শিক্ষা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

jdtrj.jpg

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জেডিসি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়ার সময় ওই কেন্দ্রর সচিব ও মাদরাসা সুপারসহ ৮ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ভান্ডারিয়ায় ইকড়ি ইউনিয়নের বোথলায় অবস্থিত বিপিএম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- কেন্দ্র সচিব মাওলানা আমির হোসেন, মাদরাসা সুপার সিদ্দিকুর রহমান, মমিনুল ( ১৪), বায়োজিদ (১৪), মুনিয়া (১৬), রুমি (১৫), নুপুর (১৭), সোনিয়া (১৫)।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের বিপিএম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে ১১ টি মাদরাসার ৩৬৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে আসছেন। শনিবার ওই কেন্দ্রে জেডিসি পরিক্ষার শেষে দিনে ইংরেজী পরিক্ষা চলছিল। সেখানে বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা প্রক্সি দিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভান্ডারিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে প্রক্সি দেয়ার প্রমাণ মিললে ৬ পরীক্ষার্থীকে হল থেকে হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশ। এ সময় পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতার অভিযোগে বিপিএম দাখিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব এবং ওই মাদরাসার সুপার মাওঃ আমির হোসাইন ও হরিনপালা সিদ্দিকিয়া নেছারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমানকে আটক করা হয়।

ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ফরিদ হোসেন এ ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রর পরিদর্শক, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. এমাদুল হক বাদী হয়ে কেন্দ্র সচিবকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নামে মামলা করেন।

bfdnw.jpg

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, সুষ্ঠুভাবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে মনিটরিং রুম, কন্ট্রোল রুম রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে- এ তথ্য জানালে জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও কঠোর তদারকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনও সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি উন্নীত করতে পারিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। তার নিদের্শনায় এ বিষয়ে কাজ চলছে। ফাইল চালাচালি চলছে। তবে আমি করি, এ পরীক্ষা খারাপ না। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি কেটে যায়। ছোটবেলা থেকেই সাহস সৃষ্টি হয়।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া আক্তার।

ss-20191116100529.jpg

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে নতুন নীতিমালা করেছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েও তা সম্পন্ন করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে নতুন নীতিমালা জারি করেছে।  এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে।  নীতিমালায় বলা হয়েছে, কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক এবং সদস্যদের যোগ্যতা হবে এসএসসি উত্তীর্ণ।  তবে প্রাথমিক স্তরের নীতিমালা সংস্কার করে বাস্তবায়নের পথে হাঁটলেও পিছিয়ে আছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের দায়িত্বশীল দপ্তর। নানারকম দ্বিধা আর সমালোচনার আশঙ্কায় কমিটি গঠন নীতিমালা সংস্কার শেষ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা সম্পৃক্ত তাদের দ্বারাই একটি প্রতিষ্ঠান সুন্দর, সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষারও মানোন্নয়ন হওয়ার কথা। কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালায় যেসব কমিটি হচ্ছে তাদের অধিকাংশই শিক্ষার উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের উন্নয়নে বেশি ব্যস্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আড়ালে এসব কমিটি স্কুলে প্রভাব বিস্তার, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রীতি, ভর্তিবাণিজ্য, নিয়োগবাণিজ্য, কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ কাজেজড়িয়ে পড়েন।

সরকারের দায়িত্বশীলরাও মনে করছেন, নীতিমালায় কিছু দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অশিক্ষিত ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান করে নিচ্ছেন। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয় বিদ্যমান কমিটি গঠন নীতিমালা সংস্কারের প্রতি।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকেই বিবিধ আলোচনা আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা-ব্যবস্থাপনা কমিটি সম্পর্কিত বিধি সংস্কারের।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন সম্পর্কিত নীতিমালায় কিছু দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অশিক্ষিত ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান করে নিচ্ছেন।  ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।’ তাই বিদ্যালয় পরিচালনা-ব্যবস্থাপনা কমিটি সংস্কারের বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিভুক্ত করে স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিতিতে আলোচনার জন্য তিনি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষানুরাগীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আইন প্রণেতা হিসেবে সংসদ সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি; সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এটা করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা দরকার। তবে পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যে অশুভ প্রতিযোগিতা চলছে তা বন্ধ হওয়া উচিত। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন। কমিটিতে বিদ্যোৎসাহীদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু যোগ্যতা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে নীতিমালা সংস্কার একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। মাধ্যমিক স্তরে এটি করতে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এখানে এমপিওভুক্তি, নন-এমপিও আবার সরকারি বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এর পরও বলব আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কমিটি সংস্কার আনা উচিত।  তবে যে কারণে কমিটিগুলো সমালোচিত, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সৎ যোগ্য শিক্ষিত ব্যক্তিকে মনোনীত করতে হবে। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিদের তাদের অধিকারের কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত। নারীদের কমিটিতে ঠিকই রাখা হয় কিন্তু তারা কোনো ভূমিকা নিতে পারেন না। তাই নারীদের আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে সুযোগ দেওয়া দরকার।

cu78.jpg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রক্টর থাকাকালীন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে উঠেছিল ছাত্র হত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ। ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং বাঁধিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একটি গ্রুপকে নিজের পক্ষে রেখে শত অন্যায়কে তিনি বৈধতা দিতেন বলেও রয়েছে অভিযোগ।

যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সেই শিক্ষককেই এবার  ছাত্র উপদেষ্টার পদে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা আহমদ সালাহউদ্দিনকে পদত্যাগে করিয়ে নানা অভিযোগে বিতর্কিত সিরাজ উদ দৌলাকে এ পদে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷

এর আগে  ২০১৩ ও ২০১৪ সালে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলার পদত্যাগের দাবিতে দিনের পর দিন বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। চবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ দায়িত্বে থাকাকালীন প্রক্টর পদে সিরাজ উদ দৌলাকে নিয়োগ দিয়ে হয়েছিলেন সমালোচিত।

বর্তমান উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার ছাত্র উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে নানা সমালোচনা। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগকর্মী তাপস সরকারকে চবি শাহ আমানত হলে গুলি করে হত্যা করে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক  একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা৷  তৎকালীন প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা ছিলেন ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রক। এ ঘটনার পর প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ৷ ওই দিন উপাচার্য দপ্তরে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে তারা।

জানতে চাইলে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকারের মা অঞ্জলি রানী সরকার ‘কান্না জড়িত কণ্ঠে’ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাপসের হত্যায় মদদদাতা শিক্ষক ও হত্যাকারীরা যদি বড় দায়িত্বে থাকে তাহলে বিচার তো হবে না। এখন তাপসের রাজনৈতিক বড় ভাই রেজাউল হক রুবেল ছাত্রলীগের সভাপতি। আমি রুবেলসহ তাপসের বন্ধুদের বলব তারা যেন এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে৷

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক বলেন, যেহেতু উপাচার্য  ম্যাম তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই এ বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টর সিরাজের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত গ্রুপটির কর্মীরা ২০১৪ সালের ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সামনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার বাবুলের গলায় জুতার মালা দেয়। এ সময় লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে প্রয়াত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফের স্মরণ সভা ছিল ৷ এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে জড়িতদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়৷

অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেও এদের নিয়ে তার অফিসে বসে থাকতেন সিরাজ উদ দৌলা। এমনকি প্রক্টরের গাড়িতে চড়েও ঘুরত তারা।

তখন প্রক্টর পদ থেকে সিরা উদ দৌলার পদত্যাগ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় টানা সাত দিন অবরোধ করে রাখে ছাত্রলীগ। এ সময় প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলার পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, প্রক্টর সিরাজের ছত্রচ্ছায়ায় ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াত একটি অংশ। তাদের হাতে হাতে শোভা পেত  ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ’ মডেলের পিস্তল। প্রতি রাতে তারা হল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়াত। সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ মডেলের পিস্তলের গুলিতে তাপস নিহত হন বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, তাপস সরকার হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি আশরাফুজ্জামান আশার নেতৃত্বে পুরো ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করতেন তখনকার প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা। আশাকে দিয়েই তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব বাহিনী।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের অভিযোগ, আশার নেতৃত্বে নিজের গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত করতে একপর্যায়ে প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা ছাত্রলীগের বড় একটি অংশকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন।

এ ছাড়া চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশ করায় চবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার এবং সাংবাদিকদের হত্যা, মারধর ও পঙ্গু করারও হুমকি দেয় তারা।

সাংবাদিক সমিতিতে তালা ঝোলানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করলেও প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর সিরাজ উদ দৌলাকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সিরাজ উদ দৌলার অনুসারী কয়েকজন ছাত্র-শিক্ষক৷ওই দিন প্রক্টরের গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ঘুরতে দেখা যায় সিরাজ উদ দৌলাকে। এমনকি প্রক্টর অফিসেও তিনি অফিস করেন। তাকে প্রক্টরের গাড়িতে ঘুরতে থেকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জোর প্রতিবাদ জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর। ছাত্রলীগের তোপের মুখে তাকে প্রক্টরের পদে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন উপাচার্য।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ছাত্র উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, সিরাজ উদ দৌলার নাম গুগলে লিখে সার্চ দিলেই তার অন্যায়- অপকর্মের নানান তথ্য সমৃদ্ধ নিউজের লিংক উঠে আসে৷ শত শত নিউজই বলে দেয় উনি কেমন প্রকৃতির লোক ছিলেন৷ একজন অপরাধীদের প্রশ্রয়দানকারীকেই কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা করতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে কি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য আর কোনো মানুষ নেই?

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের আদেশে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলাকে ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলা বলেন, ‘অভিযোগ তো যে কেউ দিতে পারে। তবে অভিযোগ দিলে সেটা লিখিত ভাবে দিতে হবে। তোমাকে কেন বলবে? আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না, তুমি যা ইচ্ছা লিখে দাও’।

এ বিষয়ে উপাচার্যকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি কথা বলেননি।

abrarmmm.jpg

ছাত্রলীগের গণপিটুনিতে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মায়ের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করেছেন বুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী। এসময় তারা আবরারের মাকে সান্ত্বনা দেন। বেশকিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছেন তারা। ফেসবুকে বুয়েটিয়ান নামে পেজের একটি পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফেসবুকের ওই পোষ্ট থেকে জানা যায়, আবরার নিহত হওয়ার পর থেকে তার মা রোকেয়া খাতুনের আহাজারি এখনো থামেনি। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করেন না, সবকিছুই যেন তার এলোমেলো।

আবরারের মাকে সান্ত্বনা দিতে শুক্রবার কুষ্টিয়া যায় বুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী। তারা সেখানে আবরারের মায়ের সঙ্গে দুপুরের খাবারে অংশ নেন এবং মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে শামিল হন।

সেখানে পোস্ট করা কয়েকটি ছবির সঙ্গে লেখা হয়, অনেক দিন হচ্ছে, সন্তান হারানোর শোকে আমাদের মা ঠিকমতো খেতে পারছেন না। আজ কুষ্টিয়ায় আমাদের প্রিয় বন্ধু-ভাই আবরারের গ্রামের বাড়িতে আমাদের প্রিয় দুঃখিনী মাকে নিয়ে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম।

জানি, আমরা কেউই আবরারকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, পারব না প্রিয় মায়ের সন্তান হারানোর দুঃখ ভুলিয়ে দিতে। কিন্তু আমরা সবাই সব সময় আবরার হয়ে থাকতে চাই আমাদের মায়ের সঙ্গে।

national-university-gazipur11.jpg

স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে একটি প্রতিষ্ঠান ও চার ব্যক্তির নামে নামকরণ করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৫টি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি কলেজের নাম ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। আর বাকি চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম জানান, যে কলেজটির নাম ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে সেটি হচ্ছে রাঙ্গামাটির রাবেতা মডেল কলেজ। এই কলেজের পরিবর্তিত নাম লংগডু মডেল কলেজ। আর যে চারটি কলেজের নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, হবিগঞ্জের মাদবপুরের সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজ, এটির পরিবর্তিত নাম মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজ। কক্সবাজারের ঈদগাও ফরিদ আহমেদ কলেজের পরিবর্তিত নাম হচ্ছে ঈদগাও রশিদ আহমেদ কলেজ। টাঙ্গাইলের বাশাইল এমদাদ হামিদা কলেজ, পরিবর্তিত নাম বাশাইল ডিগ্রি কলেজ। গাইবান্ধার ধর্মপুর আব্দুল জব্বার কলেজ, পরিবর্তিত নাম ধর্মপুর ডিগ্রি কলেজ।

তিনি আরও জানান, গত এক বছর আগে সারাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা কলেজগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ওই কলেজগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজের পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেয়া হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, কলেজগুলোতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম চিহ্নিত করে তা পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা/বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে নামকরণ করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনের যে রায় দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সকল ডিসিপ্লেনে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ বইটি অবশ্যই পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

somapani.jpg

প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আগামী রোববার (১৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে। ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। তবে, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। ।

তিনি বলেছেন, ১৭ নভেম্বর থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক সমাপনী ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। আর এবার এই দুই মাধ্যম থেকে ২৯ লাখ তিন হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ হিসেবে প্রাথমিক সমাপনী থেকে পরীক্ষার্থী কমেছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৬১৫ জন। তবে বেড়েছে ইবতেদায়ী পরীক্ষার্থী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ জন ছাত্র আর ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৬৭ জন ছাত্রী। অন্যদিকে ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন এবং ছাত্রী এক লাখ ৬৩ হাজার ২৮৯ জন। এ হিসেবে এবার ইবতেদায়ীতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩০ হাজার ৯৮৩ জন। এছাড়া এবার দুই মাধ্যমের পরীক্ষায় ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৪ জন বেশি।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী দুটিতে মিলে তিন হাজার ৫৮৩ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এবার সারাদেশে সাত হাজার ৪৫৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের বাইরে আটটি রাষ্ট্রের ১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো- সৌদি আরব-৪, সংযুক্ত আরব আমিরাত-২, বাহরাইন-১, ওমান-১, কুয়েত-১, লিবিয়া-১, গ্রিস-১ ও কাতার-১। বিদেশে অবস্থিত কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী আছে ৬১৫ জন। এর মধে ছাত্র ২৮৯ ও ছাত্রী ৩২৬ জন।

প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলো দ্রুত মেরামত করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদেরও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে যাবতীয় কাজ শেষ করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তা সংশ্লিষ্ট থানা/ট্রেজারি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র উপজেলা থেকে কেন্দ্র সচিবের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া দুর্গম এলাকার ১৮৪টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার আওতায় ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২০ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২১ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীর আওতায় ১৭ নভেম্বর ইংরেজি, ১৮ নভেম্বর বাংলা, ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২০ নভেম্বর আরবি, ২১ নভেম্বর কোরআন মজিদ ও তাজবিদ এবং ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হবে। দুপুর ১টায় শেষ হবে। এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। ছয়টি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বরের উত্তর দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

dipu666.jpg

সিন নদীর তীরবর্তী শহর প্যারিসে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা- ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ সম্মেলন। এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বাংলাদেশ মানসম্মত শিক্ষায় সারা বিশ্বের রোল মডেল হতে চায়। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও সংস্কার আনতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

ইউনেস্কো সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার কান্ট্রি স্পিচে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় বিনামূল্যে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় শতভাগ এনরোলমেন্ট অর্জন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নারী ও পুরুষের সমতা আনয়নের মতো বিষয়গুলো বিশ্বসভায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সম্মেলনে ডা. দীপু মনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। যে বাংলাদেশ হবে বৈষম্য, ক্ষুধা ও বঞ্চনামুক্ত। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখন কাজ করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ নামে দুটি উন্নয়ন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন মডেল হিসেবে বিশ্বের সব জাতির কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে যেমন বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত, তেমনি বাংলাদেশের লক্ষ্য গুণগত শিক্ষায়ও বিশ্বের রোল মডেল হওয়া। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইসিটি শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রান্তিক জনপদেও আইসিটি শিক্ষা চালু করা হয়েছে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি লেভেলে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনসহ ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। ই-লার্নিংয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বোপরি ২০৩০ সালে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত ও মানসম্মত শিক্ষায় জোর দিয়েছে সরকার।

ডা. দীপু মনি ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আহমেদ আলতাই সিনগিজারকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ৩৯তম সম্মেলনের সভাপতি মরক্কোর জহুর আলাউইকে গত দু’বছর সফলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক আদ্রে আজুলেকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কোর যে কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ তার পাশে রয়েছে।

গতকাল ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদরদপ্তরে বাংলাদেশের পক্ষে আরও তিনটি পৃথক কনফারেন্স ও দ্বিপক্ষীয় সভায় অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সম্মেলনে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. মনজুর হোসেন প্রমুখ। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

manna3r.jpg

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পরও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম পদত্যাগ না করায় নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ভিসি ফারজানার ক্ষমতার উৎসও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ সভার আয়োজন করে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই উপাচার্য নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার বন্ধু। তাই তার কোনো শাস্তি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছেন এবং গাছপালা কেটে বিভিন্ন প্রজেক্টের নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টাকায় ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি দিয়েছেন তিনি।

sustc.jpg

জালিয়াতি করে চান্স পাওয়ার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে পাঁচ শিক্ষার্থী আটক হয়েছেন।

এছাড়া এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের আরেক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

শাবি প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক পাঁচজনের চারজন বগুড়া জেলার বাসিন্দা। আটককৃতরা হলেন- বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাকীদুল ইসলাম শাকিল (মেধাক্রম ৬৫৮), রহিমাবাদ এলাকার আবিদ মোর্শেদ, সদর উপজেলার বৃন্দাবনপাড়া ওয়ার্ডের আরিফ খান রাফি (মেধাক্রম ৭০২), বগুড়া সদরের কলেজ বটতলা এলাকার জাহিদ হাসান তামিম (মেধাক্রম ৬৪১) ও রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রিয়াদুল জান্নাত রিয়াদ (মেধাক্রম ৬৬১)।

অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার ‘বি-১’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে সন্দেহজনক অবস্থায় এদেরকে আটকের পর কয়েকঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রক্টরিয়াল বডি। পরে ভর্তি জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় রাতেই তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদের সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা ও বিশাল পরিমাণে আর্থিক লেনদেনের বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় শাবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের সামিউল ইসলাম কৌশিক নামের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কৌশিক ক্যালকুলেটর জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেও ভর্তি হয়েছেন বলে ধারণা করছে প্রক্টরিয়াল বডি।

কৌশিক তিনজনকে এবছর জালিয়াতির মাধ্যমে চান্স পাইয়ে দিয়েছেন বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে কৌশিক বলে জানান শাবি প্রক্টর।

সূত্র জানায়, আটককৃত পাঁচজনের তিনজন ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্য দুইজন স্বীকারোক্তি না দিলেও তাদের সংশ্লিষ্টতার সব ধরনের প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন।

জানা যায়, এই চক্রের সবাই ৫ থেকে আট লাখ টাকার চুক্তিতে জালিয়াতিতে যুক্ত হয়। এই চক্রের বেশিরভাগের বাড়ি বগুড়া। এমনকি গত ২৬ অক্টোবর শাবির ভর্তি পরীক্ষার দিন জালিয়াতির চেষ্টাকালে এই চক্রের আরো চারজন ধরা পড়েন যাদের সবার বাড়ি বগুড়া।

শাবি প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ জানান, এদের সবার ওএমআরের সেটকোড (৭৫), সবার দাগানো প্রশ্নের সংখ্যা, সঠিক উত্তর-ভুল উত্তর সমান। এদের অনেকে ওএমআর কালো টিপ দিয়ে পূরণ করে কিংবা পেন্সিল দিয়ে পূরণ করে স্বাক্ষর করার পর পরবর্তীতে ক্যালকুলেটরে উত্তর আসলে নির্দিষ্ট সেটকোড পূরণ করত।

অন্যদিকে এই চক্রের একজন সদস্য ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে চলে গেছেন বলে সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন।

এছাড়া মমিনুল নামের আরেক সদস্যের মেধাক্রম দুইহাজার এর মত হওয়ায় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন বলে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানিয়েছে আটককৃতরা।

এছাড়া এভাবে এই বগুড়া চক্রের অনেক সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজে চান্স পেয়েছেন বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, আমরা ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশে দিয়েছি। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর সকালে এ ইউনিটের ও বিকেলে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর থেকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে জালিয়াতি করে ভর্তির চেষ্টায় আটক হন এই পাঁচজন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter