প্রচ্ছদ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

governm4.jpg

বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নভেল করোনাভাইরাসজনিত

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই হাসপাতালে ‘কোভিড-১৯’ ও ‘নন-কোভিড’ রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দিতে হবে।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ,

হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনোস্টিক সেন্টার মালিকদের সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

বর্তমানে শনাক্ত হওয়া রোগীদের অনেকেই বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কিছু হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল।

পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনায় আক্রান্তা রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও মেলে।

তাছাড়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে সাধারণ রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার এবং অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা পাচ্ছেন।

এ অবস্থায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা আসল।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশের সরকার।

কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত শয্যার অভাব, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার নানা অভিযোগ ওঠে।

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া নিশ্চিত না হলেও জ্বর, সর্দি-কাশিতে

আক্রান্ত সাধারণ রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা বা চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে একই সঙ্গে কোভিড-১৯ ও

নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে,

‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দেশের কোভিড-১৯ চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে

একই হাসপাতালে কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড রোগীদের ভিন্ন ভিন্ন

অংশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছেন।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়,

‘এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী,

কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যা ও তার

বেশি শয্যাবিশিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড ও

নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

বাংলাদেশে বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিদিনই সহস্রাধিক রোগী সে তালিকায় যোগ হচ্ছে।

এ রোগীদের বেশিরভাগই অবশ্য বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ৫২২ জনের।

বাংলাদেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সন্দেহভাজন কোভিড রোগীদের

চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত মাসে নির্দেশনা

জারি করলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি; বরং

প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসা পেতেও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের লাইসেন্স বাতিল করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

chuti66.jpg

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সর্বশেষ ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে।

এরপর নতুন করে ছুটি আরও বাড়বে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে জানা গেছে, দেশের করোনা পরিস্থিতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন

দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সকলের সঙ্গে

আলাপ-আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত দেবেন।

আশা করছি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এই সিদ্ধান্তটা আমারা পাব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে জীবন ও জীবিকার কথা বলেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের এই মহামারি সহসা দূর হবে না।

কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না।

যতদিন না কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে।

জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে।

পরিস্থিতি ক্রম অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে।

তবে এখনও করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

lockdown5.jpg

একদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে শিথিল অঘোষিত লকডাউন- এরই মধ্যে শেষ হচ্ছে সাধারণ ছুটি।

তাহলে এরপরে কি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে পুরোপুরি সুফল মিলছে না অঘোষিত লকডাউনের।

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, ঈদের পরের সময়ে মন্থর অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে হতে পারে কঠোর লকডাউনের উত্তম সময়।

আর কর্তৃপক্ষের সোজা জবাব অবস্থা বুঝেই নেয়া হবে ব্যবস্থা।

করোনাকালের ৮০ দিন পেরিয়ে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে হয়ে গেল ঈদ।

অচেনা এই ঈদের আগেও ঢল ছিলো বাড়ি ফেরায়। এই ঈদটা বাড়িতে থাকার কথা থাকলেও অনেকেই রাখেননি সেই কথা।

আবার উদাসীনতা স্বাস্থ্যবিধি মানতে কিংবা মানাতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রোগীর হার বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

২২ মে থেকে ২৪ মে শনাক্তের হার ছিল ১৭ শতাংশ আর সব শেষ মঙ্গলবার(২৬ মে) এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ২১.৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ছয় দফায় বাড়িয়ে সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ মে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এত কিছুর পরে হিসাবের খাতায় কি জমা হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই মাসের ছুটির সুফল ঘরে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। পরিকল্পনায় দরকার আরো দূরদর্শিতা।

অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত অনেক সুপরিকল্পিত এবং

যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক সেটা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।

অধ্যাপক ডা. রিদওয়ান বলেন, অঘোষিত লকডাউন দিয়ে দু’মাস যে আমরা নষ্ট করেছি।

কিন্তু স্ট্রিকলি এর ফল আমরা পাইনি।

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, ঈদের পরের এই সময়টাতে এমনিতেই কিছুটা মন্থর থাকে অর্থনীতি,

তাই এই সময়টা কাজে লাগিয়ে হতে পারে কঠোর লকডাউনের উত্তম সময়।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি কর্মকাণ্ড ১৫ দিন একেবারেই

কম রেখে তারপর থেকে এই কর্মকাণ্ড কিভাবে যাবে এসব ভাবতে হবে। এই পরিস্থিতিতে।

জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের কথা ভেবেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, মানুষের কল্যাণে

সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে সকলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

সেই সিদ্ধান্ত আমাদের জানালে আপনাদের জানাবো।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার ঘোষণা আসতে পারে পরবর্তী সিদ্ধান্তের।

nasima235.png

দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২২ জন।

এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৪৪ জন।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪১ জন।

এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৯২ জনে।

এছাড়া এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৪৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন।

আজ বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস

বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে বলা হয়, মোট ৪৮টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বের কিছু নমুনাসহ মোট ৮ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৮৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি।

নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৫৪১ জনের দেহে।

নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে

সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে আইইডিসিআর।

তার ১০ দিন পর দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় একজনের।

এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর

খবর মিললেও গত কয়েকদিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা।

education-ministry-5de7ddcc75812.jpg

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার আগে খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এখনও উদ্বেগজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।

অভিভাবকরাও ঝুঁকি নিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছেন না।

বরং পরিস্থিতি এমন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও অভিভাবকরা সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠাবেন না।

ফলে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই না খোলার ব্যাপারেই চিন্তা করছেন

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

উভয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে

সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সেটাকেই তারা যথাযথ দিকনির্দেশনা বলে মনে করছেন।

তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বিদ্যমান অবস্থায় রাখা এবং

ছাত্রছাত্রীদের বাসায় রেখে লেখাপড়ার ব্যবস্থা বা বিকল্প পাঠদানের চিন্তা চলছে।

পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে পরবর্তী ঘোষণা তৈরির কাজ চলছে।

২৮ মে’র (বৃহস্পতিবার) মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং

৪ জুনের আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী পরিকল্পনা জানাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন,

এই মুহূর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

বাচ্চাদের নিরাপত্তা আগে। আগে জীবন, এরপর লেখাপড়া।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সেটাই বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা বলে আমরা মনে করছি।

আগামী ৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে।

এর আগেই আমরা এ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা করতে হবে।

তবে করোনাভাইরাসের যে সংক্রমণ পরিস্থিতি তাতে জুন মাসটা মনে হচ্ছে টার্নিং পয়েন্ট।

ঈদের ছুটির কারণে সংক্রমণে কী প্রভাব পড়ে সেটাও দেখতে হবে।

আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন এ ব্যাপারে বলেন,

সরকার সিদ্ধান্ত যেটাই নেবে তা ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা সামনে রেখে সবচেয়ে ভালোটা নেবে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা চলছে। এ সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী ঘোষণা আসবে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

আর ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সেই হিসাবে আড়াই মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ের মানসে ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পায়তারা করছে।

শুধু তাই নয়, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের একটি স্কুল খুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রোজার মধ্যে টিউশন ফি আদায় করেছে।

আর মতিঝিলের একটি স্কুল ও কলেজ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টিউশন

ফি নেয়ার নামে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সামাজিক দুরত্ব ভাঙার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এই দুই স্কুলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্য প্রতিষ্ঠানও ঈদের পর

সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করছে বলে অভিভাবকরা জানান।

নামপ্রকাশ না করে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা বলছেন,

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনই খুলে দেয়া হবে ঠিক হবে না।

কেননা, এখনও সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী।

করোনাপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এনে প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে বড় নিবুর্দ্ধিতা ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।

অভিভাবকদের এই মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার রাতে আলাপকালে তিনি বলেন, যেভাবে এখনও সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার আছে,

তাতে মনে হচ্ছে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।

এই অবস্থায় এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া একদম ঠিক হবে না।

এ ক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রীর ইতিমধ্যে প্রকাশিত মতকে সমর্থন করব।

তিনি সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার কথা বলেছেন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই নির্দেশনা প্রতিপালন করা উচিত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসারও এক সপ্তাহ পর খোলা উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা না করে বরং এখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিক করে রাখা উচিত।

তাতে প্রতিষ্ঠান খোলার পর সিলেবাসের কতটুকু পড়ানো হবে,

অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা কীভাবে নেয়া হবে, স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায়,

আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে করণীয় কী- এসব পরিকল্পনায় আসতে পারে।

আর জেএসসি-পিইসি পরীক্ষা না রাখার ব্যাপারে আমরা সবসময় বলে আসছি।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভারাক্রান্ত করে তাদেরকে পরীক্ষার্থী

না বানিয়ে শিক্ষার্থী বানানোর কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, পরিকল্পনায় চলতি ছুটির কারণে আর কী ক্ষতি হতে পারে

এবং তা পুষিয়ে নিতে আর কী করা যায়- সেসব চিহ্নিত করার দিকে মনোনিবেশ দেয়া যায়।

যেমন- অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আয়শূন্য হতে পারেন।

সেটাসহ নানান কারণে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আর নাও ফিরতে পারে।

তাদের বিষয়টা ভাবতে হবে। ওইসব শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না

যায় সেজন্য এই সময়ে তাদেরকে সরকার বৃত্তি দিতে পারে।

পাশাপাশি এমন ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী ছুটি এবং স্বাভাবিক শ্রেণি

কার্যক্রমের অনুপস্থিতিতে লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে

বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবনের খোঁজে আছে সরকারের দুই মন্ত্রণালয়।

নামপ্রকাশ না করে নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সংসদ বাংলাদেশ টিভির মাধ্যমে পাঠদানে তেমন একটা সাড়া মেলেনি।

অন্তত ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে এটা পৌছেনি।

যে ৪০ শতাংশের কাছে পৌছেছে তারাও এটা তেমনভাবে গ্রহণ করেনি।

এ কারণে সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিন্তা করছে।

এর অংশ হিসেবে সংসদ ও বিটিভিসহ সব স্যাটেলাইট টেলিভিশন,

বেতার ও ক্যাবল টিভির মাধ্যমে পাঠদান চালানো যায় কিনা- সেই চিন্তা চলছে।

এছাড়া অনলাইন এবং অডিও মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করার চিন্তাও চলছে।

এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কেন্দ্রিক প্রকল্প এ-টু-আই বিশেষজ্ঞরা

কাজ করছেন বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

এছাড়া এ কাজে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে ওই সূত্র জানায়।

তাছাড়া ইতিমধ্যে বেতারে পাঠদানের সহায়তায় ইউনেস্কো এগিয়ে এসেছে বলে

জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন,

ছাত্রছাত্রীদেরকে সরকার বিন্দুমাত্র ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না।

তাছাড়া এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প মাধ্যমেই

বেশিরভাগ প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে হবে।

সে কারণে বিকল্পগুলো নিয়ে চিন্তা চলছে।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন,

বিকল্প হিসেবে পাঠদানের ভিডিও-অডিও তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এটা কেবল এই দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, পরবর্তী সময়ের জন্যও করা যেতে পারে।

কেননা, এই ভাইরাস সহসা যাবে না।

সে ক্ষেত্রে বিকল্প পাঠদান অবলম্বন করতে হবে।

এ কাজে স্কুলের শিক্ষকরা সহায়তা করতে পারেন।

বিভিন্ন এনজিও সংস্থাকে কাজ দেয়া যেতে পারে।

এতে কোচিং বাণিজ্যও বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে।

jaforullah.jpg

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে

তাকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিসের পর ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড গ্রুপের ২০০ মিলি প্লাজমা দেওয়া হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাইমুম আরাফাত পান্থ

তিনি জানান, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে তিনবার করে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন।

বুধবার (২৭ মে) তার পিসিআর টেস্ট করার সম্ভাবনা আছে।

জ্বর আগের থেকে কমলেও এখন তার কাশি বেড়েছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখনও হোম আইসোলেশনেই আছেন।

বিকেল ৩ থেকে ৫ টা পর্যন্ত তার কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়।

এরপরেই প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়।

মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সন্ধানী’ ও ঢাকা মেডিকেল

কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহায়তায় এ প্লাজমা ট্রান্সফিউশন সম্পন্ন হয়েছে।

সন্ধানীর সেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্লাজমাদাতা খুঁজে বের করা হয়েছেন।

এখন আগের চেয়ে বেশ সুস্থ বলেও জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে বলেন,

‘আমি ভালো আছি। জ্বর কমে গেছে। আজকে আমি ২০০ মিলি প্লাজমা নিয়েছি।’

অন্যদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা শনাক্তের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনাসহ সকল রাজনৈতিক দল তার খোঁজ-খবর নিয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও খোঁজ-খবর নিয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার জন্য ব্যবস্থা করতে বলেছে।

সবাই আমার খোঁজ-খবর নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও নিয়েছেন, সকল রাজনৈতিক দলই খোঁজ-খবর নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নাই।

তাই যাব না। আসলে আমার চিকিৎসা হলো আমাকে বাসায় থাকতে হবে।

আমাকে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে হবে,

আর এটা (বাসায় থেকে করোনার চিকিৎসা গ্রহণ) করতে হবে।’

সোমবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা হলে তার করোনা পজিটিভ আসে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কিছুদিন

পর থেকে এই ভাইরাস শনাক্তরণে কিট উদ্ভাবনে নামে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের একটি দল তা উদ্ভাবনও করেছে।

উদ্ভাবিত এ কিটের সক্ষমতা যাচাই চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)।

এ পরীক্ষায় সফলতা পেলে কিট ব্যবহারের অনুমোদন দেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।

তারপরই গণস্বাস্থ্য তাদের উদ্ভাবিত কিট সবার করোনা পরীক্ষায় ব্যবহার করা যাবে।

এ কিট উদ্ভাবন প্রক্রিয়া মিডিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ে

যোগাযোগের সমন্বয় করে আসছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

police6.jpg

কারো চাকরির বয়স উনচল্লিশ বছর কারো বা এক যুগ।

এত বছরে ছুটি মিলেছে সর্বোচ্চ পাঁচ কি ছয় ঈদে।

জীবনের বেশিরভাগ ঈদ তাই কেটে যায় পরিবারপরিজন ছাড়া কর্মস্থলে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা পুলিশ সদস্যদের ঈদে অপেক্ষার সাথে যোগ করেছে উৎকণ্ঠা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালেও যথারীতি ব্যস্ত কলাবাগান থানার টহল টিম।

কনস্টেবল কামাল পুলিশে চাকরি করছেন উনচল্লিশ বছর।

এত বছরে ঈদে ছুটি পেয়েছেন হাতেগোনা।

যদিও পুলিশ বাহিনীর জন্য ঈদে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও মন পড়ে থাকে পরিবারের কাছেই ।

তিন সন্তানের জনক টহল টিমের নেতৃত্বে থাকা এএসআই ভিডিও কলের মাধ্যমে ঈদের কুশলাদি বিনিময় করছেন বটে,

তবে তার আসল ঈদের অপেক্ষার পালা শেষ হবে মহামারি শেষে যখন মিলবে ছুটি।

পুলিশের চাকরিতে ঈদে স্বজনের জন্য অপেক্ষা নতুন কিছু নয়।

তবে অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাস যোগ করেছে চরম উদ্বেগ।

তাতেও দমে যাননি পুলিশ সদস্যরা।

করোনাযুদ্ধে তেজগাঁ থানার আঠারো জন পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছে।

এমন অবস্থা ডিএমপির প্রায় সব থানার।

তারপরও ঈদে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত খোলা আছে থানাগুলো।

corona24.jpg

দেশে এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মারা যাচ্ছেন।

সেই সাথে আক্রান্ত হচ্ছেন ৪৮ জন করে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক হাজার ১৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২১ জন।

এই সংখ্য বিশ্লেষণে এই হিসেব পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫১ জন এবং মারা গেছেন ৫২২ জন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান,

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক হাজার ১৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন

এবং মারা গেছেন ২১ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৪৫ জন।

এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার ৫৭৯ জন।

এই হিসেব বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে প্রতি ঘণ্টায় সুস্থ হচ্ছেন ১০ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, সাতজন নারী।

১৫ জন ঢাকা বিভাগের, চট্টগ্রাম বিভাগের চার জন ও বরিশাল বিভাগের দুইজন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১০ বছরের নিচে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন,

৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে পাঁচজন,

৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে তিনজন,

৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন ও ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

তারপরে রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা।

ঈদের সময় গ্রাম-শহরের মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামনে দেশের জন্য আরো কঠিন সময় আসছে বলে আশঙ্কা

প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সরকারি নিজ বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদরে বলেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।

ঈদের সময় ও এর প্রাক্কালে গ্রামে ও শহরে মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামনের কঠিন সময় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

ধৈর্যহারা না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে শৈথিল্য ভাব সৃষ্টি হয়েছে।

অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ধৈর্য ও শৃংখলার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করলেও অনেকেই এসব কানে তুলছেন না।

স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘোরাফেরা করছেন হাট-বাজারে, ভিড়ে জনসমাগমে অংশ নিচ্ছেন।

এতে শহরে গ্রামে সর্বত্রই সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দয়া করে আসুন সবাই সচেতন হই।

স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলি।

কারণ প্রতিকার সমাধান নয়, এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে ও সুরক্ষা পেতে প্রতিরোধের বিকল্প নেই।

আপনার সামান্যতম শৈথিল্য নিজ পরিবার এবং পার্শ্ববর্তী সবার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

nasima2.jpg

দেশে আরও ১ হাজার ১৬৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২১ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন

স্বাস্থ্য বুলেটিনে মঙ্গলবার (২৬ মে) এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুলেটিনে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন,

গেল ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪ হাজার ৪১৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

আগের দিনের নমুনাসহ এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৪০৭টি নমুনা।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাকৃত নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬৩ জনের শরীরে।

এই নিয়ে দেশে মোট ৩৬ হাজার ৭৫১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলো।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ২২ জন মারা গেছেন।

এ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২২ জনে।

নতুন মারা যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী।

এর আগে ঈদের দিন দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ১ হাজার ৯৭৫ জনের শরীরে।

এছাড়া এদিন মারা যান ২৮ জন