জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

ershad-20190122003635.jpg

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জল্পনা-কল্পণা এখন তুঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা কিভাবে হবে তা নিয়ে ।

পারিবারিক সূত্র দাবী করছে, গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তাঁর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, এবং দেশে- বিদেশে থাকা তার বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন ।

তাদের দাবি অনুযায়ী, এরশাদের পালক পুত্র রাহগির আল মাহি এরশাদ, বিদিশার পুত্র এরিক এরশাদ, পালক পুত্র আলম এবং পালিত কন্যা আজরা জেবিন, পুরাতন ঢাকার রিপা কর্মকার, নারায়ণগঞ্জের অনন্যা হুসেইন মৌসুমী কিছু সম্পত্তির ভাগ পেয়েছেন।

এদিকে, দলীয় ও পারিবারিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে অনেকেই বলাবলি করছেন, মৃত্যুর আগে এরশাদ নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

সূত্রের দাবি এরশাদ নিজ নামে একটি ট্রাস্ট খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন স্বজনদের কাছে। তাঁর রেখে যাওয়া সহায়-সম্পত্তি এ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হবে।

আরও জানা যায়, ঐ ট্রাস্ট থেকে যা আয় হবে তা অসহায় এবং দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

karnaphuli-tunel.jpg

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম সড়কপথ ‘কর্ণফুলী টানেলকে’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য প্রস্তাবটি রেখেছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সোমবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্র জানায়, মূলত প্রথম সভায় মন্ত্রিসভায় সদস্যরা প্রত্যেকে নিজেদের পরিচয় এবং বক্তব্য তুলে ধরেন।

সূত্রমতে, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিজের পরিচয় পর্ব শেষ করার পর কর্ণফুলী টানেলের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি এই টানেলের নাম বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, যেহেতু দেশে এই প্রথম কোন টানেল নির্মিত হচ্ছে এবং চট্টগ্রামে যেহেতু সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য তেমন কোন বড় স্থাপনা নেই, তাই টানেলটি বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা যেতে পারে।

দেশের প্রথম বৃহত্তম বহুমুখী সেতু যমুনা সেতু বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রসঙ্গও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রিসভার তরুণ এই সদস্য। নওফেলের বক্তব্যে সমর্থন জানান চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত আরেক সংসদ সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া ড. হাছান মাহমুদ।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এই বক্তব্য রেকর্ডে রাখার নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে সেই অর্থে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য বড় কোন স্থাপনা বঙ্গবন্ধুর নামে নেই। যমুনা সেতু হচ্ছে দেশের সর্বপ্রথম বৃহৎ বহুমুখী সেতু, যেটি বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা হয়েছে। টানেলও দেশে প্রথম নির্মিত হচ্ছে এবং চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় বহুমুখী সেতু। এই টানেল বঙ্গবন্ধুর নামে অবশ্যই হতে পারে।’

নওফেলের বক্তব্যের সূত্র ধরে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সিলেট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রবাসি কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদও সিলেটে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রস্তাব তুলে ধরেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার ভোটের মাঠে এসে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য। তরুণ এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায়ও রেখেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে এক জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গেলে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি অংশ থেকে অপর পাশে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত সোয়া তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে।

এখানেই নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে টানেল। এরই মধ্যে প্রকল্পের ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ টানেল নির্মাণ শেষে গাড়ি চলাচল শুরু হবে।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চীন অর্থায়ন করছে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম নদীর তলদেশে সড়ক টানেল নির্মাণ করছে।

5ne.jpg

ঠিকানা ও পদবি একই। শুধু বদলেছেন পরিচয়। আগে ছিলেন ‘শহীদ জিয়া একতা ক্লাব’-এ, এখন হয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু একতা ক্লাব’-এর সভাপতি। বলছি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর খুরশিদ আলমের কথা। কয়েক দিন ধরে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌর এলাকার গনিপুরের খুরশিদ আগে বিএনপি করলেও এখন রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়েছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় ঠেলাগাড়ির শ্রমিকদের সংগঠনের নেতাও তিনি।

শুধু খুরশিদ আলমই নন, এমন অনেক ‘খুরশিদ’ই এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে ‘আওয়ামী লীগার’ হয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন আওয়ামী লীগার হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ কেউ মুজিব কোট লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা-ওলিগলি। আবার রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামীদামি ব্র্যান্ডের কাপড় দিয়ে মুজিব কোট বানানোর হিড়িক পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই নন, অনেক পেশাজীবীও  এখন টক শোতে মুজিব কোট পরা শুরু করেছেন। নিজেকে ‘আওয়ামী লীগার’ প্রমাণ করতে প্রাণপ্রণ চেষ্টা করছেন। শুধু টক শোই নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে তারা মুজিব কোট পরে হাজির হচ্ছেন। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে দল ও পরিচয় পাল্টানোর প্রতিযোগিতা। সচিবালয়ে ভিড় বাড়ছে তাদের। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতা উল্লেখ করে ভিজিটিং কার্ডও বিলি করছেন, যারা বিএনপির পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডের মালিক ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শ্রেণি আছে, যারা সব সময়ই সরকারি দলের লোক। সে কারণেই ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ে। আর এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নিকট অতীতে উপমহাদেশে এত বিশাল জয় নিয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগে আসতে চাইছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লোকজন। সে কারণে রাতারাতি দল বদল করে বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগ ‘তকমা লাগানো’র প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষে অন্য দল থেকে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক এমপি-মন্ত্রী ও নেতা নিজ বলয় ভারী করতে যোগদান করাচ্ছেন বা করিয়েছেন খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে জামায়াত-বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এদের অনেকেই হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নাশকতা মামলার আসামি। মামলা থেকে রেহাই পেতে তারা যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে। একইভাবে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবার আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়েছে। এসব ব্যক্তির আওয়ামী লীগে যোগদানকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ভয়ংকর খারাপ। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখলাম একটি জেলায় গণধর্ষণকারী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। আমি বলব, আওয়ামী লীগে এমন কাউয়া দরকার নেই। এরা শুধু আওয়ামী লীগেরই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। এখন অনেকেই আওয়ামী লীগে আসতে চাইবে বা আওয়ামী লীগার সাজার চেষ্টা করবে। কারণ অনেকেই ফৌজদারি মামলা থেকে বাঁচার জন্য, অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দল বদলাবে। এসব কর্মীর দরকার নেই। এটাই শেষ নয়, আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রায় শেষ। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চাইবে। কাজেই দলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সূূত্রমতে, গত ১০ বছরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে তাদের অর্থবিত্তের সাহায্যে এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে কৌশলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বৈধ ও অবৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল অর্থের মালিক হয়। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাহারা হওয়ার পর তারা এই অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করে। তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণির নেতা-কর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পার্টনার করে ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসায়। তখন এই পার্টনারদেরই দায়িত্ব হয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থসম্পদ রক্ষা এবং তা পাহারা দেওয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে এখন হাইব্রিড বা কাউয়া পরিহার করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ যারা নিজেদের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে ভিড়ছে তারা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেটে পড়বে। দুর্দিনে থাকবে না। গত ১০ বছরকে ভুলে যেতে হবে। বড় বিজয়ে বড় শঙ্কা থাকে। সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। জামায়াত-বিএনপি থেকে নেতা-কর্মীকে দলের টানা যেমন বন্ধ করতে হবে, যারা খোলস পাল্টে মুজিব কোট পরে আওয়ামী লীগার হওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। টানা হ্যাটট্টিক জয়ে ক্ষমতায় আসার পর মুজিব কোট পরা পেশাজীবীদের চিনে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাতারাতি সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসতে চাইলে তাকে নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা আদর্শ নিয়ে দল করতে আসে না। তারা আসে ক্ষমতা ভোগ করতে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এরাই হত্যা, অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। ফলে দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর পড়ে। এখন দল টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা জীবনে এক দিনও আওয়ামী লীগ করেনি, বা দলের জন্য ঝুঁকি নেয়নি, টক শোতে কথা বলেনি, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা এমপি-মন্ত্রীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে। তবে সতর্কভাবে তাদের হ্যান্ডলিং করতে হবে।’ এদিকে রাজনীতিতে ‘অতিথি পাখি’র আগমনে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা অভিমান করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবছেন। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অভিনেত্রী থেকে শুরু করে দল করেন না এমন ব্যক্তিরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন কেউ কেউ। এদের একজন সাবিনা আকতার তুহিন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে স্লোগানকন্যা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তুহিন। তিন দিন আগে তিনি তার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি থেকে মনে হয় বিদায় নিতে হবে। নায়ক-নায়িকাদের এত ভিড়ে আমাদের আর দেখা পাওয়া কঠিন। আন্দোলন-সংগ্রামে রোদে পোড়া শরীর এখন কিছুটা ভালো দেখতে হলেও নায়িকাদের রূপে বিলীন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে এত লোক, বিরোধী দলে থাকতে তো দেখি নাই। মেয়েদের রাজনীতিতে কেবলই জ্বালা, নায়িকাজ্বালা। আবার মেয়ে হওয়ার জন্য পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও সাধারণ আসনে নমিনেশন দেওয়া যাবে না। সরকারি দলের চেয়ে তো বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম, নিজেদের দল নিজেদের ছিল। এখন মহাবিপদ। আমাদের দল ছিনতাই করছে বিএনপি থেকে আমদানি হওয়া হাইব্রিড নায়িকারা।’

yabawhite3.jpg

দেশে প্রথম বারের মতো সাদা ইয়াবা উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে মো. ইদ্রীস (২২) নামের এক কিশোর।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের ফিরিঙ্গীবাজার এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হলেও সোমবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় গণমাধ্যমে খবরটি জানানো হয়।

ওই বার্তায় বলায়, লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবার পর এবার মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ‘সাদা ইয়াবা’ ঢুকছে। তবে লাল ইয়াবার অবয়বে আকারে সামান্য ছোট করে তৈরি এসব ইয়াবা। বালতির তলানিতে ইয়াবা রেখে উপরে আরো একটি তলার আবরণ লাগিয়ে সেখানে ইয়াবার এ চালান লুকানো ছিল।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা আগে লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবা দেখেছি। সম্প্রতি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নতুন রঙের ইয়াবা তৈরি শুরু করেছে মাদক কারবারিরা।’

এদিকে নারকেলের ভেতর লুকিয়ে আনা ১ হাজার ৬৬৩ পিস ইয়াবাসহ রাকিব হোসেন বাবু (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অপর একটি টিম।

সোমবার ভোরে নগরের লালদীঘি জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে ঢাকা মুখি ইউনিক পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাকিব হোসেন বাবু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তবে ঢাকার মিরপুরে তার অবস্থান। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ershad-20190122003635.jpg

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল। সম্প্রতি তার হার্টের ভাল্ব লাগানো, লিভারের সমস্যা ও রক্তে ইনফেকশনসহ বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দেশে থাকলে সিএমএইচে ও দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এরশাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে চিকিৎসায় কোনোপ্রকার উন্নতি হয়েছে কি না- সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোমবার রাতে বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের একাত্তর জার্নাল অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা ও আলোচকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদের সহোদর জাতীয় পার্টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এরশাদের ঘনঘন অসুস্থ হওয়া ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া ও দলে রওশনের অবস্থান সম্পর্কে জিএম কাদের বলেন, ভাই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তার অনুপস্থিতিতে আমাকে দলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। বেগম রওশন এরশাদের অবস্থান দলে আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছেন।

এরশাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব হয়তো পালন করে যাবেন বলে তিনি জানান।

bcld.jpg

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেছেন, ছাত্রলীগ আজ আমাদের মধুর ক্যানটিনে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগামীকাল থেকেই মধুর ক্যান্টিনে আসতে চাই। ক্যাম্পাসে আমাদের আগমনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। দু-এক দিন সময় নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রলীগের নেতারা তফসিলের আগেই যেন সহাবস্থানের একটা পরিবেশ তৈরি করেন।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিগত দুটি সভায় যোগ দিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের নিরাপত্তা নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সেটি প্রয়োজন হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই সহাবস্থান নিশ্চিত হয়, সেটি স্বীকার করতেও আমাদের দ্বিধা নেই। নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা চাই ডাকসুটা সচল হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় এদিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রদল নেতা-কর্মী পরিচয়ে নির্ভয়ে থাকতে পারবে যেকোন নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা করবে না ছাত্রলীগ।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামন। এসময় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভা পরিচালনা করেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। এসময় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই অংশ, জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই অংশ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলনসহ ১৪টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

nid-20180718001832.jpg

বিনা নোটিসে গত ১০ জানুয়ারি থেকে বন্ধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা। সার্ভার বন্ধ থাকায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ এই সেবা নিতে পারেনি।

অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানানোর প্রয়োজনই মনে করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিনা নোটিসে ইসি প্রায় ১১ কোটি নাগরিকের তথ্য সম্বলিত সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে সেবা বন্ধ রেখেছে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) এনআইডি শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে এনআইডি সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কবে সার্ভার চালু হবে তা তাদের জানানো হচ্ছে না।

এতে করে মাঠপর্যায়ের অফিসসহ আগারগাঁওয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেয়া হয়। সেখানে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভিড় দেখা যায়। সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের এমন আচরণে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।

ইসি সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ এনআইডি সেবা নিয়ে থাকেন। গত ১০ জানুয়ারি সার্ভারের কাজ চলছে উল্লেখ করে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয় ইসির ইন্টারনাল ওয়েবসাইটে। তবে সেখানেও কবে থেকে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চালু হবে তা উল্লেখ নেই।

ফিরে যাওয়াদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন জরুরি ভিত্তিতে এনআইডি সংগ্রহ করতে। তাদের তারাই বিপত্তির মধ্যে বেশি পড়েছেন। অনেকে আবার পেনশন, মৃত্যুসনদ সংগ্রহের মতো জরুরি কাজও করতে পারছেন না।

সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে চারবার এসেও সেবা পাইনি। কবে কার্ড নিতে পারবো সে তথ্যও কেউ দিতে পারছেন না। আবার ইসির কল সেন্টার থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিরে যাওয়াদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন জরুরি ভিত্তিতে এনআইডি সংগ্রহ করতে। তাদের তারাই বিপত্তির মধ্যে বেশি পড়েছেন। অনেকে আবার পেনশন, মৃত্যুসনদ সংগ্রহের মতো জরুরি কাজও করতে পারছেন না।

জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে আসা এমন ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, একটা নোটিশ দেওয়া হলেও আমরা জানতে পারতাম। এভাবে হঠাৎ বন্ধ রেখে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক হয়নি।

মানিকগঞ্জ থেকে হারানো এনআইডি তুলতে আসা দিলীপ কুমারের সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হারানো এনআইডি পেতে জিডি করে টাকা জমা দিয়েছি। গত সপ্তাহে এলে পরের সপ্তাহে আসতে বলা হয়। আজ (সোমবার) এসেও কার্ড পেলাম না। বলা হচ্ছে, সার্ভারে সমস্যা। সার্ভার কবে ঠিক হবে, কার্ড কবে পাব, আল্লাহই ভাল জানেন।’

দিলীপ কুমার বলেন, এখন ব্যাংক থেকেও টাকা তুলতে গেলে এনআইডি লাগে। অথচ সেটি নিতে পারছি না। কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ এ ফোন করলে সারাক্ষণ ব্যস্ত দেখাই। ধরলেও সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারে না। টাকা খরচ করে আজ সরাসরি এসেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে?

নিজ এলাকায় সেবা না পেয়ে জামালপুর সদর থেকে কয়েকদিন যাবৎ ইসিতে ঘুরছেন মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, এনআইডি হারিয়ে ফেলেছি। কোনো ফটোকপিও নেই। এনআইডি নম্বরও মনে নেই। কার্ড তোলার জন্য জিডি করতে পারিনি। ফলে কার্ড তোলার জন্য আবেদনও করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো ব্যবসা করি। সরকার থেকে কিছু অনুদান পাব। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। নতুন করে অ্যাকাউন্ট করতে পারছি না, এনআইডি নেই বলে। বারবার ঘুরে নিজেকে চরম অসহায় লাগছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এটার বিষয়ে আমি আপডেট না। তাই এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবো না। সার্ভার একটা টেকনিক্যাল বিষয়। ইচ্ছা করলে কেউ ডাউনও করতে পারে, ইচ্ছা করলে কেউ আপও করতে পারে। ইচ্ছা করলে এগুলো করা যায়। এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন এ বিষয়ে বলেন, সার্ভারে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের ডেটা আছে। পার্লামেন্ট ইলেকশন গেলো, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, নতুন যারা ভোটার হচ্ছেন তাদের কাজ করা, তারপর মাইগ্রেশন হচ্ছে সেগুলোর কাজ করা। সবগুলোই কিন্তু এই সার্ভারের মাধ্যমে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সার্ভারে আমাদের কয়েকটি সার্ভিস প্রয়োজন হয়। একটা হলো ওরাকল সার্ভিস। যেটি আমেরিকা থেকে আমাদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। তারপর বিপিএন, এএফআইএস আছে। ওরাকল থেকে যে সার্ভিসটি আমরা নিচ্ছি এ সার্ভিসটিতে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। আমাদের একটি রিকভারি সার্ভারও আছে। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে ওই সার্ভারেও কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের যে টেকনিক্যাল টিম আছে তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর প্রায় ১০৩টি কোম্পানি এরমধ্যে ডেলকো কোম্পানি আছে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আছে, এসব সেবা চালু রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

শুধু নতুন ভোটার হওয়া, বায়োমেট্রিক এটি এখনও আমরা আপ করতে পারিনি। আর আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপজেলা বা থানা যে সার্ভিসটি আছে এটি আমরা আপ করতে পারিনি। আমাদের টেকনিক্যাল টিম যেটি জানিয়েছে মধ্যে এটি আপ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। আর এটি হলে আগের মতোই সব সার্ভিস পাওয়া যাবে।

এনআইডি সেবা যে বন্ধ রয়েছে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু ঘোষণা দিয়েছি। উপজেলা বা ইলেকশন কমিশনের ইটিআই ভবনে এ বিষয়ে নোটিশ করা আছে। যারা সার্ভিসটা নিতে আসবেন তাদের জানানোর জন্যই এটি অফিসগুলোতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সমস্যার কারণ সম্পর্কে বাতেন বলেন, সার্ভারের মেয়াদের একটা বিষয় ছিল। প্রতিনিয়ত আমাদের ভোটার হচ্ছে, কারেকশন হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে হতে এতো বেশি মাইগ্রেশন হচ্ছে। এজন্য ডেটা সার্ভারের স্পেসেও প্রভাব পড়ছে। এজন্য আমরা আরেকটি প্রজেক্ট নেওয়ার কথা ভাবছি। যেটাতে ডেটার জন্য স্পেস বাড়ানো হবে এবং আমাদের যে সার্ভিসগুলো আছে সেগুলো আপডেট করা হবে। ওখানে সার্ভার কেনার এবং আপডেটের বিষয়ও আছে। এটি সম্পন্ন হলে আমরা আরো অনেক বেশি নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস দিতে পারবো বলে আশা করি। এক মাসের মধ্যে প্রজেক্ট প্রোপোজাল যাবে। বাকিটা সরকারের উপর নির্ভর করবে।

এক মাসের মধ্যে প্রজেক্ট প্রপোজাল যাবে। বাকিটা সরকারের উপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

এতে কত টাকা লাগতে পারে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে মার্কেট ভেল্যু বেড়ে গেছে। তারপর আমাদের স্পেস বাড়বে। এটি এখনো ঠিক করা হয়নি। হলে আপনাদেরকে জানানো হবে।’

bal2.jpg

‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ নামে আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠন নেই বলে জানিয়েছে দলটি। সোমবার (২১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. মো. আবদুস সোবহান মিয়ার (গোলাপ) স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, (সোমবার) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’-এর ব্যানারে একটি সংবাদের প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এই সংবাদে ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’-এর বরাতে বিপিএল ক্রিকেট নিষিদ্ধের দাবি করা হয়েছে।

‘আমরা অত্যন্ত স্পষ্টতার সাথে বলতে চাই- আওয়ামী ওলামা লীগ নামে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠন অথবা এই নামে কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের কমিটি নাই এবং প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। আওয়ামী ওলামা লীগের নামে এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বে-আইনি।’

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ধরনের অনৈতিক ও বে-আইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আওয়ামী ওলামা লীগের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নীতি বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ এর ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে বিপিএল ও বাল্যবিবাহ নিরোধে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও) নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

jobaidaaa.jpg

বিএনপিকে নতুন করে গঠন করতে এবং ত্যাগী ও তরুণদের সুযোগ দিতে চান দলটির নেতারা। এজন্য দলের প্রয়োজনে পদ ছেড়ে দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গত ১৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিএনপির এই তিন নেতা তাদের বক্তব্যে এ কথা জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের জোর দাবি যখন বিএনপির ঘরজুড়ে, ঠিক তখন তিন নেতার এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে কে হবেন দলের নতুন কাণ্ডারি? যেসময় দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ বিভূঁইয়ে জীবন কাটাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। দলের এমন মুহূর্তে সর্বোচ্চ ফোরামের দায়িত্ব নিতে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সেটি ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি তারেক রহমানের স্ত্রী।

বিএনপির রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের বড় পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান সক্রিয় হবেন, দলের ভেতরে-বাইরে এই দাবি জোরালো হয়ে উঠছে দিন দিন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ডা. জোবাইদার সক্রিয় হওয়ার পক্ষে। এই নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্লিন ইমেজের জোবাইদা রহমান যাতে বিএনপির হাল ধরেন, দলের ভেতর থেকেও এক ধরনের চাপ রয়েছে। কিন্তু জিয়া পরিবারের অনাগ্রহের কারণেই তিনি রাজনীতিতে আসছেন না। তবে ইতোমধ্যে জোবাইদা দলের প্রাথমিক সদস্য পদ নিয়েছেন।

এছাড়া আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথিরও রাজনীতিতে আগ্রহ রয়েছে। তাকে এবার দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের উপর, এমনটাই জানিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা রেখেই কমিটি দেন খালেদা জিয়া। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে দলে নিয়মিত সময় দিতে পারেন না।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতে আছেন। কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তাও জানা যাচ্ছে না, স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠকেও যোগ দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন স্থায়ী কমিটির এমন দুই সদস্য অবসরে যেতে চান বলে জানা গেছে। ফলে স্থায়ী কমিটির ৯টি পদ কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে। এতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের চেয়ে থাকতে হয় লন্ডনের দিকে।

সূত্র জানায়, বিএনপির দায়িত্ব নিতে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে যে কয়জন এগিয়ে আছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দলের অস্তিত্ব নিয়ে যখন সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, সেই সময়ে তরুণ নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া বুমেরাং হবে নাকি জাতীয়তাবাদী দলের নতুন ইতিহাস তৈরি হবে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে বিএনপির আগামী সম্মেলন পর্যন্ত।

w8s.jpg

প্রেম করে বিয়ে করেও স্বামীর সন্দেহ ছিল। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলেননি কখনো। একদিন স্ত্রীর মোবাইল ঘাটতে গিয়ে বাধেঁ বিপত্তি সে থেকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন স্ত্রী জুলেখাকে।

কিন্তু সমস্যা বাঁধে অন্য জায়গায় যখন দেখা যায় বোরকা পরে পুরুষ বাথরুম থেকে নারী বের হচ্ছে। এমনি ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে।

জানা যায়, আজকে ছিলো স্ত্রী জুলেখা খাতুনের (২৫) অনার্স মৌখিক পরীক্ষা তাই স্বামী মাহমুদুল হাসান (২৮) একসঙ্গে ট্রেনচেপে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরে আসেন।পরে তিনি ট্রেন থেকে নেমে স্ত্রীকে রিকশায় করে কলেজ গেটে নামিয়ে দেন। তবুও তার সন্দেহ হচ্ছিলো জুলেখা কারো সাথে কথা বলছে। তাই তিনি দোকান থেকে বোরকা কিনে ছদ্মবেশে সেখানে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি ভুল বশত বোরকা পরে পুরুষ বাথরুমে প্রবেশ করেন! তা দেখে সন্দেহ হয় কলেজ কর্তৃপক্ষের। ব্যাস, সোজা পুলিশে খবর। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসে আবিষ্কার করে বোরকা পরিহিত নারী নয়, পুরুষ। বোরকা পরা আটক মাহমুদুল হাসান।

পরে সে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য নিজের মুখেই পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল ।

তিনি জানান, ঘটনাটি স্বীকার করেছেন মাহমুদুল হাসান।