খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

jamat-20181121135039.jpg

নতুন নামে দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জামায়াতে ইসলামীতে। ২০০৯ সালেও একই প্রস্তাব করেছিলেন দলটির কয়েকজন নেতা। তখন তা দলীয় ফোরামে অনুমোদন পায়নি। আগে বিরোধিতা করলেও এবার নতুন নামে দল গঠনের প্রস্তাব এসেছে জামায়াতের মজলিসে শূরা থেকেই। প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের নির্বাহী পরিষদকে। চলতি বছরেই নতুন দল গঠিত হতে পারে।

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জামায়াতের মজলিসে শূরার সভায় এ প্রস্তাব এলেও দলের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন দল ধর্মভিত্তিক হবে না। নতুন দল গঠিত হলেও বিলুপ্ত হবে না নিবন্ধন হারানো জামায়াত। দলটি থাকবে ‘আদর্শিক সংগঠন’ হিসেবে, কিন্তু ভোটে থাকবে না। ভোটের রাজনীতিতে থাকবে নতুন দল। তবে একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জামায়াতের।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকেও নতুন নামে দল গঠন আলোচনায় ছিল বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে জামায়াতের রক্ষণশীল অংশ সংস্কার ও নতুন নামে দল গঠনের বিরোধিতা করলেও এবার দলটির সর্বস্তরের নেতারাই এতে একমত। গত ৯ বছর জামায়াতের ওপর চলা ‘দমনপীড়ন’ থেকে বাঁচতে এ ছাড়া আর পথ নেই বলেও মনে করেন তারা।

মজলিশে শূরার প্রস্তাব রয়েছে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬ (৪) ধারা স্থগিত রাখার। ৬ ধারায় জামায়াতের চারটি স্থায়ী কর্মসূচি বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম তিনটি কর্মসূচি ধর্মীয়। ৬ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও চরিত্রবান লোকের নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’ এ ধারা স্থগিত হলে জামায়াত ভোটের রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাবে। দলটির সূত্র জানিয়েছে, এ ধারা স্থগিত হলে জামায়াত রাজনৈতিক দল থেকে একটি ধর্মীয় সংগঠনে পরিণত হবে। নতুন নামে দল গঠন করা হলেও, জামায়াত ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে থেকে যাবে। ‘দ্বীনি দাওয়াতের’ কাজ চালিয়ে যাবে।

অবশ্য নতুন দল খুব শিগগির হবে, এমন সম্ভাবনা নেই। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, আপাতত তারা নীরব থাকবে। রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে থাকবে না। ‘দ্বীনি দাওয়াতের’ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। থাকবে না মিছিল-মিটিংয়ের রাজনীতিতেও।

নতুন নামে দল গঠনের প্রস্তাবের কথা স্বীকার করেছেন দলটির কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। তিনি গত মঙ্গলবার বলেছেন, জামায়াত একটি বড় দল। দলে অনেক ধরনের প্রস্তাব, চিন্তা থাকে। দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করে ঠিক করেন, কোন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে, কোনটি বাতিল করা হবে।

ছাত্রশিবিরের সাবেক একজন সভাপতি যিনি বর্তমানের জামায়াতের কোনো পদে থাকলেও নতুন নামে দল গঠনের সমর্থক তিনি সমকালকে বলেছেন, পৃথিবী ও সমাজ বদলে গেছে। পরিবর্তিত পৃথিবীতে রাজনীতিও আগের মতো নেই। ইসলামী রাজনীতির চেয়ে এখন বেশি জরুরি ‘সাম্য’ ‘গণতন্ত্র’, ‘সামাজিক ন্যায়বিচারে’র রাজনীতি।

নতুন দলের রূপরেখা সম্পর্কে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, নতুন নামে দল গঠিত হলে তা হবে সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের স্লোগান নিয়েই। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কেও নতুন দলের অবস্থান হবে পরিস্কার। নতুন দল জামায়াতের একাত্তরে স্বাধীনতার ভূমিকাকে সমর্থন করবে না। তবে এ বিষয়ে নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলটির কোনো পর্যায়ের নেতাই এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

ভারত, তুরস্ক, মিসর, তিউনিশিয়া, সুদানসহ আরও কয়েকটি দেশের উদাহরণ টেনে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিতর্কিত জামায়াত। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) রাজনৈতিক শাখা। আরএসএস ভোটে অংশ নেয়নি। সংগঠনটি ‘আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করে। ভোটের মাঠে এর আদর্শ বাস্তবায়ন করে বিজেপি।

আন্তর্জাতিকভাবে জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে মিসরে প্রতিষ্ঠিত দল ইখাওয়ানুল মুসলিমিনের (মুসলিম ব্রাদারহুড)। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর অনুসারী হাসানুল বান্না মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা। মুসলিম ব্রাদারহুড ভোটের রাজনীতিতে অংশ নেয় না। তবে বিভিন্ন দেশে এর রাজনৈতিক শাখা ভোটে অংশ নেয়। ইখাওয়ানের রাজনৈতিক শাখা ন্যাশনাল কংগ্রেস সুদানে ক্ষমতায় রয়েছে। ইখাওয়ান ভাবাদর্শের দল একে পার্টি তুরস্কে ক্ষমতাসীন। আরব বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ইখাওয়ানের আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ভোটের রাজনীতিতে রয়েছে। মিসরে ইখাওয়ানের রাজনৈতিক শাখা জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২০১২ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলেও পরের বছর সামারিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারায়।

মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা এবং দলের নেতাদের যুদ্ধাপরাধের কারণে জামায়াত রাজনীতিতে সবসময় বিতর্কিত। ২০১০ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই জামায়াত প্রবল চাপে রয়েছে। দলটির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মানবতা অপরাধের দায়ে। আরও দুই নেতার ফাঁসির রায় হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। একজন ভোগ করছেন আমৃত্যু কারাদণ্ড। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ২০১০ সালে আন্দোলনে নেমেও সফল হতে পারেনি জামায়াত।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বছরে দুইবার মজলিশে শূরার অধিবেশনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে গত ৯ বছরের মতো এবারও ‘পরিবেশ পরিস্থিতির’ কারণে অবিবেশন প্রকাশ্যে হয়নি। জামায়াতের ১৩টি সাংগঠনিক অঞ্চলে পৃথক অধিবেশন হয়। তাদের সবার মতামত এসেছে নির্বাহী পরিষদে।

জামায়াতের মজলিশে শূরার বিশ্নেষণ, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ‘নজিরবিহীন কারচুপি ও ভোট ডাকাতি’ হলেও জনগণ এর প্রতিবাদে নেমে আসেনি। এবারের নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে প্রচার চালান সরকার দলের প্রার্থীরা। জামায়াতের যেসব প্রার্থী একাত্তরে শিশু ছিলেন তারাও এ প্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিতে পারেননি। বরং এ ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন জামায়াতের প্রার্থীরা।

জামায়াত নামে রাজনীতি করলে, ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতিতে পড়তে হবে বলে মনে করেন মজলিশে শূরার সদস্যরা। তাদের অভিমত, সরকারি ‘প্রচার-প্রপাগান্ডায়’ পরিস্থিতি যেখানে পৌঁছেছে, তাতে জামায়াত নামে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। জামায়াতের কারণে ভারতের চাপে রয়েছে বিএনপি। ভোটের আগেই ভারত খোলাখুলিভাবে তার জামায়াতবিরোধী মনোভাবের কথা জানিয়ে দেয়। বৃহৎ প্রতিবেশীর এমন প্রবল বিরোধিতার মুখে জামায়াতের ভোটের রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের উত্থান হতে দেবে না ভারত। তাই নতুন নামে দল গঠন করা উচিত।

তবে নতুন নামে দল গঠনের উদ্যোগে প্রধান কারণ জামায়াতের নেতাকর্মীদের সুরক্ষা। দলটির মজলিশে শূরার বিশ্নেষণ, ২০০৮ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরদার হওয়ার পরপরই জামায়াতের সংস্কার প্রয়োজন ছিল। আওয়ামী লীগ একে ইস্যু করে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে জামায়াতের ওপর ‘দমনপীড়ন’ চালাচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা অরক্ষিত হয়ে পড়েছেন। শুধু ‘জেল জুলুম’ নয়, জামায়াত নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বেদখল হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মী জেলে। অনেক কর্মী বেকার। কর্মী-সমর্থকদের রক্ষায় নতুন নামে দল গঠনের মত এসেছে।

জামায়াতের অধিকাংশ নেতা নতুন দল গঠনের পক্ষপাতী হলেও, একটি অংশের বিরোধিতাও রয়েছে। তারা বলছেন, নাম বদলে ‘দমনপীড়ন’ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। বরং নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে যেতে পারেন। এতে জামায়াত বিলুপ্তির দিকে এগোতে পারে।

স্বাধীনতার পর জামায়াত নিষিদ্ধ হয়। ১৯৭৫-এর পর মাওলানা আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) নামে রাজনীতিতে সক্রিয় হয় জামায়াত। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আইডিএল জোট ২০টি আসন পায়। ১৯৮০ সালে আব্দুর রহিমের প্রবল বিরোধিতার পরও জামায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করেন গোলাম আযম। আব্দুর রহিম ও তার অনুসারীদের অভিমত ছিল, একাত্তরের ভূমিকার কারণে জামায়াত নামে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। পরে আব্দুর রহিমকে দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

২০১০ সালে কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে জামায়াতের ভেতর সংস্কারের প্রচেষ্টা চলে। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সামনে রেখে এ প্রচেষ্টা চালানো হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল নতুন নামে দল গঠন করা ও জামায়াতের যেসব নেতা স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন তাদের নতুন দল থেকে দূরে রাখা। তবে কট্টরপন্থি নেতাদের বিরোধিতার মুখে সংস্কারের উদ্যোগ থেমে যায়।

hundi.jpg

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের চিহ্নিত অনেক মাদক কারবারিও রয়েছেন। আবার এ তালিকার কেউ কেউ স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত। বেশ কয়েকজন ‘রুই-কাতলা’ আছেন তালিকায়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যে অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার আছেন ১১ জন। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার রয়েছেন ৪৫ জন। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজারের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নামও। এরই মধ্যে এ তালিকার সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জড়িতদের ব্যাপারে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকায় চট্টগ্রামের যারা :চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মো. সুমন, আলতাফ হোসেন, জিয়াউল হক, এম এ রহিম, স্বপন দাশগুপ্ত, জমির উদ্দিন পারভেজ, সুধীর পালিত, সাধন পালিত, সাধন ধর, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আবুল ফয়েজ, যোবাইর ওরফে রেজওয়ান, মো. ইসমাইল, সাইফুল, আনোয়ার, আইয়ুব, অসীম ঘোষ, সুধীর বসুন বণিক, অসীম, রবি, দোলন হাজারী, জাফর ওরফে টিটি জাফর, মনিরুজ্জামান, খোরশেদ আলম, আব্দুল কাদির, জিয়াবুল, মো. আয়াছ, মো. আমিন, আবছার মিয়া, নূর কামাল, মোহাম্মদ ওসমান, মোজাম্মেল হোসেন, আইয়ুব, সঞ্জিত, জাহাঙ্গীর, ইব্রাহীম, আব্দুল কাদের, আবু জাফর, নূর উদ্দিন ইসলাম, আতিকুল ইসলাম হাবিব, মো. ইছা, প্রদীপ, মান্নান, মো. রাশেদ, আহমেদ কবির দুলাল, মো. সাইফুল, মোজাম্মেল হোসেন, আফসার মিয়া, রতন বড়ূয়া, ইউনুস, আবু আহমেদ, ফয়েজ, সরোয়ার, আইয়ুব, নুরুল কবির ও দিদারুল হক।

কুমিল্লা : তালিকায় রয়েছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দৈয়ারা এলাকার পিয়ার আহম্মেদ পাশা, জামাল হোসেন, ইউনুস মিয়া, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, ইদ্রিছ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, শাহ আলম, মামুন, কফিল উদ্দিন, জাকির হোসেন, মো. সোহেল, বিবেক চন্দ্র সাহা, মো. জসীম ও শাহজাহান তালুকদার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :মো. শাহিন ভুইয়া, জামাল উদ্দিন, সফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রতন দাশ, মিন্টু মিয়া, মুসা মিয়া, দারু মিয়া, তোতা মিয়া, শফিক ঠাকুর, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, ফারুক মিয়া, পেয়ারুল মিয়া, তপন কুমার, জামাল উদ্দিন, সফিকুল ইসলাম, পিরন সরকার, শানু মিয়া ও হাফেজ।

চাঁদপুর :চাঁদপুর সদরের দীপু সাহা, সুভাষ চন্দ্র রায়, আবু ইউসুফ, মো. মানিক, খসরু ঢালী, বনি আমিন ও মো. হারুন।

নোয়াখালী :নোয়াখালীর সেনবাগের সেলিম উদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, নাজেম উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মৃদুল সাহা, মদন বণিক, আতাউর রহমান রনি, নজির আহম্মেদ, আহম্মেদ নজির, নকুল কুমার, ফারুক, শহীদুল্লাহ বাবু ও মন্টু সাহা।

ফেনী :ফেনীর পরশুরামের শহিদুল ইসলাম কাজল, বাহার, আব্দুল কাদের, আনোয়ার উল্লাহ, কামাল পাশা, মো. হান্নান ও সোহাগ।

লক্ষ্মীপুর :মো. ইসমাইল, জসিম উদ্দিন, এমরান হোসেন টিপু, রাসেল চৌধুরী, মাসুম হোসেন, শিবুলাল সাহা, মো. ওসমান, মো. মাছুম, আলমগীর, মো. সেলিম, হিরন মিয়া, মনিরুল ইসলাম, লিটন, হারুনুর রশিদ, দাউদ হোসেন মিরন, নাঈম, আব্দুল ওয়াদুদ, আবু সাঈদ, আবুল কাশেম জমাদ্দার, আব্দুল কুদ্দুস, কৃষ্ণ দেবনাথ, বঙ্গরাজ ট্রাভেল এজেন্সি, মো. সাইফ, দিলীপ সাহা, বলরাম অ্যান্ড ব্রাদার্স, সুব্রত সাহা, মো. হোসেন, মো. সফিক, মো. শাহীন, মো. দুলাল, আবুল কাশেম, মো. হাসান, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ও অহনা টেলিকম।

কক্সবাজার জেলা :হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, মো. মনিরুজ্জামান লেডু, গফুর, মোজাম্মেল হক, মো. ইসমাইল, আজিজুল হক, আইয়ুব ওরফে বাট্টা আইয়ুব, আব্দুস সত্তার, ইসমাঈল, আব্দুল জলিল, মৌলভী আমান, উসমান, মো. ইসহাক, লোকমান কবির, নুরুস সামাদ লালু, মোস্তাক আহমেদ, সবুজ ধর, আব্দুল কাদের, আব্দুর রশিদ, হাছন আলী, ইদ্রিস মিয়া, মীর কামরুজ্জামান, বদি আলম, আবু বক্কর মাসুদ, বিমল ধর, জিয়াউর রহমান, মো. ইউনুস, হোসেন আহমদ, ইয়াছিন, আব্দুল মতিন ডালিম, মারুফ বিন খলিল, ফরিদ উল্লাহ, শামসুল আল, মো. হোসেন, দেলোয়ার, নুরুল আলম, নুরুল হক ভুট্টু, আব্দুর রহমান, ইয়াকুব, হোসেন, বশর, নাসির উদ্দিন, মো. তারেক, তৈয়ব আজিজ, শাহাদাত হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও মো. শফিক।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে টেকনাফের জাফর আলম সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমারভিত্তিক আমদানি-রফতানির আড়ালে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাকেন্দ্রিক হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করে দিনে ৮-১০ লাখ টাকা আয় করেন। এ ছাড়াও জাফর ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। তার রিয়াজ উদ্দিন বাজারে ৩৫ কোটি টাকার একটি মার্কেট, চট্টগ্রাম শহরের আইস ফ্যাক্টরি রোডে দুটি ফ্ল্যাট, টেকনাফে একটি মার্কেটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

হুন্ডির সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত :হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িতদের মধ্যে আছে টেকনাফের সরওয়ার্দী মোবাইল পয়েন্ট, জাহাঙ্গীর ইলেকট্রিক, কাউছার এন্টারপ্রাইজ, হেলাল টেলিকম সেন্টার, দিবিরানী এন্টারপ্রাইজ, মোবাইল হেভেন-২, নাফ মোবাইল সফটওয়্যার ও আফসার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর।

বরিশাল বিভাগে শীর্ষ হুন্ডি ব্যবসায়ী যারা :বরিশাল বিভাগের মধ্যে ভোলা জেলায় সর্বোচ্চ ৪৩ জন হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের সিন্ডিকেট প্রধান বা মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। এ ছাড়া পিরোজপুর জেলার ১১ জন ও ঝালকাঠি জেলায় ৬ জন শীর্ষ হুন্ডি ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। ভোলার ৪৩ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর মধ্যে সুধীর চন্দ্র দত্ত, উত্তম সেন, রতন পোদ্দার, বাবুল চন্দ্র পোদ্দার, উত্তম কুমার দে, শ্যাম কুন্ডু, দশরত কর্মকার, শুভঙ্কর কর্মকার, সুধারাম চন্দ্র দাস, রাম চন্দ্র দাস, উপেন্দ্র চন্দ্র কর্মকার, ভাস্কর সাহা, শম্ভু কর্মকার, অরূপ কর্মকার, রনজিত পোদ্দার, রাজীব হালদার, বাবুলাল কর্মকার, গৌতম কর্মকার, গোপাল কর্মকার, নিলয় কর্মকার, অজিত কর্মকার, সাধন চন্দ্র বণিক, রিপন বাবু, কার্তিক চন্দ্র দাস, ভোলানাথ কর্মকার, অভিমন্যু কর্মকার, মনোরঞ্জন চন্দ্র, পরিমল পাল, কালীপদ রায়, লিটন চন্দ্র বণিক, তাপস চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র দাস, বিক্রম রায় কর্মকার, বাবুল সাহা ওরফে রুটি বাবুল।

ভোলা জেলায় হুন্ডির মূলহোতা ৮ জন হলেন- অসীম সাহা, অরবিন্দ দে, মনা চন্দ্র মন্ডল, অবিনাশ নন্দী, মিন্টু লাল দে, রতন চন্দ্র পোদ্দার, শ্যামল চন্দ্র মন্ডল এবং বিক্রম চন্দ্র মন্ডল।

পিরোজপুরের ১১ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর মধ্যে শংকর কুমার দেবনাথ, অমল বণিক, সুভাষ দে, শংকর পাল, পঙ্কজ হালদার, রিপন হালদার, সজীব মন্ডল গোপাল, নিকুঞ্জ কর্মকার, বিমল কর্মকার, সতীন্দ্রনাথ মজুমদার এবং সুশীল কুমার মন্ডল।

ঝালকাঠি জেলার ৬ হুন্ডি ব্যবসায়ী হলেন- গোপাল চন্দ্র ঘোষ, রতন আচার্য, লিটন দেবনাথ, অরুণ কর্মকার, গৌতম কর্মকার এবং মাওলানা জামাল হোসেন। বরিশাল বিভাগের বেশির ভাগ হুন্ডি ব্যবসায়ী জুয়েলারি ব্যবসা, বস্ত্র ব্যবসা ও ওষুধ ব্যবসার আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার করে আসছেন বলে গোয়েন্দা তালিকায় নাম উঠে এসেছে।

সূত্রঃ সমকাল

kader0-20180329163128.jpg

আগামী মাসে থেকেই চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ বছর করে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ ভূইয়াসহ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীতকরণের দাবীতে শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ৩৫ এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অনেকে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা ইশতেহারে বয়স বৃদ্ধির কথা বলেছিলাম এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি তোমরা অপেক্ষা কর দ্রুত সময়ের মধ্যে বয়স বৃদ্ধি করা হবে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তোমাদের বিষয়টি যৌক্তিক। আশা করি প্রধানমন্ত্রী অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করবেন।

ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। এটি নিয়ে সরকার কাজ করছে।

abdur-razzak-20190215213026.jpg

অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করায় ‘ব্যথিত ও মর্মাহত’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে তার সঙ্গে ‘মহব্বতের সম্পর্ক’ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে দলটি।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে থেকে পদত্যাগ করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ আমরা দীর্ঘদিন একই সঙ্গে এই সংগঠনে কাজ করেছি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্বশীল ছিলেন। তার অতীতের সব অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তার পদত্যাগে আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত। পদত্যাগ করা যেকোনো সদস্যের স্বীকৃত অধিকার। আমরা দোয়া করি তিনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমরা আশা করি তার সঙ্গে আমাদের মহব্বতের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।’

প্রসঙ্গত আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সে সময়ে কারাগারে আটক থাকা জামায়াত নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলের আমির মকবুল আহমদকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ব্যারিস্টার রাজ্জাক কারণ হিসেবে মূলত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকাকে তুলে ধরে বলেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন যাতে একাত্তরের ভূমিকার কারণে দলটি জাতির কাছে ক্ষমা চায়।

ওই ইস্যুতে তিনি জামায়াতকে বিলুপ্ত করে দেয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন দলীয় ফোরামে।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক দল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, কিন্তু সে দাবি অনুযায়ী জামায়াত নিজেকে এখন পর্যন্ত সংস্কার করতে পারেনি।

চিঠিতে রাজ্জাক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের নেতৃবৃন্দ ৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের ক্ষতিকর ভূমিকা সম্পর্কে ভুল স্বীকার করে জাতির সঙ্গে সে সময়ের নেতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে’।

তার মতে, জামায়াত ৬০-এর দশকে সব সংগ্রামে যেমন অংশ নিয়েছে, তেমনি ৮০-র দশকে আট দল, সাত দল ও পাঁচ দলের সঙ্গে যুগপৎভাবে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু দলটির এসব অসামান্য অবদান ৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভুল রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে স্বীকৃতি পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা পরবর্তীকালে জামায়াতের সব সাফল্য ও অর্জন ম্লান করে দিয়েছে।

79541_fakhrul.jpg

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে বোমা হামলায় অন্তত ৪৬ জন ভারতীয় আধাসামরিক সেনা নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলটির মহাসচিবের এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের কাশ্মিরে রক্তাক্ত হামলায় সিআরপিএফের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করছি। উপমহাদেশের এই অঞ্চলটি অনেক দিন ধরেই অগ্নিগর্ভ। রক্ত ঝরছে সাধারণ মানুষসহ নিরাপত্তা বাহিনীর। মানুষ ও মানবতা রক্ষার জন্য শান্তি ও স্থিতি অত্যন্ত অপরিহার্য। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শান্তি ও সভ্যতার পরিপন্থী, এতে করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে ওঠে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি যেকোনো বেপরোয়া বেআইনি সহিংস রক্তপাতের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। পৃথিবীতে জটিল রাজনৈতিক সংকটবহুল স্থানে মানুষের বসবাস নিরাপদ নিশ্চিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে, নিরাপরাধ মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়। নির্মম অমানবিকতার দ্বারা মানুষের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা হতাশায় নিমজ্জিত হলে শঙ্কা ও ভয়ের ছায়াই কেবলমাত্র প্রসারিত হয়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত বোমা হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক সেনা নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বোমা হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’

Kader_Razzak-1.jpg

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগকে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন: ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগের বিষয়টি তাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এর সঙ্গে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র নেই।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় জামায়াতে ইসলামী থেকে শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবীর পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বেশ আলোচিত ইস্যু।

জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ এ নেতার পদত্যাগে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে চলে এসেছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে দলটি নতুন নামে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা, দ্বিতীয়ত তার পদত্যাগে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা?

এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবীর পদত্যাগকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ?

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন: জামায়াত নাম পরিবর্তন করে রাজনীতিতে আসলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নূন্যতম ছাড়ের সুযোগ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচারে আওয়ামী লীগ আগের মতই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের বিষয়ে নমনীয় হওয়ার কারণ নেই।

তবে জামায়াত অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে তারপর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন: ৭১’এ জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা ছিল স্বাধীনতা এবং জনগণের বিপক্ষে। দলটি এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশে গণহত্যা থেকে শুরু করে ধর্ষণ অগ্নি সংযোগের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলো।

তিনি বলেন: এ অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচারের দাবি ছিলো জনগণের। সেই বিচার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন জামায়াত নেতার বিচার হয়েছে এবং দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত তাদের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। তাদের অনেক আগেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো। আমি মনে করি তারা যে নামেই আসুক না কেন, তাদের এদেশে রাজনীতি করার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেছেন: জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি এবং একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে এবং অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক লিখেছেন: ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি এবং এখনও করি যে, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয় বরং তৎপরবর্তী প্রজন্মকে দায়মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি কর্তব্য।’

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লিখেছেন: ‘‘অতীতে আমি অনেকবার পদত্যাগের কথা ভেবেছি। কিন্তু এই ভেবে নিজেকে বিরত রেখেছি যে, যদি আমি অভ্যন্তরীণ সংস্কার করতে পারি এবং ’৭১ এর ভূমিকার জন্য জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে তা হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে জামায়াতের সর্বশেষ পদক্ষেপ আমাকে হতাশ করেছে।’’

তবে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে দলের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তিনি পদত্যাগ করলেও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন: ‘ব্যারিস্টার রাজ্জাক যেখানে আর যেভাবেই থাকুন, তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘মহব্বতের সম্পর্কই’ থাকবে।’’

yabakings.png

তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২০ জন ইয়াবা গডফাদার শেষ মুহূর্তে এসে আত্মসমর্পণ করছে না । পাশাপাশি টেকনাফ ছাড়া অন্য কোনো উপজেলার ইয়াবা কারবারিরা নেই আত্মসমর্পণের তালিকায় । সরকারের এই মহতি উদ্যোগে সাড়া দেয়নি তারা।

ফলে বীরদর্পে ইয়াবা চালিয়ে যাচ্ছে মহেশখালী, চকরিয়া, উখিয়া ও কক্সবাজার শহর এবং সদরের ইয়াবা গডফাদার ও কারবারিরা।

এদিকে শনিবার সকাল ১০টায় টেকনাফ পাইলট স্কুল মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন পুলিশের সেফহোমে থাকা তালিকাভুক্ত ৩২ ইয়াবা গডফাদারসহ ১০১ জন শীর্ষ ইয়াবা কারবারি।

সূত্রমতে, ইতিপূর্বে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ইয়াবা কারবারিদের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১০ ইয়াবা গডফাদার নিহত হয়। তারা হলো- টেকনাফের আকতার কামাল, একরামুল হক, শামশুল হুদা, ইমরান প্রকাশ পুতিয়া মেস্ত্রী, মো. কামাল, জিয়াউর রহমান, হাবিব উল্লাহ, মো. ইউচুফ জালাল বাহাদুর, মোস্তাক আহমদ মুছু, বার্মাইয়া শামশু। এছাড়াও নিহত হয় আরও ৪১ জন ইয়াবা কারবারি।

কিন্তু বর্তমানে সরকারের মহতি উদ্যোগে সাড়া না দিয়ে যারা অসৎ উদ্দেশ্যে এবং হরদম ইয়াবা কারবার করার জন্য আত্মগোপনে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার হলো- সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, ভাই কাউন্সিলর মৌলভি মুজিবুর রহমান, সারা দেশের আলোচিত ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল করিম, জালিয়াপাড়ার জাফর আলম প্রকাশ টিটি জাফর, আনিছুর রহমান ইয়াহিয়া, টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজ উদ্দিন ও তার ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন,

উখিয়া গুয়ালিয়ার ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো, কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার শাহাজান আনসারী, তার ভাই কাশেম আনসারি, একই এলাকার আবুল কালাম ও তার ভাই বশির আহমদ, চকরিয়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল, মহেশখালী পুটিবিলার মৌলভী জহির উদ্দীন, পৌরসভা সিকদারপাড়ার রাজাকারপুত্র মো. সালাহ উদ্দীন, রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানি এবং মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান ইউনুচ ভুট্টোসহ অনেকেই।

এদিকে আত্মসমর্পণে যারা আসেনি তাদের ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন বলেন, যারা পুলিশের হেফাজতে এসেছে তারা আত্মসমর্পণের পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভালো পথে ফেরার সুযোগ পাবে। কিন্তু যারা আসেনি তারা অবশ্যই অসৎ উদ্দেশ্যে এবং ইয়াবা কারবার করার জন্যই আসেনি।

১৬ ফেব্রুয়ারির পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এককথায় বলা যায়, যত দিন আমি (পুলিশ সুপার) কক্সবাজার আছি তত দিন আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে এই মরণ নেশা দমানোর জন্য। সামনে যত বড় প্রভাবশালী পড়ুক না কেন অ্যাকশন হবে উদাহরণস্বরূপ।
সুত্রঃ যুগান্তর

dog5.jpg

মনিবের চুরি হয়ে যাওয়া প্রায় লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ও মাংস সনাক্ত করলো এক প্রভুভক্ত কুকুর। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চর-বিশ্বনাথপুর গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চর-বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষক মোঃ মধু মিয়ার একটি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে মধু মিয়া গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখে তার গরুটির সাথে পোষা কুকুরটিও নেই। অনেক খোঁজাখুজির পরও গরু ও পোষা কুকুরের সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন কৃষক মধু মিয়া।

এমন সময় হঠাৎ তার পোষা কুকুরটি একটি রক্তমাখা গরুর কান মুখে নিয়ে তার দিকে ছুঁটে আসে। বিষয়টি বাড়ির লোকজনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ সময় কুকুরটি তার মনিব মধু মিয়ার পড়নের লুঙ্গিতে কামড় দিয়ে সামনে যাওয়ার ইঙ্গিত করে। তখন মধু মিয়া বাড়ির লোকজন সাথে নিয়ে কুকুরের পিছনে পিছনে যেতে থাকেন।

৩ কিলোমিটার যাওয়ার পর এক সময় কুকুরটি নতুন বাজারে অবস্থিত একটি (কসাইয়ের) মাংসের দোকানে এসে মাংস, চামড়া ও দড়ি তছনছ করতে থাকে। তখন উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হলে তারা গরুর চামড়া ও দড়ি দেখে মধু মিয়ার চুরি যাওয়া গরুর বলে সনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে হোসেনপুর পৌর মেয়র আব্দুল কাইয়ুম খোকন ও সিদলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে মধু মিয়ার চুরিকৃত ওই গরুর চামড়া ও দড়ি উদ্ধার করে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজের জিম্মায় রাখেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

এদিকে প্রভুভক্ত কুকুরের এমন নাটকীয় কায়দায় চুরি যাওয়া গরুর সন্ধান দেয়ার বিষয়টি এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ওই কুকুরটিকে এক নজর দেখতে মধু মিয়ার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

al-mahmud-inner20190215175156.jpg

কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওই দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে তাঁকে প্রথমে সিসিইউতে ও পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ (শুক্রবার) তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়।

আল মাহমুদের শুভানুধ্যায়ী কবি আবিদ আজম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া তিনি (কবি আবিদ আজম) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘আল মাহমুদ জীব‌নের ওপা‌রে, প্রভুর সা‌ন্নি‌ধ্যে পৌঁ‌ছে গে‌ছেন রাত ১১টায়;‌ তি‌নি আর বেঁ‌চে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহু‌মের রু‌হের মাহ‌ফেরা‌তের জন্য দোয়া প্রার্থনা।’

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে আল মাহমুদের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার পিতার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। তার দাদা আব্দুল ওহাব মোল্লা হবিগঞ্জ জেলার বিখ্যাত জমিদার ছিলেন।

আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তবে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়াালেখা করেন তিনি। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করেন এবং একের পর এক সাফল্য লাভ করেন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৫০-এর দশকে যে কয়েকজন লেখক বাংলা ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে আল মাহমুদ একজন। লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে মাহমুদ ঢাকা আগেমন করেন। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৫৪ সাল অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূূখ ও কৃত্তিবাস ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। নারী ও প্রেমের বিষয়টি তার কবিতায় ব্যাপকভাবে এসেছে। উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হিসেবে নারীর যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের লালসাকে তিনি শিল্পের অংশ হিসেবেই দেখিয়েছেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ নামে দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম ‘সোনালি কাবিন’। ১৯৯০-এর দশক থেকে তার কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস উৎকীর্ণ হতে থাকে; এর জন্য তিনি প্রগতিশীলদের সমালোচনার মুখোমুখি হন। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’। কোনো কোনো তাত্ত্বিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশ্বাসগ্রস্থতার কারণে তার বেশকিছু কবিতা লোকায়তিক সাহিত্যদর্শন দৃষ্টান্তবাদ দ্বারা অগ্রহণযোগ্য।

vegee.jpg

বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ কমেছে।আর তাই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম। এ কারণে সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে, গত এক মাসে টানা বেড়েই চলেছে মুরগির দাম। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে যেখানে বয়লার মুরগি ছিলো ১২০ টাকা কেজি, আর এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, গরু ও খাসির মাংসের দাম।এছাড়া বেড়েছে আদা, রসুন ও পিঁয়াজের দাম।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মিরপুর-১ ও কাওরান বাজারে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাল লেয়ার মুরগির। লাল লেয়ার মুরগি আগের সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায়। অর্থাৎ দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। আর আগের সপ্তাহের মতোই পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে মুরগির দামের বিষয়ে মিরপুর-১ নম্বরের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে মুরগির দাম বাড়ছে। যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে হারে ফার্ম থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই হয়তো বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে।

এদিকে, শীতের সবজি শেষ হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে সবজির। রাজধানীর কাওরান বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বেশ কিছু সবজি। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, পটল ১০০ টাকা ও কচুর লতি ১০০ টাকা

আগের মতোই প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা। কাঁচামরিচ প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি কেজি গাজর ৩০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও শালগম ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া বাজারে প্রতিটি বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি কলমি ও লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা এবং পুঁইশাক ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে পিঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম। দেশি পিঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজ ২২ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, আদা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের মতে, শীতের মওসুম শেষ হওয়ায় পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এ ব্যবসায়ীর মতে নতুন সবজির আমদানি বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।। তাছাড়া মালামাল পরিবহনের খরচও বেড়েছে।

মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারে খালেদা আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, নতুন সবজিতে একটা আগ্রহ থাকে। কিন্তু দেখুন নতুন প্রায় সব সবজিরই দাম বেশি। তাই কম কম করে কিনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। রুই মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০থেকে ৫০০ টাকা কেজি। টেংরা মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাইলা মাছ ৭০০টাকা, বাইম ৬০০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা, মলা ৪০০ টাকা, খল্লা ৩৫০ টাকা, সোল ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ইলিশের দাম বেড়েছে হালিতে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা।