প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

tib4353.jpg

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নানা অভিযান এবং সরকারের উচ্চস্তরের ঘোষণা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি কমছে না। তবে আগের বছরের (২০১৮) তুলনায় বাংলাদেশ এ সূচকে এক ধাপ উন্নতি করেছে। ১০০ নম্বরের মাণদণ্ডে এবার (২০১৯) বাংলাদেশের স্কোর ২৬। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৯’ এ চিত্র উঠে এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের ২০১৯ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এই সূচক প্রকাশ করেছে। টিআই প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিআই-২০১৯ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ তালিকার সর্বনিম্ন থেকে গণনা ও স্কোর অনুযায়ী ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে; যা সিপিআই ২০১৮ থেকে এগিয়েছে। সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৪৬তম; এখানে গত বছরের তুলনায় ৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের।

এশিয়া প্যাসিফিকের ৩১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্ন থেকে গণনা অনুযায়ী আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন

bsf3.jpg

নওগাঁর পোরশা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভারতের মালদা জেলার ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পর বিএসএফ জোয়ানরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন- পোরশা উপজেলার বিষ্ণুপুর বিজলীপাড়ার গ্রামের শুকরার ছেলে সদিপ, কাঁটাপুকুর গ্রামের মৃত-জিল্লুর রহমানের ছেলে কামাল এবং চকবিষ্ণুপুর দিঘিপাড়ার মৃত-খোদাবক্সের ছেলে মফিজুল উদ্দিন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বাংলাদেশের বেশ কিছু গরু ব্যবসায়ী সীমান্ত পার হয়ে ভারত যান। গরু নিয়ে ভোরে সীমান্তে ২৩১/১০ (এস) মেইন পিলার এলাকা দিয়ে আসার পথ ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পর টহলরত বিএসএফ জোয়ানরা তাদের পিছন থেকে গুলি করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসতে পারলেও ভারতের ১০০গজ ভেতরে সদিপ ও কামাল মারা যান। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মফিজুল বাংলাদেশে চলে আসেন। পরে তিনিও মারা যান।

বিজিবি-১৬ হাপানিয়া ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবদার মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বপশ্চিমকে বলেন, তিনজন গুলিবিদ্ধ হলেও এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের মধ্যে এসে মারা গেছেন। দুইজন ভারতে মারা গেছেন।

বিজিবি-১৬ (নওগাঁ) ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম জানান, পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Democracy-map-2001221156.jpg

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ডের এই সূচকে গত বছর ৮৮তম অবস্থানে থাকলেও এ বছর আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৮০তম স্থানে।

বুধবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) করা এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০০৬ সাল থেকে বিশ্ব গণতন্ত্র পরিস্থিতি পাঁচটি মানদণ্ডে ১০ স্কোরের ভিত্তিতে এ সূচক প্রকাশ করে আসছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। পাঁচটি মানদণ্ডগুলো হলো- নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার।

ইআইইউর এই সূচকে ১০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৮, যা গত বছর ছিল ৫ দশমিক ৭৭। গণতান্ত্রিক এই সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি হলে প্রতিবেশী ভারতের অবনমন ঘটেছে ব্যাপক। গত বছর দেশটি ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় ৪১তম থাকলেও এবার ৫১তম অবস্থানে নেমে গেছে। এ বছর ভারতের স্কোর ৬.৯০।

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলংকা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে গত বছর ৭১তম অবস্থানে থাকলেও এবার দেশটির দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। ৬.২৭ স্কোর নিয়ে এ বছর ৬৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এদিকে ৪ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান গত বছর ১১২তম থাকলেও এবার ৪.২৫ স্কোর নিয়ে ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে।

ইআইইউর সূচকে এবারো ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বে শীর্ষ দেশ নরওয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৯.৫৮। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন (স্কোর ৯.৩৯), চতুর্থ নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৯.২৬) এবং পঞ্চম দেশ ফিনল্যান্ড (স্কোর ৯.২৫)।

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে এ বছর একেবারে তলানিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি ১.০৮ স্কোর নিয়ে ১৬৭তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ১৬৬তম (স্কোর ১.১৩), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৬৫তম (স্কোর ১.৩২), সিরিয়া ১৬৪তম (স্কোর ১.৪৩) ও চাদ ১৬৩ (স্কোর ১.৬১)।

tree33.jpg

মুজিববর্ষে সারাদেশে এককোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বন অধিদফতর। এরইমধ্যে চারা উৎপাদনের জন্য বন বিভাগ সারাদেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে সম্ভব না হলেও জুনের প্রথম সপ্তাহে বৃক্ষরোপণ অভিযানের সময় এই গাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা যায়, ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এক্ষেত্রে দেশীয় ফলের গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত বছরের আগস্টে এককোটি ২০ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মুজিববর্ষ পালনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন তার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুন্দরবনসহ দেশের বনাঞ্চল রক্ষা ও বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বন অধিদফতরের অর্থ, বাজেট ও সাধারণ নির্দেশনা ইউনিটের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক অজিত কুমার রুদ্র বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এরইমধ্যে মুজিববর্ষ পালনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

jkvyir.jpg

দ্রব্যমূল্যের বাজার বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। একই সঙ্গে বেতন কমিশনের পাঁচ বছর পূর্তিতে নবম বেতন কমিশন গঠনসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মেলন করে এই দাবি জানায় ‘বাংলাদেশ ১৬-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতি’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবিগুলো তুলে ধরেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ বেতন কমিশনের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের বাজার বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মচারীদের জন্য স্বল্প বেতনে জীবন যাপন করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিসহ নবম বেতন কমিশন গঠন করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেকশন গ্রেড বা টাইমস্কেল পুনর্বহাল অথবা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ৪ বছর, ৮ বছর ও ১২ বছর পূর্তিতে উচ্চতর স্কেল দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। সংগঠনটির অন্যান্য দাবি হলো- আগের মতো শতভাগ পেনশন উত্তোলনের সুবিধা দেওয়া, সুদবিহীন গৃহঋণ, ব্লক পদ (পদোন্নতি নেই যে পদে) বিলুপ্ত করে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা, আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা ইত্যাদি।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী সম্মেলনে বলেন, ইতিমধ্যে এসব দাবি নিয়ে দুই দফায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। আমাদের দাবিগুলো কেউ প্রধানমন্ত্রীর নজরে তুলে ধরেন না। তবে তিনি আশা করেন, এসব সমস্যার সমাধান হবে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক দয়ালু, তার কাছে তুলে ধরলে হয়তো এসব সমস্যার সমাধান হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সায়েমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

citypli.jpg

পশ্চিমাঞ্চল রেলে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্টেশন পরিষ্কার করতেই ৯৫ লাখ টাকার ভিম পাউডার লেগেছে। এছাড়া ছোট্ট একটি টয়লেট মেরামতে খরচ হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। আরেকটি টয়লেট সংস্কারসহ বারান্দার টিন বদলে খরচ হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা।

রেলের এমন শত শত কাজ টেন্ডার ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারদের দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এসব দুর্নীতির নথিপত্র ফাঁস হওয়ায় পশ্চিম রেলের বর্তমান কর্মকর্তাদের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির এ সিরিজ প্যাকেজের মোটমূল্য ৭০০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

পশ্চিম রেলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রমজান আলী ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার সিন্ডিকেট দুর্নীতির এ মহাযজ্ঞের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে একটা ছোট অফিসের কয়েকটা টয়লেট মেরামতে একজন ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। বারান্দার টিন বদল আর অফিসের টয়লেট মেরামতে আরেকজন ঠিকাদারকে দেয়া হয়েছে ৭৩ লাখ টাকার বিল।

নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পশ্চিম রেলের এমন দুই থেকে আড়াই শতাধিক গায়েবি খাতে ৭০০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

বিভিন্ন স্টেশন রং করা, লাইন সংস্কার, রেলসেতু রং করা, টয়লেট মেরামত, ছাউনি-প্ল্যাটফর্মের টিন বদল, স্টেশন প্রাঙ্গণ সংস্কার, ওভারব্রিজ সংস্কার, মাটি ভরাট, জেটি সংস্কার, হাঁটাপথ সংস্কার, দরজা মেরামত, শীত আর গরমের পোশাক কেনা, স্যানিটারি উপকরণ ও ভিম পাউডার কেনা, বন্যার সময় ইট-খোলা কেনা, সেতু মেরামত, বাউন্ডারি ওয়াল মেরামতের মতো ছোট ছোট কাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেল ভবনে এসএসএই দফতরের বারান্দার টিন পরিবর্তন ও একটি টয়লেট সংস্কারে ৭২ লাখ ৩১ হাজার ৫০২ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, রাজশাহীতে রেলের এ দফতরটি একটি ছোট্ট টিনশেড অফিস।

২০১৭ সালের ৭ জুলাই এ কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হয় মোমিন ট্রেডার্স নামের একটি তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। বিধিবদ্ধ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই লোকাল টেন্ডার মেথড (এলটিএম) বা স্থানীয় টেন্ডার পদ্ধতিতে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই মোমিন ট্রেডার্স কাজটি পায়। কাজ সম্পাদন দেখিয়ে ওই বছরের ১ অক্টোবর ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।

নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, পশ্চিম রেলের প্রধান টেলিযোগাযোগ ও সংকেত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের টয়লেট মেরামতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এ কাজটি করেছে তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদার তোফা কন্সট্রাকশন।

রাজশাহীতে রেল অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের (ইসি-৪) মেরামত ও মেসের ভেতরের হাঁটাপথ সংস্কারে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮০ টাকা। সরকার অ্যান্ড ব্রাদার্স কাজটি করে।

রাজশাহীতে ভদ্রা ব্যারাকের পুকুরপাড় উন্নয়ন ও ওয়াশপিট (ট্রেন ধোয়া-মোছার শেড) সম্প্রসারণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৯ হাজার টাকা। আশরাফুল কবির নামের একজন ঠিকাদার কাজ করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে পুকুরপাড় উন্নয়নের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে উল্লাপাড়া স্টেশনের ইয়ার্ডে বালু ভরাট দেখিয়ে মোল্লাহ কন্সট্রাকশনকে ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। রাজশাহী রেল স্টেশনটি কয়েক বছর আগে রি-মডেলিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে নির্মাণ করা হলেও জরুরি কাজ উল্লেখ করে এই স্টেশনের বুকিং কাউন্টার, প্রতীক্ষালয় ও কার পার্কিং এরিয়া মেরামত দেখিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বাবু নামের একজন ঠিকাদারকে ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৪ টাকা বিল দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের রায়পুর নামক স্টেশনে মালামাল ওঠা-নামার সুবিধা সম্প্রসারণের নামে ঠিকাদার আরটিসিকে ৯৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে নথিপত্রে ওই কাজের ধরন উল্লেখ নেই।

রেলের সাবেক ডিজি আমজাদ হোসেনের শ্যালক পরিচয়দানকারী বদরুল আলমকে নাটোর, মাধনগর, আত্রাই ও সান্তাহার স্টেশনে রেললাইনের প্লাস্টিকের ওয়াসার সরবরাহে মোট ৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার টাকার ৫টি প্যাকেজের কাজ একসঙ্গে দেয়া হয় কোনো টেন্ডার ছাড়াই।

বদরুল গত আড়াই বছরে এভাবে বিনা টেন্ডারে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে রেল সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে বদরুল আত্মগোপনে রয়েছেন।

কাজগুলো শুরুর আগেই বদরুলকে সমস্ত বিল পরিশোধ করা হয় নিয়ম ভেঙে। যদিও রেলের সাবেক ডিজি আমজাদ হোসেন বলেছেন, বদরুল তার শ্যালক নয়; এলাকায় বাড়ি। তার প্রভাব খাটিয়ে কাজ নেয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।

একই সময়ে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ঢাকার আরটিসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন রেললাইন সংস্কারের নামে মোট ১৯টি কাজ দেয়া হয়। এসব কাজের জন্য তাকে প্রায় ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোথায় কীভাবে কাজগুলো হয়েছে, বিল-ভাউচারে তার কোনো বিবরণ নেই।

২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মের ২০০ ফিট সিআই সিট পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। ফরমাল টেন্ডার ছাড়াই উল্লাপাড়া স্টেশনের ৩০০ ফিট সিআই সিট পরিবর্তনের জন্য ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্টেশন পরিষ্কার করতেই ৯৫ লাখ টাকার ভিম পাউডার লেগেছে। এছাড়া ছোট্ট একটি টয়লেট সংস্কারসহ বারান্দার টিন বদলে খরচ হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা।

রেলের এমন শত শত কাজ টেন্ডার ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারদের দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এসব দুর্নীতির নথিপত্র ফাঁস হওয়ায় পশ্চিম রেলের বর্তমান কর্মকর্তাদের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির এ সিরিজ প্যাকেজের মোটমূল্য ৭০০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

পশ্চিম রেলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রমজান আলী ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার সিন্ডিকেট দুর্নীতির এ মহাযজ্ঞের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে একটা ছোট অফিসের কয়েকটা টয়লেট মেরামতে একজন ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। বারান্দার টিন বদল আর অফিসের টয়লেট মেরামতে আরেকজন ঠিকাদারকে দেয়া হয়েছে ৭৩ লাখ টাকার বিল।

নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পশ্চিম রেলের এমন দুই থেকে আড়াই শতাধিক গায়েবি খাতে ৭০০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

বিভিন্ন স্টেশন রং করা, লাইন সংস্কার, রেলসেতু রং করা, টয়লেট মেরামত, ছাউনি-প্ল্যাটফর্মের টিন বদল, স্টেশন প্রাঙ্গণ সংস্কার, ওভারব্রিজ সংস্কার, মাটি ভরাট, জেটি সংস্কার, হাঁটাপথ সংস্কার, দরজা মেরামত, শীত আর গরমের পোশাক কেনা, স্যানিটারি উপকরণ ও ভিম পাউডার কেনা, বন্যার সময় ইট-খোলা কেনা, সেতু মেরামত, বাউন্ডারি ওয়াল মেরামতের মতো ছোট ছোট কাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেল ভবনে এসএসএই দফতরের বারান্দার টিন পরিবর্তন ও একটি টয়লেট সংস্কারে ৭২ লাখ ৩১ হাজার ৫০২ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, রাজশাহীতে রেলের এ দফতরটি একটি ছোট্ট টিনশেড অফিস।

২০১৭ সালের ৭ জুলাই এ কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হয় মোমিন ট্রেডার্স নামের একটি তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। বিধিবদ্ধ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই লোকাল টেন্ডার মেথড (এলটিএম) বা স্থানীয় টেন্ডার পদ্ধতিতে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই মোমিন ট্রেডার্স কাজটি পায়। কাজ সম্পাদন দেখিয়ে ওই বছরের ১ অক্টোবর ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।

নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, পশ্চিম রেলের প্রধান টেলিযোগাযোগ ও সংকেত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের টয়লেট মেরামতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এ কাজটি করেছে তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদার তোফা কন্সট্রাকশন।

রাজশাহীতে রেল অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের (ইসি-৪) মেরামত ও মেসের ভেতরের হাঁটাপথ সংস্কারে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮০ টাকা। সরকার অ্যান্ড ব্রাদার্স কাজটি করে।

রাজশাহীতে ভদ্রা ব্যারাকের পুকুরপাড় উন্নয়ন ও ওয়াশপিট (ট্রেন ধোয়া-মোছার শেড) সম্প্রসারণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৯ হাজার টাকা। আশরাফুল কবির নামের একজন ঠিকাদার কাজ করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে পুকুরপাড় উন্নয়নের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে উল্লাপাড়া স্টেশনের ইয়ার্ডে বালু ভরাট দেখিয়ে মোল্লাহ কন্সট্রাকশনকে ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। রাজশাহী রেল স্টেশনটি কয়েক বছর আগে রি-মডেলিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে নির্মাণ করা হলেও জরুরি কাজ উল্লেখ করে এই স্টেশনের বুকিং কাউন্টার, প্রতীক্ষালয় ও কার পার্কিং এরিয়া মেরামত দেখিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বাবু নামের একজন ঠিকাদারকে ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৪ টাকা বিল দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের রায়পুর নামক স্টেশনে মালামাল ওঠা-নামার সুবিধা সম্প্রসারণের নামে ঠিকাদার আরটিসিকে ৯৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে নথিপত্রে ওই কাজের ধরন উল্লেখ নেই।

রেলের সাবেক ডিজি আমজাদ হোসেনের শ্যালক পরিচয়দানকারী বদরুল আলমকে নাটোর, মাধনগর, আত্রাই ও সান্তাহার স্টেশনে রেললাইনের প্লাস্টিকের ওয়াসার সরবরাহে মোট ৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার টাকার ৫টি প্যাকেজের কাজ একসঙ্গে দেয়া হয় কোনো টেন্ডার ছাড়াই।

বদরুল গত আড়াই বছরে এভাবে বিনা টেন্ডারে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে রেল সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে বদরুল আত্মগোপনে রয়েছেন।

কাজগুলো শুরুর আগেই বদরুলকে সমস্ত বিল পরিশোধ করা হয় নিয়ম ভেঙে। যদিও রেলের সাবেক ডিজি আমজাদ হোসেন বলেছেন, বদরুল তার শ্যালক নয়; এলাকায় বাড়ি। তার প্রভাব খাটিয়ে কাজ নেয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।

একই সময়ে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ঢাকার আরটিসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন রেললাইন সংস্কারের নামে মোট ১৯টি কাজ দেয়া হয়। এসব কাজের জন্য তাকে প্রায় ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোথায় কীভাবে কাজগুলো হয়েছে, বিল-ভাউচারে তার কোনো বিবরণ নেই।

২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মের ২০০ ফিট সিআই সিট পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। ফরমাল টেন্ডার ছাড়াই উল্লাপাড়া স্টেশনের ৩০০ ফিট সিআই সিট পরিবর্তনের জন্য ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

PPP-2001211458.jpg

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (২য় পর্যায়)’সহ মোট ৮টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের ১৭তম একনেক সভায় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প ব্যয়ের পুরো অর্থ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। ৮ প্রকল্পের মধ্যে ৬টি নতুন প্রকল্প এবং বাকী দু’টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের একটি তারকা (স্টার) প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষা প্রদান এবং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমবাজারে যুব সমাজের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য দেশে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার জন্য কারিগরি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষকের অভাব আছে। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষকদের বিদেশ পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন তৈরি এবং যন্ত্রপাতি,চেয়ার টেবিলসহ আনুসঙ্গিক উপকরণ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন কোনো সড়ক নির্মাণ করছি না। পুরাতন সড়কগুলো সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী করব।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিল্পপার্কগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরো শক্তিশালী এবং বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প সময়মত বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চাই।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো-‘সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্ক’ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা, এসআরডিআই’র ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, বেতগ্রামতুলা-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক ও লক্ষ্মীপুর–চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মাহসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৮৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

pm4y74u8.jpg

সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও চলতি সংসদের এমপি ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুত গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার। প্রয়াত সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম ছিল অসামান্য। হঠাৎ করেই এতো তাড়াতাড়ি তিনি এভাবে চলে যাবেন তা কখনো ভাবতেও পারিনি। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সব কাজ করতেন। সত্যিই আমাদের দুর্ভাগ্য, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আমাদের বর্তমান সংসদের চারজন সংসদ সদস্য মারা গেলেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে যশোর-৬ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপির মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, এবারের সংসদের দুর্ভাগ্য পরপর চারজন সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, ডা. মোজাম্মেল হক, আবদুল মান্নান এবং সর্বশেষ ইসমাত আরা সাদেক মারা গেলেন। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খান, আকম সারোয়ার জাহান, ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান।

আলোচনা শেষে এক মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী, চলতি সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে তার ওপর আনীত শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে দিনের কার্যসূচি স্থগিত করে সংসদ মূলতবি ঘোষণা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ইসমাত আরা সাদেক বিভিন্ন সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু কখনো রাজনীতিতে খুব সক্রিয় ছিলেন না। তার স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক ৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সেই সময় যখন আমরা সরকার গঠন করতে পারলাম না- তখনই তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করেন। সেই থেকে দু’জন একসাথে আসতেন, কথা হতো।

তিনি বলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাদেকের মৃত্যুর পর মিসেস সাদেককে যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ করলাম, তখন প্রথমে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে বলেছিলেন, আমি এটা করতে পারবো ? আমি বলেছিলাম- আপনি পারবেন। ওই নির্বাচন করে জিতে আসার পর প্রথমে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলাম। তখন প্রয়াত ইসমাত আরা সাদেক বললেন, আমি তো কখনো এভাবে অফিস চালাইনি, কখনো কিছু করিনি, আমি তো গৃহিনী ছিলাম। আমি কীভাবে করবো? আমি বলেছিলাম, যেহেতু আপনি শিক্ষিত মহিলা, আমি আছি আপনার সঙ্গে, কোনো চিন্তা নেই। যখন যা দরকার হবে আপনি বলবেন, আর আপনি পারবেন এটা আমার বিশ্বাস আছে। এরপর প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সততার সঙ্গে করে গেছেন।

ismotara.jpg

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ইসমাত আরা সাদেক ১৯৪২ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে বগুড়া ভি এম গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ও ১৯৫৮ সালে ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েড পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৯২ সালে তিনি ও তার স্বামী এ, এস, এইচ, কে, সাদেক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি কেশবপুর মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন ও তখন থেকে কার্যনির্বাহী কমিটির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে নতুন সরকার গঠিত হলে তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

ইসমত আরা সাদেকের স্বামী এ এইচ কে সাদেক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। সাবেক এই সচিব আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে ইসমত আরা সাদেক এক ছেলে এবং এক মেয়ের মা। তার ছেলে তানভীর সাদেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে নওরীন সাদেক একজন স্থপতি প্রকৌশলী।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে যশোরে নিজ নির্বাচনী এলাকায়। মৃত্যুর খবর হাসপাতালে ছুটে আসেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা।