top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

javed56.jpg

দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জীবনযাপনের সুবিধার্থে সরকারি খাস পুকুরের পাড় বাঁধাই করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, কিছু পুকুর স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেন তারা প্রাত্যহিক প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারেন।

বুধবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অন্তভু©ক্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বেদখল হওয়া সরকারি পুকুর দখলমুক্ত করে তা সংস্কার করা হবে। অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ভরাট করা খাস জলাশয় ও পুকুর উদ্ধারেও জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব পুকুর-জলাশয় দখলমুক্ত করে সমাজের হতদরিদ্র ভূমিহীনদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, অথবা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভাটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান বেগম উম্মুল হাছনা, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তসলীমুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব আবদুল হকসহ বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

hasan.jpg

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের দেশ আরো অনেকদুর এগিয়ে যেতে পারত যদি সব কিছুতে ‘না’ বলার বচাতিকটা পরিহার করত বিএনপি-জামাত।

তিনি বলেন, যদি সুন্দর করে মিথ্যা বলার জন্য কোন পুরস্কার থাকত তাহলে তাতে প্রথম পুরস্কার পেতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের যেভাবে না বলা, সুন্দর করে গুছিয়ে মিথ্যাকে পরিবেশন করা, সরকারের সকল কিছুতে না বলা- তারা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সাংবাদিক শাবান মাহমুদের ‘বঙ্গবন্ধুর সারা জীবন’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তিনবার পর পর ক্ষমতায় আসার কারণে দলের মধ্যে কিছু সুযোগ-সন্ধানী ঢুকে পড়েছে। তারা রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চায়। তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকবে হবে। গতকাল পুরান ঢাকায় যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তারা অনুপ্রবেশকারী ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাছাড়া তাদেরকে বহু আগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই, দেশবাসী অভিনন্দন জানাতে বাধ্য। শেখ হাসিনা কে কোন দলের, কে কোন পদের এটা না দেখে যারা দুষ্কৃতকারী, মুনাফা খোর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর এই প্রক্রিয়া বা অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশকে পরিশুদ্ধ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে ফায়দা লুটবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ তা হতে দিবে না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার উদ্দেশে তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। বঙ্গন্ধুকে হত্যার পর এদেশের নাম পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র করা হয়েছিল এবং জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করারও অপচেষ্টা হয়েছিল। বাংলাদেশ বেতারসহ অনেক কিছুর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।’

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা.এম এ আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক বরুণ ভৌমিক নয়ন, সাংবাদিক শাবান মাহমুদের বড় ভাই টুলু বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশফাক রহমান প্রমুখ।

dgdg.jpg

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলছে টানা সংঘর্ষ। অগ্নিসংযোগ, গুলি, বাড়িতে ঢুকে হামলা, বাদ নেই কোনও কিছুই। চার দিন ধরে খাস রাজধানীর বুকে শহরের একটা অংশে এমন হিংসাত্মক ঘটনা চলছে, অথচ দেশটির পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে কার্যত ব্যর্থ। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি পুলিশের এই ‘অপারগতা’ পরিকল্পিত? ঠিক যেমন অভিযোগ উঠেছিল ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময়। কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ থেকে বাড়তে দেওয়া হয়নি তো দিল্লির সংঘর্ষ? এমন প্রশ্ন উস্কে দিয়েছেন বিরোধীরা। কেউ সরাসরি, কেউ ইঙ্গিতে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এনসিপি নেতা নবাব মালিক সরাসরিই গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ সেখানে নীরব দর্শক। রাজধানী শহরে কেন এটা হবে? দিল্লিতেও ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার মডেল চলছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন উঠছে, অমিত শাহ এমন নির্দেশ দেননি তো যে, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি ব্যবস্থা না নেন এবং পুলিশ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তা হলে নিশ্চয়ই কিছু গণ্ডগোল আছে।’

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী অবশ্য নাম বলেননি। তবে দিল্লির সংঘর্ষের পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। কার ষড়যন্ত্র, কী ষড়যন্ত্র- সে সব স্পষ্ট না করেও সংঘর্ষ এত বড় আকার নেওয়ার দায় ঠেলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শাসক দল বিজেপির দিকে। পুলিশ-প্রশাসন কেন আগে থেকে সক্রিয় হয়নি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কী করছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দেখেও কেন আগে থেকে আধাসেনা ডাকা হল না, এমন সব প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, পুলিশ আগে থেকে আরও সক্রিয় হলে দিল্লির সংঘর্ষের পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত না। বরং আগেভাগেই সামলে নেওয়া যেত। গুজরাট দাঙ্গায় যে অভিযোগ ছিল, দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনকেও একই অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলছেন পর্যবেক্ষকদের একটা অংশ। কেন সেনা নামানো হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীন। সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অমিত শাহের উপর। মনে রাখতে হবে, ২০০২ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই সময় গুজরাট মোদীর মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাকতালীয়। তবে অনেকের মনেই ২০০২ সালের গুজরাটের সেই প্রেক্ষাপট ভেসে উঠছে।

কী হয়েছিল সেই সময়? ওই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ট্রেনে অযোধ্যা থেকে ফিরছিলেন করসেবকরা। জলন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান ৫৮ জন করসেবক। সেই ঘটনার পর থেকেই গোটা গুজরাট জুড়ে শুরু হয় হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ। প্রায় তিন মাস ধরে চলে হামলা, অগ্নি সংযোগ, হত্যালীলা। সরকারি হিসেবেই মৃত্যু হয়েছিল ১০৪৪ জনের, নিখোঁজ ছিলেন ২২৩ জন। আহত প্রায় আড়াই হাজার। নিহতদের মধ্যে ৭৯০ জন ছিলেন মুসলিম। হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৫৪ জন।

পরবর্তী কালে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা তো নেনইনি, উল্টে প্রচ্ছন্ন মদত দিয়েছিলেন দাঙ্গায়।

পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেননি। এমন অভিযোগও ওঠে যে, সরকারি কর্মকর্তারাই মুসলিমদের বাড়িঘর, সম্পত্তির তালিকা তুলে দিয়েছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের হাতে। সেই অভিযোগের তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১২ সালে সেই সিটের রিপোর্টে ক্লিনচিট দেওয়া হয় মোদীকে। পুলিশ-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগও খারিজ করে দেয় সিট। গুজরাট দাঙ্গা থেকে হাত ধুয়ে ফেলেন মোদী-অমিত শাহরা।

কিন্তু দিল্লির সংঘর্ষে ফের ফিরে এসেছে সেই প্রশ্নই। এনসিপির নবাব মালিক যেটা সরাসরি ‘গুজরাট দাঙ্গা’র উল্লেখ করে বলেছেন, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সেই প্রশ্ন তুলছেন আকারে ইঙ্গিতে। প্রকাশ্যে না হলেও অন্তত ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা চলছে তেমনটাই।

গুজরাট দাঙ্গার সময়কার সেই প্রশাসনকে ‘ঠুঁটো’ করে রাখার অভিযোগ মানেন না অভিযুক্তরা। দিল্লির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সোনিয়ার অভিযোগের পাল্টা হিসেবে বলেছেন, ‘এই সময় সব রাজনৈতিক দলের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। রাজনীতি করা উচিত নয়।’ অমিত শাহ যে দিল্লির সংঘর্ষে ‘নিষ্ক্রিয়’ নন, বরং ‘সক্রিয়’ সেটা বোঝাতে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বদল বৈঠক করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের মনোবল বাড়াতে ‘ভোকাল টনিক’ দিয়েছেন।

অন্য দিকে এ দিন ১৯৮৪ সালে শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে, ‘আর একটা ১৯৮৪-র দাঙ্গা হতে দিতে পারি না আমরা।’

26-02-20-Star-Mail-Photo-121.jpg

সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিডিআরে বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে আরও ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে কেঁচো খুঁড়তে বিষধর সাপের মতো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সম্পৃক্ততা’ বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “সর্বশেষ ২৫শে ফেব্রুয়ারি সেই পিলখানা ট্রাজেডি, পিলখানা ট্রাজেডি নিয়ে বিএনপি এখনও মিথ্যার বেসাতি করে যাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, তারা ক্ষমতায় এলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে।

“…ফখরুল সাহেব নতুন করে বিচার করতে গেলে ওই কেঁচো খুঁড়তে গেলে অনেক বিষধর সাপ বেরিয়ে আসবে। সেই ২৫শে ফেব্রুয়ারি, যিনি বেলা ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠেন না, সেই বেগম জিয়া সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে কোথায় পলায়ন করলেন? দুই দিন ধরে তার কোনো খবর নাই, খোঁজ নাই, হদিস নেই- সেই রহস্য নতুন বিচার করতে গেলে বেরিয়ে আসবে। কেঁচো খুঁড়তে গেলে সাপ বেরিয়ে আসবে।

“এবং বেরিয়ে আসবে যিনি দুপুর ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠেন না, ভোর ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত তারেক রহমানের সাথে দুই ঘণ্টাব্যাপী ১১ বার টেলিফোনে কী কথা-বার্তা হয়েছে? নতুন বিচার করতে গেলে এই রহস্য উদঘাটন করা হবে। কী কথা হয়েছিল মা-ছেলের, সেটাও জাতি জানতে পারবে। কাজেই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বিষধর সাপ বের করবেন না। এটা নিয়ে যতই ঘাঁটাবেন নিজেরাই জালে পড়বেন। ধরা পড়বেন। এই হত্যাকাণ্ডে আপনাদের সংশ্লিষ্টতা ভালোভাবে উদঘাটিত হবে।”

তিনি বলেন, এত লোকের বিচার, এত দ্রুত বিচার, দুনিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন। যা শেখ হাসিনা করেছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সারা দুনিয়ার জন্য একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের বিচার এত দ্রুত ও এত নজিরবিহীন বিচার দুনিয়ার ইতিহাসে কোথাও হয়নি। যেটা বাংলাদেশে শেখ হাসিনা করেছেন।

জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে সরকারদলীয় লোকজন ‘মুখরোচক অপকর্ম’ প্রকাশ করে- বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দেশে অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা একুশ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। এই দেশে ক্ষমতার রাজনীতিতে অনেক অপকর্ম, অনেক অপরাধ, অনেক দুর্নীতি, অনেক সন্ত্রাস, অনেক খুন হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোনো প্রধানমন্ত্রী, কোনো রাষ্ট্রপতি নিজ দলের লোকদের অপকর্মের বিচার করেননি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই এই দেশে প্রথম সৎ সাহস দেখিয়েছেন। অপকর্ম অপরাধের বিচার ঘর থেকেই শুরু করেছেন। সেই ধারায় পাপিয়ারা গ্রেফতার হয়েছে। এখানে মুখরোচকের কিছু নেই। পাপের বিচার হবে। অপরাধের বিচার হবে। শেখ হাসিনা কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা কোনো প্রকার অপরাধী অপকর্মকারীকে তার দলে প্রশ্রয় দেন না। এটাই তার প্রমাণ। এই পাপিয়াও বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশেই গ্রেফতার হয়েছে। এখানে অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না।

বিএনপির মধ্যে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকা সত্ত্বেও তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার করেনি বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের সংগঠক কেএম শহীদুল্লাহ প্রমুখ।

governmm.jpg

গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ১১ অতিরিক্ত সচিব পদে রদবদল এনেছে সরকার। বুধবার অতিরিক্ত সচিবদের বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তীকে বাংলাদেশ সমুদ্রবিদ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. গোলাম ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব এস এম তরিকুল ইসলামকে ওয়াক্ফ প্রশাসক, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. নুরুল আলম নিজামীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, জননিরাপত্তা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বিপিএটিসির এমডিএস, কৃষি মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিককে গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম আহসানকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাসানুল ইসলামকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মৃণাল কান্তি দেবকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্যকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল্লাহ হারুন পাশাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ এমদাদ উল বারীকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক নিয়োগ দিতে তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের যুগ্মপ্রধান (যুগ্মসচিব) আব্দুল বারীকে একই প্রতিষ্ঠানের সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

w5jw5w5.jpg

নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ ও নের্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাবলীগ জামায়াতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী সমর্থক ও মাওলানা জুবায়ের পন্থী সমর্থকদের মধ্য ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় স্থানীয় একটি মসজিদেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার তারাবো এলাকার মারকাজ মসজিদে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মসজিদের চারপাশের জানালার কাঁচ সহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তাবলীগ জামায়াতের আমির মাওলানা জুবায়ের পন্থী ও মাওলানা সাদ পন্থী দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আমির কে হবেন, কার নেতৃত্বে তাবলীগ জামায়াত চলবে এ নিয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর জুবায়ের পন্থী স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও সাদ পন্থী গ্রুপের নেতা আব্দুল কাইয়ুম এর সাথে মতবিরোধ নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপরপক্ষের উপর লাঠিসোটা ইটপাটকেল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন মুসুল্লি আহত হযন। হামলায় মারকাজ মসজিদের চারপাশের জানালার কাঁচ ও মসজিদের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, তাবলীগ জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও মসজিদে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনার ব্যাপারে কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

sringla24.jpg

মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার সফর সামনে রেখে ঢাকায় আসছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। আগামী ১ মার্চ তিনি দুইদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সূচি চুড়ান্ত এবং তার নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় চুড়ান্ত করতেই দেশটির পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা ঢাকায় আসছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ মার্চ শ্রিংলা ঢাকা পৌঁছাবেন। পরদিন ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করবেন তিনি। একই দিন শ্রিংলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

ঢাকা সফরে ২ মার্চ ‘বাংলাদেশ ও ভারত: একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারেও যোগ দেবেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। পররাষ্ট্র সচিব হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকায় আসছেন শ্রিংলা।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন ভারতের নরেন্দ্র মোদী।

aehgaeh.jpg

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে দেশটির দিল্লিতে সহিংস ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪। সহিংসতার মধ্যেই দিল্লির একটি মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।শুধু তাই নয় দিল্লির ওই মসজিদ আগুন দেয়ার পর টানানো হয়েছে হনুমানের নিশান।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, হামলাকারীরা জয় শ্রী রাম স্লোগান দিয়ে মসজিদে হামলা চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারীরা মসজিদের মিনারে উঠে হনুমানের নিশান টাঙিয়ে দিচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য দমকল বাহিনীর সদস্যরা সেখানে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে । তবে ঘটনাস্থলে কোন পুলিশ দেখা যায়নি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার একদল উন্মত্ত জনতা জয় শ্রী রাম বলতে বলতে অশোক নগর এলাকার একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। অশোক নগরের এলাকাবাসী জানিয়েছে, যারা মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তারা ওই এলাকার নয়।

প্রসঙ্গত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত সোমবার শুরু হওয়া সংঘাত এখনো চলছে।এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস । এছাড়া ৭ আহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশ মানুষ।

amitshah5.jpg

ভারতে পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিক আইন সংশোধনীর (সিএএ) সমর্থনে সভা হলেও ঠিক এমন একটা সময়ে অমিত শাহ কলকাতায় আসছেন তখন শিয়রে রাজ্যের পুরভোট। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ের আগে এই পুরভোট বিজেপির কাছে কার্যত সেমিফাইনাল। রয়েছে কলকাতা কর্পোরেশনের ভোটও। সেই পুর যুদ্ধের আগে নরেন্দ্র মোদির প্রধান সেনাপতি সভা করবেন কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার বুকে শহিদ মিনার ময়দানে।

স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে, সভায় এসে পুরভোট নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিন অমিত শাহ। আর রাজনৈতিক মহলও মনে করছে যে, শহিদ মিনারের সভা থেকে কার্যত পুরভোটের দামামাই বাজিয়ে দিয়ে যাবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে দলের প্রচারের সুরও বেঁধে দিয়ে যাবেন তিনি।

আগামী রোববার অমিত শাহর সভার প্রস্তুতি নিয়ে জোর তৎপরতা ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে। দফায় দফায় বৈঠক চলেছে। শুধু শাহই নন, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষও আসছেন কলকাতায়। শহিদ মিনার ময়দানের প্রস্তুতি দেখতে বুধবার দুপুরে মাঠ পরিদর্শন করেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ-সহ রাহুল সিনহা, দিলীপ ঘোষ, জয়প্রকাশ মজুমদার, বিধায়ক সব্যসাচী দত্তরা। শহিদ মিনার ময়দান নন-রেসিডেন্সিয়াল এলাকা হলেও পরীক্ষার মরশুমে আদালতের নিয়ম মেনে মাঠের চারিদিক চট ও কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাইকের বদলে বক্স ব্যবহার করা হবে। জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দলীয় সূত্রে খবর, যেহেতু একাধিক মঞ্চ করার জায়গা কম তাই দু’টি মঞ্চ হতে পারে অথবা ‘ডবল ডেকার স্টেজ’ করার ভাবনাও রয়েছে। যেখানে প্রথম মঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্যের শীর্ষ কয়েকজন নেতা থাকবেন। মঞ্চের পেছনের দিকে সাংসদ ও বিধায়করা। সভায় সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশকে জমায়েত করানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের ফেজটুপি পরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যাতে বোঝানো যায়, সিএএ’র সমর্থনে রয়েছেন সংখ্যালঘুরাও।

সূত্রের খবর, ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যদি অমিত শাহ না আসতে পারেন তাহলে ১ মার্চ জনসভার পর পুরভোট নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ নেতা ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। একান্তই শাহ যদি বৈঠক করতে না পারেন তাহলে জেপি নাড্ডা ও বিএল সন্তোষ বৈঠক করবেন। যে সব জেলায় পুরসভার ভোট রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার দলের সভাপতিদের রবিবার রাতে কলকাতাতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২ মার্চ পুরভোট নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হবে। যেখানে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নাড্ডা। শাহর নির্দেশ মতো পুরভোটের প্রচার, রণকৌশল সবকিছু ছকে দিয়ে যাবেন তিনি।-সংবাদ প্রতিদিন।

papiua35.jpg

সদ্য বহিষ্কৃত নরসিংদী যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউকাণ্ডে তোলপাড় সারাদেশ। বেরিয়ে আসছে অনেক রথী-মহারথীর নাম। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের দেয়া তথ্য, একাধিক মোবাইল ফোনের কললিস্ট, কলরেকর্ড, ভিডিও ক্লিপস ও ছবির সূত্রে শত শত নারী-পুরুষের সম্পৃক্ততার হদিস মিলেছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একের পর এক পাপিয়ার ছবি আর ভিডিও।

রাজনীতির আড়ালে করতেন দেহ ব্যবসা। বিভিন্ন সুবিধা আদায়ে অনেক নেতাই তরুণীর যোগান দিতে যুব মহিলালীগের সাবেক নেত্রী পাপিয়ার সহায়তা চাইতেন। ওই নেতাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক ছবিই পাপিয়া কৌশলে তুলে রেখেছেন। ওইসব ছবি দিয়েই ব্ল্যাকমেইল করতেন পাপিয়া। ওইসব ছবি ব্যবহার করে সমাজের উঁচু স্তরের লোকদের ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়াও বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ বাণিজ্য করতেন পাপিয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, পাপিয়ার উত্থানের পেছনে কাদের ভূমিকা ছিল, কারা পাপিয়া গংদের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা নিতেন, তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

রাজনীতিতে উত্থানের নিয়ামক হিসেবে দুজন প্রভাবশালী নেত্রীর নাম বলেছেন পাপিয়া, জানালেন ওই কর্মকর্তা।

পরে তারাও নিয়মিত পাপিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতেন। তাদের একজন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক এমপি। পাপিয়ার সঙ্গে তার গাড়ির ব্যবসাও রয়েছে।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনে পাপিয়া বলেছেন, বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য অনেক নেতাই তরুণীর জোগান দিতে পাপিয়ার সহায়তা চাইতেন। ভিআইপিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে ১২ রুশ তরুণীকে ব্যবহার করতেন যুব মহিলালীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া।

সূত্রে আরও জানা গেছে, এক শীর্ষ কর্মকর্তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওয়েস্টিনে। নিয়মিত সকালের নাশতা ও মধ্য রাত পর্যন্ত তিনি থাকতেন ওয়েস্টিনে। পাপিয়া বেশ কিছু দিন আগে রাশিয়া থেকে ১২ নারীকে ঢাকায় এনেছিলেন। যাদের বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়। কিন্তু ওই শীর্ষ কর্মকর্তা তাদের ছেড়ে দেন।

এই ১২ রুশ তরুণী ছিল পাপিয়ার প্রধান টোপ। এদের পাঠানো হত ভিআইপিদের কাছে। ভিআইপিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে ১২ রুশ তরুণীকে ব্যবহার করতেন পাপিয়া। তাদের মূল ব্যবসা ছিল উঠতি শিল্পপতি-ব্যবসায়ীসহ সমাজের উঁচুস্তরের লোকদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।

পাপিয়াকে উদ্ধৃত করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে ভিআইপিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখা হত। পরবর্তী সময়ে সেই ফুটেজ ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হত মোটা অংকের টাকা।

এসব কাজে স্বামী সুমন চৌধুরী পাপিয়াকে সহায়তা করতেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘনিষ্ঠ অনেক ভিআইপির নামও প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি। আর এসব তথ্য পেয়ে বিব্রত হচ্ছেন তারা।

কারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, বিভিন্ন কমিটিতে বড় পদ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারাই বা তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন- সব তথ্যই এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাপিয়ার অর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদক পাপিয়া-সুমন দম্পতির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ নিতে রাজস্ব বোর্ডকে খুব শিগগিরই চিঠি দেবে বলে জানা গেছে। এই দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেবে দুদক।

দুদক বলছে, পাপিয়া থেকে সুবিধা নেয়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তালিকা পাওয়ার পর তাদেরও নজরদারির আওতায় আনা হবে। এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও পাপিয়া নিয়মিত কালীমন্দিরে যেতেন।

তিনি শিব লিঙ্গেরও পূজা করতেন। পাপিয়ার এক হাতে পবিত্র কাবা শরিফের এবং অন্য হাতে মন্দিরের ছবি আঁকা রয়েছে। এটি অকপটে স্বীকারও করেছেন পাপিয়া।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আইনগত বাধা এড়াতে মামলাটির তদন্ত হাতে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদ করে পাপিয়ার কাছ থেকে আমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।

আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছি।