খবর Archives - Page 3 of 439 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

biman.jpg

অনিয়ম ঠেকাতে ম্যানুয়ালি টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত এক মাস অটোমেশন বা রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আরএমএস) টিকিট বিক্রি চলছে। এ পদ্ধতি প্রত্যাবর্তনের পর বিমানের যাত্রী বাড়ছে, বাড়ছে সুনামও।

এরই মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল সংস্থার রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাপক নিয়ম ভঙ্গ করে সাতজনকে ম্যানুয়ালি টিকিট বিক্রির অনুমতি দেন। বিষয়টিকে বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধী বলে মনে করছেন অনেকে।

সাতজনের মধ্যে রয়েছেন- অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) এমএ কাসেম (পি নম্বর- ৩৪২২৮) ও শাহনাজ বেগম (পি নম্বর- ৩৪৫৯৮), কমার্শিয়াল অফিসার হামিদুর (পি নম্বর- ৩৪৪৪৬), মোস্তাফিজুর রহমান (পি নম্বর- ৩৪৮০৩) ও গোলাম মোস্তফা (পি নম্বর- ৩৪৮০৮), জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার কাজী ওমর ফারুক (পি নম্বর- ৩৪৮৩৩) ও তাবিবুর রহমান (পি নম্বর- ৩৪৯০১)। ১৮ এপ্রিল থেকে ম্যানুয়ালি টিকিট বিক্রি করছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের ম্যানুয়াল টিকিট বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই। তবে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অবশ্যই আবারও বোর্ড সভার অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কিন্তু বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা চিন্তা না করে কী কারণে ম্যানুয়ালি টিকিট বিক্রির অনুমোদন দেয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাব জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্রুনাই রয়েছেন বলে জানান।

মার্কেটিংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর মাহবুব জাহানকে ফোন দেয়া হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন এবং পরে ফোন করবেন বলে জানান। পরে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেটিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত না থাকলেও হায়ার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা করা হয়েছে, তা বিমানের স্বার্থেই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

dhaka-university-20190422214437.jpg

বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুই ছাত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে ঢাবিতে মারধর করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের উল্টো থানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে। সুমনের বাড়িও বাঁশখালী উপজেলায়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, সোমবার দুপুরে আমরা আমাদের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। ওই বন্ধুর আসতে দেরি হচ্ছিল দেখে তিন বন্ধু টিএসসিতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ আমরা দেখতে পাই মাঝ বয়সী এক লোক আমাদের দেখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি (মাস্টারবেশন) করছেন। তখন আমরা তার পরিচয় জানতে চেয়ে এমন করছে কেন জানতে চাই। অন্যদিকে আমাদের সঙ্গে থাকা এক বন্ধু টিএসসির মামাদের কাছে এ লোক কোথাকার জানতে চায়। এরই মধ্যে বন্ধুকে দূরে দেখে দৌড়ে পালাতে চায় ওই ব্যক্তি। তখন আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলি। কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেই। এর মধ্যে ওই লোকের পক্ষ হয়ে কিছু লোক এসে আমাদের নানাভাবে হেনস্থা করে ও বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকে। পরে ওখানকার এক লোকের নির্দেশে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে আসে। ওসি আসার পর তিনি জানতে চান আমরা অভিযোগ দেব কিনা। কিন্তু আমরা চাইনি বিষয়টি নিয়ে আর ঝামেলা পোহাতে। যেখানে আমরা ভুক্তভোগী হয়েও প্রথমে হেনস্থার শিকার হয়েছি!

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর তাজুল ইসলাম তার পরিচিত ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমনকে জানান। কিছুক্ষণ পর সুমন কয়েকজন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। তারা তাজুল ইসলাম ও ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রিয়াজ উদ্দিন সুমনও ওই দুই ছাত্রীর থেকে ঘটনাটি শোনেন। ঘটনাটি শুনে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ওই তিন শিক্ষার্থীকে থানায় দিতে বলেন। এরপর প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাদের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিয়ে যান। সুমনের নির্দেশে ওই তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। এরপর সুমন ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি টিএসসিতে দাঁড়িয়ে প্যান্টের পকেটে হাত রেখে ফোনে কথা বলতেছি। কথা শেষে আমি টিএসসির বাইরের দিকে আগালে তারা পিছন থেকে আমাকে ডেকে মারধর করেন। তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা সত্য নয়।’

ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন বলেন, ‘ওই লোক আমার এলাকার। তিনি একজন চেয়ারম্যান, সম্মানিত ব্যক্তি। তার নামে বহিরাগত ওই তিন শিক্ষার্থী যে অভিযোগ করেছে তার সত্য-মিথ্যা কতটুকু জানি না! তারা তাকে ব্যাপক মারধর করেছে। এটা খুবই খারাপ করেছে তারা। এজন্যই তাদের পুলিশে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী সবাইকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, ‘সবাই বহিরাগত হওয়ায় তাদের থানায় দেয়া হয়েছে। থানা তাদের বিষয়টি মীমাংসা করবে। যেন তারা ক্যাম্পাসে এসে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড না করে।’

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আরিফুর রহমান জানান, আমরা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। ঢাবি প্রক্টরিয়াল বডি আমাদের ফোন করে দু’জন শিক্ষার্থীকে পাঠিয়ে দেয়। আমরা তাদের কাছে জানতে চাই আপনাদের কোনো অভিযোগ আছে কি-না। তারা কোনো অভিযোগ জানাননি। এরপর আমরা ঢাবি কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়ে এ কথা জানালে তারা জানান অভিভাবক ডেকে তাদের ছেড়ে দিতে।

এরপর অভিভাবক ডেকে ওই শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

3hs.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় কৃষি, সংস্কৃতি ও শিল্প, যুব ও ক্রীড়া, মৎস্য, পশু সম্পদ, জ্বালানি খাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ব্রুনেই-বাংলাদেশ। এছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণ বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়েছে।

সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ব্রুনেই সুলতানের সরকারি বাসভবনে সুলতান হাসানাল বলকিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যেকার বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই ও কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১টায় ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমানে যান।

সেখানে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান জানিয়ে প্রাসাদের করিডোরে এসে স্বাগত জানান সুলতান হাসানাল বলকিয়া এবং ক্রাউন প্রিন্স (যুবরাজ) আল-মুহতাদি বিল্লাহ বলকিয়া।

ইস্তানা নুরুল ইমান প্রাসাদের চেরাদি লায়লা কেনচানায় সুলতান বলকিয়া ও রাজ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে সুলতান হাসানাল বলকিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে এসব সমঝোতা স্মারক সই ও কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়।

কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও ব্রুনেইয়ের প্রাইমারি রিসোর্স ও পর্যটনমন্ত্রী হাজি আলি বিন আপং।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সম্পদ সেক্টরে সহযোগিতা বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেন বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু ও হাজি আলী বিন আপং।

শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রের সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতায় সই করেন বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং ব্রুনেইয়ের সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হাজি আমিনুদ্দীন ইহসান।

যুব ও ক্রীড়া খাতের সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও হাজি আমিনুদ্দীন ইহসান।

এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ব্রুনেইয়ের জ্বালানি, জনশক্তি ও শিল্পমন্ত্রী হাজি মাত সানি।

এছাড়া দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণে কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়।

sfgw.jpg

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান মারা যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ে শেখ সোনিয়ার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সের দুটি পা ড্যামেজ (অকেজো) হয়ে গেছে। তিনি শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শেখ সেলিমের বনানী বাসা থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। এ সময় সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শেখ সেলিমের জামাই খুব বাজেভাবে আহত হয়েছেন। তার দুটো পা ড্যামেজ (অকেজো) হয়ে গেছে। কমপক্ষে ১৫ দিন না গেলে তাকে হাসপাতাল থেকে মুভ করানো সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ব্রেকফাস্ট করার জন্য জামাই এবং তার ছেলে জায়ান চৌধুরী একটি হোটেলে পৌঁছেছিলেন। হোটেলের নিচেই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে জায়ান নিহত হয়।’

জানা গেছে, শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফাহিম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে ব্রুনাই গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা গেছেন। অপর ছেলে শেখ নাইম তার মাকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কা পৌঁছেছেন।

শেখ সেলিমের বাসা থেকে বের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আগামীকাল জায়ান চৌধুরীর লাশ বাংলাদেশে আসবে। আমরা যারা দেখতে আসছি তারা সবাই শেখ সেলিমকে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

শ্রীলঙ্কায় রোববার (২১ এপ্রিল) খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে গির্জা এবং বিলাসবহুল হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০ জনে। পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ২০৭ জন।

22-15.jpg

ফেনী জুড়ে আলোচনায় এখন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রুহুল আমিন। প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরোতে না পারা রুহুল এখন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শুক্রবার পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা। তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পেছনে অন্যতম কারিগর এই রুহুল আমিন। একসময় পেটের তাগিদে সৌদি আরব চলে যায় সে। সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করত রুহুল আমীন। কোন রকমে চলতো তার সংসার।

আর এখন সে কোটিপতি। বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা ও সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির (সদ্য বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশ জাতীয় পার্টির হাত ধরে। অল্পদিনে তিনি দল পরিবর্তন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ দখল করেন।

এক পর্যায়ে সভাপতির অনুপস্থিতিতে বাগিয়ে নেন দলের উপজেলা শীর্ষ পদ। চাঁদাবাজি, বালু মহালের নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে দলের নেতা-কর্মীরাও তার রোষানলের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

নুসরাত হত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় লোকজন। উঠে আসছে তার অপকর্মের ইতিহাস। শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক মানবজমিন এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।

শনিবার সোনাগাজীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, মাদরাসার একাধিক শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রুহুল আমিনের অঘোষিত রাজত্বের ফিরিস্তি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উচিয়াঘোনা কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পড়াশোনা করেছেন মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় ভাই আবুল কাশেম স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরেক ভাই আবু সুফিয়ানও আমেরিকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, এক সময় জাতীয় পার্টির সদস্য ছিলেন রুহুল আমিন।

১৯৯৭ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল কবিরের হাতে এক সমাবেশে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০০১ সালে চলে যান সৌদি আরব। সেখানে দীর্ঘ ৯ বছর ট্যাক্সি চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ফের সোনাগাজীতে ফিরে আসেন রুহুল আমিন। দেশে ফিরেই দলে সক্রিয় হতে তৎপরতা চালান। ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে কাউন্সিলর মনোনীত হন। অনেকটা আকস্মিকভাবে ২০১৫ সালে সোনাগাজী ছাবের পাইলট হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন।

এখান থেকেই শুরু হয় তার নানা অপকর্ম। ডালপালা বিস্তার শুরু করে ক্ষমতার প্রভাব বলয়। রুহুল আমিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি থাকা অবস্থায় দলের সভাপতি ফয়েজুল কবিরের উপরও চলে নানা নিপীড়ন। এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়েন রুহুল আমিন।

এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ফয়েজুল কবির এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে অবস্থান নেন। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সোনাগাজী উপজেলায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদ পাওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রুহুল আমিন গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী।

ছোট ফেনী নদীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প অংশের একটি বালু মহাল ও ছোট ফেনী নদীর সাহেবের ঘাট এলাকায় আরেকটি বড় বালু মহাল দখলে নেন। বালু মহল দুটি থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রুহুল আমিন চক্র। যদিও একসময় এ দুটি বালু মহাল ছিল সদ্য সাবেক এমপি রহিম উল্যাহর লোকজনের নিয়ন্ত্রণে।

রহিম উল্যাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ছয় একর জায়গা প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নেয়ার পরও আমাকে জোর করে উচ্ছেদ করে দেয়া হয়। আমার বালু মহাল দখলে নেয় রুহুল আমিন ও তার ক্যাডার বাহিনী। ওই বালু মহালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বালু ছিল, সেগুলোও লুটে নেয় তারা।

এসবের প্রতিবাদ করায় আমার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা সময়ে হামলা করা হয়েছে। আমার গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাড়ি ও জমিতে হামলা করা হয়। সোনাগাজী, জিরো পয়েন্ট ও নানা জায়গায় হামলা হয়েছে। মানুষ এখনো সেসবের সাক্ষী। রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনে আমি এখন এলাকা ছাড়া।

এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ভাই ও ভাতিজাকে হারাতে হয়েছে। প্রবাস জীবনের কষ্টের টাকায় সোনাগাজীতে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদ কিনেছি। ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না।

রুহুল আমিনের হামলা-নির্যাতনের বিষয়ে কখনো অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে রহিম উল্যাহ বলেন, বারে বারে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কেউ আমার বিচার করে নাই। আমি এখন আর কারো কাছে বিচার চাই না।

আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আসলে আমার আর কিছু করারও নেই। শুধু আল্লাহর কাছেই এখন বিচার চাই। সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম চরচান্দিয়া এলাকায় ছোট ফেনী নদীর উপর নির্মানাধীন সাহেবের ঘাট ব্রীজ এলাকায় ইজারা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসী অভিযান চালায়।

সে সময় ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনকারী কাউকে না পেয়ে ড্রেজার মেশিনটি ধ্বংস করা হয়। একটি ড্রেজার মেশিনের সংযোগ তার কেটে দেয়া হয় এবং ড্রেজার মেশিনের ইঞ্জিনে এক কেজি লবণ ও এক কেজি চিনি ঢেলে দিয়ে অকেজো করে দেন।

ওই ঘটনার পরদিন ফেনীর সোনাগাজীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল পারভেজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বালু মহাল ইজারাদার মো. রুহুল আমিন।

বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনটি অকেজো করে দেয়ার অভিযোগ এনে আনুমানিক ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেয়।

মামলার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে আদালতের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তাতের ঝড় উঠলে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ও জেলা প্রশাসকের মধ্যস্ততায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রুহুল আমিন।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তার সাথে সখ্য রয়েছে স্থানীয় বিএনপি-যুবদলের নেতাদের সাথেও। রুহুলের চাচাতো ভাই-চরচান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়াধন, বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম, ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক দুলাল ওরফে বাটা দুলাল, ইয়াবা বিক্রেতা হেলাল, সিরাজ ওরফে সিরাজ ডাকাত, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি, ফকির বাড়ির গোলাপ, আব্দুল হালিম সোহেল, সাবমিয়াসহ বেশ কয়েকজন তার ঘনিষ্ঠ।

রুহুল আমিনের ২০/২৫ জনের ক্যাডার বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য আবুল কালাম বাহারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তার ক্যাডাররা।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, চরদরবেশ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমেদ, সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা স্বপনসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় হামলা-মারধরের শিকার হন।

সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মামুন ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

কিন্তু ৬ থেকে ৭ মাস আগে নানা কৌশলে শেখ মামুনকে সরিয়ে দিয়ে রুহুল আমিন সদস্য মনোনীত হন। এক্ষেত্রে সিরাজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এবং নিজের আধিপত্য ও প্রভাব বলয় বাড়াতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজই তাকে সদস্য হবার সুযোগ করে দেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই সহ-সভাপতি বনে যান রুহুল আমিন।

মাদরাসার মার্কেটের ১২টি দোকান, ভেতরের বিশাল পুকুরের মাছ চাষ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা উপায়ে আদায় করা বাড়তি টাকারও ভাগ পেতেন সহ-সভাপতি রুহুল ও আরেক সদস্য সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মকসুদ। ক্যাম্পাসের বাইরেও মাদরাসার রয়েছে জমিসহ কোটি টাকার সম্পদ।

মাদরাসাটির একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিরাজ তাদের প্রায়ই বলতেন ‘রুহুল, মকসুদ এরা সবাই অশিক্ষিত। এরা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। ওরা সবসময় আমাদের পক্ষে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রুহুল ও মকসুদ মাঝে মাঝে ওই মাদরাসা ক্যাম্পাসের চারতলা ভবনের দোতলায় সিরাজের কক্ষে সময় কাটাতেন’। দলীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়েজ কবির স্বপদে বহাল থাকা অবস্থায় রুহুল আমিন কীভাবে সভাপতি হলেন তা অনেকেই জানেন না। ফয়েজ কবির উপজেলা সভাপতি হিসেবে ফেনী জেলা পরিষদে প্রথমে সদস্য ও পরে প্যানেল চেয়ারম্যান পদ পান।

তিনি বলেন, ‘আমি পদ থেকে পদত্যাগও করিনি, আবার আমাকে বাদও দেয়া হয়নি। তাহলে অন্য কেউ কীভাবে এ পদের পরিচয় দিতে পারে-তা বোধগম্য নয়।’ এর বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় শালিস বাণিজ্য ও তদবির বানিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।

নাসির উদ্দিন অপু নামে এক নেতা এক্ষেত্রে তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সাবেক এমপি রহিম উল্যাহ বলেন, ‘আমি ও ডাক্তার গোলাম মাওলা সোনাগাজী শহীদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম।

কিন্তু সোনাগাজী বাজারের পশ্চিম দিকের একটি পক্ষ হঠাৎ করে রুহুল আমিনকে সেখানে নিয়ে যায় এবং অভিভাবক সদস্যসহ কয়েকজন সদস্যকে চাপ প্রয়োগ করে তাকে সভাপতি করতে বাধ্য করে।

কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আমাকে সভাপতি মনোনীত করলেও রুহুল ও তার ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা করায় আমি সভাপতির চেয়ারে বসতে পারিনি।’ সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে হত্যার ঘটনায় গত রোববার মামলার আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এজাহারের বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৩ থেকে ১৪ জনের নাম উঠে আসে।

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার পর শাহাদাত হোসেন শামীম মোবাইল ফোন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে ফোনে ‘কাজ হয়ে যাবার’ কথা জানায়। এসময় রুহুল বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’ নির্দেশ পাওয়ার পর আরো দু’একদিন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এরপর নুর উদ্দিন ময়মনসিংহের ভালুকা ও শামীম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চলে যায়। শুরুতেই একটি চক্র হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করে। এটি সমন্বয় করেন ওসি মোয়াজ্জেম ও আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। সহযোগিতা করেন কাউন্সিলর মকসুদ। এ কাজে ৫ থেকে ৬ জন স্থানীয় সাংবাদিককে দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদের প্রত্যেককে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। এদের দায়িত্ব ছিল নিজ নিজ গণমাধ্যমে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে নিজ নিজ আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো।

এদের মধ্যে তিনজন জাতীয় দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা ও অন্য তিনজন স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী। ঘটনার কিছু সময় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে নুসরাতের আত্নহত্যা বলে পোস্ট দেন একটি দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা। আদালত সূত্রের মতে-ঘটনার পর রুহুল ও শামীমের ৬ থেকে ৭ সেকেন্ডের ফোনালাপের নিশ্চিত তথ্য পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে।

সোনাগাজীর স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়-ঘটনার পর মিডিয়া এবং পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে যেন ওই মাদরাসার কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক মুখ খুলতে না পারেন-সেই চেষ্টাও করেন রুহুল আমিন ও তার সহযোগিরা।

এর অংশ হিসেবে ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে আগেই ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করতে কয়েকজন সাংবাদিক ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে ৫ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে

25-14.jpg

জামালপুর সদরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক হিন্দু নারীকে গাছের সাথে বেঁধে এবং অপর নারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

জামালপুর সদরের কেন্দুয়া কালিবাড়ির খামারপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক সুমন দেবনাথ অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধ চলছে স্থানীয় মোকছেদ আলীর পুত্র প্রভাবশালী সুলতান মাহমুদ ফকিরের সাথে।

সুমন দেবনাথের সাথে ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও গত ১৮ এপ্রিল বুধবার বিরোধপূর্ণ জমিসহ সাথে থাকা আরো ১৬ শতাংশ জমি জবরদখল করে। বেদখলীয় জমিতে রাতারাতি পানের বরজ তৈরি করে সুলতান মাহমুদ ফকির।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সুমন দেবনাথের মা ৫৮ বছর বয়সী প্রতিভা দেবনাথকে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। এসময় প্রতিভা দেবনাথের নাতনী স্কুল শিক্ষিকা সুবর্ণা দেবনাথকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে।

নির্যাতিতা প্রতিভা দেবনাথ জানান, ‘সুলতান ফকির আমাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে ১৬ শতাংশ জমিতে ঘর তুলেছে। চোখের সামনে আমার নাতনী সুর্বনাকে মারধর করেছে। আমি নির্যাতনকারী ভুমিদস্যু সুলতার ফকিরের বিচার চাই।’

নির্যাতনের ঘটনায় সদর উপজেলার নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সাধারণ ডায়েরি এবং পরদিন সদর থানায় সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত পরিবার।

গত ১৯ এপ্রিল পুলিশ মামলার আসামি নজরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। রোববার মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। জামিনে যাওয়া আসামিরা সংখ্যালঘু এই পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।

প্রভাবশালী সুলতান মাহমুদ ফকির নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিজের ক্রয় করা জমি তিনি দখলে নিয়েছেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালেমুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শুনেছেন রোববার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে।

এদিকে সংখ্যালঘু পরিবারের হিন্দু নারীকে গাছের সাথে বেঁধে এবং স্কুল শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জামালপুর জেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ের খামার পাড়া গ্রামের এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ২ নারীর উপর ভূমিদস্যু সুলতান মাহমুদ(৪৫) ও তার সহযোগীরা পাশবিক নির্যাতন করে মহিলাকে বেঁধে রেখে ভূমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আপনাদের সকলের সাহায্য ও সহেযোগীতা কামনা করছি।

Geplaatst door Sree Sumon Debnath op Zaterdag 20 april 2019

rohingggg.jpg

আগামী মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৩ মে পর্যন্ত কয়েক ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবে ইসির নিয়োগ করা তথ্য সংগ্রহকারীরা। ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের সময় রোহিঙ্গা ও অবাঞ্চিত ব্যক্তির তথ্য যাতে কোনোভাবেই সংগ্রহ করা না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

রোববার (২১ এপ্রিল) ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব জেলা/সিনিয়র জেলা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম, ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম, এবং ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম- এমন ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এবার প্রথমবারের মতো হিজড়াদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, গত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য সংগ্রহ করতে হবে, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে, বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ব্যক্তির তথ্য ফরম পূরণের আগে তিনি ইতিপূর্বে ভোটার হয়েছেন কি না তা অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে বাদ পড়ার কারণ যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।

কোনো ব্যক্তির নামের আগে বা পরে পেশা, খেতাব, অর্জিত পদবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সংযুক্ত না করা, ভোটারযোগ্য ব্যক্তির বাংলা নামের ইংরেজি বানান যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা, বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সময় ভোটারযোগ্য অনুপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য অবশ্যই রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

নিবন্ধন কেন্দ্রে আসার জন্য নিবন্ধন স্লিপ (ফরম-৫) ফরম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে দেয়া, তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহের কাজ তদারকি ও নমুনা যাচাই করবেন সুপারভাইজার। তারা তথ্য সংগ্রহকারীর পূরণ করা ফরমের কিছু অংশ দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুদ্ধতা যাচাই করবেন এবং কোনো ভুল ধরা পড়লে তা শুদ্ধ করবেন।

ভোটারযোগ্য নারীদের নিবন্ধনের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করা, এটা তা তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিশ্চিত করবেন, নিবন্ধন ফরম পূরণকারীদের নিবন্ধন কেন্দ্রে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ এলাকার জন্য তথ্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেয়া এবং ফরম পূরণের সময় সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ এলাকাগুলোর জন্য তথা ফরম-২ এর সঙ্গে বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে।

এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় নাম স্থানান্তরের আবেদন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ ভোটারকে রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

মৃত ভোটারের নাম কাটার জন্য ফরম-১২ এ তথ্য সংগ্রহের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই জীবিত ভোটারের নাম মৃত হিসেবে সংগ্রহ করা না হয়। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

তথ্য সংগ্রহকারী ও শনাক্তকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সুস্পষ্টভাবে লিখতে হবে এবং কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক, রোহিঙ্গা ও অবাঞ্চিত ব্যক্তিদের তথ্য সংগৃহীত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

Hasina_kalerkantho_pic.jpg

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ হামলায় নিহত হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র আট বছর। সাংসদ শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নাতি ছিল জায়ান।

জায়ানের সঙ্গে পারিবারিক নানা অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সময় দেখা হতো প্রধানমন্ত্রীর। তাকে দাদু বলে ডাকতো শিশু জায়ান। আদুরে জায়ান প্রধানমন্ত্রীকে দেখলেই জড়িয়ে ধরতো। মায়াবী এই শিশুটির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি।

তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রুনেই রয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি জানান, তার পরিবারের সদস্যরাও এই ঘটনায় আক্রান্ত।

শুরুতে শিশু জায়ান নিখোঁজ ছিল। কিন্তু পড়ে জানা যায় যে তার মৃত্যু হয়েছে। এই খবরটি শোনার পরই প্রধানমন্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার শ্রীলঙ্কার প্রধান প্রধান গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ সেলিমের মেয়ে, জামাতা ও তাদের দুই বাচ্চা শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সকালে যখন হামলা চালানো হয় তখন শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও নাতি জায়ান একটি হোটেলে নাস্তা করছিল।

হামলার পর মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শিশু জায়ানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ খবর জানিয়ে বলেন যে, ‘বাচ্চাটার এখনও কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না যে সে কোথায় আছে।

আপানারা একটু দোয়া করেন, যেন ওকে পাই।’ কিন্তু সবার দোয়া বিফল করে দিল ছোট্ট জায়ান। তার মৃত্যুতে এখন ব্রুনাই সফররত প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের মাঝে শোক বিরাজ করছে।

18-13.jpg

ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় দাবি করে দেয়া সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনের মাধ্যমে সুশাসনের ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওয়াসার এমডি। সোমবার দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক এ কথা বলেন।

গত ১৭ এপ্রিল ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়।

এ প্রতিবেদনের জবাব দিতে গত ২০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ওয়াসার এমডি। সেখানে তিনি টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, টিআইবি যে পদ্ধতিতে গবেষণা করেছে সেটি একপেশে ও উদ্দেশ্যমূলক। এটি পেশাদারি গবেষণা হয়নি।

ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলেও দাবি করেন তাকসিম এ খান।

ওয়াসার এমডির বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা অবাক হয়েছি যে ওয়াসার এমডি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া পেশাদারিত্বসুলভ হয়নি। তিনি আমাদের পেশাদারিত্বে ঘাটতির কথা বলেছেন, তার প্রতিক্রিয়াটাই পেশাদারি প্রতিক্রিয়ায় হয়নি।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গবেষণা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত, সামাজিক বিজ্ঞানে গবেষণার যে সর্বোচ্চ স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, সেটা অনুসরণ করে গবেষণাটা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় গবেষণার শুরুতে গবেষণা পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আরও দুজন পরিচালকের সঙ্গে আমাদের গবেষণা টিমের বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারা তাদের অবহিত করেছেন। সেই সময় কিন্তু তাদের কোনো আপত্তি ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পুরো গবেষণা প্রক্রিয়ায় আমরা তাদের সম্পৃক্ত করেছি, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার বৈঠক হয়। তাদের পরামর্শ ও তথ্য আমরা নিয়েছি।’

‘তাই এটা নিয়ে এখন যদি এভাবে প্রশ্ন তোলেন তবে বলতেই হয়, ওয়াসার সুশাসনের ঘাটতির জায়গাগুলো চিহ্নিত হওয়ার কারণে তিনি (এমডি) ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলেছেন এমডি, এটা তো হাস্যকর বিষয়। তিনি নিজেও যে পানিটা সরাসরি পান করতে পারেন না, সেটাকে কীভাবে শতভাগ সুপেয় বললেন? এটা তো একটা প্রশ্নবিদ্ধ স্টেটমেন্ট।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন সেটা নিতেই পারেন। কিন্তু আমরা বলছি, আমাদের গবেষণার বিষয়ে আমরা শতভাগ কনফিডেন্ট, আস্থা রয়েছে আমাদের।’
তিনি বলেন, ‘রিপোর্টটি তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে শুনেছি।

আমরা এই প্রতিবেদন নিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলো করেছি, সেগুলো বাস্তবায়নে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত।’

কোনো ল্যাবটেস্ট ছাড়াই টিআইবি ওয়াসার পানির বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে- এমডির এমন অভিযোগের বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমার ল্যাবটেস্টের তো দরকার নেই। ওয়াসার গ্রাহকদের যারা পানি ব্যবহার করছেন তাদের অভিজ্ঞাটাই তুলে ধরার দায়িত্ব হচ্ছে আমার।

ওয়াসার পানির গুণাবলি জানা দরকার। পানিতে গন্ধ পাওয়া যায় কি-না, পানির রংটা কতটুকু ভালো- এটা তো যারা পানি ব্যবহার করেন তারাই বলতে পারবেন। আমরা তো তাদের (গ্রাহক) কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনটি আমরা তাদের (ওয়াসা) কাছে পাঠিয়েছি। এর সঙ্গে তাদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছি, সেখানে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছি। সুপারিশ বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা বলেছি। এটা তো প্রথম পর্যায়ে গেছে। এরপরও তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

Imrul-kayes_HOME.jpg

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ক্যাম্পে ইয়াবা এনে তা রোহিঙ্গা ও এনজিওর গাড়িতে করে পাচার করে আসছে দেশের সবচেয়ে ইয়াবা সিন্ডিকেট। এজন্য তারা কৌশলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দেশি-বিদেশি এনজিওর চাকরি নিয়েছে।

চাকরির আড়ালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওর গাড়ি চালকদের ফুসলিয়ে দেশব্যাপী ইয়াবা পাচার করছে সিন্ডিকেটটি।

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা দিয়ে ক্যাম্পে এনে তা এনজিওর গাড়িতে করে সারা দেশে পাচারে জড়িত বাংলাদেশের ইয়াবা কিং সাইফুল করিম ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত সিন্ডিকেটটি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ইয়াবা পাচারের জন্য হাজী সাইফুল করিমের ছোটভাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বেসরকারি এনজিওর জোনাল অফিসার হিসেবে বর্তমানে বালুখালী ১৬ নম্বর ক্যাম্পে কর্মরত। তিনি মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদ করেন ও এনজিওর গাড়িতে করে সারাদেশে ইয়াবা পাচার করে আসছেন।

কক্সবাজারের মাদক বিরোধী অভিযানের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে দেশের ইয়াবা কিং হাজী সাইফুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সাইফুল করিমের দুই শ্যালক জিয়াউর রহমান ও আব্দুর রহমান পুলিশের হাতে আত্মসমর্পণ করলেও দেশব্যাপী ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন হাজী সাইফুল।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সকল বাহিনীর অভিযানের মুখেও ইয়াবা কিং হাজী সাইফুল মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ইয়াবা জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। হাজী সাইফুল রোহিঙ্গাদের দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদ করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তার ভাই রাশেদুল করিম ইয়াবাগুলো বিভিন্ন এনজিও সংস্থার গাড়িতে করে ও রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অঙ্গে বহনের মাধ্যমে সারা দেশ ইয়াবা পাচার করে আসছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সাইফুল করিমের সব ভাই তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইয়াবার মজুদ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সাইফুল করিমের ছোট ভাই রাশেদুল করিম। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য রাশেদুল করিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওতে চাকরি নিয়েছে। ইয়াবার মজুদের অবস্থানগত কারণে রাশেদ কয়েক মাস পরপর চাকুরি বদল করে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করে। বর্তমানে সে বেসরকারি এনজিও কেয়ার এর ১৬ নং ক্যাম্পের জোন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন

সরকারি সংস্থার তথ্য মতে, বর্তমানে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ইয়াবা পাচার বেড়ে গেছে। গত মার্চে এই ক্যাম্পের দুই যুবক মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার সময় সীমান্তে বিজিবির গুলিতে মারা গেছে।

কেয়ার বাংলাদেশের চাকুরির আড়ালে মূলত রাশেদুল করিম সারা দেশে ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

তার বড় ভাই দেশের ‘ইয়াবা কিং’ খ্যাত হাজী সাইফুল করিম ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের সবাই ভয়াবহ সিন্ডিকেটের সদস্য।

সাম্প্রতিক সময়ে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার একাধিক গাড়িতে ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে। এইসব ঘটনায় রাশেদুল করিম জড়িত থাকতে পারে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ তালিকায় ‘এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার এই হাজী সাইফুল করিমকে।

শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ছাড়াও তার ভাই রেজাউল করিম, রফিকুর করিম, মাহাবুবুল করিম, আরশাদুল করিম মিকি ও রাশেদুল করিমের নামও তালিকায় আছে।

সাইফুল করিমের দুই শ্যালক-টেকনাফ বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান ও শ্রমিক দলের নেতা আবদুর রহমানও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সাইফুল ও তার ভাইয়েরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা এখনো সদর্পে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

কিছুদিন আগে রাশেদুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রাশেদুল করিমের ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূলশক্তি হিসেবে রয়েছে তার বড় ভাই সাইফুল করিম ও তার মামা মিয়ানমারে মংডুর আলী থাইং কিউ এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তারা দুজনই বর্তমানে মিয়ানমানের মংডুতে অস্থান করে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপের সমন্বয়ক সৈকত বিশ্বাস বলেছেন, হাজী সাইফুল দেশের এক নম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী তা সবাই জানে। তালিকাভূক্ত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট কেউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরি করে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকলে তা খুবই উদ্বেগজনক। রাশেদুল করিমের নিয়োগের আগে তার সব তথ্য যাচাই বাছাই করা হয়েছে কি না তা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ থেকে যাচাই করা হবে।

কক্সবাজার এনজিও ফোরামের সভাপতি আবু মোরশেদ খোকা বলেছেন, ভয়ংকর ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা তথ্য গোপন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরি নিতে পারে। তাই সব নিয়োগের আগে সঠিক যাছাই বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ব্যাপারে কেয়ার বাংলাদেশের মানবসম্পদ কর্মকর্তা ফুয়াদ হাসান বলেছেন, রাশেদুল করিম ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য তাদের জানা ছিল না। সে বা তার পরিবারের সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী তথ্যটিও তাদের অজানা ছিলো। এখন সব বিষয় জানার পরে রাশেদুল করিমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই বিষয়ে রাশেদুল করিম বলেন, তার ভাই সাইফুল করিম সহ আরো ৬ ভাইয়ের নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় থাকলেও তার নাম কোনো তালিকায় নেই। তালিকায় না না থাকার কারন হলো সে ইয়াবা ব্যবসা করে না।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদি হাসান বলেছেন, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। ওই ক্যাম্প থেকে এনজিওর গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের তথ্যও র‍্যাবের কাছে আছে। কয়েকদিন আগে ২০ হাজার ইয়াবা সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি গাড়ির চালককে আটক করা হয়। এই সিন্ডিকেটটি ধরতে র‍্যাব কাজ করছে বলে তিনি জানান।