প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

pm-evening-20190718215439.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছি বলে দেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ আজ উন্নয়নের ছোঁয়া উপলব্ধি করতে পারছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের এ উন্নয়নের ভাগিদার আপনারাও। কারণ মাঠ প্রশাসনে আপনারা কাজ করেছেন। দেশের উন্নয়নে আরো নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবো। যিনি ঘুষ নেবেন শুধু তিনি নন, যিনি দেবেন তিনিও দোষী হবেন। দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে থাকবেন। যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছি। এবার ইতিহাসের স্মরণকালের বাজেট দিয়েছি। অনেক দিন আগে থেকেই ভাবতাম ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট কবে দিতে পারবো। তাছাড়া আরো ভাবতাম প্রবৃদ্ধি কবে ৮ ভাগ হবে। এবার সে আশা পূরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর শাসনামলে প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা এ দেশের মানুষের সমৃদ্ধ জীবন চেয়েছিলেন। কিন্তু সে আশা তিনি পূরণ করতে পারেননি। আমরা তার সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছি।

প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের তিনি বলেন, দেশের আরো উন্নয়নের জন্য কীভাবে কী করা যায় সে বিষয়ে আপনারা চিন্তা করবেন। আপনাদের বেতন বাড়িয়েছি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। তিন বছর পরপর বেতনসহ বিনোদন ছুটি দিচ্ছি। এসবের বিনিময়ে আমরা চাই দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ জন্য আপনারা কাজ করবেন। একদিন যারা এ দেশকে বটমলেস বাসকেট বলেছিল তাদের দেশে যে দারিদ্র্যের হার তার চাইতে কম হলেও আমাদের দেশে এক ভাগ কমাতে চাই।

g322.jpg

নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এবং রুপকল্প ২০২১ অর্জনে অবদান রাখার জন্য ৪০টি পৌরসভায় এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১ জুন একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেকের ওই সভায় জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে এই প্রকল্প কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাড়ে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্পের বাস্তবিক অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের ৯৪% অতিবাহিত হলেও এখনো ৭০% কাজ বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকল্পের মালামাল কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, এই প্রকল্পের প্রতিটি কাজেই অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রকল্পটি মূল ব্যয় ২৩০ কোটি টাকা ধরা হলেও এতে কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শদাতার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা অধিক। শুধু পরামর্শকই নয় প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ নথিপত্র ও কাজের অগ্রগতির ডাটা সংগ্রহের জন্য ৮টি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে, যেটার হিসাব দেখানো হয়েছে ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তাতে প্রতিটি কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।

৪০ পৌরসভার ১৭ হাজার ২৩০টি বসতবাড়িতে পানির সংযোগ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। অপরদিকে পৌরসভাতে ৭৮টি ডিপ টিউবওয়েল (উৎপাদক নলকুপ) স্থাপন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটি নলকুপ স্থাপন করতে খরচ হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা করে। ১৬১টি পানির পাম্প ও পাবলিক টয়লেট বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ খরচ করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, এতে হিসাব করে দেখ যায় প্রতিটি টয়লেটে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগেই খরচ করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকার উপরে।

উক্ত প্রকল্পে শুধুমাত্র পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ খরা করা হয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে এই প্রকল্প শুরু করার আগে ১০০টি নলকুপ পরীক্ষা করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সেটার প্রতিটির খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এই প্রকল্পে অধীনে ৪০টি পৌরসভার ৬২০ কি.মি. পাইপলাইন স্থাপন করতে ৭৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এতে প্রতি কি.মি. পাইপলাইন স্থাপনে খরচ হয়েছে গড়ে ১২ লক্ষ টাকা করে। ৬টি পানির ট্যাংক নির্মাণের খরচ দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা, এতে প্রতিটি প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ৮৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটির মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক টাকার ওপরে। প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০টি পৌরসভায় পাকা ও আধাপাকা মোট ১১১টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এতে প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ টাকার ওপরে। কিছু কিছু পৌরসভায় টয়লেট নির্মাণ না করেও বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য ৫টি রানার মোটর সাইকেল কেনার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা। এমনকি ১টি জিপগাড়ি কেনা হয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করে। উক্ত প্রকল্পটি দেখাশুনা করার জন্য কর্মী বাবদ খরচ হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের পানির পাম্পে ইলেকট্রিক বোর্ড স্থাপন করতে খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, এত প্রতি বোর্ড স্থাপনেই খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।

এই প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০ টি পৌরসভা হলো – মেহন্দিগঞ্জ, বোরহানউদ্দিন, স্বরুপকাঠি, শানারাশ, ছেঙ্গারচর, দাউদকান্দি, চকরিয়া, কবিরহাট, সাভার, ভাঙ্গা, কটিয়াদি, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, মিরকাদিম, ত্রিশাল, পলাশ, ঘোড়াশাল, মনোহরদী, শিবপুর, নড়িয়া, ডামুডা, জাজিরা, ভেদোরগঞ্জ, নালিতাবাড়ি, নোয়াপাড়া, ঝিকরগাছি, কালিয়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বেড়া, সাঁথিয়া, শাহজাদপুর, রতনপুর, ফুলবাড়ি, শেতাবগঞ্জ, বিরামপু, গাবতলি, শান্তাহার, মাধবপুর ও কালিগঞ্জ।

এসব পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশনের জন্য বড় আকারের বরাদ্দ হলেও বাস্তবে বেশ কিছু পৌরসভায় এসব প্রকল্পের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার যেখানে প্রকল্প খুঁজে পাওয়া গেছে সেখানে পাওয়া যায়নি একনেক থেকে অনুমোদিত প্যাকেজসমূহের কাজ। অর্থ বরাদ্দে প্রতিটি পৌরসভায় উৎপাদক নলকুপ, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন, পানি শোধনাগার, পাবলিক টয়লেট, ঘরবাড়িতে পানির সংযোগের কথা উল্লেখ থাকলেও কিছু পৌরসভায় শুধু টিউবওয়েল ও পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেই শতভাগ কাজ দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের রাজস্ব ও মূলধন মোট ৩০ টি ক্যাটাগরি রেখে প্রকল্প ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার ৮টি, ওভারহেড ট্যাংক -৬টি, উৎপাদক নলকুপ-৭৪টি, পাইপ লাইন-৬২০ কি. মি, পানির গৃহসংযোগ-১৭২৩০টি, টিউবওয়েল-২১৬৫টি, পাবলিক টয়লেট-১১১টি। এই প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নকাল ছিল জুন ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস ‌পর্যন্ত মোট ৩ বছর ৬ মাস হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পে সময় ১ বছর ৩ মাস বাড়ানো হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের ৫০% কাজ। এই প্রকল্পের ব্যয় ১৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২৩০ কোটি করা হয়।

পানি সরবরাহ ব্যাবস্থা এবং স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসাবে এখানে পানি ও স্যানিটেশনের চাহিদাটাও একটু বেশি। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য পৌরসভার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই লক্ষ্যে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পটির বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

এই প্রকল্প বাস্তবিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কমকর্তা জানান, আসলে আমাদের পৌরসভায় এই প্রকল্পের কাজ করার বরাদ্দ এবং নিদের্শনা আসার পরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে কি কি কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি পানির লাইন, পাবলিক টয়লেট, গৃহসংযোগ, টিউবওয়েল নির্মাণ করার কথা রয়েছে কিন্তু ৪ বছরে শুধুমাত্র ২ পাবলিক টয়লেট আর বড়বড় নেতাদের বাসাবাড়িতে পানির সংযোগ ছাড়া তেমন কোন কাজ করা হয়নি।

পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই আওতাধীন বরাদ্দকৃত পৌরসভা সাভার’র পৌর মেয়র হাজী মো. আবদুল গনি জানান, আমার পৌরসভায় পানির লাইনের কাজ ৭০% শেষ হয়েছে এবং বসতবাড়িতে পানির সংযোগও কিছুটা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৫০ টি টিউবওয়েলের বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু এখনো সেটার বাস্তবিক কোন কাজ শরু করা হয়নি। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডিপিএইচ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব বশির আহম্মেদ জানান, আমরা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের বিধিবিধান মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছি ।এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।

rifat4.jpg

বরগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কারণ সে নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ জন্য রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছিলো ছক।

সূত্র বলছে, ঘটনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কালক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সেজন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নির্লিপ্তভাবে হাটতে দেখা যায়। ভেবেছিলেন নয়ন বন্ডরা তাকে সামান্য শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ যখন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সাথে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনা সদরের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতারের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

এসময় তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার পর মিন্নিকে তার বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে আসে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। পরে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। দুর্বৃত্তরা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

sheikhhasina-20190603205844.jpg

যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশে আমরা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন চালু করবো। বাংলাদেশের মানুষ যেন দ্রুত গতিতে কম খরচে কম সময়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।

আজ বুধবার বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বর্ধিত বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বর্ধিত বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’কে তিনি কোরবানি ঈদের উপহার বলেও ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশিতে ফু দিয়ে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এ ছাড়া রেলপথ উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে। রেলপথ যোগাযোগের জন্য এমনই একটি মাধ্যম, যাতে অল্প সময়ে এবং কম খরচে দেশের মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। এ ছাড়া রেলে মালামাল খুব কম খরচে পরিবহন করা যায়। এজন্য রেলের উন্নয়নে আমরা আলাদা মন্ত্রণালয় করেছি। যার নাম দেওয়া হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, যে সমস্ত জেলার মানুষ কখনও কোনোদিন রেলপথ দেখেনি, ভবিষ্যতে সেখানেও রেলপথ যাবে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেললাইন উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

b4t3.jpg

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার কিছু পর প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশ করেন।

পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফলাফল তুলে ধরে জানান, ১০টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে পাশের ৭৩.৯৩। সারাদেশে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫৮৬।

তিনি আরও জানান, মাদরাসা বোর্ডে পাশের হার ৮৮.৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৫৪৩ জন শিক্ষার্থী। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৮২.৬২ শতাংশ।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন।

মাদ্রাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন।

গত ১ এপ্রিল ’১৯ তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ মে।

এবার দুই হাজার ৫৭৯টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ajmot.jpg

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার পরেও বিনাদোষে আইনি জটিলতায় ১০ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন বৃদ্ধ শিক্ষক আজমত আলী। হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের নির্দেশের কপি হাতে পেয়ে জেল সুপার মকলেছুর রহমান মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় তাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত আজমত আলীকে পেয়ে বাবা-মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের ইজ্জতউল্লাহ সর্দারের ছেলে আজমত আলী টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি।

১৯৮৭ সালে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি হত্যা মামলায় ১৯৮৯ সালে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজমত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

এই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ ক্ষমার প্রার্থনা করে আজমত আলীর পরিবার। সেই আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আজমত আলী।

পরে ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আসামি আজমত আলীকে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। হাজির না হলে ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে আজমত আলীকে গ্রেফতার করে নিন্ম আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে বন্দি জীবনযাপন করছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন তার বাবার মুক্তি চেয়ে আইনি সহায়তা পেতে সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইডে আবেদন করেন। পরে সে আবেদন পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আপিল বিভাগের রায় পুর্ণবিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে নি:শর্ত মুক্তি দেওয়ার নিদের্শ দেন। আপিল বিভাগের নিদের্শে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেন।

আজমত আলীর কন্যা বলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশের পর আইনী জটিলতায় বিনা দোষে তার বাবা ১০ বছর কারাভোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এখন আমার বাবা জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া দশ বছর কি আমরা ফিরে পাবো? এই বলে বাবাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সদ্যমুক্তি পাওয়া আজমত আলী বলেন, আইনি জটিলতায় বিনাদোষে আমি বৃদ্ধ বয়সে কারাগারে ১০ বছর মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছি। কারো জীবনে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।

জামালপুর কারাগারের জেল সুপার মকলেছুর রহমান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিদের্শের কপি পাওয়ার মাত্রই তাকে মুক্তি দেয়া হলো। তার মুক্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট।

dengu-20190716205217.jpg

চলতি বছরে সাড়ে ছয় মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের ঘর ছুঁই ছুঁই করছে। ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে’তে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৭৬১ এবং চলতি মাসের ১৬ জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন ও চলতি মাসে ১ জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১ হাজার ২২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৭১ জন ভর্তি হন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, রাজধানীর অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু নিশ্চিত হলেই কেবল তা গণনায় আসছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হিসেবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হাজার পাঁচেক হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে। কারণ অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকদের চেম্বারে যাচ্ছেন। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকৃতি ও ধরন পাল্টে যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবার জ্বর হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বাধিক ৬১১ জন ভর্তি হয়। এছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৫২, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১১২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩১৭, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৩৪৯, বারডেম হাসপাতালে ৭৭, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ৯৬, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫, বিজিবি হাসপাতালে ১৫২, সিএমএইচে ১৪১ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১৬ এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২ হাজার ৫৭৬ জন ভর্তি হন।

ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২০ জন, চট্টগ্রামে ৪ জন ও খুলনা বিভাগে ১৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ershad-mayor-20190716213822.jpg

শেষ পর্যন্ত অসিয়তকৃত পল্লী নিবাসের লিচু বাগানেই সমাহিত হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে এর পেছনে যে গল্প তার প্রধান কারিগর হলেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

এরশাদের চতুর্থ ও শেষ জানাজা শেষে কালেক্টরেট মাঠ থেকে মরদেহ বহনকারী গাড়ি চালিয়ে পল্লী নিবাসে পৌঁছান সিটি মেয়র। ফলে বাধ্য হয়ে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন কেন্দ্রীয় নেতারা। লাখো নেতাকর্মীর ভালোবাসায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় পল্লীবন্ধুকে।

জানাজায় অংশ নিতে আসা উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে ফ্রিজিং গাড়িতে রংপুর সেনানিবাস থেকে এরশাদের মরদেহ আনা হয় কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে সেখানে একটি মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি মেয়র, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এরশাদের মরদেহ আনার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান। মানুষের ঢল চলে যায় আশেপাশের রাস্তা ও প্রধান সড়কে। এরই মধ্যে এরশাদের সমাধি রংপুরে দিতে হবে এই দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। স্লোগানের মধ্যেই মাইকে বক্তব্য দিতে থাকেন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতারা। বিক্ষোভ বেড়ে গেলে বেলা ২টার দিকে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দেন, ‘স্যারের মরদেহ আমাদের কাছে আছে। কেউ মরদেহ নিয়ে যেতে পারবে না। রক্তের বিনিময়ে হলেও পল্লী নিবাসেই স্যারের সমাধি আমরা করব।’

এরপর শুরু হয় জানাজা নামাজের প্রস্তুতি। জানাজার প্রস্তুতির মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ও এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ।

জিএম কাদের বক্তব্য দেয়ার সময় এরশাদকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকায় সমাহিত করার ইঙ্গিত দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় লাখো জনতা সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং ‘রংপুরে সমাধি চাই’ দাবি তোলেন। শুরু হয় উত্তেজনা। মঞ্চের মধ্যে উত্তেজনা বেশি ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে মেয়র মোস্তফা জিএম কাদেরের হাত থেকে মাইক নিয়ে ঘোষণা দেন, স্যারের সমাধি পল্লী নিবাসেই হবে। জানাজার প্রস্তুতি নিন। এরপর আড়াইটায় শুরু হয় জানাজা।

জানাজা শেষে আবারও মরদেহ বহনকারী গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন নেতাকর্মীরা। প্রায় ১৫ মিনিট আটকে থাকে মরদেহ বহনকারী গাড়ি। একপর্যায়ে গাড়িতে উঠে পড়েন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির। এরই মধ্যে প্রচার হয় মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। বিক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাঠের পূর্ব দিক দিয়ে রওনা দেন মেয়র মোস্তফা।

এ সময় গাড়ির সামনে ও পেছনে হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিতে থাকে। মরদেহ বহনকারী গাড়ি এগোতে থাকে ধীরে ধীরে। মরদেহ ডিসির মোড় হয়ে যাওয়ার কথা থাকায় চেকপোস্ট পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে প্রশাসন। কিন্তু মোস্তফা নিজে গাড়ি চালিয়ে উল্টো পথ সিটি কর্পোরেশনের দিকে রওনা হন।

মরদেহের গাড়ি যখন সিটি কর্পোরেশনের সামনে ঠিক তখনই জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমিও চেয়েছিলাম রংপুরে হোক ভাইয়ের সমাধি। রংপুরের মানুষের ভালোবাসার বিষয়টি আমি ভাবি রওশন এরশাদকে জানাই। তিনিও রংপুরে দাফনের অনুমতি দেন এবং কবরের পাশে তার জায়গা রাখার কথা বলেন। মুহূর্তেই তা ব্রেকিং নিউজে স্থান পায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেটি বিশ্বাস করছিলেন না। সে কারণে এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়ির সামনে পেছনে বিক্ষোভ চলতেই থাকে।’

পরে পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, শাপলা চত্বর, খামার মোড়, লালবাগ ও কলেজপাড়া দর্শনা হয়ে পল্লী নিবাসে গিয়ে মরদেহ বহনকারী গাড়ি পৌঁছায় বিকেলে সাড়ে ৪টায়। মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগে ২ ঘণ্টারও বেশি।

এরই মধ্যে জিএম কাদের, মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা পল্লী নিবাসে চলে যান। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষ করে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে পল্লী নিবাসেই সমাহিত করা হয় রংপুরের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পাওয়া তাদের এই প্রিয় নেতাকে।

এর আগে গত ৮ জুলাই এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করার দাবিতে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

সিটি মেয়রের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদ হোসেন লুসিড বলেন, মেয়র মোস্তফা যে মাটি ও মানুষের নেতা তা আর একবার প্রমাণিত হলো। তিনি না হলে এরশাদের মরদেহ রংপুরে দাফন করা সম্ভব হতো না। সিটি মেয়র নিজেই গাড়ি চালিয়ে কালেক্টরেট মাঠ থেকে পল্লী নিবাসে স্যারের মরদেহ নিয়ে যান।

Heavy_Rain.jpg

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিনদিন আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চার বিভাগ ছাড়া ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

PM-Hasina1.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আগে আট ভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেত। এখন ৪০ ভাগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তাতে সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বস্তিবাসীরাও ফ্লাটে বসবাস করার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহছাড়া থাকবে না। প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, জমি পাবে।

গণপূর্ত অধিদফতরের চারটি এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তিনটিসহ মোট সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

ইস্কাটন গার্ডেন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার। সুইচ টিপে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য ফ্ল্যাট প্রকল্প করেছি। উত্তরা, ভাষানটেক, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত। তারা যেন মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, আবাসন নিয়ে যাতে তাদের চিন্তা করতে না হয়, সে কারণে এ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা যে ভাড়া দিয়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় জীবনযাপন করে, সে তুলনায় ভাড়া অনেক বেশি। অমরা তাদের জন্যও আবাসনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তারা দিনের ভাড়া, সাপ্তাহিক ভাড়া, এমনকি মাসের ভাড়া পরিশোধ করে সেখানে উন্নত পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

বর্তমানে সরকারি ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জন্য চমৎকার ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। এ ফ্ল্যাটগুলো নিজের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খরচের বেলায় সাবধানী হবেন। কোনোক্রমেই এসবের অপচয় করবেন না। আপনাদের যে দামে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস দেয়া হয়, তার চেয়ে খরচ অনেক বেশি পড়ে। যে ব্যয়ভার সরকার বহন করে।

আর্কিটেকচার ও প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখনেও ঢাকা ও ঢাকার চারপাশে যেসব পুকুর, খাল, লেক, ঝিল ও জলাশয় আছে, সেগুলো ভরাট করে বিল্ডিং করতে চাই,লে সে কাজ করবেন না। যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ করবেন পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রেখে। এটা আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ। আশা করি, এ অনুরোধটা রাখবেন।

তিনি বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের জন্য আধুনিক আবাসনের সুযোগ সুবিধা তৈরি করা হবে। জেলা উপজেলায় পরিকল্পিত আবাসন না করা গেলে, এক সময় কৃষি জমি শেষ হয়ে যাবে। তিনি জেলা উপজেলায় আবাসন গড়ে তোলার জন্য মাস্টার প্লান করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।