top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

satkhira-2001261055.jpg

ছেলে-মেয়েদের জন্য মা-বাবা অনেক কষ্ট করেন। তেমনি একজন বাবা মোশারফ হোসেন। যিনি কিছুদিন আগেও রাজধানীর উত্তরায় একটি বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন। তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। আর বাবা-মায়ের কষ্টে উপার্জিত টাকায় পড়াশোনা করে বড় ছেলে গোলাম রসুল সুইট এখন সহকারী জজ।

মঙ্গলবার সহকারী জজ হিসেবে পিরোজপুর জেলায় যোগদান করবেন গোলাম রসুল। ১৯ জানুয়ারি ঘোষিত গেজেটে তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে ৬৭তম হয়েছেন তিনি।

গোলাম রসুলের বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউপির কোমরপুর গ্রামে। পরিবারের অভাব-অনটন থাকায় ঠিকমতো খেতে না পারলেও তিনি এখন জজ।

গোলাম রসুল বলেন, শাখরা কোমরপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভোমরা ইউপির দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করি। এরপর দেবহাটা উপজেলার সখিপুর খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। পরিবারে তখন খুব অভাব। কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে আমাদের দিন চলতো।

জজ সুইট বলেন, এইচএসসি পাসের পর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিক সে সময় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি। সেখানে এক ভাই আমাকে ঢাকায় গিয়ে কোচিং করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের সেই অবস্থা ছিল না। মায়ের একটি গরু ছিল। সেই গরুটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে ২০১০ সালের ১৭ মে ঢাকা যাই। এরপর একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হই।

তিনি বলেন, কিছুদিন পর মায়ের গরু বিক্রি করা সেই টাকাও ফুরিয়ে যায়। বাড়িতেও টাকা চাওয়া বা পরিবারের দেয়ার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। কোচিং পরিচালকের সামনে কান্নাকাটি করেছি। এরপর তিনি আমাকে বিনামূল্যে কোচিং ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এরইমধ্যে সঙ্গে থাকা সহপাঠীদের বন্ধু হয়ে যাই আমি। বন্ধুরাও আমার পারিবারিক অবস্থা জানার পর আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। বন্ধুদের সহযোগিতার কথাগুলো ভুলে যাওয়ার নয়। মা-বাবা মাঝে মধ্যে এক বা দুই হাজার করে টাকা দিতেন। গত এক মাস আগে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন। মাকেও এক বছর আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি।

গোলাম রসুল বলেন, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ হয়। বন্ধু ও শুভাকঙ্খীদের পরামর্শে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হই। ভর্তির পর টিউশনির পোস্টার ছাপিয়ে অবিভাবকদের কাছে বিতরণ শুরু করি। এভাবে পাঁচটি টিউশনি জোগাড় হয়। এভাবেই আমার শিক্ষাজীবন চলে।

তিনি আরো বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফলাফলে বি-ইউনিটে মেধা তালিকায় ১১তম হয়েছি। ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১০০ জনের মধ্যে হয়েছি ৬৭তম। এর মধ্যে নিয়োগ হয়েছে ৯৭ জনের। তিনজন পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন।

পিরোজপুর জেলার সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করবো জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বড় লোক হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। সব সময় ন্যায়ের পথে থেকে মানুষদের জন্য কাজ করবো। কখনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবো না। যখন চাকরিজীবন শেষ করবো তখন যেন অবৈধ উপায়ে উপার্জনের একটি টাকাও আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না থাকে। আমার কাছে সব মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। অসহায় মানুষরাও এর থেকে বঞ্চিত হবে না।

evaly-Cheating-part-2-2001261251.jpg

কৌশলে গ্রাহককে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে। অনলাইন শপিংয়ের পর ১৫ দিনে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্খিত পণ্য। সেই সঙ্গে অগ্রিম টাকা দিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন অনেক গ্রাহক।

সম্প্রতি এক গ্রাহক ইভ্যালি থেকে বড় ভাইয়ের জন্য মোটরসাইকেল অর্ডার দিয়ে হয়েছেন ঘরছাড়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে কীভাবে ঘরছাড়া হয়েছে তা তুলে ধরেছেন তিনি।

ফারুক ইসলাম নামের ওই গ্রাহক বলেন, ইভ্যালিতে বড় ভাইয়ের জন্য বাইক অর্ডার করে আজ আমি ঘরছাড়া। যতদিন না ডেলিভারি পাব ততদিন আর বাসায় ঢুকতে পারবো না। ভাই সবাই আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। কি করে হিরো বাইক ডেলিভারি পাওয়া যায় সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইভ্যালি থেকে প্রতিদিনই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ ইভ্যালি কখনো নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেয় না। এমনকি তিন চার মাস অপেক্ষায় রেখে গ্রাহককে বলা হয় স্টক আউট হওয়ার কারণে পণ্য দেয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ উঠেছে যাদের পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয় না তাদের সরাসরি টাকাও ফেরত দেয় না প্রতিষ্ঠানটি। ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গ্রাহকের করা অ্যাকাউন্টে এ টাকা রেখে পরবর্তীতে পণ্য কিনলে অ্যাডজাস্ট করা হবে বলে জানানো হয়। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে একটি অপরাধ।

আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, আমাদের টাকা আমরা দেখতে পাব কিন্তু নিতে পারবো না। তার মানে আমাদের সরলতাকে পুঁজি করে আমাদের জিম্মি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা যদি আমাদের পণ্য না দিতে পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত কেন দেয় না? মাসে এমন করে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা তাদের কাছে রাখছে। আর সেই টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে ইভ্যালি। এক অফারের পণ্য না দিতেই অন্য অফারে চলে যায় তারা। এতে ওই অফারেও নেয়া হচ্ছে টাকা। এ যেন আরেক ডেসটিনি। যারা এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে।

সম্প্রতি এক গ্রাহক তিনটি মোবাইল ফোন ক্রয়ের জন্য পেমেন্ট দিলেও তাকে যথা সময়ে ফোন না দেয়া, সঠিক হ্যান্ডসেট না দেয়া, বদলে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া এবং একটি ফোন ডেলিভারি দিয়ে তিনটি মোবাইলের রিসিট দেয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শামীম রাফি নামের ওই গ্রাহক ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ইভ্যালির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্টে আমি তিনটি মটোরোলা ই৫ প্লাস মোবাইল অর্ডার করি এবং তিনটি মোবাইলের জন্য ২৩ হাজার ৭০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করি। মোবাইলগুলো ১৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও স্টকে নেই বলে আমাকে ঘোরাতে থাকে। পরে এমআই রেডমি নোট ৭এস নামক মোবাইল ফোনটি নিতে পারবেন বলে জানায়। কিন্তু তার জন্য আরো তিন হাজার করে টাকা জমা দিতে হবে।

যেহেতু আমার তিনটি মোবাইলই দরকার ছিল, সেজন্য আমি আরো নয় হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে ইভ্যালিকে পেমেন্ট করি এবং তারা আমাকে ২২ নভেম্বর ‘পেপারফ্লাই’ নামক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ডেলিভারি করে।

কিন্তু ডেলিভারিকৃত মোবাইল ও তার মানি রিসিট দেখে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। কেননা তারা আমাকে যে ফোনটি ডেলিভারি করেছে সেখানে মাত্র একটি ফোন ছিল আর মানি রিসিটে ছিল আমাকে তিনটি মোবাইল ডেলিভারি দেয়া হয়েছে।

আমি তাৎক্ষণিক ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে জানানো হয় বাকি দু’টি মোবাইলের টাকা রিফান্ড করা হবে।

পরে আমি ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ করার পর ইভ্যালির কয়েকজন কর্মকর্তা ভোক্তা অধিকারের পরিচালকের রুমে ক্ষমা চেয়ে বাকি ফোন দু’টি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে গিয়ে দেখি সেখানে আগে থেকেই অনেক ভুক্তভোগী ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। প্রতিদিনই এমন ভুক্তভোগী আসছেন। সেই সঙ্গে ইভ্যালির কিছু কর্মকর্তারাও সব সময় সেখানে থাকেন এসব বিষয় ম্যানেজ করার জন্য।

ইভ্যালিতে অর্ডার থাকার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ইভ্যালির বড় সমস্যা হলো তারা ডেলিভারি টাইম ঠিক রাখে না। পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমি অর্ডার করে প্রায় তিন মাস হতে চলেছে এখনো প্রডাক্ট হাতে পায়নি। কর্তৃপক্ষ থেকেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

হালিম নামে এক গ্রাহক ইভ্যালির পেজে কমেন্টসে লিখেছেন, ‘গত ১৬ ডিসেম্বর প্রিসেলে অর্ডার করা ল্যাপটপ এখনো হাতে পাইনি। কাস্টমার কেয়ার জানিয়ে ছিলো ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যাবো। আস্থা রেখে আর একটা কলও দেইনি। এখন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম প্রসেসিং অবস্থায় আছে। দয়া করে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ থেকে একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ কি জানাবেন???।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের কাছে লিখিত যতগুলো অভিযোগ এসেছে তার পদক্ষেপ নিচ্ছেন সহকারী পরিচালকরা। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কী পরিমাণ অভিযোগ জমা পরেছে সেই সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিনই ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পরছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা এখনো কোনো ক্রেতার অভিযোগ পাইনি। তবে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে ইভ্যালির সমস্যার বিষয়টি নজরে এসেছে। সেগুলো ইভ্যালিকে জানিয়েছি। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি

5y3u.jpg

ভারতে নাগরিকত্ব (সিএএ) সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ চলছে। দেশটির উত্তরপ্রদেশ (ইউপি) রাজ্যেও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি যে নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ তা অবর্ণনীয়।

বিশেষ করে রাজ্যের মুসলিম বাসিন্দাদের উপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ইউপি পুলিশের বিরুদ্ধে। মুসলিম নারী-পুরুষ তো বটেই এমনকি শিশুদের পর্যন্ত রেহাই দিচ্ছে না তারা।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কারাভান ডেইলিতে ইউপি পুলিশের নির্যাতনের ভয়াবহ সব কাহিনী উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের উপর নির্যাতনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন পোর্টালটি।

উইপি’র মুজাফফরনগর শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ বছর বয়সি একটি শিশু জানিয়েছে, কীভাবে পুলিশ আগুনে গরম করা লোহার রড দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে। শিশুটি বলে, ‘পুলিশ গরম লোহার রড দিয়ে আমার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমাকে রাস্তায় জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে ফেলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু দুইজন পুলিশ আমাকে রক্ষা করে।’

পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিশুটি বলে, ‘তারা(পুলিশ) আমাদেরকে এবং আমাদের পবিত্র কোরানকে গালি দিয়েছে। দুইদিন আটকে রাখার সময় কোন খাবারও দেয়নি। এমনকি পুলিশ যে আমাদের আটকে রেখেছে এই খবরটিও পরিবারের সদস্যদের জানানোর কোন ব্যবস্থা করেনি।’

সে উল্লেখ করে একজন পুলিশ আমার কাছে এসে বলে, ‘তোর আল্লাহ কি এখন তোকে বাঁচাতে আসবে?’ এছাড়া পুলিশ তাদেরকে জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতেও বাধ্য করেছে বলে জানায় নির্যাতিত শিশুটি।

প্রসঙ্গত, ইউপিতে পুলিশি নির্যাতনের যে অভিযোগ রয়েছে তা সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়েছিল কারওয়ান-ই- মোহাব্বত টিম। তাদের প্রতিবেদনেই এই শিশুটির নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ইউপি পুলিশ কম বয়সি শিশুদের থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের নির্মমভাবে প্রহার করে। পুলিশের প্রহারের শিকার অনেক শিশুকেই আহত অবস্থায় দেখতে পেয়েছে টিমের সদস্যরা।

তারা দেখতে পান, পুলিশ হেফাজত থেকে তিন সপ্তাহ আগেই মুক্তি পেলেও এখনও ভয়ে কাঁপছিল ছেলেটি। সে জানায়, সিএএ’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় সে তার ভাইয়ের খোঁজে রাস্তায় গিয়েছিল কিন্তু পুলিশ তাকে বিক্ষোভকারী সন্দেহে আটক করে। এরপর তাকে নির্মমভাবে পেটায়। রড দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দেয়।

এরপর তাকে অবৈধভাবে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে দুইদিন আটকে রাখা হয়। এই দুইদিন তাকে কোন খাবারই দেয়া হয়নি। শিশুটি জানায় ওই ক্যাম্পে আটকে রাখা কাউকেই কোন খাবার দেয়া হতো না। বিশেষ করে যাদের পরনে কুর্তা পাজামা রয়েছে অর্থাৎ পোশাক দেখে মুসলমান মনে হয়েছে তাদেরকেই ক্যাম্পে আটকে রেখেছে পুলিশ।

ছেলেটি জানায়, প্রথম রাতে পুলিশ তাকে মারধোর করার পর ১০০ জন বিক্ষোভকারীর নাম বলার জন্য জোরাজুরি করতে থাকে। শুধু তাকেই নয় আরো যারা ওখানে ছিল তাদের সবার প্রতিই একই রকম আচরণ করেছে ইউপি পুলিশ।

এছাড়া ইউপির সামভাল শহরেও ছোট শিশুদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা জানতে পারা যায়। কারওয়ান-ই-মোহাব্বত টিমের তথ্য অনুযায়ী, সামভাল শহরে এখনো ১৯ জন শিশু পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

ইউপির মুজাফফরনগর, মিরাট, সামভাল এবং ফিরোজাবাদ এই চারটি শহরে আটককৃত ব্যক্তিদের উপর চরম নির্যাতন করেছে পুলিশ। মুজাফফরনগরে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন শিশুকে পুলিশ আটক অরে মারধোর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

E-Passport-480x250.jpg

দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ৩ দিনের মধ্যেই দুই হাজার গ্রাহক অনলাইনে আবেদন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের পর্যায়ক্রমে ১২-১৫ দিন পর বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেয়ার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ ই-পাসপোর্ট আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১২-১৫ দিন বিলম্বে পাসপোর্ট পাবেন। ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট উদ্বোধনের পরের তিন দিনে ২ হাজার আবেদন জমা পড়ে।

অধিদফতর সূত্রে জানায়, ই-পাসপোর্টে মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে যেগুলো সংগ্রহ করা এমআরপি থেকেও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যাচাই করে দেখা গেছে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহে ১৫ মিনিট করে সময় লাগবে। সেই হিসাবে কার্যঘণ্টা ও বুথ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করছে ই-পাসপোর্টের অনলাইন সফটওয়্যার।

অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে আবেদনের সম্পূর্ণ পদ্ধতি অনলাইনে। দ্বিতীয় ধাপের জন্য আবেদনকারীকে অধিদফতরে আসতে হবে। অনেকেই এই বিষয়টি না জেনে এবং অনলাইনে আবেদন না করে অধিদফতরে এসে ই-পাসপোর্টের জন্য ছোটাছুটি করছেন। তবে আমরা অনেকের কাছেই আমাদের মেসেজ স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে পেরেছি। ইতোমধ্যে তিন দিনে অনলাইনে দুই হাজার ই-পাসপোর্টের আবেদন পাওয়া গেছে।

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদনের পর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদের (বিআরসি) ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি মূলকপিও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দেখাতে হবে।

এছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

এমআরপিকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সর্বশেষ পাসপোর্টের ফটোকপিও জমা দিতে হবে।

assae.jpg

আসামে নতুন মেরুকরণ ঘটছে। বাংলাভাষী হিন্দুদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটছে। তথাকথিত বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেয়া প্রসঙ্গে তিন শর্ত দিয়েছেন আসামের প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এর মধ্যে রয়েছে, আবেদনকারীর ধর্মীয় পরিচয়, ২০১৪ সালের আগে ভারতে প্রবেশ ও বাংলাদেশি প্রমাণ করতে কোনো বাংলাদেশি নথি আসাম সরকারের কাছে জমা দেয়া। গত বৃহস্পতিবার আসাম রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা আয়োজিত অনুষ্ঠানে হিমন্ত পরিষ্কার করেন যে, ওই তিন শর্ত পুরা না করলে বাংলাদেশি হিন্দু দাবিদার হলেই নাগরিকত্ব মিলছে না। তিনি প্রতিদিনই চমক উপহার দিচ্ছেন। বাংলাদেশি হিন্দু হলেই যে তাদের জন্য আসামের মাটিতে জামাই আদর নেই, সেটাই গত কিছুদিন ধরে উঠতে বসতে স্পষ্ট করে চলছেন তিনি। মি. হিমন্তকেই বলা হয় নাগরিকপুঞ্জি প্রবর্তনের প্রধান রূপকার।

গত সপ্তাহান্তে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি হিন্দুরা নাগরিক হলেই বা কি হবে, তারা কখনো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবে না। গত বৃহস্পতিবার তিনি তো বোমা ফাটিয়েছেন। আগে তিনি এবং তার দলের প্রতিটি নেতা বলেছেন, নাগরিকপুঞ্জি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের আওতায় ৫ লাখ হিন্দু নাগরিকত্ব পাবে। এখন তিনি সুর বদল করে বললেন, ওদের সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখের বেশি হবে না। তাই আসামের গণমাধ্যমে এ নিয়ে তোলপাড়। হিমন্ত প্রায় প্রতিদিনই খবরের কাগজগুলোর টপ শিরোনাম থাকছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুসলিম বা হিন্দু বলে কোনো বিশেষ বাধন নেই ক্ষমতাসীনদের। রাজনীতি যেটা দরকার ছিল, সেখানে তারা স্কোর করে ফেলেছেন। সুতরাং প্রকৃত সমস্যা তারা সমাধানে আগ্রহী নয়। তারা এখন আবার ধর্মনিরপেক্ষ। তাই হিন্দু বলেই সহজে নাগরিকত্ব লাভের আশায় যারা বুক বেঁধেছিলেন তারা হতাশ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নতুন বিধি আসবে। এই বিধি মেনে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। দিনকয়েক আগে হিমন্ত আরো বলেছিলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় অত্যাচারের প্রমাণ দেয়া অসম্ভব। সেখানে তিনি এখন বলছেন, নাগরিকত্ব পেতে হলে কা-র অধীনে আবেদনকারীদের বাংলাদেশ থেকে আসা সরকারি কোনো তথ্য দিতে হবে।

এদিকে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ বাংলাভাষী হিন্দুকে নাগরিক করার ফল অসমীয়া ভাষার উপর কীভাবে পড়বে সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন। হিন্দু বাঙালি এবং মুসলমান বাংলাভাষীরা একজোট হলে অসমীয়া ভাষা কি নিঃশেষ হয়ে যাবে? এসব প্রশ্ন উঠে আসে ওইদিনের অনুষ্ঠানে। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু বাঙালি এবং বাংলাভাষীর মধ্যে বড়সড়ো ফারাক রয়েছে। অনেকের ধারণা, হিন্দু বাঙ্গালিরা কেবল বাংলায় কথা বলেন, এই ধারণা একেবারেই ভুল। ব্রহ্মপুত্রের কাছাকাছি থাকা অভিবাসী মুসলমানরা বাংলায় কথা বলেন। বাংলাভাষী মুসলমানের সংখ্যা আশি লাখের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। আর এতেই যত সমস্যা। হিমন্ত বলেন, বরাক সবাই বাংলায় কথা বলেন, এনিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হিন্দু বাঙালির চেয়ে অভিবাসী বাঙালিরাই বাংলায় কথা বলে বেশি। হিমন্ত কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন যারা হিন্দু তারা বাংলা বলে না। বাংলা বলে যারা মুসলমান তারা। কলাগাছিয়া, দলগাঁও, চেংগা বাঘবর, জনিয়া , বরপেটা, গরইমারি , দক্ষিণ শালমারায় দেখা গেছে, হিন্দু বাঙালির সংখ্যা কমছে। কিন্তু অত্যধিক হারে বেড়েছে বাংলাভাষীর সংখ্যা। তার কথায়, অসমীয়া ভাষার যদি সংকট থাকে, তার অন্যতম কারণ হলো অভিবাসী মুসলমানরা বাংলায় কথা বলছে। আর এই সমস্যা মেটাতে রাজ্যে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা অসমীয়া পরিচয় দিতে বাধ্য হয়।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হিমন্তের এই মন্তব্যটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ভাবে। যুব মোর্চার ওই আলোচনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল যোগ দিয়েছিলেন। তিনি এদিন বলেন, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে যারা এ দেশে এসেছেন তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ডা ছিল। এনিয়ে কোন গোপনীয়তা রাখা হয়নি। এই এজন্ডা নিয়েই বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনে গেছে এবং রাজ্যের মানুষ তাদের বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে।

amu45.jpg

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেছেন, রোববার বিএনপির প্রচারণা করার কোন শিডিউল প্রোগ্রাম ছিল না। এধরনের কোন শিডিউল প্রোগ্রাম আগে জানানো হয়নি। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যে এটা পরিষ্কার, এটা তাদের একটা সুপরিকল্পিত ঘটনা। এটা আগামী দিনে নির্বাচন বানচালের একটি ইঙ্গিত।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। দুপুরে হামলার ঘটনার পর জরুরি বৈঠকে বসেন নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট নেতারা।

আমির হোসেন আমু বলেন, তারা গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসছে, গণতান্ত্রিক ধারা সুষ্ঠভাবে চলবে এটাই আমাদের আশা-আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় তারা অনির্বাচনের ধারার ব্যাপারে কথাবার্তা বলা শুরু করল।তারা স্বপ্নে দেখা শুরু করল নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না, অবাধ হবে না, নিরপেক্ষ হবে না। তারা বলা শুরু করল, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তারা (বিএনপি) নিজেরা চ্যালেঞ্জ দেয়ার ঘোষণা দিল, তারা শেষ পর্যন্ত দেখে নেবে। এই সমস্ত কথাবার্তার মধ্য দিয়েই আমরা একটু আঁচ করতে পারছিলাম, তারা আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্যেই সুষ্ঠভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, নির্বাচন বানচাল করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লক্ষ্য করলাম, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমবেত করা হচ্ছে। তখন আমাদের সন্দেহ আরও প্রকট আকার করেছিল। আজকে তারই একটি বহিঃপ্রকাশ, দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করলাম।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওখানে বিএনপির আজকে কোন প্রচারণা করার কোন শিডিউল প্রোগ্রাম ছিল না। এধরনের কোন শিডিউল প্রোগ্রাম তাদেরকে আগে জানানো হয়নি। যদিও দুই-একদিন আগে দুই-একটা মারপিট হয়েছে। কিন্তু আজকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং আমাদের প্রায় ৫০ জন ছেলে (আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ) আহত হয়েছে। অনেকেই অল্প আহত। তাদের কয়েকজন আপনাদের সামনে উপস্থিত আছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে।

তিনি বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, সারাদেশের মানুষের যে আশা-আকাঙ্খা সেটা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তাদের এখনো শুভবুদ্ধির উদয় হবে। এখনো তারা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন গণতান্ত্রিক পন্থায়। নির্বাচন বানচাল করার জন্য নয়, নির্বাচনকে সুষ্ঠভাবে অংশগ্রহণ করবে এটাই আমাদের আশা-আকাঙ্খা।

আমির হোসেন আমু বলেন, দেশবাসীও আশা করে দেশে সুষ্ঠ, অবাধ নির্বাচন হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠভাবে হবে। কাজেই নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা। বিগত দিনেও বিএনপি হয় নির্বাচন বয়কট অথবা অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজকে তারই একটি অংশ আবার তারা নতুন করে শুরু করেছে। এই ঘটনায় যারা সতিক্যারের দোষী তাদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান আমু। পাশাপাশি আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যাতে সুষ্ঠভাবে থাকে, এদেশের মানুষ যাতে সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে, সজাগ হতে হবে এবং কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এই হামলার ঘটনায় দলীয়ভাবে কোন মামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আমির হোসেন আমু বলেন, আমাদের যারা আহত হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ দেয়া হবে। তারপর নির্বাচন কমিশন যেটা ভাল মনে করে সেটা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

koro44.jpg

চীন-সহ বিভিন্ন দেশে মহামারী রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মূল উৎসই হচ্ছে বিষধর চিনা সাপ ক্রেইট এবং কোবরা সাপ। করোনা ভাইরাস বাতাসে মিশে প্রাথমিকভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ করে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

• করোনার নেপথ্যে কোবরা?

• আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়ে চিনের বাইরে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস।

• এর আগে চিনের বাইরে থাইল্যান্ড ও জাপানে তিন জনের সংক্রমণের খবর মিলেছিল।

• এখন সুদূর মার্কিন মুলুকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়ে চীনের বাইরে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এর আগে চীনের বাইরে থাইল্যান্ড ও জাপানে তিন জনের সংক্রমণের খবর মিলেছিল। এখন সুদূর মার্কিন মুলুকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন এক ভারতীয় মহিলাও। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে আশ্চর্যজনক এক তথ্য। চিনের দুই প্রজাতির সাপ থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন-সহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মূল উৎসই হচ্ছে বিষধর চীনা সাপ ক্রেইট এবং কোবরা সাপ। করোনা ভাইরাস বাতাসে মিশে প্রাথমিকভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ করে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে চিনের হুয়ান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের বিষয়টি সামনে আসে। যা খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এবারের পরিস্থিতি ভয়াবহ। এই পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (WHO) বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি। চিনা ভাইরাসের বিস্তারের জেরে বিশ্বে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও শিগগিরর্ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত দশকে মাত্র পাঁচবার বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জরুরি মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। চীনা ভাইরাসের বিস্তার যে উদ্বেগজনক, তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে জটিল এবং উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বুধবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এই বিষয়ে আমি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ কীভাবে এই করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল, WHO চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তার তদন্ত করে দেখছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। লেখাপড়ার সূত্রের উহান শহরে বহু ভারতীয় ছাত্রের বসবাস। এই সময়ে দেশে ফিরছেন পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আশঙ্কা, যদি তাঁদের কেউ ওই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এ দেশে আসেন ও তা থেকে তার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে। তাই দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিন ও হংকং থেকে এদেশে কেউ এলে বিমানবন্দরেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হবে।

২০০২-২০০৩ সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সের সংক্রমণে দুনিয়াজুড়ে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পিছনেও ছিল করোনা ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নতুন সংস্করণ সেই সাবেক করোনা ভাইরাসেরই জ্ঞাতি। তবে এখনই নয়া ভাইরাসটিকে সার্সের মতো বিপজ্জনক ভাবার কারণ নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তাহলে এত আশঙ্কা কেন?

আসলে এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য, অভিযোজনের ক্ষমতা বা সংক্রমণের মাধ্যম, কিছুই জানা নেই। ফলে সেটিকে প্রতিহত করা যাবে, সে ব্যাপারেও আঁধারে তাঁরা। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক ধারণা, এর সঙ্গে সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। অগ্রিম সতর্কতাই তাই বিধেয়। চিন থেকে আগত বিমান যাত্রীদের জন্য তাই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের বন্দোবস্ত করেছে মুম্বই বিমানবন্দর। অভিবাসন সংক্রান্ত চত্বর পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে দিয়ে তাঁদের যেতে হবে বলে জানিয়েছে এয়ারপোর্ট হেলথ অর্গানাজেশন (এপিএইচও)। যদি কারও মধ্যে রোগের উপসর্গ মেলে, সেক্ষেত্রে তাঁকে আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো হবে। চিন-সফরে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য নির্দেশিকাও জারি করেছে সরকার। হাতধোয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হলে সে সংক্রান্ত আচরণবিধি মেনে চলা ও সর্বোপরি কাউকে দেখে অসুস্থ বলে মনে হলে তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে তাতে। রান্না না করা মাংস খেতে ও খামারে যেতেও বারণ করা হয়েছে যাত্রীদের। সূত্র- এই সময়

ctghs.jpg

‘স্মার্ট সিটি চট্টগ্রাম’ শিরোনামে আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠক আয়োজকদের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই বৈঠক আয়োজন করে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আয়োজন অসম্পূর্ণ। এই অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিডিএ, পিডিবিসহ চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তাদের ডাকা হয়নি। তাহলে কেন আপনারা আমাকে ডেকেছেন? আমাকে আপনারা বাসায় ডাকলেও আমি যাবো। আপনাদের সাথে আমার ঘনিষ্টতা আছে। কিন্তু মন্ত্রী পদটাকে মূল্যায়ন করার দরকার ছিলো।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সকল কাজ সক্ষমতার উপর নির্ভর করে শুরু করতে হবে। স্ব-স্ব দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সরে গেলে হবে না। একে অন্যের শুধু সমালোচনা করলে উন্নয়ন সম্ভব না। তাই সমালোচনা ছেড়ে এক সঙ্গে কাজ করলে উন্নয়ন সহজ হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটিকে স্মার্ট করার পরিকল্পনা ও কাজ দুইটি সমানভাবে করতে হবে। তবে শুধুমাত্র একটি জায়গার উন্নয়ন নিয়ে ভাবলে হবে না। পুরোটা নিয়ে ভাবতে হবে। তাহলেই স্মার্ট সিটি হিসেবে রূপ দেওয়া অসম্ভব কিছুই না।

yunus23.jpg

গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যান নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ হাজার টাকায় মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত।

শ্রম আইনের ১০টি নিয়ম লঙ্ঘন করার মামলায় রোববার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন তিনি। পরে আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এর আগে ১৩ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ তার প্রতিষ্ঠানের আরও তিনজনকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

তার আগে ৫ জানুয়ারি শ্রম আইনের ১০টি নিয়ম লঙ্ঘন করায় ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) তরিকুল ইসলাম।

মামলার বিবাদীরা হলেন গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা, পরিচালক আ. হাই খান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গৌরি শংকর।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর গ্রামীণ কমিউনিকেশনসে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দ্বারা ১০টি বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পান।

এর আগেও গত ৩০ এপ্রিল বাদীপক্ষের এক পরিদর্শক প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে ত্রুটিগুলো সংশোধনের নির্দেশনা দেন। এরপর ৭ মে ডাকযোগে এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষ জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক হয়নি। পরে ২৮ অক্টোবর বর্তমান পরিদর্শক আবারও তা অবহিত করেন। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে বিবাদীরা ফের সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের সময় অনুযায়ী তারা জবাব দাখিল করেননি।

এমতাবস্থায় বিবাদীরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ ধারা ৩৩ (ঙ) এবং ৩০৭ মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বাদী মনে করেন।

যে ১০টি বিধি লঙ্ঘন করেছে ড. ইউনূসের কোম্পানি

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর গত ১০/১০/২০১৯ খ্রি. তারিখে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) আইন ২০১৩ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর নিম্নোক্ত ১০টি লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয়। ড. ইউনূসের কোম্পানি এগুলো লঙ্ঘন করেছে-

১. বিধি মোতাবেক শ্রমিক/কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বহি প্রদান করা হয়নি।

২. বিধি মোতাবেক শ্রমিকের কাজের সময় এর নোটিশ পরিদর্শকের নিকট হতে অনুমোদিত নয়।

৩. কোম্পানিটি বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক রিটার্ন দাখিল করেনি।

৪. কর্মীদের বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেক নগদায়ন করা হয় না।

৫. কোম্পানির নিয়োগবিধি মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

৬. ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসব ছুটি প্রদান-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড/রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় না।

৭. কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫% শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল গঠনসহ লভ্যাংশ বণ্টন করা হয় না।

৮. সেফ্টি কমিটি গঠন করা হয়নি।

৯. কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করালেও কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স গ্রহণ করেননি।

১০. কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করেনি।

deujer5.jpg

বিসমিল্লাহ গ্রুপ এবং এনন টেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুছ ছালাম আজাদ। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিতে দুদকের মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুছ ছালাম। ওই সময় তিনি প্রভাবশালীদের তদবিরে অভিযোগের দায় থেকে সাময়িকভাবে মুক্ত হয়েছিলেন। দুদকের মামলায় দু’দফা তদন্তে তাকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে আসছে, শাখা প্রধান হিসেবে আবদুছ ছালাম আজাদ বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির দায় এড়াতে পারেন না। বর্তমানে দুদক তাকে ওই সময় অব্যাহতি দেয়ার কারণ খুঁজছে বলে জানা গেছে। বিসমিল্লাহ এবং এনন টেক্স দুই গ্রুপের ঘটনার সময়ই তিনি জনতা ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।

এনন টেক্স গ্রুপের ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় বর্তমান এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে দুদক। কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক পদে থাকার সময় তিনি আইন-কানুন ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গ্রুপটির ঋণের অনুমোদন, বিতরণ এবং পরিবীক্ষণে সহায়তা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব বিষয় ওঠে এসেছে।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মামলা থেকে আবদুছ ছালামকে অব্যাহতি দেয়ার কারণ নতুন করে খুঁজতে শুরু করেছে দুদক। অন্যদিকে এনন টেক্স সংক্রান্ত রিপোর্টটি দুদকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে দুদকের ব্যাংকিং ও মানি লন্ডারিং শাখার দু’জন পরিচালককে প্রাথমিক অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টটি পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, এখন আমাদের টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। অনুসন্ধানের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি : আবদুছ ছালাম আজাদ যখন জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তখন এ শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ৩৩৩ কোটি টাকার ঋণ হাতিয়ে নিয়েছিল। যার পুরোটাই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। পুরো ঋণটিই এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এ ঘটনা প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশদ তদন্ত করে। তাদের তদন্তে এ ঘটনার দায়ে আবদুছ ছালাম আজাদসহ কয়েক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে দুদক ওই শাখার ঘটনায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ৮ জন ও শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আবদুছ ছালাম আজাদসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ১৫ জনকে আসামি করে ২০১৩ সালে পৃথক দুটি মামলা করে। মামলা দুটির বাদী ছিলেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদক যখন কারও বিরুদ্ধে মামলা করে তখন পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ হাতে রেখেই করে। জনতা ব্যাংকের ওই শাখা ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যখন মামলা হল তখনও নিশ্চয়ই সে ধরনের প্রমাণাদি রেখেই মামলা হয়েছিল। কারণ শাখা ব্যবস্থাপকের সম্মতি ছাড়া ঋণ অনুমোদন সম্ভব ছিল না। কিন্তু ওই দুটি মামলার চার্জশিট থেকে আবদুছ ছালাম আজাদের নাম বাদ পড়েছে। বাকি কর্মকর্তারা আছেন আসামির তালিকায়।

সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের জনতা ভবন কর্পোরেট শাখায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকার ঋণ জালিয়াতি হয়। এর মধ্যে শাহরীশ কম্পোজিট টাওয়েলকে ১৮৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং আলফা কম্পোজিট টাওয়েলকে ১৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয় জালিয়াতির মাধ্যমে। ২০১১ ও ২০১২ সালের মধ্যেই এসব জালিয়াতির বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে। রফতানি বিল দেশে না আসায় তার বিপরীতে ফোর্স লোন তৈরি করে গ্রাহকের দেনা শোধ করার মত বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে।

এনন টেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি : ইউনুস বাদল জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণের নামে ৫৭৬৮ কোটি টাকা বের করে নেন। ওই টাকার মধ্যে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে তিনি একটি ‘ডামি ফ্যাক্টরি’ করেন। বাকি টাকা দেশের বাইরে পাচার করে দেন। একটি দেশে তিনি ‘সিসার’ বারও দেন। ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে তার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি প্রচার করেন। অথচ, তিনি প্রায় বেশিরভাগ অর্থ পাচার করে দিয়ে বেশ ভালোই আছেন। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির নামেও অভিনব জালিয়াতি করেছে গ্রুপটি।

জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কোম্পানি খুলে জনতা ব্যাংক থেকে এলসির (ঋণপত্র) টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ ওই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনুস বাদল নিজেই । এর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির কোনো সম্পর্ক নেই। এ জালিয়াতিতে সরাসরি সহায়তা করেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবদুছ ছালাম আজাদ। এ সংক্রান্ত পরিদর্শন রিপোর্টেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি ওই রিপোর্টটি দুদকেও পাঠানো হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এনন টেক্স গ্রুপের কর্ণধার ইউনুস বাদল বিএনপির প্রয়াত নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করেন। নানা ধরনের অপরাধেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গাড়ি চুরির পর নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করে বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় গাড়ি চুরি মামলায় তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের বর্তমান ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমানের টিমের হাতে। ওই সময় তাকে যাতে ‘গাড়ি চোর’ হিসেবে টিভিতে কোনো সংবাদ প্রচার না হয় সেজন্য টিমের এক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা তা নাকচ করে দেন।

যথারীতি গাড়ি চোর হিসেবে ইউনুস বাদলের নাম মিডিয়াতে চলে আসে। ইউনুস বাদল দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এনন টেক্সের ঋণ জালিয়াতিতে সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুছ ছালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter