বিনোদন Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

probir-mitrp-222560.jpg

বাংলা ছায়াছবির প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র গেল মাসেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

খবর গোপন রাখলেও সুস্থ হয়ে ফেরায় পরিবারের দিক থেকেই জানানো হয় করোনাভাইরাস জয় করে বাসায় ফিরেছেন ৭৭ বছর বয়সী এ অভিনেতা।

বর্ষীয়ান এ অভিনেতা করোনা আক্রান্ত হলে তাকে ২৩ জুন রাজধানীর হেল্প অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বিষয়টি জানিয়েছেন তার ছেলে মিঠুন মিত্র।

তিনি জানান, হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসা শেষে করোনামুক্ত হলে বাবাকে সোমবার (৬ জুলাই) বাসায় নিয়ে আসা হয়। তিনি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।

প্রবীণ এ অভিনেতা দীর্ঘদিন থেকে অর্থারইটিজ সমস্যাসহ দুই হাঁটুর তীব্র অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

আত্বীয়র বাসায় দাওয়াতে যাওয়ার পর সেখান থেকে এসে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন।

উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে।

andrew_kishore1_bmdb_image-1.jpg

‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত এন্ড্রু কিশোর দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

সঙ্গীত জীবনে তিনি চলচ্চিত্রের প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্রসহ অসংখ্য পুরস্কার।

এন্ড্রু কিশোর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকেও উতলা ছিলেন ফেরার জন্যে। তিনি চিকিৎসককে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমাকে দেশে পাঠিয়ে দাও।

দেশের মাটিতে গিয়ে আপনজনদের কাছে মরতে চাই আমি।’ ফিরেও এসেছিলেন শেকড়ে।

এন্ড্রু কিশোর দেশকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন এই বাংলার রূপ-প্রকৃতি।

বাংলার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা এন্ড্রু কিশোর শেকড় ছেড়ে যেতে চাননি কোথাও। দেশ প্রেমিক এন্ড্রু কিশোরের জীবনে এসেছিলো লোভনীয় অফার।

চাইলেই তিনি মুম্বাইয়ের সংগীত জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। হয়তো বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেতেন রাজশাহীতে জন্মেছিলেন নেয়া এ গুণী শিল্পী।

যেমনটা ঘটেছে সত্যজিৎ রায়, ঋত্মিক ঘটক, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেন, সাবিত্রী চ্যাটার্জিদের বেলায়।

বলিউডের মিউজিক জগতে বহুল পরিচিত নাম আরডি বর্মণ। তিনি নিজে এন্ড্রু কিশোরকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুম্বাইয়ে স্থায়ী হওয়ার।

বলেছিলেন, নিয়মিত থাকলে ক্যারিয়ার গড়ে দেবেন এন্ড্রু কিশোরের। তার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ।

এন্ড্রু কিশোর আরডি বর্মণের সেই প্রস্তাব বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

বেশ কয়েক বছর আগে একটি সাক্ষাৎকারে এন্ড্রু কিশোর নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘ভাবতে ভালো লাগে আমিই একমাত্র বাংলাদেশি যে আরডি বর্মণের সুরে হিন্দি গান গেয়েছি।

বাংলায়ও গেয়েছি। যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শত্রু’ যেটি বাংলায় নাম ছিলো ‘বিরোধ’, সেখানে মোট তিনটি গান আমি গেয়েছিলাম।

দুটি হিন্দিতে এবং বাংলা ছবির জন্য একটি বাংলায়। ‘ইসকি টুপি উসকি সার’ নামের গানটা হিন্দিতে গেয়েছিলেন কিশোর কুমার, যার বাংলা ভার্সনটা আমি গেয়েছিলাম।

বিখ্যাত গীতিকার মাজরু সুলতানপুরির লেখা ‘সুরেজ চান্দা’, ‘মে তেরি বিসমিল হু’ এই হিন্দি গান দুটি গাওয়ার পাশাপাশি বাংলা ‘মুখে বলো তুমি হ্যাঁ, ‘এর টুপি ওর মাথায়’ এবং ‘আজো বয়ে চলে পদ্মা মেঘনা’ গানগুলো আরডি বর্মণের সুরে গেয়েছিলাম।

এটা সেই ১৯৮৫ সালের কথা। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাজেশ খান্না ও শাবানা।’

তিনি জানান, ‘গান করতে গিয়ে আরডি বর্মণ দার স্নেহ পেয়েছিলাম আমি। মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় তাকে প্রথম দেখি।

তিনি আমাকে কখনোই নাম ধরে ডাকেননি। আদর করে ‘ঢাকাইয়া’ বলতেন। সেই সময় আরডি বর্মণের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম।

এত কাছের হয়ে গেলাম যে, আশা ভোঁসলের সঙ্গে তার কীভাবে প্রেম হলো, সেসব গল্পও করতেন আমার সঙ্গে। তারপর দেশে চলে এলাম।

পরে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার প্রায় এক-দেড় মাস পর আবার মুম্বাই গেলাম এবং স্টুডিওতে ভয়েস দেওয়া শুরু করলাম।

কাজ শেষে যখন ফেরার আগে আরডি বর্মণের কাছে বিদায় নিতে গেলাম তিনি বললেন, ‘ঢাকাইয়া তুই ভালো থাকিস’।’

‘আলাপের একপর্যায়ে পঞ্চমদা বললেন, ‘তুই হয়তো ভাবছিস, পঞ্চমদার সঙ্গে অনেক ভালো সম্পর্ক, গানের জন্য তোকে ডাকবো।

কিন্তু আসলে এটা সম্ভব নয়। কারণ আমরা ইন্ডিয়ান। আমাদের ন্যাশনাল ফিলিংস বেশি।

তাই সম্ভব না তোকে বাংলাদেশ থেকে ডেকে এখানে এনে গান গাওয়ানো। তুই যদি এখানে থাকতে চাস তবে থেকে যা।

এখানে তোদের সম্প্রদায়ের ভালো মেয়ে খুঁজে বের করে দেব। স্যাটেল হয়ে যা। তুই চিন্তা করিস না।’

আমি এক সেকেন্ডের মধ্যেই উত্তর দিয়েছিলাম, ‘দাদা, আমি যেখানে আছি খুব ভালো আছি এবং মনে করি, ওই জগৎটাই আমার।

এই জগৎটা আমার জন্য নয়।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

তার প্রস্থান শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে সংগীতের অনুরাগীদের।

koronjohor.jpg

বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক ও প্রযোজক করণ জোহর হাজার প্রশ্ন এবং অভিযোগের মুখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।

গেল ১৪ জুন নিজের ফ্ল্যাটে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নায়কের আত্মহত্যায় পরোক্ষ প্ররোচনা দেয়ারও অভিযোগ এনে মামলাও দায়ের করা হয় করণের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বার বার উঠে এসেছে স্বজনপোষণের প্রসঙ্গও। করণ এই লড়াইয়ে সেভাবে কাউকেই পাশে পাননি।

ফলে একপ্রকার গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। শুধু তাই নয় এমএএমআই পুরস্কারের মতো অনুষ্ঠান থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, ‘করণ ভীষণ ভেঙে পড়েছেন। বহু বছর ধরে ট্রোলড হয়েছে সে (করণ)।

ভেবেছিল গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেছে। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুর পর ও যে ব্যবহারটা পেলো, তাতে আর নিজেকে সামলাতে পারছে না।

করণ কোনো বিবৃতি দিতে চান কিনা জবাবে তিনি বলেন, ‘একেবারেই নয়। তার আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছে একদম চুপ থাকার জন্য।

আর এই মুহূর্তে কোনো কথা বলার অবস্থাতেও নেই করণ।

Andru-konok.jpg

আবহমান বাংলার পলিমাটির কোমল মায়াবী আবহাওয়া এবং প্রকৃতিতে আলহামদুলিল্লাহ অনেক কণ্ঠই ভেসে ভেসে আসে। আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে সেসব কণ্ঠস্বরের সুরসুধা বাংলাদেশকে আমোদিত, বিমোহিত, আনন্দিত, আবেগাপ্লুত করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত; কিন্তু বাংলাদেশের বিশাল এবং প্রধানতম বিনোদনের জায়গা সিনেমা হল। সেখানে যারা ছবি তৈরি করেন, ছবির জন্য ভালোবেসে টাকা ঢালেন, চিত্রকল্প লেখেন, অভিনয় করেন, গান করেন, হাসেন-কাঁদেন, তারা এবং তাদের জীবন, তাদের উপস্থাপন, তাদের শক্তি- সবকিছুই ‘লার্জার দেন লাইফ’ হয়ে থাকে এবং হতে হয়।

সেই পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ৩৫ মিলিমিটারের জন্য ফুলস্কেপে পুরো স্ক্রিনে গান ভাসিয়ে দেওয়া ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ নামক শক্তির চেয়েও বেশি শক্তির অধিকারী হতে হয়। ব্যাপারটা বোঝার জন্য একটু কঠিন হয়ে গেলো কি? আমি দুঃখিত এরচেয়ে সহজ করে আমি বোঝাতে পারছি না।

আমাদের দেশে কণ্ঠশিল্পী আছেন কতজন আর ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’র এযাবৎকালের ইতিহাসে রেগুলোর প্লেব্যাক সিংগার আছেন কজন?এর উত্তর কারো জানা আছে? এই প্রশ্ন কারো মাথায় এসেছে? মঞ্চ মাতানো আর প্লেব্যাক যোজন যোজন দূর। প্লেব্যাক সিংগার আছেন হাতে গোনা কজন; কারণ অন্যান্য গান গাওয়া যায়, কিন্তু পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ৩৫ মিলিমিটারের জন্য গান গাওয়া খুব কঠিন।

হলে স্ক্রিন ভরে পুরো গান ছড়িয়ে গেলে সে গান হলের ভেতর সর্বজনীন হয়ে ওঠে।গানের ওয়েভ মাপারও যন্ত্র আছে।আছে কোয়ার্টার থ্রোট হাফ থ্রোট ফুল থ্রোটের গ্রামার। ফিল্মে একমাত্র যাদের ফুল থ্রোট ওয়ালা কন্ঠ আছে তাদের কন্ঠই কাজে লাগে।কিন্তু সেই কণ্ঠকে পানির মতো বইয়ে দিতে হয়।সেটা বড় কঠিন কাজ আর এই কঠিন কাজ পানির মতো সহজ করে সফলতার সঙ্গে উপস্থাপন করে নিজেকে বাঘের মতো শক্তিশালী হিসেবে যিনি পরিচিত করতে পেরেছেন, তিনি আমাদের কণ্ঠরাজ এন্ড্রু কিশোর।

আমি তার কণ্ঠকে বলি গলিত সোনা। সোনার চলমান ধারা। তার সঙ্গে পরিচয়ের আগেই আমি তার গান শুনি। ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে এএএএ। হেসে-খেলে, তাচ্ছিল্য ভরে কেউ দুঃখ কইতে পারে- এ কথা আমি আগে জানতামই না। দয়াল ডাকছে, আমি মরে যাবো- এ গানতো বাংলাদেশিরা ফিচফিচ করে কেঁদে কেঁদে গায়! এতো দুঃখের অনুভূতি এমন হেসে-খেলে আসল ভাব বজায় রেখে গাইলেন আমাদের কিশোরদা। সেই থেকে শুরু। আমি আব্দুল আলীম থেকে একেবারে কিশোরদাতে স্থানান্তরিত হলাম। সে হয়তো ’৮০/’৮১-এর কথা।

এর পর ’৮৬ সালে জীবনসঙ্গী সুরকার সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খান সাহেবের ছবির গানের রেকর্ডে ওনাকে আমি সামনাসামনি দেখলাম; কিন্তু মনে হলো কতদিনের চেনা। হাতে একটা অফিসিয়াল ব্যাগ। সেখান থেকে কাগজ-কলম বের করে গান লিখে নিলেন! গান তোলার সময় কলমের হেড ঠোঁটের সঙ্গে কিপ করার মতো একটা ভঙ্গি করে গান তুলে নিলেন এক মুহূর্তেই। এর পর ইতিহাস! প্রতিটি গানই তার ইতিহাস।

অথচ তিনি বলতেন আমি তো আম জনতার শিল্পী। ভদ্রলোকরা আমার গান শোনেন?প্রথম আলো মেরিল পুরস্কার প্রথমবার পাওয়ার পর বারবার বলছিলেন কি আশ্চর্য, আমার গান ভদ্রলোকের বেডরুমে যায়! অথচ সারা বাংলা সারা পৃথিবী গানের জন্য প্রদক্ষিণ করার সময় নিউইয়র্কে ডাক্তার দের জন্য গান গেয়ে ইন্টারভেলে ব্যাকস্টেইজে একদল ডাক্তার এসে যখন বললেন কিশোর দা, আপনি গান শুনে শুনে আমরা ডাক্তার হয়েছি।কিশোরদা সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে চোখ সরু করে শুধান “সে কেমন? ” তাদের উত্তর ছিলো যখন মানবদেহের হাড্ডি গুড্ডি আমাদের আঁকড়ে ধরতো মাথা কাজ করতো না তখন এন্ড্রু কিশোর ছেড়ে মাথা ঠান্ডা করতাম।তারপর সেটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেলো। কিশোরদার হাতের সিগারেট পুড়ে ছাই।আমি বললাম এবার বুঝলেন তো! তিনি শিশুর সরলতায় ফ্যালফ্যাক হাসেন। বাঘের মুখে শিশুর হাসি বড়ই সুন্দর!

কত গান যে গাইলাম তার সঙ্গে! পৃথিবীর সব কিছুই যেন তার নখদর্পণে; কিন্তু কোনো কিছুতেই তার কিছু আসে যায় না। জীবনে কোনো সমস্যাই তার কাছে সমস্যা নয়, এক মুহূর্তেই সমাধানও দিয়ে দেবেন চোখ বুঁজে!

খেতে এতো ভালোবাসতেন কিশোরদা! একাই তিনজনের খাবার সাবাড় করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই আবারও খিদা লাগাতে পারতেন! বলতেন জানো কনক আমার হলো ইচ্ছেখিদে।ইচ্ছে হলেই খেতে পারি। খুব আমুদে মানুষ তিনি কিন্তু ভিষণ প্রফেশনাল কিশোরদা।মীরপুর থেকে প্রায় রোজ শ্রুতি স্টুডিওতে সময়মত চারটি খানি কথা না!

এই শক্তিশালী মানুষটিকে আমি কাঁদতেও দেখেছি জনসমক্ষে। রাজশাহীতে তার ওস্তাদজির অসুস্থতায় আমরা কজন যখন বিনাপারিশ্রমিকে গাইতে গেছি, তখন তিনি মঞ্চে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন! সে কান্না মঞ্চের পেছনেও শেষ হয় না। নীরবে নীরবে অনেক দান-ধ্যান করেন কিশোরদা; কিন্তু কাউকে টের পেতে দেন না!আমাদের মিলু ভাই চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন আসিফ এবং কিশোরদা মিলে মিলু ভাইয়ের পরিবারের পাশে নিরবে দাঁড়িয়েছিলেন যা আমাদের জানতে দেন নাই। নিজের রাজশাহীর মানুষের প্রতি অসম্ভব পক্ষপাত ছিলো, তাদের সুখ দুঃখ আর্থিক অভাব অনটন সব জানতেন খোঁজ নিতেন এবং যথাযথ ব্যাবস্থা করতেন নিরবে।

আমাকে কিশোরদা অসম্ভব স্নেহ করতেন, যার কোনো তুলনা হয় না। আমার রান্না তাঁর খুব পছন্দ আর খেতে তিনি খুব ভালোবাসেন আগেই বলেছি। আমার স্বামী তার বয়সে কিছু ছোট; কিন্তু এমন স্নেহভরা কণ্ঠে তিনি ‘ও মইনুল’ বলে ডাক দেন যে, আমার বুকটা ভরে ওঠে অসম্ভব ভালোলাগায়। সুরকার মইনুল ইসলাম খান সাহেব সাউন্ডটেকের একটি ক্যাসেট করেছিলেন ” দুখের সানাই ” তখন কিশোর দা ক্যাসেটের একটা গানে লাখের উপর পেমেন্ট নেন। তো গাওয়ার আগে বললেন মইনুল তোমার গান যে কঠিন, আমি পারবো? এমন উদ্ভট কথা বলে তিনি অপূর্ব গেয়ে দিলেন। সম্মানীর কথায় বললেন ” মইনুল, সাউন্ডটেকের কাজ না কিসের কাজ আমি জানিনা, আমি তোমার গান গেয়েছি। আমাকে দিয়ে কেউ তেমন অন্য ধারায় এক্সপেরিমেন্ট করেনি।তুমি করলে এতেই আমি খুশি। আমি নিজেকে ঝালিয়ে দেখলাম। আমি কোন পয়সা নেবোনা। এই নিয়ে দুজনের ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হলো, খান সাহেব সেই সম্মানী নেওয়াতেই পারলেন না!

কিশোরদার সঙ্গে ছবিতে যেমন হাজার হাজার গান গেয়েছি তেমন শতশত মঞ্চেও গেয়েছি একসঙ্গে। খুবই মজার বিষয়- কিশোরদা ভাবেন উনি মঞ্চের শিল্পী নন। একটু অস্বস্তিও তার টের পেয়েছি; কিন্তু ঘটনা হলো- তাঁর সুন্দর মার্জিত ড্রেসআপে তিনি যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘আমার সারা দেহ খেও গো মাটি ওওওওওও’ বলে টান দিতেন, তখন মনে হতো লম্বা একটা লোক অসম্ভব জাদুশক্তি-বলে একটানে লম্বা একটা তালগাছকে টেনে মট করে গোড়া উপড়ে ধরায় নামিয়ে আনলেন! এটা লিখতে গিয়েও আমার গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেল। আমি প্রতিটি মঞ্চের পেছনে হা করে বসে তাঁর গান শুনতাম। মঞ্চের হাজার পাওয়ারের আলো ম্লান হয়ে যেতো তাঁর উপস্থিতির কাছে। ” ওরে এই না ভুবন ছাড়তে হবে দুদিন আগে পরে ” গাইতেন যখন তখন আমি অঝোরে কাঁদতাম। এটা আমার রেগুলার রুটিন ছিলো! এছাড়া আমি পারতামই না!

আমি আর কিশোরদা যখন একই বুথে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে প্লেব্যাক করতাম, তখন আমাদের ভিষণ হেলদি একটা প্রতিযোগিতা চলত- কে কতটা ভালো গাইতে পারি। ফার্স্ট হওয়ার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও একজন আরেকজনকে খাতা দেখানোর মতো কান্ড করতাম। আমি হয়তো জিজ্ঞেস করলাম- কিশোরদা এই জায়গাটা কেমনে কী? উনি হেসে দিয়ে বলতেন- তুমিই দেখাও। যেন আমি তার খাতা দেখে নিচ্ছি। অনেক সময় দেখা গেল গলা বসা। ঢকঢক গরম পানি চলছে, আমি তাঁর জন্য চিন্তা করছি; কিন্তু গাইতে গিয়ে সেই গলিত সোনার প্রবাহ। আহা! আমি আর লিখতে পারছিনা।

গত সেপ্টেম্বর এগারো তারিখ। আমার পঞ্চাশতম জন্মদিন! অথচ আমি পরিবার ছেড়ে নিউইয়র্কে ভাগ্নীর বাসায়। জাহাঙ্গীর ভাই জানালেন দাদা অসুস্থ। সিংগাপুর চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টাকা নিয়ে নিন্দুকেরা ঝড় তুলেছে। আমি ভাইবারে কিশোরদার শারীরিক অবস্থা জেনে তারপর বললাম কিশোরদা এই অবস্থা, আমি প্রতিবাদ করতে চাই, কি বলেন। উনি বরাবরের মতো ঠান্ডা মাথায় বললেন শোন, আমি তো আর অভদ্র বেয়াদব না! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন, আমাকে তো যেতেই হবে। আগ বাড়িয়ে কিছু বলার দরকার নেই। কেউ বেশি আজেবাজে কথা বললে তখন তুমি তোমার মতো করে উত্তর দিও। নয়মাস চিকিৎসা করার পরে যখন বিফল মনোরথ হয়ে ফেরত আসছেন সেই সময় ও তাঁর সাথে কথা হলো। বৌদি ফোন ধরিয়ে দিলেন। তখন দাদার কেঁপে কেঁপে জ্বর।ফোনে খালি বললেন কনক, বাঁচি মরি, যাইহোক খালি দোয়া কইরো যেন কষ্ট বেশি না পাই!

আমাদের কথা আর আগায়নি । আমার এতো কথা মনে থাকে অথচ একদমই মনে পড়ছেনা শেষ কবে ওনার সাথে দেখা হয়েছিল, এই ছোট দুঃখটি কিনা ওনাকে হারানোর চেয়ে বড় হয়ে এমন ভাবে ফেনিয়ে উঠলো যে গতকাল রাতে একফোঁটা ও ঘুম এলো না। হায়রে মানুষের মন।
কিশোরদা খুব রংচঙয়ে কাপড় পরতেন,পরতেন আধুনিক ডিজাইনের নিত্যনতুন পাঞ্জাবী। কিন্তু আমার ধারণা সাদা পাঞ্জাবীতে ওনাকে দারুণ লাগতো। ঘাড়ের হাঁড়ের সমস্যায় উনি ঝুঁকে হাঁটতেন বলে তাকাতে গিয়ে সবসময়ই চোখ উঁচু করতে হতো। মনে হতো ঘুমে ঢুলুঢুলু।

ফেসবুকে একজন মহিলা এনিয়ে বাজে মন্তব্য করায় আমার সাথে ঝগড়াই লেগে গেলো। তখনও শুনে বলেছিলেন থায়ায়ায়াক,বলুক। লোকের কথায় কি আসে যায়! জীবনে কখনো কিশোরদাকে মানুষের বদনাম গসিপিং করতে শুনিনি।কেউ বললে বলতেন আরে বাদ দাও, কে কি করলো তাতে কি আসে যায়! এমন স্মৃতি লেখার কতকিছু আমার ভান্ডারে আছে কিন্তু আর পারছিনা। এই স্মৃতিকাতরতা থেকে বেরুতে হবে নাইলে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি!

আমাদের একজনই কিশোরদা, আমরা তার সুস্থতার আশায় পথ চেয়ে বসেছিলাম চাতকের মতো। কিন্তু আমাদের ছেড়ে তিনি চলে গেলেন। আমি খুব চাইতাম তাকে আর আলাউদ্দিন আলী ভাইকে রান্না করে খাওয়াব! হলো না।কিন্তু ইচ্ছে এভাবে বাকি রয়ে যায়।

কনকচাঁপা

ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত

andru.jpg

বাংলা সিনেমার প্লেব্যাক সম্রাট খ্যাত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ রাজশাহীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা রয়েছে।

তার দুই ছেলে-মেয়ে দেশে আসতে কয়েকদিন সময় লাগবে। ফলে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ১৫ জুলাই।

এমনটাই তথ্য দিয়েছেন শিল্পীর ভগ্নিপতি প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস।

কিংবদন্তি এ গায়ক মৃত্যুর আগে নির্ধারিত করে গেছেন তার সমাধি স্থলের জায়গা।

মায়ের কবরের কাছেই তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানান তার ভগ্নিপতি।

মুত্যুকালে এই শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। এন্ড্রু কিশোর স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু, ছেলে এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে এন্ড্রু সঙ্গাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দেশ বরেণ্য এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

গত বছরের অক্টোবর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি।

সপ্তাহ খানেকের বেশি মিরপুরের বাসায় সময় কাটানোর পর রাজশাহী চলে যান।

এরপর থেকে রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এই সঙ্গীতশিল্পী আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘ওগো বিদেশিনী’সহ অসংখ্য গান।

Srijit-porimoni.gif

কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি এখন ঢাকার জামাই। মিথিলাকে বিয়ে করার পর থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়া বেড়েছে এ পরিচালকের।

ঢাকাই শোবিজের তারকাদের নিয়ে বাড়ছে কাজের পরিকল্পনাও। তার বাস্তবায়নও দেখা গেলো সম্প্রতি।

এ নির্মাতা এবার ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ উপন্যাসটি থেকে  ভারতীয় প্লাটফর্ম হইচইয়ের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি সিরিজ।

এই সিরিজের নায়িকা হিসেবেই অভিনয় করতে যাচ্ছেন পরিমনী। যার নির্মাতা হিসেবে থাকছেন সৃজিত মুখার্জি।

হইচইয়ের বাংলাদেশি এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

বিষয়টি নিয়ে পরীমনির সঙ্গে কথা বললেন তিনি এটিকে চমক বলেই মন্তব্য করেন।

তবে বিস্তারিত কিছুই জানাতে চাননি। কিছুটা ধুয়াসাই রাখতে চাচ্ছেন এ নায়িকা।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে ইতোমধ্যে এ খবর প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, পরীমনি ছাড়া বাংলাদেশে থেকে সিরিজটিতে আরো রয়েছেন- চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং টলিউডের অনির্বাণ ভট্টাচার্য। যার সত্যতা এখনও মিলেনি।

এই সিরিজের মুশকান জুবেরীর চরিত্রের জন্য জয়া আহসানের নাম শোনা গিয়েছিল।

তবে চূড়ান্ত পর্যায় এতে জয়ার পরবর্তীতে পরীমনিকে নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।

তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া আপাতত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছেনা।

andru-hanif.jpg

বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোনের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকাবহ বিরাজ করছে। কত গান মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে।

তাঁর সঙ্গে কাটানো দারুণ সব স্মৃতি ভাগাভাগি করছেন অনেকে। কষ্টের স্মৃতিও। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুতে শোকে কাতর বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।

নিজ হাতে প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর কথা লিখতে হবে, এমনটা কখনো ভাবতে পারেননি তিনি। কিন্তু মৃত্যু অমোঘ সত্য, এ মানতেই হচ্ছে!

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক ওয়ালে এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে তোলা একটি সজীব ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত লিখেছেন, “‘এন্ড্রু কিশোর আর নেই’, প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদটি নিজের হাতে এত তাড়াতাড়ি লিখতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি।

এই মুহূর্তে কানে বাজছে রাজশাহী থেকে বলা কিশোরের শেষ কথাগুলো, ‘দোয়া করিস বন্ধু, কষ্টটা যেনো কম হয়, আর হয়তো কথা বলতে পারবো না’।

এর পরই খুব দ্রুত শরীর খারাপ হতে থাকে কিশোরের। আর আমারও যোগাযোগ বেড়ে যায় রাজশাহীতে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে আজ সন্ধ্যায় এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় এন্ড্রু কিশোর-বাংলা গানের ঐশ্বর্য, যার খ্যাতির চাইতে কণ্ঠের দ্যুতিই ছিলো বেশি।

যার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো।

অনেক কষ্ট পেয়েছি বন্ধু, এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবি ভাবিনি-কিশোরের আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

দুদিন ধরেই এন্ড্রু কিশোরের অবস্থা ভালো যাচ্ছিল না। আজ সকাল থেকে অবস্থার আরো অবনতি হয়।

তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে তাঁকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।

১৯৫৫ সালে এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর।

এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে।

একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

বাংলা গানের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবেও পরিচিত।

বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাঁকে বলা যেতে পারে এক মহাসমুদ্র। কয়েক দশক ধরে সেই সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলেছেন শ্রোতারা।

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান রয়েছে তাঁর।

মৃত্যুকালে এন্ড্রু কিশোর স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক।

‘এন্ড্রু কিশোর আর নেই’, প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদটি নিজের হাতে এত তাড়াতাড়ি লিখতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি। এই মুহূর্তে…

Geplaatst door Hanif Sanket op Maandag 6 juli 2020

andrew_kishore1_bmdb_image-1.jpg

সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন, আবার গানের জগতে ভরাট কণ্ঠে আওয়াজ তুলবেন।

এমন আশা নিয়েই গেল বছরের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

কোটি ভক্ত অনুরাগীরাও এমনটাই মনে করেছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি কালজয়ী অসংখ্য গানের এই শিল্পী।

চিকিৎসকরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই দেশে ফেরার জন্য রীতিমত অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর।

বার বার বলতে শুরু করেছিলেন, ‘আমি দেশে গিয়ে মরতে চাই। আমাকে নিয়ে চলো।’

মৃত্যুর আগের রাতে দেয়া এন্ড্রু কিশোরের ফেসবুকে এমন নির্মম সত্যই জানালেন তাঁর স্ত্রী।

সেই পোস্টে কিংবদন্তি শিল্পীর সহধর্মীনি বলেন, ‘ডাক্তার যখন নিশ্চিত করলো যে কিশোরের শরীরে লিম্ফোমা (ক্যানসার) ফিরে এসেছে।

তখন কিশোর ডাক্তারকে বলে, ‘তুমি আজই আমাকে রিলিজ করো, আমি আমার দেশে মরতে চাই, এখানে না।

আমি কাল দেশে ফিরব। আমাকে বলে, আমি তো মেনে নিয়েছি, সব ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমি তো কাঁদছি না তুমি কাঁদছ কেন?’

তিনি বলেন, কিশোর খুব স্বাভাবিক ছিল, মানসিকভাবে আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। যেদিন থেকে জ্বর এসেছিল সেদিন থেকে।

ওইদিনই কিশোর হাইকমিশনে ফোন করে বলে, ‘কালই আমার ফেরার প্লেন ঠিক করে দেন।

আমি মরে গেলে আপনাদের বেশী ঝামেলা হবে, জীবিত অবস্থায় পাঠাতে সহজ হবে।’

১০ জুন বিকালে হাসপাতাল থেকে ফিরি এবং ১১ জুন রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরে আসি আমরা।’

দেশে ফিরে এন্ড্রু কিশোর খুব চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। খুব একটা কথা বলেননি কারো সঙ্গে।

তবে মৃত্যুর আগে নিজের সহধর্মীনির সহায়তায় নিজের গান নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন এন্ড্রু কিশোর।

যেখানে তাঁর গান ভবিষ্যতে যেনো বিকৃত করে না গাওয়া হয়, সে অনুরোধ করেন।

২ জুলাইয়ের সেই পোস্টে এন্ড্রু কিশোর বলেন, আমি আমার প্রিয় ভক্ত-শ্রোতাদের অনুরোধ করছি আমার গান ভালবেসে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

আমার গাওয়া গানকে স্বাভাবিক ও সাবলীল রেখে এবং বিকৃত না করে যত্ন করে রাখবেন।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকগ্রস্ত।

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার বাবার মুখে, আমার সারা দেহ, আমার বুকের মধ্যেখানে, তুমি আমার জীবন, ভেঙ্গেছে পিঞ্জর, ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটারে, তোমায় দেখলে মনে হয়, কিছু কিছু মানুষের জীবনে কি যাদু করিলার মতো অসংখ্য বাংলা গান উপহার দিয়েছেন তিনি।

গান গেয়ে জীবনে মোট আটবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।

 

rozina2.jpg

ঢাকাই ছবির দর্শকনন্দিত চিত্রনায়িকা রোজিনা। তার অভিনয় ও রূপে বুদ হয়েছেন দর্শক।

কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বড় পর্দার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি তিনি।

আবারও ফিরছেন গুণী এই অভিনেত্রী। চলতি অর্থ বছরে ‘ফিরে দেখা’ নামে একটি ছবির জন্য অনুদান পেয়েছেন রোজিনা।

অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির কাহিনিকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও পাওয়া যাবে তাকে।

এ ব্যাপারে রোজিনা জানান, আমি অভিনয়ের মাধ্যমেই আজকে দর্শকের ভালোবাসার মানুষ হতে পেরেছি। সব সময়ই অভিনয় আমাকে টানে।

এই ছবির প্রযোজক ও পরিচালক আমি এবং গল্পও আমার তৈরি করা। গল্পটা আমার নানা বাড়ি গোয়ালন্দ ও দাদাবাড়ি রাজবাড়ীর।

সেখানকার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা উঠে আসবে এতে। তাই ছবির পরিচালনাটাও আমি করছি।

ছবিতে আরও কারা অভিনয় করবেন তা এখনই জানাতে চান না অভিনেত্রী। সবশেষ ২০০৬ সালে মতিন রহমানের ‘রাক্ষুসী’ ছবিতে অভিনয় করেন রোজিনা।

তার অভিনীত বেশির ভাগ ছবিই ব্যবসা সফল হয়েছে।

তার সময়ে বড় বড় তারকাদের ভিড়ে রূপ, গুণ ও অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন রোজিনা।

andru.jpg

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর  সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বড় বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এন্ড্রু কিশোরের বোনজামাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে শিল্পীর মরদেহ রাজশাহীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার ছেলে ও মেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন।

তারা সেখান থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। ছেলে-মেয়ে দেশে ফিরলেই কিংবদন্তী এই সংগীতশিল্পীর শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দেশ বরেণ্য এই শিল্পী।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ৯ মাস পর গত ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি।

সপ্তাহ খানেকের বেশি মিরপুরের বাসায় সময় কাটানোর পর রাজশাহী চলে আসেন তিনি।

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter