প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

coronavirusmgn10.jpg

করোনা ভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ জনে। শুক্রবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই সময়ে দেশে কোনো করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়নি। এর আগের তথ্য অনুসারে দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা গেছেন।

pm453.jpg

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই টুকটাক করে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশের আনাচে-কানাচে নমুনা পরীক্ষার আওতায় না আসা জনগোষ্ঠীর ভেতরে সেই সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। সারা দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। তারপরও মানুষ পেটের দায়ে হোক কিংবা নির্দেশনা অমান্য করে- ঠিকই রাস্তায় নামছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গতকাল থেকে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী।

এরইমধ্যে দেশের প্রত্যেক উপজেলা থেকে দুই জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিষয়ে ৩১ দফা নি‌র্দেশনা দি‌য়ে‌ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩১ দফা নি‌র্দেশনার মধ্যে রয়েছে-

১) করোনা ভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে।  এ ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

২) লুকোচুরির দরকার নেই, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

৩) পিপিই সাধারণভাবে সবার ব‌্যবহারের দরকার নেই। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। এই রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্কসহ সব চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৪) কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় নিয়োজিত সব চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অ‌্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৫) যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে।

৬) নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

৭) নদীবেষ্টিত জেলায় নৌ-অ‌্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮) অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে।

৯) পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। সারা দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

১০) আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সব সরকারি কর্মকর্তারা যথাযথ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন- এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

১১) ত্রাণকাজে কোনও ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

১২) দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকে। তাদের সাহায্য করতে হবে। খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে।

১৩) সোস্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

১৪) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে।

১৫) খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে।

১৬) সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজার চালু থাকে।

১৭) সাধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

১৮) জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। যাতে জনসমাগম না হয়। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে।

১৯) স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সবাইকে নিয়ে কাজ করবে।

২০) সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

২১) জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন।

২২) সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন- কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা/ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, পথশিশু, স্বামী পরিত্যক্তা/বিধবা নারী এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

২৩) প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

২৪) দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশ (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সব সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

২৫) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

২৬) আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

২৭) কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

২৮) সব শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন।

২৯) শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন।

৩০) গণমাধ্যমকর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

৩১) গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে । ডিজিটাল প্লাটফর্মে নানা গুজব রটানো হচ্ছে।  গুজবে কান দেবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না।

corona24325.jpg

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুইজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৬ জনে।

বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস নিয়ে অনলাইনে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার পরিচালক হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি।

নতুন আক্রান্ত দু’জনে মধ্যে একজন বয়োবৃদ্ধ রয়েছেন- এ তথ্য উল্লেখ করে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বয়স ৩০-৪০ বছরের মধ্যে, আরেকজনের বয়স ৭০-৮০ বছরের মধ্যে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পাঁচজনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫৬ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে সেরে উঠেছেন ২৬ জন। আর এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৪ জন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ হাজার ২৬১ জনের। আর বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৩ জনে। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩০ জন।

PM-Sheikh-Hasina-1-1.jpg

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে দেশের প্রত্যেক উপজেলা থেকে অন্তত দুজন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফ করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত দুজনের নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরইমধ্যে তার নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন বিভাগীয় পরিচালককে নমুনা সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ সারাদেশ থেকে এক হাজার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজ একটা নির্দেশনা পেয়েছি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। ইতিমধ্যে আমাদের মহাপরিচালক, ঢাকাসহ প্রত্যেকটা বিভাগের পরিচালক, সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আজকের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলা থেকে অন্তত দুটি করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আমরা যেন অন্তত এক হাজার নমুনা সংগ্রহ করতে পারি এবং আগামীকাল সেগুলো পরীক্ষা করতে পারি।’

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে চারটি প্রতিষ্ঠানে এরইমধ্যে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে।

এদিকে দায়িত্ব পালনকালে মুখে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, করোনার ঝুঁকি এড়াতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

goverx.jpg

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী এনেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশোধনীতে বলেছে, সাধারণ ছুটিকালীন ‘জ্বালানি’ ও ‘সংবাদপত্র’ জরুরি পরিষেবার আওতায় থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি ও সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের কর্মীরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন বলে প্রজ্ঞাপনে এটি পরিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আগামী ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করে। ১০ ও ১১ এপ্রিলের সাপ্তাহিক ছুটিও এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা (ছুটি) প্রযোজ্য হবে না। ‘কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, (সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি ও সংবাদপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়) খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জমাদি, জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

জরুরি প্রয়োজনে অফিসগুলো খোলা রাখা যাবে। প্রয়োজনে ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প কলকারখানা চালু রাখতে পারবে। মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে রিকশা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

coronavirusmgn10.jpg

মহামারি করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ হাজার ১৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৯।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি বিশ্বের ২০৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে আক্রান্তদের মধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে বুধবার পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১৩ হাজার ১৫৫ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৩৮৭ জান মারা গেছে স্পেনে।

তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত মারা গেছে ৫ হাজার ১০২ জন।

মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে ফ্রান্সে। সেখানে মারা গেছে ৪ হাজার ৩২ জন। চীনে ৩ হাজার ৩১২ জন ও ইরানে প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজার ২৬ জন। যুক্তরাজ্যে মারা গেছে ২ হাজার ৩৫২ জন।

নেদারল্যান্ডসে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ১৭৩ জন।

এ ছাড়া জার্মানিতে ৯৩১, বেলজিয়ামে ৮২৮ ও সুইজারল্যান্ডে ৪৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।

আক্রান্তের দিক দিয়ে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৩ জন। ইতালিতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ ও স্পেনে ১ লাখ ৪ হাজার ১১৮ জন।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৫৫৪ জন।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি।

army23.jpg

দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী দেশের সকল স্থানে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে। সরকারের দেয়া নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যান্য দিনের মতো বুধবারও সারাদেশে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করেছে এবং সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণা চালিয়েছে।

government55.jpg

বৈশ্বিক মহামারীতে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে চলমান ছুটি আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ১০ ও ১১ এপ্রিল দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার ৫ থেকে ৯ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর ফলে দেশে টানা ১৭ দিন ছুটি থাকবে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ছুটি চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ৬৪ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের ছুটিটা একটু বাড়াতে হবে। আমরা ১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম এটা ১৪ দিন হতে পারে।’

pm-confe.jpg

নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে আসন্ন ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ খাদ্য উৎপাদনসহ সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংকটের সময় প্রয়োজন হলে যাতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্য দেশকেও সহায়তা করা যায়, তার জন্য কোনো জমি বা জলাশয় যাতে অনাবাদী না থাকে তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মহামারী প্রতিরোধে মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে গিয়ে এই নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এখন যেটা হচ্ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আমাদের আসবে। সেটা হচ্ছে, সারা বিশ্ব কিন্তু স্থবির হয়ে আছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে বিরাট আকারে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। সেই মন্দা মোকাবেলার চিন্তাভাবনা এখন থেকেই আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারও এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে, কোনো জলাশয় যেন পড়ে না থাকে। এটা অব্যাহত রাখতে পারলে দেশের চাহিদা তো আমরা মেটাতে পারবই, অন্য দেশকেও প্রয়োজন হলে আমরা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেই ক্ষমতা আমরা অর্জন করতে পারি, সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।’

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যার যেখানে এতটুকু জমি আছে- ঘরের কোনে হলেও, যা পারেন, যেটা পারেন একটা কিছু ফসল ফলান; তরিতরকারি করেন,‌ ফলমূল করেন বা হাঁস- মুরগি বা খামার করেন । অর্থাৎ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা উৎপাদন দরকার আমাদের এখন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে ‘

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফসল ফলানোর জন্য যা যা উপকরণ দরকার হয়, অনুরোধ করব, সেই উপকরণগুলো যাতে সরবরাহ হয়। সেটা যেন যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়। সেই উদ্যোগটা নিলে আমি মনে করি, আমরা বিশ্বমন্দা কাটিয়ে উঠতে পারব- এটা আমাদের খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটিতে কাজ হারানো নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের ঘরে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনাও দেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কাউকে খাদ্য সহায়তা করতে গিয়ে লোকসমাগম যাতে না হয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবি মানুষের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেকে যেন এ সহযোগিতাটা পায়। সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। এই দায়িত্ব সকলকেই পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব যারা বিত্তশালী আছেন তাদেরকে যেমন পালন করতে হবে, আমাদের প্রশাসনে যারা তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদেরও দায়িত্ব এটা, সকলেরই দায়িত্ব।

দারিদ্রদের খাদ্যসহ সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতি হলে ছাড় দেয়া হবে না হুঁশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থশালী, সম্পদশালী হয়ে যাবে সেটা কিন্তু আমরা কখনও বরদাস্ত করব না। করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যটা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সাধারণ মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেওয়া এটা আসলে অমানবিক হবে।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্মকর্তাদের সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এ দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো রকম অপকর্ম না করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশবাসীকে ভীত না হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো দুর্যোগ আসলে আমি মনে করি এটা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে এবং সে জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখানে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মনের জোর থাকতে হবে। এ রকম অনেক দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করেছি। ইনশাল্লাহ এটাও আমরা মোকাবেলা করে যাচ্ছি এবং আগামীতেও যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সমস্ত নির্দেশনা দিয়েছে সেই নির্দেশনা যখন আমরা পেয়েছি তার অনেক আগে থেকেই আমরা কিন্তু তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। আমরা কিন্তু মানুষকে সুরক্ষিত রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে আজকে এত ব্যাপক হারে এখনো এর প্রাদুর্ভাব ছড়াতে পারেনি। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।”

করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “লুকাতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ করবেন না, পরিবারের সর্বনাশ করবেন না।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যারা গুজব ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়েও ফেইসবুক বা বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। আবার দেখলাম দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলে।

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি এটুকু বলব, গুজব রটানো থেকে সবাই বিরত থাকুন। গুজব শুনবেন না, গুজবে কান দেবেন, গুজব নিয়ে কেউ বিচলিত হবেন না- এটাই আমার অনুরোধ সবার কাছে।”

ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরাও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

গণভবনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন ।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।

corona467.jpg

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে বাংলাদেশে এপ্রিল মাসকে ‘পিক টাইম’ (সর্বোচ্চ ব্যাপ্তির সময়) মনে করা হচ্ছে। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশফেরতদের দেশে আসার সময়ের ওপর নির্ভর করে এ আশঙ্কা করছেন করছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে এপ্রিলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গবেষণাগারের প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদন জানিয়েছে , করোনাভাইরাসের বংশবিস্তারে সময় লাগে ৫ দশমিক ৫ দিন। আক্রান্ত হওয়ার ১২ দিনের মধ্যে মানুষের শরীরে এর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। লক্ষণ দেখা যাক বা না যাক আক্রান্ত মানুষ ভাইরাসটির বিস্তার ঘটাতে সক্ষম। এর অর্থ হলো আক্রান্ত হওয়া থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি সংক্রমণের বিস্তার ঘটাতে পারে। দেশে ১৮ মার্চ থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এ সময়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিদের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। এর মধ্যে তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে অনেকে। এই চক্রকে যদি ঠেকানো না যায় তাহলে এপ্রিলের মধ্যে দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

বিষয়টি ব্যখ্যা করে স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ডা. মালিহা মান্নান আহমেদ বলেন, প্রথম আক্রান্ত শনাক্ত থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। বাংলাদেশে এপ্রিলের মাঝামাঝি অথবা শেষের দিকে অনেক বেশি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছি। আমরা একটি সীমিত সম্পদের দেশ। তাই অল্প কয়েক হাজার আক্রান্ত রোগীও স্বাস্থ্যসেবার চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফেলতে পারে। করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুবার নেগেটিভ এলেই কেবল আক্রান্তরা বিচ্ছিন্নতা থেকে ছাড়া পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন,স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন থাকা কোনো ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। তাই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা মানা না হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কোনো মহামারীতে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সরাসরি কতজন আক্রান্ত হতে পারে তা বেসিক রিপ্রোডাকশন নম্বর বা আর.ও নামে পরিচিত। কভিড-১৯ এর মতো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে এই আর.ও. বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ নতুন ধারার সংক্রামক রোগ সবাইকে সন্দেহভাজনের তালিকায় ফেলেছে।

জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯ এর আর.ও ২ দশমিক ৪৯ থেকে ২ দশমিক ৬৩ পর্যন্ত হতে পারে। এর অর্থ হলো একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ২ দশমিক ৫ জনেরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১০ জন বা ১০০ জনের মধ্যেও রোগটি ছড়িয়ে দিতে পারে। তাদের চরম সংক্রামক বলা হয়ে থাকে। চীন, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রে এরকম চরম সংক্রামক থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাই সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে ঘরে থাকাই হচ্ছে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর মহৌষধ।