খেলাধুলা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

17-18.jpg

পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দাবি-দাওয়া না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে শঙ্কায় পড়েছে জাতীয় দলের ভারত সফর। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটও স্থবির হয়ে গেছে।

সাকিব-তামিমদের এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে হার্ডলাইনে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাদের দাবিকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আক্রমণও করে বসেছেন তিনি।

পাপনের এ আচরণকে ঔদ্ধত্য বলে মনে করছেন সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি পাপনের ইগো সমস্যা। এটি হচ্ছে আমি রাজা, সবাই প্রজা। সমস্যা সমাধানের জন্য আমার কাছে সবাইকে আসতে হবে।

আমি মনে করি, এটি অপরিপক্ব নিয়ম। মনে হচ্ছে, বোর্ডে একজন না এলে পুরো ক্রিকেটটাই বন্ধ হয়ে যাবে। এটি অবিশ্বাসযোগ্য। এ রকম ইগো নিয়ে থাকলে অচলাবস্থা কাটবে না।

উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের পথও বাতলে দিয়েছেন সাবের হোসেন। তিনি বলেন, পাপন সাহেবকে আমি বলব- ক্রিকেটারদের চায়ের দাওয়াত দিন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। কথা বলুন। ইগো বাদ দিন।

সে আমার দিকে তাকায়নি কেন? তার সঙ্গে কথা বলব না- এমন চিন্তাভাবনা নিয়ে বোর্ডের দায়িত্ব পালন করা যায় না। বোর্ড দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক।

তাদেরই এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করতে হবে। সংসারে সন্তান দোষ করতেই পারে। সেটি দেখে বাবা যদি বলে তুমি ভুল করেছ, তোমার সঙ্গে আর কথা বলব না। এটি কি কোনো দায়িত্বপূর্ণ কথা হবে?

bahb.jpg

ভারত সফরের আগে হঠাৎ বেতন কাঠামো অসন্তোষসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ধর্মঘট ডাকে। এই সফরকে সামনে রেখে ২৫ তারিখ থেকে টাইগারদের নিয়ে ক্যাম্প শুরু হবে। কিন্তু তার আগে ১১ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘটে ডেকে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জন করেছে ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ ঠিক করতে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয় মাশরাফি বিন মুর্তাজাকে। সেখানে মাশরাফির কাছ থেকে ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মাশরাফিকে ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার বার্তা দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রতিবেদককে এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুবুল আনাম।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে চলছে এক টানাপোড়েন। ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডাকাকে ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অন্যদিকে ক্রিকেটাররা ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিকেটের সকল কার্যক্রম বর্জনের।

গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যদিও সেখানে দেখা যায়নি ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজাকে। নিজের ফেসবুক পাতায় পরে তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাকে কেউ জানাননি। তবে ক্রিকেটারদের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার এক জরুরী সভা শেষে বিসবি সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাদের এ আন্দোলনকে একটি চক্রান্তের অংশ বলে আখ্যা দেন বিসিবি সভাপতি। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্ত দেখে আশ্চর্য হয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এটি তার কাছে অবিশ্বাস্য লেগেছে বলে জানান তিনি।

এমতাবস্থায় শঙ্কার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের আসন্ন ভারত সফরও। ভারত সফরের জন্য অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনুশীলন ক্যাম্পেও ক্রিকেটাররা যোগ দিবেন না বলে জানিয়েছেন।

sastri.jpg

রাঁচিতে ইতিহাস ভারতের। ঘরের মাঠে টানা এগারো সিরিজ জয়ের রেকর্ড। বিরাটদের জয় ইনিংস ও ২০২ রানে।

২০১৩ সালে প্রথম সিরিজ এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। গত সাতাশ বছরে এই প্রথম ভারতের মাটিতে ব্রাউনওয়াশ দক্ষিণ আফ্রিকা। গত সাত বছরে ঘরের মাঠে ৩২টি ম্যাচ খেলেছে ভারত। জয় ২৬টি ম্যাচে। পাঁচটি ড্র আর একটি হার।

দিপাবলির আগে কয়েকদিনের বিশ্রাম। বাংলাদেশ আসছে। তার আগে ২৪০ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে ভারত।

ভারতের ড্রেসিংরুমে হেড কোচ রবি শাস্ত্রীকে একসময় চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবিটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

শাস্ত্রীর সেই ছবি দেখে অনেকেই বলেছেন, কোহলিদের ‘হেডস্যর’ নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শাস্ত্রীর এমন ছবি দেখার পরে ক্রিকেট-ভক্তরা মজার মজার সব মন্তব্য করেছেন।

balod.jpg

ব্যালন ডি’অর এর জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ভার্জিল ভ্যান ডিক। তবে এই তালিকায় জায়গা হয়নি নেইমার। ব্যালন ডি’অর এর ৩০ জনের বাছাই তালিকায় জায়গা হল না গতবারের বিজয়ী রিয়ালের তারকা মিডফিল্ডার লুকা মাদ্রিচের। ক্রোট তারকাই হলেন প্রথম ফুটবলার যিনি পুরস্কার জেতার পরের বছর ৩০ জনের বাছাই তালিকাতেও জায়গা পেলেন না।

বাছাই তালিকায় জায়গা হয়নি হ্যারি কেইন, পোগবার মত তারকাদেরও। সালাহ, ফিরমিনোসহ লিভারপুলের সাত তারকা জায়গা পেয়েছেন ৩০ জনের বাছাই তালিকায়। তবে ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে লিওনেল মেসি এবং লিভারপুলের তারকা ডিফেন্ডার ভ্যান ডিকের মধ্যে।

ব্যালন ডি’অর-এর ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

সাদিও মানে (লিভারপুল/সেনেগাল)

সার্জিও আগুয়েরো (ম্যাঞ্চেস্টার সিটি/আর্জেন্টিনা)

ফ্রাঙ্ক ডি ইয়ং (বার্সেলোনা/নেদারল্যান্ডস)

হুগো লরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার/ফ্রান্স)

দুসান তাদিচ (আয়াক্স/সার্বিয়া)

কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি/ফ্রান্স)

ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড (লিভারপুল/ইংল্যান্ড)

ডনি ফন দে বিক (আয়াক্স/নেদারল্যান্ডস)

পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াং (আর্সেনাল/গ্যাবন)

মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন (বার্সেলোনা/জার্মানি)

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (জুভেন্টাস/পর্তুগাল)

আলিসন (লিভারপুল/ব্রাজিল)

মাতিস ডি লিট (জুভেন্টাস/নেদারল্যান্ডস)

করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স)

জর্জিনিয়ো ভাইনালডাম (লিভারপুল/নেদারল্যান্ডস)

ভার্জিল ফন ডিক (লিভারপুল/নেদারল্যান্ডস)

বের্নার্দো সিলভা (ম্যাঞ্চেস্টার সিটি/পর্তুগাল)

সন হিউং-মিন (টটেনহ্যাম হটস্পার/দক্ষিণ কোরিয়া)

রবার্ট লেওয়ানডস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ/পোল্যান্ড)

রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল/ব্রাজিল)

রিয়াদ মাহরেজ (ম্যাঞ্চেস্টার সিটি/আলজেরিয়া)

লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা/আর্জেন্টিনা)

কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যাঞ্চেস্টার সিটি/বেলজিয়াম)

কালিদু কলিবালি (নাপোলি/সেনেগাল)

অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান (বার্সেলোনা/ফ্রান্স)

মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল/মিশর)

এডেন হ্যাজার্ড (রিয়াল মাদ্রিদ/বেলজিয়াম)

মার্কিনিয়োস (পিএসজি/ব্রাজিল)

রাহিম স্টার্লিং (ম্যাঞ্চেস্টার সিটি/ইংল্যান্ড)

জোয়াও ফেলিক্স (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ/পর্তুগাল)

আগামী ২ ডিসেম্বর প্যারিসে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার।

mash44c.jpg

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নানা সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট ক্রিকেটারেরা। ১১ দফা দাবিতে উত্তাল ক্রিকেট পাড়া। দাবি না মানা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করেছেন দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা থাকলেও ছিলেন না মাশরাফি। তবে রাত পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন, ‘১১ দফা দাবি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পক্ষে আছি, থাকব।’

১১ দফা দাবির মূল ইস্যুগুলো ছিল- ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ব্যবস্থাপনা আগের মতো হতে হবে। বিপিএলে লোকাল ক্রিকেটারদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাখ করা। ভ্রমণ সুবিধা, হোটেল সুবিধা। জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বাড়িয়ে ৩০ করা। ক্রিকেটার ছাড়াও অন্য কর্মীদের যেমন, গ্রাউন্ডসম্যান, কোচ ও আম্পায়ারদের বেতন বৃদ্ধি। আরেকটি ঘরোয়া ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার। ডিপিএলে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও দুটির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলতে অনুমতি দেওয়া।

সোমবার (২১ অক্টোবর) রাতে মাশরাফি ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো:-

মাশরাফির দেওয়া স্ট্যাটাসটি…

‘অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে, দেশের ক্রিকেটের এমন একটি দিনে আমি কেন উপস্থিত ছিলাম না। আমার মনে হয়, প্রশ্নটি আমাকে না করে, ওদেরকে করাই শ্রেয়। এই উদ্যোগ সম্পর্কে আমি একদমই অবগত ছিলাম না। নিশ্চয়ই বেশ কিছু দিন ধরেই এটি নিয়ে ওদের আলোচনা ছিল, প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সংবাদ সম্মেলন দেখে আমি ওদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

ক্রিকেটারদের নানা দাবির সঙ্গে আমি আগেও একাত্ম ছিলাম, এখনও আছি। আজকের পদক্ষেপ সম্পর্কে আগে থেকে জানতে পারলে অবশ্যই আমি থাকতাম।

মিডিয়ায় ওদের খবর দেখার পর থেকে হাজারবার আমার মাথায় এই প্রশ্ন এসেছে, যে কেন আমাকে জানানো হলো না। অনেকে আমার কাছে জানতেও চেয়েছেন। কিন্তু আমি নিজেও জানি না, কেন জানানো হয়নি।

তবে আমার ঊপস্থিত থাকা কিংবা না থাকার চেয়ে, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়িত হওয়াই বড় কথা। সবকটি দাবিই ন্যায্য, ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের মঙ্গলের জন্য জরুরী। আমি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, ১১ দফা দাবি শান্তিপুর্ন ভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পক্ষে আছি, থাকব।

fica-20191022191306.jpg

জল গড়িয়ে অনেক দূর চলে গেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আন্দোলনের বিষয়টি আর দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে মিডিয়ায় আলাদা করে কাভারেজ পেয়েছে। এবার সাকিব-তামিমদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ফিকা)।

ফিকার নির্বাহী সভাপতি টনি আইরিশ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ঐক্যের প্রশংসা করছে ফিকা। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তাদের যে যৌক্তিক দাবি, সেগুলো একসঙ্গে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে কিছু করার চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এটা ঘটেছে। আমরা বুঝতে পারছি, পরিষ্কার একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেল যে ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের খেলোয়াড়দের যেভাবে দেখা হচ্ছে, সেটার পরিবর্তন দরকার।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের কাছে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার হলো, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কথা শোনা হয় না কিংবা তাদের সেই সম্মানটা দেয়া হয় না। যেটা তাদের ক্যারিয়ার এবং জীবনধারণে প্রভাব ফেলছে। প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব হলো তাদের হয়ে কথা বলা, খেলোয়াড়দের দ্বারা প্রতিনিধি নির্বাচিত করা। উদ্বেগের বিষয় হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) খেলোয়াড়দের এই কঠিন সময়ে দায়িত্বটা পালন করতে পারছে বলে মনে হয় না। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কোয়াবের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পদেও অধিষ্ঠিত। এ সব বিষয় দেখে আমরা মনে করছি, ফিকার উচিত এতে সমর্থন দেয়া এবং এই সময়ে খেলোয়াড়দের পাশে থাকা।’

শুধু তাই নয়, এমন আন্দোলনের পর কোয়াবের সদস্যপদ নিয়ে আবারও নতুন করে ভাববে বলে জানিয়েছে ফিকা। ফলে সামনে আরও বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যেটা মোটেই মঙ্গলজনক হবে না।

papon-20191022155935.jpg

পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দাবি-দাওয়া না মানলে আন্দোলন থেকে সরবেন না তারা। পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকালে বিসিবিতে সাংবাদ ব্রিফিং করেছেন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। টাকার জন্য ক্রিকেটারদের খেলা বন্ধ করার মাঝে ষড়যন্ত্র দেখছেন তিনি।

বোর্ড প্রধান বলেন,আগে আমরা খেলোয়াড়দের সব কথা শুনেছি। তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেছি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দলকে ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি।নিয়মিত তাদের বেতন বাড়িয়েছি। অথচ টাকার জন্য খেলা বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। তাদের আচরণ অপ্রত্যাশিত-অবিশ্বাস্য।

পাপন বলেন,ক্রিকেটাররা দাবি করেছে-বিপিএলের আগামী আসর ফ্র্যাঞ্চাইজিত্তিক হতে হবে। কিন্তু আগেই ঘোষণা করা হয়েছে এবার তা হবে না। এ নিয়ে কিছু বলার দেখি না। তারা স্টেডিয়ামে সুযোগ-সুবিধা চেয়েছে।আর কি সুবিধা দেব তাদের। চট্টগ্রামে জিমনেশিয়াম করে দিয়েছি। সিলেটে জিমনেশিয়াম দেয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত ক্রিকেটের উন্নয়ন করছি। সব অযাচিত দাবিতে আন্দোলন তাদের।

নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমার মনে হয়, ক্রিকেটাররা বিদেশি কোচের অধীনে খেলতে চায় না। তারা সম্ভবত দেশীয় কোচ চায়। সেজন্য এমন করছে। আমি মনে করি, ক্রিকেট নিয়ে একটা মহলে চক্রান্ত হচ্ছে।

সামনে ভারত সফর। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। চলছিল জাতীয় ক্রিকেট লিগ। ঠিক এ মুহূর্তে আন্দোলনে নেমেছেন ক্রিকেটাররা। দাবি না মানলে কোনো ধরনের ক্রিকেটই খেলবেন না তারা।

বিসিবি বস বলেন,ভারত সফরে না গেলে আইসিসি থেকে বড় প্রতিক্রিয়া আসবে। দাবিগুলো আমাদের জানালে আমরা মেনে নিতাম। অথচ মিডিয়ার সামনে বলেছে তারা। এটা একটা ষড়যন্ত্র। দু’একজন শীর্ষ তারকা সেটা জানে। তারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তবে একটি জায়গায় সফল খেলোয়াড়রা। ক্রিকেট বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে পেরেছে।

ক্রিকেটারদের সমস্যা সমাধান নিয়ে পাপন বলেন, বিসিবির কাছে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। তাই তাদের অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই। ভারত সিরিজের অনুশীলন ক্যাম্প সূচি অনুযায়ী শুরু হবে। যারা যাবে তারা যাবে। যারা যাবে না, তারা যাবে না। এ নিয়ে বিসিবির কিছুই করার নেই।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের হার ছিল অপ্রত্যাশিত। বিপিএল থেকে যেকোনো ক্রিকেটে ফিক্সিং হয়েও থাকতে পারে। শিগগির ম্যাচ পাতানোর গুমর ফাঁস করা হবে। তবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনার পথ খোলা আছে।

papon77.jpg

১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিসিবির প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এমনকি ধর্মঘটের কথা বিশ্বাসই করতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বোর্ড সভা শেষে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিসিবি। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, টাকার জন্য ক্রিকেটাররা খেলা বন্ধ করে দেবে, এটা ভাবতেও পারছি না।

পাপন বলেন, ওরা চেয়েছে আমি দেই নাই এটা হয়নি। শ্রীলঙ্কা সফর থেকে আসার পরেই সাকিব-তামিম আমাকে বলেছে, ভাই বেতন বাড়ায় দেন। আমি বললাম, তোমাদের বেতন এখন কত? ওরা বললো ৫০ হাজার। আমি পরে বললাম ঠিক আছে চার লাখ করে দিলাম। কী পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা ওদের দিচ্ছি, ২৪ কোটি টাকা শুধু ওদের বোনাস দিয়েছি।

তিনি বলেন, ভারত সফর বাতিল করার জন্যই এই যড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আমরা ষড়যন্ত্রের নাটের গুরু বের করব।

বিসিবি প্রধান আরও বলেন, ‘এসব দাবি তুলে খেলা বন্ধ করবে তা হতে পারে না। ওরা আমাদের না জানিয়ে, আলোচনা না করেই এসব দাবি তুলেছে। ওরা আমাদের কিছুই জানালো না, কিন্তু মিডিয়াকে জানিয়ে দিল। ওরা জানে ওদের দাবির কথা জানালে আমরা মেনে নেব। এজন্য আমাদের কাছে আসেনি। ওরা আমার ফোন ধরে না, কেটে দেয়। এগুলো সব প্ল্যান। আমরা যেসব কাজ শুরু করেছি সেগুলোই ওরা দাবি করছে। আমি মনে করি ওদের অনেকে জানেই না আসলে আড়ালে কি হচ্ছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি সংবাদ মাধ্যমের বরাদ দিয়ে জানায় ক্রিকেট বোর্ডকে। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিসিবি জরুরি সভা ডাকে। দুপুর দুইটা থেকে বিসিবি সভাপতি এবং কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এরপর দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করেন নাজমুল হাসান পাপন।

papon-20191022155935.jpg

সোমবার হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদশের ক্রিকেটাঙ্গন। পারিশ্রমিকসহ মোট ১১ ইস্যুতে দাবি পেশ করেন ক্রিকেটাররা এবং দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটকেই তারা বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ক্রিকেটারদের হঠাৎই এই ধর্মঘট ডাকার পরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। বোর্ড প্রথম থেকেই বলছে, ক্রিকেটাররা তাদের সঙ্গে কোনো আলাপই করেনি। তাদের দাবি-দাওয়াগুলো আগে পেশ করেনি তারা বিসিবির কাছে।

আজ সকাল থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম সরগরম ক্রিকেটারদের ধর্মঘট এবং আলটিমেটাম নিয়ে। দুপুরের দিকে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবি পরিচালকরা। এরপরই বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি সভাপতি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যার অংশ হিসেবে ক্রিকেটাররা আন্দোলনে নেমেছে এবং ধর্মঘট ডেকে খেলা বন্ধ করে দিয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের ইমেজ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করে দিয়েছে। পাপন দাবি করেন, ক্রিকেটাররা দাবি-দাওয়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি কেন? করলে তো ওদের দাবি আমরা মেনে নিতাম। এখন পর্যন্ত তারা যে সব দাবি তুলেছে, আমরা কোনটা পূরণ করিনি?

তারা আগে আমাদের কাছে দাবিগুলো পেশ না করে মিডিয়ার সামনে বললো। তারা তো জানে, আমাদের কাছে দাবি পেশ করলে আমরা সেগুলো মেনে নেবো। মেনে নিলে তো খেলা বন্ধ করতে পারতো না। এ কারণেই আমাদের না বলে মিডিয়ার সামনে বলেছে।

পাপন দাবি করেন, এতে বাংলাদেশেরই সম্মানহানি হয়েছে। ক্রিকেটের সম্মানহানি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে দাবি না তুলে তারা যে উদ্দেশ্যে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরলো, সে উদ্দেশ্যে আপাতত তারা সাকসেস। এসিসি-আইসিসি থেকে শুরু করে সবাই ফোন করে বলছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট নষ্ট হয়ে গেছে। তার মানে, বাংলাদেশের ইমেজ এবং ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করতে সফল হয়েছে তারা।’

বিসিবি সভাপতি মনে করেন, ক্রিকেটাররা এমন এক সময়ে দাবি তুলেছে, যখন আমাদের সামনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় উপস্থিত। পাপন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই খেলা বন্ধ। এমন এক সময়ে বন্ধ করলো- যখন ফিটনেস এবং ক্যাম্প শুরু করার কথা রয়েছে। নতুন কোচ এসেছে, সামনে ভেট্টরিও আসবে। আমার মনে হয়, ওদের বিদেশি এসব কোচ পছন্দ নয়। তারা তো এমনও বলেছে, কোচই চাই না। এখন চায় দেশি কোচ। কিন্তু তাদের মতো করে তো আমরা কোচ নিয়োগ দিতে পারি না।’

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে ভারতে গিয়ে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। এখন যখন প্রথম সিরিজ খেলতে যাবে ক্রিকেটাররা, তার আগ মুহূর্তে এ আন্দোলন। পাপন বলেন, ‘ভারতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজে এই প্রথম যাচ্ছে। এত কষ্ট করে একটি ফুল সিরিজ ভারত থেকে আসলো। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে এবং প্রথম খেলাটাই ভারতের সাথে। অথচ তার আগেই তারা বলে দিলো, আমরা খেলবো না।’

পাপনের কাছে মনে হচ্ছে, এসবই পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, ‘ঠিক এমন সময়টাতেই ধর্মঘট ডেকে ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে তারা কি করতে চাচ্ছে, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার। যা যা জিনিস ওরা চাইলেই পাবে, তবুও আমাদের কাছে আসলো না। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এটা পুরোপুরি প্রি-প্ল্যানড। ওরা আমাদের কাছে দাবি না দিয়ে মিডিয়ায় বলেছে। তারা আপাতত সাকসেস। তারা আমাদের কাছে দাবি না দিয়ে আগেই খেলা বন্ধ করেছে। এটা কোনো পূর্বপরিকল্পনার অংশ।’

কখন থেকে এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে? পাপনের ধারণা বিসিবির এক পরিচালক (ক্যাসিনো ইস্যুতে) গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এক ডাইরেক্টর এরেস্ট হওয়ার পর থেকেই সবার টার্গেটে পরিণত হয়েছি আমি নিজে এবং আমার বোর্ড। তারা প্রথমে চেষ্টা করেছে নানাভাবে আমাদের ক্ষতি করার। আমাদের আক্রমণ করে যদি বাইরে পাঠানো যায়, বোর্ডকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। ওটাতে তারা সফল হয়নি। এখন সেকেন্ড স্টেপ চলছে। যদি কোনোভাবে ভারত সফরটা মিস করা যায়, তাহলে বড় ধরনের একটা সমস্যায় পড়তে পারি।’

পাপনের বিশ্বাস এটা ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তিনি বলেন, ‘তারা (ক্রিকেটাররা) কেন আমাদের কাছে কিছু না চেয়ে খেলা বন্ধ করলো? ক্যাম্পেও যোগ দেবে না। সবই ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে।’

পাপনের ধারণা ক্রিকেটাররা সবাই জেনে-বুঝে এ আন্দোলনে যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটার যারা আছে তাদের বেশিরভাগই ক্রিকেটকে ভালোবাসে এবং দেশকে ভালোবাসে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও। আমার বিশ্বাস, অধিকাংশ খেলোয়াড়ই জেনে বুঝে যোগ দেয়নি। হয়তো দু-একজন জড়িত। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

papon-20191017215606.jpg

মোট ১১টি দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। পারিশ্রমিক এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ এই ১১ দফা দাবি সোমবার দুপুরের পরই মিডিয়ার সামনে উত্থাপন করেন সাকিব-তামিমরা। দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।

ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার পরদিনই অর্থ্যাৎ আজ দুপুরে জরুরি বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকরা। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে ওই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন পাপন নিজেই। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ক্রিকেটাররা দাবি-দাওয়া নিয়ে আগে কেন আমাদের কাছে গেল না। গেলেই তো সব দাবি আমরা পূরণ করে দিতাম।’

পাপনের মতে, বড় কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যে ষড়যন্ত্রের কারণেই তারা বিসিবির কাছে দাবিগুলো না তুলে মিডিয়ার কাছে বলেছে। এতে তারা প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে। দেশের ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করেছে। দেশের ইমেজ নষ্ট করেছে।

বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি খেলতে না চায় তারা খেলবে না। এতে তাদের কী বেনিফিট আমি বুঝি না। দুদিন পর ক্যাম্প, তারা আসতে চাইলে আসবে। ভারতে যদি যেতে চায় তাহলে যাবে।’

বিসিবি সভাপতির মতে, এ আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। ধর্মঘটের পেছনে কোনো কারণ আছে। এগুলো একটা পরিকল্পনানার অংশ। ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করতে তারা সফল হয়েছে।’

ক্রিকেটাররা ফোন ধরছে না জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা আসেনি। দু-তিনজনকে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করছে না। ক্রিকেটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু মিডিয়াও আছে। একটা লোক আছে যে মিথ্যা কথা বলে, আমি তিনবার প্রমাণ করলাস সে মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু তাকে নিয়েই ফোকাস।’

বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ডিএস্টাবলাইজ (অচল) করতে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, এটা অনেকেই জানেন। সরকারের এমন কেউ নাই যে জানে না, কারা করছে তাও আমরা জানি। কে কে করছে তাও আমরা জানি, এমন না যে জানি না। আপনারাও জানেন।’

পাপন বলেন, ‘বিসিবিকে আক্রমণ করে, ডাইরেক্টরদের আক্রমণ করে বাইরে পাঠানো, বাইরে পাঠিয়ে বহু চেষ্টা করেছে আইসিসি থেকে স্যাংকশন আটকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের মতো আমাদেরও ব্যান করে দাও ৬ মাস, ১ বছর। ওটা যখন পায়নি তখন এটা হলো দ্বিতীয় কৌশল। সেকেন্ড কৌশল চলছে। ইন্ডিয়া ট্যুরে যদি কোনো রকমে না যায় তাহলে আইসিসির কী একটা অ্যাকশন হবে।’