সারাদেশ Archives - Page 3 of 10 - Dhaka Today

dt008673.jpg

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথমবর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১৮-১৯ সেশনের ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব জহীর উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, রবিবার ‘বি’ ইউনিটে মেধাতালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি সাক্ষাৎকারের দিন নির্ধারিত ছিল। ‘বি’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ৩৫৩ তম হওয়া রাসিক মারজান নামের এক শিক্ষার্থী এইচএসসির নকল সনদ নিয়ে ভর্তি হতে আসেন। এসময় ভর্তি কমিটির সদস্যদের ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রাসিক জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন।
এসময় রাসিক জানায় যে, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে জালিয়াতি করে মেধাতলিকায় স্থান পায় তিনি।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রাসিকের নামে মামলা আছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যদের হাতে তাকে তুলে দেয়া হবে।’

rsefs.jpg

‘লেখা পড়ার বয়স নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই’ শিক্ষাগ্রহণের এ শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে ৪১ বছর বয়সে এসএসসি ভোকেশনাল (৯ম শেণিতে) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এক নারী।

তার নাম রুমা খাতুন। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলার গৃধারীপুর গ্রামের মৃত্যু শাহাজাদার স্ত্রী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাদুল্লাপুর ইদিলপুর শ্যামলের বাজার মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ধাপের হাট বি এম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন এ নারী।

পরীক্ষার্থী রুমা খাতুন বলেন, চাকরির জন্য অন্তত একটি সার্টিফিকেট দরকার। আগে থেকে যদি পড়ালেখা করতাম তাহলে আজ অভাব-অনটনে সংসার চালাতে হতো না। এখন বুঝতে পেরে পড়াশুনা শুরু করেছি। একজন নারী হয়ে এ বয়সে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চাই। আমার যদি সার্টিফিকেট থাকত তাহলে আজ সংসার জীবনে ছেলে-মেয়ে নিয়ে এত কষ্টে থাকতে হতো না।

রুমা খাতুনের এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে ধাপেরহাট বি এল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত, মেয়ে পলাশবাড়ী শিশু কাননে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

কারিগরি শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি জীবনে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন রুমা।

রুমার ভাষ্য, যখন তিনি বুঝতে পেরেছেন, চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকরির আবেদন করতে হলেও অন্তত অষ্টম শ্রেণির একটি সনদপত্র দরকার হয়। তাই তিনি ইদিলপুর শ্যামলের বাজার মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্যামলের বাজার মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মো. রওশন জামিল বলেন, বয়স হলেও পড়ালেখা কোনো হাস্যকর ব্যাপার নয়; এই মূল মন্ত্র ধারণ করে তিনি ইদিলপুর শ্যামলের বাজার মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে অ্যাগ্রোবেসড ফুড বিষয়ে ভর্তি হয়ে চলমান এসএসসি ভোকেশনাল (৯ম শেণিতে) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাদুল্লাপুর সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. শামছুজ্জামানের নজরে পড়েন রুমা খাতুন।

শিক্ষা অফিসার মো. শামছুজ্জামান বলেন, লেখাপড়ায় কোনো বয়স নাই। যে কোনো বয়সে লেখাপড়া করা যায়। তার অনন্য উদাহরণ পরীক্ষার্থী রুমা খাতুন। জ্ঞান অর্জনে বয়সের চেয়ে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে রুমা লেখাপড়া বর্তমান সমাজ ও দেশের জন্য একটি উদাহরণ।

noormoha.jpg

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া-কটিয়াদি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ।

ঢাকা বিভাগীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বুথ থেকে রবিবার তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

ফরম বিক্রির দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল কবির রাহাত বলেন, “সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের জন্য তার ছেলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।”

এদিকে দ্বিতীয় দিন শনিবারও উৎসব মুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে আট শতাধিক।

প্রতিটি ফরমের মূল্য ৩০ হাজার টাকা করে।

শুক্রবার ১ম দিনে ১৩২৯ জন, দ্বিতীয় দিন শনিবার ১১৩২জন ও রবিবার ৮৩৫ জন। মোট তিন দিনে ৩২৯৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।

রবিবারও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের অনুসারী নেতা-কর্মীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। নানা রঙের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শো-ডাউনের মাধ্যমে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের কারণে আশপাশের রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

রবিবার ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল থেকে আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা-৬ থেকে আবদুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা ৮ আসনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শরিয়তপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, গাজীপুর কালিগঞ্জ থেকে চিত্র নায়ক ফারুক, ঢাকা ৮ থেকে সাবেক ছাত্রনেতা সূত্রাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাইদ, ঢাকা ৬ থেকে সাবেক ছাত্রনেতা সবচেয়ে কম বয়সী (২৬) তরুন মাহমুদুল হক জেমসসহ ২২০ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের চট্রগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ফেনী -৩ নাট্য অভিনেত্রী শমী কায়সার, চাঁদপুর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, লক্ষ্মীপুর সদর থেকে বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, চট্রগ্রাম-১২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ ১৮২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে জামালপুর ৫ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, নেত্রকোনা-২ আসনে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শাহ মোস্তফা আলমগীর, নেত্রকোনা-৩ আসনে সাবেক সাংসদ মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, ময়মনসিংহ-৭ আসনে নুরুল আলম পাঠান মিলনসহ ৭৩ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগে জয়পুর হাট-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপণ, জয়পুর হাট-১ আসন থেকে সাবেক ছাত্রনেতা মো. তৌফিদুল ইসলাম বুলবুল,  জয়পুর হাট-২ আসন থেকে মনোনয়ন নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলীসহ ৭৯ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

খুলনা বিভাগে মাগুরা-১ সাইফুজ্জামান শিখর, বাগেরহাট-২ আসনে শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়, বাগেরহাট-৪ আসনে ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগসহ মনোনয়ন নিয়েছেন ৭৯ জন।

রংপুর বিভাগে দিনাজপুর-৫ আসনে জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুল ইসলামসহ ৮৩জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

সিলেট বিভাগে সিলেট-১ আসনে সাবেক মেয়র বদরুদ্দীন কামরানসহ ২৬জন ও বরিশাল বিভাগে বরিশাল- ৫ আসনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ, বরিশাল-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম, বরিশাল সদর আসনে জেবুন্নেসা আফরোজ হীরণসহ ৮৮জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

siaam-big-20181111153936.jpg

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও গ্রাহকের প্রায় ৫৫-৬০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এনজিওটির প্রধান অফিস ও শাখা অফিসে বর্তমানে তালা ঝুলছে।

মালিক ও কর্মচারীরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শহরের বড় ইন্দারা মোড়ে এনজিওটির প্রধান অফিস ছিল এবং সদর উপজেলার মহারাজপুর ও নাচোল উপজেলার নেজামপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ছিল শাখা অফিস।

শনিবার (১০ নভেম্বর) সরেজমিনে বারঘরিয়ার লক্ষীপুরে অবস্থিত সিয়ামের অফিসে গেলে দেখা যায় শতাধিক গ্রাহক অপেক্ষায় রয়েছে তাদের জমাকৃত টাকা উত্তোলনের জন্য।

এ বিষয়ে সিয়ামের বৃদ্ধ এক গ্রাহক সফেদা বেগম জানান, সিয়ামের এককর্মী কিছুদিন আগে তার বাড়িতে গিয়ে ১ লাখ টাকা জমার বিপরীতে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা দেবার লোভ দেখালে বেশি টাকা পাবার আশায় সে তার ছেলের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা জমা দেয় সিয়ামে। আর শনিবার সে টাকার লভ্যাংশ নিতে এসে অফিসে তালা দেখতে পায়।

এমনিভাবে বারঘরিয়ার হাজার হাজার মানুষ আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে সিয়ামের এক ম্যানেজার সিয়ামের পরিচালক মাসুদ রানার বিষয়ে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষেই জানা যাবে আসল ঘটনা।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকার্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আব্দুল হান্নান জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাবার পরে সিয়ামের বারঘোরিয়াসহ প্রতিটি ইউনিট কার্যালয় এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সিয়ামের অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। আর আশপাশের বাসিন্দাদের কাছেও খোঁজ নিলে সিয়ামের লোকজন অফিস বন্ধ করে পরিবার নিয়ে সকলে পালিয়ে গেছে বলে জানায়।

এ বিষয়ে বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের জানান, সিয়ামের পরিচালক মাসুদ রানা গ্রাহকের প্রায় ৪৯ কোটি টাকা নিয়ে বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছে এমটাই শোনা যাচ্ছে। আর এলাকার অসহায় গরিব মানুষ আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, মাসুদ রানার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে কেউ রিসিভ করে না। আর অন্য নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে শনিবার বিকেলে বারোঘরিয়ার আমির মেকার, নাজমুল, দুরুল ঘোষ, বিভুতি রায়, শোভনসহ আরো অনেকে অফিস ঘিরে রেখেছিল। তারা জানায়, যার কাছে যেভাবে পেরেছে টাকা নিয়েছিল। অল্প টাকায় বেশি মুনাফা পাবার আশায় তারা সিয়ামে টাকাও জমা দিয়েছিল। টাকা ফেরত দেবার মূহুর্তেই এখন সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সিয়ামের পলাতক। এ বর্তমানে বারঘরিয়াসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টক অব দ্য নিউজ। সরকারের কাছেও ভুক্তভোগিদের দাবি এমন প্রতারণার হাত থেকে যেন তাদের রক্ষা করা হয়। তা না হলে শত শত পরিবার ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে পথে বসতে হবে।

এ ব্যাপারে সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মাসুদ রানার সঙ্গে মুঠোফোনে (০১৭৪৪-১১০০২০) যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের কাউকেও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় এটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

sim-20181111145932.jpg

ঢাকা ও চট্টগ্রামের ২৬টি এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি বন্ধে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

১৪ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৪২,১৫০টি সিম ও প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ২৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এসময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪-১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডি, তেজগাঁও, কদমতলী, সিদ্ধিরগঞ্জ, পল্লবী ও মিরপুর এবং ২১-৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, সদরঘাট ও হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবাইল অপারেটর রবির ১৬,৮১২টি, টেলিটকের ১৫,৯৩৯টি ,বাংলালিংকের ৬,১৭৬টি, গ্রামীণফোনের ৩,২২৩টি সিমসহ সর্বমোট ৪২,১৫০টি সিম জব্দ করা হয়।

এছাড়া অবৈধ ভিওআইপি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সিম পোর্ট বিশিষ্ট সর্বমোট ১৪৮টি জিএসএম (সিমবক্স) গেটওয়ে, ২৬৭৭ টি মডেম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১কোটি ২৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। এ বিষয়ে জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১–এর অধীনে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

chadpur-9-20181111181216.jpg

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে আছেন।

কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না দল থেকে মনোনয়ন কে পাবেন। তবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহকারী সবার বিশ্বাস সবাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দল কাকে মনোনয়ন দেবে তা দেখতে হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার টেনশনের কারণ সাবেক সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন সাবেক সচিব গোলাম হোসেন।

পাশাপাশি চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তার টেনশনের কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল ও তরুণ শিল্পপতি আওয়ামী লীগ নেতা এম ইসফাক আহসান। যদিও আসনটি ধরে রাখতে ইতোমধ্যে মায়ার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপুও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে, চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার টেনশনের কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

পাশাপাশি চাঁদপুর-৫ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)। তার আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) সালাউদ্দিন।

নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীদের টেনশনের পাশাপাশি দ্বন্দ্বে রয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কোন আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেবে দল। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা রয়েছে। কেউ কেউ বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের এগিয়ে রাখলেও নতুনরা হেভিওয়েট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন। সেইসঙ্গে নতুনদেরও এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মন্ত্রী-এমপিদের কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন মুখের দেখা মিলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কোন আসন থেকে কাকে বাদ দেবেন আর কাকে নেবেন সেটি নেত্রীই ভালো বলতে পারেন। নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। আমরা কাউকে এগিয়ে রাখতে চাই না। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা তার জন্যই কাজ করব।

khadanik.jpg

বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক অপপ্রচার শুরু হয়েছে। জামায়াত ও বিএনপির প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে লন্ডন। জামায়াত ইসলামের সদর দপ্তর এখন পাকিস্তান থেকে সরিয়ে লন্ডন নেয়া হয়েছে। মূলত সেখান থেকেই অপপ্রচারগুলো ছড়ানো হচ্ছে। এসবের কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি।

রোববার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলাম জারজ সন্তান। কোনো জারজ সন্তান যেমন পিতার সম্পত্তির অধিকারী হতে পারেন না, ঠিক জামায়ত ইসলামীও বাংলাদেশে রাজনীতিতে প্রবেশ করার অধিকার রাখে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের ভূমিকা কারোই অজানা নয়।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদের সঞ্চালনায় ও রবিউল ইসলাম রুবেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- একাত্তরের ঘাতক দালান নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান প্রমূখ।

nokkhy.jpg

মানুষের ভাললাগা থেকে ভালাবাসার সৃষ্টি । কিন্তু হাতের নখের প্রতি যার অনন্য ভালোবাসা দিনাজপুর ফুলবাড়ীর অরুন কুমার সরকার (৩৪)। তিনি পচিশ বছর ধরে নিজের হাতের নখ না কেটে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার লক্ষিপুর নামক স্থানে ।

ফুলবাড়ী পৌর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর উচ্চ-বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকার এর এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে অরুন কুমার সরকার।

পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর পুর্বে ১৯৯৩ইং সালে অরুন কুমার সরকার যখন সবেমাত্র প্রাইমারীতে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র তার বয়স তখন ৮বছর, ঠিক তখন সে কয়েক সপ্তাহ নখ না কাটায় তার নখ দেখে শিক্ষক তাকে নখ কাটার কথা বলেন। কিন্তু অরুন তখন ভাবে যে এই নখ আরো একটু বড় হলে কেমন লাগে দেখি। আর এভাবেই তার নখ বড় হতে থাকে। এদিকে নখ বড় হবার সাথে সাথে নখের প্রতি অরুনের এক অনন্য ভালোবাসা জন্মায়, এর পর থেকে সেই নখের প্রতি ভালোবাসার কারনে সে আর তার নখ কাটতে চায়নি। লোকমুখে শুনে অরুনের এই নখ একনজর দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই তার দোকানে আসেন। অরুনের বাবা মা ও আত্মীয় স্বজন তার নখ রাখার ব্যাপারে প্রথম প্রথম বাধা দিলেও পরে তারাও তা মেনে নেন। এ অবস্থায় অনেক বছর অতিবাহিত হয়,অরুনের বড় হবার সাথে সাথে তার বামহাতে রাখা নখ গুলো বছরের পর বছর পর্যায়ক্রমে বড় হতে থাকে।

একপর্যায়ে অরুন বড়ো হবার সাথে সাথে তার নখগুলোও বড় হতে থাকে। এ অবস্থায় বিয়ে সাদী করে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে লক্ষিপুর বাজারে তার কন্যা সন্তানের নামে কান্না ডিজিট্যাল ফটো স্টুডিও নামে একটি ফ্লোক্সিলোডের দোকান রয়েছে। সেখানে ছবি তোলা ও ডিস সাপ্লাই এর ব্যবসা করেই সে তার জীবন- জীবিকা নির্বাহ করছে।

অরুন কুমার সরকার বলেন, হাতে নখ রাখার ব্যাপারটা হঠাৎ করেই শখের বসে। তবে এতে তার তেমন কোনো সমস্যা হয় না। নখগুলোর প্রতি তার অনেক ভালোবাসা জন্মেছে সে কারনে অরুন তার নখ গুলো আর কখনো কাটবেন না বলে জানান। এমনিতেই যদি কোন কারনে এই নখের কোনো অংশ একটু ভেঙ্গে যায়,তাতেই তিনি খুব কষ্ট পান বলেও জানান তিনি।

dt008624.jpg

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা বাবুসোনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম (৪৮) অসুস্থ হয়ে মারা যাননি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার ভোরে কারাগারে নিজ কক্ষে গলায় চাদর পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

প্রথমে কারা কর্তৃপক্ষ হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের কারণে কামরুলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানালেও পরে অন্য কয়েদিদের তথ্যমতে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হন জেলার আমজাদ হোসেন। শনিবার রাতে আমজাদ হোসেন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

কারাগারের বন্দীদের বরাত দিয়ে জেলার আমজাদ হোসেন জানান, কামরুল ইসলাম ভোরে উঠে ওজু করে নামাজ পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই বন্দী নামাজের জন্য অজু করতে গেলে তিনি নিজের গায়ে জড়ানো চাদর জানালার রডের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তার গোঙানির শব্দ শুনে অন্য বন্দীরা জেলারকে খবর দেন। এ সময় দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২০ মিনিট পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসক কামরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, কামরুল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ৩০ অক্টোবর থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ৬ ও ৭ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ওইসময় আদালতে হাজির করা হয় কামরুল ও দীপাকে। ৭ নভেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুল। এক সপ্তাহ যাবৎ শারীরিকভাবে অসুস্থসহ বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি।

এদিকে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাতে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বাবুসোনার অফিস সহকারী ও স্ত্রী দীপা ভৌমিকের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মদন চন্দ্র বর্মন মিলন ওরফে মিলন মোহন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফলে অভিযুক্ত মিলন মোহন্তকে বাদ দিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কামরুল ও দীপার নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আর এখন কামরুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাবু সোনা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি থাকলেন তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা। তিনি রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এ মামলায় তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সবুজ ও রোকন গ্রেফতার হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন কামরুল। একই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন নিহত বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা। চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাতে অ্যাডভোকেট বাবু সোনাকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী সিগ্ধা ও তার কথিত প্রেমিক কামরুল।

পরে বাবু সোনা নিখোঁজ হয়েছেন বলে শুক্রবার বিকেলে প্রচার করেন দীপা। ৩১ মার্চ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও পরদিন রোববার থানায় মামলা করেন বাবু সোনার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল।

এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বাবু সোনার স্ত্রী দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানান। এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন কামরুল।

পরে ওইদিন রাত ২টার দিকে বাবু সোনার নিজ বাড়ি তাজহাট বাবুপাড়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়ার শিক্ষক কামরুল ইসলামের ঢাকায় বসবাসরত বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরের মাটি খুঁড়ে বাবু সোনার মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা স্নিগ্ধা সরকার দীপার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলামের। মূলত পরকীয়া প্রেম, পারিবারিক অশান্তি ও বাবু সোনার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের আশায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দীপা এবং কামরুল।

dt008654-1.jpg

ঘুমন্ত বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর ধারালো অস্ত্রসহ রক্তমাখা কাপড় পরে নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন আপন ছোট ভাই। নিহতের নাম মো. আবু তাহের (৪০)। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের কাইচাবাড়ী এলাকার মৃত ফজর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আবু তাহের কাইচাবাড়ী এলাকায় মৃত ফজর আলীর ছেলে। মেজ ভাই জাহেদ আলীর (২৬) হাতে খুন হয়েছেন তিনি। তারা সাত ভাই ও এক বোন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, রাতে আমি অফিস কক্ষে বসেছিলাম। এমন সময় রক্তমাখা শরীরে, রক্তমাখা দা হাতে এক যুবক রাতে হঠাৎ থানায় আসে। সে জানায় তার নাম জাহেদ আলী, ভাইকে খুন করে এসেছে। এখন আমরা যেন তাকে গ্রেপ্তার করি। পরে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে পারি। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু তাহের ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন কি না সে ব্যাপারে তদন্ত করে জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে জাহেদ আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
তিনি আরও বলেন, জাহেদ স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, আবু তাহের তার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে তার ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিহতের বোন হাসিনা বেগম জানান, বড় ভাই আবু তাহের তার পৈতৃক এক শতাংশ জমি বিক্রয় করে বিদেশ যেতে চাইছিলেন। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই ছোট ভাই জাহেদ আলীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল বড় ভাই আবু তাহেরের। তিন দিন আগে তাহের এক প্রতিবেশীর কাছে তার পৈতৃক এক শতাংশ জমি বিক্রি করে ১ লাখ টাকা বায়না নেন। সেই টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা তিনি খরচ করেন। বাকি ৭০ হাজার টাকা মায়ের কাছে জমা রাখেন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter