খবর Archives - Page 5 of 49 - Dhaka Today

monid.jpg

রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’।

পিপলু খান নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে উঠে এসেছে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বাবা-মাকে হারিয়ে নির্বাসিত দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেঁচে থাকা, টিকে থাকার অদম্য কাহিনী। ইতিমধ্যে সচেতন মহলে সিনেমাটি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। নবীন প্রবীণ সকল শ্রেণীর দর্শক সিনেমাটি দেখতে হলমুখো হচ্ছেন।

আজ সিনেমাটি দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনি।

তিনি কান্নারত অবস্থায় গণমাধ্যমকে বলেন, সিনেমাটার মধ্যে এসেছে আলসেখানার কথা। সেই আলসেখানার মানুষটি (শেখ হাসিনা) তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত দেশের জন্য কী অসম্ভব পরিশ্রম করে চলেছেন ! তাঁর এই পরিশ্রমের কারণ, তিনি তাঁর বাবার সেই স্বপ্নটিকে পূরণ করতে চান। যে স্বপ্ন আজকের তরুণদের জন্য অসম্ভব সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ তৈরীর। তাঁদের জন্য একটি অমিত সম্ভাবনার বাংলাদেশ তৈরী হবে। সেটির জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এই উদয়াস্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম। আশা করি আমরা সেটা বুঝতে পারবো।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক পিপলু জানান, চলচ্চিত্রটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাটকীয় কিন্তু আন্তরিক ভঙ্গিতে চিত্রায়ন করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) প্রযোজিত ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। ছবিটি আন্তর্জাতিক বাজার এবং অন্তর্জালেও মুক্তি দেয়া হবে দ্রুতই।

kadersidds.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও তার ছোট ভাই সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ সভাপতি আজাদ সিদ্দিকীও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে এবং জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

আগামী ২৪ নভেম্বর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে বলে দলটির।

উল্লেখ্য, কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তার বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

bses.jpg

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুর্গাপূজায় ব্যানার টাঙানোর জের ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ২ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও অপর ৬ জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর)ইউনিয়নের ভুরাঘাট গ্রামের পেছনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে উপজেলার ভুরাঘাট গ্রামের জিতেন্দ্র বর্মণ ও একই গ্রামের রাজিন্দ্র বর্মণ, অতুল বর্মণের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

ওই ঘটনার জের ধরে জিতেন্দ্র বর্মণের লোকজন গ্রামের পার্শ্ববর্তী চুনখলা হাওর থেকে মাছ শিকার করে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের পেছনে অতুল বর্মণের লোকজন রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। এ খবর জানাজানি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন নিপেন্দ্র বর্মণ, জিতেন্দ্র বর্মণ, শ্রী মতি অষ্টমী বর্মণ, শ্রী মতি নিয়তি বর্মণ, দুলাল বর্মণ, সুভাষ বর্মণ (১৮), শ্রী মতি বর্মণ, সুকুমার দাস, জুয়েল দাস, বিমন দাস, রুবেল দাস, সেবক বর্মণ।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি লোকমুখে জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

oilln.jpg

দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সম্পাদকরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সম্পাদকদের কাছে সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের মুখপত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেসব সহযোগিতা দরকার তার সবই সম্পাদকদের কাছে চাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং সহযোগিতা করতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

মতবিনিময় শেষে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় তিন ঘন্টা সম্পাদকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি। তারা বিভিন্ন ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হয় আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন। এই মতবিনিময় আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান মনে করি। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি আশা করবো সে ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে।

ড. কামাল বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিলো অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কী কী জিনিস তারা অতীতে দেখেছেন। তারা মনে করেন এবার সেগুলো থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে যেন জনগণ সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী দল নির্বাচন করতে যাচ্ছি তাদেরও কর্তব্য আছে।

আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি।’

মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে এসে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে আমাদের সামনে তুলে ধরবেন কিনা। আমি জানতে চেয়েছি নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর উৎসব রয়েছে। তারা জয়ী বা পরাজিত হলে কিভাবে পালন করবেন। এসব প্রশ্নের নোট তারা নিয়েছেন, পরে উত্তর দেবেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, আমি মতবিনিময় সভায় একটি প্রশ্ন করেছি, ঐক্যফ্রন্ট যদি জয়লাভ করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি। আমার মনে হয় এই ফ্রন্ট তথা সবাই যারা নির্বাচন করছে তাদের বলতে হবে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে তারা যদি বিজয়ী হন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে। যেমন আমরা বৃটিশ পার্লামেন্টারি সিষ্টেম অনুসরণ করার চেষ্টা করি, ভারতে হোক, বৃটেনের হোক বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সবাই কিন্তু আগে থেকে জেনে যান যে, এই দল বা এই জোট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবে। সেই বিষয়টা কিন্তু এই ফ্রন্টকে পরিষ্কার করতে হবে। সেটা তারা এখনো পরিষ্কার করেননি।

বৈঠক শেষে সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মর্তুজা বলেন, শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট যেন নির্বাচন থেকে সরে না আসে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বলে সম্পাদকরা আশ্বস্ত করেছেন নেতাদের।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, দিনকাল সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী।

এছাড়া এ মতবিনিময়ে অংশ নেন যুগান্তরের চিফ রিপোর্টার মাসুদ করীম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ইনকিলাবের মুন্সি আবদুল মান্নান, নিউজ টুডের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত হোসেন লিটন, সমকালের লোটন একরাম, সাপ্তাহিকের গোলাম মোর্তজাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সিনিয়র সাংবাদিকরা।

ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত শোনেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।

এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদসহ ঐক্যফ্রন্টের শরিক নেতারাও ছিলেন।

গত ১৩ অক্টোবর জোট গঠনের পর গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে এই প্রথম বসল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

tvde.jpg

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ।

ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়ন,ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড। যদিও আওয়ামী লীগের দাবি তাদের মাঠ ইতিমধ্যে সাজানো হয়েছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন নির্বাচনের মাঠে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, প্রয়াত এমপি প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও সাবেক জেলা গর্ভনর ফজলুল করিমের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, সাবেক যুবলীগের সভাপতি,বর্তমান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিমাংশু দত্তের সুযোগ্য ছেলে অরুণাংশু দত্ত টিটো, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা, সাবেক প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম,জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা তুলি,জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জামান দুলাল ও রেজওয়ানা বন্যা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড চূড়ান্ত করবেন প্রার্থিতা। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়ন প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন কেউ বিদ্রোহ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

তবে ঠাকুরগাঁও-১, আসন নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দলীয় কমান্ড শক্ত না হওয়ায় ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের ১৩ জন প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।

অপরদিকে বিএনপি’র রয়েছেন একজন প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপক্ষে বিএনপি থেকে কেউ কেনেননি নমিনেশন। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যায় ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির চেইন অফ কমান্ড অনেক শক্ত। এই আসনে বিএনপি মনে করেন দীর্ঘদিনের নিপীড়ন,নির্যাতন,মামলা,হামলার কারণে তাদের দলীয় ইমেজ অনেক বেড়ে গেছে।

তাই এই আসনে মির্জা ফখরুল অনেক সহজেই জিততে পারবেন।অপরদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল অনেক নেতাকর্মী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি কে নতুন ভাবে প্রার্থী নির্বাচন করতে নারাজ। এক্ষেত্রে এই আসনে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকেই। নতুন প্রার্থীদের মধ্যে যারা রয়েছে তাদের অন্যতম নেতা-কর্মীদের ভরসা সাদেক কুরাইশী।

তিনি ইতোপূর্বে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও নমিনেশন পেপার সংগ্রহ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নতুন চমক আসতে পারে এই আসনে। অপরদিকে ঠাকুরগাঁও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার আরেক জায়গা অরুণাংশু দত্ত টিটো। তিনি নিজ যোগ্যতায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিগত নব্বই দশকের পর হতে তিনি যুবলীগ এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কান্ডারী হিসেবে জেলা শহরে খুব পরিচিত নাম। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগে তার অবদান নিতান্তই কম নয়।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি হেরে যান। কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে মনোনয়ন দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।নতুন প্রার্থীদের আরেকজন সাবেক এমপি খাদেমুল ইসলাম এর সুযোগ্য পুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাহেদুল ইসলাম সাহেদ। তিনি ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল ও জাতিসংঘ মিশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় হাইকমান্ড তাকে প্রার্থী ঘোষণা করলে তিনি নির্বাচনে জিতবেন বলে আশা করেন।

এদিকে ঠাকুরগাঁও আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন,বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করেছেন যা দৃশ্যমান। কিন্তু তিনি জায়গা করে নিতে পারেননি দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে। তারই ফলস্বরূপ তিনি এই আসনে বিতর্কিত হয়ে আছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন তিনি একজন ধানের ব্যবসায়ী থেকে রাতারাতি রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন। ১৯৯৬ সালে খাদেমুল ইসলাম এমপি মারা যাওয়ার পর নেতৃত্ব সংকটে তিনি এই আসনে উপনির্বাচন করে এমপি হন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি।

ঠাকুরগাঁও আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারো এমপি নির্বাচিত হন। এমপি হবার পর দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাওয়ার পরও সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগিয়েছেন শুধুমাত্র তার আখের গোছাতে। তারই ফলশ্রুতিতে দলের একটা বড় অংশ বিদ্রোহ করলে অসম্ভব কিছু মনে হতোনা। সৌভাগ্যবশত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না তার বিরুদ্ধে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতো তাহলে প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারণ করতো নেতাকর্মীরা এমনি ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

এ ছাড়া প্রতিটা ক্ষেত্রেই তিনি খুঁজেছেন শুধুই টাকা। নিয়োগ বাণিজ্যও করেছেন ব্যাপক। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে শেষ করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়া। যুবলীগসহ অনেকেই সে সময় বেঁকে বসেছিলেন তার বিরুদ্ধে।তাছাড়া অভিযোগ আছে উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে অসহযোগিতা,গোপনে বিএনপির সাথে আতাতের ফলস্বরূপ হেরেছে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন দীর্ঘ সময় মন্ত্রী থাকা,আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেন আওয়ামীলীগ থেকে ১৩ জন নমিনেশন পেপার কেনে। এখানে চেন অব কমান্ড যে অতি নড়বড়ে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়।

তাই নেতাকর্মীরা মনে করেন মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে এই আসনে জেতা অনেক কঠিন। কারণ মির্জা ফখরুল একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। ব্যক্তি ইমেজও তার ব্যাপক। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে এই আসনে চান নেতৃত্ব পরিবর্তনের। কারণ বয়সের ভারে রমেশ চন্দ্র সেন স্টেজে ওঠানামা আর উদ্বোধন এর বাইরে তেমন কোন কাজ করতে পারেন না।

অপরদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবর্তমানে এই আসনে বিএনপি’র কোনো শক্তিশালী নেতা নেই। মির্জা ফখরুলের পরে বিএনপি এই আসনে যে নেতৃত্ব সংকটে পড়বে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়। তারই প্রেক্ষিতে এই আসনে এখনই আওয়ামী লীগের তৈরী হওয়ার সময়। এই বার হয়তো না পারলে পরবর্তীতে শক্ত অবস্থানে থাকবেন আওয়ামীলীগের বর্তমানে তৈরি ভবিষ্যৎ কান্ডারী।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির একমাত্র ক্যান্ডিডেট রেজাউর রাজি রাজি স্বপন চৌধুরী। তিনি মনে করেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচনের টানাপোড়নে মহাজোট থেকে তিনি নমিনেশন পাবেন এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি এ আসনে জিততে পারবেন। তবে যেটাই হোক রাজনীতিতে শেষ কথা বলে যে কোন কথা নেই সেটা সবাই জানে।

রাজনীতিবিদরা মনে করেন নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘটে যেতে পারে ভিন্ন কিছু,উল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ। মির্জা ফখরুল এর বিপরীতে আওয়ামীলীগের যে প্রার্থী হবেন সে যে ছেড়ে কথা বলবেন না তা স্পষ্ট। তাছাড়া আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা অনেক বিচক্ষণ মানুষ।তাই ভোটের হিসাব নিকাশে তিনি যে ভুল করবেন না প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তা সবাই ইতিমধ্যে বুঝে উঠেছে। অনেকের ধারণা তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নতুন কিছু চমক উপহার দিবেন।এই আসনে নিয়ে আসবেন তরুণ নেতৃত্ব।

unknown-patient-1-20181116153905.jpg

হাসপাতালের ফাইলে পরিচয় হিসেবে কোথাও লেখা আছে ‘অজানা মহিলা’ আবার কোথাও ইংরেজিতে ‘আননোন প্যাসেন্ট’। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সত্তরোর্ধ্ব এই নারীর শরীরে এক টুকরো কাপড়ও নেই। কেউ হয়তো হাসপাতালের সাদা বেড কভার গায়ে তুলে দিয়েছিল, তাও অচেতন দেহের পাশে পড়ে আছে। মাস খানেকেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনের মেঝেতে পড়ে আছেন এই বৃদ্ধা, দেখার কেউ নেই।

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বৃদ্ধাকে এমন অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের মানুষ ও আয়া-নার্সদের কাছ থেকে জানতে চেয়েও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আলি ইউসুফ বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে কে বা কারা এই মহিলাকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর এখানেই পড়ে আছেন। তিনি চলাফেরাও করতে পারেন না, কথাও বলেন না। যতটুকু জেনেছি, তিনি মানসিক রোগী, কোনো কিছুই চিনতে পারেন না।’

unknown-patient-2

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের কোনো আয়া দয়াপরবশ হয়ে খাইয়ে দিলে খান, নয়তো খান না; এখানেই পড়ে থাকেন। শরীরের অবস্থা তেমন ভালো নয়। কখনও তার খোঁজ নিতে কাউকে আসতে দেখিনি।’

ওই বৃদ্ধার পাশে পড়ে থাকা ফাইল ঘেঁটে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর তাকে হাসপাতালের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রথম দিকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলেও বর্তমানে তার অবস্থা কী সে সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য নেই।

এ বিষয়ে জানতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নার্স ও আয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা বিষয়টি হেলায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যেন এক অচ্ছুত নিয়ে কেন এত মাথাব্যথা! এ সময় তারা এ প্রতিবেদকের কাছে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘উনি আপনার কী হন?’ চড়া গলায় বলেন, ‘আপনার প্রয়োজন হলে আপনি নিয়ে যান।’ সরকারি হাসপাতালের কর্মচারী হয়েও রাষ্ট্রের নাগরিকের প্রতি এমন অবহেলা যেন তাদেরই মানায়!

unknown-patient-3

কারও সাহায্য না পেয়ে বৃদ্ধার পাশে পড়ে থাকা ফাইল ঘেঁটে পাওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জসিম নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশ।

বৃদ্ধার পরিচয় জানাতে গিয়ে জসিম বলেন, ‘এই বৃদ্ধা একসময় কক্সবাজারের পেকুয়া চৌমুহনি এলাকায় থাকতেন। কেউ তার পরিচয় জানেন না। অনেক বছর তিনি চৌমুহনিতে রাস্তার পাশে কাটিয়েছেন। একসময় রাস্তার ধারে বসে কোরআন শরীফ পাঠ করেই দিন কাটাতেন ওই বৃদ্ধা। স্থানীয়রা তাকে খাবার-কাপড় দিয়ে সহায়তা করতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধার শরীর খারাপ হতে থাকে, তিনি কাউকে চিনতে পারছিলেন না। প্রায় মাসখানেক আগে তাকে পেকুয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হলে, পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা চমেক হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন। ইউএনও সাহেবের নির্দেশে আমি নিজে গিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে আসি।’

এ সময় বৃদ্ধার বর্তমান দুরবস্থার কথা জসিমকে জানালে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে উনাকে সমাজসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে দেখাশোনার কথা ছিল। এত বড় হাসপাতালে উনার এই অবস্থা হবে জানলে আমরা উনাকে পেকুয়াতেই রেখে দিতাম। স্থানীয়রা উনাকে ভালোবাসেন, এখানে তারা বৃদ্ধার কম-বেশি দেখভালও করতেন।’

unknown-patient-4

রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের সমাজসেবা অফিসে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

bnp-pic-20181116154808.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গাজীপুর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গীতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির বাসভবনে সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের হাতে ফুল দিয়ে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

যোগ দেয়া নেতাদের মধ্যে সাবেক গাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আ. হামিদ ও কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সহ-সভাপতিসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন।

এ সময় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যোগ দেয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

যোগদানের সময় সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং আগামী নির্বাচনে দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি ঘরে ঘরে নৌকার জন্য ভোট চাইবেন।

nipon-ruma-20181116155935.jpg

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে গ্রেফতার করা হয়। আর আরিফা সুলতানা রুমাকে গ্রেফতার করা হয় হাইকোর্ট এলাকা থেকে।

অপরদিকে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বেবী নাজনীন ও নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়ি পোড়ানো মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলের অনেককে আসামি করা হয়েছে।

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় পল্টন থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। তিন মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।

হুকুমের আসামিরা হলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যাত্রাবাড়ী বিএনপির সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন।

উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্যেই বুধবারের ওই সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান নিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। অন্যদিকে, নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষিপ্ত মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জ্বালিয়ে দেয়া পুলিশের পিকআপ ভ্যানটির নম্বর ২৩১১। পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গাড়িটি ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।

ওইদিন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের পিকআপ ভ্যানটি জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। সংঘর্ষে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া পাঁচজন অফিসার ও দুজন আনসারসহ মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

inff.jpg

বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনকে যে দেশটি আগাগোড়া জোরালো সমর্থন জানিয়ে এসেছিল, সেটি ছিল ভারত। ওই নির্বাচনকে সফল করার লক্ষ্যে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব নির্বাচনের ঠিক আগে ঢাকা সফর পর্যন্ত করেছিলেন। খবর: বিবিসি বাংলা।

কিন্তু পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পাঁচ বছর বাদে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ভারত কিন্তু এবার অনেকটাই নিস্পৃহ- এই নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের দিক থেকে তেমন কোনও সক্রিয়তাই চোখে পড়ছে না। কিন্তু কেন ভারত এধরনের অবস্থান নিচ্ছে, বাংলাদেশে এবারের ভোটাকেই বা তারা কী চোখে দেখছে?

আসলে বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ভারতের দিক থেকে যে ধরনের অতি-সক্রিয়তা ছিল, পাঁচ বছর বাদে এবারে তার কিন্তু ছিটেফোঁটাও নেই।

এ বছরেই নির্বাচন হয়েছে নেপাল বা মালদ্বীপেও, সেখানেও ভারতের দৃশ্যমান কোনও ভূমিকা চোখে পড়েনি।

দিল্লিতে ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিনিয়র ফেলো স্ম্রুতি পট্টনায়ক মনে করছেন, খুব সচেতনভাবেই ভারত এবার বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে একটা দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে।

তার কথায়, ২০১৪ সালে ভারত যেভাবে পররাষ্ট্রসচিবকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল সেই অভিজ্ঞতা কিন্তু খুব সুখকর হয়নি। সেটাকে অনেকেই ভারতের হস্তক্ষপ হিসেবে দেখেছিলেন। যদিও ভারতের আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে একটা সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়ানো।

‌‘কিন্তু এখন বাংলাদেশের রাজনীতি যে ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে ভারতের উদাসীন থাকাটাই উচিত, আর তারাও ঠিক সেটাই করছে। ভুললে চলবে না, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কও এর মাঝে অনেক পরিণত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।’

বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নিতে রাজি হয়নি বলেই সেই নির্বাচনকে ঘিরে অত প্রশ্ন উঠেছিল।

কিন্তু এবারে নির্বাচন অনেকটাই অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে। ফলে ভারতেরও অত মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী।

তার কথায়, বড় পরিবর্তন বাংলাদেশে যেটা দেখতে পাচ্ছি তা হল ভারতে যেটাকে আমরা ‘মহাগঠবন্ধন’ বলি, সেই ধাঁচে ওখানেও বিরোধীদের ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছে।

‘এখন তো আবার যুক্তফ্রন্টও চলে এসেছে। ফলে নির্বাচন সঠিক পথেই আছে মনে হচ্ছে – আর এভাবে যদি সব এগোয় তাহলে তো ২০১৪র তুলনায় সেটা সম্পূর্ণ আলাদা!’

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা তো এখন স্বাভাবিক পথেই আছে মনে হচ্ছে। সব দলও নির্বাচনে যোগ দিতে চাইছে, যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয় আর কী। কাজেই মনে তো হয় না এই নির্বাচনকে সমালোচনা করার কোনও সুযোগ আছে বলে!’

বাংলাদেশে ভারতের আর এক প্রাক্তন হাই কমিশনার ভিনা সিক্রিও মনে করেন, যদিও এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়- তারপরও বিএনপির নির্বাচনে যোগদান খুবই ইতিবাচক ব্যাপার।’

‘তারা যেভাবে জোট শরিকদের সঙ্গে কথা বলছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছে- যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে সেটা অবশ্যই দারুণ বিষয়।’

তার পরিষ্কার মত, ভারত এখানে কী করল, বা কী করল না ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে তা খোঁজার কোনও দরকারই নেই।

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনী পরিবেশে এখনও পর্যন্ত ভারত-বিরোধিতার কোনও আবহ তেমন নেই, দিল্লির দৃষ্টিতে সেটাও অত্যন্ত ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ। ফলে আগ বাড়িয়ে সে দেশের নির্বাচন নিয়ে অতি-সক্রিয়তা দেখিয়ে ওই পরিবেশ বিগড়ে দেওয়াও কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এটাও হয়তো ভারত মাথায় রাখছে।

পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর কথায়, আমি তো বলব এটা পারস্পরিক সম্পর্কের একটা ম্যাচিওিরিটি, যেখানে অন্য দেশকে নিজের নির্বাচনে ডোমেস্টিক ইস্যু বানানোর কোনও দরকার পড়ে না।

‘হ্যাঁ, দু’দেশের মধ্যেকার অভাব-অভিযোগ বা অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে অবশ্যই দুদেশের সরকারকেই ডিল করতে হবে। সেটা কিছুটা হয়নি, কিছুটা আবার হয়েছেও।’

তিনি বলেন, যেমন স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছে, সমুদ্র-সীমা চুক্তি হয়েছে। প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে, আধুনিকীকরণের কাজও হচ্ছে। তো এগুলো তো একটা সুফল দেবেই!

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই পরিণতি আর ভোটে বিএনপি’র যোগদান, এই দু’টো ফ্যাক্টরই আসলে পাঁচ বছর আগের তুলনায় ভারতের অবস্থানকে আজ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিবকে পাঠানো তো দূরস্থান, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন নিয়ে তাই এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেনি ভারত।

baafy.jpg

নয়া পল্টনে সংঘর্ষের মামলায় ব্লাক ডায়মন্ড খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী এখনও গ্রেফতার রয়েছেন। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকা থেকে বেবী নাজনীন ও নিপুণ রায়কে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, বেবী নাজনীন ও নিপুণ রায় চৌধুরী একই গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পৌঁছালে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে মামলা সূত্রে জানা যায়, পল্টনে নাশকতা ঘটনায় একটি মামলার ১২ নম্বর আসামি নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে।

প্রসঙ্গত, বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের ২১ জন, ২ জন আনসার ও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের পাশে থাকা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এ ঘটনায় পল্টন থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৮৮ জনকে ও গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৮ জন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter