বাণিজ্য/অর্থনীতি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

g20-223410.jpg

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশাল ধাক্কা খেয়েছে জি২০ ভুক্ত উন্নত দেশগুলো।

এ সময় এ জোটের অর্থনীতির জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে ১.৫ শতাংশ। ২০১৯ সালের প্রথম প্রাপ্তিকে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৮ শতাংশ।

দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-ওইসিডি শনিবার (১১ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ওইসিডি, ৩৭ সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত আন্তদেশীয় অর্থনৈতিক সংস্থা।

ওইসিডি বলছে, ২২ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের পর জি২০ ভুক্ত অর্থনীতিতে এটিই সবচেয়ে বড় আকারের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

১৯৯৮ সালে প্রবৃদ্ধি পড়ে গিয়েছিল ৩.৪ শতাংশ। আর ২০০৯ সালের বিশ্বমন্দাকালে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ১.৫ শতাংশ।

ওইসিডির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপাী লকডাউন কার্যকর করার কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।

এতে দেখা যায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ (৯.৮), ফ্রান্স আর ইতালির কমেছে ৫.৩ শতাংশ করে।

বাজেভাবে কমেছে জার্মানি (-২.২%), কানাডা (-২.১%) আর যুক্তরাজ্যের (-২.০%) জিডিপি প্রবৃদ্ধিও। বেশখানিকটা সংকুচিত হয়েছে ব্রাজিল (-১.৫%), যুক্তরাষ্ট্র (-১.৩%), কোরিয়া (-১.৩%) এবং মেক্সিকোর (-১.২%) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

কম হলেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেতিবাচক ধাক্কা লেগেছে ইন্দোনেশিয়ায় (-০.৭%), জাপানে (-০.৬%), অস্ট্রেলিয়ায় (-০.৩%)।

তবে এ সময়ে জি২০ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে শুধু ভারত (০.৭%) ও তুরস্ক (০.৬%)।

mossa.jpg

কোরবানির ঈদ ঘিরে রাজধানীতে চড়া হচ্ছে মসলার বাজার। সপ্তাহ খানেক আগে দাম কমলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে আবার বাড়তে শুরু করেছে দাম।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি এলাচ মানভেদে ১০০-২০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪২০০ টাকা।

এছাড়া কেজিতে লবঙ্গ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে আদা বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা।

আর প্রতি কেজি দারুচিনি ৩০-৫০ বেড়ে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের অ্যারাইট স্টোরের স্বত্বাধিকারী ও মসলা আমদানীকারক আবদুল মতিন বলেন, ‘ঈদ খুব নিকটবর্তী, যে কারণে জেলা-উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীদের অর্ডার বেড়ে গেছে। সেইজন্য স্টকে মাল কমে গেছে বলে দাম কিছুটা বেড়েছে।’

মালিবাগের মার্জিয়া স্টোরের বিক্রেতা খুরশেদ আলম বলেন, ‘গরম মসলার পাইকারি দাম বেড়েছে।

এলাচি ৪০০-৫০০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। আর দারুচিনি ও লবঙ্গের দাম বেড়েছে। জিরার দাম বাড়েনি।’

Bangladesh_Bank_sm_293574299.jpg

বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৯-২০) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

ঋণের এ অংক আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) চেয়ে ১০৯ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে নাজুক অবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে গেছে।

এর মধ্যে অর্থবছরের শেষের দিকে করোনাভাইরাসের প্রবল আঘাত অর্থনীতির সব হিসাব ওলটপালট করে দেয়।

ফলে আর্থিক সংকটে পড়ে সরকার। এসব কারণেই সরকারের ব্যাংক ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

জানা গেছে, অর্থবছরের শেষ ৩ মাসে (এপ্রিল-জুন) আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের মতো ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ।

তারপরও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছর ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতির কারণে গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি ভালো ছিল না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাজস্ব আদায় কমেছে ব্যাপক হারে।

এ অবস্থায় ৪৫ বছর পর রাজস্ব আয় আগের অর্থবছরের চেয়ে কম হয়েছে এবার।

গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আয় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম।

এপ্রিল থেকে জুন- এ ৩ মাসে বিশ্বব্যাংক ১৬০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশকে। এডিবি দিয়েছে ৬০ কোটি ২৮ লাখ ডলার।

নানা শর্তের কারণে আইএমএফের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন।

সেই আইএমএফের কাছ থেকেও মাত্র ১ মাসের দর কষাকষিতে ৭৩ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা মিলেছে।

চীনের নেতৃত্বে গঠিত এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এপ্রিলে ১৭ কোটি ডলার দিয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরা ছিল।

তবে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রচুর ঋণ পাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে তেমন ঋণ নেয়নি।

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৬ থেকে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ পায়। অথচ সঞ্চয়পত্রে গুনতে হয় ১১ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তবে গত কয়েক বছরে প্রচুর সঞ্চয়পত্র বিক্রির ফলে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়ে গেছে।

বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে।

সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা।

সুদ কমাতে সঞ্চয়পত্র কেনার সীমা কমিয়ে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও টিআইএন বাধ্যতামূলক করাসহ নানা উপায়ে বিক্রি নিরুৎসাহিত করছে সরকার।

নতুন বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা।

তবে বিক্রি পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা করা হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ১০ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে।

elish4d.jpg

করোনা পরিস্থিতিতে কয়েকমাস যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নদীতে দূষণ কম হয়েছে বলে এবারের ইলিশ সুস্বাদু হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া, এবার নদীর পানি বৃদ্ধি ও অধিক বৃষ্টির কারণে ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে বলে জানা গেছে।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটে কর্মরত ইলিশ গবেষক ড. মো আনিসুর রহমানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ড. মো আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের মৌসুম সামনে (আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে) আসছে। এবারের ইলিশ হবে সুস্বাদু।

কারণ আমরা নদীর পানি পরীক্ষা করে দেখেছি এবার করোনার কারণে দীর্ঘসময় লকডাউনের ফলে নদীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর পানির দূষন কমে গেছে। তাই ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বিচরণ করতে পেরেছে অনায়াসে, নির্ভয়ে।

তিনি বলেন, মাছের খাদ্য আহরণের জন্য নদীর অবস্থা বেশ ‘কনজেনিয়েল কনডিশন’ ছিল বিধায় এবারের ইলিশ হবে বেশি সুস্বাদু, বেশি স্বাদের।

এদিকে, চাঁদপুরের বৃহত্তম মাছ ঘাট বড় রেল স্টেশনের মাছ ঘাটে ইলিশের আমদানি বাড়লেও শহর ও শহরতলির হাট বাজারের খুচরা বিক্রিতে দাম কমছে না।

জেলা শহরের বড় স্টেশন মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মাছের ট্রলার ও সাত-আটটি ট্রাক, মিনি ট্রাক ও পিকআপ বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোলা, হাতিয়া, চর আলেকজান্ডার, চর ফেশন, লক্ষীপুরের কমলনগর, চাঁদপুরের হাইমচরের চর ভৈরবী এলাকা থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে এসেছে। আবার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইলিশ মাছ লোডিং হচ্ছে ট্রাকে, মিনি ট্রাকে বা পিকআপে।

মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক মাল জানান, কয়েকদিন থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা থেকে এ ঘাটে ট্রলার, ট্রাক ও মিনি ট্রাকযোগে প্রচুর ইলিশ মাছ আসছে।

প্রতিদিনই দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ মাছ আমদানি হয় এ মাছ ঘাটে।মাছের ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বকাউল জানান, এখান থেকে মাছ ট্রাক ও মিনি ট্রাকযোগে ঢাকার কারওয়ান বাজার, আজমপুর, বাইপাইল, পূবাইল, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শায়েস্তাগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে এলাকায় রপ্তানি হয়। তাই মাছ ঘাট সংলগ্ন বরফ কল-ফ্যাক্টরিগুলো ব্যস্ত।

ঘাটের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দনি সরদার ও মানিক বলেন, ‘আমরা এখান থেকে পাইকারি দরে মাছ কিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি।’

জেলা শহরের মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০-৮০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ কেজি প্রতি ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

bb5.jpg

কোরবানির ঈদে ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে চামড়া কিনতে পারে সে জন্য ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্যও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হয়।

৫ জুলাই আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ প্রবাহ সচল রাখার উদ্দেশ্যে এ খাতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৮ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। সচল এবং প্রকৃত কারণে ক্ষতিগ্রস্তরাই এ সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া সুবিধাভোগীরা নতুন ঋণের আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

এ সার্কুলারে উল্লেখিত চামড়া ব্যবসায়ী বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি স্পষ্ট করতে নতুন সার্কুলার জারি করল কেন্দ্রীয় বাংক।

এতে বলা হয়েছে, আগের সাকুর্লারে উল্লেখিত ‘চামড়া ব্যবসায়ী’ বলতে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকে বোঝাবে।

nbrc.jpg

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)’র সদ্য সমাপ্ত (২০১৯-২০) অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।

বিশাল এ ঘাটতির পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক। অর্থাৎ ২০১৮-১৯ বছরের সমপরিমাণ রাজস্বও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আহরণ করতে পারেনি রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

গেল অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা।

যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

হিসেব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

তথ্য মতে, রাজস্ব আয়ের তিন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ভ্যাট থেকে।

গত অর্থবছরে মোট ভ্যাট আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এরপরে বেশি আদায় হয়েছে আয়কর থেকে।

আয়কর থেকে মোট আদায় হয়েছে ৭৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া কাস্টম থেকে আদায় হয়েছে ৬০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৮৭ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। আয়কর আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

আর শুল্ক আদায় হয়েছিল ৬৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এটি সাময়িক হিসাব। এ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

এতে খাতভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একবার ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

ওই সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজস্ব আয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

এর পরবর্তী বছরগুলোতে রাজস্ব আয় বাড়লেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়নি।

মূলত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ায় রাজস্ব আহরণে ধস নেমেছে।

সাধারণত অর্থবছরের শেষ সময়ে বিশেষ করে মে ও জুনে রাজস্ব আদায় বাড়ে।

goldd4.jpg

বিশ্ববাজারে আট বছরে সর্বোচ্চ বেড়েছে স্বর্ণের দাম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বর্ণের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতেও এদিন কিছুটা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। তবে কমেছে রুপার দাম। খবর এই সময়ের।

মালটি কমোডিটি ইনডেক্সের হিসাব বলছে, মঙ্গলবার ০.১৩% অর্থাৎ‌ ৬৫ রুপি বেড়েছে স্বর্ণের দাম।

এর ফলে এদিন সকালে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৮,৩৯০ রুপি। রুপার দাম ০.০৭% কমে কেজিপ্রতি হয়েছে ৪৯,৭৫৬ রুপি।

ভারতে সপ্তাহের প্রথমদিন সোমবার থেকেই বিশ্ববাজারের তুলনায় নিচের দিকেই রয়েছে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম।

বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপ ও ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আট বছরে সর্বাধিক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্পট গোল্ড প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি আউন্সের দর এদিন ১,৭৮৩.৬৭ মার্কিন ডলার।

ভারতে মোট প্রয়োজনের অধিকাংশ সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

ফলে বিশ্ববাজারের দামের ওঠাপড়া স্থানীয় বাজারে এর মূল্য নির্ধারণে নির্ধারক ভূমিকা নেয়।

এর সঙ্গে আছে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের মুদ্রার মূল্য, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপানো আমদানি শুল্ক এবং অন্যান্য করের মতো বিষয়ও।

এর মধ্যে দেশের মধ্যে এক একটি রাজ্যে সোনার উপরে করের হার এক-এক রকম। ফলে রাজ্যে রাজ্যে সোনা ও রুপোর দাম বদলে যায়।

rice22.jpg

শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মিল মালিকরা চুক্তিমূল্যে চাল সরবরাহ না করায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে উদ্ধৃত করে আজ মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে আমদানি শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে।’

চলতি বছর সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিকটন বোরো ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার।

সে অনুযায়ী, ৩৬ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজিতে দেড় লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজিতে আট লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান কেনার কথা ছিল।

কিন্তু এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার হলেও মিল মালিকরা চুক্তিমূল্যে সরকারকে চাল সরবরাহ করছিলেন না।

চালকল মালিকরা সরকারকে চাল না দিলে প্রয়োজনে আমদানি করা হবে বলে বেশ কিছুদিন ধরেই হুঁশিয়ার করে আসছিলেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কিছু মিল মালিক ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করতে গরিমসি করে সরকারের কাছে চালের দাম বাড়ানোর দাবি তোলেন।

অনেক মিল মালিক এখন চুক্তিমূল্যে চাল না দেওয়ায় মজুদের লক্ষ্য পূরণ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার।

এরপরই বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

mudra.jpg

সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪৮ ভাগ।

এছাড়া মাসিক হিসেবে গত মে মাসের তুলনায় জুনে মূলস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

মে মাসে সাধারণ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ যেটা জুন মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

সোমবার অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মে মাসের তুলনায় জুনে শূন্য দশিক ৬৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এর মূল কারণ হচ্ছে হঠাৎ বন্যা। এ কারণে ফসল; বিশেষ করে সবজির ক্ষতি হয়েছে।

তাছাড়া এমনিতেই আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে অতিবৃষ্টির কারণে এ সময়টাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে যায়।

তবে আমরা আশা করছি, বন্যার পানি নেমে গেলে দ্রুত রাস্তা-ঘাট সংস্কার হবে; তখন সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হবে। ফলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এর তথ্যে দেখা গেছে মে মাসের মাসের তুলনায় জুন মাসে মাছ, শাক-সবজি; বিশেষ করে আলু, বেগুন, শিম, কুমড়া, গাঁজর, শসা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধকপি, লাল শাক ও মূলার দাম বেড়েছে।

ফল জাতীয় পণ্যের মূল্যও বাড়তি। মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

ফলে জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, অথচ মে মাসে এই হার ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বিবিএস’র তথ্যানুযায়ী, বছরওয়ারি পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে মে-তে ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ-মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফল, তামাক, দুধজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর দাম বাড়তি।

এছাড়া মাসওয়ারি ডিম, শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় পণ্যের দামও বেড়েছে।

এদিকে জুন মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। মে মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থলী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবাখাতের মূল্যস্ফীতির হার কমেছে।

riceb.jpg

রাজধানীতে পাইকারি পর্যায়ে কিছুটা কমেছে সবধরণের চালের দাম।

মোহাম্মদপুর পাইকারি চালের আড়তগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটাশ আর নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

যদিও, বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট চাল।

গেল সপ্তাহে ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, প্রতি কেজিতে এক টাকা কমে নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়, মিনিকেটের বাজারদর ৫০ টাকা।

পাইকারি পর্যায়ে দাম আরো কমবে বলে আশা করছেন আড়তদাররা।