প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

shakib-4th-20190617224607.jpg

সাকিব আল হাসানের নামের পাশে রেকর্ডের অভাব নেই। দেশ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাকিবের অসংখ্য রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি রেকর্ড।

এবারের রেকর্ড আবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপের মঞ্চে। মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে ফিফটির কৃতিত্ব দেখালেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এর আগে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথম এই কীর্তি গড়েন ভারতীয় ব্যাটসম্যান নবজিৎ সিং সিধু। বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে তিনি যথাক্রমে ৭৩,৭৫, ৫১ ও ৫৫ রান করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখান সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি সহ টানা চার ইনিংসে শচিন করেন ১২৭,৭০,৯০ ও ১৩৭ রান। এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে ৬৭,৯১,৭৪ ও ৫৯ রান করেন প্রোটিয়া ওপেনার গ্রায়াম স্মিথ। সাকিব এই তালিকায় থাকলেও তিনি আলাদা অন্য একটি কারণে।

বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে পঞ্চাশর্ধ রান করা সবাই ওপেনার। ওপেনার ব্যতিত প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা চার ইনিংসে ফিফটি করলেন সাকিব। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস তিনি।

এরপরের ম্যাচে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে খেলেন ১২১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফিফটিসহ সাকিব দেশের হয়ে টানা পাঁচ ফিফটি করলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে টানা ৫ ফিফটির আগের রেকর্ডটি ছিল তামিমের। ২০১২ এশিয়া কাপে- পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন যথাক্রমে ৬৪, ৭০, ৫৯, ৬০ রানের। তারপরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ফিফটি করে টানা পাঁচ ফিফটি পূর্ণ করেন এই ব্যাটসম্যান।

চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকা

১. সাকিব আল হাসান – ৪ ইনিংসে ৩৪৬*
২. অ্যারন ফিঞ্চ – ৫ ইনিংসে ৩৪৩
৩. রোহিত শর্মা – ৩ ইনিংসে ৩১৯
৪. ডেভিড ওয়ার্নার – ৫ ইনিংসে ২৮১
৫. জো রুট – ৪ ইনিংসে ২৭৯

13-1906171718.jpg

বাঘের মত গর্জে জয় পেল বাংলাদেশ। টনটনের ছোট মাঠে প্রতিপক্ষের ৩২১ রানের সংগ্রহটা ছিলো অনুমেয়। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভালো করতে হলে, এসব ম্যাচে জিততে হবে দাপট দেখিয়ে। সে কাজটি যেন অক্ষরে-অক্ষরে মিলিয়েই করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি ও লিটন কুমার দাসের ফিফটির সঙ্গে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের যোগ্য দুইটি ইনিংসে সহজ জয়ই পেয়েছে টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩২১ রানের সংগ্রহটা মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৫১ বল হাতে রেখেই টপকে ফেলেছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের পর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে হারায় সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল তাদের সামর্থ্য নিয়েই। সেসব সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়ে রেকর্ড গড়েই ক্যারিবীয়দের হারাল বাংলাদেশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে এতদিন সর্বোচ্চ ৩১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এসেছিল সে জয়। আজ তারা ছাড়িয়ে গেল সে ম্যাচকে। নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২১ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড করলো টাইগাররা।

এ ম্যাচ জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে সাকিব আল হাসান। বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও খেলেছেন ১২৪ রানের অনবদ্য ইনিংস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে লিটন অপরাজিত থাকেন ৯৪ রানে।

লক্ষ্য ৩২২ রানের। শুরুটা ভালোই হয়েছে বাংলাদেশের। ক্যারিবীয় বোলারদের দেখেশুনে খেলছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর তামিম ইকবাল। বিশেষ করে সৌম্য তার সহজাত মারকুটে ব্যাটিংটাই করছিলেন।

কিন্তু অতি আগ্রাসনই যেন কাল হলো। নবম ওভারে আন্দ্রে রাসেলের প্রথম ডেলিভারিতেই পয়েন্টের উপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান সৌম্য। পরের বলে আবার চালিয়ে দেন, স্লিপে ক্যাচ নিয়ে নেন গেইল। ২৩ বলে ২টি করে চার ছক্কায় সৌম্য তখন ২৯ রানে। ৫২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ঝড়ো এক জুটি গড়েন তামিম আর সাকিব আল হাসান। সৌম্য আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ বলেই জুটিতে হাফসেঞ্চুরি পার করেন এই যুগল। ৫৫ বলেই গড়ে ফেলেন ৬৯ রানের জুটি। কিন্তু কপাল মন্দ হলে যা হয়! এবারের বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচে রান পাননি। আজ (রোববার) বেশ দেখেশুনে খেলছিলেন তামিম ইকবাল। হাফসেঞ্চুরির খুব কাছেও চলে গিয়েছিলেন। ৪৮ রানে এসে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন বাঁহাতি এই ওপেনার।

কট্রেলের বলটি ড্রাইভ করে একটুখানি বের হয়ে গিয়েছিলেন তামিম। সুযোগ না দিয়ে তার মুখের উপর দিয়েই থ্রো করে দেন ক্যারিবীয় পেসার। তামিম ব্যাট রাখতে রাখতে ভেঙে যায় স্ট্যাম্প। ৫৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে গড়া টাইগার ওপেনারের ৪৮ রানের ইনিংসটি থামে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে।

তারপর মুশফিকুর রহীমও বেশিদূর যেতে পারেননি। ওসানে থমাসের বলে মাত্র ১ রান করে উইকেটরক্ষক শাই হোপের ক্যাচ হয়েছেন মিডল অর্ডারের এই ভরসা। মুশফিকের বিদায়ে উড়ে আসে শঙ্কা, জেগে ওঠে ক্যারিবীয়দের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা।

তবে চতুর্থ উইকেটে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেন সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাস। ক্যারিবীয় বোলারদের তুলোধুনো করে দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে, গড়েন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে রেকর্ড ১৮৯ রানের জুটি।

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব আল হাসান, উঠে যান চলতি বিশ্বকাপের রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার শীর্ষে। কম যাননি লিটন কুমার দাসও। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই তুলে নেন ফিফটি।

এর আগে ৮ উইকেটে ৩২১ রানের পাহাড়সমান পুঁজি দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা তেমন ভালো ছিল না তাদের। বোলিং উদ্বোধন করেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি ক্যারিবীয় দুই ওপেনার ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস। মেডেন দেন মাশরাফি।

পরের ওভারে সাইফউদ্দীনও ২ রানের বেশি দেননি। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসের কাছে মাত্র একটি বাউন্ডারি হজম করেন মাশরাফি। তার পরের ওভারে দ্বিতীয় বলেই আঘাত সাইফউদ্দীনের। অফসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বল বুঝতে না পেরে একটু খোঁচা দিয়েছিলেন গেইল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীম ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এ নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার ম্যাচে দুবারই শূন্যতে আউট হলেন বিধ্বংসী এই ওপেনার।

৬ রান তুলতেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন এভিন লুইস আর শাই হোপ, দ্বিতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ১১৬ রান।

থিতু হয়ে গিয়েছিল জুটিটা, চোখ রাঙানিও দিচ্ছিল। ২৫তম ওভারে এসে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাকিব আল হাসান। তাকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ হন লুইস। ৬৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ক্যারিবীয় ওপেনার করেন ৭০ রান।

তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুুরান আর সিমরন হেটমায়ারের ৩৭ রানের জুটিটিও ভাঙেন এই সাকিব। টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৩০ বলে ২৫ রান করে লং অনে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হন পুরান। ১৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

সেখান থেকে ৪৩ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী এক জুটি হেটমায়ার-শাই হোপের। কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে মোস্তাফিজ ঝলক দেখান। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন কাটার মাস্টার।

মোস্তাফিজের ওভারের তৃতীয় বলটি মিডউইকেটে ভাসিয়ে দেন হেটমায়ার। ২৫ বলে ৫০ রানের টর্নোডো ইনিংস খেলা এই ব্যাটসম্যান হন তামিম ইকবালের চোখে লাগার মতো এক ক্যাচ। ওভারের শেষ বলটিতে দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দেন মোস্তাফিজ, শূন্য রানেই আন্দ্রে রাসেল ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে।

২৪৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে আরেকটি ঝড়ো জুটি ক্যারিবীয়দের। এবার হোপের সঙ্গী অধিনায়ক জেসন হোল্ডার, ১৫ বলে ৩৩ রানের ঝড় তুলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক আউট হন সাইফউদ্দীনের বলে, লং অফে ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ।

তারপরও একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন শাই হোপ। বল খরচ করলেও যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত আর সেঞ্চুরি পাওয়া হয়ে উঠেনি তার। ১২১ বলে ৯৬ রান করে মোস্তাফিজের শিকার হন হোপ।

শেষ ৬ ওভারে টাইগার বোলাররা বেশ চেপে ধরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এর মধ্যেও টুকটাক বাউন্ডারি মেরে রান এগিয়ে নিয়েছে তারা। শেষ ওভারের শেষ বলে ড্যারেন ব্রাভোকে (১৫ বলে ১৯) বোল্ড করেন সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন দুই পেসার মোস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিন। স্পিনার সাকিবের শিকার ২ উইকেট।

taj-20190617162418.jpg

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনোভাবেই এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না; কোনো নাগরিক গুম কিংবা অপহৃত হোক। কার কী পরিচয় তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি ভাগ্নেকে ফিরে পাব।’

গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ অপহৃত হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সৌরভকে অপহরণ করা হয় বলে ওই দিন রাতে তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘‘বেঙ্গলী বিউটি’’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দাশীল পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার সওদাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে সে বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে সওদার বাবা আজাদ চৌধুরী আমার ছেলেকে দোষারোপ করে এবং আমার ছেলেকে ও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জেরে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সৌরভকে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মোবাইলের সব ডাটা ডিলেট করে সেখানেও সওদার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।’

সৌরভের মা আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় ওসি সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এক সপ্তাহ পর এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে বৈঠক হয়। সেখানে সৌরভের ঘটনা তদন্ত করার কথা জানানো হয়। সেখানেও সওদার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। কোন কোন দেশ ঘুরেছে সৌরভ তা জানতে চায়। পরে তারা প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলে চলে যায়।

২০১৮ সালের ১৬ মে বনানীর বন্ধুর বাসা থেকে ডিজিএফআই ও র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ মে রাত পৌনে ১২টায় একই কায়দায় ফেরত দিয়ে যায়। এ দীর্ঘ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সওদা-সংক্রান্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চাকরির প্রলোভন দেখায়। কাগজপত্র চায়। এরপর গত ৮ জুন দুপুরে ১১-১২টার দিকে র‌্যাব ফোন করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করতে বলে। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি সৌরভ। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই।’

যার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অন্য সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কী হতে পারে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আশা করব না অন্য কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন কিছু হোক। আজকে আমার ভাগ্নে, কালকে হয় তো আপনার ভাই হতে পারে। আরেক দিন হয়তো আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারও কাম্য নয়। কার কী পরিচয় সেটা মুখ্য বিষয় নয়, আমার কী পরিচয় তাও মুখ্য বিষয় নয়। এখানে আইনের শাসনে রাষ্ট্র চলবে। ন্যায়বিচার সুবিচারের রাষ্ট্রে এ রকমটা হওয়া বা এমন পরিণতির শিকার হওয়া কাম্য নয়।’

অপহরণকারীরা কী প্রভাবশালী, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে- এমন প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটা আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। ৮ দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।’

hasina1-20190617182737.jpg

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ ক্রয়সহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম এক সময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

সোমবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বালিশ তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। এক সময় তিনি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপিও নাকি ছিলেন। তাকে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। যখনই তথ্য পেয়েছি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যে দলেরই হোক আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বালিশ তত্ত্ব নিয়ে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির গঠন ও নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এখানে (বিএনপিতে) এমন লোক রয়ে গেছে জন্ম থেকেই তাদের চরিত্র দুর্নীতির। তার কারণও আছে। এই দলটি বিএনপি যিনি করেছিলেন। সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সাথে যিনি জড়িত- হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহীন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন।

অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন জিয়া। ক্ষমতা দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে ওঠে তাদের চরিত্রটা জানা উচিত। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগ্রস্ততার মধ্যে থেকে ওঠে আসা।

পঁচাত্তরের পর থেকে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, সব জায়গায় এই জঞ্জাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বালিশ তত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সেখানে গড়ে উঠছে। সেখানে আর কিছু না পেয়ে পেল বালিশ। এটা কোন বালিশ। কী বালিশ সেটাও একটা প্রশ্ন? এটা কী তুলার বালিশ। কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা, নাকি সিনথেটিক তুলা? নাকি জুটের তুলা? আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেলল কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার জোগানদাতা কে? সেটা আর বলতে চাই না।

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সুশাসনের অভাব বলে অভিযোগ করেন। সংসদ সদস্যের এমন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আরেকজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, সুশাসনের অভাব। উনি যে দল থেকে এসেছেন, নবগঠিত দল। আসলে আওয়ামী লীগ ভেঙেই ওই দলটি গড়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উনাদের নেতা আওয়ামী লীগই করতেন। তারপর চলে গিয়েছিলেন। কাজেই তার দলে কী ডিসিপ্লিনটা আছে? কী দলতন্ত্রটা আছে? যার নিজের দলেই সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, ডিসিপ্লিন নেই- যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলেন, খামোশ। তার কাছ থেকে কী আশা করা যায়?

এ সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য বললেন, প্রতিবার নির্বাচিত হলেই প্লট পাবেন। আমি তো সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমি তো কোনো প্লট নেইনি।

musta-20190617184304.jpg

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা দাপট দেখিয়ে খেলছিলেন। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হেনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। টাইগার শিবিরে ফিরিয়েছেন স্বস্তি।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৬ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৯৫ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বোলিং উদ্বোধন করেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি ক্যারিবীয় দুই ওপেনার ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস। মেডেন নেন মাশরাফি।

পরের ওভারে সাইফউদ্দীনও ২ রানের বেশি দেননি। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসের কাছে মাত্র একটি বাউন্ডারি হজম করেন মাশরাফি। তার পরের ওভারে দ্বিতীয় বলেই আঘাত সাইফউদ্দীনের।

অফসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বল বুঝতে না পেরে একটু খোঁচা দিয়েছিলেন গেইল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীম ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এ নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার ম্যাচে দুবারই শূন্যতে আউট হলেন বিধ্বংসী এই ওপেনার।

৬ রান তুলতেই ভাঙলো উদ্বোধনী জুটি। কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৬ রানের বড় জুটি গড়েন এভিন লুইস আর শাই হোপ।

থিতু হয়ে গিয়েছিল এই জুটিটা, চোখ রাঙানিও দিচ্ছিল। ২৫তম ওভারে এসে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাকিব আল হাসান। তাকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন লং অফে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ হন লুইস। ৬৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ক্যারিবীয় ওপেনার করেন ৭০ রান।

তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুুরান আর সিমরন হেটমায়ারের ৩৭ রানের জুটিটিও ভাঙেন এই সাকিব। টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৩০ বলে ২৫ রান করে লং অনে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হন পুরান। ১৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

সেখান থেকে ৪৩ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী এক জুটি হেটমায়ার-শাই হোপের। কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছিল না। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান, স্বস্তি ফেরান টাইগার শিবিরে।

মোস্তাফিজের ওভারের তৃতীয় বলটি মিডউইকেটে ভাসিয়ে দেন হেটমায়ার। ২৫ বলে ৫০ রানের টর্নোডো ইনিংস খেলা এই ব্যাটসম্যান হন তামিম ইকবালের চোখে লাগার মতো এক ক্যাচ। এরপর ওভারের শেষ বলটিতে দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দেন মোস্তাফিজ, আন্দ্রে রাসেলের (০) ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের গ্লাভসবন্দী করতে কষ্ট হয়নি। ২৪৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

population.jpg

বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৭০ কোটি। তবে আগামী তিনদশকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটি।

সোমবার (১৭ জুন) জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা আরও ২০০ কোটি যোগ হবে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের জনসংখ্যা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট ২০১৯ : হাইলাইটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক জনমিতির বিস্তৃত নিদর্শন এবং সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, প্রজননের হার হ্রাস ও জনসংখ্যা কমতে থাকা দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে বিশ্ব জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে বলা হয়, চলতি শতকের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যা হবে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি।

নতুন অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার অর্ধেকের বেশি হবে নয় দেশে—ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত ২০২৭ সালে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে (৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে)।

১৯৫০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত এক হাজার ৬৯০টি জাতীয় আদমশুমারির ফল ব্যবহার করে এ নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এতে গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ব্যবস্থা ও দুই হাজার ৭০০ নমুনা জরিপের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রজনন হার, যা ১৯৯০ সালে ছিল প্রতি নারীতে ৩.২, তা ২০১৯ সালে কমে ২.৫-এ দাঁড়িয়েছে। সেটি ২০৫০ সালে কমে ২.২ হবে।

১৯৯০ সালের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৪.২ বছর থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৭২.৬ বছর হয়েছে। তা ২০৫০ সালে আরো বেড়ে ৭৭.১ বছর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে ২৭ দেশ বা অঞ্চলে ১ শতাংশ বা তার বেশি জনসংখ্যা হ্রাস পেতে দেখা গেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রজনন হার কমে যাওয়ার কারণে এ হ্রাসের সৃষ্টি হয়।

চীনে ২০১৯ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা তিন কোটি ১৪ লাখ বা প্রায় ২.২ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বলা হচ্ছে।

mobile-operater-20181213185053.jpg

বাজেটে মোবাইলের ওপর বাড়তি কর বাতিল করে কলরেট কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে টেলিযোগাযোগ সেবায় অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করারও দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া উপগ্রহ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগের যাত্রা শুরু হয়।

তখন থেকেই এই সেবা ছিল উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের যোগাযোগে বিলাসিতার মাধ্যম। ’৯০ এর দশকে ওয়ান-জি ও টু-জি সেবার মাধ্যমে তারহীন মুঠোফোন সেবা চালু হলে এ ব্যবসাকে লুটপাটের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হয়।

১৯৯৭ সাল থেকে এ খাতে মনোপলি ভাঙলে অতি সাধারণ ব্যক্তি ও পরিবারের সামর্থের নাগালে চলে আসে এ সেবা। বর্তমানে দেশে ফাইভ-জি চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একদিকে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়, অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যয়ও বৃদ্ধি করতে চায়। এ ধরনের দ্বিমুখী নীতির কারণ কী, আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই?

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রতি বাজেটেই টেলিযোগাযোগে কর ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দেশের সব সেবা সংস্থার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে টেলিযোগাযোগ খাত অগ্রগামী।

জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ টেলিকম খাত থেকে আসে। বিটিআরসি শুধু রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করে। তাছাড়া, লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও তরঙ্গ বিক্রি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় হয়।

মহিউদ্দিন বলেন, ১৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন। বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে করারোপ করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অর্থমন্ত্রী হয়ত বা অবগত নন যে, গত বছর বাজেটে কলরেট বৃদ্ধির পর পুনরায় নতুন করে ১৫ আগস্ট ২০১৮ তারিখে ২৫ পয়সা সর্বনিম্ন কলরেটের স্থলে ৪৫ পয়সা সর্বনিম্ন কলরেট নির্ধারণ করলে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে গত ১৩ ডিসেম্বর কলরেট বৃদ্ধি না করতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন নতুন করে কলরেট বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এ অবস্থায় সরকারের হাইকোর্টের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নতুন করে করারোপ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন ছিল। যদিও প্রডিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট, ১৯৩১ এর ধারা ৩ অনুযায়ী আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে যায়।

কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গ্রাহকরা এই কর দিতে বাধ্য নই। আমরা মহামান্য হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকব। যদি গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ আদায় করা হয় তার জন্য অপারেটর ও সরকার দায়ী থাকবে।

এ সময় তিনি বলেন, সরকার যদি এই শুল্ক প্রত্যাহার করে না নেন এবং মহামান্য হাইকোর্ট যদি রায় জনগণের পক্ষে না দেন তাহলে আমরা আবারো জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

moazzem.jpg

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগেও তিনি জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।

তবে সেখানে তাকে দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে তিনি যখন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর ছিলেন গোয়েন্দারা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকালে ওসি মোয়াজ্জেম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসার পর প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের ১১১ নম্বর কক্ষে বসেন। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।

তবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগ থানাধীন কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি সেখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম দুপুরে কৌশলে জামিন আবেদন করেন। এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, বেলা ১টার দিকে আইনজীবী সালমা সুলতানা একটি জামিন আবেদন শুনানি করতে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন (ম্যানশন) করেন। কিন্তু তিনি তখন বলেননি যে ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন।

তিনি জানান, আজ আদালতে একমাত্র জামিন আবেদন ছিল এটি। যখন আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাকে ফোন দেন তখনই আমার মনে সন্দেহ হয় এটা ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন। এর আগে ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এর আগে ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওইদিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের এএসপি রিমা সুলতানা বলেছিলেন, ‘তদন্তের সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’

পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে বিলম্ব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের নানা রকম সমালোচনা চলছিল।

Dr-Showkat.jpg

রাজধানী ধানমন্ডিতে অবস্থানরত পপুলার হাসপাতালের চিকিৎসক শওকত হায়দারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ ওটেছে। জানা যায় ওই চিকিৎসক ব্রণের ইনফেকশন চেক করার জন্য ছাত্রীর গালে চুমু খান িএবং ইনজেকশন দেয়ার নামে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়।

এই ঘটনায় পপুলার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষার্থী।

চিকিৎসক ও ছাত্রীর এক ফোন আলাপ থেকে জানা যায়, ঐ ছাত্রী চিকিৎসকের কাছে ফোন করে এবং জানতে চায় কেন চুমু খেলো। তখন ডা. শওকত বলেন, ‘কিস করিনি, কি একটা দাগ ছিলো সেটা দেখেছি।

তখন ছাত্রী আবার জানতে চায় তা ঠোঁট দিয়ে মুখ দিয়ে করতে হয়। তখন ডাক্তার বলেন, ঐখানে ইনফেকশন আছে কিনা সেটা দেখেছি। পরে ডা. শওকত ছাত্রীকে দুঃখিত বলেন।

জানা যায়, গত শনিবার (১৫ জুন) চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দার কাছে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রী। এসময় ব্রণের স্থায়ী সমাধানে ইনজেকশন দেয়ার কথা বলে ডা. শওকত। এরপর ইনজেকশন দেয়ার নাম করে ছাত্রীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়।

এ রকম আচরণে দ্রুত ছাত্রীটি বের হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আবার গালে ব্রণ ইনফেকশনের নাম করে ডা. শওকত হায়দার ঐ ছাত্রীর গালে চুমু খায়।

এদিকে এ বিষয়ে ডা. শওকত কে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এ রকম ঘটনা ঘটেনি। তার সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

che-guevara_2-1.jpg

ল্যাটিন আমেরিকার দূর্গম পথে পথে, কিউবার পর্বতমালায়, বলিভিয়ার জঙ্গলে বিপ্লবী মন্ত্র নিয়ে হেঁটে বেড়ানো মানুষটির নাম চে গুয়েভারা। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর কাছে এই বিপ্লবীর নাম চেতনা একটি প্রেরণার মন্ত্র হয়ে উঠেছে। আজীবন বিপ্লবী এই মানুষটি সেই কেউবা থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশেও!

হ্যা বিস্ময়কর মনে হলেও এই তথ্য এখন সত্য। বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য প্রমাণ নথি ঘেটে সম্প্রতি আবিষ্কার হয়েছে বিপ্লবের এই মহানায়ক হেঁটেছিলেন বাংলারপথেও। পরিচয় গোপন রেখে কথা বলেছেন শ্রমিকদের সাথে। বাংলাদেশের পাটকল ঘুরে দেখেছেন তিনি।

রাজনৈতিক দীক্ষা, বিপ্লবী রাজনীতিকে ছড়িয়ে দেয়া, বিশ্বজুড়ে সমাজতন্ত্রের লড়াইকে বেগবান করতেই কিউবামুক্ত করা এই সফল বিপ্লবী ছড়িয়ে পরে স্পিলিন্টারের মতো আঘাত করতে চেয়েছিলেন পূজিবাদীদের শোষনের দূর্গে। তাই তিনি নানা ভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৯৫৯ সালে কিউবার হয়ে এশিয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সফরে বের হয়েছিলেন চেগুয়েভারা। ৩মাসের সেই সফরে ঘুরতে ঘুরতে জুলাই মাসে এসেছিলেন বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)। তিনি বাংলাদেশে আদমজী পাটকলে শ্রমিকদের সাথে মত বিনিময় করেন। তবে সেই সব শ্রমিকরা জানতো না তিনি আসলে কে।

চে গুয়েভারার সাথে স্বাক্ষাতের দাবি করা শ্রমিক নেতা ছায়দুল হক ছাদু সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। এক সময় শ্রমিক নেতা হয়ে ওঠা ছায়দুল হক ছাদু ১৯৫৯ সালে ছিলেন সাধারন শ্রমিক। পরবর্তীতে তিনি আদমজী জুট মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হন। সেই শ্রমিক নেতা আদমজী জুটমিলের কর্মকর্তা হাসানের কাছে চে গুয়েভারার একটি ছবি সম্বলিত একটি বই দেখে স্বনাক্ত করেন যে এই ছবির মানুষটির সাথেই তাদের মতবিনিময় হয়েছে

ছাদু জানান, চে গুয়েভারা ১৯৫৯ সালের জুলাই মাসে আদমজী পাটকলে আসেন। সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারে করে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে তিনি আসেন এবং তার পরিচয় তখন সাধারন শ্রমিকরা জানতো না। তাই তার এই আগমনকে ছাইদুল হক ছদ্মবেশে আগমন হিসেবেই উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, সেই সফরে আদমজী শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক নেতারা ছাড়াও ৩নম্বর মিলের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন চে গুয়েভারা। ৩০ মিনিটের মতো চের সঙ্গে আলাপ হয় শ্রমিকদের।

ছায়দুল হক ছাদুর দেয়া সেই তথ্য যে মিথ্যা নয় তা আরো বেশকিছু তথ্যসূত্র থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। বিপ্লবী চে গুয়েভারার বিভিন্ন রহস্যময় সফর, গোপন দলীল প্রকাশ ও বিভিন্ন সময়ে আবিষ্কৃত নানা তথ্য উপাত্ত থেকে ছায়দুল হকের করা দাবি আরো স্পষ্ট ও জোড়ালো হয়ে উঠেছে।

চে ১৯৫৯ সালে জাপান ও ভারত বর্ষ সফরে বের হন কিউবার সরকারী সিদ্ধান্তে। এটা উল্লেখ আছে বেশ কিছু দলিলে।১২ জুন এই ভ্রমনে বের হন চে গুয়েভারা। এই সফরে তার সঙ্গী ছিলো দেহ রক্ষী হোসে আর গুদিন, দুজন সরকারি কর্মকর্তা ওমর ফার্নান্দেজ ও ফ্রান্সিস কোগার্সিয়াবালস। কায়রোয় দলটির সঙ্গে যোগদেন গণিতবিদ সালবাদর বিলাসেকা ও ভারতে যুক্ত হন সাংবাদিক জোসে পার্দোয়াদা।

এই সফরে যাওয়ার কিছুদিন আগেই মাত্র চে ২য় বিয়ে করেছিলেন প্রেমিকা অ্যালেইদা মার্চকে। অ্যালাইদা ছিলো তার বিপ্লবী সহযোদ্ধা। সদ্য বিবাহিত অ্যালাইদাও যেতে চেয়েছিলেন চে-গুয়েভারার সাথে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যক্তিগত প্রভাব যাতে না পরে সেজন্য তিনি অ্যালাইদাকে নিয়ে যাননি সঙ্গী করে। যা ছিলো অ্যালাইদার জন্য বিরহের। দীর্ঘ এই সফরের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আল্যাইদা এক স্মৃতিচারনে উল্লেখ করেছিলেন, ‘চেগুয়েভারার এ বিদেশ সফরের সময়টা ছিল ১৯৫৯ সালের ১২ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর। এ সফরে চে গিয়েছিলেন মিসর, সিরিয়া, ভারত, বার্মা (মিয়ানমার), শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান), পাকিস্তান (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান), যুগোস্লাভিয়া, থাইল্যান্ড, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, সুদানওমরক্কো।’

তার বাংলাদেশে আসার খবর পাওয়া যায় ভারতের দিল্লী থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা জন সত্তার সম্পাদক ওমথানভি’র এক লেখায়ও। ২০০৭ সালে ‘দ্যারোভিং রেভুলেশনারি’ নামে ‘ হিমালসাউথ এশিয়ান’ একটি নিবন্ধন প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ভারত সফর শেষে চে গুয়েভারা বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) এসেছিলেন। বাংলাদেশ থেকে চে মিয়ানমার ( তৎকালীন বার্মা) হয়ে ইন্দোনেশিয়া ও জাপান যান।

চে’র ভারতবর্ষ সফরের তথ্য প্রকাশের পর অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তখন থানভি এনিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণা করেন। কিউবা চে রিচার্স সেন্টারেও যান। এসব গবেষণা থেকে বের হয়ে আসে এঅঞ্চলে তার সফর সংক্রান্ত নানা তথ্য। তার গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমেই তিনি জানান ভারত থেকে চে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) এসেছিলেন। এরপর সেখান থেকে মিয়ানমার ( তৎকালীন বার্মা) গিয়েছিলেন।

চে’র ভারত সফর থেকে কেন বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা ভারত সফরের কয়েকটি দিক বিবেচনায় আনতে পারি। যার একটি হলো পাট। চে ভারতের কৃষিমন্ত্রী এপি জৈনের সঙ্গে বৈঠকে ভারত থেকে পাট আমদানীর বিষয়ে আগ্রহ দেখান। তখন বাংলাদেশকে বলা হতো সোনালী আশের দেশ। অর্থাত উন্নতমানের পাট ও পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে বাংলাদেশ তখন এগিয়ে। যেহেতু পাটবিষয়ক আগ্রহ প্রকাশ করেন চে সেহেতু এতোদূর ভ্রমনে এসে পাটের মূল অঞ্চলে প্রবেশ করার সুযোগ হাত ছাড়া করার কোন কারন নেই। সেখান থেকে চে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন সেই যুক্তিকে আরো জোড়ালো করেছে।

এখান থেকেই আমরা ফিরে যেতে পারি পাটকলের সেই শ্রমিক নেতা ছায়দুল হক ছাদুর কাছে। যিনি চের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে দাবি করেছিলেন। এই পাটকল শ্রমিকের দেয়া তথ্য, পাটকল পরিদর্শন ও চে’র পাটজাত দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ এসব ঘটনাকে একসুতোয় গেঁথে নিলে চের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে চে গুয়েভারার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মায়ানমার ভ্রমন নিয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক সরকারী দলিল প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিলো। বাংলাদেশ পাকিস্তান এখন আলাদা রাষ্ট্র হলেও তৎকালীন সময়ে একটি রাষ্ট্রছিলো। তখন পাকিস্তান সরকার আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ঠ মিত্ররাষ্ট্র। ধারনা করা হচ্ছে এসব কারণেও সফরটি গোপন রাখা হতে পারে।

চে গুয়েভারার জীবন নিয়ে গবেষণা করা লেখক জনলি অ্যান্ডারসন তার চে গুয়েভারা: আ রেভল্যুশনারি লাইফ বইতে লিখেছেন ‘চে গাজা ও পাকিস্তান সফর করেছেন। এসময় সাধারণ মানুষ বিপুল উল্লাসে তাকে বরণ করে নিয়েছেন।’

হোর্হে কাস্তেনাদাতার গ্রন্থ ‘কম্পানেরো: দ্য লাইফ অ্যান্ড ডেথ অব চে গুয়েভারা’য় শ্রীলংকা ও পাকিস্তান সফরের কথা উল্লেখ করেন।

তথ্য সূত্র: স্ক্রল.ইন, কাফিলা, বনিক বার্তা (বাংলাদেশ)