বিশেষ সংবাদ Archives - Page 2 of 66 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

electricir6.jpg

সম্প্রতি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ভারতীয় একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ, আমদানির পরিমাণ এবং নেপালের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি না করে ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রয়ের জন্য নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দিয়েছে নেপালের সরকার।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সে বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কিন্তু সরাসরি নেপাল থেকে নয়, ভারতীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।

আবার বাংলাদেশ ভারত থেকে ১৩শ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কিনছে।

কীভাবে এই বিদ্যুৎ আনা হবে?

নেপালের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে চাহিদা পূরণের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে তা বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিক্রি করতে পারবে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম হলে এই দুটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ কিনতেও পারবে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানি এমন একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলছেন, নেপালে জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা বিশাল। এই জলবিদ্যুৎ নেবার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন।

আমি নিজে গত বছর গিয়েছিলাম নেপালে এবং সেখানে আমাদের একটা চুক্তি সই হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, ভারতের জিএমআর কোম্পানির কাছ থেকে নেপালের বিদ্যুৎ নেয়ার।

সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরাসরি চুক্তি হচ্ছে জিএমআরের সাথে যে ওনারা বিদ্যুৎটা আনছেন নেপাল থেকে।

তারা সঞ্চালন লাইন তৈরি করবে, আমরা সেখান থেকে বিদ্যুৎ নেবো।

যে কারণে সরাসরি নেপাল থেকে নয়

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

তবে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এর অর্ধেকের মতো। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে ১৩শ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কিনছে।

নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ আলোচনা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনছে না।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলছেন, ভারতের একটি ক্লজের কারণে বাংলাদেশ সেটা পারছে না।

বিদ্যুতের আমদানি ব্যবসা ভারত তার একটি পলিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে। তাদের ক্লজ অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাতেই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবসা হতে পারবে। সেই কারণে নেপাল থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিতে পারার সুবিধাটা বাংলাদেশ পায়নি।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দর ব্যবহারে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

ভারতের সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনে ভারত ২০১৬ সালে ট্রানজিট সুবিধা পায়।

২০১০ সাল থেকে কয়েক দফায় কোনও ধরণের ফি ছাড়াই আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ও আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি মালামাল এবং খাদ্যশস্য ট্রানজিট করেছিল ভারত।

মাত্র দুদিন আগেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দেয়ায় ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির প্রথম ভারতীয় পণ্যের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

ড. শামসুল আলম বলছেন, “এই জায়গাটায় দর কষাকষির সুযোগ ছিল। আমরা যেসব সুবিধা ভারতকে দিয়েছি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে, ট্যাক্স টোলের ব্যাপারে, সেই সব সুবিধার বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশের জন্য এই ক্লজ বাতিল করতে পারতো।

যে অসম নিয়ন্ত্রণ পলিসি ভারত বিদ্যুৎ আমদানির উপরে আরোপ করেছে, আমি মনে করি বাংলাদেশের এটা নিয়ে কূটনৈতিক লড়াই করা উচিৎ।”

তিনি বলছেন, বাংলাদেশের এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য খরচ হয় ২৯ পয়সা। তার মতে নেপাল থেকে বাংলাদেশ সরাসরি সঞ্চালন করে বিদ্যুৎ আনলেও এই জল বিদ্যুতের দাম যথেষ্ট কম থাকবে।

তার ভাষায় বাংলাদেশ সেই সুবিধা না নিতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

দাম নিয়ে প্রশ্ন

তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ রক্ষার বিষয়ে বামপন্থীদের একটি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রশ্ন তুলেছেন এভাবে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে সে নিয়ে।

তিনি বলছেন, “বিদ্যুৎ একটা পাবলিক গুডস। বাংলাদেশে এর দাম নিয়ন্ত্রিত হয় পাবলিক রেগুলেটরি কমিশন দ্বারা। এর জন্য গণশুনানি হয়।

নেপালের ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি পণ্যটি বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানির কাছে।

সেই ভারতীয় ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি আবার সেই পণ্যটি বিক্রি করবে আমাদের কাছে। সেখানে নিশ্চয়ই মুনাফার বিষয় থাকবে।”

তিনি বলেন, খুব স্বভাবতই এখানে দামের লজিকটা কাজ করবে।

নেপালের কোম্পানি যে দামে ভারতের কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে তারা নিশ্চয়ই আমাদের কাছে আরও বেশি দামে বিক্রি করবে- তা না হলে মুনাফা কীভাবে হবে।

যেহেতু বাণিজ্যিক লেনদেন হচ্ছে। সেজন্য বিষয়টি মুনাফাভিত্তিক হয়ে যাবে।

এর বাইরে দামের সাথে ট্যাক্স ও টোল দিতে হবে। নেপাল ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আনার জন্যে সঞ্চালন ফি সম্ভবত থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ না আনতে পারার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক থাকবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অধ্যাপক আকাশ।

newfish.jpg

বাংলাদেশে গত এক দশকে ‘প্রায় বিলুপ্তি’র মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে।

প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক চাষ উভয়ভাবেই বাড়ছে মাছের উৎপাদন।

যদিও গত কয়েক দশকে ১০০’র বেশি দেশি প্রজাতির মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে।

কিন্তু বাংলাদেশে গত এক দশকে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই মুহূর্তে মিঠা পানির মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সরকারি হিসাবে দেখা গেছে বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে। তবে এর বড় অংশটি ইলিশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ২০২০’ নামে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাদু পানির মাছের উৎপাদন বাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

বছরে ৯ শতাংশ হারে বাড়ছে বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছের উৎপাদন।

এ হারে প্রথম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় ১২ শতাংশ হারে উৎপাদন বাড়ছে মিঠা পানির মাছের।

গবেষকেরা বলছেন, ‘প্রায় বিলুপ্ত’ অবস্থা থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে হাওড় এলাকা এবং মেঘনা নদীর অববাহিকায়।

এর বাইরে গবেষণার মাধ্যমে ফেরানো হয়েছে কিছু প্রজাতির মাছ, যেগুলো এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, মোট ২৩টি প্রজাতির মাছ পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এগুলো হচ্ছে পাবদা, গুলশা, টেংরাশিং মাগুরগুজি আইড়, চিতল, ফলি, মহাশোল, বৈরালী, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, বাটা, দেশি সরপুঁটি, কালিবাউশ, কই,  গজার ও গনিয়া।

এর বাইরে প্রাকৃতিক উপায়েও মাছের উৎপাদন বেড়েছে, মূলত হাওড় অঞ্চল এবং মেঘনা নদীর অববাহিকায়।

ওইসব এলাকায় রিটা, আইড়, বাগাইড়, নদীর পাঙ্গাস, শিলন, চিতল এবং দেশি সরপুঁটি মাছের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বলছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস।

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই ২৩টি প্রজাতির মাছকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এখন আরো ৭টি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৮০০ হ্যাচারিতে মাছের পোনা চাষ করা হয়, ২০০৮ সালে দেশে হ্যাচারির সংখ্যা ছিল ২৫ টির মতো।

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে হাওড়-বাঁওড়, খাল, বিল, পুকুরসহ জলাশয়ের সংখ্যা বহুলাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে।

ফলে হারিয়ে যাচ্ছিল মিঠা পানির মাছের বহু প্রজাতি। ফলে গবেষণার মাধ্যমে সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়, যার ফল এখন বাজারে গেলে টের পাওয়া যায়।

একেকটি মাছের প্রজাতি নিয়ে গবেষণায় সাফল্য পেতে অন্তত আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগেছে।

পুনরায় ফিরিয়ে আনা মাছগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে।

বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হওয়া মাছের মধ্যে পুকুর ও ডোবার মত বদ্ধ জলাশয়ে ৫৭ শতাংশ মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়।

বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার বলেছেন, দেশের হাওড় এবং উজানে প্রাকৃতিকভাবে গত এক দশকে মাছের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, হাওড় এলাকায় জলাশয় ইজারা দেবার সরকারি পদ্ধতি বাতিল হবার কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে।

“ইজারা পদ্ধতি চালু থাকাকালে জলাশয়ের ব্যবহারকারীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু আচরণ যেমন মৌসুম শেষে জলাশয়টি পুরোপুরি সেচে ফেলা, রাসায়নিক ব্যবহার এসব কারণে মাছের প্রাকৃতিক আবাস ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হত।”

তিনি জানিয়েছেন, এখন নতুন নিয়মে কোন নির্দিষ্ট কম্যুনিটি একটি জলাশয়ের দায়িত্ব পায়, সেখানে মাছের আবাস ও উৎপাদন স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের দেয়া নিয়মাবলী মানা হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা হয়।

এর ফলেই মাছের আবাসস্থল বা হ্যাবিটাট অটুট থাকছে, ফলে মাছের প্রজনন নির্বিঘ্নে হতে পারছে।মহালদার জানিয়েছেন এর বাইরে মাছের জন্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে অনেক এলাকায়, হাওড় এলাকায় পুনরায় খনন করে মাছের আবাসস্থল ফেরানো হয়েছে কোন কোন এলাকায়।

এছাড়া ইলিশ সংরক্ষণের জন্য বছরে কয়েকটি সময় যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, তার ফলে কেবল ইলিশই বাঁচে না।

ওই একই আবাসস্থলে থাকা রিটা এবং আইড়ের মত মাছও সুরক্ষা পাচ্ছে।

যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় ইলিশ ডিম ছাড়ছে এবং বাচ্চা ফুটছে মানে প্রচুর জাটকা হচ্ছে, এই জাটকা আবার রিটা এবং আইড়ের প্রধান খাবার।

কিন্তু ইলিশের উৎপাদন ব্যাপক হারে হচ্ছে বলে, রিটা এবং আইড় মাছের পেটে অনেক জাটকা চলে যাবার পরেও সব কটি মাছের উৎপাদন বাড়ছে।

বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০র বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন’এর এ সংক্রান্ত নিয়ম হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

যে কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা না হলেও বহু দেশীয় মাছই এখন আর দেখা যায় না।

তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, বর্তমানে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করছে।

এই মুহূর্তে বাজারে যেসব মাছ পাওয়া যায় তার ৫৬ শতাংশই চাষের মাছ। ব্যাপক হারে চাষাবাদ হবার কারণে এসব মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে, ফলে একদিকে দেশিয় উদ্যোক্তাদের যেমন কর্মসংস্থান হচেছ, তেমনি অর্থনীতির উন্নয়নও তো হচ্ছে।

এখন এই দেশিয় প্রজাতির মাছের প্রত্যাবর্তন টিকিয়ে রাখা এবং আরো নতুন নতুন প্রজাতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন। আর সেজন্য গবেষণা আরো বাড়াতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

indianexpress.jpg

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ভারতীয় The Indian Express পত্রিকায় ‘BSF: Border Guard Bangladesh supports cattle smuggling’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় গত ১৩ জুলাই।

সংবাদে গত ৬ জুলাই বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার এর ডিআইজি এসএস গুলেরিয়া স্বাক্ষরিত হিন্দি ভাষায় লিখিত এক সংবাদ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বিএসএফ দাবি করছে ভারত থেকে গরু পাচারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় ‘The Indian Express’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও বিবৃতিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় চোরাকারবারীদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ভারতের মাটিতে গরু সমাগম ও নদীপথে গরু পাচারে বিএসএফ এর নিষ্ক্রিয়তা বা তৎপরতার অভাব নিঃসন্দেহে বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করে।

ভারতীয় গরু পাচারকারীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় বাংলাদেশে এভাবে গরু পাচার করার কাজে অতি উৎসাহী হয়। এতে করে দেশীয় খামারগুলো প্রায়শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ প্রেক্ষিতে গরু চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং বিজিবি কর্তৃক সীমান্তে গবাদিপশু চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, পুলিশ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজন, সীমান্তবর্তী জনগণকে সাথে নিয়ে রাত্রিকালীন পাহারা দেওয়া ও সীমান্তে বিজিবির টহল বৃদ্ধিসহ কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মূলত গরু চোরাচালান প্রতিরোধে বিএসএফ এর ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্যই ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ হতে পারে বলে অনুমেয়।

সংবাদে আরও বলা হয়, চলতি জুলাই মাসের শেষে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু চোরাচালান বেড়েছে।

অর্থাৎ গরু পাচারের পিছনে ধর্মীয় কারণের উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদার কথা উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে জানা গেছে, বিগত বছরে ১ কোটির সামান্য কিছু বেশি পশু কোরবানির জন্য সারাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে।

এবছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে ধারণা করা হচ্ছে এ সংখ্যা ১ কোটির কিছু কম হবে। আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য আমাদের দেশে ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০টি পশু মজুদ রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত।

তাই দেশীয় খামারিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে বিদেশি গরু হতে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় খামার থেকেই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি দেশের সীমান্তে গবাদি পশু চোরাচালানরোধে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

সংবাদে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার এর ডিআইজি এস এস গুলেরিয়ার বিবৃতি দিয়ে এও বলা হয়েছে, প্রাণিগুলোকে পরম যত্নের সঙ্গে লালন-পালন করা হয় কিন্তু কোরবানি ঈদের নামে উৎসর্গ করে জবাই করার অর্থ হলো নির্যাতন করা।

কথাটি ইসলাম ধর্মের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদুল-আজহা’ এর জন্য অবমাননাকর এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার শামিল। মূলত ঈদুল-আজহার দিন মুসলিম বিশ্ব পশু কোরবানির মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তি বিসর্জন করে মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করে থাকে এবং গরীব অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণের মাধ্যমে সোহার্দ্যের উদাহরণ তৈরি করে যা ইসলাম ধর্মে আত্মত্যাগের অন্যতম নিদর্শন।

Humayun-Ahmed-696x418.jpg

কালান্তক ব্যাধিতে হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন, তারও পেরিয়েছে আট বছর। তবে জীবনে যেমন মরণেও তেমনি হুমায়ূন অসামান্য হয়ে আছেন মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায়।

হুমায়ূন আহমেদ তার সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের নুহাশ পল্লী। কথার জাদুকরকে ছাড়া কেমন আছে তার প্রিয় নুহাশ পল্লী?

কোনো এক ঘোর লাগা বৃষ্টি দিনে তিনি চলে গেছেন আকাশের ওপারে। তবুও বাংলার ঘাস, ফুল লতা, জলধারা, আকাশ প্লাবিত জ্যোৎস্নার মধ্যে হুমায়ূনকে কে ভোলে?

মনের মাধুর্য দিয়ে তিল তিল করে তিনি গড়েছেন নুহাশ পল্লী। এখানেই যাপন করা জীবনকে তিনি স্বপ্নময় আরও প্রাণময় করেছেন।

ওষধি গাছ, দিঘী লীলাবতি কিংবা বৃষ্টি বিলাস। তেমনই আছে আগে যেমন ছিল। তবুও এক শূন্যতা। রাজাধিরাজের শূন্যতা।

জীবনশিল্পীর লেখনীতে কত গল্প, কত হাহাকার, কত আনন্দ কিংবা ভালোবাসতে পারার অজানা সূত্রের সন্ধান।

মায়াবী গল্পের মানবিক জাদুকর নিজেও তো ভালোবেসেছেন অবারিত প্রকৃতিকে। নুহাশ পল্লী দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক নীরব সাক্ষী হয়ে।

হুমায়ূন কোথায় আছেন, দূরে কোথায় দূরে দূরে, সে কোন পৃথিবীতে, তার কোন নাম নেই, মানচিত্র নেই, রোড ম্যাপ নেই, তবুও অনন্তের কাছে সব না বলা কথা পাঠিয়ে দিচ্ছে তার অগণিত পাঠক। ভালোবাসার যত অশ্রু, অশ্রুর কাব্য এবং অশ্রুর অনন্ত পঙক্তিমালা।

নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কিংবদন্তি এ কথাসাহিত্যিক ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মাতুলালয় শেখ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

metro-rail.jpg

বিশ্বের জনবহুল শহরগুলোতে মেট্রোরেল বেশ জনপ্রিয় গণপরিবহন। দেরিতে হলেও নগরবাসীকে দুর্বিষহ যানজট থেকে স্বস্তি দিতে এবং গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে নির্মাণ করা হচ্ছে মেট্রোরেল।

তিলোত্তমা ঢাকার উত্তরা খেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো-রুটের কাজ এগিয়ে চলেছে।

সম্প্রতি বৈশ্বিক মহামারি করোনায় দেশে দেশে হোঁচট খাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। যাপিত জীবনের চিরচেনা কোলাহলে ভর করে অজানা ভয় আর শঙ্কার অমানিশা।

গতি হারায় উন্নয়নের চলমান ধারা, থমকে যায় অর্থনীতির প্রবহমানতা।

এরই মধ্যে প্রাথমিক আঘাত সামলে নিয়ে জীবনের প্রয়োজনে জীবিকার রথ চলতে শুরু করেছে। গতি হারানো উন্নয়ন কাজ পেতে চলেছে গতি।

এ বাস্তবতায় স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পও নড়েচড়ে বসেছে।

এবার ঢাকা শহরে মেট্রোরেলের রুট বিস্তারে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র জাপান।

ইতোমধোই জাপানের ঋণে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৪.৬৭ শতাংশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের বিজয় দিবসে এই মেট্রোরেল উদ্বোধনের পরিকল্পনা আছে।

২০১২ সালে গৃহীত হয় মেট্রোরেল প্রকল্প। এ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে সাহায্য হিসেবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয় বিবেচনা করে আরো দুটি মেট্রোরেল লাইন ১ ও ৫ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাশ হয়েছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে এ দুই প্রকল্পের কাজ। নতুন এ দুটি মেট্রোরেলে জাপান বাংলাদেশকে আরো ৬৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চলেছে।

সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। অবকাঠামো খাতের জন্য এর সুদ হার হবে ১ শতাংশ।

তবে স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের জন্য সুদ হার যথাক্রমে ০.৯ শতাংশ ও ০.১ শতাংশ। দশ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে এ ঋণ।

গ্রেস পিরিয়ডের আওতায় প্রথম ১০ বছর সুদ ছাড়াই মূল ঋণের অংশ পরিশোধ করতে হবে।

এ ঋণ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তরা জানান, বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে একসঙ্গে দেওয়া এই সহায়তা হবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার এখন পর্যন্ত দেওয়া সর্বোচ্চ সাহায্য।

দ্রুত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এ ঋণচুক্তি। এ বিষয়ে ইআরডি ও জাইকার মধ্যে সব ধরনের পদেক্ষপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইআরডি’র যুগ্মসচিব (জাপান-আমেরিকা উইং) মোহাম্মদ আশরাফ আলী ফারুক বলেছেন, নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে জাপান বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে। এখনও চুক্তি হয়নি।

আমরা ঋণচুক্তির জন্য কাজ করছি। সব কিছু ফাইনাল করেই আপনাদের জানানো যাবে। সব চূড়ান্ত করার আগে মন্তব্য করা যাবে না।

সূত্র জানায়, ঢাকাবাসীর জন্য আরো একটি মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১ এর রুট নির্মিত হতে চলেছে।

৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।।

এর আওতায় এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ২৭.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয়।

এমআরটি লাইন-০১-এ এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-যমুনা ফিউচার পার্ক-নতুনবাজার-বারিধারা-উত্তর বাড্ডা-হাতিরঝিল-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬.২ কিলোমিটার এবং অন্যটি নতুনবাজার-যমুনা ফিউচার পার্ক-বসুন্ধরা-পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটি-মাস্তুল-পূর্বাচল পশ্চিম-পূর্বাচল সেন্ট্রাল-পূর্বাচল সেক্টর-৭-পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১.৩ কিলোমিটার রুট নির্মিত হবে।

এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ৩৩ হাজার ৯১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ব্যয় বিবেচনায় এটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত হলো।

২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পের আওতায় ৫৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেল লাইন-৫: মেট্রোরেল লাইন-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।

নতুন এই মেট্রোরেলের এলাইনমেন্ট হলো- হেমায়েতপুর-বালিয়ারপুর-মধুমতি-আমিনবাজার-গাবতলী-দারুসসালাম-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-মিরপুর-১৪-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-২-নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৮-এর ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে।

হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ লাইনটির ১৪ কিলোমিটার হবে পাতাল রুট; বাকি ছয় কিলোমিটার এলিভেটেড রুট। ফলে একই রুটে পাতাল ও উড়াল ব্যবস্থার সমন্বয়ে মেট্রোরেল হবে।

প্রস্তাবিত এমআরটি রুট-৫-এ (নর্দান রুট) ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে নয়টি স্টেশন হবে আন্ডারগ্রাউন্ডে, বাকি পাঁচটি স্টেশন থাকবে মাটির ওপরে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে জাইকা দেবে ৩০ হাজার ৭৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প-১ ও মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড পাওয়ার প্রজেক্ট-৫ প্রকল্পে ৮৪ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান। এ ঋণচুক্তি বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে।

বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুকে রক্ষা করতেই এবার এর পাশে আলাদাভাবে ডুয়েলগেজ রেলসেতু নির্মাণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু সেতু বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দুই অংশকে একত্রিত করেছে।

সড়কের পাশাপাশি সেতুতে রেল সংযোগও রয়েছে। তবে এই রেল সংযোগ বর্তমানে না থাকার সমতুল্য। সেতুতে ট্রেন চলে কচ্ছপ গতিতে।

ইচ্ছে করলে কোনো যাত্রী দৌঁড়ে ট্রেনের আগেই সেতু পার হতে পারবেন। এর আগে কয়েকবার সেতুতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।

কারণ দুষ্কৃতিকারীরা ট্রেন আউটার সিগনালিং খাঁচা ভেঙে ফেলেছে।

সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুতে ৪.৮ কিলোমিটার রেল সংযোগ এখন এক আতঙ্কের নাম।

নতুন প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান জাইকা ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা দেবে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সম্পূর্ণ স্টিল দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।

হেলথ সার্ভিস স্ট্রেংদেনিং প্রকল্পের আওতায় জাপানে ৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি অনুষ্ঠিত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে ইআরডি’র ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির আগে কোনো নিউজ হলে জাইকা বিষয়টা ভালোভাবে নেয় না।

তারা (জাইকা) আগাম কোনো তথ্য লিক হোট এটা চায় না। তাই ঋণচুক্তির বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

তবে এটা বলতে পারি, খুব দ্রুত প্রকল্পগুলোর ঋণচুক্তি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এ বিষয়ে সবাই কাজ করছি। জাইকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

HRD.jpg

বাংলাদেশে ২০১৯ সালে সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা ব্রিটিশ সরকারের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: ২০১৯ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের বিভিন্ন সময় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে এবং কমপক্ষে দুইটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

গত বছরের বিভিন্ন সময় ব্রিটেনের মন্ত্রীরা বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী দুর্নীতির দায়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

কিন্তু কারাবন্দি অবস্থায় তিনি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাননি। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।

যদিও এই আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। গত বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবরে এক বুয়েট শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সদস্যদের হামলায় নিহত হন। লিঙ্গভিত্তিক সহিংস এখনো বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরত জাহান রাফির হত্যার ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে। যিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।

তবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বাংলাদেশ এখনো রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

labourf.jpg

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এক লাখের বেশি শ্রমিকের বিদেশ যাত্রা আটকে আছে।

এদের মাঝে ৮৫ শতাংশ সৌদি আরবসহ মোট ৯৫ শতাংশ যাবেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বাকিরা অন্যান্য দেশে।

3বুধবার (১৫ জুলাই) অনলাইনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিদেশগামী এসব কর্মীর মাঝে কারও ভিসা হয়েছে, আবার কারও টিকিট করা হয়েছিল।

কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তারা বিদেশ যেতে পারেননি।

তারা যেন সবাই বিদেশ যেতে পারেন সে বিষয়ে কোরবানির ঈদের পর নিয়োগকর্তা দেশের সাথে কথা বলা হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব কর্মীর ভিসা ও টিকিটসহ বিভিন্ন কাজ করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রায় ১৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

এ বিষয়ে আমরা সরকারি প্রণোদনা চেয়েছি। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য কাজ করব।

যাতে কোনো দুর্যোগ আসলেও আমাদের কর্মীদের কোনও সমস্যা না হয়।

শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেকে বলছে সৌদি বা অন্য দেশ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ লোক দেশে ফেরত আসবে। এ তথ্য সঠিক নয়।

করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে দেশগুলো যখন কাজ উন্মুক্ত করে দেবে তখন সব কর্মী আবার কাজে যোগদান করতে পারবেন।

chin-india-bangladesh-224087.jpg

ভারতের সঙ্গে চীনের  সংঘাত যত বাড়ছে ততই যেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে বেজিং এমনটাই বলছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

তারা জানাচ্ছে, এমন মধুর সম্পর্ক যা ভারতের কাছে অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ প্রতিবেশী নিয়ে ইদানীং ভারতের চিন্তা বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ‘হাতছাড়া’ হয়ে গেলে আরও কঠিন অবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে।

তাই সম্পর্কের শিথিলতা ঝেড়ে এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটতে চলেছে ভারত।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় জানায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান রাষ্ট্রদূত রিভা গঙ্গোপাধ্যায় দাসকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নয়াদিল্লিতে।

তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) পদে বসানো হচ্ছে। আর ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে  কুটনীতিবিদ বিক্রম ডরাইস্বামীকে।

উল্লেখ্য, সিএএ, রোহিঙ্গা, তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন চলছে।

এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ডরাইস্বামীকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষায়, এমন টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে চিন।

তারা আরও জানায়,  বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাকায় লগ্নির পাশাপাশি সে দেশের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন চিনা ব্যবসায়ীরা।

এমনকি করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়ে বারবার বাংলাদেশকে বার্তা পাঠিয়েছে চিন।

বাংলাদেশের সরকারি স্তর থেকেও বারবার চিনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষায়, সীমান্ত নিয়ে ভয়াবহ খারাপ অবস্থা ভারতের। পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন করে কিছুর বলার নেই।

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।

সেই প্রতিবেশীই যেন কোনওভাবে ‘শত্রুপক্ষের’ সঙ্গে হাত না মেলায়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত এমনটাই জানাচ্ছেন তারা।

governm4.jpg

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রণোদনা দেবে সরকার। এমন ঘোষণা আসে এপ্রিলে।

কিন্তু করোনা আক্রান্ত হলেই প্রণোদনা পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি গ্রুপের করোনায় আক্রান্তের ভুয়া সনদ বিষয়টিতে নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।

সরকারপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকুরেরা সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন ভেবেছিলেন। তবে এসংক্রান্ত পরিপত্রে এর স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।

সব মিলে ক্ষতিপূরণ কারা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়াদের পরিবার দ্রুতই ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত ২৩ এপ্রিল পরিপত্র জারি করে সরকার। ওই পত্রে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্মরত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে লকডাউন ও সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

পরিপত্রে কয়েকটি খাতের সম্মুখযোদ্ধাদের বিষয়ে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী’ও এ সুবিধা পাবেন। তবে এই ‘প্রত্যক্ষভাবে জড়িত’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ফলে কাদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ধরা হবে, তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে অনেক মন্ত্রণালয়। তারা অর্থ বিভাগে সুপারিশ পাঠানোর আগে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারছে না।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত রোববার কয়েকজন সচিবের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে কারা ক্ষতিপূরণ পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তখন রিজেন্ট ও জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভুয়া সনদ দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

সেখানে সাময়িক সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আক্রান্তদের বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে।

বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, শুধু আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দরকার আছে কি না, তা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে সাধারণ ছুটির সময়টাই (২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে) বিবেচনা করা হবে কি না, তাও আলোচনায় আসে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে কেউই নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে তারা বলেছেন, অর্থ বিভাগের পরিপত্রে অনেক অস্পষ্টতা আছে। ঘোষণায় স্পষ্টতা থাকা উচিত।

না হয় পছন্দ অনুযায়ীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন, অন্যরা পাবেন না। তখন দুর্নীতির শঙ্কাও থাকবে।

তবে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাইরে এসংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ অন্য কাউকে দেওয়া উচিত নয়। অন্যদের দিতে গেলেই ক্রাইটেরিয়ার ঝামেলা তৈরি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সিরাজুন নূর বলেন, আপাতত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে জানানো হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত বা মৃত সরকারি চাকরিজীবীদের সনদ তিন ধাপে যাচাই করা হবে।

প্রথম ধাপে যাচাই-বাছাই করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দ্বিতীয় ধাপে মন্ত্রণালয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ।

অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন বা করতেন সেই মন্ত্রণালয় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

তৃতীয় ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয় আবারও সেটি যাচাই-বাছাই করবে। তবে ভুয়া সনদ দাখিলের বিপরীতে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না, তা জানা যায়নি।

সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম বলেন, এ বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবে উপকারভোগীদের চিহ্নিত করতে হবে। যারা ক্ষতিপূরণ পাবেন তাদের মধ্যে যেন কোনো বৈষম্য না হয়, তা নিশ্চিত করাটাও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ এপ্রিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য করোনাকালীন প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এতে গ্রেড ভেদে আক্রান্ত ও মারা গেলে পাঁচ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবার।

করোনায় ক্ষতিপূরণ দিতে সব মিলিয়ে ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সরাসরি করোনা মোকাবেলায় যুক্ত ডাক্তার-নার্সদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বাকি ৩৫০ কোটি টাকা এ খাতে ব্যয় করা হবে। গত ৯ জুলাই সেই প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ।

ruppur.jpg

সরকারের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করোনা মহামারীর মধ্যেও পূর্ণদ্যমে এগিয়ে চলেছে।

সরকারের লক্ষাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নিয়ে প্রকল্পের কাজে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশি ও বিদেশি প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রকল্পে কাজ করছে বলে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানিয়েছেন।

গত ১১ জুলাই শনিবার প্রকল্পের কাজের সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শনে ড. শৌকত আকবর ঈশ্বরদীর রূপপুরে এলে জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলেছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাজের গতি পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দুটি ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবন নির্মাণ কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। নির্মাণ কাজ ৩০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ঈশ্বরদীর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের নিমিত্তে ১ম ইউনিটের মূল স্থাপনার কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন ।

পরের বছরই দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের নির্মাণ কাজ শুরুর ৬৮ মাসের মধ্যে মূল স্থাপনা নির্মাণ সম্পন্নের কথা রয়েছে।

ড. শৌকত জানান, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম ইউনিটের এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট হতে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে দুই হাজার বিদেশিসহ প্রায় দশ হাজার জনবল এই প্রকল্পে পূর্ণোদ্যমে মহাকর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশিদের মধ্যে সিংহভাগই রাশিয়ান।

রুশ আর্থিক সহায়তায় ১,০৭৯ একর এবং রেলওয়ের প্রায় ৭৫ একর জমির উপর নির্মিত প্রকল্পের দুটি ইউনিটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১,০১,২০০ কোটি টাকা।

করোনা পরিস্থিতিতে প্রকল্পের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ড. শৌকত আকবর জানান, করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

লকডাউন শুরুর পর হতে এযাবত ৭৮ জন রাশিয়ান দেশে ফেরত গেছেন। অপরদিকে ৩টি চার্টার্ড বিমানে ৫৭০ জন এসেছেন।

১১ জন জার্মানও এসে যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় ৮১ জনকে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ও আগস্টের মধ্যে প্রায় ৭৫০ জন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ এসে পৌঁছাবেন।

প্রকল্প এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিদিনই তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বেশি থাকলে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

এরপর আবারো পরীক্ষা করে সুস্থ মনে হলে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া কাজ করার সময়ও তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। রাশিয়ান ও প্রকল্পের মেডিকেল টিম এই কাজে সবসময় নিয়োজিত রয়েছে।

কোয়ারেন্টোইনে জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশ হতে আগতদের নমুনা পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট সাথে আনতে হচ্ছে।

তদুপরি আসার পর ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টানে থাকতে হচ্ছে।

কঠোরভাবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে নির্মাণ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

ড. শৌকত আকবর জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন কারখানায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে।

যন্ত্রপাতি নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পে কর্মরত বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

এছাড়া রাশিয়ার মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি নিউক্লিয়ার সেকশন রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসানের নেতৃত্বে নিয়মিত কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।

হার্ডিঞ্জ সেতুর অদূরে পদ্মা নদীর তীরে ১৯৬১ সালে গৃহীত এই প্রকল্প প্রায় ৫০ বছর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সাথে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সম্পাদন করেন।

দেশের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্পে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীদের আবাসনের জন্য গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মানের গ্রিন সিটি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কয়েকটি প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা গেলেও মেগা প্রকল্প রূপপুরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কোনো কোনো কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে।

আশা করা যায়, টাইম লাইন অনুযায়ী ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই প্রকল্প হতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

ফলে সরকারের উন্নয়ন কাজ অনেকটাই সফলতার মুখ দেখার সাথে সাথে এই প্রকল্পকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নর সফল বাস্তবায়ন ঘটবে।