ফুটবল Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

football-20190825153707.jpg

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ (রোববার) ভারতের কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের কিশোররা ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলংকাকে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৫-২ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে।

বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড আল আমিন রহমান একাই করেছেন ৫ গোল। বাকি ২ গোল করেছেন রাকিবুল ইসলাম ও আল মিরাদ। শ্রীলংকার একমাত্র গোলদাতা মিহরান।

পরপর দুই ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোররা। বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২৭ আগস্ট নেপালের বিরুদ্ধে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেলে সাড়ে ৩ টায়।

দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি দেশ খেলছে এই টুর্নামেন্টে। লিগ ভিত্তিক খেলা শেষে শীর্ষ দুই দল ওঠবে ফাইনালে। বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।

bangan.jpg

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির পিতার নামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু সে তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে বাফুফে। ফলে এক মাস পিছিয়ে গেল টুর্নামেন্ট।

শনিবার বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় টুর্নামেন্টের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। নতুন তারিখ অনুযায়ী খেলা হবে ২২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এক মাস পিছিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম আবাহনী আয়োজিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ কবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, চট্টগ্রাম আবাহনী এই টুর্নামেন্ট অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল তারা। সেভাবেই ভারতের তিন ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মোহামেডান, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানায় চট্টগ্রাম আবাহনী ।

বাফুফের আজকের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তারিখ আগামীকাল জানানো হবে। কারণ, রোববার আমরা চট্টগ্রাম আবাহনীর শীর্ষ দুই কর্মকর্তা চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ এমপি এবং মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরী এমপির সঙ্গে আলোচনা করে শেখ কামাল আর্ন্তাতিক ক্লাব কাপের তারিখ নির্ধারণ করবো।’

ronaldo-messi-5d5f84a374c2c.jpg

খেলার মাঠে তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে রোনালদো আর মেসি একে অপরের পরিপূরক। মেসি ভালো করলে রোনালদোও ভালো করতে চান। মেসি ট্রফি জিতলে তার নিজেরও ক্ষুধাটাও বেড়ে যায়।

সম্প্রতি এমনটাই বলেছেন সিআর সেভেন। তিনি বলেন, ‘মেসি আর আমার মধ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমার খেলার মানকে বাড়াতে সাহায্য করেছে। নিজেদের দলের হয়ে আমরা সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সে কোনো ট্রফি জিতলে আমার ট্রাফি জেতার খিদেটাও বেড়ে যায়। ওর ভালো খেলা আমায় ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা জোগায়।’

রাশিয়া বিশ্বকাপের পর রিয়াল ছেড়ে যোগ দেন জুভেন্তাসে। এরপর কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় মেসির সঙ্গে। লা লিগায় যেমন একই গন্তব্যের জন্য লড়তেন দু’জন। এবার সেই প্রেক্ষাপট বদলেছে। তবে লীগ শিরোপা না হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে হয়তো কোনো না কোনো আসরে দেখা হতেই পারে তাদের।

ক্যারিয়ারের লম্বা সময় ধরে একসঙ্গে ফুটবল মাতানো ক্রিশ্চিয়ানো মেসির সঙ্গে ডিনারেও আগ্রহী রোনালদো। তার ভাষ্য , ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমরা একে অপরের বিপক্ষে খেলছি। দুজন পেশাদার খেলোয়াড়ের মধ্যে সম্পর্ক যেমন হওয়া উচিত, আমাদেরও তেমন। তবে ভবিষ্যতে আমাদের কোনো রেস্তোরাঁয় সময় কাটাতে দেখা যেতেই পারে।’

zoya-20190823214504.jpg

আবাহনীর সোহেল রানার গোল এশিয়ার সেরা হওয়ার ঘটনাটি ছিল শুক্রবারের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। একই দিন ভারতের কল্যাণী থেকে সুখবর পাঠিয়েছে কিশোর ফুটবলাররা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে লাল-সবজু জার্সিধারী কিশোররা ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভুটানকে। এ দুটি ভালো খবরের সঙ্গে নিজেদের যোগ করেছেন বাংলাদেশের দুই সাবেক নারী ফুটবলার জয়া চাকমা ও সালমা ইসলাম মনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তারা হয়েছেন ফিফা রেফারি। আজই (শুক্রবার) সুখবরটি পেয়েছেন তারা।

রাঙ্গামাটির মেয়ে জয়া চাকমা খেলা ছেড়ে ২০১০ সাল থেকে বাঁশি বাজাচ্ছেন ফুটবল মাঠে। এত দিন ঘরে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সঙ্গে ফিফা রেফারি হওয়ার স্বপ্নকে বড় করেছেন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী ফুটবলের কোচ জয়া চাকমার। জয়া এবং সালমা দুইজনই আগামী বছর জানুয়ারি থেকে তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন ফিফার। তখন বড় বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাঁশি বাজাতে পারবেন বাংলাদেশের এই দুই নারী রেফারি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম নেসার জানিয়েছেন, ‘জয়া চাকমা এবং সালমা ইসলাম মনি দুইজনই এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন তাদের নাম পাঠিয়ে দেবো ফিফায়। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে ফিফার তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন তারা।’

এই স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন জয়া। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চেষ্টায় স্বপ্নপূরণের পর শুক্রবার রাতে টেলিফোনে জয়া বলছিলেন, ‘আমার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এর আগে দুইবার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারিনি। স্বপ্ন থেকে সরে যাইনি। হতাশও হইনি। অবশেষে আমার স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এবার আমি নিজের ফিটনেস পরীক্ষাটা ভালোভাবে দিয়েছি। চেষ্টা করেছি পাস করতে। শেষ পর্যন্ত আমি পেরেছি।’

জয়া ২০১০ সাল থেকে রেফারি ক্যারিয়ার শুরু করলেও সালমার রেফারি হিসেবে শুরু ২০১৩ সালে। অবশেষে ছয় বছর পর সালমাও হতে যাচ্ছেন ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি।

neymar-20190823123258.jpg

বছরদুয়েক আগে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) নাম লেখানোর সময় কম নাটক হয়নি ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে। অনেক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়ে শেষপর্যন্ত রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে স্পেন ছেড়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন নেইমার।

কিন্তু ফ্রান্সে দুই মৌসুম কাটানোর পর মন বসছে না তার। জানিয়েছেন দল ছাড়ার কথা। ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন পুনরায় স্পেনে ফেরার। যথারীতি ফেরার পথেও তৈরি হয়েছে বছরদুয়েক আগের মতোই নাটক। কখনো শোনা যায় রিয়াল মাদ্রিদে যাবেন নেইমার, আবার গুঞ্জন ওঠে বার্সেলোনাতেই ফিরবেন তিনি।

দুই দলই পেতে আগ্রহী নেইমারকে। ব্রাজিলিয়ার এ সুপারস্টারের জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতেও রাজি বার্সা ও রিয়াল। কিন্তু কোনোভাবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না তারা। আর এসবকে ঘিরে চাপা ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে।

বিশেষ করে কাতালুনিয়ান ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তামেউর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা বললেও, দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতে এটুকু যথেষ্ঠ নয়। এ কারণেই বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে এখন উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।

নেইমারের সাম্প্রতিক কথাবার্তায় পরিষ্কার তিনি আবারও ফিরতে চান বার্সেলোনায়। একই সঙ্গে বার্সেলোনার সিনিয়র খেলোয়াড় তথা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজরাও নিজেদের সাবেক সতীর্থকে ফিরে পেতে উদগ্রীব। তাই নেইমারকে দলে ফেরানোর জন্য ক্লাব প্রেসিডেন্টকে একপ্রকার চাপই দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

খেলোয়াড়দের চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে হাত পা গুটিয়ে বসে নেই বার্সার ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার নেইমারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রস্তাব করেছে তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রস্তাবটি ছিলো ১৪০ মিলিয়ন ইউরোর। এছাড়া বেশ কয়েকবার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর সঙ্গে খেলোয়াড় দেয়ার কথাও বলেছে তারা।

কিন্তু এসবের কোনোটিতেই রাজি হয়নি পিএসজি। তাদের দাবি একটাই, নেইমারকে নিতে হলে খরচ করতে হবে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু বার্সোলোনার খেলোয়াড়দের আগ্রহের কারণে এত বড় অঙ্কটাকেও ছোট হিসেবেই মনে করছে পিএসজি। বার্সা খেলোয়াড়দের অভিযোগ, নেইমারকে ফেরানোর জন্য যথাযথ চেষ্টা করছেন না প্রেসিডেন্ট বার্তামেউ।

নেইমারের এ দলবদলে শুধু মাত্র বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের লড়াই হলে, হয়তো এতদিন পাওয়া যেত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এর সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদ যোগ দেয়ায় আরও কঠিন হয়েছে বার্সেলোনার কাজ। যে কারণে ১৪০ মিলিয়ন পর্যন্ত খরচ করার ইচ্ছাপোষণ করেও ইতিবাচক কোনো খবর পায়নি কাতালান ক্লাবটি।

এরই মধ্যে আবার খবর বেরিয়েছে বার্সেলোনার সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় বসতে চায় না পিএসজি। এর চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে বৈঠকে বসতেই বেশি আগ্রহী পিএসজির মালিক নাসের আল খেলাইফি। যা কি-না আরও বাড়িয়েছে মেসি-সুয়ারেজদের রাগ।

বর্তমান অবস্থায় বার্সেলোনার প্রথম পছন্দের খেলোয়াড়ই হলেন নেইমার। কিন্তু তিনি নিজেও যেহেতু আর পিএসজিতে থাকতে চান না, তাই খেলাইফির কথা মোতাবেক যোগ দিতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদেই। আর এমনটা হলে পূরণ হবে না লিওনেল মেসির ইচ্ছা। যিনি আগেই বলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে হলে নেইমারকেও দলে প্রয়োজন তার।

volyball-20190822193340.jpg

তিন বছর আগে ঢাকায় সাফল্যের মশাল জ্বালিয়েছিল ভলিবল দল। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে। এরপর থেকেই ভলিবল যেন পেছনে হাঁটছে। ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে- উদ্ধার আর করা যায়নি।

এবার নেপালে চলমান টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন। জাতীয় দলকে এক মাসের মতো অনুশীলন করিয়ে এনেছে ইরান থেকে। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি বেশকিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলিয়েছেন দলের ইরানী কোচ আলী পোর আরোজি; কিন্তু টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়েছে ভরাডুবি।

নেপালে ৭ জাতির এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। কোন ম্যাচ জিততে পারেনি। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছিল দেশগুলো। বাংলাদেশ ছিল ‘বি’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ছিল তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তান।

এমন ফলাফল কেন হলো? ‘আমি আসলে কিছুই জানি না। গিয়েছিলাম হজ্জ্ব পালন করতে সৌদি আরবে। গতকাল রাতে ঢাকায় ফিরেছি। কারো সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি’- বলছিলেন বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।

ইরানে প্রায় এক মাস অনুশীলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা তো চেষ্টার ত্রুটি করিনি। ৭০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে দলকে এক মাস ইরান রেখে অনুশীলন করাতে। সামনে আমাদের এসএ গেমস। দক্ষিণ এশিয়ার এই গেমসে ভালো করার জন্য আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।’

bangladesh-football-20190822220829.jpg

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচের ঠিক ১৮ দিন আগে প্রস্তুতি শুরু করছেন জাতীয় ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। (শুক্রবার) শুরু হবে ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্প।

প্রথমে ২৫ জনের নাম ঘোষণা করেছিল বাফুফে। কোচ ঢাকায় ফিরে সে তালিকায় যোগ করেছেন আরামবাগের গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেলকে। ২৬ জন থেকে ৩ জন বাদ দিয়ে কোচ ১ সেপ্টেম্বর উড়াল দেবেন তাজিকিস্তানের পথে। দেশটির রাজধানী দুশানবের রিপাবলিকান সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ১০ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ।

ক্যাম্প শুরুর আগে আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জেমি ডে। স্কোয়াডে সদস্য বাড়ানো, প্রস্তুতির পরিকল্পনা এবং দলে আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেলকে রাখা নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশকে বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে তোলা এই ইংলিশ কোচ।

২৫ জনের তালিকায় ছিলেন তিন গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকু ও শহিদুল আলম সোহেল। আরামবাগের হিমেলকে ডাকায় জেমির হাতে এখন গোলপোস্টের অতন্ত্র প্রহরী ৪ জন। একজনকে মাইনাস করেই তাকে বেছে নিতে হবে সেরা তিনজনকে।

‘আমি সবসময় তিনজন গোলরক্ষক পেতে চাই। হিমেলকে ডাকার কারণ হলো- কেউ চোটে পড়তে পারেন। তখন যেন ৩ জনই আমার হাতে থাকে। সে জন্য গোলরক্ষক বাড়ানো ক্যাম্পে। হিমেল আমার পছন্দের গোলরক্ষক। আমি তাকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্পে দেখতে চাই যাতে তিনজনকে বেছে নিতে পারি’- বলেছেন জেমি ডে।

শহিদুল ইসলাম সোহেলকে ডাকা প্রসঙ্গে জাতীয় দলের কোচ বলেছেন, ‘সোহেল অবশ্যই ভাল গোলরক্ষক। তবে সে মাঝেমধ্যে ভুল করে। আর রানা বেশি ধারাবাহিক। সেও ভুল করতে পারে। গতকাল (বুধবার) রাতে এএফসি কাপের ম্যাচে সোহেলের কারণে আবাহনী তৃতীয় গোলটি হজম করেছে। ওই সময়ে তার ম্যুভমেন্ট আরও ভাল হওয়া উচিত ছিল। তবে এসব জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না। কারণ সবাই ভুল করে। ওপরে জীবন, সোহেল, সাদও ভুল করেছে এ ম্যাচে। আসলে এগুলো খেলারই অংশ।’

ক্যাম্প নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘প্রথম সপ্তাহে আমরা ফিটনেস নিয়ে কাজ করবো। পাশাপাশি আমরা কি করতে চাই এ সময়ে সেদিকেও মনোনিবেশ করবো। আগামী দিনগুলো নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আমাদের প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় আছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে জোড় দিবো ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলোতে।’

‘আফগানিস্তান হোম ভেন্যু হিসেবে টার্ফের মাঠ বেছে নিয়েছে। সেটা আমাদের জন্য কখনই অযুহাত হবে না। দেশে আমরা প্রধানত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই অনুশীলন করবো। তাজিকিস্তান গিয়ে ম্যাচের আগে পর্যন্ত টার্ফে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলবো। আমরা চেষ্টা করবো যেখানে খেলা হবে সেখানেই ৫-৬ দিন অনুশীলন করার যাতে দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে তুলতে পারি’- বলেছেন বাংলাদেশ কোচ।

আগের রাতে আবাহনীর ম্যাচটি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন জেমি ডে। সোহেল রানার করা প্রথম গোলটিকে দুর্দান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ভালো বলেছেন নাবিব নেওয়াজ জীবনের গোলটিকেও। আসলে খেলোয়াড়রা গোল পাওয়া জেমির জন্য স্বস্তির। সোহেল রানা ও জীবনের গোল জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেও মনে করছেন জেমি ডে।

cr7-20190822141939.jpg

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদদের একজন ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু ধনসম্পদেই নয়, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও অন্যতম সেরা এ ফুটবলার। কিন্তু তার জীবনের শুরুটা মোটেও এত সহজ ও সুন্দর ছিলো না। অনেক সংগ্রাম করেই নিজেকে বর্তমান অবস্থায় এনেছেন রোনালদো।

তাই নিজের ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে জীবনের এ শিক্ষাটি মনে করিয়ে দিয়েছেন রোনালদো। বর্তমানে অর্থের প্রাচুর্য এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে নিজেদের শুরুর কথা যেনো ভুলে না যায় জুনিয়র, সে ব্যবস্থাই করেছেন তার বাবা।

পর্তুগালের মাদেইরা আইল্যান্ডে খুবই দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন রোনালদো। পরিবারের অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিলো যে, গর্ভে থাকতেই সন্তান মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন রোনালদোর বাবা। তবে মায়ের বাধায় তখন পৃথিবীর মুখ দেখেন রোনালদো। পরে মাত্র ১২ বছর বয়সে নিজের জীবনের লক্ষ্যপূরণে বেরিয়ে যান তিনি। মাদেইরা ছেড়ে চলে যান লিসবনে।

প্রায় দুই যুগ পর রোনালদোর এখন অর্থকড়ি, বাড়ি-গাড়ি সবই আছে, কিন্তু তাই বলে ভুলে যাননি নিজের অতীতকে। এমনকি ভুলতে দেবেন না নিজের ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকেও। তাই নিজের ছোটোবেলার বন্ধু মিগুয়েল পাইজাওকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাজির হন লিসবনে, যেখানে তিনি শুরু করেছিলেন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার।

রোনালদোর শুরুর দিকের ক্লাবের অবস্থা দেখে তাজ্জব বনে যায় তার ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে রোনালদো আসলেই এখানে থাকতেন কি-না। পর্তুগিজ টিভি চ্যানেল টিভিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছেলেকে জীবনের এ শিক্ষাটি দেয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন রোনালদো।

তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে বড় হয়েছি, সে জায়গাটি ওকে (ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র) দেখানোর জন্য খুবই উত্তেজিত ছিলাম। সে মাদেইরা সম্পর্কে আগেই শুনেছিল। সে আমার সঙ্গে গেলো এবং সেখানে এখনও অনেক মানুষ আছে যারা তখনও আমার সঙ্গে ছিলো। এটা আমাকে নাড়া দেয়। কারণ আমি ভাবিনি তাদের সেখানে দেখতে পাবো। এতে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।’

এরপর ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে নিয়ে নিজের থাকার স্থানে যান রোনালদো। তার ভাষ্যে, ‘পাইজাওকে সঙ্গে নিয়ে আমি সেই ঘরে ঢুকলাম, যেখানে আমরা একসঙ্গে থাকতাম। এ ঘর দেখে জুনিয়র ঘুরে জিজ্ঞেস করলো, ‘বাবা, তুমি এখানে থাকতে?’ তার যেনো এটা বিশ্বাসই হচ্ছিলো না।’

তখনই গভীর জীবনবোধের কথা বলেন রোনালদো, ‘ওরা মনে করে পৃথিবীর সবই হয়তো সহজ। জীবনযাত্রার মান, ঘরবাড়ি, জামাকাপড়, গাড়ি- এগুলো হয়তো তাদের কাছে এমনিই চলে এসেছে। আমি আমার ছেলেকে এটিই বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে কোনো কিছুই সহজ নয়। এমনকি আমি স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও বাচ্চাদের এ জিনিসটাই বলি। আমি বোঝানোর চেষ্টা করি যে শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না। আত্মনিবেদন এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলেই কেবল সবকিছু পাওয়া সম্ভব।’

abahani-20190821210404.jpg

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের সামনের গ্যালারিতে উত্তর কোরিয়ার জনা বিশেক সমর্থক দেশটির পতাকা দুলিয়ে সমর্থন দিচ্ছিল তাদের দেশের ক্লাব এপ্রিল টোয়েন্টিরফোর এসসিকে। তাদেরই ডান পাশে আবাহনী গ্যালারি প্রায় পরিপূর্ণ আকাশী-হলুদ সমর্থকে।

আবাহনীর গোলের পর পশ্চিম গ্যালারি নেচে উঠে। পরক্ষণেই কোরিয়ানদের পতাকা উঁচিয়ে গোলের আনন্দ। দুই দেশের দুই ক্লাবের মধ্যকার এএফসি কাপের ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে দর্শকরা প্রাণভরে দেখলো গোল। ৭ গোলের ম্যাচ শেষে স্কোর আবাহনী-৪ : এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভ-৩।

ধারে-ভারে আবাহনীর চেয়ে এগিয়ে উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটি। ম্যাচ শুরুর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে খেলা এই দেশটির ক্লাবকে ফেবারিটই মনে করেছিল সবাই; কিন্তু ঘরের মাঠে আবাহনী খেললো দুর্দান্ত ফুটবল। ৩৩ মিনিটে সোহেল রানার বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় আবাহনী। দুই মিনিট পর রক্ষণের ভুলে সমতায় ফেরে সফরকারী দলটি। ৩৭ মিনিটে নাবিব নেওয়াজ জীবনের গোলে আবার এগিয়ে যায় আবাহনী। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল হজম আবাহনীর। ৫৪ মিনিটে স্কোর ২-২।

এর পর আবাহনীর দুই বিদেশি হাইতির বেফোর্ট ও নাইজেরিয়ার সানডে ঝড়। তাদের রসায়নে এলোমেলো কোরিয়ান ক্লাবের ডিফেন্ড। টুটুল হোসেন বাদশার পাস থকে ৫৭ মিনিটে গোল করে ৩-২ করেন সানডে। ৬১ মিনিটে বেলফোর্ট থেকে বল পেয়ে করেন ৪-২।

৭৭ মিনিটে তৃতীয় গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনলেও হার এড়াতে পারেনি এর আগে দুইবার এএফসি কাপের ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলা কোরিয়ান ক্লাবটি। ঘরের মাঠে ৪-৩ গোলের অবিস্মরণীয় এক জয়ে ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখলো আবাহনী।

আগামী ২৮ আগস্ট উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে হবে ফিরতি ম্যাচ। ফাইনালে উঠতে হলে আবাহনীকে নিদেনপক্ষে ড্র করতে হবে অ্যাওয়ে ম্যাচে।

ronalddo.jpg

কাতার বিশ্বকাপে কি রোনালদো খেলতে পারবেন? প্রশ্নটা রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই উঠছে। যদি খেলতে না পারেন তবে রোনালদো অবসর নেবেন কবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন কবে, আর লিগ ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন কবে? উত্তর রোনালদোও জানেন না। যতদিন ফুটবল উপভোগ করবেন ততদিন খেলবেন বলে উল্লেখ করেছেন পাঁচবারের ‘ব্যালন ডি’ অর’ জেতা এই ফুটবলার। বলেন, আগামী মৌসুমেই ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে পারেন। আবার ৪০ বছর বয়স পর্যন্তও খেলে যেতে পারেন।

বয়স হয়ে গেছে ৩৪। কিন্তু রোনালদোর ধার এখনও কমেনি। জুভেন্টাসে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। সর্বশেষ মৌসুমেও ইতালির রক্ষণাত্মক লিগে ৪৩ ম্যাচ খেলে ২৮ গোল করেছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। অবসরের প্রশ্নে তাই তিনি টিভিআইকে বলেন, ‘আমি এখনই অবসর নিয়ে ভাবছি না। হয়তো আগামী মৌসুমেই অবসরের কথা জানিয়ে দেব। আবার আমি ৪০-৪১ বছর বয়স পর্যন্তও খেলতে পারি।’

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রোনালদো। ম্যানইউয়ের হয়ে জিতেছেন একটি। তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন। লা লিগার শিরোপা উচিয়ে ধরেছেন দু’বার। প্রথম মৌসুমে ওল্ড লেডিদের হয়ে ইউরোপ সেরার পুরস্কার জিততে না পারলেও রোনালদো সিরি আ’ জিতেছেন। তিনি এসব মুহূর্ত উপভোগ করছেন বলে উল্লেখ করেন, ‘সব সময় আমি যেটা বলি তা হলো, মুহূর্তটা আমি উপভোগ করছি। আমি এই উপভোগ্য মুহূর্তটা এগিয়ে নিতে চাই।’

রোনালদো এরই মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে গেছেন। তিনি বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। আরও রেকর্ড তিনি গড়তে চান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা থেকে বেশি রেকর্ড থাকা ফুটবলার কেউ আছেন? আমি মনে করি না আছে।’ রোনালদোর জুভেন্টাস সতীর্থ এবং রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলা সামি খেদিরা বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের জন্য রোনালদো উদাহরণ। তিনি বাস্কেটবলের জেমস লিব্রনের মতো কিংবা আমেরিকান ফুটবলার টম ব্রেডির মতো। বুফনও ওই কাতারে। তাদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।’