বিশেষ সংবাদ Archives - Page 2 of 48 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

brahmonbaria-train-accident-1-20191112081554.jpg

সদ্য বিদায়ী ২০১৯ সালে ৩৯৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৮৯ নারী, ৪৬ শিশুসহ ৪২১ জন নিহত এবং চার নারী, ৩৩ শিশুসহ ৩৬৬ জন আহত হয়েছেন। ওই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন রেলপথে এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন ‘শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামে’র (এসসিআরএফ) সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯-এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র, নয়টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ১০ নারী, চার শিশুসহ ৩৯ জন নিহত এবং দুই শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪৬ দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ১০ ও চার। এ ছাড়া ওই মাসে আহত হয়েছেন এক নারী, ১৩ শিশুসহ আরও ২২ জন। মার্চে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৫টি। এতে ছয় নারী, চার শিশুসহ ৩৮ জন নিহত এবং শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছেন।

এপ্রিলে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার নারী ও তিন শিশু রয়েছে। মে মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩০টি; যাতে আট নারী, তিন শিশুসহ ৩০ জনের প্রাণহানি এবং তিনজন আহত হয়েছেন। জুনে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা যথাক্রমে ২৯ ও ৩৩; নিহতদের মধ্যে নয় নারী ও তিন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১০০ জন। জুলাইয়ে ৩৭টি দুর্ঘটনায় নয় নারী, সাত শিশুসহ ৪৬ জন নিহত এবং এক নারী, এক শিশুসহ ৪৩ জন আহত হয়েছেন।

আগস্টে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা যথাক্রমে ২৮ ও ২৯। নিহতদের মধ্যে সাত নারী ও চার শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ওই মাসে আহত হয়েছেন আর ১০ জন। সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি; এতে নয় নারী, দুই শিশুসহ ৩২ জন নিহত এবং দুই শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছেন। অক্টোবরে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া এক নারী, ১১ শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ৩৮ জন। নভেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি; এতে ১৪ নারী, নয় শিশুসহ ৬৮ জন নিহত এবং এক নারী, এক শিশুসহ ১২২ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ডিসেম্বরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা যথাক্রমে ২৩ ও ২৭। নিহতদের মধ্যে পাঁচ নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও নয়জন।

এসসিআরএফের সভাপতি আশীষ কুমার দে বলেন, পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

সেগুলো হচ্ছে সড়ক যোগাযোগের স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত ও অপরিকল্পিত রেলক্রসিং নির্মাণ, অধিকাংশ রেলক্রসিংয়ে নিজস্ব পাহারাদার না থাকা, রেলপথ পারাপারের সময় পথচারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার, বেশিরভাগ লোকোমোটিভের (রেল ইঞ্জিন) অর্থনৈতিক আয়ুস্কাল শেষ হওয়া, ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামো, চালকসহ কারিগরি কর্মীদের অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট।

bsf43.jpg

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বৈতনীতি গ্রহণ করেছে। গরু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিএসএস কঠোর পন্থা নিলেও মাদক পাচারকারীদের তারা এক ধরনের সহযোগিতা করছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে গবাদিপশু পাচার ঠেকাতে বিএসএফের কঠোরতায় এক বছরে গবাদিপশু আসা প্রায় বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে বিএসএফের কোনো ভূমিকা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএসএফের বিরুদ্ধে মাদক পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। ফলে আগে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গরু-মহিষ পাচার করত, এখন তারা মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েছে।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেছেন, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলগুলোয় ফেনসিডিল, ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারকালে বেশকিছু ট্রাক চালান আটক করেছে র‌্যাব-৪ এর একাধিক টিম। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা। অস্ত্র ও মাদকের চালানগুলোও এসব সীমান্ত এলাকা থেকে ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের বিভিন্ন মাদক স্পটে নেয়া হয়।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তপথে বিপুল সংখ্যায় গরু-মহিষ এসেছে। তবে বছরখানেক বিএসএফ বাংলাদেশে গবাদিপশু পাচার বন্ধে গুলিচালনাসহ কঠোর পন্থা অবলম্বন করছে। এতে সীমান্তের দুই পারেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাদের একটি অংশ এখন সীমান্তপথে মাদক পাচারে নেমে পড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তারাপুর সীমান্তের মামুন রশিদ জানান, ভারত থেকে একজোড়া গরু-মহিষ আনতে পারলে সময় ও স্থানভেদে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যেত। আগে বিএসএফ ও বিজিবিকে ম্যানেজ করে আনা হতো গরু। সীমান্তের দুই পারে দামের বিশাল পার্থক্য থাকায় গরু ব্যবসায়ও লাভের অঙ্ক বড় ছিল। এখন গরু-মহিষ আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় দুই পারের সীমান্তের শত শত মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এসব লোককে সীমান্তে মাদক পাচারে জড়িয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেলকুপি সীমান্তের সফিকুল ইসলাম বলেন, গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলি খাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকলেও মাদক পাচারে সেই ঝুঁকি কিছুটা কম। কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে মাদকের পুঁটলি বা বস্তা ছুড়ে দিলেই এপারে অপেক্ষমাণ পাইট (বহনকারী) কুড়িয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে নিরাপদে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিএসএফ কাছে টহল দিলেও ওই প্রান্তে মাদক পাচারকারীদের বাধা দিচ্ছে না। সীমান্তে মাদক পাচারের কর্মটি গভীর রাতেও যেমন চলছে, দিনের বেলায়ও হচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে বিজিবির টহল দলের হাতে মাদকের চালান আটকের ঘটনা ঘটে। এভাবে সীমান্তে নির্বিঘ্নে মাদক পাচারে বিজিবির সোর্সরা লাইন ক্লিয়ার রাখার দায়িত্ব পালন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট, বাঘা ও পবার অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে ফেনসিডিল ও ইয়াবা পাচার চলছে বলে সীমান্তের সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। গোদাগাড়ীর বগচর, কোদালকাটি, প্রেমতলী, চর আষাড়িয়াদহ সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়েও রাতের আঁধারে কাঁটাতারের বেড়ার উপর দিয়ে বস্তা বস্তা ফেনসিডিল পাচারের পাশাপাশি হেরোইন পাচারও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। আগে যারা গরুর ব্যবসা করত, এখন তারা মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েছে। বিএসএফ এসব সীমান্তে গরু পাচার ঠেকাতে ঘনঘন অস্থায়ী চৌকি বসালেও মাদক পাচারে বাধা না দেয়ায় ভারতীয়রা সন্ধ্যা হলেই মাদকের চালান নিয়ে কাঁটাতারের ওপারে অপেক্ষায় থাকে। অন্ধকার হলেই বেড়ার ওপর দিয়ে মাদকের চালান এপারে ফেলে দিচ্ছে। মাদকের সঙ্গে অস্ত্রেরও চালান আসছে বলে স্থানীয় লোকজন নাম প্রকাশ না করে জানায়। এ বিষয়ে বক্তব্য পেতে বিজিবির রাজশাহী অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার ফোন দিলেও তারা ফোন ধরেননি। এসএমএস দিয়ে কথা বলার অনুরোধ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হাফিজ আক্তার বলেন, সীমান্তপথে ভারত থেকে অধিকাংশ মাদক আসে। তবে মাদক পাচার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে থাকায় রাজশাহী অঞ্চলে মাদকের প্রকোপ কমেছে। আগামী দিনেও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

su5x.jpg

বাংলাদেশে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জিপিএ ফাইভ না পেয়ে অথবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে সম্প্রতি অন্তত তিনজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাননি সেটা জানার পরই মঙ্গলবার বাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের প্রাণ নিয়েছেন ১৪-বছর বয়সী এক কিশোরী।

তার পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যবসায়ী যাদব দাস বলছেন, আমার বন্ধু খুব ভেঙে পরেছে। আল্লাহ একটাই সন্তান দিয়েছিলো তাকে। তাও বিয়ের দশ বছর পর। সুন্দরভাবে তাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু দু:খজনক ব্যাপার গতকাল পরীক্ষায় রেজাল্ট শুনে স্কুলে কে তাকে কী বলেছে, কোন বান্ধবীরা কী বলেছে, সেটা শুনে সে সুইসাইড করেছে।

শরিয়তপুরের গোসাইঘাটে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করতে না পেরে এক কিশোরী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরের ক্লাসে উঠতে না পেরে একই পথ বেছে নিয়েছেন এক কিশোর। পুলিশের বরাত দিয়ে এমনটাই জানা গেছে। প্রতি বছরই বড় কোন পরীক্ষার ফল প্রকাশের এমন খবর যায়।

পরীক্ষার ফল শিশুদের কেন এই পথে ঠেলে দিচ্ছে

ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ইশরাত শারমিন রহমান বলছেন, কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ থাকে। অল্পতেই খুশি, দু:খ ও রাগ বোধ করা কিশোর বয়সের বৈশিষ্ট্য। পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর পরিবারের সহযোগিতার অভাব, বরং উল্টো তাকে কটু কথা শোনানো, প্রতিবেশী, আত্মীয় ও সহপাঠীদের চাপও বড় কারণ।

তিনি বলছেন, এই যে বাচ্চাগুলো যখন পরীক্ষা ফেল করছে বা রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, বাবা-মা প্রচণ্ড বকাঝকা করছে। অনেক সময় একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেই বাচ্চারা সেটা শোনে বা কাগজে দেখে। তারা সেটা দেখে মোটিভেটেড হয়ে যায়। তারা ভাবে আমার মতো একজন যদি এটা করতে পারে তাহলে আমিও করতে পারি। অনেক সময় তারা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যা বা তোর মতো সন্তান থাকার থেকে না থাকা ভালো ছিল। তারা এমনিতেই আবেগপ্রবণ। এই জিনিসগুলো তাদের আরও অনেক আবেগপ্রবণ করে ফেলে।

তিনি আরও বলছেন, অনেক সময় রেগে গিয়ে বাবা-মাকে ভয় দেখানোর জন্য তারা এটা করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু যেহেতু তাদের বয়স কম। তাদের জানার ঘাটতি আছে যে কতটুকু করলে তারা বিপদে পরবে না। অনেক সময় যেটা হয় আত্মহত্যা করতে না চাইলেও, ঘটনাটা ঘটে যায়।

পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা দায়ী?

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ থেকে বড়জোর ১৫ বছর বয়সীরা। সমাপনী পরীক্ষা দু’টি হয় জাতীয় পর্যায়ে যাতে সারা দেশের এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিভিন্ন গ্রেড দিয়ে মেধা যাচাই হয় যার মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে জিপিএ-ফাইভ। শিশুদের এক ধরণের প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়।

ফেনীর সোনাগাজি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিটুবি রানি গুহ বলছেন, ছোট বয়সে তারা খেলাধুলা করবে। তাদের ভেতরে এই বয়সে খেলাধুলার আগ্রহটাই বেশি থাকে। একসাথে এত বড় একটি পরীক্ষায় অংশ নেয়া এবং তাতে ভালো ফল করার বিষয়টি এই বয়সে অনেক বড় মানসিক চাপ।

তিনি মনে করেন, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার এই ফল গরীব পরিবারের অনেককে চাকরি পেতে সহায়তা করে তবে পঞ্চম শ্রেণির এমন সমাপনী পরীক্ষার কোন প্রয়োজন নেই। এমন পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা দরকার সে নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন অনেক দিনের।

শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা এডুকো’র বিশেষজ্ঞ গোলাম কিবরিয়া বলছেন, শিক্ষাটা এমন হওয়া উচিত যেখানে একটা জিনিস জানবে, চর্চা করবে, বন্ধুদের সাথে শিক্ষকদের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলাপ করবে এবং সত্যিকার অর্থে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে। বরং কোচিং করে, গাইড বই পরে, প্রাইভেট পরে, মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে কত নম্বর পাওয়া যাবে সেজন্য সারা বছর কিছু শিশু শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। নম্বর পাওয়ার এই পরীক্ষা কোন পদ্ধতি হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ভালো ফল করার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাপও কাজ করে। আর সেটি ঘটে সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য। তার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলছেন, “স্কুল যেগুলো সেগুলো বেশিরভাগই এমপিও ভিত্তিক। ভালো বা খারাপ রেজাল্ট এমপিও ভুক্তির একটি বড় মাপকাঠি।

সরকার কী পরিকল্পনা করছে?

বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলছিলেন গ্রেডিং পদ্ধতির মাধ্যমে মেধা যাচাই সবচাইতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কী কারণে এমন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিলো তার ব্যাখ্যা করে তিনি বলছেন, সব দেশে এই বয়সী শিশুদের একটা অ্যসেসমন্ট হয় যে তারা কতটা স্কিলস্‌ অর্জন করলো। দুটো পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা করা হচ্ছে। সেই কথা চিন্তা করে এই পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু আমরা এই পদ্ধতিকে কম্পিটিটিভ করে তুলেছি। গ্রেডিং পদ্ধতির একটা সাইড এফেক্ট হলও বাবা মায়েরা ছেলে-মেয়ের উপর ভালো ফলের জন্য চাপ দেয়।

তিনি বলছেন, এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন সহ এখন এই পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা হচ্ছে। শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, শিশুরা জীবনে আগে বাড়ার জন্য কতটুকু সঠিক দক্ষতা অর্জন করেছে সেটির যাচাই সারাবছর ধরেই করার কথা বলছেন তিনি। খবর: বিবিসি বাংলা।

4gg.jpg

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণী দিয়েছেন চার মেয়র প্রার্থী।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী। সম্পদের হিসাবে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলামের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল। তবে দায়-দেনা বেশি আতিকের।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস তার প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর চেয়ে সম্পদশালী। বার্ষিক আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৩ লাখ। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ কোটি টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত মায়ের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের একটি টাকাও পরিশোধ করেননি তিনি। ওই সময় মায়ের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতি ছিল ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ২২২ টাকা, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগেও তারা যখন বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই হলফনামার সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্নেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

আতিকুল ইসলাম :গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উত্তর সিটির উপনির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ওই সময়ের হলফনামায় এক কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গৃহঋণের উল্লেখ করেছিলেন। এবার ওই ঋণ দেখিয়েছেন ৯৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া আইএফআইসি, ইস্টার্ন ও শাহ্‌জালাল ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে ৫৯১ কোটি টাকা। তার নিজের নামে বাড়ি থাকলেও নেই গাড়ি। তার ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বি.কম (পাস)।

কৃষি খাতে আগে তার আয় ছিল তিন লাখ ৫৫ হাজার টাকা; এখন হয়েছে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া থেকে আয় আগে ছিল ৩৬ লাখ ৫০ হাজার; এখন হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। ব্যবসা (পারিতোষিক) থেকে তার আগে আয় ছিল ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা; এখন হয়েছে ৬৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আগে আয় হতো ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭১ টাকা। এবার দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

আগের হলফনামায় তার স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলামের চিকিৎসা পেশা থেকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় ছিল পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯২ টাকা। এবার দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে এবার আতিকুল ইসলাম নিজ নামে আয় দেখিয়েছেন তিন লাখ ৪৬ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ৪২ হাজার টাকা। এ ছাড়া তিনি মৎস্য খাতে নিজের নামে আট লাখ ২৫ হাজার এবং স্ত্রীর নামে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।

অস্থাবর সম্পদে নিজের নামে নগদ আগে ছিল শুধু ৮৭ হাজার ৬৩ টাকা; এবার রয়েছে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে নগদ (ব্যবসার পুঁজিসহ) দুই কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৩২ টাকা উল্লেখ করেছেন।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে জমা আছে এক হাজার ৫৮৩ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আগে জমা ছিল এক কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৯ টাকা; এখন রয়েছে ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯০ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ লাখ ২৭ হাজার। এ ছাড়া তার তিন কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে; আগের বছরেও একই ছিল। তার দুই লাখ টাকার সোনা, পাঁচ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং পাঁচ লাখ টাকার আসবাব রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে আতিকের নিজের নামে চার কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার ২৯১ টাকার (পরিমাণ ১০৭৪ দশমিক ০৩৫ শতাংশ কৃষিজমি) এবং স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ এক হাজার ৭৫৩ টাকার কৃষিজমি রয়েছে। তার নামে অকৃষিজমি রয়েছে ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৩ টাকার; বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের অর্জনকালীন মূল্য দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার; মৎস্য খামার এক লাখ ২০ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার (বায়নাকৃত) বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

তাবিথ আউয়াল :মাত্র ৪২ বছর বয়সী তাবিথ আগে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিক থাকলেও এবারে তিনি ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। বিপুল সম্পদের সঙ্গে রয়েছে তার বিপুল ঋণও। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৩০২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। এমএসসি পাস এই প্রার্থীর পেশা ব্যবসা হলেও কৃষি খাত থেকে তার আয় এক লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা। যদিও এর আগে ২০১৫ সালের সিটি ভোটে মেয়র পদে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখিয়েছিলেন ৯৮ লাখ টাকারও বেশি। বাড়ি ভাড়া থেকে তিনি আগে পেতেন দুই লাখ; এখন পান ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের পারিতোষিক থেকে আগে তার আয় ছিল ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা; এবার দেখিয়েছেন ৬২ লাখ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশে আগে আয় ছিল ২১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা; এখন তা ২২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। পেশা থেকে আগে আয় হতো এক লাখ ৪০ হাজার; এখন হয় এক লাখ টাকা। এর বাইরে এবারে ব্যবসা থেকে আরও ৬০ লাখ ৭১ হাজার টাকার আয় দেখিয়েছেন এবং আরও দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন শেয়ার এবং ইউএসডি বন্ডের সুদ বাবদ।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বর্তমানে নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা; যা আগে ছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যবসায়িক মূলধনসহ এবারে দেখিয়েছেন ৪৭ লাখ টাকা; যা আগে ছিল এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা; স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ টাকা। আগে নিজের ছিল ৩৪ লাখ এবং স্ত্রীর ২৭ লাখ টাকা। নিজ নামে আগে শেয়ার ছিল ১৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার; এখন রয়েছে ১৮ কোটি টাকার। আগে স্ত্রীর নামে ছিল শুধু ৫৫ হাজার টাকার শেয়ার; এখন রয়েছে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে নিজ নামে আট কোটি ৯২ লাখ টাকা; যা আগে কিছু ছিল না। স্ত্রীর নামে আগে না থাকলেও এখন রয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। নিজ নামে তার ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে; ২৪ লাখ টাকার অলঙ্কারাদি এবং অন্যান্য সম্পদ (অগ্রিম, ঋণ প্রদান ও জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ) রয়েছে ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার।

এর বাইরে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ২৪ একর কৃষি জমি, ১৬ দশমিক ৪৮ একর অকৃষি জমি, শূন্য দশমিক ৫৬ একর অন্যান্য জমি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ৯২৪ বর্গফুট ও এক হাজার ৪৩ বর্গফুট আয়তনের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট।

ফজলে নূর তাপস :একাত্তরে জন্ম নেওয়া শেখ ফজলে নূর তাপসের পেশা আইন। এলএলবি অনার্স করে তিনি ব্যারিস্টার-অ্যাট.ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা এবং ২০০৩ সালের শ্রম আদালতে মজুরি পরিশোধ-সংক্রান্ত আরও একটি মামলা হাইকোর্ট বিভাগে বাতিল বা খারিজ হয়ে গেছে।

এমপি পদ থেকে সদ্য পদত্যাগী তাপসের ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামার সঙ্গে এবারের তুলনামূলক বিশ্নেষণে দেখা গেছে, তার কোনো ঋণ নেই। ২০০৮ সালে নবম সংসদে প্রথমবারের মতো এমপি হলেও পরে দশম ও একাদশ সংসদেও তিনি এমপি হন। হলফনামা বিশ্নেষণে দেখা যায়, তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরের হলফনামায় কৃষি খাতে তার বার্ষিক আয় ছিল ৩০ হাজার ৪০২ টাকা। এবার দেখিয়েছেন নিজের ৩৫ হাজার টাকা এবং এই খাতে নির্ভরশীলদের আয় দেখিয়েছেন ২২ হাজার ৪০০ টাকা। বাড়ি ভাড়ায় নিজের আয় ৪২ লাখ ৫০ হাজার; নির্ভরশীলদের আয় ১৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এই খাতে আগে তার আয় ছিল ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আগে ব্যবসায় নিজের আয় না থাকলেও নির্ভরশীলদের আয় ছিল ১৮ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩ টাকা। এখন এক কোটি ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতে আগে আয় ছিল শুধু ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা; নির্ভরশীলদের আয় ছিল তিন লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এবারে দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ১২২ টাকা। আইন পেশা থেকে আগে আয় ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ২২ হাজার টাকা। এখন এক কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাকরি খাতে তার আগে আয় ছিল তিন লাখ ৩০ হাজার; এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজারে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ২০১৩ সালে তার হাতে নগদ ছিল ছয় কোটি দুই লাখ টাকা; এখন রয়েছে ২৬ কোটি তিন লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ছিল ৫০ হাজার; এখন রয়েছে ৯৭ লাখ টাকা। ডলার ওই সময়ে না থাকলেও এখন নিজের কাছে তিন হাজার ৭৫০ ডলার; স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৮ হাজার ৭০০ ডলার।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ আগে নিজ নামে ছিল ৬ কোটি ২ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে ২৪ লাখ টাকা। এখন নিজের এক কোটি ৫৩ লাখ এবং স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ওই সময়ে নিজ নামে শেয়ার ছিল ৩২ কোটি টাকার এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার। এখন তার নামে শেয়ার রয়েছে ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার; স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে স্থায়ী আমানত আগে নিজ নামে ছিল তিন কোটি টাকা; স্ত্রীর নামে ছিল ৬৩ লাখ টাকা। এখন নিজের রয়েছে ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর রয়েছে তিন কোটি ৮৫ লাখ টাকার।

এ ছাড়াও বর্তমানে তার এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গাড়ি নিজ নামে এবং স্ত্রীর নামে এক কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। ৩২ তোলা অলঙ্কার নিজ নামে রয়েছে, যার মূল্য দেখিয়েছেন এক কোটি টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ১৮৮ ভরি অলঙ্কারের মূল্য দেখিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। আগে নিজের ২২ তোলার মূল্য দেখিয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ৫০ ভরির মূল্য দেখিয়েছিলেন ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে কৃষিজমি ১০ দশমিক ৫০ কাঠা এবং স্ত্রীর নামে ১১২ শতাংশ, যার মূল্য ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অকৃষি জমি আগে ছিল শুধু নিজের নামে ১০ কাঠা এবং এখন নিজ নামে ১০ কাঠা এবং স্ত্রীর নামে ১০ কাঠা। আগে মতিঝিলে একটি বিল্ডিং থাকলেও এখন তার বিল্ডিংয়ের সংখ্যা তিনটি। পূর্বাচল এবং সাভারে অপর দুটি। আগে স্ত্রীর নামে ধানমন্ডিতে দুটি প্লট থাকলেও এখন একটিও নেই। আগে নিজের একটি এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট দেখালেও এখন একটি বাড়ির দাম দেখিয়েছেন ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দুটির দাম দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

দায়-দেনার মধ্যে আগে তার অগ্রিম বাড়ি ভাড়া নেওয়া ছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার টাকা, এখন এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকায়।

ইশরাক হোসেন :এক বছরে একটি টাকাও মায়ের ঋণ শোধ করতে পারেননি ইশরাক হোসেন। এমএসসি (ইঞ্জি.) ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগে দুদকের একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, একটির শেয়ারহোল্ডার এবং ট্রান্স ও শিয়ানিক ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। যদিও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য যে হলফনামা দাখিল করেছিলেন সেখানে ট্রান্স ও শিয়ানিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল না। এবার অনেক ক্ষেত্রে আয়ের খাতও বেড়েছে। আগে তার সঞ্চয়পত্রে কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও গত এক বছরে তিনি এই খাতে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করেছেন ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।

কৃষি খাতে তার কোনো আয় নেই। বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৭৮ হাজার ৩০০ টাকা। আগেরবার দেখিয়েছিলেন এক লাখ আট হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তার আয় চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। আগে ছিল ৪ লাখ টাকা। চাকরিতে (পারিতোষিক) তিনি আয় দেখিয়েছেন ৩৫ লাখ টাকা। আগে ছিল ৪০ লাখ টাকা। আগে ব্যবসার ঘরে কোনো আয় না লিখলেও এবার সোয়া ৪ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। এ ছাড়াও শেয়ারের লভ্যাংশ ও বিবিধ খাতে আগেরবার ফাঁকা থাকলেও এবার আয় দেখিয়েছেন ৪৬ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদ খাতে আগেরবার তার নিজ নামে নগদ টাকা ছিল ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা; এবার দেখিয়েছেন ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আগে ছিল এক কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৭ টাকা; এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। সঞ্চয়পত্রে আগে কোনো বিনিয়োগ না দেখালেও এবার দেখিয়েছেন ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে দুই লাখ ৯৬ হাজার শেয়ারের মূল্য দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা; এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং এক লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকার আসবাব আগেরবারের মতোই একই রেখেছেন।

স্থাবর সম্পদ তার পুরোপুরি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষি জমির মূল্য ৩০ লাখ টাকা। ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ অকৃষিজমির মূল্য ৩২ লাখ টাকা। জোয়ার সাহারায় নির্মাণাধীন ভবন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এ ছাড়াও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তার। আগের হলফনামায় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি; এবারও তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ৩১ ডিসেম্বর। ২ জানুয়ারি এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি।

jetk.jpg

প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২ জন শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরত এসেছে।

২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের লাশ ফিরেছে দেশে, অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরে এসেছে।

বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন বছরের প্রথম দিন এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানায়, ১৯৯৩ সালে মাত্র ৫৩ জন শ্রমিকের লাশ ফেরত এসেছিল প্রবাস থেকে, যে সংখ্যা ২০১৯ এ এসে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৮ জন।

সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, এই হিসাব কেবল যেসব লাশ ফেরত আসে সেই সংখ্যা ধরে। এর বাইরে অনেক লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়, যার হিসাব সব সময় হালনাগাদ থাকে না।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, “যেসব প্রবাসীর লাশ ফেরত আসে দেশে, তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা ডেথ রিপোর্টে যা উল্লেখ থাকে, সেটিই জানা যায়। সেই হিসাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক,স্বাভাবিক মৃত্যু, এবং আত্মহত্যার কথা বেশি উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং অসুস্থতার কারণও উল্লেখ থাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে।”

২০১৯ সালে দেশে ফেরা লাশের এক তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। নারী শ্রমিকসহ মোট ১১৯৮ জনের লাশ ফেরতে এসেছে দেশটি থেকে। সৌদি আরবে এই মূহুর্তে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করেন সৌদি আরবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। অল্প বয়সী কর্মক্ষম মানুষ কাজে যাবার পরে কেন শ্রমিকদের দ্রুত এবং আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে?

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরু’র পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যায়। সেখানে মূলত হৃদরোগ এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন শ্রমিকেরা। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, প্রথম প্রথম অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাপমাত্রা সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।

“মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে তীব্র গরম, তাতে প্রচণ্ড পানি শূন্যতা তৈরি হয়। সে অবস্থায় পানি বেশি পানের পাশাপাশি আরো কী করতে হবে সেটা বুঝতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান অনেকে। সে অবস্থায় কাজ করতে থাকলে হয় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে, নতুবা কাজে মন দিতে পারবে না। উভয় ক্ষেত্রেই শারীরিক ক্ষতির সঙ্গে মানসিক চাপ বাড়বে।”

“আর অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি হবার কারণে শ্রমিকেরা ওখানে গিয়ে একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। হয়তো ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন, কিন্তু কাজটি হয়ত খুবই অল্প বেতনের। তখন দ্বিতীয় একটি কাজ বা পার্টটাইম খোঁজে তারা। ফলে অনেকেই ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে পর্যাপ্ত ঘুমানোরও সুযোগ পান না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।”

সুলতানা বলছেন, সেই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের নিশ্চয়তা, দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক অনেক বেশি থাকে।

“এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে যাবার কারণে নিম্ন মজুরীর কাজ করতে বাধ্য হয়। যে কারণে সেই রোজগারের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকেনা বা তারা নিজেরাও সে খরচ করতে চায় না। যে কারণে দেখা যায়, হঠাৎ স্ট্রোক হলো বা হার্ট অ্যাটাক হলো।”

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালয়েশিয়াতে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে মারা গেছেন।

বাংলাদেশে যাচাই হয় না মৃত্যুর কারণ

সিলেটের হবিগঞ্জের মারুফ সরকার সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। চার বছর পর মারুফের মৃত্যুর খবর তার একজন রুমমেট ফোনে হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এক মাস পরে তার লাশ ফেরে দেশে। মারুফের বোন সালমা আক্তার জানিয়েছেন, লাশের সাথে আসা রিপোর্টে লেখা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু, কিন্তু দাফন করার সময় পরিবারের সদস্যরা মারুফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবার পর যাদের মাধ্যমে মারুফ বিদেশে গেছেন, তারা পরামর্শ দেয় বিষয়টি নিয়ে ‘ঝামেলা’ না করে মেনে নিতে।

“আমার আরেক ভাইরে কম টাকায় সৌদি নিয়া দিব বলছে, এই জন্য আমরা আর আগাই নাই। আমরা খালি বলছিলাম লাশটা একবার পরীক্ষা করে দেখতে, কিন্তু কেউ শুনে নাই, মাটি দিয়া দিছে ভাইরে।”

বাংলাদেশে অভিবাসন খাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু তদন্তে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন “লাশের গায়ে ডেথ সার্টিফিকেটে যা লেখা থাকে, তাই সবাই জানে এবং মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশেও যদি সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার ব্যবস্থা থাকত তাহলে স্বজনদের মনে কোন সন্দেহ থাকতো না।”

শরিফুল হাসান বলছিলেন, শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর কারণ দেশে যাচাই না করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

fymky.jpg

ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস ২০১৯ সালের শেষদিন যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন, সেটি বেশ চমকপ্রদ।তিনি জানান, ২০১৯ সালে ১৫ লাখ বাংলাদেশীদের ভারতের ভিসা দেয়া হয়েছে।

ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, কয়েক বছর আগেও প্রতি বছর সাত থেকে আট লাখ বাংলাদেশীদের ভারতীয় ভিসা দেয়া হতো। সে হিসেবে সেটি এখন দ্বিগুণ হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এতো বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কেন ভারতে যাচ্ছে?

চিকিৎসা

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা রওশন আক্তার ২০১০ সালে তার ছেলেকে নিয়ে ঢাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে যান। অভিজাত এলাকায় বেসরকারি সে চক্ষু হাসপাতাল মধ্য বিত্তের জন্য বেশ ব্যয়বহুলও বটে। রওশন আক্তারের ছেলে তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার একটি চোখের দৃষ্টি শীতকালে বেশ ঝাপসা হয়ে আসতো । চিকিৎসকরা বলছিলেন, তার চোখটি নষ্ট হয়ে গেছে।

এরপর রওশন আক্তার তার ছেলেকে নিয়ে ভারতের একটি চক্ষু হাসপাতালে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি বিশেষ লেন্স দিয়েছেন, যেটি চোখে ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এখন সবকাজ স্বাভাবিকভাবে সবকাজ করতে পারেন।

‘আমার ছেলে এখন ব্যাংকে চাকরি করে। ভারতের ডাক্তাররা বলেছে, আরো কয়েক বছর পরে ওর একটা অপারেশন করতে হবে। এরপর চোখ ঠিক হয়ে যাবে,’ বলেন রওশন আক্তার।

রওশন আক্তারের মতো এ রকম হাজারো উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। এখানকার চিকিৎসকরা বলেছেন এক কথা, আর ভারতের চিকিৎসকরা বলেছেন ভিন্ন কথা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর বাংলাদেশীদের গভীর আস্থা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন

শুধু চিকিৎসা নয়, ইদানীংকালে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ভারত। ঢাকার একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সায়মা (ছদ্মনাম)। ২০১৯ সালে তিনি চারবার ভারত ভ্রমণে গিয়েছেন।

সায়মা মনে করেন, ভ্রমণ কিংবা কেনা-কাটার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত ‘অনেক সস্তা’।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের কক্সবাজার ঘুরতে গেলে হোটেল ভাড়া, যাতায়াত এবং খাবার বাবদ যে টাকা খরচ হয়, এর চেয়ে কম খরচে ভারত ভ্রমণ করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশের তুলনায় ভারত অনেক বৈচিত্র্যময় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক সন্তোষ কুমার দেব বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসা এবং ভ্রমণের জন্য ভারত যায়।

সন্তোষ কুমার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মনে করছে, একই পরিমাণ টাকা দিয়ে আমি যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ঘুরে আসতে পারি, তাহলে আমি এখানে কেন থাকবো?

কম দামে কেনাকাটা

পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা ভারতীয় পোশাককে তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই রাখেন। ঈদ, পূজা, বিয়ে কিংবা অন্য যে কোন অনুষ্ঠানের কেনাকাটার জন্য ভারত যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে অনেক বাংলাদেশী।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মার্কেট কিংবা শপিং-মলে ভারতীয় পোশাকে সয়লাব। এসব পোশাক কমদামে কেনার জন্য অনেকে এখন ভারত যাওয়াকে শ্রেয় মনে করেন।

‘যে পোশাক আমি ভারত থেকে তিন হাজার রূপি দিয়ে কিনতে পারি, সে একই পোশাক এখানে আট-নয় হাজার টাকা লাগে। তাছাড়া ওখানে গেলে আমি কমদামে একসাথে অনেক ড্রেস কিনে আনতে পারি।’

লাইফ-স্টাইল স্বাধীনতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষক সন্তোষ কুমার দেব বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বাংলাদেশের তুলনায় বিধি-নিষেধ অনেক কম। পর্যটনের জন্য যে ধরণের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, নানা বিধি-নিষেধের কারণে সেগুলো যথাযথ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরকার অনুমোদিত বার এবং ক্লাবের ব্যবস্থা থাকে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের নিয়মকানুন মেনে যদি পরিচালনা করা হয়, তাহলে হয়তো বাংলাদেশে টুরিস্টের সংখ্যা বাড়বে,’ বলছিলেন সন্তোষ কুমার।

২০১৯ সালে যারা ভারতে ঘুরতে গিয়েছেন তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে বোঝা গেল, বাংলাদেশের ভেতরে নানা বিধিনিষেধের কারণে দেশের অভ্যন্তরে পর্যটনের বিষয়টি তাদের নিরুৎসাহিত করছে। ভারতে ঘুরতে গিয়ে তারা যতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেটা বাংলাদেশে তারা করেন না।

সায়মা বলেন, আমি আনন্দের জন্য ঘুরতে যাই। হোটেল রুমে বসে থাকার জন্য আমি এতো কষ্ট করে কক্সবাজার যাবো না। কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর আমার কিছু করার নাই। আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে যে আমি সন্ধ্যার পর কোথাও যাবো, সে রকম কিছু নাই। কোথাও বেড়াতে গিয়ে যদি হোটেল রুমে মধ্যে বসে থাকতে হয়, তাহলে তো আমার বাসার সাথে সেখানে কোন পার্থক্য নাই।

বৈচিত্র্য

লাইফ-স্টাইলের স্বাধীনতা ছাড়াও পর্যটনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বৈচিত্র্যের কারণে ভারত অনেক দেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।

সায়মা বলেন, ইন্ডিয়াতে গেলে অনেক কিছু দেখা যায়। আমি মরুভূমি দেখতে পাচ্ছি, সমুদ্র দেখতে পাচ্ছি, আমি ওখানে বরফ দেখতে পাচ্ছি। আমি একটা দেশের মধ্যে অনেক কিছু পাই।

চিকিৎসা, পর্যটন কিংবা কেনাকাটা – সবকিছুর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সামনে আসে সেটি হচ্ছে খরচ। ভারতে যারা প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করছেন তাদের ভাষ্য হচ্ছে চিকিৎসা, পর্যটন এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত একদিকে সাশ্রয়ী এবং অন্যদিকে মানও ভালো। এসব কারণে বাংলাদেশীরা এখন ভারত ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। খবর: বিবিসি বাংলা।

br6s.jpg

চলমান শুদ্ধি অভিযানের ফাঁক গলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধশত বিতর্কিত কাউন্সিলর।

এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাসিনো-কাণ্ড, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, মাদক কারবার, সরকারি ও ব্যক্তির জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অনেকের ব্যাংক হিসাব তলব বা জব্দ করা হয়েছে।

এসব ব্যক্তি মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এদিকে দুই সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র দুটিতে নারী প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর সংরক্ষিত ৪৩টি নারী ওয়ার্ডের ২৫টিতে এসেছে নতুন মুখ।

বিতর্কিত প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান মঙ্গলবার বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দেয়া হয়েছে। আরও বিতর্কিত ব্যক্তি আছে কি না, আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে ছোটখাটো অভিযোগ থাকেই। বিএনপিও আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ ও মামলা-হামলা করেছে। আমরা তো সেগুলো আমলে নিতে পারি না। তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ ওঠলে সেখানে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।’

আলোচিত ও বিতর্কিত কাউন্সিলররা ফের মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়নবঞ্চিত কয়েক নেতা যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে কমপক্ষে দশজন করে ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী আছেন। তাদের মানোনয়ন না দিয়ে প্রভাবশালী ও অপকর্মকারীদের প্রার্থী করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নতুন মুখ এসেছে ৫১টি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ক্যাসিনো, মাদক, দখল, পরিবহনে চাঁদাবাজি, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, বৈঠকে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় বাদ পড়েছেন ৪০ জন।

দুই সিটিতে এবার দু’জন নারী প্রার্থীকে কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে প্রার্থী করা হয়েছে। তারা হলেন- উত্তর সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আলেয়া সারোয়ার (ডেইজি)। দক্ষিণে ৪৫নং ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন হেলেন আক্তার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী-১৭ (৪৫, ৪৬, ৪৭) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের সব কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবেদন নেয়া হয়েছে তাদের সম্পর্কে। এছাড়া দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তালিকায় থাকা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত কাউন্সিলররা হলেন : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান। তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আনিসের বর্তমান বাড়ির (দক্ষিণ গোড়ানের ৪১১/এ নম্বর) জমি দখল করা। এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করতে গলেও তাকে চাঁদা দিতে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- জমি দখল, মাদক ব্যবসা, সরকারি জমিতে বাজার বসিয়ে অর্থ বাণিজ্য, সিএনজি স্টেশন থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করেন ফরিদ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ বলেন, ‘আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ও ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গ্র“প এসব করছে।’

নাটকীয়ভাবে ১২নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার। প্রথমে এ ওয়ার্ডে সমর্থন দেয়া হয় মামুনুর রশিদ শুভ্রকে। পরে তা প্রত্যাহার করে তালুকদারকে সমর্থন দেয় দলটি। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি থাকাকালে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মানোনয়ন পাওয়া ফরিদ উদ্দিন রতন, ২৬নং ওয়ার্ডে হাসিবুর রহমান মানিক, ৫১নং ওয়ার্ডে হাবিবুর রহমান (হাবু), ৫৩নং ওয়ার্ডে নূর হোসেন, ৫৫নং ওয়ার্ডে নূরে আলম, ৫৬নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হোসেন, ৫৯নং ওয়ার্ডে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমান হাসুর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেলকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার আগে এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা ৪৫ জন শীর্ষ মাদক কারবারির মধ্যে জামাল মোস্তফার ছেলের নাম ১২ নম্বরে। জামাল মোস্তফার বিরুদ্ধেও রয়েছে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগ ‘ফালতু’ দাবি করেছেন জামাল মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এগুলো ষড়যন্ত্র। এলাকায় আমার ও আমার ছেলের নামে কোনো অভিযোগ নেই।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাস্তা দখল করে মার্কেট নির্মাণ ও মাদক ব্যবসায় মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাউন্সিলর কয়েক বছর আগে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে অর্ধশত দোকান বানিয়েছেন।

এ স্থানটি বর্তমানে ‘নান্নু মার্কেট’ নামে পরিচিত। সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর বেশ কিছুদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে নান্নুর বক্তব্য হল, নির্বাচনের আগে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ ওঠেপড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘নান্নু মার্কেট আমার না, ঢাকায় আমার কোনো বাড়ি নেই। ব্যাংকে টাকাও নেই।’ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন নতুন মুখ জাহিদুর রহমান। তার বিরুদ্ধেও দখল, মাদক ব্যবসা, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ক্যান্সার হাসপাতালে রোগী ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ১নং ওয়ার্ডে আফছার উদ্দিন খান, ১৮নং ওয়ার্ডে জাকির হোসেন বাবুল, ২৭নং ওয়ার্ডে ফরিদুর রহমান খান, ২৯নং ওয়ার্ডে নুরুল ইসলাম রতন, ৩০নং ওয়ার্ডে আবুল হাসেমের (হাসু) বিরুদ্ধেও আছে নানা অভিযোগ। উল্লেখ্য, রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই সিটিতে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওই রাতেই দুই সিটির ৪৩টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে উত্তরের ১৮টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের মধ্যে ১৩টি ও দক্ষিণের ২৫টির মধ্যে ১২টিতে বর্তমান কাউন্সিলররা মনোনয়ন পাননি। এসব ওয়ার্ডে এসেছে একেবারেই নতুন মুখ। সূত্র: যুগান্তর

ha3dd.jpg

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় ভিন্নভাবে। একই ক্যালেন্ডারে সবার কাছে নতুন বছর এলেও তার স্বাগত জানানোর রীতি ভিন্ন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এসব রীতি নিয়ে আজকের আয়োজন-

ইতালি

সৌভাগ্য, ভালোবাসা এবং প্রাচুর্য্য বৃদ্ধির জন্য নিউ ইয়ারের প্রাক্কালে ইতালিতে লাল রঙের অন্তর্বাস পরা হয়। তবে একেবারেই ব্যতিক্রম কাজ করে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সেখানে অনেকেই জানালা দিয়ে সব পুরোনো জিনিস ফেলে দেয়। এভাবে পুরোনো সব ফেলে দেওয়াকে দুর্ভাগ্য এবং দুঃখ কাটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানার প্রতীক বলে মনে করা হয়।

অপরদিকে ভেনিসে সেন্ট মার্ক স্কয়ারে গণচুমুর আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজার হাজার মানুষ চুমু খেয়ে নতুন বছর শুরু করে।

জাপান

জাপানে বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে ১০৭ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। রাত ১২টা বাজার পরপরই আরও একবার ঘণ্টা বাজিয়ে নিউ ইয়ারের দেবতা তোসিগামিকে স্বাগত জানানো হয়। এ উৎসব জয়া নো কানে নামে পরিচিত। এছাড়া নতুন বছরের সূর্যোদয় উপভোগ করেও দিন শুরু করেন অনেকেই। একে বলা হয় হাতসুহিনোদ।

গ্রিস

গ্রিসে ভিন্নভাবে নতুন বছর শুরু করা হয়। সেখানকার বাসিন্দারা নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের বাড়ির দরজার সামনে পেঁয়াজ ঝুলিয়ে রাখেন। এটাকে তারা পুনর্জন্ম এবং আসন্ন বছরের উন্নতি বলে বিশ্বাস করেন। সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে তারা নতুন বছরের শুরুর দিন তাদের বাড়িতে প্রবেশের আগে দরজার সামনে একটি ডালিম ভাঙে।

মেক্সিকো

জানালা দিয়ে এক বালতি পানি ছুড়ে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় মেক্সিকানরা। নতুন বছরে ভালোবাসা, সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে নানা রঙের পোশাক পরা হয়। এছাড়া বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে পুরো বাড়িতে ১২টি কয়েন রাখা হয়। এটাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়।

এস্তোনিয়া

এস্তোনিয়ার লোকজন নববর্ষের প্রাক্কালে সাত, নয় বা ১২ রকমের খাবার খান। তাদের বিশ্বাস, এতে অনেক বেশি শক্তি পাওয়া যায় এবং এর মাধ্যমে নতুন বছরে অনেক বেশি বেশি খাবারের জোগান হবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।

বেলজিয়াম

বেলজিয়ামে নতুন বছরকে সিন্ট সিলভেস্তার ভোরানভন্ড অথবা সেইন্ট সিলভেস্তার ইভ বলা হয়। নতুন বছর উপলক্ষে ছোট শিশুরা ঈশ্বর এবং তাদের বাবা-মাকে শুভেচ্ছা জানাতে সুন্দর সুন্দর কাগজ কেনে।

স্পেন

স্পেনে নতুন বছর নিয়ে ধ্যান ধারণা একেবারেই আলাদা। স্পেনের লোকজন বিশ্বাস করে যে, বছরের শেষ দিনের মধ্যরাতে অর্থাৎ নতুন দিনের শুরুতে কেউ যদি ১২টি আঙুর খেতে পারে তবে এটা তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে।

আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার লোকজন ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই সিমের বিচি বা এ জাতীয় শস্য খেয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। তাদের বিশ্বাস, এটা তাদের ক্যারিয়ারে সাফল্য এনে দেবে।

তাদের মধ্যে আরও একটি বিশ্বাস রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, একটি স্যুটকেস হাতে পুরো বাড়ি ঘুরলে নতুন বছরে অনেক বেশি ঘোরাঘুরি করা যায়। কারণ তাদের এখানে গ্রীষ্মকালেই নতুন বছর শুরু হয়। এ সময়ই লোকজন বেশি বেশি বিচ, নদী এবং লেকের ধারে ঘুরতে যায়।

ফিলিপাইন

ফিলিপাইনে নতুন বছরের প্রাক্কালে খাবারের টেবিলে ফল এবং নানা ধরনের খাবারের ১২টি ডিশ রাখা হয়। এগুলোর মাধ্যমে নতুন বছরে অর্থ এবং সমৃদ্ধি তুলে ধরা হয়। গোল আকৃতির সব কিছুকে তারা সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করে। মধ্যরাতে শিশুদের লাফ দিতে বলা হয় যেন তারা লম্বা হয়। যখন ঘড়িতে ১২টা বাজে তখন দরজা খুলে দেওয়া হয় যেন সৌভাগ্য প্রবেশ করতে পারে।

রোমানিয়া

রোমানিয়ায় ভালুক সেজে নেচে গেয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। লোকজন ভালুকের মুখোশ এবং পোশাক পরে রাস্তায় নাচ-গান করে। এছাড়া অন্যান্য প্রাণী যেমন- ছাগল এবং ঘোড়ার পোশাকও পরে অনেকেই।

জার্মানি

নতুন বছরের শুরুতে সিলভেস্তার হিসেবে স্মরণ করে জার্মানির লোকজন। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পোপ সিলভেস্তারের মৃত্যু হয়েছিল। তার প্রতি সম্মান জানিয়েই নতুন বছর শুরু করেন তারা। তারা বছরের শুরুতে ভালুক আকৃতির নানা রঙের চকোলেট বা এ জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে লাল রঙকে ভালোবাসা এবং হলুদকে প্রাচুর্য্য বলে মনে করা হয়। জার্মানির লোকজন নতুন বছরের শুরুতে সবাই মিলে অনেক মজা করে এবং বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ফোটানো হয়।

ইকুয়েডর

নতুন বছর উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকৃতি তৈরি করে ইকুয়েডর। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট লোকজনের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে তারা চলে যাওয়া বছরের দুর্ভাগ্যকে তুলে ধরে।

বোলিভিয়া

বোলিভিয়ায় নতুন বছর উপলক্ষে যে কেক বানানো হয় তাতে অনেকগুলো কয়েন রাখা হয়। যে এই কয়েন খুঁজে পাবে নতুন বছর তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে বলে মনে করা হয়। এছাড়া আরও একটি সংস্কৃতির প্রচলন রয়েছে সেখানে। অনেকেই এই দিনে হলুদ রঙের অন্তর্বাস পরেন। এটা তাদের নতুন বছরে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে মনে করা হয়। তবে যারা ভালোবাসা খুঁজছেন তারা পরেন লাল রঙের অন্তর্বাস।

4u6.jpg

২০১৯ সালে নিম্ন আদালতে বেশ কিছু মামলার রায় সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ বছর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চেয়ে শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মামলা ছিল বেশি। এর মধ্যে বছরের শুরুতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন একটি আদালত। বছরের শেষদিকে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আট বছরের কারাদণ্ড দেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। আর ডিসেম্বর মাসে ঢাকার রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূর বাসের চালক-হেলপারসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন দলের এমপিপুত্র থেকে শুরু করে পুলিশের ওসি পর্যন্ত সবাই শাস্তির আওতায় এসেছেন এসব রায়ে। বিগত বছরের আলোচিত কয়েকটি রায় নিয়ে পূর্বপশ্চিমের এবারের আয়োজন ফিরে দেখা-২০১৯।

এমপিপুত্র রনির যাবজ্জীবন: চার বছর আগে মগবাজারের নিউ ইস্কাটনে গাড়ি থেকে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান নিরপরাধ দু’জন মানুষ। পরে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটিয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। তবে এমপিপুত্র হয়েও ছাড় পাননি তিনি, এসেছেন বিচারের আওতায়। ওই খুনের ঘটনায় এমপিপুত্র রনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তার আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওসি মোয়াজ্জেমই প্রথম: বিদায়ী বছরের শেষদিকে আট বছরের কারাদণ্ড হয় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের। শ্লীলতাহানীর অভিযোগ দিতে থানায় গেলে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ভিডিও করেন তিনি। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের নামে। এ মামলায় গত ২৮ নভেম্বর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন দু’টি ধারায় মোয়াজ্জেমকে মোট আট বছর কারাদণ্ড দেন। এসময় ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দু’টি ধারায় আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয় তাকে। ২০১৮ সালে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হচ্ছেন ওসি মোয়াজ্জেম।

দিয়া-রাজীবের মৃত্যু: দুই চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন: বেপরোয়া দুই বাসের রেষারেষিতে রাজধানীর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মিমের মৃত্যু ২০১৮ সালে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে। আলোচিত এ ঘটনায় হওয়া মামলায় রায় হয়েছে দেড় বছরের মধ্যেই।

গত ১ ডিসেম্বর ওই রায়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুই বাসের চালকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং এক বাসের সহকারী কাজী আসাদ। এর মধ্যে কাজী আসাদ পলাতক থাকলেও বাকি দুইজন কারাগারে রয়েছেন। রায়ে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও বাসচালকের সহকারী এনায়েত হোসেনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

বছরের সবচেয়ে পৈচাশিক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে হত্যা করে।

ওই ঘটনায় ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। মামলা দায়েরের পর ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গত ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এক আবরারের মৃত্যুও রেশ কাটতে না কাটতে আবরার নামে আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয় কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে।

এ ঘটনায় অবহেলা জনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা হয়। এতে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কিশোর আলোর প্রকাশক মতিউর রহমানের নাম উল্লেখ এবং বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা মজিবুর রহমান। আদালত আবরারের লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন।

panama1-20191228162935.jpg

বিদেশে কাজ করতে যান, বিশেষ করে ইউরোপ বা আমেরিকায়, এমন কারো কাছে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ খুব পরিচিত একটি শব্দ। এটি একটি চুক্তির নাম। এই মুহূর্তে যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা বিদেশে যান, তার একটি অংশ যাচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া।

এই বডি কন্ট্রাক্ট বা শরীর চুক্তি হয় কেবলমাত্র তাদের সাথে। এভাবে বিদেশে যাবার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নেন একজন মানুষ। কেউ সাগরে ডুবে প্রাণ হারান, কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হন, কেউ আবার পড়েন অপহরণকারীর খপ্পরে। তবে কেউ কেউ ভাগ্যক্রমে এভাবেই পৌঁছে যান প্রতিশ্রুত গন্তব্যে।

বডি কন্ট্রাক্ট কী?

এই ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ বা শরীর চুক্তির মানে হলো একজন এজেন্ট তখনই হাতে টাকা পাবে, যখন একজন শ্রমিক প্রতিশ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবেন। অর্থাৎ একজন বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তির শরীর গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে এটাই এই চুক্তির প্রধান শর্ত, পৌঁছালে টাকা তুলে দিতে হবে এজেন্টের হাতে।

গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে কোন টাকা দিতে হবে না। তবে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরলে অনেক সময়ই এজেন্ট বা দালাল বা পাচারকারী অর্থ ফেরত দেন না। এখানে প্রধান বিষয় হচ্ছে, বডি কন্ট্রাক্ট হয় অবৈধভাবে অনিশ্চিত রুটে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক এজেন্ট রবিউল আহমেদ, যিনি তার প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ভিসা মানে হলো ভিসা পাবার আগে যাবতীয় খরচ এজেন্টের’।

‘অর্থাৎ ভিসা ফি, স্পন্সর, বিমান ও স্থল বা নৌপথে পরিবহনের খরচ ভাড়া, বিভিন্ন চেকপয়েন্টে যেসব জায়গায় টাকা দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করা হবে, সে সবই এজেন্ট দেবেন’।

আহমেদ জানান, টাকা পরে নেবার যুক্তি হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন, কারণ ঠিক জায়গামত না পৌঁছাতে পারলে, পরে আর লোক পাওয়া যাবে না।দ্বিতীয়ত টাকা নিয়ে ব্যর্থ হলে, লোকে টাকা দেবে না পরে। ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত ৯ জন মানুষকে এই চুক্তিতে তিনি আমেরিকা এবং স্পেনে পাঠিয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, বডি কন্ট্রাক্টে খরচ বেশি হয় বৈধ পদ্ধতির চেয়ে। ‘কারণ আপনার ঝুঁকিওতো বেশি। খালি ভিসা পাইলেই তো কেউ টাকা শোধ দেয় না, ওই দেশে ঢুকলে পরে টাকা দেয় আমাদের। আর যদি কোনোভাবে অ্যাক্সিডেন্ট হয় (মারা যায় যদি) তাহলে টাকা তো পাবই না, উল্টা পুলিশ কেস হয়।’

ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা জানেন বিদেশ গমনেচ্ছু?

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতি বছর বহু মানুষ ইউরোপ ও আমেরিকায় যায়। এদের বড় অংশটি যায় কন্ট্রাক্ট ভিসা বা যেটি স্থানীয়ভাবে বডি কন্ট্রাক্ট নামে পরিচিত, সেই পদ্ধতিতে।

সোনাইমুড়ির রফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) জানান, গত দুই বছর ব্যবসায় লোকসান করার পর তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় তার ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর। এক বছর আগে তার ১৭ বছর বয়সী ছোটভাই এজেন্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাবার জন্য প্রথমে বাংলাদেশ থেকে বৈধ ভিসায় ব্রাজিলে যান।

‘এরপর দালাল (এজেন্ট) সেখান থেকে আরেক এজেন্টের কাছে হস্তান্তর করছে। তার মাধ্যমে কলম্বিয়া, কলম্বিয়া থেকে পানামা গেছে। পানামার মধ্যে আমাজন জঙ্গলের অংশটি হেঁটে পার হয়েছে আমার ভাই। অন্য সবখানে বর্ডার গার্ডদের সাথে কন্ট্রাক্ট ছিল আমাদের দালালের। সেখান থেকে মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে আমেরিকা ঢুকছে আমার ভাই’।

এই পথে কয়েক জায়গাতেই তার ভাই ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, কয়েকদিন জেল খেটে বেরও হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পর তার ভাইকে সাত মাস জেল খাটতে হয়েছে, কিন্তু চাইল্ড প্রটেকশন আইনের আওতায় পরে একজন স্থানীয় অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে মুক্তি পেয়েছেন।

‘সবমিলে মোট ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে আমাদের। ব্রাজিল পর্যন্ত যেতে যে খরচ সেটা আমার ভাই দেশ ছাড়ার আগেই দিতে হয়েছে, সেইটা দুই লাখ বা তিন লাখ টাকা।

এরপর সেখান থেকে কলম্বিয়া যাবার পর দালালকে দুই লাখ টাকা, কলম্বিয়া থেকে পানামা যাওয়ার পর দিয়েছি তিন লাখ টাকা এভাবে ধাপে ধাপে একেকটা জায়গায় পৌঁছানোর পর টাকা পরিশোধ করেছি আমরা’।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরে একজন স্থানীয় অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে মুক্তি পাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে, যিনি তাদের এজেন্টের পূর্ব পরিচিত, তাকে দশ লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

‘এক বছর আগে আমার খালাত ভাই গেছে, সে ভালো আছে, যে কারণে আমরা সাহস করলাম। আর আমেরিকা যাইতে তো অত ঝুঁকি নাই, কারণ একমাত্র পানামার উপকূল ছাড়া কোনো নৌপথ নাই, তাই আমরা অতটা টেনশন করিনি’। আমার ভাই ভাগ্যবান। সবাই তার মত নন।

এ বছরের মে মাসে লিবিয়া থেকে ছোট্ট নৌকায় চেপে খুবই বিপদংসকুল পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা গেছেন অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি।

বডি কন্ট্রাক্ট প্রচলিত যেসব দেশে: বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে শ্রমিকেরা কাজ করতে যায়, বডি কন্ট্রাক্টে সেই সব দেশেই লোক পাঠায় এজেন্টরা।

এর মধ্যে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি, স্পেন ও গ্রিসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অনেক দেশেই শ্রমিক পাঠায় এজেন্টরা।

‘উন্নত জীবনের আশার পৃথিবীর সব দেশ থেকেই মানুষ উন্নত দেশে যেতে চায়, কয়েকদিন আগে আমরা যুক্তরাজ্যেও দেখলাম লরিভর্তি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতেই হবে’।

এজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে প্রতারণা বন্ধ হবে বলে তিনি মনে করেন। এ বছরের জুনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, যাতে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশিদের অবস্থান চতুর্থ।

গত সাত বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় সাত হাজার বাংলাদেশি। নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে ১২ হাজারের বেশি মানুষ।