সারাদেশ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

moli5.jpg

নাটোরের বাগাতিপাড়ার মলি রানী ৩৯ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করেছেন।  এর আগে, ২০১৭ সালে বয়সের বাধাকে উপেক্ষা করে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এই নারী।

বুধবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ ৩ দশমিক ৯৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মায়ের এইচএসসি পাসে ছেলে তাকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছে, এমনই এক সফলতার দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।

এ বছর বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মলি রানী। তিনি ওই কলেজের উদ্যোক্তা উন্নয়ন ট্রেডের ছাত্রী ছিলেন।

এ বিষয়ে মলি রানী জানান, যখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী তখন বাগাতিপাড়ার গালিমপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার মিন্টুর সঙ্গে তার বাবা বিয়ে দেন। এরপর আর পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি। সংসারের চাপে গৃহিণীই রয়ে যান। ছেলেদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে তিনি অনুভব করেন তার নিজের পড়ালেখা জানা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন মলি রানী।

উল্লেখ্য,  মলি রানী ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলের চেয়ে ভালো ফলাফল করেন। এসএসসিতে তিনি পেয়েছিলেন জিপিএ ৪ দশমিক ৫৩। তার ছেলে মৃন্ময় কুমার কুণ্ডু পান জিপিএ ৪ দশমিক ৪৩। ছেলে মৃন্ময় কুমার কুণ্ডু এসএসসি পাসের পর নাটোরে টিএমএস পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে চতুর্থ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন।

b46.jpg

কুমিল্লার চান্দিনায় রাজিব চক্রবর্তী (২০) নামে এক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়ির পড়ার ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, বিষয় শুনেছি। বিস্তারিত কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখবো।

নিহত রাজিব চক্রবর্তী চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামের বাড়ই পাড়া এলাকার উত্তম চক্রবর্তীর ছেলে। সে চান্দিনার মহিচাইল শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

বুধবার দুপুরে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর রাজিব চক্রবর্তী অকৃতকার্য হলে সন্ধ্যায় নিজ ঘরে আত্মহতা করে। পরপর তিন বার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

মহিচাইল শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের জানান, রাজিব চক্রবর্তী এবারের এইচএসসি পরীক্ষার অংশগ্রহণ করে ফেল করেছে। রাতে জানতে পারলাম সে আত্মহত্যা করেছে।

morich5.jpg

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই মরিচ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬০ টাকায়।

দাম বাড়ার পেছনে টানা বৃষ্টি এবং বন্যাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে একটি চক্র সবজির দাম বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রাখছেন।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বাজারঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। এছাড়া পেঁপের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকার ওপরে।

বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে।

নরসিংদীতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়েছে ১৪০ টাকা। বাজারে এখন ৬০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

হঠাৎ কাঁচা মরিচের মূল্য এত বৃদ্ধির কারণ জিজ্ঞাসা করলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তেই কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। তারা আড়ত থেকে বাড়তি দরে কিনে এনে স্বল্প লাভে বিক্রি করছেন।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে কাঁচা মরিচ আমদানি কমে গেছে। সেজন্য মরিচের দাম এত বেড়েছে।

সচেতন ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ উৎপাদন কমে গেছে কথা সত্য কিন্তু সেই অজুহাতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৪০ টাকা মূল্য বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে মুনাফাখোরদের কালো হাত।

দেশের সবচেয়ে কাঁচা মরিচ বেশি উৎপাদিত হয় বরিশাল ও ময়মনসিংহ এলাকায়। সেখানে এখনো বন্যা হয়নি কিংবা এতটা বেশি বৃষ্টি হয়নি। যশোর অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। বৃষ্টির অজুহাতে মুনাফাখোর চক্র কাঁচা মরিচের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করছে।

একইভাবে অত্যাবশ্যকীয় মসলা, রসুন, শুকনা মরিচ, এলাচ গোলমরিচ, আদাসহ বিভিন্ন মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে একটি চক্র।

এদিকে খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের দাম ১২০ টাকা ও সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬-৭ টাকা।

মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, কাকরল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

অথচ সপ্তাহখানেক আগে মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৩৫ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, কুশি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকা, কাকরল ৪৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

nb3e.jpg

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রংপুরের তার পল্লীনিবাসে। কিন্তু এরিক কে তার বাবার কবরে এক মুঠো মাটি ও দিতে দেয়নি, এমন অভিযোগ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। এ স্ট্যাটাসে রংপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা তার ফেসবুক পেজে এই আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পূর্বপশ্চিমের পাঠকদের জন্য বিদিশা স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ফেসবুক বিদিশা লিখেছেন, চির নিদ্রায় শায়িত হলেন পল্লী বন্ধু পল্লী নিবাসে। যে পল্লী নিবাস তার আদরের ছেলে এরিক কে দিয়ে গেছেন তার বাবা। কিন্তু এক মুঠো মাটি ও তার বাবার কবরে দিতে দেয়নি এরিক কে। রংপুরের মানুষের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকবে সারাজীবন।

উল্লেখ্য যে, রোববার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এরশাদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে গত ২২ জুন থেকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন এরশাদ।

রোববার বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মঙ্গলবার তাকে পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়।

minni776.jpg

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মিন্নির কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে নিহত রিফাতের স্ত্রী বলেন, স্যার আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, ওই দিন যে এই ঘটনা ঘটবে তা আমি জানতাম না।

বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির রিফাত হত্যাকাণ্ডের সাথে মিন্নির সম্পৃক্ততা আছে দাবি করে আদালতে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্য শেষে মিন্নি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আসামিরা আমাকে ফোনে বিরক্ত করতো ও ভয়-ভীতি দেখাতো। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিতো। আমি বা আমার পরিবার আসামিদের ভয়ে কোথাও মুখ খুলতে পারিনি। আমার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

এ সময় নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নির কাছে বিচারক জানতে চান, হত্যাকারীর কল লিস্টে তার নম্বর কিভাবে এলো? ওই সময় মিন্নি নীরব থাকেন।

এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের পুলিশ পরিদর্শকের বক্তব্য শুনে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, বুধবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে এনে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানো ও আদালতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মিন্নির পরিবার ।

মিন্নির পরিবারের দাবি মিন্নি প্রায় দুই মাস যাবত মানসিক চিকিৎসাধীন রয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ আমাদের মেয়েকে আসামি শনাক্ত করার নামে একটানা ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বুববার বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের জানান, আমার মেয়েকে কী কারণে সাক্ষী থেকে আসামি করা হয়েছে আমি তার সঠিক তদন্ত চাই। তিনি অভিযোগ করেন; খুনিদের সহযোগীরা নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মামলা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগতভাবে লড়াই করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

natore-mother-daughter-20190717215651.jpg

লেখাপড়া করার এক অদম্য ইচ্ছা কুরে কুরে খেয়েছে মাসুমা খাতুনকে। সেই ইচ্ছা বুকের ভেতর চাপা রেখেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার আগেই পরিবার থেকে তার বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর আর পরীক্ষা দিতে পারেননি মাসুমা খাতুন। কিন্তু বুকের ভেতরের সেই ইচ্ছা পূরণে অবশেষে তিনি নতুন করে শুরু করেন লেখাপড়া। চলতি বছর নিজের মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার মাসুমা খাতুন।

তিনি চলতি বছর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ-৪ দশমিক ১৩। আর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

মাসুমা খাতুন বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা বিএম কলেজের সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স ট্রেডের ছাত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি নিজের মেয়ের সঙ্গে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এবার সেই মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেন। একসঙ্গে পাস করার খবর শুনেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তারা। ভালো ফল করায় তাদের বাহবা দেন সহপাঠী ও কলেজের শিক্ষকরা।

মাসুমা খাতুনের বাবার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে। বিয়ে হয় বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরে। স্বামী আব্দুল মজিদ আনসার ব্যাটালিয়নে সিপাহী (প্রশিক্ষক) পদে চাকরি করেন। তার কর্মস্থল গাজীপুরে। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে বনি আমিন বাগাতিপাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র।

মাসুমা খাতুন বলেন, বিয়ের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। পরপর দুই ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের পড়ার কথা ভাবারই সময় পাইনি। অবশেষে ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করেছি। সমাজের আর দশটা মানুষের মতো নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে পরিচয় দিতে পারি, সে কারণেই এই বয়সে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি।

মাসুমা খাতুনের স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, আমার জন্য একটু কষ্ট হলেও আমি তার ইচ্ছার মর্যাদা দিয়েছি। সে যতদূর পড়াশোনা করতে পারে, আমি চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।

bipolopp-20190717231024.jpg

জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সিল-প্যাড ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে বিপ্লব বড়ুয়া লিখেছেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোনো ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

minni-20190714001040.jpg

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম এ রায় দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. হূমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্নির বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার নয়াকাটা গ্রামের বাড়ি থেকে মিন্নিকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরকেও তার সঙ্গে নেওয়া হয়। মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানোর পর রাতেই তার বাবাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সমকালকে জানান, প্রাথমিকভাবে রিফাত হত্যায় তার স্ত্রী মিন্নির সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

8-14.jpg

নড়াইলের তিন উপজেলায় নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বিদ্রোহী চার চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে তিনজনই আনারস প্রতীকে এবং একজন মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় প্রধানের কঠোরতার কারণে এবার আর ছাড় পাচ্ছেন না বিদ্রোহী প্রার্থীরা। শোকজসহ থাকছে দল থেকে বহিস্কারের মত কঠিন সিদ্ধান্ত।

জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় দলীয় প্রতীক নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নৌকাকে পরাজিত করতে দলের প্রভাবশালী নেতারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।

কেন্দ্র থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। অনেককে সাময়িকভাবে বহিস্কারও করা হয়। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন অনেকে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজসহ দল থেকে বহিস্কার করার মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ১২ জুলাই গণভবনে হওয়া আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। নড়াইলের তিনটি উপজেলায় চারজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নড়াইলের তিনটি উপজেলায় চারজন ছিলেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে একজন জয়ীও হয়েছেন।

সূত্র জানায়, নড়াইল সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলায় দলের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নড়াইল পৌর যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস বিলো (আনারস প্রতীকে)।

নৌকা প্রতীকে নিজাম উদ্দিন খান নিলু ৪১ হাজার ৯’শ ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী নড়াইল পৌর যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস বিলো আনারস প্রতীকে ভোট পান ৩৮ হাজার ১’শ ৪৮।

লোহাগড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় ঢাকায় অবস্থানকারী রাশেদুল বাশার ডলারকে। এ উপজেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু (আনারস প্রতীক) এবং সাধারন সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু (মোটরসাইকেল প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বদ্বীতা করেন।

নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু (আনারস) প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ৩’শ ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী রাশেদুল বাশার ডলার পান ২১ হাজার ২’শ ২৫ ভোট।

কালিয়া উপজেলায় নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষকে। এ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন আর রশিদ আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নৌকা প্রতীকের কৃষ্ণপদ ঘোষ ৪২ হাজার ৮’শ ৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হারুন আর রশিদ আনারস প্রতীকে ভোট পান ২০ হাজার ৬’শ ১৪ ভোটা।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস এবং সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টি অবগত হয়েছি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ হয়েছে। তবে এখনও চিঠি পাইনি। হাতে পেলে চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

19-13-1.jpg

প্রেম মানেনা কোন ধর্ম বর্ণ বা দেশ। আবার সেই কথাই প্রমাণ করে সুদূর আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশি যুবকের প্রেমে পড়ে দেশ ছেড়েছেন মার্কিন নারী সারলেট। লক্ষ্মীপুরের সোহেল হোসেনের প্রেমে পড়ে তিনি এসেছেন বাংলাদেশে।

জানা যায়, সারলেটের বাড়ি আমেরিকার নিউজার্সিতে। ২০১৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয়। এরপর বন্ধুত্ব ও প্রেম। আর এই প্রেমের টানেই সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এলেন মার্কিন নারী সারলেট।

ঘর বাঁধলেন লক্ষ্মীপুর সদরের দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের সফিক উল্যাহর ছেলে সোহেল হোসেনের সাথে। দুইদেশের দুই সংস্কৃতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভালবাসারই জয় হয়েছে। উভয়ের পরিবার মেনে নেয়ার পর গত ১২ জুলাই বাংলাদেশে আসেন সারলেট।

১৬ জুলাই মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় তাকে। বিয়ের পর মার্কিন নববধূকে দেখতে ভিড় করেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ।