জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

kader-big-20200218091706.jpg

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজন ‘মুজিববর্ষ’কে কেন্দ্র করে কোনো চাঁদাবাজির মতো কোনো অনৈতিক কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের যৌথসভা শেষে এ কথা বলেন তিনি বলেছেন, নেত্রী স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, মুজিববর্ষের নামে যে তোড়জোর দেখছি, চাঁদাবাজির দোকান যেনো না হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা একটা কথা পরিস্কারভাবে বলে দিয়েছেন, মুজিববর্ষ উদযাপন করবেন একটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে। মুজিববর্ষ পালন করার নামে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না। নেত্রী স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, মুজিববর্ষের নামে যে তোড়জোর দেখছি, চাঁদাবাজির দোকান যেনো না হয়। বঙ্গবন্ধুকে তাহলে আরো ছোট করা হবে।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঔজ্বল্ল বাড়াতে এসব চাঁদাবাজির দোকান খুলে বঙ্গবন্ধুর মহিমাকে বড় করা যাবে না। কাজেই এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, জেলায় জেলায় আপনারা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দলীয় ও সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আপনাদের প্রোগ্রাম সাজাতে হবে।

যেখানে সেখানে যত্রতত্র চাঁদাবাজি করে বঙ্গবন্ধুর নামে মুজিববর্ষের একটা দোকান খোলা হবে, এটা কেউ অ্যালাউ করবেন না। কোনো অবস্থা অনিয়ম বিশৃঙ্খলাকে মদদ দেয়া যাবে না। যারা এগুলো করবে তাদের তৎপরতা বন্ধ করে দিতে হবে, বলেন তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে সততার আলোকে নিজেকে পরিশুদ্ধভাবে বিকশিত হওয়ার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

আগামী এপ্রিল থেকে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করার কতা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেখানে কমিটি হয়ে গেছে সেসব জায়গায় কমিটি দ্রুত পূর্নাঙ্গ করতে হবে। কমিটিতে নিজের দল ভারী করতে ত্যাগীদের উপেক্ষা সুবিধাবাদীদের দলে না ভেড়াতে সতর্ক করে দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ত্যাগী ও যোগ্যদের দলে পদ দেবেন। সংগঠনের স্বার্থ দেখবেন। সুবিধাবাদীদের বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

দলের অভ্যন্তনে নিজেদের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে দলকে দুর্বল করা যাবে না। সেটি দল ও সংগঠনের জন্য ভালো হবে না। দল বিতর্কিত হয় এমন কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। দলের মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রেখে দলকে শক্তিশালী করা যাবে না। নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নেরজন্য দলকে শক্তিশালী করতে হবে। দল শক্তিশালী হলে সরকার শক্তিশালী হবে।

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।

pm-parlament-20200218155739.jpg

আমাদের ব্যাংকে টাকা নেই- একথা সত্য নয়। টাকা না থাকলে আমরা এতোগুলো উন্নয়ন কাজ কীভাবে করছি? আমাদের ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা দিয়ে ছয় মাসের খাদ্য কেনা যাবে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এ সময় টাকার সঙ্কট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। টাকা আছে বলেই আমরা নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ৬৮৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটি আজ কারও কাছে লুকায়িত নেই। এক সময় দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এক দশকে আমরা বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। যারা ছোট্ট শিশু ধর্ষণ করছে তারা পশুর চাইতেও অধম। এটি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। তাদেরও ঘরে মেয়ে আছে। মানুষ এত জঘন্য চরিত্রের কীভাবে হতে পারে? আমরা এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ আমাদের উন্নয়ন না দেখলে তা তাদের দেখার ভুল। গ্রাম পর্যায়ে পর্যন্ত দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল ভোগ করছে। দেশে মাঝে মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। আমরা সেগুলো মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিই। যেমন- করোনাভাইরাসের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি, যাতে চীনে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে। ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মশার ব্যাপারে আমাদের নিজেদের সচেতন থাকতে হবে। নিজেদের বাড়িঘর আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে মশা জন্মাতে না পারে। মশা যদি জন্মাতেই থাকে তাহলে তো ঘরে ঢুকবেই।

সংসদে নারী ও শিশু নির্যাতনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে একটা খেলা শুরু হয়। এর কারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় একসঙ্গে বেশি কেনে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ওষুধের কাঁচামালসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।

leader-0101-big-20200218075516.jpg

মন্ত্রিসভায় আবারো পরিবর্তন আসতে পারে শিগগির। আগামী ১৭ মার্চ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন শুরু হওয়ার আগে মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়াসহ নতুন মুখ যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষতার নিরিখে দায়িত্ব রদবদলও হবে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর।

এবারের পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকার আরো স্পষ্ট করতে চায়- মন্ত্রিসভার বাইরে দল ও দলের বাইরে মন্ত্রিসভাকে রাখা।

যে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দলের কেন্দ্রীয় পদে রাখা হয়নি, তাদের পদোন্নতি হতে পারে। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া ও দলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় দায়িত্বে না থাকা কেউ কেউ এবার যোগ হতে পারেন।

‘চমকের মন্ত্রিসভায়’ জনপ্রিয় ও নতুন মুখ যোগ করে সরকার আরো ‘চমক’ দিতে চায় বলে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় শিগগিরই আনো বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। নতুন বছরের শুরু থেকেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের চিন্তা ছিল সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার।

গত বছরের শেষ দিকে দলের জাতীয় সম্মেলন এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যস্ততা ছিল দলে।

নতুন বছরের শুরুতে ঢাকার জোড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের কর্মসূচি সাজানো ও প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপে সরকারি সফরসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা কর্মসূচির কারণে চলতি খ্রিস্টীয় বছরের শুরুতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও পুনর্বিন্যাস সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, সরকার ও দলকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে নেওয়া এবং আরো গতিশীল মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে এবার রদবদল হতে পারে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় এক বছর দেড় মাসের মধ্যেও যথাযথ দক্ষতা প্রমাণ করতে না পারায় বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন। তাদের পরিবর্তে সাবেক, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কয়েকজন মন্ত্রী যোগ হতে পারেন। কয়েক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে।

এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন বিবেচনায় যেসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দক্ষতা তেমন সন্তোষজনক নয়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার দপ্তর পুনর্বণ্টন হওয়া তিনজনের বিগত সময়ে দায়িত্ব পালনের দক্ষতার মূল্যায়ন প্রাধান্য পেয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে। এমন পুনর্বণ্টন শিগগিরই আরো দেখা যাবে।

সূত্র জানায়, আলাপ-আলোচনায় বেশি আসছে নৌপরিবহন, পানিসম্পদ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর কথা। ওই তিন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে কেউ এখনো পর্যন্ত শপথ নেননি। রদবদলের মাধ্যমে ওই মন্ত্রণালয়গুলোতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়।

গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণমন্ত্রীর পদ খালি। এ মন্ত্রণালয়ের কথাও আলোচনায় আছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্যও অন্য মন্ত্রণালয়ের কাউকে এ মন্ত্রণালয়ে আনা হতে পারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও নতুন কাউকে দেখা যেতে পারে। সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম পরিবর্তন এনে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

এরপর থেকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে কেউ নেই। প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আছে জনপ্রশাসন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন মন্ত্রিসভায় যারা নতুন যোগ হবেন অথবা যারা পদোন্নতি পাবেন।

সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভার যাত্রার শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সবার প্রতি মাসের কার্যক্রম ও দক্ষতা মূল্যায়ন করছেন। অনেকের কাজের বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট হলেও কয়েকজনের বিষয়ে খুশি নন। তাদেরকে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভাকে আরো গতিশীল করতে চান তিনি।

দায়িত্ব পেয়েও ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকা, বিভিন্ন রকমের জনদুর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা রাখতে না পারা, কিছু নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে না পারা এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও মন্ত্রিসভার থাকায় দলে সময় দিতে না পারা ইত্যাদি বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল হতে পারে। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও দলে তারা নেতৃত্বে থাকবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হলে কিছু কারণে আলোচিত শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে কেউ কেউ ঠাঁই পেতে পারেন।

২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় দলের ওই ছয় নেতাকে পুরস্কৃত করার কথা জানান দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান (সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) দলের সর্বশেষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন।

এখন তাই বাকি চারজনের (আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মেসবাহ উদ্দিন ও বাহাউদ্দিন নাছিম) মধ্যে কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় টেকনোক্র্যাট কোটায় ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

সরকারি দলের ওই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের মতে, ‘মন্ত্রিসভার বাইরে দলকে রাখার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটেছে গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে। নতুন বছরে পথ চলা শুরুর আগে দলকে সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার সদস্য থাকায় দলীয় পদে কয়েকজনকে রাখা হয়নি।

এমনকি পদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভায় থাকায় কয়েকজনকে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও তাদেরকে এবার রাখা হয়নি দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায়। তাই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হলেও দল ও সরকার আলাদা রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে আবারো ফিরে আসতে পারেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নামও আছে এ তালিকায়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের নামও আছে নতুন মুখের তালিকায়।

আলোচনায় আছেন সিরাজগঞ্জের একটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না। তিনিও মন্ত্রিসভায় যোগ হতে পারেন বলে জোর আলোচনা আছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মহাজোট ও ১৪ দলের জোটের শরিক দলের কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নও থাকলেও এবারো শরিকদের কেউ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম। মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন মূলত আওয়ামী লীগেরই নেতারা।

তথ্যমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় ২০১৯ সালের ১৯ মে প্রথমবারের মতো স্বল্পপরিসরে পুনর্বিন্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কাউকে সংযুক্ত করা কিংবা বাদ দেওয়া হয়নি। এর মধ্য দিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্বে কাটছাঁট করা হয়।

এরপর গত বছরের ১৩ জুলাই সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুননেসা ইন্দিরাকে প্রতিমন্ত্রী করার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই দিন পদোন্নতি পেয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইমরান আহমেদ। সর্বশেষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার তিন সদস্যের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রমতে, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা স্থান পাচ্ছেন ও কে কে বাদ পড়ছেন। তবে মন্ত্রিসভায় নতুন কারা স্থান পাচ্ছেন বা কারা সেখান থেকে বাদ পড়ছেন— তা একান্তই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন করে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরই নির্ধারণ করবে, কখন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। সংবিধানই প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

rowshan56.jpg

দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ নেতা নারী হলেও বিষয়টি ভাগ্যক্রমে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ।

দেশে প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে জানিয়ে রওশন এরশাদ প্রশ্ন করেন, ‘দেশে প্রতিনিয়ত নারী শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে। তাহলে কোথায় নারীর ক্ষমতায়ন?’

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও সংসদের সমাপনী ভাষনের ওপর বক্তব্যে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন করেন রওশন এরশাদ।

এসময় সংসদে থাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেকে, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকে ইঙ্গিত করে নারী ক্ষমতায়ন দেখালে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। সেই সময় রওশন এরশাদ এটিকে ভাগ্যক্রম বললে সবাই চুপসে যান।

রওশন এরশাদ বলেন, ‘এটা তো ভাগ্যক্রমে হয়ে গেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী আপনি নির্ধারিত, সবাই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না, কিন্তু আমি তো ভাগ্যক্রমে হয়ে গেছি। আমার বদলে অন্য কেউও হতে পারত। এটা দেখিয়ে তো নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে বলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র নারীরা নির্যাতিত, ধর্ষিত, অত্যাচারিত হচ্ছে, তাহলে এটাকে কি বলা চলে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে? নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

কালোটাকাকে সাদা করার জন্য উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশে ব্যাংক লুটপাট হচ্ছে। হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী তো এটা প্রতিরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ব্যাংকে কোন টাকা নেই, ব্যাংক গুলে তে লিকুইড মানি নেই।’

দেশে অগ্রযাত্রায় বিরোধী দলের ভুমিকা রয়েছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘একটি দেশের অগ্রযাত্রার মূল শক্তি হিসেবে প্রয়োজন সরকার ও বিরোধীদলের সমন্বয়। অতীতের বিরোধীদলগুলো সরকারকে কখনই সহযোগিতা ও সমন্বয় করেনি। যে কারণে দেশ আশানুরূপ এগিয়ে যায় নি। ২০১৪ সাল থেকে আমাদের দল জাতীয় পার্টি এবং আমি, বিরোধীদলের ভ‚মিকায় থেকে সরকারের যেমন সমালোচনা করেছি, ভুলত্রুটি তুলে ধরেছি, জনগণকে সচেতন করেছি, পাশাপাশি সরকারের সাথে সহযোগিতা ও সমন্বয় করে দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছি বলেই দেশে নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

light4.jpg

সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ খাতে গত ১০ বছরে সরকার ৫২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদে চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক গড়ে ১৩-১৪ টাকা, ডিজেলভিক্তিক ২৫-৩০ টাকা, গ্যাসভিত্তিক ২.৫-৩.০ টাকা। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বাল্ক পর্যায়ে সরবরাহ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৮২ টাকা এবং বাল্ক পর্যায়ে গড় বিক্রয় মূল্য চার দশমিক ৮০ টাকা।

গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার অন্যান্য সিলিন্ডারের তুলনায় নিম্নচাপ সম্পন্ন। অভ্যন্তরে বিদ্যমান চাপের কারণে এলপিজি সিলিন্ডারে বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ এবং অদ্যবধি এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার নজির নেই। এলপিজি সিলিন্ডার যথাযথভাবে তৈরি করা হচ্ছে কীনা তা বিষ্ফোরক পরিদপ্তর নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে নিশ্চিত করছে।

নওগাঁ-২ আসনের শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ তিনি বলেন, বর্তমানে এলএনজি হিসেবে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক কমবেশি ৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুটের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে গ্যাসের অবৈধ বিতরণ লাইন দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭৬০ মিটার। এই জেলাগুলোতে অবৈধ বিতরণ লাইনের উৎসমুখ চিহ্নিত স্পট ১২১টি।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বিএসটিআই গত বছর প্রায় ছয়শটি ফলমূলের নমুনা পরীক্ষা করে ফরমালিন বা অন্য কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি পায়নি।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সুস্থ ধারা চলমান রয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের শামীমা আক্তার খানমের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সম্পর্কিত ১৯ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রয়েছে। এছাড়া তথ্য অধিদপ্তরে ১১ সদস্যের গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল রয়েছে।

“২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত গুজব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে গুজব বলে নিশ্চিত করে ১৮টি তথ্য বিবরণী জারি করা হয়েছে। গুজব ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে বিটিভি নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার করে আসছে।”

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

65u56i.jpg

যশোরের কেশবপুরে আওয়ামী লীগের কয়েকটি কার্যালয় দখলমুক্ত করে তা দুধ দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৃথকভাবে এ অভিযান চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ।

পুলিশ জানায়, যশোর-৬ কেশবপুর আসনের প্রয়াত এমপি ইসমাত আরা সাদেক সমর্থিতদের দখলে ছিল বিভিন্ন ইউনিয়নের ৬টি কার্যালয়। সেগুলো ধুতে ৪৯ লিটার গরুর দুধ ব্যবহার করা হয়েছে। একটি কার্যালয় থেকে ধারালো অস্ত্র এবং ফেনসিডিলের খালি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইকবাল বলেন, ‘সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএইচএসকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ২০১৪ সালে কেশবপুর আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীও হন। তার ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী ‘হাতুড়ি ও গামছা বাহিনী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচে কৃষকলীগের অফিসটি দখলে নিয়ে মাছের ঘের দখল, মাদক ব্যবসা ও সেবন, চাঁদাবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো। গত ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে কেশবপুর আসনটি শূন্য হয়। এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করায় গা ঢাকা দেয় হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর সদস্যরা।’

রাবেয়া ইকবাল আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে দখলে থাকা কক্ষটি খুলে পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ওই কক্ষটি থেকে ওই বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা, চারটি তলোয়ার, ১টি কিরিচ ও ফেনসিডিলের ৭টি বোতল উদ্ধার করে। পরে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ গরুর দুধ দিয়ে কক্ষটি ধুয়ে মুছে ফেলে। এরপর তাদের দখলে থাকা গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভেরচিবাজার, পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা, সুফলাকাটি ইউনিয়ন ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ভান্ডারখোলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখলমুক্ত করে গরুর দুধ দিয়ে ধুয়ে পুতঃপবিত্র করা হয়।’ ৬টি কার্যালয় ধুতে ৪৯ লিটার দুধ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাবেয়া ইকবাল বলেন, ‘উপজেলা কৃষকলীগের যে অফিসটি দখলমুক্ত করে দুধ দিয়ে ধোয়া হয়েছে সেটি আজ থেকে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন বলেন, ‘২০১৬ সালে সন্ত্রাসীরা উপজেলা কৃষকলীগের অফিসটি দখল করে। সেই থেকে ওই ঘরটি তাদের ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। মঙ্গলবার কার্যালয়টি উদ্ধারের পর সেখানে অস্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় দলীয় কার্যালয়গুলো থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অপসারণ করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী। যে কারণে আবেগের বশবর্তী হয়ে নেতাকর্মীরা কার্যালয়গুলো দুধ দিয়ে ধুয়ে ফেলেছে।’

কেশবপুর থানার ওসি মো. সাঈদ বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঘরের সানশেডের ওপর থেকে দুটি রামদাসহ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র ও ফেনসিডিলের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়।’

rimi5557.jpg

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে ‘কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০২০’ নামে একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরআগে বিলটির ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি সদস্যদের আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকোচ হয়ে যায়।সংসদে এ বিল পাসকে কেন্দ্র করে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব পছন্দ করি।’ এসময় উপস্থিত সকল সংসদ সদস্য হাসতে থাকেন।

রুমিন ফারহানা বাণিজ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওনি চমৎকার কথা বলেছেন। টাকা পাচার নিয়ে ওনি (বাণিজ্যমন্ত্রী) একটা কথা বলেছেন, মুশকিল হল যতক্ষণ অপরের দিকে তাকিয়ে থাকব, ততক্ষণ পর্যন্ত আয়নায় নিজের মুখ দেখব না, এটাই স্বাভাবিক।

বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব ওনি যদি একটু আয়নার দিকে তাকান এবং গ্লোবাল ফাইনান্স ইউকিউটি রিপোর্ট দেখেন তাহলে স্পষ্ট হয়ে যাবে টাকা পাচারের বিষয়টা কি?’

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমাকে আয়নায় চেহারা দেখতে বলেছেন। আমার যা রং, চেহারাও আমার সুবিধার না। সেটা আমি খুব ভাল করেই জানি। টাকা পাচারের ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত সচেতন।

এ সময় কচুরিপানা খাওয়া নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এর জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ৪০-৪৫ বা ৫০ বছর পূর্বে তখন ঢাকাতে কেউ কচুরলতি খেত না। কিন্তু আজকে কচুরলতি একটা খুব সুস্বাদু এবং প্রয়োজনীয় তরকারি হিসাবে চালু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চা খাই চা পাতা দিয়ে। নতুন কনসেপ্ট এসেছে পাটের পাতা থেকে চা পাতার মতো এক ধরনের ড্রিংকস তৈরি হচ্ছে । হয়তো একথা আগে বললে বলা হত এটা আবার কেমন কথা, দিন তো বদলাচ্ছে প্রতিদিন নতুন নতুন চিন্তা নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি আসছে। আগে মাশরুম দেখলে বলা হতো হারাম খাবার ব্যাঙের ছাতা। হয়তো এমন দিন আসবে কচুরিপানা থেকে খাবার বের হবে যার ফ্রুট ভ্যালু অনেক খানি ভালো। অপেক্ষা করি তার জন্য। নেক্সট ওয়েট ফর দ্যাট।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী। ওই বিলের বিরোধিতা করে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও পীর ফজলুর রহমান এবং বিএনপি’র ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। কিন্তু তাদের প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বিলপি পাসের অনুরোধ জানান মন্ত্রী। পরে বিরোধী দলের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পাস হওয়া বিলে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের সময় লোগো রেজিস্ট্রেশনের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন শুধু কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করলেই চলবে। ফলে সংশোধিত বিলটি পাস হলে কোম্পানির কমন সিল, সাধারণ সিল ও অফিসিয়াল সিল নিবন্ধনের বিধান বিলোপ হবে।

tru5.jpg

সারা বিশ্বে সর্বাধিক কথিত ১০০ ভাষার মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের সিলেটি ও চাটগাঁইয়া ভাষা। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চিত্রের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনকারী ওয়েবসাইট ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত এক প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, সর্বাধিক কথিত ১০০ ভাষার তালিকায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভাষাভাষী নিয়ে চাটগাঁইয়া ভাষা অবস্থান করে নিয়েছে ৮৮ নম্বরে। আর ১ কোটি ১৮ লাখ ভাষাভাষী নিয়ে সিলেটির অবস্থান ৯৭তম।

বিশ্বে বর্তমানে প্রচলিত ভাষাগুলোকে নিয়ে পরিসংখ্যান প্রকাশকারী বার্ষিকী ‘ইথোনোলগ’ এর ২২তম সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে “ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট” প্রবন্ধটি রচনা করে। ‘ইথোনোলগ’ এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ৭ হাজার ১১১ ভাষা প্রচলিত রয়েছে।

ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তালিকায় বাংলার অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ২৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভাষাটিতে কথা বলে থাকে। এরপরই রয়েছে রাশিয়ান ও পর্তুগিজ ভাষা।

শতাধিক কোটি ভাষাভাষী নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষা হিসেবে তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ এই ভাষায় কথা বলে। ইংরেজি বাদে প্রথম পাঁচটি ভাষার মধ্যে রয়েছে-মান্দারিন, হিন্দি, স্প্যানিশ এবং ফরাসী। তালিকায় উর্দুর অবস্থান ১১তম।

প্রবন্ধটির তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষাভাষীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ মানুষ এটি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে। অপর দিকে ১৭ শতাংশ মান্দারিন ভাষাভাষীর কাছে এটি দ্বিতীয় ভাষা।

৪৬ কোটি ভাষাভাষী নিয়ে স্প্যানিশ তালিকার শীর্ষের দিকে অবস্থান করে নিয়েছে। ইউরোপ ছাড়াও ভাষাটি ল্যাতিন আমেরিকায় বহুল ব্যবহৃত।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চাঁটগাঁইয়া ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্যের উপশাখা বাংলা-অসমীয়ের সদস্য। ইন্দো-আর্যের হিন্দির সঙ্গে চাটগাঁইয়ার পরোক্ষ মিল রয়েছে।

ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, চাঁটগাঁইয়া পালি ভাষা থেকে এসেছে যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাসমূহের একটি কল্পিত পূর্বসূরী প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা এর উত্তরসূরী।

প্রধানত বৃহত্তর চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দবানের মানুষেরা চাঁটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে।

অন্যদিকে সিলেটি ভাষা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এবং ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় প্রচলিত একটি ইন্দো-আর্য ভাষা। এছাড়াও সিলেট বিভাগের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ এবং ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের কিছু অংশেও ভাষার ব্যবহার রয়েছে।

3uu5.jpg

মুজিববর্ষে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় কর্মসূচি নিতে হবে জানিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষ উদযাপন নিয়ে কোনোরকম বাড়াবাড়ি করা যাবে না। একইসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিনা অনুমতিতে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল যাতে তৈরি না করা হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

এসময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী ও সিনিয়র সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যারা নিয়মিত অধিবেশনে আসেন না তাদের সিট পেছনে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে লম্ফ-ঝম্ফ না করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সে বিষয়টি সকলকে মনে রাখতে হবে। তখন বঙ্গবন্ধুর লাশ নেওয়ার কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই সকল বিভেদ ভুলে দলকে সংগঠিত করতে হবে।

দলীয় এমপিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসবে। সেখানে যারা বক্তব্য রাখতে চান, আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে তা স্পিকারকে অবহিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৯ মার্চ সংসদ চত্বরে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেই মেলায় সকল এমপিদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আরো জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করব। এটি যাতে পৃথিবীর সকল দেশের সংসদের স্পিকারের নিকট শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে পৌঁছানো যায়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

একাধিক সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন সংসদ নেতা চিফ হুইপ ও হুইপদের উদ্দেশ্যে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ অধিবেশনে এমপি-মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য চিফ হুইপ ও হুইপদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে তার (প্রধানমন্ত্রী) পেছনের চেয়ারগুলো যেন খালি না দেখায়। সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেন না এমন এমপিদের আসন দূরে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনাও দেন তিনি।

একঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, গাজী শাহনেওয়াজ, মাজহারুল হক প্রধান, আ স ম ফিরোজ, ছোট মনির, মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

rowshan4.jpg

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা আর পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে রাত ১২ টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর এবং ৬ষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় এ তিনি দাবি জানান।

রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ফেইসবুক বন্ধ করা না হলে তারা পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারবে না। সারারাত ফেসবুক চালিয়ে তাদের চোখ মুখ ফুলে গেছে, লাল হয়ে গেছে।

নারীর ক্ষমতায়নে চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সংসদেই পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক কম। আমরা গুটিকয়েক মহিলা নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা যাবে না। আমাদের শিক্ষার হার দেখতে হবে। মহিলারা কিভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে সেটা দেখতে হবে, সেটা দেখতে হবে।

সরকার–বিরোধী দলের সমন্বয়ে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুল ত্রুটি তুলে ধরছে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নে সহযোগিতা করছে। যে কারণে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে জাতীয় পার্টি ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। ইতিহাস একদিন এর মূল্যায়ন করবে। অতীতে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয় হয়নি। যে কারণে দেশের অগ্রগতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াকে অতিক্রম করে যাবে। অর্থমন্ত্রী কীভাবে এ কথা বললেন, তার ব্যাখ্যা শোনার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে আছেন। রওশন বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই, অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, টাকা বাইরে নিয়ে গেছে, শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে গেছে, সোনা তামা হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকে টপকে যাবে তার একটি ব্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর দেওয়া উচিত। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সমালোচনা করেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বেশির ভাগ সময় বিদেশে থাকেন, তাহলে কীভাবে শিক্ষার উন্নয়ন হবে। তাঁকে খুবই কম দেখেছি সংসদে। কোনো সময় তাঁকে পাওয়া যায় না। আজকেও নেই।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সাম্প্রতিক সময়ে কচুরিপানা নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা করে রওশন বলেন, ‘কিছু কচুরিপানা নিয়ে এসেছিলাম। প্ল্যানিং মিনিস্টার এখানে নেই। গরুর খাবার কি মানুষ খেতে পারে? ঘাসে তো ভিটামিন আছে। আমরা কি ঘাস খাই?’

রাজধানীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে উল্লেখ করে আবর্জনা পরিষ্কার করা না হলে ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন তিনি। রওশন এরশাদ বলেন, মশার যন্ত্রণায় এখন কথা বলা যায় না। কথা বলতে গেলে মুখে মশা ঢুকে যায়। সিটি করপোরেশনের মেয়ররা ড্রেন পরিষ্কার করে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ড্রেন পরিষ্কার করার কথা। যদি পরিষ্কার না করে তাহলে আমরা ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেব।