খবর Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

saima4.jpg

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুই বছরের শিশু সন্তানকে এক মা গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ শামীমা আক্তার সাইমা নামে ওই নারীকে আটক করেছে।

সোমবার ভোরে উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, পল্লী চিকিৎসক মামুনুর রশীদ মামুন ও শামীমা দম্পতির তিন সন্তান। তাদের মধ্যে ছোট মেয়ে স্নেহার বয়স দুই বছর। ভোরে শামীমা তার ঘুমন্ত শিশুকন্যা স্নেহাকে ডেকে তুলে দোতলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যাস। সেখানে বঁটি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যায় ব্যবহৃত বঁটিটি জব্দ করা হয়েছে।

এসআই জানান, শামীমা আক্তারকে আলমডাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।

premik-premika.jpg

সামাজিক যোগেযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় এবং মোবাইলে আলাপের সূত্রে প্রেম। আর সেই টানে ঘর ছেড়ে ঝিনাইদহ থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আসেন এক প্রেমিকা। কিন্তু সেখানে এসেও প্রেমিকের দেখা মেলেনি।

অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে অবশেষে থানায় গিয়ে প্রেমিকের সন্ধান চাইলেন, অন্যথায় আত্মহত্যার হুমকি দিলেন ওই নারী।

পরে তাকে থানায় রেখে তার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। কিন্তু ওই তরুণী (২১) পরিবারের কাছে না যাওয়ায় পরে রোববার থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে পরিবারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর উপজেলার কাজীর বেড় গ্রামে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের কোনো এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় সূত্রে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

গত ১৩ জুন ওই তরুণী বাড়ি থেকে বের হয়ে মধুপুরের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে প্রেমিকের দেখা পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রেমিককে না পেয়ে ১৪ জুন মধুপুর থানায় গিয়ে প্রেমিকের সন্ধান চান, অন্যথায় আত্মহত্যার হুমকি দেন। পরে তাকে থানায় রেখে বাড়িতে খবর পাঠানো হয়।

সোমবার বিকেলে এ ব্যাপারে মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ১৫ জুন শনিবার রাতে বাবা-মা এসেও মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে পারেননি। এমন আচরণে নিরূপায় হয়ে পরদিন রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় আদালত তাকে পরিবারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

norailw.jpg

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মারধরসহ পিস্তলের গুলিতে হত্যার হুমকির ঘটনায় চারজনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার দুপুরে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন শহরের ভওয়াখালী এলাকার জুলমত খানের ছেলে জাকারিয়া খান।

জাকারিয়া এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। বেআইনীভাবে জনতাকে মারপিট, হত্যা চেষ্টা, হুমকি প্রদানসহ অস্ত্র আইনের বিধি ও লাইসেন্স শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে বলে মামলার ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে-শহরের মহিষখোলার ঠিকাদার রেজাউল আলম (৪৬) ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (৪০) এবং একই এলাকার ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলু (৫০) ও দুঃখু। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী জাকারিয়া খান জানান, অভিভাবক কর্তৃক নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক স্যারকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবিতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল ১০টার দিকে ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আসামিরা বেআইনী ভাবে জোটবদ্ধ হয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় তারা। আসামিদের এ ধরণের কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীরা দিক-বিদিক দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করে। এছাড়া আসামিরা শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড় মারেন।

এদিকে, ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি রেজাউল আলম মামলার বাদী জাকারিয়া খানের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। জাকারিয়া বলেন, এ সময় রেজাউল আলম আমাকে বলে-তুই বেশি বেড়েছিস; তোকে গুলি করে মাথার খুলি উড়াইয়া দেব। ঘটনার সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা আসামিদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন পিপিএম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া রেজাউল আলমের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি থানায় জমা নেয়া হয়েছে।

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূক্তভোগী শিক্ষক প্রদেশ মল্লিক জানান, গত ১৫ জুন সকালে তার বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় পড়ালেখা নিয়ে সানজিনা এরিনা নামে এক ছাত্রীকে শাসন করেন তিনি। এরিনা বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার বাবা শহরের মহিষখোলার ঠিকদার মঈন উল্লাহ দুলুকে জানায়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা বাসায় এসে শিক্ষককে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সানজিনা এরিনা নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হলেও নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বালক) শিক্ষক প্রদেশ মল্লিকের কাছে প্রাইভেট পড়ত।

বিষয়টি জানাজানি হলে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ওই অভিভাবকের বিচার দাবিতে রোববার সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে নড়াইল-যশোর সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধসহ ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে চড়াও হয় অভিযুক্ত অভিভাবক ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলুর লোকজন। দুলুর পক্ষ নিয়ে একই এলাকার ঠিকাদার রেজাউল আলমসহ তার অনুসারীরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তাড়া করে মারধরে উদ্যত হন।

এক পর্যায়ে প্রশাসনের সামনেই রেজাউল আলম পিস্তল বের করে ছাত্রদের গুলি করার জন্য এগিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দিক-বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।

এমনকি শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা ঠিকাদার রেজাউল আলমকে পিস্তল বের না করার অনুরোধ করেন। এ ঘটনায় অভিভাবকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ হতবাক হন। ঘটনাটি ‘টক অব দ্যা টাউন’-এ পরিণত হয়।

এ ব্যাপারে ঠিকদার রেজাউল আলম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাননি। এদিকে অভিযুক্ত অভিভাবক মঈন উল্লাহ দুলু ভূক্তভোগী শিক্ষক প্রদেশ কুমারকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

taj-20190617162418.jpg

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনোভাবেই এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না; কোনো নাগরিক গুম কিংবা অপহৃত হোক। কার কী পরিচয় তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি ভাগ্নেকে ফিরে পাব।’

গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ অপহৃত হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সৌরভকে অপহরণ করা হয় বলে ওই দিন রাতে তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘‘বেঙ্গলী বিউটি’’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দাশীল পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার সওদাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে সে বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে সওদার বাবা আজাদ চৌধুরী আমার ছেলেকে দোষারোপ করে এবং আমার ছেলেকে ও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জেরে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সৌরভকে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মোবাইলের সব ডাটা ডিলেট করে সেখানেও সওদার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।’

সৌরভের মা আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় ওসি সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এক সপ্তাহ পর এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে বৈঠক হয়। সেখানে সৌরভের ঘটনা তদন্ত করার কথা জানানো হয়। সেখানেও সওদার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। কোন কোন দেশ ঘুরেছে সৌরভ তা জানতে চায়। পরে তারা প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলে চলে যায়।

২০১৮ সালের ১৬ মে বনানীর বন্ধুর বাসা থেকে ডিজিএফআই ও র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ মে রাত পৌনে ১২টায় একই কায়দায় ফেরত দিয়ে যায়। এ দীর্ঘ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সওদা-সংক্রান্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চাকরির প্রলোভন দেখায়। কাগজপত্র চায়। এরপর গত ৮ জুন দুপুরে ১১-১২টার দিকে র‌্যাব ফোন করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করতে বলে। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি সৌরভ। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই।’

যার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অন্য সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কী হতে পারে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আশা করব না অন্য কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন কিছু হোক। আজকে আমার ভাগ্নে, কালকে হয় তো আপনার ভাই হতে পারে। আরেক দিন হয়তো আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারও কাম্য নয়। কার কী পরিচয় সেটা মুখ্য বিষয় নয়, আমার কী পরিচয় তাও মুখ্য বিষয় নয়। এখানে আইনের শাসনে রাষ্ট্র চলবে। ন্যায়বিচার সুবিচারের রাষ্ট্রে এ রকমটা হওয়া বা এমন পরিণতির শিকার হওয়া কাম্য নয়।’

অপহরণকারীরা কী প্রভাবশালী, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে- এমন প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটা আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। ৮ দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।’

hasina1-20190617182737.jpg

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ ক্রয়সহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম এক সময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

সোমবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বালিশ তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। এক সময় তিনি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপিও নাকি ছিলেন। তাকে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। যখনই তথ্য পেয়েছি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যে দলেরই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বালিশ তত্ত্ব নিয়ে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির গঠন ও নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এখানে (বিএনপিতে) এমন লোক রয়ে গেছে জন্ম থেকেই তাদের চরিত্র দুর্নীতির। তার কারণও আছে। এই দলটি বিএনপি যিনি করেছিলেন। সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সাথে যিনি জড়িত- হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহীন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন।

অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন জিয়া। ক্ষমতা দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে ওঠে তাদের চরিত্রটা জানা উচিত। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগ্রস্ততার মধ্যে থেকে ওঠে আসা।

পঁচাত্তরের পর থেকে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, সব জায়গায় এই জঞ্জাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বালিশ তত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সেখানে গড়ে উঠছে। সেখানে আর কিছু না পেয়ে পেল বালিশ। এটা কোন বালিশ। কী বালিশ সেটাও একটা প্রশ্ন? এটা কী তুলার বালিশ। কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা, নাকি সিনথেটিক তুলা? নাকি জুটের তুলা? আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেলল কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার জোগানদাতা কে? সেটা আর বলতে চাই না।

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সুশাসনের অভাব বলে অভিযোগ করেন। সংসদ সদস্যের এমন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আরেকজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, সুশাসনের অভাব। উনি যে দল থেকে এসেছেন, নবগঠিত দল। আসলে আওয়ামী লীগ ভেঙেই ওই দলটি গড়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উনাদের নেতা আওয়ামী লীগই করতেন। তারপর চলে গিয়েছিলেন। কাজেই তার দলে কী ডিসিপ্লিনটা আছে? কী দলতন্ত্রটা আছে? যার নিজের দলেই সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, ডিসিপ্লিন নেই- যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলেন, খামোশ। তার কাছ থেকে কী আশা করা যায়?

এ সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য বললেন, প্রতিবার নির্বাচিত হলেই প্লট পাবেন। আমি তো সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমি তো কোনো প্লট নেইনি।

hasina-2-20190617183239.jpg

ব্যাংকের তারল্য সঙ্কটের অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই।’

জাতীয় সংসদে সোমবার (১৭ জুন) চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

মঞ্জুরি দাবিগুলো যেন পাস করে দেয়া হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা খরচ হয়ে গেছে সেটার ব্যাপারে কিছুই করার নেই। সেটা পাস করে দেন। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষের যদি উচ্চাভিলাষ না থাকে তিনি কোনো কিছু অর্জন করতে পারেন না। উচ্চাভিলাষ না থাকলে এসব অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তবে বিগত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন, পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে আমাদের লক্ষ্যসমূহ সবসময় বাস্তবভিত্তিক ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাস্তবতা হলো বাজেটে কিছুটা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন হয় এবং আমরা প্রতি বছরই সেটা করি। এটা আমাদের দেশে বলে নয়, পৃথিবীর সব দেশে বাজেটে প্রস্তাবনা দেয়। যেমন আমি এ বছর যে প্রস্তাবনা নিয়ে আসছি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য। সেখানে আমরা একটা ধারণা করি যে আমরা কত রাজস্ব আয় করব।’

তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে উন্নয়নের বাজেটটা আমরা ঠিক করি। কোন লক্ষ্যে পরিচালিত হবে সেটা সুনির্দিষ্ট করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা যে বাজেটটা দিয়েছিলাম সেটাতেই পরিবর্তন পরিমার্জন করে সংশোধনী বাজেটের প্রস্তাব আনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে গ্রস বরাদ্দ ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা এবং নিট বরাদ্দ ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ৩৭টি মন্ত্রণালয়ে অথবা বিভাগের গ্রস বরাদ্দ ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গ্রস বরাদ্দ ৩৬ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে নিট ২২ হাজার ৩৩ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে নিট ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ৩৭টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে সম্পূরক মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। তারমধ্যে দায়যুক্ত ব্যয় ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট ও সংশোধিত বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা, অনেক কথা বাইরেও হচ্ছে এখানেও হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এ বাজেট কিছুই না। যারা এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন তাদের কাছে আমার এটাই প্রশ্ন, বাজেটই যদি সঠিকই না থাকে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এত উন্নতি করল কীভাবে?’

তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন, বাজেট দিয়েছেন বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাজেট বাস্তবায়ন একটা বিষয় আছে। আমরা বাজেট উপস্থাপন করছি জুন মাসে। এক বছর পর আবার বাজেট দেব। এক বছরে আমাদের যে বাজেট বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেট যেটা আমরা বস্তবায়ন করি। আমাদের একটা নিয়ম আছে মাঝামাঝি সময় একটা হিসাব নেই। পরিমার্জন সংশোধন করে থাকি যাতে অর্থটা যথাযথভাবে কাজে লাগে। সেটাই সম্পূরক হিসেবে পরিবর্তিত উপস্থাপন করে থাকি।’

‘বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারি না, সেটা যদি বলে, তাহলে ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম ২০০৮ সালে। আজকে সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে চলে গেছে বাজেট। এটা তাহলে আমরা করলাম কীভাবে? যদি আমাদের বাস্তবায়নের দক্ষতাই না থাকে। কাজেই আমি বলব উন্নয়নের সুযোগটা সবাই নিচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন, যে বিদ্যুৎ এতো উৎপাদন হলো তাহলে শতভাগ পায় না কেনো। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সবসময় চালু থাকে না। প্রত্যেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার করতে হয়, বন্ধ থাকে। আজ ৯৩ ভাগ মানুষ কিন্তু বিদ্যুৎ পাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশও হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা কথা এসেছে যে, ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেনো? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই। আর যারা লুটে নিয়েছে তাদের আমরা চিনি। অনেকেই ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে আর কোনোদিন দেয়নি। আবার দুর্নীতির দায়ে কারও বিরুদ্ধে মামলাও আছে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। এটা সময় আসলে এ ব্যাপারে আমরা আরও আলোচনা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই আজকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা অনেক উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। যা দেখে বিশ্ব অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানে যাই সেই কদরটা পাই, দেশবাসী সেই সম্মানটা পায়। অযথা কিছু কিছু কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আমরা যদি কাজই না করতাম তাহলে দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে কমে ২১ ভাগে নেমে আসতো না। ২১ ভাগ থেকে আরও নামাব।’

bkash-20190617164108.jpg

ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স দেখতে এখন থেকে মূল্য দিতে হবে। এতদিন মোবাইল অপারেটরগুলো এ সেবা বিনামূল্যে দিলেও এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতিবার ৪০ পয়সা খরচ করতে হবে।

ফলে এতদিন বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউক্যাশসহ সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স বিনামূল্যে দেখা গেলেও এখন গ্রাহকদের এ সুবিধা থাকছে না, প্রতিবার ব্যালেন্স দেখতে ৪০ পয়সা গুণতে হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশে সব মোবাইল অপারেটর এটি কার্যকর করতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত এক নিদের্শনা জারি করা হয়েছে, যা রোববার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রতিবার লেনদেন, ব্যালেন্স চেক বা স্টেটমেন্ট নেওয়াসহ নানা ধরনের কাজকে একেকটি সেশন ধরা হবে। প্রতিটি সেশনের সময় হবে ৯০ সেকেন্ড। প্রতি ৯০ সেকেন্ডের একেকটি সেশনের জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের ৮৫ পয়সা করে দিতে হবে।

এছাড়া একেকটি সেশনের মধ্যে দুটি এসএমএসও থাকবে। তবে শুধু ব্যালেন্স চেক করতে গ্রাহককে সেশনের চার্জ দিতে হবে ৪০ পয়সা।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার জন্য এমএফএস অপারেটররা মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্যই এখন থেকে এমএফএস অপারেটদের তাদের পয়সা দিতে হবে।

gulane.jpg

সিরিয়ার কাছ থেকে জবরদখল করা গোলান মালভূমিতে ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকার নতুন করে একটি অবৈধ বসতি তৈরি করেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইহুদিদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিদান স্বরূপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ নামকরণ করা হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ কারণেই ইহুদিবাদী ইসরাইল ট্রাম্পের সম্মানে ‘ট্রাম্প হাইট’ নামে ওই বসতির নামকরণ করে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার ওই নামফলক উন্মোচন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, গোলান মালভূমি ইসরাইলের এবং এটি চিরদিন ইসরাইলেরই থাকবে। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে ইসরাইলের ‘মহান বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প ইসরাইলের স্বার্থে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা অন্য কেউ করেননি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটার পোস্টে ধন্যবাদ জানান। তার নামে অবৈধ বসতির নামকরণ করায় তিনি একে বিরাট সম্মানের বিষয়ে বলে উল্লেখ করেন।

ge2a.jpg

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের জাতিবিদ্বেষী নীতির কারণে দেশটিতে ত্রাণ সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে জাতিসংঘ।

এ বিষয়ে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী কেনাট ওস্টবি নেপিদোকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে যে রোহিঙ্গারা এখনও রাখাইনের শরণার্থী শিবিরে (ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেসড পার্সনস-আইডিপি ক্যাম্প) থেকে গেছে, তাদের মৌলিক মানবাধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। মিয়ানমার অবশ্য চিঠিটিকে হুমকি হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ওই চিঠিতে সহায়তার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে অভিযান চালায় তাতে বহু রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় এবং অন্তত ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও জাতিসংঘের হিসাবে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও সেখানে থেকে গেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইনে থাকা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। ২০১২ সালে রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য স্থাপন করা হয় আইডিপি ক্যাম্প। তখন থেকেই এই ক্যাম্পে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা ও কামান জনগোষ্ঠীর প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার সদস্য এসব ক্যাম্পে বসবাস করে। তবে তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী নতুন অভিযান জোরালো করার পাশাপাশি এসব ক্যাম্প বন্ধ শুরুর অঙ্গীকার করে মিয়ানমার সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও অবনতির দিকে গেছে।

গত ৬ জুন মিয়ানমার সরকারকে লেখা চিঠিতে দেশটিতে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেছেন, এখন থেকে চলাফেরার স্বাধীনতাসহ মৌলিক ইস্যুতে বাস্তব উন্নতি হলেই কেবল জাতিসংঘ ও তাদের দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা সরবরাহ করা হবে।

মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে-কে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পুরনো ‘বন্ধ থাকা’ এবং নতুন তৈরি করা ক্যাম্পগুলোতে একই অমর্যাদাকর পরিস্থিতি চলছে। সেখানকার বাসিন্দাদের মৌলিক সেবা বা জীবিকার সুযোগ নেই। এমনকি দৃশ্যত অপরিবর্তিত থেকে গেছে ক্যাম্পের অবস্থান।

ত্রাণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে মিয়ানমারে কর্মরত জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্প বা তার আশেপাশে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনায় এটা স্পষ্ট, জাতিবিদ্বেষী বিচ্ছিন্নতা স্থায়ী হবে।

গার্ডিয়ানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইডিপি ক্যাম্প বন্ধের কাজ আন্তর্জাতিক মানে আনতে জাতিসংঘ বেশ কয়েক মাস ধরেই মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে আসছে। ধারণা করা হয়, এসব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ওস্টবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী সোয়ে অং দাবি করেছেন, ওস্টবির চিঠিকে জাতিসংঘের সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি হিসেবে দেখছেন না তারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সংস্থা এবং আমাদের মন্ত্রণালয় নিবিড় যোগাযোগ রাখছে আর মানবিক সহায়তা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য আমরা খোলামেলাভাবে এবং বারবার আলোচনা করছি।

population.jpg

বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৭০ কোটি। তবে আগামী তিনদশকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটি।

সোমবার (১৭ জুন) জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা আরও ২০০ কোটি যোগ হবে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের জনসংখ্যা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট ২০১৯ : হাইলাইটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক জনমিতির বিস্তৃত নিদর্শন এবং সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, প্রজননের হার হ্রাস ও জনসংখ্যা কমতে থাকা দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে বিশ্ব জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে বলা হয়, চলতি শতকের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যা হবে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি।

নতুন অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার অর্ধেকের বেশি হবে নয় দেশে—ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত ২০২৭ সালে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে (৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে)।

১৯৫০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত এক হাজার ৬৯০টি জাতীয় আদমশুমারির ফল ব্যবহার করে এ নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এতে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ব্যবস্থা ও দুই হাজার ৭০০ নমুনা জরিপের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রজনন হার, যা ১৯৯০ সালে ছিল প্রতি নারীতে ৩.২, তা ২০১৯ সালে কমে ২.৫-এ দাঁড়িয়েছে। সেটি ২০৫০ সালে কমে ২.২ হবে।

১৯৯০ সালের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৪.২ বছর থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৭২.৬ বছর হয়েছে। তা ২০৫০ সালে আরো বেড়ে ৭৭.১ বছর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে ২৭ দেশ বা অঞ্চলে ১ শতাংশ বা তার বেশি জনসংখ্যা হ্রাস পেতে দেখা গেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রজনন হার কমে যাওয়ার কারণে এ হ্রাসের সৃষ্টি হয়।

চীনে ২০১৯ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা তিন কোটি ১৪ লাখ বা প্রায় ২.২ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বলা হচ্ছে।