প্রচ্ছদ Archives - Page 2 of 137 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

ddwa.jpg

হাসপাতলে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ফের বাড়লো। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৬২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন (মঙ্গলবার) দেশের বিভিন্ন এক হাজার ৫৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, বুধবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৭১১ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৯১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাসূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ২৭৮ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীতে তিন হাজার ৩৬০ ও ঢাকার বাইরের দুই হাজার ৯১৮ রোগী ভর্তি রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫১ হাজার ৬৭০ জন।

রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গত চারদিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত কমলেও জনমনে আতঙ্ক কাটছে না। সরকারি তথ্য অনুসারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৭ বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা দেড়শ’র কাছাকাছি।

PM-Sheikh-Hasina-1.jpg

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাই শেখ হাসিনার প্রাণনাশের প্রথম বা শেষ চেষ্টা নয়। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিদেশে থাকার কারণে বোন শেখ রেহানাসহ বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ১৯৮১ সালের মে মাসে দেশে ফেরার পর থেকেই শেখ হাসিনার ওপর একের পর এক হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি বারবারই অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। যদিও এসব হামলায় দলের অনেক নেতাকর্মীর প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে।

শেখ হাসিনার ওপর প্রথম বড় হামলা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ৮ দলীয় জোটের মিছিলে। সর্বশেষ গত ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তার সরকারের আমলেও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ২০১৫ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’ এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়। এরপর তাকে বহনকারী বিমানে দু’বার নাশকতার চেষ্টা হিসেবে ধরলে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় মোট ২১ বার। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনার ওপর হামলা শুরু হয়। ওইদিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের খুব কাছে আটদলীয় জোটের মিছিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পুলিশ ও বিডিআর গুলি ছোড়ে। এতে ৭ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়। তিনি পতেঙ্গা বিমানবন্দরে নেমে একটি সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য লালদীঘিতে যাচ্ছিলেন।

১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাত ১২টার দিকে ফ্রিডম পার্টির একদল সন্ত্রাসী বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালায়। শেখ হাসিনা তখন বাসভবনে ছিলেন। তখন নিক্ষেপ করা গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি স্কুলে উপনির্বাচনের ভোট দিয়ে গ্রিন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখানে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ করা হয়।

১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সফরে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। যশোর, দর্শনা, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, নাটোর ও সান্তাহারে জনসভা করেন তিনি। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী স্টেশনে প্রবেশের মুখে তার দিকে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরে নাটোর রেলস্টেশনে তার ট্রেনকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা এবং সমাবেশস্থলেও গুলি-বোমা ছোড়া হয়।

১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় রাসেল স্কয়ারে (ধানমন্ডি ৩২-এর পাশে) সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ২০ জন আহত হয়।

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় জনসভাস্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখেছিল হুজি। স্থানীয় এক চায়ের দোকানি একটি তার পুঁতে রাখা দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে মাটি খুঁড়ে ৭৬ কেজি ওজনের সেই বোমা উদ্ধার করা হয়। ২২ জুলাই স্থানীয় শেখ লুৎফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠের এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গি সংগঠন হুজি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা পুঁতে রাখে, যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে। হুজি এই হামলার চেষ্টা করে বলে পরে স্বীকার করেছে।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনি প্রচারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট গিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানের জনসভাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। সেদিন সন্ধ্যায় সেখানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জনসভা ছিল। কিন্তু প্রচার অভিযানে থাকার কারণে সেখানে পৌঁছাতে দেরি হয় শেখ হাসিনার। তার আগেই বোমা বিস্ফোরিত হওয়ায় ভেস্তে যায় হত্যার চেষ্টা। পরে হরকাতুল জিহাদ এই বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।

১৯৯৯ সালের ১২ জুলাই একটি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ৩১ জনকে হত্যার একটি ই-মেইল ফাঁস হয়। ই-মেইলটির প্রেরক ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী। শেখ হাসিনাকে হত্যা, গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং বিদ্বেষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের হয়।

২০০২ সালের ৪ মার্চ যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালায়।

২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়ে যশোর ফেরার পথে হামলার শিকার হন শেখ হাসিনা। কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তায় এই হামলায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১২ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান এবং আরও ২৩ নেতাকর্মী নিহত এবং ৪০০ জন আহত হন।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে রেখে খাবারে ক্রমাগত পয়জন (স্লো পয়জনিং) দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে তিন দেশে বসে অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা চলছিল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ করে দেওয়া ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করে।

২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে। সে সময় সেই আততায়ীদের টিম গাড়িতে করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার সেই পরিকল্পনা।

২০০৪ সালে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গি দিয়ে মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল। প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি-নিউজসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে কাওরান বাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠী। আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কাওরান বাজার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।

২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তুর্কেমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিমান উড়তে পারে, কিন্তু এ সাগরের চার ঘণ্টার দূরত্বের কমে কোথাও বিমানবন্দর না থাকায় বিমানটিতে আগুন ধরে যেতো। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যেতে পারতেন বিমানে থাকা সব যাত্রী।

২০১৬ সালের জুন মাসে আবারও এই বিমানে ৩৫ মিনিট ঢাকার আকাশে চক্কর দিয়ে পরে রানওয়েতে নামে। রানওয়েতে ধাতব পদার্থ থাকায় এ অবস্থা হয়। পরে ধাতব পদার্থ পরিষ্কার করা হলে বিমানটি অবতরণ করে।

kashmir-2-20190810204322.jpg

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়টিকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (২১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ গত ৫ আগস্ট বাতিল করে ভারত সরকার। ওই ধারা বাতিল করার ১৬ দিন পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার বিভাগের সহকারী সচিব মো. মাসুদ পারভেজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ মনে করে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সবসময়ই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের সব দেশের জন্য অগ্রাধিকার।’

ভারতের সংবিধানে ৩৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল। ৩৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর। এ ধারার আওতায় জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধানের আওতামুক্ত রাখা হয় (অনুচ্ছেদ ১ ব্যতিরেকে) এবং ওই রাজ্যকে নিজস্ব সংবিধানের খসড়া তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়।

৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরেহস্তক্ষেপের অধিকার ছিল না ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের। এমনকি কোনো আইন প্রণয়নের অধিকার ছিল না কেন্দ্র বা সংসদেরও। আইন প্রণয়ন করতে হলে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের সম্মতি নিতে হতো।

গত সোমবার রাতে তিনদিনের সফরে ঢাকা আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর শেষে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বাংলাদেশ।

joysoc.jpg

ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে যা হচ্ছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ব্রিফিং-এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো আসামে যে ৪০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছে সেটি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে কিনা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিবিসি সংবাদদাতা আকবর হোসেন। তিনি জানান, এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তার সাথে ছিলেন, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

যদিও অতীতে বিভিন্ন সময় বিজেপির প্রভাবশালীরা নেতারা বলেছিলেন যে আসামে যে নাগরিক তালিকা করা হয়েছে তাতে যারা বাদ পড়েছে তারা অবৈধ বাংলাদেশী এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

দু দিনের সফরে মিস্টার জয়শঙ্কর গত রাতে ঢাকায় এসেছেন এবং আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাথেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে তার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে কিভাবে ভারত বাংলাদেশের অংশীদার হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার- তিন দেশের স্বার্থেই দরকার বলে তার দেশ মনে করে।

আসামের নাগরিকত্ব সংকট গত বছর ত্রিশে জুলাই আসামের খসড়া নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাতে প্রায় ৪০ লাখ স্থানীয় মানুষের নাম নেই।

সেখানকার কর্তৃপক্ষ বলেছিলো রাজ্যটিকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত করার কর্মসূচির আওতায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

দ্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসি নামে পরিচিত এই তালিকাটি ১৯৫১ সালে তৈরি করা হয়েছিলো এটা জানতে যে, কারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক এবং কারা প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে।

এই প্রথমবারের মত ঐ তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যাতে যারা ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের আসামের বাসিন্দা প্রমাণ করতে পারে তাদেরকে ভারতের নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

ভারতের সরকারের দাবি, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করতে এই তালিকা প্রয়োজন।

গত জুলাইতে সরকার চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করে যা অনুযায়ী আসামে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু ও মুসলিম বাঙালি।

এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা চলতি মাসের শেষে প্রকাশের কথা রয়েছে। বিবিসি বাংলা

n3ax.jpg

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতে মোদীর পাঠানো আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আমন্ত্রণের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, তিস্তা চুক্তি বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে অনড় ভারত। সেটা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ ছাড়া যোগাযোগ, জ্বালানি ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এসময় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসামের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, জাতীয় নাগরিক পুঞ্জী (এনআরসি) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

grenede.jpg

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী আজ (বুধবার)। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হয় অন্তত ৩০০ জন।

সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা এবং তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে ওইদিন বিকেলে এই সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশে খোলা ট্রাকের ওপর স্থাপিত উন্মুক্ত মঞ্চে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা।

বক্তৃতা শেষে ৫টা ২২ মিনিট, শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই অর্তকিতে গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও এর আশপাশের এলাকা।

চারদিক থেকে সভাস্থলে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে। মহূর্তের মধ্যে সমাবেশস্থল রক্তাক্ত হয়ে পড়ে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় মৃত্যুর জনপদে। শত শত মানুষের আর্তচিত্কার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত আর বারুদের পোড়া গন্ধে পুরো এলাকাজুড়ে বীভৎস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ আহতদের সাহায্য করার পরিবর্তে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং আহত মানুষের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

শেখ হাসিনা সেই গ্রেনেড হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (দলের তত্কালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান।

গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে শেখ হাসিনার কানের প্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রেনেড হামলায় ২৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আইভি রহমান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ২৪ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গ্রেনেড বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য ট্রাকের ওপর মানববর্ম রচনা করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এই হত্যাযজ্ঞ থেকে দলের নেত্রীকে বাঁচাতে নেতাকর্মীরা মানবর্ম দিয়ে আড়াল করে তাকে দ্রুত গাড়িতে তুলে দেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে বের হওয়ার পথেই শেখ হাসিনার বুলেট প্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতেও ঘাতকরা অবিরাম গুলিবর্ষণ করে।

২১ আগস্টের এই গ্রেনেড হামলায় যারা নিহতরা হলেন-মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম আদা চাচা, সুফিয়া বেগম, হাসিনা মমতাজ রীনা, লিটন মুন্সী ওরফে লিটু, রতন সিকদার, মো. হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মামুন মৃধা, বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আতিক সরকার, নাসিরউদ্দিন সরদার, রেজিয়া বেগম, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী, মমিন আলী, শামসুদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, ইছহাক মিয়া এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুজন।

আহতের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (দলের তত্কালীন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য) জিল্লুর রহমান, তৎকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

অভিযোগ আছে,২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই হত্যাকান্ডের প্রতিকারের ব্যাপারে তৎকালীন বিএনপি সরকার নিলিপ্ত ভ’মিকা পালন করেছিল। শুধু তাই নয় এ হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে সরকারের কর্মকর্তারা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত পাঁচটি গ্রেনেড ধ্বংস করে দিয়ে প্রমান নষ্ট করার চেষ্টাও করা হয়েছিল।

পরবর্তি সময়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হলে বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুরজ্জামান বাবর ঘটনার সাথে তারেক রহমান জড়িত আছেন বলে দাবি করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাধর বড় পুত্র তারেক রহমান ‘ এ হামলার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন।’

এই হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীর সন্ধানদাতার জন্য সেসময় বাবর এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। হামলার পর বাবরের তত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং এতে জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, একজন ছাত্র, একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ পরবর্তী তদন্তে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুকুল পরিস্থিতিতে সরকার এ হামলার পুনারায় তদন্তের নির্দেশ দিলে এবং সাড়ে তিন বছর পর বিলম্বিত পুলিশ চার্জ শিট নথিভুক্ত করা হয়। অথচ বিএনপি’র কতিপয় সংসদ সদস্য এই জঘন্য হামলাকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল।

পুনরায় তদন্তে পুলিশ এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে চিহ্নিত করে। এর আগে বেশ কয়েকটি বিদেশী মিশন যেমন ব্রিটিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, ইউএস ফেডারেল ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ইন্টারপোল বাংলাদেশী তদন্তকারীদের যোগ দিলেও এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি সরকার তাদের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছিল।

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত।

এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানীর অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানীর জন্য পেপারবুক তৈরীর কাজ চলছে।

pm-1-20190818165011.jpg

চোখের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন লন্ডনে অবস্থান করছিলেন, সে সময় একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিএসটিআইয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে।

এর জেরে তখন সারাদেশে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা; একপর্যায়ে আদালতে রিট হয়। লন্ডন থেকে ফিরে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, ওই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশের পর বাজারচলতি দুধ ব্যবহার করা যাবে কী যাবে না? দেশবাসীর মনে যখন এ প্রশ্ন জেগেছিল, তখন সরকারের মন্ত্রীরা কেন নীরব ছিলেন?

গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ বিষয়ে মন্ত্রীদের একহাত নেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য আমাদের সময়কে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, এ গবেষণাটি করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক। তিনি গবেষণা-উত্তর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, বিএসটিআই নিবন্ধিত পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা জানান, গতকালের বৈঠকে ওই গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কথা নেই বার্তা নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করলেন। তিনি যে গবেষণা করেছেন, সেটা কোন প্রক্রিয়ায় করেছেন? গবেষণার যথাযথ অনুমতি নিয়েছেন কিনা? গবেষণার ফল কোন জার্নালে প্রকাশ হয়েছে? এসব প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বৈঠকে আরও বলেন, আমি লন্ডনে বসে লক্ষ করলাম, কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ একজন দুধ পরীক্ষা করে বলে দিলেন যে, দুধ ব্যবহারযোগ্য নয়। সঙ্গে সঙ্গে সেটা নিয়ে আদালতে রিট করা হয়। এ সময় তিনি যোগ করেন, আজ দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। মানুষ যদি সবই ভেজাল খায়, তা হলে গড় আয়ু বাড়ে কীভাবে? আগে মানুষ কয় বছর বাঁচত? এখন ৭০-৭৫ বছর অনায়াসেই আয়ু পাচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, কিছু কিছু দুর্ঘটনার হার কমানো গেলে গড় আয়ু আরও বাড়ত।

মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জানান, আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রীদের কাছে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দুধ নিয়ে যখন সারাদেশে তোলপাড়; পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি; টিভিতে টকশো হচ্ছিল; তখন আপনারা কী করছিলেন? কারো মুখে তো এ বিষয়ে কোনো কথা আমি দেখিনি। এ সময় মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাদের থামিয়ে দেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাসখানেক পর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

hasan-1.jpg

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি দেশে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, তা এবার বিদেশেও ছড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের প্রচার কার্যালয়ে দলের প্রচার উপকমিটির বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বেগম জিয়ার শাস্তি হয়েছে এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অপরাধে। এ দুর্নীতির কথা সারাদেশের মানুষ জানে। তার মুক্তির জন্য বিএনপি যদি বিদেশে ধর্ণা দেয়, তাহলে খালেদা জিয়ার দুর্নীতি দেশে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, তা এবার বিদেশেও ছড়াবে।

বিএনপি মহাসচিবের ‘আওয়ামী লীগ চামড়াশিল্প ধ্বংস করে দিতে চায়’ এমন অভিযোগেরও জবাব দেন তথ্যমন্ত্রী। জবাবে তিনি বলেন, চামড়াশিল্প নিয়েও বিএনপির অপরাজনীতি সফল হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে চামড়া রপ্তানি ৪০০ মিলিয়ন ডলার থেকে সবমিলে ২ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। দেশে গত দশবছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পশু কোরবানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, আগের ৩০-৪০ লক্ষ পশুর জায়গায় এখন প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হয়। সে তুলনায় ট্যানারির সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেনি, যদিও অনেক চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু পরিবেশবান্ধবতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতায় চট্টগ্রামসহ বেশকিছু স্থানে ট্যানারি বন্ধও হয়ে গেছে। এবারের ঈদে এ অবস্থারই সুযোগ নিতে চেয়েছিল কিছু মুনফালোভীরা।

সেকারণেই চামড়ার দরপতন হয়। আর বিএনপি চেয়েছিল এটা নিয়ে অপরাজনীতি করতে। কিন্তু তারা সফল হয়নি, সিন্ডিকেটের বিষয়টি পূর্ণ তদন্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী, তাদের সমমনা সন্তান ও দোসরেরা বিভিন্ন দলের নামে তাদের চক্রান্তমূলক কর্মকান্ড ও গুজববিস্তারের প্রমাণ করেছে, তারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা যেখানেই থাকুক, বিচারের আওতায় আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপকমিটির সদস্য সুভাষ সিংহ রায়, তারিক সুজাত, কাশেম হুমায়ুন, এনামুল হক খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

jasim-1-20190819165818.jpg

দুবাইয়ের আবুধাবিতে অবস্থানরত সোহেল বাংলাদেশে একটি ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দক্ষিণ সদর থানায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে তার নিয়ন্ত্রণে মাদক সিন্ডিকেটে যুক্ত ১৫-২০ জন। তাদের মাধ্যমে বিশেষ কৌশলে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে ইয়াবার চালান যায় দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে। যদিও সিন্ডিকেটটি মূলত দেশের অভ্যন্তরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রটির অন্যতম সদস্য নাসির উদ্দিন সরকারকে ২৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ রাজধানীর উত্তরা থেকে আটকের পর এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সোমবার বলেন, গোয়েন্দা অনুসন্ধানে র‌্যাব জানতে পারে একটি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। চক্রটি পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা ইয়াবা কৌশলে আকাশপথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। র‌্যাব-১ এর অনুসন্ধানী দল চক্রটির কয়েক সদস্যকে শনাক্ত করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকের একটি বড় চালান ঢাকা থেকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মাদক চোরাকারবারিকে ধরতে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

রোববার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি, ১৫ নম্বর রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে আচারের দুটি বয়ামে ২৬ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি পাসপোর্টসহ নাসির উদ্দিন সরকার (৩৫) নামে ওই চোরাকারবারিকে আটক করে। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং থানার চান্দ্রপুর গ্রামে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসির উদ্দিন জানান, দুবাইয়ের আবুধাবিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সোহেলের হাত ধরে তিনি এ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত। বাংলাদেশে তার নিয়ন্ত্রণে ১৫-২০ জন সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

মাদকের সিন্ডিকেটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাসির উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে তিন বছর মেয়াদি ভিসা নিয়ে দুবাই যান নাসির। আবুধাবির মোসাম্বা শহরে বহুতল ভবনের জন্য এসি তৈরির প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সোহেলের সঙ্গে সেখানেই তার পরিচয়।

সোহেল ওই একই প্রতিষ্ঠানের ফেব্রিকেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গেলে ২০০৯ সালের শেষ দিকে নাসির উদ্দিন দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর মাঝে মধ্যে সোহেলের সঙ্গে কথা হতো। একপর্যায়ে সোহেল তাকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করেন। এরপর এ পর্যন্ত তিনি এ সিন্ডিকেটের হয়ে ২০-২৫টির মতো মাদকের বড় চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেছেন।

নাসির জানান, চক্রের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করায় সোহেল তাকে মাদকের একটি চালান নিয়ে দুবাইয়ে যেতে বলেন। এতে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। দুবাই যাওয়ার জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও টিকিট বুকিংসহ সব কাজ সোহেলের লোক করে দেয়। এ ছাড়া তাকে অগ্রীম ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

বিমানবন্দরে চেকিংয়ে মাদকের উপস্থিতি যাতে বোঝা না যায় সে জন্য একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়। তিনি সোহেলের নির্দেশে ইয়াবা প্রথমে কার্বন পেপারে মুড়িয়ে তার ওপর কালো স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দুটি আচার ভর্তি বয়ামের ভেতর নেয়। এ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন পর্যন্ত অসংখ্যা মাদকের চালান আকাশপথে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে বলে জানান নাসির। জিজ্ঞাসাবাদে নাসির আরও কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

pm-1-20190818165011.jpg

দারিদ্র্য বিমোচন ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে, উল্লেখ করে যেকোনো কাজে নিজের কাছে যেকোনো সময় যে কাউকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছে এটা ঠিক, কিন্তু আমি জাতির পিতার কন্যা, কাজেই সেই হিসেবে মনে করি, দেশের প্রতি আমার একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেখানে প্রটোকলের বাধা আমি কখনও মানি না, মানতেও চাই না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই সবার সঙ্গে মিশতে, জানতে এবং কাজ করতে। আমরা সবাই একটা টিম হিসেবে কাজ করব, যাতে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।’

রোববার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজেট দিয়েছি এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্প অনুযায়ী তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।’

নিজ কার্যালয়কে (পিএমও) বিষয়টির ওপর লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের একটা ভালো সেটআপ আছে, তাই এই দফতর থেকেই এ বিষয়টা নিয়ে নজরদারি করা দরকার। যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে, আমাদের অর্জনগুলো আমরা ধরে রাখতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিশাল বাজেট পেশ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের ভৌত কাজ বন্যার পরই যাতে শুরু করা যায়, সে লক্ষ্যে পেপার ওয়ার্ক শেষ করে দ্রুত উন্নয়ন কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশে বন্যা হবে এবং এ দেশের মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার পরই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের গতি বাড়াতে হবে, যাতে এসব প্রকল্প সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আরও সক্রিয় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকটি এলাকায় একটু খোঁজ নেয়া দরকার, আমরা সতর্ক করে দিয়েছি, কোনো এলাকায় কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ ভিক্ষা করবে না। যেখানেই গৃহহীন থাকবে, তাদের একটা ঘর করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ যারা ঘরে ফিরে যেতে চায়, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে আমরা বস্তিবাসীর ওপর সার্ভে করেছিলাম। এই কাজগুলো আবার করতে হবে।’ তিনি ‘শান্তি নিবাস’ এবং ‘অবসর’ কর্মসূচিও পুনরায় চালুর কথা বলেন।

তার সরকার প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করেছে এবং এরপর আরও যত উপরে ওঠার চেষ্টা করা হবে অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই তা দুরূহ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় কাজের প্রতি সবাইকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘এখন কিন্তু অত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না, অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই এটা হয়। এর থেকে যেন পিছিয়ে না যাই, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মসিউর রহমান এবং ড.তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পিএমও’র এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘুষ খাবে, সেই কেবল অপরাধী নয়, যে দেবে সেও অপরাধী। এ বিষয়টা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিলে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ হলে অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারব।’

এ সময় তার সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা উপার্জন অনুযায়ী ট্যাক্স প্রদানের বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কে কত ট্যাক্স দিল আর কে কত খরচ করল, তারও একটা হিসাবে নেয়া দরকার।

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি ও বন্যা হয় এবং এটা স্বাভাবিক। তবে এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং বন্যা মোকাবিলায় আমরা যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি সেটাও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ পলিবাহিত ব-দ্বীপ হওয়ায় এর মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় বন্যার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু এর ক্ষতিটা আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। যে কোনো পরিকল্পনায় মাথায় রাখতে হবে বন্যা বন্ধ করে নয় বরং বন্যার সঙ্গে বসবাস করা আমাদের শিখতে হবে।’

দেশে ডেঙ্গু সম্পর্কে দেশবাসীকে আরও সচেতন থাকার এবং এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এবার শুধু আমাদের দেশেই নয়, আশপাশের অনেক দেশেই ডেঙ্গু দেখা গেছে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে মহামারি আকারে- যেমন ফিলিপাইনে মহামারি আকারে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিএমও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রচেষ্টায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, নিজের ঘর-বাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিজেকে সচেতন হতে হবে। যাতে কোথাও পানি জমে এ রোগ সৃষ্টিকারী লার্ভা জন্মাতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও এই রোগের প্রকোপ অনেকটা রয়ে গেছে এবং বিভিন্ন জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সতর্ক হতে হবে।

দেশের মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের কাজটি নিজেই করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘পাশ্চাত্য বিশ্বের অনেক কিছুই আমরা অনুকরণ করতে চাই। কিন্তু তারা যেভাবে নিজেদের কাজটা নিজেরা করে, তা আমরা অনুকরণ করি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা একদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুধু বিরোধিতাই করেনি, তারা বলেছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে একটা বটমলেস বাস্কেট হবে। সেই দেশটার থেকেও যেন আমাদের দারিদ্র্যের হার কমাতে হবে।’

‘তাদের চেয়ে অন্তত এক শতাংশ হলেও দারিদ্র্য কমাতে হবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তারা উন্নত দেশ হতে পারে কিন্তু আমরা যে পারি সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে,’- যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শোকের মাস আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

সূত্র : বাসস