বাণিজ্য/অর্থনীতি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

saki73.jpg

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট দেশের চলমান লুটপাটের ধারাকেই আরও উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

শুক্রবার (১৪ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জোনায়েদ সাকি বলেন, সংসদে প্রস্তাবিত নতুন এই বাজেটের নীতিকাঠামো এবং বরাদ্দ যেভাবে করা হয়েছে তা চলমান লুটপাটের ধারাকেই আরও উৎসাহিত করবে। এই বাজেট জনগণের স্বার্থ এবং চাওয়াকে পূরণ করতে পারবে না। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের যে বিভিন্ন রকমের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তাও মোকাবিলা করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, এই বাজেট হলো অর্থ লুটপাটকারী ও দুর্নীতিবাজদের বাজেট। মূলত লুটপাটের আরও সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই বাজেট তৈরি হয়েছে। বাজেটে ধনীদের আরও ধনী করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে ধনী-গরিবের বৈষম্য আরো বাড়বে। কেবল ক্ষমতাসীন, লুটপাটকারীরাই লাভবান হবেন। এই যে ধানের দাম না পেয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না। জনগণের বাজেট নয় বলেই এমনটি হয়েছে। লুটপাটের লক্ষ্যেই বাজেট তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে অপ্রদর্শিত আয় থেকে বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিলেই ওই বিনিয়োগে অর্থের উৎস সম্পর্কে আয়কর বিভাগ প্রশ্ন করবে না।

এ প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের বড় বড় মেগা প্রকল্প থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব প্রকল্পে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। কোথাও কারও কোনো জবাবদিহি নেই। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটাপাট হচ্ছে, ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এসব লুটপাটকারী যাতে তাদের অর্জিত কালো টাকা বৈধ করতে পারে, সে সুযোগও সরকার করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মেগা প্রকল্পে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে এখন থেকে এসব লুটপাটকারী তাদের কালো টাকা সহজেই সাদা করতে পারবেন।

শিক্ষাখাতে এবার মোট ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

এ প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রতিবছরই শিক্ষাখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব টাকা শিক্ষাখাতের উন্নয়নে কোনো কাজেই আসছে না। শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন হচ্ছে না।

budget4.jpg

সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের এই শ্লোগানে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করছেন।

বাজেট পেশের এক পর্যায়ে অসুস্থ্য অর্থমন্ত্রী বক্তৃতা দিতে অসুবিধা বোধ করায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পক্ষে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা, এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। কর বহির্ভুত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বিকেল ৩ টা ০৮ মিনিটে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি বলেন, জাতি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে, জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক দুর্লভ মুহূর্ত। সুখী, সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দিন বদলের সনদ রূপকল্প ২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন ‘ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতির কাছে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামোগত খাতে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ২৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মানব সম্পদ খাতে- শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা রয়েছে। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৩.৬৩ শতাংশ।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ ৩৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মো বরাদ্দের ৬৩৫ শতাংশ।সুদ পরিশোধ বাবদ ৫৭ হাজার ৭০ কোট টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০.৯১ শতাংশ। নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দোরে প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ০.২৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতার বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য:

— এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪৫ থেকে ২৪ জনে নেমে এসেছে

—মাতৃমৃত্যুর হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে) ১ দশমিক ৭২ জনে নেমে নেমে এসেছে

— মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ২০০৬ সালের ৪৬টি থেকে বেড়ে ১১১টি হয়েছে

— মানুষের গড় আয়ু ২০০৬ সালের ৬৫ বছর থেকে বর্তমানে ৭২ দশমিক ৮ বছর হয়েছে

— ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে

—বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮০টি থেকে ১৪৮টি হয়েছে

— দেশে হাইটেক পার্কের সংখ্যা ২৮টি

—২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৪৩ ডলার থেকে সাড়ে ৩ গুণ বেড়ে ১,৯০৯ ডলার হয়েছে

—জাপানের সম্রাট মেইজির মতো প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার ঘোষণা

—সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে

— দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি’ পাইলট আকারে চলমান

—ক্যানসার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সাভারে ৩টি আধুনিক ল্যাবরেটরিজ নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিকস ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে

—বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

—২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটবে

—যুবকদের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসা উদ্যোগ (স্টার্ট আপ) সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে

—পরিবহন খাতে ১ লাখ দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম চলমান

—মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পদে ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন এমন পদে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি

—৪ হাজার ৮০৮টি পোশাক কারখানার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে

—২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন কারখানা প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৭০৬টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে

—জাতীয় মহাসড়কে ১২১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে

—নদীভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

—দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত

—চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ফসলের ১৫টি নতুন জাত ও ১০টি জলবায়ুসহনশীল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে

—২০১৯-২০ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অতিরিক্ত ৫০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব

—২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ০ শতাংশ থেকে ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে

—নারী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা

—কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে নিয়োগ দিলে সে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় করের ৫ শতাংশ কর রেয়াত প্রদানের প্রস্তাব

—নারী উদ্যোক্তা পরিচালিত ব্যবসার শোরুমের ওপর মূসক অব্যাহতি

—বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং এরেস্টারের ওপর বিদ্যমান আমদানি মূসক ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতি প্রদান করেন।

bank-20190613205725.jpg

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ লাখ ৩৮০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু তার অসুস্থতার কারণে পরে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেটের অর্থবিলে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব করেন।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ নাম দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন মুস্তফা কামাল।

এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করবে সরকার। এরমধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনার কথা নতুন বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ২৮ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণ নেবে ১৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে অর্থমন্ত্রী।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। আর স্বল্পমেয়াদি প্রকৃত ঋণ ১৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

এরপর বেলা ৪টা ৪১ মিনিটে ‘প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপিত হলো’ মর্মে ঘোষণা দেন স্পিকার।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

এর আগে মন্ত্রিসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে দুপুর ১টার একটু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

budget5.jpg

অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আ হ ম মুস্তফা কামালের দেয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাটের পরিধি যেমন ব্যাপক হারে বিস্তৃত করা হয়েছে, তেমনি নিত্য ব্যবহার্য কিছু পণ্যের ভ্যাট হার কমানো ও কিছুক্ষেত্রে বিভিন্ন শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে-

ক্যানসার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত উপকরণের শুল্ক কমানো হয়েছে।

পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরি কেক প্রতি কেজি ১৫০ টাকা পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং এসব পণ্যের দাম কমবে। দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেলেরও দাম কমবে।

এ ছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার অপারেটেড সিডার, কম্বাইন্ড হারভেস্টর, লোরোটারি টিলার, লিস্ট পাম্পের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে এসব পণ্যেরও দাম কমবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন হয়। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বরাবরের মতো বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকেল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভবপর না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন।

বেলা ৪টা ৪১ মিনিটে ‘প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপিত হলো’ মর্মে ঘোষণা দেন স্পিকার।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

এর আগে মন্ত্রিসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে দুপুর ১টার একটু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

budget-1906130618.jpg

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আ হ ম মুস্তফা কামালের দেয়া এ বাজেটে ভ্যাটের পরিধি যেমন ব্যাপক হারে বিস্তৃত করা হয়েছে, তেমনি নিত্য ব্যবহার্য কিছু পণ্যের ভ্যাট হারও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে সব ধরনের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম বাড়তে পারে। একই কারণে বাড়তে পারে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ। রড উৎপাদন ও বিপণনে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করায় বাড়ি করার খরচ বাড়তে পারে।

উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ মূল্যের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করায় এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, গুঁড়া মসলা, টমেটো কেচাপ, চাটনি, ফলের জুস, টয়লেট টিস্যু, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেমের দাম বাড়তে পারে।

একই কারণে দাম বাড়তে পারে প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী, সিআর কয়েল, জিআই ওয়্যার, তারকাঁটা, স্ক্রু, অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসনসহ গৃহস্থালি সামগ্রী, ব্লেড, ট্রান্সফরমার, সানগ্লাস, রিডিং গ্লাসের।

স্বর্ণ ও রুপার জুয়েলারি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, লঞ্চের এসি কেবিন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইনডেনটিং, আসবাবপত্র, পরিবহন ঠিকাদার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর ভ্যাট দেয়ার প্রস্তাব করায় এসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের খরচ বাড়তে পারে।

পোশাকের মূল্যের ওপর আড়াই শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে জামা-কাপড়ের দাম বাড়তে পারে। জামা-কাপড় কেনার পাশাপাশি তৈরি করতেও খরচ বাড়তে পারে। কারণ জামা-কাপড় তৈরির ওপর ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।

হেলিকপ্টারের সেবা মূল্যের ওপর ভ্যাটের পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। ফলে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে পারে।

যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব ধরনের পরিবহন রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট নবায়ন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ নিতে এবং নবায়ন করতে বিআরটিএ নির্ধারিত সেবামূল্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপের কারণে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়তে পারে। র সুগার ও রিফাইন সুগারের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়ছে, যা আগে ছিল ২০ শতাংশ। ফলে চিনির দামও বাড়তে পারে।

gold-20190613165619.jpg

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে স্বর্ণ আমদানি শুল্কহার প্রতি ভরিতে এক হাজার টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব পাস হলে স্বর্ণ আমদানির খরচ কমবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু তার অসুস্থতার কারণে বাজেটের বাকি অংশ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মন্ত্রিসভায় বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়। পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ আমদানি শুল্ক এক হাজার টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর প্রতি ভরি স্বর্ণ আমদানি করতে তিন হাজার টাকা লাগতো। এখন এক হাজার টাকা কমিয়ে দুই হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাগেজ রুলসের বিদ্যমান শর্ত অনুযায়ী, অবশ্যই যাত্রীদের বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড হতে হবে। একজন যাত্রী একসঙ্গে ১২টির বেশি স্বর্ণের বার আনতে পারবেন না।

বর্তমানে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণের গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারেন। এ ছাড়া শুল্ক দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম বা ২০ ভরি ওজনের স্বর্ণের বার আনতে পারেন। এই শর্ত অপরিবর্তিত রেখে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থখরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি যতটুকু পড়তে পেরেছি বাকিটুকু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। উনি পড়ে দেবেন।’

পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতিক্রমে বাজেট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি তার প্রথম বাজেট।

এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

internet-speed-test.jpg

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বাজেট বক্তৃতা উত্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পৌনে এক ঘণ্টা পর বাজেট বক্তৃতার বাকি অংশ উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

নতুন বাজেটে মোবাইলে কথা বলার পাশাপাশি এসএমএস ও ইন্টারনেট ব্যবহারেও ব্যয় বাড়বে। এ বাজেট পাস হলে গ্রাহক পর্যায়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সরাসরি কর দিতে হবে ২৭ শতাংশ।

এর ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) আদান-প্রদান ও এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় বেড়ে যাবে।

এতে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী গরিব মানুষেরও ব্যয় বেড়ে যাবে।

বর্তমানে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ছাড়া বাকি সব সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং আরও ১ শতাংশ সারচার্জ রয়েছে। এতে করে গ্রাহক পর্যায়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সরাসরি কর রয়েছে ২২ শতাংশ।

তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে ৫ শতাংশ কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বাজেট পাস হলে গ্রাহক পর্যায়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সরাসরি কর দিতে হবে ২৭ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার কিছু সময় পর জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার স্মার্টফোন সেটের সম্পূরক শুল্ক বিদ্যামান ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অন্যান্য (ফিচার) ফোন সেটের সম্পূরক শুল্ক একই অর্থাৎ ১০ শতাংশ রয়েছে।

এদিকে মোবাইল ফোনের সিম/রিম কার্ডের সম্পূরক শুল্ক বিদ্যামান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া মোবাইল ফোনের ট্রানজিস্টরের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ, ক্রিস্টাল ডায়োডস ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ, চার্জার কানেক্টর পিন ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ, সিম স্লট ইজেক্টর পিন ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশে এখন মোবাইল ফোনের সচল সিম রয়েছে প্রায় ১৬ কোটি। অর্থাৎ ১৬ কোটি মোবাইলের সিম ব্যবহারকারীর এ ব্যয় বাড়বে। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৯ কোটি সিমে।

ciger3.jpg

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবার নিয়ে ২১তম বাজেট ঘোষণা করছে স্বাধীনতা নেতৃত্বদানকারী দলটি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এটা ১৭তম বাজেট।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক এ বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধূমপায়ীদের ওপর ভ্যাটের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন থেকে উচ্চমানের প্রতিটি সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। বিড়ির দাম ও এর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক দুটোই বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ধূমপানবিরোধী রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান, তামাকজাত পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় এর ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ফিল্টারবিহীন হাতে তৈরি ৮, ১২ ও ২৫ শলাকার প্রতি প্যাকেট বিড়ির দাম যথাক্রমে বাড়ানো হয়েছে ৪৮ পয়সা, ৭২ পয়সা ও দেড় টাকা। এগুলোর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিল্টারযুক্ত ১০ ও ২০ শলাকার বিড়ির দাম যথাক্রমে এক ও দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। এগুলোর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে আরো ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন জর্দা ও গুলের দামও বাড়বে।

অর্থাৎ আগামী বছর নিম্নতম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৭ টাকা। সেখানে সম্পূরক শুল্ক ধরা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য হবে ৬৩ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক হবে ৬৫ শতাংশ। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য হবে ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা।

এখানে সম্পূরক শুল্ক হবে ৬৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী নিম্নতম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ।

মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৪৮ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৭৫ ও ১০৫ টাকা। এখানে সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ।

ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়িতে সম্পূরক শুল্ক হার আগের মতোই যথাক্রমে ৩৫ ও ৪০ শতাংশ থাকবে। বিড়ির ট্যারিফ মূল্য উঠিয়ে দেয়া হবে।

ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৪ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয় বাজেটে। এর মধ্যে করও যুক্ত থাকবে। এই দাম ১ জুন থেকেই কার্যকর করা হবে।

তাই এর ব্যবহার কমানোর জন্য প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও প্রতি ১০ গ্রামগুলোর দাম ১৫ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটোরই সম্পূরক শুল্ক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

Bike-2.jpg

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বাজেট বক্তৃতা উত্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পৌনে এক ঘণ্টা পর বাজেট বক্তৃতার বাকি অংশ উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হলে দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের দাম কমবে। বাড়বে আমদানিকৃত বিদেশি মোটরসাইকেলের দাম।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছর হতে শর্তসাপেক্ষে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এ খাতে প্রদত্ত প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এর পার্টস উৎপাদনে তিনটি উপকরণের শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করছি।

বাজেটে দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্প বিকাশে প্রস্তাব করা হলেও বাড়ছে দেশীয় টায়ার-টিউব শিল্পের বোঝা। অর্থমন্ত্রীর বাজেটে বলা হয়েছে, দেশীয় টায়ার টিউব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষণে ১৬ ইঞ্চি রিম সাইজ এলসিভি টায়ার, মোটরসাইকেল টায়ার এবং সিএনজি বেবি ট্যাক্সি, হালকা যানবাহনে ব্যবহৃত রাবার টিউব এর উপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫% পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হলো। ফলে দেশি টায়ার-টিউবের দাম বাড়ছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব ধরনের পরিবহন রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট নবায়ন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ নিতে এবং নবায়ন করতে বিআরটিএ নির্ধারিত সেবামূল্যের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে এসব কারণে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়বে।

বাজেটে হেলিকপ্টারের সেবামূল্যের ওপর ভ্যাটের পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে পারে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করছেন। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ বড়। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে।

AHM-Mustafa-Kamal-2.jpg

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের বার্ষিক অর্ধকোটি টাকার বেশি টার্নওভার হলে ভ্যাট দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) আওতার বাইরে রাখতে ৫০ লাখের নিচে টার্নওভার থাকলে তাঁদের কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। ভ্যাটের হার ৬ স্তর করা হয়েছে। ২, ২.৪, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা সংসদে উত্থাপন করা হয়।

ভ্যাটের ব্যাপারে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আহরিত রাজস্বের মধ্যে মূসকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সরকারের নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি, সম্মানিত করদাতা ও ভোক্তাদের কর দিতে ইতিবাচক মনোভাব এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় এ খাতে রাজস্ব বেড়েছে।

এতে বলা হয়, ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে করভার কমাতে জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার আগের মতোই ২ দশমিক ৪ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এছাড়া, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের বাইরে রাখতে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতি, বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএমই) খাতকে উৎসাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভ্যাট নিবন্ধন সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিদ্যামান ভ্যাট আইনে পরিবর্তনও আনা হয়েছে। এই আইনের তিনটি তফসিলে মধ্যে প্রথমটিতে ছিল পণ্যের অব্যাহতি, দ্বিতীয়টিতে সেবার অব্যাহতি ও তৃতীয়টিতে সম্পুরক শুল্ক হার। পরিবর্তিত আইনে প্রথম তফসিলে পণ্য ও সেবার অব্যাহতি, দ্বিতীয়টিতে সম্পূরক শুল্ক হার এবং তৃতীয়টিতে পণ্য ও সেবার হ্রাসকৃত/নির্ধারিত মূসক হার ও পরিমাণ।

অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পুরক শুল্ক আইন, ২০১২ আইনটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি সনদ গ্রহণ, রিটার্ণ দাখিল, কর পরিশোধ, রিফান্ড ও প্রত্যার্পণ সমন্বয় ইত্যাদি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদনের সুযোগ, পন্য সরবরাহের আগে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতির বদলে বিনিময় বা ন্যায্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের আইনে পণ্য সরবরাহের আগেই কর ‘হিসাব চলতি’ নামক হিসেবে জমা রাখার বিধান পরিবর্তন করে মাস শেষে দাখিলপত্রের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যাবে।