ক্রিকেট Archives - Page 2 of 9 - Dhaka Today

bd-zimad.jpg

ঢাকা টেস্টে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়েকে ৪৪২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁরে দিয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে এই রান তাড়া করে জিততে হলে জিম্বাবুয়েকে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। টেস্ট ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই। টাইগারদের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারি দল।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) পঞ্চম ও শেষ দিনে জিম্বাবুয়েকে সংগ্রহ করতে হবে আরও ৩৬৮ রান। হাতে আছে ৮ উইকেট। স্বাগতিকদের লক্ষ্য জিম্বাবুয়ের অবশিষ্ট ৮ উইকেট শিকার করা। তাহলেই প্রত্যাশিত জয় পাবে বাংলাদেশ। তবে অলৌকিক কিছু না ঘটলে আপাতত হারের শঙ্কা নেই মাহমুদউল্লাহর দলের। বড় জোর ড্র হতে পারে।

তবে চতুর্থ ইনিংসে পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেভাবে শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ে। তাতে টাইগার শিবিরে আতঙ্ক ভর করেছিল। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন। বিনা উইকেটে ৬৮ রান করা জিম্বাবুয়ে ২ উইকেট হারায় মাত্র দুই রানের ব্যবধানে। মুমিনুল হকের তালুবন্দি হয়ে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফিরতে বাধ্য করেন মিরাজ। আর ব্রায়ান চারিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করা তাইজুল ইসলাম। ফলে ২ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলর ৪ এবং শন উইলিয়ামস ২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

এরআগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির সুবাদে ৬ উইকেটে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ফলে জিম্বাবুয়ের জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৩ রান। ১২২ বলে ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের ইনিংসটি তিনি সাজান চার বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। মেহেদি হাসান মিরাজ (২৭) আগের ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত থাকলেন।

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটি মোহাম্মদ মিথুন পেয়েছেন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। ২৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে না করতেই ফিরে গেলেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। লিডটট যদিও সন্তোষজনকই ছিল, কিন্তু জিম্বাবুয়ের সামনে বিশাল রানের লক্ষ্য দাঁড় করানোর পথে শুরুতেই গড়বড়। এমন সময়ে হাল ধরলেন মিথুন, সঙ্গী হলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। নিজেদের মধ্যে ১১৮ রানের জুটি গড়ে সেই বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করলেন তারা।

মিথুন ফিরেছেন ১১০ বলে ৬৭ রান করে। সিকান্দার রাজার বলে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৪টি চার ও একটি ছয় আছে তাঁর ইনিংসে। মাহমুদউল্লাহ ১০ ইনিংস পর ফিফটি পেয়েছেন। মিথুনের বিদায়ের পর উইকেটে এসে আরিফুল হক অবশ্য খুব বেশি সময় টিকে থাকতে পারেননি। ৫ রান করে শন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। কাইল জার্ভিস ও ডোনাল্ড ত্রিপানো নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহীমের রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি (২১৯),মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি (১৬১) এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটিতে (৬৮) রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন স্বাগতিক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫ উইকেট নেন জার্ভিস।

sabbir-n.jpg

অনূর্ধ্ব-২৩ ইমার্জিং কাপে বাংলাদেশ যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল বিসিবির। অবশেষে পাকিস্তানে দল পাঠাবে বোর্ড। ইমার্জিং কাপ সামনে রেখে ২৩ খেলোয়াড়ের একটা তালিকা তৈরি করেছেন নির্বাচকেরা। এ তালিকায় আছেন এনামুল হক, তাসকিন আহমেদের মতো জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। দ্রুতই ১৫ জনের দল দেওয়া হবে।

এই দলে সুযোগ পেতে পারেন ‘ব্যাড বয়’ খ্যাত সাব্বির রহমানের। গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে যাঁকে ছয় মাস নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। নির্বাচকেরা তাই দ্বিধায়, সাব্বিরকে এসিসি ইমার্জিং কাপে রাখবেন কি রাখবেন না।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলেছেন, ‘এটা নিয়ে একটু আলোচনা করতে হবে । ইমার্জিং কাপ এক প্রকার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এখানে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে।’ তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে সাব্বির খেলতে চলেছেন।

সবশেষ জাতীয় লিগে অবশ্য ভালো করতে পারেননি সাব্বির। রাজশাহীর হয়ে ৬ ম্যাচে ৩১.৩৩ গড়ে করেছেন ১৮৮ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিশ্বকাপ দলে সাব্বিরের সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচকেরা তাই চাইছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ‘আন্তর্জাতিক মেজাজ’ থাকে এমন ম্যাচে তাঁকে খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

mahmudullah-riyad-large-20181114160154.jpg

দীর্ঘ আট বছর পর টেস্ট ক্রিকেট সেঞ্চুরি করলেন বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১২২ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। লংগার ভার্সনে এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ সফরের একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৭৭ বলে ১১৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। তার সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ম্যাচটি ১২১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিলো বাংলাদেশ।

প্রথম সেঞ্চুরির পর ৬৮ ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু তিন অংকে পা দিতে পারেননি। এই সময় মাহমুদুল্লাহ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিলো অপরাজিত ৮৩। চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ঐ ইনিংসটি খেলেন মাহমুদউল্লাহ।

আজকের ইনিংসের পর টেস্টে মাহমুদউল্লাহ’র ব্যাটিং পরিসংখ্যান দাঁড়ালো ৪১ ম্যাচ ৭৮ ইনিংসে ৩০ দশমিক ৬৪ গড়ে ২২৩৭ রান।

dt008719.jpg

ঢাকা টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখছেন মাহমুদউল্লাহ। টেস্টে ব্যাট হাতে নিজের বাজে

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটি মোহাম্মদ মিথুন পেলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। ২৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে না করতেই ফিরে গেলেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। লিডটট যদিও সন্তোষজনকই ছিল, কিন্তু জিম্বাবুয়ের সামনে বিশাল রানের লক্ষ্য দাঁড় করানোর পথে শুরুতেই গড়বড়। এমন সময়ে হাল ধরলেন মিথুন, সঙ্গী হলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। নিজেদের মধ্যে ১১৮ রানের জুটি গড়ে সেই বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করলেন তারা।

মিথুন ফিরেছেন ১১০ বলে ৬৭ রান করে। সিকান্দার রাজার বলে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৪টি চার ও একটি ছয় আছে তাঁর ইনিংসে। মাহমুদউল্লাহ ১০ ইনিংস পর ফিফটি পেয়েছেন। এই মুহূর্তে অপরাজিত ৫৬ (৮৬ বল) রানে। মিথুনের বিদায়ের পর উইকেটে এসে আরিফুল হক অবশ্য খুব বেশি সময় টিকে থাকতে পারেননি। ৫ রান করে শন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৫২। লিড ৩৭০ রানের। এই লিডটাকে বাংলাদেশ কত বাড়িয়ে নিতে পারে। আর কতক্ষণ ব্যাটিং করলে লক্ষ্যমাত্রাকে জিম্বাবুয়ের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়, দেখার বিষয় এখন এটিই।

জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করানো হবে কি না, এ নিয়ে সমর্থকদের ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছিল বাংলাদেশ দল। তবে দলীয় সূত্রে কালই জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশ দল ব্যাটিং করার পক্ষে। আজ টেস্টের চতুর্থ দিনে সেটি সত্যি বলে প্রমাণিত হলো। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। দ্রুতই ফিরে যান চার ব্যাটসম্যান—লিটন দাস (৬), ইমরুল কায়েস (৩), মুমিনুল (১) আর প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক।

সকালের সেশনে পঞ্চম ওভারের প্রথম বল থেকে মড়কের শুরু। কাইল জার্ভিসের করা অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বল অযথাই তুলে মেরে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে মাভুতার তালুবন্দী হন ইমরুল (৩)। ঠিক এর এক বল পর জার্ভিসের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন লিটন (৬)। পরের ওভারে তিরিপানোর চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে এই ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি আগের ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মুশফিকুর রহিম। মিঠুনের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েই ধৈর্যহারা হন তিনি। তিরিপানোর করা অফস্টাম্পের বাইরের বল অযথাই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিক (৭)। লিটনকে বোল্ড করেন জার্ভিস। এই জার্ভিসের বলেই মাভুতার হাতে ক্যাচ দেন ইমরুল।

মুমিনুল তিরিপানোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন চাকাভাকে। মুশফিকও আউট হন তিরিপানোর বলে মাভুতার ক্যাচ হয়ে।

কাল জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস ৩০৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গে শেষ হয়েছিল তৃতীয় দিনের খেলা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে তখনো ২১৮ রানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়েছিল সফরকারি দল। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করাবে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে কাল থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা-কল্পনা ও নানা সমীকরণ মেলানো। বাংলাদেশ দল কালই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেয়নি। কারণ, চতুর্থ দিনে উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে দল।

তৃতীয় দিনের উইকেট দেখে বাংলাদেশ একটু অবাকই হয়েছে। যতটা ভাঙার কথা ছিল, যতটা টার্ন পাওয়ার কথা ছিল, তেমন কিছুই দেখা যায়নি। বরং বল সুন্দর ব্যাটে এসেছে। আজ চতুর্থ দিন সকালে তাই উইকেট দেখে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় সূত্রে কালই জানা গিয়েছিল, জিম্বাবুয়েকে অন্তত ৪০০ রানের লক্ষ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করতে চায় তাঁরা। এক-দেড় সেশনে ব্যাটিং করে যদি উইকেট ভাঙে, সেটি কাজে লাগাতে চায় দল। চতুর্থ ইনিংসে অন্তত ১৩০ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেলে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করা কঠিন হবে না বলেই বিশ্বাস বাংলাদেশের।

ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটা আরেকটি কারণেও নেওয়া হতে পারে। বোলাররা বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় পাবেন। তবে শেষ দিনে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। উইকেট ভাঙলে এবং আজ দিনের শেষ ভাগ থেকে বল বাঁক নেওয়া শুরু করলে চতুর্থ ইনিংসে স্বল্প লক্ষ্যও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ দল সম্ভবত এ ঝুঁকিটা নিতে চায়নি।

dt008657.jpg

চতুর্থ দিন জিম্বাবুয়েকে ফলো অন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। এমন সিদ্ধান্তের চেয়েও চমক জাগানিয়া হয়ে এসেছে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা। বাংলাদেশ ৫৮ রান তুলতেই হারিয়েছে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২৭৬ রান।

দুই ওপেনার ফিরে গেছেন কাইল জার্ভিসের দিনের পঞ্চম ওভারে। আগের ইনিংসে বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেওয়া মুমিনুল-মুশফিকুও ছিলেন একই দোষে দোষী।

জার্ভিসের ওভারে অযথা বাইরের বল কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। বল থেকে দূরে থাকার পরেও এমন অস্থিরতার খেসারত দিতে হয়েছে তাকে। ফিরে গেছেন ৩ রানে। ‍এক বল বিরতি দিয়ে জার্ভিসের বলে ভেতরে ঢুকে পড়া বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান লিটন দাস। বিদায় নেন ৬ রানে।

একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেন মুমিনুল হকও। আগের ইনিংসে ১৬১ রান করা মুমিনুল। তিরিপানোর বাইরের বলটাকে অযথা খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে দেন চাকাভাকে। ফিরে যান রানের খাতা খোলবার আগেই।

ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমও একই ভুল করেছেন সকাল বেলাতেই। টেস্টে ধৈর্য্য ধারণ করার বদলে শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন দ্রুত। তিরিপানোর শর্ট লেন্থের বাইরের বল টেনে পুল করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন দ্রুত। ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন মাভুতার হাতে। আগের ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিতে রেকর্ড করা মুশফিক ১৯ বল খেলে ফিরে যান ৭ রান করে।

আগের দিন জিম্বাবুয়েকে দিনের শেষ গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩০৪ রানে। ৫২২ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করা বাংলাদেশ পায় ২১৮ রানের লিড।

tamim-newb.jpg

আবারও ইনজুরি কবলে পড়েছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। বাঁহাতের ইনজুরির পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ধীরে ধীরে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া তামিম যথারীতি অনুশীলন করছিলেন মঙ্গলবারও (১৩ নভেম্বর)। কিন্তু একাডেমি মাঠে অনুশীলনের সময় সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরিতে পড়েন তিনি।

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় উইন্ডিজ সিরিজ দিয়েই মাঠে ফেরার কথা ছিল টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে টেস্ট দিয়ে শুরু হবে এই সিরিজ। প্রথম টেস্টেই তামিমের খেলার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল ক্রিকেট বোর্ড।

এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন ডান হাতে ইনজুরি নিয়ে। আর সেখানে গিয়ে নতুন করে ইনজুরিতে পড়েন তিনি। বাম হাতের কব্জিতে চিড় ধরে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই ফিরতে হয় দেশে।

বিসিবি চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানান, ব্যাটিং অনুশীলনের সময় সাইড স্টেইনের ইনজুরিতে পড়েছেন তামিম। পাঁজরে ব্যথা রয়েছে। আমরা আল্ট্রাসনো করেছি এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার বিশ্রাম দিয়েছি। যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তামিম কোনো ব্যথা অনুভব না করেন তাহলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু ব্যথা হলে এক্সরে করতে হবে।

afridi-nephew.jpg

শহীদ আফ্রিদি, পাকিস্তান তথা বিশ্ব ক্রিকেটেরই জনপ্রিয় এক নাম। পাকিস্তানের জাতীয় দলে দীর্ঘসময় খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে চাচার মতো ওত নাম ডাক পাওয়া হয়নি ইরফান আফ্রিদির। পাকিস্তান ছেড়ে পারি জমিয়েছিলেন উগান্ডায়। সেখানকারই জাতীয় দলে খেলেন এই স্পিনার।

শহীদ আফ্রিদি সম্পর্কে চাচা হলেও বয়সের পার্থক্য খুব বেশি নয় ভাতিজা ইরফানের। করাচিতে জন্ম নেয়া এই স্পিনার ২০১৩ সালে ২৮ বছর বয়সে উগান্ডায় পারি জমান। এখন তার বয়স ৩৩। আফ্রিদির ৩৮।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের বিপক্ষে উগান্ডার হয়ে অভিষেক হয় ইরফান আফ্রিদির। তিনি আবার অফস্পিন, লেগস্পিন দুটোই করতে জানেন। ওমানে তার দল বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেট লিগের তৃতীয় বিভাগে খেলছে।

সেখানে খেলতে গিয়েই চাকিং করে ধরা পড়েছেন আফ্রিদির ভাতিজা। অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে ইরফান আফ্রিদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের সময় উগান্ডা অধিনায়ক রজার মুকাসাকে ডেকে আম্পায়ার জানান, ইরফানের বল চাকিং হচ্ছে। যদিও আম্পায়ারের এমন অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উগান্ডা অধিনায়ক। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, আম্পারের বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ম্যাচ থেকে মনোযোগ সরে গিয়েছিল তাদের, যে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫৪ রানে হেরে যায় উগান্ডা।

taijul-20181113164338.jpg

দৃষ্টিতে ভেসে থাকার মত একটি ফিল্ডিং। বাজপাখির মত ডান পাশে ঝাঁপ দিয়ে আকাশে উঠে গেলেন তাইজুল ইসলাম। শূন্যে থেকেই দুই হাতের তালুতে লুফে নিলেন বলটি। অবিশ্বাস্য, অসাধারণ বললেও কম বলা হবে যেন তাইজুলের ক্যাচটি। ১১০ রানে থাকা ব্রেন্ডন টেলরকে এ ধরনের ক্যাচ দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যেই যেন সারাদিনের সাফল্য বেধে রাখা থাকলো।

ব্রেন্ডন টেলর রীতিমত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। সেঞ্চুরিও করে ফেলেছিলেন। ৫২২ রান করার পরও যখন বাংলাদেশের হাত থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচটা বের করে আনছিলেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেলর, তখন প্রয়োজন ছিল তাকে ফেরানো।

টেলরের সঙ্গে ভয়ঙ্কর জুটি গড়েন পিটার মুরও। তাদের গড়া ১৩৯ রানের জুটি ধীরে ধীরে যখন আশা মিইয়ে দিচ্ছিল, তখনই আঘাত হেনেছিলেন আরিফুল হক। পিটার মুরকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ৮৩ রান করে ফেরেন পিটার মুর।

কিন্তু বিপজ্জনক ছিলেন ব্রেন্ডন টেলর। ১১০ রানের ইনিংস খেলে তিনিই জিম্বাবুয়েকে টানছিলেন সামনের পথে। শেষ বিকেলে আশা ছিল স্পিনাররা টার্ন পাবেন, ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলবেন। সেটাই পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তার বোলিংয়ের চেয়ে ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব যে সবচেয়ে বেশি বোলার তাইজুল ইসলামের!

বোলার হয়তো ডেলিভারিটি দিলেন। কিন্তু ফিল্ডর যদি ঠিকভাবে ক্যাচ নিতে না পারেন! অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের বলে তো দুটি ক্যাচ মিস হয়েছিল! তাতে বাংলাদেশেরই ক্ষতি, কিন্তু কিছু করার নেই। এমন পরিস্থিতিতে বোলার মিরাজ বলে করে যাচ্ছেন। ৯৯তম ওভারের প্রথম বলটিতেই টেলরকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি।

মিরাজের বলে স্লগ সুইপ খেললেন টেলর। বল চলে গেলো লং লেগ অঞ্চলে। সেখানে ঠিক বলের নাগালের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাইজুল। কিন্তু ডান দিকে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি যে ক্যাচটি ধরলেন, সেটা চোখে না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। অবিশ্বাস্য সেই ক্যাচটি ধরেই জিম্বাবুয়ের আশার প্রতীক হয়ে ওঠা টেলরকে ফেরালেন তাইজুল। আশা ফিরলো তখন বাংলাদেশ শিবিরেও।

bd-vs-zim.jpg

তেন্দাই চাতারা বোলিং করার সময় যে ইনজুরিতে পড়েছিলেন, তাতে এই টেস্টে আর তার খেলার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং, জিম্বাবুয়ের ৯ উইকেট পড়া মানেই অলআউট তারা। ২১৮ রানের বিশাল লিড বাংলাদেশের। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে, বোঝা গেলো না জিম্বাবুয়েকে ফলো অন করাবে কি না বাংলাদেশ। তবে, খেলার গতি প্রকৃতি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বুধবার সকালে আবারও জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সিলেটে শোচনীয় পরাজয়ের পর ঢাকায় জিততে না পারলে সিরিজই হেরে যাবে বাংলাদেশ। সুতরাং, ঢাকায় জয় ছাড়া অন্য কিছু চিন্তায় নেই টাইগারদের। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন জিম্বাবুয়েকে খুব দ্রুত অলআউট করে ফলো অনে ফেলা। কিন্তু ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ব্রেন্ডন টেলর আর পিটার মুর মিলে বাংলাদেশের সেই আশাকে সুদুর পরাহত করে তুলেছিল প্রায়।

৬ষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের বিশাল জুটি গড়ে তুলেছিলেন টেলর আর মুর। এ জুটিকে ভাঙ্গার আপ্রাণ চেষ্টা অবশেষে সফল হলো ৯২তম ওভারের শেষ বলে এসে। মিডিয়াম পেসার আরিফুল হকের বলে এলবির শিকার হন পিটার মুর। ১১৪ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে তবেই বিদায় নেন মুর।

এই উইকেটের মধ্য দিয়েই বলতে গেলে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপর দিনের বাকি কাজটা করে ফেলেন স্পিনাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম। এক ওভারেই মিরাজ ফিরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যানকে।

তবে দিনের সবচেয়ে সেরা সাফল্য বলতে হবে ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট। ১১০ রান করে ফেলা টেলরকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বোলার মিরাজের যতটা না কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব ফিল্ডার তাইজুল ইসলামের।

৯৯তম ওভারের প্রথম বলটিতেই টেলরকে ফেরালে মিরাজ। তার বলে স্লগ সুইপ খেললেন টেলর। বল চলে গেলো লং লেগ অঞ্চলে। সেখানে ঠিক বলের নাগালের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাইজুল ইসলাম। নাগালের বাইরে ক্যাচ।

কিন্তু তাইজুল ডান দিকে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিলেন। এরপর বাজপাখির মত ঝাঁপ দিয়ে যে ক্যাচটি ধরলেন, সেটা চোখে না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। রীতিমত অবিশ্বাস্য! সেই ক্যাচটি ধরেই জিম্বাবুয়ের আশার প্রতীক হয়ে ওঠা টেলরকে ফেরালেন তাইজুল। আশা ফিরলো তখন বাংলাদেশ শিবিরেও।

এক বল বিরতি দিয়ে আবারও উইকেট পেলেন মিরাজ। এবার ফেরালেন তিনি ব্রেন্ডন মাভুতাকে। মিরাজের বলকে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ফাস্ট স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুলের হাতে জমা দিতে বাধ্য করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর বোলিংয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। তিনিও নিলেন ১ উইকেট। তবে আজই অলআউট হয়ে যেতে পারতো জিম্বাবুয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দুটি ক্যাচ মিস না হলে। ১০৩ ওভারের ৬ষ্ঠ বলে প্রথম স্লিপে রেগিস চাকাভার ক্যাচ মিস হয়। এরপর ১০৫তম ওভারের শেষ বলে কাইল জার্ভিসের ক্যাচ শর্ট লেগে হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি মুমিনুল হক।

এরপর ১০৬ ওভারে বোলিং করতে আসেন তাইজুল ইসলাম। তার করা তৃতীয় বলে শট লেগে ক্যাচ ধরেন চাকাভা। ১০ রান করা চাকাভার ক্যাচ এবার আর ফেললেন না মুমিনুল। তবুও থার্ড আম্পায়ার দেখতে হলো। এরপরই আউট ঘোষণা করা হলো চাকাভাকে। ৩০৪ রানে পড়লো ৯ম উইকেট। এরপরই দিনের খেলা শেষ করে দেয় জিম্বাবুয়ে। অথ্যাৎ আজ আর অলআউট হতে চাইলো না তারা। দিনের খেলা ২.৩ ওভার (আড়াই ওভার) বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দিলো জিম্বাবুইয়ানরা।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে স্বাগতিকদের হতাশায় ডোবাতে শুরু করেন জিম্বাবুইয়ের দুই ব্যাটসম্যান পিটার মুর এবং ব্রেন্ডন টেলর। এ দুজনই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হলেও এ ম্যাচে খেলছেন পুরো দস্তুর ব্যাটসম্যান হিসেবে।

অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬০ রান যোগ করে চা পানের বিরতিতে যান মুর ও টেলর। এরপর দু’জন গড়েন ১৩৯ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ২৭০ রানে ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। আউট হন পিটার মুর।

তার আগে প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও দুই উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। পুরো ওয়ানডে সিরিজ ও সিলেট টেস্টে ভোগানো শন উইলিয়ামস এবং সিকান্দার রাজাকে সরাসরি বোল্ড করে ইনিংসে চার উইকেট দখল করেন তাইজুল ইসলাম। উইলিয়ামস আউট হন ১১ রান করে, রাজা ব্যর্থ হন রানের খাতা খুলতে।

সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট নেয়া তাইজুল এ ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে স্পর্শ করলেন অসাধারণ এক মাইলফলক। রেগিস চাকাভাকে আউট করে এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।

তাইজুল ইসলাম ছাড়া ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ১ উইকেট নেন আরিফুল হক। অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের দুর্ভাগ্য। দুটি ক্যাচ মিস হওয়ার কারণে তিনি কোনো সাফল্য পেলেন না। ১৮ ওভারে ৪৮ রান দিয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানও সাফল্য পাননি। ২১ ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ৫৮ রান।

এর আগে রোববার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহীমের হার না মানা ২১৯ রান এবং মুমিনুল হকের ১৬১ রানের বিশাল ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তোলে ৫২২ রান। ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মেহেদী হাসান মিরাজও।

dt008696.jpg

রিভিউ নিয়ে চারিকে ফেরাল বাংলাদেশমেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচের রিভিউ নিয়ে ব্রায়ান চারিকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভেঙেছে বাংলাদেশ।

অফ স্পিনারের বল স্পিন করে চারির গ্লাভস ছুঁয়ে ক্যাচ যায় শর্ট লেগে। একহাতে ক্যাচ মুঠোয় জমান মুমিনুল হক। ক্যাচের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন মাহমুদউল্লাহ। আল্টাএজে মিলে গ্লাভসে মৃদু স্পর্শের প্রমাণ। পাল্টায় সিদ্ধান্ত, ফিরে যান জিম্বাবুয়ের ওপেনার।

১২৮ বলে ছয় চার আর দুই ছক্কায় ৫৩ রান করে চারির বিদায়ে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।

৪২ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৯৬/৩। ক্রিজে ব্রেন্ডন টেইলররের সঙ্গী সিলেট টেস্টের সেরা খেলোয়াড় শন উইলিয়ামস।

চারি-টেইলর জুটিতে পঞ্চাশ

শুরু থেকে আস্থার সঙ্গে খেলছেন ব্রেন্ডন টেইলর। তিনি ক্রিজে আসার পর যেন পাল্টে গেছে ব্রায়ান চারির ব্যাটিং। নিজেকে গুটিয়ে রাখা ওপেনার শুরু করেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের পঞ্চাশ রানের জুটিতে দ্রুত এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে।

তৃতীয় উইকেটে সফরকারীরা পেয়েছে ইনিংসের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। জুটির রান পঞ্চাশে যায় ৬৪ বলে।

চারির ফিফটি

প্রথম ঘণ্টার পর রানের গতি বাড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। এতে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রায়ান চারির। ডানহাতি এই ওপেনার তাইজুল ইসলামের এক ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তুলে নিয়েছেন ফিফটি।

প্রথম ৯৩ বলে ২০ রান করেন চারি। তাইজুলকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু হয় তার পাল্টা আক্রমণ। এরপর পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদকে হাঁকান ছক্কা-চার। পরে তাইজুলের ওপর চড়াও হয়ে ১১১ বলে ওপেনার পৌঁছান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিতে। পঞ্চাশে যাওয়ার পথে শেষ ১৮ বলে ৩১ রান তুলে নেন তিনি।

টিরিপানোর প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল

একের পর এক বল ঠেকিয়ে যাওয়া ডোনাল্ড টিরিপানোর প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের হাত ধরে তৃতীয় দিন সকালে এলো প্রথম সাফল্য।

নাইটওয়াচম্যান টিরিপানো দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলা কাটিয়ে দেওয়ার তৃতীয় দিনেও খেলছিলেন দারুণ সতর্কতায়। প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনে স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় তার সংগ্রাম।

৪৬ বল খেলে একটি চারে ৮ রান করেন টিরিপানো। ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ক্রিজে ব্রায়ান চারির সঙ্গী ব্রেন্ডন টেইলর।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter