top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Nk-One-in-a-million_deer-pic.jpg

সম্প্রতি মাথায় লেজবিশিষ্ট একটি কুকুর ভাইরাল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেই কুকুরের পর আলোচনায় এসেছে একটি হরিণ।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, মাথায় তিন শিংওয়ালা একটি হরিণের দেখা মেলেছে মিশিগানে। বরফাচ্ছন্ন এলাকায় সেই হরিণের ছবি তুলেছেন স্টিভ লিন্ডবার্গ নামে এক মার্কিন ফটোগ্রাফার।

১০ নভেম্বর ছবিটি তুলেন লিন্ডবার্গ। স্বাভাবিকভাবে দুইটি শিং থাকে হরিণের। কিন্তু মিশিগানের হরিণটির মাথায় দেখা গিয়েছে বাড়তি একটি শিংয়ের। যা খুবই দুর্লভ।

স্টিভ লিন্ডবার্গ জানান, নারীসঙ্গীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে পুরুষ হরিণটিকে। কয়েক ঘণ্টা ধরে হরিণটিকে দেখছিলেন তিনি। আরও কাছে গিয়ে এই দুর্লভ হরিণের ছবি তুলতে চেয়েছিলেন লিন্ডবার্গ। কিন্তু পরের দিন প্রাণীটিকে হারিয়ে ফেলেন তিনি।

মিশিগানের পশু বিশেষজ্ঞ স্টিভ এডওয়ার্ড জানান, হরিণটি দেখতে স্বাভাবিক এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। জন্মের সময় ভ্রুণগত কারণে তার অতিরিক্ত একটি শিং হতে পারে।

তিনি জানান, দশ লাখ হরিণের মধ্যে এমন একটি ঘটনা ঘটে।

momen-20191012163200.jpg

সৌদি আরবে দুই লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে আট হাজার নারী ফিরে এসেছেন। ৫৩ জনের মরদেহ দেশে এসেছে, যা তুলনামূলক নগণ্য। ৯৯ শতাংশ নারী কর্মী ভালো আছেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুবাই সফরকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামীকাল শনিবার চার দিনের সফরে আরব আমিরাত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা দেখতে কলকাতা যাবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ভারত সফর করবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মোমেন বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকে আন্দোলন করছেন নারী কর্মী পাঠানো বন্ধের জন্য। যারা এমন দাবি করছেন, তারা কি ওদের চাকরি জোগাড় করে দেবেন?

তিনি বলেন, বিদেশে নারী কর্মী নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বেশি। কোনো নারী কর্মী নির্যাতিত হলে নিরাপদ আশ্রয়ে তাদের নিয়ে আসা হয়। এটা তাদের জন্য উন্মুক্ত। ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু হয়েছে, যাতে তারা যে কোনো সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক নারী দেশে ফিরে বলেন, মনিব তাকে অত্যাচার করেছেন। তিনি যদি আমাদের শেল্টার হোমে এসে তথ্য দেন, আমরা মামলা করতে পারি। কিন্তু তারা ওখানে না বলে দেশে ফিরে এ ধরনের অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দুবাই সফরে ৩ চুক্তি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুবাই সফরকালে দুটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং একটি প্রটোকল স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং আমিরাত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও আমিরাত অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তি এবং আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য প্লট বরাদ্দের প্রটোকল।

সফরকালে শেখ হাসিনা আবুধাবিতে অনাবাসিক বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।\হআব্দুল মোমনে বলেন, দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে ‘দুবাই এয়ার শো’সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটিতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবার উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সুপ্রিম চেয়ারপারসন শেখ ফাতিমা বিনতে মোবারকের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরাতের বড় বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

parla2.jpg

বাজারে নকল ও ভেজাল ওষুধ চিহ্নিতকরণ বিষয়ে অনলাইন ভিত্তিক রিপোর্টিংয়ের জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় সংসদে অধিবেশনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বেগম গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের এক প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশের বাইরে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এই প্রশ্নের উত্তর দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায় প্রকল্পটি বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধন সকল দেশি এবং বিদেশি ওষুধের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অনুমোদিত বিক্রয়মূল্য ওষুধের মোড়ক সামগ্রীতে (কার্টন ও লেবেল) মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী ওষুধ উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সকল ওষুধের মোড়ক সামগ্রীতে (কার্টন ও লেবেল) ওষুধের মূল্য মুদ্রণ করত : বাজারজাত থাকে। নিয়মিত ফার্মেসি পরিদর্শন করে এ বিষয়টি দেখভাল বা তদারকি করে থাকেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

mojaw.jpg

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সেই সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চেয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি এ মামলার মাধ্যমে বড় সাজা পেয়েই গেছি। আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি ১০টি খুন করলেও এমন সাজা হয়তো আমার হতো না।

বৃহস্পতিবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি এসব কথা বলেন।

আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে আদালত আগামী ২০ নভেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়। এ সময় ওসি মোয়াজ্জেম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম শুনানির শুরুতে ওসি মোয়াজ্জেমের উদ্দেশে তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন এবং বাদীসহ ১১ জনের সাক্ষ্যে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দোষী না নির্দোষ? জবাবে ওসি মোয়াজ্জেম নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর বিচারক ওসি মোয়াজ্জেমের কিছু বলার আছে কিনা এবং সাফাই সাক্ষ্য দেবেন কিনা তা জানাতে চান।

জবাবে ওসি জানান, সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না। তবে নিজে লিখিত বক্তব্য দেবেন। লিখিত বক্তব্যের কিছু তিনি মৌখিকভাবে বলতে বিচারক অনুমতি প্রদান করেন। অনুমতি দিলে তিনি মৌখিক বক্তব্য শুরু করেন।

ওসি মেয়াজ্জেম আদালতকে জানান, ১৯৯১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তার চাকরি হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার আসার পর নিয়োগ স্থগিত করে দেয়। যা নিয়ে তিনি রিট করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে চাকরি ফিরে পান। চাকরি জীবনে তিনি অনেক চাঞ্চল্যকর টপ টেরর আসামি ধরেছেন। সুনামের সঙ্গে কাজ করায় ২০০ পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছর দুই বার চিটাগং বিভাগে তিনি বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর আমি সোনাগাজী থানার ওসি হিসেবে যোগদান করি। আমার চাকরিকালীন সময়ে প্রিন্সিপাল সিরাজ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। গত ২৮ এপ্রিল মাদ্রাসায় গেঞ্জামের কথা শুনে পুলিশ পাঠাই। ওই এলাকার লোক ধর্মান্ধ। কোনো হুজুরের বিরুদ্ধে কিছু বলার উপায় নেই। আমার থানায় তখন কোনো নারী অফিসার ছিল না। তাই আমি মেয়র, আমার অফিসার ও মাদ্রাসার লোকসহ সবার সামনে নুসরাতকে জিজ্ঞাসা করি। সেখানে নুসরাতের দুই বান্ধবী ও মাদ্রাসার কর্মচারী নুরুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদেরও ভিডিও করেছি।

আমি নুসরাতকে বলেছি, তুমি আমার মেয়ের মতো। আমার প্রমাণের প্রয়োজন। তাই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও করি। প্রমাণ পেয়ে মামলা নিয়ে প্রিন্সিপালকে আটক করি।

পরদিন ২৮ মার্চ হাজার খানেক লোক প্রিন্সিপালের মুক্তির জন্য মানববন্ধন করে। সেদিন কয়েজন সাংবাদিক আমার কাছে জানতে চান, কেন নির্দোষ সিরাজদ্দৌলাকে গ্রেফতার করেছি। সেদিন তাদের আমি ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে দেখাই। সে সময় সবাই নুসরাতের বিপক্ষে। সেদিন শুধু আমিই নুসরাতের পক্ষে ছিলাম।

জিজ্ঞাসাবাদের দিন আমি নুসরাতের মাকে আমার মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছি, কেউ ডিস্টার্ব করলে আমাকে ফোন দিতে। মাদ্রাসায় পরীক্ষার দিন ২ জন পুলিশ মাদ্রাসার গেটে ডিউটিতে ছিল। খবর পাই মাদ্রাসার একজন ছাত্রী গায়ে আগুন দিয়েছে। আমি সোনাগাজী হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নুসরাতকে দেখতে পাই। সেখান থেকে দ্রুত ফেনী হাসপাতালে নুসরাতকে পাঠাই। সেখান থেকে আমি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা বার্ন ইউনিটে পাঠাই। শাহবাগ থানার ওসিকে ফোন করে বলে দেই, ঠিকমতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। আগুন লাগানোর দিনই আমি ঘটনাস্থলে যাই।

গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। ওইদিন সাংবাদিক সজল আমার সঙ্গে থানায় আসে। আমি মোবাইল টেবিলে রেখে নামাজ পড়তে গেলে সে ওই সুযোগে শেয়ারইটের মাধ্যমে ভিডিওটি নিজের মোবাইলে চুরি করে নিয়ে নেয়।

গত ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যাওয়ার পর আমি মাটি দিতেও আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ঊর্ধ্বতন অফিসাররা আসতে নিষেধ করায় আসিনি।

১২ এপ্রিল ভিডিওটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমি গত ১৪ এপ্রিল ভিডিও চুরি হওয়া নিয়ে থানায় জিডি করি। এরপর গত ১৫ এপ্রিল বাদী আমার বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। আমি ভিডিওটি করেছি শুধু প্রমাণ রেখে সিরাজউদ্দৌলাকে আটকের জন্য।

এরপর বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, আপনার সময়কালে কয়টা নারী ও শিশু মামলা তদন্তাধীন ছিল। জবাবে মোয়াজ্জেম বলেন, ২-৩টা হতে পারে। তারপর বিচারক প্রশ্ন করেন, মোট কয়টা মামলা তদন্তাধীন ছিল। জবাবে মোয়াজ্জেম বলেন, মামলার অর্ধেকের বেশি মাদকের মামলা। আর বাকিগুলো রাজনৈতিক মামলা।

এরপর মেয়াজ্জেম আরও বলেন, আমি শুধু ৯ জনকে গ্রেফতার করিনি। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের ডাইং ডিক্লারেশন গ্রহণের ব্যবস্থা করি। কিন্তু বাদী আমার বিরুদ্ধে শুধু মামলাই করেছে। তিনি নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারের জন্য কোনো ভূমিকা রাখেননি। উনি (বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন) আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের একটি পোস্ট হোল্ড করেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার জন্য শুধু রাজনৈতিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবানের উদ্দেশ্যে এ মামলা করেছেন। আমি এ মামলার মাধ্যমে বড় সাজা পেয়েই গেছি। আমার ছেলে স্কুলে যেতে পারে না। আমার মেয়ে এবং তার মা শয্যাশায়ী। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমি এতই ঘৃণিত হয়ে গেছি যে, রংপুরে আমাকে ক্লোজ করার পর আমার বিরুদ্ধে জুতা মিছিল হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোয় এমনটা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) আমাকে ডাকলে আমি তাকে তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমি বলতে পারতাম মোবাইল হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমি তা করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আইও সঠিকভাবে তদন্ত করেননি।

এরপর বিচারক প্রশ্ন করেন যে, কোনো মামলা দায়ের বা তদন্তের জন্য বাদী বা সাক্ষীর বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করার আইনগত আবশ্যকতা আছে কিনা? জবাবে মোয়াজ্জেম বলেন, আইনগত আবশ্যকতা নেই। তবে প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ায় এখন প্রত্যেক থানায়ই এমন কাজ করে। তা শুধু আদালত চাইলেই দেখানো হয়। পাবলিশ (প্রকাশ) হয় না।

মোয়াজ্জেম আরও বলেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আল্লাহর ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে। আপনার (বিচারক) কাছেও আমি ন্যায়বিচার চাই।

মোয়জ্জেমের বক্তব্য শেষ হলে আগামী ২০ নভেম্বর যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন আদালত। মামলায় চলতি বছর ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিলকতৃ তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১৭ জুলাই আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতের চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এরপর গত ২১ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এর আগে গত ১৭ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরও আগে ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি।

bank-20191114184031.jpg

২০২০ সালে ব্যাংকের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আগামী বছর ২৪ দিন বন্ধ থাকবে সব তফসিলি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন’ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাটি বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) চিঠি আকারে বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২০ সালে উৎসব ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে মোট ২২ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর বাইরে ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ১ জুলাই এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকে লেনদেন হবে না। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে ব্যাংকে ২৪ দিন ছুটি থাকবে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ২১ এপ্রিল শবেবরাত, ১ মে মে দিবস, ৬ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা, ২১ মে শবেকদর, ২২ মে জুমাতুল বিদা, ২৪, ২৫ ও ২৬ মে ঈদুল ফিতর, ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে, ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদুল আজহা, ১১ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ৩০ আগস্ট আশুরা, ২৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ৩০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

ধর্মীয় বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আগামী বছরের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হলেও চাঁদ দেখার ওপর এটি পরিবর্তন হতে পারে।

uno-20191114203245.jpg

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রেলওয়ে গেটম্যানকে মারধরের অভিযোগে ভৈরব জিআরপি থানায় জিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজ।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৮ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে তিনি উপজেলার ছয়সূতীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে অফিসে ফিরছিলেন। পথে কুলিয়ারচর রেলস্টেশনের দক্ষিণ পার্শ্বের রেলগেটে পৌঁছার সময় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি আউটার সিগন্যালে দাঁড়ানো অবস্থায় গেটম্যান রেলওয়ে গেটটি বন্ধ করে দেয়। সোয়া একটার পরও যখন গেটটি খুলছিল না তখন জুম্মার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য রাস্তায় লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং কুলিয়ারচরে প্রবেশ করার জন্য বিভিন্ন যান বাহন দাঁড়ানোর দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। ১টা থেকে ১.১৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৯ মিনিট দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি, এ সময় তিনিও সেখানে গাড়িতে বসা ছিলেন। গেটম্যানকে ডাকাডাকি করলে কোনো গেটম্যান পাওয়া যায়নি। গার্ডরুমে তখন কম বয়সী একটি ছেলে দাঁড়ানো ছিল। ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে বিধায় সাধারণ মানুষের সমস্যা উপলদ্ধি করে তিনি তার অফিস সহায়ক হিমেল মিয়াকে গেটম্যানের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠান। তার ডাকে পার্শ্ববর্তী বাসা থেকে গেটম্যান সিপরাত হোসেন বের হয়ে আসে। তখন তার অফিস সহায়ক হিমেল মিয়া গেটম্যানকে গাড়ির কাছে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি গাড়িতে বসা অবস্থায় গ্লাস খুলে গেটম্যানকে ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে কেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে সিপরাত হোসেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এতে তিনি তার অফিস সহায়ককে উক্ত ব্যক্তির নাম ঠিকানা গ্রহণ করার জন্য বলেন। তারপর ট্রেন চলে যাওয়ায় তিনি গাড়ি নিয়ে তৎক্ষণাৎ কর্মস্থলে চলে যান। তিনি গাড়ি থেকে নামেননি এবং গেটম্যানকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর ভৈরব জিআরপি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে। জিডি নং-৩৭২। এ ছাড়া এ ঘটনা বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত জিডিও প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা দাবি করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান সৈয়দ নূরে আলমসহ জন প্রতিনিধি ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রেলওয়ের এক গেটম্যানকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে রেলওয়ের ঢাকা অফিসের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে ভৈরব জিআরপি থানায় একটি মামলার এজাহার দায়ের করেন।

parla2.jpg

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজের দাম অসহনীয় পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত তাদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর জোগান থাকলেও ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে কথা বলেন তারা।

এ সময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন ও বিএনপির হারুনুর রশিদ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ এখন সর্বত্র। পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে এ বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। এতে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। তিনি অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করবেন না। তিনি বলেছেন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করেন।

সেজন্য আমি অনুরোধ করব, এখানে (সংসদে) মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন, পেঁয়াজের ব্যাপারে আপনাদের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আরও তৎপর হওয়া উচিত। আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করব। ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে। এ বিষয়ে যদি অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে জবাব দেন তাহলে আমরা সুস্থ হবো।

এরপর মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমর্থন করে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপারে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর অনেক কর্তব্য রয়েছে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ বুলবুল আঘাত হানার কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। আজ পত্রিকায় দেখলাম, খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাকে বলতে হয়, পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা। এটা কোনো দিন আমরা ভাবিনি।

তিনি আরও বলেন, এবার ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়নি। তবে আমরা সাধারণত আমাদের পণ্যের মজুতের বিষয়ে আগেই মূল্যায়ন করি। আমাদের বার্ষিক চাহিদা কত? আমাদের আছে কত? আর যেটা কম সেটা আমরা তুরস্ক, মিসর, মিয়ানমারসহ আগেই আমদানি করি। টিসিবি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমিও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। এ জন্য এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাই না। যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেন। আমাদের যখন কোনো একটি পণ্যের দাম বেড়ে যায় তখন আমরা ডিউটি কমিয়ে দেই। এ মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ডিউটি ফ্রি করে দিন। কারণ আমি যখন ১৯৯৬ পর্যন্ত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ছিলাম তখন কয়েক ঘণ্টার জন্য লবণের দাম বেড়েছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন শাহ এএমএস কিবরিয়া। তাকে আমি অনুরোধ করার পর তিনি ডিউটি শূন্য করে দিয়েছিলেন। এই নিউজটা পরিবেশনের সাথে সাথে একটা প্রভাব পড়ে বাজারে।

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ছোটকালে আমরা যে রকম বিস্কুট দৌড় খেলতাম সেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা চলছে। আশা করি, সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বলেছিলেন পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কথা বলার পর দিনই পেঁয়াজের দাম হয়ে গেল দেড়শ টাকা। আবার আজকে পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা। পাশাপাশি আমি গুগলে সার্চ দিয়ে দেখলাম, ভারতের কৃষক কাঁদছেন। কারণ পেঁয়াজের মূল্য ৮ টাকা কেজি। আমার প্রশ্ন হলো, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তো ভালো সম্পর্ক। সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই আমরা বা প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিতেন তাহলে পেঁয়াজের ক্রাইসিস থাকতো না।

আরেকটি বিষয় হলো, পেঁয়াজ বাজারে নেই -এ রকম তো না, আমরা দোকানে বা মার্কেটে গিয়ে প্রচুর পেঁয়াজ দেখতে পাই। এ জন্য আমার মনে হয় একটা অভিযান চালানো উচিত। কারণ, আমার মনে হয় এটা একটা ষড়যন্ত্র। সরকারের বদনাম করার এটা একটা পথ। এ জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলব, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটা ভালো কাজ নষ্ট হয়ে যায় একটা খারাপ কাজের জন্য। আমাদের সরকার ফেনসিডিল ব্যবসায়ীদের ধরার পর, তারা বন্দুকযুদ্ধে মরে যায়। এভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি যারা করল তারাও দুজন মরে যাক। এ রকম হলে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এ বিষয়ে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বাজারে পেঁয়াজ রয়েছে। এর দাম এতো হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছিলেন পেঁয়াজ একটু কম ব্যবহার করার। সেটা অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু গতকাল পেঁয়াজের দাম ছিল দেড়শ টাকা, আজকে তা হয়ে গেছে ২০০ টাকা। এটা সরকারের বিরুদ্ধে একটা কন্সপিরেসি বা ষড়যন্ত্র।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেহেতু দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে লিপ্ত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে সব দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিশ্চয়ই আমরা সংসদ থেকে আহ্বান জানাব। কারণ দেশের জনগণকে এভাবে কষ্ট দেয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে -এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। এ জন্য এ ব্যাপারে একটি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এখানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, অর্থমন্ত্রী আছেন নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেবেন। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করবেন পেঁয়াজের দাম যেন অচিরেই কমে আসে।

18-9-4.jpg

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পিয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পিয়াজের দাম কেজি প্রতি ডাবল সেঞ্চুরিতে গিয়ে ঠেকেছে। গতকাল বুধবার ঢাকার পাড়া-মহল্লার বাজার ও মুদি দোকানগুলোতে প্রতিকেজি দেশি পিয়াজ ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ কোথাও কোথাও তা ২০০ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা মিলেছে।

তবে গতকাল বুধবারও কোথাও কোথাও দেশি পিয়াজ ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। বুধবার বিকালে মিরপুরের পীরেরবাগ কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি ক্রস জাতের পিয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। এর থেকে বাছাই করা তুলনামূলক ভালো মানের পিয়াজের দাম চাওয়া হচ্ছিল প্রতিকেজি ২০০ টাকা।

এদিকে, পিয়াজের দাম বাড়ার সাথে সাথে পিয়াজের বিক্রিও কমেছে। কারওয়ান বাজারের এক মুদি দোকানি বলেন, দাম বাড়ার কারণে পিয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। আগে দিনে ২০ কেজির মতো বিক্রি হলেও এখন ৭ কেজি পিয়াজও বিক্রি হয় না।

দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিরপুর-১ নম্বরে পাইকারি আড়তদার মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, সত্যিকার অর্থেই বাজারে পিয়াজের প্রচুর সংকট রয়েছে। সেই কারণে সরকার নানা অভিযান চালানোর পরও, অনেক জেল-জরিমানা করার পরও দাম কমাতে পারেনি। কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমদানি করা পিয়াজ সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। আর সেই কারণেই এখন বাজারের এই পরিস্থিতি।

জানা গেছে, সর্বশেষ পিয়াজের দাম বেড়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে ঘিরে। গত শনিবার বুলবুল আঘাত হানার একদিন আগে থেকে নতুন করে বাড়তে থাকে দাম। তার আগে খুচরায় পিয়াজের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। ঢাকায় পিয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারেও পিয়াজের সরবরাহে টান পড়েছে বলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

runi6.jpg

চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারলে র‌্যাবের সফলতা ম্লান হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যার্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারোই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

মামলাটি বাতিল চেয়ে সন্দেহভাজন আসামি তানভিরের আবেদনের ওপর রায় ঘোষণাকালে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালতে আসামি তানভিরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তের মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদঘাটিত না হওয়া এবং অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেফতার এবং বিচারের সম্মুখীন না করতে পারা- নিঃসন্দেহে দুঃখ ও হতাশার বিষয়। জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর, এলিট ও চৌকস বাহিনী হিসেবে র‌্যাবের অনন্য সফলতা রয়েছে। কিন্তু এই সফলতা কিছুটা হলেও ম্লান হবে, যদি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারে।’

আদালত প্রত্যাশা করছে যে, র‌্যাব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যা রহস্য উন্মোচন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যার্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারোই কাম্য নয়।’

এরপর আদালত তার রায়ে, সামগ্রিক ঘটনা ও আইনগত অবস্থা বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে ব্যাক্তিগত হাজিরা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভির রহমানকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে সামগ্রিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ৪ মার্চ বা তার আগে এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সঙ্গে বর্তমান আসামি তানভিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন হলফনামাসহ দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে, এ হত্যা মামলা বাতিল চেয়ে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভির রহমানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন এবং গত ৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টে হাজির হলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান। এরপর আদালত মামলাটির রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় রুনির ভাই বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন।

আজ ১৪ নভেম্বর এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে দাখিলের দিন নির্ধারণ সত্ত্বেও ৬৯ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিল পেছাল।

hasina11.jpg

দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করাই এখন সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করেছি। এবার দেশের প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই।

তিনি বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে সরকার এরই মধ্যে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’সহ বেশকিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকারের গৃহীত এসব কর্মসূচির ফলে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আগামীতে এটাকে ১৬ ভাগে নামিয়ে আনতে চাই।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ভূমিহীনদের ভূমি দিয়েছি। যারা গৃহহারা তাদেরকে ঘর করে দিয়েছি এবং এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’-এর মাধ্যমে যেসব সদস্য ১০০ টাকা জমা করবে সরকার তাদেরকে আরও ১০০ টাকা দিচ্ছে। এইভাবে একটা মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। এছাড়া ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। ইতোমধ্যে বেশকিছু জেলা ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা শহরের বস্তিতে বসবাস করে তাদের জন্য ঘরে ফেরা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

পিকেএসএফের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন যেন বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে নির্দেশনা তাদের দেওয়া হয়েছে। এখন তারা বহুমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। যেমন- ঋণদান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উৎপাদন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অনেক বিষয়ের ওপর কাজ করছে তারা।

তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। খাদ্যের পাশাপাশি এখন আমরা নজর দিয়েছি পুষ্টির দিকে। এ বিষয়ে পিকেএসএফ বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন দেশে গেলে আমাকে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে কি ম্যাজিক রয়েছে? আমি তাদের বলি, আসলে কোনো ম্যাজিক নেই। দেশকে ভালোবাসা, দেশকে জানা এবং দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা- এটাই হলো মূল ম্যাজিক।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখে না। বাংলাদেশ এখন অনেকের কাছেই বিস্ময়। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। ২০০৮ সালের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা তুলনা করলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমরা আমাদের বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সুফল এখন গ্রামের মানুষ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ পিছনে টানতে পারবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এশিয়ার উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০৭১ সালে যারা এ দেশের শতবর্ষ পালন করবে তারা তখন সত্যি সোনার বাংলা হিসেবে পালন করতে পারবে। একই সঙ্গে তারা পাবে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহদ রচিত ‘এসো সাম্যের গান গাই’ জাগরণের গান পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনী ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের ১৯০টি স্টল এ মেলায় স্থান পেয়েছে।