খেলাধুলা Archives - Page 4 of 12 - Dhaka Today

afridi-nephew.jpg

শহীদ আফ্রিদি, পাকিস্তান তথা বিশ্ব ক্রিকেটেরই জনপ্রিয় এক নাম। পাকিস্তানের জাতীয় দলে দীর্ঘসময় খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে চাচার মতো ওত নাম ডাক পাওয়া হয়নি ইরফান আফ্রিদির। পাকিস্তান ছেড়ে পারি জমিয়েছিলেন উগান্ডায়। সেখানকারই জাতীয় দলে খেলেন এই স্পিনার।

শহীদ আফ্রিদি সম্পর্কে চাচা হলেও বয়সের পার্থক্য খুব বেশি নয় ভাতিজা ইরফানের। করাচিতে জন্ম নেয়া এই স্পিনার ২০১৩ সালে ২৮ বছর বয়সে উগান্ডায় পারি জমান। এখন তার বয়স ৩৩। আফ্রিদির ৩৮।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের বিপক্ষে উগান্ডার হয়ে অভিষেক হয় ইরফান আফ্রিদির। তিনি আবার অফস্পিন, লেগস্পিন দুটোই করতে জানেন। ওমানে তার দল বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেট লিগের তৃতীয় বিভাগে খেলছে।

সেখানে খেলতে গিয়েই চাকিং করে ধরা পড়েছেন আফ্রিদির ভাতিজা। অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে ইরফান আফ্রিদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের সময় উগান্ডা অধিনায়ক রজার মুকাসাকে ডেকে আম্পায়ার জানান, ইরফানের বল চাকিং হচ্ছে। যদিও আম্পায়ারের এমন অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উগান্ডা অধিনায়ক। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, আম্পারের বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ম্যাচ থেকে মনোযোগ সরে গিয়েছিল তাদের, যে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫৪ রানে হেরে যায় উগান্ডা।

taijul-20181113164338.jpg

দৃষ্টিতে ভেসে থাকার মত একটি ফিল্ডিং। বাজপাখির মত ডান পাশে ঝাঁপ দিয়ে আকাশে উঠে গেলেন তাইজুল ইসলাম। শূন্যে থেকেই দুই হাতের তালুতে লুফে নিলেন বলটি। অবিশ্বাস্য, অসাধারণ বললেও কম বলা হবে যেন তাইজুলের ক্যাচটি। ১১০ রানে থাকা ব্রেন্ডন টেলরকে এ ধরনের ক্যাচ দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যেই যেন সারাদিনের সাফল্য বেধে রাখা থাকলো।

ব্রেন্ডন টেলর রীতিমত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। সেঞ্চুরিও করে ফেলেছিলেন। ৫২২ রান করার পরও যখন বাংলাদেশের হাত থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচটা বের করে আনছিলেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেলর, তখন প্রয়োজন ছিল তাকে ফেরানো।

টেলরের সঙ্গে ভয়ঙ্কর জুটি গড়েন পিটার মুরও। তাদের গড়া ১৩৯ রানের জুটি ধীরে ধীরে যখন আশা মিইয়ে দিচ্ছিল, তখনই আঘাত হেনেছিলেন আরিফুল হক। পিটার মুরকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ৮৩ রান করে ফেরেন পিটার মুর।

কিন্তু বিপজ্জনক ছিলেন ব্রেন্ডন টেলর। ১১০ রানের ইনিংস খেলে তিনিই জিম্বাবুয়েকে টানছিলেন সামনের পথে। শেষ বিকেলে আশা ছিল স্পিনাররা টার্ন পাবেন, ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলবেন। সেটাই পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তার বোলিংয়ের চেয়ে ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব যে সবচেয়ে বেশি বোলার তাইজুল ইসলামের!

বোলার হয়তো ডেলিভারিটি দিলেন। কিন্তু ফিল্ডর যদি ঠিকভাবে ক্যাচ নিতে না পারেন! অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের বলে তো দুটি ক্যাচ মিস হয়েছিল! তাতে বাংলাদেশেরই ক্ষতি, কিন্তু কিছু করার নেই। এমন পরিস্থিতিতে বোলার মিরাজ বলে করে যাচ্ছেন। ৯৯তম ওভারের প্রথম বলটিতেই টেলরকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি।

মিরাজের বলে স্লগ সুইপ খেললেন টেলর। বল চলে গেলো লং লেগ অঞ্চলে। সেখানে ঠিক বলের নাগালের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাইজুল। কিন্তু ডান দিকে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি যে ক্যাচটি ধরলেন, সেটা চোখে না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। অবিশ্বাস্য সেই ক্যাচটি ধরেই জিম্বাবুয়ের আশার প্রতীক হয়ে ওঠা টেলরকে ফেরালেন তাইজুল। আশা ফিরলো তখন বাংলাদেশ শিবিরেও।

bd-vs-zim.jpg

তেন্দাই চাতারা বোলিং করার সময় যে ইনজুরিতে পড়েছিলেন, তাতে এই টেস্টে আর তার খেলার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং, জিম্বাবুয়ের ৯ উইকেট পড়া মানেই অলআউট তারা। ২১৮ রানের বিশাল লিড বাংলাদেশের। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে, বোঝা গেলো না জিম্বাবুয়েকে ফলো অন করাবে কি না বাংলাদেশ। তবে, খেলার গতি প্রকৃতি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বুধবার সকালে আবারও জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সিলেটে শোচনীয় পরাজয়ের পর ঢাকায় জিততে না পারলে সিরিজই হেরে যাবে বাংলাদেশ। সুতরাং, ঢাকায় জয় ছাড়া অন্য কিছু চিন্তায় নেই টাইগারদের। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন জিম্বাবুয়েকে খুব দ্রুত অলআউট করে ফলো অনে ফেলা। কিন্তু ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ব্রেন্ডন টেলর আর পিটার মুর মিলে বাংলাদেশের সেই আশাকে সুদুর পরাহত করে তুলেছিল প্রায়।

৬ষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের বিশাল জুটি গড়ে তুলেছিলেন টেলর আর মুর। এ জুটিকে ভাঙ্গার আপ্রাণ চেষ্টা অবশেষে সফল হলো ৯২তম ওভারের শেষ বলে এসে। মিডিয়াম পেসার আরিফুল হকের বলে এলবির শিকার হন পিটার মুর। ১১৪ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে তবেই বিদায় নেন মুর।

এই উইকেটের মধ্য দিয়েই বলতে গেলে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপর দিনের বাকি কাজটা করে ফেলেন স্পিনাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম। এক ওভারেই মিরাজ ফিরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যানকে।

তবে দিনের সবচেয়ে সেরা সাফল্য বলতে হবে ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট। ১১০ রান করে ফেলা টেলরকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বোলার মিরাজের যতটা না কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব ফিল্ডার তাইজুল ইসলামের।

৯৯তম ওভারের প্রথম বলটিতেই টেলরকে ফেরালে মিরাজ। তার বলে স্লগ সুইপ খেললেন টেলর। বল চলে গেলো লং লেগ অঞ্চলে। সেখানে ঠিক বলের নাগালের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাইজুল ইসলাম। নাগালের বাইরে ক্যাচ।

কিন্তু তাইজুল ডান দিকে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিলেন। এরপর বাজপাখির মত ঝাঁপ দিয়ে যে ক্যাচটি ধরলেন, সেটা চোখে না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। রীতিমত অবিশ্বাস্য! সেই ক্যাচটি ধরেই জিম্বাবুয়ের আশার প্রতীক হয়ে ওঠা টেলরকে ফেরালেন তাইজুল। আশা ফিরলো তখন বাংলাদেশ শিবিরেও।

এক বল বিরতি দিয়ে আবারও উইকেট পেলেন মিরাজ। এবার ফেরালেন তিনি ব্রেন্ডন মাভুতাকে। মিরাজের বলকে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ফাস্ট স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুলের হাতে জমা দিতে বাধ্য করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর বোলিংয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। তিনিও নিলেন ১ উইকেট। তবে আজই অলআউট হয়ে যেতে পারতো জিম্বাবুয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দুটি ক্যাচ মিস না হলে। ১০৩ ওভারের ৬ষ্ঠ বলে প্রথম স্লিপে রেগিস চাকাভার ক্যাচ মিস হয়। এরপর ১০৫তম ওভারের শেষ বলে কাইল জার্ভিসের ক্যাচ শর্ট লেগে হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি মুমিনুল হক।

এরপর ১০৬ ওভারে বোলিং করতে আসেন তাইজুল ইসলাম। তার করা তৃতীয় বলে শট লেগে ক্যাচ ধরেন চাকাভা। ১০ রান করা চাকাভার ক্যাচ এবার আর ফেললেন না মুমিনুল। তবুও থার্ড আম্পায়ার দেখতে হলো। এরপরই আউট ঘোষণা করা হলো চাকাভাকে। ৩০৪ রানে পড়লো ৯ম উইকেট। এরপরই দিনের খেলা শেষ করে দেয় জিম্বাবুয়ে। অথ্যাৎ আজ আর অলআউট হতে চাইলো না তারা। দিনের খেলা ২.৩ ওভার (আড়াই ওভার) বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দিলো জিম্বাবুইয়ানরা।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে স্বাগতিকদের হতাশায় ডোবাতে শুরু করেন জিম্বাবুইয়ের দুই ব্যাটসম্যান পিটার মুর এবং ব্রেন্ডন টেলর। এ দুজনই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হলেও এ ম্যাচে খেলছেন পুরো দস্তুর ব্যাটসম্যান হিসেবে।

অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬০ রান যোগ করে চা পানের বিরতিতে যান মুর ও টেলর। এরপর দু’জন গড়েন ১৩৯ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ২৭০ রানে ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। আউট হন পিটার মুর।

তার আগে প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও দুই উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। পুরো ওয়ানডে সিরিজ ও সিলেট টেস্টে ভোগানো শন উইলিয়ামস এবং সিকান্দার রাজাকে সরাসরি বোল্ড করে ইনিংসে চার উইকেট দখল করেন তাইজুল ইসলাম। উইলিয়ামস আউট হন ১১ রান করে, রাজা ব্যর্থ হন রানের খাতা খুলতে।

সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট নেয়া তাইজুল এ ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে স্পর্শ করলেন অসাধারণ এক মাইলফলক। রেগিস চাকাভাকে আউট করে এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।

তাইজুল ইসলাম ছাড়া ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ১ উইকেট নেন আরিফুল হক। অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের দুর্ভাগ্য। দুটি ক্যাচ মিস হওয়ার কারণে তিনি কোনো সাফল্য পেলেন না। ১৮ ওভারে ৪৮ রান দিয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানও সাফল্য পাননি। ২১ ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ৫৮ রান।

এর আগে রোববার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহীমের হার না মানা ২১৯ রান এবং মুমিনুল হকের ১৬১ রানের বিশাল ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তোলে ৫২২ রান। ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মেহেদী হাসান মিরাজও।

dt008696.jpg

রিভিউ নিয়ে চারিকে ফেরাল বাংলাদেশমেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচের রিভিউ নিয়ে ব্রায়ান চারিকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভেঙেছে বাংলাদেশ।

অফ স্পিনারের বল স্পিন করে চারির গ্লাভস ছুঁয়ে ক্যাচ যায় শর্ট লেগে। একহাতে ক্যাচ মুঠোয় জমান মুমিনুল হক। ক্যাচের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন মাহমুদউল্লাহ। আল্টাএজে মিলে গ্লাভসে মৃদু স্পর্শের প্রমাণ। পাল্টায় সিদ্ধান্ত, ফিরে যান জিম্বাবুয়ের ওপেনার।

১২৮ বলে ছয় চার আর দুই ছক্কায় ৫৩ রান করে চারির বিদায়ে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।

৪২ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৯৬/৩। ক্রিজে ব্রেন্ডন টেইলররের সঙ্গী সিলেট টেস্টের সেরা খেলোয়াড় শন উইলিয়ামস।

চারি-টেইলর জুটিতে পঞ্চাশ

শুরু থেকে আস্থার সঙ্গে খেলছেন ব্রেন্ডন টেইলর। তিনি ক্রিজে আসার পর যেন পাল্টে গেছে ব্রায়ান চারির ব্যাটিং। নিজেকে গুটিয়ে রাখা ওপেনার শুরু করেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের পঞ্চাশ রানের জুটিতে দ্রুত এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে।

তৃতীয় উইকেটে সফরকারীরা পেয়েছে ইনিংসের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। জুটির রান পঞ্চাশে যায় ৬৪ বলে।

চারির ফিফটি

প্রথম ঘণ্টার পর রানের গতি বাড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। এতে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রায়ান চারির। ডানহাতি এই ওপেনার তাইজুল ইসলামের এক ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তুলে নিয়েছেন ফিফটি।

প্রথম ৯৩ বলে ২০ রান করেন চারি। তাইজুলকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু হয় তার পাল্টা আক্রমণ। এরপর পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদকে হাঁকান ছক্কা-চার। পরে তাইজুলের ওপর চড়াও হয়ে ১১১ বলে ওপেনার পৌঁছান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিতে। পঞ্চাশে যাওয়ার পথে শেষ ১৮ বলে ৩১ রান তুলে নেন তিনি।

টিরিপানোর প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল

একের পর এক বল ঠেকিয়ে যাওয়া ডোনাল্ড টিরিপানোর প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের হাত ধরে তৃতীয় দিন সকালে এলো প্রথম সাফল্য।

নাইটওয়াচম্যান টিরিপানো দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলা কাটিয়ে দেওয়ার তৃতীয় দিনেও খেলছিলেন দারুণ সতর্কতায়। প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনে স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় তার সংগ্রাম।

৪৬ বল খেলে একটি চারে ৮ রান করেন টিরিপানো। ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ক্রিজে ব্রায়ান চারির সঙ্গী ব্রেন্ডন টেইলর।

taxcard-20181112212655.jpg

এ বছর সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন ১৪১ জন। এর মধ্যে খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিনজন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্ড দেয়া হয়।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাদের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেন।

shakib

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পান সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।

tamim

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের জেলা পর্যায়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সর্বোচ্চ কর দেয়া ৩৭০ জন এবং দীর্ঘমেয়াদে কর প্রদানকারী ১৪৫ জনসহ মোট ৫১৫ জন করদাতাকে সম্মাননা দেয়া হয় বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলগুলো তাদের সম্মাননা দেবে।

ushfiqur.jpg

ঢাকা টেস্ট প্রথম দিন ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন মুমিনুল হক। দিন শেষে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো বারবার আটকে গেলে, ডাবল সেঞ্চুরিটা আসবে কবে? নির্লিপ্ত মুমিনুল দিয়েছিলেন দার্শনিকীয় উত্তর। বলেছিলেন যেকোনো দিনই আসতে পারে তার ডাবল সেঞ্চুরি, এখন বারবার বঞ্চিত হওয়ায় ডাবল সেঞ্চুরির ক্ষুধা বাড়ছে তার।

পরেরদিনই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান এবং ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ২১৯ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায়ই ঘোষণা করে দেয়া হয় ইনিংস। আজ সুযোগ থাকলেও ট্রিপল সেঞ্চুরি বা তিনশ করা হয়নি মুশফিকের।

তাই প্রথম দিন মুমিনুলকে করা প্রশ্নের রেশ ধরেই মুশফিককে জিজ্ঞেস করা হয় বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তিনশ হবে কবে? জবাবে মুশফিক জানিয়েছেন আজকের দুইশ রান করার পরে বিশ্বাস বেড়েছে তার। এছাড়াও তিনি আগে থেকেই বিশ্বাস করেন টপঅর্ডারের যে কারো জন্য টেস্টে তিনশ রান করাটা খুবই সম্ভব।

মুশফিক বলেন, ‘আমি আমার নিজের ভেতর এটা বিশ্বাস করি। প্রথমে যখন ২০০ করেছিলাম (২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে), তখন মনে হয়নি যে এটা প্রথম বা আবার কবে মারব। নিজের ওপর ওরকম বিশ্বাস ছিল না। এখন এই ডাবলটা পাওয়ার পর আমার বিশ্বাস একটু হলেও ফিরে এসেছে যে এরকম আরও বড় অবদান রাখতে পারব। আমার মনে হয় আমাদের টপ অর্ডারদের কারও জন্য এটা অসম্ভব নয়। ইনশাআল্লাহ মুমিনুলের তাড়াতাড়ি ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলবে। যখন এই ম্যাজিক ফিগার পেয়ে যাবে তখন সে আরও বড় কিছু করতে পারবে।’

মুশফিক নিজেই টেনে আনেন নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির কথা। তাহলে জেনে নেয়া যাক গলের মাঠে সেই ডাবল আর ঢাকার মাঠে এই ডাবলের মধ্যে পরিবর্তন ছিল কি কি? মুশফিক জানান মূলত নিজের পছন্দের বড় শট কম খেলে ছোট ছোট শটেও রান করতে পারেন এই বিশ্বাসটি তিনি পেয়েছেন আজকের ডাবল সেঞ্চুরিতে।

নিজের ২১৯ রানের ইনিংসে মুশফিক বাউন্ডারি থেকে পেয়েছেন কেবল ৭৮ রান (১৮ চার ও ১ ছক্কা)। বাকি ১৪১ রানই করেছেন উইকেটের মাঝে দৌড়ে। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন যদি কিছু থাকে, তাহলে আমার দাঁড়িটা এখন বড় হয়েছে। এছাড়া কিছু না। তবে আগে খেয়াল করলে দেখবেন যে আমার প্রিয় শটে অনেক রান করেছি। কিন্তু এবার খেয়াল করে দেখেন আমি ওই শট ছাড়া অনেক রান করতে পেরেছি। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।’

mush76.jpg

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করার পর মুশফিকুর রহিম প্রথমে একহাতে ব্যাট ঘোরালেন। এরপর তা ছুঁড়ে ফেলে দুই হাতে হৃদয়ের প্রতিকৃতি এঁকে চুমু খেলেন, ছুড়ে দিলেন আকাশ পানে। এমন অঙ্গভঙ্গি দেখে সবারই মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে- কি ছিলো এই অঙ্গভঙ্গিতে? কি বোঝাতে চেয়েছেন দুইবার দ্বিশতকধারী এই ব্যাটসম্যান। কী ছিলো এমন উদযাপনের রহস্য?

সোমবার (১২ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুশফিক হেসে জানালেন, অবশ্যই ডাবল সেঞ্চুরি আমার স্ত্রীকে উৎসর্গ করতে চাই। কারণ এটা অনেক স্পেশাল ছিলো।

এর আগে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত থাকা মুশিকে গেল রাতে ডাবল সেঞ্চুরি পেতে সাহস যুগিয়েছেন মন্ডি। অভয় দিয়েছেন, দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসের জ্বালানিও। ফলশ্রুতিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের অদ্বিতীয় মাইলফলকটি ছোঁয়ার কাজ তার জন্য সহজ হয়ে গেছে। আর সেই কারণেই অনন্য এই অর্জনটি স্ত্রীকে উৎসর্গ করলেন।

‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ বলেন, মিরপুরে আমার এটাই আমার প্রথম সেঞ্চুরি। সেই ২০১০ সালে আমি বাংলাদেশে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলাম। সব মিলিয়ে আমি মনে করি অনেক বড় একটা মাইলফলক ছিলো। আমি চেষ্টা করব যেন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।

তিনি বলেন, আজকের ডাবল সেঞ্চুরির জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিলো যদি করতে পারি আমার সহধর্মিণীকে উৎসর্গ করব। কারণ ওর অবদানটা অনেক বড় ফ্যাক্ট। আপনারা হয়তো জানেন, আমি অনেক সময় মন খারাপ করে থাকি, এইটা করে থাকি, ওইটা করে থাকি। কিন্তু বিয়ের পরে এই জিনিসটায় অনেক বড় একটা সাহায্য হয়েছে। আর বাচ্চা হওয়ার পরে তো এটা অসাধারণ। আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন আমার মোবাইল ওয়ালপেপারেও ওর ছবি। মানে একটু হাসি দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য ইতিহাস রচনা করেছেন মুশফিকুর রহিম। আর এই ইতিহাস গড়ার পথে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারদের মতো কিংবদন্তিদের। বাংলাদেশেরও একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি টেস্ট দ্বিশতকের দেখা পেলেন তিনি।

gew.jpg

সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দেয়ার অভ্যেসটা প্রথম নয়, এর আগেও ২০১৩ সালে গল টেস্টে ২০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। ওই টেস্টে মোহাম্মদ আশরাফুলও খেলেছিলেন ১৯০ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এবার দ্বিতীয়বার সেই উদযাপন দেখা গেলো মিরপুরে। আর দৃশ্যপটেও সেই মুশফিক।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করলেন টাইগারদের ব্যাটিং নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহিম। আর এই কীর্তি গড়ে ছাড়িয়ে গেলেন দুই সতীর্থ তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানকে।

২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রান করেছিলেন তামিম। রেকর্ডটা ভাঙতে সময় লেগেছিল প্রায় আড়াই বছর। গেল বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২১৭ রানের ইনিংস খেলে তামিমকে টপকে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি নিজের করে নিয়েছিলেন সাকিব।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাদা পোশাকের সাবেক অধিনায়ক মুশফিক রূপকথা লিখলেন মিরপুরের সবুজ গালিচায়। ২১৯ রানের ইতিহাস সৃষ্টিকারী মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে তামিম-সাকিবের উপরে উঠে গেলেন মুশফিক। দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ইনিংসটি এখন তার।

সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে প্রথম দিন ১১১ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৫২২ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। মুশফিক ২১৯ ও মিরাজ ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

ushfiqur.jpg

টেস্ট ক্রিকেটের বয়স প্রায় ১৪১ বছর।  ১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে সাদা পোশাকের পথচলা শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ে অজস্র কীর্তি আর অর্জনে ধন্য হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো আর সবচেয়ে দীর্ঘ সংস্করণ। এ পর্যন্ত অভিষেক টেস্টে শতক করেছেন ১০০ জনেরও বেশি ব্যাটসম্যান।

তবে তাদের মধ্যে তিনজন আলাদা জায়গায় থাকবেন চিরকাল। নিজের তো বটেই, দেশের অভিষেক টেস্টেও শতক করেছিলেন তারা। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান, জিম্বাবুয়ের ডেভ হটন আর বাংলাদেশের আমিনুল ইসলাম বুলবুলের তাই আলাদা সম্মান প্রাপ্য।

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। আমিনুল যখন ক্রিজে এসেছিলেন, ৪৪ রানে দুই ওপেনার মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনকে হারিয়ে স্বাগতিক দল তখন বেশ অস্বস্তিতে।

প্রায় ১৮ বছর আগে আমিনুল সেই ১৪৫ রানের চিরস্মরণীয় ইনিংসটি খেলতে ৫৩৫ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। খেলেছিলেন ৩৮০টি বল। বাউন্ডারি হাকিয়েছিলেন ১৭টি। তার ব্যাটে ভর করেই অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

এবার দেড় যুগ পর পূর্বসূরি আমিনুল ইসলামের রেকর্ড ভাঙলেন মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের হয়ে আমিনুল ইসলামের গড়া সময়ের দিক থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংসের রেকর্ড ভেঙেছেন মুশফিক।

আমিনুল যেখানে ১৪৫ করতে খেলেছিলেন ৫২৫ মিনিট মুশফিক সেখানে ৫৩৬ মিনিট ক্রিজে থেকেছেন। করেছেন অপরাজিত ২১৯ রান। হাঁকিয়েছেন ১৮টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা।

সোমবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন ঘড়িতে বেলা ২টা ৫৪ মিনিট বাজতেই সেই রেকর্ড নতুন করে লিখান মুশফিক। ৫৩৫ মিনিটে আমিনুল খেলেছিলেন ৩৮০টি বল, ১ মিনিট বেশি খেলা মুশফিক মোকাবিলা করেছেন ৪২১টি বল।

টেস্টে এক ইনিংসে বেশি বল খেলার দিক থেকে এতদিন রেকর্ডটি ছিল আশরাফুলের দখলে। গল টেস্টে ১৯০ করতে ৪১৭ বল খেলেন আশরাফুল। এবার ২১৯ রানের ইনিংসটি সাজাতে ৪২১টি বল খেলে আশরাফুলকেও টপকে গেলেন মুশি। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলা সবচেয়ে লম্বা ইনিংস এখন এটিই।

এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তো বটেই, টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক। যেখানে আজকের পর থেকে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কুমারা সাঙ্গাকারা কিংবা মাহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো স্বীকৃতি উইকেটকিপারদের উপরে থাকবে মুশফিকের নাম।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বীকৃত উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র ৮ জনের টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে। এ তালিকায় আছেন ইমতিয়াজ আহমেদ, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, কুমার সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, তসলিম আরিফ, ব্রেন্ডন কুরুপ্পু ও মুশফিক। তাঁদের মধ্যে শুধু মুশফিকেরই দুটি ডাবল সেঞ্চুরি।

এদিকে এতদিন টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল সাকিব আল হাসানের দখলে (২১৭)। এর আগে সেটি ছিল তামিকের দখলে (২০৬)। এবার ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দুই সতীর্থকেও ছাড়িয়ে সবার আগে সবার উপড়ে আরোহন করলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম।

i.jpg

নির্ভরতার অপর নাম মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও সেই পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। বুক চিতিয়ে লড়ছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ইতিমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনন্য নজির গড়লেন মুশি। বিশ্বের প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এবং দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুইবার দ্বিশতক করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালে গলে কাঁটায় ২০০ রান করেন তিনি। সেটিও ছিল দেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরি আছে কেবল দুজনের-সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ২১৭ রানের ইনিংসটি সাকিবের। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ ইতিহাস গড়েন। আর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ২০৬ রানের অনিন্দ্যসুন্দর ইনিংস খেলেন তামিম। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও ড্যাশিং ওপেনার দুজনকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে মুশফিকের সামনে।

শেষ খবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন শেষে ৭ উইকেটে ৪৮৬ রান করেছে বাংলাদেশ। ২০০ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন মুশফিক। মিস্টার পার্টনারকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনিও ফিফটি তুলে নিয়েছেন। তার সংগ্রহ ৫১ রান।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ১১১ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। প্রথম ইনিংসে চারশ, সাড়ে চারশ ছাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেন তারা। তাদের অসাধারণ নৈপুণ্যে দুর্দান্ত গতিতে সেই পথে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দারুণ মেলবন্ধন গড়ে উঠে তাদের মধ্যে। কোনো উইকেট না দিয়ে প্রথম সেশনে ৬২ রান যোগ করেন তারা। উইকেটশূন্য সেশনে বড় একটা ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন দারুণ বোলিং করা টেন্ডাই চাতারা। টানা পঞ্চম ওভার করছিলেন তিনি। কিন্তু ওভার শেষ করতে পারেননি। তৃতীয় বল করার পর বাম পায়ের পেশিতে টান পান। স্ট্রেচারে দ্রুত মাঠের বাইরে নেয়া হয়। ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ওভারের বাকি চার বল করেন ডোনাল্ড তিরিপানো।

 

সাবলীল ব্যাটিংয়ে নির্বিঘ্নে কঠিনতম সেশনটা কাটিয়ে দেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর হঠাৎই কক্ষচ্যুত হন মাহমুদউল্লাহ। কাইল জার্ভিসের বলে রেজিস চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (৩৬)। এর আগে মিস্টার পার্টনারের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। খানিক বাদেই তার পথ অনুসরণ করেন আরিফুল হক। ফের শিকারী কাইল জার্ভিস। তার বলে ব্রায়ান চারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গেল টেস্টে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। তাকে শিকার বানানোর বদৌলতে ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট ঝুলিতে ভরেন জার্ভিস।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter