প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

rohi555f.jpg

মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবী পল রাইখলার বলেছেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার প্রতারণা করছে। তারা আদালতে এ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তাতেও প্রতারণা রয়েছে জানিয়ে রাইখলার বলেন, মিয়ানমার নিজেই স্বীকার করেছে যে, খুব সামান্য সংখ্যকই ফিরেছে। মিয়ানমারের আইনজীবী মিস ওকোয়া প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ এবং চীন, জাপান ও ভারতের সহায়তার বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, সহায়ক দেশগুলো প্রত্যাবাসন চায়। কিন্তু, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির পুরোপুরি দায়িত্ব মিয়ানমারের। মিয়ানমার সেটি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ঐতিহাসিক এ মামলায় শুনানির শেষ দিনে গাম্বিয়ার পক্ষে আদালতে তিনজন আইন বিশেষজ্ঞ মিয়ানমারের দাবিগুলো খ ন করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রতি অন্যায়-অবিচারের কথা অস্বীকার করেনি। ওই সব আচরণ বা কার্যক্রমে গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল না বলে মিয়ানমার যে দাবি করেছে তা বিভ্রান্তিকর এবং আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যাখ্যা।

গাম্বিয়ার আইনজীবিরা আদালতের উদ্দেশে বলেন, বিজ্ঞ আদালত নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, সুচি আদালতে দেয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা বিশেষণটি ব্যবহার করেননি। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আরসা গোষ্ঠীর কথা বলার সময় ছাড়া তিনি তাদের মুসলিম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পল রাইখলার মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাসের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, সাবাস গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য সাতটি নির্দেশকের কথা বলেছেন। সেই সাতটি নির্দেশকগুলোর কথা গাম্বিয়ার আবেদনে রয়েছে এবং মিয়ানমার সেগুলো অস্বীকার করেনি। শুনানির আজকের চূড়ান্ত পর্বে দেয়া বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আববুবকর তামবাদু বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে গাম্বিয়া ওআইসি’র কাছে সাহায্য চেয়েছে। সার্বভৌম দেশ হিসেবে গাম্বিয়া একা এই আবেদন করেছে। গাম্বিয়া গণহত্যা সনদের রক্ষক হিসেবে আদালতের কাছে জরুরি অন্তবর্তী ব্যবস্থার নির্দেশনার দাবি জানাচ্ছে। তামবাদু বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জীবন হুমকির মুখে। গাম্বিয়া প্রতিবেশী না হতে পারে, কিন্তু গণহত্যা সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে গণহত্যা বন্ধ এবং তা প্রতিরোধে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।

গাম্বিয়ার আইনজীবী অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বলেন, অন্তর্বর্তী আদেশ, পরিস্থিতির জন্য সহায়ক হবে না, মিয়ানমারের এমন দাবির জবাব হচ্ছে, আমরা সে কারণেই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছি। বসনিয়ায় আদেশ দেয়ার পরও সেব্রেনিৎসায় যে গণহত্যা হয়েছিল সেই দৃষ্টান্ত দিয়েই আমরা বলেছি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন এবং তার বাস্তবায়নের সময় বেঁধে দেয়া জরুরি। অধ্যাপক সাবাস তার ২০১৩ সালের সাক্ষাৎকারে গণহত্যা প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেছিলেন সেগুলো যদি আদালত তার নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত করেন, তাতে আমরা আপত্তি করব না।

অধ্যাপক সাবাস শিক্ষাবিদ হিসেবে ২০১৩ সালে গণহত্যা কাকে বলে তার ব্যাখ্যায় আল-জাজিরাকে কী বলেছিলেন তা উল্লেখ করে অধ্যাপক স্যান্ডস বলেন, তিনি যে মত বদলাতে পারেন না সেকথা আমি বলব না। উল্লেখ্য মিয়ানমারের আইনজীবী হিসাবে অধ্যাপক সাবাস দাবি করেছিলেন, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু গণহত্যা নয়। গণহত্যার উদ্দেশ্য সেখানে অনুপস্থিত।

অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস আরও বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাস একটি নতুন আইনগত মান নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন, যেটি পরীক্ষিত নয়। কিছু কিছু কার্যক্রম গণহত্যার নির্দেশিকার ধারণা তৈরি করলেও সব কার্যক্রম গণহত্যার ধারণা প্রমাণ করে না এমন দাবি ঠিক নয়। তিনি বলেন, ১৯৪৮-এর গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে কিনা সে প্রশ্ন তোলার অধিকার গাম্বিয়ার অবশ্যই রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি অতীতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সনদের অংশীদার হিসেবে অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন করার অধিকার গাম্বিয়ার রয়েছে।

গাম্বিয়ার আরেক আইনজীবী পিয়েঁর দ্য আর্জেন বলেন, মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকার বলেছেন যে, কোনো অপরাধ যদি ঘটেও থাকে তাহলেও গাম্বিয়ার সে বিষয়ে মামলা করার অধিকার নেই। মামলা কূটনৈতিক ব্যবস্থায় তার আপত্তির কথা জানাতে পারে, কিন্তু আদালতে আসতে পারে না। স্টকারের এসব বক্তব্য সঠিক নয়। গাম্বিয়া সনদের স্বাক্ষরকারী হিসেবে সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনের অধিকার রাখে। গাম্বিয়া ওআইসি মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর মামলা করেছে বলে মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকারের দাবি বিভ্রান্তিকর। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ ওআইসি’র নয়, গাম্বিয়ার। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে গণহত্যার কথা বলেননি বলে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে ওআইসি’র সিদ্ধান্তের পরই গাম্বিয়া মামলা করেছে- কথাটি ঠিক নয়। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে বক্তব্য দেয়ার পর জাতিসংঘ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতেই গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে গাম্বিয়া আদালতে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরো বলেন, গাম্বিয়া স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এই মামলা করেছে। গাম্বিয়া ওআইসি’র প্রক্সি বা প্রতিভূ হিসেবে মামলা করেনি। গাম্বিয়া ওআইসি’র সাহায্য চাইতেই পারে। অন্যান্যদেরও সাহায্য চাইতে পারে। সুতরাং, গাম্বিয়া ওআইসি’র সহায়তা নেয়ায় বলা যাবে না যে, ওআইসি এই মামলার আবেদনকারী।

আইনজীবী পল রাইখলার রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতার মর্মস্পশী বর্ণনা তুলে ধরেন। কীভাবে নারী, শিশুদের হত্যা করেছে সেনাবাহিনী, ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তার বর্ণনা দেন তিনি। এ সময় তিনি মিয়ানমারের যুক্তি খণ্ডন করেন। বলেন, মিয়ানমার দাবি করেছে রাখাইনে ছিল তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান। সন্ত্রাসী বা আরসামুক্ত করতে তারা অভিযান চালিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে রোহিঙ্গা শিশুরা কি সন্ত্রাসী? নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নারী, মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। শত শত গ্রামে হাজার হাজার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বাদের ওপর। রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে এ কথা প্রমাণ করতে তিনি রাখাইনে সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, ২০১৭ সালে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরুর দুই সপ্তাহ আগে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করা হয়। তখন বলা হয়, বাঙালি সমস্যার সমাধান করা হবে। এ সময় ডিসপ্লেতে ওই সেনা মোতায়েনের ছবি দেখানো হয়।

আইনজীবী পল রাইখলা বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘাতকে গণহত্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যায় না। ওই অভিযানে প্রতিজন মানুষকে টার্গেট করা হয়েছিল। নারী, শিশু, পুরুষ কেউ রক্ষা পায়নি। মিয়ানমার গণকবরের কথা অস্বীকার করেছে। তিনি এ যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, কমপক্ষে ৫টি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে জাতিসংঘসহ অন্যদের দেয়া রিপোর্ট উদ্ধৃত করেন তিনি। বলেন, মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে নিশ্চয়তা মেলেনি, মামলার যুক্তিতর্কে তা উপস্থাপন করা হয়।

PM-sheikh-hasina-2.jpg

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার প্রশ্ন, একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আঁকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করল, তখনই পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।

সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারতাম না।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু লোকের উসকানির কারণে বিশ্বব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল।

তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদের গ্রামীণফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লোকই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারণা বদলে গেছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএস প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন।

দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সব সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলব জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি তাদের আরো বেশি উদ্ভাবনী পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা-চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এ শপথ অনুসরণ করতে তাদের পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদের সুবিধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোর্সের তিন তরুণ কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। বাসস

PM-Sheikh-Hasina-1-3-1.jpg

বাংলাদেশকে আমি আমার পরিবার মনে করি। নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করি, বাংলাদেশের মানুষের জন্যও অনুরূপ মনোযোগ দিয়ে কাজ করি। ক্ষমতার বিষয়টি আমার কাছে ভোগের নয়, এটি দায়িত্ব পালনের।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম আইন এবং প্রশাসন কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে এটাই ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। কারণ জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আমি মনে করি, এটা আমার দায়িত্ব।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশের দেশগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না। দেশের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছিল আমাদের অন্যতম কাজ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এজন্য কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছি, সে অনুযায়ী কাজ চলছে।

দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ ভাগই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করি। কারা ট্যাক্স দেয়, আমাদের দেশের মানুষ। কারা খাটে, আমার গরিব কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ, তারাই তো খাটে। তাদের এ অর্থগুলো যথাযথভাবে দেশের উন্নয়নে যেন ব্যয় হয় এবং উন্নয়নটা যেন পরিকল্পিতভাবে হয়, মিতব্যয়ের সঙ্গে আমরা যেন আরও বেশি উন্নয়ন করতে পারি, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

শাহবাগের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচিব ফয়েজ আহমদ। বিশেষ অতিথির বত্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান।

skhasi.jpg

দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে চিন্তা করতে হবে, কতটুকু সেবা আমি দিতে পারলাম। নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই, দেশের মানুষের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে সাবধান হতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণের সেবায় আইন ও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার আইন ও প্রশাসন কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

টেকসই উন্নয়নের জন্য সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে বাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয়ে সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনে যারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাদেরকেও উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের আন্তরিকভাবে জনগণের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিতে সরকারি কর্মীদের দুশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা চলছে। বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি গাড়ি, ফ্ল্যাট-বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা ভালো কাজ করলে উন্নয়ন হবে। তখন বিভিন্ন সুবিধা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

সততা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতির জনকের অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা পড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

22-7.jpg

সর্বোচ্চ আদালতে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন শুনানি সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকেই রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির কার্যালয়ের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, যাদের সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশও রয়েছেন।

অন্যদিন এই সময়ে অফিসে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকলে এদিন পুলিশের বেষ্টনী ভেদ করে নেতা-কর্মীদের কাউকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়নি।

তবে সকাল ১০টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে নিজের চেম্বারে অবস্থান করছেন।

দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহিলা দলের ২০/২২ জন সদস্য ও অফিস কর্মীরা কার্যালয়ে রয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে। গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

কার্যালয়ের নেতারা জানান, তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকে নজর রাখছেন। তারা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসচিবকে শুনানির সর্বশেষ অবস্থা জানাচ্ছেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় মহিলা দলের একদল নেতা-কর্মী ফটকের ভেতরে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এসময়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীরা গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

khaleda-20190920195307.jpg

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ফের শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বৃহত্তর আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে শুনানি মুলতবি করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর ফের শুনানি শুরু হয়।

আজ সকাল থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসনের জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের চারপাশে ও সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে নিরাপত্তা ব‌্যবস্থা জোরদার করা হয়।

গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন চান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তা আদালতে আসার কথা ছিল।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন চান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা করতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে না পারায় এজলাসে তুমুল হট্টগোল হয়।

আদালত জিয়ার জামিন শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর এবং ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদার শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট দাখিল করতে বলেন।

razzak65.jpg

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক মন্তব্য করেছেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত যেসব রাজনৈতিক দলের ঘোষণাপত্রে জয় বাংলা শ্লোগান থাকবে না তাদের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ।

বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌরসভা আয়োজিত পাঁচদিন ব্যাপী টাঙ্গাইল পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এর আগে সকালে মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জয় বাংলা ছিল আমাদের রণধ্বনি। এ শ্লোগান দিয়ে যুদ্ধ করে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেছি। হাই কোর্ট জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তাদের ঘোষনাপত্রে জয় বাংলা শ্লোগান অন্তর্ভুক্ত করতে বলা।

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রতিবেদন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি ডাক্তার নই। এ ব্যাপারে বলতে পারবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা। সেখানকার চিকিৎসকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চুড়ান্ত।

পরে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, নয় মাস যুদ্ধ শেষে ১১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা টাঙ্গাইলকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন। সেই যুদ্ধে একজন কোম্পানী কমান্ডার হিসেবে তিনি আগের দিন রাতে টাঙ্গাইল শহরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে সভায় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, মুক্তিযুদ্ধকালিন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রশাসক আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে ভারতের শিল্পী মিতালী মুখার্জী গান পরিবেশন করেন।

dncc3x.jpg

আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মো. আলমগীর।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন ভবনে নিয়মিত বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সচিব বলেন, আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই দিন তফসিলের তারিখ ও ঘোষণা দেয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

humandeveopment.jpg

জাতিসংঘের ২০১৯ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের ১৮৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে। গত বছর এ অবস্থান ছিল ১৩৬ তম।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর শের-ই-বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

গতবারের মতো এবারো জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকের শীর্ষ আছে নরওয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ। আর পিছিয়ে আছে মিয়ানমার, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল।

২০১৮ সালের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গড় আয়সহ বিভিন্ন সূচকের আলোকে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব মুহাম্মাদ নুরুল আমিন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ যৌথভাবে প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করতে চায়। দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, আমরা তা করতে সক্ষম।

elias-kanchon-2-20191211123641.jpg

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও পরিবহন নেতা শাজাহান খানকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, ‘সৎ সাহস থাকলে সামনে এসে প্রমাণ নিয়ে বসুন। প্রয়োজনে লাইভ টক শো হবে। পুরো জাতি দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে ও নিরাপদ সড়ক চাইসহ আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মাধ্যমে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্ভট কিছু প্রসঙ্গে টেনে চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তার (শাজাহান খান) এমন মিথ্যাচার শুধুমাত্র নিজের দুর্বলতা ঢাকার জন্যই বলেছেন। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি এসব মানহানিকর কথা বলেছেন। সেই সাথে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-কে বাধাগ্রস্ত করতেই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে অবান্তর প্রশ্নের অবতারণা করেছেন।’

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিসচা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিসচার পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে বলা হয়েছিল। না পারলে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল।’

শাজাহান খান ওই সময় দেশের বাইরে ছিলেন জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি (শাজাহান খান) তথ্যপ্রমাণ হাজির করেননি, এমনকি ক্ষমাও চাননি।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ব্যক্তিগতভাবে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তথ্যপ্রমাণ থাকলে হাজির করতে কিংবা না পারলে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দানকারী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে ‘জ্ঞানপাপী’ আখ্যা দেন সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

রূপগঞ্জের পূর্বাচল ১৩ নং সেক্টর এলাকায় ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে ডাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের (ডিটিসি) এক কোর্সের উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনি (ইলিয়াস কাঞ্চন) যে বিদেশিদের কাছ থেকে নিরাপদ সড়ক চাই এনজিওর নামে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আসছেন, আপনি কয়টি প্রতিষ্ঠান করেছেন, কয়টি স্কুল করেছেন, ক’জন মানুষকে ট্রেনিং দিয়েছেন- আমি তার তথ্য বের করতেছি।’