বিশেষ সংবাদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

miyanmae9.jpg

মিয়ানমার বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ফের নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে মানচিত্রে দেখিয়েছে। প্রতিবাদে মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে দেওয়া হয়েছে কূটনৈতিক চিঠি। এ ঘটনায় মিয়ানমারও ভুল স্বীকার করে জানিয়েছে, এ ভুল আর কখনও হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং কোয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে হাজির হলে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর মহাপরিচালক এসব তথ্য জানান।

এর আগেও বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নিজেদের বলে আবারও দাবি করেছিল মিয়ানমার। গত বছরও তারা এমন দাবি করেছিল। তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে তারা সেই দাবি থেকে সরে আসে।

এর আগে, মিয়ানমারের সরকারি একটি ওয়েবসাইটে ফের সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করায় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন। তবে রাষ্ট্রদূত ঢাকার বাইরে থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হতে বলা হয় মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং খোয়া’কে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হন। এসময় মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের কাছে ঢাকার পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সেন্টমার্টিন ইস্যুতে মিয়ানমার কেন বারবার ভুল করছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় কূটনৈতিক ওই চিঠিতে।

পরে মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বের হন অং খোয়া। এসময় তার কাছে সাক্ষাতের বিষয়বস্তু ও সেন্টমার্টিন ইস্যুতে মিয়ানমারের বক্তব্য জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। অং খোয়া বলেন, তিনি ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত নন, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন। সে কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখানোর ঘটনায় মিয়ানমার ভুল স্বীকার করেছে। এ কারণেই তাকে (অং খোয়া) তলব করা হয়েছিল। তিনি এখানে থাকা অবস্থাতেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন। বলেছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন। আর মানচিত্রের এই ভুলটি যত দ্রুতসম্ভব ঠিক করা হবে। তারা এই ইস্যুতে আর কখনও এমন ভুল করবে না।

web-pm-hasina-parliament-focus-bangla-13-02-2019-1550065249106.jpg

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছেন বলে অভিমানে তাঁরা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে হয়, তাঁরা একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই জনগণ ভোট দিয়েছে। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে, যাঁরাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁরা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যাঁর যা কথা সেটা বলবেন।’ বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নটি করেছিলেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে আসলে তাঁদের (বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী এমপিরা) যদি কোনো কথা থাকে, তাঁরা তা বলার একটা সুযোগ পাবেন। আর এই সুযোগটা শুধু পার্লামেন্টে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মিডিয়াতে সম্পূর্ণভাবে অধিবেশন সরাসরি দেখানো হয় এবং সংসদ টিভিও আছে। এর মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ তাঁদের কথা জানতে পারবে। এই সুযোগটা তাঁরা কেন হারাচ্ছেন আমি জানি না।’

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করতে চেয়েছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে।’

মো. ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি, গ্রামের কাদামাটি মেখেই বড় হয়েছি। খালে ঝাঁপ দিয়ে, গাছে উঠে নানাভাবে খেলাধুলা করেই গ্রামে বড় হয়েছি, হয়তো একটা পর্যায়ে ঢাকায় চলে এসেছি। সব সময় আমার একটা আকাঙ্ক্ষা, যখনই অবসর নেব তখন গ্রামের বাড়িতে থাকব।’ সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যুবকদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

 

valentines-day.jpg

রাজধানীর শাহবাগের বাতাসে মৌ মৌ করছে দৃষ্টিনন্দন রঙিন ফুলের সৌরভ। বুধবার ছিল ১ ফাগ্লুন, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দুই বিশেষ দিনে নিজেদের রাঙাতে কতোই না আয়োজনের কথা ভাবেন যুগলরা।

ভালোবাসা শব্দটি অল্প পরিসরের হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক। প্রিয় মানুষকে শুধু ভালোবাসি বলেই অনেক না বলা মনের অনুভূতি অবলীলায় প্রকাশ করা যায়। হৃদয়স্পর্শী এই শব্দটিও তাই হয়তো রক্তরাঙ্গা লাল রঙ্গের আভায় সেজে উঠে তাকে ব্যক্ত করতে। খুব কাছের মানুষটিকে ভালোবাসি বলতে কোনো নির্দিষ্ট দিন কিংবা ক্ষণের প্রয়োজন পরে না। তবে ভালোবাসার মানুষটিকে একটু বেশি আলাদাভাবে তার উপস্থিতি জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা প্রকাশের দিনটিকে উদযাপন করতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব। তাই তো আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আয়োজনের কোনো কমতি নেই। প্রতি বছরের মতো এবারো নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

তবে কোন দেশে কিভাবে ভালোবাসা দিবস পালিত হয় তা নিয়ে আজকের আয়োজন-

বাংলাদেশ : বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালিত হচ্ছে নব্বইয়ের দশক থেকে। এখানে ফুল, কার্ড এবং বিভিন্ন ধরনের গিফট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এই দিনটিতে কেন্দ্র করে ফুল এবং গিফটের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। অন্যান্য দিবসগুলোর মতো ভ্যালেন্টাইন্স ডে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস বয়ে আনে। ছুটির দিন না থাকলেও এই দিনে সবখানেই বিশেষ আয়োজন থাকে। অনেকেই প্রিয়জনকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেয়।

এ আয়োজনকে আরও রাঙিয়ে দিতে শাহবাগের ফুলের বাজারে নানান রংয়ের দৃষ্টিনন্দন ফুলের ঘটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে নগরবাসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব। জাতীয় বসন্তবরণ উদযাপন পরিষদ এ আয়োজন করেছে। উৎসবকে ঘিরে নানা বয়সের মানুষের ভিড় করেছে বকুলতলায়।

ধ্রুপদী সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। একক আবৃত্তি ও একক সংগীতের মধ্য দিয়ে চলে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। এছাড়া, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে দলীয় নৃত্য ও আদিবাসীদের নাচ ছিল। এছাড়াও একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলায়েত হোসেন ও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি। দলীয় পরিবেশনায় থাকছে সুরতীর্থ, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ ও বাফা’র নানা পরিবেশনা।

আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানজার আহমেদ সুইট জানান, বকুলতলায় সকাল ৭টা থেকে সকাল ১০টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বসন্ত উৎসব চলবে। ২৪ বছর ধরে আমরা এই আয়োজন করে আসছি।

বকুলতলা ছাড়াও পুরনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর ও উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠান চলে।

বাঙালি সবসময়ই উৎসবপ্রেমী। তাই এই বিশেষ দিনকে সামনে রেখে বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফুলের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। ফুলময় শাহবাগে ফুল সংগ্রহে আসছেন ক্রেতারা। সেসব ফুলেই সৌরভ ছড়িয়েছে শাহবাগে। কিনছেন নানান ফুল, তবে চড়া দাম দেখে ক্রেতারা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলছেন, ‘শাহবাগে ফুলের বাজারে লেগেছে আগুন’।

প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা জানাতে সুনীল তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছিলেন ১০৮টা নীলপদ্ম কিন্তু বর্তমান সময়ে ভালোবাসা দিবসে নীলপদ্ম পাওয়া না গেলেও দৃষ্টিনন্দন নানা ফুলের সমাহার চোখে পড়ছে শাহবাগে। ফাগ্লুনের শুভেচ্ছা জানাতে ফুল সংগ্রহে জমজমাট এখন শাহবাগের এই বাজার। এ ছাড়া আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষেও চলে ফুল বেচাকেনা। দিবস দুটিকে কেন্দ্র করে কয়েকগুন বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা।

দেশে দেশে ভালোবাসা দিবস

কানাডা : কানাডায় ভালোবাসার বিশেষ দিনটি বেশ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। সারা দেশে বল ড্যান্স এবং পার্টি থাকে। এদিন স্বামী-স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে, প্রিয়জন-প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা জানায়। গোলাপের প্রাধান্যই এখানে বেশি থাকে। এরপর চকোলেট, কার্ড, গিফট তো আছেই।

অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ায় অনেকটা একই ধাঁচে উপহারের আদান-প্রদান হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ছেলেরা ভালোবাসার ক্ষেত্রে মেয়েদের চেয়ে অনেক বেশি উদার। এ দিন উপলক্ষেও ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি উপহার কেনেন।

আমেরিকা : ১৯ শতাব্দীতে আমেরিকায় প্রথম ভালোবাসা দিবস ধারণাটির জন্ম হয়। ১৮৪৭ সালে পুরো দেশে ভালোবাসা দিবস পালিত হয়। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কার্ড এবং গোলাপই ছিল ভ্যালেন্টাইন্স ডের মূল উপহার। ১৯৮০ সালের দিকে ডায়মন্ড কোম্পানিগুলো ভ্যালেন্টাইন্স ডে প্রমোট করা শুরু করে। সেই থেকে জুয়েলারি চলে আসে প্রচলিত গিফটের তালিকায়।

এস্তোনিয়া: বিশ্বের নানা দেশের মতোই এস্তোনিয়াতে ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। তবে সেখানে তা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য জন্য। এ দিনটিতে সেখানে মূলত বন্ধুরা একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে। এতে তা শুধু ভালোবাসা দিবস নয় বরং বন্ধুত্ব দিবসে পরিণত হয়। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও একে অন্যকে তাদের শুভেচ্ছা জানায়।

ডেনমার্ক: ডেনমার্কে আগে ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে প্রিয়জনকে লাল গোলাপ নয় বরং সাদা ফুল দিয়ে এদিন শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনেকেই তার মনের মানুষকে একটি বেনামি চিঠি পাঠায়, যেখানে তারা কোনো মজার কবিতা বা রোমান্টিক বাণী লিখে দেয়। এ উপহার গ্রহীতা যদি সঠিকভাবে প্রেরককে খুঁজে পায় তাহলে তারা বছরের পরবর্তী সময়ে ইস্টার এগ বিনিময়ের প্রতিজ্ঞা করে।

ঘানা: ঘানায় ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালিত হয় অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভিন্নভাবে। দেশটিতে প্রচুর চকোলেট উৎপাদিত হয়। এ কারণে অধিবাসীরা চকোলেটকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে এ দিনটি পালন করে। ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে তারা একে অন্যকে চকোলেট উপহার দেয়। ২০০৭ সাল থেকে দেশটিতে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় চকোলেট দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

ফিলিপাইন: ভ্যালেন্টাইন্স ডে ফিলিপাইনে পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্নভাবে পালিত হয়। এ দিনটিতে সেখানে অসংখ্য জুটি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে গণবিবাহের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। আর এ কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারিকেই বহু মানুষ বিয়ের জন্য বেছে নেয়। এভাবেই তারা ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করে।

ব্রিটেন: ভালোবাসা দিবস ভ্যালেন্টাইন্স ডে ব্রিটেনের উল্লাস একটু বেশি থাকে। বলা হয়ে থাকে, ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে ব্রিটেন এবং ইতালির অবিবাহিত মেয়েরা সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠত। তারা বিশ্বাস করত, সূর্যোদয়ের পর প্রথম যে পুরুষকে তারা দেখবে সে অথবা তার মতোই কোনো পুরুষ এক বছরের মধ্যে তাদের জীবনসঙ্গী হবে।

এ ছাড়া অবিবাহিত মেয়েরা কাগজে পছন্দের ছেলের নাম লিখত। সেই কাগজ মাটির বলে পেঁচিয়ে পানিতে ফেলত। যে নামের কাগজ সবার আগে ভেসে উঠত, ধারণা করা হতো তার সঙ্গেই বিয়ে হবে মেয়েটির।

ফ্রান্স: ব্রিটেনের মতো ফ্রান্সের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ভ্যালেন্টাইন্স ডের জন্মকথা। তাই এখানেও উৎসাহ থাকে অনেক। ভালোবাসা দিবসে কার্ড উপহারের প্রথা শুরু হয়েছে ফ্রান্স থেকে। চার্লস নামের এক ব্যক্তি প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স কার্ড লেখেন। অভিজাত কার্ডে উপহার রীতি রয়েছে এখানে। কার্ড ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গিফট আদান প্রদানের রীতি রয়েছে এখানে।

চীন: চীনাদের নিজ সংস্কৃতিতে ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন আছে। চায়নিজ ক্যালেন্ডারে সপ্তম চান্দ্র মাসের সপ্তম দিনে থাকে এই বিশেষ দিনটি। দিনটিকে বলা হয় কী জি। অথবা ‘দ্য নাইট অব সেভেনস’। গতানুগতিক ভ্যালেন্টাইন্স ডে থেকে দিনটি অনেক আলাদা। এই দিনকে কেন্দ্র করে ফুল ছাড়াও চকোলেট, কার্ড আদান-প্রদানও চলে।

ভারত: ভালোবাসা দিবস নিয়ে নানা ধরনের আয়োজন থাকে। নানা ধরনের গিফটের মাধ্যমে ভালোবাসার আদান প্রদান হয়। শুধু প্রেমিক নয় বাবা-মা, ভাইবোন, বন্ধুদেরও ভালোবাসা জানানো হয় এই দিনে।

kadiani.jpg

‘কাদিয়ান’ শব্দ থেকে ‘কাদিয়ানী’। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের গুরুদাসপুর জেলার ‘কাদিয়ান’ নামক গ্রামের এক ব্যক্তির নাম ছিল মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। তিনি নিজেকে নবী এবং রাসূল দাবি করতেন। তার দাবি ছিল অসংখ্য। তার দাবিগুলোর সমর্থনে পবিত্র কুরান এবং হাদিস থেকে দলিল দেয়ারও চেষ্টা করতেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ ‘উইকিপিডিয়া’এর তথ্যমতে-

“মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী জন্ম গ্রহণ করেন ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৩৫ইং । তিনি একজন বিতর্কিত ভারতীয় ধর্মীয় নেতা এবং আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামক এক ধর্মের প্রবর্তক। তার দাবি মতে তিনি ১৪ শতাব্দীর মুজাদ্দেদ (আধ্যাত্মিক সংস্কারক), প্রতিশ্রুত মাসীহ, মাহদী এবং খলিফা। তিনি একজন উম্মতি নবী হিসেবেও নিজেকে দাবি করেন এবং তার সপক্ষে কুরআনের বহু আয়াত এবং মোজেজা পেশ করেন।”

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রতিষ্ঠিত ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ নামক নতুন ধর্মের অনুসারীদের বলা হয় ‘কাদিয়ানী’। ‘কদিয়ানীরা’ সাধারণত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নামের সাথে মিলিয়ে নিজেদের ‘আহমদী’ পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেমনি ভাবে বাহায়ী জামাতের অনুসারীরা তাদের কথিত মাসীহ মওঊদ ‘মির্যা হোসাইন আলী নূরী ওরফে বাহাউল্লা’ এর নাম অনুসারে ‘বাহায়ী’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস

দাবি করা হয়, মির্যা গোলাম আহমদ নিজেকে অন্য নবীদের মতই নবী দাবি করেন, যা সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের পরীপন্থী।

‘সূরা আন নিসার ১৫৭-১৫৮ আয়াত অনুসারে, ইসলামের নবী ঈসাকে হত্যা করা হয় নি বরং আল্লাহ তাকে তাঁর কাছে তুলে নিয়েছেন। হাদিস অনুসারে নবী ঈসা আসমান থেকে সরাসরি দামেস্কের পূর্ব দিকে মসজিদের সাদা মিনারের পাশে অবতরণ করবেন। তিনি এসে আল-মাহদীর (যিনি ইসলামের শেষনবীর মেয়ে ফাতিমার বংশের হবেন) নেতৃত্বে সালাত আদায় করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন, জিযিয়া রহিত করবেন। ইমাম মাহদী ও মসীহ দুইজন আলাদা ব্যক্তি হবেন। ’ কিন্তু মির্যা গোলাম আহমদ তা বিশ্বাস করেন না।

বাংলাদেশে কার্যক্রম

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ক্ষুদ্র পরিসরে আহমদীয়া জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সারা দেশে ১০৩টি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪২৫টি স্থানে আহমদীদের বসবাস বা কার্যক্রম রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুন্দরবন, আহমদনগর-শালসিঁড়ি, রাজশাহী, কুমিল্লা এবং জামালপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলে আহ্‌মদীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। জামাতের সাংগঠিক কার্যক্রম স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা পরিচালিত হয়। জামাতের ৬৫জন মোবাল্লেগ রয়েছে যারা জামাতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। এই জামায়ত ১৯২০ সন থেকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম পাক্ষিক পত্রিকা ‘আহ্‌মদী’ নিয়মিতভাবে বের করে আসছে। অঙ্গসংগঠনসমূহের নিজস্ব ম্যাগাজিন রয়েছে। সূত্র: ইন্টরনেট

parlia.jpg

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার । যার মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত বেকার রয়েছে। যা মোট বেকারের ৪০ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এসব তথ্য জানান।

এ সময় মন্ত্রী দেশের বেকার সমস্যা দূর করার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বেকার যুবসমাজকে বেকারত্ব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিগত ১০ বছরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর অধিদপ্তর সমূহের ১২৫৩ থেকে বৃদ্ধি করে ২১৩৭ উন্নীত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫৬৯ জনকে রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মমুখী জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ন্যাশনাল স্কিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি অফ ন্যাশনাল স্কিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করেছে। সব পর্যায়ে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শ্রমিকদের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে।

court-dd.jpg

চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য একটি কমিশন গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদলত।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এফআর এম নাজমুল আহসান ও মো. কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

একইসঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি দিয়ে করা আইনটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

erfa3.jpg

১৯৯৯ সালে বহরমপুর টি ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ ও ২০০১ সালে যাদুরানী মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশের পর বহরমপুর ছোট বাজারে চা-পরাটার দোকান দেন এরফান।

ওই বাজারেই তার বাবা নুুরুল ইসলামেরও আছে মুদি দোকান। দুই ভাই, ৬ বোনসহ ১০জন সদস্যের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতেই লেখাপড়ার পাশাপাশি চা-পরাটা বিক্রি করতেন এরফান। তখন ওই গ্রামে শতভাগ সাক্ষরতাও ছিলনা।

তাই পিছিয়ে পড়া এই এলাকার মানুষের মাঝে শিক্ষা পৌঁছাতে নিজের মনোবল ও প্রচেষ্টায় ২০০১ সালে নিজের ধান ক্ষেতে বাঁশের ঘর তুলে স্থাপন করেন চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়। সফল হবেন না নিশ্চিত জেনে সে সময় এলাকার মানুষ তাকে ডাকতেন পাগল এরফান।

মানসিক পাগল নয়, শিক্ষার আলো ছড়াতেই পাগলামী-এমন প্রত্যয় নিয়ে বসে নেই এরফান। শুরুতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত। এরপরেও পিছনে তাকাননি তিনি।

এলাকার দ্বারে দ্বারে ঘুরে ৪০জন শিক্ষার্থী যোগাড় করে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পাঠদানের অনুমতি পান এরফান আলী। ৫টি শ্রেনিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে রাত-দিন পড়ে থাকতেন বিদ্যালয়ে। ক্লাস পরীক্ষা আর বছরের কিছু গদবাঁধা আয়োজন।

প্রধান শিক্ষক এরফান আলী সবার ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। সবুজে ঘেরা এক টুকরো জমিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্কুল, দেয়ালে জলজল করছে বিখ্যাত মানুষদের ছবি আর মনীষীদের নানা উক্তি। আর স্কুলে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে ও পাঠদানে আনন্দ বাড়িয়ে দেয় নানা ধরনের খেলার উপকরণ।

পাশের হার ঈর্ষণীয় সাফল্য হওয়ায় এই অজ পাড়াগাঁয়ের স্কুলটি সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে, তবে সে ঘোষনাও আসে ২০১৫ সালে। স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক এরফান আলী।

শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মনোযোগী করতে ২০১৪ সালে নিজ খরচে চালু করেন সাপ্তাহে দুইদিন দুপুরে একবেলা খাবার। একদিন ডিম-খিচুরী, অন্যদিন মাছ-ভাত। শুরুতে প্রধান শিক্ষক নিজের ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে মিড ডে মিল চালু করেন।

এখন আর মুষ্টি চাল নিতে হয়না। ১শ শতকের এই স্কুলে ৬৬শতকের একটি পুকুর আছে। সেখানে মাছ চাষ আর হাঁস-মুরগী পালন করে বছরে আয় করে ২লাখ টাকার। আর ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে করেছেন আমের বাগান। সেখান থেকে বছরে আয় হয় ৩লাখ টাকা। সে আয় থেকেই এখন ৩২০জন শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের খরচ বহন করে বিদ্যালয়টি। আর মিড ডে মিলে বছরে খচর হয় ৬লাখ টাকা। অবশিষ্ট টাকার যোগান দেন বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক এরফান আলী।

২০১৫ সালে ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে চালু করেন সান্ধ্যকালীন বাড়তি ক্লাস। সৌর বিদ্যুতের আলোতে সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে অতিরিক্ত এই ক্লাস। এতে শিক্ষার্থীরা লোখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি বাড়তে থাকে পাশের হারও। এতে স্বস্তি নামে এলাকার গরীব অভিভাবকদের মাঝে, তাই খুশি তারাও। বর্তমান বিদ্যালয়ে ৩২০জন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন ৪জন শিক্ষক। চাপ বেশি হওয়ায় আরো তিনজন প্যারা শিক্ষকও নিয়েছেন প্রাধান শিক্ষক। এর খরচও বহন করেন এরফান আলী।

এই বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলে সফল হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয় সভায় চরভিটা প্রথমিক বিদ্যালয়কে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর পরিপত্র জারি করে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেয়।

সেই চা বিক্রেতা এরফান আলী ২০০৮ সালে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে এখন ওই বিদ্যালয়ের সফল প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক।

ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী হাসনারা আক্তার ও ৫ম শ্রেণির খাবিরুন আক্তার বলেন, এই বিদ্যালয়টি এই এলাকার সোনার টুকরো। পরিবেশ এতই ভাল যে বাড়িতে লোখাপড়া করতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় এখানেই থাকি।

৬ষ্ঠ শ্রেণির আইরিন আক্তার এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৩য় শ্রেণিতে। বাবা রাজ মিস্ত্রী, মা একজন গৃহিনী। লেখাপড়ার খরচ যোগাড় করতে হিমশিম খায় তার পরিবার। কিন্তু এই বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত কোন খরচ না থাকায় এবার নতুন করে চালু করা ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে আইরিন।

৫ম শ্রেণির রিয়াজ জানায়, এখানে পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সঙ্গীত ও পুকুরে নৌকা দিয়ে ঘুরানো হয়। বিদ্যালয়ের চারপাশ ফুল ফল আর সবুজ পাতাসহ নানা রঙ্গের পরিবেশ। এতই ভাল লাগে যে সে অনুভূতি বোঝানো যাবেনা।

চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-এরফান আলী বলেন, আমি পাগল শিক্ষার। শিক্ষার আলো ছড়াতে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে আরো নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ডিডি (নিয়োগ শাখা) একেএম সাফায়েত আলী সম্প্রতি পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়টি পরিচ্ছন্ন। শিক্ষার মান ও পাশের হার সন্তোষ জনক।

এছাড়াও অন্যান্য কারিকুলাম এক্টিভিটিস থাকায় শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারছে ছাত্র-ছাত্রীরা। খুব শিগগিরই এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন দেয়া হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই এর মান আরো বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

দরিদ্র জনপদে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এরফান আলীর মতোই অনেক শিক্ষিত যুবক এগিয়ে আসুক এমন প্রত্যাশা সবার।

3-5.png

জাপানিরা ১৯৩৭ সালে নানকিং (এখন নানজিং) এ চাইনিজদের কচুকাটা করেছিলো। খুন -ধর্ষণ মিলিয়ে এমন নৃশংসতা কমই দেখেছে বিশ্ব। The flowers of war নামে একটি মর্মস্পর্শী মুভি আছে এই গণহত্যা নিয়ে। জাপানিরা এর আগে পরেও লাখে লাখে মরেছে-মেরেছে।

শেষতক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জব্দ জাপান বাধ্য হয়েই রক্তের নেশা ছেড়ে জাতি গঠনে মনোযোগ দিয়েছিলো বলেই আজ তারা পৃথিবীর অন্যতম সভ্য জাতিতে পরিণত হতে পেরেছে। এই জাতি গঠনের পিছনে জাপানিরা চিরকৃতজ্ঞ কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া একজন বাঙালির কাছে।

মিত্রপক্ষের চাপ সত্বেও ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধ টাইব্যুনালের ’টোকিও ট্রায়াল` ফেজে এই বাঙালি বিচারকের দৃঢ অবস্থানের কারণেই জাপান অনেক কম ক্ষতিপূরণের উপরে বেঁচে গিয়েছিলো। নয়তো যে ক্ষতিপূরণের বোঝা মিত্রপক্ষ ও অন্য বিচারকরা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তার দায় এখন পর্যন্ত টানতে হতো জাপানকে।

সেক্ষেত্রে ঋণের বোঝা টানতে টানতে জাতি গঠনের সুযোগই আর পাওয়া হতোনা জাপানের। সেসময়ই জাপানি সম্রাট হিরোহিতো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, “যতদিন জাপান থাকবে বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা।

জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নি:স্বার্থ বন্ধু।” এটি যে শুধু কথার কথা ছিলোনা তার প্রমাণ আমরা এখনো দেখতে পাই। জাপান এখনো বাংলাদেশের সবচে নি:স্বার্থ বন্ধু। এই ঘটনার প্রায় ৬৫ বছর পর ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিসান হামলায় প্রাণ গেলো নয় জাপানিজ বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের। জাপান তখনও পাশে ছিলো বাংলাদেশের।

আর কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া সেই বাঙালি বিচারকের নাম এখনো জাপানি পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য। তাঁর নামে জাপানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু মেমোরিয়াল ও মনুমেন্ট। এই বিস্মৃত বাঙালির নাম বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল (১৮৮৬-১৯৬৭)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ছাড়াও জীবদ্দশায় অনেক বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তিনি কুষ্টিয়ায় নিজ গ্রামের স্কুল ও রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে প্রভাষক ছিলেন। কিছুদিন ময়মনসিংহ কোর্টে আইন ব্যবসাও করেছিলেন!

এই মেধাবী বাঙালিকে আমরা কেউই প্রায় মনে রাখিনি। বাঙালির মেধাগত বীরত্বের এই চমৎকার ব্যাপারটা জানে খুব অল্প মানুষই! অথচ কত ঠুনকো বিষয়ই না বাঙালি মানসে পায় সীমাহীন গুরুত্ব!

set3.jpg

আধুনিক লাইফস্টাইলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নানা রোগের ডিপো। সেই তালিকায় রয়েছে কিডনি রোগও। বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। এই কিডনি সমস্যার সমাধানে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। নতুন এই আবিষ্কারটির সফল পরীক্ষাও চালিয়েছেন তিনি। হয়তো ২০১৯ সাল নাগাদ বাজারে আসবে কৃত্রিম কিডনি।

কিছুদিন আগে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে ব্যাপক হৈচৈ ফেলে দেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী শুভ রায়। তার আবিষ্কৃত এই কৃত্রিম কিডনি আসল অঙ্গের মতোই কাজ করতে সক্ষম। এই কিডনি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ ছাঁকা থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন ডি তৈরি, সব কাজই করতে পারবে।

আধুনিক জীবন জেট গতির লাইফস্টাইল। ফাস্টফুডের প্রতি তীব্র ভালোবাসা। পরিণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর রোগের ডিপো। বারোটা বাজছে হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনির। ক্রনিক হচ্ছে কিডনির রোগ। ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এসব সমস্যার সমাধানই হলো কিডনি প্রতিস্থাপন। খুব শিগগিরই বাজারে আসছে বিজ্ঞানী শুভ রায়ের এই কৃত্রিম কিডনি। আকারে হাতের মুঠোর সমান। খরচ তুলনায়ও অনেকটাই কম। ২০১৯-এর মধ্যেই বাজারে আসার সম্ভাবনা এই কৃত্রিম কিডনির।

ইতিমধ্যে এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন শুভ রায়। তিনি আশা করছেন, কয়েক বছরের মধ্যে এই কিডনি মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি দরকার। আপাতত সেই অনুমতির অপেক্ষায় আছে শুভ রায়ের দল।

এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে শুভ জানান, ১০ বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন সহকর্মীকে নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন তারা। এই প্রকল্প সফল হলে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় কিডনির চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভর এই আবিষ্কারের খবর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে প্রকাশিত জার্নাল ‘টেকনোলজি রিভিউ’তে ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়।

মনেপ্রাণে বাংলাদেশি শুভ

কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে শুভকে ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক’ উল্লেখ করায় খানিকটা চটেছেন এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। পড়াশোনা এবং কর্মজীবনে আমেরিকায় স্থায়ী হলেও মনেপ্রাণে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবেই গর্ববোধ করেন এই বিজ্ঞানী। শুভ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ছেলে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছি। আমাকে কেন ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, এটা নিয়ে আমি বিব্রত।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। এর আগে বাবার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে উগান্ডায় বসবাস করেন অনেকদিন।

চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কৃত্রিম কিডনির সহ-আবিষ্কারক শুভ রায় জানান, আমেরিকায় তৈরি এই যন্ত্র আপাতত সেদেশের কয়েক হাজার রোগীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। শারীরিক সুরক্ষা ও সর্বাঙ্গীন সাফল্যের পরীক্ষায় উতরালে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক এফডিএ।

যেভাবে কাজ করে কৃত্রিম কিডনি

এর উত্তরে শুভ রায় বলেন, যন্ত্রটি সহজেই পেটের ভিতরে স্থাপন করা যায়। স্বাভাবিক কিডনির মতো রক্ত শোধন করা ছাড়াও হরমোন উৎপাদন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সাধারণ হিমোডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার মতো রক্ত থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বাদ দেওয়া ছাড়াও জীবন্ত কিডনি কোষ দিয়ে তৈরি বায়ো রিঅ্যাক্টর এবং সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে রক্ত শোধনের কাজ নিখুঁতভাবে করতে পারে কৃত্রিম কিডনি।

কম খরচ

কিডনি সমস্যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেশারই তার অন্যতম কারণ। কিডনির ক্রনিক সমস্যা সমাধানে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ অনেক।

কৃত্রিম কিডনির সঠিক খরচের হিসাব এখনই না বললেও শুভ রায়ের দাবি, ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের চেয়ে অনেক কম খরচে বসানো যাবে কৃত্রিম কিডনি।

শৈশব

শুভ রায় ১৯৬৯ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরিতে। তার বাবা চিকিৎসক অশোক নাথ রায় চট্টগ্রামের আশকারদীঘির উত্তর পাড়ের মাউন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মা রত্না রায় গৃহিণী।

শিক্ষাজীবন

পাঁচ বছর বয়সে ঢাকায় সিদ্ধেশ্বরীর একটি বিদ্যালয়ে নার্সারিতে শুভ রায়কে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু তার বাবা অশোক নাথ রায়ের পেশাগত কারণে ১৯৭৪ সালে তাদের উগান্ডায় চলে যেতে হয়। সেখানে অশোক নাথ রায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। উগান্ডার জিনজা সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল থেকে সেকেন্ডারি পাস করেন শুভ রায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। কম্পিউটার বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর মাউন্ট ইউনিয়ন কলেজ বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব মাউন্ট ইউনিয়নে। ১৯৯৫ সালে কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ কৌশল ও ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং ২০০১-এ তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৯৮ সালে তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রজেক্ট স্টাফ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বায়োমাইক্রো ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল সিস্টেমস ল্যাবরেটরির সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের স্পাইন রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির ফলিত বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের সহকারী অধ্যাপক এবং কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী স্টাফ হিসেবে কাজ করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের মলিকুলার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এট সান ফ্রান্সিস্কোর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড থেরাপিউটিক সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ২০০৯ থেকে তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের নেফ্রোলজি বিভাগের এডজাংক্ট সহকারী স্টাফ হিসেবে কর্মরত।

police-20180209005422.jpg

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদের মর্যাদা বাড়ানো, বাধ্যতামূলক ছুটি, ঝুঁকিভাতা, ওভারটাইম চালু, আসামি বহনের ভাতাসহ অনেকগুলো চাওয়া রয়েছে পুলিশের। বছরে একদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে খোলামেলাভাবে আলোচনা ও দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের সুযোগ পান তারা। এবারও পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তুলে ধরা হবে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং কনস্টেবল সমমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা হয়। তারা বলেন, ছুটি জমা থাকলেও কর্মব্যস্ততা ও চাপের কারণে কাটানো সম্ভব হয় না। তাই কেউ যদি ছুটি না কাটাতে পারেন তাহলে তাকে বছরের শেষ সময়গুলোতে বাধ্যতামূলক ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের এক কনস্টেবল বলেন, আমাদের ডিউটির সময় নির্ধারণ করা থাকলেও অনেক সময় অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়। যেমন গত বছর জঙ্গিবাদ-নির্বাচন নিয়ে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়েছে। জাতীয় দিবস আর জাতীয় উৎসব তো আছেই। তাই আমাদের জন্য ওভারটাইম ও পুলিশভাতা চালুর প্রস্তাব দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেন, একজন আসামিকে থানা থেকে আদালতে আনা-নেয়ার জন্য সবসময় গাড়ি পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সিএনজি অথবা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যেতে হয়। এতে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। একজন এএসআইকে পাঁচটি এবং এসআইকে তিনটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে হয়। একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরে কোর্টে চালান করতে দেড় থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। অথচ এজন্য অতিরিক্ত কোনো টাকা থাকে না। এ টাকাগুলো এএসআই এবং এসআইকে নিজের বেতন থেকে খরচ করতে হয়।

তারা বলেন, আসামি গ্রেফতার ও কোর্টে প্রেরণ বাবদ খরচকৃত টাকা সরকারি তহবিল হতে নগদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। এছাড়াও অনেকক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সোর্সমানি দেয়া হলেও তা অপারেশন লেভেলের কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায় না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সোর্সমানি প্রদানপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার দাবি জানাই। পাশাপাশি নিজস্ব মেডিকেল কলেজ করার দাবিও জানান তারা।

তবে তাদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে কয়েকটি উঠবে কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। এদের মধ্যে একটি আইজিপি পদ বদলে ফোর স্টার জেনারেল পদমর্যাদার ‘চিফ অব পুলিশ’ করা। এছাড়াও পুলিশের একাধিক আইজিপি পদ সৃষ্টি, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আরও এক লাখ পুলিশ নিয়োগ, বিভিন্ন দূতাবাসে পুলিশসহ একগুচ্ছ দাবি উঠছে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

গত ২১ জানুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত ‘পলিসি গ্রুপ’র সভায় এসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা এই বাহিনীর জন্য পুলিশ লাইনসে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানায়। এ ছাড়া আবাসন সংকট দূর করা, থানাগুলোয় যানবাহন ও লোকবল বাড়ানোর দাবি জানানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা  বলেন, ‘সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে কল্যাণসভায় অংশগ্রহণ করবেন।’