মুক্ত মত Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

valentines-day-1.jpg

আজ ভালোবাসার দিন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস; যা ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। প্রতি বছর এ দিনে অনেক দেশের মতই বাংলাদেশেও উদযাপন করা হয় এ ‘ভালোবাসা দিবস’। রাষ্ট্রীয়ভাবে এর স্বীকৃতি না থাকলেও সরকারি বিধিনিষেধ না থাকায় এর জনপ্রিয়তা এখন আকাশছোঁয়া।

তবে বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে, যারা নিজেদের দেশে ভালোবাসা দিবস পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক সেদেশে ভ্যালেন্টাইন উৎসব বা ভালোবাসা দিবস নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। অনেক মুসলিম দেশ রয়েছে যেখানে দিবসটি পালনে বিশেষ নিষেধ রয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানেও ২০১৭ সালে ইসলামবিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সেদেশের আদালত।

rj2.jpg

কৈশোরেই, কিছু বুঝে উঠার সময় থেকেই রাজনীতি করি, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ কে ধারন করেই ছাত্র রাজনীতিতে আসা, পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এটি আমার ভালবাসার আর অনুভুতির শুদ্ধতম জায়গা।

একমাত্র মেয়ে হওয়ায় আম্মা কখনো চাইতেন না আমি রাজনীতি করি। বলতেন, বাবা রাজনীতি তোমার জন্য নয়। বলাবাহুল্য, সেসময়ে মেয়েরা সেরকম ভাবে রাজনীতি তে আসতেন না। ভাল চখে দেখা হতনা। সে সব কষ্ট আর বাক্তিগত কষ্টের কথা নাই বা বলি আজকে। রাজপথে ১৯৯৩- ৯৪ থেকে হাসু আপার সংগে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রগ্রামে, উত্তাল আন্দলন সংগ্রাম এ অংশ গ্রহন, কলেজের ভিতর সাংগঠনিক কার্যক্রম খুব একটা সহজ ছিল, এটা কোন ভাবেই বলা যাবেনা। রাজনৈতিক কাজের দরুন বাড়ি যাওয়া হতনা আম্মা বলতেন আরেক আম্মা (শেখ হাসিনা) কে পেয়ে আমাকে ভুলে গেছ। এভাবে চলতে চলতে ১৯৯৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজ এর সম্মেলন, আমি সভাপতি আর শাহনাজ পারভিন আভা সাধারণ সম্পাদক কমিটির কাউন্সিল্রর ভোটের মাধ্যমে, না এ কমিটি তো হতে পারবেনা, কমিটিতে, ভাইদের সরাসরি লোক থাকতে হবে, পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছিলো সেই কমিটই আমাকে বাদ দিয়ে, এতদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আশাঃ deprived হলাম আমি। শুরু হয়ে গেল অবধারিত নাবিজয়ের সংগে দেখা।

অনেকেই হয়ত এ পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকে সরে যেতেন, আমি ছেড়ে যাইনি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে, ভালবাসি তাঁকে।

কিন্তু কথা হল, এরকম মানুষ থাকবেই তবুও নিজেকে প্রমান করতে হবে। তখন থেকেই দেখে আসছি সংগঠনের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকই সব। কিন্তু আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, একজন রাজনৈতিক কর্মীর পদ-মর্যাদা ও অবস্থান নির্ভর করে তার মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ আর অবদান এর উপর। তেলবাজি, চামচামি এগুলো নষ্ট মানুষের বৈশিষ্ট্য- এখান থেকে আমাদের সরে আসতে হবে রাজনীতির স্বার্থে।

অনেকে বলে থাকেন, রাজনীতি তে কিছু চাইনা। কিন্তু আমি চাই, আমি চাই, হ্যা আমি চাই।

রাজনীতি তে এসেছি প্রত্য্যয় নিয়ে, জনগনের সেবা করার জন্য, কল্যাণ করার ব্রত নিয়ে। নিজেকে ভাল রাখতে, নিজের লাভের জন্য নয়। দল থেকে কোন সুবিধা নেইনি বরং দিয়েছি অনেক। হারিয়েছি অনেক, সেই কাংখিত লক্ষে পৌছাব বলে।

এত কষ্টের এই রাজনীতি টা রাজনীতিবিদদেরকেই করতে দিন, ব্যবসায়ীদের হাতে নয়, রাজনীতিবিদদের হাতেই রাজনীতি বেশি সুরক্ষিত। এটি শুধু নীতির স্খলন মাত্র। আমার কাছে রাজনীতিটা অনেক বড়, তাদের কাছে নয়।

কত লোনা-চাপা কান্না, কত খানি আচর, কত খানি হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজকের এখানে আমি, আপনি তথাকথিত, দানবীর ব্যবসায়ীর মেয়ে কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, ডিসেম্বরের ৩০, ২০১৮তে চিন্তা করেছেন এমপি হবেন? অথচ, আমি গতবার ২০১৪ তে এমপি না হতে পেরে কাজ করেছি দিগুন পরিসরে, প্রতিটি মুহুর্তে চিন্তা করেছি কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষন, কখন শেষ হবে এই অপেক্ষার প্রহর। এমন কোন দলের গৃহিত প্রোগ্রাম ছিলনা যেখানে আমার বিচরণ অনস্বীকার্য।

আর খুব সহজেই পেরেছেন সেই আশা ভঙ্গ করে দিতে। তাহলে কি ভাবে দানবীর আপনারা? নাকি আমাদের শ্রমকে কিনে নিতে, আমাদের সপ্ন কে কেরে নিতে, আমাদের লালিত সপ্নকে ভঙ্গ করতেই আপনাদের এই দান কাজ। ২০১২ তে কান্সার নামক ব্যাধির মুখ থেকে বেচে এসেছি, জনগনের সেবা করব এলাকা বাসিকে কথা দিয়েছি। এখন কি করব, বলতে পারেন?

আমার ছোট মিনতি হয়ত কোনদিন এমপি হওয়াটা হবে নাহ, কিন্তু আপনারা আর কোন সবুজের সপ্ন কেরে নিবেন নাহ দয়া করে। আপনাদের তো বাসায় ছেলে- মেয়ে আছে, তাদের দিকে তাকাতে পারেন, মন তা জুড়াতে পারেন। কিন্তু আমার যার সঙ্গে বিয়ে করার কথা ছিল, তিনি ছাত্র রাজনীতি করতেন, ২০০৪ সালের ১৬ জুন তাকে মেরে ফেলে। আমার বিয়ে করা হইনি, হইনি সপ্ন পুরন, ছেলে-মেয়ে নেই বুক জুড়াবার জন্য। সেটি কি বুঝতে পারছেন? আমি জানি পারছেন নাহ, তাহলে কেড়ে নিতে পারতেন নাহ। বিস্ময় এই যে, বিষয়টি আমি কখনোই সামনে আনতে চাইনি, চাইনি আমার অহংকার নস্ট করতে, কি আর করা!

আর একটি কথা বলি, নেত্রির জন্য জীবনবাজি রেখে আমরা ছাত্রলীগের দুঃসময়ের রাজপথের অকুতোভয় সৈনিক, যার জীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন লালন করে অনেক ভালোবাসা, ভালোলাগাকে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে সমর্পন করেছে জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে। ঝড়ঝাপটা, নির্যাতন কখনও দমাতে পারেনি আমাকে কিঞ্চিত বিচ্যুতি ঘটাতে, ছিলাম এবং আছি সেই নেত্রির সংগে দেখা করতে আমাদের কে কেন পাস দেয়া হয় নাহ, কেন এই পৈশাচিক বলয়? জানতে চাই। দল করি নেত্রির, কথা বলব নেত্রির সঙ্গে সেটাই আমার অধিকার।

২০১৫ ডিসেম্বরের ২য় দিনে বাবাকে হারিয়েছি, আমার বাবা দেখে যেতে পারেন নি মেয়ের কোন রাজনৈতিক সাফল্য, তাহলে আমার বাবার কাছে, আমার পরিবারের কাছে, জনগনের কাছে আমার না পাওয়ার কোন দায়বদ্ধতা নেই? তবে ফিরিয়ে দেন আমার স্বপ্নে ভরা জীবন টাকে। কি পুরুস্কার এই ২৮ বছর রাজনীতির? কে থামাবে আমার আর্তনাদ, আমার জনগন যারা আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন অবিরত, বলে, “তোমারে দেখি কত বছর রাজনীতি কর, শেখ হাছিনা তোমারে চিনে নাহ? কত জনে কত কিছু পায় আর তুমি?” আর যারা এখন কাঁদছে ভেবেছিল, দেরিতে হলেও এইবার বুঝি মূল্যায়ন পাব ।

তাহলে কি বিনয়ী, ভাল মানসিকতা আর যোগ্য হওয়াই আমার অযোগ্যতা? দায়বদ্ধতা দল এড়াতে পারবে না।

ভাল থেক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ভাল থাকবেন প্রিয় আপা। আবেগ আর অনুভুতি নিয়েই আমরা থাকবো পাশে দেহে থাকে যতক্ষন প্রাণ।

লেখক: নুরজাহান সবুজ, সদস্য উপ কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

nar3.jpg

আজ জীবনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হলাম। মেয়ে বলে চুপ চাপ সহ্য করে বাড়ি ফিরতে হলো। কিন্তু কথাগুলো সবার সাথে শেয়ার না করে পারলাম না যেন আর কোন মেয়ে এরকম নির্যাতনের শিকার না হয়। ঘটনাটা কিছুটা এরকম ছিলো:

আজ দুপুরের দিকে ছোট ভাইকে নিয়ে নিউমার্কেটের “চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট” যাই, সেখানে “তানহা ফ্যাশন” নামে একটি দোকানে জিন্স প্যান্ট কিনতে ঢুকি কিন্তু আহামরি কোনো প্যান্ট পছন্দ না হওয়ায় বের হতে চাই। অথচ দোকানদার এটা সেটা বলে বার বার আটকে রেখে অন্য প্যান্ট দেখাচ্ছিলো। আমরা বার বার বলি যে পছন্দ হচ্ছে না। তবুও দোকানদার জোর করতে থাকে।

তার মধ্যে একটি প্যান্ট ঢোলা বলে অপছন্দ হয়। সে গোডাউন থেকে ছোট সাইজ আনবে বলে আধা ঘন্টারো বেশি দোকানে বসিয়ে রেখে দর্জি দিয়ে ঐ প্যান্টটিকেই চাপিয়ে আনে। যা আগের চেয়েও বেশি বিশ্রি হয় এবং সে সেটা অস্বীকার করে। তবে প্যণ্ট উল্টো করাতেই সে ধরা পরে যায়। একপর্যায়ে বের হয়ে যেতে চাইলে সে আমার ছোট ভাইয়ের হাত ধরে দোকানে টান দিয়ে আটকে দেয় এবং প্যান্ট নিতেই হবে বলে জোর করে। আমি তার হাত ছাড়িয়ে ভাইকে আনতে গেলে সে ভাইয়ের হাত ধরে টানা টানি করে। আমি ঝার দিয়ে হাত ছাড়িয়ে ভয়ে দোকান থেকে বের হতে চেষ্টা করি। তাই দোকানদার ও তার সেলসম্যান পিছন থেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং আমার ভাইয়ের সাথে আমাকে মিলিয়ে কুকথা বলে। একপর্যায়ে আমি পালটা উত্তর দিলে সে জুতা হাতে আমার দিকে তেড়ে আসে। কিন্তু অন্য লোকেরা তাকে আটকে দেয়ায় সে আমার গায়ে হাত তুলতে পারেনি। তবে হুমকি স্বরুপ বলে “মাইয়া দেইক্ষা বাইচ্চা গেলি নাইলে তরে হাসপাতালে পাডাইতাম “।

এত লোক ছিলো কেউ একটুও প্রতিবাদ করলো না বরং আমাকেই বলে আপা চলে যান। ভাই কে নিয়ে মাথা নিচু করে বের হয়ে গেলাম। সারা রাস্তা কান্না করতে করতে বাড়ি এসেছি। ভাইকে মিলিয়ে আমাকে এতটাই খারাপ কথা বললো এখন পর্যন্ত ভাইয়ের চোখের দিকে তাকাতে পারছি না।

এখন আমার একটাই প্রশ্ন, দিনে দুপুরে যেভাবে মারার হুমকি পেতে হলো তাতে করে সমাজে নারী নিরাপত্তা কোথায়?

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস)।

uno-bina-20190210124354.jpg

নারায়ণগঞ্জে এবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তথা ইউএনও হয়ে আসছেন নাহিদা বারিক। এর আগে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাহিদা বারিক ছিলেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড। আর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদরে ইউএনও হিসেবে রয়েছেন হোসনে আরা বেগম বীনা।

বিদায়ের আগ মুহূর্তে বেশ আলোচনায় উঠে এসেছেন বর্তমান ইউএনও হোসনে আরা বেগম বীনা। আর এসব নিয়েই গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বীনা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সাধারণত ফেসবুকে খুব একটা শেয়ার করি না। তবে আজ মনে হলো এখন চুপ করে থাকাটাও অন্যায়। তাই আজ আর না, আজ আমি বলবো… আমি হোসনে আরা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণগঞ্জ সদর, মাত্র ৯ মাস পূর্বে আমি এ পদে যোগদান করি। আমার দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চেষ্টা চিকিৎসার পরও আমরা কোনো সন্তান লাভ করতে পারিনি। কিন্তু পাঁচ মাস পূর্বে আমি জানতে পারি আমি দুই মাসের সন্তানসম্ভবা। এ ঘটনা আমার জীবনে সৃষ্টিকর্তার অপার রহমত ছাড়া আর কিছুই নয়, এ বিশ্বাস আমি প্রতিনিয়ত বুকে ধারণ করেছি। এ বিশ্বাস ও স্বপ্ন বুকে নিয়ে অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম।

উল্লেখ্য আমি আমার বাবুকে পেটে নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আংশিক নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করি। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে অজুহাত, ফাঁকিবাজী এই বিষয়গুলোকে কখনই পুঁজি করিনি। যখন যে পদে কাজ করেছি চেষ্টা করেছি শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে। সন্তানসম্ভবা হয়েও এর কোনো ব্যতিক্রম আমি করিনি।

অথচ আমি সন্তান সম্ভবা হয়েছি শোনার পর থেকেই একজন বিশেষ কর্মকর্তা, যার নাম বলতেও আমার রুচি হচ্ছে না, বিভিন্ন মহলে আমাকে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলীর পায়তারা করেই চলেছিল। আমার সন্তান সম্ভবা হওয়াটাকেই সে বিভিন্ন মহলে আমার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ এই সন্তান পেটে নিয়েই আমি অত্যন্ত সফলভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এতে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এপ্রিসিয়েশনও পেয়েছি।

southeast

আমার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল এপ্রিলের ২০ তারিখ, তেমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আমি ছিলাম। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রেগুলার চেকআপ করতে আমি হাসব্যান্ডসহ স্কয়ার হাসপাতালে আসি। চেকআপ শেষে সন্ধ্যায় আমরা হাসপাতালে অপেক্ষা করছি পরবর্তী পরীক্ষার জন্য, এমন সময় আমার একজন ব্যাচমেট ফোন করে জানায় আমার সদাসয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ওএসডি করেছে অর্থাৎ আমাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে। আমার অপরাধ হলো আমি সন্তান সম্ভবা। আর তার চেয়েও বড় কারণ হলো সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির।

খবরটা শোনার পর আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে পারিনি। আমি অ্যাজমার রোগী। প্রচণ্ড মানসিকচাপে আমার ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে আমার পেটের সন্তানের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় এবং হঠাৎ করেই আমার পেটের বাবু নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডক্টর সেদিন রাতেই সিজার করে বাবু বের করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমার পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে পরদিন সকালে আমার মাত্র ৩১ সপ্তাহ বয়সী প্রি-ম্যাচিউর বেবিকে সিজার করে বের করে ফেলা হয়। এখন সে স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিওতে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

আমার এই নিষ্পাপ সন্তানটার কী অপরাধ ছিল? নাকি মা হতে চাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল আমি জানি না!!! তবে জানি একজন সব দেখেন তিনি আমার নিষ্পাপ মাসুম সন্তানের উপর এই জুলুমের বিচার করবেন। এই নিষ্ঠুর অমানবিকতার পৃথিবীতে কোনো কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই না, শুধু আমার সৃষ্টিকর্তাকে বলব তুমি এর বিচার করো!!! আর যারা আমাকে একটুও ভালোবাসেন আমার নিষ্পাপ সন্তানটার জন্য দোয়া করবেন। ও সুস্থ হয়ে গেলে কোনো কষ্টের কথাই আমার মনে থাকবে না।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইউএনও হোসনে আরা বেগম বীনার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

bd4ui.jpg

বাংলাদেশ স্বর্গের মতো কোনো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়। কিছুদিন আগেও দেশটি ছিল দরিদ্র ও জনবহুল। তাছাড়া দেশটিতে শিক্ষার হারও ছিল অনেক কম আর দুর্নীতির পরিমাণও ছিল অনকে বেশি। মাঝে মাধ্যেই দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাসবাদ ও গণতান্ত্রিক অবস্থা ছিল প্রহসনমূলক। কিন্তু দেশটি অনেক বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বাংলাদেশই হবে আগামীর ‘এশিয়ান টাইগার।

গত বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক আট শতাংশ। যা নিয়ে টক্কর দিচ্ছে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশ ভারতকে। যেখানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক নিচে পাকিস্তান।

তাছাড়া বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ যেখানে ৪৩৪ ডলার সেখানে পাকিস্তানের ৯৭৪ ডলার। আর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলার পাকিস্তানের তা চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলার।

আর দেশটির প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগটাই হয়েছে রফতানি থেকে। ১৯৭১ সালে শূন্য থেকে শুরু করলেও এখন যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। পাকিস্তানের সেখানে মাত্র ২৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন। সুতা উৎপাদন না করেও পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, যেখানে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে।

ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড আইএমএফ তাদের হিসাব অনুযায়ী অনুমান করছে, বাংলাদেশের বর্তমানে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের ক্রম অগ্রসরমান অর্থনীতি ২০২১ সালের মধ্যে ৩২২ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। তার মানে এটা দাঁড়ায় বর্তমানে গড়ে বাংলাদেশিরা পাকিস্তানিদের চেয়ে বিত্তবান।

শুধু অর্থনৈতিক নয় অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নতি করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ২০ লাখ আর পশ্চিম পাকিস্তানের ৩ কোটি ৩৭ লাখ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫০ লাখ হলেও পাকিস্তানের তা দাঁড়িয়েছে ২০ কোটিতে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রত্যাশিত গড় আয়ু যেখানে ৭২ দশমিক ৫ বছর সেখানে পাকিস্তানের ৬৬ দশমিক ৫ বছর। জাতিসংঘের শ্রম বিষয় আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও’র দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ নারী কাজের সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানে তা ২৫ দশমিক ১ শতাংশ।

কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের দরিদ্র এই অংশটি কীভাবে এত উন্নতি করছে সেটাই দেখবার বিষয়। কেননা স্বাধীনতা লাভের মাত্র অল্প সময়ে তারা বেশ উন্নতি করেছে। কারণ তাদের এমন কোনো ভূ-কৌশলগত সম্পদ নেই যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা সৌদি আরবের কাছে বিক্রি করা যায়। তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তাছাড়া তাদের সেনাবাহিনীর উল্লেখ করার মতো কিছু নেই। আর এমন কোনো বিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা নেই যার ছায়াতলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই তাদের উন্নতির কারণ।

যদি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান এখন দুটো ভিন্ন দেশ। কেননা দুই দেশের জাতীয় আগ্রহ সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ তাদের ভবিষ্যত দেখছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে লক্ষ্য রেখে। তারা রফতানি বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ইত্যাদি বিষয়ের ওপর জোরারোপ করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কিন্তু পাকিস্তানের এসব নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।

পাকিস্তানের জন্য এসব বিষয় শিক্ষনীয় হতে পারে। ভারতের সঙ্গে ট্যাংক আর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিজেদের মেলালে চলবে না। এখনই সময় বাস্তববাদী হওয়ার। শুধু ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর সৌদি আরবের কর্তৃত্ব মেনে নেয়ার দিন শেষ করতে হবে। কেননা তারা আমাদের শেষ পর্যন্ত কিছেই দেবে না। পাকিস্তানের অবশ্যই যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে এসে একটা শন্তিপূর্ণ অর্থনীতির দিকে মনোযোগী হতে হবে। আর তা নাহলে অর্থনৈতিক অবস্থা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

sekhj.jpg

১৯৬৫ সালের কথা। খুলনার আজম খান সরকারি কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাধারণত এসব অনুষ্ঠানে বিখ্যাত শিল্পীদের দিয়ে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। তবে কলেজের তৎকালীন ছাত্র সংসদের ভিপি চিন্তা করলেন, প্রতিবারের চেয়ে এবারের বার্ষিক উৎসবটা ভিন্ন আয়োজনে করার।

তার মাথায় এলো আন্তর্জাতিকমানের সিরাত সম্মেলন করার আইডিয়া। তৎকালীন অল পাকিস্তানের সেরা আলেমদের দাওয়াত করে তিন দিনব্যাপী সিরাত সম্মেলন হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু বাদসাধলেন কলেজের অধ্যক্ষ।

তার ধারণা ছিল খুলনার মতো এলাকায় এত বড় আয়োজন সম্ভব হবে কিনা? এ ভয়ে তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু কলেজের ভিপি অধ্যক্ষকে আশ্বস্ত করলেন, সুন্দরভাবেই তারা এত বড় আয়োজনটি করতে পারবে। অনুমতি মেলার সঙ্গে সঙ্গেই ভিপি চলে এলেন ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসায়। ছদর সাহেবখ্যাত শামসুল হক ফরিদপুরীর কাছে এসে জানালেন পরিকল্পনার কথা। আন্তর্জাতিকমানের ১০ জন আলেমের তালিকাও চাইলেন ছদর সাহেবের কাছে।

ছদর সাহেব মুচকি হেসে টেনে নিলেন বুকে। প্রাণভরে দোয়া দিলেন। তরুণ বয়সে এত দুঃসাহসী কাজ করার হিম্মত যার আছে, তাকে তো বুকেই টেনে নিতে হয়। প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আপনাদের যে ভিপির গল্প শুনিয়েছি, তিনি অপরিচিত কেউ নন। বর্তমান ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহই ছিলেন খুলনা আজম খান কলেজের তৎকালীন ভিপি। শীতের শেষের এক সন্ধ্যায় তার বাসায় আমাদের এভাবেই জীবনের গল্পগুলো শুনিয়েছেন তিনি। তিনি শোনালেন তার মধুময় অতীতের কথা। শেখ আবদুল্লাহ ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন হজরত শামসুল হক ফরিদপুরীর সান্নিধ্য। গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসাতেই শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তার। মক্তবের প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে হিফজখানায়ও ভর্তি হয়েছিলেন। কয়েক পারা হিফজ করার পর চোখে সমস্যা হলে ছদর সাহেব হুজুরের পরামর্শেই তিনি স্কুলে চলে যান।

জীবনের শুরু থেকে ছদর সাহেবের সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল, হুজুরের মৃত্যু পর্যন্ত তার পরামর্শেই চলেছেন। কলেজের বার্ষিক উৎসবকে সিরাত সম্মেলনে রূপান্তরিত করার সাহস ছদর সাহেবের সংস্পর্শেই তাকে জুগিয়েছে। উৎসাহী হয়ে জানতে চাইলাম, তারপর সিরাত সম্মেলনের কী হল?

তিনি জানালেন, ছদর সাহেব হুজুর বড় বড় আলেমদের নাম দিলেও নিজে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু হুজুুরের প্রিয় আবদুল্লাহর মধুর পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত ছদর সাহেবও গিয়েছিলেন খুলনা আজম খান কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে আয়োজিত সিরাত সম্মেলনে। হজরত শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর পাশাপাশি দেশসেরা ইসলামী পণ্ডিতরাও বয়ান করেছেন সে মাহফিলে। ১৮ ভাষায় পণ্ডিত ড. শহীদুল্লাহ তিন দিনই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছিলেন।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর মুখে তার উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের কথা শুনতেই ঘণ্টাখানেক সময় পার হয়ে গেল। এ সময় মন্ত্রী মহোদয় বারবার আবেগাপ্লুত হয়েছেন। কিছু সময় পরপরই তার চেহারা হয়েছে অশ্রুসজল। তার মুখে কথাগুলো শুনে আমরাও হয়েছি উদ্দীপ্ত।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই শেখ আবদুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কাওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়নের সফল রূপকারও তিনি। বহুধাবিভক্ত কওমি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করে স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাতেই আলেমদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমেছে।

তাবলিগের চলমান সংকটেও তিনি রেখে চলেছেন কাণ্ডারীর ভূমিকা। তাবলিগ জামাতের বিবদমান দু’পক্ষের দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিনি পরিশ্রম করছেন রাত-দিন। তাবলিগের দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গর্ব বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, ইজতেমা হলেও দু’পক্ষই আলাদাভাবে করার ব্যাপারে ছিল অনড়; কিন্তু হঠাৎ করেই ঘুরে গেল পরিস্থিতি।

একসঙ্গে ইজতেমা করার ব্যাপারে দু’পক্ষই একমত হল, শুধু তাই নয় এতদিন যাদের একসঙ্গে বসানোও যায়নি, তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের তাবলিগপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে গেল আনন্দের বন্যা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করেছেন। তাবলিগের দু’পক্ষই এখন মারমুখো মনোভাব ছেড়ে সমাধানের চিন্তা করছেন।

২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমাও সুন্দরভাবে আয়োজনে একমত হয়েছেন সবাই। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ইজতেমার সংকট নিরসনে তিনি কীভাবে কাজ করছেন। এক কথায় তিনি জানালেন, সুন্দরভাবে ইজতেমা করতে যদি কারও পায়ে ধরা লাগে, আমি সেটিও করতে রাজি আছি। তার কাছে জানতে চাইলাম, কীভাবে দু’পক্ষকে অনড় অবস্থান থেকে সরালেন।

তিনি বললেন, ‘তাবলিগের যে দুটি পক্ষ হয়েছে, দুই পক্ষই তাবলিগের প্রতি আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আমরা যখন একসঙ্গে ইজতেমা করার কথা বলেছি উভয়পক্ষই নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে আমরা একটি নজির স্থাপন করেছি। কারণ বিবাদ সত্ত্বেও তাবলিগের দু’পক্ষই একসঙ্গে ইজতেমা করবেন। মূলত আমাদের সবার দিলের চাওয়া যখন এক হয়েছে, তখন আল্লাহ সবার মন নরম করে দিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া এটি অসম্ভব ছিল।

ইজতেমার নিরাপত্তাসহ চ্যালেঞ্জের যে বিষয়গুলো রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আসলে আল্লাহর রহমতই আমাদের ভরসা। দু’পক্ষের মুরব্বিরাই যথেষ্ট আন্তরিক। যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য সবাই তাবলিগ করে, তাই বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কিছুটা ছাড় উভয়পক্ষকে দিতে হবে। তবে আমরা এতটুকু অবশ্যই বলব, প্রতি বছরের মতোই সুন্দরভাবে এবারের ইজতেমাও সফলভাবে সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়াও কামনা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগে যাওয়ার কোনো স্মৃতি আছে কিনা জানতে চাইলে ছদর সাহেব হুজুরের স্নেহধন্য প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, ‘তাবলিগ জামাতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শৈশব থেকেই। হজরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) আমাকে প্রথম ইজতেমায় পাঠিয়েছিলেন। একদিনের নিয়ত করে গেলেও আমি তিন দিনই ছিলাম। কারণ ইজতেমা ময়দানে যাওয়ার পর অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করছিল।’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কাছে হজসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, সব প্রশ্নের উত্তর তিনি এক কথায় দিয়েছেন। বললেন সময় দেন, মাত্র তো শুরু। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে পরিবর্তন দেখবেন।

কাওমি স্বীকৃতিসহ নানামুখী সফলতার জন্য শেখ আবদুল্লাহ ধর্মীয় অঙ্গনে আগে থেকেই জনপ্রিয়, বিশ্ব ইজতেমার জটিলতা দূর করে সফলতার বহরে আরেকটি পালক পরলেন তিনি।

asif-cec.jpg

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা (সিইসি) মুখে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শোনে অবাক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। এর পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো। ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লিখেছেন, “সিইসি বলেছেন তিনি জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনও সুষ্ঠু করতে চান। আচ্ছা এই লোকটা এতো হাসির কথা বলে কিভাবে?”

accident64.jpg

বাবা-মার চোখের সামনে মাইক্রোবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু-সন্তানের করুণ মৃত্যু, এমন দৃশ্যের কথা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়। অথচ প্রতিনিয়ত এমন ঘটনাই ঘটছে আমাদের সড়কে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ফাইজা তাহমিনা সূচিকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় মেয়েটি একা যেতে পারবে জানিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বেপরোয়া মাইক্রোবাসের তলে চাপা পড়ে।

এদিন শুধু সূচির রক্তে রঞ্জিত হয়নি রাজপথ; ভোর ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় রাজধানীর সড়কে অন্তত তিনটি স্থান এমনিভাবে রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। সূচি ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। একইদিন রাজধানীর বাইরে দেশের আট স্থানে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। উদ্বেগের বিষয় হল, সড়কে মৃত্যু কমছে না কিছুতেই, বরং দিন দিন বড় হচ্ছে ‘মৃত্যুর মিছিল’।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের এ ব্যাপকতা মেনে নেয়া যায় না। প্রতিদিন আমাদের যদি এমন বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এত আন্দোলন, এত পদক্ষেপ কী কাজে লাগল? অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের খামখেয়ালিপনা এবং নিয়ম না মেনে গাড়ি চালনার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর সড়কপথে অন্তত পাঁচ হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে চার হাজার মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণকারীর সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না। অন্যদিকে আইন মানার ক্ষেত্রে পথচারীরাও আন্তরিক নয়। ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা ছাড়াও জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে চলন্ত বাসের সামনে হাত উঁচিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন এবং এর বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে মানুষকে সচেতনও করতে হবে। মানুষ সচেতন হলে নিঃসন্দেহে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দুর্ঘটনার হার না কমাই তার প্রমাণ। অথচ সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

এজন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনা রোধের ব্যাপারে তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যেই এ কাজে তারা সফল হয়েছে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, পথচারী-যাত্রী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

5uj.jpg

মোঃ নাসিরুদ্দিন নামের একজন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের রুগী স্কয়ার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যু শয্যায় আছেন বলে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে শামীমা আহমেদ।

ভিডিও বার্তায় তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, আমার আব্বার বয়স ষাট বছরের বেশি। তিনি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের একজন রুগী। গত তিন-চারদিন আগে তিনি খারাপ বোধ করলে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ড. মোসাদ্দেক আহমেদের অধীনে চিকিৎসা চলার সময়ে তিনি ভুল চিকিৎসার শিকার হন বলে শামীমা আহমেদ অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডায়ালাইসিস করানোর মতো শারীরিক অবস্থায় না থাকার পরেও তার বাবাকে ডায়ালাইসিস দেয়া হয়। ডায়ালাইসিস চলাকালে আব্বার হার্টবিট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

আরও নানা সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি ভিডিওবার্তাটিতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওটিতে।

taslima-nasrin.jpg

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ৪৩তম আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হয়েছে। তবে এবারও এই বইমেলার ঠাঁই হয়নি কলকাতা শহরে । বৃহস্পতিবার কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এ মেলার উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর এই বইমেলাকে কলকাতার ময়দান থেকে সরিয়ে নেয়ায় কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশের নির্বাসিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন শুক্রবার রাতে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লেখেন, কলকাতার ময়দান থেকে বইমেলাকে সরিয়ে দিয়ে বইমেলার সর্বনাশ করা হয়েছে। মানুষ আজকাল বই পড়ছে না, বাংলা বই তো আরো পড়ছে না, এমন সময় বইমেলাকে চোখের আড়াল করে দেওয়া মানে সামান্য যেটুকু পড়ার উৎসাহ মানুষের ছিল, সেটুকুকেও কফিনে ঢুকিয়ে দেওয়া।

তিনি আরো বলেন, ময়দান আর্মিদের। আর্মিরা নাকি মনে করে বইমেলায় দূষণ হয় খুব, সে কারণে ময়দানে বইমেলা বন্ধ। আর্মিদের যা কিছু মনে করার অধিকার আছে। কিন্তু যারা আর্মি নয়, তাদের তো আর্মিদের জানিয়ে দিতে হবে যে, বইমেলা ময়দানেই হবে, কারণ বইমেলা ময়দানের। ময়দান কী নিয়ে গর্ব করবে যদি তার বইমেলাই না থাকে?