জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

hundi.jpg

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের চিহ্নিত অনেক মাদক কারবারিও রয়েছেন। আবার এ তালিকার কেউ কেউ স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত। বেশ কয়েকজন ‘রুই-কাতলা’ আছেন তালিকায়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যে অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার আছেন ১১ জন। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার রয়েছেন ৪৫ জন। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজারের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নামও। এরই মধ্যে এ তালিকার সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জড়িতদের ব্যাপারে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকায় চট্টগ্রামের যারা :চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মো. সুমন, আলতাফ হোসেন, জিয়াউল হক, এম এ রহিম, স্বপন দাশগুপ্ত, জমির উদ্দিন পারভেজ, সুধীর পালিত, সাধন পালিত, সাধন ধর, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আবুল ফয়েজ, যোবাইর ওরফে রেজওয়ান, মো. ইসমাইল, সাইফুল, আনোয়ার, আইয়ুব, অসীম ঘোষ, সুধীর বসুন বণিক, অসীম, রবি, দোলন হাজারী, জাফর ওরফে টিটি জাফর, মনিরুজ্জামান, খোরশেদ আলম, আব্দুল কাদির, জিয়াবুল, মো. আয়াছ, মো. আমিন, আবছার মিয়া, নূর কামাল, মোহাম্মদ ওসমান, মোজাম্মেল হোসেন, আইয়ুব, সঞ্জিত, জাহাঙ্গীর, ইব্রাহীম, আব্দুল কাদের, আবু জাফর, নূর উদ্দিন ইসলাম, আতিকুল ইসলাম হাবিব, মো. ইছা, প্রদীপ, মান্নান, মো. রাশেদ, আহমেদ কবির দুলাল, মো. সাইফুল, মোজাম্মেল হোসেন, আফসার মিয়া, রতন বড়ূয়া, ইউনুস, আবু আহমেদ, ফয়েজ, সরোয়ার, আইয়ুব, নুরুল কবির ও দিদারুল হক।

কুমিল্লা : তালিকায় রয়েছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দৈয়ারা এলাকার পিয়ার আহম্মেদ পাশা, জামাল হোসেন, ইউনুস মিয়া, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, ইদ্রিছ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, শাহ আলম, মামুন, কফিল উদ্দিন, জাকির হোসেন, মো. সোহেল, বিবেক চন্দ্র সাহা, মো. জসীম ও শাহজাহান তালুকদার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :মো. শাহিন ভুইয়া, জামাল উদ্দিন, সফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রতন দাশ, মিন্টু মিয়া, মুসা মিয়া, দারু মিয়া, তোতা মিয়া, শফিক ঠাকুর, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, ফারুক মিয়া, পেয়ারুল মিয়া, তপন কুমার, জামাল উদ্দিন, সফিকুল ইসলাম, পিরন সরকার, শানু মিয়া ও হাফেজ।

চাঁদপুর :চাঁদপুর সদরের দীপু সাহা, সুভাষ চন্দ্র রায়, আবু ইউসুফ, মো. মানিক, খসরু ঢালী, বনি আমিন ও মো. হারুন।

নোয়াখালী :নোয়াখালীর সেনবাগের সেলিম উদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, নাজেম উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মৃদুল সাহা, মদন বণিক, আতাউর রহমান রনি, নজির আহম্মেদ, আহম্মেদ নজির, নকুল কুমার, ফারুক, শহীদুল্লাহ বাবু ও মন্টু সাহা।

ফেনী :ফেনীর পরশুরামের শহিদুল ইসলাম কাজল, বাহার, আব্দুল কাদের, আনোয়ার উল্লাহ, কামাল পাশা, মো. হান্নান ও সোহাগ।

লক্ষ্মীপুর :মো. ইসমাইল, জসিম উদ্দিন, এমরান হোসেন টিপু, রাসেল চৌধুরী, মাসুম হোসেন, শিবুলাল সাহা, মো. ওসমান, মো. মাছুম, আলমগীর, মো. সেলিম, হিরন মিয়া, মনিরুল ইসলাম, লিটন, হারুনুর রশিদ, দাউদ হোসেন মিরন, নাঈম, আব্দুল ওয়াদুদ, আবু সাঈদ, আবুল কাশেম জমাদ্দার, আব্দুল কুদ্দুস, কৃষ্ণ দেবনাথ, বঙ্গরাজ ট্রাভেল এজেন্সি, মো. সাইফ, দিলীপ সাহা, বলরাম অ্যান্ড ব্রাদার্স, সুব্রত সাহা, মো. হোসেন, মো. সফিক, মো. শাহীন, মো. দুলাল, আবুল কাশেম, মো. হাসান, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ও অহনা টেলিকম।

কক্সবাজার জেলা :হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, মো. মনিরুজ্জামান লেডু, গফুর, মোজাম্মেল হক, মো. ইসমাইল, আজিজুল হক, আইয়ুব ওরফে বাট্টা আইয়ুব, আব্দুস সত্তার, ইসমাঈল, আব্দুল জলিল, মৌলভী আমান, উসমান, মো. ইসহাক, লোকমান কবির, নুরুস সামাদ লালু, মোস্তাক আহমেদ, সবুজ ধর, আব্দুল কাদের, আব্দুর রশিদ, হাছন আলী, ইদ্রিস মিয়া, মীর কামরুজ্জামান, বদি আলম, আবু বক্কর মাসুদ, বিমল ধর, জিয়াউর রহমান, মো. ইউনুস, হোসেন আহমদ, ইয়াছিন, আব্দুল মতিন ডালিম, মারুফ বিন খলিল, ফরিদ উল্লাহ, শামসুল আল, মো. হোসেন, দেলোয়ার, নুরুল আলম, নুরুল হক ভুট্টু, আব্দুর রহমান, ইয়াকুব, হোসেন, বশর, নাসির উদ্দিন, মো. তারেক, তৈয়ব আজিজ, শাহাদাত হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও মো. শফিক।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে টেকনাফের জাফর আলম সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমারভিত্তিক আমদানি-রফতানির আড়ালে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাকেন্দ্রিক হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করে দিনে ৮-১০ লাখ টাকা আয় করেন। এ ছাড়াও জাফর ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। তার রিয়াজ উদ্দিন বাজারে ৩৫ কোটি টাকার একটি মার্কেট, চট্টগ্রাম শহরের আইস ফ্যাক্টরি রোডে দুটি ফ্ল্যাট, টেকনাফে একটি মার্কেটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

হুন্ডির সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত :হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িতদের মধ্যে আছে টেকনাফের সরওয়ার্দী মোবাইল পয়েন্ট, জাহাঙ্গীর ইলেকট্রিক, কাউছার এন্টারপ্রাইজ, হেলাল টেলিকম সেন্টার, দিবিরানী এন্টারপ্রাইজ, মোবাইল হেভেন-২, নাফ মোবাইল সফটওয়্যার ও আফসার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর।

বরিশাল বিভাগে শীর্ষ হুন্ডি ব্যবসায়ী যারা :বরিশাল বিভাগের মধ্যে ভোলা জেলায় সর্বোচ্চ ৪৩ জন হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের সিন্ডিকেট প্রধান বা মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। এ ছাড়া পিরোজপুর জেলার ১১ জন ও ঝালকাঠি জেলায় ৬ জন শীর্ষ হুন্ডি ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। ভোলার ৪৩ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর মধ্যে সুধীর চন্দ্র দত্ত, উত্তম সেন, রতন পোদ্দার, বাবুল চন্দ্র পোদ্দার, উত্তম কুমার দে, শ্যাম কুন্ডু, দশরত কর্মকার, শুভঙ্কর কর্মকার, সুধারাম চন্দ্র দাস, রাম চন্দ্র দাস, উপেন্দ্র চন্দ্র কর্মকার, ভাস্কর সাহা, শম্ভু কর্মকার, অরূপ কর্মকার, রনজিত পোদ্দার, রাজীব হালদার, বাবুলাল কর্মকার, গৌতম কর্মকার, গোপাল কর্মকার, নিলয় কর্মকার, অজিত কর্মকার, সাধন চন্দ্র বণিক, রিপন বাবু, কার্তিক চন্দ্র দাস, ভোলানাথ কর্মকার, অভিমন্যু কর্মকার, মনোরঞ্জন চন্দ্র, পরিমল পাল, কালীপদ রায়, লিটন চন্দ্র বণিক, তাপস চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র দাস, বিক্রম রায় কর্মকার, বাবুল সাহা ওরফে রুটি বাবুল।

ভোলা জেলায় হুন্ডির মূলহোতা ৮ জন হলেন- অসীম সাহা, অরবিন্দ দে, মনা চন্দ্র মন্ডল, অবিনাশ নন্দী, মিন্টু লাল দে, রতন চন্দ্র পোদ্দার, শ্যামল চন্দ্র মন্ডল এবং বিক্রম চন্দ্র মন্ডল।

পিরোজপুরের ১১ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর মধ্যে শংকর কুমার দেবনাথ, অমল বণিক, সুভাষ দে, শংকর পাল, পঙ্কজ হালদার, রিপন হালদার, সজীব মন্ডল গোপাল, নিকুঞ্জ কর্মকার, বিমল কর্মকার, সতীন্দ্রনাথ মজুমদার এবং সুশীল কুমার মন্ডল।

ঝালকাঠি জেলার ৬ হুন্ডি ব্যবসায়ী হলেন- গোপাল চন্দ্র ঘোষ, রতন আচার্য, লিটন দেবনাথ, অরুণ কর্মকার, গৌতম কর্মকার এবং মাওলানা জামাল হোসেন। বরিশাল বিভাগের বেশির ভাগ হুন্ডি ব্যবসায়ী জুয়েলারি ব্যবসা, বস্ত্র ব্যবসা ও ওষুধ ব্যবসার আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার করে আসছেন বলে গোয়েন্দা তালিকায় নাম উঠে এসেছে।

সূত্রঃ সমকাল

abdur-razzak-20190215213026.jpg

অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করায় ‘ব্যথিত ও মর্মাহত’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে তার সঙ্গে ‘মহব্বতের সম্পর্ক’ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে দলটি।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে থেকে পদত্যাগ করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ আমরা দীর্ঘদিন একই সঙ্গে এই সংগঠনে কাজ করেছি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্বশীল ছিলেন। তার অতীতের সব অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তার পদত্যাগে আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত। পদত্যাগ করা যেকোনো সদস্যের স্বীকৃত অধিকার। আমরা দোয়া করি তিনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমরা আশা করি তার সঙ্গে আমাদের মহব্বতের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।’

প্রসঙ্গত আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সে সময়ে কারাগারে আটক থাকা জামায়াত নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলের আমির মকবুল আহমদকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ব্যারিস্টার রাজ্জাক কারণ হিসেবে মূলত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকাকে তুলে ধরে বলেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন যাতে একাত্তরের ভূমিকার কারণে দলটি জাতির কাছে ক্ষমা চায়।

ওই ইস্যুতে তিনি জামায়াতকে বিলুপ্ত করে দেয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন দলীয় ফোরামে।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক দল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, কিন্তু সে দাবি অনুযায়ী জামায়াত নিজেকে এখন পর্যন্ত সংস্কার করতে পারেনি।

চিঠিতে রাজ্জাক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের নেতৃবৃন্দ ৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের ক্ষতিকর ভূমিকা সম্পর্কে ভুল স্বীকার করে জাতির সঙ্গে সে সময়ের নেতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে’।

তার মতে, জামায়াত ৬০-এর দশকে সব সংগ্রামে যেমন অংশ নিয়েছে, তেমনি ৮০-র দশকে আট দল, সাত দল ও পাঁচ দলের সঙ্গে যুগপৎভাবে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু দলটির এসব অসামান্য অবদান ৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভুল রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে স্বীকৃতি পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা পরবর্তীকালে জামায়াতের সব সাফল্য ও অর্জন ম্লান করে দিয়েছে।

Kader_Razzak-1.jpg

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগকে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন: ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগের বিষয়টি তাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এর সঙ্গে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র নেই।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় জামায়াতে ইসলামী থেকে শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবীর পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বেশ আলোচিত ইস্যু।

জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ এ নেতার পদত্যাগে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে চলে এসেছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে দলটি নতুন নামে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা, দ্বিতীয়ত তার পদত্যাগে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা?

এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবীর পদত্যাগকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ?

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন: জামায়াত নাম পরিবর্তন করে রাজনীতিতে আসলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নূন্যতম ছাড়ের সুযোগ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচারে আওয়ামী লীগ আগের মতই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের বিষয়ে নমনীয় হওয়ার কারণ নেই।

তবে জামায়াত অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে তারপর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন: ৭১’এ জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা ছিল স্বাধীনতা এবং জনগণের বিপক্ষে। দলটি এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশে গণহত্যা থেকে শুরু করে ধর্ষণ অগ্নি সংযোগের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলো।

তিনি বলেন: এ অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচারের দাবি ছিলো জনগণের। সেই বিচার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন জামায়াত নেতার বিচার হয়েছে এবং দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত তাদের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। তাদের অনেক আগেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো। আমি মনে করি তারা যে নামেই আসুক না কেন, তাদের এদেশে রাজনীতি করার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেছেন: জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি এবং একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে এবং অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক লিখেছেন: ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি এবং এখনও করি যে, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয় বরং তৎপরবর্তী প্রজন্মকে দায়মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি কর্তব্য।’

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লিখেছেন: ‘‘অতীতে আমি অনেকবার পদত্যাগের কথা ভেবেছি। কিন্তু এই ভেবে নিজেকে বিরত রেখেছি যে, যদি আমি অভ্যন্তরীণ সংস্কার করতে পারি এবং ’৭১ এর ভূমিকার জন্য জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে তা হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে জামায়াতের সর্বশেষ পদক্ষেপ আমাকে হতাশ করেছে।’’

তবে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে দলের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তিনি পদত্যাগ করলেও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন: ‘ব্যারিস্টার রাজ্জাক যেখানে আর যেভাবেই থাকুন, তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘মহব্বতের সম্পর্কই’ থাকবে।’’

yabakings.png

তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২০ জন ইয়াবা গডফাদার শেষ মুহূর্তে এসে আত্মসমর্পণ করছে না । পাশাপাশি টেকনাফ ছাড়া অন্য কোনো উপজেলার ইয়াবা কারবারিরা নেই আত্মসমর্পণের তালিকায় । সরকারের এই মহতি উদ্যোগে সাড়া দেয়নি তারা।

ফলে বীরদর্পে ইয়াবা চালিয়ে যাচ্ছে মহেশখালী, চকরিয়া, উখিয়া ও কক্সবাজার শহর এবং সদরের ইয়াবা গডফাদার ও কারবারিরা।

এদিকে শনিবার সকাল ১০টায় টেকনাফ পাইলট স্কুল মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন পুলিশের সেফহোমে থাকা তালিকাভুক্ত ৩২ ইয়াবা গডফাদারসহ ১০১ জন শীর্ষ ইয়াবা কারবারি।

সূত্রমতে, ইতিপূর্বে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ইয়াবা কারবারিদের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১০ ইয়াবা গডফাদার নিহত হয়। তারা হলো- টেকনাফের আকতার কামাল, একরামুল হক, শামশুল হুদা, ইমরান প্রকাশ পুতিয়া মেস্ত্রী, মো. কামাল, জিয়াউর রহমান, হাবিব উল্লাহ, মো. ইউচুফ জালাল বাহাদুর, মোস্তাক আহমদ মুছু, বার্মাইয়া শামশু। এছাড়াও নিহত হয় আরও ৪১ জন ইয়াবা কারবারি।

কিন্তু বর্তমানে সরকারের মহতি উদ্যোগে সাড়া না দিয়ে যারা অসৎ উদ্দেশ্যে এবং হরদম ইয়াবা কারবার করার জন্য আত্মগোপনে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার হলো- সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, ভাই কাউন্সিলর মৌলভি মুজিবুর রহমান, সারা দেশের আলোচিত ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল করিম, জালিয়াপাড়ার জাফর আলম প্রকাশ টিটি জাফর, আনিছুর রহমান ইয়াহিয়া, টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজ উদ্দিন ও তার ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন,

উখিয়া গুয়ালিয়ার ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো, কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার শাহাজান আনসারী, তার ভাই কাশেম আনসারি, একই এলাকার আবুল কালাম ও তার ভাই বশির আহমদ, চকরিয়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল, মহেশখালী পুটিবিলার মৌলভী জহির উদ্দীন, পৌরসভা সিকদারপাড়ার রাজাকারপুত্র মো. সালাহ উদ্দীন, রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানি এবং মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান ইউনুচ ভুট্টোসহ অনেকেই।

এদিকে আত্মসমর্পণে যারা আসেনি তাদের ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন বলেন, যারা পুলিশের হেফাজতে এসেছে তারা আত্মসমর্পণের পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভালো পথে ফেরার সুযোগ পাবে। কিন্তু যারা আসেনি তারা অবশ্যই অসৎ উদ্দেশ্যে এবং ইয়াবা কারবার করার জন্যই আসেনি।

১৬ ফেব্রুয়ারির পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এককথায় বলা যায়, যত দিন আমি (পুলিশ সুপার) কক্সবাজার আছি তত দিন আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে এই মরণ নেশা দমানোর জন্য। সামনে যত বড় প্রভাবশালী পড়ুক না কেন অ্যাকশন হবে উদাহরণস্বরূপ।
সুত্রঃ যুগান্তর

al-mahmud-inner20190215175156.jpg

কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওই দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে তাঁকে প্রথমে সিসিইউতে ও পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ (শুক্রবার) তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়।

আল মাহমুদের শুভানুধ্যায়ী কবি আবিদ আজম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া তিনি (কবি আবিদ আজম) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘আল মাহমুদ জীব‌নের ওপা‌রে, প্রভুর সা‌ন্নি‌ধ্যে পৌঁ‌ছে গে‌ছেন রাত ১১টায়;‌ তি‌নি আর বেঁ‌চে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহু‌মের রু‌হের মাহ‌ফেরা‌তের জন্য দোয়া প্রার্থনা।’

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে আল মাহমুদের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার পিতার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। তার দাদা আব্দুল ওহাব মোল্লা হবিগঞ্জ জেলার বিখ্যাত জমিদার ছিলেন।

আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তবে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়াালেখা করেন তিনি। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করেন এবং একের পর এক সাফল্য লাভ করেন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৫০-এর দশকে যে কয়েকজন লেখক বাংলা ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে আল মাহমুদ একজন। লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে মাহমুদ ঢাকা আগেমন করেন। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৫৪ সাল অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূূখ ও কৃত্তিবাস ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। নারী ও প্রেমের বিষয়টি তার কবিতায় ব্যাপকভাবে এসেছে। উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হিসেবে নারীর যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের লালসাকে তিনি শিল্পের অংশ হিসেবেই দেখিয়েছেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ নামে দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম ‘সোনালি কাবিন’। ১৯৯০-এর দশক থেকে তার কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস উৎকীর্ণ হতে থাকে; এর জন্য তিনি প্রগতিশীলদের সমালোচনার মুখোমুখি হন। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’। কোনো কোনো তাত্ত্বিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশ্বাসগ্রস্থতার কারণে তার বেশকিছু কবিতা লোকায়তিক সাহিত্যদর্শন দৃষ্টান্তবাদ দ্বারা অগ্রহণযোগ্য।

eden.jpg

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে সোনার গহনা ও টাকা লুটের জন্যই পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।তবে এই খুনের পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার।

তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তারা হলো—গৃহকর্মী সরবরাহকারী রুনু ওরফে রাকিবের মা এবং গৃহকর্মী স্বপ্না ওরফে রিতা আক্তার। মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যার পর তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় তারা।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিসি মারুফ হোসেন সরদার।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সুকন্যা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে মারুফ হোসেন সরদার আরও জানান, ওই বাসায় গৃহকর্মী সরবরাহকারী রুনু ওরফে রাকিবের মাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সঙ্গে নিয়ে এ মামলার আরেক আসামি স্বপ্না ওরফে রিতা আক্তারকে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নেত্রকোনার মদন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য গৃহকর্মী রেশমা ওরফে রুমা পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার স্বপ্নার কাছ থেকে একটি সোনার চেইন ও সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি এই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ওই বাসায় কাজ নেওয়ার সময় স্বপ্না ও রেশমা ভুয়া ঠিকানা ও পরিচয় দিয়েছিল। তাই স্বপ্নাকে গ্রেফতার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যার তার ডায়েরির ভেতর থেকে রেশমা ও স্বপ্না তাদের ছবি ও লেখা ঠিকানা নিয়ে যায় তারা। তারা মাহফুজার মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায়। এ কারণে অন্য গৃহকর্মী রেশমার কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ গৃহকর্মী রেশমাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

নিউমার্কেট থানা সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা দুজনই এই হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। মাহফুজা চৌধুরীকে বালিশ চাপা দিয়ে তারা শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।

নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আপনারা বাড়িতে কোনও গৃহকর্মী নিয়োগ দিলে তার নাম,পরিচয় ও ঠিকানা রাখুন। এগুলো যাচাই-বাছাই করে পরিবারের একাধিক ব্যক্তির কাছে রাখুন। সংশ্লিষ্ট থানায় একটি কপি জমা দিন। এতে কেউ যদি অপরাধ করে তবে তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

bal2.jpg

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)। ওইদিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দলের দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।

hamid5.jpg

ভাষা আন্দোলনের চেতনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন,ভাষা আন্দোলন শুধু আমাদের মাতৃভাষার অধিকারই দেয়নি, দিয়েছে আমাদের গল্প, নাটক, চলচ্চিত্রসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা। তাই আমি আশা করব, আমাদের নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার, লেখক, গবেষকসহ বুদ্ধিজীবীগণ মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে আরো বেশি কাজ করবেন। সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ এর প্রিমিয়ার শো উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।তৌকীর আহমেদ পরিচালিত এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। শুক্রবার ৫২টি হলে এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে।

বঙ্গভবনের দরবার হলে ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষারও আন্দোলন।

তিনি বলেন, অমর একুশের অবিনাশী চেতনা-ই আমাদের যুগিয়েছে স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস। ফেব্রুয়ারি রক্তঝরা পথ বেয়েই অর্জিত হয়েছে বাঙালির চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস। এ চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর নানা ভাষাভাষী মানুষের সাথে নিবিড় যোগসূত্র স্থাপিত হোক, লুপ্তপ্রায় ভাষাগুলো আপন মহিমায় নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে উজ্জীবিত হোক, গড়ে উঠুক নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য বিশ্ব-এ প্রত্যাশা করি।

ফাগুন হাওয়ায় সিনেমা তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি মনে করি, চলচ্চিত্রটি তরুণ প্রজন্মকে মহান ভাষা আন্দোলন এবং ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যারা বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন তাদের সম্পর্কে জানতে ভূমিকা রাখবে। এতে আমাদের নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরো শাণিত হবে।

টিটু রহমানের ছোটগল্প ‘বউ কথা কও’র অনুপ্রেরণায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম, সাজু খাদেম, রওনক হাসান, ফজলুর রহমান বাবু, আফরোজা বানু, শহীদুল আলম সাচ্চু, আবুল হায়াত ও ভারতের যশপাল শর্মা প্রমুখ।

চলচ্চিত্রটির সংলাপ, চিত্রনাট্যও করেছেন তৌকীর আহমেদ।

পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিনেমাটি দেখেন রাষ্ট্রপতি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন,সিনেমার কলাকুশলীসহ বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।

doo.jpg

মানুষের জীবন বাঁচানো ডাক্তারদের নৈমত্তিক কাজ। প্রতিদিন তাদের কারণেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন হাজারও রোগী। তবু অগোচরেই থেকে যায় ডাক্তারদের ত্যাগ-তিতীক্ষা আর ধৈর্য্যের গল্পগুলো। তবে এসবের মধ্যে ব্যতিক্রম সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগুনের ঘটনা। এদিন শুধু রোজকার সেবা-শুশ্রুষা নয়, নিজের জীবন বিপন্ন করে হাজার হাজার রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন অকুতোভয় ডাক্তাররা।

কোনো পত্র-পত্রিকায় আসেনি ডাক্তারদের এমন সাহসিকতার খবর। তবু চাপা থাকেনি সত্যটা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তরোগ বিভাগের রেসিডেন্ট ও সঙ্গীত শিল্পী ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল ফেসবুকের স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন ওই সময়ের কিছু কথা। তিনি লিখেছেন-

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি কনসাল্ট্যান্ট ডাঃ Farhad Uddin Ahmed ভাইয়ের স্ট্যটাস পড়ে জানলাম অভাবনীয় অতুলনীয় মানবিকতায়, সাহসে আর বুদ্ধিমত্তায়, চিকিৎসকবৃন্দ, সেবিকাবৃন্দ, হাসপাতালের ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দ, ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মীবৃন্দের বদৌলতে বেঁচে গেল অনেক অসহায় মুমূর্ষু প্রাণ।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের হাত থেকে অসহায় রোগীদের রক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া সকল চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি নত মস্তকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

এ জাতীয় অগ্নিকান্ডের কথা মনে হলে গার্মেন্টস কর্মীদের কথা মনে পড়ে।

কেবল ভাবছি আজ একটি গার্মেন্টস এ আগুন লাগলে কি হতো? তাদের কর্মকর্তারা কি ছুটে যেতেন কর্মীদের উদ্ধার করতে? একজন কর্মীও অগ্নিদগ্ধ হলো না- এমন সংবাদ কি পাওয়া যেত?

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদাহরণ হোক। মানবিক সমাজ গড়ে উঠুক নানারকম আগুনে পোড়া বাংলাদেশে।

kadery6.jpg

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি আবার এটাও দেখেছি কোনো কোনো মিডিয়ায় জামায়াতের নবীন প্রবীণের দ্বন্দ্বটা খুবই স্পষ্ট, যারা প্রবীণ তারা তাদের পুরনো নীতি কৌশল আদর্শ আকড়ে থাকতেই অটল। নতুনরা চেঞ্জ চাচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে সেটা তাদের ইন্টার্নাল ম্যাটার, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

জামায়াত নাম পরিবর্তন এবং অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়ে রাজনীতিতে আসতে চাইলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি জানাবে না সেটা তো এখানে কোনো বিষয় নয়। তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে কি না, তারা ক্ষমাপ্রার্থী কি না, তারা ক্ষমাটা আগে চাক। তারপর বলব। তারা এখনো তো ক্ষমা চায়নি। তারা ক্ষমা চাওয়ার পরেই এ ব্যাপারে বিশ্লেষণ নিয়ে আমাদের মূল্যায়নটা, রিঅ্যাকশনটা আমরা প্রকাশ করতে পারি।

যুক্তরাজ্যে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যে উদ্যোগ, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিএনপির মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারেন, তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। নির্বাচনে পরাজিতরা ট্রাইব্যুনালের সম্মুখীন হন, ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ পেশ করেন, এটা নতুন কিছু নয়। এটা তাদের অধিকারও আছে।

তিনি বলেন, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অধিকার আছে, তিনি মামলা করতে পারেন। এ বিষটায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। যেহেতু নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে যারা জয়লাভ করেছে, তাদের গেজেট প্রকাশ করেছে এবং বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। এখন ট্রাইব্যুনালে যদি কেউ মামলা করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর, এ বিষয়টার দায়টা বর্তায় নির্বাচন কমিশনের।

কাদের বলেন, তারাই এখন বিষয়টা নিয়ে আদালতে গিয়ে মোকাবেলা করবেন, লিগ্যাল ব্যাটেল তারা ফেস করবে, এটাই নিয়ম। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।

মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোটেও না, এটা তো অস্বাভাবিক বা নতুন কিছু বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়, আমি মামলা করার বিরুদ্ধে নই, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারে। পরাজিত ব্যক্তির অবলম্বন আইনের কাছে আশ্রয় নেয়া, তিনি আইনের কাছে আশ্রয় নেবেন। আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, অসুবিধা কী? আদালত খতিয়ে দেখবেন নির্বাচন কমিশন জবাব দেবে, আমাদের কোনো বিষয় নয়।

এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো নৈতিক অধিকার বিএনপির নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এই ১৫ ফেব্রুয়ারিতে প্রহসনের নির্বাচন করেছিল বিএনপি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যারা কলঙ্কিত, তাদের মুখে অন্য কোনো নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।