খবর Archives - Page 2 of 38 - Dhaka Today

luna.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের চেয়ারপার্সনের নিখোঁজ হওয়া উপদেষ্টা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কর্মী-সর্মথকদের সাথে নিয়ে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমার স্বামীই সিলেট-২ আসনে নির্বাচন করতেন। সর্বদা এই এলাকার উন্নয়নেই কাজ করেছেন তিনি। এই আসনের জনগণ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। অথচ এ মানুষটাকেই গুম করে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার এই আসনে আমি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে শুধু এ আসনেই নয় সরাদেশেই বিএনপি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে।

pathao-uber.jpg

পথে চলতে চলতে নিজের গাড়ি বা বাইকে রাইড শেয়ার করে কিছু আয় হয়ে গেলো, আবার নিজের গন্তব্যেও পৌঁছানো গেলো। কাজের ফাঁকে রাইড শেয়ারের এমনই এক সুবিধা নিয়ে রাজধানী ঢাকার যানযটের দুর্ভোগ কমানো এবং কিছু আয় করার পথ খুলে দিয়েছে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা পাঠাও-উবার। নিজের কাজের পাশাপাশি পাঠাও-উবারে রাইড শেয়ার করে অনেকেই ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারতেন রাইডাররা। কিন্তু গত কয়েকদিনে সেই আয়ে ছেদ পড়েছে কিছুটা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হিসাব মতে, ২০০৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৭২ লাখ। আর বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে ঢাকার জনসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ। অর্থাৎ গত এক যুগে রাজধানীতে মানুষ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। আর সে অনুপাতে গণ পরিবহন বেড়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। অবাক করার মতো হলেও, তারা জানিয়েছে ঢাকার ৭০ শতাংশ মানুষই পায়ে হেটে চলাচল করে।

তবে সিএনজি, অটোরিক্সা, ট্যাক্সিক্যাব থাকলেও সেসবে জিম্মি করে ভাড়া আদায়ের প্রচুর অভিযোগ থাকায় কম ভাড়ায় উন্নত সেবা ও জ্যাম থেকে মুক্তি পেতে মানুষ অ্যাপভিত্তিক এসব পরিবহন ব্যবস্থার দিকেই ঝুঁকছেন। শুরুতে এসব সেবাদানকারী পরিবহন চালকরা ভালো আয় করতে পারলেও বর্তমানে রাইড না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হচ্ছে রাইডারদের। ফলে আয়ও কমে গিয়েছে অনেকটাই।

পাঠাওয়ের রাইড শেয়ারকারী চালক রিয়াজ উদ্দিন বললেন, প্রায় বছর খানেক হলো রাইড দিচ্ছি। শুরুতে দিনে ১০০০-২০০০ টাকা আয় হতো ৬-৭ ঘন্টা রাইড শেয়ার করেই। প্রচুর রাইড পাওয়া যেত। কিন্ত এখন সড়কে ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকলেও রাইড পাওয়া যায় না। আয় কমে গেছে।

আয় কমার কারণ হিসেবে রাইড শেয়ারকারীর সংখ্যা বাড়াকে দায়ি করে তিনি বলেন, শুরুতে ঢাকায় এতো বাইক ছিলো না। কিস্তিতে বাইক দেয়া এবং ঢাকার বাইরে যারা খ্যাপ (চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন) দিতেন তারাও এখন ঢাকা এসে রাইড শেয়ার করছেন। সেবাটা এখন আর রাইড শেয়ারিং নেই। বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ চালকই এটা পূর্ণ সময়ের কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে যাত্রী অনুপাতে পরিবহন বাড়ায় রাইড কমেছে চালকদের।

কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে কয়েকজন রাইড শেয়ারকারীর সাথে কথা বলে জানা গেলো, এরমধ্যে দুজন ছাত্র, একজন বেসরকারি চাকরি করেন তার পাশাপাশি রাইড দেন। সেখানে বসে থাকা বাকিরা তাদের পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে রাইড শেয়ারিংকেই নিয়েছেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা অব্দি প্রায় দিনই তারা এভাবেই বসে থাকেন বলে জানান তারা।

টাঙাইলের কালীহাতির কামাল উদ্দিন জানালেন, আগে গ্রামে বাইকে যাত্রী আনা নেওয়া করতেন তিনি। সেখানে কম যাত্রী পাওয়া যেতো। আয়ও কম ছিলো তাই ঢাকাতে রাইড দিচ্ছেন। এখানে শুরুতে আয় ভালো হলেও এখন তা কমেছে। রাইড ছাড়া কয়েকঘন্টা করে বসে অলস সময় পাড় করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, পাঠাও-উবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় অনেকেই অ্যাপ আনইনস্টল করে ফেলছেন বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে গণ পরিবহনের ঝক্কি এড়াতে পাঠাও-উবার ব্যবহার করতাম। কিছুদিন আগে শুনলাম তাদের সাইবার নিরাপত্তা খুবই দুর্বল। ফোনের সব মেসেজের এক্সেস নিচ্ছে তারা। পরে অ্যাপ আনইনস্টল করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, এছাড়াও চালকদের খারাপ ব্যবহার, প্রোমো কোড কাজ না করাসহ বিভীন্ন সমস্যা নানা সময়ে অভিযোগ করলেও সে বিষয়ে তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না। ফলে একরকম বিরক্ত ছিলাম এই সেবার উপর।

আইইউবির ছাত্র শাহরিয়ার বলেন, পাঠাও রাইডে আগে একটা মান ছিলো। যাত্রী সেবা ছিলো, কিন্ত সময়ে সময়ে যাত্রী বাড়লেও সেবার মান কমে গেছে। আর রাজধানীতে সিটিং বাসের সেবাও মোটামুটি ভালো হওয়ায় এখন আবার অ্যাপ ছেড়ে বাসে চলাচল করছি।

তিনি বলেন, বাসগুলোতে সেবার মান যদি আরেকটু বাড়ানো যায়। তাহলে এসব অনিরাপদ অ্যাপ সেবার থেকে বাসেই বেশি চলাচল করবে মানুষ।

পাঠাওয়ের মার্কেটিং ম্যানেজার নাবিলা মাহবুব জানান, যানজট এড়িয়ে সহজে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য চালু করা হয় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাও। তবে সব ফ্রিল্যান্সার রাইডার ও ক্যাপ্টেনদের আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে তাদের রাইড শেয়ার সংখ্যার ওপর।

তিনি বলেন, শুরুতে রাইডার কম ছিলো, পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এখন রাইডার বেড়েছে। তবে যাত্রী সংখ্যা তেমনই থাকায় রাইডও ভাগ হয়ে গেছে। একারণে চালকরা রাইড কম পাচ্ছে। তবুও গড়ে রাইড কমেনি, তারা ভাল আয় করছে।

ডিএমপির রমনা জোনের পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ শরীফ বলেন, ঢাকাতে বর্তমানে ৯টি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ চালু আছে। এ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে সেবা নেয়া যায়। কিন্ত এসবের জন্যে সড়ক পরিবহন আইনের যেসব নিয়ম আছে তার কোনকিছু এরা যাচাই করেনা। বেশিরভাগ চালক, যাত্রী হেলমেট ব্যবহার করে না। করলেও সেসব ক্যাপের মতো হেলমেট হয়ে যায়৷ আবার, সরাসরি কর্মচারী না হওয়ায় চালকরা দুর্ঘটনায় পড়লে তার দায় নেয় না অ্যাপ মালিকরা। এসব কারণে অ্যাপভিত্তিক সেবায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই হুমকি পূর্ণ।

দায় স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন এই সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছেন তারা।

পাঠাও-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কিশওয়ার আহমেদ হাশমি বলেন, আমরা ট্রেনিং দিয়েছি। তারপরেও তাদের পারফরম্যান্স আমরা চেক করি। অনেক সময় কাস্টমাররা হেলমেট পড়তে চান না। দুর্ঘটনা হলে এতে পাঠাওয়ের কোন দায়িত্ব নেই।

অভিযোগ আছে, অ্যাপে না গিয়ে বেশি ভাড়া দাবিরও। ধানমন্ডি থেকে মতিঝিল যেতে আয়াত আক্তার প্রায়ই উবারের প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। যার ভাড়া আসতো ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। কিন্তু রাস্তায় জ্যাম থাকা অবস্থায় মতিঝিল যাওয়ার উদ্দেশ্যে উবারে অ্যাপে কল দিলে ভাড়া দেখায় ৫৫০ টাকা। তারপর তিনি প্রক্রিয়াটি বাতিল করে আবার কল প্রক্রিয়া করলেন। পরে ভাড়া আসে ৫৮২ টাকা। এ সময় তিনি দেখলেন মোবাইলের মনিটরের ওপরে লেখা রয়েছে, ফেয়ার স্লাইটলি হায়ার ডিউ টু ইনক্রিজিং ডিমান্ড।

এ ব্যাপারে আয়াত প্রশ্ন করে বলেন, রাস্তায় জ্যাম বেশি থাকলে সিএনজিচালিত অটোরিকশাওয়ালারাও বেশি ভাড়া দাবি করে। আমার প্রশ্ন তাহলে সিএনজি আর উবারের মধ্যে পার্থক্য থাকলো কই?

বাড়তি ভাড়া বিষয়ে উবারের এক কর্মকর্তা বলেন, ভাড়ার নীতি ক্ষেত্রে উবার বিশ্বজুড়েই ‘ডায়নামিক’ বা গতিশীলতা অনুসরণ করে। এ কারণে ভাড়ায় তারতম্য দেখা যায়। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাড়ার হার পরিবর্তিত হতে পারে। গ্রাহকের গাড়ি প্রাপ্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতেই এমন করা হয়।

নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ আরোহীকে হেলমেট না দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ করার ব্যবস্থা আছে। অভিযোগ করলেই উবার কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

oikoo.jpg

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমরা ১৬ নভেম্বর জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের আসার আমন্ত্রণ জানাব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। অথচ একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি।

এর আগে, বেলা ১২টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

kamal-hosen-1.jpg

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ ২০ দলীয় জোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমও শুরু করে দিয়েছেন।

সম্প্রতি ড. কামাল বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অর্ন্তভুক্ত করতে চান।

ড. কামালের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. হোসেন জিল্লুর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মন্ত্রীপরিষদ সচিব আকবর আলী খান, টিআইবির সুলতানা কামাল, সাবেক সেনাপ্রধান ও দুদক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরীসহ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনে সম্পৃক্ত করার জন্য বিএনপিকে চিঠি দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, এই তালিকায় আরও রয়েছেন- ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন (বর্তমানে কারাগারে), ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শাহদীন মালিক, আলী ইমাম মজুমদার ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশিষ্ট এসব ব্যক্তিরা যদি নির্বাচনে জড়িত হন অথবা সরাসরি নির্বাচন করতেও চান তাহলে বিএনপি স্বাগত জানাবে।

বিএনপি আরও জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সেক্ষেত্রে সমাজের প্রথিতযশা এসব ব্যক্তি যদি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসেন তাহলে, সরকারের ভেতরেও এক ধরনের নড়াচড়া পড়ে যাবে। একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানেও সরকারের ওপর চাপ পড়বে।

ড. কামালের তালিকায় থাকা দুইজন শুরু থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে আছেন। এরা হলেন ড. জাফরুল্লাহ ও কিছু দিন আগে কারাগারে যাওয়া ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। ড. শাহদীন মালিক ঐক্যফ্রন্টের ডাকে একটি বৈঠকে শামিল হয়ে কয়েকদিন আগে আইনি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, সংবিধানেই রয়েছে সংসদ ভেঙে নির্বাচনের বিষয়টি।

আর সুলতানা কামাল গত সোমবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশিষ্টজনদের প্রায় সবাই একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলছেন। তবে তারা সরাসরি নির্বাচনে যুক্ত হবেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তালিকায় থাকা একজন জানিয়েছেন, কোনো দলের হয়ে নির্বাচন করতে নয়; গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা কাজ করতে চান।

সূত্র জানায়, সোমবার ১০ জনের এই নামের তালিকা বিএনপির কাছে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকার কথা দলটির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জানেন।

taxx.jpg

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগে সারাদেশে আয়কর মেলা ২০১৮ আরম্ভ হয়েছে। করদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের আগমনে আয়কর মেলা বেশ জমজমাট ছিল। সপ্তাহব্যাপী মেলার করদাতাদের থেকে প্রথম দিনে ২১৮ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮ টাকা আয়কর আদায় হয়েছে। তাছাড়ও প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৪টি জেলা এবং ৭টি উপজেলাসহ মোট ১৯টি স্থানে একযোগে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞতিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন মেলা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে চলে। ১৩-১৯ নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে ৭দিন, ৫৬টি জেলা শহরে ৪দিন, ৩২টি উপজেলায় ২দিন এবং ৭০টি উপজেলায় ১ দিনব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিজ্ঞতিতে বলা হয়েছে, মেলার প্রথম দিন করদাতা ও সেবা গ্রহীতাদের পদচারণায় মুখর ছিলো । বিশেষ করে নারী ও তরুণ করদাতাদেরও ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। সারাদেশে করদাতারা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কর প্রদান ও সেবা গ্রহণ করেছেন।

বলা হয়েছে, মেলা থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৯৯ জন করদাতা। আর রিটার্ন দাখিল করেছেন ৪৬ হাজার ৪০১ জন করদাতা। এবার মেলার পরিধি গতবছরের মেলার চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন মেলা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইন গ্রহণ (নতুন ও পুরাতন), ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং, ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।

মেলায় আসা মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য রয়েছে আলাদা বুথ। মেলায় করদাতাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজধানীর টিএসসি, রামপুরা, বেইলি রোড, মতিঝিল, মিরপুর ও উত্তরা থেকে ১৫টি শাটল বাস নিয়োজিত রয়েছে।

কর আহরণের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতা নিশ্চত করাই কর বিভাগের প্রধান কাজ। এ ধারাবাহিকতায় ‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’- স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’।

bcse.jpg

অবশেষে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সঙ্গে মিশে গেল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকোনমিক) ক্যাডার। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অধিকতর গতিশীল সমন্বিত ও জনবান্ধব প্রশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার একীভূত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, প্রশাসন এবং ইকোনমিক ক্যাডারের সব পদ এবং জনবল প্রশাসন ক্যাডারের পদ ও জনবল হবে। সরকারি কর্ম কমিশনের সমন্বিত মেধা তালিকা অনুসারে পুলে যোগ দেয়া ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নিজ নিজ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাথে নির্ধারিত হবে।

একীভূত করার উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একীভূত ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সমপদে পদায়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং একীভূত করার সব প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে।

এই আদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা বা এই আদেশে উল্লেখিত হয়নি এমন কোনো বিষয়ে আদেশের প্রয়োজন হলে সরকার ব্যাখ্যা বা প্রয়োজনে আদেশ দিতে পারবে।

ইকোনমিক ক্যাডার বিলুপ্ত করতে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসেস (রি-অর্গানাইজেশন) অর্ডার, ১৯৮০’ সংশোধিত হবে। ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তার সংখ্যা ৪৬৪ জন। প্রশাসন ক্যাডারে বর্তমানে কর্মকর্তা সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪৫ জন। ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা একীভূত হওয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তার মোট সংখ্যা হল ৫ হাজার ৩০৯ জন।

ecnd.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে। আওয়ামী লীগের ফরম বিক্রির সময় ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্য দু’টি দল বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির ফরম বিক্রি চলছে। এ বছর আওয়ামী লীগের চার দিনে ফরম বিক্রি হয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি। খবর: বিবিসি বাংলা।

দলগুলো থেকে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে যেমন দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন তেমন রয়েছেন অভিনেতা, ক্রিকেটার। এখন প্রশ্ন হল দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করবে?

আওয়ামী লীগ কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করবে

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত দুই বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করছেন। অক্টোবরে সর্বশেষ জরিপের প্রতিবেদন এসেছে। ৩/৪ মাস পর পর সার্ভে রিপোর্ট এসেছে। বিভিন্ন সোর্স থেকে এই তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জরিপের জন্য এনজিও, শিক্ষকদের নিয়ে একটা দল আছে। দলের এরকম ৫/৬টি সোর্স রয়েছে।

হানিফ বলেন, এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে এলাকায় একজন প্রার্থীর সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি এবং ক্লিন ইমেজ আছে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মনোনয়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবেন?

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দু’টি মনোনয়ন বোর্ড আছে। একটা সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড এবং অন্যটি স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ১১ সদস্য বিশিষ্ট। এই দুই বোর্ডের প্রধান দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ আরো দল রয়েছে, তার মধ্যে জাতীয় পার্টি অন্যতম। হানিফ জানান, আমাদের যে জরিপ দল রয়েছে তারা একটা নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের বাইরে ঐ এলাকায় সম্ভাব্য অন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।

সেই সব দলের প্রার্থীদের ব্যাপারে এলাকায় একই ভাবে জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিএনপি কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করবে

বিএনপি সোমবার (১২ নভেম্বর) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, তাদের কাছে ৫ বছরের জরিপের রির্পোট রয়েছে।

‘প্রার্থী নির্বাচনে আমাদের অনেকগুলো মানদণ্ড আছে। প্রধান বিষয় হল দলের জন্য তার অবদানটা কি সেটা আমরা দেখবো, আর গত ১০ বছরে যে সংগ্রাম হল, আন্দোলন হল সেই আন্দোলন তার ভূমিকা কি ছিল সেটা আমরা দেখবো। তার আর্থিক সচ্ছলতা আমরা বিবেচনা করবো। তৃণমূল পর্যায়ের আমাদের সংগঠনের ব্যক্তিদের মতামত নেব।’

মওদুদ বলেন, অনেক এলাকা আছে যেখানে মানুষ বিএনপি করেন না কিন্তু বিজ্ঞ, শিক্ষিত যারা তাদের মতামত নেয়ার চেষ্টা করি। তারপর দেখি প্রার্থী জিতবে কিনা। এটা একটা বড় মাপকাঠি। হয়তো একটা প্রার্থীর সবকিছু আছে কিন্তু সে হয়তো ভোট পাবে না অথবা নির্বাচনে জিতবে না। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তবে ৯৫% জায়গায় যেসব মাপকাঠির কথা বললাম সেগুলো বিবেচনায় আনা হবে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে। যখন আমরা প্রার্থীদেরকে ডাকবো তখন ৫ বছরের জরিপের এই সব তথ্যগুলো আমাদের সামনে থাকবে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, সবাই যে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মনোনয়ন পত্র কেনেন তা নয়, অনেকে আছেন যারা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কেনেন।

বিএনপির মনোনয়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবেন?

মওদুদ আহমদ বলেন, মোটামুটি নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করেন। সেগুলো আবার ‘ক্রস-চেক’ করেন। সংসদীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড এই প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

তবে বোর্ডের প্রধান খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে রয়েছেন। মওদুদ আহমেদ বলেন, সেক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি বলেন, ওনার অনুমোদন নিয়ে আমরা ঘোষণা দেব। আমরা নিজেরা কোন চূড়ান্ত ঘোষণা দেব না।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৮শে নভেম্বর।

tarokkj.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিয় দল আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে মাঠে নামছেন এক ঝাঁক তারকা।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার কমিটির বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, অভিনয়শিল্পী অরুণা বিশ্বাস, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, শাকিল খান, জাহিদ হাসান, সাদিয়া ইসলাম মৌ, শমী কায়সার।

হাছান মাহমুদ বলেন, অভিনয় শিল্পীরা শিগগিরিই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় বের হবেন। কিছু টিভিসি আমরা তৈরি করে দেবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলো তারা শেয়ার করবেন।

চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা প্রচন্ড ভালোবাসি। তিনি আমাদেরকে উন্নয়নের যে ধারা দেখিয়ে দিয়েছেন, সেই ধারায় আমরা হাঁটছি। আমার মনে হয় উনি যদি আগামীতে প্রধানমন্ত্রী না হন, তবে বাংলাদেশ এভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না।

চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে বিনোদন দিয়ে আসছি। আমি মনে করি আগামীতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে দেখতে চায়, আপনারা যারা নতুন ভোটার আছেন তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিন। কারণ, এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। আমরা কেউ চাই না এদেশটা আফগানিস্তান কিংবা সোমালিয়া হয়ে যাক।

অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি ব্যাক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ভীষণ পছন্দ করি। তিনি সাংস্কৃতিমনা একজন মানুষ এবং উনি আমাদের শিল্পীদের অনেক সন্মান করেন। সেই কৃতজ্ঞতা থেকে আজকে আমি এখানে এসেছি।

নৌকা মার্কার প্রতি আস্থা রেখে জাহিদ হাসান বলেন, এটা আমাদের দেশ। এখন আমরা বিশ্বে অনেক দৃঢ়তার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই তখন গর্বের সঙ্গে বলি আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। একটা উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা যাত্রা করছি, এটার গন্তব্য যেন আরও ভালো জায়গায় যায়। সেজন্য আমরা নৌকার সঙ্গে আছি, ইনশাল্লাহ থাকবো।

উল্লেখ্য, ১২ নভেম্বর (সোমবার) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করেন। নতুন তফসিলে ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর।

cse-returnu.jpg

দেশের নতুন পেক্ষাপটে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে ভেজালহীন করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তাছাড়া তিনি বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। দলীয় সরকারের অধীনে থেকে যে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব এবারের নির্বাচন সেই ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সিইসি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আগামী মাসের ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর আর তারিখ পেছানোর আর কোন সুযোগ নেই। প্রথম কারণ হলো জাতীয় পর্যায়ে এতো বড় একটি নির্বাচনের পর ২৯ জানুয়ারি সংসদ বসতে হবে। ফলে এটি বড় মাপের সময় নয়। কারণ নির্বাচনের পর ফলাফল আসবে, এরপর গেজেট করা। এই তিনশ’ আসনের গেজেট করার জন্য সময় লাগে। দ্বিতীয়ত হলো, টঙ্গীর ইজতেমা হবে ১১ জানুয়ারি। এটি আমাদের চিঠি দিয়া জানানো হয়েছে। এ সময় সারাদেশ থেকে আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনীর সদস্যদের আনতে হয়। যাতে কোন সহিংসতা না ঘটে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, তাতে আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু ভোটের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই। তাছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তারা দেশি-বিদেশি সকল স্তরের সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ বছর নির্বাচনের পরিবেশ হবে ভিন্ন। আমাদের দেশে কখনো নির্বাচন হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত নির্বাচন, কখনো সেনাবাহিনী, কখনো কেয়ারটেকারের অধীনে। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ সংসদ ও সরকার বহাল রেখে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৪ সালে এমন একটি নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়নি। আমরা এবার আনন্দিত যে, এই নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে যাচ্ছে। সে কারণে আপনাদের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে এবং ভেজালমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। ভোট একটি উৎসব। ভোটের দিন ভোটাররা আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। ভোট প্রদান কক্ষ ছাড়া বাকি সব স্থানে পর্যবেক্ষকসহ সবাই যেতে পারবেন এবং তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবেন, যে নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- সেটিই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই অবস্থা রিটার্নিং কর্মকর্তার সৃষ্টি করতে হবে। কিভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন, ভোটকক্ষ তৈরি করবেন সব দায়িত্ব আপনাদের। সবাই আন্তরিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করলে সামগ্রিকভাবে আমাদের উপর জনগণের সন্দেহ হবে না।

প্রার্থী ও রাজনীতিবিদদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, অনেকেই এমপি ছিলেন, অনেকে যারা এমপি ছিলেন না তারা এলাকায় সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের সাথে যদি সুসম্পর্ক রাখেন, তাহলে কেউই নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। তাদেরকে কখনো প্রতিপক্ষ হিসেবে নেবেন না। তাদের সহযোগিতা করলে তারাও আপনাদের সহযোগী, বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। বিরোধিতা করবে না। নিরপেক্ষতা হবে একমাত্র মাপকাঠি।

ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কারণে নির্বাচন কমিশনের যাতে বদনাম না হয়। ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন।

সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর রোববার ভোটগ্রহণ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর।

rvsw.jpg

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা শেষে আগামী ১৬ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে পূর্ণ্যদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’। সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বাবা-মাকে হারানোর পর নির্বাসিত দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেঁচে থাকা, টিকে থাকার অদম্য কাহিনী।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক পিপলু জানান, চলচ্চিত্রটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাটকীয় কিন্তু আন্তরিক ভঙ্গিতে চিত্রায়ন করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে।

ছবিটি নিয়ে ইতোমধ্যে শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জে শুরু হয়েছে আলোচনা।

নির্মাতা পিপলু খান জানান, এটি একটি সিনেমাই। যেখানে রাজনীতির ইতিহাস আছে, নানা রকমের অজানা তথ্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আদর্শ নয় বরং তার নিতান্তই ব্যক্তি জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে। আর দশটা মানুষের মতো শেখ হাসিনাও দিনশেষে ইজিচেয়ারে বসে ক্লান্তি ভোলার চেষ্টা করেন। আমরা সেই গল্পটা কখনো জানি না। তিনি কখন কি খান, কখন ঘুমান, কখন জেগে উঠেন। আর যখন ঘুম আসে না তখন তিনি কি করেন? এইসব গল্পই এই ছবিতে দেখবেন দর্শক।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতা রয়েছেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে আমরা কোন মহান চলচ্চিত্র বানাতে পারিনি। অথচ পৃথিবীর সব দেশেই জনতার নেতাদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে থাকে। আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু নির্মাণের সাহস করিনি। তবে আমার দেখা একজন সেরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা। যিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মনে হয়েছে তাঁর জীবনের গল্প আছে, সেগুলো মানুষ জানতে চায়। দেশের জন্য পুরো পরিবার হারানো মানুষটার ব্যক্তি জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে। সেটা তুলে ধরতেই আমি ছবিটি বানিয়েছি। আমাকে এই ছবির জন্য সরকার থেকে কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। আমাদের মনে হয়েছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি কাজ করা আমাদের প্রজন্মের দায়িত্ব। আমরা সেটা পালন করেছি।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছবিটি নিয়ে বক্তারা বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার ব্যাক্তি জীবনের আনন্দ-বেদনার গল্প।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস। ‘গ্রে বাংলাদেশ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কান্ট্রি হেড গাউসুল আলম শাওন ও চলচ্চিত্রকার শিবু কুমার শীল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) প্রযোজিত ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে পিপলু খানের সময় লেগেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর।

১৬ নভেম্বরে ছবিটি মুক্তি পাবে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, মধুমতিা ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে। ছবিটি আন্তর্জাতিক বাজার এবং অন্তর্জালেও মুক্তি দেয়া হবে দ্রুতই।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter