প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

icc-world-cup-l-20190522183059.jpg

মাত্র এক সপ্তাহ বাদেই শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের ১২তম আসর সামনে রেখে স্বাগতিক দেশ ইংল্যান্ডে পা রাখতে শুরু করেছে অংশগ্রহণ কারী দেশ গুলো। আসন্না এই আসরে নিয়ে বেশ নিত্য নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে আইসিসি। এবার জানালেন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্ট কাভারের জন্য ব্রডকাস্ট মিডিয়ার তালিকা। আইসিসির গ্লোবাল ব্রডকাস্ট পার্টনার হচ্ছে স্টার স্পোর্টস।

২৫টি ভিন্ন ভিন্ন ব্রডকাস্ট পার্টনারের মাধ্যমে ২০১৯ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০ এর বেশি দেশে দেখা যাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে তিনটি টিভি চ্যানেল। বিটিভি ছাড়া দেশি তিন টিভি চ্যানেলে দেখা যাবে হাইলাইটস। ডিজিটাল ক্লিপসের স্বত্ব পেয়েছে ‌‘বঙ্গো বিডি’।

দেশের তিনটি চ্যানেলে বিশ্বকাপ: বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সরাসরি দেখা যাবে জিটিভি, মাছরাঙা ও বিটিভিতে। র‍্যাবিটহোল অ্যাপ ও তাদের ওয়েবসাইটে (www.rabbitholebd.com ) ও দেখা যাবে সরাসরি।

ভারতে এই টুর্নামেন্ট ব্রডকাস্ট করা হবে সাতটি ভিন্ন ভাষায়। তা হলো, হিন্দি, তামিল, তেলেগু, কান্নাডা, বাংলা ও মারাঠিতে। এশিয়ানেট প্লাসের মাধ্যমে ১২টি নির্ধারিত ম্যাচ ব্রডকাস্ট করা হবে মালায়ালাম ভাষাতেও।

বিশ্বজুড়ে যারা ব্রডকাস্ট করবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ: স্টার স্পোর্টস (ভারত ও বাকি থাকা ভারতীয় উপমহাদেশ), স্কাই স্পোর্টস (যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড), সুপার স্পোর্টস (দক্ষিণ আফ্রিকা ও সাব সাহারান আফ্রিকা), ওএসএন (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা), ফক্স স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়া ও চ্যানেল নাইন (অস্ট্রেলিয়া), উইলো টিভি (যুক্তরাষ্ট্র), স্কাই টিভি ও প্রাইম (নিউজিল্যান্ড), টেন স্পোর্টস ও পিটিভি (পাকিস্তান), ইএসপিএন (ক্যারিবিয়ান), গাজি টিভি, মাছরাঙা ও বিটিভি (সমগ্র বাংলাদেশ), এসএলআরসি (শ্রীলঙ্কা), ফক্স নেটওয়ার্ক গ্রুপ (চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া), ডিজিসেল (এশিয়া প্যাসিফিক), রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান (আফগানিস্তান) ও ইয়াপ টিভি (কন্টিনেন্টাল ইউরোপ ও সেন্ট্রাল এশিয়া)।

রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান এর মাধ্যমে এবারই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ সম্প্রচারিত হবে আফগানিস্তানে। চীনে ফক্স স্পোর্টস ২৫টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। সঙ্গে নয়টি ম্যাচে একটু দেরিতে সম্প্রচার করবে।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিভিন্ন ডিজিটাল ক্লিপের জন্য সমর্থকদের সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। ১২টি ডিজিটাল পার্টনার পেয়েছে এই স্বত্ত্ব।

ডিজিটাল ক্লিপসের লাইসেন্স পেয়েছে যারা: বিবিসি (যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড), ইএসপিএনক্রিকইনফো (যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া), হটস্টার (ভারত), ক্রিকবাজ (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা), ক্রিকইনজিআইএফ (পাকিস্তান), দ্য পাপারে ডট কম পাওয়ার্ড বাই ডায়ালগ (শ্রীলঙ্কা), স্কাই (নিউজিল্যান্ড), বঙ্গো বিডি (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া), ক্রিকেট গেটওয়ে (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া), ওএসএন (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা), বোল্ট (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া), ও চ্যানেল টু গ্রুপ (সাব সাহারান আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া)।

রেডিও লাইসেন্স পেয়েছে যারা: রেডিও ৪ ও গোল্ড এফএম (এমইএনএ), বিবিসি টিএমএস, ফাইভ লাইভ ও এশিয়ান নেটওয়ার্ক (যুক্তরাজ্য), মার্কুরি মিডিয়া, এবিসি ও ক্রোক মিডিয়া (অস্ট্রেলিয়া), রেডিও স্পোর্টস নিউজিল্যান্ড (নিউজিল্যান্ড), এসএবিসি (দক্ষিণ আফ্রিকা), সিথা এফএম (শ্রীলঙ্কা), হাম এফএম (পাকিস্তান), বাংলাদেশ বেতার (বাংলাদেশ)।

বেশ কিছু নির্বাচিত ম্যাচ দেখানো হবে ভারতের আইনক্স, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নভো ও আমিরাতের রিল সিনেপ্লেক্সে।

Sujon1-1.jpeg

আসন্ন ঈদে বাড়ি ফিরতে ঘরমুখো মানুষের টিকিট পেতে শুরু হয়েছে দৌড়–ঝাঁপ। তবে এবার ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট পেতে নিজের মেয়ে মন্ত্রীকে একটি তালিকা দিয়েছিলেন। মন্ত্রী সে তালিকা গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।

আর মন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) স্ত্রীর মাধ্যমে অনুরোধ এসেছিল টিকিটের বলেও জানিয়েছেন পিএস। তিনি সেটি প্রত্যাখান করেছেন। এমনকি পিএস তার অফিস কক্ষের দরজায় লিখেও রেখেছেন-‘এখানে টিকিটের সুপারিশ করা হয় না।’

বুধবার (২২ মে) সকাল ৯টা থেকে শুরু হচ্ছে ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম। যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে এবার ঢাকার পাঁচটি আলাদা স্থান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে।

এবিষয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘মন্ত্রী হিসেবে চাপ আমার উপর বেশি। কিন্তু আমাকে তো একটা সিস্টেমের ভেতর যেতে হবে। অনিয়মটাকে তো আর নিয়মে পরিণত করতে পারি না।’

এখন সচিবের কাছে তার নিকটাত্মীয় টিকিট চেয়েছেন। তিনিও ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে তারা এখন দু’জনই টিকিট সংক্রান্ত চাপে রয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, তার মেয়ের কাছে টিকিটের জন্য অনেক অনুরোধ এসেছে।

সে অনুযায়ি মেয়ে তার কাছে অগ্রিম টিকিট চেয়ে একটি তালিকা দিয়েছেন। নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি এভাবে টিকিটের কোনো সুযোগ নেই। মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করলে এই অনুরোধের প্রয়োজন নেই।’

এদিকে মন্ত্রীর একান্ত সহকারি আতিকুর রহমানের কাছে এক নিকটাত্মীয় সিলেট যাওয়ার টিকিট চান। পিএস তাকে সকালে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পরামর্শ দেন। এরপর ওই আত্মীয় পিএসের স্ত্রীকে ফোন করেন।

তিনিও টিকিটের জন্য অনুরোধ করেন পিএসকে। পরে বাসায় ফিরে সেই আত্মীয়কে তার বোঝাতে হয়েছে যে এভাবে ফোন করে টিকিট জোগাড় করা অনৈতিক কাজ। এটি তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রতিদিন এভাবে টিকিট দেওয়ার সুপারিশ প্রত্যাখান করতে করতে বহু বন্ধু-আত্মীয়-সহকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে বলে জানালেন আতিকুর রহমান।

প্রসঙ্গত, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবার ঈদ টিকিট ঘোষণার আগেই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোন অনুরোধপত্র গ্রহণ করে টিকিট দেওয়া হবে না। মন্ত্রী বলেছেন, ‘টিকিট ব্লকিং আর চলবে না। বাংলাদেশ রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরে ভিআইপি নামে টিকিট ব্লক করে রাখা হতো।

যা প্রভাবশালীরা অনুরোধপত্র দিয়ে নিতেন। এখন এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র মন্ত্রী সচিব, সিনিয়র সচিব, বিচারপতি, আইজিপি মর্যাদার মানুষ নিজে যদি ট্রেনে ভ্রমণ করেন তাহলে কেবল তারা টিকিট পাবেন, অন্যথায় নয়।’

seaba.jpg

২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়তে পারে ৬২ সেন্টিমিটার থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বিশ্বে কার্বন নির্গমন যেভাবে চলছে তা কমানো না গেলে এখন থেকে আর ৮০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এক বড় অংশ সাগরের পানির নিচে চলে যেতে পারে- বলছে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত এক নতুন রিপোর্ট ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি যতটা হবে বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল- বিজ্ঞানীরা এখন সতর্ক করে দিচ্ছেন যে পানির স্তর আসলে তার চাইতে অনেক বেশি বাড়বে। গ্রীনল্যান্ড ও এ্যান্টার্কটিকায় জমে থাকা বরফ গলার হার দ্রুততর হওয়াই এর কারণ, বলছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে ৮০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ ভূমি সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে – এর মধ্যে থাকবে বাংলাদেশের এক বড় অংশ।

বিজ্ঞানীদের মতে বাংলাদেশের অনেক এলাকা তখন এমন হয়ে যাবে যে সেখানে লোকজনের বসবাস খুবই দুরূহ হয়ে পড়বে । গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় জমে থাকা বরফ গলার হার দ্রুততর হচ্ছে, বলছেন বিজ্ঞানীরা এতদিন বিজ্ঞানীরা বলছিলেন, ২১০০ সাল নাগাদ পৃথিবীর সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়বে এক মিটারের কিছু কম । কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ওই হিসেব ছিল অনেক দরক্ষণশীলদ।

নতুন জরিপে বলা হচ্ছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়তে পারে তার প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশের অনেকখানি ভূখন্ডই সাগরের নিচে চলে যেতে পারে, বলছে নতুন এক রিপোর্ট এর ফলে ৮০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ ভুমি সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে – এর মধ্যে থাকবে বাংলাদের এক বড় অংশ এবং মিশরের নীল নদ উপত্যকা।

বিপন্ন হবে লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং সাংহাইয়ের মতো অনেক শহরের অস্তিত্ব। কোটি কোটি লোককে এর ফলে বাড়িঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে হবে। যে জায়গাগুলো পানির নিচে চলে যাবে তার অনেকগুলোই গুরুত্বপূর্ণ ফসল ফলানো অঞ্চল, যেমন নীল নদের বদ্বীপ। দপ্রসিডিংস অব দি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসদ নামের জার্নালে এ জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে।

মিশরের নীল নদ বদ্বীপ কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এর লেখকরা অবশ্য বলছেন যে এমন পরিণতি এড়ানোর জন্য এখনও সময় আছে, যদি আগামী কয়েক দশকে কার্বন নির্গমন বড় আকারে কমানো যায়। গবেষকরা বলছে নতুন জরিপে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতের পৃথিবী হতে এখনকার চাইতে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর, যদি কার্বন নির্গমন এখনকার হারেই চলতে থাকে।

তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বাড়বে ৬২ সেন্টিমিটার থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। এর আগে ২০১৩ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছিল সমুদ্রস্তরের উচ্চতা ৫২ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড ও এ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার প্রক্রিয়ার অনেক দিকই তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

nfgth.jpg

শাওয়াল মাসের চাঁদ আগামী মঙ্গলবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় দেখার সম্ভাবনা আছে এবং পরদিন বুধবার (৫ জুন) পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত হবে।

মঙ্গলবার (২১ মে) বাংলাদেশ অ্যাসট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির (বিএএস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, আগামী সোমবার (৩ জুন) বিকাল ৪টা ২ মিনিটে বর্তমান চাঁদের অমাবস্যা কলা পূর্ণ করে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। চাঁদটি ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে ১ ডিগ্রি নিচে ২৯২ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে। তাই এদিন চাঁদের কোনো অংশই দেশের আকাশে দেখা যাবে না।

চাঁদটি পরদিন মঙ্গলবার (৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা থেকে ১১ ডিগ্রি উপরে ২৮৯ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং ৫৮ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটে ২৯৪ ডিগ্রি দিগংশে অস্ত যাবে। এই সময় চাঁদের ১% অংশ আলোকিত থাকবে এবং দেশের আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে একে বেশ স্পষ্টভাবেই দেখা যাবে। এই সন্ধ্যায় উদিত চাঁদের বয়স হবে ২৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে।

সুতরাং, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখার সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন ২০১৯, বুধবার থেকে আরবি ১৪৪০ হিজরির ‘শাওয়াল’ মাসের গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত হবে।

3-Bridge20190520140022.jpg

যেখানে নির্দিষ্ট বাজেটের অতিরিক্ত খরচ ও সময়ে দেশের অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, সেখানে কম খরচ আর নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনটি সেতু নির্মাণ করেছে জাপানি কোম্পানি।

এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মিত হয়েছিল সেতু। দীর্ঘ দুই যুগ পর ঘটল আবার এমন ঘটনা।

২০১৯ সালে এসে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই শেষ হচ্ছে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ।

এছাড়াও এই তিনটি সেতু নির্মাণে বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ খরচে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মূল চুক্তির প্রায় ১ মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে এই তিন সেতু নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর মেঘনা ও গোমতীর মেয়াদ ছিল জুন-জুলাই ২০১৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু গুলশানে হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার কারণে নির্মাণ কাজ ছয় মাস বন্ধ ছিল। তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শেষ করতে ছয় মাস অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। ’

‘কিন্তু সেই ছয় মাস সময় তারা নেয়নি বরং মূল চুক্তির প্রায় ১ মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে নির্ধারিত সময়ের আগে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল। সে কাজগুলোও নিয়েছিল জাপানের কোম্পানিরা। ১৯৯৫ সালের পর এবারের কৃতিত্বটাও তাদেরই।’

শুধু তাই নয়, বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়েও কম খরচ করেছেন তারা।

প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, এই প্রকল্প থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এর মধ্যে মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মধ্যে এই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গোমতী সেতুর জন্য দেওয়া বরাদ্দ ২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকায় কাজ শেষ করেছে তারা।

আর কাঁচপুর সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে এই প্রকল্প শেষ করতে কত ব্যয় হয়েছে তা এখনও জানায়নি সেতু কর্তৃপক্ষ।

সে হিসেবে এখন পর্যন্ত ৯৬০ কোটি টাকা নিশ্চিত সাশ্রয় হয়েছে।

তবে এসব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে কিনা সে বিষয়ে নুরুজ্জামান বলেন, নতুন ও পুরাতন সেতুগুলো সংস্কার কাজ সম্পন্নের পরই সে বিষয়ে জানা যাবে।

padma-20190520183152.jpg

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৭ ভাগ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (২০ মে) রাজধানীর বনানী সেতু বিভাগের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সভা ও গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে আগামী ২১ অথবা ২২ মে পদ্মা সেতুর ১৩তম স্প্যান বসানো হবে বলে জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর অগ্রগতি ৭৬ ভাগ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৫ ভাগ, সংযোগ সড়কের অগ্রগতি ১০০ ভাগ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৭ ভাগ।

মন্ত্রী বলেন, মূল সেতুর নদীর মধ্যে ২৬২টি পাইলের মধ্যে ২৩৬টির কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৬টি পাইলের কাজ জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হবে। মূল সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ২৫টির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে, জুন মাসের মধ্যে আরও ৬টি পিলারের কাজ শেষ হবে এবং বাকি ১১টির কাজ চলমান। মোট স্প্যান ৪১টি।

তিনি আরও বলেন, মাওয়ার পাশে এখন পর্যন্ত ট্রাস (স্প্যান) এসেছে ২৩টি, যার মধ্যে ১২টি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এখন ১৮শ’ মিটার দৃশ্যমান। আগামীকাল (২১ মে, মঙ্গলবার) অথবা ২২ মে (বুধবার) ১৩তম স্প্যান স্থাপন করা হবে। এছাড়াও অবশিষ্ট স্প্যানগুলোর কাজ চীনে প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়া ডাক্টের পাইলিং এবং পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে পিলার ক্যাপ এবং গার্ডার স্থাপনের কাজ চলছে। মোট ১৩ কিলোমিটার নদীশাসন কাজের মধ্যে ৩ কিলোমিটার সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী টানেল বোরিং মেশিনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের খননকাজের উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি ২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৮০টি টানেল রিং বসানোর কাজ অর্থাৎ ১৬০ মিটার টানেল খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৩৮ ভাগ। ২০২২ সালে টানেলটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের ভৌত কাজে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩৩টি পাইল, ৩০০টি পাইলক্যাপ, ৭৯টি ক্রস-বিম, কলাম ১৮৭ (সম্পূর্ণ) ও ১১৯টি (আংশিক), ১৮৬টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ১ম ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে এবং ২য় ও ৩য় ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান চলমান। এছাড়াও ১৪টি স্প্যান আই গার্ডার স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা কাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (টিওয়াইপিএসএ) ইনসেপশেন রিপোর্ট দাখিল করেছে এবং জুন ২০১৯ এর মধ্যে ইন্টারিম রিপোর্ট দাখিল করবে। ডিসেম্বর ২০২০ নাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হবে।

এছাড়া গাইবান্ধা এবং জামালপুর জেলার সংযোগকারী যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত সমীক্ষার জন্য বৈদেশিক অর্থ সংস্থানের লক্ষ্যে পিডিপিপি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত সাপেক্ষে যথাসময়ে সমীক্ষা শুরুর আশা প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী।

এ সময় সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকসহ সেতু বিভাগের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

job444.png

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরাই চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকে—সাধারণ ধারণা এমনটাই। যদিও এর বিপরীত তথ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপ। দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও অধ্যয়নরতদের ওপর পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির জরিপের ফল বলছে, চাকরির বাজারে অগ্রগামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের হার যেখানে ৩২ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তা ৪৪ শতাংশ। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন বরাবরের।

চাকরিদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগই বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে, যা গ্র্যাজুয়েটদের চাকরিপ্রাপ্তি সহজ করে। তবে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরাই যে চাকরির বাজারে ভালো করছেন তা নয়। ভালো করছেন মূলত প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা।

গবেষক দলের সদস্য ও বিআইডিএসের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট সিবান শাহানা বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার ক্ষেত্রে দুটি কারণ পরিলক্ষিত হয়েছে। একটি হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কেমন? উত্তরে দেখা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানাভাবে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যেমন জব ফেয়ারের আয়োজন করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ করার ব্যবস্থা করছে। বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গেস্ট লেকচারার হিসেবে আনছে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে থাকে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ ধরনের তত্পরতা তেমন দেখা যায় না। অন্য একটি কারণ হচ্ছে, জরিপে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটরা ২০১৫-১৬ সেশনের। তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছে বেশিদিন হয়নি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিসিএস বা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে কয়েক বছর চলে যায়। যেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশনের পরপরই কোথাও না কোথাও যোগ দেন। এটাই চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের এগিয়ে রাখছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অধীন উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের (এআইএফ) সহযোগিতা পায় দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জানতে গত বছর জরিপটি চালায় বিআইডিএস। জরিপে এআইএফ ফান্ডপ্রাপ্ত ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেন। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ২৭টি ও প্রাইভেট নয়টি। মূলত দুই ভাগে পরিচালিত হয় জরিপটি। জরিপের একাংশ পরিচালিত হয় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ওপর। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্পন্নকারী প্রায় এক হাজার গ্র্যাজুয়েট এতে অংশ নেন। জরিপের অন্য অংশটি পরিচালিত হয় স্নাতক পর্যায়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দেড় হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

ফলাফলে দেখা যায়, দেশের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চাকরি পাচ্ছে ৩৪ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্নতা রয়েছে চাকরিতে প্রবেশের হারে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে এ হার ৪৪ শতাংশ। যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে হারটি ৩২ শতাংশ। চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশই বেসরকারি খাতে কর্মরত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের বেশির ভাগ যোগ দিচ্ছেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বেশি যাচ্ছেন সরকারি চাকরিতে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের এগিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের পাবলিক-প্রাইভেটে আলাদা করার সুযোগ নেই। গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারলে তারা বেকার থাকবেন না। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত মানে কোনো ছাড় দিই না। আমাদের কোনো শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বেকার থাকে না। জরিপে চাকরি নিয়ে প্রত্যাশা, চাকরির যোগ্যতা ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শিক্ষার্থীদের কাছে। জরিপে অংশ নেয়া ১৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায়, তাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হওয়ার পর চাকরির বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ দশমিক ৩৮ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এ অভিমত ব্যক্ত করে। অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েশনের পর কী চাকরি করবেন, বেশির ভাগ গ্র্যাজুয়েটেরই সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই।

গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্নের পর চাকরি প্রাপ্তির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয় শিক্ষার্থীদের কাছে। তাদের মাত্র ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বলে মত দেয়। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই গ্র্যাজুয়েশনের পর চাকরি পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী নয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে জরিপের পাশাপাশি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনেরও (এফজিডি) আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের বিভাগ ও বিষয় নির্বাচন নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ জানায়, চাকরির কথা মাথায় রেখে বিভাগ নির্বাচন করেননি তারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকা ও আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শেই বিভাগ নির্বাচন করেন তারা।

প্রতিবেদনের শেষাংশে গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা তরুণদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতিমালার লক্ষ্যগত দূরত্ব।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মিনহাজ মাহমুদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, কর্মবাজারের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্যগত অমিলের সমস্যা বাংলাদেশে প্রকট। যেমন চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু বিভাগে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। আবার চাহিদা থাকলেও বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাড়ানো হচ্ছে না আসনসংখ্যা। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বয় প্রয়োজন।

ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৬ জন। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ হিসাব করলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৪১। আর ৯৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৩ জন।

base_1558253461-kader.jpg

চিকিৎসা শেষে প্রায় আড়াই মাস পর কাজে যোগদানকে জীবনের ‘দ্বিতীয় ইনিংসের’ শুরু বলে আখ্যায়িত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমি তো মরেই যেতাম। বেঁচে আছি। প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা উড়ালসড়ক, ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা।

রোববার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রণালয়ে আসার পর সচিবসহ কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

ঈদ যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার ঈদ যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। ২৫ মে গাজীপুর কোনাবাড়ি ও চন্দ্রায় দুইটি উড়ালসড়ক ও চারটি আন্ডারপাস উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তা উদ্বোধন করবেন। আশা করা যায়, এবারের ঈদে আর যানজট হবে না।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কাউন্সিল যথাসময়ে হবে। দলের একটি টিম সেভাবেই কাজ করছে। আগামীকাল দলীয় কার্যালয়ে যাব এবং সেতু ভবনে অফিস করবো।

অসুস্থতা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সুস্থ আছি। তবে শারীরিক দুর্বলতা আছে। এক–দেড় মাস আগের মতো ছোটাছুটি করা যাবে না। দুই মাস পরপর আবার চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ করাতে সিঙ্গাপুর যেতে হবে।

গত বুধবার ২ মাস ১১ দিন পর দেশে ফেরেন ওবায়দুল কাদের। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বহনকারী বিজি-০৮৫ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ৩ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হলে ওবায়দুল কাদেরকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন কাদেরকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

al-big-3-20190518215755.jpg

দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের এবারের সাংগঠনিক সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড নেতাকর্মীদের বিষয়টি। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগেও উঠে আসছে দলের নাম ভাঙিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথা।

দলে তাদের খবরদারি, দল ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো নানা কর্মকাণ্ডে তৃণমূল খুব ক্ষুব্ধ। সুদিনের মধুর আশায় দলে ভেড়া সুবিধাবাদীদের আমলনামা জেনে কেন্দ্রীয় নেতারাও অবাক ও বিস্মিত হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ শুনে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করছেন। তালিকার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ প্রমাণ হলে দলে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসাদের’ দল ও সংগঠনের সব পদ থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীরা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে জানায় দলটির উচ্চপর্যায়ের সূত্র।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, চলতি বছরে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া ও দলকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করতে আবারো জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফরের জন্য দলের গঠিত আটটি বিভাগীয় টিম গত ১১ মে থেকে কার্যক্রম শুরু করে। ক্ষমতাসীন দলে ঠাঁই নেওয়া বহিরাগত ও নানা অপকর্মে জড়িতদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের দলীয় পদ থেকে সরানোর পর জনপ্রিয়, ত্যাগী ও সৎ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় সম্প্রতি আয়োজিত বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাভোগীদের বিতাড়িত করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের আমাদের সংগঠনে দরকার নেই। ধীরে ধীরে তাদের বের করে দিতে হবে। সেই কার্যক্রম আমাদের শুরু করতে হবে। ভাড়া করা লোক দিয়ে দল গঠন করেছিল বলেই বিএনপির এখন ভরাডুবি অবস্থা।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান দলের সাংগঠনিক সফর সম্পর্কে বলেন, ‘সংগঠনের ভেতরে কোনো অশুভ শক্তি আছে কি না, কোনো অনুপ্রবেশকারী আছে কি না, এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আগামী জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একটা কাউন্সিলার তালিকা প্রস্তুত করে বর্ধিত সভা করা।’

দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সফরের মধ্য দিয়ে আমারা একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটির ঠিকানা সংগ্রহ করব। ডাটাবেজে তৃণমূলের সব নেতাকর্মী ও সংগঠকের নাম লিপিবদ্ধ থাকবে মুঠোফোন নম্বরসহ।’

দলীয় সূত্র মতে, সাংগঠনিক সফরের প্রথম দফায় ৯ সদস্যের টিম গত ১১ মে থেকে শুরু করে আগামী ২১ মে পর্যন্ত খুলনার বিভিন্ন জেলায় সফর করবে। সফরে বর্ধিত সভার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের। খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত দলকে সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে বিভাগের জেলাগুলোতে সাংগঠনিক সফর করছেন।

তারা আজ ১৮ মে খুলনা মহানগর, আগামীকাল ১৯ মে খুলনা জেলা, ২০ মে বাগেরহাট ও ২১ মে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা সফরের মধ্য দিয়ে এ সাংগঠনিক সফর শুরু হয়। যেসব জেলায় দীর্ঘদিন দলের সম্মেলন হয় না, সেসব জেলাকে প্রাধান্য প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে সফরসূচি।

আওয়ামী লীগের আটটি বিভাগীয় টিমের লক্ষ্য সারা দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দল থেকে দলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তবে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া অনেক নেতার বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দল। কারো কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলেও কোনো না কোনোভাবে শাস্তির আওতায় আসবেন অনুপ্রবেশকারীরা। তৃণমূল পর্যায় থেকে দলের নেতাকর্মীদের তথ্যভান্ডার তৈরিতেও কাজ চলছে।

আসন্ন ঈদের পর অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে ছাঁটাইয়ের অভিযান পুরোদমে শুরু হবে। ঈদের পর শুদ্ধি অভিযান শুরু হলেও দলের আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগেই অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করছেন নেতারা। আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুতনয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী দলকে চাঙ্গা করতে চলতি বছরের অক্টোবরেই জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। অক্টোবরে শেষ হচ্ছে আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক নেতা জানান, টানা ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকায় দলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। অনেক সুবিধাবাদী দলে ঢুকেছে আর এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বারবার বলছেন।

অনুপ্রবেশকারীদের যারা দলে জায়গা করে দিয়েছেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি দায়িত্বশীল কেউ জামায়াতিদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন বলে প্রমাণ হলে তার বা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলে এসে ঠাঁই নিলেও সাবেক জামায়াতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এখন সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

দলীয় সূত্র মতে, সম্প্রতি ফেনীতে মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির অগ্নিদগ্ধে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির নাম উঠে আসে। হত্যার ঘটনার সন্দেহভাজন আরো কয়েকজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা থাকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাতজন খুনের ঘটনায়ও আওয়ামী লীগ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে বলে দলটির অনেকে মনে করেন।

দেশের আরো কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির জেরে সংঘর্ষের খবর উঠে আসে গণমাধ্যমে। এসব ঘটনা সরকার ও আওয়ামী লীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। তাই দলে শুদ্ধি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ruppur-pabna-1-20190518174226.jpg

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter