বিশেষ সংবাদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

sena1.jpg

বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে রোববার সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দলের ওপর একই দিনে দু দুটো হামলার ঘটনায় উদ্বেগের পাশাপাশি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসিকে বলেন, তিনি এই হামলার ঘটনায় হতভম্ব হয়েছেন।

“শান্তি প্রক্রিয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরণের হামলার কথা আমি শুনিনি…হঠাৎ করে এই অ্যামবুশ,” বলেন ব্রিগেডিয়ার হোসেন যিনি নব্বইয়ের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন ব্রিগেড কম্যান্ডার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সেনাবাহিনীর ওপর বড় কোন হামলার কথা শোনা যায়নি।

তবে, গত প্রায় বছর-খানেক যাবত পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে পরপর বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং তার পরদিনই আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর গত কয়েক মাসে পরপর আরো কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেসবের পেছনে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইকেই দায়ী করা হয়।

ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এখন কারা কোন উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করলো?

রোববারের ঘটনা সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক লাইনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে কাউকেই সন্দেহ করা হয়নি।

তবে বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে একাধিক পর্যবেক্ষক অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন আরাকান আর্মি নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি রোববারের হামলা সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি হাতে পেয়েছেন যা দেখে তার মনে হয়েছে হামলাকারীরা দেশের বাইরে থেকে আসা।

“তাদের (হামলাকারীদের) হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল যেগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের হাতে দেখা যায়, তাদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল, এবং গড়ন দেখে মনে হয়না যে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কোনো একটি সদস্য।”

রাঙ্গামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহি বলেন, রাজস্থলী নামে যে এলাকায় এই হামলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা কেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল।

বিবিসিকে মি. এলাহি বলেন, “বছর দুই আগে রাজস্থলী উপজেলা থেকেই আরাকান আর্মির অন্যতম শীর্ষ নেতা রেনিন সোয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবং সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি দলের উপস্থিতির কথা আমরা জানি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মগ লিবারেশন পার্টি নামে নতুন একটি দলের নামও শোনা যাচ্ছে।”

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আরকান আর্মি তাদের হয়ে লড়াই করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা থেকে ‘রিক্রুট’ করার চেষ্টা করছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, আরাকানের বৌদ্ধদের সাথে পার্বত্য এলাকার কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর চেহারা এবং গড়নে অনেক মিল রয়েছে। “অনেক সময় তাদের দেখে আলাদা করা কঠিন।”

কিন্তু যোদ্ধা রিক্রুট করার সন্দেহ যদি সঠিকও হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করার কারণ কী থাকতে পারে?

ব্রিগেডিয়ার হোসেন মনে করেন, এটা ইচ্ছাকৃত উস্কানি হতে পারে।

“উস্কানি দিলে যদি সেনাবাহিনী বড় কোনো অভিযান শুরু করে তাহলে এই এলাকা থেকে স্থানীয় যুবকদের রিক্রুট করা তাদের (আরাকান আর্মির) জন্য সুবিধা হবে।

তবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্রিগেডিয়ার হোসেন। “কিছুদিন আগে আরাকান আর্মির কিছু সদস্যকে ধরে মিয়ানমারের হাতে তুলে দেওযা হয়েছিল, তার বদলা হিসাবেও এই হামলা হতে পারে।”

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, যদি এটা উস্কানি হয় এবং সেনাবাহিনী যদি সেই উস্কানিতে সাড়া দেয় তাহরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন না হলেও উৎকণ্ঠার অনেক কারণ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল করেছে। এই ঘটনার পর তারা যদি আবার শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে আরেক ধরণের সমস্যা হতে পারে।

রোববারের হামলার পর সম্পৃক্তদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হতে পারে এমন আশংকায় রাজস্থলী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল সোমবার।

রাজস্থলী উপজেলার চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বিবিসিকে বলেছেন, ভয়ে অনেক লোক গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।

“এলাকায় ভয়ভীতি বিরাজ করছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পালিয়ে আছে তারা। এখন অশক্ত বয়স্ক মানুষেরাই কেবল আছে এলাকায়।”

সুত্রঃ বিবিসি-বাংলা

rohingya1254.jpg

সবধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করেনি মিয়ানমার। এবারও হঠাৎ করে তিন হাজার ৪৫০ জনকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে দেশটি। বারবার কথা না রাখায় এবারের প্রক্রিয়া নিয়েও কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, তারপরও প্রত্যাবাসনের জন্য মাঠপর্যায়ে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবগঠিত রোহিঙ্গা সেলের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রত্যাবাসনে সম্মত হওয়াটাই শেষ কথা নয়। তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু হতে যাওয়াটা ইতিবাচক। আমরা সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথম প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, দুই দফায় ২২ হাজার ৪৩২ এবং ২৫ হাজার সাতজন রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কীভাবে এবং কবে শুরু হচ্ছে সে বিষয়ে মুখ খুলছে না সংশ্লিষ্ট কেউই।

আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আমি এখনও বিস্তারিত জানি না। এটুকু বলতে পারি, সরকার সিদ্ধান্ত নিলে মাঠপর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছি।

গতকাল রোববারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন হবে- এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের প্রস্তুতি শেষপর্যায়ে।

এদিকে মিয়ানমারের নেপিডোতে গত শুক্রবার দেশটির সরকারের মুখপাত্র জ থে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দু’দেশ আগামী ২২ তারিখে (আগস্ট) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়েছে।

তবে রোববার পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এক অনুষ্ঠানে বলেন, যেকোনো সময়ে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। পর্দার অন্তরালে অনেক কিছুর চেষ্টা হচ্ছে। তবে সব চেষ্টা সফল হবে এমন নয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দিন-তারিখ না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করব। শুধু বাংলাদেশের নয়, প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য। তারা সেখানে না ফিরলে সেখানকার সব অধিকার হারাবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই হাজার রোহিঙ্গা রাখাইনে প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়। কিন্তু নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় রোহিঙ্গারা ফিরতে অস্বীকৃতি জানালে পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়।

২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩১টি ক্যাম্পে জড়ো করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। গত বছরের শেষ সময়ে এবং চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা দিয়েও সে কথা রাখেনি মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মিয়ানমার সরকার ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, রোহিঙ্গারা এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

সম্প্রতি মিয়ানমারের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্ট প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার দিন ঠিক হয়েছে।

গত মাসে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের হাতে যে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা বাংলাদেশ দিয়েছিল সেখান থেকেই ৩ হাজার ৫৪০ জনকে নেয়ার বিষয়ে ছাড়পত্র মেলার কথা জানিয়েছিলেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিন্ট থু।

tk6.jpg

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রী নিশাত তাসনিম প্রায় ছয়মাস ধরে গবেষণা করেছেন টাকা ও কয়েন নিয়ে।

আর খুলনা শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের দোকান ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকা ও কয়েনে তিনি এমন ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন যা মানুষের মল-মূত্র থেকে আসে।

“ই-কোলাই জাতীয় ব্যাকটেরিয়া মানুষের মলে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়াই ক্ষতিকর মাত্রায় নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা টাকা ও কয়েনে পেয়েছি”।

তিনি জানান এক হাজার মাত্রা পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়াকে সহনশীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হলেও ১২টি উৎস থেকে নেয়া কাগজের টাকার নোট ও কয়েনের আরও অনেক বেশি মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন তারা।

নিশাত তাসনিম বলছেন, “সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি মাছ, মাংস আর মুরগীর দোকান থেকে সংগ্রহ করা টাকার নোট আর কয়েনে”।

তিনি বলেন এসব জায়গায় বিক্রেতারা যেই হাতে মাছ, মাংস,মুরগী ধরছেন এবং পরিষ্কার করছেন আবার সেই হাতেই টাকা ধরছেন। আবার ক্রেতারাও তাদের সাথেই হাত দিয়ে ধরে নোট বা কয়েন বিনিময় করছেন।

“আমরা দেখার চেষ্টা করছি যে প্রতিদিন যে এতো টাকা আমরা একে অন্যের সাথে শেয়ার করছি তা কতটা নিরাপদ। কিন্তু এটি করতে গিয়ে পুরনো সব নোট ও কয়েনেই ক্ষতিকর মাত্রায় ই-কোলাই ও ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পেয়েছি আমরা”।

নিশাত তাসনিমের এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী।

মিস্টার চৌধুরী বলেন খুলনা শহরে ছয় মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন তারা।

“এ পরীক্ষায় আমরা যে পেয়েছি তা জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ। কারণ সাধারণ ব্যাকটেরিয়া তো আছেই, সাথে পাওয়া গেছে মানুষের মল মূত্র থেকে আসা ব্যাকটেরিয়া, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক”।

তিনি বলেন টাকা সবার জন্যই জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় কারণ টাকা ছাড়া সব অচল। কিন্তু অসাবধানতার কারণেই সেই টাকাই মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

“টাকা আমরা যেভাবে ব্যবহার করছি আবার ঠিকমতো হাত না ধুয়েই খাবার খাচ্ছি। রাস্তায় সব এক হাতেই হচ্ছে”।

মলমূত্রের ব্যাকটেরিয়া টাকায় এলো কিভাবে?

নিশাত তাসনিম বলছেন যেখানে মাছ, মাংস ও মুরগী বিক্রি হয় সেই জায়গাগুলো প্রায় সবই নোংরা। আবার টাকা দাতা ও গ্রহীতার পরিচ্ছন্নতার অভাব থেকেও টাকা বা কয়েনে ব্যাকটেরিয়ো আসতে পারে।

অধ্যাপক চৌধুরী বলছেন, “কিছু ব্যাকটেরিয়া এমনিতেই হয়। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া মল মূত্রের সাথে থাকে। যেমন ধরুন সুইপার হিসেবে যারা কাজ করেন তারা সরাসরি মলমূত্র নিয়ে কাজ করেন। তাদের কাছেও প্রতিনিয়ত অনেক টাকা বা কয়েন হাতবদল হয়। আবার বাজারে টাকা মাটিতে পড়ে। মূলত এভাবে মলমূত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া চলে আসে নোট বা কয়েনে”।

মিস্টার চৌধুরী বলছেন পরীক্ষাটি করার জন্য তারা মুরগী, মাছ, মাংস, ফুচকাসহ রাস্তার খাবারের দোকান, রিকশা ও ভ্যান চালকসহ মোট বারটি উৎস থেকে নোট ও কয়েনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।

“আবার নোট ও কয়েনের ক্ষেত্রেও বাজারে প্রচলিত সব কয়েন ও নোটের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে খুলনা শহরের নানা জায়গা থেকে”।

কিভাবে নিরাপদ থাকা যেতে পারে

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী বলছেন নোট বা কয়েন হাতে নেয়ার পর সেই হাত না ধুয়ে খাবার খেলে ব্যাকটেরিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

“অনেকেই ওয়াশরুম থেকে আসার পর ঠিকমতো হাত ধোয়ার অভ্যাস নেই। তারাই আবার টাকা ধরছেন এবং সেই টাকা তাদের কাছ থেকে অন্যদের কাছে যাচ্ছে। এভাবেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়াচ্ছে। তাই ঝুঁকি মুক্ত থাকতে চাইলে সচেতনতার বিকল্প নেই”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড: শামীমা নাসরিন শাহেদ বলছেন যথাযথভাবে হাত না ধুয়ে খাবার খেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে”।

এমনকি খুব বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে পরিপাকতন্ত্রের আরো নানা ধরণের রোগবালাই হবার আশংকা থেকে যায় বলে জানান তিনি।

গবেষণা কোন মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী জানান মাংসের দোকানে সর্বোচ্চ ২৬৭০, মাছ বিক্রেতার কাছে থাকা টাকায় ২৬০০ ও মুরগি বিক্রেতার টাকায় ২৩০০ ই- কোলাই ব্যাকটেরিয়া এবং এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

এমনকি ভিক্ষুকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা কয়েনেও এক হাজার মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

মিস্টার চৌধুরী বলছেন খুলনায় তারা একই বিষয়ে আবারো পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন এবং এরপর আরও কয়েকটি বড় শহরের নোট ও কয়েনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়েও গবেষণার পরিকল্পনা আছে তাদের। – বিবিসি বাংলা

bangar.jpg

আমার বাইরের ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙতেই আমি ভাবলাম, কী হচ্ছে? এত সকালে দরজার ওপর এ রকম ধাক্কাধাক্কি! দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে দরজা খুলে দিই। দিতেই যা দেখলাম তার জন্য তৈরি ছিল না সদ্য ঘুমভাঙা চোখ। আমার একটু দূরে দাঁড়িয়ে মেজর রশিদ (পরে লে. ক. অব.)। সশস্ত্র। তার পাশে আরও দুজন অফিসার। প্রথমজন মেজর হাফিজ (আমার ব্রিগেড মেজর), অন্যজন লে. কর্নেল আমিন আহমেদ চৌধুরী (আর্মি হেডকোয়ার্টারে কর্মরত)। তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। মনে হলো এ দুজনকে জবরদস্তি করে ধরে আনা হয়েছে। আমার চমক ভাঙার আগেই রশিদ উচ্চারণ করল ভয়ংকর একটি বাক্য, ‘উই হ্যাভ কিল্ড শেখ মুজিব’। অস্বাভাবিক একটা কিছু যে ঘটেছে, সেটা আগন্তুকদের দেখেই বুঝেছিলাম। তাই বলে এ কী শুনছি! আমাকে আরও হতভম্ব করে দিয়ে রশিদ বলে যেতে লাগল, ‘উই হ্যাভ টেকেন ওভার দ্য কনট্রোল অব দ্য গভর্নমেন্ট আন্ডার দ্য লিডারশিপ অব খন্দকার মোশতাক।…আপনি এই মুহূর্তে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাবেন না। কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া মানেই গৃহযুদ্ধের উসকানি দেওয়া।’ রশিদের শেষ দিকের কথাগুলোতে হুঁশিয়ারির সুর ছিল।

মেজর রশিদ ছিল আমার অধীনস্থ আর্টিলারি রেজিমেন্টটির অধিনায়ক। মাসখানেক আগে সে ভারত থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফেরে। তার পোস্টিং হয় যশোরে। কয়েক দিন পরেই সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ মেজর রশিদের পোস্টিং পাল্টে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, এ ধরনের পোস্টিং সেনাপ্রধানের একান্তই নিজস্ব দায়িত্ব।

কী সর্বনাশ ঘটে গেছে এ কথা ভেবে স্তম্ভিত আমি! এরই মধ্যে চোখে পড়ল একটু দূরে রাস্তায় দাঁড়ানো একটা ট্রাক আর একটা জিপ। গাড়ি দুটো বোঝাই সশস্ত্র সৈন্যে। রশিদের কথা শেষ হতে না-হতেই পেছনে বেজে উঠল টেলিফোন। দরজা থেকে সরে গিয়ে রিসিভার তুললাম। ভেসে এল সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর কণ্ঠ, ‘শাফায়াত, তুমি কি জানো বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে কারা ফায়ার করেছে?…উনি তো আমাকে বিশ্বাস করলেন না।’ বিড়বিড় করে একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন সেনাপ্রধান। তাঁর কণ্ঠ বিপর্যস্ত। টেলিফোনে তাঁকে একজন বিধ্বস্ত মানুষ মনে হচ্ছিল। আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না, তবে এইমাত্র মেজর রশিদ এসে আমাকে জানাল, তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণভারও গ্রহণ করেছে।’ রশিদ যে আমাকে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিরুদ্ধে হুমকিও দিয়েছে, সেনাপ্রধানকে তাও জানালাম। সেনাপ্রধান তখন বললেন, বঙ্গবন্ধু তাকে টেলিফোনে জানিয়েছেন যে শেখ কামালকে আক্রমণকারীরা সম্ভবত মেরে ফেলেছে। তবে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা শেষে তাঁর অবস্থান কী, সে সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারলাম না। প্রতিরোধ-উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ বা নির্দেশ কিছুই পেলাম না।

আমার মাথায় তখন হাজার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। দ্রুত আমার ব্রিগেডের তিনজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে ফোন করে তাদেরকে স্ট্যান্ড টু (অপারেশনের জন্য প্রস্তুত) হতে বললাম। বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে আমার অধীনস্থ প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলাম। ব্যারাকে শান্তিকালীন অবস্থায় কোনো ইউনিটকে অভিযানের জন্য তৈরি করতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। তার আগে কিছুই করা সম্ভব নয়।

ফোন রেখে ড্রইং রুমে এসে দেখি, মেজর হাফিজ (আমার ব্রিগেড মেজর) একা। রশিদ আর তার সঙ্গের আরেকজন অফিসার এরই মধ্যে চলে গেছে। রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়ি দুটোও উধাও। আমার পরনে তখন স্রেফ লুঙ্গি-গেঞ্জি। মানসিক পরিস্থিতি এমন যে ওই অবস্থাতেই বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হাফিজ আমাকে থামাল, ‘স্যার, আপনি ইউনিফর্ম পরে নিন।’ ওর কথায় যেন সংবিৎ ফিরল আমার। ঝটপট ইউনিফর্ম পরে তৈরি হয়ে নিলাম।

হাফিজকে সঙ্গে করে বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম। সেদিন আমার বাড়ির গার্ড ছিল মেজর রশিদের ইউনিটের কয়েকজন সদস্য। কে জানে এটা নিছকই কাকতালীয় ছিল কি না! গার্ডদের পেরিয়ে রাস্তায় পা রাখলাম। গাড়িটাড়ি কিছু নেই। সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথমে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে যাব। বাসা থেকে হেডকোয়ার্টার বেশি দূরে নয়। হাঁটতে হাঁটতেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম। ঠিক করলাম, আগে যাব ডেপুটি চিফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায়। ডেপুটির কাছ থেকে কোনো নির্দেশ বা উপদেশ পাওয়া যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ছিলাম। একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তাঁর ওপর আমার একটা আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। ডেপুটি চিফ জিয়ার বাসভবন আমার বাসা ও ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের মাঝামাঝি। জিয়ার বাসার দিকেই পা চালালাম দ্রুত। কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করার পর দরজা খুললেন ডেপুটি চিফ স্বয়ং। অল্প আগে ঘুম থেকে ওঠা চেহারা। স্লিপিং ড্রেসের পাজামা আর স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে। একদিকের গালে শেভিং ক্রিম লাগানো, আরেক দিক পরিষ্কার। এত সকালে আমাকে দেখে বিস্ময় আর প্রশ্ন মেশানো দৃষ্টি তাঁর চোখে। খবরটা দিলাম তাঁকে। রশিদের আগমন আর চিফের সঙ্গে আমার কথোপকথনের কথাও জানালাম। মনে হলো জিয়া একটু হতচকিত হয়ে গেলেন। তবে বিচলিত হলেন না তিনি। নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘So what, President is dead? Vice-president is there. Get your troops ready. Uphold the Constitution. ’ সেই মুহূর্তে যেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ধ্বনিত হলো তাঁর কণ্ঠে। ডেপুটি চিফের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। আমাদের এখন একটা গাড়ি দরকার।

তিন প্রধান রওনা হলেন রেডিও স্টেশনের দিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসার গেট থেকে বেরিয়েই দেখি আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে ডেপুটি চিফের জন্য জিপ আসছে। জিপটাকে থামিয়ে কমান্ডিয়ার (অধিগ্রহণ) করলাম। তারপর রওনা হলাম ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের দিকে। ওদিক থেকে একটানা কিছু গুলির আওয়াজ শুনলাম। একটু সামনে যেতেই দেখলাম একটা ট্যাংক দাঁড়িয়ে আছে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের সামনের মোড়টায়। ট্যাংকটার ওপর মেশিনগান নিয়ে বেশ একটা বীরের ভাব করে বসে আছে মেজর ফারুক (পরে লে. কর্নেল অব.)। একটু দূরে এমটি পার্কে আমার ব্রিগেডের এসঅ্যান্ডটির (সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট) কয়েকটি সারিবদ্ধ যান। অবস্থাদৃষ্টে নিরস্ত্র অবস্থায় অরক্ষিত হেডকোয়ার্টারে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বুঝতে পারলাম। সে জন্য পদাতিক ব্যাটালিয়ন দুটোর (প্রথম ও চতুর্থ বেঙ্গল) প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার জন্য ইউনিট লাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই দুটি ব্যাটালিয়ন আমার হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন ছিল।

ইউনিট লাইনে গিয়ে শুনি, ফারুক কিছুক্ষণ আগে ট্যাংকের মেশিনগান থেকে গাড়িগুলোর ওপর ফায়ার করেছে। ওই ফায়ারিংয়ে এসঅ্যান্ডটির কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়। কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটা সরু রাস্তার দুই পাশে প্রথম ও চতুর্থ বেঙ্গলের অবস্থান। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, ব্যাটালিয়ন দুটোর মাঝখানে তিনটি ট্যাংক অবস্থান নিয়ে আছে। ব্রিগেড সদর দপ্তরের সামনেও ফারুকের ট্যাংকসহ দুটো ট্যাংক দেখেছিলাম। আমার মনে হলো, ব্যাটালিয়ন দুটোকে ঘিরে রাখা হয়েছে। জানতে পারলাম, প্রয়োজনে আমার ব্রিগেড এলাকায় গোলা নিক্ষেপের জন্য মিরপুরে ফিল্ড রেজিমেন্টের আর্টিলারি গানগুলোও তৈরি রয়েছে। ট্যাংকগুলোতে যে কামানের গোলা ছিল না, আমরা তখন জানতাম না। জানতে পারি আরও পরে, দুপুরে।

ফোনে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, সে অনুযায়ী প্রথম ও চতুর্থ বেঙ্গলের সদস্যরা অপারেশনের জন্য তৈরি হচ্ছিল। প্রথম বেঙ্গলের অফিসে গেলাম; কিন্তু সেখানে যা দেখলাম, তার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। আশপাশের জোয়ানদের অনেককেই দেখলাম রীতিমতো উল্লাস করছে। তারা সবাই লাগোয়া টু ফিল্ড রেজিমেন্টের সৈনিক যারা ছিল মেজর রশিদের অধীনে। তবে এই রেজিমেন্টের কর্মরত প্রায় ১৩শ সৈনিকের মধ্যে মাত্র শ খানেক সৈন্যকে মিথ্যা কথা বলে ভাঁওতা দিয়ে ফারুক-রশিদরা ১৫ আগস্টের এ অপকর্মটি সংঘটিত করে। ওই রেজিমেন্টেরই কয়েকজন অফিসার দেয়াল থেকে বঙ্গবন্ধুর বাঁধানো ছবি নামিয়ে ভাঙচুর করছিল। এসব দেখে মনে পড়ল একটি প্রবাদ-Victory has many fathers, defeat is an orphan. সবকিছু দেখে খুবই মর্মাহত হলাম। আমার অধীনস্থ একজন সিওকেই (কমান্ডিং অফিসার) কেবল বিমর্ষ মনে হলো।

এরই মধ্যে জোয়ানরা আমার নির্দেশমতো তৈরি হচ্ছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সিজিএস (চিফ অব জেনারেল স্টাফ) ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ইউনিট লাইনে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি প্রথম বেঙ্গলের অফিসে এসে আমাকে বললেন, সেনাপ্রধান তাকে পাঠিয়েছেন সমস্ত অপারেশন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে। এখন থেকে ৪৬ ব্রিগেডের সব কর্মকাণ্ড সেনাপ্রধানের পক্ষে তাঁর (সিজিএস) নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হবে। সেনাপ্রধানের নির্দেশে সিজিএস এভাবে আমার কমান্ড অধিগ্রহণ করলেন। আমার আর নিজের থেকে কিছুই করার রইল না। এভাবে আমার কমান্ড অধিগ্রহণ করার কারণ একটাই হতে পারে, সেনাপ্রধান আমাকে বিশ্বাস করতে পারেননি। তিনি হয়তো এমন মনে করেছিলেন যে, আমি অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। এসব কারণেই হয়তো বিদ্রোহ শুরু হওয়ার খবর রাত সাড়ে চারটায় জেনেও সবার সঙ্গে যোগাযোগের পর সকাল ছয়টায় আমাকে ফোন করেন তিনি। ততক্ষণে সব শেষ। উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট সারা দিনে টেলিফোনে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আমার ওই একবারই মাত্র কথা হয়।

আমার কাছে এটা খুবই দুঃখজনক মনে হয়েছে যে, সেনাপ্রধান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অনেক আগে অভ্যুত্থানকারীদের অভিযান শুরু হওয়ার খবর পেলেও তার কাছ থেকে না শুনে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর আমাকে শুনতে হলো অভ্যুত্থানকারীদের অন্যতম নেতা মেজর রশিদের কাছ থেকে। এটা আজও আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার সময় প্রথম বেঙ্গলের অফিসের সামনে এসে দাঁড়াল একটা বিরাট কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে এলেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ, উপপ্রধান জিয়া, মেজর ডালিম ও তার অনুগামী কয়েকজন সৈনিক। ডালিম ও এই সৈনিকদের সবাই ছিল সশস্ত্র। তাদের পেছনে পেছনে নিরস্ত্র কয়েকজন জুনিয়র অফিসারও আসেন। একটু পর এয়ার চিফ এ কে খন্দকার এবং নেভাল চিফ এম এইচ খানও এসে পৌঁছলেন। এরই মধ্যে বিদ্রোহ দমনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছি আমরা। আমি আশা করেছিলাম, বিমানবাহিনীর সহায়তায় সেনাসদরের তত্ত্বাবধানে বিদ্রোহ দমনে একটি সমন্বিত আন্তঃবাহিনী অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ ট্যাংক বাহিনীর বিরুদ্ধে পদাতিক সেনাদল এককভাবে কখনোই আক্রমণযুদ্ধ পরিচালনা করে না। সে ক্ষেত্রে পদাতিক সেনাদলের সহায়ক-শক্তি হিসেবে বিমান অথবা ট্যাংক বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সেনাপ্রধানের তত্ত্বাবধানে বিদ্রোহ দমনের কোনো যৌথ পরিকল্পনা করা হলো না, যদিও তিন বাহিনীর প্রধানই একসঙ্গে ছিলেন। মিনিট দশেক পর সেনাপ্রধান সবাইকে নিয়ে রেডিও স্টেশনের উদ্দেশ্যে চলে গেলেন। সেনাপ্রধান এবং তাঁর সঙ্গীরা প্রথম বেঙ্গলে মাত্র মিনিট দশেক ছিলেন। এরই মধ্যে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে পরামর্শ ও তাঁর অনুমতিক্রমে জয়দেবপুরে অবস্থানরত একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে তাত্ক্ষণিকভাবে লে. কর্নেল আমিন আহমেদ চৌধুরীর পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করলাম। অফিসারটি ওই ব্যাটালিয়নেরই সাবেক অফিসার ছিলেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে ব্যাটালিয়নটিতে কোনো সিনিয়র অফিসার না থাকায় আমি এ ব্যবস্থা নিই। কথাটা এ জন্য বলছি যে, সেনাপ্রধান তাঁর কয়েকটি সাক্ষাত্কার ও রচনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আমাকে সেদিন প্রথম বেঙ্গলের ইউনিট লাইন বা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে দেখেননি বা আমি তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব রেখে চলছিলাম।

ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে ফিরলেন ঘণ্টাখানেক পর। তিনি আমার অফিসে বসে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে লাগলেন। ইতিমধ্যেই সারা জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়ে সেনাপ্রধান অন্যদের নিয়ে একটি অবৈধ ও খুনি সরকারের প্রতি বেতারে তাঁর সমর্থন ও আনুগত্য ঘোষণা করে বসেন। তাঁর এই ভূমিকার ফলে আমাদের বিদ্রোহ দমনের সকল প্রস্তুতি অকার্যকর ও অচল হয়ে পড়ল। কার্যত আমাদের আর কিছুই করার থাকল না এবং অভ্যুত্থানকে তখনকার মতো মেনে নিতে বাধ্য হলাম। রেডিওতে সেনাপ্রধানের আনুগত্যের ঘোষণা শুনে সেনানিবাসের প্রায় সমস্ত অফিসার আমার ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে এসে ভিড় করল। তারা সবাই এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়েছিল যে সমগ্র সেনাবাহিনীই এ নৃশংস ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন সিনিয়র অফিসার তো তার অধীনস্থ এক নিতান্ত জুনিয়র অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ নম্বরের বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কয়েক দিন পর অন্যান্য জুনিয়র অফিসারের মুখে এই লুটপাটের ঘটনা শুনি।

এরপর বঙ্গভবন থেকে আদিষ্ট হয়ে খালেদ মোশাররফ দিনভর বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক সংস্থা, ইউনিট ও সাব-ইউনিটের প্রতি একের পর এক নির্দেশ জারি করছিলেন। তখনকার মতো সব কিছুরই লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহের সাফল্যকে সংহত ও অবৈধ মোশতাক সরকারের অবস্থানকে নিরঙ্কুশ করা। অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই কাজগুলো সম্পাদন করা হয়েছিল সেদিন। ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সেনাসদরের কোনো ভূমিকা ছিল না বলাটাই সংগত হবে। প্রকৃতপক্ষে সেনাসদরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অফিসার আমার হেডকোয়ার্টারে অবস্থান করে সিজিএসকে সাহায্য-সহযোগিতা করছিলেন।

সারাটা দিন একটা উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটল। রাতে ঘোষিত কেবিনেটের সদস্যদের নাম শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যে অবৈধ মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন, সেটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। জাতির স্থপতিকে হত্যা করে অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যদের ক্ষমতা দখল করার কয়েক ঘণ্টা পরই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের এহেন বিশ্বাসঘাতকতায় চরমভাবে হতাশ হলাম।

সিজিএস ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ১৫ আগস্ট সারা দিন আমার ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার আর প্রথম বেঙ্গলের ইউনিট লাইনে কাটান। রাতেও সেখানেই রয়ে যান তিনি। নিরাপত্তার জন্য আমরা দুজনই প্রথম বেঙ্গলের সেনাদের সঙ্গে রাত্রিযাপন করি। সিজিএসকে এ সময় খুব চিন্তাক্লিষ্ট দেখাচ্ছিল। তিনি বারবার বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে অংশটি ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের প্রতি অনুগত্য স্থাপন করা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তিনি বললেন, এই বেইমানগুলোকে যত শিগগির উত্খাত করা যাবে, জাতির ততই মঙ্গল। সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে হত্যাকারী ও তাদের মদদদাতা রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন আশু কর্তব্য। খালেদ মোশাররফ আরও বললেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ঘোলাটে। পক্ষ-বিপক্ষ বোঝা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। এই মুহূর্তে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া আত্মঘাতী পদক্ষেপের শামিল হবে বলে মত দিলেন তিনি। তাঁর কথায় যুক্তি ছিল বলে আমিও একমত হলাম। পরদিন অর্থাৎ ১৬ আগস্ট সকালে সিজিএস সেনাসদরে চলে গেলেন। তিনি তাঁর নিজস্ব দায়িত্ব পালন শুরু করলেন। ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই আবার আমার কাছে ফিরে এল।

অবৈধ খুনি সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ১৬ আগস্ট বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদের ধানমন্ডির বাসায় গেলাম। তাঁকে আমি একজন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতা বলে জানতাম। মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়েছিল। তো, ভাবলাম তাঁর কাছে যাই। গিয়ে বলি, আওয়ামী লীগের নেতারা এটা কী করলেন! তোফায়েল আমাকে দেখে অবাক হলেন খুবই। অবাক হওয়ারই কথা। কথাবার্তায় বুঝতে পারলাম প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। আমাকেও যেন একটু অবিশ্বাস করছেন মনে হলো। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করে বললাম, তিনি ইচ্ছে করলে আমার বাসায় এসে থাকতে পারেন। তোফায়েল সবিনয়ে বললেন, তেমন প্রয়োজন মনে করলে আমার বাসায় যাবেন তিনি, তবে এখন নয়! ঘণ্টাখানেক তাঁর বাসায় ছিলাম। পরে শুনেছি, আমি যে তোফায়েল আহমেদের বাসায় গিয়েছি এ কথা প্রকাশ পাওয়ায় রাতে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। মেজর ডালিম, নূর, শাহরিয়ার, লেফটেন্যান্ট মাজেদসহ অন্যরা তোফায়েল আহমেদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে জানতে চায় আমার সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছে। সে রকম কোনো কথা হয়নি-এ কথা বারবার বলার পরও ডালিম এবং তার সহযোগীরা তাঁর ওপর অব্যাহত নির্যাতন চালায়। তোফায়েল আহমেদের ওপর অত্যাচারের এই খবর পেলাম রাতে। খুব অনুতাপ হচ্ছিল। আমি তাঁর বাসায় না গেলে হয়তো এই নির্যাতনের শিকার হতে হতো না তাঁকে।

মোশতাকের সহযোগী হত্যাকারীরা তোফায়েল আহমেদের আনুগত্য ও সমর্থন আদায়ের জন্য তাঁর ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। তারা তোফায়েল আহমেদের এপিএস শফিকুল আলম মিন্টুকেও ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায় তার ওপর। একপর্যায়ে ওই কর্তব্যপরায়ণ তরুণ অফিসারটিকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

শোনা যায়, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ এই নির্মম কাজটি করে। হত্যাকারী ওই অফিসারটি এখনো সরকারি চাকরিতে (বেসামরিক পদে) বহাল রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সরকারি কর্মচারীদের অসংখ্য সংগঠন থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীকালে এই অফিসারটির বিচারের ব্যাপারে কেউই সোচ্চার হননি।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী কয়েক দিনে বিদ্রোহীরা ঢাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বেতার কেন্দ্রে স্থাপিত নিজেদের ক্যাম্পগুলোতে ধরে নিয়ে গিয়ে নিগৃহীত করে। বিদ্রোহীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের আনুগত্য ও সমর্থন আদায় করা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টাও ছিল। লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজ্ঞ আমিনুল হক। পরবর্তীকালে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমিনুল হক পাক যুদ্ধবন্দী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত কমিশনের একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন। নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্তের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অভ্যুত্থানকারীদের দেশি-বিদেশি প্রভুদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এরই পরিণতিতে বিদ্রোহীদের হাতে তাঁকে নিগৃহীত হতে হয়। ডালিম, নূর, শাহরিয়ার ও মাজেদ-এরা তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়।

১৬ ও ১৭ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। সবাই যার যার অফিশিয়াল কাজকর্ম করেছি। অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো তত্পরতা দেখা গেল না কোথাও। বেতারে মোশতাক সরকারের প্রতি সেনাপ্রধান ও অন্যান্য বাহিনীপ্রধানের আনুগত্য ঘোষণার পর এই দুটো দিন মূলত সেনাপ্রধানের তত্ত্বাবধানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি সংহত করার কাজেই ব্যাপৃত ছিলাম আমরা। চেইন অব কমান্ড মানার স্বার্থেই এটা করতে হয়েছে আমাদের। তবে অনেককেই অতি উত্সাহে অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে দেখা গেছে।

১৮ আগস্ট সেনাসদরে অনুষ্ঠিত এক মিটিংয়ে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্ব পালনরত ব্রিগেডিয়ার রউফ তোফায়েল আহমেদের বাসায় আমার যাওয়ার কথা সবাইকে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তোফায়েল সাহেবের বাসার সামনে আমার গাড়ি দেখা গেছে। এ কথা শুনে সেনাপ্রধান ও উপপ্রধান উভয়েই আমাকে তিরস্কার করলেন। আমি যেন ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আর সম্পর্ক না রাখি, সে জন্য তাঁরা সাবধান করে দিলেন আমাকে। এই মিটিংয়ে চেইন অব কমান্ড এবং পরবর্তী আর কোনো রক্তপাত ও সংঘাত এড়ানোর বিষয় আলোচিত হয়।

১৯ আগস্ট সেনাসদরে আরেকটি মিটিং হয়। বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো মিটিংয়ে। সেনাপ্রধান সভায় ঢাকাস্থ সকল সিনিয়র অফিসারকে তলব করেন। তিনি মেজর রশিদ ও ফারুককে সঙ্গে করে কনফারেন্স রুমে এলেন। বললেন, প্রেসিডেন্ট মোশতাকের নির্দেশে রশিদ ও ফারুক সিনিয়র অফিসারদের কাছে অভ্যুত্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করবে। রশিদ তার বক্তব্য শুরু করল। সে বলল, সেনাবাহিনীর সব সিনিয়র অফিসার এই অভ্যুত্থানের কথা আগে থেকেই জানতেন। এমনকি ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডারও (অর্থাৎ আমি) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। রশিদ আরও দাবি করল, প্রত্যেকের সঙ্গে আগেই তাদের আলাদাভাবে সমঝোতা হয়েছে। উপস্থিত অফিসারদের কেউই এই সর্বৈব মিথ্যার কোনো প্রতিবাদ করলেন না। একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না কেউ। কিন্তু আমি চুপ করে থাকতে পারলাম না। নীরব থাকা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। ফারুক-রশিদের মিথ্যে বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আমি সেদিন বলেছিলাম, ‘You are all liars, mutineers and deserters. You are all murderers. Tell your Mustaque that he is an usurper and conspirator. He is not my President. In my first opportunity I shall dislodge him and you all will be tried for your crimes. ’ আমার কথা শুনে তারা বাক্যহীন হয়ে পড়ে এবং বিষণ্ন মুখে বসে থাকে।

পরবর্তী সময়ে জীবনবাজি রেখে সে কথা রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি আমি। যাই হোক, আমার তীব্র প্রতিবাদের মুখে মিটিং শুরু হতে না হতেই ভেঙে গেল। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ উঠে গিয়ে তাঁর কক্ষে ঢুকলেন। উপপ্রধান জিয়া অনুসরণ করলেন তাঁকে। আমি তখন স্বভাবতই বেশ উত্তেজিত। তাঁদের দুজনের প্রায় পেছনে পেছনেই গেলাম আমি। সেনাপ্রধানের কক্ষে ঢুকতেই জিয়া আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, ‘শাফায়াত, একেবারে ঠিক আচরণ করছ ওদের সঙ্গে। কিপ ইট আপ। ওয়েল ডান!’ উত্সাহিত হয়ে আমি তাঁদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললাম, ‘Sir, the way I treated the murderers you must talk to Mustaque in the same language and get the conspirator out of Bangabhaban. ’

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সেনাপ্রধান বা উপপ্রধান কেউই অবৈধ খুনি সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টকে সরানোর মতো সৎ সাহস অর্জন করতে পারেননি। এই বিশাল ব্যর্থতা তাঁদের উভয়ের ওপরই বর্তায়।

প্রসঙ্গত, একটা কথা বলতে হয়, ১৫ আগস্ট থেকে মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ যত দিন সেনাপ্রধান ছিলেন (অর্থাত্ ২৪ আগস্ট পর্যন্ত), তাঁকে এবং মেজর জেনারেল জিয়াকে প্রায় সর্বক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেছে। একজন যেন আরেকজনের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন।

(লেখাটি কর্নেল শাফায়াত জামিল, (অব.)-এর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর বই থেকে সংগৃহিত এবং সংক্ষেপিত। বইটির প্রকাশক সাহিত্য প্রকাশ। লেখাটির বানানরীতি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)

ky63.jpg

রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের চলন্তিকা বস্তির এখন পোড়া-আধপোড়া ঘরগুলোর কিছু কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।শুক্রবার রাতে এ বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে যায় প্রায় দু’হাজার ঘর। আগুন বাস্তুহারা করেছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে। পোড়ামাটিতে মাথায় হাত দিয়ে ছাইমাখা মানুষগুলো বসে আছে, কণ্ঠে তাদের আহাজারি।

আগুনলাগার ঘটনা সন্ধ্যার পর পর ঘটায় প্রাণ নিয়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর ঘরের বাইরে ছিল অনেকেই। তাই হতাহতের ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের সাড়ে তিন ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।কিন্তু তার আগেই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কেড়ে নিয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অনেকেই রাত থেকে কাঁদছেন। রাতের সেই কান্না এখন রূপান্তরিত হয়েছে আহাজারিতে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর বস্তির মাঝামাঝি এলাকার একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে বস্তির এক ঘর থেকে অন্য ঘর। ঝিলের উপর বাঁশ আর কাঠের মাচার উপর ঘর তৈরি হওয়ায় দ্রুত তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি, পরে ২০টি এবং সবশেষ ২৪টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় মানুষ। বস্তির মধ্যে সরু গলি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। দূর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের ছুটির সুযোগে ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগানো হয়েছে।

আগুন লাগার সঠিক কারণ সম্পর্কে বলতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তদন্তের মাধ্যমেই এর কারণ অনুসন্ধান করার কথা জানালেন সংস্থাটির পরিচালক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন উত্তর সিটি মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্য। ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দেন মেয়র।

স্থানীয়রা জানায়, ঝিলপাড় চলন্তিকা বস্তির ২ হাজারেরও বেশি ঘরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। ঈদের বন্ধে বাড়ী যাওয়ায় বেশিরভাগ ঘরই ছিল তালাবদ্ধ। তবে এসব পরিবারের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা নি:স্ব হয়ে গেছেন। এর আগে ২০০৯ সালেও এ বস্তিতে আগুন লেগেছিলো। তবে তার ব্যাপকতা ছিলো কম।

আগুনের ভয়াবহ তীব্রতায় ঝিলপাড় বস্তি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কাঁচা টিনের ঘরগুলো এবং ঘরের সব সরঞ্জাম। আর এই ধ্বংসস্তূপে সব হারানো মানুষগুলো খুঁজে ফিরছেন অবশিষ্ট সম্বল। পোড়া ছাইয়ের নিচ থেকে নেড়ে-চেড়ে লোহার আসবাবের ফ্রেমগুলো বের করছিলেন তারা।

আগুনে ঘর-বাড়ি সব হারিয়ে পথে বসে আহাজারি করছেন অনেকে । সোহাগ নামে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক থাকতেন ওই বস্তিতে। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদরে। তিনি জানান, নিজের বলতে তেমন কিছুই তার ছিল না। তারপরও যেটুকু ছিল, তার কিছুই ঘর থেকে বের করতে পারেননি।

মর্জিনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মোবাইল ফোনসেটটি তার হাতে ছিল, শুধু সেটিই রক্ষা পেয়েছে। আর ঘরে থাকা সব কিছুই পুড়েছে। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর। সেখানে স্বজনদের কাছে মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠাতে হয়। কিন্তু এখন তার নিজের খাওয়ারই কোনো সংস্থান রইল না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়র বলেন, বস্তিতে আগুন লাগা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অস্থায়ীভাবে থাকা-খাওয়াসহ সার্বিক সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য পার্শ্ববর্তী পাঁচটি স্কুল অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন মেয়র।

তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ২০১৭ সালে বাউনিয়া বাঁধে জায়গা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ইতোমধ্যে পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখানকার ১০ হাজার বস্তি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

naogaon-lab-aid-20190817205706.jpg

নওগাঁয় ‘ল্যাব এইড লিমিটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ডেঙ্গু সনাক্তকরণ পরীক্ষায় ভুল ফলাফল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডেঙ্গু পরীক্ষায় একই ব্যক্তির দুই প্রতিষ্ঠানে দুইরকম ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে। ল্যাব এইডে পজিটিভ ফলাফল দিলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে নেগেটিভ ফলাফল পরিলক্ষিত হয়। ল্যাব এইড একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হয়ে ভুল ফলাফল দেয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ল্যাব এইডের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, বলিহার ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু নাসেরের ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদের (৩০) জ্বর হলে ১০ আগস্ট নওগাঁ ল্যাব এইড হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে ডা. সমশের আলী স্বাক্ষরিত ফলাফলে ডেঙ্গু এনএস-১ পজিটিভ দেখানো হয়। পরবর্তীতে অন্য ল্যাবের ফলাফল দেখানো হলে চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় ১২ তারিখে রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু এনএস-১ পজিটিভ দেখানো হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার ছেলেকে নিয়ে ঢাকার মহাখালী আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার এসে পরীক্ষা করে দেখেন ডেঙ্গু নেই।

অপরদিকে, নওগাঁ মাল্টিাপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মাসুদ রানার হাসিনুর হাসান জীমের (২৩) শরীরে জ্বর অনুভূত হয়। গত ১৫ আগস্ট নওগাঁ ল্যাব এইডে রক্ত পরীক্ষা করলে একই ডাক্তারের স্বাক্ষরিত ফলাফলে ডেঙ্গু এনএস-১ পজিটিভ দেখানো হয়েছে। এ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার জন্য শহরের কমপ্যাথ ল্যাবরেটরিতে একই পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল প্রদর্শিত হয়। দুটি ল্যাবে পৃথক ফলাফল পরিলক্ষিত হলে বিতর্ক দূর করতে ওই দিনই বগুড়া ইবনে সিনা কনসালটেশন সেন্টারে ডা. ডি এম আরিফুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ডেঙ্গু এনএস-১ রিপোর্টে নেগেটিভ ফলাফল প্রদর্শিত হয়েছে।

জীমের বাবা এম মাসুদ রানা জানান, ল্যাব এইডের মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের এরকম ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ একটি রোগ নিয়ে ভুল ফলাফল দেয়া এটা বড় রকমের একটি অপরাধ। এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তপেক্ষ কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে নওগাঁ ল্যাব এইডের প্রশাসনিক কর্মকতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি নেই। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীটস (ডিভাইস) এর ক্রুটির কারণে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। কারণ বিদেশ থেকে ডিভাইস আমদানি করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বিধি নিষেধ আরোপিত হয়নি।

এ ব্যাপারে নওগাঁন সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ডেঙ্গুর মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে ভুল রিপোর্ট কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। ল্যাব এইড এর ডায়গনস্টিক সিস্টেমও ভালো নয়। আজ বন্ধের দিন। রোববার ল্যাব এইডে গিয়ে পরিদর্শন পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ডিভাইসটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে।

freedda.jpg

বাংলাদেশের পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দল ফ্রীডম পার্টি অংশ নেয়। কুড়াল মার্কা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দল ফ্রীডম পার্টির মোট ২৩৪ জন প্রার্থী এই নির্বাচনগুলোয় অংশ নিয়েছিল। ফ্রীডম পার্টির এই এমপি প্রার্থীদের প্রত্যেকেই সেই সময়ে পরিচিতি পেয়েছিল সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে। ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের সেই দানবের মতোই এরা সারা দেশ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে সশস্ত্র অবস্থায়। অবৈধ অস্ত্রবাজদের ভয়ে দেশের মানুষ তখন ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ফ্রীডম পার্টির এই গডফাদাররা গা ঢাকা দিতে শুরু করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্রীডম পার্টি দেশের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে ঘাপটি মেরে রয়েছে। বিদেশে রয়েছে তারা প্রকাশ্যেই। তারা এখনো নানা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন দেশে। সেসব খবর আবার ছড়িয়ে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়। যে কারণে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে সেই ২৩৪ প্রার্থী নামের দানবদের অবস্থান এখন কোথায় তা জানাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ফ্রীডম পার্টির সামনের সারির নেতা এই ২৩৪ এমপি প্রার্থীর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, এদের অধিকাংশ এখনো বহাল। কেউ রয়েছে ব্যবসা নিয়ে, কেউ রাজনীতির বাইরে। আবার কেউ কেউ নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। কেউ বিদেশে, আবার কেউ মারা গেছে। আবার কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে অন্য দলে ভিড়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ফ্রিডম পার্টির সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নেতা ও এমপি প্রার্থী। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক খবর হলো, ফ্রীডম পার্টির এক সময়ের সামনের সারির নেতাও এখন শাসকদল আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছে। অনেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ব্যবসাপাতি করে পকেট ফুলিয়েছে। ফ্রীডম পার্টির ২৩৪ জনের অনেককেই এখন দেখা যায় বিভিন্ন সভা, সেমিনারে বক্তব্য দিতে। সেসব সেমিনারে সরকারদলীয় নেতাদেরও বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্রীডম পার্টির হয়ে সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় তিনজন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনি পলাতক মৃত্যুদ প্রাপ্ত আসামি ফ্রীডম পার্টির কো-চেয়ারম্যান কর্নেল (বরখাস্ত) রশীদের মেয়ে মেহনাজ রশীদ খন্দকার প্রার্থী হয়েছিলেন কুমিল্লা-৭ আসনে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। মেহনাজ রশীদ ফ্রীডম পার্টিকে আবারও সক্রিয় করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। শেখ ফজলে নূর তাপসের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি জামিন পান। তিনি বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সেখানে বসেই ফ্রীডম পার্টি সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। একই নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শেখ মতিয়ার রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনে প্রার্থী ছিলেন ছৈয়দ উল্লাহ আজাদ।

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ফ্রীডম পার্টির প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১১২। এর মধ্যে দুজন নির্বাচিত হন। মেহেরপুর-২ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মেজর (অব.) বজলুল হুদা। আর কুমিল্লা-৬ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন কে এম মান্নান। এ নির্বাচনে ফ্রীডম পার্টির অন্য প্রার্থী হলেন পঞ্চগড়-১ আসনে গাজী সরকার, ঠাকুরগাঁও-২ বদরুল আলম চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. এনামুল হক, দিনাজপুর-৩ মো. রেজাউল ইসলাম খান, দিনাজপুর-৬ মো. কামরুজ্জামান, নীলফামারী-১ মো. নুরনবী দুলাল সরকার, নীলফামারী-৪ মো. শাকিল, লালমনিরহাট-৩ মো. শামসুল হুদা, রংপুর-৩ মোস্তফা জব্বার হায়দার, রংপুর-৫ মো. সেকেন্দার আলী, কুড়িগ্রাম-২ মো. ইউনুস আলী, কুড়িগ্রাম-৪ আ. আউয়াল, গাইবান্ধা-২ মো. সাইদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আবদুল হাই, গাইবান্ধা-৫ কামাল পাশা ম ল, জয়পুরহাট-১ মো. জলিলুর রহমান মিলু, জয়পুরহাট-২ মো. জলিলুর রহমান জিল্লু, বগুড়া-১ মো. আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৩ সামসুদ্দীন প্রামাণিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ হোসেন আলী, নওগাঁ-২ মো. মজিবর রহমান, নওগাঁ-৩ মো. আবু মাসুদ চৌধুরী, নওগাঁ-৫ দে. আতিকুর রহমান, রাজশাহী-১ মো. হাবিবুর রহমান অ্যাডভোকেট, রাজশাহী-৩ মো. ওমর আলী সরকার, নাটোর-৪ মো. মেহের বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-৫ আবদুস সাত্তার, সিরাজগঞ্জ-৬ আবদুল জলিল সরকার, যশোর-৪ জাহাঙ্গীর খালেদ, নড়াইল-১ আবদুল্লা হেল কাফী, নড়াইল-২ মো. আছাদুজ্জামান, বাগেরহাট-১ অছিফুর রহমান, বাগেরহাট-২ মো. মান্নান শেখ, বাগেরহাট-৩ মুজিবুর রহমান, বাগেরহাট-৪ মোহাম্মদ আলী মৃধা, খুলনা-২ মিঞা আবদুর রশিদ, খুলনা-৩ এস এম এ লতিফ, খুলনা-৪ হেমায়েত শেখ, সাতক্ষীরা-২ এ বি এম সদরুল উলা, সাতক্ষীরা-৩ এস এম হায়দার, সাতক্ষীরা-৪ এস এম এ জব্বার, সাতক্ষীরা-৫ আবুল বাশার, বরগুনা-১ নাজমুল আহসান দুলাল মাতব্বর, বরগুনা-২ মো. মাহবুবুর রহমান, বরগুনা-৩ আ. লতিফ খান, পটুয়াখালী-২ কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালী-৩ আফজাল হোসেন, ভোলা-১ জিয়াউদ্দিন আহমদ, ভোলা-২ মো. ছালাহ উদ্দিন, ভোলা-৩ নাজিমুদ্দীন চৌধুরী, বাকেরগঞ্জ-২ (বর্তমানে বরিশাল) হায়দার আলী জমাদ্দার, বাকেরগঞ্জ-৩ আলী হোসেন, বাকেরগঞ্জ-৫ নুরুজ্জামান, বাকেরগঞ্জ-৬ দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৪ সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন, জামালপুর-৩ আজিজুল হক সরকার, জামালপুর-৫ নজরুল ইসলাম, শেরপুর-১ মো. জুবায়েদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আকবর হোসেন, শেরপুর-৩ আনছার আলী, ময়মনসিংহ-২ মো. আশরাফুল আলম, মানিকগঞ্জ-২ কামাল হোসেন, মুন্সীগঞ্জ-২ আলম, ঢাকা-৪ হাবীবুর রহমান, ঢাকা-৫ বজলুল হুদা, ঢাকা-৬ সৈয়দ নেছার নোমানী, ঢাকা-১০ বাবলু রিবেরো, গাজীপুর-৪ মো. আবদুল হাই কাজমী, নরসিংদী-১ ছাইদুর রহমান, কুমিল্লা-৩ আহমেদ মীর্জা খবীর, কুমিল্লা-৬ খন্দকার আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম-৮ নিজামুল আমিন, চট্টগ্রাম-১০ গিয়াসউদ্দিন, পাবনা-৩ মইনুল আলম, পাবনা-৫ সাইদ হাসান দারা, মেহেরপুর-১ নূরনবী, মেহেরপুর-২ মেজর (অব.) বজলুল হুদা, কুষ্টিয়া-১ জাহিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-২ মতিনুল হক খান চৌধুরী, কুষ্টিয়া-৪ সামছুজ্জামান, ঝিনাইদহ-১ মিয়া আবদুল রশিদ, ঝিনাইদহ-২ আনারুল করিম, ঝিনাইদহ-৩ আনিসুর রহমান, ঝিনাইদহ-৪ মো. রেজা কাশেম, যশোর-২ ছরোয়ার হোসেন, ঝালকাঠি-২ আবদুল করিম খান, পিরোজপুর-১ রুহুল আমিন, পিরোজপুর-২ মজিবর রহমান, বাকেরগঞ্জ-পিরোজপুর-১ অধ্যাপিকা আজরা আলী, ময়মনসিংহ-১০ আ. রশিদ, ময়মনসিংহ-১১ মো. আ. মান্নান খান, নরসিংদী-৫ এ কে এম রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. জুলকার নাইন (ইঞ্জিনিয়ার), নারায়ণগঞ্জ-৪ কামাল আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ মোহাম্মদ হোসেন, রাজবাড়ী-১ আ. হালিম মোল্লা (বাবলু), ফরিদপুর-৩ মো. এ বি কে হামিদ, মাদারীপুর-৩ মহিউদ্দিন হাওলাদার, শরীয়তপুর-১ আ. রহিম, সুনামগঞ্জ-৫ আ. ছালাম শেখ, সিলেট-৩ ফয়েজুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ গো. কিবরিয়া রাজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জুবায়েদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আবুল ফাতাহ মো. জুবায়ের, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ হারুনুর রশিদ, ফেনী-২ ছিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, ফেনী-৩ শেখ ওয়াহিদুল্লাহ, নোয়াখালী-২ চৌধুরী মো. ফারুক, নোয়াখালী-৩ এ বি এম আনোয়ার হোসেন অ্যাডভোকেট, লক্ষ্মীপুর-১ সৈয়দ খালেদ চৌধুরী ও লক্ষ্মীপুর-৪ নূরুল হক।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৬৫ জন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্রীডম পার্টি প্রার্থী হিসেবে ৬৫ জন অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়-২ আসনে প্রার্থী ছিলেন মো. আবদাল আদিল আলভী, ঠাকুরগাঁও-২ বদরুল আলম চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাকির হোসেন, নীলফামারী-১ মো. নূরুন্নবী দুলাল, রংপুর-৪ মান্নান সরদার, রংপুর-৫ মো. মজিবর রহমান, কুড়িগ্রাম-৪ এ বি এম মঈনুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৩ সৈকত আজগর, গাইবান্ধা-৪ মোখলেছুর রহমান, বগুড়া-২ মাসকুরুল আলম চৌধুরী, নবাবগঞ্জ-১ খাদেমুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ-২ আয়েস উদ্দীন, নওগাঁ-২ মো. মজিবর রহমান, নওগাঁ-৫ মো. আতিকুর রহমান, নাটোর-৪ মেহের আলী বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-৭ নুরুল ইসলাম, পাবনা-৫ হাসান আলী, কুষ্টিয়া-১ আবু বকর, কুষ্টিয়া-২ সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, কুষ্টিয়া-৪ মোস্তাফা সামসুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা-১ মেজর (অব.) বজলুল হুদা, ঝিনাইদহ-১ মিয়া আবদুর রশিদ, মাগুরা-২ কাশেম মৃধা, নড়াইল-২ মো. আছাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ মো. মফিল ইসলাম, বরগুনা-১ নাজমুল আহসান, বরগুনা-২ সোবহান খাঁ, পটুয়াখালী-২ নূর ইসলাম মিয়া, ভোলা-২ ইউসুফ ম্যানেজার, বাকেরগঞ্জ-৫ কাজী আবদুল নঈম (কমল), ঝালকাঠি-১ সোহরাব হোসেন, পিরোজপুর-২ এস এম মজিবুর রহমান, টাঙ্গাইল-৪ জোয়াহের আলী, টাঙ্গাইল-৫ নজরুল ইসলাম খান, জামালপুর-নূরুল হক জংগী, শেরপুর-২ আকমল হোসেন, ময়মনসিংহ-৭ শওকত আলী অ্যাডভোকেট, ময়মনসিংহ-৮ আবদুল গফুর অ্যাডভোকেট, মুন্সীগঞ্জ-২ ডি এস এম ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ-৪ সরদার শাহাবুদ্দীন আহমেদ, ঢাকা-৬ মো. ফারুক, ঢাকা-৭ লিয়াকত হোসেন, নরসিংদী-ছরওয়ার হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৪ কামাল আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ এ বাবুল রিবেরো, হবিগঞ্জ-৩ সৈয়দ এবাদুল হাসান, কুমিল্লা-২ আ. লতিফ সিকদার, কুমিল্লা-৪ খোন্দকার আবদুল মান্নান, কুমিল্লা-৫ আ. ছাত্তার ভূয়া, কুমিল্লা-৬ খোন্দকার আবদুল মান্নান, চাঁদপুর-২ হাসেম কাজী, চাঁদপুর-৫ কর্নেল শাহজাহান, নোয়াখালী-১ মোহাম্মদ আবদুজ জাহের চৌধুরী, নোয়াখালী-২ মোহাম্মদ ফারুক, নোয়াখালী-৩ এ বি এম আনোয়ার হোসেন অ্যাডভোকেট, লক্ষ্মীপুর-৩ আবদুস ছাত্তার অ্যাডভোকেট, চট্টগ্রাম-৮ নিজামুল আমিন, চট্টগ্রাম-৯ এস কে খোদা, চট্টগ্রাম-১০ নিজামুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৩ আবু সৈয়দ।

সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৫৪ প্রার্থী : ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্রীডম পার্টির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ৫৪ জন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ারুল করিম (রন্টু), চুয়াডাঙ্গা-১ বজলুল হুদা, কুষ্টিয়া-৩ অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, কুষ্টিয়া-২ খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, পাবনা-৫ মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, মেহেরপুর-২ বজলুর হুদা, পাবনা-১ শেখ মো. আবদুল আজিজ অ্যাডভোকেট, সিরাজগঞ্জ-২ মো. আজিজুর রহমান সওদাগর, নাটোর-২ মো. আমিরুল ইসলাম সরকার, রাজশাহী-৪ সৈয়দ আলী হাসান, রাজশাহী-২ মো. আবু মাসুদ, নওগাঁ-৩ মো. হারুনুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. খাদেমুল ইসলাম, বগুড়া-৬ এম এল আলম, বগুড়া-৪ অ্যাডভোকেট মো. সাইদুল ইসলাম তালুকদার, গাইবান্ধা-৫ মো. কামাল পাশা বাদশা, কুড়িগ্রাম-৪ মাওলা এ বি এম মইনুল ইসলাম, রংপুর-৫ মো. মুজিবুর রহমান সরকার, রংপুর-৩ মো. ফয়জুর রহমান মিঠু, পঞ্চগড়-১ মো. খাজা নাজিমুদ্দিন জোয়ার্দার, চট্টগ্রাম-১৩ আলী জোবায়ের, নোয়াখালী-৬ জামাল উদ্দিন, কুমিল্লা-৬ আবদুর রশীদ খন্দকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নূরুল আমিন, সিলেট-৩ ফয়জুল আলম বাবুল, রাজবাড়ী-১ ওলিউর রহমান, নরসিংদী-৫ ইব্রাহীম মৃধা, নরসিংদী-২ হাবিবুর রহমান খান, নরসিংদী-১ মোস্তফা কামাল আহমেদ, গাজীপুর-৩ মতিউর রহমান, ঢাকা-৯ এ এস এম জামাল উদ্দিন, ঢাকা-৭ আনছার শিকদার, ঢাকা-৬ সিরাজুল হক গোরা, ঢাকা-৫ ফখরুল আহসান রানা, ময়মনসিংহ-৯ আমিন উদ্দিন, ময়মনসিংহ-৮ আবুল গফুর অ্যাডভোকেট, শেরপুর-১ জুবাইদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৮ এ বাছেদ (বাচ্চু), বরিশাল-পিরোজপুর (১৩২) এম এ রাজ্জাক, পিরোজপুর-১ ইমদাদুল কবির (মিলু), পিরোজপুর-২ এস এম মজিবুর রহমান, ঝালকাঠি-১ সোহরাব হোসেন, বরিশাল-৫ এ হান্নান চৌধুরী, ভোলা-২ মোহাম্মদ সালা উদ্দিন তালুকদার, পটুয়াখালী-৩ অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা-২ এ বি এম সদরুল উল্লা অ্যাডভোকেট, সাতক্ষীরা-৩ মতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা-১ এস এম জালাল উদ্দীন, বাগেরহাট-৪ মনিরুজ্জামান খান, বাগেরহাট-২ এস এম আবদুল মান্নান।

corner-5d56d0d4157e0.jpg

বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে ধারণা দিতে লন্ডনের একটি শপিংমলে আলাদা কর্নার বসিয়েছে যুক্তরাজ্যের রেড ক্রস।

গত সোমবার লন্ডনে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির নিয়ে ওই ‘ইন্টারঅ্যাক্টিভ ইনস্টলেশনে’ দেখানো হয়- মিয়ানমার থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কীভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে জীবন-যাপন করছে। খবর ডয়চে ভেলের।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে পালিয়ে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখের বেশি।

রেড ক্রস জানায়, মানুষ যাতে রোহিঙ্গাদের ভুলে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্যই পূর্ব লন্ডনের ওয়েস্টফিল্ড মলে রোহিঙ্গা কর্নার করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে প্রচার করা হয় তাদের সাক্ষাৎকারও।

শপিংমলে রোহিঙ্গা কর্নার নিয়ে রেড ক্রসের মুখপাত্র পল আমাদি বলেন, আমরা চাই মানুষ এটা দেখে উদ্বুদ্ধ হোক এবং যেন বুঝতে পারে রোহিঙ্গারা মানবিক সংকটে ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আমাদি আরও বলেন, তিনি আশা করেন এ ইনস্টলেশনটি ক্রেতাদের বোঝাতে সক্ষম হবে রোহিঙ্গারা সেখানে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। বিষয়টি অনুধাবন করে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় তারা এগিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে কাজ করছে ব্রিটিশ রেড ক্রস। তারা কয়েক হাজার মানুষকে খাবার পানি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানালেও জাতিসংঘের মতে, সেখানের পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য অনুকূল নয়। এদিকে রোহিঙ্গাদের দাবি, তারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি চায়।

cmch-20190817113020.jpg

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার। পরিচয় না দিয়ে গভীর রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুক্রবার সকালে ও বিকেলে তার ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে বিড়ম্বনার নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এরপর থেকে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার স্ত্রীর চিকিৎসা সেবা নিতে এসে এমন বিড়ম্বনার শিকার হলে সাধারণ রোগীদের অবস্থা কী? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘রাত ৩:৩০। আমার স্ত্রীর হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা। ও চিৎকার করছিল। খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের অনেকগুলো নম্বর নিয়ে কল করতে থাকলাম। কেউ কল ধরল না। বড় বড় হাসপাতালের নম্বরে কল দিলাম। কেউ ধরল না। একজন দয়া করে অ্যাম্বুলেন্সের কল ধরে জানালেন তার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায়। পাওয়া গেল না। আমার মোটামুটি সব ড্রাইভারকে কল দিলাম। ধরল না। অসহায় অবস্থায় বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা দিলাম ফাঁকা রাস্তায়। কিছুদূর গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম। উনি যেতে রাজি হলেন। গেলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইমার্জেন্সি তখন ঘুমচ্ছে।

অনেক কষ্ট করে ডিউটি ডাক্তার সাহেবের ঘুম ভাঙানো হলো। উনি কাগজে লিখে দিয়ে ৪তলায় ৪১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বললেন। গেলাম। ওখানে ১৫ মিনিট কাউকে পেলাম না। অবশেষে এক সিস্টার বা আয়া এমন কেউ এলেন। জানলাম ডাক্তার সাহেব ঘুমচ্ছেন। পাক্কা আধা ঘণ্টা ধরে দরজা নক করার পর উনি এলেন। দেখলেন। তারপর ব্যবস্থাপত্র লিখতে গিয়ে দুটো কলমই কালিশূন্য পেলেন। আবার গেলেন তার কক্ষে। গিয়ে ফিরলেন আরও ১০-১২ মিনিট পর।

এদিকে বেশ কয়েকজন রোগী জমে গেছে। অবশেষে আমার স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখলেন- এলজিন ইঞ্জেকশন, নরমাল স্যালাইন আর খাবার স্যালাইন। মজার বিষয় হলো ডাক্তার সাহেব সঙ্গে অতিরিক্ত দুটো স্লিপ ধরিয়ে দিলেন।

স্লিপ-১ : ৭টি টেস্টের নাম
স্লিপ-২ : বাদুরতলার শেফা ও আজাদ ক্লিনিকের নাম।

মুখে বলে দিলেন এই টেস্টগুলো যেন ওখান থেকেই করাই। অনেকটা আদেশের মতো। আমি ভেজা বিড়ালের মতো বললাম, জি আচ্ছা। এর মাঝে কথা হলো দেবিদ্বার থেকে আসা এক ডেঙ্গু রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তার মহিলা রোগীর প্লাটিলেট কমেই চলেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু মজার বিষয় হলো রোগীর ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার নেই। ডাক্তার আসবেন সকালে অথবা আরও পরে। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলাম। ইঞ্জেকশনটা একটা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পুশ করালাম।

উপলব্ধি-০১ : গরিবের জন্য কোনো চিকিৎসা নেই

উপলব্ধি-০২ : ডেঙ্গু নিয়ে প্রান্তিক লেভেলে সরকারের নির্দেশনা কতটা ফলো করা হচ্ছে তা ভেবে দেখার আছে।

উপলব্ধি-০৩ : আমাদের স্বাস্থ্য সেবা ২৪ ঘণ্টার নয় বরং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/ বেসরকারি) দায়িত্বশীলদের মর্জি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে।

উপলব্ধি-০৪ : অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক কেবল সকাল সন্ধ্যা দোকান খোলে। ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ। রোগী জাহান্নামে যাক। যা আইনত দণ্ডনীয়। ক্লিনিকে অবশ্যই ইমার্জেন্সি ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক।

উপলব্ধি-০৫ : যত দায় আমাদের। 
# রমজানে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ করো সকাল-সন্ধ্যা
# রাত জেগে পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা করো
# ঘুম হারাম করে দুর্যোগ মোকাবিলা করো
# ইলেকশনে টানা রাত জেগে কাজ করো
# ঈদে নির্বিঘ্নে জনসাধারণের বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করো
# জাতীয় দিবসের প্রস্তুতিতে অঘুম রাত কাটাও
# বিশেষ সংকটে জেগে থাকো রাতের পর রাত আর খেটে যাও সংকট মোকাবিলায়।
মেডিকেল সেক্টরের জন্য করুণা। স্রোষ্টা হেদায়েত দান করুণ। আমিন।’

এদিকে বিকেলে আরও একটি স্ট্যাটাস দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার। এতে তিনি লেখেন ‘বিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় একজন এফসিপিএস ডাক্তারের মাধ্যমে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র করে নিয়েছেন।’ রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা লেখেন সেখানে।

সন্ধ্যার মধ্যে দুটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী শুরু হয় তোলপাড়। চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ফেসবুকে মন্তব্যের ঝড় বয়ে যায়। তবে শুক্রবার রাতে দুটি স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে প্রত্যাহার করে নেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, ‘এটা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, আমি আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার হয়েছি আমার উপলব্দি থেকে কেবলমাত্র তা তুলে ধরেছি।’

তবে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, সাংবাদিকের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়টি শুনেছি। শনিবার এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীরা ডাক্তারের দেখা পাচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Bangabandhu-23111-1-1170x660.png

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বিশ্ববন্ধু’ আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানের আলোচকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতিসংঘের কনফারেন্স রুম-৪ এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতিসংঘের সদস্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, নিউ ইয়র্কস্থ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার মানবাধিকার কর্মী, লেখক, চলচিত্র শিল্পী, টিভি উপস্থাপক, ফটোগ্রাফার এবং প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা।
বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্ব বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দেন জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী।

এ সময় তিনি জাতির পিতার সঙ্গে তার কর্মজীবনের নানা ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বহুপাক্ষিকতাবাদকে এগিয়ে নেওয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু যে সব অবদান রাখেন তার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ ধারণ করেই বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতাবাদের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বসভায় ভূমিকা রেখে চলেছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এ আয়োজনে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এসময় দেশী-বিদেশী অতিথিগণ জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করেন।