বিশেষ সংবাদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

teachers3.jpg

১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে আগ্রহী প্রার্থীদের এনটিআরসিএ আয়োজিত ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা- ২০২০ এ অংশগ্রহণে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে প্রিলিমিনারি টেস্ট গ্রহণ করা হবে। প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। আগামী ১৫ মে সকাল ৯টায় স্কুল পর্বের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৩টায় কলেজ শাখার প্রিলিমিনারি টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা

যেহেতু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তাই প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আবেদনের যোগ্যতা ভিন্ন। যোগ্যতা অনুযায়ী একজন প্রার্থী স্কুল বা স্কুল-২ এবং কলেজ উভয় পর্যায়েই আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অবতীর্ণ (এপিয়ার্ড) প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না। তবে বিগত নিবন্ধন পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণরাও ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের নিয়ম

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে ntrca.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি বিকাল ৪টায়। আবেদন করা যাবে ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

পরীক্ষার সময়সূচি

আগামী ১৫ মে আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত স্কুল ও স্কুল-২ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ৭ ও ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে।

প্রিলিমিনারি টেস্টের বিষয় ও নম্বর বণ্টন

বাংলায় ২৫ নম্বর, ইংরেজিতে ২৫, সাধারণ গণিতে ২৫ ও সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর। মোট ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি টেস্ট হবে। ১০০ নম্বরের প্রতিটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার সময় ৩ ঘন্টা। লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের বিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে প্রতিটি বিষয় কতৃপক্ষ কর্তৃক বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হবে।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ৩ স্তরের ১১১৩০ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে পাস করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ও ২৭ জুলাই ১৫ তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করছে এনটিআরসিএ।

লিখিত পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৩৪৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। স্কুল পর্যায়ে ১০ হাজার ৯৬৮ জন, স্কুল পর্যায়-২ এ ৭৭০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ১ হাজার ৬০৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬০ জন ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৫ তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

Democracy-map-2001221156.jpg

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ডের এই সূচকে গত বছর ৮৮তম অবস্থানে থাকলেও এ বছর আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৮০তম স্থানে।

বুধবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) করা এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০০৬ সাল থেকে বিশ্ব গণতন্ত্র পরিস্থিতি পাঁচটি মানদণ্ডে ১০ স্কোরের ভিত্তিতে এ সূচক প্রকাশ করে আসছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। পাঁচটি মানদণ্ডগুলো হলো- নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার।

ইআইইউর এই সূচকে ১০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৮, যা গত বছর ছিল ৫ দশমিক ৭৭। গণতান্ত্রিক এই সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি হলে প্রতিবেশী ভারতের অবনমন ঘটেছে ব্যাপক। গত বছর দেশটি ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় ৪১তম থাকলেও এবার ৫১তম অবস্থানে নেমে গেছে। এ বছর ভারতের স্কোর ৬.৯০।

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলংকা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে গত বছর ৭১তম অবস্থানে থাকলেও এবার দেশটির দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। ৬.২৭ স্কোর নিয়ে এ বছর ৬৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এদিকে ৪ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান গত বছর ১১২তম থাকলেও এবার ৪.২৫ স্কোর নিয়ে ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে।

ইআইইউর সূচকে এবারো ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বে শীর্ষ দেশ নরওয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৯.৫৮। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন (স্কোর ৯.৩৯), চতুর্থ নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৯.২৬) এবং পঞ্চম দেশ ফিনল্যান্ড (স্কোর ৯.২৫)।

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে এ বছর একেবারে তলানিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি ১.০৮ স্কোর নিয়ে ১৬৭তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ১৬৬তম (স্কোর ১.১৩), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৬৫তম (স্কোর ১.৩২), সিরিয়া ১৬৪তম (স্কোর ১.৪৩) ও চাদ ১৬৩ (স্কোর ১.৬১)।

sheikh-mujib.jpg

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেদিন জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ২৫ সেপ্টেম্বরকে ২০২০ সালের জন্য ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগনণার চারদিনের মাথায় নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো এ ঘোষণা দেন। এনআরবি নিউজ।

গত ১৪ জানুয়ারি স্টেট গভর্নর স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রের কপি ২০ জানুয়ারি বিতরণ করেছেন নিউইয়র্ক স্টেট সেক্রেটারি আলেন্ড্রো এন পলিনো।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার চেষ্টায় গত বছরও একই ধরনের একটি রেজ্যুলেশন পাশ হয় নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে। সেটি নবায়ন করার জন্য গত ৯ জানুয়ারি সিনেটে উপস্থাপন করা হয়। সিনেট রেজ্যুলেশন নম্বর ২৩৪৬।

বিশ্বজিৎ সাহা জানান, ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরের জন্যে আমি ঢাকায় যাচ্ছি।

লাল সবুজের রক্তমাখা পতাকা উড়ছে জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে। আরো শতাধিক দেশের পতাকার পাশে বাংলাদেশ ঠাঁই করে নিয়েছে নিজের আসন। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশন। অধিবেশন কক্ষে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়ক ও সরকার প্রধানরা।

অধিবেশনে সভাপতির আসনে আলজেরিয়ার মুক্তি সংগ্রামের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকা। সভাপতি ‘বাঙালি জাতির মহান নেতা’ হিসেবে পরিচিতি জানিয়ে বক্তৃতা মঞ্চে আহ্বান করেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বাঙালির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু আরোহণ করলেন বক্তৃতা মঞ্চে। প্রথম এশীয় নেতা, যিনি এই অধিবেশনে সবার আগে ভাষণ দেবেন। দৃপ্ত পায়ে বক্তৃতা মঞ্চে উঠে ডায়াসের সামনে দাঁড়ালেন বঙ্গবন্ধু। মুহুর্মুহু করতালি। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা শুরু করেন মাতৃভাষা বাংলায়। যে ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথে বাঙালি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। সেই ভাষায় প্রথম ভাষণ জাতিসংঘে। বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে আবার ঠাঁই করে দিলেন। এর আগে ১৯১৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে বিশ্ববাসী জেনেছিল বাংলা ভাষার অমর অমল আবেদন। এর ষাট বছর পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে উচ্চারণ করলেন বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার অমর শব্দসমূহ।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে বিশ্বের সকল নেতা নিজ নিজ মাতৃভাষাতেই ভাষণ দিয়ে থাকেন। জাতিসংঘের সরকারি ভাষা ছয়টি। ইংরেজি, ফরাসী, রুশ, চীনা, স্প্যানিশ ও আরবি। এই ৬ ভাষাতেই বক্তৃতা রূপান্তরিত হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক পলকে চারদিক দেখে নিলেন। এর আট দিন আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য দেশ হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।

এর আগে ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে দুই দুই বার চীনের ভেটোর কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করতে পারেনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা করলেও ১৯৭৪ সালে এসে চীন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনেকটা নমনীয় হয়। ফলে চীন তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তুমুল করতালির মধ্যে নবীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। ওই দিনই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে বাঙালির প্রথম প্রবেশ ঘটে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ স্থায়ী আসন পেল যেন। বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যভুক্তির পর বিশ্বের অনেক দেশই অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখে।

জাতিসংঘে মার্কিন স্থায়ী রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের পার্লামেন্টে নতুন দেশ বাংলাদেশকে স্বাগতম’ জাতিসংঘের মহাসচিব তখন ড. কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম। তিনিও বাংলাদেশকে স্বাগত জানান, তবে প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকব মালিক ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং।

আর সেদিনটিকেই বেছে নিলেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা বাংলাদেশী ‘ইমিগ্রান্ট ডে’ হিসেবে। তার প্রস্তাবনায় ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সেনেটর স্টেভেস্কি এইদিনটিকে ‘বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট ডে হিসাবে’ রেজ্যুলেশন পাশ করার জন্য সিনেটে উপস্থাপন করেন এবং দীর্ঘ শুনানির পর এটি সর্বসন্মতিক্রমে পাশ হয়

acl6.jpg

রেকর্ড সৃষ্টি করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান। সিরাজগঞ্জে ২২ মাসে ২০৩ বাল্যবিয়ে বন্ধ করে তিনি এই রেকড গড়েন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন এটিকে দেখছে ইতিবাচক হিসেবে। এজন্য গত বছরের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে সিরাজগঞ্জ সদরের এ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিশেষ সম্মাননা দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

জানা গেছে, আনিসুর রহমান যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি যশোরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তার ভেজালবিরোধী অভিযানে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভেজাল কারবারিরাও নিয়ম মানতে বাধ্য হন। এজন্য যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখনও এ কর্মকর্তার প্রশংসা শোনা যায়।

২০১৭ সালের শেষ দিকে যশোর থেকে তিনি বদলি হয়ে যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যোগ দেন। তিনি সেখানে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সেখানকার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধেও মাঠে নামেন তিনি। দুটি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘনকারী ১২৪ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে মা-ইলিশ রক্ষায় অবদান রাখেন। চৌহালী উপজেলায় থাকা অবস্থায় তিনি সব পাবলিক পরীক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে নকলমুক্ত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, চৌহালী উপজেলায় থাকাকালীন ৩৩ সপ্তাহে ৩৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন, যা এখনও চৌহালীবাসীর মুখে মুখে।

এরপর বদলি হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন। সেখানে এক বছরে ১৬৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। ইতোমধ্যে একদিনে সাতটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিশু থেকে একাদশ শ্রেণির কিশোরীও রয়েছে।

পৌরসভায় ৩২টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোকশাবাড়ীতে ১১টি, সয়দাবাদে ১৬টি, কালিয়া হরিপুরে ১৯টি, বাগবাটিতে ২৬টি, রতনকান্দিতে ২৯টি, বহুলীতে ১৩টি, শিয়ালকোলে ১০টি, ছোনগাছায় ১০টি, কাওয়াখোলায় তিনটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন তিনি।

তিনি চৌহালী উপজেলায় ৩৪টি ও সদর উপজেলায় ১৬৯টিসহ মোট ২০৩টি বাল্যবিয়ে নিজে উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেন।

তিনি বাল্যবিয়ে বন্ধে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে এর কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন। সামাজিক এ ব্যাধি দূর করতে সমাজের সবার সহযোগিতা চান আনিসুর রহমান। এজন্য তিনি সর্বত্র উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে এ সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন। এছাড়া বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া অসহায় গরিব তিন ছাত্রীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন সরকারি এ কর্মকর্তা।

rohi66.jpg

মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর যে সামরিক জান্তারা নিপীড়ন চালিয়েছে তাকে সেটিকে গণহত্যা না বলে সেনাদের যুদ্ধাপরাধ বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) মিয়ানমারের দ্য ইনডিপেনডেন্ট কমিশন অব এনকোয়ারি বা আইসিওইর প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের সময় বৈশ্বিক বিভিন্ন পক্ষ গণহত্যার অভিযোগ তুললেও বাস্তবে এর আলামত মেলেনি। কমিশন এও মনে করে, অভিযানে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে ‘যুক্তিসংগত কারণ’ থাকতে পারে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর কিছু সেনা সদস্য যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কাজ করেছে। তারা নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তবে এই অপরাধ কোনোভাবেই গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত নয় বলে উল্লেখ করেছে আইসিওই প্যানেল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিপীড়নের কারণে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। যা দেশের জন্য বড় রকম হুমকি বলে মনে করেছে অনেকেই।

pkhaldar.jpg

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) বর্তমানে সিঙ্গাপুর অবস্থান করছেন। তার প্রায় ৫শ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেশে থাকার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব সম্পদ ক্রোকের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক। প্রশান্ত কুমার হালদার কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিজ নামে ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জমা করেছেন।

ক্যাসিনোবিরোধী সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানের পরপরই প্রশান্ত কুমার হালদারের নাম উঠে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ নভেম্বর হাজির হতে নোটিশ দিয়েছিল সংস্থাটি। তার আগে ৩ অক্টোবর তাঁর বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ঠিকই দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

জানা গেছে, প্রশান্ত কুমার হালদারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালতে আবেদন করতে সোমবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করতে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে একটি অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করতে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে নিযুক্ত করে। ওই কর্মকর্তা অনুসন্ধান শুরুর পরই পুলিশের গোয়েন্দা শাখা চিঠি দেয়, প্রশান্ত কুমার যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন। কিন্তু দেশত্যাগে এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশান্ত কুমার হালদার নিজ নামে ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জমা করেছেন। যার মধ্যে তার নিজ নামে পরিচালিত হিসাবগুলোতে ২৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, তার মা লীলাবতীর নামে পরিচালিত হিসাবে ১৬০ কোটি টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ২৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে জমা করা হয়েছে- যা পরে বিভিন্ন সময়ে উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তরপূর্বক তিনি এসব অর্থের অবস্থান গোপন করেন এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত এসব অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তার নামে-বেনামে ঢাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়িসহ আরও সম্পদ রয়েছে বলে মনে করে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানকালে প্রশান্ত কুমার হালদারের আয়কর নথি ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার নিজ নামে ৩২ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অর্জনের সপক্ষে আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রশান্ত কুমার হালদার ৮টি কোম্পানিতে তার নিজ নামে, নিকটাত্মীয় ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে এবং বেনামে ৬৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৯ টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তিনি ৯৯ কোটি ৬১ লাখ ২ হাজার ৯২৫ টাকার সম্পদ অর্জনের আয়ের সপক্ষে বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।

এ ছাড়া প্রশান্ত কুমার হালদার ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ৯টি দলিলমূলে ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় এবং উথুরা মৌজায় সর্বমোট ৫৮৯ শতক জমি নিজ নামে ১ কোটি ৩৪ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। ওই স্থাবর সম্পদ অর্জনের পক্ষে কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।

দুদক কর্মকর্তা বলেন, আমরা তার ওপর নজর রাখছি। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, প্রশান্ত কুমার হালদার অবৈধভাবে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকা অর্জন করেছেন-দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে গত ৮ জানুয়ারি মামলা করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির শীর্ষপর্যায়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ২৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেতন-ভাতাসহ ১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকা আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রশান্ত কুমার হালদারের দেশে যে পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, তা ৫শ কোটি টাকার মতো হতে পারে। এখন এ সম্পদ ক্রোকের অনুমতির জন্য আমরা আদালতে যাবো। আদালতে আবেদন করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশান্ত কুমার হালদারের নামে ঢাকায় একাধিক বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার পাশাপাশি নামে ও বেনামে একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি অবৈধ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করেছেন। অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদের বিষয়ে পরে তদন্তকালে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। মামলার তদন্তকালে আর কোনো সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালে কমপক্ষে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মালিকানায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেই চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এখন চরম খারাপ। একটি বিলুপ্তের পথে, বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। নানা কৌশল করে এসব প্রতিষ্ঠান দখল করার জন্য নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলেছেন, শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনেছেন, দখল করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে টাকাও সরিয়েছেন। এমনকি দেশের বাইরেও কোম্পানি খুলেছেন। আর এই ব্যক্তি হলেন প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। আর এসব কাজে তাঁকে সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পি কে হালদারের দখল করা প্রতিষ্ঠান চারটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

এর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য অবসায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠান দখলে নিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই পি কে হালদারের নিজের নামে শেয়ার নেই। প্রশান্ত কুমার হালদার প্রতিষ্ঠান দখল ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে। অনেক ক্ষেত্রে সমর্থনও পেয়েছেন। সব শেয়ার অন্যদের নামে হলেও ঘুরেফিরে আসল মালিক পি কে হালদারই। নিজেকে আড়ালে রাখতে এমন কৌশল নেন তিনি। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে পি কে হালদার গড়ে তুলেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠান, যার বেশির ভাগই কাগুজে। এর বাইরে আনন কেমিক্যাল, নর্দান জুট, সুখাদা লিমিটেড, রেপটাইল ফার্মসহ আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান।

কাগজে–কলমে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছেন পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, খালাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারীসহ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন। আবার ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফানউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক সহকর্মী উজ্জ্বল কুমার নন্দীও আছেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায়।

gas3c.jpg

দেশে বর্তমানে মোট ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা মাত্র ১১ বছর ব্যবহার সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সংসদে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্মসূচি শুরু হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান গ্যাস ক্ষেত্রসমূহ থেকে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে এখনো ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত আছে, যা ১১ বছর ব্যবহার করা সম্ভব হবে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য স্থানে গ্যাসের কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্যাস নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রহণ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী বাপেক্স ২০১৯-২১ সাল নাগাদ দুটি অনুসন্ধান কূপ, ২০২২-৩০ সাল নাগাদ ১৩টি অনুসন্ধান কূপ এবং ২০৩১-৪১ সাল নাগাদ ২০টি অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শ্রীকাইল ইস্ট-এ অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলার জকিগঞ্জে এবং ভোলা জেলায় দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পেট্রোবাংলার সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক তেল কোম্পানির সম্পাদিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় অগভীর সমুদ্রের ব্লক এসএস ০৪, এসএস ০৯, এসএস ১১ এবং গভীর সমুদ্র অঞ্চলের ব্লক ডিএস ১২তে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অগভীর সমুদ্রের ব্লগ ০৪ একটি অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু হবে।

নিজ দলের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের অপর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে এবং আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক ৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ, বর্তমানে দেশে দৈনিক গড়ে মোট ৩ হাজার ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্যাপটিভ পাওয়ার শিল্প সার কারখানা সিএনজি গৃহস্থালি বাণিজ্যিক ও চা বাগান শ্রেণিতে নিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবাসিক খাতে গড়ে দৈনিক ৪৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাণিজ্যিক খাতে গড়ে দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

tofael54.jpg

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে আমরা আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। বৈরী অবস্থায় দেশে ফিরে পিতার (বঙ্গবন্ধু) স্বপ্নপূরণের কাজে তিনি হাত দেন। ২১ বছর সংগ্রাম করে ৯৬ সালে প্রথম আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন শেখ হাসিনা। আর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানান, আর আমাদের কারাগারে বন্দি করে নির্যাতন করেন।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন তোফায়েল আহমেদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শহীদ আসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গণঅভ্যুত্থান করে বঙ্গবন্ধুকে আমরা কারাগার থেকে মুক্তি করেছিলাম। কিন্তু দিনটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও আমরা যথাযথভাবে পালন করি না।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে অনেক নেতা আসবেন, যাবেন, কিন্তু জাতির পিতার মতো বিচক্ষণ নেতা বিরল।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য বলেন, কারাগার থেকে মুক্ত করে এনে পল্টনের ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ থেকে আমরা জাতির পিতাকে কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলাম। পাকিন্তানের হানাদাররা বঙ্গবন্ধুর কারাগারের সামনে কবর খুঁড়ে রেখেছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মৃত্যুর ভয় করি না, বাঙালি জাতি হাসতে হাসতে জীবন দেবে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই।

padma4547.jpg

পদ্মা বহুমুখী মূলসেতুর ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি। রোববার (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় এ তথ্য জানানো হয়। পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্পের প্রতিটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় এ সভায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের প্রকল্পের পুরো কাজের ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলেও জানানো হয় সভায়।

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ-৯১%, মাওয়া প্রান্তে এপ্রোচ রোডের কাজ-১০০%, সার্ভিস এরিয়া(২)-১০০%, মূল সেতু নির্মাণ কাজ ৮৫.৫০% এবং নদীশাসনের কাজ ৬৬% শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.৫০% শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্টের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

পদ্মাসেতুর কাজের অগ্রগতির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ঝামেলা গেছে আপনারা জানেন। আমরা আনন্দিত অর্ধেকের বেশি হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের মতো হয়ে গেছে।’

Bangabandhu-23111-1-1170x660.png

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন বলিউডের আলোচিত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। সিনেমাটির নাম প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। আগামী এপ্রিলে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে।

ইতোমধ্যে লোকেশন চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিনেমাটির শিল্পী তালিকায় কারা থাকবেন তা নিয়ে চলছে কৌতূহল।

সিনেমাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীরা অভিনয় করবেন। তবে নির্মাতা ভাষাগত দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ থেকেই বেশিরভাগ শিল্পী নিতে চান বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুসহ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য ৩৬ জনের একটি তালিকা নির্মাতার হাতে রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন মিলনায়তনে গত ৬ জানুয়ারি থেকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে শিল্পী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়।

প্রথম দুই দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পীদের অডিশন নিয়েছেন শ্যাম বেনেগাল। এরপর বুধবার ভারতে ফিরে গেছেন এই নির্মাতা। এর আগে মুম্বাইয়ে বেশ কিছু ভারতীয় শিল্পীর অডিশন নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের অডিশন পর্বে অনেক তারকাশিল্পী অডিশন দিয়েছেন। তবে কে কোন চরিত্রে চূড়ান্ত হবেন, সেটা নির্মাতা ছাড়া কেউ জানেন না। বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় দেখানো হবে। ফলে একাধিক শিল্পী অভিনয় করবেন বঙ্গবন্ধু চরিত্রে।

এই চরিত্রটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক শিল্পীর নাম শোনা গেলেও কোনোটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে নির্মাতার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার চরিত্রের জন্য নুসরাত ইমরোজ তিশা ও জয়া আহসানের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা এরই মধ্যে নির্মাতার কাছে অডিশন দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে সিনেমাটির অডিশন প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক মামুনুর রশীদকে একটি চরিত্রে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।