স্বাস্থ্য Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

bp7.jpg

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা ধীরে ধীরে মানুষকে অসুস্থ করে তোলে। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরে কি ধরণের সমস্যা হয় তা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, অষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনও ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলি চেনা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষণগুলরো চিনতে পারলেই ডায়াবেটিসে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব।

১. চিকিৎসকদের মতে, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা শরীর থেকে সুগার বের করে দেয়ার জন্য কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। সে কারণেই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়।

২. খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা শরীরে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষণ। সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

৩. হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ের চলে গেলে এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৪. শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।

৫. যখন শরীর থেকে সুগার বের করে দেয়ার জন্য কিডনিতে চাপ পড়ে তখন ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। আর তখন কিডনি শরীরের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। এতে শরীরে পানির ঘাটতি হতে থাকে, যার ফলে ঘন ঘন পানির তেষ্টা পায়।

৬. শরীরের কোনও অংশে কেটে গেলে তা না শুকানো এবং শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এই সব লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

৭. ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

fistula.jpg

ফিস্টুলা অতি পরিচিত একটি রোগ। ফিস্টুলা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত নালিটি পায়ুপথের কতটা গভীরে প্রবেশ তার ওপর নির্ভর করে জটিলতা।

ফিস্টুলার ধরন বুঝে চিকিৎসায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। অনেকের ধারণা, আমাদের দেশে ফেস্টুলা হওয়া শঙ্কা বেশি।অনেকে রোগীরা অপারেশনের কথা শুনলে ভয় পান। তবে এটি ভয়ের কোনো কারণ নেই। এই অপারেশন একাধিকবার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই ফেস্টুলা রোগের কারণ ও প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে।

ফিস্টুলা কী?

মলদ্বারের বিশেষ ধরনের সংক্রমণের ফলে এই রোগ হয়। মলদ্বারের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি রয়েছে । গ্রন্থিগুলো সংক্রমণের কারণে ফোঁড়া হয়, যাকে আমরা ফিস্টুলা বলি।অনেক সময় দেখা যায় এসব ফোঁড়া ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চারপাশে ছড়িয়ে পরে। ফলে পায়ুপথের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ ও রক্ত। এ সময় প্রচুর ব্যথা অনুভত হয়। এই ব্যথার তীব্রতা অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়ায়।একে আমরা ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলি।

ফিস্টুলা রোগের কারণ

বিভিন্ন কারণে ফিস্টুলা হতে পারে। তাই কারণগুলো জেনে নিয়ে সেসব বিষয়ে অবশ্যই সর্তক থাকতে হবে।

মলদ্বারের ক্যান্সার, বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে, যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন কারণে ও ফিস্টুলা হতে পারে।

ফিস্টুলা লক্ষণ

মলদ্বারে ফোঁড়া হচ্ছে ফিস্টুলা। মলদ্বারের বেতরে ফোড়া হওয়ার জন্য ফুলে যায় ও ব্যথা হয় ।এছাড়া ফোড়া ফেলে গেলে তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ও পুঁজ বের হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মলের সঙ্গে পুঁজ ও আম পড়তে থাকে। কিন্তু অনেক রোগী বুঝতে না পেরে দেরিতে ডাক্তারের কাছে আসেন। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সাধারণত তিনটি লক্ষণে ফিস্টুলা হয়েছে কি না বোঝা যায়।

১. ফুলে যাওয়া।

২. ব্যথা হওয়া ।

৩. নিঃসরণ বা পুঁজ ও আঠাল পদার্থ বের হওয়া।

পরীক্ষা জন্য

ফিস্টুলা ধরণ ও আসলে হয়েছে কি না তা পরীক্ষার জন্য প্রক্টস্কপি, সিগময়ডসকপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এক্স-রে, এনাল এন্ডোসনোগ্রাফি, ফিস্টুলো গ্রাম ইত্যাতি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। তবে মলদ্বারের ভেতরে আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করাটাই বেশি শ্রেয়।

Sparm.jpg

স্পার্ম কাউন্ট নিয়ে আজকাল অনেক পুরুষই সমস্যার মধ্যে আছেন। এজন্য চিকিৎসকের কাছে ছোটাছুটিও করেন তারা। স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ায় অনেক দম্পতি বাবা-মা হওয়ার স্বাদ পান না।তবে নিজেরা একটু সচেতন থাকলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এজন্য অবশ্য অনেক আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। তা নাহলে সামনে থাকবে ভয়ানক বিপদ। দেখে নিন, প্রতিদিন কোন কাজগুলো সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা বা স্পার্ম কাউন্ট কমায়-

ড্রাগ

অ্যানাবলিক স্টেরয়েড পেশীর শক্তি ও বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অণ্ডকোষ সংকুচিত হয়ে যায় এবং স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। অর্থাৎ মাদক গ্রহণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

অ্যালকোহল

অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস থাকলে সাবধান। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমায় অ্যালকোহল যা আপনার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করবে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল পান করেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ধূমপান

টোবাকো মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। পাশাপাশি এটা স্পার্ম কাউন্টও কমিয়ে দেয়। এজন্য আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

অবসাদ

যদি আপনি ডিপ্রেশনের শিকার হন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ার অন্যতম কারণ এটা।

ওজন

ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্পার্ম কাউন্ট কমে যেতে পারে। এজন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

dipu-20190204152916.jpg

এক সময় আমাদের দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতো না। এর জন্য যেতে হতো অন্য কোনো দেশে। যা ছিল ব্যয়বহুল। কিন্তু বর্তমানে খুব সহজে কম খরচে দেশেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা এখন সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক লাখ ষাট হাজার টাকার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এখানে খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

পৃথিবীর কোথাও এত অল্প খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে এর চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হয়।

আবার কেউ যদি সিঙ্গাপুরে যান তাহলে সেখানে পঞ্চাশ লাখ থেকে এককোটি টাকার মতো খরচ হয়। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে খরচ হয় প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা। আবার কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচটাই শেষ নয়।

এরপরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আরও অনেক খরচ হয়ে যায়। প্রতিস্থাপনের পরে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব ওষুধ খাওয়া হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তখন হুট করে দৌড়ে কিন্তু ভারতে যাওয়া যায় না। একেকবার যেতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়।

দেশের মানুষ যদি দেশের ডাক্তারদের উপর আস্থা রাখে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এত অল্প খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে তা যদি গণমাধ্যমে প্রচার হয় তাহলে দেশের অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হবে।

লেখক: ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল হোসেন দিপু

(সহযোগী অধ্যাপক, রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।)

hechki.jpg

হেঁচকি শুরু হলে বিরক্তি ধরে যায়। এতে কষ্টও হয় অনেক। এছাড়া অনেকে বিরক্তও হন। এই সমস্যা সমাধানে আপনাকে কিছু কৌশল জানতে হবে। দেখুন হেঁচকি থামাতে যা করবেন-

  • এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি অল্প অল্প পান করুন, হেঁচকি ওঠা বন্ধ হবে
  • এক চামচ চিনি মুখ নিয়ে রেখে দিন বেশ কিছুক্ষণ। একটু পরে দেখবেন হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে
  • একহাতে নাক টিপে ধরে ঢোক গিলুন। এভাবে ঢোক গিলতে থাকুন ৩০ সেকেন্ড পর পর
  • হঠাৎ করে অবাক হলে হেঁচকি চলে যায়
  • আঙুল দিয়ে কান বন্ধ করে রাখুন। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এভাবে কান বন্ধ করে রাখুন
  • হেঁচকির সমস্যায় ১৫ সেকেন্ড জিভ বের করে রাখলে উপকার পাওয়া যায়
  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার না খাওয়াই ভালো।
  • এছাড়া খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেলে হবে

হেঁচকি সাধারণত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। তবে দীর্ঘ সময়েও যদি না কমে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

pain7.jpg

আজকাল বাতের ব্যথায় অনেকেই ভুগছেন। বাতের ব্যথায় হাঁটতে, বসতে, উঠতে অনেকেই কষ্ট পান। কিন্তু নিয়মিত কিছু জিনিস করলে খুব সহজেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে শুরু করে আবার হঠাৎ বন্ধ করে দিলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। জেনে নিন ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কী কী করবেন-

১. মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।

২. বিছানায় শোয়া ও ওঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

৩. ব্যথার জায়গায় নির্দিষ্ট সময় ধরে গরম বা ঠাণ্ডা ভাপ দিন। সময়টা ১০ থেকে ১৫ মিনিট হলে ভালো হয়।

৪. অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রয়োজনে এক ঘন্টা পর পর অবস্থান বদলাবেন।

৫. নিচু জিনিস যেমন- পিড়ি, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে বসতে হবে। বসার সময় পিঠ না ঠেকিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন।

৬. নরম ফোম ও জাজিমে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এর বদলে উঁচু, শক্ত ও সমান বিছানায় শোবেন।

৭. মাথায় বা হাতে ভারি ওজন বা বোঝা বহন এড়িয়ে চলতে হবে। দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করা যাবে না।

৮. চিকিৎসকের নির্দেশ মতো নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।

৯. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। পেট ভরে খাওয়া নিষেধ। অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। প্রতিবার খাবারের আগে কিছুটা পানি পান করে নিন।

১০. হাই হিল যুক্ত জুতা ব্যবহার করবেন না। নরম জুতা ব্যবহার করবেন। ব্যথা তীব্র হলে উঁচু কমোডে বসে টয়লেট করুন। ব্যথা বেশি অনুভূত হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন।

early-sperm-best-sperm.jpg

সারাবিশ্বে পুরুষদের শরীরে যে হারে শুক্রাণুর সংখ্যা বা স্পার্ম রেট কমে যাচ্ছে, শুক্রাণু কমে যাবার সেই হার বজায় থাকলে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন এক চিকিৎসক।

প্রায় দুইশোটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ৪০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের ওপর করা হয়েছিল এসব গবেষণা। মানব প্রজন্মের সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে অবশ্য কিছু গবেষক সন্দেহও প্রকাশ করেছেন। তবে তথ্য সংগ্রহের এই গবেষণা দলের প্রধান ড: হ্যাগাই লেভিন জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা নিয়ে তিনি ‘খুবই উদ্বিগ্ন’।

এই তুলনামূলক গবেষণাটি করা হয় ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত। এই সময়কালে করা ১৮৫টি গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা কাজটি করে ড: লেভিনের দল। ডঃ লেভিন একজন ‘এপিডেমিওলজিস্ট’। রোগবিস্তার সংক্রান্ত বিদ্যা ও এর সাথে সম্পর্কিত ওষুধের শাখা, রোগের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এসব বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ।

বিবিসিকে ডঃ লেভিন জানান, “এভাবে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকলে একসময় মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে”। শুক্রাণু কমে যাবার সংখ্যা ‘দিনে দিনে বাড়ছে’ “আমরা যদি নিজেদের জীবনযাপনের ধরন, পরিবেশ এবং রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবর্তন না আনি, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে তা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন” ।

“একটা সময়ে এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, আর তাতে মানব প্রজাতির বিলুপ্তিও দেখা যেতে পারে” -বিবিসিকে বলেন ড: লেভিন। যেসব বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার সঙ্গে ছিলেন না তারাও এই গবেষণার মানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের কাজ খুবই ভালো, তাদের তথ্যও ঠিক আছে। কিন্তু এখনই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে ‘মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে’।

জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির গবেষক ড: লেভিন তাঁর অনুসন্ধানে দেখেছেন, শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে এসেছে ৫২.৪ শতাংশ এবং স্পার্ম কাউন্ট কমে এসেছে ৫৯.৩ শতাংশ। গবেষণায় আরো বলা হচ্ছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত পুরুষদের মধ্যে স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণুর হার কমে যাবার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং এটি দিনে দিনে আরো বাড়ছে।

পূ্র্ববর্তী গবেষণা নিয়ে ‘দ্বন্দ্ব’
তবে দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার পুরুষদের মধ্যে স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণুর হার কমতে দেখা যায়নি। তবে গবেষকেরা বলছেন, এসব দেশে যথেষ্ট গবেষণা হয়নি এবং একটা সময়ে এখানেও স্পার্ম কাউন্ট কমে আসতে পারে বলে ধারণা করেছেন ড: লেভিন।

এসব গবেষণার তথ্য নিয়ে বিতর্ক আছে অনেক কারণে। এর আগে কয়েকটি গবেষণা কাজে বলা হয়েছিল উন্নত অর্থনীতির দেশে স্পার্ম কাউন্ট কমে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা এর মধ্যেও ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য’ রয়েছে।এছাড়া আরো কিছু গবেষণা করা হয় কমসংখ্যক পুরুষ নিয়ে। আবার ফার্টিলিটি ক্লিনিক থেকে তথ্য নিয়ে যেসব গবেষণা করা হয় সেখানে স্পার্ম কাউন্ট কম আসা স্বাভাবিক, কারণ মানুষ সমস্যা নিয়েই সেখানে যায়।

আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হলো, স্পার্ম কাউন্ট কমে আসছে এমন ফলাফল দেখতে পেলে তা জার্নালে প্রকাশিত হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এই কারণে হয়তো স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণু হার কমে আসছে এমন একটা ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই গবেষকেরা দাবি করছেন এরকম সব ধরনের সমস্যার বিষয়েই তারা চিন্তা করেছেন এবং গবেষণা করে যে তারা যে ফলাফল পেয়েছেন তা সত্য বলে মানছেন অনেকে।

যেমন শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান পেসি বলছেন “এর আগে স্পার্ম কাউন্টের বিষয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে আমি খুব একটা আশ্বস্ত হয়নি। কিন্তু ড: লেভিন ও তার দল যে গবেষণা করেছেন এবং তারা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা পূর্ববর্তী অনেক গবেষণা নিয়ে ভ্রান্তি দূর করে দেয়”।

ধুমপান এবং স্থূলতা
তবে অধ্যাপক পেসি বলছেন, নতুন এই গবেষণাটি অনেক ভ্রান্তি দূর করলেও ফলাফলের বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সাথে এগুতে হবে। “এ বিষয়টা নিয়ে তর্কের অবসান কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এ বিষয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে” -বলেন অধ্যাপক পেসি। কেন স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণু হার কমে যাচ্ছে তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

তবে কীটনাশক এবং প্লাস্টিকে থাকা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, ওবেসিটি বা স্থূলতা, ধুমপান, মানসিক চাপ, খাদ্যভ্যাস, এমনকি অতিরিক্ত টিভি দেখা এক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ড: লেভিন বলছেন, কেন শুক্রাণুর হার কমে যাচ্ছে সে বিষয়টি জানা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। একইসাথে এমনটা যেন না ঘটে সেই উপায়ও খুঁজে বের করতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ।

migrain.jpg

হঠাৎ ঘুম ভাঙলেই মাথাব্যথা শুরু হয়? যে ক্লান্তি কাটাতে ঘুমিয়েছিলেন, ঘুম ভাঙার পরে সেই ক্লান্তি আরও বেশি করে এসে ভর করে? তাই প্রতিদিনই মাথাব্যথা দূর করতে ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন? এমন চলতে থাকলে তা অচিরেই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জেনে নিন এর কারণ ও প্রতিকার-

কারণ:

*সকালে মাথাব্যথা হয় ও রাতে ঘুমের মধ্যে খুব নাক ডাকলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অস্থিরতা, শোক-দুঃখ, হতাশা চললে সমস্যা হতে পারে।

*মাইগ্রেনের সঠিক চিকিৎসা না করে যারা ব্যথার ওষুধের উপর ভরসা করে থাকেন, তাদের সকালের দিকে সমস্যা হয়।

*কিছু বিশেষ ধরনের ঘুমের ওষুধ, শর্ট অ্যাকটিং স্লিপিং পিলে অনেক সময় হয় এমন।

*অতিরিক্ত চা-কফি খেলে বা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে উইথড্রয়াল এফেক্ট হিসেবে সকালে মাথাব্যথা হতে পারে।

*প্রচুর ধূমপান করলেও এক সমস্যা৷ ঘুম কম হওয়া, ভুলভাবে বা ভুল বালিশে শোওয়া থেকে সমস্যা হয়।

*ঠান্ডা লাগা, নাক বন্ধ, আগের দিন একভাবে প্রচুর কাজ করা ইত্যাদি কারণে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙতে পারে।

*কিছু বিশেষ ধরনের ব্রেন টিউমারে এ রকম হওয়ার আশঙ্কা আছে।

সমাধান:

*মাথা ও কপালে মালিশ করুন।

*চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন৷ ঘুমোতে পারলে কষ্ট কমে যায় অনেক সময়। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই তো আর ঘুমোনো সম্ভব নয়। কাজেই ব্যথার মলম লাগিয়ে কষ্ট না কমলে এক-আধটা প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

*হঠাৎ করে মাথা ব্যথা শুরু হলে ও দিনের পর দিন চলতে থাকলে জীবনযাপনে কোনো বড় পরিবর্তন এসেছে কিনা ভেবে দেখুন। এলে তা পাল্টানোর চেষ্টা করে দেখুন কষ্ট কমে কিনা।

*সমস্যা চলতে থাকলে সঙ্গে আর কী কষ্ট আছে দেখে সেই সংক্রান্ত অসুখের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সেভাবে বুঝে উঠতে না পারলে বুঝতে না পারলে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

*উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপের সমাধান স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট। যার মধ্যে বিহেভিয়ারথেরাপি, ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন অন্যতম। তবে মাইগ্রেন থাকলে ঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

*বেশি চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হঠাৎ বন্ধ করে দেবেন না। প্রথম দিকে কাপের মাপ ছোট করে পরিমাণ একটু করে কমান। এতে শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেলে দিনে দু-একবার কম খেয়ে দেখুন কেমন থাকেন৷ তারপর আস্তে আস্তে আরও কমাবেন।

*রাতে যাতে ভালো ঘুম হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। বিছানা-বালিশের দিকেও নজর দিন। শক্ত বা খুব নরম বালিশে ভুলভাবে ঘুমালেও এমন সমস্যা হয়।

salt-.jpg

লবণ ছাড়া খাবার মুখে তোলা কঠিন। কিন্তু ঠিক কতখানি লবণ শরীরের জন্য ভাল? অতিরিক্ত লবণ যেমন খাবারকে বিস্বাদ করে তোলে তেমনই ক্ষতি করে শরীরেও। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যা-সহ নানা অসুখ লবণের হাত ধরেই বাসা বাঁধে শরীরে।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ঠিক কতখানি লবণ আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। এক এক জন মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে এক এক রকম হয়। তবে এক জন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের শরীরে লবণের পরিমাণ ঠিক কতখানি হলে তা বিপদসীমা ছাড়ায় না তা নিয়ে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র একটি নির্দেশিকা রয়েছে। তা জানার আগে আসুন দেখা যাক, লবণ নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি ঠিক কতটা সতর্কতার কথা জানাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত লবণে রক্তচাপ তো বাড়েই, তা ছাড়াও ডেকে আনে আরও নানা অসুখ। ‘আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষকদের দাবি, শরীরে জল ধরে রাখা লবণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত জল জমে যায়, এতে ব্রেনস্ট্রোকের ভয় থেকে যায়। মূত্রের মাধ্যমে বাড়তি নুন শরীর থেকে বার করে। কিন্তু কিডনির কোনও সমস্যা থাকলে সেই বাড়তি লবণ শরীর থেকে বেরতে না পেরে মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত লবণে ক্ষয়ে যেতে থাকে হাড়ের ক্যালসিয়াম। তাই অস্থিসন্ধি ও হাড়ের নানাবিধ অসুখে প্রত্যক্ষ ভাবে নুনের ভূমিকা আছে।

আমেরিকান হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা এর আগে বহু বার দাবি করেছে, কাঁচা লবণ মস্তিষ্কের নিউরোনকেও প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে কোলন ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো মারণরোগও বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় এই অতিরিক্ত লবণ মূল ভূমিকা পালন করে।

লবণের সোডিয়াম যে কেবল কিডনি বা যকৃতের ক্ষতি করে এমনই নয়, ওবেসিটি বা মেদবাহুল্যের জন্যও লবণ অনেকটাই দায়ী। হার্টের নানা অসুখ, বিশেষ করে ইস্কিমিয়ায় ভোগেন এমনন মানুষদের জন্য অতিরিক্ত লবণ ক্ষতি করে। এ ছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্যও অতিরিক্ত লবণ ভাল নয়, এর প্রভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় যা তাঁদের অন্তঃস্থ ভ্রূণের উপর প্রভাব ফেলে।

তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, লবণের পরিমাণ যেমন কমে গেলে সমস্যার, তেমনই তা বেড়ে গেলেও শরীরের প্রভূত ক্ষতি। তাই তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, প্রতি দিন দু’গ্রাম বা হাফ চা চামচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন লবণের পরিমাণ। এড়িয়ে চলুন কাঁচা লবণও। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

fruits3.jpg

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানেরও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন অত্যাধুনিক চিকিৎসার নানামুখি সুযোগ সুবিধা। তবে তামাম দুনিয়ার মানুষের কাছে এখন আতঙ্কের নাম একটিই- ‘ক্যান্সার’।

কিছু কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মরণঘাতক এ রোগটি প্রতিকারের কোনও উপায় নেই। কিন্তু প্রতিরোধ তো করাই যায়। আর সেজন্য নিজেকেই আরও বেশি সাবধানী হতে হবে।

এমন ৬টি ফলের নাম আজ পাঠকদের জানাবো যেগুলো খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। যে ফলগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

আপেল: এই ফলটি আমাদের দেশে বারোমাসই পাওয়া যায়। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

কিউয়ি: এই ফলটি যে কোনও বড় ফলের দোকানেই পাওয়া যায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে এই ফলটি সহায়ক বলে মনে করা হয়।

কমলালেবু: এই ফলটি আমাদের হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। বিশেষত, শীতকালে। কমলালেবুও অস্থিমজ্জার ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

বেদানা বা ডালিম: এই ফলটিও প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

স্ট্রবেরি: এটি অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ফল। আমাদের দেশেও এখন স্ট্রবেরির চাষ করা হয়। বাজারে এই ফলটি অনায়াসেই পাওয়া যায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে এই ফলটি সহায়ক বলে মনে করা হয়।

আঙুর: আমাদের দেশে এই ফলটি সারা বছরই পাওয়া যায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে আঙুর দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।