ক্রিকেট Archives - Page 4 of 20 - Dhaka Today

dt008988.jpg

মঙ্গলবার মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এরই মধ্যে টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। বাংলাদেশ সময় দুপুর একটায় শুরু কবে ম্যাচটি।

রোববার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটি জিতে এরই মধ্যে ১-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নেবে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে সিরিজে টিকে থাকতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ক্যারিবীয়দের।

বাংলাদেশ দলে কোন পরিবর্তন আসেনি। প্রথম ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই নামবেন মাশরাফিরা। এই ম্যাচটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাঁচ সারথি—মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মাইলফলকের ম্যাচ। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে একসাথে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি পূর্ণ করবেন তারা।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে একটি পরিবর্তন এসেছে। কিয়েরন পাওয়েলের বদলে একাদশে স্থান পেয়েছেন চন্দরপল হেমরাজ।

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ : শাই হোপ, চন্দরপল হেমরাজ, ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমেয়ার, রভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), রোস্টন চেজ, কেমো পল, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, ওশনে থমাস।

dt008994.jpg

এক টিকিটে দুই ছবি দেখার মতো আজ শেরে বাংলায় এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশ সমর্থকদের সামনে। প্রথমত এটা ‘পঞ্চপাণ্ডবে’র (মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীম) শততম ম্যাচ।

আগে পরে শুরু করলেও সময়ের প্রবহতায় একসঙ্গে ৯৯ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহরা। যাদের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে বাংলাদেশ দল, সেই পঞ্চশক্তির একসঙ্গে শততম ম্যাচ এটি। পঞ্চপাণ্ডবের বিশেষ এ ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শক-ভক্তরা।

ওদিকে আজ যে মাশরাফি বাহিনীর সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচ! অনেকেরই বিশ্বাস মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলবে টাইগাররা। এর কারণ মূলত শেরে বাংলার ‘রহস্যময়’ উইকেট ও এর গতি-প্রকৃতি।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বল পিচে পড়ে স্লথ হয়ে ব্যাটে এসেছে। তেমন ওঠেনি। যা সব সময়ই বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যের স্বর্গ। কারণ বাংলাদেশের পেসারদের বোলিংয়ে গড়পড়তা গতি কম। মাঝে তাসকিন করতেন জোরে বল আর এখন রুবেল হোসেন।

এছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি আর মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দীন কেউই জোরে বল করেন না, মিডিয়াম পেস। গড়পড়তা ১৩০ কিলোমিটারের আশপাশে থাকে। তারা গতি, বাউন্স ও ম্যুভমেন্টের চেয়ে যেহেতু লাইন লেন্থ এবং ব্যাটসম্যানের হাব ভাব বুঝে বুদ্ধি খাঁটিয়ে বল করে রান চাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজটি খুব নিপুণভাবে করতে পারেন।

এছাড়া মাঝেমধ্যে বৈচিত্র্য এনে কখনো স্লোয়ার ছুড়ে ব্যাটসম্যানকে বেকায়দায় ফেলার কাজটিও ভালোই জানা তাদের। তাই তাদের জন্য স্লো অ্যান্ড লো ট্র্যাকই বেশি উপযোগী। ঐ ধরনের উইকেটে ফ্রি স্ট্রোক প্লে উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে দুম করে বিগ হিট নেয়া এবং এবং উইকেটের দু দিকে কাট, ফ্লিক, পুল খেলা ছিল বেশ কঠিন।

সাইড শট খেলা যাদের প্রথম পছন্দ, সেই ক্যারিবীয়রা প্রথম ম্যাচে শেরে বাংলার স্লো পিচে ইচ্ছেমত ব্যাট চালাতে না পেরে ছটফট করেছেন। অকাতরে উইকেটও দিয়েছেন। তাই তো মাঝারি গতির মাশরাফি (১০ ওভারে ৩/৩০) ও মোস্তাফিজ (১০ ওভারে ৩/৩৫) সবচেয়ে সফল। বাড়তি গতি সঞ্চারের চেষ্টা করা রুবেল সে তুলনায় রান দিয়েছেন বেশি (১০ ওভারে ১/৬১)।

অর্থাৎ শেরে বাংলায় যে পিচে গতকাল প্রথম ওয়ানডে হয়েছে, সেখানে শর্ট বল না করে যতটা সম্ভব ওপরে মানে ব্যাটসম্যানকে সামনের পায়ে ড্রাইভ খেলানো হচ্ছে সাফল্যর পূর্বশর্ত। ঠিক ড্রাইভিং জোনের একটু দূরে জায়গামত বল ফেলতে পারলে অফ ও অন সাইডে ড্রাইভ খেলা বেশ কঠিন। অফ ও লেগস্টাম্পের বাইরে জায়গা বেশি না পেলে সাইড শট খেলেও রান তোলা সহজ নয়।

এমন এক ধরনের উইকেটে সাকিব আর মিরাজের মাপা ও কোয়ালিটি স্পিনটাও অনেক বড় সম্পদ। তারা দুজন হয়ত পেসার মাশরাফি, মোস্তাফিজের তুলনায় উইকেট কম পেয়েছেন, কিন্তু শুরুতে কাজের কাজ করে দিয়েছেন। বোলিং শুরু করে প্রাথমিক ব্রেক থ্রু উপহার দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার পাশাপাশি রান গতিও কমিয়ে রাখেন দুই স্পিনার সাকিব-মিরাজ। তাদের দুজনার উইকেট সোজা আর মাপা লাইন ও লেন্থের বোলিংয়ের মুখে ক্যারিবীয়রা প্রথম থেকেই চাপে ছিল।

উইকেট এমনিতেই স্লো, তারওপর সাকিব-মিরাজের স্লো স্পিনে ক্যারিবীয় টপ অর্ডার হাত খুলে ফ্রি স্ট্রোক খেলতে না পেরে অস্বচ্ছন্দ্যবোধ করতে থাকেন। শুরুতে বাংলাদেশ বোলারদের ওপর চড়াও হতে না পারা উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা সেই যে ব্যাকফুটে চলে যান, সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

প্রথম ম্যাচ শেষে রোববার রাতের প্রেস মিটে সে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির কাছেও। তবে এমন আবেগ-উচ্ছ্বাসে কখনো গা না ভাসানো মাশরাফি কোন কিছুকেই গ্যারান্টেড ভাবেন না। তার সতর্ক-সাবধানী উচ্চারণ, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট সামর্থ্য রাখে। ঘুরে দাঁড়ানোর শতভাগ সামর্থ্যও আছে ওদের।’

যা নিয়ে চিন্তা ছিল বেশি, প্রথশ ওয়ানডেতে সেই শিশির পড়েনি তেমন। যে কারণে স্পিনারদের বল গ্রিপ করায় সমস্যা হয়নি। বরং দ্বিতীয় সেশনে স্পিনারদের বল টার্নও করেছে বেশি। সে প্রসঙ্গ টেনে মাশরাফি বলেন, ‘কোনো কিছুকেই নিশ্চিতভাবে নিতে নেই। শিশির সেভাবে পড়েনি। বল সেকেন্ড হাফে টার্ন করছিল বেশ। ওরা যদি ২৫০-২৬০ করে ফেলতো, তাহলে ডিফরেন্ট বল গেম হওয়ার চান্স বেশি ছিল।’

মাশরাফি মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে। তাই পরের ম্যাচেও প্রথম ওয়ানডের মতোই খেলতে চান টাইগার দলপতি। সিলেটে তৃতীয় ওয়ানডের আগেই সিরিজ জেতা হয়ে যাবে, এমনটা ভাবতেও নারাজ তিনি।

নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘সিলেটের চিন্তা এখনই করা ঠিক হবে না। কাল আমাদের প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে আরেকটি নতুন দিন। আরেক ম্যাচ। কাজেই সবাইকে আবার নতুন ভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এবং মঙ্গলবারের ম্যাচটা যেন ঠিক অমন শতভাগ উজার করে খেলতে পারি, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরী।’

অধিনায়ক তাগিদ অনুভব করতেই পারেন। তার অবস্থান থেকে সহযোগীদের সতর্ক ও সাবধান করে দেয়াই যে স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শেরে বাংলার যে পিচে প্রথম ম্যাচ হয়েছে, উইকেটের চরিত্র ও গতি-প্রকৃতি তেমন থাকলে সব হিসেবেই ফেবারিট বাংলাদেশ।

কারণ শেরে বাংলার স্লো ও লো ট্র্যাক, মাশরাফির ভাষায় ‘রহস্যময়’ হলেও সে রহস্যের জাল ছিন্ন করার সামর্থ্য পুরোপুরি আছে টাইগারদের। এ ধরনের স্লো উইকেটে যেমন বোলিং অ্যাটাক দরকার তা আছে বাংলাদেশের। ব্যাটিংয়ে স্ট্রোকমেকারের সংখ্যা বেশি হলেও স্লো ট্র্যাকে ধরে খেলার মতো পারফরমারও আছেন ক’জন।

গতিনির্ভর ক্যারিবীয় পেস অ্যাটাক এ উইকেটে ততটা কার্যকর নয়। ওশেন থমাসের গড়পড়তা ১৪৫ কিমির গতির ডেলিচারিও সে অর্থে টলাতে পারেনি টাইগারদের। অন্যদিকে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরাও মূলত স্ট্রোক খেলতেই বেশি পছন্দ করেন, যে কারণে এমন উইকেটে তাদের স্বাভাবিক খেলাটা কঠিন। তাই আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের দিকেই পাল্লা ভারী।

4gaan.jpg

এই সময়ের জনপ্রিয় চার কণ্ঠশিল্পী সাব্বির জামান, প্রতীক হাসান, মৌমিতা তাসরিন নদী ও লুইপা গাইলেন বিপিএল-এর গান।

‘চার ছয় মুহুর্মুহু/ স্টেডিয়ামে দর্শক বহু/ তারা নাচে তারা গায়/ বাঘের মতন গর্জন করে দুনিয়া কাঁপায়’ কথার গানটি লিখেছেন বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। সুর-সঙ্গীত করেছেন মাকসুদ জামিল মিন্টু। রাজধানীর একটি স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং করা হয়।

সাব্বির বলেন, ‘দারুণ একটি গান হয়েছে। গানটি রেকর্ডের সময় সবার মধ্যেই খেলার একটি আমেজ ছিল। আশা করি, গানটি খেলার মাঠেও টান টান উত্তেজনা ছড়াবে।’

জানা গেছে, আগামী ১৮ ডিসেম্বর গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হবে। মিউজিক ভিডিওতে গানের এই চার শিল্পীকেও দেখা যাবে।

আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর ষষ্ঠ আসর শুরু হতে যাচ্ছে।

sakibnewr.jpg

এবারের নির্বাচনে মাশরাফির পাশাপাশি আওয়াজ ছিল সাকিব আল হাসানেরও নৌকার প্রার্থী হওয়ার। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটের মাঠে না নেমে আপাতত ক্রিকেট নিয়েই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নৌকার প্রতি নিজের সমর্থন জানতে ভুল করেননি।আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ‘আই এম বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সাকিব বলেন, ওয়ানডের প্রথম ম্যাচে মিরপুর স্টেডিয়ামে আমরা যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়লাভ করেছি তখন গ্যালারিতে ৬ থেকে ৭ হাজার দর্শক নৌকা, নৌকা স্লোগান দিয়েছে। আমি নিশ্চিত দেশের মানুষ নৌকার পক্ষেই কথা বলবে। নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিতে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য ‘হ্যাশট্যাগ আই অ্যাম বাংলাদেশ’ বা ‘আমিই বাংলাদেশ’ প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণ নতুন ভোটারদের কাছে এভাবেই নৌকা প্রতীকে ভোট চান ক্রিকেটার সাকিব।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বার সভাপতি আবুল কাসেম খান, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

masht5.jpg

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে ফিরছেন ড্রেসিংরুমের দিকে, অমনি গ্যালারিতে শুরু হয়ে গেলে ‘নৌকা’, ‘নৌকা’ স্লোগান! ম্যাচে যখন বোলিং করতে এসেছেন তখনো শোনা গেছে স্লোগানটা। গত বৃহস্পতিবার বিকেএসপিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও তাঁকে দেখে এই স্লোগান দিয়েছে দর্শকেরা। স্লোগানটা কার উদ্দেশ্যে বুঝতেই পারছেন।

এত দিন তাঁকে দেখলে দর্শকেরা স্লোগান দিত ‘মাশরাফি’, ‘মাশরাফি’ বলে। এখন সেটি রূপ নিয়েছে নৌকা-নৌকায়। রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন, আওয়ামী লীগের হয়ে নড়াইল-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন, মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখলে ‘নৌকা-নৌকা’ স্লোগান হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়কের জন্য অবশ্য এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। তা গ্যালারি থেকে ভেসে আসা এ স্লোগান কীভাবে দেখেন, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন হলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা মাশরাফির, ‘আমার দেখার তো কিছু নেই।’

কঠিন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। এশিয়া কাপ থেকে পিছু নিয়েছে চোট। ভালো করতে পারেননি এশিয়া কাপ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজে। এর মধ্যে আবার যোগ হয়েছে রাজনীতি। রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরে যাবে কি না, খেলায় সেটির প্রভাব পড়বে না তো? নানা সংশয়, নানা প্রশ্ন মাশরাফিকে ঘিরে। আজ নিজের ২০০ তম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচের নায়ক হয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক যেন সব প্রশ্নের জবাব দিলেন।

মাশরাফি অবশ্য মনে করেন না, তাঁর জবাব দেওয়ার কিছু আছে, ‘না, জবাবের কী আছে? জবাব দেওয়ার কিছু নেই। খারাপ হলেই কথা বলত। না, জবাব দেওয়ার কিছু নেই। ১৮ বছর ধরে খেলছি। এত সহজে মনোযোগ সরার কথা না। আমি আমার নিজেকে তো চিনি। এত সহজে মনোযোগ সরে যাওয়ার কথা নয়। গত কিছুদিনে নিজেই চেষ্টা করে যাচ্ছি—বলটা যেখানে করতে চাই, সেখানে করতে পারছি কি না। এটাতে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছি। জবাব দেওয়ার কিছু নেই।’

আসলেই জবাব দেওয়ার কিছু নেই? কদিন আগেও দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁকে ভালোবেসেছে। রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকেই এ দৃশ্যে এসেছে বদল। মাশরাফি খারাপ করলেই প্রশ্ন তুলবে অনেকে। তাদের জবাব দেওয়ার উপায়ও যে জানা আছে তাঁর, যেটি আজ করে দেখালেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

আজ নিজের প্রথম বলেই চার খেয়েছেন। মাশরাফি ভক্তদের বুকটা ধক করে ওঠার কথা তখনই! কিন্তু না, এরপর মাশরাফি বল করে গেলেন টানা। হাঁসফাঁস তুলে দিলেন ক্যারিবীয়দের। নিজের ৭ ওভারের প্রথম স্পেলেই দিয়েছেন ৩২টা ডট! ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট। ২ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলটাও হলো দুর্দান্ত। ৫ রানে উইকেট নিলেন একটি। এমনকি স্লগ ওভারে ১১ রান দিয়েও দিনের সেরা বোলার মাশরাফিই। ১০ ওভার, ৩০ রান,৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট!

মাশরাফি জানিয়ে দিলেন, দলের যে বইঠা তিনি ধরে আছেন শক্ত হাতে, তা সহসাই খসে পড়ার নয়।

win-20181209201027.jpg

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর হুঙ্কার দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লড়াইটা সেভাবে করতে পারল না সফরকারী দল। ম্যাচটা হেসেখেলেই জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৮৯ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে পাওয়া জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা কিছুটা ভোগাচ্ছিলেন। লক্ষ্য ছোট হলেও একটা সময় তাই অস্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। তবে সেই অস্বস্তি দূর করতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। দেখেশুনে খেলে সহজ জয়ই তুলে নিয়েছে তারা।

১৯৬ রানের লক্ষ্যে তামিম ইকবাল আর লিটন শুরুটা করেন বেশ সাবধানে। প্রথম ৭ ওভারে কোনো বাউন্ডারির দেখা পাননি দুই ব্যাটসম্যান। কেমার রোচের করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলেই অবশ্য জীবন পেয়ে যান লিটন। ফ্লিক করতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। আম্পায়ার বল চেক করে দেখেন ওভারস্টেপিং করেছেন রোচ। নো বলে বেঁচে যান লিটন।

রস্টন চেজের পরের ওভারে ভয়ংকর হয়ে উঠেন জীবন পাওয়া লিটন। সুইপে দুটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। সঙ্গী চাপ কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ওভারেই বোকার মতো আউট হয়ে যান তামিম। আলগা ড্রাইভে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফেরেন ১২ রান করে।

বাউন্ডারি দিয়ে রানের খাতা খুলেছিলেন নতুন ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। পরের বলেই তাকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ওসান থমাস। ৪২ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে মুশফিক আর লিটনের প্রতিরোধ। তৃতীয় উইকেটে এই যুগল যোগ করেন ৪৭ রান। হাফসেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু ৪১ রানের মাথায় ভুল শট খেলে বসেন তিনি। কেমো পলের বলে ক্রস খেলতে গিয়ে হন বোল্ড।

লিটন ফেরার পর সাকিবকে নিয়ে আরেকটি জুটি মুশফিকের। ৫৭ রানের সে জুটিটি ভাঙেন রভম্যান পাওয়েল, ভয়ংকর হয়ে উঠা সাকিবকে ফিরিয়ে। ২৬ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।

আরও একবার দারুণ শুরু করেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ছয় নাম্বার পজিশনটা তার স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই পুরনো ফাঁদ পেতেছিল বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের জন্য। রস্টন চেজের ঘূর্ণিতে স্ট্যাম্পের ঠিক বাইরে পড়া বলে ব্যাট চালিয়ে এবারও স্লিপে ক্যাচ সৌম্য, ১৩ বলে ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় করেন ১৯ রান।

তবে বেশ কয়েকজন সঙ্গী হারালেও মুশফিকুর রহীম ক্যারিয়ারের ৩১তম হাফসেঞ্চুরিটা তুলে নিতে ভুল করেননি। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে একেবারে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৭০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ ছিলেন ১৪ রানে।

এর আগে টাইগার বোলারদের দাপটে একদমই সুবিধা করতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। রয়ে সয়ে খেলতে গিয়ে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করাতে পারেনি সফরকারী দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা তুলে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান।

নিজেদের ব্যাটিং শক্তিমত্তাকে বিবেচনায় রেখে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে স্বাগতিক বাংলাদেশও দুই প্রান্তে স্পিনার দিয়ে ম্যাচ শুরু করে। দুই ওপেনার পাওয়েল ও হোপ প্রথম কয়েক ওভার দেখেশুনে কাটিয়ে দিলেও অষ্টম ওভারে কাজের কাজ করেন সাকিব।

ওভারের শেষ বলে হালকা ভেতরে ঢোকা বলে বড় শট খেলতে যান পাওয়েল। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে না পারায় বল উঠে যায় আকাশে। শর্ট মিড অফ থেকে খানিক দৌড়ে কভার অঞ্চলের পাশ থেকে ক্যাচটি লুফে নেন রুবেল হোসেন। সাকিবের ক্যারিয়ারের ২৪৫তম ওয়ানডে উইকেট এটি।

পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে খানিক খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন তিনে নামা ড্যারেন ব্রাভো। অপর প্রান্তে শাই হোপ রানরেট ঠিক রেখে খেলার চেষ্টা করলেও ব্রাভো খেলছিলেন রয়ে সয়ে।

দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলতে হয়েছে ১৫তম ওভার পর্যন্ত। প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে পয়েন্টে থাকা আরিফুল হক এবং পরে রুবেল হোসেনের বোলিংয়ে উইকেটের পেছনে ড্যারেন ব্রাভোর ক্যাচ ছাড়েন মুশফিকুর রহীম।

তবে তৃতীয় বল বল হাওয়ায় ভাসিয়ে আর বাঁচতে পারেননি ব্রাভো। মাশরাফির করা ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে তার হাওয়ায় ভাসানো শটটি লংঅফ থেকে হাওয়ায় ভেসেই তালুবন্দী করেন তামিম ইকবাল। ৫১ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ব্রাভো।

২৫তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। এবার তার শিকার ওপেনার শাই হোপ। শুরু থেকেই ছন্দময় ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন হোপ। পৌঁছে গিয়েছিলেন ফিফটির দ্বারপ্রান্তে। তাকে পয়েন্টে দাঁড়ানো মেহেদি মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান মাশরাফি। ৫৯ বলে ৪৩ রান করেন হোপ।

পরের উইকেটটি মিরাজেরই। এবারও টাইগার অফস্পিনারের শিকার সেই শিমরন হেটমায়ার, টেস্টে যাকে চার ইনিংসেই আউট করেন মিরাজ। এবার মাত্র ৬ রান করে বোল্ড হন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। আর ১৪ রান করে মাশরাফির তৃতীয় উইকেট হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল।

তবে সপ্তম উইকেটে রস্টন চেজ আর কেমো পল মিলে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। শেষতক ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে তাদের ৫১ রানের জুটিটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারকে তুলে মারতে গিয়ে ইনসাইডেজ হয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন ৩২ রান করা চেজ।

ইনিংসের শেষ ওভারে এসে তো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় বলে তিনি ফেরান ২৯ বলে ৩৭ করা কেমো পলকে। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে নিজেই দেবেন্দ্র বিশুর ক্যাচটি লুফে নেন কাটার মাস্টার। ওই ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের সব বোলারই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। মাশরাফি ৩০ আর মোস্তাফিজ ৩৫ রান খরচায় নেন তিনটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ আর রুবেল হোসেনের।

dt008999.jpg

বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে একদমই সুবিধা করতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। রয়ে সয়ে খেলতে গিয়ে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করাতে পারেনি সফরকারি দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা তুলেছে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান। অর্থাৎ জিততে হলে বাংলাদেশের চাই ১৯৬ রান।

নিজেদের ব্যাটিং শক্তিমত্তাকে বিবেচনায় রেখে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে স্বাগতিক বাংলাদেশও দুই প্রান্তে স্পিনার দিয়ে ম্যাচ শুরু করে। দুই ওপেনার পাওয়েল ও হোপ প্রথম কয়েক ওভার দেখেশুনে কাটিয়ে দিলেও অষ্টম ওভারে কাজের কাজ করেন সাকিব।

ওভারের শেষ বলে হালকা ভেতরে ঢোকা বলে বড় শট খেলতে যান পাওয়েল। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে না পারায় বল উঠে যায় আকাশে। শর্ট মিড অফ থেকে খানিক দৌড়ে কভার অঞ্চলের পাশ থেকে ক্যাচটি লুফে নেন রুবেল হোসেন। সাকিবের ক্যারিয়ারের ২৪৫তম ওয়ানডে উইকেট এটি।

পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে খানিক খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন তিনে নামা ড্যারেন ব্রাভো। অপর প্রান্তে শাই হোপ রানরেট ঠিক রেখে খেলার চেষ্টা করলেও ব্রাভো খেলছিলেন রয়ে সয়ে।

দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলতে হয়েছে ১৫তম ওভার পর্যন্ত। প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে পয়েন্টে থাকা আরিফুল হক এবং পরে রুবেল হোসেনের বোলিংয়ে উইকেটের পেছনে ড্যারেন ব্রাভোর ক্যাচ ছাড়েন মুশফিকুর রহীম।

তবে তৃতীয় বল বল হাওয়ায় ভাসিয়ে আর বাঁচতে পারেননি ব্রাভো। মাশরাফির করা ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে তার হাওয়ায় ভাসানো শটটি লংঅফ থেকে হাওয়ায় ভেসেই তালুবন্দী করেন তামিম ইকবাল। ৫১ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ব্রাভো।

২৫তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। এবার তার শিকার ওপেনার শাই হোপ। শুরু থেকেই ছন্দময় ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন হোপ। পৌঁছে গিয়েছিলেন ফিফটির দ্বারপ্রান্তে। তাকে পয়েন্টে দাঁড়ানো মেহেদি মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান মাশরাফি। ৫৯ বলে ৪৩ রান করেন হোপ।

পরের উইকেটটি মিরাজেরই। এবারও টাইগার অফস্পিনারের শিকার সেই শিমরন হেটমায়ার, টেস্টে যাকে চার ইনিংসেই আউট করেন মিরাজ। এবার মাত্র ৬ রান করে বোল্ড হন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। আর ১৪ রান করে মাশরাফির তৃতীয় উইকেট হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল।

তবে সপ্তম উইকেটে রস্টন চেজ আর কেমো পল মিলে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। শেষতক ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে তাদের ৫১ রানের জুটিটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারকে তুলে মারতে গিয়ে ইনসাইডেজ হয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন ৩২ রান করা চেজ।

ইনিংসের শেষ ওভারে এসে তো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় বলে তিনি ফেরান ২৯ বলে ৩৭ করার কেমো পলকে। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে নিজেই দেবেন্দ্র বিশুর ক্যাচটি নিজেই লুফে নেন কাটার মাস্টার। ওই ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি ও মোস্তাফিজ।

dt008997.jpg

চট্টগ্রাম টেস্টে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের পর মিরপুরেও টেস্ট হেরেছে ক্যারিবীয়রা পৌনে তিনদিনে। সব মিলিয়ে অনেকটা ব্যাকফুটে থেকেই আজ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের বিপক্ষে মাঠে নামছে টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টাইগারদের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি সফরকারীদের।

২৬ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৮৩ রান।

এদিন ব্যাট হাতে নামা ক্যারিবীয় ওপেনার কিরেন পাওয়েলকে ১০ রানে বিদায় করেন টাইগার অলরাউন্ডার সাবিক আল হাসান। ২৭ বল খেলে রুবেল হোসেনের তালুবন্দি হন তিনি। দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

পরে দলীয় ৬৫ রানে উইকেটে সেট হতে থাকা ড্যারেন ব্রাভোকে দারুণ এক ক্যাচে মাঠ ছাড়া করে তামিম ইকবাল। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে মাশরাফি বিন মর্তুজার করা বলে ব্রাভো তুলে মারলে উড়ে এসে ক্যাচ লুফে নেন তামিম। ৫১ বলে ১৯ রান করেন ব্রাভো।

তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে ৭৮ রানে। ৫৯ বলে ৪৩ রান করা শাই হোপকে বিদায় করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দী হন তিনি।

বাংলাদেশের একাদশ:
তামিম ইকবাল, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।

dt008994.jpg

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে নেমে শুরুতেই সাফল্য পেয়েছে। সাকিবের বলে আক্রমণ করতে গিয়ে রুবেলের হাতে ধরা পড়েছেন কিরন পাওয়েল। এই প্রতিবেদক লেখা পর্যন্ত উইন্ডিজের সংগ্রহ ৮ ওভারে ২৯ রানে ১ উইকেট।

আজকের ম্যাচের মধ্যে দিয়ে দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামছেন মাশরাফি।

এছাড়া এশিয়া কাপের ইনজুরির পর মাঠে নামলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল ও দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েছেন পাঁচ ক্রিকেটার। মোহাম্মদ মিথুন, নাজমুল অপু, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু হায়দার রনি ও আরিফুল হক বাদ পড়েছেন।

দলে ঢুকেছেন, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ ও রুবেল হোসেন। তামিম, ইমরুল, সৌম্য ও লিটন দাস। চার ওপেনারের কোন তিনজন খেলবেন তা আলোচনার বিষয় হলেও চারজনই সুযোগ পাচ্ছেন।

উইন্ডিজ একাদশ: কিরন পাওয়েল, শাই হোপস, ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমেয়ার, রোভম্যান পাওয়েল, রোস্তন চেজ, কিমো পল, দেবন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, ওশানে থমাস।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মেহেদি হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন

dt008988.jpg

সাদা পোশাকের জার্সি ছেড়ে এবার রঙিন পোশাকে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটা অন্য দশটা ম্যাচের মতো হলেও মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্য একটা মাইলফলকের ম্যাচ। প্রথম বাংলাদেশী কোনও ক্রিকেটার খেলতে নামছেন ২০০তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ।
শীতের রাতে কুয়াশা এবং শিশিরের কথা মাথায় রেখে ব্যাটিং নিয়েছেন বলে জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
নির্ধারিত সূচিতে খেলা শুরু হওয়ার সময় বেলা ২টায় থাকলেও রাতের কুয়াশা এবং শিশিরের প্রভাবের কথা চিন্তা করে খেলা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে চার ওপেনারের দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় তামিমের সঙ্গী হিসেবে কে খেলবে এমন দোলাচলে পড়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজম্যান্ট। শেষ পর্যন্ত দলে জায়গা হয়েছে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের।
বাংলাদেশ একাদশ:
তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাইফুদ্দিন, মেহেদি মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান