খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

CTG-ICU.jpg

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১০ শয্যার আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থাপন করা হবে।

কিন্তু এসব আইসিইউ কোথায় স্থাপন করবে তা নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটি।

নতুন করে হাসপাতালে সেন্টাল অক্সিজন স্থাপন করে আইসিইউ করতে হলে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ দিন প্রয়োজন। সেন্ট্রাল অক্সিজেন আছে এমন হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক অফিস সূত্র জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাসডিজিজেস (বিআইটিআইডি) তে ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে আইসিইউ শয্যা স্থাপনের সক্ষমতা দেখতে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) পরিদর্শন করেছেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটি সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার  এ বি এম  আজাদ এবং চট্টগ্রাম  বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

জানা গেছে, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যে কোন একটি ওয়ার্ড অন্যত্র সরিয়ে সেখানে আইসিইউ স্থাপন করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন,  নভেল করোনা ভাইরাস বা COVID-19 মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে ১০ শয্যা আইসিইউ স্থাপন করা হবে। কোন হাসপাতালে স্থাপন করা হবে, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য হিসেবে ২ টি হাসপাতালকে রাখা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। আইসিইউর সকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত আছে। স্থান নির্ধারণ হলে ঢাকা থেকে দ্রুত সময়ে চট্টগ্রামে যন্ত্রপাতি চলে আসবে।

coronavirusmgn10.jpg

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া দুজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মারা যাওয়া দুজনের পরীক্ষা আজ হয়নি বলেও জানান তিনি।

corona24325.jpg

শিশু থেকে তরুণ কিংবা গর্ভবতী নারী, করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই মিলছে না কারও। বিশ্বব্যাপী লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের তাণ্ডবে সারা বিশ্ব এখন লকডাউন। অথচ শুরুর দিকে অনেক দেশই এটাকে শুধু চীনের জাতীয় সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেয়নি। সেই দেশের মধ্যে নেদারল্যান্ডস অন্যতম। সেই দেশে ইতালিফেরত একজনের থেকে এখন ১৬ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছেন তনিমা চট্টোপাধ্যায়, ডেলফ্‌ট, দ্য নেদারল্যান্ডস। পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘করোনা আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব। কিছুদিন আগে যখন সুদূর চীন থেকে করোনার খবর প্রথম আসে, তখনও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিইনি। আমরা ভেবেছিলাম, ওটা ও দেশের জাতীয় সমস্যা হয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। এর প্রভাব যে সারা বিশ্বে এভাবে পড়তে পারে, তা তখনও মনে হয়নি। ইউরোপ তথা নেদারল্যান্ডসের জীবনযাত্রাও চলছিল স্বাভাবিক ছন্দেই। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যখন এ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেল, তখন থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে দিল। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত এ দেশে স্কুল ছুটি থাকে। সেই সময়ে অধিকাংশ ডাচ পরিবারই বেড়াতে যায়। এই সময়ের আকর্ষণ শীতকালীন খেলাধুলো। বিশেষ করে স্কি করতে যাওয়া।

স্কি করতে অনেকেই এবার ইটালিতে গিয়েছিলেন। ততদিনে ওই দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। ইটালিফেরত একজনের থেকেই সংক্রমণ শুরু হয় এ দেশে। প্রথম দিকে ধীরে। পরে দ্রুত হারে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজারের কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। এ দেশে সবাই মোটামুটি বাড়ি থেকেই কাজ করছে। তিন সপ্তাহ হলো স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে এই পরিস্থিতি চলবে আপাতত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। তাই প্রয়োজনে কেউ কেউ বাইরে বেরোচ্ছেন। তবে সে ক্ষেত্রেও দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ৪০০ ইউরো জরিমানা।

প্রথমদিকে সুপার মার্কেটে জিনিসপত্রের হাহাকার হয়েছিল খুব। এখন আবার সব স্বাভাবিক। রাস্তায় লোকজন প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। হাইওয়েতে গাড়ির সংখ্যা কম, ট্রামে বাসেও যাত্রীর সংখ্যা তথৈবচ। ইউরোপের অন্য দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইটালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি— সব প্রতিবেশী দেশই সঙ্কটে। এ দেশের বিখ্যাত কেউকেনহফ-এর টিউলিপ গার্ডেন এ বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে দেশের পর্যটন শিল্প ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী দিনে কী হতে চলেছে, তা এখনও আমাদের অজানা। আমরা এরই মধ্যে ভাল থাকার চেষ্টা করছি। সোশ্যাল মিডিয়া বা ফোন মারফত এখানকার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি, যাতে আমরা একা বোধ না করি। কলকাতায় আপনজনদের জন্য দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না। তবে আতঙ্ক নয়, সঠিক সচেতনতার মাধ্যমেই আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হব, সে বিশ্বাস রাখি।

jafrullah.jpg

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হলে নির্ভয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী দাফন-কাফন করার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অন্যেরাও নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্মের নিয়মানুযায়ী সৎকার করুন। কারণ মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাঁচতে পারে না, তার বৃদ্ধিও হয় না।

সোমবার (৬ এপ্রিল) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। মৃত ব্যক্তিকে ধর্মীয় মতে সাবান দিয়ে গোসল করালে করোনার প্রসার বন্ধ হয়।

তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ালে শরীয়তপুরের যেসব পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দাফন-কাফন করেছেন তাদের শরীরে করোনাভাইরাস ছড়াতো। এটা বিজ্ঞানসম্মত। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে জীবাণু ছড়ায় না।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩জন এবং মারা গেছে ১৩জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুধু জীবিত ব্যক্তিই নন, মৃত ব্যক্তির লাশ থেকেও এই ভাইরাসটি ছড়ায় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তিদের যথাযথ নিয়ম মেনে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা নিয়ে বাংলাদেশেও এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। কোনো কোনো এলাকায় কবরস্থানে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন না করার জন্য ব্যানারও টানিয়ে এবং বাধাও দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শরীয়তপুরে মৃত ব্যক্তির দাফন করতে স্বজনরাও অনীহা প্রকাশ করে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় পুলিশ এই ব্যক্তির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে।

allamashafi.jpg

দেশে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপসনালয়ে না গিয়ে ঘরে প্রার্থণা করতে হবে।

এমন নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণাল‌য়। একই সাথে সারাদেশে ওয়াজ মাহফিলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মসজিদের জামাত ও জুমার উপ‌স্থি‌তি‌ সী‌মিত রাখার আদেশ ইসলামি শরিয়তের দৃ‌ষ্টিতে স‌ঠিক ও যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপ‌রিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

সেই সঙ্গে তিনি সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়নপূর্বক তা গ্রহণ করা মানবতার কল্যাণে অপ‌রিহার্য কর্তব্য বলেও জা‌নিয়েছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্য‌মে পাঠানো এক বিবৃ‌তিতে তি‌নি এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে আল্লামা শফী কোরআনে কারিমের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়াকে সমর্থন করে না; বরং নিষেধ করে। সর্তকতা ও সচেতনতা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেকোনো আশু ক্ষতি থেকে সতর্ক থাকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

মসজিদে না যেয়ে ঘরেই ইবাদত পালনের নির্দেশ

আল্লামা শফী বলেন, বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুকিপূর্ণ এবং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৈশ্বিক এ মহামারি ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। এ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে দোয়া এবং শরিয়তের আলোকে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সতর্কতার জন্য সরকার উলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে, যেকোনো ধরনের বড় জমায়েতকে নিষেধ করেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদে জামাত ও জুমার উপস্থিতিকে সীমিত রাখার আদেশ জারি করেছেন।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এসব সতর্কতামূলক নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন করা এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ ও পালন করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।

তবে সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের একমাত্র কাজ নয়। বরং আমাদের কৃত পাপ ও সমূহ অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যতে সকল অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে একনিষ্ঠ মনে তওবা করতে হবে।

ঘরে বসে দোয়া-ইস্তেগফার ও নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মাশগুল থাকতে হবে। যেন আল্লাহতায়ালা অনতিবিলম্বে আমাদের থেকে এ মহামারি তুলে নেন। নিরাপদে জীবন-যাপন করার তওফিক দান করেন। আমাদেরকে ও সারাবিশ্বকে এ মহামারি থেকে প্ররিত্রাণ দেন।

প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানে এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মিলিত হয়ে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ঙ্কর অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সকলের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

এ সময় দেশের কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগি তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন।

অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও এ সময়ে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

সকল ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হলো। উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে সরকারি এই নির্দেশ লংঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত প্যাকেজ প্রণোদনাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই ও অগোছালো বলে উল্লেখ করার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এসব বক্তব্য ও অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিএনপি নেতারা যেকোনও পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকেন। এই দূর্যোগেও তারা একই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহবান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে বিএনপির প্রস্তাব উত্থাপনটি ছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ঠিক তেমনিভাবে প্যাকেজ ঘোষণার পর মির্জা ফখরুলের অগোছালো মন্তব্য ছিল চিরায়ত মিথ্যাচারে ভরপুর।

এই সংকটকালীন সময়ে পারস্পরিক দোষারোপ না করে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিএনপিসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সব স্তরের জনগণকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আহবান জানাবো, এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে এক প্লাট ফরমে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করুন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারি ছুটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গণপরিবহনও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা, পণ্যবাহী যানবাহন, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক চলাচল করবে, পণ্যবাহী পরিবহনে কোনোভাবেই জনগণ চলাচল করতে পারবে না।

এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

PM3.jpg

ছোটখাটো অপরাধে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন এবং হত্যা, ধর্ষণ ও অ্যাসিড মামলার আসামি নয় কিন্তু ইতোমধ্যে বহুদিন জেল খেটেছেন এমন কয়েদিদের কীভাবে মুক্তি দেয়া যায়, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বানায় এমন কারখানাগুলো খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেসব অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত রোগী বেশি সেইসব অঞ্চল লকডাউন করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অতি জরুরি কারণ ছাড়া ঢাকার বাইরে কেউ যাবে না, আসবেও না- দেয়া হয় এমন নির্দেশনাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বন্দি আসামিদের মুক্তি দিতে একটি প্রক্রিয়া ঠিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে মোট ১২ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আরও ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৩ জন। গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে।

প্রথমে ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত করোনার বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ ছুটি বাড়ানো হয়েছে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বহিরাগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অফিস-আদালত থেকে শুরু করে গণপরিবহন সবই বন্ধ রয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে রয়েছে।

আর, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

PMpress.jpg

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভি‌ডিও কনফা‌রেন্স কর‌বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গণভবন থে‌কে এই ভি‌ডিও কনফা‌রেন্স করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূ‌ত্রে এ তথ‌্য জানা গে‌ছে।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস ও ত্রাণ সরবরাহের বিষয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত‌বি‌নিময় কর‌বেন প্রধানমন্ত্রী। কনফারেন্সটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী গত ৩১ মার্চ ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। সেখানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে তা খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের দিক-নির্দেশনা দেন।

কর্মহীন হওয়া দেশের দরিদ্র মানুষদের প্রণোদনাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনাও দেন সরকারপ্রধান। পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

bank5.jpg

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট আগামী ১৪ দিনের মধ্যে খোলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা এবং বেতন-ভাতাদি মোবাইলে পৌঁছে দেওয়া জন্য এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০ এপ্রিলের মধ্যে হিসাব খুললে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা থেকে সরাসরি বেতন-ভাতা ঢুকে যাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওই সব হিসাবে।

রোববার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারীদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করতে হবে। যাতে এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন-ভাতা এবং সরকারি প্রণোদনা পরিশোধ করা যায়।

এজন্য শ্রমিক অথবা কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হবে। তবে এই হিসাব খোলার জন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি কাটা হবে না। এই হিসাব খোলার জন্য ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রচারণাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বেতনের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে হবে।

কোনো প্রকার নগদ লেনদেন করা যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যাংক হিসাব নেই তাদের মালিক নিজ উদ্যোগে ব্যাংক হিসাব খুলে দেবেন। এসব হিসাবে কোনো চার্জ আরোপ করতে পারবে না।’

এরপর শ্রমিক-কর্মচারীর সুবিধার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে তারা নিজ নিজ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টেই বেতন-ভাতা পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রাহক হিসাব খোলার উদ্দেশে গ্রাহকদের সচেতন ও উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। হিসাব খোলার জন্য প্রচারণামূলক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা কেবল কারখানাগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়।

chittagong.jpg

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে চট্টগ্রামে বের হওয়া বা ঢোকার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে নগর পুলিশ (সিএমপি)।

জরুরি সেবার লোকজন ও যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে।

সোমবার রাত ১০টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চট্টগ্রাম নগরে কেউ ঢুকতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না।

প্রত্যেককে ঘরে থাকতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল পুলিশ। সন্ধ্যার পর ওষুধের দোকান ছাড়া নগরের কোনো দোকানপাট ও বিপণিবিতান চালু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশপথ সিটি গেট, অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট সেতু এবং শাহ আমানত সেতুর মুখে পুলিশ আজ নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে। এই পাঁচটি পথ দিয়ে চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ ও বের হওয়া যায়।