শিক্ষা ও প্রযুক্তি Archives - Page 4 of 7 - Dhaka Today

tv-anc.jpg

বিশ্ব প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সংবাদ উপস্থাপককে দেখা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তাদের টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ‘এআই নিউজ রিডারের’ পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

স্যুট টাই পরা ওই সংবাদ উপস্থাপককে দেখলে কেউ মনে করতে পারবেন না তিনি ‘মানুষ’ নাকি এআই নির্ভর রোবট।শুধু কথা বলার ধরন যদি রোবটের মতো না হতো তাহলে বোঝার কোন উপায় ছিল না।

সিনহুয়ার পরিচয় করিয়ে দেয়া ওই সংবাদ উপস্থাপক, সাবলীলভাবে টেক্সট পড়তে পারে যা দেখে পেশাদার সংবাদ কর্মী বলেই মনে হয়। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় এসে ইংরেজিতে ওই সংবাদ উপস্থাপক বলে, হ্যালো, আপনারা এখন ইংরেজি খবর দেখছেন।

সিস্টেমটি উন্নয়নে চীনের সগু নামের একটি সার্চ ইঞ্জিন কাজ করেছে বলে জানা গেছে। ওই উপস্থাপক সংবাদ পাঠের শুরুতেই জানায়, আমি আপনাদের অবহিত করতে চাই যে, আমি এই সিস্টেমে নির্বিঘ্নভাবে যে টেক্সট দেওয়া হলে তা পড়তে সক্ষম। এর মাধ্যমে আমি আপনাদের একটি নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

অন্যদিকে একই সংবাদের চীনা সংস্করণটি পড়ে আরেক এআই সংবাদ উপস্থাপক।

সিনহুয়া বলছে, এই সংবাদ উপস্থাপক কোন ধরনের বিরতি ছাড়াই সপ্তাহের প্রতিটি দিন, প্রতি ঘণ্টাই কাজ করতে পারবে। ফলে টেলিভিশনের একটা বড় ধরনের ব্যয় সাশ্রয় হবে। যে কোন ব্রেকিং নিউজের ক্ষেত্রে এআই সংবাদ উপস্থাপক ভালো করবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

তাদের ভাষ্য, শুধু লিখে দিলেই এআই উপস্থাপক তা পড়ে যেতে পারবে। তাই সময় বাঁচবে। আর তাহাহুড়োয় ভুল হবার আশঙ্কা একেবারেই থাকবে না।

foreign-student-20181107121248.jpg

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৭ সালে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। একই বছরে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেন। ২০১৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। সেই হিসাবে এক বছরে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৩৮ জন। যার মধ্যে ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৭৭ জন ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬১ জন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। তার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯২৭ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৫ জন অধ্যায়ন করেন। সে হিসাবে গত এক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আমাদের দেশে আসছে। তাই আমরা এই বিষয়টিতে অতিমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে বিদেশিরা সহজেই আমাদের দেশে পড়তে পারে।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, অন্যান্য দেশে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, আমাদের বাজেট কম হওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের যতটুকু রয়েছে, ততটুকুই নিবেদন করে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমনে এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার গুণগতমান পরখ করার সুযোগ আসে মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ‘সহজে যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা সকল তথ্য-সহায়তা পায় সেজন্য ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে একটি ডেস্ক খোলা হয়েছে। নতুন করে বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আবাসন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ইউজিসির প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বিশ্বের ৩৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের পদচারণা রয়েছে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশের শিক্ষার্থীরাই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়।

উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যেসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে সে দেশগুলো হলো কানাডা, চীন, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, মালি, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, সিয়েরালিওন, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, ঘানা, জাম্বিয়া, জিবুতি, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, ইতালি এবং ইরান। বাংলাদেশের ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে এসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত ছিল।

বিদেশি শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বৈশিক যোগাযোগ, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে মাল্টিকালচার চর্চা হয়। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে শিক্ষার্থী আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এটি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’

বর্তমানে আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে বেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পার্শবর্তী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারত থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী আনতে হলে সেসব দেশে শিক্ষামেলা ও প্রচার-প্রচারণা বাড়ানের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের জন্য হোস্টেল সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষার্থী বেশি আসলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যায়গুলো এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

গত আট বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি ও হ্রাস পেয়েছে। তার মধ্যে ২০১০ সালে ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে ২১০, ২০১২ সালে ৫২৫, ২০১৩ সালে ৩২৬, ২০১৪ সালে ৪৩২, ২০১৫ সালে ৫৯৩, ২০১৬ সালে ৩৫৫ এবং ২০১৭ সালে ৪৬১ জন। সেই হিসাবে তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যা বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চাইতে ২০১৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, তুলনামূলক কম শিক্ষা খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে যতজন এসেছে তার চাইতে ১০ গুণ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণ করছে। বিদেশ থেকে যাতে শিক্ষার্থী পড়তে আসে, এজন্য নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষার্থী টানতে প্রতিবছর এসব দেশ থেকে প্রতিনিধি এসে উচ্চশিক্ষা ফেয়ার করছে। শুধু মালায়েশিয়ায় বাংলাদেশি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। তাদের কাছে বাৎসরিক এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি। অথচ আমরা সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ছিল দেড় লাখের বেশি। এর বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৯ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আসন ফাঁকা থাকছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফাঁকা আসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পূরণ করা গেলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে অভিমত দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো স্থান। এটিকে যদি আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি হবে তবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ফেয়ারে অংশগ্রহণসহ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু আর্থিক লাভবান নয়, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে আমাদের চাইতে কম খরচে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তা রেখে কেন আমাদের দেশে আসবে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো উদ্যোগ ছাড়াই বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ছে। তাই এটিকে ধরে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

medical-20180901041306.jpg

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম বিতরণ ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখা) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২৫ নভেম্বর প্রাপ্ত সকল আবেদনের কোটাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। ২ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

আব্দুর রশিদ আরও জানান, সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও ১০ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদেরকে আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইন আবেদনের স্টুডেন্ট কপি, অনলাইনে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্র, এসএসসি ও এইচএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের মূলকপি, এসএসসি ও এইচএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্র/ প্রশংসাপত্রের মূলকপি, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/ পৌরসভার চেয়ারম্যান/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদের মূলকপি, সদ্যতোলা চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, পার্বত্য জেলার উপজাতির ক্ষেত্রে সার্কেল চিফ কিংবা জেলা প্রশাসকের সনদ ও অ-উপজাতীয়দের ক্ষেত্রে সার্কেল চিফ বা জেলা প্রশাসকের সনদ ও অন্যান্য জেলার উপজাতি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্র প্রধান বা জেলা প্রশাসকের সনদ জমা দিতে হবে। ও-লেভেল ও এ-লেভেল বা সমমানের মার্কশিট স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে স্বীকৃত হতে হবে।

dt008612.jpg

অবশেষে স্যামসাং দেখাল তাদের ভাঁজ করার সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্যামসাং ডেভেলপার্স কনফারেন্সে (এসডিসি ২০১৮) ইনফিনিটি ফ্লেক্স ডিসপ্লেযুক্ত নতুন স্মার্টফোনটি প্রদর্শন করেছে স্যামসাং। এ স্মার্টফোন ঘিরে প্রযুক্তি বিশ্বে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল।

গতকাল বুধবার অনুষ্ঠানে স্যামসাংয়ের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে ওয়ান ইউআই নামে নতুন ইন্টারফেস ডিজাইনের ঘোষণাও দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছে তারা। এতে এক হাতে স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে সহজে।

স্যামসাং জানিয়েছে, তাদের প্রথম প্রজন্মের ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করার সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোনে ইনফিনিটি ফ্লেক্স ডিসপ্লে ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া ডেভেলপারদের জন্য বিক্সবি ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট উন্মুক্ত করছে স্যামসাং। এতে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাপলের সিরি, আমাজনের অ্যালেক্সা ও মাইক্রোসফটের করটানার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে ব্রিক্সবি।

স্যামসাং জানিয়েছে, ভাঁজ করা স্মার্টফোনটি ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আবার ভাঁজ করে পকেটেও রাখা যাবে। এর আকার হবে ৭ দশমিক ৩ ইঞ্চি। অবশ্য স্যামসাং যে ডিভাইসটি দেখিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। পরে এটি আরও উন্নত করে বাজারে ছাড়বে প্রতিষ্ঠানটি।

স্যামসাংয়ের মোবাইল প্রোডাক্ট মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ডেনিসন বলেন, ‘চমৎকার একটি ডিভাইস দেখাতে যাচ্ছি, যা ভাঁজ করে রাখা যায়। এতে একটি কভার ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফোন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, আবার ৭ দশমিক ৩ ইঞ্চি মাপের ট্যাবলেট ডিসপ্লে হিসেবেও কাজ করবে।’

মাল্টি–অ্যাকটিভ উইন্ডো থাকায় এতে এতে তিনটি অ্যাপ একসঙ্গে চলবে। ডেনিসন বলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই তারা ইনফিনিটি ফ্লেক্স ডিসপ্লে ব্যাপক আকারে উৎপাদন শুরু করবে।

নতুন স্মার্টফোন কবে নাগাদ বাজারে আসবে, সে বিষয়ে অবশ্য এখনই কিছু বলেননি তিনি।

গুগল অবশ্য নতুন ধরনের এ ডিভাইস সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে। তারা নতুন প্রযুক্তির ফোন বাজারে আনতে স্যামসাংয়ের সঙ্গে কাজ করছে।

ভাঁজ করার ফোনের বাজারে আসতে স্যামসাংয়ের পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী বছর হুয়াওয়ে ভাঁজ করা ফোন বাজারে আনতে পারে। লেনোভো, শাওমি ও এলজি এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

dt008606.jpg

মিউজিয়াম বা জাদুঘর এমনই এক জায়গা যেখানে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় হারিয়ে যাওয়া নানা কিছুর নিদর্শন। মূর্তি, আঁকা ছবি থেকে শুরু করে মিউজিয়ামের বিভিন্ন ঘরে থাকে প্রাগৈতিহাসিক পশু-পাখির হাড়, তাদের সম্পর্কে নানা তথ্য। তবে ভারতে রয়েছে এক আজব মিউজিয়াম। যেখানে রাখা রয়েছে শুধুই মস্তিষ্ক। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর মস্তিষ্ক। মানুষের ভ্রুণ অবস্থা থেকে তার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, কীভাবে বিকাশ ঘটে তার মস্তিষ্কের, নমুনা রয়েছে তারও।

বেঙ্গালুরুর ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস’র এক বিশেষ বিভাগ হলো নিউরোলজি রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি)। এই বিভাগেই রয়েছে ১৫টি গবেষণাগার ও ৪ টি সেন্ট্রাল ফেসিলিটি সেন্টার, যার একটি হলো ‘হিউম্যান ব্রেন মিউজিয়াম’।

খবর অনুযায়ী, অভিনব এই মিউজিয়ামটি ছিল গবেষক এস কে শংকরের মস্তিষ্কপ্রসূত। তবে তা শুরু করতে সময় লেগেছে ৩০ বছর। কারণ বিভিন্ন প্রাণীর ব্রেন জোগাড় করতেই সময় লেগে গেছে। মানুষের ক্ষেত্রে সময় লাগার মূল কারণ, মৃত ব্যক্তির পরিবারের তরফ থেকে সম্মতি পাওয়া যে, তার মস্তিষ্ক বের করে নেওয়া হবে গবেষণার জন্য।

জানা গেছে, এই ব্রেন মিউজিয়ামে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৫০০ ধরনের নমুনা। ব্রেন সংক্রান্ত যে ধরনের রোগ মানুষের হয় (যেমন সেরিব্রাল পলসি, পারকিনসন্স, অ্যালঝাইমার্স) রয়েছে তেমন মস্তিষ্কও।

বেঙ্গালুরুর এই অভিনব জাদুঘর সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে উৎসুক দর্শকদের জন্য। তবে যারা গাইডেড ট্যুর করতে চান, তাদের জন্য ব্যবস্থা থাকে বুধবার ও শনিবার। এমন ট্যুর চলাকালীন ইচ্ছুক দর্শকরা নিজের হাতে নিয়েও দেখতে পারেন নানা মস্তিষ্ক

phnow.jpg

গত সপ্তাহে বাজারে আসে চীনের জেডটিইর দুই ডিসপ্লের ফোন নুবিয়া এক্স ফ্লাশ। এই ফোনটি বাজারে বিক্রি শুরুর ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই ১ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। যা স্মার্টফোন বিক্রির ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

নুবিয়া মূলত জেডটিইর অনলাইন ব্র্যান্ড বা সাব-ব্র্যান্ড। এতদিন ঢিমেতালে নুবিয়া সিরিজের ফোন বিক্রি হচ্ছিল। এবার এক ফোন দিয়েই বাজার মাত কর করলো প্রতিষ্ঠানটি।

তিনটি রঙে ও তিনটি বিল্টইন মেমোরি ভার্সনে নুবিয়া এক্স ফোনটি পাওয়া যাবে।

চীনের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট উইবো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই ডিসপ্লের ফোন নুবিয়া এক্স বিক্রির জন্য ফ্লাশ সেলের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। এই ফ্লাশ সেলে মাত্র ৫৭ সেকেন্ডে ১ লাখ ইউনিট ফোন বিক্রি হয়েছে।

প্রথম ফ্লাশ সেলের সফলতার পর পুনরায় ফ্লাশ সেলের আয়োজন করছে নুবিয়ার মূল প্রতিষ্ঠান জেডটিই। ১১ নভেম্বর ফ্লাশ সেলে কেনা যাবে নুবিয়া এক্স।

চীনের বাজারে নুবিয়া ফোনটির বেস ভার্সনের দাম ৩২৯৯ ইয়েন। এই ভার্সনে আছে ৬ জিবি র‌্যাম এবং ৬৪ জিবি রম। হাইএন্ড ভার্সনটি পাওয়া যাবে ৮ জিবি র‌্যাম এবং ১২৮ জিবি রমে। এর দাম ৩৯৯৯ ইয়েন। ৮ জিবি র‌্যামে ২৫৬ জিবি রমে আরেকটি ভার্সন পাওয়া যাবে ৪১৯৯ চাইনিজ ইয়েনে।

নুবিয়া এক্স ফোনটিতে রয়েছে ৬.২৬ ইঞ্চির প্রধান ডিসপ্লে। সেকেন্ডারি ডিসপ্লেটি ৫.১ ইঞ্চির। এতে কোনো নচ নেই।

ফোনটি পরিচালনার জন্য রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেট।  এই ফোনের পিছনের ক্যামেরা দিয়েই সেলফি তোলা যাবে।

ডুয়াল সিমের এই ফোনটি চলবে অ্যানড্রয়েড অরিও অপারেটিং সিস্টেমে। ব্যাকআপের জন্য ফোনটিতে ৩৮০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে।

adbracksfb.jpg

বাংলাদেশে ‘অ্যাড ব্রেকস’ সুবিধা চালু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। আজ থেকে ব্যবহারকরীরা ফেসবুকে আপলোড করা ভিডিওতে বাংলা এবং ইংরেজি উভয়ই ভাষায় এই সুবিধা পাবেন।

যোগ্য প্রকাশক ও নির্মাতারা এখন অ্যাড ব্রেকস সুবিধার মাধ্যমে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ সময়ের ভিডিওগুলো থেকে আয় করতে পারবেন ও পেজের ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এই সুবিধা চালুর উদ্যোগ হিসেবে ফেসবুক বাংলাদেশেও এই সেবা সম্প্রসারিত করলো।

ফেসবুক জানে, বিভিন্ন দেশের প্রকাশক ও নির্মাতারা সব সময় তাদের ফেসবুকের ফলোয়ারদের সঙ্গে থাকতে ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করে এবং সেটা আপলোড করে।
তাই সেসব প্রকাশক ও নির্মাতাদের সহয়তা দিতে সুযোগ তৈরি করেছে ফেসবুক।

‘অ্যাড ব্রেকস’-এ যোগ দিতে প্রকাশক ও নির্মাতারা ভিজিট করতে পারেন এই ঠিকানায় fb.me/joinadbreaks, Creator Studio অথবা তাদের পেজের ভিডিও ইনসাইট অপশনে।
যেখানে যাদের দক্ষতা শর্তের সঙ্গে মিলবে না, তারা ফেসবুক ফলোয়ার, ভিডিও ভিউয়ার এবং মনিটাইজেশন এলিজিবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডস্‌ কমপ্লায়েন্সের ওপর একটি গ্রাফিক্স প্রেজেন্টেশন দেখতে পাবেন। যেখানে প্রতিটি পেজের যোগ্যতা অর্জনের অগ্রগতি ট্র্যাক করা যাবে।

মনিটাইজেশন এলিজিবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডস্‌ কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশক ও ক্রিয়েটর স্টুডিওতে একটি নতুন ভিজ্যুয়ালাইজেশন দেখতে পারবেন। যা নির্দেশ করবে পলিসি ভঙ্গ করা হলে ফেসবুক থেকে আয় করার উপর তাদের যোগ্যতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও সেখানে তারা নিয়ম ভঙ্গের তালিকা দখতে পারবেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওই তালিকা থেকে সরাসরি আপিল করতে পারবেন।

যখনই প্রকাশক ও নির্মাতারা অ্যাড ব্রেকস’র জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন সেই মুহূর্তেই তাদের আপলোড করা ভিডিওতে অ্যাড চালু করতে পারবেন। এছাড়াও যোগ্য হওয়ার পর ফেসবুক পেজগুলো একসঙ্গে একাধিক ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে তাদের পেজের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে পারবেন এবং সেখান থেকে আয় করতে পারবেন।

rokeya-uni.jpg

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের বাসে ট্রাকের ধাক্কায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

রবিবার বিকাল ৪টার দিকে নগরীর বাস টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ এবং পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল ৪টার দিকে মেডিকেল মোড়গামী বাসটি নগরীর টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে বাসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- তরুণ, তানভীর, মুবিন, আবিদ ও মুরাদ। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ধাক্কা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে।

dt008594.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের বিজ্ঞান, বাণিজ্য, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী শুক্রবার (৯ নভেম্বর)।বুধবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ বাংলানিউজকে বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর বিকেল ৩টায় বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মধ্যেদিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হবে। বিজ্ঞান ইউনিটে ৬ হাজার ৫শ আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৩১ হাজার ৮০৪ জন।

মোট ১২টি কেন্দ্রে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো: সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ড. শহীদুল্লাহ কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি করেজ, শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ এবং লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজ।

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১০ নভেম্বর (শনিবার) এবং বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৬ নভেম্বর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে।

বিস্তারিত তথ্য www.7college.du.ac.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

dt008587.jpg

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৭ সালে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। একই বছরে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেন। ২০১৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। সেই হিসাবে এক বছরে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৩৮ জন। যার মধ্যে ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৭৭ জন ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬১ জন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮২ জন। তার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯২৭ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৫ জন অধ্যায়ন করেন। সে হিসাবে গত এক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান  বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আমাদের দেশে আসছে। তাই আমরা এই বিষয়টিতে অতিমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে বিদেশিরা সহজেই আমাদের দেশে পড়তে পারে।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, অন্যান্য দেশে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে, আমাদের বাজেট কম হওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের যতটুকু রয়েছে, ততটুকুই নিবেদন করে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমনে এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার গুণগতমান পরখ করার সুযোগ আসে মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ‘সহজে যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা সকল তথ্য-সহায়তা পায় সেজন্য ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে একটি ডেস্ক খোলা হয়েছে। নতুন করে বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আবাসন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ইউজিসির প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বিশ্বের ৩৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের পদচারণা রয়েছে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশের শিক্ষার্থীরাই প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়।

উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যেসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে সে দেশগুলো হলো কানাডা, চীন, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, মালি, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, সিয়েরালিওন, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, ঘানা, জাম্বিয়া, জিবুতি, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, ইতালি এবং ইরান। বাংলাদেশের ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে এসব দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত ছিল।

বিদেশি শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোফিজুর রহমান  বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বৈশিক যোগাযোগ, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে মাল্টিকালচার চর্চা হয়। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে শিক্ষার্থী আসছে তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এটি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’

বর্তমানে আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে বেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পার্শবর্তী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারত থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী আনতে হলে সেসব দেশে শিক্ষামেলা ও প্রচার-প্রচারণা বাড়ানের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের জন্য হোস্টেল সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষার্থী বেশি আসলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যায়গুলো এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

গত আট বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি ও হ্রাস পেয়েছে। তার মধ্যে ২০১০ সালে ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে ২১০, ২০১২ সালে ৫২৫, ২০১৩ সালে ৩২৬, ২০১৪ সালে ৪৩২, ২০১৫ সালে ৫৯৩, ২০১৬ সালে ৩৫৫ এবং ২০১৭ সালে ৪৬১ জন। সেই হিসাবে তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যা বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চাইতে ২০১৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, তুলনামূলক কম শিক্ষা খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে যতজন এসেছে তার চাইতে ১০ গুণ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণ করছে। বিদেশ থেকে যাতে শিক্ষার্থী পড়তে আসে, এজন্য নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষার্থী টানতে প্রতিবছর এসব দেশ থেকে প্রতিনিধি এসে উচ্চশিক্ষা ফেয়ার করছে। শুধু মালায়েশিয়ায় বাংলাদেশি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। তাদের কাছে বাৎসরিক এক বিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি। অথচ আমরা সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ছিল দেড় লাখের বেশি। এর বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৯ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আসন ফাঁকা থাকছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফাঁকা আসনগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পূরণ করা গেলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে অভিমত দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ একটি ভালো স্থান। এটিকে যদি আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি হবে তবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ফেয়ারে অংশগ্রহণসহ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু আর্থিক লাভবান নয়, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে আমাদের চাইতে কম খরচে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তা রেখে কেন আমাদের দেশে আসবে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো উদ্যোগ ছাড়াই বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ছে। তাই এটিকে ধরে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter