সারাদেশ Archives - Page 2 of 410 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

monjur.jpg

কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ও দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর মারা গেছেন।

মঙ্গলবার ভোরের দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিলুফার দেশের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাইওনিয়ার সানবিমস

স্কুলের এই প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।স্কুলের ব্যবস্থাপক আবদুল কাদের নিলুফারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিলুফারের স্বামী এপেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুর এলাহী নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিলুফার মঞ্জুর ১৯৭৪ সালে রাজধানীতে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির সঙ্গেও যুক্ত।

১৯৬৬ সালে মঞ্জুর এলাহীর সঙ্গে শুরু সংসার জীবন জীবন শুরু করেন নিলুফার।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী

১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ventilator_1206950101-1280x960.jpg

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রকট হয়ে উঠছে আইসিইউ সংকট।

গেল দু’সপ্তাহে শুধুমাত্র করোনার জন্য বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতালের

১০ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৪১ জনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

এর মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় এক শিল্পপতির বড় ভাইও রয়েছেন।

দেশসেরা শিল্পপতিদের অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে চট্টগ্রামে আইসিইউ সংযুক্ত

সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি।

এতে প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল রয়েছে মাত্র দু’টি।

যাতে করোনা রোগীর মোট শয্যা সংখ্যা ১৩০টি।

আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি অংশকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য।

কিন্তু এসব হাসপাতালে আই সি ইউ শয্যা রয়েছে মোট ২০টি।

বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন,

করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৩০০।

আর আইসিইউ বেড মাত্র ১০ টি।

গত কয়েকদিনে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে আইসিইউ ওয়ার্ডে নিতে হয় ৪১ জনকে।

এর মধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক শিল্পপতির বড় ভাইসহ মারা গেছেন ১৩ জন।

এমনকি বিভিন্ন শিল্পপতি পরিবারের আরো বেশ কিছু সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে

সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

অথচ দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগ্রুপগুলোর অন্তত ৫টির মালিক চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

এখানে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠলেও গড়ে উঠেনি মানসম্মত কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন,

রাষ্ট্রকেই এর দায়িত্ব নিয়ে আসতে হবে। শিল্পপতিদের এটা ব্যর্থতা।

স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন,

বেসরকারি হাসপাতাল যেহেতু আইসিইউ সেবাটা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করছে না, তাই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

নগরীতে প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে ২৫টির বেশি।

এর মধ্যে অন্তত ১৫টিতে রয়েছে আই সি ইউ সুবিধা সম্বলিত কেবিন কিংবা ওয়ার্ড।

কিন্তু করোনার এই দুঃসময়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া থেকে অনেকটা বিরত রয়েছে এসব ক্লিনিক।

তাই সীমিত সম্পদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগকে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ব্যবসায়ীরা যারা অন্যান্য

সেক্টরে বিনিয়োগ করছেন স্বাস্থ্য খাতে সেভাবে বিনিয়োগ হয়নি।

গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বর্তমানে রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮শ।

এর মধ্যে মারা গেছেন ৫০ জনের বেশি।

beximco_dr.jpg

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়া পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট

(পিপিই) বা সুরক্ষা পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো।

দেশটি বেক্সিমকোর তৈরি ৬৫ লাখ পিপিই গাউন নেবে।

সোমবার সেই পিপিই গাউনের প্রথম চালান এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে করে দেশটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমারজেন্সি এজেন্সির (এফইএমএ) জন্য দেশটির

পোশাকের ব্র্যান্ড হেইনস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর কাছ থেকে এসব পিপিই গাউন কিনছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিপিইর প্রথম চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম,

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দীন আহমেদ,

বেক্সিমকোর টেক্সটাইল ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ নাভিদ হোসেন,

বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান প্রমুখ ।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের মতো বাকি

বিশ্বও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ মাত্র দুই মাসের মধ্যে বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে

প্রয়োজনীয় সামগ্রী পিপিই রপ্তানি করছে, তাও ১০-২০ হাজার নয়, ৬৫ লাখ পিস। এটি অভাবনীয় অর্জন।

যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম পিপিই বড় চালান যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন,

বিশ্ববাজারের জন্য বড় পরিসরে বিশ্বমানের পিপিই উৎপাদনের

পদক্ষেপ নেওয়ায় বাংলাদেশকে স্বাগত জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সবকিছুই হয়েছে মাত্র দুই মাসে।

বেক্সিমকো ও বাংলাদেশ দ্রুত সময়ে পিপিইর উৎপাদন শুরু করেছে।

এ জন্য আজকে এই উড়োজাহাজটি অতিপ্রয়োজনীয় পিপিই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

আমলাতান্ত্রিক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক দিয়েই দুর্দান্ত গতিতে কাজ হয়েছে।

সৈয়দ নাভিদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাত্র দুই মাসের মধ্যে

আমরা আমাদের বিশ্বমানের উৎপাদন, প্রযুক্তিগত ও ডিজাইন দক্ষতা এবং সক্ষমতা দিয়ে পিপিই উৎপাদন শুরু করি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পিপিই উৎপাদনের নতুন কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ার জুতসই জায়গা।

এতে করে একদিকে বিশ্ববাসী নিরাপদে থাকবে অন্যদিকে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনীতিও সচল থাকবে।

বেক্সিমকো জানায়, আগামী তিন বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পিপিই

উৎপাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেক্সিমকো পিপিই ডিভিশন।

৩৫০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক থেকে

মাত্র ১০ মিনিট দূরে স্থাপন করা হচ্ছে নতুন পিপিই ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল পার্ক।

ইতিমধ্যে শিকাগোভিত্তিক জেস্ট ডিজাইনসের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করেছে বেক্সিমকো।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে স্থানীয় সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় যৌথভাবে

একটি পিপিই উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে উভয় প্রতিষ্ঠান।

ইতিমধ্যে ডেট্রয়েট শহরে কভিড-১৯ পিপিই সরবরাহ করছে জেস্ট।

Corona-Ctg-1280x960.jpg

চট্টগ্রামে আরও ১৭৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১ হাজার ৮৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হলো।

সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৩২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

এর মধ্যে ১৭৯ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এদের মধ্যে ১৬৭ জন নগরীর এবং ১২ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

এদিকে, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডির ল্যাবে চট্টগ্রাম জেলার ৫৫ জনের

নমুনা পরীক্ষায় কারও করোনা সংক্রমণ পাওয়া যায়নি বলে জানান সিভিল সার্জন।

অন্যদিকে, সিভাসু ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে

সোমবার করোনা সংক্রমণ শনাক্তের জন্য কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

Ejajul.jpg

করোনাভাইরাসের প্রকোপের দিনে কীভাবে ঈদ কাটাচ্ছেন ডা. এজাজ?

জনপ্রিয় এই অভিনেতা জানালেন, বাড়িতে ছেলের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েছেন তিনি।

করোনা দিনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি।

ডা. এজাজ বলেন, ‌‘১৯৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম শোলাকিয়া ঈদের মাঠে ঈদের জামাত হয়নি।

সারা দেশের মানুষ এই ঈদের নামাজ দেখে। এবার মিস হলো সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজ।

এত দুঃখ বেদনা কি করে রাখি। এই প্রথম ছেলের সঙ্গে ঈদের জামাত করলাম বাড়িতে।’

ডা. এজাজ আরও বলেন, ‘সেদিন বের হয়েছিলাম ঢাকা শহর ঘুরতে। চারিদিকে হাহাকার।

কিছু নেই। ফাঁকা। কেমন যেন একটা অবস্থা চারিদিকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো।

করোনাভাইরাস ও পাকবাহিনীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই।

তখন পাকবাহিনী ছিল এখন পাকবাহিনী হলো করোনাভাইরাস।

করোনাভাইরাস সমান পাকবাহিনী। তখন আমরা যেরকম ভয়ে নিস্তব্ধ

অবস্থায় সময় কাটাচ্ছিলাম ঠিক সে অবস্থায় এখন আমরা পড়েছি।’

আফসোস করে এজাজ বললেন, ‘একটা ক্লাসের মানুষ নিয়ম মেনে চলছে।

তবে ঢাকার শপিংমলগুলোতে গেলে দেখা যায় শিক্ষিত লোকরাও ঠিকমত নিয়ম মেনে চলছে না।

ব্যাংকে গেলেও দেখি নিয়ম মেনে চলছে না কেউ। মানুষ আর কবে সচেতন হবে!’

এজাজ আরও বলেন, ‘নিজে সতর্ক না হলো করোনা থেকে কাউকে বাঁচানো যাবে না।

সামাজিক দুরুত্ব মানতেই হবে। নিজের জায়গা থেকে বাঁচুন। তবেই মুক্তি মিলবে এই ভাইরাস থেকে।’

প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় অভিনেতা ডাক্তার এজাজুল ইসলাম।

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই তিনি অভিনয় ভুবনে পথচলা শুরু করেন।

অসংখ্য নাটকে কাজ করে ডাক্তার এজাজ পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা।

এছাড়া কাজ করেছেন চলচ্চিত্রেও।

dhaka46.jpg

ভারতের মণিপুর রাজ্যে একটি মাঝারি পাল্লার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। এতে কেঁপে উঠেছে ঢাকাও।

সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪২ মিনিটে

মণিপুরের কাচিং শহরের কাছে এটি অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের ফলে ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল কেঁপে উঠেছে বলে খবর মিলেছে।

তবে মণিপুর বা বাংলাদেশে কোথাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

ACCIDENT-1.jpg

প্রতিবছর ঈদ এলেই সড়ক দুর্ঘটনা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে হতাহতের সংখ্যাও।

এ বছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সরকার সাধারণ ছুটি দেয়ায় এবং

ছুটিতে বাড়ি যেতে নিষেধ করায় অন্যান্য বছরের মতো মানুষের ঢল নামেনি রাস্তায়।

কিন্তু তারপরেও আটকানো যায়নি সড়কে মৃত্যুর ঘটনা।

এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে

শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ১১ জন।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন আরও দুজন। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার বন্দরভিটা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেদুজ্জামান টোকন আলমডাঙ্গা উপজেলার সাহেবপুর গ্রামের নজরুল হকের ছেলে।

মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- রোকন ও তুহিন। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার

ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৫ আরোহী। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে

উপজেলার বুরোদিয়া ইউনিয়নের ড্রেনেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর নয়াপাড়া গ্রামের ইদু মিয়ার ছেলে।

আহতদের মধ্যে একজনকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও

অপর ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদের দিন আনন্দ ভ্রমণে বের হয়ে রাজশাহীতে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন দুই মোটরসাইকেল আরোহী।

এছাড়া আহত হয়েছে আরও দুই আরোহী।  সোমবার (২৫ মে) গোদাগাড়ী

ও বাগমারা উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারা।

নিহতরা হলেন- গোদাগাড়ীর বিদিরপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ (১৮)

এবং মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে রাশেদ (২০)।

দুজনই মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। আহতরা হলেন, দুর্গাপুর গ্রামের ইন্তাজ শাহের ছেলে মিজান

(২০) এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মেহরাব (১৯)।

পদ্মাসেতু দেখে ফেরার পথে মাদারীপুরের শিবচরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবচরের বন্দরখোলা এলাকার এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, পদ্মাসেতু দেখে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরখোলা এলাকার

মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ে সড়কের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

এ সময় ঘটনাস্থলেই ডালিম শেখ (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অপর দুই আরোহী যুবক আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম হৃদয় নামে এক শিশু (১০) নিহত হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে উপজেলার চৌঠাইমহল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রিক অফিসের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আলী ইমাম জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বিকেলে কয়েকজন বন্ধু মিলে পৃথক মোটরসাইকেলে করে ঘুরছিল হৃদয়।

এ সময় পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রিক অফিসের সামনের

সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেল রাস্তার পাশের একটি গাছে ধাক্কা লাগে।

এতে ওই মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা হৃদয় মাথায় আঘাত পায়।

এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

amphan-1-afp.jpg

সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের

যে ক্ষতি হয়েছে তা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের চেয়েও তিনগুণ বেশি।

সাইক্লোন আম্পানে সুন্দরবনের ১২ হাজার ৩৫৮টি গাছ ভেঙে গেছে।

বন বিভাগের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের ৪ হাজার ৫৮৯টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আর বন বিভাগের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

আম্পানের আঘাতের পর সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে

বন বিভাগের গঠিত চারটি কমিটির রিপোর্ট থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বনবিভাগের চারটি কমিটি রোববার (২৪ মে) বিকেলে

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আম্পানের আঘাতে পশ্চিম

সুন্দরবনের দুটি রেঞ্জ এলাকায় ১২ হাজার ৩৩২টি গাছ ভেঙে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এ সব গাছের মধ্যে গরান গাছের সংখ্যা বেশি। যার মূল্য ১০ লাখ ১০ হাজার ৫৬০ টাকা।

এ ছাড়া স্থাপনা, জেটি, উডেন ট্রেইল, ওয়াচ টাওয়ার

ও অবকাঠামোর ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে বাঘ, হরিণসহ অন্য কোনো বন্য প্রাণীর ক্ষতি হয়নি।

পূর্ব সুন্দরবনের দুটি রেঞ্জ এলাকায় ২৬টি গাছ ভেঙে গেছে।

এ বিভাগের আওতায় জব্দ থাকা বেশ কিছু কাঠ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।

এতে আর্থিক ক্ষতি ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকা।

পাশাপাশি পূর্ব বনবিভাগে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান,

সুন্দরবন থেকে সব ধরনের গাছ কাটা নিষিদ্ধ রয়েছে।

ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলো ওভাবেই থাকবে, কোনো গাছ কাটা হবে না।

সুন্দরবন নিজ থেকেই বুলবুলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে।

আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিও সুন্দরবন নিজেই কাটিয়ে উঠবে।

আমাদের কেবল বন বিভাগের প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলোর মেরামত করতে হবে।

water-jamat-215576.jpg

খুলনার কয়রায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পাশে পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

২০০৯ সালের এ দিন আইলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয় উপকূলীয় অঞ্চল।

আইলায় কয়রার বাঁধ ভেঙে যায়। কিন্তু ১১ বছরেও তা নির্মিত হয়নি।

এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দ্বিতীয়বারের মতো তছনছ হয় বাঁধটি।

আইলার আঘাতের সেই দিবসেই এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে।

২ নম্বর কয়রা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পাশের পানির

মধ্যে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসী ঈদের নামাজ আদায় করেন।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে নামাজ শেষে সেমাই খেয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ঈদের দিন বাঁধ

মেরামতের উৎসব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন  কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা।

এতে ৪ থেকে ৫ হাজার গ্রামবাসী অংশ নেন বলে জানান তিনি।

sakib-11.jpg

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঈদটি একেবারেই ভিন্নভাবে হাজির হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

যার ফলে এবার ঘরে থেকেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে সবাইকে।

সব শ্রেণিপেশার মানুষের মতো ঘরে বসে ঈদ পালন করছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও।

আর সকলকে বাড়িতে বসেই এবারের ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানালেন তারা।

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তার ফেসবুক পেজে ঈদ শুভেচ্ছার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন,

‘করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে এবারের ঈদটা উদযাপন করি বাড়িতে বসে,

যাতে করে পরবর্তী ঈদটা সকলে মিলে উদযাপন করতে পারি দারুণ আনন্দে।’

ঈদের নতুন পাঞ্জাবি পরা ছবি পোস্ট করে বাংলাদেশ দলের

উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম লেখেন,

‘সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা।

আমরা অনেক সময় বন্ধুদের সাথে বেশি সময় ব্যয় করি এবং পরিবারকে ভুলে যাই।

যেহেতু আমরা সবাই বাড়িতে আছি, পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ।

বাড়িতে থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন এবং পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটান এই কামনা করছি। ঈদ মোবারক।’