জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

norailw.jpg

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মারধরসহ পিস্তলের গুলিতে হত্যার হুমকির ঘটনায় চারজনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার দুপুরে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন শহরের ভওয়াখালী এলাকার জুলমত খানের ছেলে জাকারিয়া খান।

জাকারিয়া এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। বেআইনীভাবে জনতাকে মারপিট, হত্যা চেষ্টা, হুমকি প্রদানসহ অস্ত্র আইনের বিধি ও লাইসেন্স শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে বলে মামলার ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে-শহরের মহিষখোলার ঠিকাদার রেজাউল আলম (৪৬) ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (৪০) এবং একই এলাকার ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলু (৫০) ও দুঃখু। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী জাকারিয়া খান জানান, অভিভাবক কর্তৃক নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক স্যারকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবিতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল ১০টার দিকে ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আসামিরা বেআইনী ভাবে জোটবদ্ধ হয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় তারা। আসামিদের এ ধরণের কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীরা দিক-বিদিক দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করে। এছাড়া আসামিরা শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড় মারেন।

এদিকে, ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি রেজাউল আলম মামলার বাদী জাকারিয়া খানের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। জাকারিয়া বলেন, এ সময় রেজাউল আলম আমাকে বলে-তুই বেশি বেড়েছিস; তোকে গুলি করে মাথার খুলি উড়াইয়া দেব। ঘটনার সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা আসামিদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন পিপিএম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া রেজাউল আলমের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি থানায় জমা নেয়া হয়েছে।

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূক্তভোগী শিক্ষক প্রদেশ মল্লিক জানান, গত ১৫ জুন সকালে তার বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় পড়ালেখা নিয়ে সানজিনা এরিনা নামে এক ছাত্রীকে শাসন করেন তিনি। এরিনা বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার বাবা শহরের মহিষখোলার ঠিকদার মঈন উল্লাহ দুলুকে জানায়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা বাসায় এসে শিক্ষককে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সানজিনা এরিনা নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হলেও নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বালক) শিক্ষক প্রদেশ মল্লিকের কাছে প্রাইভেট পড়ত।

বিষয়টি জানাজানি হলে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ওই অভিভাবকের বিচার দাবিতে রোববার সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে নড়াইল-যশোর সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধসহ ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় ডিসি অফিস চত্বরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে চড়াও হয় অভিযুক্ত অভিভাবক ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলুর লোকজন। দুলুর পক্ষ নিয়ে একই এলাকার ঠিকাদার রেজাউল আলমসহ তার অনুসারীরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তাড়া করে মারধরে উদ্যত হন।

এক পর্যায়ে প্রশাসনের সামনেই রেজাউল আলম পিস্তল বের করে ছাত্রদের গুলি করার জন্য এগিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দিক-বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।

এমনকি শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা ঠিকাদার রেজাউল আলমকে পিস্তল বের না করার অনুরোধ করেন। এ ঘটনায় অভিভাবকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ হতবাক হন। ঘটনাটি ‘টক অব দ্যা টাউন’-এ পরিণত হয়।

এ ব্যাপারে ঠিকদার রেজাউল আলম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাননি। এদিকে অভিযুক্ত অভিভাবক মঈন উল্লাহ দুলু ভূক্তভোগী শিক্ষক প্রদেশ কুমারকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

taj-20190617162418.jpg

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনোভাবেই এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না; কোনো নাগরিক গুম কিংবা অপহৃত হোক। কার কী পরিচয় তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি ভাগ্নেকে ফিরে পাব।’

গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ অপহৃত হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সৌরভকে অপহরণ করা হয় বলে ওই দিন রাতে তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘‘বেঙ্গলী বিউটি’’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দাশীল পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার সওদাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে সে বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে সওদার বাবা আজাদ চৌধুরী আমার ছেলেকে দোষারোপ করে এবং আমার ছেলেকে ও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জেরে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সৌরভকে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মোবাইলের সব ডাটা ডিলেট করে সেখানেও সওদার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।’

সৌরভের মা আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় ওসি সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এক সপ্তাহ পর এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে বৈঠক হয়। সেখানে সৌরভের ঘটনা তদন্ত করার কথা জানানো হয়। সেখানেও সওদার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। কোন কোন দেশ ঘুরেছে সৌরভ তা জানতে চায়। পরে তারা প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলে চলে যায়।

২০১৮ সালের ১৬ মে বনানীর বন্ধুর বাসা থেকে ডিজিএফআই ও র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ মে রাত পৌনে ১২টায় একই কায়দায় ফেরত দিয়ে যায়। এ দীর্ঘ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সওদা-সংক্রান্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চাকরির প্রলোভন দেখায়। কাগজপত্র চায়। এরপর গত ৮ জুন দুপুরে ১১-১২টার দিকে র‌্যাব ফোন করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করতে বলে। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি সৌরভ। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই।’

যার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অন্য সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কী হতে পারে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আশা করব না অন্য কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন কিছু হোক। আজকে আমার ভাগ্নে, কালকে হয় তো আপনার ভাই হতে পারে। আরেক দিন হয়তো আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারও কাম্য নয়। কার কী পরিচয় সেটা মুখ্য বিষয় নয়, আমার কী পরিচয় তাও মুখ্য বিষয় নয়। এখানে আইনের শাসনে রাষ্ট্র চলবে। ন্যায়বিচার সুবিচারের রাষ্ট্রে এ রকমটা হওয়া বা এমন পরিণতির শিকার হওয়া কাম্য নয়।’

অপহরণকারীরা কী প্রভাবশালী, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে- এমন প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটা আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। ৮ দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।’

hasina1-20190617182737.jpg

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ ক্রয়সহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম এক সময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

সোমবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বালিশ তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। এক সময় তিনি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপিও নাকি ছিলেন। তাকে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। যখনই তথ্য পেয়েছি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যে দলেরই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বালিশ তত্ত্ব নিয়ে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির গঠন ও নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এখানে (বিএনপিতে) এমন লোক রয়ে গেছে জন্ম থেকেই তাদের চরিত্র দুর্নীতির। তার কারণও আছে। এই দলটি বিএনপি যিনি করেছিলেন। সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সাথে যিনি জড়িত- হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহীন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন।

অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন জিয়া। ক্ষমতা দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে ওঠে তাদের চরিত্রটা জানা উচিত। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগ্রস্ততার মধ্যে থেকে ওঠে আসা।

পঁচাত্তরের পর থেকে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, সব জায়গায় এই জঞ্জাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বালিশ তত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সেখানে গড়ে উঠছে। সেখানে আর কিছু না পেয়ে পেল বালিশ। এটা কোন বালিশ। কী বালিশ সেটাও একটা প্রশ্ন? এটা কী তুলার বালিশ। কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা, নাকি সিনথেটিক তুলা? নাকি জুটের তুলা? আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেলল কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার জোগানদাতা কে? সেটা আর বলতে চাই না।

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সুশাসনের অভাব বলে অভিযোগ করেন। সংসদ সদস্যের এমন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আরেকজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, সুশাসনের অভাব। উনি যে দল থেকে এসেছেন, নবগঠিত দল। আসলে আওয়ামী লীগ ভেঙেই ওই দলটি গড়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উনাদের নেতা আওয়ামী লীগই করতেন। তারপর চলে গিয়েছিলেন। কাজেই তার দলে কী ডিসিপ্লিনটা আছে? কী দলতন্ত্রটা আছে? যার নিজের দলেই সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, ডিসিপ্লিন নেই- যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলেন, খামোশ। তার কাছ থেকে কী আশা করা যায়?

এ সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য বললেন, প্রতিবার নির্বাচিত হলেই প্লট পাবেন। আমি তো সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমি তো কোনো প্লট নেইনি।

hasina-2-20190617183239.jpg

ব্যাংকের তারল্য সঙ্কটের অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই।’

জাতীয় সংসদে সোমবার (১৭ জুন) চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

মঞ্জুরি দাবিগুলো যেন পাস করে দেয়া হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা খরচ হয়ে গেছে সেটার ব্যাপারে কিছুই করার নেই। সেটা পাস করে দেন। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষের যদি উচ্চাভিলাষ না থাকে তিনি কোনো কিছু অর্জন করতে পারেন না। উচ্চাভিলাষ না থাকলে এসব অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তবে বিগত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন, পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে আমাদের লক্ষ্যসমূহ সবসময় বাস্তবভিত্তিক ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাস্তবতা হলো বাজেটে কিছুটা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন হয় এবং আমরা প্রতি বছরই সেটা করি। এটা আমাদের দেশে বলে নয়, পৃথিবীর সব দেশে বাজেটে প্রস্তাবনা দেয়। যেমন আমি এ বছর যে প্রস্তাবনা নিয়ে আসছি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য। সেখানে আমরা একটা ধারণা করি যে আমরা কত রাজস্ব আয় করব।’

তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে উন্নয়নের বাজেটটা আমরা ঠিক করি। কোন লক্ষ্যে পরিচালিত হবে সেটা সুনির্দিষ্ট করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা যে বাজেটটা দিয়েছিলাম সেটাতেই পরিবর্তন পরিমার্জন করে সংশোধনী বাজেটের প্রস্তাব আনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে গ্রস বরাদ্দ ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা এবং নিট বরাদ্দ ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ৩৭টি মন্ত্রণালয়ে অথবা বিভাগের গ্রস বরাদ্দ ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গ্রস বরাদ্দ ৩৬ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে নিট ২২ হাজার ৩৩ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে নিট ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ৩৭টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে সম্পূরক মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। তারমধ্যে দায়যুক্ত ব্যয় ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট ও সংশোধিত বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা, অনেক কথা বাইরেও হচ্ছে এখানেও হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, এ বাজেট কিছুই না। যারা এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন তাদের কাছে আমার এটাই প্রশ্ন, বাজেটই যদি সঠিকই না থাকে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এত উন্নতি করল কীভাবে?’

তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন, বাজেট দিয়েছেন বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাজেট বাস্তবায়ন একটা বিষয় আছে। আমরা বাজেট উপস্থাপন করছি জুন মাসে। এক বছর পর আবার বাজেট দেব। এক বছরে আমাদের যে বাজেট বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেট যেটা আমরা বস্তবায়ন করি। আমাদের একটা নিয়ম আছে মাঝামাঝি সময় একটা হিসাব নেই। পরিমার্জন সংশোধন করে থাকি যাতে অর্থটা যথাযথভাবে কাজে লাগে। সেটাই সম্পূরক হিসেবে পরিবর্তিত উপস্থাপন করে থাকি।’

‘বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারি না, সেটা যদি বলে, তাহলে ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম ২০০৮ সালে। আজকে সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে চলে গেছে বাজেট। এটা তাহলে আমরা করলাম কীভাবে? যদি আমাদের বাস্তবায়নের দক্ষতাই না থাকে। কাজেই আমি বলব উন্নয়নের সুযোগটা সবাই নিচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন, যে বিদ্যুৎ এতো উৎপাদন হলো তাহলে শতভাগ পায় না কেনো। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সবসময় চালু থাকে না। প্রত্যেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার করতে হয়, বন্ধ থাকে। আজ ৯৩ ভাগ মানুষ কিন্তু বিদ্যুৎ পাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশও হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা কথা এসেছে যে, ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেনো? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই। আর যারা লুটে নিয়েছে তাদের আমরা চিনি। অনেকেই ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে আর কোনোদিন দেয়নি। আবার দুর্নীতির দায়ে কারও বিরুদ্ধে মামলাও আছে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। এটা সময় আসলে এ ব্যাপারে আমরা আরও আলোচনা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই আজকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা অনেক উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। যা দেখে বিশ্ব অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানে যাই সেই কদরটা পাই, দেশবাসী সেই সম্মানটা পায়। অযথা কিছু কিছু কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আমরা যদি কাজই না করতাম তাহলে দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে কমে ২১ ভাগে নেমে আসতো না। ২১ ভাগ থেকে আরও নামাব।’

population.jpg

বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৭০ কোটি। তবে আগামী তিনদশকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটি।

সোমবার (১৭ জুন) জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা আরও ২০০ কোটি যোগ হবে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের জনসংখ্যা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট ২০১৯ : হাইলাইটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক জনমিতির বিস্তৃত নিদর্শন এবং সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, প্রজননের হার হ্রাস ও জনসংখ্যা কমতে থাকা দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে বিশ্ব জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে বলা হয়, চলতি শতকের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যা হবে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি।

নতুন অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার অর্ধেকের বেশি হবে নয় দেশে—ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত ২০২৭ সালে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে (৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে)।

১৯৫০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত এক হাজার ৬৯০টি জাতীয় আদমশুমারির ফল ব্যবহার করে এ নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এতে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ব্যবস্থা ও দুই হাজার ৭০০ নমুনা জরিপের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রজনন হার, যা ১৯৯০ সালে ছিল প্রতি নারীতে ৩.২, তা ২০১৯ সালে কমে ২.৫-এ দাঁড়িয়েছে। সেটি ২০৫০ সালে কমে ২.২ হবে।

১৯৯০ সালের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৪.২ বছর থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৭২.৬ বছর হয়েছে। তা ২০৫০ সালে আরো বেড়ে ৭৭.১ বছর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে ২৭ দেশ বা অঞ্চলে ১ শতাংশ বা তার বেশি জনসংখ্যা হ্রাস পেতে দেখা গেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রজনন হার কমে যাওয়ার কারণে এ হ্রাসের সৃষ্টি হয়।

চীনে ২০১৯ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা তিন কোটি ১৪ লাখ বা প্রায় ২.২ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বলা হচ্ছে।

17-1.jpeg

প্রায় দেড় মাস পর গত শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও দলের এক প্রবীণ নেতা সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

বিএনপি এমপিদের শপথগ্রহণ, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন এবং বগুড়া উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে না হওয়ায় ‘চরম’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

এ নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকারও সমালোচনা করলে দুই নেতার মধ্যে ব্যাপক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওই সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপের মাধ্যমে সেখানে যুক্ত ছিলেন।

তবে দুই নেতার বাদানুবাদের ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। পরে স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং দ্বন্দ্বের নিরসন হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শপথ গ্রহণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ফখরুলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কীভাবে এসব সিদ্ধান্ত হয়। স্থায়ী কমিটির কেউ জানেও না। আপনি (ফখরুল) বললেন, শপথ নেওয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। কিন্তু নিজে শপথ নিলেন না। আবার বললেন, আগের নেওয়া সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আপনি তো স্থায়ী কমিটিকে অপমান করেছেন।’

এক পর্যায়ে ওই নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনি কার ব্যাগ ক্যারি (বহন) করছেন?’ এ মন্তব্যের পর বিএনপি মহাসচিবও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। কেন এমন মন্তব্য করা হলো তা জানতে চান।

ফখরুল ওই নেতাকে বলেন, ‘আপনি তো জাতীয় পার্টি করতেন। আপনি তো এরশাদের ব্যাগ ক্যারি করেছেন।’ জবাবে ওই নেতা বলেন, ‘আগে কী করেছি, সেটা মূল বিষয় নয়। এখন কী করছি, সেটা দেখার বিষয়।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় তারেক রহমান স্কাইপে সব দেখলেও কিছু বলেননি। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যরাও তেমন কথা বলেননি।
তবে তারা প্রবীণ ওই নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত ছিলেন। ওই সময় বিএনপি মহাসচিব ক্ষোভে বলেই ফেললেন, এভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, ‘দুই নেতার মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকলে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দুজনকে থামান। ওই নেতা সবার উদ্দেশে বলেন-আমরা শেখ হাসিনার অধীনে নির্র্বাচনে যাব না বললেও গিয়েছি।

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। ছিয়াশি সালে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যাবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও তা পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতেই পারে। আমরা নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। শপথও নিয়েছি।

ওই নেতা ফখরুলের উদ্দেশে বলেন-সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করতেই পারি। কিন্তু আপনি কেন বললেন-এটি শুধু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। উনি যখন সিদ্ধান্ত দেন তখন তা দলীয় সিদ্ধান্তই বলতে হবে। আবার আপনি শপথ নিলেন না।

তাহলে দাঁড়াল কী? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একই বিষয়ে দুটি সিদ্ধান্ত দিল? আবার আপনি বললেন-শপথ না নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, এটিও কেন বলতে গেলেন?’

স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘দুই নেতাকে থামাতে এক নেতা যে ভূমিকা রাখলেন তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দ্বন্দ্বেরও নিরসন হয়। এর পরই দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়। আসলে যা হয়েছে তা ভালোই হয়েছে। সবার মধ্যে ক্ষোভ ছিল। একজনের বক্তব্যের মাধ্যমে সবার বক্তব্য উঠে এসেছে। ক্ষোভ প্রশমিতও হয়েছে।’

oc-moazzem-20190617145654.jpg

নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় গ্রেফতার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেনের আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মাসুমা আক্তার।

সোমবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে তাকে আদালতে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতে তোলা হয়নি। আদালতে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন উপস্থিত আছেন।

এরআগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে হাজতখানায় রাখা হয়। রোববার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা মোয়াজ্জেমকে আজ সকালে ফেনীর সোনাগাজী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নুসরাতের। ৬ এপ্রিলের দিনদশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

moazzem.jpg

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগেও তিনি জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।

তবে সেখানে তাকে দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে তিনি যখন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর ছিলেন গোয়েন্দারা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকালে ওসি মোয়াজ্জেম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসার পর প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের ১১১ নম্বর কক্ষে বসেন। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।

তবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগ থানাধীন কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি সেখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম দুপুরে কৌশলে জামিন আবেদন করেন। এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, বেলা ১টার দিকে আইনজীবী সালমা সুলতানা একটি জামিন আবেদন শুনানি করতে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন (ম্যানশন) করেন। কিন্তু তিনি তখন বলেননি যে ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন।

তিনি জানান, আজ আদালতে একমাত্র জামিন আবেদন ছিল এটি। যখন আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাকে ফোন দেন তখনই আমার মনে সন্দেহ হয় এটা ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন। এর আগে ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এর আগে ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওইদিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের এএসপি রিমা সুলতানা বলেছিলেন, ‘তদন্তের সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’

পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে বিলম্ব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের নানা রকম সমালোচনা চলছিল।

Rumeen-Farhana.jpg

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, তিনি সংসদে কথা বলার জন্য দাঁড়ালেই সরকারদলীয় তিনশ এমপি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের কথা বলবেন। কিন্তু আমি উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, ৩০০ সদস্য যদি মারমুখী হয়ে যান তাহলে আমি আমার বক্তব্য কীভাবে রাখব?’

রোববার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমি আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, আপনি এমন কোনো কথা বলবেন না যেটাতে অপর পক্ষ উত্তেজিত হবে এবং সংসদ পরিচালনায় ব্যত্যয় ঘটবে।’

এরপর রুমিন বলেন, ‘আমরা সংসদে আসার সময় সংসদ নেতা বলেছিলেন, আমরা আমাদের কথা বলতে পারব। সংসদ সদস্যরা ধৈর্যসহকারে সেটি শুনবেন। আমার প্রথম দিনের দুই মিনিটের বক্তব্য এক মিনিটও শান্তিতে বলতে পারিনি। একই ঘটনা আজকেও ঘটছে। যদি তাই হয় তাহলে কোন গণতন্ত্রের কথা আমরা বলি, কোন বাকস্বাধীতার কথা বলি, কোন সংসদের কথা আমরা বলি? এভাবে তো একটা সংসদ চলতে পারে না।’

সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, একটা সরকারের সক্ষমতা ক্রমশ বাড়ার কথা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি এ সরকারের সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বাজেটের মাত্র ৭৬ শতাংশ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। যে রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সেই রাজস্ব আমরা কখনই আদায় করতে পারি না।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ নির্বাচন কমিশন কী ধরনের নির্বাচন করেছে- স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। কী ধরনের নির্বাচন হয়েছে, এখানে যে সদস্যরা রয়েছেন তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক সংবিধান অনুযায়ী জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন কি না।

তিনি বলেন, তারা কয়জন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুক। যদি বিবেক থেকে থাকে আপনাদের নিজেদের উত্তর নিজেই পেয়ে যাবেন। কী ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে এ সংসদে এসেছেন। আমাদের কথা দেওয়া হয়েছিল, এ সংসদে আমাদের কথা বলতে দেওয়া হবে। এ জন্য এ সংসদ নির্বাচিত নয় জেনেও আমরা সংসদে যোগ দিয়েছি। কারণ, আমাদের মিটিং করতে দেওয়া হয় না। ভেবেছিলাম সংসদে জনগণ, আমার দল নিয়ে কথা বলতে পারব। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য এ সংসদের সরকারি দলের এমপিদের এতটুকু ধৈর্য নেই আমার কথা শোনার।

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। কিন্তু আইনের শাসন নেই। সে কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে গত এক বছরে বিচারবর্হিভূত ৪৫০টি হত্যা হয়েছে। এ বিচারবর্হিভূত হত্যা কত জঘন্য ঘটনা, কোনো সভ্য রাষ্ট্রে তা চলতে পারে না। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট মতে, গত এক দশকে গুম হয়েছে ৬শ’ এর উপরে। আমার সুযোগ হয়, এ গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে বসার। তারা এখন শুধু লাশ চায়, যাতে একটু কবর দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গত এক মাসে মৃত্যু উপত্যকা বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৬৮টি। বাংলাদেশ এখন ধর্ষণের রঙ্গমঞ্চ। আমার দুঃখ লাগে স্পিকার এ সংসদের একজন নারী এমপিও এ নিয়ে কথা বলেন না। বাংলাদেশে এখন এক বছর থেকে শুরু করে ১০০ বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষিত হচ্ছে। কিন্তু কোনো বিচার হয় না। কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত বা সুবিধাভোগী তারাই এ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত।

এ সময় সংসদে ধর্ষণের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইনের সমালোচনা করেন। মন্দ ঋণের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটের টাকা কোথায় যায়, কার হাতে যায় তার তালিকা প্রকাশ করা হোক।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া টাকা সম্পর্কে বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, এ টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি হয়। এ টাকায় কানাডায় বেগম পাড়া তৈরি হয়। পানামা পেপারে নাম আসে কিন্তু বিচার হয় না। এ দেশে গরিবের সোনা তামা হয়ে যায়। পাথর চুরি হয় যায় কিন্তু বিচার হয় না।

ne3z.jpg

মাত্র দুই টাকায় পাওয়া যায় কাঁঠাল। প্রতি কেজি আমের দামও এক টাকার বেশি নয়। রসে ভরপুর টসটসে জাম মিলছে ৬ টাকা কেজি দরে। ভাদ্রের ফল তাল কেনা হয়েছে প্রতিটি ২ টাকায়। এমন আজগুবি আর ভুতুড়ে হিসেব শুধুমাত্র ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার মৌসুমী ফলের গাছ ইজারার হিসেবেই দেখানো হয়েছে।

ভাগ্যবান ইজারাদার কমদামে চিড়িয়াখানার ফল কেনার সুযোগ পেলেও খুচরা ক্রেতাদের চিড়িয়াখানার ভিতরে কিংবা বাইরে কিনতে হচ্ছে চড়া দামেই। অনুসন্ধানে চিড়িয়াখানার এ বছরের দুই হাজারেরও বেশি ফলের গাছ ইজারা দেয়ার অন্তরালের ঘটনায় উঠে এসেছে ফলের মূল্যের এমন গরমিলের নানা তথ্য। ইজারাদারের কেনা ফলের দাম ও মোট ফল গাছের হিসেবেই এই অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

দীর্ঘ ১০ বছর ধরেই চিড়িয়াখানার ভিতরের বিভিন্ন ফলগাছের ইজারার সাথে জড়িত থেকে ব্যবসা করেন নাজমুল হোসেন রনি। চিড়িয়াখানার ভেতরের মসজিদের বাম পাশের টিনের চালা একটি খুপরি ঘরে রাখা কাঁঠাল, আম, জামসহ অন্যান্য ফলের হিসাব রাখেন তিনি। এখানকার প্রতিটি গাছের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। কোন গাছের ফল ভালো, কোনটি মন্দ, এছাড়া কোন গাছের ফলন কেমন- সবই তার জানা আছে। তিনি জানালেন, চিড়িয়াখানার ভিতরে কাঁঠাল গাছ আছে এক হাজার ৮ শ’, আম গাছ আছে আড়াই শ’, তাল গাছ আছে ২৮টি আর জাম গাছ আছে ২২টি।

এবছর সবগুলো ফলের গাছের ইজারা নিয়েছেন জৈনিক ব্যবসায়ী আমির হোসেন আমু। এবছর দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে পরে অবশ্য আমু সাহেব থার্ট পার্টির কাছে ইজারার লাভসহ সমুদয় অর্থ নিয়ে গেছেন। এখান ইজারাদার বাইরের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারা সংখ্যায় দশজন। এদের মধ্যে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুল হোসেন রনি ও আবদুর রহিম।

চিড়িয়াখানার ফল সংগ্রহ ও বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত এমন একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফলগাছের দাম এ বছর মোট তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা দেয়া হলেও আমাদের হিসেব মতে শুধুমাত্র ১৮০০ কাঁঠাল গাছের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি কাঁঠাল গাছের জন্য মূল্য দেয়া হয়েছে এক শ’ ১১ টাকা। আর প্রতিটি গাছে যদি গড়ে ৫০/৫৫টি কাঁঠালও ধরা হয় তাহলে প্রতিটি কাঁঠালের দাম ইজারাদার দিয়েছেন মাত্র ২ টাকা করে।

বাগানের ২২টি জাম গাছের ফলের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি গাছের জন্য ধরা হয়েছে গড়ে ৩৬৩ টাকা। প্রতিটি গাছে মাত্র দেড় মণ (৬০ কেজি) জামের ফলন ধরা হলে প্রতি কেজি জামের দাম দেয়া হয়েছে মাত্র ৬ টাকা ।

চিড়িয়াখানার ভিতরের আড়াই শ’ আম গাছের সমুদয় আমের মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি আম গাছের মূল্য পড়েছে ৪৮ টাকা মাত্র। প্রতিটি গাছে গড়ে ২৪ কেজি আমের ফলন ধরা হলে প্রতি কেজি আমের দাম ইজারাদার দিয়েছেন মাত্র দুই টাকা করে।

বাগানে মোট তালগাছ আছে ২৮ টি। দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এতে প্রতি গাছের দাম পড়েছে ৪২৮ টাকা। প্রতিগাছে ২ শ’ তালের হিসেবে প্রতিটি তালের দাম ইজারাদারের জন্য পড়েছে মাত্র দুই টাকা।

ফল গাছের দরদাম নিয়েইজারাদার আমির হোসেন আমুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেন দামে এ বছর ইজারা নেয়া হয়েছে সেই আসল টাকা আসবে কিনা তা নিয়েই চিন্তা করছি। তিনি গাণিতিক হিসেব দিয়ে বলেন প্রতিদিন ১২ জন শ্রমিক কাজ করে ফল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে। তাদের দৈনিক মজুরি ৫ শ’ টাকা হলে প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা শুধু শ্রমিকের মজুরি বাবদই ব্যয় হচ্ছে। এভাবে তিন মাস কাজ হলে আমার তো ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা শুধু শ্রমিকের পিছনেই ব্যয় হচ্ছে। এরপর তো আমাকে ফল বিক্রি করে লাভ করতে হবে। এছাড়া ঈদের মধ্যে অনেক দর্শনার্থী আম কাঁঠাল চুরি করে নিয়ে যায়। সব সময় তো আর পাহাড়া বসিয়ে রাখা যায় না। তাই আমি এ বছর লাভের আশা ছেড়েই দিয়েছি।

গাছের ফলের ইজারা বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, এবছর অনেক গাছে ফলন কম হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে কিংবা বৃষ্টিতেও কিছু ফল নষ্ট হয়েছে। আর আমার অফিসের ভেতরের গাছগুলো ইজারার হিসেবের বাইরে থাকে। তাই হয়তো দরদাম কম মনে হচেছ। তবে ইজারার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।