সৌন্দর্য কথা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

achili.jpg

অনেকেই আঁচিল নিয়ে চিন্তিত। অবাঞ্চিত এসব আঁচিল নিয়ে হয়তো অনেক চিকিৎসাই করেছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। আঁচিলের সমস্যা সমাধানে এবার রইলো ঘরোয়া সমাধান।

ভিনেগার: ঘরোয়া পদ্ধতিতে আঁচিল সারানোর জন্য ভিনেগারের মতো উপকারী আর কিছুই হতে পারে না। ভিনেগার দিয়ে একটি তুলা ভিজিয়ে নিন। আঁচিলের উপর ওই ভেজা তুলা সারারাত লাগিয়ে রাখুন। পাঁচদিন ধরে এভাবে আঁচিলে ভিনেগারে ভেজানো তুলো লাগিয়ে দেখুন। পরেরদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখবেন আঁচিল উধাও।

অ্যালোভেরা: চিকিৎসকদের দাবি, ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের কারণেই আঁচিল হয়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনার ত্বকে আক্রমণকারী জীবাণু ধ্বংস করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন।  কারণ এতে থাকে ম্যালিক অ্যাসিড যা জীবাণুর বংশ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আঁচিলের উপর অ্যালোভেরা লাগান। অ্যালোভেরা শুকিয়ে গেলেই দেখবেন আঁচিল গায়েব।

বেকিং পাউডার: সামান্য পরিমাণ বেকিং পাউডার নিন। তাতে কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল দিন। এবার একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ওই মিশ্রণ আঁচিলের উপর লাগিয়ে দিন। এভাবে  সারারাত রাখুন। দু-তিনদিন এভাবেই মিশ্রণটি লাগালে দেখবেন আঁচিল শেষ হয়ে গেছে।

কলার খোসা: আঁচিল তাড়াতে কলার খোসা ব্যহার করতে পারেন। প্রতিদিন নিয়ম করে আঁচিলের উপরে কলার খোসার ভিতরের অংশটি ঘসুন। কয়েক দিন ব্যবহার করলেই আঁচিল নিঃশেষ হয়ে যাবে।

রসুন: ত্বকের যেকোনও সমস্যা থেকে রেহাই পেতে রসুন ব্যবহার করা যায়। আঁচিল তাড়াতেও রসুনের জুড়ি মেলা ভার। কয়েক কোয়া রসুন নিন। এবার তা মিহি করে বেটে ফেলুন। এবার তা আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক দিন পরেই তফাৎটা দেখতে পাবেন।

Golapi-jol.jpg

প্রকৃতির এমন নানা আশ্চর্য দিক রয়েছে যার রহস্যভেদ এখনও করে উঠতে পারেনি মানবজাতি। আবার এমনও অনেক কিছু রয়েছে, যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানার পরেও অবাক হতে ভালবাসি আমরা।

তেমনই এক জায়গা লুকিয়ে রয়েছে কানাডার আলবের্তা প্রদেশে। সেখানকার ‘ওয়াটারটন লেকস ন্যাশনাল পার্ক’-এ রয়েছে ক্যামেরন জলপ্রপাত। এমনিতে দেখতে সাধারণ জলপ্রপাতের মতো হলেও, এর রয়েছে এক বিশেষ আকর্ষণ।

এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, বছরের অন্য সময়ে এই জলপ্রপাত ও তার সংলগ্ন হ্রদের পানি দৃশ্যত খুবই সুন্দর। কিন্তু, বর্ষার সময়ে এখানেই ঘটে প্রকৃতির জাদু।

জানা গিয়েছে, বর্ষার সময়ে ক্যামেরন জলপ্রপাতের রং গোলাপি হয়ে যায়। এবং দিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের পানি কখনও হয়ে যায় টুকটুকে লাল, কখনও বা গাঢ় কমলা।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ক্যামেরন জলপ্রপাতের আশেপাশে ‘অ্যাগ্রোলাইট’ নামে এক ধরনের পলি মাটি রয়েছে। বর্ষার সময় এই পলি মাটি পানির সঙ্গে মিশলে তাতে গোলাপি রং ধরে।

skin7.jpg

সাধারণত প্রতি ২৭ থেকে ২৮ দিন পরপর ত্বকের কোষ তৈরি হয় আর ত্বকের উপরিভাগের কোষ মারা যায়। এই মরা কোষ নিচের নতুন কোষের সঙ্গে মিশে থাকে। এগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

যেমন-ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইনফেকশন, ব্রণ ইত্যাদি দেখা যায়। তাই ত্বক সব সময় নিয়মিত ভালো মানের ফেস ওয়াশ বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

শীতের সময় এই মরা কোষ ত্বকের উপরিভাগকে মলিন করে। তাই শীতের সময় ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কোষ যাতে সুস্থ থাকে তার জন্য প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

সঙ্গে ত্বকের অভ্যন্তরীণ হাইড্রেশনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। মাথার ত্বকও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

hair6.jpg

চুল বিভিন্ন কারণে পড়তে পারে। যে কারণেই পড়ুক না কেন, আপনাকে এই সমস্যা সমাধানে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অন্তত কমবে। দেখুন এই সমস্যা সমাধানে কী কী করবেন-

  • চুলে পড়া কমাতে মাছ, মাংস, সয়ার মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান।
  • নিয়মিত হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।
  • ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এসময় চুল বেশি পড়ে। তাই ভেজা অবস্থায় আঁচড়াবেন না।
  • সপ্তাহে দুই দিন বাদাম বা তিলের তেল কয়েক মিনিট ধরে ম্যাসাজ করুন।
  • বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান।
  • সুস্থ থাকার জন্য এবং চুলের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য দিনে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।
  • ধূমপান করলে মাথায় রক্ত সরবরাহের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে চুলের বৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং চুল পড়ে। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
  • পেঁয়াজ, আদা, রসুন শুধু রান্নায় নয়, চুলের পড়া রোধেও কার্যকর। সপ্তাহে একবার পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের রস মাথায় ম্যাসাজ করে একঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন। চুল পড়া কমে যাবে।
  • প্রতিদিন আধাঘণ্টা হাঁটুন, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, চুল পড়া কমার পাশাপাশি মানসিক চাপও কমবে, শরীরও থাকবে সুস্থ।
pa-fata.jpg

শীতকাল মানেই একগাদা ত্বকের সমস্যা। আর এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পা। পা ফাটার সমস্যা ঘরে ঘরে। নিজেদের অবহেলার জন্যই কিন্তু এই ধরনের সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়। তবে সামান্য কিছু ঘরোয়া পরিচর্যা করলেই শীতে কোমল রাখা যাবে পা। তারই কিছু টিপস দেয়া হলো।পা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন সবসময়। বাড়িতে খালি পায়ে না থেকে স্লিপার পরে থাকুন।

প্রতিদিন গোসলের সময়ে ফুট ফাইল দিয়ে পা ঘষে নেবেন। গোসলের পর শরীরে মাখেন ময়েশ্চারাইজার, শ্যাম্পু করার পর চুলে দেন কন্ডিশনার। কিন্তু গোড়ালির জন্য কি করেন? গোসলের পর ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পা পরিষ্কার করে নিয়ে কোন ফুট ক্রিম লাগান। মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন স্ক্রাবার। আর নিয়ম করে পেডিকিউর করাতে পারলে তো কোনও কথাই নেই!

পেট্রোলিয়াম জেলি

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গরম পানি ভরা পাত্রে আধ ঘণ্টা পা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর ঝামা দিয়ে পা ঘষে তুলে ফেলুন যাবতীয় মৃত কোষ। পা শুকনো হতে দিন স্বাভাবিকভাবে, ঘষে ঘষে মুছবেন না। এবার পেট্রোলিয়াম জেলির মোটা পরত লাগিয়ে একটু পুরোনো ও আলগা হয়ে যাওয়া মোজা পরে নিন পায়ে।

নারকেল তেল আর মোম

একটি পাত্রে নারকেল তেল আর মোম নিয়ে ততক্ষণ গরম করুন যতক্ষণ না মোম গলে যায়। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করুন। আগের পদ্ধতিতেই পায়ের মৃত কোষ পরিষ্কার করে নিন। তারপর ফাটা গোড়ালিতে এই মিশ্রণ লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমোতে যান। পরদিন সকালের আগে যেন পায়ে পানি না লাগে।

প্যাক

দুধ আর ওটমিল পাউডারের মাস্ক: ২-৩ টেবিল চামচ ওটমিল গুঁড়া করে নিন ব্লেন্ডারে। তারপর ঠাণ্ডা দুধের সঙ্গে এই গুঁড়া মিশিয়ে একটা ঘন প্যাক তৈরি করুন। ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা রাখুন। ধুয়ে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই প্যাক লাগান।লেবু, ডিমের কুসুম আর চালের গুঁড়ার প্যাক: ১ চা চামচ চালের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস আর একটা ডিমের কুসুম একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্যাকটা পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন করলে ভালো ফল পাবেন।

eggr4.jpg

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ডিম স্বাস্থ্যের জন্য দারুন উপকারী।অনেকের হয়তো জানা নেই, ডিমের সাদা অংশে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান ত্বক পরিচর্যায় দারুন কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বক, মুখের অবাঞ্ছিত লোম বা ব্রণের সমস্যা দূর করতে এটি কাজে লাগতে পারেন। ত্বকের যত্নে যেভাবে ডিম কাজে লাগাবেন-

ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে : তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণত ব্রণ, ব্ল্যাক হেডস, কালচে ছোপসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে অত্যাধিক তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

এজন্য প্রথমে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এ বার ডিমের সাদা অংশ পাতলা করে মুখে প্রলেপ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্রলেপ শুকিয়ে গেলে, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। আলতোভাবে মুখটা মুছে ফেলুন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।

মুখের অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ: মুখের ত্বকের অতিরিক্ত লোম নিয়ে অনেকেই সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটা একটা বড় সমস্যা।এ কারণে অনেকেই বিউটি পার্লারে গিয়ে থ্রেডিং করে থাকেন। ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করেও মুখের ক্ষুদ্র অবাঞ্ছিত লোম দূর করা সম্ভব। সাধারণত গাল, কপাল বা ঠোঁটের উপরের অংশে অবাঞ্ছিত লোমের আধিক্য দেখা যায়।

এজন্য প্রথমে একটি ব্রাশ দিয়ে ডিমের সাদা অংশ পাতলা করে মুখে মেখে নিন। শুকিয়ে গেলে আরও একবার মাখুন। এই ভাবে ২-৩ বার করে ডিমের সাদা অংশ মেখে মাস্ক তৈরি করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওই প্রলেপ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে, শুকনো চামড়ার মতো করে টেনে তুলে ফেলুন। এতে মুখের অবাঞ্জিত লোম অনেকটাই দূর হবে।

ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যায়: পরিষ্কার আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো ভাবে ব্রণ আক্রান্ত অংশগুলিতে ডিমের সাদা অংশের প্রলেপ লাগান। দ্রুত ভাল ফল পেতে এর সঙ্গে টক দই, দারুচিনির গুঁড়া বা হলুদ যোগ করতে পারেন । এতে ব্রণের সমস্যা সহজেই কেটে যাবে। সূত্র : জি নিউজ

RUP_winter-skin-care..jpg

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সঠিক যত্নের অভাবে আমাদের ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়। চোখ, ঠোঁটের কোণে ভাঁজ বা গলা, ঘাড়ে যেখানেই হোক এগুলো আমাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই হীনমন্যতায়ও ভুগে থাকেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত দাগের জন্য।

ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়ার কারণগুলো জানলে প্রতিকার পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যায়। যে বিষয়গুলোতে লক্ষ্য রাখতে হবে:

ঘুমানোর সময় 
একদিকে ফিরে সারারাত ঘুমালে সেদিকে চাপ পড়ে, ফলে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। চেষ্টা করুন সোজা হয়ে ঘুমানোর, আর যদি পাশ ফিরে ঘুমাতে ভালো লাগে, তবে রাতে ঘুম ভাঙলেই পাশ বদলে নিন।

ময়েশ্চারাইজার 
ত্বকের বলিরেখার আরেকটি কারণ শুষ্কতা। ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখলেই ত্বক কোমল থাকে, ফলে বলিরেখাও দূর হয়। গোসলের পরে ও রাতে শোয়ার আগে কোলাজেন সমৃদ্ধ ভালোমানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ব্যায়াম 
বলিরেখা দূর করে ত্বক টানটান রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড় ডানে-বায়ে ও ওপরে নিচে ঘোরান।

ম্যাসাজ 
অলিভ ওয়েল দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করলেও উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া সপ্তাহে দুই বার ২ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ার সাথে ১ চা চামচ গ্লিসারিন, ১চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ গোলাপ জল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাক ত্বকে মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

এসবের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ত্বকের তারুণ্য বয়সকে হার মানাবেই।

agev.jpg

শীত এলেই বাসাতে ধুলোবাতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। চারপাশের শুষ্ক আবহাওয়ায় আমাদের ত্বক হয়ে উঠে রুক্ষ, খসখসে। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ রীতি মেনে শীত তো আসবেই। তাই বলে বসে থাকলেও তো চলবে না।

শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বকের আদ্রতা শুষে নেয় ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এছাড়াও বয়সের কারণে, পুষ্টির অভাবে এবং বংশীয় কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হতে পারে।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে বাজারে প্রচলিত অনেক লোশন এবং ময়েশ্চারাইজার ক্রিম পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের ত্বকেই সেগুলো সমান কার্যকর হয় না। সঠিক ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার না করার ফলে ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হীন এবং সহজলভ্য প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ নিয়ে পাঠকের জন্য কিছু টিপস তুলে ধরা হলো।

* অলিভ ওয়েল: ত্বকের যত্নে জলপাই তেল বা ওলিভ ওয়েল অনেক প্রসিদ্ধ। এতে থাকা এন্টিওক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি এসিড ত্বকের জন্য অনেক ভাল। এটা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে স্বাভাবিক করে। ত্বকে নিয়মিত এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল লাগান। গোসলের আগে ত্বকে ভাল করে অলিভ ওয়েল লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন। এরপর গোসল করে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান। ২ টেবিল চামচ অলিভ ওয়েলের সাথে ৪ টেবিল চামচ লাল চিনি এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ঘষে ঘষে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান।

* দুধের সর: দুধের সরে আছে ল্যাকটিক এসিড যা শুষ্ক ত্বক নিরাময় করতে পারে। এর প্রাকৃতিক গুনাগুণ ত্বকের কোমলতা রক্ষা করে। কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, ১ চা চামচ সর মিশিয়ে ত্বকে মাখুন। কিছুক্ষণ রেখে তারপর গোসল করুন। এটা প্রতিদিন করতে পারেন। ৪ টেবিল চামচ ময়দার সাথে পরিমাণ মত দুধের সর মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের যত্নে এই ফেসওয়াস অনেক কার্যকরী।

* মধু: মধুকে বলা হয় সব চেয়ে বেশি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ উপাদান। এতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিওক্সিডেন্ট, এন্টিমাইক্রবিয়াল এবং হামেক্ট্যান্ট আছে। যা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার নিশ্চিত করে এবং ত্বককে আরো নরম করে। এতে ত্বকের জন্য উপকারি ভিটামিন এবং মিনারেলস আছে। গোসলের আছে ত্বকে মধু মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে তারপর গোসল করুন। এটা নিয়মিত করলে দ্রুত ত্বক মসৃণ হয়।

* টক দই: দধি ত্বকের যত্নে অনেক কার্যকরী। এতে ত্বকের প্রয়োজনীয় পানীয় উপাদান আছে এবং ত্বককে মসৃণ করার অন্যান্য ভাল ব্যাকটেরিয়া আছে। এছাড়াও এটা ত্বকের চুলকানি সাড়াতে খুব ফলপ্রসূ। প্রতিদিন ত্বকে দই মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে এরপর গোসল করুন। এটা ত্বকে থাকা মৃত চামড়া দূর করবে এবং ত্বককে অনেক তরতাজা করবে। আধা কাপ টক দইয়ের সাথে ৩ টেবিল চামচ চটকানো পেঁপে মিশিয়ে নিন। এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা দিনে একবার করে করবেন।

* নারিকেল তেল: ত্বকের যত্নে নারিকেল তেল অনেক প্রাচীন পদ্ধতি। এতে থাকা ফ্যাটি এসিড শুষ্কভাব দূর করে ত্বককে কোমল করে। রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম নারিকেল তেল ত্বকে মাখিয়ে নিন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। এটা ত্বককে আরো নরম এবং তুলতুলে করবে। এছাড়াও নিয়মিত গোসলের পর ত্বকে নারিকেল তেল লাগাতে পারেন।

* এভোকাডো: এভোকাডোতে প্রচুর ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন এবং এন্টিওক্সিডেন্ট আছে যা ত্বকের যে কোন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ ত্বকের মৃতকোষগুলোকে জীবিত করে। প্রথমে এভোকাডো চটকিয়ে পেস্ট করে নিন। এরপর ত্বকে মাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা দিনে একবার করে করবেন। অথবা পাকা এভোকাডোর অর্ধেক এবং সাথে আধা কাপ মধু মিশিয়ে চটকিয়ে নিন। তারপর শুষ্ক ত্বকে মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

* ওটমিল বা যবের খাবার: যবে আছে উচ্চ মাত্রায় প্রটিন যা ত্বকের যত্নে অত্যান্ত উপকারি। এটা ত্বকের প্রয়োজনীয় পানিশূন্যতা দূর করে এবং ময়েশ্চারাইজার নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও এতে ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে ত্বককে কোমল করার অন্যান্য সব উপাদান আছে। বাথটাবে ১ কাপ যবের খাবার দানা ঢেলে দিন। সাথে কয়েক ফোঁটা লেভেন্ডার ওয়েল মেশান। এরপর ২০-৩০ মিনিট বাথটাবে ডুবে থাকুন। এছাড়া ১ টি চটকানো এভোকাডোর সাথে ১ কাপ যব মিশিয়ে নিন। তারপর সামান্য কুসুমগরম পানি মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। শুষ্ক ত্বকে মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করে এটা ব্যবহার করুন। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে এই ফেসপ্যাক খুব কার্যকরী।

* কাঠবাদাম: ভিটামিন ই সমৃদ্ধ কাঠবাদামে শুষ্ক ত্বকের যত্নে প্রয়োজনীয় লুব্রিক্যান্ট এবং ইমোলিয়েন্ট আছে। এতে থাকা পুষ্টিকর এন্টিওক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিদিন গোসলের ১ ঘণ্টা পূর্বে পরিমাণ মত কাঠবাদাম তেল সামান্য গরম করে ত্বকে হালকা করে মাখুন। এছাড়াও ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে ১ চা চামচ কাঠবাদাম তেল মিশিয়ে পান করুন। তবে এলার্জিজনিত সমস্যা থাকলে কাঠবাদাম ব্যবহার করবেন না।

* এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী: ঘৃতকুমারীতে ত্বক কোমল করার উপাদান, এন্টিসেপ্টিক, এন্টিফানগাল ইত্যাদি উপাদান আছে যা, শুষ্ক এবং খসখসে ত্বককে ময়েশ্চারাইজার করতে সাহায্য করে। একটা পরিষ্কার এলোভেরার পাতা কেটে জেল বের করুন। শুষ্ক ত্বকে জেল লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে এটা দুইবার করে করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

* লেবুর রস: লেবুর রসে থাকা এন্টিওক্সিডেন্ট ত্বকের পরিচর্যায় সরাসরি সাহায্য করে। এটা মৃত চামড়া ঝরিয়ে ফেলে এবং ত্বকে সতেজ করে। লেবুর ফালি করে ত্বকে ভালভাবে ঘষুন। ১০ মিনিট পর গোসল করুন। এটা প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। মুখের ব্রণ দূর করতেও লেবু অনেক কার্যকরী।

নিজের ত্বককে সুন্দর, কোমল ও মসৃণ রাখতে নিজেকেই যত্নশীল হতে হবে। তাই শীতে উল্লিখিত বিষয়গুলো নজরে রাখতে পারেন- চেহারার সৌন্দর্য ও ত্বককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে।

Hair-bg-20180228062606.jpg

চুল কতটুকু লম্বা রাখবেন সেটি আপনার সিদ্ধান্ত, কিন্তু চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক না হলে তাকে সুস্থ চুল বলা যায় না। ঠিকভাবে পুষ্টি না পেলে চুলের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। কিছু সহজ কাজ রয়েছে যার মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করা সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক-

অনেকেই চুলে তেল দেন না কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই শ্যাম্পু করেন। লম্বা চুল পেতে চাইলে শ্যাম্পুর পাশাপাশি তেলের দিকেও নজর দিতে হবে। সপ্তাহে দু’দিন নারিকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে গরম করে মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। বালিশে যাতে তেল না লাগে, সেভাবে মাথায় কাপড় বা নরম তোয়ালে জড়িয়ে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে ও চুল সহজে ভাঙবে না। তেল থেকে যেটুকু খাবার চুল পায়, তাও মিলবে।

সিলিকন, সালফাইটমুক্ত কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো। অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু স্টাইল ও ফ্যাশনে সাহায্য করলেও তা আদতে চুলের গোড়ার ক্ষতি করে ও বৃদ্ধি আটকায়। চুল খুব বেশি ঘষাও ভালো নয়। শ্যাম্পুর সময় প্রয়োজনের বেশি চুল ঘষবেন না ও কখনওই গরম পানি দেবেন না চুলে।

কন্ডিশনারের ক্ষেত্রেও বাছাইয়ের বিষয়ে খুব সাবধান হতে হবে। রাসায়নিকমুক্ত ও প্রাকৃতিক তেল যেমন নারিকেলযুক্ত তেল, মধু ইত্যাদি সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

Chul

চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় নজর দিতে হবে বালিশের প্রতিও। চুল নিজেই প্রাকৃতিক উপায়ে তেল তৈরি করে তার গোড়াকে ভালো রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু একটানা সুতি, পলিয়েস্টার বা রেয়নের ওয়ারে শুলে চুলের তেল শুষে নেয় তারা। তাই চেষ্টা করুন সিল্কের ওয়ার ব্যবহার করতে। ঘুমানোর সময় চুল বেঁধে নিন।

চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে গেলে কিছু বিষয় এড়াতেই হবে। খুব বেশি হিট নেয়া চলবে না। এমন কিছু স্টাইলে চুল কাটা, যেখানে প্রচুর কুচো চুল বাদ পড়ে (মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ, ক্রিয়েটিভ কাট ইত্যাদি) এড়াতে হবে তা-ও। এতে চুলের গোছা পাতলা হয় ও সামঞ্জস্য আসা খুবই সময়সাপেক্ষ বিষয় হয়ে ওঠে।

RUP_Dark-Elbows-and-Knees-1.jpg

বেমানান উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বকের ক্ষেত্রে কখনো কখনো কনুইয়ের কালচে দাগ বড়ই বেমানান আর দৃষ্টিকটূ লাগে। এই দাগ সহজে যেতেও চায় না! ত্বকের জেল্লা বাড়াতে বা ফর্সা হতে কী করতে হবে তা অনেকেই জানেন। কিন্তু হাঁটু বা কনুইয়ের কালচে দাগ কী ভাবে দূর করবেন, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। আজ এই প্রতিবেদনে তিনটি এমন ঘরোয়া প্যাকের হদিস দেওয়া হল, যার নিয়মিত ব্যবহারে হাঁটু বা কনুইয়ের কালচে দাগ দূর করা যাবে অনায়াসেই।

১. চিনি আর অলিভ অয়েল: ১ চামচ চিনি আর ১ চামচ অলিভ অয়েল।

পদ্ধতি: চিনির সঙ্গে অলিভ অয়েল ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে কনুইয়ে ১০ মিনিট ভাল করে মালিশ করুন। তার পর ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক আপনি স্ক্রাবিং করার জন্য হাত-পায়ের যেকোনো অংশেই ব্যবহার করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে উপাদানগুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে হবে।

২. বেসন, দই ও পাতিলেবুর প্যাক: ১ চামচ টকদই, ১ চামচ বেসন, ১ চামচ পাতিলেবুর রস আর ১ চামচ চিনি।

পদ্ধতি: সবকটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে কনুইয়ে অন্তত ১০ মিনিট মালিশ করুন। তার পর মিনিট পাঁচেক রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে সপ্তাহে ২ দিন করলে দ্রুত ফল পাবেন।

৩. পাতিলেবু আর চিনির প্যাক: ১টি পাতিলেবু আর ১ চামচ চিনির রস।

পদ্ধতি: ১ চামচ চিনি জলে গুলে রস করে নিন। এ বার ১টি পাতিলেবুকে সমান দু’ভাগে কেটে ফেলুন। এই অর্ধেক পাতিলেবুর মধ্যে চিনির রস দিয়ে কনুইয়ে ১০ মিনিট ভাল করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন করলে দ্রুত ফল পাবেন। এই পদ্ধতিতে ঘাড়, পিঠ বা হাঁটুর কালচে ভাবও দূর করা সম্ভব।