প্রচ্ছদ Archives - Page 2 of 114 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

kader-20190615170924.jpg

যোগ্যতার সঙ্গে দলীয় আনুগত্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ যেন আওয়ামী লীগের শত্রু না হয়।

শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ সাংগঠনিক সভায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। কিন্তু যোগ্যতার সঙ্গে দলের প্রতি আনুগত্যের প্রয়োজন। নিজেদের মধ্যে কলহ-বিদ্রোহ যেন না হয়।

তিনি বলেন, একটা বিষয়ে আমি খুব কষ্ট পাই, যখন দলের নেত্রী, অভিভাবক, বঙ্গবন্ধুর কন্যা স্বাক্ষরিত কোনো বিষয় আপনারা শৃঙ্খলার সঙ্গে মেনে নিতে ব্যর্থ হন। ৭৫ পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার মতো বিচক্ষণ নেতা আর আসেনি। সেই নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই সুযোগকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মনোনয়নপত্রে সই করেছেন, সেই মনোনয়ন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধাগ্রস্ততা থাকা ঠিক নয়। যদি থাকে, সেটা দলের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ বহন করে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। কিন্তু যোগ্যতার সঙ্গে দলের প্রতি আনুগত্যের প্রয়োজন। যদি একটু ঘাটতি হয়, সেখানে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছি না। মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘এ ন্যাচারাল পার্টি অব গভর্মেন্ট’।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতি। হৃদয়ের অফুরন্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

bsf-bgb-20190615130713.jpg

সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বলে দাবি করেছেন ফোর্সের মহাপরিচালক শ্রী রজনী কান্ত মিশ্রা।

শনিবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের প্রথমে উঠে আসে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সীমান্ত এলাকায় অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন, বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

তবে ওই সময়ের সীমান্তের হত্যাকাণ্ডকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ বলে দাবি করেন বিএসএফ মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বিএসএফ, এ জন্য এখন আমাদের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে না। তবুও মাঝে মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটে থাকে, যা খুবই সামান্য।

গত মে মাসে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্যাতনে এক বাংলদেশি যুবক নিহতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, সীমান্তে নিহতের ঘটনা কখনওই হত্যাকাণ্ড নয়, এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। আমরা সবসময়ই জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি, এ জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরপরও মাঝে মধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা খুবই সামান্য থেকে সামান্যতম।

এর মধ্যেও যে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় সীমান্ত হয়েও বাংলদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, ইয়াবার জোগানদাতা তৃতীয় কোনো দেশ। ইয়াবাসহ যে কোনো মাদক পাচারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।

এদিকে, ফেলানী হত্যার ঘটনাটি আদালতে বিচারাধীন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এবারের আলোচ্য বিষয়ে ছিল না।

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। সীমান্তের যেসব এলাকায় গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান হয়ে সেসব স্থানে সমন্বিত যৌথ টহল পরিচালনাসহ যৌথ কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে নিহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছি।

এবারের সম্মেলনে উভয়পক্ষ সীমান্তে নতুন ক্রাইম ফ্রি জোন চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করে কুমিল্লা এলাকায় দ্বিতীয় ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ১২ জুন থেকে বিজিবি সদর দফতরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৮তম সীমান্ত সম্মলেন শুরু হয়। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী রজনী কান্ত মিশ্রার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।

pm-hasina-3-20190614195627.jpg

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে শুল্ক আরোপ হলো, দাম বাড়ল, গরিব কিছু পেল না এ রকম কিছুটা কাটখোট্টা টাইপ প্রশ্নোত্তর হবে- এমনটাই অতীতের অভিজ্ঞতা। তবে এবারের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন রকম। এবারের সংবাদ সম্মেলন যে ভিন্ন রকম হবে এটা আগে থেকেই আঁচ করা যায়।

কারণ এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী সংসদে আংশিক বাজেট উপস্থাপনের একদিন পর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। কিন্তু এতটা যে ভিন্ন রকম হবে তা মনে হয় কেউ কল্পনাও করেনি।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বেশির ভাগ সময় হলভর্তি মানুষের মুখে ছিল হাসির রোল। এর মধ্যেই সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যায় বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আবার অর্থমন্ত্রীকে কাভার করা কয়েকজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে জাহির করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দিলেও এবারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্নোত্তর চলাকালে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন অর্থপাচার এবং কর আদায়ে বাজেটে কলো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে আপনি বলছেন। এতে যারা সৎ আছেন তারা কি হতাশায় ভুগবেন না? এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা কালো টাকা অর্জন করেছে সেসব টাকা প্রথমেতো অর্থনীতিতে আসুক। এসব টাকা কে কোথায় গুঁজেটুজে রেখেছেন। সেগুলোকে আগেতো অর্থনীতিতে আনতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন রসাত্মক উত্তরে হলভর্তি শ্রোতাদের মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়। কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জরিমানা দিয়ে অল্প কয়েকটি জায়গায় কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই যারা সৎ আছে তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

অপর এক সাংবাদিক খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কত ব্যাংক থেকে কত ঋণ নিয়ে পরিশোধ করে না সেটা খোঁজ নেন। এরা যদি সঠিকভাবে ঋণ পরিশোধ করতো তাহলে খেলাপি ঋণ এত বাড়তো না।’

এমন উত্তর শুনেও হলভর্তি মনুষ না হেসে থাকতে পারেননি। অবশ্য খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য খেলাপি ঋণ গণনার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা আছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন সাধারণত প্রতিবছরই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হয়। এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানকার সাউন্ড সিস্টেম এমন যে মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী যা বলছেন সেগুলো সামনে শ্রোতারা স্পষ্ট শুনতে পারেন। কিন্তু অডিয়েন্স প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কোনো প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী তার কিছুই শুনতে পারছিলেন না বারবার ইকো (শব্দের পুনরাবৃত্তি) হচ্ছিল।

একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি একটু সামনের দিকে এসে বললে ভালো হয়। ইকো হচ্ছে, ভালো শোনা যাচ্ছে না।’

ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত, আমি একটা শব্দও বুঝতে পারিনি। এখানে একটু ইকো হচ্ছে। মনে হয় সাউন্ডটা একটু কমানো উচিত।’

মঞ্চ থেকে ওই সাংবাদিককে সামনে এসে প্রশ্ন করতে বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে শোনা যাবে না। আমি জানি না, কীভাবে ব্যবস্থা করা যাবে। ভীষণ ইকো হচ্ছে। মঞ্চে কোনো কথা বোঝাই যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চ থেকে কোনো কথাই শোনা যাচ্ছে না। সাউন্ডটা কারা কন্ট্রোল করে? একটু কমান। আমি জানি না কী ধরনের সাউন্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এ সময় ওখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাউন্ড কন্ট্রোলারদের ডাকতে গেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের আসা লাগবে না, সাউন্ডটা একটু কমালেই হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী যেমন বিরক্ত হন তেমনি বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়েন হল কর্তৃপক্ষ। সাউন্ড সিস্টেমের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে শেষে মুখে না বলে লিখিত আকারে প্রশ্ন নেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে এক সাংবাদিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, অভিনন্দন জ্ঞাপন ও লম্বা প্রশংসা করতে থাকেন। বাদ দেননি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে। প্রশ্ন করা বাদ দিয়ে আনুসঙ্গিক কথা এত বেশি বলতে শুরু করেন যে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাকে থামিয়ে বলেন, ‘আপনার প্রশ্নটা কী? শুধু সেটুকু বলুন।’

এভাবেই হাস্যরস, বিব্রতকর পরিস্থিতি আর প্রশ্ন বাদ দিয়ে নিজেকে চেনানোর মধ্য দিয়েই শেষ হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন। তবে প্রায় দেড় ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আসে। সেগুলোরও উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

গতকাল বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।

দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকেল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভব না হওয়ায় স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

bullet-train3.jpg

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে ভাবছে সরকার। বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই রুটে দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন পরিচালনা করা যায় কি-না, এ বিষয়ে একটা সমীক্ষা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকা এবার প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর হয়ে বাজেটের বক্তৃতার একাংশ পড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার রেলওয়েকে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এখাতের উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬-৪৫ পর্যন্ত ৩০ বছরব্যাপী মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। এই সময়ে ২৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১২০টি নতুন যাত্রীবাহী রেলকোচ এবং ১১১০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল রেল ট্র্যাক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫২ কিলোমিটার নতুন রেল ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি ১০০টি রেল ইঞ্জিন কেনা হবে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন পরিচালনা করা যায় কি-না, এ বিষয়ে একটা সমীক্ষা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, রেলপথে ৩টা মেজর ব্রিজ নির্মাণ, তিনটি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হবে। রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ই-টিকিটিং চালুর ফলে যাত্রীদের রেলভ্রমণ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি মোবাইল অ্যাপস প্রবর্তনের ফলে বর্তমানে অতি সহজেই যাত্রীরা রেলের অবস্থান সম্পর্কে সহজে জানতে পারেন।

PM-Sheikh-Hasina.jpg

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যারা বাজেটে পেশ করার পর সমালোচনা করছেন, তাদের কি বলবেন? এই বাজেটকে বলা হয়েছে ‘ধনীরা পেয়েছে, কৃষক ও সাধারণ মানুষ নয়’। তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?

এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সমালোচনা করবে, তাদের নিয়ে কিছু বলার নেই। তারা সব কিছুতেই দোষ খুঁজে পায়। সবকিছুকেই সমালোচনা করে। তাদের তো সবসময় আমরা কেয়ারও করি না। যদি ভালো কিছু বলে, সমালোচনার যুক্তি খুঁজে পাই। তাহলে তা গ্রহণ করব।

শেখ হাসিনা বলেন, যাদের মানসিকতা অসুস্থ তাদের কিছুই ভালো লাগে না। সব কিছুতেই তারা কিন্তু খোঁজে। তারা কী গবেষণা করেন আমি জানি না। একটা কিছু বলতে হবে। তাই বলেছে। এটা একটা অসুস্থতা।

সিপিডির নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ খুশি কিনা তা দেখতে হবে। এটা আমাদের ১১তম বাজেট। যতটুকু আমি বলেছি তার থেকে অনেক বেশি কিছু রয়েছে বাজেটে। ভালো না লাগা পার্টি যারা তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগবে না। উনাদের সেই অসুস্থতা। ভালো সমালোচনা করলে আমরা গ্রহণ করবো আর মন্দ কথা বললে ধর্তব্যে নেব না।

প্রধানমন্ত্রী সমালোচকদের একটি গল্প শোনান, বলেন- ওই যে একটা কথা আছে না। বলে তুই পড়াশুনা করতে পারবি না। পড়াশুনা শেষে পাশ করলে বলে তুই চাকরি পাবি না। চাকরি পেলে বলে বেতন পাবি না। বেতন পেলে বলে ওই টাকা দিয়ে চলতে পারবি না। আর এভাবে কখনোই ওই সমালোচকের তৃপ্তি আসে না। তো আমাদের দেশের সমালোচকদের দশা হলো এটা। তারা নিজেরা তো কিছু পারে না। সরকারের সমালোচনাই করে যায় শুধু’।

শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংসদে বাজেট দেয়ার পর দিন বাজেটের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার রেওয়াজ ছিল অর্থমন্ত্রীর। এবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

Farmars-1906141615.jpg

আগামীতে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কর্মসংস্থান মানে শুধু চাকরি নয়, যেকোনো মানুষ প্রশিক্ষিত হয়ে যদি কর্ম করে খাওয়ার সুযোগ পায়, সেটাই কর্মসংস্থান। যার মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেটের লিখিত বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য রাখলেও এবার আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।এতে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলে ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। ধান কাটলে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দৈনিক পাওয়া যায় এবং তিন বেলা খাবার পাওয়া যায়। তারপরও লোক পাওয়া যায় না, তাহলে বুঝতে হবে বেকারত্বের কথা যেভাবে বলা হয়, দেশে তত বেকার নেই। জীবন-যাপনে কিছু না কিছু করছেই।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান মানে সবাই চাকরি করবেন, তা নয়। ১৬ কোটি মানুষকে চাকরি দেয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, কোন দেশ আছে যারা এত লোককে চাকরি দিতে পারে?’

নিজের কর্ম নিজেকেই সৃষ্টি করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে, সেখানে চাকরি ছাড়াও নানাভাবে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তখন দেশে ৩ কোটি বেকার যুবক কর্মের সন্ধান পাবে।

দেশের ইতিহাসে এটাই সর্ববৃহৎ বাজেট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত দুই মেয়াদে ১০ বছরের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তার মাধ্যমে জনগণের মাঝে বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা বেড়েছে। তার প্রতিফলন ঘটেছে গত ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে।

pm4w2.jpg

জাতির পিতার কন্যা তিনি। রাজনীতির চড়াই-উতরাই দেখেছেন। জীবনের অনেকটা পথ রীতিমতো লড়াই করেই কাটাতে হয়েছে তাকে। বলতে গেলে জীবনের শুরুতেই জীবনযুদ্ধের সৈনিক তিনি।

তারুণ্যের উষালগ্নে, যখন তার ভেসে যাওয়ার কথা উচ্ছলতার স্রোতধারায় তখনই হোঁচট খেতে হয়েছে। থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই অভিশপ্ত দিনে হারিয়েছেন মা-বাবা, ভাইদের। হারিয়েছেন স্বদেশের আশ্রয়।

আশ্রয়হীন পরিবেশে দেশে দেশে ঘুরেছেন। ছিল না নিশ্চিত নিরাপত্তা, জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও ছিল অনুপস্থিত। জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছে তাকে। বেছে নিতে হয়েছে অন্য রকম এক সংগ্রামী জীবন। লড়াই করেছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে। কিন্তু জীবনের সত্য থেকে বিচ্যুত হননি কোনো দিন।

তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার বাবার হাত ধরে জন্ম হয়েছে এই বাংলাদেশের। সারাদিন তার কত ব্যস্ততা। কত লোকবল থাকে তাকে সাহায্য করার জন্য।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো একাই একশো। তিনি যেমন সাজগোজে সাদামাটা। তেমনি চলন বলনেও। তার প্রমাণ মেলে সর্বক্ষণই।

যারা জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে প্রবেশ করতে দেখেছেন। তারা একটা জিনিস নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। সেখানে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার কার্ড প্রেস করে ঢোকার অনুমতি নেন। এর জন্য তিনি অন্যের সাহায্য নেন না।

শুধু যে জাতীয় সংসদ তা নয়। প্রধানমন্ত্রী তার নিজের কাজ নিজে করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নানা সময়ে তার ঘনিষ্ঠজনেরাও সে কথা জানিয়েছেন।

s23.jpg

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধীতা করায় সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে দল আর কখনোই মনোনয়ন দেবে না।

বুধবার (১২ জুন) রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের চরমুগরিয়া বন্দর এলাকায় সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সমলোচনা করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এবার সদর উপজেলায় নৌকার বিরোধীতা করায় চিরদিনের জন্য নৌকা বঞ্চিত হলেন শাজাহান খান। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা আমার নৌকায় চড়ে নৌকার বিরোধীতা করে তাদের আর কোনোদিন নৌকায় জায়গা দেব না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শাজাহান খান এখন নৌকা ছেড়ে আনারস ধরেছে। প্রয়োজনে তিনি নৌকা করেন। স্বার্থে না লাগলে নৌকা ভুলে যান। ২০০১ সালে মাদারীপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনার মনোনয়ন বোর্ড আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তখন এই শাজাহান খান নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। কোনো আওয়ামী লীগ নেতা কি তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে ছুটে যেতে পারে? কিন্তু তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ধানের শীষের মনোনয়ন আনতে। সেদিন আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধুর ছবি, নৌকা প্রতীককে অসম্মান করেছিল এই শাজাহান খান।

আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, তিনি (শাজাহান খান) মন্ত্রী হয়ে কখনো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে থাকেননি। থেকেছেন তার গণবাহিনী ও জাসদের নেতাকর্মীদের নিয়েই। তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের চেতনা ধারণ করেননি। সব সময় নৌকায় চড়ে সুবিধা নিয়ে এখন নৌকার বিরোধীতায় নেমেছেন। আজকে সময় এসেছে এই দেশ বিরোধী, চেতনা বিরোধী, আওয়ামী বিরোধী অপশক্তিকে প্রতিহত করার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন ইয়াদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাহার সরদার, সাধার

pm907.jpg

বাজেট সাধারণত অর্থমন্ত্রী বা অর্থ উপদেষ্টারাই সংসদে পেশ করেন। কিন্তু তার ব্যতিক্রমও হলো এবার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট পেশের মাঝ পথে অসুস্থ বোধ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়লেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকাল ৩টায় ‘সমৃদ্ধি সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাজেট বক্তৃতার শুরুর পর বারবার থেমে যাচ্ছিলেন অর্থমন্ত্রী। একপর্যায়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে ৫ মিনিট সময় চেয়ে নেন তিনি। স্পিকার সময় মঞ্জুর করেন।

পরে অর্থমন্ত্রী জানান, আজ বাজেট বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিকাল ৪টা থেকে বাজেটের বাকি অংশ উপস্থাপন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

বাজেট যে শুধু অর্থমন্ত্রী বা অর্থ উপদেষ্টা দিয়েছেন তা কিন্তু নয়। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক হিসেবে তিনটি বাজেট উপস্থাপন করেন।

জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী- তিনজনই ছিলেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী। যারা সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেট পেশ করেছেন। এই উদাহরণ ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে আর নেই।

probash-20190613204148.jpg

নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের চাহিদা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ৫৩টি দেশে শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা ও সুপারিশ পাওয়া গেছে, যা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে বলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জানানো হয়েছে।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি যতটুকু পড়তে পেরেছি বাকিটুকু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। উনি পড়ে দেবেন।’ পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতিক্রমে বাজেট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রতিবছর বিপুল জনশক্তি শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এ বিষয়কে মাথায় রেখে অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। আমাদের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে । আমাদের সময়মতো পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার সফল বাস্তবায়নের ফলে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাসহ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

২০১৬ সালে ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’ পত্রিকা মালয়েশিয়ার চাকরির বাজারে দক্ষ বৈদেশিক শ্রমশক্তির ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পদে ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন এমন পদে কর্মরত বিদেশিদের মাঝে ৩৭ শতাংশই হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিক।’

বক্তৃতায় বলা হয়, নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের চাহিদা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে । এর ফলে ৫৩টি দেশে শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা ও সুপারিশ পাওয়া গেছে, যা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আইনি কাঠামাতেও সংস্কার এনেছি। এ ধারাবাহিকতায় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭’, ‘ওয়েজ ওর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বরাবরের মতো বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকেল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভবপর না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন।

বেলা ৪টা ৪১ মিনিটে ‘প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপিত হলো’ মর্মে ঘোষণা দেন স্পিকার।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

এর আগে মন্ত্রিসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে দুপুর ১টার একটু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।