প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

PM-Sheikh-Hasina.jpg

আধুনিক ও পেশাদার বিমানবাহিনী গঠনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিউইর্য়ক, টরেন্টো ও সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় বিমান বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বিমান ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করা হচ্ছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন হবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলো।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান, সামরিক কৌশলগত দিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে ১৯৭৩ সালে সে সময়ের সব থেকে আধুনিক মিগ ২১ সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স, রাডার ইত্যাদি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সংযোজন করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত পৌনে ১১ বছরে বিমান বহরে আমরা বোয়িং কোম্পানির চারটি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি বিমান সংযুক্ত করেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আকাশ পথে স্থাপন করতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, নিউইয়র্ক, টরেন্টো, সিডনির মতো দূরবর্তী গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারব। এ লক্ষ্যে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটিকে ক্যাটাগরি ১ এ উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন পুনরায় সরকার গঠন করে, তখন আবার আমরা বিমান বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী, দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করি। এবং সে সময় আমরা চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মিগ ২৯, ইয়ার ১৩০, আধুনিক পরিবহন সি ১৩০ সহ আরও বেশ কিছু বিমান বাহিনীতে সংযোজন করি।

nfshn.jpg

সাভারে একটি বাড়ির ছাদের গাছ কেটে ভাইরাল হওয়া সেই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সাভার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বাড়ির ছাদে ফুলের টবে রাখা গাছগুলোকে নির্মমভাবে একের পর এক কেটে সাফ করে ফেলেন আটক ওই নারী। সেসময় গাছগুলোর মালিক অপর একজন নারী চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, এই ছাদে আমাদেরও অংশ আছে, গাছ কারো ক্ষতি করে না, গাছেরও জীবন আছে, প্লিজ গাছগুলো কাটবেন না, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন না, তওবা করলেও এই অন্যায় আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। কিন্তু নারীর হৃদয় গলেনি।

এদিকে ওই নারীর পক্ষে ছাদে ছিলেন তার ছেলেসহ কিছু ভাড়াটে মাস্তান। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে।

PM...0-1.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নভেম্বরে কলকাতা ও দুবাই শুভেচ্ছা সফরে যাচ্ছেন। দুবাইতে এয়ার শো এবং কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট খেলা দেখার জন্য সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে সম্মতি দিয়েছেন তিনি। এ দুটো সফরের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাখতুমের আমন্ত্রণে দুবাই এয়ার শো দেখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই দ্বিবার্ষিক এয়ার শো আগামী ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সফরে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬ নভেম্বর দুবাই যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার দেশে ফেরার কথা ১৯ নভেম্বর।

অন্যদিকে, ভারতের কোলকাতায় ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ নভেম্বর। এই ম্যাচটি উপভোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) প্রেসিডেন্ট ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী।

নভেম্বরের শেষদিকেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব নিতে যাওয়া সৌরভ গাঙ্গুলীর এই ঊষ্ণ আমন্ত্রণও কূটনৈতিক বিবেচনায় উপেক্ষা করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। ফলে সম্প্রতি ভারত সফর করলেও আবারও ওইদিন আধাবেলার জন্য কোলকাতায় যেতে সম্মতি জানিয়েছেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওইদিন সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে বসে টেস্ট ম্যাচটি উপভোগ করবেন শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রীর এ দুটি সফরের বিষয়ে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রথমটি শুরু হবে ১৪ নভেম্বর ইন্দোরে।

nus3c.jpg

‌‘আমার মেয়ে রাতে-দিনে ১০ দিন যে কষ্ট করছে, এক টুকরো অক্ষত মাংস নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারেনি, সেই যন্ত্রণা যেন খুনিদেরও দেওয়া হয়। আমি আমার কলিজার টুকরা মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমন শাস্তি হোক, যেন পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।’

আগামী ২৪ অক্টোবর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার আগে এমনই আকুতি ঝরলো তার মা শিরিন আখতারের কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সোনাগাজী পৌর শহরের বাড়িতে তার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের সাথে।

নুসরাতের মা বলেন, ফাঁসি দিলেতো বিনা কষ্টে মারা যাবে, তাদের যেন পুড়িয়ে মারা হয়, যেন তারা বোঝে, আমার মেয়ে কত কষ্ট পেয়েছে। গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা।

৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে বলা হয় মামলায়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক’দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আসামিদের।

নুসরাতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিরিন আখতার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা আর দিক-নির্দেশনা না থাকলে এত দ্রুত সময়ে হত্যাকান্ডের বিচার হওয়া সম্ভব হতো না। তিনি আমাদের পাশে ছিলেন বলেই আসামিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের খেয়াল না করলে আমাদের অস্তিত্বও থাকতো না। প্রধানমন্ত্রী সান্তনা দিয়েছিলেন, এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। আমি সে কথাটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে রায়ের জন্য অপেক্ষা করে আছি।

আসামিপক্ষ থেকে হুমকি-ধমকির ব্যাপারে নুসরাতের মা বলেন, আসামিরা হুমকি দিচ্ছে, তারা নুসরাতের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ফেলবে, ঘরে বাতি দেওয়ার মত কোনো লোক থাকবে না। নুসরাতের কবর থেকে লাশ গায়েব করার হুমকিও দিচ্ছে তারা।

নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে শিরিন আখতার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ আমাদের পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত যেন এ নিরাপত্তা থাকে।

হুমকিদাতাদের ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও নুসরাতের মা বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর জেলে থেকে কী বাকি রেখেছে সে? সে একাই আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। আর এখনতো ১৬ আসামি, তারা ইচ্ছে করলে আমাদের বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে।

শিরিন আখতার বলেন, যতজন অপরাধী আমার মেয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তিনি তার আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘হাঁসি দিলেতো টক্কুশ করি মরি যাইবো, হেগুনেরে য্যান হুড়ি মারা অয়, হেগুনে বুঝক আঁর মাইয়া কত কষ্ট হাইছে (ফাঁসি দিলেতো বিনা কষ্টে মারা যাবে, তাদের যেন পুড়িয়ে মারা হয়, যেন তারা বোঝে, আমার মেয়ে কত কষ্ট পেয়েছে)।’

আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্তের পর গত ২৮ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেদিন অভিযোগপত্রসহ মামলার নথি বিচারক ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে পাঠিয়ে দেন। এরপর ৩০ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আসামিদের হাজির করা হলেও বিচারক সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি না করে ১০ জুন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

পরে ১০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ- দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, আওয়ামী লীগ নেতা ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক শুনানির পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মামুনুর রশিদ। অন্যদিকে অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাতের অভিযোগ গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনেরও বিচার চলছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

dhba.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গাড়িতে বসে হাত-পা বাইরে ঝুলিয়ে রাখা যাত্রীর কাজ না। এতে যেকোনো গাড়ির সঙ্গে লেগে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়ক পারাপারে অধৈর্য হওয়া যাবে না। পথচারীদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি গাড়িচালকদেরও দায়িত্ব আছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ব্যবহার করছে। রেলপথ অতিক্রম করার সময় পথচারীরা মোবাইলে কথা বলছে। ফোনে কথা বলার সময় এত মশগুল যে ট্রেন আসছে সে শব্দও শুনতে পারছে না। অনেকে দুই রেললাইনের মাঝখান দিয়ে হাঁটেন। কিন্তু যে কোনো সময় ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যেতে পারে, গাড়ি থেমে যেতে পারে, এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রাস্তার দোষ দেয়া হয়, গাড়ি চালকদেরও গালি দেওয়া হয়। কিন্তু নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। গাড়ি আসছে কী না সেটা না দেখেই চট করে দৌড় দেয়া কিংবা ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।

প্রসঙ্গত, আজ ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। সড়ককে নিরাপদ করার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়।

biman-01-20191022105421.jpg

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বড় বড় অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ থাকলেও নেই দীর্ঘ দূরত্বের রুট। যে কারণে স্বল্প দূরত্বের রুটেই চালানো হচ্ছে উড়োজাহাজগুলো। ফলে দামি দামি উড়োজাহাজগুলোর সার্ভিসের মেয়াদকাল বসিয়ে বসিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অনভিজ্ঞতা ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে এমনটি হচ্ছে। সুষ্ঠু ও বাণিজ্যিক দিকনির্দেশনা ছাড়াই দামি দামি উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি চারটি ড্রিমলাইনার যুক্ত হওয়ার পর নিকট ভবিষ্যতে আসছে আরও দুটি নতুন প্রজন্মের ড্রিমলাইনার। অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে লম্বা দূরত্বের ব্যবহার উপযোগী উড়োজাহাজগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় রুটগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে না বাংলাদেশ বিমানের অত্যাধুনিক উড়োজাহাজগুলো। ২০০৮ সালে লম্বা দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম আটটি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যার চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হয় ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। গত মাস পর্যন্ত বাকি চারটি বোয়িং-৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’ যুক্ত হয়েছে বিমান বহরে। সহসা আরও দুটা আসছে। প্রতিটি উড়োজাহাজই একটানা ১৬ ঘণ্টার বেশি উড়তে সক্ষম। যদিও লম্বা দূরত্ব বলতে কেবলমাত্র ঢাকা-লন্ডন রুটেই সীমাবন্ধ বিমানের ফ্লাইট অপারেশন। লন্ডনের পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানের বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউরোপ-আমেরিকার মতো লম্বা দূরত্বের ফ্লাইট চালু করা। বর্তমানে মাত্র ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। যদিও বিশ্বের ৫২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনও চালু করা যায়নি ঢাকা-নিউইয়র্ক, ঢাকা-টরেন্টোর মতো লম্বা দূরত্বের ফ্লাইট।

এ অবস্থায় দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে সক্ষম উড়োজাহাজগুলো নিয়ে একরকম বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ দূরত্বে পরিচালনার জন্য আনা এসব উড়োজাহাজ দিয়ে স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের সাইকেল নষ্ট করা হচ্ছে। কমছে আয়ুষ্কাল। তবে বাজার যাচাই করে ইউরোপের কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট শুরু করার পক্ষে বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারীর।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে আরও একটি নতুন রুট চালু করা হচ্ছে। দীর্ঘ রুটের মধ্যে আমাদের প্রথম লক্ষ্য নিউইয়র্ক ও টরেন্টো। টরেন্টো রুটটি ভায়া আমেরিকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ক্যাটাগরির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত এ দুটো রুট চালু করা যাচ্ছে না। তবে বহরে থাকা ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রুট যেমন- রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দায় ফ্লাইট চালানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, ২০০৮ সালে আট হাজার ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে আটটি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর ও চারটি বোয়িং-৭৮৭-৮ (ড্রিমলাইনার) উড়োজাহাজ। পরবর্তীতে বোয়িং-৭৩৭-৮০০ মডেলের আরও দুটি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেয় বিমান। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কারণে আরও দুটি নতুন অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে নিকট ভবিষ্যতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই নিউইয়র্কের মতো লম্বা দূরত্বে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না বেবিচক দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায়। বেবিচক থেকে রেজিস্ট্রেশন করা কোনো উড়োজাহাজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই।

বর্তমানে বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কেবল মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ কুয়েত, দাম্মাম, দোহা, রিয়াদ, জেদ্দা, আবুধাবি, দুবাই ও মাস্কাটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া স্বল্প দূরত্বে কলকাতা, কাঠমান্ডু ফ্লাইট নিয়মিত চললেও লোকসানের কারণে ২৮ অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে ইয়াঙ্গুন রুট। তবে একই দিনে চালু হচ্ছে ঢাকা-মদিনা রুট।

hasina-5-20191022130021.jpg

নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দায়িত্বটা শুধু সরকারের না বা গাড়ি চালকের না, পথচারী থেকে শুরু করে সকল জনগণের, সকল দেশের মানুষের, সকল নাগরিকের দায়িত্ব। কাজেই যার যার যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব সবাই পালন করবেন।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ‘নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশটাকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেশকে গড়ে তুলতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই সকলে নিজ নিজ দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশটা আমাদের। একটা মানুষের ক্ষতি হলে, সে যেই হোক, সে তো কোনো না কোনো পরিবারের। যেই মারা যাক, সে তো কোনো না কোনো পরিবারের। সে পরিবারটার ভবিষ্যৎ কী হয়, সেটাও তো চিন্তা করতে হবে।’

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে আগামী দিনে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে চালক, পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ হয়তো যারা অশিক্ষিত বা যারা জানে না, তাদের কথা আমরা ছেড়েই দিলাম। আমাদের দেশের শিক্ষিতজন, তারা কেন ট্রাফিক আইন মানবে না? এই প্রশ্নটাই আমি রেখে যাচ্ছি। তাদেরকে ট্রাফিক আইন মানতে হবে। এটা হলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হোক, এটা কারও কাছে কাম্য না। আমরা কেউই চাই না। কেউ পঙ্গু হয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। কত মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। সেজন্যই আমরা চাই, সবসময় একটা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা থাকুক। দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকুক।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।

electricitv.jpg

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতির কথা উল্লেখ করে আবারও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটি বলছে, গ্যাসের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এজন্য বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি।

এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর জন্য একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছি। প্রস্তাবে কোনও সংখ্যার কথা উল্লেখ করিনি। শুধু লোকসানের একটা হিসাব দিয়েছি।

তিনি জানান, আমরা চিঠিতে বলেছি, সময় আসছে, বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। গ্যাসের মূল্য বেড়ে গেছে। গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। ফলে, বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানায়, গত সপ্তাহের শেষে তারা এ প্রস্তাব কমিশনের কাছে জমা দেয়। যদি বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে তা আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকরেরও প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এ প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ কোম্পানিগুলোও তাদের নিজেদের লোকসানের হিসাব করা শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

এর আগে, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। তখন গড়ে ইউনিট-প্রতি ৩৫ পয়সা মূল্য বাড়ানো হয়, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

এবার পাইকারীতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসি বিবেচনায় নিলে গ্রাহক-পর্যায়েও মূল্য বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

omarfaruk4cc.jpg

দেশে চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেকেই। গ্রেফতারের পরপরই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে সংগঠন থেকে।

স্বভাবতই যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভার বর্তায় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ওপর। পরে গ্রেফতারকৃত নেতাদের বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সম্পৃক্ততাও বেরিয়ে আসে।

অবশ্য এ অভিযান শুরুর দিকে ‘পুলিশ কি এতদিন বসে বসে আঙুল চুষেছে?’, ‘বিপদে পড়লে বউ ছাড়া কেউ থাকবে না’- এমন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন দাপুটে এ নেতা। একপর্যায়ে দৃশ্যপট থেকে আড়ালে চলে যান তিনি।

সর্বশেষ রোববার (২০ অক্টোবর) ক্যাসিনোকাণ্ড ও দুর্নীতির দায়ে যুবলীগের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যদিও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারী ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো কিন্তু এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আর সংবাদ মাধ্যমে আমার বিচার চলছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমে যা ছাপা হচ্ছে মানুষ এখন সেটাই বিশ্বাস করবে। আমি যাই বলি না কেনা তা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি তো শাস্তি পেয়েছি-ই। কয়েক দিন ধরে গৃহবাস এবং কাল (সোমবার) দল থেকে গেট আউট। কষ্ট যা পাওয়ার পেয়েছি। সর্বোচ্চ কষ্ট পেয়েছি। এখন তো আর রাজনীতি করতে পারব না, নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে। এখন ব্যবসা করব।

এদিকে পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তারা কোনো টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নানা বিষয়ে আমার নামে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে সব কিছুরই একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদি তাদের মনে হয় ক্যাসিনোর টাকা আমার ব্যাংকে ঢুকেছে তাহলে তারা আমাকে নোটিশ দেবে, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড), দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) পাঠাবেন। তারা তদন্তে প্রমাণ পেলে উচ্চ আদালতে জানাবেন। আমি সেখানে যাব।

আপনাকে যে কোন সময় গ্রেফতার করা হতে পারে এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিষয়টি তো বিচার প্রক্রিয়ায় গেছে। এখানে গ্রেফতারের বিষয়টি আসছে কেন। আবার গ্রেফতার করতে চাইলে করতেও পারে।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির অঙ্গ-সংগঠন যুব সংহতির রাজনীতি করে আসা ওমর ফারুক ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সাল থেকে টানা সাত বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের অনুগতদের স্থান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর ও দেশব্যাপী জেলা কমিটিগুলোও হয়েছে তার পকেটের লোক দিয়ে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি অনেক নেতাকে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন তিনি।

courtg.jpg

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান সংবলিত সরকারি কর্মচারী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা কেন সংবিধানবহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮-এর ৪১ (১) ধারা কেন বেআইনি হবে না এবং তা সংবিধানের ২৬ (১) (২), ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত ১৪ অক্টোবর আইনটির ৪১ (১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল।

গত বছর ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি করে সরকার। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সরকারি এক গেজেটে জানানো হয় ১ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হবে। এ আইনের ৪১ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, সরকারি কর্মচারী আইনের ৪১ (১) ধারার মতো একই ধরনের বিশেষ সুবিধা বা বৈষম্যমূলক বিধান রেখে ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ৩২ (ক) ধারা প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে রিট করা হলে হাইকোর্ট ধারাটিকে বৈষম্যমূলক ঘোষণা করে তা বাতিল করেছিল। সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ধারাটি আদালতের রায়ের পরিপন্থী।