প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

pm19.jpg

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সার্বিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে রাষ্ট্রপতি সংসদে যে ভাষণ দেবেন তার খসড়া অনুমোদন করা হতে পারে। এ সংক্রান্ত ভাষণটির খসড়া মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ছাড়া বাকি পাঁচটি আলোচ্যসূচি হচ্ছে- গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন।

বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইনের নীতিগত অনুমোদন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষা বিধিমালা-২০১৫ এর আলোকে প্রতিবন্ধীবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়ার অনুমোদন।

pm904.jpg

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি মর্যাদা দেখিয়ে অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে চলতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ করতে আসেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে বলেই মানুষ ব্যাপকহারে নৌকায় ভোট দিয়েছে। যার ফলে চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে।

জনগণের দেয়া ভোটের মর্যাদা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে এগুলো শেষ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন উন্নয়ন কাজ শুরু করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলেন। তার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ, তার কাজের প্রেরণায় হচ্ছেন তার পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের নেতিবাচক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৭৫ এর পর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে আর তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি সে কারণেই অবৈধ হয়ে যায়। সে কারণে জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাকে স্বীকৃতি দেয়নি।

শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন জিয়াউর রহমানই ভোট কারচুপির রাজনীতি শুরু করে এবং মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, একজন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে, আরেকজন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, মানি লন্ডারিং মামলা, হত্যা-খুন ও দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

নির্বাচনে বিএনপি’র পরাজয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মনোনয়ন নিলামে দেয়!

তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে জরিপ করে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেন যে নির্বাচনে তারা জিতবে না। আর সেজন্যই তারা নির্বাচনের নামে নাটক করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, ৭৫ এর খুনি এবং জেল হত্যাকারীদের বিচার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদেরও সাজা দেয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি ও এগিয়ে যাওয়া বিএনপি-জামায়াত জোটের ভালো লাগে না, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকলে তারা সহ্য করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তার সরকার বাংলাদেশকে আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে যাতে দেশের একজন লোকও কোনো রকমের দুঃখ কষ্টে না থাকে।

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করা এটাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া আসন থেকে তাকে পুনরায় নির্বাচিত করায় সেখানকার জনগণের কাছে তার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান। এর আগে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

pmw.jpg

দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর ইউএনবির

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি দেশের উন্নয়ন চাই, তাহলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। আমি এই মন্ত্রণালয়ের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রামক রোগের মতো দুর্নীতি সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এটি শুরু হয়েছিল দেশে সামরিক শাসনামলের শুরুতে। সে সময় জঙ্গিবাদ পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল, কিন্তু তারা জঙ্গিবাদকে তখন কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল তা আমি জানি না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে… এর জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করবো… এটি এখন সময়ের প্রয়োজন।’

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ অভিযান আরও তীব্রতর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মাদকের উৎস, বিতরণকারী ও বহনকারীদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

pm-20190119174838.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে আস্থা এবং বিশ্বাস নিয়ে জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে; জনগণের সে মর্যাদা আমি রক্ষা করব। প্রয়োজনে আমার জীবন দিয়ে হলেও ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব।’

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি কী পেলাম না পেলাম তার চেয়ে আমি কী দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা। দেশের জনগণ আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। এ বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। ওয়াদা করছি, দুর্নীতি, জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ জাতিকে উপহার দেব। আমি সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা চাই। আমার গ্রাম হবে আমার শহর। গ্রামে শহরের সব সুযোগ সুবিধা থাকবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের উন্নত জীবন গড়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।’

এ সময় কবি সুকান্তের ভাষায়-এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মোহাস্মদ নাসিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার ও যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অভিনন্দনপত্র তুলে দেন তিনি।

দুপুর আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিজয় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন মমতাজ বেগম, ফাহমিদা নবী, সালমা ও জলের গান ব্যান্ড।

সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই মাইকে দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া গান বাজানো হয়। মাঝে মধ্যে কবিতাও আবৃতি করা হয়।

pmh9.jpg

সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে টানা তৃতীয় বারের মতো অর্জিত এই বিজয় স্মরণীয় করে রাখতে আজ (শনিবার) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সব আয়োজন, প্রস্তুত করা হয়েছে সমাবেশ মঞ্চও।সমাবেশ মাঠে ছোট-বড় ৫০-এর বেশি নৌকা ও বৈঠাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়েছে। সমাবেশটি মহাসমুদ্রে রূপ দিতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠন ও ঢাকা মহানগরের দলীয় নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশ থেকে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে দুর্নীতি-মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুশাসনমূলক বার্তাও দেবেন তিনি। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২১ অঙ্গীকারে একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকে আগামী দিনে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজয় সমাবেশ থেকে তিনি বিশেষ বার্তা দেবেন। আওয়ামী লীগ একাধিক শীর্ষ নেতা এই তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন: দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করবেন দলের সভাপতি। বিশেষ করে মাদক নির্মূলে যে যুদ্ধ তাতে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশনা আসবে এ সমাবেশ থেকে।

তিনি বলেন: নির্বাচনে গণজোয়ারের মতো ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে এ সমাবেশ স্মরণকালের বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

বিজয় সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কী বার্তা দিতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন: আমরা আগামী দিনে কী করতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, এটাও জানান দেবো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবার কাছে সহযোগিতা, পরামর্শ ও উপদেশ চাওয়ারও সম্ভাবনা আছে আমাদের নেত্রীর। এছাড়া উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন: মানুষের জীবনে স্বপ্ন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামীকাল সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক বিজয় মহাসমাবেশ থেকে কথা বলবেন। জাতির উদ্দেশে বিজয় বার্তা ও দিক-নির্দেশনা দেবেন। সেই পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠ করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এরপর অন্য নেতাদের বক্তব্য শেষে জনগণসহ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিজয় বার্তা দেবেন শেখ হাসিনা।

bal09.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার (১৯ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সমাবেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

মূল অনুষ্ঠান শনিবার দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর বারোটা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে।

নেতাকর্মীদের জন্যে সকাল এগারোটায় সমাবেশস্থলে প্রবেশের গেইট খুলে দেয়া হবে। সমাবেশ সফল করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার আওয়ামী লীগ ও দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি।

সমাবেশ সফল করার জন্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। বর্ধিত সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শনিবার বিজয় সমাবেশ, উৎসব নয়। সমাবেশ বর্ণিল, কিন্তু সুশৃঙ্খল হবে। নেত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাই উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি।’

এর আগেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর এ বিজয় সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে বিপুল জনসমাগমের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দলটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘বিজয় সমাবেশকে সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও ঢাকার আশে-পাশের জেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এ বিজয় সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সমাবেশের মঞ্চ, সাজসজ্জা, মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছে। খাবারের পানি, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সমাবেশস্থলে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও ব্যবস্থা থাকবে।’

সমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের মিছিলে বহন করে আনা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। উদ্যানের ৬টি গেইটের মধ্যে শিখা চিরন্তন গেইট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের গেইট দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করবেন।

তিন নেতার মাজার সংলগ্ন গেইট, বাংলা একাডেমীর সামনের গেইট, টিএসটি গেইট ও চারুকলার সামনের গেইট দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করবেন।

সমাবেশস্থলকে নান্দনিক শৈল্পিকভাবে সাজানো হয়েছে। সমাবেশের বিশাল প্যান্ডেলে প্রায় ত্রিশ হাজার চেয়ার বসানো হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭ টি আসনে জয়লাভ করে।

pm8s.jpg

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান। তিনি কখনও ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। তারই যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উন্নতি করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে উৎসাহী করার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তার।

উপরন্তু স্বাধীন দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদের জঙ্গিপনা নির্মূলের সাফল্যও তার সরকারের বড় অবদান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমর রূপকার।

বড় বিচিত্র, বর্ণাঢ্য আর কীর্তিতে ভরা তার গোটা জীবন। বাংলাদেশকে সব ধর্মের সব মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধুর স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণার্থে গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত পদক্ষেপ যেমন ছিল, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসারে গ্রহণ করেছিলেন বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী নানা ব্যবস্থা।

তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনিই। এ দুটি অনন্য সাধারণ অনুষঙ্গ বঙ্গবন্ধুর জীবনকে দান করেছে উজ্জ্বল মহিমা।

ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা, প্রচার-প্রসার ও এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সামগ্রিক জীবনকে মহান ধর্ম ইসলামের কল্যাণময় স্রোতধারায় সঞ্জীবিত করার লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশ জারি করে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বায়তুল মোকাররম সোসাইটি’ এবং ‘ইসলামিক একাডেমি’ নামক তৎকালীন দুটি সংস্থার বিলোপ সাধন করে এ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত অন্যতম একটি বড় সংস্থা হিসেবে দেশ-বিদেশে নন্দিত। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত পবিত্র কোরআনের বাংলা তরজমা, তাফসির, হাদিস গ্রন্থের অনুবাদ, রাসূল (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত ও অনূদিত গ্রন্থ, ইসলামের ইতিহাস,

ইসলামী আইন ও দর্শন, ইসলামী অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাহাবি ও মনীষীদের জীবনী ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান ঢাকার প্রধান কার্যালয়সহ সারা দেশের ৬৪টি জেলা কার্যালয়, আর্ত-মানবতার সেবায় ২৮টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। বৃহত্তর কলেবরে ২৮ খণ্ডে ইসলামী বিশ্বকোষ, ১২ খণ্ডে সিরাত বিশ্বকোষ প্রকাশ করে ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছে।

বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গীতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ : বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সামাধান করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদীর তীরবর্তী জায়গাটি প্রদান করেন। সেখানেই আজ পর্যন্ত তাবলিগ জামাত বিশ্ব ইজতেমা করে আসছে।

কাকরাইলের মারকাজ মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য জমি বরাদ্দ : তাবলিগ জামাতের মারকাজ বা কেন্দ্র নামে পরিচিত কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণ করে রমনা পার্কের অনেকখানি জায়গার প্রয়োজন যখন দেখা দেয়, তখন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নির্দ্বিধায় কাকরাইল মসজিদকে জমি দেয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করে দেন।

আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আরব বিশ্বের পক্ষে সমর্থন ও সাহায্য প্রেরণ : ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু আরব বিশ্বের পক্ষে সমর্থন করেন এবং এ যুদ্ধে বাংলাদেশ তার সীমিত সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ অবদান রাখার চেষ্টা করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থনে ১ লাখ পাউন্ড চা, ২৮ সদস্যের মেডিকেল টিমসহ একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পাঠানো হয়।

ওআইসি সম্মেলনে যোগদান ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অধিবেশনে যোগদান করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়েই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মাঝে বাংলাদেশের স্থান করে নেন। ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করে ইসলাম ও বাংলাদেশ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু মুসলিম নেতাদের সামনে যে বক্তব্য তুলে ধরেন

এতে আরবসহ মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের ভাব উজ্জ্বল হয় এবং মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেন : সংক্ষিপ্তভাবে এখানে তা তুলে ধরছি।

আল-কোরআনের ডিজিটালাইজেশন; ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ; দেশের ৩১টি কামিল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করা; যোগ্য আলেমদের ফতোয়া প্রদানে আদালতের ঐতিহাসিক রায়; জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যবর্ধন ও সম্প্র্রসারণ, সুউচ্চ মিনার নির্মাণ, দক্ষিণ সাহান সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও পূর্ব সাহানের ছাদ নির্মাণ, মহিলাদের নামাজ কক্ষ সম্প্রসারণ, সাহানের স্থান সম্প্রসারণ ও কমপ্লেক্স নির্মাণ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ;

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর; হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার; জেদ্দা হজ টার্মিনালে ‘বাংলাদেশ প্লাজা’ স্থাপন; আশকোনা হজক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি; রেকর্ড সংখ্যক হজযাত্রী প্রেরণ; হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি সরকারের স্বীকৃতি; মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থান ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি; শিশু ও গণশিক্ষা এবং কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে মাহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ;

জাতীয় শিক্ষানীতিতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকরণ; কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সনদের সরকারি স্বীকৃতির জন্য আলাদা কমিশন গঠন; ১০০০টি বেসরকারি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ; প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নাধীন; ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম; ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন; ইসলামী প্রকাশনা প্রকল্প বাস্তবায়ন; ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা;

মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন; ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর; জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা; মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান; চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন;

চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ন্যস্তকরণ; পবিত্র রমজানে মসজিদে মসজিদে ব্যাপক কোরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা; সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ; আন্তর্জাতিক হিফজ, কিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য; জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অনুমোদিত প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন মডেলে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন;

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের ঘোষণা ও বাস্তবায়ন; প্রতি জেলা ও উপজেলা সদরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আদলে মসজিদ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মসজিদ সরকারিকরণ এবং একটি গ্রাম একটি মক্তব চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা কওমি জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

1_1.jpg

গত তিন দিন ধরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। চলবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত। এরই মধ্যে নানা অঙ্গনের তারকাসহ মোট ১৩৭০ জন কিনেছেন ফরম। এর মধ্যে জমা পড়েছে ৭২৫টি।

নতুন মন্ত্রিসভার মতো সংরক্ষিত মহিলা আসনেও থাকছে চমক। প্রধান্য পাবে তারুণ্য। আসবে নতুন মুখ। বিতর্কিত ও বয়সের ভারে ন্যুব্জরা বাদ পড়বেন। সন্তানের আমলনামাও কাল হচ্ছে অনেকের। গত নির্বাচনসহ নানা সময়ে সরকারপক্ষে সরব অনেক তারকাও ঠাঁই পাচ্ছেন এতে।

নির্বাচনের পর থেকেই সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের জন্য নানা যায়গায় ধর্ণা দিচ্ছেন নারীনেত্রীরা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন, আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি ও গুলিস্তানের অফিস, বিভিন্ন নেতাদের অফিস ও বাসায় নারীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজপ‌থের আন্দোলন-সংগ্রা‌মে যারা অগ্রণী ভূ‌মিকা পালন ক‌রে‌ছেন, দ‌লের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার ক‌রে‌ছেন ম‌নোনয়‌নে তারা অগ্রা‌ধিকার পা‌বেন।

এক প্রশ্নের জবা‌বে কা‌দের ব‌লেন, রাজপ‌থে আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও সাংস্কৃ‌তিক অঙ্গ‌নের ব্যক্তিরাও নির্বাচন‌কে সাম‌নে রে‌খে কাজ ক‌রে‌ছেন। তারা সারা‌দে‌শে ভা‌লো ভূমিকা রে‌খে‌ছেন। সেজন্য তা‌দেরও মূল্যায়ন কর‌তে হ‌বে।

শেখ হাসিনার গুডবুকে আছেন- আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া ‍সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, পারভিন জামান কল্পনা ও মেরিনা জাহান। মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলও আছেন তালিকায়। এ ছাড়া যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের এক ঝাঁক নারী নেত্রী মনোনয়ন দৌড়ে আছেন।

সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে বরিশালের জেবুন্নেছা হিরণ, নারায়ণঞ্জের সারাহ বেগম কবরী, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ঢাকার শ্যামপুরের সানজিদা খানম, শাহিদা তারেখ দীপ্তি, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, মাহজাবিন খালেদ, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, মাহজাবীন মোরশেদ, সাবিনা আক্তার তুহিন, নূরজাহান বেগম, উম্মে রাজিয়া কাজল, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীসহ অনেকে থাকছেন এই সংসদেও।
শহীদ সন্তান হিসেবে বুদ্ধিজীবী আবদুল আলিম চৌধুরী মেয়ে নুজহাত চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, শহীদ স ম আলাউদ্দিনের মেয়ে লায়লা পারভীন সেজুতি (তিনি সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব), আততায়ীর গুলিতে নিহত শরীয়তপুর-২ আসনের প্রথম সংসদ সদস্য এ এফ এম নুরুল হক হাওলাদারের মেয়ে জোবায়দা হক অজন্তাসহ আরও কয়েকজন আছেন তালিকায়।

এ ছাড়া নতুনদের মধ্যে ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছেন- বিএনপি-জামায়াতের পৈশাচিকতার শিকার পূর্নিমা শীল, হালের সেরা অভিনেত্রী মৌসুমী, রোকেয়া প্রাচী, অপু বিশ্বাস, অরুণা বিশ্বাস, তারিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী শারমিন সুলতানা লিলিসহ ডজনখানেক নতুন মুখ।

হিজড়াদের নেতা ময়ূরীও আছেন তালিকার শীর্ষে। তৃতীয় লিঙ্গের নেতাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এবার জাতীয় সংসদে হিজড়াদের প্রতিনিধি থাকবে। আর সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা সংসদে যেতে চাচ্ছি।

তবে মন্ত্রিসভার মতো সংরক্ষিত মহিলা আসনেও এবার সুনামি নামবে। নিজের ও পরিবারের বিতর্কের কারণে বাদ পড়বেন অনেকে। বিশেষ করে, সন্তানের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পিনু খান ও রিফাত আমিন বাদ পড়ছেন।

pmw.jpg

তৃণমূল পর্যায়েও কেউ দুর্নীতি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

জনপ্রশাসনে দুর্নীতি হলেই সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি সরকার নিয়েছে।

তিনি বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা যেতে হবে- কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা আমরা পূরণ করতে পারবো; তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা এতো বেশি বাড়িয়েছি- সেক্ষেত্রে আমি তো মনে করি, আমাদের এ দুর্নীতির কোনও প্রয়োজনই নেই। যা প্রয়োজন তার সব তো আমরা মেটাচ্ছি তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন মানসিকতাটাকে পরিবর্তন করতে হবে।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা-আন্তরিকতা নিয়ে জনসেবা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপরিচালনার হার্ট জনপ্রশাসন। আপনাদের সেভাবে কাজ করতে হবে, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।

জনপ্রশাসনে পদোন্নতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আর প্রশাসনসহ সবক্ষেত্রে শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয় এখানে দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কে কতো বেশি কাজ করতে পারে, সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলবে, সব কিছু বিবেচনা করে প্রমোশন হওয়া উচিত।

pm_2.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দেন।

টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজের দায়িত্বে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এদিন পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সরকারের সময়ের মতো মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়াতে এবং সৃজনশীলতার বিকাশে এবারও পর্যায়ক্রমে সবগুলো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করবেন তিনি।

মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করলেন শেখ হাসিনা। মতবিনিময়ে তিনি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা দিতে হবে— কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা যে হারে বেতন বাড়িয়েছি, এ উদাহরণ পথিবীর কোনো দেশেই নেই।’

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা প্রয়োজন সেটাতো আমরা মিটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? মন-মানসিকতাটা পরিবর্তন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আপনাদের দিতে হবে একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।’

সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

‘লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার সরকার সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তা আমরা পূরণ করতে পারব। তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা-আন্তরিকতা নিয়ে জনসেবা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সরকার পরিচালনার মূল জায়গাটায় হলো আপনাদের এই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অনেক বিশাল এক কর্মযজ্ঞ এখানে। সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র জনপ্রশাসন। আপনাদের সেভাবে কাজ করতে হবে, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করব, একটা কথা মনে রাখতে হবে, দেশটা আমাদের। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে সারা বিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছি।’

’৭১-এর পরাজিত শক্তি সেই পাকিস্তানও এখন আর্থ-সামাজিক সূচকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে অনুকরণ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন সেই পাকিস্তানও বলে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। আজকে কিন্তু আমাদের আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলার সাহস তাদের নেই। একথা বলতেও তারা পারবে না। কারণ, আমরা অনেক এগিয়েছি। এই এগিয়ে যাওয়াটা, এই যাত্রাটা আমাদের কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনে বিশেষ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তার সরকারের জনপ্রশাসনর পদক প্রবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘কাজে কে কতটা দক্ষতা ও যোগ্যতা দেখাতে পারছে, তার ওপর আমরা জনপ্রশাসন পদক প্রবর্তন করেছি।’

জনপ্রশাসনে পদোন্নতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রশাসনসহ সবক্ষেত্রে শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, এখানে দক্ষতাকেও প্রাধান্য দিতে হবে। কে কতো বেশি কাজ করতে পারে, সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলবে, সব কিছু বিবেচনা করে প্রমোশন হওয়া উচিত।’

যে যে বিষয়ে অভিজ্ঞ তাকে সেই বিষয়ে দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি পদ ফাঁকা থাকলেই পদায়ন না করে যার যে বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ রয়েছে তাকে সেই জায়গায় পদায়ন করারও নির্দেশনা দেন।

স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে এই ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে আমি মনে করি স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারে।’

একটা সময় বাংলাদেশে দরপত্র বাক্স ছিনতাই হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কারণে আমরা ই-টেন্ডারে চলে গেলাম। এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনা যায় না।’

‘এভাবেই আমি মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা অনেকটা নিশ্চিত করা যায়। আমরা সেটাও করবো,’ যোগ করেন সরকার প্রধান।

এর আগে সকাল ১০টায় দলের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আসেন শেখ হাসিনা।

শুরুতেই কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রিত্বের পদটি এখানে বড় কথা নয়, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই বড় কথা।’

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার অনুজ প্রতীম ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এ সময় তার পিতা (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) মুজিব নগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নামকরণ তিনি করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এজন্য নামটি পরিবর্তন করে দিয়েছিলাম। কেন না জনগণের সেবা করা যে, এই মন্ত্রণালয়ের সব থেকে বড় দায়িত্ব, এখান থেকেই সেবাটা মানুষের কাজে পৌঁছে যাবে। সেটা সব সময় সকলে যেন মনে রাখতে পারেন।’

গত অর্থবছরে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরে এই প্রবৃদ্ধি তার সরকার ১০ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার সরকার মূল্যস্ফীতি ৫.৪ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেই জনগণ অর্থনীতির সুফলটা ভোগ করে।’

অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর গত ৭ জানুয়ারি ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এ মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি শেখ হাসিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।