খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

satkhira-2001261055.jpg

ছেলে-মেয়েদের জন্য মা-বাবা অনেক কষ্ট করেন। তেমনি একজন বাবা মোশারফ হোসেন। যিনি কিছুদিন আগেও রাজধানীর উত্তরায় একটি বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন। তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। আর বাবা-মায়ের কষ্টে উপার্জিত টাকায় পড়াশোনা করে বড় ছেলে গোলাম রসুল সুইট এখন সহকারী জজ।

মঙ্গলবার সহকারী জজ হিসেবে পিরোজপুর জেলায় যোগদান করবেন গোলাম রসুল। ১৯ জানুয়ারি ঘোষিত গেজেটে তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে ৬৭তম হয়েছেন তিনি।

গোলাম রসুলের বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউপির কোমরপুর গ্রামে। পরিবারের অভাব-অনটন থাকায় ঠিকমতো খেতে না পারলেও তিনি এখন জজ।

গোলাম রসুল বলেন, শাখরা কোমরপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভোমরা ইউপির দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করি। এরপর দেবহাটা উপজেলার সখিপুর খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। পরিবারে তখন খুব অভাব। কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে আমাদের দিন চলতো।

জজ সুইট বলেন, এইচএসসি পাসের পর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিক সে সময় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি। সেখানে এক ভাই আমাকে ঢাকায় গিয়ে কোচিং করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের সেই অবস্থা ছিল না। মায়ের একটি গরু ছিল। সেই গরুটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে ২০১০ সালের ১৭ মে ঢাকা যাই। এরপর একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হই।

তিনি বলেন, কিছুদিন পর মায়ের গরু বিক্রি করা সেই টাকাও ফুরিয়ে যায়। বাড়িতেও টাকা চাওয়া বা পরিবারের দেয়ার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। কোচিং পরিচালকের সামনে কান্নাকাটি করেছি। এরপর তিনি আমাকে বিনামূল্যে কোচিং ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এরইমধ্যে সঙ্গে থাকা সহপাঠীদের বন্ধু হয়ে যাই আমি। বন্ধুরাও আমার পারিবারিক অবস্থা জানার পর আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। বন্ধুদের সহযোগিতার কথাগুলো ভুলে যাওয়ার নয়। মা-বাবা মাঝে মধ্যে এক বা দুই হাজার করে টাকা দিতেন। গত এক মাস আগে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন। মাকেও এক বছর আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি।

গোলাম রসুল বলেন, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ হয়। বন্ধু ও শুভাকঙ্খীদের পরামর্শে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হই। ভর্তির পর টিউশনির পোস্টার ছাপিয়ে অবিভাবকদের কাছে বিতরণ শুরু করি। এভাবে পাঁচটি টিউশনি জোগাড় হয়। এভাবেই আমার শিক্ষাজীবন চলে।

তিনি আরো বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফলাফলে বি-ইউনিটে মেধা তালিকায় ১১তম হয়েছি। ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১০০ জনের মধ্যে হয়েছি ৬৭তম। এর মধ্যে নিয়োগ হয়েছে ৯৭ জনের। তিনজন পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন।

পিরোজপুর জেলার সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করবো জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বড় লোক হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। সব সময় ন্যায়ের পথে থেকে মানুষদের জন্য কাজ করবো। কখনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবো না। যখন চাকরিজীবন শেষ করবো তখন যেন অবৈধ উপায়ে উপার্জনের একটি টাকাও আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না থাকে। আমার কাছে সব মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। অসহায় মানুষরাও এর থেকে বঞ্চিত হবে না।

evaly-Cheating-part-2-2001261251.jpg

কৌশলে গ্রাহককে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে। অনলাইন শপিংয়ের পর ১৫ দিনে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্খিত পণ্য। সেই সঙ্গে অগ্রিম টাকা দিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন অনেক গ্রাহক।

সম্প্রতি এক গ্রাহক ইভ্যালি থেকে বড় ভাইয়ের জন্য মোটরসাইকেল অর্ডার দিয়ে হয়েছেন ঘরছাড়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে কীভাবে ঘরছাড়া হয়েছে তা তুলে ধরেছেন তিনি।

ফারুক ইসলাম নামের ওই গ্রাহক বলেন, ইভ্যালিতে বড় ভাইয়ের জন্য বাইক অর্ডার করে আজ আমি ঘরছাড়া। যতদিন না ডেলিভারি পাব ততদিন আর বাসায় ঢুকতে পারবো না। ভাই সবাই আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। কি করে হিরো বাইক ডেলিভারি পাওয়া যায় সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইভ্যালি থেকে প্রতিদিনই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ ইভ্যালি কখনো নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেয় না। এমনকি তিন চার মাস অপেক্ষায় রেখে গ্রাহককে বলা হয় স্টক আউট হওয়ার কারণে পণ্য দেয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ উঠেছে যাদের পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয় না তাদের সরাসরি টাকাও ফেরত দেয় না প্রতিষ্ঠানটি। ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গ্রাহকের করা অ্যাকাউন্টে এ টাকা রেখে পরবর্তীতে পণ্য কিনলে অ্যাডজাস্ট করা হবে বলে জানানো হয়। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে একটি অপরাধ।

আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, আমাদের টাকা আমরা দেখতে পাব কিন্তু নিতে পারবো না। তার মানে আমাদের সরলতাকে পুঁজি করে আমাদের জিম্মি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা যদি আমাদের পণ্য না দিতে পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত কেন দেয় না? মাসে এমন করে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা তাদের কাছে রাখছে। আর সেই টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে ইভ্যালি। এক অফারের পণ্য না দিতেই অন্য অফারে চলে যায় তারা। এতে ওই অফারেও নেয়া হচ্ছে টাকা। এ যেন আরেক ডেসটিনি। যারা এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে।

সম্প্রতি এক গ্রাহক তিনটি মোবাইল ফোন ক্রয়ের জন্য পেমেন্ট দিলেও তাকে যথা সময়ে ফোন না দেয়া, সঠিক হ্যান্ডসেট না দেয়া, বদলে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া এবং একটি ফোন ডেলিভারি দিয়ে তিনটি মোবাইলের রিসিট দেয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শামীম রাফি নামের ওই গ্রাহক ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ইভ্যালির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্টে আমি তিনটি মটোরোলা ই৫ প্লাস মোবাইল অর্ডার করি এবং তিনটি মোবাইলের জন্য ২৩ হাজার ৭০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করি। মোবাইলগুলো ১৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও স্টকে নেই বলে আমাকে ঘোরাতে থাকে। পরে এমআই রেডমি নোট ৭এস নামক মোবাইল ফোনটি নিতে পারবেন বলে জানায়। কিন্তু তার জন্য আরো তিন হাজার করে টাকা জমা দিতে হবে।

যেহেতু আমার তিনটি মোবাইলই দরকার ছিল, সেজন্য আমি আরো নয় হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে ইভ্যালিকে পেমেন্ট করি এবং তারা আমাকে ২২ নভেম্বর ‘পেপারফ্লাই’ নামক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ডেলিভারি করে।

কিন্তু ডেলিভারিকৃত মোবাইল ও তার মানি রিসিট দেখে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। কেননা তারা আমাকে যে ফোনটি ডেলিভারি করেছে সেখানে মাত্র একটি ফোন ছিল আর মানি রিসিটে ছিল আমাকে তিনটি মোবাইল ডেলিভারি দেয়া হয়েছে।

আমি তাৎক্ষণিক ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে জানানো হয় বাকি দু’টি মোবাইলের টাকা রিফান্ড করা হবে।

পরে আমি ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ করার পর ইভ্যালির কয়েকজন কর্মকর্তা ভোক্তা অধিকারের পরিচালকের রুমে ক্ষমা চেয়ে বাকি ফোন দু’টি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে গিয়ে দেখি সেখানে আগে থেকেই অনেক ভুক্তভোগী ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। প্রতিদিনই এমন ভুক্তভোগী আসছেন। সেই সঙ্গে ইভ্যালির কিছু কর্মকর্তারাও সব সময় সেখানে থাকেন এসব বিষয় ম্যানেজ করার জন্য।

ইভ্যালিতে অর্ডার থাকার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ইভ্যালির বড় সমস্যা হলো তারা ডেলিভারি টাইম ঠিক রাখে না। পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমি অর্ডার করে প্রায় তিন মাস হতে চলেছে এখনো প্রডাক্ট হাতে পায়নি। কর্তৃপক্ষ থেকেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

হালিম নামে এক গ্রাহক ইভ্যালির পেজে কমেন্টসে লিখেছেন, ‘গত ১৬ ডিসেম্বর প্রিসেলে অর্ডার করা ল্যাপটপ এখনো হাতে পাইনি। কাস্টমার কেয়ার জানিয়ে ছিলো ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যাবো। আস্থা রেখে আর একটা কলও দেইনি। এখন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম প্রসেসিং অবস্থায় আছে। দয়া করে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ থেকে একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ কি জানাবেন???।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের কাছে লিখিত যতগুলো অভিযোগ এসেছে তার পদক্ষেপ নিচ্ছেন সহকারী পরিচালকরা। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কী পরিমাণ অভিযোগ জমা পরেছে সেই সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিনই ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পরছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা এখনো কোনো ক্রেতার অভিযোগ পাইনি। তবে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে ইভ্যালির সমস্যার বিষয়টি নজরে এসেছে। সেগুলো ইভ্যালিকে জানিয়েছি। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি

p1-2001261727.jpg

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ থেকে চীন এবং চীন থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িক স্থগিত করার চিন্তা করছে সরকার। ২৮ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমনই ইঙ্গিত দেন।

মন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক গভীর। দেশের বহু মানুষ বাণিজ্যিক কারণে চীনে যাতায়াত করেন। সুতরাং এ ভয়াবহ করোনাভাইরাস বাংলাদেশে যে কোনো উপায়ে চলে এলে সেটি বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

PM-26-01-2020-2001261628.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তৃণমূলে জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ছাড়া কখনো একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটা দেশের সার্বিক উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাজধানী ভিত্তিক উন্নয়ন করলেই হবে না, একেবারে গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষদের উন্নতি করতে হবে।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুটি পানি শোধন প্রকল্প, দুটি সেতু ও কয়েকটি ট্রেন সার্ভিসসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু ও পূর্ব-তারাকান্দি-জামালপুর-ঢাকা রুটে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’, ঢালারচর-পাবনা-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ও ফরিদপুর রুটে ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের রুট বর্ধিতকরণ, চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাক পরিবর্তন কার্যক্রম।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক ‘পল্লী লেনদেন’ কার্যক্রম, এলজিইডি’র বাস্তবায়নাধীন ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ব্রিজ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার মিটার চেইনেজে তিতাস নদীর ওপর ৫৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু এবং মানিকগঞ্জের সদর উপজেলাধীন মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর আরএইচডি রাস্তায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৪৫৬ মিটার পিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধন করেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় নির্মিত ‘শেখ রাসেল পানি শোধনাগার’, খুলনা ওয়াসার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর আওতায় নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ১২ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই হলো বর্তমান সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ কারণে সারাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। শহর ও গ্রামের মানুষকে সমান সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার কাজ করছে।

সূচনা বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপকারভোগী, চট্টগ্রামের পানি শোধনাগারের উপকারভোগী, খুলনা পানি শোধনাগারের উপকারভোগী, চট্টগ্রামে টেলিভিশনের উপকারভোগী ও জামালপুরের রেল ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তার ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়ের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা এবং চিকিৎসা পাবে। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন তাতে সবার এই মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন ক্ষমতায় আসে তখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর নিজেদের ক্ষমতার ভিত্তিটাকে শক্ত করার জন্য সমাজে একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করে। সাধারণের জন্য কিছু করে না। যে কারণে ’৭৫’র পর এদেশের মানুষ সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিল। আর আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের লক্ষ্যই থাকে জনগণের কল্যাণ, তাদের সার্বিক উন্নতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রামীণ জনগণকে সঙ্ঘবদ্ধ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষিকে উৎসাহিত করাই তার সরকারের ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের লক্ষ্য।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, এক সময় আমিও ক্ষুদ্রঋণে উৎসাহিত করতাম কিন্তু দেখা গেল ঋণের পরিমাণ এক সময় এত বেড়ে যায় যে, এক সময় মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে, না হয় ঘর-বাড়ি, ভিটে-মাটি বিক্রি করে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। সে আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না।

টেকসই উন্নয়নের জন্য কখনোই এই ক্ষুদ্র ঋণ কার্যকর হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজেই একটা মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে তার সরকার ক্ষুদ্র সঞ্চয় ভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে একটি বাড়ি একটি খামার (বর্তমানে আমার বাড়ি আমার খামার) প্রকল্প শুরু করে। অর্থাৎ কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের বাজারজাত হবে সমবায় ভিত্তিক।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দরিদ্রদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখার জন্যই তার সরকার ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ চালু করেছে। তিনি প্রবাস গমনেচ্ছু এবং নবীন উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে তার সরকারের প্রতিষ্ঠিত ‘কর্মসংস্থান’ ব্যাংকের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার সরকারের সময় মোবাইল ফোনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেয়ার ফলে সারাদেশের সবার হাতে মোবাইল ফোন চলে এসেছে।

এ সময় শেখ হাসিনা দেশের সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেয়া, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণসহ তথ্য প্রযুক্তি খাতে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।

রেল যোগাযোগের উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবনা, ঢালারচর, জামালপুরসহ আরো বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। রেলের মাধ্যমে মানুষ যেমন নিরাপদে যেতে পারে আবার যাতায়াতও সাশ্রয়ী হয়। সে কারণে আমরা রেল সার্ভিসের ওপর অনেক গুরুত্ব দিয়েছি। এই ক্ষেত্রে রেলওয়ের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে, আমরা রেল লাইন বাড়াচ্ছি ও নতুন নতুন বগি এবং যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। তবে, রেলের পুরনো ব্রিজগুলো ও কালভার্টের ওপর ব্রিজসহ বিভিন্ন রেল ব্রিজগুলো মেরামত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো অত্যন্ত পুরনো হয়ে যাওয়ায় রেল চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ যাত্রী নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের (বিএনপি) আমলে রেল বন্ধ করে দেয়ায় এমনটি হয়েছে। সে সময়কার সরকারের এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল বলে জানান শেখ হাসিনা।

যে কারণে বছরের পর বছর চলে গেছে এসব ব্রিজ মেরামত করা হয়নি। তারা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের লোকবলকে বিদায় করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গার লাইন বন্ধ করে দিয়েছে। সারাদেশে সার্ভে করে যেখানে যত পুরনো রেল ব্রিজ আছে সেগুলো মেরামত করতে হবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য একটা প্রকল্প গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় আসার পর আমরা অনেক পানি শোধনাগার করেছি। উপজেলা পর্যায়ও আমরা পানি শোধনাগার করেছি। অনেক টাকা খরচ করে পানি শোধন করে সেই পানি সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে নোনা পানির জন্য খুলনাবাসীর পানির অভাব তীব্র ছিল। আমার একটা অনুরোধ থাকবে, পানি ব্যবহারের সময় যেন সবাই মিতব্যয়ী হই।

তিনি আরো বলেন, তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য মধুমতি নদী থেকে পানি এনে শোধন করে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ১ লিটার পানি শোধন করতে প্রচুর টাকা খরচ হয়। কাজেই পানির অপচয়টা সবাই বন্ধ করবেন। কল ছেড়ে দিয়ে ব্রাশ করা, সেভ করা বা কল ছেড়ে দিয়ে গোসল করা-এগুলো কেউ করবেন না। প্রয়োজনে বালতি ও মগ ব্যবহার করবেন।

বিভিন্ন স্থানে সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগের সুবিধার জন্য আমরা বিভিন্ন জেলায় সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। যোগাযোগের ফলে প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি হচ্ছে। হরিরামপুর মানিকগঞ্জ এমন একটি এলাকা যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্যা হতো। সবসময় এখানে বন্যা লেগেই থাকত। এখানে যোগাযোগের ব্যবস্থা খুব অনুন্নত ছিল। সেখানে আমরা ব্রিজ করে উন্নত যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছি।

তার সরকার জনগণের বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, চট্টগ্রামে বিটিভির সম্প্রচারের সময় বাড়ানোর উদ্দেশ্যটা হলো, চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের কালচারাল অনুষ্ঠানগুলো মানুষ দেখতে পারবে। সেখানে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরাও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা মানুষের ভেতরে যে সুপ্ত মেধা রয়েছে সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটবে এই টেলিভিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে। এছাড়া এখানে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, আজ এখানে বসে আমরা রেল যোগাযোগ, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, ব্রিজ নির্মাণ, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার, বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। এখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে দেখলেন যে, কোন মন্ত্রণালয়ের কী উন্নয়ন হয়েছে। এতে উন্নয়নের দিকগুলো জানার একটা সুযোগ হলো।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, তথ্য সচিব কামরুন্নাহার তাদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন।

এছাড়াও পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জ্বল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

MOON1-1.jpg

১৪৪১ হিজরি সনের জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের আকাশে আজ। ফলে আগামীকাল সোমবার থেকে জমাদিউস সানি মাস গণনা করা হবে।

আজ রোববার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় ১৪৪১ হিজরি সালের জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আজ রোববার (২৯ জমাদিউল আউয়াল) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে, আগামীকাল সোমবার থেকে ১৪৪১ হিজরি সালের জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি এডভোকেট শেখ মুহা. আব্দুল্লাহ।

সভায় ওয়াকফ প্রশাসক মুহা. শহীদুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মু. আ. হামিদ জমাদ্দার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মুহা. মুশফিকুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এস. এম. মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মুহা. নেছার উদ্দিন জুয়েল, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুহা. জসীম উদ্দিন, ঢাকার সরকারী মাদরাসা-ই-আলীয়ার হেড মাওলানা প্রফেসর এ. কে. এম. আবদুল মান্নান, ঢাকা জেলার এডিসি (জেনারেল) মুহা. শাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহা. আবদুর রহমান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতী মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

benapol.jpg

ভ্রমণ কর নিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নিত্য নৈমেত্তিক ব্যাপার। বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা, হিলি, বাংলাবান্ধা, তামাবিলসহ ১৩টি সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত করা যায়।

ভ্রমন প্রত্যাশিদের এসব ঝামেলার কথা চিন্তা করে নতুন সুবিধা প্রদান করতে যাচ্ছে এনবিআর। এখন থেকে ভারত যেতে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন দিয়ে ভ্রমন করা প্রদান করা যাবে।

আগামীকাল থেকে এই সুবিধা উপভোগ করা যাবে। বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা চেকপোষ্ট দিয়ে ভারত গমনে ইচ্ছুক ভ্রমনকারীরাই এখন এই সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

tapas334.jpg

নির্বাচিত হতে পারলে নগরবাসীকে সুসংহত সেবা দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হটলাইন সেবা থাকবে। পাঁচ কার্যদিবসের দুইদিন মেয়রের সঙ্গে নগরবাসী সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ থাকবে এবং দুইদিন মেয়র সরাসরি নগরবাসীর কাছে যাবেন। যদি হটলাইন ও নগর ভবনে বসে কোনো সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে প্রয়োজনে নগরবাসীর যত কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় সেই ব্যবস্থাই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নৌকা প্রতীকের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সবুজবাগ এলাকায় গণসংযোগে আসেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এসময় গণসংযোগে যোগ দেন স্থানীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ সকল সহযোগী-অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরও বলেন, আমরা খবর পেয়েছি গোপীবাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ওপরে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। সেখানে স্বয়ং ধানের শীষের প্রার্থীর হাতে অস্ত্র ছিল। যা সম্পূর্ণ নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন তো বটেই আইনেরও খেলাপ।

এমন ঘটনাকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তাপস বলেন, শুরু থেকেই লক্ষ্য করছিলাম কোনোভাবেই যেন নির্বাচনটা না হয় সেজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে যত ধরনের চেষ্টা ছিল তা তারা চালিয়ে আসছে। শুরু থেকেই তাদের প্রচারণায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দেখা গেছে। এ ব্যাপারে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ প্রদান করা হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে।

বিএনপি প্রার্থীর হাতে অস্ত্র ছিল এমন অভিযোগ যেহেতু আসছে সেহেতু বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করার দাবি জানাবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শেখ তাপস বলেন, সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও প্রচলিত আইনে যে ব্যবস্থাই হোক সেটা নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

Sansad-Bhaban-1-3.jpg

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে জানিয়েছেন, জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনআরসি) পরিকল্পনা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এনআরসি ইস্যুতে বাংলদেশের ওপর কোনো অযাচিত প্রভাব পড়বে না সে নিশ্চয়তা ভারত সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য অসীম কুমার উকিল।

জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশি দেশ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনীস্বীকার্য। ভারতের সাথে আমাদের প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের বিভিন্ন প্রদেশে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনআরসি) পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ভারতের সংশোধিতত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে মনে করে। একইভাবে বিলটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বির্তককে ভারতের ঘরোয়া রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভারত সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সাথে তাদের দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস, সৌহার্দ্য ও বোঝাপড়ার প্রতি পূর্ণমনোযোগ দেবে। তা সত্তে¡ও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

একই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে উত্তরোত্তর জিডিপি বৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অবৈধ অভিবাসনের কোন অর্থনৈতিক অনুপ্রেরণাবোধের যৌক্তিকতা নেই। তারপরও সীমান্তে অবৈধ গমনাগমন, চোরাচালান প্রতিরোধসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ দমনে সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বদাই সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে। বিজিবি সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধসহ যে কোন ধরনের বৈআইনী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সদা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় রয়েছে। এরপরও উদ্বেগজনক কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সীমান্তে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান খান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে যাতে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে বিজিবি’র অধিনস্থ রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন কর্তৃক সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদারসহ গোয়েন্দা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সেই সাথে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের বাইরেও প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরো জানান, সীমান্ত রক্ষা তথা চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে ৬৯৭টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১২৮টি বর্ডার সেন্ট্রি পোস্ট (বিএসপি) তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি কর্তৃক নিয়মিত প্রেষণ প্রদান করা হচ্ছে।

বিএনপি’র সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, স্বশস্ত্র গ্রুপগুলো পার্বত্য এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতবিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়শই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

BPSC-BCS-PSC-3.jpg

সাধারণ বিসিএসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী রিট আবেদন করেছেন হাইকোর্টে। আজ রবিবার (২৬ জানুয়ারি) আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে রিটটি আবেদন করেন।

রিটে বিসিএস পরীক্ষায় প্রার্থীর বয়স, যোগ্যতা ও চাকরিতে আবেদনের বিধিমালা সংক্রান্ত ২০১৪ এর ১৪ বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

বিধিতে বলা হয়েছে, সাধারণ বিসিএস ক্যাডারের পরীক্ষার্থীরা ৩০ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পারবেন। অথচ বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজিএস) পরীক্ষায় ৩২ বছর পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে। ১৪ উপবিধি অনুসারে শিক্ষা ক্যাডারেও ৩২ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবী আলতাফ হোসেন বলেন, বিজিএস ও শিক্ষা ক্যাডারে অংশগ্রহণকারীরা ৩২ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ সাধারণ বিসিএসে অংশগ্রহণকারীরা সেই সুযোগ পাবেন না, সংবিধানের সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক। সবার যেন সমান অধিকার নিশ্চিত হয়, রিটে সেই দাবি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

grameenphone-20190523182012.jpg

উচ্চ আদালতের ২০০০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জানুয়ারি) রিভিউ আবেদন করেছে গ্রামীণফোন।

প্রতিষ্ঠানটি এই ২০০০ কোটি টাকার পরিবর্তে ৫৭৫ কোটি টাকা দিতে চেয়েছে। রিভিউ আবেদনে তারা ১২ কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ করতে চায়।

অডিট আপত্তির বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরুর শর্ত হিসেবে আদালত গ্রামীণফোনকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২০০০ কোটি টাকা জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। অডিটে পাওনা দাবির টাকা নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সঙ্গে গ্রামীণফোনের আইনি লড়াই চলছে।

গত ২৪ নভেম্বর বিটিআরসির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের জন্য গ্রামীনফোনকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

আগামী তিন মাসের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২রা এপ্রিল গ্রামীণফোনকে একটি নোটিশের মাধ্যমে বিটিআরসিকে ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি।

বিটিআরসির নিয়োগ করা একটি অডিট ফার্ম ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে এই বকেয়া তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়।

তবে এর আগে এই অর্থ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছে গ্রামীণ ফোন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter