বিশেষ সংবাদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

election-bulding.jpg

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডাটাবেইজে ‘মৃত’ দেখানোয় অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে কোনো কাজ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে এসব নাগরিক ইসি’র শরণাপন্ন হচ্ছেন। পরে ইসি তদন্ত করে তাঁদের পুনরায় ভোটার তালিকাভুক্ত করছেন। সম্প্রতি এমন আরও প্রায় ৬ হাজার জন ‘মৃত’ দেখানো নাগরিককে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ইসি। ইসি’র সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র সোমবার জানিয়েছে, চলতি বছর এপ্রিল থেকে তিন ধাপে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার নাগরিকেদর নাম রোলব্যাক করা হয়েছে। মৃত ভোটার হিসাবে এদের নাম কর্তন করা হয়েছিলো। গত মার্চ মাসে ৮৬১ জন ‘মৃত’ দেখানো নাগরিককে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ভোটারকে মৃতদের তালিকা থেকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জীবিত ভোটারের নাম যেকোনো কারণে কর্তনের তালিকায় (ভোটার মারা গেলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়) চলে যায়। অনেক সময় জীবিত ভোটারের নামও চলে যাচ্ছে মৃতদের তালিকায়। পরে এসব ভোটার যখন তাঁদের এনআইডি দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেন না তখন তাঁরা কমিশনের শরণাপন্ন হন। আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

অনেক সময় জীবিত ভোটারের নাম মৃতদের তালিকায় চলে যাচ্ছে। এই কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে এর আগে ইসি’র উপ-সচিব মো. আব্দুল হালিম খান জানিয়েছিলেন, যার দোষে জীবিত ভোটার ‘মারা’ হচ্ছে বা যদি দেখা যায়, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জীবিত ভোটারকে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, অনেক সময় যাঁরা মৃত ভোটার কর্তনের দায়িত্বে থাকেন তাঁদের ভুলে জীবিত ভোটাররা মৃতদের তালিকায় চলে যান। অনেক সময় এনআইডি নম্বরের একটি সংখ্যা এদিক সেদিক বা একই নামের একজন মারা গেলে ভুল করে জীবিত আরেকজনের নাম কর্তন তালিকায় চলে যায়। মৃত ভোটার কর্তনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা বেশিরভাগ সময় এমন ব্যাখ্যা দেন।

সূত্র আরও জানায়, ভোটার মারা গেলে তাঁর ছেলে-মেয়ে প্রত্যয়নপত্র দেবেন। ভোটার তালিকা থেকে কারো নাম বাদ দেওয়ার জন্য মৃত্যু সনদের সাপোর্টিং ডকুমেন্টসহ নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর থাকতে হয়। ভোটারের নাম কর্তনের তালিকায় চলে যাওয়ার বিষয়ে ভোটারকে দায়ী করা হয় না। এই কাজের জন্য দায়ী করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কারো বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জীবিত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে কমিশন।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সকল আঞ্চলিক, সিনিয়র জেলা/জেলা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারের কাছে পাঠানো জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, কোনো কোনো উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হচ্ছে যে, ভোটার জীবিত কিন্তু ডাটাবেইজে মৃত দেখাচ্ছে। এতে করে ভোটার বা ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কোনো কাজ করতে পারছেন না।

এক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে ওই চিঠিতে জীবিত কিন্তু ডাটাবেইজে মৃত স্ট্যাটাসে রয়েছে এমন ভোটারদের তথ্য উপজেলা অফিস চিঠি দিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসকে জানাবে এবং জেলা অফিস জানাবে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসকে। আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস তথ্যগুলো সমন্বয় করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠাবে। আইসিটি বিভাগ এমন আবেদন পাওয়ার সংগে সংগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া এই ধরনের সকল আবেদন নিষ্পন্ন করার জন্য তখন ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইসি’র দেয়া সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৫১ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন ও ৪৪১ জন হিজড়া ভোটার রয়েছে।

mitu66.jpg

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার ঘটনায় আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার পাচ্ছেন ডিভিশন সুবিধা। তার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডিভিশন সুবিধা প্রদানের আদেশ দেন।

সোমবার (১৭ মে) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহান এর আদালত তার ডিভিশন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী আরিফুর রহমান।

তিনি বলেন, বাবুল আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর পর আমরা আদালতে তার ডিভিশন সুবিধার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে ১২ মে পিবিআই গ্রেপ্তার দেখিয়ে একই আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত বাবুল আক্তারের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআই কর্মকর্তাদের দাবি, ৫ দিনের রিমান্ডেও মুখ খোলেননি বাবুল আক্তার।

এরপর আজ দুপুরে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য হাজির করা হয় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে। বিচারক নিয়ম অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ার জন্য তাকে তিন ঘণ্টা সময় দেন। কিন্তু জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েও শেষ পর্যন্ত আদালতে জবানবন্দি দেননি বাবুল আক্তার। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গতকাল রোববার এই মামলায় আরও ২ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- মোতালেব মিয়া (ওয়াসিম) ও আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এ নিয়ে মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া নতুন মামলায় বাবুল আক্তারসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। চারজনই নতুন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তথ্যমতে, ওয়াসিম ও আনোয়ার প্রায় ৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন। মিতু হত্যার পর ২০১৬ সালের ২৬ জুন আনোয়ার ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপর মামলার তদন্তে গতি আসে। ১৫ মাস পর গত ১১ মে বাদী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। তবে এর আগেই ঘটনার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পরদিন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বাবুল আক্তারের মামলার।

এরপর মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নতুনভাবে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আরও ৭ জন আসামি আছেন। এরা হলেন- মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০), এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া (৪১), মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম (২৭), মো. আনোয়ার হোসেন (২৮), মো. খায়রুল ইসলম ওরফে কালু (২৮), সাইদুল ইসলাম সিকদার (৪৫) ও শাহজাহান মিয়া (২৮)। এই মামলাও তদন্ত করছে পিবিআই।

মোশাররফ হোসেনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১২ মে বাবুল আক্তারকে আদালতে হাজির করে পিবিআই। আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাবুল আক্তারকে পিবিআই হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ১২ মে রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাণীরহাট এলাকা থেকে র‍্যাবের একটি দল নতুন মামলার আসামি মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কুকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। তাকেও ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

dr-devi-shetty-1.jpg

কোভিড-১৯ মহামারির দাপট। এই ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এখনও সম গতিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। রোজ লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। মৃত্যু বাড়তে বাড়লে লাশ স্তুপ জমছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ আর কতদিন সেই প্রশ্ন সবার মনে মনে।

করোনাভাইরাস আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভোগাবে বলে জানিয়েছেন ভারতের নারায়ণ ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দেবী শেঠি।

উপমহাদেশের বিশিষ্ট এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ভারতের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেন।

তিনি বলেন, প্রথমেই বলে রাখি আমি এপিডেমোলজিস্ট নই বা ভাইরোলজিস্ট নই। মহামারির চরিত্র সম্পর্কে যেটুকু জ্ঞান রয়েছে, তার ভিত্তিতে বলছি যে, কোভিডের সংক্রমণ আপাতত চলবে। আগামী বছর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তা কমবেশি ভোগাবে। সুতরাং সে ব্যাপারে এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবেই কি না সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নন। মহামারি চরিত্র অনুযায়ী দ্বিতীয় ঢেউ সবসময়েই ভয়াবহ হয়। তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা কম থাকে।

তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জানিয়ে দেবী শেঠি বলেন, তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে সব থেকে আশঙ্কা ছোটদের নিয়ে। কারণ, ততদিনে বয়স্কদের টিকা নেওয়া হয়ে যাবে। অধিকাংশেরই ইমিউনিটি থাকবে। কিন্তু শিশুদের টিকাগ্রহণ তখনো হবে না। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বেশি। তাই এখন থেকেই জোর দিতে হবে কমবয়সী বাবা-মায়ের টিকা নেয়া জরুরি।

তিনি যোগ করেন, বয়স্ক মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সমস্যা কম। কেউ যদি অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকেন তা হলে চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাটেন্ডেন্ট লাগে না। কিন্তু কোনো কোভিড আক্রান্ত শিশু অক্সিজেন বেডে বা আইসিইউতে থাকলে সে সব সময়ে তার বাবা-বা মাকে পাশে চাইবে।

দেবী শেঠি আরও বলেন, আমার সারাটা জীবন আমি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বানাতে লাগিয়ে দিয়েছি। হার্ট সার্জারির পর শিশুদের দেখভালের জন্য তা জরুরি। তাই শিশুরা কোভিড আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকলে কী বায়না করতে পারে, আমার থেকে ভালো কেউ জানে না। তাই ততদিনে তার বাবা বা মায়ের টিকাগ্রহণ হয়ে যাওয়া উচিত। যাতে আইসিইউতে তারা সন্তানের পাশে থাকতে পারেন।

করোনা থেকে বাঁচত টিকা নেওয়ার ওপরই জোর দিয়েছেন ডাক্তার শেঠি।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের আর ট্রায়াল দরকার নেই। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। শুধু দরকার উৎপাদন বাড়ানো। এ জন্য দেশ বিদেশের সব ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে এখনই কথা বলতে হবে। টাকা আগাম পেলে সবাই ভ্যাকসিন বানাতে রাজি হবে। আশা করি সমস্যা হবে না।

ডাক্তার দেবী শেঠি ভারতের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, তৃতীয় ঢেউ এলে আরও কয়েক লাখ ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক লাগবে। একটা বিষয় বুঝতে হবে—গত এক বছর ধরে কোভিড সামলাতে সামলাতে ডাক্তার-নার্সদের একটা বড় অংশ ক্লান্ত। আবারও বলছি বয়স্ক রোগীদের সামলাতে তাদের অতটা বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে শিশুরা আক্রান্ত হবে। তখন এই ক্লান্ত ওয়ার্কফোর্স দিয়ে তাদের সামলানো যাবে না।

Daughters-tale.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সোমবার (১৭ মে)। এ দিবসকে ঘিরে বিটিভিতে পর্দায় ফিরে এলো ডকুড্রামা ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। সারা দেশে সিনেমা হলে এবং টেলিভিশনে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ ডকুড্রামাটি সোমবার প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডসহ বেশ কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে।

সিআরআই এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয় । ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত হবে ১৭ মে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে। একই দিনে বেসরকারি বিভিন্ন চ্যানেলেও সম্প্রচার করা হবে এই ডকুড্রামাটি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, স্টার সিনেপ্লেক্সে ১৫ নভেম্বর প্রিমিয়ার শো’র মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। দর্শকদের জন্য স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমায়, মধুমিতা সিনেমা হল এবং সিলভার স্ক্রিনে প্রদর্শনী শুরু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহে বক্স অফিসে সবচাইতে সফল ছিলো ডকুড্রামাটি। দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরবর্তীতে সারা দেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আরো ৩৫টি সিনেমা হলে প্রদর্শন করা হয় হাসিনা: এ ডটারস টেল’ ডকুড্রামা। সব মিলিয়ে দারুণভাবে ব্যবসায় সফল এটি।

হাসিনা: এ ডটারস টেল’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন। প্রযোজক হচ্ছেন, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু। পরিচালনা করেছেন অ্যাপল বক্স ফিল্মসের পিপলু খান।

jail-photo.jpg

প্রতি বছরই ঈদে কারাগারের বন্দিদের জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ব্যক্তিক্রম আয়োজন থাকে। এবারও কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে বাহারি খাবারের ভিন্ন আয়োজন ছিলো। ঈদের আনন্দ বন্দিদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বাহারি খাবারের এমন আয়োজনের পাশাপাশি এবারই প্রথম বন্দিরা স্বজনদের সংগে একটানা ১৩ মিনিট কথা বলতে সুযোগ পেলো। এই সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মাঝে আনন্দ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

মূলত কারাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বন্দিদের সংগে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে সরাসরি দেখা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলেও থেমে নেই বন্দিদের সংগে স্বজনদের যোগাযোগ। ইতোমধ্যে বন্দিদের সংগে স্বজনদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে কারা কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে ১০ মিনিট টাকা দিয়ে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। আর এই নিয়মের সংগে ঈদ উপলক্ষে ৩ মিনিট বাড়িয়ে ১৩ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বাড়তি ৩ মিনিট বিনামূল্যে কথা বলতে পারবেন বন্দিরা।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন  বলেন, করোনাকালে বন্দিদের সংগে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। তাই বন্দিরা এই সময়ে সপ্তাহে ১০ মিনিট টাকা খরচ করে কথা বলতো। তবে ঈদ উপলক্ষে তাদের জন্য এই ১০ মিনিটের সংগে আরও ৩ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাও আবার বিনামূল্যে। এটি দেশের সব কারাগারের জন্য প্রযোজ্য বলেও জানান তিনি।

আজ ঈদের দিন কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন হিসেবে বাহারি খাবারের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল বেলা বন্দিদেরকে সেমাই-পায়েস ও মুড়ি দেওয়া হয়। আর দুপুরে দেওয়া হয়েছে পোলাও ভাত, মুরগি, গরুর মাংস, মিষ্টি, কোক ও পান-সুপারি। আর রাতে থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রী কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে এবার একসংগে ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি বন্দিরা। তবে নিজেদের আলাদা আলাদা সেলে পড়েছেন। ঈদের নামাজ শেষে বন্দিদেরকে খেতে দেওয়া হয়েছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে দেওয়া হয়েছে পোলাও ভাত, মুরগি, গরুর মাংস, মিষ্টি, কোক ও পান-সুপারি। আর রাতে থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ।

আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন  বলেন, দেশের ৬৮টি কারাগারে বাহারি খাবারের এই ভিন্ন আয়োজনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। আমি সকালে খাবারের মান দেখতে এবং বন্দিদের সংগে ঈদের শুভেচ্ছা ভাগাভাগি করতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে গিয়েছি। সেখানে বন্দিদের সংগে কথা বলেছি। তারা এমন আয়োজনে খুশি। তাছাড়া খাবারের মানও ভালো। তবে অন্যান্য কারাগারে দুপুরে পোলাও ভাত, মাংস ইত্যাদি দেওয়া হলেও কেরানীগঞ্জ কারাগারে তা দেওয়া হবে রাতে। কারণে প্রায় ৯ হাজার বন্দির জন্য খাবার প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে। তাই রাতের জন্য বরাদ্দকৃত সাদাভাত, মাছ এবং আলুর দম দুপুরে দেওয়া হয়েছে। আর দুপুরের জন্য বরাদ্দকৃত পোলাও ভাত, মুরগি, গরুর মাংস, মিষ্টি, কোক ও পান-সুপারি রাতে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। আর সব কারাবন্দিই বাহারি খাবার খাওয়ার ও মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

Babul66.jpg

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। মিতু হত্যার প্রধান ঘাতক মুছা পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ থাকলেও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বাবুল আক্তারের ভয়ংকর নীলনকশার ইতিবৃত্ত। আর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন খোদ ঘাতক মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার।

মিতু হত্যার অন্যতম আসামি পুলিশের এক সময়ের সোর্স কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসার স্ত্রী পান্নার দাবি, বাবুল তার স্বামীকে দিয়ে মিতুকে খুন করতে বাধ্য করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মুসাকে বারবার সাবধানে থাকতে বলেছেন। মুসাকে শেল্টার দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন পুলিশের সেই সময়কার ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা।

মুসার স্ত্রী বলেন, ‘সন্তান, পরিবার ও আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগে কথা বলিনি। আমি বাবুল আক্তারকে ভয় করতাম। বাবুল আক্তারের পরিচিত কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার পর থেকে আমাকে হুমকি দিতেন, আমি তাদেরকে ভয় পেতাম।’

মুসা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে তার স্ত্রী বলেন, ‘মুসা এ ঘটনায় জড়িত; সেজন্য ভয় পেতাম। সব মিলিয়ে আমি আগে মুখ খুলিনি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? আজ পাঁচ বছর আমার স্বামী নিখোঁজ। তার সন্ধান চাই আমি। মামলার জন্য হলেও তো মুসাকে দরকার। কারণ সে সবকিছু জানে।’

পান্না আক্তারের ভাষ্য, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। তারপর আমি এ হত্যার বিষয়ে মুসার কাছে কয়েকবার জানতে চেয়েছিলাম। প্রথমে মুসা কিছু বলেনি। পরে এক সময় মুসা আমাকে জানায়, বাবুলের নির্দেশে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে মুসার স্ত্রী পান্না গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মুসার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তোমরা কেন এমন একটি জঘন্য কাজ করলে? এখন আমার সন্তানদের কী হবে? আমার কী হবে? তখন মুসা জানিয়েছিল, বাবুল আক্তার তাকে শেল্টার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাবুল আমার স্বামীকে চিন্তা না করতে বলেছেন। কিন্তু তারপর আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। সেখান থেকে আজ পাঁচ বছর আমি মুসার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমি মুসার খোঁজ চাই।’

বাবুল মুসাকে সবধরনের সহযোগিতা করতেন বলেও দাবি করেন স্ত্রী পান্না। মুসার স্ত্রী দাবি করেন, ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৫ জুন তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ দুই কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করতে নিষেধ করেছিলেন। তারপরও তিনি ওই বছরের ৫ জুলাই আবার সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। তখনও করতে দেয়া হয়নি। সে সময় তিনি বাবা ও শ্বশুরের বাড়ি রাঙ্গুনিয়াতে থাকতেন।

পান্নার ভাষ্য, ‘আমাকে চট্টগ্রামও যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। আমি এ ব্যাপারে কথা বললে আমাকে জঙ্গি বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছিল। আমি প্রচণ্ড ভয়ে থাকতাম।’

পিআইবিকে সব তথ্য জানিয়েছেন দাবি করে পান্না আক্তার বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে মুসার ব্যাপারে জানতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমি যা যা জানি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। যা যা আমি জানতাম, সবই আমি বলেছিলাম। তারপর থেকে মূলত আমি চিন্তা করা শুরু করি, এ ব্যাপারে আমি কথা বলব। এখন বাবুল আক্তার জেলে। আমার ক্ষতি হবে না বলে আমি মনে করছি। সেজন্য এখন কথা বলছি।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। সে সময় মিতু হত্যায় তার স্বামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জঙ্গি হামলার অভিযোগ আনেন এবং তিনি কাউকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেননি। মূলত তিনি একাধিক জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় সহজে এই হত্যাকাণ্ডকে জঙ্গি হামলা বলে চালিয়ে দেন।

এই মামলা প্রথমে পাঁচলাইশ থানা এবং পরে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু প্রায় চার বছরের তদন্ত শেষেও কোনো ক্লু উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপরই মূলত সাক্ষী ও বাদীর দেয়া তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে একের পর ক্লু উদঘাটন শুরু হয়। এতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মুসার সঙ্গে সাইফুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। আর সাইফুলের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাবুল আক্তারের। পিবিআই-এর কর্মকর্তারা কামরুল শিকাদর মুসা এবং সাইফুল হককে অনুসরণ করেই হত্যার মূল হোতা বাবু্ল আক্তারের কাছে পৌঁছান।

গত মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শ্বশুর মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বাবুল আক্তার এখন পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

Babul-musa-mitu.jpg

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আকতার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

সিসিটিভি ভিডিওফুটেজ সংগ্রহ করে বাবুল আকাতারের ঘনিষ্ঠ ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে (৪০) চিহ্নিত করে পুলিশ।

মিতু হত্যার ১৭ দিন পর ‘পলাতক’ হয়ে যান মুছা। এই পাঁচ বছরেও পরিবারের কাছে ফেরেননি তিনি।

সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছে। প্রধান আসামি হয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার বাদী বাবুল আকতারই। দ্বিতীয় আসামি হচ্ছেন মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছা।

প্রশ্ন উঠেছে, মুছা এখন কোথায়? পুলিশের খাতায় মুছা ৫ বছর ধরে ‘পলাতক’। আর মুছার স্ত্রীর পান্নার অভিযোগ, ৫ বছর আগে তার স্বামীকে ‘তুলে নিয়ে যায়’ পুলিশ। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি।

পান্নার দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুসা। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলেও জানান। কিন্তু ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় পুলিশ এসে মুছাকে তুলে নিয়ে যায়।

পান্না বলেন, পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার আগে মুছা ফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আমি সমস্যায় পড়ে গেছি। আপনার কথায় বিশ্বাস করে কাজ করেছি। আমার পরিবারের কিছু হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব স্যার’।

পান্নার এই বক্তব্যে  মিতু হত্যাকাণ্ডে আরো এক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মুছাকে সেদিন পুলিশের পোশাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কাকে ফোনে স্যার সম্বোধন করে মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি?

মূলত তৎকালীন পুলিশের উপ পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন বাবুল আকতার। মুছা ছিলেন বাবুলের সোর্স। তিনি বাবুলকে স্যার বলেই সম্বোধন করতেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মুছাকে আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরা যায়নি। বরং তার দেশত্যাগ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থলবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশ এখনও অপরিবর্তনীয়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন এখন, মুছা কোথায়? তিনি  পলাতক নাকি গুম হয়েছেন?

এর জবাব মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কাছেও নেই আপাতত।

এ বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেছেন,  ‘মুছার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তাকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

যদিও মুছাকে পুলিশই ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার স্ত্রী পান্নার।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার স্বামীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এটাই সত্য কথা। আমার সামনেই নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই, অথচ পুলিশের হিসাবে সে এখনো ‘পলাতক’। আমার স্বামী যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে ধরা হোক, বিচার করা হোক। কিন্তু তার কোনো খোঁজ নেই। বাবুল আক্তারকে যদি এতদিন পরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা যায়, তাহলে আমার স্বামীর কেন খোঁজ পাব না?

এতোদিন ধরে স্বামীর খোঁজে পুলিশের কাছে কেন যাননি পান্না?

জবাবে তিনি বলেন,  এতদিন পরিবার, সন্তান এবং প্রশাসনের চাপে হয়রানির ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু সম্প্রতি বাবুল আকতার গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি সামনে আনলাম। তিনি গ্রেফতার হলে, মামলার দ্বিতীয় আসামি মুছা কোথায়? তার সন্ধান চাই।

পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে মুছা আমাদের সঙ্গে বাকলিয়া এলাকার কালামিয়া বাজারের বাসাতেই ছিলেন। তিন দিন পর রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতে চলে যাই আমরা। সেখান থেকে জানতে পারি, কালামিয়া বাজারের বাসায় মুছার খোঁজে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সে কারণে আমরা নগরীর কাঠগড় এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় উঠি।  ২২ জুন আদালতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুছা। কিন্তু ওইদিনই ওই বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

পান্না দাবি করেন, তার স্বামী মুছা, বাবুল আকতারের বড় সোর্স। ২০০৩ সালে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের সাথে পরিচয় হয় মুছার। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। বাবুলের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ শুরু করে মুছা।

jail55.gif

খট খট শব্দে চলছে তাঁত। কেউ ব্যস্ত বুননের কাজে আবার কেউ বা সুতোর নিয়ন্ত্রণে। সুতার কারুকাজে কাপড় দিয়ে তারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন মনের মতো নকশা। যন্ত্র ও মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় একে একে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কাপড়। শুধু তাই নয়, একদিকে যখন তাঁতকর্মীরা ব্যস্ত কাপড় বুননে তখন অন্যদিকে কেউ কেউ ব্যস্ত কাগজ বাঁধাই কিংবা সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত রুটি-কেক-বিস্কুট তৈরির কাজেও। এসব কারিগর দীর্ঘদিন ধরেই বন্দি কারাগারে। বন্দি জীবনেই এসব কাজ করেই তারা আয় করছেন টাকা।

বলা হচ্ছিলো, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কথা। যেখানে হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ নানান অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বন্দি রয়েছেন প্রায় তিন হাজার কয়েদি। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া এসব আসামির মধ্যে কেউ কেউ আছেন যাবজ্জীবন দণ্ড মাথায় নিয়ে। দীর্ঘ কারা জীবনে এসব বন্দি বনে গেছেন নানান কাজের কাজীতে।

তারা বলছেন, সাজা যখন হয়েছে জেল তো খাটতেই হবে। দীর্ঘ কারাবাসে কাজের মধ্যে থেকে বিষণ্ণতা যেমন দূর হচ্ছে তেমনি টাকাও আয় হচ্ছে। এটি তাদের জন্য বাড়তি পাওয়া।

বন্দিরা আরও বলেন, আগে কারাগারে বন্দিদের দিয়ে যেমন কাজ করানো হতো, তেমনি এখনও কাজ করানো হয়। তবে অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য হলো- আগে কাজ করালেও দেওয়া হতো না কোনো টাকা। আর বর্তমানে কাজ করালে টাকা দেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে খুশি তারা। স্বজনদের বিচ্ছেদের কষ্টের মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের নানান উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি পান বলে জানান তারা।

কারাবন্দি মো. মিলন (২৪)। হত্যা ও অপহরণ মামলায় ৪৫ বছরের সাজা হয়েছে তার। বছর দুয়েক আগে গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ ঠাঁই হয় তার। এখানে কয়েক মাস শুয়ে-বসে সময় পার হওয়ার পর বছর দেড়েক ধরে তিনি কাজ করছেন বেকারিতে। এখনেই এখন সময় পার করেন সুমন। পাশাপাশি কাজের বিনিময়ে যে টাকা পান তা দিয়ে মাঝে মধ্যে ভালো-মন্দ যেমন কিনতে পারেন তেমনি বাড়িতে টাকাও পাঠান কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায়।

মিলন বলেন, এখানে আসার পর কয়েক মাস মন ভীষণ খারাপ থাকতো। একা একা থাকতাম। কারো সংগে মিশতে ভালো লাগতো না। পরে যখন দেখলাম, এখানে অন্য সবাই আমার মতো কোনো না কোনো অপরাধের কারণে সাজা ভোগ করছেন তখন ধীরে ধীরে তাদের সংগে মিশতে থাকি। এক পর্যায়ে বেকারিতে কাজ করার সুযোগ পাই। আর এখন এই বেকারিই আমার জীবন, আমার সংসার। এখানে কাজ করি আর সময় মতো খাই-দাই ঘুমাই। এভাবেই চলছে।

তিনি বলেন, একাজে তেমন কোনো কষ্টও নেই। সব কিছু মেশিনে হচ্ছে। আমরা শুধু হাত দিয়ে সেগুলো মেশিনে দিই আর বের করে সাইজ করি। কিন্তু মজার কথা হলো- আগে নাকি এসব কাজে টাকা দিতো না। তবে গত ৫-৬ বছর ধরে নাকি টাকা দেয়। আমি দেড় বছর ধরে কাজ করছি। রমজানের আগে ৭-৮শ’ বন রুটি বানাতাম আমরা। এখন ৪-৫’শ বানাই। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করি। এ কাজে আগে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতাম। এখন করোনার কারণে কাজ কমে গেছে। তাই ৩-৪শ’ টাকা পাই।

একই কথা বললেন কাগজ বাঁধাইয়ের কাজে জড়িত অপর এক বন্দি। তিনি বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি। ১১ বছর ধরে জেল খাটছেন। যদিও ১০ বছরের সাজা হয়েছিলো তার। তবে আইনি জটিলতায় এখনও রয়েছেন কারাগারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বন্দি  বলেন, কারাগারে আসার পর থেকে কাগজ বাঁধাইয়ের কাজে যুক্ত ছিলাম। এ কাজের কারণে হয়তো সাজার মেয়াদ কোন সময় পার করেছি টেরই পাইনি। যদিও সংসার, স্ত্রী সন্তানদের কথা মনে পড়লে ভীষণ খারাপ লাগে। তবে সাজা তো ভোগ করতে হবে। তাই মেনে নিয়েই বলা যায়, ভালো আছি এ কাজের মধ্য দিয়ে। আগে বাড়ি থেকে টাকা আনা লাগতো, তবে গেল কয়েক বছর টাকা আনতে হয় না। এখান থেকে যা পাই তা দিয়েই মোটামুটি চলে যায়।

এই দুই বন্দির মতো অনেকেই কারাগারে কাজের মাধ্যমে টাকা আয় করছেন।

স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন সাজা হয় মো. মিজানের। ১৮ বছর ধরে কাশিমপুর কারাগারেই তার বাস। বর্তমানে রান্নার কাজে সময় কাটছে তার। পুরোদমে নিজেকে বাবুর্চি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি  বলেন, আমার ৩০ বছরের সাজা। তবে ২২-২৩ বছর খাটলে সরকার ৫৬৯ ধারায় হয়তো মুক্তি দিয়ে দিবে। তখন আমি বের হয়ে একটা উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট দিবো। কারণ, কারাগারে থেকেই আমি সব ধরণের রান্না শিখেছি। এটা আমার পরবর্তী জীবনে খুব কাজে দিবে।

কয়েদি মো. রমজান আলী একটি হত্যা মামলায় বন্দি রয়েছেন কারাগারে। আদালতে এখনও মামলাটির চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় দেড় বছর ধরেই কয়েদি হিসেবে বন্দি তিনি। এরইমধ্যে গার্মেন্টেসের কাজ শিখে ফেলেছেন। কীভাবে শার্ট-প্যান্ট তৈরি করতে হয় এসব এখন তার জানা।

তিনি বলেন, আদালত যদি জামিন পাই তবে গার্মেন্টেসে কাজ করতে পারবো। আগে তো এ কাজ জানতাম না। গাড়ি চালাতাম। যে প্রশিক্ষণ নিয়েছি তাতে এখন আমি ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরিও করতে পারবো।

জানা যায়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ৩ হাজার কয়েদি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জন আসামি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা কাজ করে মাসে উৎপাদন করছেন প্রায় ২ লাখ টাকার পণ্য। এখানকার আয় থেকে ৫০ ভাগ যাচ্ছে কারাবন্দিদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। ফলে কর্মক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বীও হচ্ছেন এসব বন্দি।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ- স্লোগানটি এখন শুধু কাগজে কলমে নয়, চলছে বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টাও। তাই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ৫০ শতাংশ আয় ভাগাভাগি করা হচ্ছে বন্দিদের মাঝে। বাকি টাকাও বন্দিদের জন্যই ব্যয় করা হচ্ছে বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, গেলো এক বছরে এই কারাগারের কারখানাগুলোতে ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬ টাকার বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করেছেন কারাবন্দিরা। যার লাভ এসেছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯২ টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৩ টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে কারখানায় কাজ করা বন্দিদের মাঝে।

তিনি বলেন, পূর্বে এটি ছিলো না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এটি করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দিদের দ্বারা তৈরি পণ্যের লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ তাদেরকে দেওয়া হয়। এ টাকা তারা নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়িতেও পৌঁছে দেয়। মূলত আমরা যে কারাগারে বন্দিদেরকে সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছি, এটি হলো তারই একটি প্রচেষ্টা।

শুধু কাশিমপুর কারাগারেই নয়, দেশের অন্যান্য বৃহৎ কারগারগুলোতেও চালু হয়েছে এ নিয়ম। সেসব কারাগারেও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে আলোর পথে ফিরতে পারবেন বন্দিরা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন  বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় কারাগার এখন আর কারাগার নয়, একটা সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা ৩৯টি ট্রেডে বন্দিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষিত এই বন্দিরা যখন মুক্তি পাবেন তখন তারা যাতে সমাজের মূল ধারার সংগে পুনর্বাসিত হতে পারেন আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সংস্থার সংগে এটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, আমাদের যে সকল বন্দি কারাগারে রয়েছেন তাদের সংশোধিত করে মূল ধারার সংগে পুনর্বাসিত করতে পারবো।

Smart-card.jpg

পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পরিবর্তে নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড)। অনেকেই এখনো জানেন না তার স্মার্টকার্ডটি প্রিন্ট হয়েছে কি না বা প্রিন্ট হলেও সেটি কোথায় আছে।

একটি এসএমএস-এর মাধ্যমে সহজেই এর উত্তর জানা যাবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, স্মার্টকার্ডের অবস্থান জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে NID লিখে স্পেস এনআইডিতে যে ১৭ ডিজিটের নম্বর আছে সেই নম্বরগুলো লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। আর আপনার এনআইডিতে যদি ১৩ সংখ্যার ডিজিট থাকে তাহলে এনআইডি নম্বরের পূর্বে আপনার ৪ সংখ্যার জন্মসাল বসিয়ে ১৭ সংখ্যা করে নিন।

উদাহরণ: SC NID XXXXXXXXXXXXXXXX লিখে পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে।

এসএমএস-এ পাওয়া যায় এনআইডি নম্বর:
অনেকেই নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু জানেন না এনআইডি নম্বর হয়েছে কি না। তারা এসএমএস-এর মাধ্যমে এনআইডি নম্বর পেতে NID লিখে স্পেস দিয়ে Form No লিখে স্পেস দিয়ে জন্ম তারিখ-মাস-সাল লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। ফিরতি এসএমএস এ এনআইডি নম্বর পেয়ে যাবেন।

উদাহরণ: NID XXXXXXXX 26-03-2003 লিখে পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে।

নিজেই নতুন এনআইডি ডাউনলোড করুন:
https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/claim-account ঠিকানায় গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর লগ ইন করলে আপনার বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন। সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং এনআইডির কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

এছাড়া ১০৫ নম্বরে ফোন করে এনআইডি সংকান্ত যেকোনো তথ্য জানা যাবে।

প্রথম দিকে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবায় কোনো টাকা না নিলেও ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফি নেওয়া শুরু করে কমিশন।

baba1.jpg

বাবা শব্দটি সব মানুষের কাছেই প্রিয়। জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বাবার দোয়া। পৃথিবীর বুকে আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাবা। যত আবদার যত অ‘ভিযোগ সবই বাবার কাছে।

সকাল ৭টায় মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে পদ্মাপারের জন্য আসেন আতাউর মিয়াঁ। ৩ নম্বর ঘাটে এসে দেখেন হাজারো মানুষ ফেরির অপেক্ষায়। দুই হাতে ব্যাগ নিয়ে ঠেলে ঠেলে ফেরির কাছে যেতে শুরু করেন। একটিতে ছিল সন্তানদের জন্য কেনা নতুন পোশাকের ব্যাগ আরেকটিতে তার নিজের ব্যবহৃত পোশাক।

বহু কষ্টে এক পর্যায়ে ডাম্প ফেরি রায়পুরাতে উঠতে পারেন আতাউর। তারপর দুইটি ব্যাগের মধ্যে একটি একবারে কিনারে রেখে আরেকটি রাখার চেষ্টা করা মাত্রই পানিতে পড়ে যায় ব্যাগটি। তীর থেকে প্রায় ১০০ গজ সামনে পানিতে ভাসমান ব্যাগটির জন্য তাৎক্ষণিক ফেরি থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু দুইটি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পারছিলেন না। স্থানীয় একজন জেলে নৌকা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।