top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Biman-3.jpg

বাংলাদেশের আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে সরকারি-বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে। এ জন্য যশোর থেকে একজন যাত্রীকে ঢাকায় এসে সিলেট বা অন্যান্য রুটের ফ্লাইটের টিকিট কাটতে হয়। তবে দীর্ঘদিনের এই রীতি ভাঙতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এরই অংশ হিসেবে সিলেট থেকে কক্সবাজার ও সৈয়দপুর থেকে কক্সবাজারে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, আকাশপথে আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়কপথে যানজট, ফেরিঘাটে দুর্ভোগ, ট্রেনের টিকিটের সংকট ও নৌপথে নাব্যতা-সংকটের কারণে যাত্রীরা আকাশপথকে বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া দেশের মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ায় আকাশপথে টিকিটের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন বেসরকারি বিমান সংস্থাও দিন দিন ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়েছে। এসব বিষয় চিন্তা করে অভ্যন্তরীণ রুটে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়েছে বিমান। এরই অংশ হিসেবে সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে প্রতি সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-যশোর রুটে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট চালুর চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা-রাজশাহীতে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে বিমান।

বিমানের সৈয়দপুর জেলা ব্যবস্থাপক মাহবুব আল হাসান বলেন, সৈয়দপুর হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ বাণিজ্য ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর। রংপুর বিভাগের একমাত্র সৈয়দপুর বিমানবন্দরটিতে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী বাড়ছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মাথায় রেখেছে।

সরকার সৈয়দপুরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই বিমানবন্দর থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তাই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রুটে নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। তিনি বলেন, একসময় সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে সপ্তাহে শুধু বিমানের তিনটি ফ্লাইট ছিল। এখন বিমান ছাড়াও বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সব মিলিয়ে সৈয়দপুর রুটেই প্রতি সপ্তাহে ফ্লাইটের সংখ্যা বর্তমানে ৭৮টি। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ চলছে। তাই এই রুটে যাত্রী চাহিদা বিবেচনা করে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট-কক্সবাজারে সরাসরি বিমান চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, নতুন এয়ারক্রাফট আসার ওপর নতুন করে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে বিমান বহরে তিনটি নতুন ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

বর্তমানে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৩। এ ছাড়া চলতি বছর দুটি ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যুক্ত হবে।

karnaphuli-tunel.jpg

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম সড়কপথ ‘কর্ণফুলী টানেলকে’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য প্রস্তাবটি রেখেছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সোমবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্র জানায়, মূলত প্রথম সভায় মন্ত্রিসভায় সদস্যরা প্রত্যেকে নিজেদের পরিচয় এবং বক্তব্য তুলে ধরেন।

সূত্রমতে, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিজের পরিচয় পর্ব শেষ করার পর কর্ণফুলী টানেলের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি এই টানেলের নাম বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, যেহেতু দেশে এই প্রথম কোন টানেল নির্মিত হচ্ছে এবং চট্টগ্রামে যেহেতু সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য তেমন কোন বড় স্থাপনা নেই, তাই টানেলটি বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা যেতে পারে।

দেশের প্রথম বৃহত্তম বহুমুখী সেতু যমুনা সেতু বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রসঙ্গও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রিসভার তরুণ এই সদস্য। নওফেলের বক্তব্যে সমর্থন জানান চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত আরেক সংসদ সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া ড. হাছান মাহমুদ।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এই বক্তব্য রেকর্ডে রাখার নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে সেই অর্থে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য বড় কোন স্থাপনা বঙ্গবন্ধুর নামে নেই। যমুনা সেতু হচ্ছে দেশের সর্বপ্রথম বৃহৎ বহুমুখী সেতু, যেটি বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা হয়েছে। টানেলও দেশে প্রথম নির্মিত হচ্ছে এবং চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় বহুমুখী সেতু। এই টানেল বঙ্গবন্ধুর নামে অবশ্যই হতে পারে।’

নওফেলের বক্তব্যের সূত্র ধরে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সিলেট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রবাসি কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদও সিলেটে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ বঙ্গবন্ধুর নামে করার প্রস্তাব তুলে ধরেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার ভোটের মাঠে এসে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য। তরুণ এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায়ও রেখেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে এক জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গেলে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি অংশ থেকে অপর পাশে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত সোয়া তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে।

এখানেই নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে টানেল। এরই মধ্যে প্রকল্পের ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ টানেল নির্মাণ শেষে গাড়ি চলাচল শুরু হবে।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চীন অর্থায়ন করছে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম নদীর তলদেশে সড়ক টানেল নির্মাণ করছে।

mahbub5.jpg

রাজনীতি থেকে অবসরের চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। এরই মধ্যে দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও যোগদান থেকে বিরত রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজে থেকেই সরে দাঁড়ান তিনি। বিএনপির এই দুঃসময়ে কেন অবসরের কথা চিন্তা করছেন জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বয়স তো কম হলো না। শারীরিকভাবেও আমি অসুস্থ। তা ছাড়া বাংলাদেশে সুরাজনীতির ভবিষ্যৎও অন্ধকার। তরুণদেরও তো রাজনীতিতে জায়গা করে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাই এখন আমার অবসর নেওয়াই উচিত।’

তবে রাজনীতি থেকে অবসরের জন্য বিএনপিকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেননি তিনি। দেশের বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জেনারেল মাহবুব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশে তো এখন রাজনীতি নেই। বিশেষ করে বিএনপির কোনো রাজনীতি দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশের সুরাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সৎ রাজনীতি নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মানুষের কল্যাণের রাজনীতি এমনকি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের রাজনীতি নিয়েও আমার মনে সন্দেহ চলে এসেছে। সুশাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এগুলোর অভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশে যারা সত্যিকারার্থে রাজনীতি করতে চান, তারাই এখন সন্দেহ অবিশ্বাসে ভুগছেন। দেশে চরম রাজনৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। রাজনৈতিক সচেতনতাবোধ বা সৌজন্যতাবোধ নেই। প্রতিহিংসা আর জিঘাংসার রাজনীতি বিদ্যমান। নীতির প্রশ্নে আদর্শের প্রশ্নে রাজনীতি এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির কঠিন দুঃসময় চলছে। এই সময় তাদের ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। মন খারাপ করা যাবে না। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, ভাবাদর্শ ও তার চেতনাকে পাথেয় হিসেবে নিতে হবে বিএনপিকে।’ বিএনপির রাজনীতি কোন পথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি সঠিক পথে নেই। অতীতে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। এগুলো শুধরাতে হবে। এটা থেকে উত্তরণে সবাইকে জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপিতে অনেক ভালো নেতা রয়েছেন। দল থেকেই সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। তাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে।’

লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ১৯৯৬ সালের ২০ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠিন দুঃসময়ে ১০ম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর মাহবুবুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নে দিনাজপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  বিএনপির পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে পরপর দুইবার তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে অলংকৃত হন। এখনো ওই পদে বহাল রয়েছেন তিনি।

5ne.jpg

ঠিকানা ও পদবি একই। শুধু বদলেছেন পরিচয়। আগে ছিলেন ‘শহীদ জিয়া একতা ক্লাব’-এ, এখন হয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু একতা ক্লাব’-এর সভাপতি। বলছি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর খুরশিদ আলমের কথা। কয়েক দিন ধরে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌর এলাকার গনিপুরের খুরশিদ আগে বিএনপি করলেও এখন রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়েছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় ঠেলাগাড়ির শ্রমিকদের সংগঠনের নেতাও তিনি।

শুধু খুরশিদ আলমই নন, এমন অনেক ‘খুরশিদ’ই এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে ‘আওয়ামী লীগার’ হয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন আওয়ামী লীগার হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ কেউ মুজিব কোট লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা-ওলিগলি। আবার রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামীদামি ব্র্যান্ডের কাপড় দিয়ে মুজিব কোট বানানোর হিড়িক পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই নন, অনেক পেশাজীবীও  এখন টক শোতে মুজিব কোট পরা শুরু করেছেন। নিজেকে ‘আওয়ামী লীগার’ প্রমাণ করতে প্রাণপ্রণ চেষ্টা করছেন। শুধু টক শোই নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে তারা মুজিব কোট পরে হাজির হচ্ছেন। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে দল ও পরিচয় পাল্টানোর প্রতিযোগিতা। সচিবালয়ে ভিড় বাড়ছে তাদের। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতা উল্লেখ করে ভিজিটিং কার্ডও বিলি করছেন, যারা বিএনপির পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডের মালিক ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শ্রেণি আছে, যারা সব সময়ই সরকারি দলের লোক। সে কারণেই ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ে। আর এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নিকট অতীতে উপমহাদেশে এত বিশাল জয় নিয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগে আসতে চাইছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লোকজন। সে কারণে রাতারাতি দল বদল করে বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগ ‘তকমা লাগানো’র প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষে অন্য দল থেকে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক এমপি-মন্ত্রী ও নেতা নিজ বলয় ভারী করতে যোগদান করাচ্ছেন বা করিয়েছেন খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে জামায়াত-বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এদের অনেকেই হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নাশকতা মামলার আসামি। মামলা থেকে রেহাই পেতে তারা যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে। একইভাবে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবার আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়েছে। এসব ব্যক্তির আওয়ামী লীগে যোগদানকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ভয়ংকর খারাপ। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখলাম একটি জেলায় গণধর্ষণকারী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। আমি বলব, আওয়ামী লীগে এমন কাউয়া দরকার নেই। এরা শুধু আওয়ামী লীগেরই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। এখন অনেকেই আওয়ামী লীগে আসতে চাইবে বা আওয়ামী লীগার সাজার চেষ্টা করবে। কারণ অনেকেই ফৌজদারি মামলা থেকে বাঁচার জন্য, অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দল বদলাবে। এসব কর্মীর দরকার নেই। এটাই শেষ নয়, আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রায় শেষ। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চাইবে। কাজেই দলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সূূত্রমতে, গত ১০ বছরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে তাদের অর্থবিত্তের সাহায্যে এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে কৌশলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বৈধ ও অবৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল অর্থের মালিক হয়। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাহারা হওয়ার পর তারা এই অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করে। তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণির নেতা-কর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পার্টনার করে ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসায়। তখন এই পার্টনারদেরই দায়িত্ব হয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থসম্পদ রক্ষা এবং তা পাহারা দেওয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে এখন হাইব্রিড বা কাউয়া পরিহার করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ যারা নিজেদের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে ভিড়ছে তারা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেটে পড়বে। দুর্দিনে থাকবে না। গত ১০ বছরকে ভুলে যেতে হবে। বড় বিজয়ে বড় শঙ্কা থাকে। সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। জামায়াত-বিএনপি থেকে নেতা-কর্মীকে দলের টানা যেমন বন্ধ করতে হবে, যারা খোলস পাল্টে মুজিব কোট পরে আওয়ামী লীগার হওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। টানা হ্যাটট্টিক জয়ে ক্ষমতায় আসার পর মুজিব কোট পরা পেশাজীবীদের চিনে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাতারাতি সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসতে চাইলে তাকে নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা আদর্শ নিয়ে দল করতে আসে না। তারা আসে ক্ষমতা ভোগ করতে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এরাই হত্যা, অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। ফলে দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর পড়ে। এখন দল টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা জীবনে এক দিনও আওয়ামী লীগ করেনি, বা দলের জন্য ঝুঁকি নেয়নি, টক শোতে কথা বলেনি, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা এমপি-মন্ত্রীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে। তবে সতর্কভাবে তাদের হ্যান্ডলিং করতে হবে।’ এদিকে রাজনীতিতে ‘অতিথি পাখি’র আগমনে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা অভিমান করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবছেন। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অভিনেত্রী থেকে শুরু করে দল করেন না এমন ব্যক্তিরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন কেউ কেউ। এদের একজন সাবিনা আকতার তুহিন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে স্লোগানকন্যা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তুহিন। তিন দিন আগে তিনি তার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি থেকে মনে হয় বিদায় নিতে হবে। নায়ক-নায়িকাদের এত ভিড়ে আমাদের আর দেখা পাওয়া কঠিন। আন্দোলন-সংগ্রামে রোদে পোড়া শরীর এখন কিছুটা ভালো দেখতে হলেও নায়িকাদের রূপে বিলীন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে এত লোক, বিরোধী দলে থাকতে তো দেখি নাই। মেয়েদের রাজনীতিতে কেবলই জ্বালা, নায়িকাজ্বালা। আবার মেয়ে হওয়ার জন্য পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও সাধারণ আসনে নমিনেশন দেওয়া যাবে না। সরকারি দলের চেয়ে তো বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম, নিজেদের দল নিজেদের ছিল। এখন মহাবিপদ। আমাদের দল ছিনতাই করছে বিএনপি থেকে আমদানি হওয়া হাইব্রিড নায়িকারা।’

yabawhite3.jpg

দেশে প্রথম বারের মতো সাদা ইয়াবা উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে মো. ইদ্রীস (২২) নামের এক কিশোর।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের ফিরিঙ্গীবাজার এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হলেও সোমবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় গণমাধ্যমে খবরটি জানানো হয়।

ওই বার্তায় বলায়, লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবার পর এবার মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ‘সাদা ইয়াবা’ ঢুকছে। তবে লাল ইয়াবার অবয়বে আকারে সামান্য ছোট করে তৈরি এসব ইয়াবা। বালতির তলানিতে ইয়াবা রেখে উপরে আরো একটি তলার আবরণ লাগিয়ে সেখানে ইয়াবার এ চালান লুকানো ছিল।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা আগে লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবা দেখেছি। সম্প্রতি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নতুন রঙের ইয়াবা তৈরি শুরু করেছে মাদক কারবারিরা।’

এদিকে নারকেলের ভেতর লুকিয়ে আনা ১ হাজার ৬৬৩ পিস ইয়াবাসহ রাকিব হোসেন বাবু (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অপর একটি টিম।

সোমবার ভোরে নগরের লালদীঘি জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে ঢাকা মুখি ইউনিক পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাকিব হোসেন বাবু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তবে ঢাকার মিরপুরে তার অবস্থান। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ACC.jpg

রাজধানীতেই ৫টি বাড়ি, গাজীপুরে একরের পর একর জমি। জন্মভূমি কুমিল্লাতেও একই অবস্থা। পিছিয়ে নেই স্ত্রীও। তার নামেও রয়েছে জমাজমি আর পুঁজিবাজারে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ।

তবে সম্পদের এই ‘কুমির’ ঢাকা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, আমাকে হ্যারাসমেন্ট করার জন্য, এটা ভুয়া। চাকরি করি কিছু সম্পত্তি তো আছে, তবে ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে যা আছে। তার বাইরে আমার কিছু নেই।’

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির সন্ধান পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এরই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রমিজ উদ্দিনকে তার সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে গিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় পেয়েছেন।

জানা গেছে, রমিজ উদ্দিনের নামে রাজধানীর উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা, মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা, মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট, রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি, পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ির তথ্য পেয়েছে।

টঙ্গী ও গাজীপুরে নামে-বেনামে ৩০ একর জমি রয়েছে। কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে একরে একরে জমি। জেলার মুরাদনগরে স্ত্রী সালমা পারভীনের নামে রয়েছে ৫০ বিঘা জমি।

পুঁজিবাজারে এই দম্পতির নামে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে।

এ ছাড়া রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরে জমি বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার এবং পরে বাংলাদেশে ফেরত আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফেনে বিস্তারিত কথা হয়। অবৈধ সম্পদের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার যা কিছু সম্পদ আছে। সবকিছু ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে আছে। এর বাইরে কিছু নেই।’

ঢাকায় ৫টি বাড়ির বিষয়ে জানতে বলেন, আমার ঢাকাতে ৫টি বাড়ি নেই। দুটি বাড়ি আছে- একটা মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা ও উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা বাড়ি যেখানে আমি থাকি।

মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, না। সেখানে কোনো বাড়ি নেই আমার।

তার কাছে রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি সম্পর্কে জনতে চাইলে বলেন, এসব কিছু নেই। যা আছে আমার ইনকাম ট্যাক্সের মধ্যেই রয়েছে।

আর পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, এটা ডেভেলপার কোম্পানিকে দেওয়া আছে, আমার স্ত্রীর নামে।

অন্যদিকে টঙ্গী-গাজীপুর জমির কথা বললে তিনি বলেন, এটা ভুয়া।

তার স্ত্রীর নামে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বলেন। হ্যাঁ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ আছে। সেটা আমার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে আছে।

আর জন্মভূমি কুমিল্লাতে সম্পদের কথা জানতে চাইলে বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি কিছু আছে আমার।

তিনি বলেন, কিছু সম্পদ তো থাকবে, মানুষ কি সম্পদ ছাড়া থাকবে।

তার বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার আড়াই লাখ টাকা বেতন।

তার স্ত্রীর পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্ত্রী গৃহিণী প্লাস শেয়ার ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৩৭ বছর ধরে ডিপিডিসিতে চাকরী করি। এসময় আরও কিছু (বিদ্যুৎ নিয়ে) কাজ করতে চেয়েছিলাম। সেটা বাধাগ্রস্ত করতে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে।

মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, দুদক ডাকলে আমার জায়গা সেভাবে তার উত্তর দিবো।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসে। এরপর অনুন্ধান কর্মকর্তা উপ-সহকারি পরিচালক শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে দুদক প্রাথমিকভাবে রমিজের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এসব সম্পদের তথ্য পায়।

food-20190121190843.jpg

ভোক্তা ও ভোজনরসিকদের স্বার্থ রক্ষায় রোববার ঢাকার ৫৭টি রেস্টুরেন্টকে মান বিবেচনায় ‘এ-প্লাস’ (উত্তম) ও ‘এ’ (ভালো) গ্রেডের স্বীকৃতি দিয়েছিল বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরদিন ‘ভালো’ তিনটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেল বাসি খাবার আর নোংরা পরিবেশ!

রেস্টুরেন্টগুলো হচ্ছে সেগুনবাগিচা এলাকার ভোঁজ বাংলার স্বাদ, বাগিচা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার, ইনজয় রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ফাস্ট ফুড।

সোমবার এই তিন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। রেস্টুরেন্টের ‘দুর্দশা’ দেখে তাদের ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন অধিদফতরের ঢাকা জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও জান্নাতুল ফেরদাউস।

southeast

আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, সেগুনবাগিচা এলাকায় তিনটি নামি-দামি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। রেস্টুরেন্টগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির (ভালো মানের স্বীকৃতি) স্টিকারপ্রাপ্ত। বাগিচা রেস্টুরেন্টে অভিযানে গিয়ে নোংরা অপরিছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির চিত্র দেখা যায়। এছাড়াও তাদের ফ্রিজে কয়েকদিনের বাসি খাবার রাখা ছিল। তারা সেসব খাবার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। এছাড়াও তারা ১৬ টাকার সফট ড্রিংকস ২৫ টাকায় বিক্রি করছে। আইন অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে ভোঁজ বাংলার স্বাদ (রেস্টুরেন্ট)-এ গিয়ে নোংরা অপরিছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও পুরনো বোতলে বোরহানি বিক্রির চিত্র দেখা যায়। ইনজয় রেস্টুরেন্টে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির প্রমাণ মিলেছে । এছাড়াও তাদের কোনো পণ্যের মূল্য তালিকা ছিল না। এসব অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠান প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানই তাদের ভুল স্বীকার করে। একই সঙ্গে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয় বলে জানান জব্বার মন্ডল।

এছাড়াও অভিযানে প্রেসলি বেকারিকে ৩৫ হাজার টাকা এবং তওফিস ফ্যামিলি কর্নারকে ১০ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়।

southeast

ভোক্তার সহকারী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের মান দেখে স্টিকার দিয়েছে। এখন তারা নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের আমরা তদারকি করবো। এরই অংশ হিসেবে আজকে তিনটিকে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এর আগে রোববার রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন ও সচিবালয়সহ কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প ১৮টি এ-প্লাস এবং ৩৯টি এ গ্রেডের স্টিকার দেয়া হয়।

গ্রেডিং সিস্টেমের আওতায় খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্না ঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তরাঁগুলোতে চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হবে। এসব বিচারে ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর হলে সবুজ বর্ণের স্টিকার ‘এ+’, স্কোর ৮০’র ঊর্ধ্বে হলে নীল বর্ণের স্টিকার বা ‘এ’, ৫৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত স্কোর হলে হলুদ বর্ণের ‘বি’ এবং ৪৫ থেকে ৫৫ স্কোর হলে কমলা বর্ণের ‘সি’ ক্যাটাগরির স্টিকার দেয়া হবে।

Hasan-Mahmud.jpg

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা এ সব কথাবার্তা বলছেন। বিএনপির এমন শোচনীয় পরাজয় আমরাও আশা করিনি।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে ভরাডুবি হবে জেনেই তারা ৩০০ আসনে ৮০০ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। তারা নির্বাচনে প্রচারণায় নামেনি, তাদের লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। অতীতে কখনও এ ধরনের নির্বাচন হয়নি। এবারের নির্বাচনে কোনও পুলিশ হতাহত হয়নি। এবারের নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর।

হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে বহুমাত্রিক প্রচারণা করেছে। প্রার্থীরা মোবাইলেও প্রচার করেছেন, কিন্তু বিএনপি তা করেনি। অনেক জায়গায় তারা পোস্টারই লাগায়নি। তাই বিএনপি নেতাদের বলবো, প্রতিদিন প্রেস কনফারেন্স করে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রমাণ না করে, কেন নির্বাচনে হারলেন, কেন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাননি, কারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে, এগুলো বিচার বিশ্লেষণ করেন। এগুলো দরকার। নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকার মতো কথাবার্তা বলবেন না।

bcld.jpg

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেছেন, ছাত্রলীগ আজ আমাদের মধুর ক্যানটিনে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগামীকাল থেকেই মধুর ক্যান্টিনে আসতে চাই। ক্যাম্পাসে আমাদের আগমনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। দু-এক দিন সময় নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রলীগের নেতারা তফসিলের আগেই যেন সহাবস্থানের একটা পরিবেশ তৈরি করেন।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিগত দুটি সভায় যোগ দিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের নিরাপত্তা নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সেটি প্রয়োজন হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই সহাবস্থান নিশ্চিত হয়, সেটি স্বীকার করতেও আমাদের দ্বিধা নেই। নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা চাই ডাকসুটা সচল হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় এদিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রদল নেতা-কর্মী পরিচয়ে নির্ভয়ে থাকতে পারবে যেকোন নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা করবে না ছাত্রলীগ।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামন। এসময় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভা পরিচালনা করেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। এসময় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই অংশ, জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই অংশ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলনসহ ১৪টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

nid-20180718001832.jpg

বিনা নোটিসে গত ১০ জানুয়ারি থেকে বন্ধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা। সার্ভার বন্ধ থাকায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ এই সেবা নিতে পারেনি।

অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানানোর প্রয়োজনই মনে করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিনা নোটিসে ইসি প্রায় ১১ কোটি নাগরিকের তথ্য সম্বলিত সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে সেবা বন্ধ রেখেছে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) এনআইডি শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে এনআইডি সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কবে সার্ভার চালু হবে তা তাদের জানানো হচ্ছে না।

এতে করে মাঠপর্যায়ের অফিসসহ আগারগাঁওয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেয়া হয়। সেখানে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভিড় দেখা যায়। সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের এমন আচরণে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।

ইসি সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ এনআইডি সেবা নিয়ে থাকেন। গত ১০ জানুয়ারি সার্ভারের কাজ চলছে উল্লেখ করে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয় ইসির ইন্টারনাল ওয়েবসাইটে। তবে সেখানেও কবে থেকে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চালু হবে তা উল্লেখ নেই।

ফিরে যাওয়াদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন জরুরি ভিত্তিতে এনআইডি সংগ্রহ করতে। তাদের তারাই বিপত্তির মধ্যে বেশি পড়েছেন। অনেকে আবার পেনশন, মৃত্যুসনদ সংগ্রহের মতো জরুরি কাজও করতে পারছেন না।

সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে চারবার এসেও সেবা পাইনি। কবে কার্ড নিতে পারবো সে তথ্যও কেউ দিতে পারছেন না। আবার ইসির কল সেন্টার থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিরে যাওয়াদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন জরুরি ভিত্তিতে এনআইডি সংগ্রহ করতে। তাদের তারাই বিপত্তির মধ্যে বেশি পড়েছেন। অনেকে আবার পেনশন, মৃত্যুসনদ সংগ্রহের মতো জরুরি কাজও করতে পারছেন না।

জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে আসা এমন ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, একটা নোটিশ দেওয়া হলেও আমরা জানতে পারতাম। এভাবে হঠাৎ বন্ধ রেখে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক হয়নি।

মানিকগঞ্জ থেকে হারানো এনআইডি তুলতে আসা দিলীপ কুমারের সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হারানো এনআইডি পেতে জিডি করে টাকা জমা দিয়েছি। গত সপ্তাহে এলে পরের সপ্তাহে আসতে বলা হয়। আজ (সোমবার) এসেও কার্ড পেলাম না। বলা হচ্ছে, সার্ভারে সমস্যা। সার্ভার কবে ঠিক হবে, কার্ড কবে পাব, আল্লাহই ভাল জানেন।’

দিলীপ কুমার বলেন, এখন ব্যাংক থেকেও টাকা তুলতে গেলে এনআইডি লাগে। অথচ সেটি নিতে পারছি না। কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ এ ফোন করলে সারাক্ষণ ব্যস্ত দেখাই। ধরলেও সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারে না। টাকা খরচ করে আজ সরাসরি এসেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে?

নিজ এলাকায় সেবা না পেয়ে জামালপুর সদর থেকে কয়েকদিন যাবৎ ইসিতে ঘুরছেন মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, এনআইডি হারিয়ে ফেলেছি। কোনো ফটোকপিও নেই। এনআইডি নম্বরও মনে নেই। কার্ড তোলার জন্য জিডি করতে পারিনি। ফলে কার্ড তোলার জন্য আবেদনও করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো ব্যবসা করি। সরকার থেকে কিছু অনুদান পাব। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। নতুন করে অ্যাকাউন্ট করতে পারছি না, এনআইডি নেই বলে। বারবার ঘুরে নিজেকে চরম অসহায় লাগছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এটার বিষয়ে আমি আপডেট না। তাই এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবো না। সার্ভার একটা টেকনিক্যাল বিষয়। ইচ্ছা করলে কেউ ডাউনও করতে পারে, ইচ্ছা করলে কেউ আপও করতে পারে। ইচ্ছা করলে এগুলো করা যায়। এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন এ বিষয়ে বলেন, সার্ভারে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের ডেটা আছে। পার্লামেন্ট ইলেকশন গেলো, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, নতুন যারা ভোটার হচ্ছেন তাদের কাজ করা, তারপর মাইগ্রেশন হচ্ছে সেগুলোর কাজ করা। সবগুলোই কিন্তু এই সার্ভারের মাধ্যমে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সার্ভারে আমাদের কয়েকটি সার্ভিস প্রয়োজন হয়। একটা হলো ওরাকল সার্ভিস। যেটি আমেরিকা থেকে আমাদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। তারপর বিপিএন, এএফআইএস আছে। ওরাকল থেকে যে সার্ভিসটি আমরা নিচ্ছি এ সার্ভিসটিতে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। আমাদের একটি রিকভারি সার্ভারও আছে। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে ওই সার্ভারেও কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের যে টেকনিক্যাল টিম আছে তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর প্রায় ১০৩টি কোম্পানি এরমধ্যে ডেলকো কোম্পানি আছে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আছে, এসব সেবা চালু রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

শুধু নতুন ভোটার হওয়া, বায়োমেট্রিক এটি এখনও আমরা আপ করতে পারিনি। আর আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপজেলা বা থানা যে সার্ভিসটি আছে এটি আমরা আপ করতে পারিনি। আমাদের টেকনিক্যাল টিম যেটি জানিয়েছে মধ্যে এটি আপ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। আর এটি হলে আগের মতোই সব সার্ভিস পাওয়া যাবে।

এনআইডি সেবা যে বন্ধ রয়েছে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু ঘোষণা দিয়েছি। উপজেলা বা ইলেকশন কমিশনের ইটিআই ভবনে এ বিষয়ে নোটিশ করা আছে। যারা সার্ভিসটা নিতে আসবেন তাদের জানানোর জন্যই এটি অফিসগুলোতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সমস্যার কারণ সম্পর্কে বাতেন বলেন, সার্ভারের মেয়াদের একটা বিষয় ছিল। প্রতিনিয়ত আমাদের ভোটার হচ্ছে, কারেকশন হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে হতে এতো বেশি মাইগ্রেশন হচ্ছে। এজন্য ডেটা সার্ভারের স্পেসেও প্রভাব পড়ছে। এজন্য আমরা আরেকটি প্রজেক্ট নেওয়ার কথা ভাবছি। যেটাতে ডেটার জন্য স্পেস বাড়ানো হবে এবং আমাদের যে সার্ভিসগুলো আছে সেগুলো আপডেট করা হবে। ওখানে সার্ভার কেনার এবং আপডেটের বিষয়ও আছে। এটি সম্পন্ন হলে আমরা আরো অনেক বেশি নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস দিতে পারবো বলে আশা করি। এক মাসের মধ্যে প্রজেক্ট প্রোপোজাল যাবে। বাকিটা সরকারের উপর নির্ভর করবে।

এক মাসের মধ্যে প্রজেক্ট প্রপোজাল যাবে। বাকিটা সরকারের উপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

এতে কত টাকা লাগতে পারে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে মার্কেট ভেল্যু বেড়ে গেছে। তারপর আমাদের স্পেস বাড়বে। এটি এখনো ঠিক করা হয়নি। হলে আপনাদেরকে জানানো হবে।’