জাতীয় Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

jamat-20181119210528.jpg

জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থিদের একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এ কার্যক্রমকে নতুন দল না বলে ‘রাজনৈতিক উদ্যোগ’ বলছে। আগামী ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগের প্রকাশ হতে পারে। সম্প্রতি ঢাকায় জামায়াতের বিভিন্ন অঞ্চল এবং পেশার সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে দল ভাঙা ঠেকাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর কর্মসূচি শুরু করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব সফরে তারা সংস্কারপন্থি নেতাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন বলে দলের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

জানা গেছে, নতুন নামে দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হলেও এখনো এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই শোনা যাচ্ছে সংস্কারপন্থি নেতারা জামায়াত ছেড়ে নতুন দল গঠন করতে পারেন।

জামায়াতে সংস্কার এবং একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে  শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন দীর্ঘদিন নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালনকারী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। কয়েক বছর ধরে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন তিনি।

আবদুর রাজ্জাক জামায়াত বিলুপ্ত করে একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন নামে দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছিলেন দলের আমির মকবুল আহমাদকে। একই দিন জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, যিনি দলের মজলিশে শূরার সদস্য ছিলেন। তিনিও একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে উদারপন্থি দল গঠনের পক্ষে ছিলেন।

সূত্রের খবর, মজিবুর রহমান মঞ্জু নতুন দল গঠনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি ‘নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সভা-সেমিনার করে আলোচনায় রয়েছেন।

জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। নেতৃবৃন্দ আমার এই আত্মপর্যালোচনামূলক সমলোচনা পছন্দ করেননি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির ছাত্র আমি। যদি আমরা তরুণরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিই তাহলে একটা নতুন আশার সঞ্চার হবে। এর মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের উন্মেষ ঘটবে। অনেকে আমার এ ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

নতুন দলে আবদুর রাজ্জাক থাকবেন কি না তা পরিষ্কার করেননি মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, তারা আবদুর রাজ্জাককে এখনো ‘অ্যাপ্রোচ’ করেননি। ভবিষ্যতে করতে পারেন।

সূত্র জানায়, সংস্কারপন্থিদের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ গভীর চাপ ও উদ্বেগে ফেলেছে জামায়াতের মূল নেতৃত্বকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়াসহ দলের সংস্কার ঠেকাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর কর্মসূচি শুরু করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা এসব সফরে সংস্কারপন্থি নেতাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

এদিকে দলের সংস্কারপন্থিদের চাপের মুখে নতুন নামে দল গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, এরও কোনো অগ্রগতি নেই। নতুন দল গঠনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি গত দেড় মাসে দুটি বৈঠক করেছে।

সূত্র জানায়, নীতিনির্ধারকেরা এখন নতুন দল গঠনের চেয়ে সংস্কারপন্থিদের সামাল দেওয়াতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। তারা মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের যে কোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ ও সংস্কারপন্থিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলছেন। তারা কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন দাবিতে যারা দল ছেড়েছেন, তারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এরই মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান সিলেট মহানগর, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা, রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী এবং ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লা সফর করেন। এরপর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অতিসম্প্রতি কুমিল্লার একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

spress.jpg

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে কোনও উন্নতি হয়নি বাংলাদেশের। বরং চার ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম স্থানে। তবে এবারও বৈশ্বিক এই সূচকে শীর্ষে আছে নরওয়ে, আর তলানিতে তুর্কিমেনিস্তান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ২০১৮-১৯ সালের জন্য এমন সূচক প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাংবাদিকরা কঠোর নিয়মনীতির শিকার হচ্ছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনাও বাড়ছে। তৃণমূলে কাজ করা সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক হামলাও বাড়ছে।

এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া ও সাংবাদিকদের বিতর্কিতভাবে গ্রেফতারের ঘটনাও বাড়ছে বাংলাদেশে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে টেনে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, এটি গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের একটি বড় অস্ত্র। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এ আইন চালু হওয়ার পরই ‘নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা’ চালানো যেকোনও পক্ষকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের স্বপ্ন দেখা সাংবাদিক ও ব্লগারদের হয়রানি করছে জঙ্গিরা। কিছু ক্ষেত্রে এসব জঙ্গি সাংবাদিকদেরও হত্যা করছে।

শুধু বাংলাদেশই নয়, এই সূচকে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকেরা ক্রমাগত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে জানানো হয়। সাংবাদিকেরা এখন বিশ্বব্যাপীই একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতির’ মধ্যে কাজ করছেন। তবে আফ্রিকায় পরিস্থিতি কিছুটা উল্টো।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ২০১৮-১৯ সালের বৈশ্বিক সূচকে আবারও শীর্ষস্থান অধিকার করেছে নরওয়ে। এরপর আছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। অন্যদিকে সর্বশেষ স্থান থেকে উত্তরণ ঘটেছে উত্তর কোরিয়ার। তলানিতে আছে তুর্কমেনিস্তান।

এদিকে সূচকে বাংলাদেশের ১৫০ চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে রাশিয়া (১৪৯)। ১৫১ নম্বরে সিঙ্গাপুর, প্রতিবেশী ভারত ১৪০ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২ নম্বরে।

moin-khan-3-20190419194032.jpg

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন নাই। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সম্মুখ দরজা দিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শত নাগরিক কমিটির আয়োজনে খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদারেরর লেখা ‘খালেদা জিয়া- তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে পদার্পণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে মঈন খান বলেন, আপনাদের মনে আছে, তখন এই দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিলে সংগ্রামে নেমেছিল। সেসময় দেশনেত্রী ছিলেন অবিচল। ’৮৬-র নির্বাচন যখন এল। তিনি বললেন- এই স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। তখন অপর একটি রাজনৈতিক দল বিশ্বাসঘাতকতা করে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে আপোষ করে তারা নির্বাচনে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, অনেকে সমালোচনা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। সেটা প্রমাণিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের উপহার হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। তাকে মাথায় তুলে নিয়েছিলেন গণতন্ত্রের সৈনিক হিসেবে। আপোষহীন নেত্রী হিসেবে। এই আপষহীন চরিত্র আজ পর্যন্ত তার মধ্যে আমরা দেখেছি। দেখছি, দেখব।

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে প্রকাশনা উৎসবে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

এছাড়া বইটির অপর লেখক কবি আব্দুল হাই শিকদার এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

du-bg-20190419231928.jpg

মামা আবু মুসা পেশায় একজন রিকশাচালক। গেল সপ্তাহে হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয়ে প্রয়োজন আড়াই লাখ টাকা। যে টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে আবু মুসার। মামার এ রকম অসহায় অবস্থায় এগিয়ে এসেছেন তার ভাগ্নি।

মামাকে বাঁচাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারজানা সুলতানা অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন। টিএসসিতে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে বাংলা খাবার বিক্রি শুরু করেছেন। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে তার এ আয়োজন। সে টাকা দিয়ে মামা মুসার অপারেশন করাবেন।

ফারজানার খাবারের আইটেমে রয়েছে- পায়েস, ভাত, মুরগি, মাছ ভাজা, মাছের ডিম, বেগুন ভাজা, আম ডাল, কুমড়ো ভাজা, টমেটো ভর্তা, পটল ভর্তা, শিম ভর্তা, ঢেঁড়স ভর্তাসহ হরেক রকমের বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার।

ফারজানার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘মামা আবু মুসার এক সপ্তাহ আগে হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। যার জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি আত্মসম্মানবোধের কারণে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষের কাছে টাকা চাইতে নিষেধ করেছেন। তাই আমি মনে করি এ মহৎ মনের মানুষটির বিপদে যদি আমরা এগিয়ে না আসি তাহলে সেটা হবে চরম অমানবিক। তার আদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য না চেয়ে এখানে খাবার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ফারজানার বান্ধবী রাবেয়া আক্তার মিম বলেন, ‘আসলে এগুলো বিক্রি করে এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। তাই আমরা চাই সকলে এ মহৎ মানুষটিকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসুক।’

কেউ ফারজানার মামাকে সাহায্য করতে চাইলে ০১৭৩৯৮৯৩৫০৪ (বিকাশ) এবং ০১৫২১৩১৯১০৯৫ (রকেট) নম্বরে সাহায্য পাঠাতে পারবেন।

kamal-20190419190325.jpg

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের ব্যাংক হিসাব জব্দের যে আদেশ আদালত দিয়েছেন, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আম্বর-শাহ শাহী মসজিদের নিচতলার সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

এখানে উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি পারমিশন মামলার শুনানি শেষে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের ব্রিটেনের একটি ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ।

সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চীনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমাদের কী কী হচ্ছে, কী সমস্যা রয়েছে তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে সেটা সফল করার জন্যও চীন সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ কর মন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূলের যুদ্ধে চীন সফল হয়েছে। বাংলাদেশকেও মাদক নির্মূলে সহযোগিতা করবে চীন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ট্রেনিং ও অগ্নিনির্বাপণে উন্নত প্রশিক্ষণ ও ইকুইপমেন্ট সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।

pm-sheikh-hasina-bg-20190420004335.jpg

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘জোরপূর্বক স্থানচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের অবশ্যই তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম ইব্রাহিম আল হাশিমী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে হবে।’

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরাতের মন্ত্রীকে রোহিঙ্গাদে বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষেপে অবহিত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এ ইস্যুতে আলোচনা করেছে এবং তাদের প্রত্যাবাসনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আরও উন্নত সুবিধা দিতে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য একটি দ্বীপকে প্রস্তুত করছে।’

আমিরাতের মন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারকে তার দেশের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতাসহ বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রিম ইব্রাহিম আল হাশিমী দু’দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘এ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করব।’
প্রধানমন্ত্রী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

biman-dhaka-to-london-20190419213650.jpg

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অন্যতম লাভজনক রুট ঢাকা-লন্ডন- ঢাকা। অথচ গত এক মাসে এ রুটের ১৯টি ফ্লাইটের কোনোটিই সময়মতো ছেড়ে যায়নি। প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে বিলম্বিত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অর্থাৎ ২১০ মিনিট। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমানের এমন আচরণে অতিষ্ঠ এ রুটের যাত্রীরা।

বিমান চলাচলের সময় পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত ওয়েবসাইট ‘এয়ারপোর্টিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালিত ৩০টি ফ্লাইটের প্রতিটি বিলম্বে উড্ডয়ন করেছে। ফ্লাইটগুলো গড়ে এক ঘণ্টা ৩৮ মিনিট করে বিলম্বে ছাড়ে। একইভাবে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরেও নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছাচ্ছে ফ্লাইট। ফলে অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে বিমানকে।

তবে বিমানের দাবি, নিয়মিত বিলম্বের তথ্য ঠিক নয়।

মিজান ওয়াহিদ শুভ নামে এক যাত্রী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিমানের এ রুটের ফ্লাইটে চড়েন। লম্বা ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটু আগেভাগেই আসেন তিনি। বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, সকাল সোয়া ১০টার নির্ধারিত ফ্লাইট চার ঘণ্টা পর শাহজালাল ছাড়বে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ফ্লাইট দেরিতে ছাড়বে- এ বিষয়ে আমাদের আগে কোনো ম্যাসেজ কিংবা ই-মেইল করা হয়নি। এখানে এসে (বিমানবন্দর) অযথাই দেরি করানো হচ্ছে। শুধু মিজান নয়, ফ্লাইটটির অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, নিয়মিতই ফ্লাইটটি দেরিতে ছাড়ে। রাজধানীর লোকাল পরিবহনের মতো ‘যখনই ইচ্ছা হয় তখনই যাত্রা শুরু করে তারা’।

এ রুটের নিয়মিত যাত্রী জাকির খান। তিনি জানান, নিয়মিত দেরি করে ফ্লাইটটি। এমনও হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু আসার পর ২-৩ বারও সময় পরিবর্তন করে। দেরি হওয়ার কারণ জানতে বিমানবন্দরের কাউন্টারে কিংবা বিমানের স্টাফদের প্রশ্ন করা হলে, সদুত্তর দেয়া তো দূরের কথা, তারা ভালো মতো কথাই বলতে চান না। এক কথা দুবার জিজ্ঞাসা করলে বিরক্ত হন। তারা মানুষের সময়ের কোনো কদর করেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অন্যতম একটি লাভজনক রুট। সিলেট ও ঢাকার অনেকে নিয়মিত এ ফ্লাইটে লন্ডন আসা-যাওয়া করেন। ফ্লাইটটি প্রায় ১১ ঘণ্টায় সরাসরি লন্ডনে যায়। এ রুটের এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে, কুয়েত, টার্কিশ ও গালফ এয়ারলাইন্সের সাড়ে ১৪ ঘণ্টা এবং কাতার এয়ারলাইন্স ১৫ ঘণ্টায় লন্ডন পৌঁছে। তবে বিমান বদলানোর ঝামেলা এড়াতে অধিকাংশ যাত্রী এ রুটের জন্য বিমান বাংলাদেশকে বেছে নেন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসে এ রুটে এমিরেটসের দুটি ফ্লাইট বিলম্বে ছাড়ে। অন্যদের পরিসংখ্যানটাও বিমানের মতো এত খারাপ নয়।

আতিক চৌধুরী নামের অপর এক যাত্রী বলেন, এ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একমাত্র ডিরেক্ট (সরাসরি) ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাই তারা যাত্রী বেশি পায় এবং দায়িত্বহীনভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করে। যদি অন্যকোনো এয়ারলাইন্স সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে তাহলে বাংলাদেশিরাও বিমানকে ছেড়ে অন্য এয়ারলাইন্স ধরবে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বিলম্বে উড়োজাহাজ ছেড়ে শুধু বিমান নিজের ক্ষতি করছে না, শাহজালালের ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তনসহ রানওয়েও ব্যস্ত রাখছে। পৃথিবীর যেকোনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ছাড়ার কয়েক মাস আগে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি দিতে হয়। অথচ বিমান রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হয়েও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়মিত ফ্লাইট ওঠা-নামার কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

ফ্লাইট পরিচালনায় বিলম্বের বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ রুটে অনেক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি যাতায়াত করেন। তারা মাঝেমধ্যে দেরি করে ফেলেন। এ কারণে ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে। এটা শুধু লন্ডন রুটে নয়, সব রুটেই এমন ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরেন। তাদের ঢাকায় আসার ফ্লাইটগুলো বিলম্ব হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের অনুরোধে এ রুটের ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়। কার্গোর মালামাল উঠা-নামায় অতিরিক্ত সময় ব্যয়েও ফ্লাইট বিলম্বের অন্যতম কারণ।

তবে মাঝেমধ্যে এ রুটে ফ্লাইট কেন বিলম্বিত হয়- তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কেউ।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ  বলেন, ঢাকা থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট সবসময় ডিলে (বিলম্বিত) হয়, এ কথা ঠিক নয়। এ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বিমানবন্দর ও এয়ারক্রাফটের ‘নিরাপত্তা বিবেচনায়’ লন্ডন ফ্লাইটের অ্যান্টি-হাইজ্যাক পয়েন্টে জোরালো তল্লাশির কারণে চার ঘণ্টাও সময় লেগে যায়।

একই চিত্র লন্ডনেও। বিমানের এ ফ্লাইট লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার সময়ও একই কাণ্ড ঘটায়। গত দেড় মাসে এ রুটে পরিচালিত ২৯টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র একটি সময়মতো ছাড়তে পারে। এমনকি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বেও ছাড়ে একটি ফ্লাইট।

এখানেই শেষ নয়। ঢাকার ফেরার পথে সিলেটে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থান করে ফ্লাইটটি। সিলেট থেকে ঢাকায় আসতে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু মাঝেমধ্যে তিন ঘণ্টাও সময় লেগে যায়।

৪৫ মিনিটের পথের জন্য তিন ঘণ্টা কেন অপেক্ষা করতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো ইচ্ছা করে দেরি করি না। সিলেটে এক-দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে যাত্রীদের লাগেজ নামাতে। এ কারণে বিলম্বিত হয়।’

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইটটি চালু হয়। সেসময় সপ্তাহে দুদিন এ ফ্লাইট চলাচল করত। বর্তমানে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

pm-20190419211528.jpg

সাংগঠনিক বিরোধ নিরসনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের যৌথসভায় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যখনই বিপদে পড়েছে এ তৃণমূলই কিন্তু দলকে রক্ষা করেছে। সে কারণে যত দ্বন্দ্ব, সংঘাত বা গ্রুপিং থাকুক না কেন সব মিটিয়ে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথসভায় শেখ হাসিনা নেতাদের এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের বলেছেন, তৃণমূলে অনেক কোন্দল এবং গ্রুপিং আছে। যে কারণে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হেরে গেছে অনেক জায়গায়।

বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, মুজিববর্ষ পালনের আগে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলেছেন নেত্রী। এ জন্য খুব দ্রুত সাংগঠনিক সফর শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকদের বলেছেন, আপনারা সিদ্ধান্ত নেন। টিমে কাদের কাদের রাখবেন বৈঠক করে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবো।

সূত্র আরও জানায়, আগামীকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে জেলা ও বিভাগীয় শহর সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পদ-পদবী ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বিষয় নিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, গ্রুপিংসহ নানা অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অনেক জেলা উপজেলায় সম্মেলন হয় না। সব মিলিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ এখন দ্বিধা-বিভক্ত।

pmhf.jpg

সরকারিভাবে নির্ধারিত ১০ টাকার টিকিট কেটে অন্য সব সাধারণ রোগীদের মতোই চিকিৎসা নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে চোখের পরীক্ষা করালেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম এসব তথ্য জানান।

সকালে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান শেখ হাসিনা। সেখানে গিয়ে অন্য সবার মতোই টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ান। এরপর কাউন্টারে গিয়ে নাম নিবন্ধন করিয়ে ১০ টাকার টিকিট সংগ্রহ করেন। পরে সেই টিকিট নিয়ে তিনি প্রবেশ করেন নির্ধারিত চিকিৎসকের কক্ষে। সেখানেই তার চোখের পরীক্ষা করা হয়।

এসময় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদেরও ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ রোগীদের মতো চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে মায়ের নামে স্থাপিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও সাধারণ রোগীদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন শেখ হাসিনা।

nusrat-hotta-2-20190417142007.jpg

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফেনীর মাদ্রসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্ত শুরু করেছেন। সিআইডির সিনিয়র সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এ তদন্ত শুরুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সংবাদ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিংবা ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোনো অবৈধ লেনদেন হয়েছে কিনা কিংবা কে বা কারা এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সেসব খুঁজে করতে কাজ শুরু করছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

এর আগে ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেওয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা সঙ্গীরা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। কয়েকদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।

আলোচিত এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলো– অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এর মধ্যে চার জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।