খেলাধুলা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

maddd.png

অনেকেই মাশরাফি বিন মর্তুজার দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দু-একটি ম্যাচ খারাপ করলেই তার দিকে ধেয়ে আসে সমালোচনার তীর। মাশরাফি অবশ্য এসবের কিছুইতে পাত্তা দেন না। জবাব দেন খেলার মাঠেই।

চলতি বিশ্বকাপেও তাকে নিয়ে সমালোচনা অনেক। প্রথম দুই ম্যাচে খারাপ বোলিং করায় তীর্যক সব মন্তব্যও ধেয়ে এসেছে মাশরাফির দিকে।

কিন্তু বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ দলে পেস বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ডিসিপ্লিন বোলিং করেছেন মাশরাফিই। বিশ্বকাপের চার ম্যাচে একটিও ওয়াইড দেননি তিনি। তবে মাত্র একটি নো বল দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬ ওভার বল করে ৮.১৬ গড়ে ৪৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেও কোনো উইকেট পাননি মাশরাফি। ওই ম্যাচে ৫ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩২ রান। ওভার প্রতি রান দিয়েছিলেন ৬.৪০ গড়ে।

তৃতীয় ম্যাচেই অবশ্য আবারো চেনা ছন্দে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওই ম্যাচে দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৬.৮০ গড়ে রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।

চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৩২১ রান। তবে স্রোতের বিপরীতে ৬ ওভার বল করে মাশরাফি ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৪.৬২ গড়ে ৩৭টি। ১টি মেডেনও নিয়েছেন। যদিও কোনো উইকেট পাননি তিনি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি ওয়াইড দিয়েছেন সাইফউদ্দীন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজই দিয়েছে ৬টি ওয়াইড।

আরেক পেসার মোস্তাফিজ দিয়েছেন ১২টি ওয়াইড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দিয়েছেন ৫টি ওয়াইড।

11-5d07b00096203.jpg

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের অন্যতম একজন সাকিব আল হাসান। নিজের দুটি হাতে ভর করে ক্রিকেটে প্রতিনিয়তই বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য সব অর্জন উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। তার কাঁধে ভর করেই নিত্যনতুন উচ্চতায় উঠছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রান পূর্ণ করলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

ছয় হাজার রান করতে সাকিবের আজ দরকার ছিল মাত্র ২৩ রান। ১৫তম ওভারে থমাসের বলে দুই রান নিয়েই এই মাইলফলকে পা রাখলেন তিনি। ব্যাট হাতে আজ হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি।

২০২ ম্যাচের ১৯০তম ইনিংসে ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। আটটি সেঞ্চুরি ও ৪৫টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এই অলরাউন্ডারের। ক্যারিয়ারে বল হাতে নিয়েছেন ২৫৪ উইকেট। সাকিবের আগে একমাত্র খেলোয়ার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে ছয় হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন সাকিব। ব্যাট হাতে এখন পর্যন্ত ২৯৩ রান ও বল হাতে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর এবারের আসরেই ওয়ানডেতে ২৫০তম উইকেট নেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিবের চেয়ে কম সময়ে ৫০০০ রান করার পাশাপাশি ২৫০ উইকেট নেয়ার রেকর্ড নেই আর কারো।

shakib-4th-20190617224607.jpg

সাকিব আল হাসানের নামের পাশে রেকর্ডের অভাব নেই। দেশ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাকিবের অসংখ্য রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি রেকর্ড।

এবারের রেকর্ড আবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপের মঞ্চে। মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে ফিফটির কৃতিত্ব দেখালেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এর আগে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথম এই কীর্তি গড়েন ভারতীয় ব্যাটসম্যান নবজিৎ সিং সিধু। বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে তিনি যথাক্রমে ৭৩,৭৫, ৫১ ও ৫৫ রান করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখান সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি সহ টানা চার ইনিংসে শচিন করেন ১২৭,৭০,৯০ ও ১৩৭ রান। এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে ৬৭,৯১,৭৪ ও ৫৯ রান করেন প্রোটিয়া ওপেনার গ্রায়াম স্মিথ। সাকিব এই তালিকায় থাকলেও তিনি আলাদা অন্য একটি কারণে।

বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে পঞ্চাশর্ধ রান করা সবাই ওপেনার। ওপেনার ব্যতিত প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা চার ইনিংসে ফিফটি করলেন সাকিব। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস তিনি।

এরপরের ম্যাচে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে খেলেন ১২১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফিফটিসহ সাকিব দেশের হয়ে টানা পাঁচ ফিফটি করলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে টানা ৫ ফিফটির আগের রেকর্ডটি ছিল তামিমের। ২০১২ এশিয়া কাপে- পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন যথাক্রমে ৬৪, ৭০, ৫৯, ৬০ রানের। তারপরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ফিফটি করে টানা পাঁচ ফিফটি পূর্ণ করেন এই ব্যাটসম্যান।

চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকা

১. সাকিব আল হাসান – ৪ ইনিংসে ৩৪৬*
২. অ্যারন ফিঞ্চ – ৫ ইনিংসে ৩৪৩
৩. রোহিত শর্মা – ৩ ইনিংসে ৩১৯
৪. ডেভিড ওয়ার্নার – ৫ ইনিংসে ২৮১
৫. জো রুট – ৪ ইনিংসে ২৭৯

13-1906171718.jpg

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশে যেনো বসিয়েছে রেকর্ডের মেলা। বিশ্বকাপের এই ম্যাচের সব রেকর্ডের সঙ্গেই যুক্ত আছেন একজন তিনি- সাকিব আল হাসান। মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন আগের ম্যাচেই। আজ দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরির সাথে করেছেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরিও।

নিজের ব্যক্তিগত এতো রেকর্ডের সঙ্গে লিটনকে নিয়ে সাকিব গড়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে আরও একটি রেকর্ড। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে এখন সর্বোচ্চ রানের জুটি এই দুইজনের। আজ (সোমবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন লিটন ও সাকিব। সঙ্গে দেশের ইতিহাসেও চতুর্থ উইকেট জুটিতে সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড গড়েছেন এই দুই জন।

এর আগের সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও ছিলো সাকিবের নাম। এই বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪২ রানের জুটি গড়েন সাকিব। যা ছিলো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। মাত্র দুই ম্যাচ বাদেই এই রেকর্ড ভাঙলেন সাকিব ও লিটন। গড়েছেন ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম মিলে গড়েন ১৪১ রানের জুটি। এই বিশ্বকাপ শুরুর আগেও যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিলো। কিন্তু এখন সেটা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটিতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্বকাপে শতরানের জুটি আছে আরো তিনটি। ২০১৫ বিশ্বকাপেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সাথে নিয়ে তামিম করেন ১৩৯ রান। ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ও ২০১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব ও মুশফিকুর রহিম করেন যথাক্রমে ১১৪ ও ১০৬ রান।

২০১৭ সালে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিব ২২৪ রান করেন। যা দেশের পক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০১৮ সালে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের করা ২২০ রান দেশের ইতহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শতরানের যত জুটি

সাকিব আল হাসান-লিটন দাস, ২০১৯ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, রান-১৮৯

সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম, ২০১৯ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, রান-১৪২

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুর রহিম,২০১৫ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, রান-১৪১

তামিম ইকবাল-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ২০১৫ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, রান-১৩৯

সাকিব আল হাসন-মুশফিকুর রহিম, ২০১৯ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, রান ১১৪

সাকিব আল হাসান- মুশফিকুর রহিম, ২০১৫ বিশ্বকাপ, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, রান- ১০৬

sah-20190618001700.jpg

বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। ইতিহাস গড়া এই ঐতিহাসিক জয়টা সম্ভব হলো কেবলমাত্র সাকিব আল হাসানের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংরে ওপর ভর করে।

ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলারদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে অসাধারণ এক জয় এনে দিয়েছেন তিনি। করেছেন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি। শুধু সেঞ্চুরি করাই নয়, ৯৯ বলে ১২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে অসাধারণ এক নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ১৬টি বাউন্ডারির মার থাকলেও ছিল না কোনো ছক্কার মার।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের কোচ স্টিভ রোডস বলেছিলেন, সাকিবের সামনে সুযোগ এসেছে, কেন সে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার- এটা বিশ্বকে দেখানোর। সাকিব আল হাসান কোচের সে কথাই যেন অনুধাবন কিংবা ধারণ করেছেন মর্মে মর্মে। সে অনুযায়ী টুর্নামেন্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি।

আজও ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথমে বল হাতে ৮ ওভার বোলিং করে ৫৪ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দাঁড় করালো ৩২২ রানের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নামার পর দলীয় ৫২ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার। এরপরই মাঠে নামেন সাকিব।

তামিম ইকবালের সঙ্গে সাকিব গড়েন ৬৯ রানের জুটি। তামিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে গেলে জুটি বাধেন মুশফিকের সঙ্গে। মাত্র ১২ রান টিকেছিল এই জুটি। মাত্র ১ রান করে আউট মুশফিক। এরপরই মাঠে নামেন লিটন দাস। ৫ নম্বরে নামা লিটনের সঙ্গে ম্যাচ শেষ না করা পর্যন্ত জুটি বেধে খেলতে থাকেন সাকিব আল হাসান। গড়েন ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন এক জুটি।

শেষ পর্যন্ত ৫১ বল হাতে রেখেই ক্যারিবীয়দের ছুঁড়ে দেয়া ৩২২ রানের পাহাড় টপকে যায় বাংলাদেশ। সেটা শুধুমাত্রই সাকিবের বীরোচিত ব্যাটিংয়ের কারণে। ম্যাচ শেষে অ্যাডজুটিকেটরদের দৃষ্টিতে তাই ম্যাচ সেরার জন্য সাকিব ছাড়া আর কে বিকল্প অপশন থাকতে পারেন?

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেললেও দলকে জেতাতে পারেননি। অবশেষে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেললেন অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস।

mom-shakib-20190618000037.jpg

লক্ষ্যটা ছিলো ৩২২ রানের, জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৩২২ রানের বেশি ম্যাচ তাড়া করে জেতার নজির ছিলো মাত্র একটি। তাও ৮ বছর আগে, ২০১১ সালের বিশ্বকাপে। তাই কাজটা ছিলো অনেক কঠিন।

শুধু বিশ্বকাপ বলা কেন, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসেই এত বেশি রান তাড়া করে আগে জেতেনি বাংলাদেশ দল। ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৮ রান তাড়া করে জয়ের ম্যাচটিই বাংলাদেশের পক্ষে সেরা। ফলে ক্যারিবীয়দের করা ৩২১ রানের সংগ্রহ তাড়া করে জিততে হলে গড়তে হতো ইতিহাস।

সেই ইতিহাস ঠিকই গড়েছে বাংলাদেশ। আর তা সম্ভব হয়েছে সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে। বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পর তিনি ব্যাট হাতে খেলেছেন ৯৯ বলে ১২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে মাত্র ৬৯ বলে ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন লিটন দাসও।

বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে অবধারিতভাবেই সাকিব জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার। ম্যাচশেষে নিজের পুরষ্কার গ্রহণ করতে এসে সাকিবের কণ্ঠে ঝরেছে ম্যাচ শেষ করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে পারার সন্তুষ্টি।

তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। উইকেটে থেকে ম্যাচ শেষ করে আসাটা অনেক বেশি সন্তুষ্টির। আমি তিন নম্বরে ব্যাটিং করা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। ভালো লাগছে যে তা মাঠেও দেখাতে পারছি। আমি জানি যে, তিন নম্বরে ব্যাট করলে আমি আরও অনেক বেশি সুযোগ পাবো, লম্বা সময় ব্যাট করার সময় পাবো।’

ব্যাট হাতে ৩৮৪ রান ও বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসান। তবু তিনি মনে করছেন এখনও সম্ভব আরও ভালো করা। সে লক্ষ্যেই এগুচ্ছেন তিনি।

সাকিবের ভাষ্যে, ‘আগে দেখা যেত, পাঁচ নম্বরে ব্যাট করলে আমাকে ব্যাটিংয়ে নামতে হতো ৩০ বা ৪০ ওভার পরে। যেটা আমার জন্য আদর্শ জায়গা নয়। এছাড়া আমি আমার বোলিং নিয়েও কাজ করছি। এ মুহূর্তে আমি বলবো আমার পারফরম্যান্স ঠিক আছে, তবে আরও ভালো করা সম্ভব।’

এসময় মাঠে উপস্থিত প্রবাসী বাঙালি সমর্থকদের ব্যাপারে সাকিব বলেন, ‘পুরো বিশ্বকাপজুড়েই সমর্থকরা দুর্দান্ত। তারা মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আশা করি তারা সামনের ম্যাচগুলোতেও মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবে।’

mash-shakib-20190618001206.jpg

প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ জয়ে বাংলাদেশ দল জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের ঘিরে এবার যে প্রত্যাশা- তা একেবারেই অমূলক নয়। তবে পরের ম্যাচেই খুব কাছে গিয়েও কিউইদের বিপক্ষে হার ও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জিততে না পারায় আবারও শুরু হয় বাংলাদেশ দলকে নিয়ে সমালোচনা।

শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ মাঠে না গড়ানোয় এতদিন সে সমালোচনার জবাব দিতে পারেনি টাইগাররা। তবে আজ (সোমবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে আবারো নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে বাংলাদেশ দল।

ক্যারিবীয়দের করা ৩২১ রানের বড় সংগ্রহ ৪১ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই টপকে গেছে তারা। এমন দুর্দান্ত জয়ের পর দলের অধিনায়ক মাশরাফি জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা আছে এখনও।

ম্যাচ পরবর্তী পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যেটা আমি গতকালই বলেছি। আমাদের এখনও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু এর জন্য আমাদের আগে সবগুলো ম্যাচ জিততে হবে। আমার হাঁটুতে এখনো ব্যথা আছে। তাই মাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিল শেষদিকে। কিন্তু ডেথ ওভারে বল করার জন্য আমাদের যথেষ্ট বোলার আছে, তাই এটা আমাদের জন্য খুব বেশি চিন্তার বিষয় হয়নি।’

মোস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে দুই উইকেট নেওয়াই ম্যাচের ভাগ্যে পরিবর্তন করে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। টাইগার অধিনায়ক আরও জানান, এবারের বিশ্বকাপে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন সাকিব।

তাই তো মাশরাফির কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয় মোস্তাফিজের নেওয়া দুই উইকেটই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। সে রাসেলকে প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছে। আর সাকিবের ব্যাপারে কী বলবো! সে এই বিশ্বকাপে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছে। আশা করি সে এটা ধরে রাখবে, বাকিরাও তার সাথে যোগ দিবে।’

জয়ের পর প্রায় সব ব্যাটসম্যানকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অধিনায়ক। ব্যাটসম্যানদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘মুশফিক প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছে। তামিমও আজ দারুণ খেলেছে, সৌম্যও শুরুটা ভালো করছে। লিটন সাধারণত তিন নাম্বারেই ব্যাট করে, একজন ওপেনারের জন্য পাঁচে ব্যাট করা বেশ কঠিন। কিন্তু সে তার কাজটা দারুণভাবে করেছে।’

Litons.jpg

বিশ্বকাপে পর পর প্রথম তিন বলে তিন ছয় মেরে রেকর্ড গড়লেন লিটন দাস। তখন বাংলাদেশের ইনিংসের ৩৮তম ওভার চলছে। স্ট্রাইকে লিটন দাস। পরপর তিন বল খেললেন লিটন, আর এর মাধ্যমেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রেকর্ডটি করে ফেললেন লিটন দাস।

রেকর্ডটি হলো বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে একটানা ৩ বলে ৩ ছয় মারার।

গ্যাব্রিয়েলের প্রথম বলেই পুল করে ৬ মারেন লিটন। পরের বলে বুদ্ধিমত্তার সাথে লং অফে পাঠিয়ে দেন বল। গ্যাব্রিয়েলের পরের বলে ফাইন লেগ অঞ্চল দিয়ে ছয় মেরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই রেকর্ড করেন লিটন।

লিটনের ৬৯ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে আর সাকিবের ১২৪ রানে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩২২ রানের বড় স্কোর টপকে বাংলাদেশ জিতে যায় ৭ উইকেট হাতে রেখেই।

j-1906171318.jpg

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপে উইন্ডিজের বিপক্ষে এখনো জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এ আসরের ২৩ তম ম্যাচে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে উন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটে পাঠায় টাইগার দলপতি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। আগে ব্যাট করে ৩২১ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। জয়ে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ৩২২ রানের।

সোমবার টন্টনে টস হেরে ব্যাটে আসে ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল ও শাই হোপ। তবে আজ হয়তো গেইলের দিন ছিল না। ১২ টা বল খেলেও ১ টি রানের দেখা পেলেন না এই ব্যাটসম্যান। ১৩ তম বলে মুশফিকের হাতে কটবিহাইন্ড হয়ে ০ রানেই ঘরে ফিরলেন গেইল। গেইলকে ফিরিয়ে শুরুতেই দলে স্বস্তি আনলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এরপর আর পিছে তাকাতে হয়নি ক্যারিবীয়দের। লুইস ও হোপের ব্যাটেও হেসে খেলে শতক পার করল উইন্ডিজ। এভিল লুইস ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক তুলে নিলেন।

এরপরই লুইসের জন্য কাল হয়ে দাড়ালেন সাকিব। সাকিবের বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি থেকে বদলি ফিল্ডার সাব্বিরের হাতে ধরা পড়লেন লুইস। ফেরার আগে দলকে দিলেন ৭০ রানের এক ইনিংস।

হোপ ও পুরাণে এগোচ্ছিল ক্যারিবীয়রা। তবে সাকিবের বলে সৌম্যের হাতে ক্যাচ পরিণত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ২৫ রান করা পুরাণ। এক পাশ আসলে রেখেছে সাই হোপ। অন্য পাশে নিজেকে সেট করার চেষ্টা করছেন হেটমেয়ার।

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বলে তামিমের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন হেটমেয়ার। ফেরার আগে হেটমেয়ার তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশত। আবারো সেই মুস্তাফিজের বলেই ফিরলেন ভয়ংকর আন্দ্রে রাসেল। রাসেলকে শূন্য রানেই ঘরে ফেরান কাটার মাস্টার। এরপর মাঠে আসেন হোল্ডার। এসেই ঝড় শুরু করেন টাইগারদের উপর। যদিও মাশরাফীর বলে ক্যাচ তুললে তা মিস করেন তামিম।

তবে সাইফউদ্দিনের বলে ওঠে ক্যাচ তুলে নিয়ে হোল্ডারকে(৩৩) থামান রিয়াদ। এরপর উড়তে থাকা হোপকে ৯৬ রানে ঘরে ফেরালেন মুস্তাফিজ। এরপর শেষ বলে ড্যারেন ব্রাভোকে ফেরান সাইফউদ্দিন। ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রানে থামে উইন্ডিজ ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন ৩ টি করে আর সাকিব ২ উইকেট নেন।

দুই দলই এক পরিবর্তন নিয়ে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশ দলে মোহাম্মদ মিথুনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন  লিটন কুমার দাস। উইন্ডিজ দলে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের স্থানে মাঠে নেমেছে ডোয়েন ব্রাভো। এই ম্যাচ না জিতলে শেষ চারের লড়াই থেকে ছিটকে যাবে যে কোনো দলই।

musta-20190617184304.jpg

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা দাপট দেখিয়ে খেলছিলেন। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। টাইগার শিবিরে ফিরিয়েছেন স্বস্তি।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৬ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৯৫ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বোলিং উদ্বোধন করেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি ক্যারিবীয় দুই ওপেনার ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস। মেডেন নেন মাশরাফি।

পরের ওভারে সাইফউদ্দীনও ২ রানের বেশি দেননি। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসের কাছে মাত্র একটি বাউন্ডারি হজম করেন মাশরাফি। তার পরের ওভারে দ্বিতীয় বলেই আঘাত সাইফউদ্দীনের।

অফসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বল বুঝতে না পেরে একটু খোঁচা দিয়েছিলেন গেইল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীম ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এ নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার ম্যাচে দুবারই শূন্যতে আউট হলেন বিধ্বংসী এই ওপেনার।

৬ রান তুলতেই ভাঙলো উদ্বোধনী জুটি। কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৬ রানের বড় জুটি গড়েন এভিন লুইস আর শাই হোপ।

থিতু হয়ে গিয়েছিল এই জুটিটা, চোখ রাঙানিও দিচ্ছিল। ২৫তম ওভারে এসে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাকিব আল হাসান। তাকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন লং অফে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ হন লুইস। ৬৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ক্যারিবীয় ওপেনার করেন ৭০ রান।

তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুুরান আর সিমরন হেটমায়ারের ৩৭ রানের জুটিটিও ভাঙেন এই সাকিব। টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৩০ বলে ২৫ রান করে লং অনে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হন পুরান। ১৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

সেখান থেকে ৪৩ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী এক জুটি হেটমায়ার-শাই হোপের। কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছিল না। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান, স্বস্তি ফেরান টাইগার শিবিরে।

মোস্তাফিজের ওভারের তৃতীয় বলটি মিডউইকেটে ভাসিয়ে দেন হেটমায়ার। ২৫ বলে ৫০ রানের টর্নোডো ইনিংস খেলা এই ব্যাটসম্যান হন তামিম ইকবালের চোখে লাগার মতো এক ক্যাচ। এরপর ওভারের শেষ বলটিতে দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দেন মোস্তাফিজ, আন্দ্রে রাসেলের (০) ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের গ্লাভসবন্দী করতে কষ্ট হয়নি। ২৪৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।