বাণিজ্য/অর্থনীতি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

batbc.jpg

দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ফাঁকা গু‌লি করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ব্রি‌টিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির দুই কর্মী থেকে ২৬ লাখ টাকা লুটে নিয়েছেন দুর্বৃত্তরা।

‌রোববার সকালে উপজেলা প‌রিষদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মির্জাপুর থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, সকালে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির দুই কর্মী- ম‌তিন (৩৭) ও আমান উল্ল্যাহ (৩০) মোটরসাইকেলযোগে ২৬ লাখ টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

মির্জাপুর ইউএনও অফিসের কাছে পৌঁছলে পেছন থেকে এসে দুই অস্ত্রধারী যুবক ফাঁকা গুলি করে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এক পর্যায়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে মোটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যান।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান ওসি।

এদিকে, খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের সহকা‌রী পু‌লিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপঙ্কর ঘোষ ও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

BANK1429448892.jpg

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংককে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো অর্থ বরাদ্দ (রিফাইন্যান্সিং) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এসময় রাষ্ট্রায়াত্ত এই চার ব্যাংককে আগামী সাত দিনের মধ্যে কর্মকৌশল জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে আলোচনা শেষে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশে কার্যরত অর্ধ শতাধিক ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছেন পাঁচটি; এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী বাদে রয়েছে বেসিক ব্যাংক।

খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে মূলধন ঘাটতি হওয়ায় তা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবছরই সরকারের দ্বারস্ত হয় এবং সরকারও তাদের চাহিদা মিটিয়ে আসছে।

অর্থ বিভাগের এক তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মূলধন পুনর্ভরণ, সুদ ও ভর্তুকিসহ নানা উপায়ে সরকার এই ব্যাংকগুলোকে ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা দিয়েছে।

গত অর্থবছর থেকে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পুনঃঅর্থায়নে রাশ টানতে থাকে।

বৈঠকের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সরকারি ব্যাংকগুলোতে আর কোনো ধরনের রি-ফাইন্যান্সিং করা হবে না। তাদের নিজেদেরই আয় করতে হবে এবং সরকারকে ট্যাক্সও দিতে হবে।

এই ব্যাংকগুলোকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, আমি তাদের বলেছি, এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে। ওই কর্মপরিকল্পনার উপর আগামী রোববার আবার তাদের নিয়ে বৈঠকে বসব। আগামী বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

অর্থ না দিলেও পরামর্শ দেওয়াসহ অন্য সহযোগিতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পাবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের যে সম্পদ আছে, তার সুষ্ঠু ব্যবহার করে অন্তত ১৫ শতাংশ লাভ করুক, এটা চায় সরকার।

এই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে নতুন নিয়োগের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, নতুন টপ ম্যানেজমেন্ট সুস্পষ্টভাবে পারদর্শী। তারা সবাই যদি অভিজ্ঞতার আলোকে ও দেশের চাহিদার নিরীখে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করে, তাহলে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করা যায়।

ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণ (এনপিএল) কমানোর প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মন্দ ঋণ এখনও কমাতে পারি নাই। কারণ আমরা এক্সিটপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারি নাই। তবে শিগগির এটির সুরাহা হবে বলে আমার বিশ্বাস।

গত ২১ মে হাই কোর্টে ঋণ খেলাপীদের বিশেষ সুবিধার উপর স্থিতাবস্থা দেয়। যদিও পরে আবার নতুন ঋণ না নেওয়ার শর্তে স্থিতাবস্থা তুলে নেয়।

bb6.jpg

ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার বন্ধে লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে বেনামি হিসাব খোলা না যায় সেজন্য ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়ার পর থেকে এলসি খোলার আগে গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ সংক্রান্ত কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং চ্যানেলে বা ব্যাংকের বাইরে হুন্ডির মাধ্যমেও অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়েও পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে। হুন্ডিসহ নানাভাবে অর্থ পাচার বন্ধে সতর্ক রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

এ প্রসঙ্গে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, অর্থ পাচার মূলত আমদানি-রফতানির মাধ্যমে বেশি হয়। বিশেষত আমদানিতে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রফতানি মূল্য কম দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়। এ কারণে ঋণপত্র (এলসি) ও ব্যাংকে হিসাব খোলায় কড়াকড়ি করা হচ্ছে। অর্থাৎ (কেওয়াইসি মেইনটেইন) গ্রাহক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। কোনো হিসাব সন্দেহজনক হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট-বিএফআইইউকে জানানো হয়।

এছাড়া অতিরিক্তি অর্থায়নের মাধ্যমেও অর্থ পাচারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেটি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ঋণ বিতরণে সম্পদের মান যাচাই, পণ্য অতি মূল্যায়িত হয়েছে কিনা এসব দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। এদিকে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের তথ্য জানতে সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিশেষ অডিট শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে বিশেষ অডিট শেষ হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোতে বিশেষ অডিট চলছে।

জানা গেছে, ব্যাংকের মাধ্যমে বা ব্যাংকের বাইরে থেকে কারা কিভাবে মুদ্রা পাচার করছে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ধরনের বড় কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছে। এগুলোর কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলতে গেলে এখন গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বরসহ নানা ধরনের কাগজপত্র দিতে হয়। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কে নিশ্চিত না হতে পারলে হিসাব খুলছে না।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, অর্থ পাচার বন্ধে ব্যাংকগুলো এখন অনেক বেশি সতর্ক। সরকারও এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্থ পাচারসংক্রান্ত বড় কোনো ঘটনা অগ্রণী ব্যাংকে ঘটেনি।

জানা গেছে, ২২ জুলাই সরকারি ৮ ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন আর্থিক সূচক মূল্যায়নের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচার রোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য ৬টি নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এর মধ্যে দুটি অর্থ পাচারসংক্রান্ত বিষয়ও আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংক খাত থেকে যাতে কোনো প্রকার মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যারা বিদেশে পাচার কিংবা অন্য কোথাও সরিয়ে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

ওই বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে কাউকে ছাড় না দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান যুগান্তরকে বলেন, অর্থ পাচার বন্ধে আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে ব্যাংকগুলো। এসব নির্দেশনা পাওয়ার পর এখন আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে কাজগুলো করা হবে।

ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, পণ্যমূল্য যাচাই, ঋণপত্র খোলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাংকগুলো সতর্ক রয়েছে। এখন মাত্রা আরও বাড়বে। বিশেষ করে হিসাব খোলায় কেওয়াইসি ভালোভাবে দেখা হবে। এটি আগেও ছিল। বর্তমানে তা শক্তভাবে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

bb6.jpg

ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা ঘোষণার মধ্যেই ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বিতরণ করা হ‌চ্ছে ঋণ। আদায় হচ্ছে না। এসমস্ত কারণেই বিপাকে পড়েছে ব্যাংকগুলো। নানা উদ্যোগেও খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খেলাপি ঋণের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা জুন’১৯ প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্র‌তিবেদনের তথ্য বল‌ছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

জুন শেষে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। আর অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আ‌গের বছরের জুন পর্যন্ত অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ ছিল ৯০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এ হিসা‌বে গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লেও সরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে। এতে শতকরা হিসাবে সার্বিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার কমেছে। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জুনে হয়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমে যায়। শতকরা হারের পাশাপাশি পরিমাণগত হিসাবেও কমে খেলাপি ঋণ। কিন্তু এবার জুন প্রান্তিকে শতকরা হিসাবে খেলাপি ঋণ কমলেও পরিমাণগত হিসাবে বেড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এর মানে খেলাপি ঋণের কোনো উন্নতি হয়নি। কারণ খেলাপি ঋণ আদায় করার ব্যাপারে যে সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত, সেটা আসলে হচ্ছে না। উল্টো ঋণখেলাপিদের ছাড় দিতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ঋণ অবলোপনের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমায়ও ছাড় দেয়া হয়েছে। এছড়া বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালা করা হয়েছে। এসব সুবিধা দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, এত কারচুপি করার পরও খেলাপি কমেনি। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনান হয়েছে। পুনঃতফসিলের নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলাপিদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবুও খেলাপি ঋণ যখন কমেনি, এতে বুঝা যায় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না। বরং এই ধরনের সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে খেলাপিরা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।

গত ৪ আগস্ট বেসরকারি ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমে আসবে। কিন্তু জুন প্রান্তিকে বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার দুই বেড়েছে। গত মার্চ শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

প্র‌তি‌বেদ‌নের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে এ খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা বা ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ, গত মার্চ শেষে যা ছিল ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা বা ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৫৬ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমে হয়েছে দুই হাজার ৫৭ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ সময়ে বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে তাদের খেলাপি ঋণ ছিল চার হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।

বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পরই আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন করে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না বলে ঘোষণা দেন। এ জন্য তিনি ঋণখেলাপিদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা ও ছাড়ের পথ তৈরি করেন। তারপরও জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ে খেলাপি ঋণ। গত মার্চ শেষে প্রথমবার অবলোপন বাদে খেলাপিঋণ এক লাখ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৭১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর বাইরে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবলোপনের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাবের খাতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে আরও ৪০ হাজার ১০১ কোটি টাকা। এটি যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৫২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা।

আগের প্রান্তিক মার্চ পর্যন্ত অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ছিল। ফলে গত মার্চ থেকে জুন এই তিন মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা; যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ ছিল। এ হিসাবে গত ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭ সালের পুরো সময়ে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ।

city-bank-20190821121746.jpg

নিয়মিত ইভটিজিং, যৌন হয়রানির অভিযোগে সিটি ব্যাংকের এমডিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ব্যাংকটির সাবেক এক নারী কর্মকর্তা।

এমনকি তাদের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয় বলে তার অভিযোগ।

রোববার গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি।

মামলার আসামিরা হলেন- সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খান।

বুধবার গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান  বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

মামলাটি করা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪০৬/৫০৬ ধারায়। ধারাগুলোতে শ্লীলতাহানি, শ্লীলতাহানিতে সহায়তা প্রদান করা এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধের কথা বলা আছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিন নিয়মিতভাবে বাদীকে ইভটিজিং করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডির এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়।

২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, অফিস চলাকালীন সিঁড়িতে তার হয়রানির শিকার হতে হয় ওই নারী সহকর্মীকে।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে লাকি শিপ বিল্ডার্সকে বিপুল অঙ্কের লোন দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত হতে রাজি হইনি। এ কারণেও আমাকে রোষাণলে পড়তে হয়।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার বাদী বলছেন, তাদের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি।

milk-20190820185249.jpg

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডকে (মিল্ক ভিটা) গো-চারণের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঁচ হাজার একর ভূমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। পাবনা ও সিরাজগঞ্জে এসব জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তবে এর মধ্যে চার হাজার একর জমি বেহাত হয়ে গেছে। বেহাত হওয়া এসব জমি দীর্ঘদিনেও উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি।

কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ওমর ফারুক চৌধুরী, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং জিল্লুল হাকিম উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সিসার উপস্থিতির বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে মিল্ক ভিটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের পাস্তুরিত দুধে সহনীয় মাত্রার চেয়ে কম সিসা রয়েছে। এ সময় মিল্ক ভিটা কয়েকটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্ক ভিটাকে পাঁচ হাজার একর জমি বরাদ্দ দেন। বেহাত হতে হতে এখন মিল্ক ভিটার হাতে এক হাজার একরের মতো জমি আছে।

তিনি বলেন, মিল্ক ভিটার কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে অসাধু লোকজন জমি বরাদ্দ দিয়ে দখল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে জমি দখল করেছে। এসব জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটা কখনও আইনি লড়াইয়ে যায়নি। কমিটি এ জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

মিল্ক ভিটার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে এসব জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এ দুই জেলার প্রায় সাড়ে ৫০০ সমিতির ২৫ হাজার খামারি মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করেন।

আ স ম ফিরোজ বলেন, মিল্ক ভিটার দুধে যে পরিমাণ সিসা পাওয়া গেছে তা পানি থেকে গবাদি পশুর শরীরে যায়। আমরা এ বিষয়ে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করেছি।

shafi2.jpg

সরকার দেশে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিশেষ কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবের অনুমতি দিয়েছে। উদ্যোক্তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে জামানত ছা্ড়াই ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম হবে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি’। এর অপরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে পরিশোধিত মূলধন থাকবে ২০০ কোটি টাকা।

স্টার্টআপে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়তে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে।

‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি’ থেকে স্টার্টআপদেরকে মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে সিড স্টেজে সর্বোচ্চ ১ কোটি এবং গ্রোথ গাইডেড স্টার্টআপ রাঊন্ডে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে। এই ঋণ পেতে উদ্যোক্তাদের কোনো জামানত দিতে হবে না।

মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, উদ্যোক্তারা আইডিয়া দিয়েই এই কোম্পানি থেকে টাকা পাবেন। ব্যাংকের লোন পেতে যে মর্টগেজসহ কতকিছু লাগে এখানে তার কিছুই লাগবে না। এখানে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার কত হবে তা কোম্পানি কাজ শুরু করলে ঠিক করা হবে।

তিনি জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান হবে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব। পরিচালকের সংখ্যা হবে ৭ জন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা পর্ষদে থাকবেন।

remitance-20181002195821.jpg

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চলতি আগস্টের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।

বিপুল অঙ্কের এ রেমিট্যান্সের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে। বন্ধের দিনগুলো বাদ দিলেও আগস্ট মাস শেষ হতে আরো ১০ দিন বাকি। সবমিলিয়ে এমাসে ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স ছাড়ানোর প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারের মতো এবারও রেমিট্যান্স গ্রহণের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি ৯ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স পেয়েছে ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এছাড়া ১০ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ডলার। ডাচ-বাংলা ব্যাংক পেয়েছে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

এ সময় ৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। জনতা ব্যাংক পেয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার। সাউথইস্ট ব্যাংকের রেমিট্যান্সও প্রায় ৩ কোটি ডলার। এছাড়া সরকারি ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পেরেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহায় কোরবানি ছাড়াও, নানা কেনাকাটায় নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণায় প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। তাছাড়া ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহে আরো তৎপর হয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর শুরু হয় রেমিট্যান্স প্রবাহের সুখবর দিয়ে।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। রেমিট্যান্সের এ অঙ্ক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এর আগে রোজা ও ঈদ সামনে রেখে মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিটেন্সে আসে, যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার আগে ১ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স। বর্তমানে ১ কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে বেশ কয়েক মাস যাবৎ রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

chamra-2-20190818185327.jpg

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপি পশুর চামড়া কিনে ফেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে ৩০ ট্রাক চামড়া বিএনপি কিনে ফেলে দিয়েছে। বিএনপি এসব চামড়া কিনে স্টক করেছিল। তারপর সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সেগুলো ফেলে দিয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে যখন পারে না তখন চামড়াকে ধরেছে তারা।’

এ খাতে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ কেউ না নিতে পারে সেজন্য টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ট্যানারি মালিক, আড়ৎদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ১০ হাজারের মতো কোরবানি পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যা নগণ্য ব্যাপার। চামড়া নষ্ট হওয়ার তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে কিছু কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে জেলা থেকে যারা এসেছেন তারা জানিয়েছে। বিএনপি রাজনীতির কোনো কিছুতে না পেরে চামড়ায় বিনিয়োগ করেছে। এগুলো আমরা গুরুত্ব দেই না। আমরা এ বিষয়ে সচেতন। এখন কেউ চামড়া মাটিচাপা দিয়ে ও পুড়িয়ে ছবি দিলে আমাদের কিছু করার নেই।’

চামড়া রফতানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা অবস্থা বুঝে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ চামড়া শিল্পে আপাতত সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, একটি কুচক্রী মহল সরকারকে বিপদে ফেলতে চামড়া ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করেছে। ফলে চামড়ার বিশাল দরপতন হয়েছে। কোরবানিতে এক কোটি চামড়া হয়। এবার তার মধ্যে মাত্র ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর কিন্তু ৫ হাজার চামড়া এমনিতেই নষ্ট হয়। এবার মূলত বেশি গরমের জন্যই চামড়া বেশি নষ্ট হয়েছে। জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা এ কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, চামড়া আড়ৎদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত রয়েছেন।

gold.jpeg

আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে গত দেড় মাসে স্বর্ণের দাম বাড়ল পাঁচবার। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৮ দিনেই বাড়ল তিন দফা।

এবারও প্রতি ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ১৬৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

ফলে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। এর আগে ছিল ৫৫ হাজার ৬৯৫ টাকা।

রোববার (১৮ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর তথ্য জানিয়েছে বাজুস। সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে স্বর্ণের এ নতুন দর কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে দেশীয় বুলিয়ান মার্কেটে স্বর্ণের দাম বাড়ায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী, সোমবার থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণ ৪ হাজার ৮৭৫ টাকা করে বিক্রি করা হবে।

২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি করা হবে ৪ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পড়বে ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি গ্রাম বিক্রি করা হবে ৪ হাজার ২৪৫ টাকায়, এতে প্রতি ভরির দাম পড়বে ৪৯ হাজার ৫১৩ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি করা হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে, এতে প্রতি ভরির দাম পড়বে ২৯ হাজার ১৬০ টাকা। এর আগে সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২৭ হাজার ৯৯৩ টাকা।

স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও কিছুটা কমেছে রুপার দাম। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। এতে প্রতি ভরির দাম পড়বে ৯৩৩ টাকা। বর্তমানে প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা।

এর আগে গত ৭ আগস্ট বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় গত ৯ আগস্ট থেকে। ওই দাম বাড়ানোর ফলে আজ রোববার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫৫ হাজার ৬৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫৩ হাজার ৩৬২, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ৪৮ হাজার ৩৪৭, সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণ প্রতি ভরি ২৭ হাজার ৯৯৩ এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ১৬৬ টাকায় বিক্রি হয়।

গত ৫ আগস্টও আরেক দফা দাম বাড়ানো হয়। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫২ হাজার ১৯৬ এবং ১৮ ক্যারেট ৪৭ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম ২৭ হাজার ৯৯৩ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে গত এক দশকের মধ্যে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে বাজুস। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দফায় দফায় বাড়ানোর ঘোষণা এলো বাজুসের পক্ষ থেকে। চলতি মাসের আগে ২৩ ও ৩ জুলাই দুই দফা দাম বাড়ানো হয়।