খবর Archives - Page 2 of 1148 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

padma4547.jpg

পদ্মা বহুমুখী মূলসেতুর ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি। রোববার (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় এ তথ্য জানানো হয়। পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্পের প্রতিটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় এ সভায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের প্রকল্পের পুরো কাজের ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলেও জানানো হয় সভায়।

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ-৯১%, মাওয়া প্রান্তে এপ্রোচ রোডের কাজ-১০০%, সার্ভিস এরিয়া(২)-১০০%, মূল সেতু নির্মাণ কাজ ৮৫.৫০% এবং নদীশাসনের কাজ ৬৬% শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.৫০% শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্টের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

পদ্মাসেতুর কাজের অগ্রগতির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ঝামেলা গেছে আপনারা জানেন। আমরা আনন্দিত অর্ধেকের বেশি হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের মতো হয়ে গেছে।’

tipu686.jpg

ভারত যে পেঁয়াজ আমদানি করেছে, তা সরকারিভাবে নেয়ার সুযোগ নেই, তবে ব্যবসায়ীরা সেগুলো অকশনে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উৎসবে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর আমাদের ৮ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার ৯০ ভাগই আসে ভারত থেকে। তবে ভারত যে পেঁয়াজ আমদানি করেছে, তা সরকারিভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, চলতি বছরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যৌথভাবে আরও ৬টি হাট বসানো হবে। জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়াও নতুন ভ্যাট ৫ ভাগ সংযুক্ত হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে রোজার আগে সকল পণ্যের দাম হাতের নাগালে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে এখন আর মঙ্গা নেই। সরকার ভূরুঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করেছে। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। এতে করে এ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তরিক, ইতোমধ্যে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের জন্য এ অঞ্চলের মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। কুড়িগ্রামের উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে।

মন্ত্রী বলেন, ১৯২০ সালে ভূরুঙ্গামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ একশত বছরে অনেক শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সংগত কারণেই এখানে শিক্ষিত মানুষ বেশি।

এ সময় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী খোকন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারতে পেঁয়াজের সংকট কাটাতে তুরস্ক, মিশর ও আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে দেশটির সরকার। কিন্তু আমদানি করা এই পেঁয়াজ কিনতে রাজী নয় দেশটির রাজ্যগুলো। এতে বিপাকে পড়েছে ভারত সরকার। গুদাম ঘরে পচতে শুরু করেছে আমদানি করা পেঁয়াজ। এ অবস্থায় সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশে বিক্রি করতে চায় ভারত।

pm5758.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈরী পরিবেশে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই। দেশে উন্নতি হচ্ছে কিন্তু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বিশেষ করে পঁচাত্তরের পর বিরাট অবদান রেখে গেছেন সেই সমস্ত ছাত্র নেতারা চলে (মারা) যচ্ছেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে চলমান একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার পর শোক প্রস্তাবটি সংসদে গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মো. নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, মৃণাল কান্তি দাস, মোসলেম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবু, আনোয়ার আবেদীন খান, তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা, পীর ফজলুর রহমান, জাতীয় এক্যফ্রন্টের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতারা যারা সামনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবে, আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ভবিষ্যতে আমরা যখন থাকব না, এরাই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার কষ্ট হয় যখন আমার চোখের সামনে ওরা চলে যায় যা সত্যিই খুব দুঃখজনক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মনে একটা কষ্ট নিয়ে আজ দাঁড়াতে হল। পরপর তিনজন সংসদ সদস্য আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি ১৯৮১ সালে ফিরে আসার পর মান্নানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পেয়েছিলাম। ১৯৮৩ সালে তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করি। ছাত্রলীগের সভাপতি করার একটা ঘটনা আছে। যাদের ছাত্রলীগের সভাপতি করা হতো আমি তাদের ইন্টারভিউ নিতাম, একা একা।

সংসদ নেতা বলেন, অনেকের ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে যখন মান্নানকে বলছি যদি তোমাকে আমি না বানাই, তাহলে তুমি কী করবে? অনেকে হাউমাউ করে কেঁদে দিত। কিন্তু একটি ছেলেকে পেয়েছিলাম সে বলে দিয়েছিল না বানালে কিছু করার নেই, আমি আপনার সঙ্গে রাজনীতি করে যাব। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাকেই বানাব। ওই সময়টা ছাত্রলীগের খুব খারাপ সময় ছিল। অনেকেই ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিল ১৯৮২ সালে। সে কারণে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার খুব দরকার ছিল এবং তার সেই সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল। সে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে তাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসি, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। বগুড়ার মতো জায়গায় ওকে নমিনেশন দিলাম। খুব কঠিন জায়গা ছিল, এলাকাটা দুর্গম এবং রাস্তাঘাট ছিল না। খুবই অনুন্নত একটি জায়গা। সেখানে তাকে যখন নমিনেশন দিলাম, মান্নান সেখানে থেকে জিতে আসল, পর পর তিনবার সেখান থেকে সংসদ সদস্য।

স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক মৃত্যুর দুইদিন আগে আমার সঙ্গে অনেক কথা বলল। আমাদের সেন্ট্রাল কমিটিতে নানক আসছে, ও আসতে পারেনি। বোধহয় মনে একটু দুঃখ ছিল। আমি বললাম আমি তো তোমাদের কাউকে ফেলে দেইনি। তুমি আওয়ামী লীগে ছিলে এবং তোমাকে আমি নমিনেশন দিয়েছি, সংসদ সদস্য হয়েছ। কথা বলার সময় দেখলাম তার শরীরটা একটু খারাপ। আমি ওকে বললাম তোমার শরীর মনে হয় ভালো না, তুমি একটু ভালোভাবে চিকিৎসা কর। ঠিক তারপরই হাসপাতালে ভর্তি।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর আমি প্রতিদিন একবার ডাক্তার সৌরভের সঙ্গে কথা বলতাম, যেদিন মারা গেল তার আগের দিন রাত ৯টার সময় ডাক্তার সৌরভের সঙ্গে কথা বললাম। প্রতিদিন সৌরভের সঙ্গে কথা বলে ওর স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিতাম। ওইদিনই ডাক্তার বললেন আপা ওর শরীরের অবস্থা ভালো না। ওকে আমরা কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না। শরীরটা খুবই খারাপ। এমন অবস্থা ছিল যে, আমি বলেছিলাম ওকে যদি বাইরে পাঠানো যায়, ডাক্তার বলল যে বাইরে পাঠানোর অবস্থা নেই। পরদিন সকাল বেলায় মৃত্যুর খবর। এটি সব থেকে দুঃখজনক।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, জিয়াবিরোধী আন্দোলন ও খালেদা জিয়াবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন সময়ে বহু ছাত্রনেতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। একটা বৈরী পরিবেশে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী সরকার আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্ত ছাত্র নেতারা দুঃসময়ে বিশেষ করে পঁচাত্তরের পর বিরাট অবদান রেখে গেছেন। অনেক কাজ করে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে মান্নান অত্যন্ত দক্ষ ছিল, মেধাবী ছিল। যখন দলের প্রচার সম্পাদক ছিল, তখন প্রতিটি লিফলেট থেকে শুরু করে বিবৃতি লেখা আমি নিজে বসে থেকে ওকে দিয়ে লেখাতাম। যখন যে কাজ দিয়েছি প্রত্যেকটা দক্ষতার সঙ্গে করেছে। আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতারা এরাই আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে আমরা যখন থাকব না। আমার চোখের সামনে ওরা চলে যায়, সেটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। ইউনুস মারা গেল, মান্নানের মৃত্যু, বাগেরহাটের মোজাম্মেল হক সাহেবের মৃত্যু। বাপ্পা মারা গেল। এটা আসলে দলের জন্য তো বটেই দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আমির হোসেন আমু বলেন, আবদুল মান্নানের অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অসম্ভব সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি ক্ষুরধার লেখক ছিলেন তিনি। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তিনি বৈরী অবস্থায় দক্ষতার সঙ্গে সারা দেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক, অসম্ভব স্নেহ ও ভালোবাসতাম। সামরিক শাসনবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, কৃষকের ঘর থেকে উঠে আসা সন্তান আবদুল মান্নান। ছাত্রলীগকে অত্যন্ত কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে শক্তিশালী করেছিল এই কৃষিবিদ নেতা। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় তাকে বুদ্ধি দিয়ে, সাহস দিয়ে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। বগুড়ার মতো জায়গায় তিনবার এমপি হয়েছেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন নিবেদীত কর্মী ছিলেন আবদুল মান্নান। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদুল মান্নান বিপুল ভোটে ভিপি হওয়ায় জেনারেল জিয়া তাকে হত্যার জন্য গুণ্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেয়। আবদুল মান্নান ওই হামলায় বেঁচে গেলেও সেখানে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল আবদুল মান্নান অসম্ভব মেধাবী ও সাহসী রাজনীতিবিদ ছিল।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আবদুল মান্নানের সঙ্গে আমার পরিচয়। ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে আইয়ুববিরোধী, মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে ছিলেন আবদুল মান্নান। জিয়া-এরশাদকে কোনোদিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি এই লড়াকু ছাত্রনেতা।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে কোনো খবরদারী নয়, মানুষকে ভালোবেসে তাদের হৃদয় জয় করতেন প্রয়াত আবদুল মান্নান। চরম বৈরী এলাকা বগুড়াতেও অসম্ভব জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। মেধাবী, সাহসী ও সুবক্তা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদচারণা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, অনেকে তাকে শক্ত মানুষ ভাবলেও কোনোদিন রাগান্বিত হয়ে কথা বলতে দেখিনি। আবদুল মান্নানের অসম্ভব সাংগঠনিক শক্তি ছিল। সাংগঠনিক শক্তি দিয়েই নিজের এলাকাকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বানিয়েছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, গতানুগতিক নয়, আমৃত্যু আদর্শবাদী ও পরিপূর্ণ রাজনৈতিক সৃজনশীলতা ছিল প্রয়াত আবদুল মান্নানের মধ্যে। তিনি বিরোধী দলকে সমালোচনা করে বক্তব্য রাখতেন, কিন্তু তার মধ্যে ছিল মার্জিত ও সভ্যতার নিদর্শন। দেশাত্মবোধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন অবিচল।

গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ’৭৫ পরবর্তী চরম দুঃসময়ে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন প্রয়াত আবদুল মান্নান। সারা দেশ ঘুরে বেরিয়ে ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করে স্বৈরাচারি জিয়া-এরশাদবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছেন।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, চরম বৈরী সময়ে আবদুল মান্নান ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অসম্ভব সাহসী অনলবর্ষী বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান। দেশের রাজনীতিতে তার অকালমৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি হল।

yjy77.jpg

পাঁচ দিন পর যে বাড়িতে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ডামাডোল শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দুই মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রেহেনা পারভীন হীরা।

তিনি শুধু প্রলাপ করছেন– ‘আমাকে মা বলে ডাকার আর কেউ থাকল না।’ তাকে সান্ত্বনা দিতে এসে স্বজন, প্রতিবেশীরাও স্তব্ধ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীর বাড়িতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে যশোর শহরের বিমান অফিস মোড় এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বোনসহ তিন নারী নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে তানজিলা ইয়াসমিন ইয়াশা (২৮), তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশা (২৫) এবং তাদের খালাতো ভাই আরএন রোড এলাকার মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬)।

আহত হয়েছেন পিয়াশার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), আফরোজা তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মানিজুর মাশিয়াব (৪), শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেটকারচালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় তিনি নেশা অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য তার মাদক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ পোস্টমর্টেম ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে আদ-দ্বীন সখিনা মেডিক্যালের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশার দেড় বছর আগে বিয়ে হয়।

আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াশাকে তাদের তুলে নেয়ার কথা। সে জন্য জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়।

পিয়াশা রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্যোতি তার নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে বের হন।

গাড়িতে পিয়াশার বোন তানজিলা, খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর মাশিয়াব এবং জ্যোতির দুই বন্ধু হৃদয় ও শাহিন ছিলেন।

তারা রাতে আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।

ফেরার পথে রাত ১টার দিকে যশোর শহরের পুরনো কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের (আকিজের গলি) পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খাম্বায় সজোরে আঘাত করে প্রাইভেটকারটি।

এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্যরা আহত হন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কাজল কান্তি মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে নিহত তানজিলা ও তনিমার খালাতো ভাই রোহান উদ্দিন জানান, দেড় বছর আগে ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশার সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়।

তাদের মা বলেন, ‘আমাকে মা ডাকার আর কেউ রইল না ’
আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বধূকে ঘরে তুলে নেবে। প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে বর শফিকুল ইসলাম জ্যোতি নিজেই গাড়ি চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দাওয়াত দিতে বের হন।

নিহত তিথীর স্বামী মঞ্জুর হোসেন, শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলাম জ্যোতি প্রাইভেটকার নিয়ে আমাদের বাসায় যান। শহরে ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলে গাড়িতে আমার স্ত্রী সন্তান গাড়িতে তুলে নেন।

সেই গাড়িতে খালাতো দুই বোনও ছিল। তারা শহরের পালবাড়ি, আরবপুর এলাকায় আলোকসজ্জা দেখতে ও বিয়ে দাওতায় দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনরদের ভিড়। ঘরের মধ্যে তাদের মায়ের আহাজারি।

সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় এই মাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী ও রেহেনা পারভীন হীরা দম্পতির দুই কন্যাসন্তান।

সেই দুই সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। পাঁচ দিন পর যে বাড়িতে বিয়ের ধুমধাম আয়োজন হওয়ার কথা, সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মায়ের কণ্ঠে শুধু সন্তান হারানোর প্রলাপ।

E-2001190750.jpg

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চালু হতে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) সেবা। আগামী ২২ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সেবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিসে এবং বাংলাদেশের ৮০টি বৈদেশিক মিশনে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।

চলতি বছরের মধ্যেই দেশের অধিকাংশ স্থানেই ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএবিএইচ (Veridos GmbH) কর্তৃক ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ই-পাসপোর্টের ফলে বাংলাদেশ পাসপোর্টের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পাবে। ই-গেট ব্যবহার করে যাত্রীরা সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পাসপোর্টের মান আরো উন্নত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল পাসপোর্টে পাওয়ার র‌্যাকিংয়ে পাসপোর্টের মান বাড়বে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়া সহজতর হবে, যা আমাদের জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

atik-tapas.jpg

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির মুখে পেছানো হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ। নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। এদিকে নির্বাচন পেছানো নিয়ে পৃথক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রার্থীরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ না পিছিয়ে এগিয়ে আনলে ভালো হতো।

ইসির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় শেখ ফজলে নূর তাপস গণমাধ্যমকে বলেন, সরস্বতী পূজা আগামী ৩০ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। একইদিনে ভোটের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায়, আমরা দেখেছি এটা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা মনক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের অসুবিধা ও আবেগের জায়গা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত (ভোট পেছানোর) নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই পরীক্ষাটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতির একটা বিষয় থাকে। সেখানে নির্বাচন না পিছিয়ে যদি এগিয়ে আনা যেতো তাহলে আরও ভালো হতো। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। তাদের প্রস্তুতির যে ব্যাপার আছে, সেখানে ব্যাঘাত ঘটবে। এমনিতেই নির্বাচনি কার্যক্রমের কারণে তাদের পড়াশোনার কিছুটা ব্যাঘাত হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ( ইসি) ভোট পেছানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

শনিবার ( ১৮ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন পেছানোর পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ইসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা যে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ তা প্রমাণ হলো। আমার বন্ধুর উৎসবে আমি যেতে পারবো না বা সে সুন্দরভাবে সবাইকে নিয়ে তার ধর্মীয় উৎসবটি পালন করতে পারবে না, এটা আসলে হয় না। আমরা সবাই মিলে সবার ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবো। আমি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।

PM-Sheikh-Hasina-1-3.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশটির সরকারের উদ্দেশ্য বোঝা যাচ্ছে না।। আবু ধাবিতে গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সরকার প্রধান আরো বলেন, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও, এটি প্রণয়ন জরুরি ছিল না।

মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদপত্রটির অনলাইন সংস্করণে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে পাড়ি দেওয়া কেউ বাংলাদেশে ফিরে এসেছে এমন নজির নেই। কিন্তু ভারতে অনেকে সমস্যার মধ্যে আছে । তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই এই সিএএ এবং এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ই মনে করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে গত বছরের ডিসেম্বরে আইন সংশোধন করেছে ভারত। বিতর্কিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। চলছে দফায় দফায় বিক্ষোভ।

সিএএ পাস হওয়ার পরই ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক তালিকারও বিরোধিতা করছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভারতে থাকা মুসলিমরা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশে আশ্রয় খুঁজবে।

তার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন বহু মানুষ। আসামের অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ সুসম্পর্ক রয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। এ সময় তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু মিয়ানমারে। তাদের কাছেই এর সমাধান রয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এখন পর্যন্ত দুবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চায়নি। ফলে বাংলাদেশের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।

মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য ১০ লাখের বেশি শরণার্থীদের বোঝা বহন করতে পারবে না। এই সমস্যা চলতে থাকলে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত।

কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনায় পরিবেশবাদীদের শঙ্কা প্রকাশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের ক্ষতি করবে না। বাংলাদেশ এখন আড়াই শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করে। এটাকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ। এত বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা সামাল দিতে এমন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ৯৫ শতাংশ জনগণ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু মানুষ বাড়ছে।

অতীতে বাংলাদেশ বেশিরভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক দশক আগেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উৎস ছিল গ্যাস। কিন্তু গ্যাস কমে যাচ্ছে। তাই কয়লা, তরল জ্বালানি ও পরমাণু শক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। নেপাল, ভারত ও ভুটানের সঙ্গে জলবিদ্যুতের চুক্তি করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশে ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। দেশজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ৫৩ লাখ সোলার প্যানেল। এছাড়া ছাই বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশাল জনসংখ্যার দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছেন, তাও গালফ নিউজকে তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

bcl-5cded6b5cba1f.jpg

সভাপতি রাজমিস্ত্রি হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি থেকে একযোগে ১৩ নেতা পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে দুইজন সহ-সভাপতি ও চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। কমিটি গঠনের ১৫ দিনের মাথায় তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পদত্যাগী নেতারা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের কাছে ১৩ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জেলা ছাত্রলীগ, নাটাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোন নেতার সঙ্গে পরামর্শ না করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পদত্যাগী নেতারা।

জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি দানিছুর রহমান বাবুকে সভাপতি এবং মেহেদী আলম আরিফকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী খাইরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম রায়হান। এদের মধ্যে দানিছুর রহমান বাবু রাজমিস্ত্রি বলে জানা গেছে।

পদত্যাগী সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, এক অশিক্ষিত ছেলেকে কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করায় তিনি সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি অনার্সে লেখাপড়া করেন। এক অশিক্ষিত ছেলের নেতৃত্বে তিনি রাজনীতি করবেন না।

পদত্যাগী সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম রোমান জানান, জেলা ছাত্রলীগ, নাটাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোন নেতার সঙ্গে পরামর্শ না করেই এই কমিটি গঠন করায় তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী খাইরুল আলম জানান, আগের আহবায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেই গত ৩ জানুয়ারি নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন।

পদত্যাগের ব্যাপারে তিনি জানান, ১৩ জনের পদত্যাগের কথা লোকমুখে শুনেছেন। কোন কপি পাননি। কেউ তার কাছে পদত্যাগপত্র জমাও দেননি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ১৩ জনের পদত্যাগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে কোন পরামর্শ না করেই তার মনগড়া মতো সংগঠন পরিচালনা করেন। সদর উপজেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

pk-haldar.jpg

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির শীর্ষ পদে থেকে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে এখন বিদেশে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে এরআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)। অর্থলুটের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানকালে বিদেশ যাত্রায় দুদক থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দেশ ছেড়ে এখন বিদেশে প্রশাস্ত কুমার হালদার। গত নভেম্বর মাসে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। প্রশাস্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, প্রশান্ত কুমার হালদার যে শুধু পিপলস লিজিং এবং রিলায়েন্সের অর্থ লুট করেছে তা নয়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের শীর্ষ পদে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। এসব সব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত করে তা বিদেশে পাচার করেছে প্রশান্ত কুমার হালদার।

দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে কৌশলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ক্যাসিনো অভিযানের মধ্যে দুদক কর্তৃক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পর্যায়ে প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ। ওই মামলার আগেই সে দেশ ছেড়ে লাপাত্তা হয়। দুদক চেষ্টা করছে প্রশাস্ত কুমার হালদারকে কিভাবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হলে পিপলস লিজিং কোম্পানি ও রিলায়েন্স ফ্যাইন্স্যান্সের গত ৪ বছরে (২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত) দায়িত্বে থাকা বোর্ড অব ডিরেক্টটরদের নামসহ যাবতীয় নথিপত্র তলব করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ১৩ নভেম্বরের মধ্যে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুদকে পৌঁছানোর জন্য বলা হয়েছে। তথ্য চেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিপলস লিজিং এবং রিলায়েন্স ফাইনেন্সের কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারকে দুদকে তলব করে গত বছরের ১৪ নভেম্বর হাজির থাকতে বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টেরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়. রিলায়েন্স ফাইনান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন পরিচালক বানায়। একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাত করে। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাত করার অভিযোগ রিলায়েন্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। মূলত পিপলস লিজিং কোম্পানি দেওলিয়া ঘোষণা করে বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। এ সব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সব অর্থ আত্মসাত করে প্রশাস্ত কুমার হালদার।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে পিপলস লিজিং কোম্পানি দেওলিয়া ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিটির কাছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা ১৫শ’ কোটি টাকার মতো পাওয়া ছিল। কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়কারী গ্রাহকরা ওই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েন। লভ্যাংশ ঘোষণা করেও শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়ার অভিযোগ পিপলস লিজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পিপলস লিজিং কোম্পানিতে যে সব গ্রাহকরা অর্থ পাবেন তাদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

এর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক নয় পরিচালক ও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পিপলসের বোড অব ডিরেক্টরিতে প্রশাস্ত কুমার হালদার তার নিজস্ব আত্মীয়স্বজনদের বসায়। তারা বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে থাকলেও একক ক্ষমতা ছিল প্রশাস্ত কুমার হালদারের। ২০০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিপলসের বোড অব ডিকেক্টর হিসেবে প্রশাস্ত কুমার হালদারের বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় ছিল। তাদের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে প্রশান্ত কুমার হালদার।

দুদক সূত্র জানায়, প্রশান্তের বিরুদ্ধে ২২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অভিযোগে করা মামলায় বলা হয়েছে, প্রশান্ত কুমার হালদার ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে তথ্য ছিল। কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছে প্রশাস্ত কুমার হালদার। পরে অর্থ লুট ও আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য অনুরোধ করে। দুদকের অনুরোধে প্রশাস্ত কুমার হালদারের অর্থ লেনদেন নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করে বিএফআইইউ। তদন্তে ভয়াবহ জালিয়াতি এবং অর্থ লুটের কাহিনী বের হয়ে আসে। ওই প্রতিবেদন চেয়েছে বর্তমান অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

গত ১২ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে পিপলস লিজিংয়ের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে কয়েকশত কোটি টাকার লেনদেনের নথিপত্র, এর সঙ্গে যত অ্যাকাউন্ট হোল্ডার রয়েছে তাদের নাম-পরিচয়, কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তা দিতে বলা হয়েছে। প্রশান্ত কুমারের যেসব আত্মীয়স্বজন এ অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত বা সহয়তা করেছে তাদের নাম-পরিচয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ক্যাসিনোবিরোধী সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানের পরপরই প্রশাস্ত কুমার হালদারের নাম ওঠে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১৪ নভেম্বর হাজির হতে নোটিশ দিয়েছিল দুদক অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান। এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর তার বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, প্রশাস্ত কুমার হালদার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, প্রশান্ত কুমার হালদারের ব্যক্তিগত হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তার মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। এসব অর্থের মধ্যে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকার কম। প্রশান্ত কুমার হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নিয়েছে। এসব টাকা দিয়েই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা কেনা হয়। তবে ঋণ নেয়া পুরো টাকার হদিস মিলছে না।

২০১৪ সালে কমপক্ষে চারটি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মালিকানায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেই চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এখন চরম খারাপ। একটি বিলুপ্তের পথে, বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। নানা কৌশল করে এসব প্রতিষ্ঠান দখল করার জন্য নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলেছেন, শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনেছেন, দখল করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে টাকাও সরিয়েছে। এমনকি দেশের বাইরেও কোম্পানি খুলেছে। এসব কাজ করেছেন প্রশান্ত কুমার হালদার একাই। আর এসব কাজে তাকে সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

ijtema-98685.jpg

টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হলো ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয় এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত। চলে বেলা ১২টা ৭ মিনিট পর্যন্ত।

এ দিন দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি, সংহতি, অগ্রগতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা জামশেদ।

এর আগে বাদ ফজর উর্দূতে বয়ান করেন ভারতের নিজামুদ্দিনের মুরুব্বি ইকবাল হাফিজ। পরে তা বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। পরে হেদায়েতি বয়ান করেন নিজামুদ্দিনের মাওলানা জামশেদ। তা বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা আশরাফ আলী। পরে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত।

তার আগে মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হন লাখো মুসল্লি।

গত ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ ফজর দিল্লীর মুফতি উসমানের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ওই বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুফতি আব্দুল্লাহ মুনসুর। শুক্র ও শনিবার ফজর থেকে এশা পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বীগণ মহান আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ও রাসুল (সঃ) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে ইমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের উপর বয়ান করেন। সমবেত তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা বয়ান শুনে এবং জিকির আসকার, ইবাদত, বন্দেগী করে ময়দানে গত দুইদিন অতিবাহিত করেন।

প্রসঙ্গত, এবারের দুই পর্বের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব শুরু হয় গত ১০ জানুয়ারি। ওই পর্বে মাওলানা যোবায়ের (আলমি শুরার) অনুসারী দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা অংশ নেন। ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথমপর্ব।

আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমার পরিসমাপ্তি ঘটলো।