ধর্ম Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

ramadan-24220180519112933.jpg

মহামারির মধ্যেই দেশে দেশে চলছে পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি। রোজার আগেই বিভিন্ন দেশে আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। তাই পবিত্র মাস শুরুর আগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটায় ব্যস্ত মুসলিম সম্প্রদায়। তারা এই পবিত্র মাসে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনার নতুন ঢেউয়ে টালমাটাল বিশ্ব। এর মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। সংক্রমণ বাড়ায় এবার মার্কেট, শপিংমল সব জায়গায়ই আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। এরমধ্যেই মাহে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শপিংমলগুলোতে লোকজনকে দেখা গেছে ব্যস্ত কেনাকাটায়। রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম কমে যাওয়ায় খুশি ক্রেতারা।

ক্রেতারা বলেন, আমরা দীর্ঘ এক বছর এই পবিত্র মাসের জন্য অপেক্ষা করি। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এসেছি।

করোনায় আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংসের পথে। এ অবস্থায় রমজানে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। পবিত্র মাসে সহিংসতা বন্ধেরও প্রার্থনা আফগানদের।

আফগান ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজান আমাদের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। এই পবিত্র মাসে সরকার ও তালেবান সমঝোতা করলে শান্তি ফিরে আসবে আফগানিস্তানে।

এদিকে, রোজা শুরুর আগের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভিড় ছিলো ইন্দোনেশিয়ার মার্কেটগুলোতে। রজমানের আগেই স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যান্য বারের মতো এবারও দেশটিতে সর্ব প্রথম মাহে রমজানের চাঁদ দেখা যাবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

করোনার ভয়াবহতায় সীমিত আকারে মাহে রমজানের প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকে। এদিকে, অর্থনৈতিক মন্দার পরও ফিলিস্তিনের মার্কেটগুলোতেও মানুষের আনাগোনা ছিলো লক্ষণীয়।

এদিকে, কোভিড উনিশে বিপর্যস্ত পাকিস্তানে রোজা শুরুর আগে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

roja-diabetic.jpg

পৃথিবীতে প্রায় ২৩৫ কোটি মুসলমান আছে যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ। বর্তমানে পৃথিবীতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৪৫ মিলিয়ন।

২০৪০ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪২ মিলিয়ন-এ। এর মধ্যে সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মানুষরা রোজা রাখে। পৃথিবীর মোট প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের ৩৬ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভুগছে। সে হিসাবে দাঁড়াচ্ছে, প্রতি রমজান মাসে ৯-১২ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখছে। টাইপ১ ডায়াবেটিস রোগীদের ৪৩ শতাংশ এবং টাইপ২ ডায়াবেটিস রোগীদের ৭৯ শতাংশ রমজান মাসে রোজা রাখে।

দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিস রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কী না তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে। অবশেষে পৃথিবীর মুসলমান ও অমুসলমান ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা সর্বসম্মতভাবে মতামত দিয়েছেন যে, ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে রোজা রাখা ক্ষতিকর হবে।

কুরআন শরিফেও রোগাক্রান্তদের রোজা রাখা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে (সূরা আল বাকারা : আয়াত ১৮৩-১৮৫) আর অন্য যে কোনো ধরনের অসুখের চেয়ে ডায়াবেটিস নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। ডায়াবেটিস রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা হতে পারে।

রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিক রোগীর ঝুঁকিগুলো

* রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) : খাদ্য গ্রহণে অনেকক্ষণ ধরে বিরত থাকলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখার সময় এতটাই কমে যেতে পারে যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হতে পারে। টাইপ১ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এরূপ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা ৪.৭ গুণ এবং টাইপ২ ডায়াবেটিকের ক্ষেত্রে ৭.৫ গুণ বেশি।

* রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) : রোজা রাখার কারণে টাইপ১ ও টাইপ২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কিছুটা ঝুঁকি থাকে। টাইপ১ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এ থেকে জীবন নাশের ঘটনাও ঘটতে পারে। রমজান মাসের শেষের দিকে এ ঘটনাগুলো ঘটার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

* ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস : টাইপ১ ডায়াবেটিস রোগীরা বেশ কিছু ক্ষেত্রে রক্তের গ্লুকোজ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়া বা এর ধারাবাহিকতায় কিটোনবডি বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিপতিত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের রক্তের গ্লুকোজের নিয়ন্ত্রণ রোজা শুরুর আগে ভালো ছিল না। টাইপ২ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রেও এরূপ হতে পারে।

* পানি শূন্যতা ও থ্রম্বোএম্বোলিজম : রোজা রেখে দীর্ঘ সময় পানি বা পানীয় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকার কারণে শরীরে পানি শূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দিতে পারে। গরম ও বেশি আর্দ্র আবহাওয়ায় পানি শূন্যতা আরও প্রকট হতে পারে। যাদেরকে রোজা রেখে কঠোর শারীরিক শ্রম দিতে হয় তাদেরও পানি শূন্যতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া রক্তে বেশি মাত্রায় গ্লুকোজ থাকলে শরীর থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার হার অনেক বৃদ্ধি পায়।

এতে করে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যেতে পারে। বিশেষত, যাদের ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুবিক সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের এ সময় সহসা জ্ঞান হারানো, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, আঘাত প্রাপ্ত হওয়া, হাড় ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। দেহের পানি শূন্যতার কারণে রক্ত জমাট বেধে চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় শিরা বন্ধ হয়ে দৃষ্টি শক্তি হারাবার ঘটনা ঘটেছে সৌদি আরবে ও অন্যান্য মরু অঞ্চলে।

করণীয়

প্রত্যেক রোজাদার ডায়াবেটিক রোগীর অবস্থা তার স্বাতন্ত্রসহ বিবেচনা করতে হবে।

ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা দেখতে হবে [প্রতিদিন বেশ ক’বার (কম পক্ষে তিন বার) রক্তে গ্লুকোজ মাপতে হবে]। দিনের শেষ ভাগে অবশ্যই রক্তের গ্লুকোজ দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর টাইপ১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্য রাখতে হবে। রমজানের প্রথম দিকের দিনগুলোতে একটু বেশি সর্তক থাকতে হবে, পরে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিনের খাদ্যের পুষ্টিমান অন্যান্য সময়ের মতোই রাখার চেষ্টা করতে হবে, যদিও তা খুব সহজ নাও হতে পারে। স্বাভাবিক দৈহিক ওজন ধরে রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে। রমজানে রোজা রেখে ২০-২৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর দৈহিক ওজন কমে বা বাড়ে। ইফতারে চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং তেলে ভাজা খাবার গ্রহণ করা হতে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। কেননা, এসব খাবার হজম হতে সময় লাগবে।

কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীর ইফতারের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা জরুরি। সেজন্য জটিল শর্করা জাতীয় খাবার সেহরির সময় খেতে হবে। আর ইফতারিতে সহজ পাচ্য খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। সেহরির খাবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে খেতে হবে এবং তারপর প্রচুর পানি পান করা বাঞ্ছনীয়।

শারীরিক শ্রম বা ব্যায়ামসহ স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে এ সময়। তবে খুব বেশি কঠোর শ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে করে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। আর কঠোর শ্রম বিকাল বেলায় তো করা যাবেই না। তারাবি নামাজ পড়লে, তাকে শারীরিক শ্রমের বিকল্প হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। কিছু কিছু ডায়াবেটিস রোগী (বিশেষত টাইপ১) যাদের রক্তের গ্লুকোজ ঠিক মতো রাখা যাচ্ছে না তাদের ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঘটনা প্রায়শ মারাত্মক হয়।

প্রতিটি ডায়াবেটিস রোজাদারকে একথাটি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, যখনই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কোনো লক্ষণ শরীরে দেখা দেয় তার পর যতটা সম্ভব দ্রুততর সময়ের মধ্যে গ্লুকোজ/চিনি/মিষ্টি কোনো খাদ্য, শরবত ইত্যাদি যে কোনো একটি খেয়ে নিতে হবে।

যাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে, তারা তো খুব সহজেই এর প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারবেন। আর যাদের তেমন অভিজ্ঞতা হয়নি, তাদের বুক ধড়ফড়ানি, মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগা, ঘাম হওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, চোখে অন্ধকার দেখা, মাথা ঘোরা ইত্যাদির এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তখন হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তের গ্লুকোজ এ সময় সাধারণত ৩.৩ মিলিমোল/লিটার) হওয়ার কথা।

আবার দিন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি রক্তের গ্লুকোজ ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে কমে যায় তাহলেও কিছু খেয়ে নেয়া জরুরি। আর যারা ইনসুলিন, সালফুনাইলইউরিয়া-মেগ্লিটিনাইড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটার আশঙ্কা বেশ বেশি। আবার রক্তের গ্লুকোজ ১৬.৭ মিলিমোল/ লিটারের বেশি হলেও রোজা রাখা সম্ভব হবে না।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

Alamgir4.jpg

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গোপালপুরের সন্তান নায়ক আলমগীর। তাঁকে এলাকার নতুন প্রজন্মের কেউ কোনোদিন দেখেননি । তারা শুধু টিভিতেই দেখেছেন নায়ক আলমগীরকে। মুরুব্বীদের মুখে শুনেছেন আলমগীরের পরিবারের কথা।

দীর্ঘদিন আগে তিনি এসেছিলেন গ্রামের বাড়ি দেখতে। তখন তিনি পৈতৃক ৯০ শতাশকোনি জমি বিক্রয় করে স্থানীয় বাজারে মসজিদ নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন।

সম্পর্কে আলমগীরের ভাতিজা খায়েশ মিয়া বলেন, আলমগীর কাকা প্রতিবছর ঈদে এলাকার বাড়ি বাড়ি অর্থ সহায়তা পাঠান। এখানেতো তাদের খালি জায়গা ছাড়া কিছুই নেই। তাদের পরিবারটি ছিল খাঁটি মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা তাদের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর তারা ঢাকায় স্থায়ী হয়ে যান। সর্বশেষ তিনি যখন এসেছিলেন, স্থানীয় বাজারের একটি মসজিদ তৈরি করে গেছেন।

গোপালপুর বাজারের মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দুজ্জামান বলেন, ২০০২ সালে নায়ক আলমগীর নিজস্ব অর্থায়ণে বাজারের মসজিদটি দুইতলা করে গেছেন। তিনি এলাকায় না আসলেও কিছুদিন আগে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পাঠিয়েছেন। এলাকাবাসীর খোঁজ খবর নেন। গ্রামের কেউ ফোন দিলে তিনি কথা বলেন।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব শায়খ ড. আবদুর রহমান আল সুদাইস। তার সুমধুর কণ্ঠের কোরআন তেলাওয়াত শোনেননি এমন মুসলমান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার তেলাওয়াত শুনে অনেকে আপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন।

প্রায় চার দশক ধরে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।  গত রোববার ৪ এপ্রিল কাবার ইমাম হিসেবে দীর্ঘ ৩৮ বছর পার করেছেন এই ইসলামি ব্যক্তিত্ব।

মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৪ সালে মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান শায়খ সুদাইস।  সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ এক নির্দেশনায় তাকে নিযুক্ত করেন।  একই বছরের মে মাসে (১৪০৪ হিজরি ২২ শাবান)  সর্বপ্রথম কাবার ইমামতি করেন।  আসর নামাজ পড়িয়ে সবচেয়ে বেশি পবিত্র মসজিদের ইমামতি শুরু করেন শায়খ সুদাইস।

২০১২ সালে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ পরিচালনা পরিষদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান সুদাইস। ২০১৪ সালে মসজিদে নববীতে প্রথমবারের মতো ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।  ২০২০ সালে শায়খ সুদাইস মসজিদুল হারামে একাধারে ৩০ বছর যাবত রমজানে পবিত্র কোরআন খতম করেন।

সাইয়েদনা মুসা (আ.) এর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, তিনি যখন তখন আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারতেন। এ কারণে মুসা (আ.) এর বিশেষ উপাধি ছিলো কালিমুল্লাহ।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ছিলেন প্রথম যুগের মুহাদ্দিস। তিনি মুসনাদে আহমাদ নামক হাদিসের বিখ্যাত কিতাবের জন্য মুহাদ্দিসদের নিকট বেশ পরিচিত। মুসনাদে আহমদ ছাড়াও তিনি আরো অনেক হাদিসের কিতাব রচনা করেন। এর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত একটি কিতাব হলো কিতাবুজ জুহুদ।

কিতাবুজ জুহুদে ইমাম আহমদ (রহ.) সমকালীন বিখ্যাত তাবেয়ি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রহ.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিসটিতে হযরত মুসা (আ.) কে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ কিছু আদেশ দিয়েছিলেন।

তাবেয়ি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রহ.) বলেন, একদিন মুসা (আ.) বলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বিশেষ কিছু আদেশ করুন।

উত্তরে আল্লাহ বললেন, আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না।

মুসা (আ.) বললেন, আরো কিছু আদেশ করুন।

আল্লাহ বললেন, তোমার মায়ের সেবা করো।

মুসা (আ.) বললেন, আরো কিছু।

আল্লাহ বললেন, তোমার মায়ের সেবা করো।

মুসা (আ.) আবারো বললেন, আরো কিছু আদেশি দিন হে আল্লাহ।

আল্লাহ বললেন, তোমার মায়ের সেবা করো।

এ হাদিস বর্ণনা শেষে তাবেয়ি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ (রহ.) বলেন, ‘মায়ের সেবা করলে জীবনে দৃঢ়তা ও সমৃদ্ধি আসে, আর বাবার সেবা করলে আয়ু বাড়ে।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), কিতাবুজ জুহুদ, হাদিস নম্বর ২৯৯।

umrah-from-4-october.jpg

পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনে মুসল্লিদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যারা করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছেন শুধু তাদেরই রমজানে ওমরাহ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওমরাহ করা ও মক্কার পবিত্রতম মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য কোভিড-১৯-এর টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছেন, যারা ওমরাহ করার অন্তত ১৪ দিন আগে এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন বা যারা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন শুধু তারাই এবার ওমরাহ করার সুযোগ পাবেন। তবে এসব শর্ত চলতি বছরের হজের সময় প্রযোজ্য হবে কি-না তা জানা যায়নি।

গত বছর দেশটির মাত্র ১০ হাজার মানুষ হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিদেশে অবস্থানরত সৌদি নাগরিক বা অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য হজ গত বছর বন্ধ ছিল।

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৯৩ হাজার লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ছয় হাজার সাত শ’র বেশি মানুষ।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এখন পর্যন্ত দেশটির প্রায় সাড়ে তিন কোটি নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখের মতো মানুষ করোনা টিকা নিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

azhari-book.jpg

বহুল আলোচিত ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী প্রথমবারের মতো একটি বই লিখেছেন। বইয়ের নাম ‘ম্যাসেজ: আধুনিক মননে দ্বীনের ছোঁয়া’। প্রকাশের কাজ শেষের দিকে। গতকাল (২ এপ্রিল) থেকেই শুরু হয়েছে প্রি-অর্ডার নেওয়ার কাজ।

বইটির প্রকাশক গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ২ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা প্রি-অর্ডার নেবো। ১১ তারিখ থেকে সারাদেশে বিতরণ শুরু হবে। বইমেলায় এখনই দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, মেলার শেষদিকে পাওয়া যাবে।

‘গতকাল (২ এপ্রিল) একদিনেই বইটির জন্য প্রি-অর্ডার হয়েছে ৫ সহস্রাধিক।’ বলেন নূর মোহাম্মদ আবু তাহের।

বইটিতে তরুণ প্রজন্মের জন্য ১২টি বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তার শিরোনামগুলো হলো- শাশ্বত জীবনবিধান, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, কুরআনের মা, মুমিনের হাতিয়ার, কুরআনিক শিষ্টাচার, উমর দারাজ দিল, উসরি ইউসরা: কষ্টের সাথে স্বস্তি, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন, স্মার্ট প্যারেন্টিং, মসজিদ: মুসলিম উম্মাহর নিউক্লিয়াস, ঐশী বরকতের চাবি, বিদায় বেলা।

বইটি প্রসঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখক মিজানুর রহমান আজহারি বলেন, আমি লেখক নই। তারপরও বাংলা সাহিত্যের দুনিয়ায় যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে তরুণ প্রজন্মের কাছে কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাকিটা আপনাদের ভালো লাগা-মন্দ লাগার ওপর নির্ভর করবে।

ifter-sehri-mosque.jpg

দেশের করোনার সংক্রমণ আশঙ্কজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া এর আগেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে।

এ অবস্থায় শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসও আসন্ন, তাই সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রমজানে মসজিদে সেহরি ও ইফতার করা যাবে না।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আজ সোমবার এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে

মসজিদে প্রবেশের দরজায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে। পাশাপাশি মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

নিজ নিজ বাসা থেকে প্রত্যেককে ওজু করে আসবেন। এ ছাড়া সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। ওজু করার সময় সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।

মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের আগে জীবাণুনাশক দিয়ে সম্পূর্ণ মসজিদ পরিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া নিজ নিজ দায়িত্বে মুসল্লিদের প্রত্যেককে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কাতারে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু, বয়ঃবৃদ্ধ এবং যারা অসুস্থ ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত তারা জামাতে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মসজিদের ওজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকতে হবে। একই মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

নির্দেশনায় রমজান সম্পর্কে বলা হয়েছে, রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

এ ছাড়া নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব ও ইমামরা দোয়া করবেন, যাতে করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মসজিদের খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি নির্দেশনায় এও বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

namaz.jpg

দেশে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে, যার প্রথম দিন চলছে আজ সোমবার (৫ এপ্রিল)। ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রুখতে এবার মসজিদে নামাজ আদায় করার ব্যাপারেও কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আজ দুপুরে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মসজিদের প্রবেশদ্বারে অবশ্যই সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে, যাতে মুসল্লিরা প্রবেশের আগে জীবাণুমুক্ত হতে পারেন। বাসা থেকে ওযু করে, সুন্নত নামাজ পড়ে তবেই মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের আগে পুরো মসজিদে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে। কার্পেট বিছানো যাবে না, মুসল্লিরা সবাই জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, মসজিদের ভেতর করোনারোধে সরকারের নির্দেশনা টাঙিয়ে রাখতে হবে। আসন্ন রমজানে মসজিদের ভেতর ইফতার বা সেহরির আয়োজন করা যাবে না। শিশু, বয়োবৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না।

দেশে চলতি মার্চ মাসের শুরু থেকেই বাড়বাড়ন্ত অবস্থা প্রাণঘাতী করোনার। আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ৭৫ জনকে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৯ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ৩১৮।

azhari6.jpg

নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে শনিবার (৩ এপ্রিল) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে নারীসহ আটক করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারীকে মামুনুল হক নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও পক্ষে-বিপক্ষে বিপুল জনমত তৈরি হয়। বিয়ের ধরন সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এরইমধ্যে পাওয়া গেলো মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর বয়ান।

ভিডিওতে আজহারী বলেন, বিয়ের ঘোষণায় ব্যান্ড পার্টি করতে বলেছেন বিশ্বনবী (সা.)। কারণ বিয়েতে একজন নারী-পুরুষের যে সম্পর্ক হয়, জেনা ও ব্যভিচারে একই সম্পর্ক হয়। পার্থক্য হচ্ছে এটার সামাজিক স্বীকৃতি আছে, জেনার স্বীকৃতি নেই। এ জন্য বিয়ে গোপন করে করা যায় না। এটা অ্যানাউন্স করে করতে হয়।

ইসলামের খলিফাদের জীবন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওমর ফারুক (র.) যখন মদিনার খলিফা বলতেন লুকিয়ে লুকিয়ে যদি কেউ বিয়ে করে তাদের প্রতিবেশীরা যদি তাদের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে না জানে তাহলে আমি তাদের দু’জনকে জেনার শাস্তি দেবো।

পুরোনো এক ওয়াজ মাহফিলের বয়ানের ওই ভিডিওতেএই ইসলামী বক্তা বলেন, লুকিয়ে বিয়ে করা যায় না, সবাইকে জানিয়ে-শুনিয়ে অ্যানাউন্স করে বিয়ে করতে হয়। এ জন্য ইসলাম শুধু হারাম বলে জিকির করে নেই। যেখানেই হারাম তার বিপরীতে ইসলামে হালালের বিকল্প দিয়েছে।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter