ক্রিকেট Archives - Page 5 of 7 - Dhaka Today

sevb.jpg

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ দল। তবে টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্যের ফর্মেটে সেভাবে উন্নতি করতে পারেনি টাইগাররা।

সবশেষ এশিয়া কাপে দুর্দান্ত খেলে আসা বাংলাদেশ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত খেলার পরও টেস্টে সেই বিবর্ণ বাংলাদেশ দল।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম খেলায় সিলেটে, জিম্বাবুয়ের করা ২৮২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এমন অবস্থা দেখে আবারও খোঁচা দিয়েছেন ভারতের সাবেক তারকা ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৩ রানে অলআউট হওয়ার পর শেবাগ বলেন, ‘আমি এখনও বাংলাদেশকে অর্ডিনারি দল বলব। হয়তো তারা যে কোনো স্থানেই জিততে পারে; কিন্তু এই জয়ের জন্য অনেকগুলো বিষয় তাদের পক্ষে থাকতে হয়। যেমন: টস, প্রতিপক্ষের কোয়ালিটি, ভেন্যু, পিচ ইত্যাদি। আমার মতে এখনও তারা একটি অর্ডিনারি দলই।’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে আসার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় এই ওপেনার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অর্ডিনারি দল, যারা ভারতের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। তারা হয়তো ওয়ানডেতে চমক দেখাতে পারে, তবে সাদা পোশাকে কখনই নয়।’

taizul.jpg

দেড়শ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করার টার্গেট ছিল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত তা পারেনি টাইগাররা। তবে লক্ষ্যের চেয়ে খুব বেশি দূর যেতে পারেনি সফরকারীরা। অলআউট হয়েছে ১৮১ রানে।

এতে তাইজুলের টেস্ট ক্যারিয়ারের সাফল্যে যোগ হয়েছে আরেকটি পালক। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন এ বাঁহাতি স্পিনার। তার স্পিন বিষেই নীল হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। অলআউট হয়েছিল ২৮২ রানে। নিজে শিকার করেছিলেন ১০৮ রানে ৬ উইকেট।

ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্টে দুই ইনিংসেই ৫ উইকেট নিলেন তাইজুল। তার ১৭০ রানে ১১ উইকেট শিকার বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। ১৫৯ রানে ১২ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০০ রানে সমানসংখ্যক উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় এনামুল হক জুনিয়র।

এদিন আরও একটি কীর্তি গড়েছেন তাইজুল। ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে উইকেট শিকারে বাংলাদেশ কিংবদন্তিতুল্য পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এতদিন ৭৮ উইকেট নিয়ে দেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ম্যাশ। জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট ঝুলিতে ভরার বদৌলতে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে এখন তার উইকেট সংখ্যা ৮০।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি সাকিব আল হাসান। সাদা পোশাকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের শিকার ১৯৬ উইকেট। তার পরেই আছেন উইকেটের সেঞ্চুরি (১০০) পূর্ণ করে অবসর নেয়া বাঁ-হাতি স্পিনসেরা মোহাম্মদ রফিক।

mushh.jpg

খেলোয়াড়দের ভক্তের অভাব নেই। সেই ভক্তরা বিভিন্নভাবে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও এমন ঘটনা ঘটছে।

সর্বশেষ সিলেটে টেস্টে এক ভক্ত মাঠে ঢুকে মুশফিককে জড়িয়ে ধরেন। যে ছবিটি সামাজিকমাধ্যমে সবার ওয়ালে ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।তবে একই ম্যাচে আবারও মাঠে ঢুকে পড়লেন আরও এক মুশফিক ভক্ত। মাঠে ঢুকেই মুশফিকুর রহিমকে জড়িয়ে ধরে সেই কিশোর ভক্ত।

এই ঘটনাটি ঘটে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে। লাঞ্চের পরে নিরাপত্তা বাঁধা এড়িয়ে হঠাৎ করেই মাঠে ঢুকে পড়েন ১৫-১৬ বছরের এক কিশোর। মাঠে ঢুকে দৌঁড়ে এসে মুশফিককে জড়িয়ে ধরেন তিনি। পরে অবশ্য সাবেক এই অধিনায়কও জড়িয়ে নেন তার ভক্তকে। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে আনেন ছেলেটিকে।

team-bd-20181105171342.jpg

টেস্ট ক্রিকেটে দিন বা কোনো সেশনের শেষ দিকে উইকেট হারানোটা এক প্রকার নিয়মে পরিণত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেয়া ৩২১ রানের লক্ষ্যে বিনা উইকেটে ২৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আলোক স্বল্পতার কারণে এদিন নির্ধারিত সময়ের ৩৭ মিনিট আগেই বন্ধ করে দেয়া হয় খেলা। তখনো বাকি ছিলো দিনের ১৩.৫ ওভার খেলা।

দিন শেষ হওয়ার ঠিক আগের বলেই লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন হয়েছিল লিটন দাসের বিপক্ষে। আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলব্রো নট আউটের সিদ্ধান্ত জানালে রিভিউ নেয় জিম্বাবুয়ে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে যেত সে বলটি। ফলে বেঁচে যান লিটন। তখনই দিন শেষের ঘোষণা দেন দুই আম্পায়ার।

লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস মিলে অবিচ্ছিন্ন এ উদ্বোধনী জুটিতে খেলেছেন ১০.১ ওভার। দুজনের মেরেছেন দুইটি করে চার। লিটন ৩৮ বলে ১৪ এবং ইমরুল ২৩ বলে ১২ রান নিয়ে চতুর্থ দিন সকালে ব্যাট করতে নামবেন। শেষ দুই দিনে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে আরও ২৯৫ রান।

এর আগে জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানেই থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচ জিততে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২১ রানের। ম্যাচে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিন নম্বরে উঠে গিয়েছেন তিনি।

তাইজুল ৫ উইকেট নিলেও দিনের তিন সেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম সেশনের শুরুতেই ওপেনার ব্রায়ান চারিকে আউট করে উইকেটের সূচনা করেন মিরাজ। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তিনি ফেরান হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে। আর তৃতীয় সেশনের শুরুতে তিনি ফিরিয়ে দেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে।

চা বিরতির আগ পর্যন্ত (দ্বিতীয় সেশন) ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ১৬৫। তখন জিম্বাবুয়ের লিড দাঁড়িয়েছিল ৩০৪ রান। বাংলাদেশের জন্য যা রীতিমত বিশাল হিমালয় পাহাড়ের সমান। শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানেই অলআউট হলো মাসাকাদজারা।

তৃতীয় সেশন শুরুর পরপরই ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারলেন মেহেদী মিরাজ। ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। ৬০ বলে ১৭ রান করেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ভাই। তার আগেই দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য তাইজুল ঘূর্ণিতে দ্রুত উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। শন উইলিয়ামস, পিটার মুরকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলে সিকান্দার রাজা তাইজুলের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দিলেও দুই বল পর ঠিকই সেই সিকান্দারকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই স্পিনার।

সিকান্দার রাজার উইকেট নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে টেস্টে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান তাইজুল। সে সঙ্গে মাশরাফিকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিন নম্বরে চলে আসেন তিনি।

Masakadza

প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ১৩৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ে এগিয়ে যায় ১৪০ রানে। তবুও দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলামের কণ্ঠে ছিল আশার সুর, বলেছিলেন জিততেও পারে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে। সেটা হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব, খুব বেশি হলে ১৫০ রানের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে বেধে রাখতে হবে জিম্বাবুয়েকে। এরপরের দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের।

সফরকারী দলটিকে কম রানে বেধে রাখতে হলে তৃতীয় দিনের শুরুতেই একটা ব্রেক থ্রু এনে দেয়া প্রয়োজন ছিল। সেই ব্রেক থ্রুটাই এনেছিন তরুণ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ফিরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার ব্রায়ান চারিকে। ১৯ রানে পড়ে প্রথম উইকেট।

জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং ব্রায়ান চারি মিলে দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে যান। আজ সকালে সেখান থেকে শুরু করার পর আরও ১৮ রান যোগ করেন তারা। এরই মধ্যে তাইজুল, আবু জায়েদ রাহী, নাজমুল ইসলাম অপুদের ব্যবহার করে ফেলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মেহেদী হাসান মিরাজকে আনার পর দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য এনে দেন তিনি। অসাধারণ একটি বল করেন তিনি ব্রায়ান চারিকে। ইনিংসের ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিকে মিরাজ ভাসিয়ে দেন বাতাসে। চারি একটু ফরোয়ার্ড ফুটে এসে খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল টার্ন করে গিয়ে লাগে ব্যাটের ভেতরের কানায় এবং ব্যাটকে চুমু দিয়ে গিয়েই স্ট্যাম্পটা ভেঙে দেয় সেই বলটি। বোল্ড হয়ে যান চারি। ৩৩ বল খেলে ৪ রান করেন তিনি।

ব্রায়ান চারি আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন ব্রেন্ডন টেলর। মাঠে নেমেই কিছুটা চড়াও হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। তবে, তাকে বেশিদুর এগুতে দেননি তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় তাকেও ফিরিয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

প্রথম ইনিংসে তাইজুলের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি উইকেট দেন তাইজুলকে। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি খেলতে গিয়েই ক্যাচ তুলে দেন টেলর। পেছনে দিকে অনেকদুর দৌড়ে গিয়ে ক্যাচটা তালুবন্দী করেন ইমরুল কায়েস। ২৫ বলে ২৪ রান করে ফিরে যান টেলর।

লাঞ্চের আগ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন আগের ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার শন উইলিয়ামস। বিরতি থেকে ফিরেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে মাসাকাদজার। তেড়েফুঁড়ে মারমুখী ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে হারিয়েছেন তিনি।

ইনিংসের ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে টাইগার অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। কিন্তু পুরোপুরি পরাস্ত হওয়ায় বল আঘাত হানে তার প্যাডে। দুইবার না ভেবেই আউটের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার।

ব্যক্তিগত অর্ধশত থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকা মাসাকাদজা অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামসের সাথে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলে রিভিউ না করারই সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ম্যাচে দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন তিনি। ১০৪ বলের ধৈর্য্যশীল ইনিংসে ৭ চারের মারে ৪৮ রান করেন মাসাকাদজা।

dt008564.jpg

সিলেটের মাটিতে প্রথম টেস্টের দুইদিন তেমন ভালো যায়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত ২৩০ রানের লিড নিয়ে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তার ওপর হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও শন উইলিয়ামস জুটির কারণে দুশ্চিন্তা বাড়ছিল টাইগারদের। প্রথম ইনিংসে টাইগার বোলারদের ভালোই ভুগিয়েছিলেন এ দুইজন। তবে লাঞ্চ থেকে ফিরে মাসাকাজদাকে আউট করে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪২.১ওভারে ৫ উইকেটে ১২৪ রান করেছে জিম্বাবুয়ে।
সোমবার লাঞ্চ থেকে ফিরেই শতরানের কোটা পার করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। তবে এই জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই মাসাকাদজাকে আউট করেন মিরাজ। ইনিংসের ৩৭ ওভারের প্রথম বলে মাসাকাদজাকে এলবিডাব্লুর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৪৮ রান করেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। তারপর তারই পথ ধরে ঘরে ফেরেন সেকেন্দার রাজা ও পিটার মুর। তাদের দুইজনকে ই ঘরে ফেরান তাইজুল ইসলাম।

দিনের তেরতম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজের ঘূর্ণিতে উড়ে যায় চারির (৪) স্টাম্প। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ১৯। তিন নম্বরে নামা টেইলর শুরু থেকেই মারমুখী খেলতে থাকেন। ২৫ বল খেলে ৪টি চারে সাজিয়ে করে ফেলেন ২৪ রান। তবে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দী করে তাকে থামিয়ে দেন তাইজুল। দলীয় ৪৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের।

এর আগে রোববার জিম্বাবুয়ের বোলারদের দাপটের মুখে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অল আউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৮২ রান। দ্বিতীয় দিন শেষে ২ ওভার ব্যাট করতে পারে জিম্বাবুয়ে। তাতে রান আসে একটি। ফলে ১৪০ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করে তারা।

pakistan-v-new-zealand-20181105105550.jpg

আরব আমিরাতের মাটিতে এসে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াতেই পারছে না নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। শুরুতেই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই শোচনীয়ভাবে সরফরাজ আহমেদের দলের কাছে হেরেছে কেন উইলিয়ামস অ্যান্ড কোং। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কিউইদের ৪৭ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশই করলো পাকিস্তান।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই লড়াই করতে পারেনি পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। তিনি যখন দলকে একটা পর্যায়ে রেখে এসেছিলেন, তখনও জয়ের আশা ছিল নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে পতন ঘটে নিউজিল্যান্ডের পুরো ব্যাটিং লাইনআপের।

মাত্র ২৯ বল এবং ২৩ রানের ব্যবধানে কিউইদের খোয়াতে হয় ৮টি উইকেট। খেলার মাঝপথে এসে এমন ভয়ানক ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর আর কোনোভাবেই জয় কামনা করার উপায় ছিল না নিউজিল্যান্ডের। ফলাফল, চড়া মাশুল দিয়ে পাকিস্তানের কাছে ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে হার।

জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কলিন মুনরো (২) এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের (৬) উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৩ রানে ২ উইকেট পড়ার পর যে বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল সেটা কাটিয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস আর কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৮৩ রানের অনবদ্য জুটি।

এমন এক জুটির পর মুহূর্তে কে বলতে পারবে, অভাবনীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়বে কোনো দল! ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই হয়তো এটা সম্ভব। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দলটির নাম আবার পাকিস্তান। ১২.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান থেকে ১৬.৫ ওভারে ১১৯ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে আউট হন উইলিয়ামসন। ৩৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি।

পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খানের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে তার ফিরে যাওয়ার পরই ধ্বস নামে। ৯৭ রানের মাথায় ফেরেন গ্লেন ফিলিপস। ২৪ বলে ২৬ রান করেন তিনি। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে ইস শোধি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

শাদাব খান ৩০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ওয়াকাস মাকসুদ ২১ রান দিয়ে ২টি, ইমাদ ওয়াসিম ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ফাহিম আশরাফ নেন ১ উইকেট।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে। হাফসেঞ্চুরি করেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে ফাখর জামান ১১ রান করে আউট হন। এরপর হাফিজের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাবর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৪ রান যোগ করেন। শেষে ৭৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। ৫৮ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন বাবর।

শোয়েব মালিক চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯ বলে ১৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। আসিফ আলিকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে লড়াই করার রসদ এনে দেন হাফিজ। আসিফ ২ রান করে নটআউট থাকেন। হাফিজ আপরাজিত থেকে যান ব্যক্তিগত ৫৩ রানে। ৩৪ বলের ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।

mirazh.jpg

চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ম্যাচ বাঁচানোর শঙ্কায় পড়েছে টিম বাংলাদেশ। সফরকারী জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৮২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। ১৪০ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছে সফরকারীরা।

তৃতীয় দিন সকালে প্রথম সেশনেই ২-৩টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া মেহেদি-তাইজুলরা। যদিও দিনের শুরুতেই আবু জায়েদের বলে মাসাকাডজার ক্যাচ ফেলেছেন পয়েন্টে দাঁড়ানো নাজমুল ইসলাম অপু।

তবে একটু সময় নিয়ে হলেও জিম্বাবুয়ের শিবিরে প্রথম আঘাত হেনেছেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ১৯ রানে ব্রাইয়ান ছেইরিকে সরাসরি বোল্ড আউট করে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪ রান।

এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫২ রান। অধিনায়ক মাসাকাডজা ১৬ ও শন উইলিয়ামস ৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। এরইমধ্যে ১৯১ রানের লিড নিয়েছে সফরকারীরা।

saaafg.jpg

‘ড্রাইভার গিয়েছে শিশিরকে ড্রপ করতে। কিন্তু আলাইনা চায় আইসক্রিম খেতে যেতে! কিভাবে যাই?’ নিজের ফেসবুকে এমন ক্যাপশন সহ নিজের ছবি দিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ তারকার এমন পোস্টের পর হুলস্থুল কান্ড ঘটে গেছে সেই পোস্টে।

তার এমন প্রশ্নবোধক পোস্টের পর উত্তর জমা হয়েছে হাজার হাজার কমেন্ট। আর এই সুযোগটাকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তবে প্রশ্ন হল সাকিব কি আইসক্রিম পেয়েছিলেন?

আজ সেটাই জানালেন সাকিব নিজেই। নিজের ফেসবুক ভ্যারিফাইড পেইজে সাকিব একটি ছবি পোস্ট করেন আর তাতে তিনি লিখেন, Finally we got our ice cream.

dt008546-1.jpg

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে মাত্র ১৪৩ রানেই অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসেই অতিথিদের থেকে ১৪১ রানে পিছিয়ে আছে টাইগাররা। তবে কী হেরে যাবে বাংলাদেশ?

ইমরুল কায়েস এবং লিটন দাস। অনেক বড় আশা দেখেছিল বাংলাদেশ তাদের নিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দারুন খেলে সেই বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেষ্টের প্রথম ইনিংসে সেটা প্রমান করতে পারলেন না কেউই।

জিম্বাবুয়ের করা প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৪ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যক্তিগত ৫ রান করে চাকাবার বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন কায়েস। এরপর উইকেটের অনেক বাইরের বল খোঁচা মেরে আউট হয়েছেন লিটন দাস। তিনি করেছেন ৫ রান।

ব্যাটিংয়ে নেমে চাতারার বলে ফিরে গেছেন নাজমু হোসেন শান্ত। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তার ব্যাটে লেগে চলে যায় টেলের কাছে। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় জিম্বাবুয়ে এবং সেখানেই ধরা পড়েন শান্ত।

এরপর ব্যাটিং নেমে মাত্র দুটি বল মোকাবেলা করার সুযোগ পান রিয়াদ। কোন রান না করেই চাতারার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে তিনি। আর এতকিছু মাত্র ১৯ রানের মধ্যেই।

চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দাড়িয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন মুশফিক ও মুমিনুল। কিন্তু ব্যর্থ হয় সেটাও। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনিও।

আরিফুল হক এসে এরপর জুটি বাধে মুশফিকের সাথে। ২৫ রানের জুটি গড়ে তারা যায় চা বিরতিতে। কিন্তু চা বিরতি থেকে ফিরেই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহীম। জার্ভিসের বলে চাকাবার হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩১ রান করেন মুশফিক।

৭৮ রানে মুশফিকের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন মিরাজ। আরিফুল এবং মিরাজ মিলে দলের রান শতক পার করানোর পর বিদায় নেন মিরাজ। আউট হন ২১ রান করে।

এরপর আরিফুলের সাথে যোগ দিয়ে থিতু হওয়ার আগেই ফিরে যান তাইজুল ও নাজমুল ইসলাম অপু। ফলে ১৪৩ রানেই পতন হয় ৯ উইকেটের।

নাহ, এরপর আর এক রানও যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ। আবু জায়েদ রাহীর ভুলে রান আউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ফলে ৪১ রানেই অপরাজিত থাকে আরিফুল।

এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান করার পর দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের থেকে ১৪০ রানে এগিয়ে আছে।

mash78.jpg

২০১৭-১৮ সালে ক্রিকেট তারকাদের মধ্যে সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করা ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অন্যান্যদের সাথে সম্মাননা প্রদান করা হবে এই তারকা ক্রিকেটাদেরকে।

উল্লেখ্য যে, ‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা’র বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৬টি, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৫টি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১০টিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে প্রাপ্তদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। সেরা করদাতাদের এ তালিকায় ক্রিকেটার ছাড়াও রয়েছেন।শোবিজ অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী অভিনয়শিল্পীর মধ্যে সর্বোচ্চ কর দিয়ে অভিনেতা ও অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন আবুল হায়াত, অনন্ত জলিল ও মাহফুজ আহমেদ। তাছাড়া গায়ক-গায়িকা ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা, এসডি রুবেল ও তাহসান।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter