খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

boris4.jpg

বৃটেনে জাতীয় নির্বাচনের পর চলছে ভোট গণনা। এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে বুথফেরত জরিপের ফল। সে অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ বা টোরি পার্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে এগিয়ে আছে।

বুথ ফেরত জরিপের ফল বলছে, বরিস জনসনের কনজারভেটিভ দল ৩৬৮ আসনে জয় পেতে যাচ্ছে, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৫০ আসন বেশি। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেরিমি করবিনের লেবার পার্টি মাত্র ১৯১ আসনে জয় পাবে বলে বুথ ফেরত জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া মাত্রই বুথ ফেরত জরিপের এই ফল প্রকাশ করা হয়। দেশটিতে বুথ ফেরত জরিপের এই আভাস ভুল হওয়ার ঘটনা নেই।

বিবিসি, স্কাই এবং আইটিভি পক্ষে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইপসস মোরি এ জরিপ পরিচালনা করে। দেশব্যাপী ১৪৪টি ভোট কেন্দ্রে বুথ ফেরত ২২ হাজার ৭৯০ জন ভোটারের মতামত বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জরিপের এই আভাস সত্যি হলে এটি হবে ১৯৮৭ সালে মার্গারেট থেসারের তৃতীয় দফা বিজয়ের পর কনজারভেটিভ দলের সবচেয়ে বড় বিজয়। অন্যদিকে লেবার দলের জন্য ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। ২০১৭ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি ২৬২ আসনে বিজয় পেয়েছিল। জরিপের ফল সত্যি হলে লেবারের আসন এবার ৭১টি কমবে।

এছাড়া বুথ ফেরত জরিপ বলছে, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৫৫, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ১৩ আসন পাবে। ব্রেক্সিট পার্টি নির্বাচনে চমক দেখাবে বলে প্রত্যাশা করলেও দলটি একটি আসনও পাবে না বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

৬৫০ আসনের হাউস অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২৬ আসন। নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল জরিপের ফলের কাছাকাছি হলেও কনজারভেটিভরা পার্লামেন্টের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ পাবে।

জরিপের ফল সত্যি হলে এটি হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষে জনগণের জোরালো রায়। এর মধ্য দিয়ে আর পাঁচ বছরের জন্য যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ দলের শাসন পাকাপোক্ত হবে। দেশটিতে ২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় আছে কনজারভেটিভরা।

সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং দলীয় আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে গত তিন বছরেও ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভরা। তাই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। ক্ষমতায় ফিরলে ৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন তিনি।

অন্যদিকে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এ নির্বাচন দশ বছর ধরে কনজারভেটিভ সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির অবসানের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য প্রজন্মের একমাত্র সুযোগ। ক্ষমতায় গেলে করবিন ব্রেক্সিট প্রশ্নে পুনরায় গণভোটের আয়োজন করবেন।

AsamGariBohoreHamla.jpg

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। এছাড়া সহকারী হাইকমিশনের দুটি পথনির্দেশক খুলে ফেলা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় এর প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল গৃহীত হওয়ার পর আসামে সহিংসতা ও কারফিউ জারির প্রেক্ষিতে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের মথ্যে কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশ চ্যান্সারি থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরের দুটি পথনির্দেশক খুলে ফেলেছে। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। গত বুধবার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারকে এসকর্টের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাযান বিমানবন্দর থেকে শহরে আসার পথে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিরূদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হামলার মুখে পড়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং সহকারী হাইকমিশনারের গাড়িবহরে হামলা ও পথনির্দেশক চিহ্ন ভাংচুরের প্রতিবাদ জানান।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ভারত সরকারকে বাংলাদেশ মিশনের কর্মী ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন এবং আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় হাইকমিশনার আশ্বাস দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সহকারী হাইকমিশন, এর কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে, সহকারী হাইকমিশনারের গাড়িবহরে হামলা এবং দূতালয়ের পথ নির্দেশক বিনষ্ট করা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের চমত্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।

dnmsf.jpg

বিয়ে বাড়ি সাধারণত আলোকসজ্জা, গান-বাজনা, বিশেষ ব্যান্ড পার্টি, সানায়ের করুণ সুরে মুখরিত হয়ে থাকে। কিন্তু রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের একটি বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা বেশ ব্যক্তিক্রম।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) মোজাহার চেয়ারম্যানের মেজ ছেলে তাজমহল মন্ডল ও ছোট ছেলে সান্টু মন্ডলের বিয়েতে এভাবেই নেতাদের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রবেশদ্বারগুলো।

বউভাত উপলক্ষে বিয়েতে সাজ-সজ্জায় লাইটিং এরা পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রিয় নেতাদের ছবি দিয়ে সাজিয়েছে পুরো বিয়ে বাড়ি। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও। রয়েছে ইউনিয়ন মেম্বর থেকে শুরু করে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি।

এই বিয়ে বাড়িতে নেই বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির ছবি।

রাজশাহীর অনেক নেতার ছবি এখানে নেই এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, এখানে যাদের ছবি দেখছেন তারা সকলে আমার প্রিয় মানুষ।

ছয়টি গরু ও ছয়টি খাশি জবাই করে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিশাল খানার। চৌপুকুরিয়া গ্রামে একসাথে দুই ভাইয়ে বিয়ে হচ্ছে যে কন্যাদের সাথে তারা সম্পর্কে বরদ্বয়ের মামাতো বোন। এমন সাজ সজ্জা ও একই সাথে দুই ভাইয়ের বিয়েতে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে চেয়ারম্যান মোজাহার আলী।

kadersid.jpg

বিএনপির নেতা যতদিন তারেক জিয়া আছে এবং যতদিন তারেক হাওয়া ভবনের জন্য মানুষের কাছে দুই হাত তুলে ক্ষমা না চাইবেন ততদিন বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় বিএনপি যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন,বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।

তিনি আর বলেন, ইলেকশন হলে নৌকা মার্কার জয়ের সম্ভাবনা কেয়ামত পর্যন্ত নাই।’ বৃহস্পতিবার গাইবান্ধায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এসব কথা বলেন।

গাইবান্ধা জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. মোস্তফা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুরুল আলম প্রমুখ। পরে অ্যাড. মোস্তফা মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও আবু বক্কর সিদ্দিককে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট গাইবান্ধা জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করি না। সেইসঙ্গে বিএনপির বাঁদরামিকেও সমর্থন করি না। কারণ দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অঙ্গীকার প্রকৃত গণতন্ত্র, শোষণহীন, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত এক অসাম্প্রদায়িক সমাজ আজও বাস্তবায়িত হয়নি।’

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার নৌকার সরকারই শেষ সরকার নয়। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগও নয়; তার দল কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার দল হতে পারে।

গত নির্বাচনে ভোট চুরি না করলে আওয়ামী লীগের জয়ের সম্ভাবনা হয়তো পরে থাকতে পারতো। কিন্তু শেখ হাসিনা ভোটের আগের রাতে ভোট চুরির ব্যবস্থা করে কেয়ামত পর্যন্ত নৌকার জয়ের সম্ভাবনা নিজেই নষ্ট করে দিয়েছেন।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজনীতির নামে মানুষকে অপদস্থ করা হচ্ছে। কিন্তু কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মানুষের ওপর দাপট খাটায় না, লুটতরাজ করে না – মানুষের সেবা করে।’

kamal789.jpg

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারত সফর স্থগিত করেছেন। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারত সফর বাতিল করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সুত্র থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর বাতিলের খবর জানা গেছে।

ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাসের একদিন পর বাংলাদেশের দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর দেশটিতে নির্ধারিত সফর বাতিল ও স্থগিত করার ঘটনায় স্পষ্ট যে ওই বিল পাসের বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার তাদের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিলটি পাস করে। এর আগে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এই বিল লোকসভায় পাস করা হয়।

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তার আমন্ত্রণে শুক্রবার সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত করেন কামাল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিআরও শরীফ মাহমুদ অপু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। ’

তবে সফর স্থগিতের কোনও কারণ উল্লেখ না করে অপু জানান, ‘পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেঘালয় সফর করবেন। এ সফর জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারি মাসে হতে পারে।’

এ সফরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কয়েকটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা ছিল।

এর আগে দুপুরে ভারত সফর বাতিল করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের আমন্ত্রনে আজ বৃহস্পতিবার বিকালেই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তার। ভারতের নাগরিকত্ব বিল এবং বাংলাদেশকে এর মধ্যে জড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে মূলত আলোচনা করতেই দেশটি সফরের কথা ছিল তার। তবে এ সফর জানুয়ারিতে হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন না।’

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক ঢাকায় না থাকার কারণেও তিনি যাচ্ছেন না বলে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান।

তবে আগামী জানুয়ারি মাসেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা রয়েছে। এ বিষয়টির উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী মাসে মন্ত্রীর ভারত সফর করার সম্ভাবনা আছে। সেটিও একটি কারণ।’

momen566.jpg

ভারত সফর বাতিল করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাওয়ার কথা ছিল আবদুল মোমেনের। আজ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছে আগামী শনিবার পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের কথা ছিল তার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশে রাষ্ট্রীয় অন্য কাজ থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন তার পূর্ব নির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেছেন। তার বদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে গেছেন।

তবে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দাবি করেছে, ভারতের নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস হওয়ার পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট সহিংসতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ভারত সফর বাতিল করেছেন। তবে তারা জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে তিনি এ সফর বাতিল করেছেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা জানানো হয়নি।

গত রোববার ভারতের লোকসভায় বহুল বিতর্কিত নাগরিক সংশোধনী বিল পাস হয়। এ বিলকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিলটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখান থেকে পদস্খলন হলে ভারতের যে ঐতিহাসিক অবস্থান, তা দুর্বল হয়ে যাবে।’

Passport-1.jpg

সংকট মোকাবেলায় ২০ লাখ পাসপোর্ট কিনছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৫৩ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটিসহ মোট পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভায় সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান পাসপোর্ট চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো থেকে পাসপোর্টের চাহিদা আসছে। সংকট মোকাবেলায় ২০ লাখ পাসপোর্ট কেনা হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যবহার করা হবে। সারা বিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা আছে। আইডি গ্লোবাল সলিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে এসব বই ক্রয় করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের পাশাপাশি ই-পাসপোর্টের দিকে যাওয়া হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকার কাজের ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর, সংযোগ সড়ক, রিটেশন পুকুর, খাল ও পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে ৫০০ একর জমির ওপর এ উন্নয়ন কাজ করা হবে। কাজটি বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এদিকে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল ধলখার আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চারলেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় গণপূর্তের কাজের জন্য ৫৭২ কোটি টাকার একটি চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটির অর্থায়ন হবে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে। এ কাজ বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। একই প্রকল্পের পৃথক আরও একটি গণপূর্ত কাজে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার। এটিও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল ধলখার আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চারলেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার জন্য ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি চুক্তি অনুমোদন দেয়া হয়।

PM-sheikh-hasina-2.jpg

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার প্রশ্ন, একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আঁকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করল, তখনই পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।

সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারতাম না।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু লোকের উসকানির কারণে বিশ্বব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল।

তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদের গ্রামীণফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লোকই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারণা বদলে গেছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএস প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন।

দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সব সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলব জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি তাদের আরো বেশি উদ্ভাবনী পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা-চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এ শপথ অনুসরণ করতে তাদের পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদের সুবিধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোর্সের তিন তরুণ কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। বাসস

PM-Sheikh-Hasina-1-3-1.jpg

বাংলাদেশকে আমি আমার পরিবার মনে করি। নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করি, বাংলাদেশের মানুষের জন্যও অনুরূপ মনোযোগ দিয়ে কাজ করি। ক্ষমতার বিষয়টি আমার কাছে ভোগের নয়, এটি দায়িত্ব পালনের।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম আইন এবং প্রশাসন কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে এটাই ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। কারণ জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আমি মনে করি, এটা আমার দায়িত্ব।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশের দেশগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না। দেশের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছিল আমাদের অন্যতম কাজ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এজন্য কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছি, সে অনুযায়ী কাজ চলছে।

দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ ভাগই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করি। কারা ট্যাক্স দেয়, আমাদের দেশের মানুষ। কারা খাটে, আমার গরিব কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ, তারাই তো খাটে। তাদের এ অর্থগুলো যথাযথভাবে দেশের উন্নয়নে যেন ব্যয় হয় এবং উন্নয়নটা যেন পরিকল্পিতভাবে হয়, মিতব্যয়ের সঙ্গে আমরা যেন আরও বেশি উন্নয়ন করতে পারি, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

শাহবাগের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচিব ফয়েজ আহমদ। বিশেষ অতিথির বত্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান।

BNP-16.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  ঢাকায় থানা পর্যায়ে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

এ সময় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ করে দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রভাবের কারণে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই আদেশ দিয়েছে। সর্বােচ্চ প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাও কমে গেছে। আমরা এই আদেশে ক্ষুব্ধ। ন্যায় বিচার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। রবিবারের পর আবারো নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। মূলত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর করণীয় কী, সেটা ঠিক করতেই এ বৈঠক বসেছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া বৈঠকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনও উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান দলের মহাসচিব।

এর আগে এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।

সকাল ১০টা ৮ মিনিটে আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়। পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

এরপরই দুপুরে আদালতের আদেশের পরপরই বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। অবশ্য পুলিশের ধাওয়ায় মিছিল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এ সময় বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া বাংলামটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।