লাইফ স্টাইল Archives - Page 2 of 2 - Dhaka Today

abe1f1cb089cf797309ef1af055a0fd7-5ac320c47260f.jpg
অভিনেত্রী জয়া আহসানের কাছে বৈশাখ মানেই নানা রং। পছন্দ করেন দেশি পোশাক। তবে কাটছাঁট আর উপস্থাপনায় চান আন্তর্জাতিক সমসাময়িক ধারা। বৈশাখ নিয়ে নকশার বিশেষ আয়োজনে নিজের স্টাইলেই তুলে ধরলেন বৈশাখের নানা সাজ।

পয়লা বৈশাখে অভিনেত্রী জয়া আহসানের সাজপোশাক হবে বর্ণিল। পোশাক: ড্রেসিডেল, গয়না: কনক ও স্বাক্ষর বাই নওরিন, সাজ: কিউবেলা, স্টাইলিং: আনিকা জাহিন ও বিপাশা রায়, স্থান: যাত্রা। ছবি: কবির হোসেন

‘পয়লা বৈশাখ, চারদিকে কত উজ্জ্বল রং, তখন কি আর দুটি রঙে নিজেকে বেঁধে রাখা যায়? তাই এই দিনটায় বর্ণিল পোশাকে রঙিন সাজটাই আমার বেশি পছন্দ।’ বাংলা নববর্ষের সাজপোশাক নিয়ে এই কথাগুলোই বললেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

লিপস্টিক, রোদচশমা, দুল ও আংটি যখন ভিন্ন—লুক তো তখন আধুনিক হবেই। শাড়ি: দেশাল, ব্লাউজ: ড্রেসিডেল, অনুষঙ্গ: সিকোসো, স্থান: যাত্রা বিরতিলিপস্টিক, রোদচশমা, দুল ও আংটি যখন ভিন্ন—লুক তো তখন আধুনিক হবেই। শাড়ি: দেশাল, ব্লাউজ: ড্রেসিডেল, অনুষঙ্গ: সিকোসো, স্থান: যাত্রা বিরতিপয়লা বৈশাখ সামনে রেখে নকশার এই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের ফটোশুটের জন্য কিছুদিন আগে জয়ার সময় চাওয়া হলো। সময় দিলেন জয়া আহসান। পোশাক কী হবে এই নিয়ে যখন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল তখন জানালেন, বৈশাখে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চান। পোশাকে দেশি কাপড় ও মোটিফের ব্যবহার থাকবে তবে কাটছাঁটে একটু ফিউশন পছন্দ করেন জয়া। ‘আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশেল আছে বৈশাখে এমন সাজপোশাক আমার পছন্দ’—বললেন জয়া।

শাড়ি জয়া আহসানের খুবই পছন্দের। স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সুতি, চেক আর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তাঁতশিল্পীদের হাতে বোনা শাড়িতে। হাতে আঁকা শাড়ির প্রতিও রয়েছে তাঁর দুর্বলতা। কথার ফাঁকে ফাঁকেই জানালেন, এই বছর অনেক মণিপুরি শাড়ি উপহার পেয়েছেন। বৈশাখের সকালে এখান থেকেই একটা শাড়ি পরবেন।

 শার্ট, ব্লাউজ ও বেল্ট একরঙা সুতি শাড়িতে নিয়ে আসবে ভিন্নতা।শার্ট, ব্লাউজ ও বেল্ট একরঙা সুতি শাড়িতে নিয়ে আসবে ভিন্নতা।পয়লা বৈশাখ দিনটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন। কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই দেশের বাইরে থাকতে হয়। কিন্তু যত কাজই থাকুক না কেন বৈশাখের প্রথম দিনে দেশে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন জয়া। একটা মজার তথ্যও দিলেন জয়া আহসান। জানালেন, তাঁর হাতেমাখা পান্তাভাতের গল্প। ঘুম থেকে উঠেই বসে যান পান্তাভাত মাখাতে। ছোলা, বাসি তরকারি, শুঁটকিভর্তা—এমন আরও পদ দিয়ে সুস্বাদু করে তোলেন পান্তাকে। জয়া বলেন, ‘জানেন এই দিন শুধু আমার হাতে মাখানো পান্তাভাত খেতেই অনেকে বাসায় বেড়াতে আসেন।’ নানা ধরনের বাসনকোসন সংগ্রহের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ ঝোঁক। তার মধ্যে আছে মাটির বাসনকোসনও। এসব বাসনকোসনেই চলে পয়লা বৈশাখের খাবার পরিবেশন।

 পয়লা বৈশাখের সকাল শুরু হবে মণিপুরি শাড়ি পরেই। এরপর একেক বেলায় পরবেন একেক পোশাক। ‘বৈশাখে এত উপহার পাই যে সেখান থেকে বেছে বেছে পোশাক পরি। সকালে এটা তো বিকেলে ওটা।’ শাড়ির পাশাপাশি কোনো একবেলায় তাই জয়া পরবেন ফিউশনধর্মী পোশাক। সেটা ম্যাক্সিও হতে পারে আবার ধুতি টপের সঙ্গে লম্বা মসলিনের জ্যাকেটও হতে পারে।

নানা মাপের বেণীতে সাজিয়েছেন চুলনানা মাপের বেণীতে সাজিয়েছেন চুলপোশাকের সঙ্গে গয়না পরতে ভালোবাসেন জয়া আহসান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের তৈরি গয়নার প্রতি একটা টান রয়েছে তাঁর। ভালোবাসেন বিভিন্ন ধরনের উজ্জ্বল বিডস আর রুপার গয়না। বৈশাখে সবার জন্য কমবেশি উপহার কিনে থাকেন। এই কেনাকাটাটা দেশেই করেন। এ জন্য আড়ং, দেশাল, বিশ্বরঙ তাঁর পছন্দ।

সাজে সহজাত ভাব বা লুক রাখতে পছন্দ করেন। তবে লিপস্টিকে গাঢ় রং তাঁর পছন্দ। সব সময় নিজেকে একটু আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। যেমন ফটোশুটের সময় সাদাকালো চেক শাড়ির সঙ্গে পরলেন হাতাকাটা ব্লাউজ। পায়ে কালো জুতা। গলায় ফুলের চোকার আর দুই হাতে রুপার চুড়িতেই অনন্য হয়ে উঠলেন জয়া। কিংবা হাওয়াই মিঠাই রঙের শাড়ির কথাই ধরি। দেশালের একরঙা এই তাঁতের শাড়ির সঙ্গে জয়া পরলেন একটু ঢিলেঢালা অনেকটা শার্টের কাটে তৈরি ব্লাউজ। কাপড়ে সাইকেল মোটিফের নকশা। ঠোঁটে বেগুনি লিপস্টিক, চোখে রোদচশমায় ব্যতিক্রমী জয়া।

পোশাকের উপকরণ হিসেবে গরমের সময় সুতিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন জয়া আহসান। বললেন, ‘সুতির ঢিলেঢালা পোশাকই গরমে আমাকে বেশি আরাম দেয়। চুল বাঁধায় বিশেষ কোনো স্টাইল সব সময় করি না। পোশাকের সঙ্গে যখন যেটা মানায় সেটাই করে থাকি।’

এক গালে আঁকা লাল জবা ফুল। গলায় বিভিন্ন ধরনের মালা পরলেও, বাড়তি মনে হচ্ছে না।এক গালে আঁকা লাল জবা ফুল। গলায় বিভিন্ন ধরনের মালা পরলেও, বাড়তি মনে হচ্ছে না।নীলরঙা ধুঁতি কাটের সালোয়ার, সঙ্গে ছোট টপ, ওপরে মসলিনের জ্যাকেট, মুখে আঁকা ছবিতে জবা ফুলের নকশা আর হাত ভর্তি কাচের চুড়ি জয়ার সাজে এনেছে বৈশাখী আমেজ। ছবি তোলার ফাঁকে ফাঁকে জয়া বলছিলেন, ‘আমি এমনই। একটু চঞ্চল, হিপ-হপ আবার কখনোবা একটু বোহিমিয়ান।’ সেটা অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেল। যখন রাস্তার ধারে ফলের দোকান দেখেই জয়া আহসান বললেন, ‘এখানে ছবি তুললে কেমন হয়?’ রোদের মাঝখানে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় লোক সরিয়ে নিজেই দাঁড়িয়ে গেলেন ছবি তুলতে। ‘জানেন, ছবি তোলার জন্য রিকশার গ্যারেজ, মাছের আড়ত—এসব জায়গা বেশ ভালো।’

বোঝা গেল, শুধু সাজপোশাকেই নয়, সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া দেওয়ার চেষ্টা করেন এই অভিনেত্রী।

c52208764e256fd948cb6cfb099d8a0f-5a7e84785a05c.jpg

দুয়ারে দাঁড়িয়ে বসন্ত। নতুন ঋতুকে নিজের মতো বরণ করে নিতে প্রচেষ্টার কমতি নেই কারও। শাড়ি-গয়না ঠিক করা হয়ে গেছে হয়তো এরই মধ্যে। কিন্তু বসন্তদিনে চুলে একটু ফুল না হলে চলে? বসন্তবরণে নিজেকে সাজাতে তাই বেছে নিতে পারেন ফুল।

কী ধরনের ফুলে সাজাবেন নিজেকে আর কীভাবেই বা সাজাবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিলেন পারসোনার রূপবিশেষজ্ঞ নুজহাত খান। বললেন, সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছেন সেটার ওপর নির্ভর করবে চুলের সাজটা কেমন হবে। এরই মধ্যে গরমও পড়ে গেছে। দিনের বেলা বাইরে থাকতে হলে চুল বাঁধা থাকাটাই ভালো। তবে স্বাচ্ছন্দ্য হলে চুল খুলেও রাখতে পারেন। অনেক সময় চুল এমনভাবে বাঁধা হয় যে সেটা কিছুক্ষণ পরই নষ্ট হয়ে যায়। এমন দিনে সারা দিন ঠিক থাকবে সেভাবে চুল বাঁধাই ভালো। চুলে বেণি বা বাস্কেট ব্রিচ করতে পারেন, পেছনের চুল খোলা রেখে সামনে ফ্রেঞ্চ সেটও করতে পারেন।

খোলা চুলে এভাবে ফুল আটকে নিতে পারেনখোলা চুলে এভাবে ফুল আটকে নিতে পারেনবসন্তদিনের সাজে বেশি প্রাধান্য থাকে ফুলের। কী ফুল ব্যবহার করবেন, সেটা নির্ভর করবে পোশাকের ওপর আর কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটা নির্ভর করবে হেয়ারস্টাইলের ওপর। ফুলের সাজের সঙ্গে একদম হালকা মেকআপেরই পরামর্শ দিলেন এই রূপবিশেষজ্ঞ। বললেন, সারা দিনের জন্য মেকআপ খুবই লাইট হবে। বাঙালিয়ানা আনতে চোখ ভরে কাজল দিতে পারেন, টিপ পরতে পারেন, মিলিয়ে সুন্দর চুড়ি পরতে পারেন। অল্প করে হাইলাইটার ও ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।

লম্বা বেণির মাঝে মাঝে ফুল। মডেল: বুশরা ও টুম্পা, পোশাক: িনপুণ, ছবি: সুমন ইউসুফআয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা বলেন, পয়লা ফাল্গুনে ফুলের সাজটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এই দিনের সঙ্গে হলুদ ফুলটাই বেশি যায়। চাইলে কনট্রাস্টেও যেতে পারেন। জারবেরা বা গাঁদা ফুল লাগাতে পারেন চুলে, গাজরা লাগাতে পারেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আরও কিছু ফুলের ব্যবহার করতে পারেন চুলে। কেউ তো চুলে না লাগিয়ে হাতে শুধু একটু ফুল পরেন। বিষয়টা হলো, আপনি কীভাবে সাজটাকে উপস্থাপন করছেন, সেটার ওপরই নির্ভর করবে আপনার সৌন্দর্য। ফুল দিয়ে সাজলে হালকা মেকআপই ভালো। ফুলটাই উজ্জ্বল, তাই হালকা বেজ, কাজল আর লিপস্টিকই যথেষ্ট। রাহিমা সুলতানা বললেন, হলুদ শাড়িতে লাল ফুল নিতে পারেন বা সাদাও হতে পারে। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মেলাতে পারেন ফুলের রং। অনেকে পাড়ের রঙের সঙ্গে ফুল মেলান। অনেক রঙের ফুল মিলিয়েও লাগাতে পারেন চুলে। ফুলের মালা করেও চুলে জড়িয়ে নেন অনেকে, সেটাও দেখতে ভালো লাগে।

লম্বা বেণির মাঝে মাঝে ফুল। মডেল: বুশরা ও টুম্পা, পোশাক: িনপুণ, ছবি: সুমন ইউসুফ


যেহেতু সারা দিনের জন্য বেরোতে হবে, সে জন্য আগের দিন তেল দেওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা না দেওয়াই ভালো। তাহলে শ্যাম্পু করার পরও তেল পুরোপুরি না গিয়ে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে কিছুক্ষণ পরে চুল তৈলাক্ত দেখাবে। এক দিন আগে তেল দিয়ে শ্যাম্পু করে পরের দিন আবার শ্যাম্পু করতে পারেন। বিশেষ দিনের পর চুলের বিশেষ যত্নটা নেওয়া খুব জরুরি। এই সময়ে ধুলা ও রোদে চুলটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুল রক্ষা করতে বিশেষ দিন শেষে চুলের জন্য কোনো ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন।

দিন শেষে ঘরে ফিরে চুলে তেল দিয়ে রাখতে পারেন। পরদিন শ্যাম্পু করবেন। সারা দিনের জন্য বেরোলে প্রচুর পানি খেতে ভুলবেন না। আপনি ভেতর থেকে সুস্থ থাকলেই কেবল সুন্দর থাকবে চুল ও ত্বক।

বাঙালিয়ানা আর প্রকৃতি, এই দুয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে সৌন্দর্য নজর কাড়বেই। শুধু মাথায় রাখতে হবে দুটি যেন একে অন্যের সঙ্গে মিলে যায়। বসন্ত দিনে দরজা পেরোলেই পেয়ে যাবেন নানান রঙের ফুল। সেখান থেকে বেছে নিতে পারেন জারবেরা, গাঁদা বা গোলাপ। ২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন পছন্দের ফুল, ফুলের মালা বা মুকুট। চাইলে নিজের পছন্দমতো অর্ডার দিয়ে ফুল বিক্রেতার কাছ থেকে বানিয়েও নিতে পারবেন ফুলের তোড়া। নিজেকে সাজানো পরিকল্পনা তো শেষ, এবার বিশেষ দিনটির জন্য শুধুই অপেক্ষার পালা।

c073a813389fbf1996fa365cc38fe75a-5a7eb6a7d8555.jpg

গলায় ফুলের হার, খোঁপায় হলুদ ফুল, কানে ফুলের দুল—এটুকুতেই কি ফাল্গুনের সাজ পূর্ণ হয়? ভাবতে হয় শাড়ি নিয়েও। শাড়ির সঙ্গে অবশ্যই ভাবতে হবে ব্লাউজ নিয়ে। ব্লাউজে বৈচিত্র্য এনে পুরো সাজে আলাদা ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

পছন্দের নকশায় ব্লাউজ বানিয়ে নিতে পারেন, আবার কিছু ফ্যাশন হাউসে ফরমাশ দিয়েও ব্লাউজ বানানো যায়। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাশ বলেন, এবারের বসন্তে ঐতিহ্যবাহী ব্লাউজ চলবে। থ্রি কোয়ার্টার কিংবা কলসি হাতার ব্লাউজ মানাবে বসন্তের শাড়ির সঙ্গে।

লেইসের ব্যবহার ব্লাউজে এনেছে নতুনত্ব

লেইসের ব্যবহার ব্লাউজে এনেছে নতুনত্বসৌমিকের মতে, একরঙা শাড়ির সঙ্গে ফুলের মোটিফ ব্লাউজে বেশ মানাবে। আর রং? বসন্ত তো শুধু হলুদ-বাসন্তীতে আটকে নেই। হলুদ, কমলা বা বাসন্তীর সঙ্গেও লাল, ম্যাজেন্টা, কলাপাতা সবুজ রংগুলো চলছে। আর শাড়িতে যদি একাধিক রং থাকে, তবে যে রঙের প্রাধান্য থাকবে, ব্লাউজটা সেই রঙের হতে পারে।

শাড়ি ও ব্লাউজের রঙে বৈপরীত্য রাখার প্রবণতাও এবার দেখা যাবে। জানালেন ফ্যাশন হাউস হুরের ডিজাইনার সৌমিন আফরিন। তিনি বললেন, শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে মটকা কাপড়ের ব্লাউজ পরা যেতে পারে। এ ছাড়া তাঁতের শাড়ির সঙ্গে অ্যান্ডি সিল্কের ফুলেল ছাপার ব্লাউজও ভালো লাগবে। কলসি হাতা বা কুঁচি দেওয়া হাতার ব্লাউজ চলবে এবার। ব্লাউজের হাতায় পমপম, লেইস, টাসেল ইত্যাদি ঝুলিয়ে ভিন্ন রকম করার পরামর্শ দিলেন তিনি।

লম্বা হাতার ব্লাউজে কুঁচির কাজলম্বা হাতার ব্লাউজে কুঁচির কাজগুজরাটি স্টিচের কাপড় বেশ রঙিন। একরঙা শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে এই কাপড়ের ব্লাউজ। তাঁতের শাড়ি খুব পছন্দ করেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। এবারের পয়লা বসন্তে পরবেন হলুদ তাঁতের শাড়ি। তবে ব্লাউজে আনবেন ভিন্নতা। তাঁতের শাড়ি সাদামাটা হলেও তিনি বেছে নেবেন জমকালো ব্লাউজ। সেটায় থাকবে এমব্রয়ডারির কাজ।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ফাহমি হাসান। অফিস করতে যাতে সুবিধা হয়, সে জন্য তিনি বেছে নেবেন সিল্ক শাড়ি। হালকা গোলাপি আর হলুদ রঙের শাড়ির সঙ্গে পরবেন হলুদ রঙের ব্লাউজ। অনেকে শখ করে মণিপুরি শাড়ি বেছে নেন পয়লা বসন্তে। এই শাড়ির সঙ্গে বাটিকের ব্লাউজ দারুণ মানাবে।

শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজে যদি বৈচিত্র্য থাকে, তবে ফাল্গুনের সাজে চলে আসবে ভিন্ন এক মাত্রা।

dbb9ed093da61848d9cba0262224542a-5a7e82cd7c2c1.jpg

গাছের ডালে পলাশ ফুল জানান দিচ্ছে বসন্ত দুয়ারে। গাছের ডাল ছেড়ে যে বসন্ত দোল দিয়ে যায় পোশাকেও। বড়দের পাশাপাশি বাড়ির ছোট্টরাজের পোশাকেও তাই বাসন্তী রং। শিশুর গুটি পায়ে হেঁটেই তো বসন্ত আসবে দুয়ারে। দেশের ফ্যাশন হাউস তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের বাসন্তী পোশাক

বাজারে আনে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। চেনা রঙে নতুন নকশায় শিশুদের বসন্তের পোশাকের সংগ্রহ বেশ বড়সড়।

ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, বসন্তে যেহেতু প্রকৃতিতে ফুল ও রঙের প্রভাব থাকে, তাই আমাদের পোশাকের নকশায়ও ফুলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পোশাকে।

যা আছে শিশুর পোশাকে
রং হিসেবে হলুদ ও কমলার নানা শেড দেখা যাচ্ছে। এর বাইরে সবুজাভ, কচি পাতার রং, হালকা নীল, ফিরোজা ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। আর নকশায় থাকা মোটিফের মধ্যে আছে ফুলেল ছাপ, জ্যামিতিক নকশা, পাতা, পাখি, গাছ ইত্যাদি। অনেক ধরনের ছড়ার লাইন ব্যবহার করেও বসন্তের পোশাক করেছে অনেকে।

শিশুদের জন্য আড়ংয়ে এবার বিশেষ ডিজাইন আনা হয়েছে। রয়েছে ফ্রক কাটের কামিজ, লম্বা কামিজের সঙ্গে স্কার্ট, ফ্রক, টপ ইত্যাদি। সুতি কাপড়ের পাশাপাশি হালকা শীত থাকায় কিছুটা মোটা কাপড়ের ফাল্গুনের পোশাক আছে এখানে। ছেলেদের জন্য আছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া আর ছোট হাতার শার্ট। সুতি ছাড়াও সিল্ক কাপড়ের ওপর হাতের কাজের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া মিলবে। আর রঙের মধ্যে লাল, হলুদ, কমলা, নীল ও সবুজের ব্যবহারই বেশি। দেশাল ও কে ক্র্যাফটের শিশুদের বসন্তের পোশাকও বেশ সমৃদ্ধ দেখা গেল। উৎসবের উজ্জ্বল রং, নানা ধরনের কাপড় আর সৃজনশীল নকশা প্রাধান্য দিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের পোশাক। মেয়েশিশুদের জন্য সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, কটি-কামিজ আর ছেলেদের জন্য আছে পাঞ্জাবি ও শার্ট।

কাপড়টা যেমন
বেশি দোকানেই পাতলা সুতি কাপড় ব্যহার করা হয়েছে শিশুদের পোশাকে। এ ছাড়া কিছুটা মোটা কাপড়, সিল্ক, লিনেন, তাঁত, ভয়েলের কাপড়ও মিলবে। তাতে ছাপা, ব্লক, বাটিক, এমব্রয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক, সুতার কাজ, কাপড়ের ফুল-পাতা ইত্যাদির মিশেলও আছে।

দাম যেমন
শিশুদের পোশাকের ধরন, আকার ও কাপড়ের ওপর নির্ভর করে দাম ঠিক করা হয়েছে। তবে ৪০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকায় কেনা যাবে বসন্তের পোশাক।

যেখানে পাবেন
অধিকাংশ ফ্যাশন হাউসেই শিশুদের জন্য বসন্তের পোশাক এসে গেছে। ফ্যাশন হাউস আড়ং, বিশ্বরঙ, দেশি দশের দোকানগুলো, লা রিভ, অন্যমেলা, ফড়িং, শৈশব ইত্যাদিতে পাবেন বিশেষ নকশার পোশাক। এ ছাড়া যেতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মৌচাক মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন দোকানে। সেখানেই নানা রকম পোশাক পাবেন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter