শিক্ষা Archives - Page 2 of 3 - Dhaka Today

dt008587.jpg

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৭ সালে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। একই বছরে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেন। ২০১৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। সেই হিসাবে এক বছরে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৩৮ জন। যার মধ্যে ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৭৭ জন ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬১ জন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। তার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯২৭ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৫ জন অধ্যায়ন করেন। সে হিসাবে গত এক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান  বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আমাদের দেশে আসছে। তাই আমরা এই বিষয়টিতে অতিমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে বিদেশিরা সহজেই আমাদের দেশে পড়তে পারে।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, অন্যান্য দেশে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, আমাদের বাজেট কম হওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের যতটুকু রয়েছে, ততটুকুই নিবেদন করে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমনে এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার গুণগতমান পরখ করার সুযোগ আসে মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ‘সহজে যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা সকল তথ্য-সহায়তা পায় সেজন্য ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে একটি ডেস্ক খোলা হয়েছে। নতুন করে বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আবাসন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ইউজিসির প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বিশ্বের ৩৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের পদচারণা রয়েছে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশের শিক্ষার্থীরাই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়।

উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যেসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে সে দেশগুলো হলো কানাডা, চীন, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, মালি, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, সিয়েরালিওন, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, ঘানা, জাম্বিয়া, জিবুতি, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, ইতালি এবং ইরান। বাংলাদেশের ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে এসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত ছিল।

বিদেশি শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোফিজুর রহমান  বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বৈশিক যোগাযোগ, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে মাল্টিকালচার চর্চা হয়। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে শিক্ষার্থী আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এটি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’

বর্তমানে আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে বেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পার্শবর্তী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারত থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী আনতে হলে সেসব দেশে শিক্ষামেলা ও প্রচার-প্রচারণা বাড়ানের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের জন্য হোস্টেল সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষার্থী বেশি আসলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যায়গুলো এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

গত আট বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি ও হ্রাস পেয়েছে। তার মধ্যে ২০১০ সালে ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে ২১০, ২০১২ সালে ৫২৫, ২০১৩ সালে ৩২৬, ২০১৪ সালে ৪৩২, ২০১৫ সালে ৫৯৩, ২০১৬ সালে ৩৫৫ এবং ২০১৭ সালে ৪৬১ জন। সেই হিসাবে তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যা বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চাইতে ২০১৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, তুলনামূলক কম শিক্ষা খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে যতজন এসেছে তার চাইতে ১০ গুণ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণ করছে। বিদেশ থেকে যাতে শিক্ষার্থী পড়তে আসে, এজন্য নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষার্থী টানতে প্রতিবছর এসব দেশ থেকে প্রতিনিধি এসে উচ্চশিক্ষা ফেয়ার করছে। শুধু মালায়েশিয়ায় বাংলাদেশি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। তাদের কাছে বাৎসরিক এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি। অথচ আমরা সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ছিল দেড় লাখের বেশি। এর বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৯ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আসন ফাঁকা থাকছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফাঁকা আসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পূরণ করা গেলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে অভিমত দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো স্থান। এটিকে যদি আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি হবে তবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ফেয়ারে অংশগ্রহণসহ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু আর্থিক লাভবান নয়, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে আমাদের চাইতে কম খরচে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তা রেখে কেন আমাদের দেশে আসবে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো উদ্যোগ ছাড়াই বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ছে। তাই এটিকে ধরে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

ssc_exam.jpg

২০১৯ সালের মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হচ্ছে বুধবার (৭ নভেম্বর) থেকে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ লক্ষ্যে বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফল ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, ৭ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবেন ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। বিলম্ব ফিসহ ১৬ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এসএসসির ফরম পূরণ করা যাবে। বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার সময় ১৫ নভেম্বর শেষ হবে। ১০০ টাকা বিলম্ব ফিসহ ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ফি জমা দেওয়া যাবে।

এর আগে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীসহ ২০১৮ সালের পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বরাবর সাদা কাগজে আবেদন করতে বলা হয়েছিল।

এসএসসি পরীক্ষা ২০১৯ সালের পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পত্র প্রতি ৯০ টাকা, ব্যবহারিকের ফি বাবদ পত্র প্রতি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের ফি বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি ৩৫ টাকা মূল সনদ বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা, বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইড ফি বাবদ ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনিয়মতি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা অনিয়মিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছিল।

comilla-uni.jpg

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর বেলা তিনটায় ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

গতকাল রোববার বিকেলে উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সভা প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সভায় উপস্থিত একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ওই তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্কুলগুলো খালি পাওয়া যাবে না। তাই ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। রোববারের জেএসসির ইংরেজি পরীক্ষার নতুন তারিখ ৯ নভেম্বর করার কারণে এমনটা করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি আসনে ৬১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার ১ হাজার ৪০ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেছেন ৬৩ হাজার ৬৩০ জন। আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদে (‘এ’ ইউনিট) ৩৫০ আসনের বিপরীতে ২৬ হাজার ৯৩৯, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদে (‘বি’ ইউনিট) ৪৫০ আসনের বিপরীতে ২৪ হাজার ২৩২ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে (‘সি’ ইউনিট) ২৪০ আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ১৮৯টি ফরম জমা পড়ে।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. আবু তাহের বলেন, এ বছর তিনটি ইউনিটে ছয়টি অনুষদে ১৯টি বিষয়ের জন্য ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। কোটা ছাড়া ১ হাজার ৪০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। কোটা আছে ৫৭টি।

primary-education-20180917211305.jpg

মৌসুম শুরুর দু’মাস আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনেকটা নারীবান্ধব করে তৈরি এ নীতিমালায় ছয় শ্রেণীতে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

স্বামী বা স্ত্রী সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এ সুযোগ রাখা হয়নি।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণভাবে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার বাইরে থেকে কেউ বদলি হয়ে আসতে পারবেন না। কেবল স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির সুবাদে এবং স্থায়ী ঠিকানা হলেই সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মধ্যে বদলি হওয়া যাবে। চাকরির মেয়াদ ২ বছর পূর্ণ না হলে কেউ বদলি হতে পারবেন না।

৫ বছরের মধ্যে দু’বার বদলির সুযোগ মিলবে না। কোনো উপজেলাতেই মোট পদের ১০ শতাংশের বেশি অন্য এলাকার শিক্ষককে পদায়ন করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজার রহমান ফিজার যুগান্তরকে বলেন, আগে প্রেষণ বা সংযুক্তিসংক্রান্ত পদায়ন করত মন্ত্রণালয়। নীতিমালার ইতিবাচক দিক হচ্ছে মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের বদলি করবে না। সব কিছু অধিদফতরের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে বদলির ক্ষেত্রে অনেক কড়াকড়ি ছিল। আমরা যতটা সম্ভব শিথিল করেছি। বেসরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়টি নীতিমালায় আনা হয়নি। তবে বিশেষ বিবেচনায় বদলি নিশ্চয়ই থেমে থাকবে না। তাছাড়া এটি ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্ত হতেও পারে।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা ২০১৮’-তে ৮টি ধারা ও ৪২টি উপধারা আছে। ৩০ অক্টোবরে জারি করা এ নীতিমালায় বলা হয়েছে- সাধারণ, বৈবাহিক, প্রশাসনিক, সমন্বয়ের প্রয়োজন, সংযুক্ত ও বিবিধ কারণে বদলি করা যাবে। বদলি ও এর আবেদনের সময় আগের মতোই জানুয়ারি থেকে মার্চ। তবে প্রশাসনিক ও সমন্বয়ের প্রয়োজনে সারা বছরই বদলি করা যাবে।

এ ধরনের বদলির আদেশ দেবেন মহাপরিচালক। অন্য ক্ষেত্রে বদলির অধিক্ষেত্র সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অধিক্ষেত্রের অধিকর্তা উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় পরিচালক। ডিপিই (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে থানা শিক্ষা অফিসারদের সুপারিশক্রমে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বদলি করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে। প্রতিবন্ধী সন্তানের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক বদলির সুযোগ পাওয়া যাবে। স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যেে কোনো সময় বদলি হওয়া যাবে।

দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ২ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন। এসব বদলির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশ প্রয়োজন হবে। জাতীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা চাইলে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন। তবে ৫ বছর পর।

মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষকরা ঢাকা মহানগরের যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য আসনে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে কেবল বৈবাহিক কারণ বা জীবনসঙ্গীর চাকরি সূত্রে বদলি হওয়া যাবে। বিশেষ কারণে যে কোনো সময় বদলি করা হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা কর্তৃপক্ষের সুপারিশ লাগবে।

শিক্ষকরা নিয়োগের পর বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হলে স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের স্থায়ী ঠিকানায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কাবিননামা, প্রত্যয়নপত্র, সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়র/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যায়নপত্র, স্বামী/স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানার জমির দলিল, খতিয়ান, বাড়ির হোল্ডিং নম্বর (সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য) ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তবে একই পদে একাধিক আবেদনকারী হলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলির জন্য বিবেচনা করা হবে। স্বামীর কর্মস্থল বা স্থায়ী ঠিকানা- যেখানেই হোক নারী শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, নদী ভাঙন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষকের বসতভিটা বিলীন হলে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে, কোনো বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ও শিক্ষকদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে একই উপজেলায় বদলি করতে পারবেন।

এসব নির্দেশনা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন পার্বত্য জেলার জন্য প্রযোজ্য হবে না। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা এ নীতিমালার আওতাভুক্ত হবে। তবে এর আলোকে সংশ্লিষ্ট জেলার উপযোগী নির্দেশিক্ষা প্রণয়ন করতে পারবে।

cu-versity-20181105173137.jpg

সম্প্রতি শেষ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটককৃত আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়ার সোলতান আহমেদের ছেলে।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন।

তিনি বলেন, চবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে গত ২৮ অক্টোবর জামশেদুল কবির নামে বাংলা বিভাগের সাবেক এক ছাত্র আটক হন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আনোয়ার। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন আনোয়ার।

নগরীর চকবাজারে কুতুবদিয়া কম্পিউটার ও সোনার তরী ট্যুরিজম নামে দুটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক এই আনোয়ার। এই প্রতিষ্ঠান দুটির অন্তরালে আনোয়ার পরীক্ষা জালিয়াতি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে নিজের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েতে একটা চাকরি ঠিক করে রেখেছেন আনোয়ার। তার এসব জালিয়াতির সঙ্গে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত।

তার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানতে চাইলে প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি আরেকটু খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেব। প্রক্সির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ২৮ অক্টোবর রোববার বিকেলের শিফটে সম্মিলিত ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন ড. ইউনূস ভবনের ১০৯ নং কক্ষ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামশেদকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই শিক্ষার্থী তৌহিদুল হাসান পিয়ালের (ভর্তি পরীক্ষার রোল-৫২২৭৮৯) অ্যাডমিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। তখন তাকে আটক করা হয়।

cu7v.jpg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তির এক (১) বছর পরে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আটক করা হয়েছে। জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ডি ইউনিটে ৭০তম হয়েছিল মোহাম্মদ মঈন।

প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আইন বিভাগে ভর্তিও হয় মঈন। রীতিমতো ক্লাস করে প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে এসে পরীক্ষকের সন্দেহের জালে আটকে পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সব তথ্য। চবি প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছর (২০১৭ ইং) কাগজপত্রে দেয়া ছবির সঙ্গে বর্তমানে মঈনের কোনো মিল না পেয়ে অনুষদের পক্ষ থেকে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মঈন স্বীকার করে যে, তিন লাখ টাকার চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের হোসাইন আল মাসুম তাকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি করিয়ে দেয়। ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোহাম্মদ মঈনের হয়ে ছবি পরিবর্তন করে মাসুম অংশ নিয়েছিলেন।

প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মঈনের হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় যিনি অংশ নিয়েছেন তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। ভর্তি জালিয়াতি চক্রের টাকার লেনদেনের বিষয়টি হোসাইন আল মাসুম দেখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি। ভর্তি জালিয়াতি চক্র সম্পর্কে মঈনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

primary-education-20180917211305.jpg

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১৯ থেকে ২৬ অক্টোম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বারের চেয়ে ২০১৮ সালের এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে ২৪ লাখ ৫টি আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯২৫টি, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩০টি, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৭টি, সিলেট বিভাগে ১ লাখ ২০ হাজার ৬২৩টি, রংপুর বিভাগে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৮টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭টি আবেদন জমা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ফলে নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাস এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় আসনপ্রতি তিনজনকে (একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) নির্বাচন করা হবে। মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এএফএম মনজুর কাদির বলেন, ‘আগামী ১৯ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরীক্ষার দিন সময় নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অক্টোবর মাসে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হলে ডিসেম্বরের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করা হবে বলেও পরিকল্পনরা রয়েছে।’ পাস করা যোগ্য প্রার্থীদের পরবর্তী বছরের শুরুতে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, প্রার্থীরা http://dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে।

dul.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের ফেলের হার ৯০ দশমিক ২ শতাংশ।২৫ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ফেল করেছে ২৩ হাজার ১০৮ জন পরীক্ষার্থী।
অন্যদিকে পাস করেছে ২ হাজার ৮৫০ জন পরীক্ষার্থী। যেখানে পাসের হার মাত্র ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনস্থ কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করেন।
‘গ’ ইউনিটের অধীনে আসন রয়েছে ১ হাজার ২৫০টি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত পছন্দ তালিকা পূরণ করতে পারবেন পাসকৃত শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে admission.eis.du.ac.bd জানা যাবে। এছাড়া DU GA লিখে রোল নম্বর লিখে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS এ ভর্তিচ্ছুরা তার ফলাফল জানতে পারবেন।।

dul.jpg

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘গ’ ইউনিটের সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল সোমবার সকাল ১১টায় প্রকাশ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে (কক্ষ নং-২১৪) ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই ফল প্রকাশ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

dt44.jpg

একটা সময় ছিল যখন এইচএসসি কিংবা এ-লেভেল পাস করার আগে থেকেই সবাই ধরেই নিত জীবনের লক্ষ্য হবে চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী। সবাই প্রশ্ন করত—কোথায় পড়বে? মেডিকেলে নাকি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে? শিক্ষার্থীরা যেকোনো একটিতে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করত। কিন্তু সেই দিন এখন নেই। অনেকেই মুচকি হেসে উত্তর দেয় ‘না, কোনোটিতেই না।’

এ কথা সত্য, সামাজিক সম্মান আর আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করলে পুরো পৃথিবীতেই এই দুটি পেশা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে। কিন্তু এটাও বাস্তব, পৃথিবীতে এখন অনেক কিছুর নতুন নতুন চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এগিয়ে গেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। তৈরি হয়েছে যুগের প্রয়োজনে নতুন নতুন পেশা ও কর্মক্ষেত্র। এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কর্মক্ষেত্রের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বেশ কিছু নতুন এবং এ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন পেশা। গবেষণাধর্মী বা প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য বিষয়ে পড়েই বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এখন স্থান করে নিয়েছে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ড আর এমাইটির মতো জায়গায়। কাজ করছে গুগল, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ইউএসএ, গোল্ডম্যান স্যাচ, রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে।

এখন এসব কথার অবতারণা কেন? কারণ শুরু হয়ে গেছে ভর্তি পরীক্ষার মৌসুম। কেউ হয়ত বা সুযোগ পাবে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে, কেউ পাবে না। যারা সুযোগ পাবে না তারা খুব মন খারাপ নিয়ে হয়ত দেখবে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবী সুযোগ পেয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা মেডিকেলে। কেউ কটাক্ষ করতে পারে, প্রশ্ন তুলতে পারে মেধা নিয়ে, কেউ হয়ত বা রীতিমতো উপেক্ষা করবে। কিন্তু এখানেই কি জীবন ৩০ বছর আগের পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে? সেই উত্তর—না, এখন খোলা আছে অনেক পথ। সেই পথেই এগোবে তুমি।

বিশ্বাস করো, ঠিক পাঁচ বছর পর সবাই দেখবে তুমি কতটা যোগ্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছ, নিজের বিষয়ে তুমি কতটা দক্ষ, একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো কী কী গুণ তুমি অর্জন করেছ? তোমার পেশা আর প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তোমার সৃজনশীল চিন্তা অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে।

প্রশ্ন আসতে পারে, কী কী বিষয় নিয়ে পড়তে পারি? গত ১০ বছরে কোন বিষয়গুলো খুব উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে? কেন তারা চিকিৎসক আর প্রকৌশলীদের মতোই সমানভাবে স্বীকৃত, সম্মানিত ও সচ্ছল? উত্তরটা হলো—পড়ার আছে অনেক কিছুই।

এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন ও গবেষণা খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভেটেরিনারি ও কৃষি। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পশুর স্বাস্থ্য, দুগ্ধশিল্প, গবাদিপশুর মাংসের বিশাল বাজার। ফলে ভেটেরিনারি বা পশুর স্বাস্থ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবার দেশের খাদ্যসংকট মোকাবিলা, নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন, ফসলে রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা, এ রকম বিভিন্ন কারণে কৃষিক্ষেত্র প্রত্যেকটি দেশেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশে যেমন এই পেশাটি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্কের মতো দেশগুলোতেও রয়েছে সম্ভাবনাময় চাকরি ও গবেষণা ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে দেশে পড়ার সুযোগ রয়েছে বেশ কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাংলাদেশে অফুরন্ত সম্ভাবনার আরেকটি ক্ষেত্র মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান। মাছের জাত উন্নয়ন, বিষক্রিয়া প্রতিরোধ, সামুদ্রিক সম্পদ বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো এ রকম অনেক কিছু নিয়েই আছে কর্মক্ষেত্র। মেরিন সায়েন্স ও ফিশারিজ তাই পড়াশোনার জন্য আরেকটি ভালো সুযোগ। ভেটেরিনারি, কৃষি ও ফিশারিজ—তিনটি বিষয়েই দেশের বাইরে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডির জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ।
এ সময়ের অন্যতম চাহিদা হলো বস্ত্রশিল্প। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৌশল জানতে হলে পড়তে পারো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। অন্যদিকে চামড়াশিল্প বিভিন্ন কারণে পৃথিবীতে সব সময়ই সমাদৃত। এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে পড়ার জন্য আছে লেদার টেকনোলজি।

একেবারেই নতুন ধারার প্রযুক্তি নিয়ে পড়তে চাইলে বেছে নিতে পারো অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং। চ্যালেঞ্জিং, বেতনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সচ্ছলতা। ছোটবেলা থেকে যারা আকাশে ওড়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছে তাদের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় বিষয় হলো অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। রয়েছে ভ্রমণের সুযোগ, আবার অন্যদিকে বেশ সম্মানজনক বেতন।

প্রত্যেকটি দেশ এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়ন নিয়ে গবেষণাকে। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে এখন দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়া যায়। এই বিষয় সংশ্লিষ্ট ভালো চাকরি ও গবেষণাক্ষেত্র তৈরি হয়েছে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতেও। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মৌলিক বিষয় হলো অর্থনীতি। পৃথিবীতে চিরকালই গবেষণা, পড়াশোনা আর নীতিনির্ধারক পর্যায়ে অর্থনীতি একটি দরকারি বিষয়। পড়াশোনা করার জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা। দেশে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের কাছে তাৎক্ষণিক ও বিষয়ধর্মী সংবাদের গুরুত্ব বেড়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কাজ করার ক্ষেত্র।

দেশের অস্থিতিশীলতা দূরীকরণে এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে আইনজীবীরা। আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে অনেক প্রতিষ্ঠানেই। একদিকে যেমন আদালতে রয়েছে প্র্যাকটিস করার সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে শিক্ষকতার সম্ভাবনা, আরও রয়েছে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ।
যারা একটু ভিন্নধারার পড়াশোনা করতে চাও, আগ্রহ রয়েছে সৃষ্টিশীল কাজে কিংবা আঁকাআঁকি বা ডিজাইনিংয়ে। তারা ভেবে দেখতে পারো ফ্যাশন ডিজাইনিং বা অন্দরসজ্জা নিয়ে পড়ার কথা। দিন দিন বাড়ছে কাপড়ে বৈচিত্র্য ও নতুন ধারার সংযোজনের চাহিদা। একইভাবে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান বা নতুন বাড়িকে মানুষ সাজাতে চাইছে একটু নতুনত্ব দিয়ে।
ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ার জন্য রয়েছে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে এসব বিষয়ের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

যারা জীববিজ্ঞানে আগ্রহী তাদের জন্য রয়েছে একই সঙ্গে গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজের সুযোগ। গত কয়েক বছরে ছাত্রদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে আছে ফার্মাসি। ওষুধশিল্পে দেশের ভালো অবস্থান, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ, শিক্ষকতার সুযোগ এবং বাইরে পড়তে যাওয়ার সম্ভাবনা এই বিষয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এমন পাঁচটি বিষয়ের নাম বলতে বললে তার মধ্যে একটি হবে বায়োটেকনোলজি। ডিএনএ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লোনিং, ড্রাগ ডিজাইনিংয়ের মতো আকর্ষণীয় বিষয়গুলো নিয়ে পড়তে চাইলে বায়োটেকনোলজি হতে পারে তোমার জন্য সবচেয়ে উপযোগী বিষয়। কাজের সুযোগ আছে আইসিডিডিআরবি, ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব, টিকা আর ইনসুলিন নিয়ে কাজ করা ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান এবং ক্যানসার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে। একই রকমের পড়াশোনা আর সম্ভাবনা রয়েছে আরও দুটি বিষয়ে—মাইক্রোবায়োলজি ও প্রাণরসায়ন তথা বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে। এই তিনটি বিষয়ের মতো এত প্রচুরসংখ্যক আন্তর্জাতিক বৃত্তি খুব কম বিষয়েই দেওয়া হয়।

পৃথিবীতে দিন দিন খাদ্য নিয়ে সচেতনতা বেড়েই চলেছে, একই সঙ্গে বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সুষম খাদ্য নিয়ে পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা। ফুড সায়েন্স বা ডায়েটিক্স এখন খুবই সময়োপযোগী একটি বিষয়। চাকরি ক্ষেত্র রয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল, ইন্ডাস্ট্রি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নানাবিধ হাড় কিংবা মজ্জাজনিত ব্যথা আর বার্ধক্যজনিত চলাফেরার সমস্যা। এসব সমাধানে বাড়ছে ফিজিওথেরাপিস্টের গুরুত্ব। পড়ার জন্য ফিজিওথেরাপি হতে পারে অন্যতম বিষয়।

যদি ভালোবাস উদ্ভিদ কিংবা পরিবেশ নিয়ে থাকে আগ্রহ, তাহলে বেছে নিতে পারো ফরেস্ট্রি অথবা এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স। পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন অনেকগুলো দেশি ও বিদেশি সংস্থাতে রয়েছে কাজ করার সুযোগ, আছে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ এবং বিদেশি বিভিন্ন প্রকল্পে নিজেকে যুক্ত করার সম্ভাবনা।

জনস্বাস্থ্য দিন দিন হচ্ছে হুমকির সম্মুখীন। স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, সমাধানের উপায় খোঁজা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়তা করার কাজটিই করে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পড়াশোনা। ‘পাবলিক হেলথ’ (জনস্বাস্থ্য) সে কারণে দিন দিন পরিণত হচ্ছে খুবই প্রয়োজনীয় ও আকর্ষণীয় একটি বিষয়ে।

দেশের বাইরে যারা পড়তে যেতে চাও তাদের মাথায় রাখতে হবে স্নাতক পর্যায়ে বিদেশে পড়াশোনা অনেক ব্যয়বহুল। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে যেখানে সেট, টোফেল, আইইএলটিএস ও আগের পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাবতে পারো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর কথা। তবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনেক বেশি বৃত্তির ব্যবস্থা থাকে। দেশের বাইরে পড়তে পার ন্যানো টেকনোলোজি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, রোবোটিকস, বায়োমেডিসিনের মতো বিষয়গুলো।

মনে রাখতে হবে যেই বিষয়েই পড়ো না কেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। চিকিৎসা বা প্রকৌশল বিদ্যায় না পড়েও আজকে সফল মানুষের কাতারে আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, হুমায়ূন আহমেদ, আবেদ চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিষয়ে পড়ে পৃথিবীর সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। বায়োটেকনোলজি বিষয়ে পড়ে পরবর্তী সময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। আবার বাণিজ্য কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে এমআইটিতে পড়াশোনা করে মাইক্রোসফটে কাজ করছে অনেকে।
মোদ্দাকথা, আশা হারানোর কিছু নেই। নিজের ভালো লাগার বিষয়টি খুঁজে বের করো। যে বিষয়েই পড়ো না কেন তা নিয়ে গবেষণা করো, সাম্প্রতিক খবরগুলো নজরে রাখো। মনে রাখতে হবে তোমার সৃজনশীলতা দিয়ে তুমি অনেক দূর যেতে পারবে। লেগে থাকো, নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকো।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter