উদ্দিন শেখের ছেলে ও গোলাম মোস্তফা শেখ হচ্ছেন মো. শামশুল আলম শেখের ছেলে।

প্রতারকদ্বয় দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইলে প্রতারণার মাধ্যমে দেশব্যাপী নানা কৌশলে চাঁদা আদায় করে আসছেন। আটক হবার পর রাতে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে, বেগম রওশন এরশাদ এমপির নিকট থেকে ঈদুল আজহার আগে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম দিয়ে বেগম রওশনের নিকট থেকে টাকা আদায় করা হয়।

আটক প্রতারকদ্বয় নেত্রকোনার এমপি ওয়ারিশ উদ্দিন বেলাল (কর্নেল তাহেরের ভাই)’র কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। এমনকি জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীরের কাছ থেকেও তারা ৫ হাজার টাকা আদায় করেন।

কক্সবাজারে ডেরা পেতে এই প্রতারক চক্র আদায় করেছেন স্থানীয় একজন পৌর কাউন্সিলর এবং ব্যবসায়ীসহ আরো অনেকের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন রাতে বলেন- ‘সম্ভবত দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। তাদের দুইজনকে মাত্র কক্সবাজারে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তারাই এখন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করছে তাদের অপরাধজনক জগতের নানা তথ্য।’

পুলিশ সুপার প্রতারক চক্রের সদস্যদেরকে আটকের নেপথ্য কাহিনীর বিবরণ দিয়ে বলেন, সর্বশেষ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নাম দিয়ে বায়োফার্মা নামের একটি ঔষধ কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি করাই তাদের (প্রতারক) জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান- ‘গতকাল শনিবার কক্সবাজারের বিএমএ’র (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান আমাকে চাঁদা দাবির তথ্যটি জানান। বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি’র একটি নম্বর থেকে প্রতারকরা কম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ রোহিঙ্গা শিবিরের ত্রাণ কার্যক্রমের কথা বলে আমার নামে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।’

জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি এ কথা শুনে নম্বরটি সংগ্রহ করে পুলিশ সুপারকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পুলিশ সুপার ওই নম্বরটি নিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতারকদ্বয়কে শনাক্ত করে দ্রুত হাতেনাতে আটক করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, আটক প্রতারকদ্বয়কে রাতেই জেলা ডিবি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া জানান, প্রতারক সোহেল আহমদ শেখ ও গোলাম মোস্তফা শেখ মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেগম রওশন এরশাদসহ অন্যান্য কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। প্রতারকদ্বয় এমনও বলছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ রকম ফাঁদ পেতে টাকা আদায় করছেন। যার তালিকা অনেক দীর্ঘ।

ha11.jpg

মোটরসাইকেলচালক সারোয়ার হোসেন সাগর (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় একই মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহী সৈকত আলী (১৫) আহত হয়েছে।

সোমবার বাগাতিপাড়া উপজেলার আড়ানী-পুঠিয়া সড়কের জামনগর পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে পকেটখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সারোয়ার হোসেন সাগর বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর মাঝপাড়া গ্রামের আহম্মদ আলী মাস্টারের ছেলে। আহত সৈকত আলী একই এলাকার পশ্চিম চরপাড়ার শৈয়ব আলীর ছেলে।

তারা দু’জনেই নাটোর শহরের চাঁদপুর মাদ্রাসার হেফজ শাখার ছাত্র ছিল। নিহত সারোয়ার হোসেন সাগর ১০ পারা কোরআনের হাফেজ ছিল বলে জানা গেছে।

আহত সৈকত আলী জানায়, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নিহত সাগর তার সহপাঠী সৈকতকে নিয়ে শখের বসে মোটরসাইকেল চালিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে অপর একটি মোটরসাইকেল ওভারটেক করতে গিয়ে তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাগর নিহত হয়।

বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, আহত আরোহী সৈকতকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সাগরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

remitance-20181002195821.jpg

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চলতি আগস্টের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।

বিপুল অঙ্কের এ রেমিট্যান্সের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে। বন্ধের দিনগুলো বাদ দিলেও আগস্ট মাস শেষ হতে আরো ১০ দিন বাকি। সবমিলিয়ে এমাসে ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স ছাড়ানোর প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারের মতো এবারও রেমিট্যান্স গ্রহণের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি ৯ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স পেয়েছে ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এছাড়া ১০ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ডলার। ডাচ-বাংলা ব্যাংক পেয়েছে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

এ সময় ৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। জনতা ব্যাংক পেয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার। সাউথইস্ট ব্যাংকের রেমিট্যান্সও প্রায় ৩ কোটি ডলার। এছাড়া সরকারি ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পেরেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহায় কোরবানি ছাড়াও, নানা কেনাকাটায় নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণায় প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। তাছাড়া ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহে আরো তৎপর হয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর শুরু হয় রেমিট্যান্স প্রবাহের সুখবর দিয়ে।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। রেমিট্যান্সের এ অঙ্ক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এর আগে রোজা ও ঈদ সামনে রেখে মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিটেন্সে আসে, যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার আগে ১ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স। বর্তমানে ১ কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে বেশ কয়েক মাস যাবৎ রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

hasan-1.jpg

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি দেশে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, তা এবার বিদেশেও ছড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের প্রচার কার্যালয়ে দলের প্রচার উপকমিটির বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বেগম জিয়ার শাস্তি হয়েছে এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অপরাধে। এ দুর্নীতির কথা সারাদেশের মানুষ জানে। তার মুক্তির জন্য বিএনপি যদি বিদেশে ধর্ণা দেয়, তাহলে খালেদা জিয়ার দুর্নীতি দেশে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, তা এবার বিদেশেও ছড়াবে।

বিএনপি মহাসচিবের ‘আওয়ামী লীগ চামড়াশিল্প ধ্বংস করে দিতে চায়’ এমন অভিযোগেরও জবাব দেন তথ্যমন্ত্রী। জবাবে তিনি বলেন, চামড়াশিল্প নিয়েও বিএনপির অপরাজনীতি সফল হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে চামড়া রপ্তানি ৪০০ মিলিয়ন ডলার থেকে সবমিলে ২ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। দেশে গত দশবছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পশু কোরবানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, আগের ৩০-৪০ লক্ষ পশুর জায়গায় এখন প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হয়। সে তুলনায় ট্যানারির সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেনি, যদিও অনেক চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু পরিবেশবান্ধবতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতায় চট্টগ্রামসহ বেশকিছু স্থানে ট্যানারি বন্ধও হয়ে গেছে। এবারের ঈদে এ অবস্থারই সুযোগ নিতে চেয়েছিল কিছু মুনফালোভীরা।

সেকারণেই চামড়ার দরপতন হয়। আর বিএনপি চেয়েছিল এটা নিয়ে অপরাজনীতি করতে। কিন্তু তারা সফল হয়নি, সিন্ডিকেটের বিষয়টি পূর্ণ তদন্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী, তাদের সমমনা সন্তান ও দোসরেরা বিভিন্ন দলের নামে তাদের চক্রান্তমূলক কর্মকান্ড ও গুজববিস্তারের প্রমাণ করেছে, তারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা যেখানেই থাকুক, বিচারের আওতায় আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপকমিটির সদস্য সুভাষ সিংহ রায়, তারিক সুজাত, কাশেম হুমায়ুন, এনামুল হক খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।