জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

sheikh_hasina_corona_speach_desh_rupantor_6.jpg

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট এলাকাকে লকডাউন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। পাশাপাশি করোনার উপসর্গ দেখা দিলেই হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বৈঠক হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকা লকডাউন করা হত। এখন মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে না। আক্রান্ত হলেই সেই এলাকা লকডাউন করা হবে।

একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার অলোকেই সন্ধ্যা ৬টার পর সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এছাড়া ছোটোখাটো অপরাধের মধ্যে ছিচকে চুরি, টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণার মতো অপরাধ রয়েছে।

এসব অপরাধে যারা অনেক দিন ধরে আটক রয়েছেন তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য নীতিমালা করতে প্রধানমন্ত্রী স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হত্যা, ধর্ষণ ও এসিড মামলার আসামিদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) যেসব কারখানা মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরি করে এমন কারখানাগুলো খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নীতিমালা করার প্রসঙ্গে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার রাতে বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার চিন্তিত। কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়েও সরকারকে চিন্তা করতে হচ্ছে। ছোটোখাটো অপরাধে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন এবং হত্যা, ধর্ষণ ও এসিড মামলার আসামি নয় কিন্তু ইতিমধ্যে বহুদিন জেল খেটেছেন এমন কয়েদিদের কীভাবে মুক্তি দেয়া যায় সে বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি।

তারা দীর্ঘদিন ইতিমধ্যে সাজাও খেটেছেন। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। উনি শুনে বলেছেন, তাদের কিভাবে মুক্তি দেয়া যায়, কোন প্রক্রিয়ায় সেটাও আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

এ ধরনের আসামির সংখ্যা কতজন হতে পারে-জানতে চাইলে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘৪ থেকে ৫ হাজারের মতো হবে। যারা ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন সাজা খেটেছে। নীতিমালা প্রণয়ন হলে তার আলোকে এ ধরনের আসামিদের মুক্তি দেয়া হবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আক্রান্ত বেশি, সেখানে লকডাউন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন এবং একাধিক নির্দেশনাও দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত প্যাকেজ প্রণোদনাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই ও অগোছালো বলে উল্লেখ করার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এসব বক্তব্য ও অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিএনপি নেতারা যেকোনও পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকেন। এই দূর্যোগেও তারা একই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহবান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে বিএনপির প্রস্তাব উত্থাপনটি ছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ঠিক তেমনিভাবে প্যাকেজ ঘোষণার পর মির্জা ফখরুলের অগোছালো মন্তব্য ছিল চিরায়ত মিথ্যাচারে ভরপুর।

এই সংকটকালীন সময়ে পারস্পরিক দোষারোপ না করে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিএনপিসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সব স্তরের জনগণকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আহবান জানাবো, এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে এক প্লাট ফরমে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করুন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারি ছুটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গণপরিবহনও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা, পণ্যবাহী যানবাহন, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক চলাচল করবে, পণ্যবাহী পরিবহনে কোনোভাবেই জনগণ চলাচল করতে পারবে না।

এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

PM3.jpg

ছোটখাটো অপরাধে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন এবং হত্যা, ধর্ষণ ও অ্যাসিড মামলার আসামি নয় কিন্তু ইতোমধ্যে বহুদিন জেল খেটেছেন এমন কয়েদিদের কীভাবে মুক্তি দেয়া যায়, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বানায় এমন কারখানাগুলো খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেসব অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত রোগী বেশি সেইসব অঞ্চল লকডাউন করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অতি জরুরি কারণ ছাড়া ঢাকার বাইরে কেউ যাবে না, আসবেও না- দেয়া হয় এমন নির্দেশনাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বন্দি আসামিদের মুক্তি দিতে একটি প্রক্রিয়া ঠিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে মোট ১২ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আরও ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৩ জন। গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে।

প্রথমে ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত করোনার বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ ছুটি বাড়ানো হয়েছে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বহিরাগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অফিস-আদালত থেকে শুরু করে গণপরিবহন সবই বন্ধ রয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে রয়েছে।

আর, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

PMpress.jpg

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভি‌ডিও কনফা‌রেন্স কর‌বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গণভবন থে‌কে এই ভি‌ডিও কনফা‌রেন্স করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূ‌ত্রে এ তথ‌্য জানা গে‌ছে।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস ও ত্রাণ সরবরাহের বিষয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত‌বি‌নিময় কর‌বেন প্রধানমন্ত্রী। কনফারেন্সটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী গত ৩১ মার্চ ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। সেখানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে তা খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের দিক-নির্দেশনা দেন।

কর্মহীন হওয়া দেশের দরিদ্র মানুষদের প্রণোদনাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনাও দেন সরকারপ্রধান। পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

aa.jpg

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলিম উল্লাহ মারা গেছেন। তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

আজ বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই যুবকের বাড়ি লকডাউন করেছে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক রোগীকে চমেক হাসপাতালে পাঠনো হয়েছিল। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ওই যুবকের বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়ে বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

চমেক হাসপাতাল থেকে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

jahed5.jpg

দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন।

এ নিয়ে করোনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু ও ১১৭ জন আক্রান্ত হলেন।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এটিই এক দিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

sheikh_hasina_corona_speach_desh_rupantor_6.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হোক। রোববার (৫ এপ্রিল) গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী ।

সংবাদ সম্মেলনে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা থাকেন। এবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। কারণ আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে সংক্রমিত হোক।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। অনেকেই সীমান্ত বন্ধ করেছে। বাংলাদেশেও গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী গৃহীত পদক্ষেপগুলো অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এরমধ্যে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সেবা খাত, ক্ষুদ্র ‍ও মাঝারি উদ্যোগ ও পর্যটনের মতো খাতগুলো বেশি প্রভাবিত হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে এখনই সঠিকভাবে অনুমান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রভাবে জিডিপি’র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার শঙ্কার রয়েছে। এছাড়া বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করার হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

PM1.jpg

সবার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে সরকার নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এই দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার রোধে দেশব্যাপী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় কাজ না পেয়ে দিনমজুর ও ছোট ব্যবসায়ীসহ অনেক লোক কষ্টে তাঁদের দিন কাটাচ্ছেন, কাজেই প্রতিটি দ্বারে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে পিএমও’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণকালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস পিএমও’তে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা তার ভাষণে নিজ দল আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন সকলকে বিশেষ করে যারা সামাজিক মর্যাদার কারণে ত্রাণ চাইতে পারছেন না সেসব দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

তিনি বলেন, সমাজে একটা বড় অংশ রয়েছে, যারা মর্যাদার কারণে সাহায্য চাইতে পারেনা। আমাদের তাঁদের খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

করোনাভাইরাসের বিপক্ষে লড়াইয়ে অবদান রাখার জন্য সংগঠনগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গুরুত্বপুর্ণ সময়ে আপনারা যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। জাতি আপনাদের এই অবদান চিরকাল স্মরণ করবে।

করেনাভাইরাসের মহামারি প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী বিরূপ প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি সকলে স্বাস্থ্য বিধি সঠিকভাবে মেনে চললে এই পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, মংলা বন্দর কতৃর্পক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ স্টিল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কতৃর্পক্ষ (বিএসইসি), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ভ’মি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, কোষ্টগার্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,অগ্রণী ব্যাংক, সরকারী ব্যাংকসমূহ, এফবিসিসিআই,বিজিএমইএ, বিকেএমইএ,পিএইচপি, মেঘনা গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, মোমেন গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, রুপায়ন গ্রুপ, ফ্রেস গ্রুপ, সিটি গ্রুপ,কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি), বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড,মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিকোল পো ফোরাম লি, ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, মধাবদী ডাইং লিমিটেড, কেসিজে এন্ড এ্যাসোসিয়েটস লি,ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ট্রাকো, ক্যাপিটেক এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, বায়রা, কারা অধিদপ্তর,গণপূর্ত অধিদপ্তর, বেসিক বিল্ডার্স লিমিটেড, বেপজা, সরকারী তিতুমীর কলেজ, মহাখালী,এ এম গ্রুপ এবং ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করে।

তার ত্রাণ তহবিলে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের অনুদানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নীতি অনুসরণ করে সবাই যদি তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে দেশে বর্তমানে যে সমস্যাটি রয়েছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।

এই ভাইরাসটি ধনী এবং গরিব উভয়ের জন্যই হুমকি নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাইরাসটি ধনী বা দরিদ্রদের জন্য একই ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না থাকার বিষয়টিই প্রমাণ করেছে।

একইভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র এবং অর্থের দিক থেকে যে দেশ যতই শক্তিশালী হোক না কেন সকলেই এই ভাইরাসের একই ধরণের শিকারে পরিণত হয়েছে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা সর্বশক্তিমান ব্যতীত কারো নেই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে পুনরায় পবিত্র শবে বরাতের রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করেই দেশবাসীকে ইবাদত-বন্দেগী করার এবং দেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে করোনার কবল থেকে রক্ষার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করার আহবান জানান।

তিনি করোনাভাইরাস ছাড়ানো প্রতিরোধের জন্য বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ, কোথাও জনসমাগম না করে বরং ঘরে অবস্থান করে রেডিও, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাহায্যে উদযাপনের আহবানও পুনর্ব্যক্ত করেন।

corona-drug-working.jpg

চীনের ও জাপানে করোনাভাইরাস জনিত রোগের (কভিড-১৯) চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যাভিগান নামের ওষুধ তৈরি করেছে বাংলাদেশের দুই ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন ফার্মা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সাধারণ ঠান্ডা-সর্দির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় অ্যাভিগান নামে ওষুধটি, যেটির জেনেরিক নাম ফ্যাভিপিরাভির।

এই ওষুধ ব্যবহার করে করোনা চিকিৎসায় দারুণ সাফল্য পায় বলে দাবি করে চীন। দেশটির ট্রায়ালে দেখা যায়, যাদের ওই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, অন্যদের তুলনায় তারা দ্রুত সেরে ওঠেন।

তবে, জাপান এখনো করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওষুধটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

বাংলাদেশে ফ্যাভিপিরাভির ওষুধটি তৈরি করে রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন ফার্মা।

বেক্সিমকো শুধু ফ্যাভিপিরাভির নয়, প্রচলিত যেসব ওষুধ করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, তার একটি বাদে সবগুলো তৈরি করছে। চাহিদা অনুযায়ী এসব ওষুধ তারা সরকারকে দেবে।

বিকন ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল করিম বলেন, আমরা ফ্যাভিপিরাভির ওষুধটি তৈরি করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে দিয়েছি পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য। ওষুধটির কার্যকারিতা পাওয়া গেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন করা যাবে।

তিনি বলেন, ওষুধটি মূলত ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য জাপানের ফুজি তৈরি করেছিল। চীনারা এটি প্রয়োগ করে সুফল পায়।

আমরা চীন থেকে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রিডিয়েন্ট এনেছি। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওষুধ তৈরিতে মেধাস্বত্ব লাগে না।

এসব ওষুধ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।

বেক্সিমকো ও বিকনের বাইরে আরও দু-একটি কোম্পানি ওষুধগুলো তৈরির অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে একটি জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস।

জানতে চাইলে জিসকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা ওষুধটি তৈরি করতে পারব।

ফুজি ফিল্মের এক মুখপাত্র বলেন, জুনের শেষ নাগাদ ১০০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।

পুরো ট্রায়ালে আমরা তথ্য সংগ্রহ করব, বিশ্লেষণ করব, এরপর অনুমোদনের জন্য আবেদন করব।

তিনি বলেন, হালকা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী রোগীদের ওপর এই ওষুধটি প্রয়োগ করা হবে।

তবে প্রাণীর শরীরে পরীক্ষার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ওষুধ দেয়া হবে না।

coronavirusmgn10.jpg

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী চলমান করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ছোবল বসিয়েছে বাংলাদেশেও।

দেশে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যায় কম হলেও আশঙ্কার কথা হচ্ছে মৃত্যুর হারে ইতালির পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের খুটিনাটি নিয়ে নিয়মিত হালনাগাদ করে যাচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার’ নামের একটি ওয়েবসাইট।

ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার সর্বশেষ যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের স্বল্প সংখ্যা নিয়ে এখনও অনেক দায়িত্বশীল লোক (৭০ জন) স্বস্তি প্রকাশ করলেও মৃত্যুর হার কিন্তু চরম মাত্রায় ভয়াবহ (১১.৪৩%)।

ভয়াবহের মাত্রা কেমন তা বুঝা যায়, যখন দেখে যায় বাংলাদেশের করোনায় মৃত্যুর হার এখনও বিশ্বের মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে!

মাঝখানে খানিক বিরতি দিয়ে বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে, সেই সাথে মৃত্যুর শতকরা হার আরও বেড়েছে!

শনিবার (৪ এপ্রিল) করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয় থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন।

এত দেশে প্রতি ১০০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ জন মারা যাচ্ছেন! যা ভাইরাসটির উৎপত্তি স্থল চীনের চেয়েও অনেক বেশি।

ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার বলছে চীনে করোনায় মৃত্যুর হার ৪.০৪%। বাংলাদেশের সামনে আছে কেবল মৃত্যুপুরী বনে যাওয়া ইতালি (১২.২৫%), যদিও পার্থক্য খুবই সামান্য।

আরেক মৃত্যুপুরী স্পেনের হারও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম (৯.৩৯%)। করোনার নতুন আবাস আমেরিকায় অনেকে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুহার খুবই কম (২.৬৭%)।

এশিয়ার দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়াতেও মৃত্যুহার যৎসামান্য, যথাক্রমে ১.৭৪ % ও ১.৫৯%।

প্রতিবেশী ভারতে (২.৭৯%) তাদের থেকে কিছুটা বেশি হলেও পাকিস্তানে (১.৪৮%) তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুহার ৩.১৪%।

সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের মিছিল প্রতিনিয়তই যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুহারও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে।

প্রাণঘাতী মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে নিজের এবং নিজ পরিবারের কথা চিন্তা করে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

জনসমাগম এবং শারীরিক দূরত্ব যথাসম্ভব বজায় রাখতে হবে, সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত থাকতে চেষ্টা করতে হবে। সূত্র : ওয়ার্ল্ড ওমিটার