বিশেষ সংবাদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

dhaka46.jpg

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ও পৃথিবীর ঘন জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি ঢাকা। এটি অপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে। অপরিকল্পিত এ নগরায়নে ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে এ নগরী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

দ্য আরবান থিঙ্কারস ক্যাম্পাস (ইউটিসি) শীর্ষক এ আয়োজন করে বুয়েট। ইউএন-হ্যাবিট্যাটের আওতাধীন ওয়ার্ল্ড আরবান ক্যাম্পেইনের (ডব্লিউইউসি) সহযোগী সদস্য এ প্রতিষ্ঠানটি টানা তৃতীয়বারের মতো এ আয়োজন করল।

বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সভপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বুয়েট স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নাসরীন হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আর্কিটেক্টস ইন্সটিটিউটের সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ। সম্মেলনে নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, অধ্যাপক ড. ফারিদা নিলুফা ও অধ্যাপক ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ।

নগরবিষয়ক গবেষক, পেশাজীবী, নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের গঠনমূলক আলোচনা ও মতবিনিময়ের উন্মুক্ত মঞ্চ ইউটিসি। এবার ইউটিসির ফলাফলের সারাংশ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড আরবান ফোরাম ১০-এ উপস্থাপিত হবে। সারাংশে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ের অগ্রাধিকার ও অংশীদারদের ভূমিকা নির্ধারণের মাধ্যমে টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হবে।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের কিছু অঞ্চল ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সিবিএফবির ২০০৯-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকাতে যদি ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয় তাহলে এ শহরের শতকরা ৫৬ ভাগ ভবন ধসে পড়বে, ৫ শতাংশ জিডিপি হারাবে। এ পরিসংখ্যান করা হয়েছিল ১০ বছর আগে। কিন্তু বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এর প্রায় দ্বিগুণ হবে। তাই আমাদের জরুরিভাবে কাঠামোগত কার্যকর পরিমাপ এবং উপযুক্ত সাড়া দান পদ্ধতির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখনই আমাদের উপযুক্ত সময় যে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঢাকা শহরকে পরিবেশবান্ধব, সবার বসবাস উপযোগী করে তোলার প্রচেষ্টা চালানোর।

অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি আশা করি আমাদের এ সম্মেলন শেষে আমরা বিভিন্ন এক্সপার্টদের মাধ্যমে কিভাবে ভালো একটি ভালো শহর, পাশাপাশি একজন ভালো নাগরিক হওয়া যায় তার নির্দেশনা পাব।

এ সম্মেলনের শিরোনাম ‘অ্যাপ্রোচ টু ইন্টার-স্কেলার রেজিলিয়েন্স-সেটেলমেন্ট লিংকেজ’। হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট, আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি- এ তিন প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সম্মেলনে আলোচনা চলছে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে স্থাপত্য বিভাগ প্রাঙ্গণে ৬-৮ ডিসেম্বর ৩ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এ আয়োজনে বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ২০টি সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এর উলে­খযোগ্য হল স্থাপত্য অধিদফতর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদফতর, এলজিইডি, বিশ্বব্যাংক, হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ, ইডকল, এইচবিআরআই, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, বাংলাদেশ হাউজিং ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব আর্কিটেক্টস (ইউআইএ), ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

hotel7.jpg

২২ বছর আগে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে পরিবার নিয়ে নিজ জেলা ছেড়ে নওগাঁতে চলে আসেন। এরপর শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ডে ২৫ টাকা বেতনে হোটেলে কাজ শুরু করেন। আর সেই হোটেল বয় আজ হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসের মালিক আলী আজগর হোসেন।

তার বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে হলেও এখন জমি কিনে নওগাঁ শহরের চকরামচন্দ্র মহল্লায় বসবাস করছেন সপরিবারে। শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আদালত চত্বর। আদালত গেটের প্রধান ফটকের বিপরীতে রাস্তার পশ্চিম পাশে ‘হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস’।

যেখানে সপ্তাহে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। হোটেল মালিক সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০০-১৫০ জন গরিব শ্রেণির বিশেষ করে ভিক্ষুকদের পেট পুরে ফ্রিতে খাওয়ান। যেখানে খাবার মেন্যুতে থাকে মাছ, মাংস, ডিম, সবজি ও ডাল।

হোটেলের সামনে চেয়ার-টেবিলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে দেখলে মনে হতে পারে কোনো ছোটোখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দিনে ২০-২৫ জনের মতো খেয়ে থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার সবার জানা থাকায় সেদিন বেশি মানুষ হয়ে থাকে। এক যুগ ধরে এভাবে মানুষদের একবেলা খাবার দিয়ে আসছেন আলী আজগর হোসেন।

হোটেল মালিক আলী আজগর হোসেন বলেন, অভাবের মধ্য দিয়েও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ১৯৯৭ সালে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে নওগাঁতে এসে হোটেলে ২৫ টাকা দিনে কাজ শুরু করি। বেশ কয়েক বছর হোটেলে কাজ করলাম। হঠাৎ একদিন হোটেল মালিক তার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বাড়িতে চলে গেলেন।

আজগর হোসেন বলেন, পরে হোটেল মালিককে বুঝিয়ে নিয়ে আসি এবং তার দোকান চালানোর জন্য অনুমতি নেই। মালিক বললেন, যদি দোকান চালাতে পার তাহলে চালাও। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, এরপর ২ কেজি, ৫ কেজি গরুর মাংস বিক্রি থেকে শুরু করে আজ অনেক বেচাকেনা হয়। দোকানে ৩৫ জন কর্মচারী কাজ করে। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। শহরের মাথা গুঁজার মতো একটু জায়গা হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে পড়াশোনা করছে।

বয়োজ্যেষ্ঠ নুর জাহান ও জাহিদুল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভিক্ষা করে ভালোমন্দ খেতে পারি না। ৩-৪ বছর ধরে এ হোটেলে নিয়মিত খেতে আসি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে কখনও গোস্ত ও কখনও মাছ দিয়ে পেট পুরে খাবার খাই। আল্লাহ যেন দোকানদারের মঙ্গল করেন।

Malnutrition.jpg

বাংলাদেশে এখনও দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই। খাদ্যের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যাপারে এক যৌথ সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। যৌথভাবে সমীক্ষাটি চালিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডাব্লিউএফপি) এবং বাংলাদেশ সরকার।

এতে বলা হচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং অসচেতনতার কারণে বাংলাদেশে প্রচুর মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এসব কারণে এখনও ৩১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকমত হচ্ছেনা।

পুষ্টিকর খাদ্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

পুষ্টিকর খাবার বলতে বুঝায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন ছয়টি গ্রুপের খাবার থাকে। ছয়টি গ্রুপ হল, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও চর্বি।

কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ এখনও অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত ও অপর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান সম্বলিত খাদ্যের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অন্য যে পুষ্টিকর খাবারগুলো আছে যেমন শাক-সবজি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ-ডাল এগুলো খাওয়ার ব্যাপারে খুব একটা জোর দেন না।

পুষ্টিহীনতার কারণগুলো কী

দারিদ্র্য, সেইসঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাব এই পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ বলে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনেকে মাছ-মাংস, শাক-সবজি ফলমূলের মতো পুষ্টিকর খাবার পয়সার অভাবে কিনতে পারছেন না। আবার অনেকে এসব খাবার কেনার ক্ষমতা আছে ঠিকই, কিন্তু তারা জানেন না কোন খাবারগুলো, কী পরিমাণে খেতে হবে।

গড়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দিনে ২১০০ কিলোক্যালোরির প্রয়োজন। তাই দেখা যায় যে, মানুষ তিন/চার বেলা পেট ভরে খাচ্ছেন ঠিকই, প্রয়োজনীয় ক্যালরিও পূরণ করছেন। কিন্তু এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ডব্লিউএফপির তনিমা শারমিন বলেন, “পেট পুরে শর্করা খেলেও সেখানে যদি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান না থাকে তাহলে সেটাও পুষ্টিহীনতা।”

এছাড়া খাদ্যে ভেজালের আতঙ্কে অনেকে জেনে বুঝেও পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে চলেন বলে তিনি জানান। বাংলাদেশে যে উপায়ে রান্না করা হয়, তার কারণে খাবারের পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কারা পুষ্টিহীনতায় বেশি ভোগেন এবং কেন?

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের দরিদ্র সীমার নীচে যে ১১.৯০% জনগোষ্ঠী রয়েছে তারাই মূলত পুষ্টিহীনতায় ভোগেন বেশি। তবে ক্রয়ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন একটি বড় জনগোষ্ঠী।

পুষ্টিবিদদের মতে, একেক বয়সে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা একেক রকম থাকে। এরমধ্যে বয়ঃসন্ধিকালে এবং গর্ভ ধারণের সময় নারীদের পুষ্টির চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।

বাংলাদেশে মা শিশুর পুষ্টির দিকটি যেভাবে নজরে রাখা হয় বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়ের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এছাড়া প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির দিকটিও অবহেলিত বলে গবেষণায় জানা গেছে।

এছাড়া কম বয়সী মেয়েরা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে যখন তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল লিঙ্গভিত্তিক নিয়মকানুন এবং প্রথা, যেমন বাল্য-বিবাহ, গর্ভধারণ ইত্যাদির, সম্মুখীন হতে হয়।

এই গবেষণা কতোটা উদ্বেগের?

গবেষণায় বলা হয়েছে বাংলাদেশে এখনও দু কোটি ১০ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই। শতাংশের হিসেবে এটি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩%।

এই হারকে খুব একটা উদ্বেগজনক ভাবছেন না ডব্লিউএফপির পুষ্টিবিদ তনিমা শারমিন।

উদ্বেগের বিষয় হল যে ৮৭% মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে, তাদেরও একটি বড় অংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। সেটা শুধুমাত্র সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাবে।

এই গবেষণা বাংলাদেশের খাদ্যরীতি, খাদ্যের পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বিষয়ে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হয়।

শারীরিক বিকাশজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন শারীরিক বৃদ্ধি থেমে যাওয়া বা স্টান্টিং (৩১%) ও খাদ্য অপচয় (৮%), প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর ঘাটতি এবং অন্যদিকে জনগণের ভিতরে ওজন এবং স্থূলতার ক্রমাগত বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রেখে বলা হয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির আরও অনেক সুযোগ রয়েছে।

কী করা প্রয়োজন?

পুষ্টিহীনতা দূর করতে গবেষণায় মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রথমত, নানাবিধ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো।

আমিষের ঘাটতি পূরণে বড় মাছের উৎপাদন বাড়ানো হলেও এর চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ছোট মাছের উৎপাদন বাড়ানো হয়নি।

এই ধরণের সহজলভ্য পুষ্টিকর খাবার সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন মিস শারমিন।

সমাজের সকল স্তরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনের জন্য এমনভাবে প্রচারণা চালানো যেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

এজন্য ব্যক্তি পর্যায়ে অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনের দরকার আছে। এবং এর পেছনে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের খাদ্যনীতি, কৃষিনীতিতে খাদ্য উৎপাদনে যতো জোর দেয়া হয়েছে সে তুলনায় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গেছে।

তাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যক্তি পর্যায়ে অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তন দরকার বলে জানিয়েছেন মিস শারমিন।

এছাড়া কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিজনিত অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো এবং এর মাধ্যমে উন্নত মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করার ওপরও গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে।

mother-1.jpg

যতবারই বৃদ্ধাশ্রমের মা বা বাবাদের নিয়ে কোন রিপোর্ট লিখতে যাই ততবারই নচিকেনার সেই গানের পঙ্গিত গানে বেঁজে উঠে। “ছেলে আমার মস্ত মানুষ. ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার মস্ত ফ্ল্যাটে যায়না দেখা এপার ওপার । নানান রকম জিনিস, আর আসবাব দামি দামি সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি । ”

আজ এমনই এক মায়ের গল্প শুনাবো যে মায়ের মৃত্যু দেহ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুই ছেলে এবং ছেলের স্ত্রীরা। বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই এই নারীর অবস্থা এখন সংকটাপন্ন।

সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন আম্বিয়া খাতুন। পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে ডান হাত ভাঙে এই বৃদ্ধার। হারিয়ে ফেলেন চলাফেরার শক্তি। হয়ে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন। এরপর সন্তানদের কাছে অচ্ছুত হয়ে যান এই মা। এক নাতনী তাকে গোপনে রেখে যান মিরপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে।

সেখানেই কোনও ভাবে দিন কাটছিল তার। বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই এই নারীর অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের খোঁজ বের করে যোগাযোগ করেন সন্তানদের সঙ্গে। গত মঙ্গলবার বৃদ্ধার এক ছেলেকে তারা জানান মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। নিয়ে ভালো মতো চিকিৎসা করান।

আম্বিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে নিজেদের বাড়িতে। তারা মাকে নিয়ে যেতে রাজি নন। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে এক ছেলে বলেন, ‘মা, মারা গেলে জানাবেন, লাশ নিয়ে যাবো।’

আর এক পুত্রবধূ গত মঙ্গলবার মিরপুরের পাইকপাড়ার চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী মিলটন সমাদ্দারকে ফোন করে বলেন, ‘আবার যদি আমার শাশুড়িকে নিতে ফোন করেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আমার শাশুড়িকে অপহরণের মামলা করবো।’

সংকটাপন্ন আম্বিয়া খাতুনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মিলটন সমাদ্দার। গত পাঁচ বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমটির নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। তবে তার পরিবারের এমন হুমকিতে তিনি এযাবতকালে এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি।

মিলটন সমাদ্দার বলেন, ‘ডান হাত ভাঙ্গা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ আম্বিয়াকে ২০১৮ সালে আমাদের এখানে রেখে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারি রেখে যাওয়া নারীরা ছিলেন বৃদ্ধার নাতনী। ছয়মাস পর সন্তানরা মাকে দেখতে এসেছিলেন। সেসময় তাকে নিয়ে যেতে বলা হলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে।’

তিনি জানান, কিছুটা সুস্থ হলে মাকে নিয়ে যাবেন বলেন আশ্বাস দিয়েছিলেন সন্তানরা। কিন্তু এরপর তারা কোনও রকম যোগাযোগ করেননি।

মিলটন বলেন, ‘বর্তমানে বৃদ্ধা আম্বিয়া খুবই অসুস্থ। মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থান করছেন। সুচিকিৎসা দেয়া হলে হয়ত একটু সুস্থ হতেন। বিষয়টি সন্তানদের জানিয়েছি। বারবার ফোন করা হলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তারা আসতে চাননি।’

‘বুধবার ভোরে পরে দুই ছেলে, ছেলের বউসহ পাঁচজন এসেছিলেন। আমরা বেশ কয়েকবার বলেছি তাদের মাকে নিয়ে যেতে। তারা রাজি হননি। উল্টো যাওয়ার সময় বলে গেছেন মা মারা গেলে আমরা যেন তাদের খবর দিই। তারা এসে মরদেহ নিয়ে যাবেন।’

এ প্রতিবেদক বিষয়টির অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচয় গোপন রেখে আম্বিয়াকে তারই এক নাতনী ওই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যান। তার ছয়মাস পর দুই ছেলে ও নাতনীরা এসে বৃদ্ধা আম্বিয়ার একবার খোঁজ নেন এবং তাদের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন। এরপর থেকে তারা বৃদ্ধাশ্রমে ওই নারীর আর কোনও খোঁজখবর নেননি।

বৃদ্ধাশ্রমের লোকজন বলছেন, সন্তানদের এমন অবহেলার পরও পরিবারের প্রতি টান একটুও কমেনি বৃদ্ধা আম্বিয়ার। বারংবার ছেলে মেয়েদের নাতি-নাতনিদের দেখার আকুতি জানান তিনি। এরপর বৃদ্ধাশ্রম থেকে তার পরিবারের বারবার খবর দেয়া হলেও উল্টো তারা বিরুপ আচরণ দেখান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার একজন কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বৃদ্ধার পুত্রবধু আমাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন আবার তাকে (আম্বিয়া) নিয়ে যেতে ফোন করা হলে শাশুড়িকে অপরহরণ করা হয়েছে বলে থানায় মামলা করবেন।’

তথ্য সূত্র: ঢাকাটাইমস

eujd.jpg

পেছনের বেঞ্চে বসা, পড়ালেখায় দুর্বল ও পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে ফেল করা দরিদ্র পরিবারের সেই ছেলেটি এখন বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্টের টিচার ট্রেনিংয়ে প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার লেখা রসায়ন বইটি ৯ম-১০ম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে।

১৯৭৫ সালে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা এলাকায় হতদরিদ্র সূত্রধর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিদ্যুৎ কুমার। বাবা হরেন্দ্রনাথ রায় পেশায় ছিলেন একজন বাইসাইকেল মেকার। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। অর্থের অভাবে তার বাবা হরেন্দ্রনাথ ছেলেকে পড়ালেখার খরচ, বই-খাতা-কলম ও পোশাক জোগাড় করে দিতে পারতেন না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় শত বাধা অতিক্রম করে তিনি আজ বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন।

জানা যায়, বিদ্যুৎ কুমার শরৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৯০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে লেটার নিয়ে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২য় বিভাগে পাস করেন এবং ১৯৯৮ সালে হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২য় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়ে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর নিয়ে ১৯৯৬ সালে বিএসসি (সম্মান) ১ম শ্রেণিতে ২য় হন ও ১৯৯৭ এমএসসিতে ১ম শ্রেণিতে ১ম হন। এ জন্য তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোল্ড মেডেল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার রায় (সহযোগী অধ্যাপক রসায়ন) তার অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সব শ্রেণিতেই অংক ও ইংরেজি বিষয়ে তিনি ফেল করেছিলেন। মানুষ পাস করে উপরের ক্লাসে উঠতো আর তিনি ফেল করেই উপরের শ্রেণিতে উঠতেন। তিনি ফেল করেলেও তার মা শিক্ষকদের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন তাকে উপরের শ্রেণিতে তুলে দিতেন। স্কুলে পড়ালেখা কিছুই পারতেন না। এ কারণে বসতে হতো তাকে পেছনের বেঞ্চে। কোনো রকমে পুরোনো পোশাক আর পুরোনো স্যান্ডেল পরে স্কুলে যেতেন। সহপাঠীরা প্রায়ই তাকে মারধর করতো। কিন্তু কাউকেই তিনি কিছুই বলতেন না। কারণ ওই সময় তিনি মনে করতেন যে, গরিবদের সঙ্গে অন্যরা এমনই আচরণ করে। ক্লাসে পড়া না পাড়ার কারণে শিক্ষকের কাছে প্রায়ই তিনি বকা খেতেন। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ফজলু স্যার তাকে একদিন দ্রুত হাতের লেখা লিখতে পারলে চকলেট দেবে বললে তিনি দ্রুত হাতের লেখা লিখতে আয়ত্ব করেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে দ্রুত লিখতে অনেকেই পারতেন না।

এভাবে এসএসসিতে টেস্ট পরীক্ষায় ইংরেজি ও অংকে ফেল করে নারান ও ধীরন স্যারের কাছে পড়ে তিনি ১৯৯০ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৯০-১৯৯১ শিক্ষাবর্ষে হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে বই কিনতে পারেননি। ক্লাসে পড়া ধরলে শিক্ষকে বলতেন বই কিনতে পারিনি তাই পড়া হয়নি। তাই কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় তাকে বই দিয়ে সহায়তা করতেন। এভাবেই এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন তিনি। আশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে কিন্তু মানুষ বলতো তোমার বাবা সাইকেলের মেকার তাই সাইকেল সেড়েই খাও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ জোগাতে পারবে না। ওই আশা ছেড়ে দাও। তাই সবার কথা শুনে জামাল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে বিএসএসে ভর্তি হন। সেখানে ফ্রি পড়ার আবেদন করলে হাফ ফ্রি পড়ার আবেদন মঞ্জুর হয়। কিন্তু তার চেয়ে বড়লোকের ঘরের সন্তানরা পায় ফুল ফ্রি আর তিনি পান হাফ ফ্রি। মনে এ কষ্ট নিয়ে তিনি মনস্থির করেন যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবেন। তাই তিনি এক বছর বাদ দিয়ে পরের বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর থেকে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও শ্রমের বিনিময়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে পড়ার সুযোগ লাভ করেন।

সেখানে ছাত্রজীবনে প্রচুর পড়াশোনার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছেন। এমনকি পড়ালেখা ছাড়া অন্য কোনো জগৎ তিনি জানতেন না। সেই কারণেই তিনি ১৯৯৬ সালের বিএসসি (সম্মান) ১ম শ্রেণিতে ২য় ও ১৯৯৭ সালের এমএসসি পরীক্ষায় রেকর্ড পরিমাণ নম্বর ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান লাভ করেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোল্ড মেডেল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

এরপর তার অদম্য চেষ্টা ও ইচ্ছার কারণে ২২তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্টের টিচার ট্রেনিংয়ে প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলে জন্মভূমি ভাঙ্গুড়ায় ও পাশের উপজেলার এসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটে যান এবং বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়াসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

hilltrackts.jpg

বাংলাদেশে পার্বত্য চুক্তির ২২ বছর পার হলেও তিন পার্বত্য জেলায় সংঘাত, অস্থিরতা বেড়েই চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ স্বীকার করেছেন। চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েই বিতর্ক এখনও থামছে না।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাহাড়ীদের একটি সংগঠন জনসংহতি সমিতি অভিযোগ করছে, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন গোষ্ঠী নানান উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় থাকার সুযোগ পাচ্ছে এবং সেকারণে সেখানে অস্থিরতা বাড়ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের অনেকে বলছেন, চাঁদাবাজি এবং অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই আঞ্চলিক দল এবং গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং সংঘাত হচ্ছে।

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জন সংহতি সমিতির মধ্যে এই শান্তি চুক্তিটি হয়েছিল।

এই চুক্তির মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান হয়েছিল। পাহাড়ে তার একটা ইতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত ২২ বছরে এসব প্রশ্ন আর অভিযোগের পাল্লা ভারি হয়েছে।

পার্বত্য তিন জেলায় জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যাকে পাহাড়িদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, এর সমাধানে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে পাহাড়িদের সংগঠনগুলোর প্রশ্ন রয়েছে।

রাঙামাটি থেকে একজন মানবাধিকার কর্মী টুকু তালুকদার বলছেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনেক রকম স্বার্থ তৈরি হয়েছে, সেজন্য সংকট বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে চুক্তি হওয়ার পর সরকার তার বাস্তবায়ন শুরু করেছিল। তার পর বিএনপি সরকার আসলো। তখন সেই চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একটা বিরতিতে পড়লো।তখন এখানে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ ঢুকে যায়।

ইন্টারেস্ট গ্রুপ যখন ঢুকে যায়, তখন চুক্তিবিরোধীরা অনেক ইস্যু নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে। আবার আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। কারণ ইন্টারেস্ট গ্রুপ বেড়ে গেছে। এখানে বিষয় জিইয়ে রাখা এবং অনেক ইন্টারেস্ট গ্রুপের কারণে বিষয়টা ঘোলাটে হয়ে গেছে, বলেন তিনি।

পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিনটি জেলা পরিষদ গঠনকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেগুলোতে ২২ বছরে কোন নির্বাচন করা হয়নি।

এছাড়া আঞ্চলিক পরিষদের হাতে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং সব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করাসহ চুক্তির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করে আসছে পাহাড়ি সংগঠনগুলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির কারণে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়িদের রাজনৈতিক দলগুলো অধিপত্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকেছে। সেজন্য তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লামার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিও বিভক্ত হয়েছে। ভাগ হয়েছে চুক্তি বিরোধী পাহাড়িদের একটি সংগঠন ইউপিডিএফ।

পার্বত্য এলাকায় নাগরিক পরিষদ নামের বাঙালীদের একটি সংগঠনের একজন নেত্রী নুরজাহান বেগম বলছেন, আঞ্চলিক দলগুলো এবং সেখানে তৎপর বিভিন্ন গোষ্ঠীর এখন আয়ের মূল উৎস হয়েছে চাঁদাবাজি। ফলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য অস্ত্রের ব্যবহার এবং সংঘাত বেড়েই চলেছে। এখানে অর্থস্বার্থই এখন একমাত্র বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পুলিশ বলছে, অধিপত্য বিস্তারে গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। সে কারণে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ রয়েছে। পার্বত্য এলাকার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে তিন পার্বত্য জেলায় সংঘাতে কমপক্ষে ২২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়িদের সংগঠন বা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত যেমন বাড়ছে, তেমনি পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যেও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়েছে। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির নেতা উষাতুন তালুকদার বলেছেন, চুক্তির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংকট কাটছে না।

তিনি বলেন, অনেকে বলে থাকেন, আমরা অস্ত্র রেখে এসেছি বা নতুন করে এগুলো বের করেছি। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক দল। খুবই আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছার সাথে চুক্তি করে আমরা ফিরে এসেছি। এসে দেখা গেলো যে, নানা কারণে এমন পরিস্থিতি হচ্ছে। যারা এখন অস্ত্রবাজি করছে, তাদের তো আদর্শ নেই। যে উদ্দেশ্য নিয়ে চুক্তি হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য বা আদর্শের ধারে কাছে যাওয়া কি সম্ভব হয়েছে? চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে এখানে শান্তি আসবে না।

সরকার বরাবরের মতো এখনও এসব বক্তব্য মানতে রাজি নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তির ছোটোখাটো যে বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর দিকে সরকারের নজর রযেছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

Dhaka-city-2.jpg

রাজধানীর ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। আর ৬৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আয়ের যে বৈষম্য তা প্রকট। আর এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীবাসীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলন-এর সমাপনী অধিবেশনে এসব তথ্য জানানো হয়। ২ ডিসেম্বর, সোমবার এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষণাটির প্রধান গবেষক জুলফিকার আলী।

গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকা শহরের ১২ হাজার ৪৬৮ মানুষের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ১০ শতাংশ ধনী মানুষের আয় পুরো শহরের বাসিন্দাদের মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের ১ শতাংশের কম।

রাজধানীর সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ এখনো তিন বেলা খেতে পায় না বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ও ওষুধ কেনা বাবদ মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। শহরের অধিবাসীদের মোট মাসিক আয়ের ৯ শতাংশ খরচ হচ্ছে চিকিৎসা খাতে।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসছে বরিশাল থেকে
আরেকটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। ঢাকায় আসা মানুষের প্রায় ২১ শতাংশ এসেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। তবে গত পাঁচ বছরে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছে কিশোরগঞ্জ থেকে।

এরপর আছে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ভোলা। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষেরা ঢাকায় বেশি আসছে। যেমন ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঘরবাড়িছাড়া মানুষেরা বরিশাল থেকে ও কিশোরগঞ্জের হাওরবাসী বন্যায় আক্রান্ত হয়ে আসছে।

মৃত্যুর বড় কারণ বায়ুদূষণ :
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা শহরের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুদূষণ।

sohraw222.jpg

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় শুধু অনিয়ম আর অনিয়ম। একটি ওটি লাইটের সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা হলেও তা কেনা হয়েছে ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ১৬ গুণ দামে কেনা হয়েছে এটি। এভাবে বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী কেনায় হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। আর এসব অনিয়মের প্রায় সবই করা হয়েছে হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়ার নেতৃত্বে। এজন্য তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী বাহিনী। দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলায় তার সাজা হলেও তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক হিসেবে দুটি ‘ডক্টরস কোড’ ব্যবহারের প্রমাণও আছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের প্রমাণ কাছে আছে। যদিও তিনি এর সবই অস্বীকার করেছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধান ও হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অপারেশন থিয়েটারের জন্য ২টি ওটি লাইট কেনা হয় ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দরে। অথচ সরকারি ‘প্রাইস গাইডলাইনে’ ১টি ওটি লাইটের সর্বোচ্চ দাম উল্লেখ করা ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ দুটি ওটি লাইট কিনে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা। একই বছর যন্ত্রপাতিসহ একটি কোবলেশন মেশিন কেনা হয়েছে ৯৬ লাখ টাকায়, আরেকটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকায়। কিন্তু সরকারি প্রাইস গাইডের (সিঅ্যান্ডএফ-এফওবিসহ) দাম ধরা আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ এ দুটি মেশিন কিনে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা।

ভেন্টিলেটরসহ অ্যানেসথেসিয়া মেশিন কেনা হয়েছে ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায়। গাইডলাইনে যার সর্বোচ্চ ক্রয়সীমা ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা। গাইডলাইন অনুযায়ী, সিপিআর মেশিনের দাম সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা হলেও তিনটি সিপিআর মেশিন কেনা হয়েছে ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার, ৭১ লাখ ১০ হাজার ও ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ এ তিনটি যন্ত্র কেনায় খরচ হওয়ার কথা ১৮-২০ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে পৌনে দুই কোটি টাকার বেশি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ২০১৩ সালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এবং ২০১৫ সালে পরিচালক হন। কিন্তু তার আগেই ২০১২ সালে বিএমএর নেতৃত্বে আসার পর থেকেই তিনি হাসপাতালের সবকিছু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এজন্য তিনি গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাসপাতালের সহকারী পরিচালকও আছেন এ চক্রে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি অ্যাকাউন্ট্যান্ট নাসিরকে দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর বরখাস্ত করলেও ওই সিন্ডিকেটের কল্যাণে তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। লুটপাটের সুবিধার্থে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এক ওয়ার্ড মাস্টারকে দেয়া হয়েছে লোকাল ওয়ার্ডের ম্যানেজার মেইনটেন্যান্সের দায়িত্ব। এই চক্রটির ভয়ে গত ৬-৭ বছর এখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টেন্ডার হয় না।

২০১২ সালে চক্রটির উত্থানের পর ওই বছরই কিডনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত লিথোপ্রিপসি মেশিন প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকায় কেনা হয়, যা এক বছর না যেতেই পরিত্যক্ত হয়। একই বছর অনিয়মের মাধ্যমে দ্বিগুণেরও বেশি দামে সাড়ে সাত কোটি টাকায় একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়, যা ৬ মাস না যেতেই বিকল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে আবার ৭০ লাখ টাকায় ঠিক করা হলেও এখন পরিত্যক্ত। ফলে প্রতি মাসে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পেছনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

লাশ রাখার অবকাঠামো নির্মাণ না করেই কেনা হয়েছে ডিপ ফ্রিজ। লেসিক মেশিনের বাজারমূল্য আড়াই কোটি টাকা হলেও কেনা হয় সাড়ে চার কোটি টাকায়। প্রায় ২ কোটি টকা মূল্যের এন্ডোসকপি মেশিন অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ইএনটি লেজার মেশিন পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। সবই ওই সিন্ডিকেটের কাণ্ড।

শুধু এসবই নয়, হাসপাতালের জন্য লিথোট্রিপসি মেশিন, আইসিইউ, এনআইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য অতি উচ্চমূল্যে নিুমানের মেশিন কেনা হয়েছে। যেগুলো প্রায় সবই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক টাকা ব্যয় করা হলেও এখনও চালু হয়নি হাসপাতালটির এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ ইউনিট। অনেক দামে নিুমানের অপথালমোলজি বিভাগের লেসিক মেশিন, নাক, কান ও গলা বিভাগের লেজার মেশিন, আর্র্থোস্কোপিক মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের লাইট, প্যাথলজি মেশিন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলেও প্রতিটিই এখন ব্যবহার অনুপযোগী।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে বদলিসহ নানাভাবে হয়রানি করে ওই সিন্ডিকেট। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় হাসপাতালের এক প্রকৌশলীকে এক কাপড়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব অপকর্ম সুচারুরূপে করতে পরিচালকের রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা দিনে হাসপাতালে ঘোরাফেরা করে, আর রাতে পরিচালকের কোয়ার্টারে অবস্থান করে।

হাসপাতালের এসব অনিয়মের সবই হয় পরিচালকের নেতৃত্বে। ২০১৬ সালে একটি এমআরআই মেশিন কেনায় সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতির প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালায় ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতি’ বিভাগীয় মামলা হয়। মামলায় সাজা হিসেবে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। কিন্তু পরিচালকের দুর্নীতি থামানো সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক অধ্যাপক জানান, ১৯৯৭ সালে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করেন উত্তম কুমার বড়–য়া। তার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন সময় দুটি ‘ডক্টরস কোড’ (পরিচিতি নম্বর) ব্যবহার করেছেন। অথচ একজন ডাক্তারের একটি নম্বর থাকার কথা। তার প্রকৃত কোড ১০৭২৭১ হলেও চাকরির বিভিন্ন জায়গায় ১০১০৬০৯ কোড নম্বর ব্যবহার করেছেন। তিনি বিসিএস ক্যাডার না হয়েও নিজেকে ২১তম বিসিএস ক্যাডার দেখিয়ে চিকিৎসকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যেখানে তার ১০৭২৭১ কোডটি ব্যবহৃত হয়েছে। আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইচআরআইএস বায়োডাটায় ১০১০৬০৯ কোডটি ব্যবহার করেছেন তিনি। তাছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে না থাকলেও তার জীবনবৃত্তান্তে তা উল্লেখ করে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। এসব কাগজপত্র যুগান্তরের কাছে রয়েছে।

এসব দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি বছরের ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে দুই কোটি টাকা মূল্যে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি ভবন জমিসহ রেজিস্ট্রি করেছেন। যদিও প্রকৃতপক্ষে জমির মূল্য বাবদ তিনি পরিশোধ করেছেন সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর আগে ৭ জানুয়ারি তার ভাই দিলীপ কুমার বড়ুয়ার নামে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি জমিসহ বাড়ি ক্রয়ের বায়না ৫ কোটি টাকা মূল্য দেখানো হয়েছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। জমি কেনার এসব কাগজপত্র যুগান্তরের কাছে রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার ইন্দিরা রোডে দুই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ধানমণ্ডি ২৮-এ তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, শ্যামলী স্কয়ারে দোকানসহ নামে-বেনামে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে উত্তম কুমার বড়ুয়ার। দেশের বাইরে মালয়েশিয়ায়ও তিনি ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফ্ল্যাট কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছেন।

কোনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস না করে শুধু সরকারি চাকরি থেকে কিভাবে এত সম্পদ গড়লেন- সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের যে খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়, তাও সাজানো ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছেন প্রকৌশলীরা। প্রকৌশলীরা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন, এ আগুনের শুরু বিদ্যুৎ লাইন বা সিস্টেমের কোনো ক্রটির কারণে নয়। এর পেছনেও পরিচালকের কারসাজি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক চিকিৎসক যারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন তারা অভিযোগ করেছেন, ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ১৯৮৪-৮৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেননি। কারণ তার এসএসসি ও এইচএসসির প্রাপ্ত নম্বর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত ছিল না। তবে মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রথম ধাপের ভর্তি শেষ হওয়ার পর যখন মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন জালিয়াতি করে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় তার নাম ঢুকিয়ে দেন। সিলেট মেডিকেল কলেজের কেরানি মনির আহমেদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের তালিকার একদম শেষে ও অধ্যক্ষের স্বাক্ষরের উপরের খালি স্থানে তার নাম বসিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই চরম অনিয়মের মাধ্যমে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি হন উত্তম কুমার বড়ুয়া।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে শুক্রবার রাতে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ফোন করা হলে তিনি প্রতিনিধিকে শনিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা করতে বলেন। যুগান্তর প্রতিনিধি শনিবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে তিনি বলেন, এআরআই মেশিনের মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, শাস্তির সময়ও পেরিয়ে গেছে।

২০১৮ সালের কেনাকাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওপেন টেন্ডারে এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রাইস গাইডলাইনের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সরকারের প্রাইস গাইডলাইন বলে কিছু নেই। তবে পরে বলেন, গাইডলাইন যেটা রয়েছে সেটা ভারি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, আমি কোনো সিন্ডিকেট করিনি। আর অভিযুক্ত কর্মচারী নাসির অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছে। লাশ রাখার ফ্রিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ফ্রিজ এবং লাশঘর সবই আছে। দুটি ‘ডক্টরস কোড’ ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, সবারই দুটি করে কোড থাকে। তার বিপুল সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সব সম্পদই বৈধ।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। মেশিনপত্র কেনাকাটা নিয়ে বেশকিছু অভিযোগের বিষয়ে জানি। তবে সব অভিযোগ আমার জানা নেই। ভালোভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

baba-7.jpg

একসময়ের প্রতাপশালী ঠিকাদার ছিলেন হুমায়ুন সাইফুল কবির। এখন একা একা দিন কাটে দিনাজপুরের রাজবাটী শান্তি নিবাসে। জীবনে তিনি অঢেল টাকা রোজগার করেছেন, ছেলের বিদেশে চাকরি আর মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ঢাকায় আটটি ফ্ল্যাট, ছেলে বিদেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মেয়ে কোটিপতি হয়েও জন্মদাতা বাবার খোঁজ নেয়নি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে।

বর্তমানে হুমায়ুন সাইফুল কবিরের ছেলে রাফিউল কবির কুয়েতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি করেন। মেয়ে শারমিন কবির মিমি বাবার দেখানো পথে ঠিকাদারি করে কোটিপতি বনে গেছেন। কোটিপতি ছেলেমেয়ে থাকা সত্ত্বেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই হুমায়ুন সাইফুল কবিরের। শেষ ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে।

হুমায়ুন সাইফুল কবির বলেন, ‘আমি পড়ালেখা শেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগে ঢাকা হেড অফিসে সুপারভাইজার পদে তিন বছর চাকরি করেছি। কিন্তু সেখানে দুর্নীতি থাকায় তিন বছর চাকরি করার পর সেটা ছেড়ে দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করি।

সৎ পথে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি করে ছেলে রাফিউল কবির ও মেয়ে শারমিন কবির মিমিকে পড়ালেখা করিয়েছি। ছেলে বর্তমানে কুয়েতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি করে আর মেয়ে শারমিন কবির ঠিকাদারি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ৭ তলা একটি ভবনে ৮টি ফ্লাট ছিল। ছেলেকে ৪টি এবং মেয়েকে ৪টি ফ্লাট লিখে দেই। বাকি অল্প একটু জমি সেগুলো মসজিদে দান করে দিয়েছি। ছেলে বিদেশে থাকে আর মেয়ে থাকে নোয়াখালীতে।

দীর্ঘ ১১ বছর আগে ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপর তারা আর আমার কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। ঠিকাদারির সুবাদে আমি দিনাজপুরে দীর্ঘ ২৪ বছর থেকেছি। ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছি। কিন্তু সেই ছেলেমেয়েরাই আজ আমার খোঁজ খবর নেয় না।’

হুমায়ুন সাইফুল কবিরের শেষ ইচ্ছার কথা তিনি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘আমি যদি এখানেই মারা যাই তাহলে আমার লাশটা যেন অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া না হয়। এই শান্তি নিবাসের আশপাশেই আমাকে যেন কবর দেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল আলম বলেন, ‘যার পৃথিবীতে মা-বাবা নেই তারাই হয়ত মা বাবার কষ্ট বুঝেন। আবার যাদের মা-বাবা থেকেও তাদের প্রতি অবহেলা করেন তারা কেমন মানুষ আমি সেটা বলতে পারব না। তবে শান্তি নিবাসে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবাদের যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় এজন্য সার্বক্ষণিক তাদের খবর রাখা হয়।

New-Born-1.jpg

‘সিজার’ প্রসূতি মায়ের কাছে আতঙ্কে এক নাম। পরিবারের দু’একজন ছাড়া কেউ চায় না প্রসূতির সিজার হোক। কিন্তু তারপওর প্রতিনিয়তই এই সিজারের পরিমাণ বাড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে সিজারকে অনুৎসাহিত করা হলেও আমাদের বাংলাদেশে মূলত এর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

তদুপরি মা ও তার গর্ভস্থ সন্তানের নিরাপত্তাসহ নানা দিক বিবেচনায় রেখে সিজার করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সিজার বাড়ার পেছনে রোগীর স্বজনরা ডাক্তারদের বাণিজ্যিক মনোভাবকে দায়ী করলেও সিজার করানোর ক্ষেত্রে অন্ত:স্বত্ত্বা ও অভিভাবকদের দায়ও কম নয়। অনেকে প্রসবকালীন বেদনা থেকে বাঁচতে সিজারের সিদ্ধান্ত নেন।

মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ -২০১৬ অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে সিজারের পরিমাণ ছিল ১২%। কিন্তু ২০১৬ সালে তা এসে দাঁড়ায় ৩১% এ। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরে সিজারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে মোট সন্তান প্রসবের ৮৩ শতাংশই হচ্ছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিজারিয়ান প্রসবের হার ৩৫ শতাংশ। এখনও ৫০ ভাগের বেশি প্রসব বাড়িতে হয়।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, মায়ের গর্ভাবস্থায় সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে সিজার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। নারী গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই যদি কিছু নিয়ম মেনে চলে তাহলে স্বাভাবিক প্রসব হওয়া সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেই নিয়মগুলো তুলে ধরা হলো-

প্রথমত, মায়ের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাসবোধ থাকতে হবে যে, তিনি স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করবেন।

দ্বিতীয়ত, lugel exercise নামে এক ধরণের ব্যায়াম আছে। যাতে পেলভিক এলাকার মাংসপেশী সংকোচন ও প্রসারণ করার মাধ্যমে কটি দেশের প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

তৃতীয়ত, গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে প্রশ্বাস ছাড়লে ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ে। অন্ত:স্বত্ত্বার ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বড় একটি সমস্যা। তাই এ পদ্ধতি অবলম্বন করে নিস্কৃতি পেতে পারেন।

চতুর্থত, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটলে সাঁতার কাটলে ও হালকা কিছু ব্যায়াম করলে অন্ত:স্বত্ত্বা শারীরিকভাবে শক্ত-সামর্থ্যবান থাকেন। যা স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে সহায়ক হয়।

পঞ্চমত, নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে কোনো রোগ থাকলে যেমন হাইপার টেনশন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে মা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে পারেন।

ষষ্ঠত, ডাক্তারের দেওয়া খাদ্য তালিকা অনুস্মরণ করলে সন্তান খুব বড়ও হয় না আবার ছোটও হয় না। ফলে স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

না বললেই নয়, সিজারে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মায়ের জীবন যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ে তেমনি পরবর্তীতে মাকে নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতার শিকার হতে হয়। তাই সিজারকে `না ` বলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার
এমবিবিএস,এমসিপিএস, এফসিপিএস, কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল।