top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Imran-Khan-Saudi-Prince.jpg

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো বিশেষ বিমানে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য ইমরানকে বাণিজ্যিক বিমান ধরতে নিষেধ করেছিলেন সালমান।

ইমরানকে তিনি বলেছেন, আপনি আমাদের বিশেষ অতিথি। আপনি আমার বিশেষ বিমানে চড়ে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন। কাশ্মীরে কী হচ্ছে, আগামী সাতদিনের সফরে সেটা বিশ্বকে জানানোই তার মূল লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দেই দিনের সফরে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে তার ওই সফর।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকও করেন ইমরান খান। কাশ্মীর ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয় তাদের মধ্যে।

xshamsul.jpg

ক্যাসিনোর মতো অবৈধ জুয়া ও মাদকের আসর গড়েছে দেশের নামিদামি ক্লাবগুলো। যেখানে সর্বশান্ত হচ্ছেন উঠতি তরুণ-তরুণী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির মানুষ। অবৈধ এই জুয়ার বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খল বাহিনী। এই অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী।

ক্লাবগুলোতে তাস খেলা বন্ধ করলে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে বলেও দাবি করেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সাংসদ।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

শামসুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে শতদল, ফ্রেন্ডস, আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২টি ক্লাব আছে। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগে খেলে। ওদের তো ধ্বংস করা যাবে না। ওদের খেলাধুলা বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসন কি খেলোয়াড়দের পাঁচ টাকা বেতন দেয়? ওরা কীভাবে খেলে, টাকা কোন জায়গা থেকে আসে, সরকার কি ওদের টাকা দেয়? দেয় না। এই ক্লাবগুলো তো পরিচালনা করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে বসে তাস খেলেন। এটা কি জুয়া হলো? জুয়া হলে তো আপনারা প্রেসক্লাবেও বসতে পারবেন না। তাস খেললেও জুয়া। তাস ধরলেই জুয়া। আর অভিযানে ক্যাসিনো বের করতে পারলে তাদের বাহবা দেওয়া যেত।’

তাস খেলার অপরাধে যদি ক্লাবে অভিযান হতে পারে তাহলে ঘুষের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনকে বলব, ঘুষের ব্যবসা যাঁরা করেন তাঁদের ধরেন। ঘুষ যারা নেন, তাদের ধরেন। যারা দেন, তাদেরও ধরেন।’

ঘুষ কে খান— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাংসদ বলেন, ‘আপনি খান। আমি খাই। সবাই ঘুষ খান।’ ঘুষ কে দেন—জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনি দেন। আমি দিই। সবাই দেন। তাদের ধরেন।’

সরকার দলীয় সাংসদের দাবি প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো ধরতে বলেছেন, তাই তাস খেলা বন্ধ না করতে তার আহবান। হুইপ বলেন, ‘ক্লাবের তাস খেলা বন্ধ করে কোনো লাভ হবে না। তাস খেলা বন্ধ করলে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে। এটা বন্ধ করে লাভ হবে না। এখানে কোনো ক্যাসিনো নেই। ক্যাসিনো ধরেন, তাস খেলা হয় এ রকম ক্লাব ধরবেন না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো এবং মদের ব্যবসা যারা করেন, তাদের ধরতে বলেছেন।’

gks.jpg

ছোটখাটো মানুষ হলেও তার ক্ষমতার দাপট আকাশসমান। তিনি যখন চলেন তখন সঙ্গে চলে নিরাপত্তা বলয়।বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে আনতে নানা অপকৌশল ব্যবহার করতেন। প্রভাবশালীদের দামি উপঢৌকন দিতেন। তাতেও কাজ না হলে উঠতি মডেল কিংবা সুন্দরী তরুণী ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ম্যানেজ করতেন।

এই মহাক্ষমতাধর ব্যক্তির নাম এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে শামীম। নিজের নাম সংক্ষেপ করে বলতেন জি কে শামীম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের মালিক তিনি। নিজেকে পরিচয় দিতেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে।

‘টেন্ডার কিং’ হিসেবে পরিচিত জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর তার সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। জিয়া নামে এক ব্যাক্তির সঙ্গে শামীমের মুঠোফোনে কথা বলার ভয়েস রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, জি কে শামীম প্রভাবশালী অনেকের সঙ্গেই অবৈধ কমিশন ও ঘুষ লেনদেনের আলাপ করেন নিজের মোবাইল ফোনে। তবে প্রমাণ রাখতে অনেকের সঙ্গেই কথাবার্তা বলার পর ফোনে তা রেকর্ড করে রাখতেন। আবার অনেকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও ইমো ব্যবহার করে কথাবার্তা বললেও অন্য আরেকটি ফোনে তা রেকর্ড করে রাখেন। এ কারণে শামীমের মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের ভয়েস চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, জিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক ভয়েস রেকর্ড রয়েছে তার মোবাইল ফোনে। এসব কথোপকথনের বেশির ভাগই চিত্রজগতের নায়িকা, উঠতি মডেল ও শোবিজ জগতের তারকাদের ঘিরে।

টেন্ডার সংক্রান্ত কাজে তিনি অনেক সময় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে এসব মডেল ও উঠতি নায়িকাদের ব্যবহার করতেন।

সূত্র বলছে, জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ত মন্ত্রণালয়ে দাপটের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন। তার নাম জিয়া। অথচ তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। আবার তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতাও নন।

তবে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরে তার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। সবাই তাকে দেখলে সালাম দেয়, সমীহ করে। লিফটম্যানরা তটস্থ হয়ে পড়ে। মন্ত্রীর কক্ষে ঢোকার আগেই দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকেন কর্মচারীরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে কয়জন সিঙ্গাপুরে মেরিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত জুয়া খেলতে যান জিয়া তাদের অন্যতম। সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোতে জিয়া হাজার হাজার ডলার উড়িয়ে দেন অবলীলায়। দেশের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করেন হেলিকপ্টারে। জিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।

রাজধানীর গুলশান-১ এ তিনি থাকেন। গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। এই জিয়ার রাজনৈতিক ‘হট কানেকশন’ সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। বিএনপি আমলে তিনি বিএনপির লোক। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ। টেন্ডার বাগিয়ে আনতে তাকে ব্যবহার করতেন জি কে শামীম।

এছাড়া টেন্ডার হলেই জি কে শামীমের কাছ থেকে যুবলীগের কমিশন হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকার ভাগ পেতেন যুবলীগ দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতা।

গ্রেফতারের পর জি কে শামীমের অফিস কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত খাতাপত্র ও টেলিফোনের ভয়েস রেকর্ড থেকে কমিশনপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসহ এসব তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব বলছে, জি কে শামীমের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী অনেকের হট কানেকশন ছিল। রাজনৈতিক পদ-পদবিধারী নেতা ছাড়াও ৫-৬ জন মন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট।

তার ৩টি মোবাইল ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। কাজ পেতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পাশাপাশি সচিব থেকে শুরু করে প্রকৌশলীদের কাউকেই প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত করতেন না তিনি।

র‌্যাব আরও জানায়, জি কে শামীম অভিনব উপায়ে টেন্ডারবাজি করতেন। সম্প্রতি ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হওয়ায় মূলত জি কে শামীমের মতো ঠিকাদারদের আরও সুবিধা হয়েছে।

কারণ আগে থেকেই দরপত্রে এমন শর্ত যোগ করা হয় যাতে পূর্বনির্ধারিত ঠিকাদার হিসেবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও অধিদফতরের উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারকরা নির্ধারিত রেটে কমিশন নিতেন।

দীর্ঘদিন ধরে এমন কমিশন লেনদেনের ফলে জি কে শামীম অনেক কর্মকর্তারই আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে পূর্ত সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিপিএল যুক্ত থাকে।

কোনোটি তিনি নিজেই করেন। আবার কোনো কোনো কাজ জেভি’র (যৌথ উদ্যোগ) মাধ্যমে করেন। আবার বেশ কিছু কাজ তিনি অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশনে বিক্রি করে দেন।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ নিতে জি কের প্রতিষ্ঠানকে রীতিমতো মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে হয়। এভাবে রূপপুরে কাজ পায় সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই, পায়েল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স, জামাল অ্যান্ড সন্স ও হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স।

র‌্যাব জানায়, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক বা অস্ত্রের যে কোনো একটি মামলা তদন্ত করবে র‌্যাব। যাতে করে আইনের ফাঁক গলে তার মুক্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বিভিন্ন মহলে তার হট কানেকশনের কথা শুনেছি। তবে আইনের চেয়ে কারও হাত লম্বা নয়। সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতারের পর শামীমকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নেয়া হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শামীম।

‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে সাত দেহরক্ষীসহ শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এ থানায় অস্ত্র, মাদক এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

তাকে দুটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র মামলায় শামীমের সাত দেহরক্ষীরও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শামীমের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনের গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এবং মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর অস্ত্র আইনের মামলায় দেহরক্ষী প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাইলেও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব সদস্যরা রাজধানী নিকেতনে তাঁর কার্যালয়ে হানা দিয়ে তাঁকে ও তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেন। এরপর সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তাঁর মায়ের নামে ১৪০ কোটি), ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং মদের বোতল জব্দ করা হয়েছে।

gyu.jpg

যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ‘ঠিকাদার মোগল’ এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ‘মধুভাণ্ডারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই। সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে শামীম ও সাঙ্গপাঙ্গোরা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন। এর মধ্যে দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই তিনি ঘুষ দিয়েছেন দেড় হাজার কোটি টাকা। কাজ পেতে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে সম্প্রতি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকেও ঘুষ দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা। তিনি জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দেওয়া লাগত তার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘুষ দিতে হতো। লাগামহীন ঘুষ-বাণিজ্যের কারণে কিছু প্রকল্পে তাকে লোকসানের মুখেও পড়তে হয়েছে।

শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামীম এই ঘুষ-বাণিজ্যের কথা স্বীকার করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। গতকাল শনিবার অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচারের দায়ে তিনটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সূত্রমতে, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেছেন যে দুই প্রকৌশলী ছাড়াও যুবলীগের অন্তত দু’জন শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতেন তিনি। অবশ্য কাজ পেতে ওই নেতাদের নাম ভাঙাতে হতো তার। তাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বড় সরকারি কর্মকর্তাও শামীমের কমিশনভোগী ছিলেন। তাদের ব্যাপারেও তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজেই কমিশনের অর্থ বণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় কমিশন হিসেবে নগদ টাকা দিতেন। মাঝেমধ্যে শামীমের দু’জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমেও কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো। শামীম প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও কিছু নেতাকে ম্যানেজ করেই ‘ঠিকাদার মোগলে’ পরিণত হন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম অবসরে যান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানে একচ্ছত্রভাবে ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন শামীম। তবে রফিকুল অবসরে যাওয়ার পরও গণপূর্তে শামীমের প্রভাব কমেনি। কমিশন দিয়ে তার প্রভাববলয় বজায় রাখেন তিনি। গণপূর্তে এমন কথা প্রচলিত আছে, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে নানা দপ্তরে ‘তদবির’ করে রফিকুলকে প্রধান প্রকৌশলী বানিয়েছিলেন শামীম।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণপূর্তের এই সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন, ঢাকার বাসাবো ও নিকেতনে তার অন্তত পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট আছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় তার বাড়ি রয়েছে। তবে বিদেশে সম্পদ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তবে শামীমের বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। শামীম দাবি করেছেন, ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক শত্রু হয়েছে তার। তাই সব সময় একাধিক অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে তার তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়।

শামীম আরও জানান, ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে নিয়মিতই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। এর বাইরেও তার অর্থভোগীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। শামীমের বক্তব্য এমন, ঠিকাদারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তার আয় করা অর্থের বড় অংশই দিতে হতো নানা রথী-মহারথীকে। ঠিকাদারি কাজ ভাগাতে অনেক সময় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে ব্যবহার করতেন শামীম। এছাড়া সমাজের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে শামীমের ছবি রয়েছে। নিজের ক্ষমতা দেখাতে এসব ছবিও ব্যবহার করতেন তিনি।

সূত্র জানায়, শুক্রবারের অভিযানের একপর্যায়ে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালান শামীম। তিনি অভিযান-সংশ্নিষ্টদের বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা জানান, শামীম বরাবর টাকা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসেছেন। ফলে তিনি একই কায়দায় র‌্যাবকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। শামীম জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, গণপূর্তের সাবেক প্রকৌশলী মোটা অঙ্কের কমিশন নিলেও ঠিকাদারদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতেন।

শামীম ও সফিকুল রিমান্ডে : এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে তাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। এ সময় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

গুলশান থানার ওসি এম কামরুজ্জামান বলেন, শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে করা তিন মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আদালত সূত্র জানায়, শুনানি শেষে জি কে শামীমকে মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনের মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার গতকাল তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই নুর উদ্দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই থানার এসআই আশিকুর রহমান ১০ দিন করে মোট ২০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। শুক্রবার রাতেই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ধানমণ্ডি থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন র‌্যাব-২-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান।

ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শুক্রবারের অভিযান শেষে র‌্যাব জানায়, সেখানে ৫৭২ পিস আমেরিকার তৈরি প্লেয়িং কার্ড, একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, গন্ধহীন হলুদ রঙের নতুন ধরনের ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্লাবের ভেতর ক্যাসিনোর সরঞ্জাম দেখে ধারণা করা হয়, আগে ক্যাসিনো চালু ছিল।

সফিকুল আলম ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অভিযানে তাকে ছাড়াও আটক চারজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর নিকেতন এলাকার অফিস থেকে জি.কে.বি. কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। এ সময় বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার কাগজপত্র, নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও জব্দ করা হয় আটটি বৈধ অস্ত্র ও ২৩টি ব্যাংকের ৮৩ চেক। নামে-বেনামে যেসব ব্যাংকে শামীমের অর্থ রয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার এফডিআর পাওয়া গেছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জি কে শামীম ক্ষমতাসীন দলের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতেন। একসময় পরিচিত ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ‘ডান হাত’ হিসেবে। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও তার পরিচয় বদলে ফেলেন। রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সবসময় তার পাহারায় থাকত নিজস্ব দেহরক্ষী। তাদের প্রত্যেকের হাতে থাকত শটগান। সেগুলো বৈধ হলেও অন্যদের হুমকি দিতে বা ভয় দেখাতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতো। প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীমের প্রতিষ্ঠান সরকারের অন্তত ২২টি বড় প্রকল্পের কাজ করছে। ঠিকাদারি কাজের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন অঘোষিত ‘টেন্ডার কিং’। অল্প সময়ে তার বিপুল অর্থের মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। অভিযানে তার মা আয়শা হকের নামে থাকা ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধ পথে উপার্জন করা শামীমেরই অর্থ। কারণ তার মা সাধারণ গৃহিণী। তার অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

সংশ্নিষ্টরা জানান, উত্তরার আশকোনায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায় র‌্যাব সদর দপ্তর, ১৩ কোটি টাকায় পোড়াবাড়ীতে র‌্যাব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৫০০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতালের নতুন ভবন, ৫০ কোটি টাকায় এনজিও ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, ১২ কোটি টাকায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ৩০ কোটি টাকায় বিজ্ঞান জাদুঘর, ১৫০ কোটি টাকায় সচিবালয়ের সম্প্রসারিত ভবন, ১০ কোটি টাকায় বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির, ১৫০ কোটি টাকায় হিলট্র্যাক্টস ভবন ও ১৫০ কোটি টাকায় মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে শামীমের প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ল্যাবরেটরি মেডিসিন ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও কেবিনেট ভবন নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ পেতে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়েছেন শামীম। রূপপুরের কাজে ১০ শতাংশ কমিশন দিয়েছেন।

modi-1-20190922153157.jpg

মার্কিন বিমানবন্দরে সবার মন জয় করে নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিউ ইয়র্ক থেকে হিউস্টন সর্বত্রই প্রবাসী ভারতীয় ও মার্কিন অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

স্থানীয় সময় শনিবার হিউস্টন বিমানবন্দরে বিমান থেকে নেমে আসেন মোদি। সে সময় তাকে দেখার জন্য হাজির ছিলেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেমেছেন, ফলে যথারীতি প্রটোকলের বেড়াজাল ছিলই। কিন্তু সেসব তুচ্ছ করে বিমানবন্দরে তার একটি কাজ মন জয় করে নিল হাজার হাজার মানুষের।

কী এমন করেছেন মোদি? যদিও খুব বড় কিছু নয়, তবুও তার এমন কাজ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। শনিবার হিউস্টন বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টারসহ একাধিক শীষ মার্কিন ও ভারতীয় কর্মকর্তারা।

বিমান থেকে নামার পর স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে একটি ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। সে সময় একটি ফুলের ডাল মাটিতে পড়ে যায়। আশপাশের খুঁটিনাটি বিষয়ও যে চোখ এড়ায় না সেটাই দেখালেন মোদি। এক মুহূর্তেই মাটিতে পড়ে থাকা ফুল হাতে তুলে নেন মোদি। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তারপর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক দফা নিয়মাবলি অনুসরণের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নির্দেশনায় বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অফিস চলাকালীন অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক দফা নিয়মাবলি অনুসরণ করতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রতি এ নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে এ নির্দেশনাবলি জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ।

এসব নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭’ এর পাশাপাশি প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর রিফর্মসের সুপারিশক্রমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অনুসরণীয় নির্দেশনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতে কিছু বিষয় অনুসরণ এবং কিছু বিষয় পরিহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অফিস চলাকালীন অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

যেসব বিষয় পরিহার করতে হবে-

ক. জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো প্রকার তথ্য, মন্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

খ. কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

গ. রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

ঘ. কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয়প্রতিপন্নমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

ঙ. কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

চ. লিঙ্গ বৈষম্যমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

ছ. জনমনে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর মনোভব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রচার ও প্রকাশ।

জ. কোনো মামলা সংক্রান্তে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার।

ঝ. নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার।

ঞ. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ছবি বা ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার।

ট. অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, মানহানিকর এবং নৈতিকতা পরিপন্থী কোনো স্ট্যাটাস, পোস্ট, লিংক, ছবি ইত্যাদিতে অন্যজনকে সংযুক্তরণ (ট্যাগিং), আদান-প্রদান(শেয়ারিং), প্রকাশ ও প্রচার।

যেসব বিষয় অনুরসরণ করতে হবে-

ক. প্রকাশিতব্য লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি নির্বাচন ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

খ. প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

গ. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা এবং বিচারকসুলভ মনোভাব অবলম্বন করতে হবে।

ঘ. অপ্রয়োজনীয় বা গুরুত্বহীন বিষয়ে তথ্য, স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেওয়া যাবে না।

ঙ. বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য একটি পোর্টাল/ গ্রুপ থাকতে পারে,যেখানে বিচারাধীন মামলার বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিষয় ব্যতীত কেবল আইনগত বিষয়ে একাডেমিক আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে।

চ. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও বিচারকসুলভ আচরণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।

ছ. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য আদান-প্রদান ও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিজ কর্মক্ষেত্রে মামলার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

জ. বাস্তব ও স্বাভাবিক অবস্থায় সহকর্মীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি,করণীয় ও বর্জনীয় দিকসমূহের প্রতিফলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিশ্চিত করতে হবে।

meherpur.jpg

শনিবার সকাল থেকেই মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামে চলছে বেশ আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের আয়োজন। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য উঠোনের এক পাশে চলছে রান্না। বাড়ির সামনে দৃষ্টিনন্দন বিয়ের গেট। দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো অসংখ্য মানুষ। সবই ঠিকঠাক বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য।

কিন্তু, বিয়ের বহর গেটের কাছে আসতেই এক অন্যরকম উত্তেজনা। বাড়ির গেটের সামনে মাইক্রোবাস থেকে নামলেন লাল বেনারসি শাড়ি পরা বধূবেশে এক কনে। প্রচলিত প্রথা ভেঙে বিয়ের এমন ঘটনাই ঘটলো শনিবার মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামে।

কনে চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের কামরুজ্জামানের মেয়ে খাদিজা আক্তার খুশি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী। বর গাংনী উপজেলার চৌগাছার কমরেড আব্দুল মাবুদের ছেলে তরিকুল ইসলাম জয় একজন ব্যবসায়ী।

শনিবার সকাল থেকেই কমরেড আব্দুল মাবুদের বাড়ির আশেপাশে ছিল বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের ভিড়। ভিন্নধর্মী এ বিয়ের আয়োজন ঘিরে এলাকার মানুষেরও উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি ছিলো না। উৎসুক দৃষ্টিতে সবাই তাকিয়ে ছিলেন কখন আসবে কনে ও কনেযাত্রীরা।

অবশেষে দুপুরে ৭টি মাইক্রোবাস ও ৩০টি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে কনে এসে নামলেন বরের বাড়ির গেটের সামনে। এ সময় কনেকে ফুল ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করে নেয় বর পক্ষ।

এরপর শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী একজন মাওলানা তাদের দু’জনকে কবুল পড়ান। প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করান স্থানীয় কাজি। এরপরে বর পক্ষের দাওয়াতী আত্মীয় স্বজন ও কনে যাত্রীদের ভুড়িভোজ করানো হয়।

বিকেলে বর তরিকুল ইসলাম জয়কে নিয়ে কনে খাদিজা আক্তার খুশি চলে গেছেন তার বাবার বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন কাটানোর পর কনেকে সাথে নিয়ে বর ফিরে আসবেন নিজের বাড়িতে।

নিজের বিয়ের এমন আয়োজন সম্পর্কে কনে খাদিজা আক্তার খুশি বলেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকার হিসেবে একজন মেয়ে একজন ছেলেকে বিয়ে করতে তার বাড়িতে যেতে পারেন, তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সেই বাধার বৃত্ত ভেঙে আমরা শুরু করেছি। আশা করছি আরো অনেকেই এখন এটি করবেন।

বিয়ের আয়োজন প্রসঙ্গে বরের বাবা কমরেড আব্দুল মাবুদ বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। মুখে আমরা বললেও তা বাস্তবায়ন করছি কতটুকু? তাই আমি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছি।

উৎসুক মানুষের কয়েকজন জানালেন, বরপক্ষ কনেপক্ষের বাড়িতে যাবে এটি প্রচলিত প্রথা। এই প্রথা ভেঙে কনেপক্ষ বরের বাড়িতে বিয়ে করতে আসছে তা অবশ্যই ভিন্নরকম এক আনন্দের ঘটনা।

বাংলাদেশে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনিও অভিভূত। প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি ব্যতিক্রমি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হবে।

7-14.jpg

জুয়া, ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুদ্ধ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অনেক নেতা।

চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে অপসারণের পর বিপুল পরিমাণ টাকা ও অস্ত্রসহ এরই মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে। গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো কয়েক নেতা।

চলমান অভিযানের মুখে তারা এরই মধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আপাতত রক্ষা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকারের ইমেজ নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। বিতর্কিতরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, টানা তিন মেয়াদে সরকারে থাকায় এবার দল ও সরকারের ইমেজকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে জন্য ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিতদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ থেকে চাঁদাবাজি করায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করেছেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার পাশাপাশি যুবলীগের একাধিক নেতার ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরই রাজধানীতে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাদের পরিচালিত একাধিক ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেয় র্যাব।

গ্রেফতার করা হয় একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। তাকে একাধিক মামলায় এরই মধ্যে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

দলের পরিচয়ে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব এরই মধ্যে সব মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের নেতারা দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সতর্ক ও সাবধান থাকতে বলেন।

এ সময় দলের অভ্যন্তরে থাকা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। ছাত্রলীগ ধরেছি। এবার যুবলীগকে ধরছি। কেউ পার পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানের পর গতকাল টেন্ডারবাজ যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে বিপুল পরিমাণ টাকা, মদ, অস্ত্র ও সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যায় অভিযান চালানো হয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে।

তবে জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর যুবলীগ তার দায় নিচ্ছে না। শামীম নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা এবং যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করছে সংগঠনটি। তবে গতকাল খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ দিকে রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ থাকা ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকেও যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে।

তাকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বর্তমানে তার কাকরাইল অফিসে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, শুধু সম্রাট, খালেদ ও জি কে শামীমই নন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে আছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের আরো অনেক নেতা। তারা এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছেন।

সিটি করপোরেশন, শিক্ষা ভবন, ওয়াসা, স্বাস্থ্য অধিদফতর, রাজউক, বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের সব সংস্থায় নিজস্ব টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এসব নেতা। তাদের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া এসব সংস্থায় কারো টেন্ডার মিলে না।

অবৈধ ক্যাসিনো, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজিতেও রয়েছে তাদের নাম। যুবলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা ও সংসদ সদস্য, যুবলীগের মহানগর নেতা ও মতিঝিল এলাকার কাউন্সিলর, সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা, স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ দুই নেতা, কেন্দ্রীয় এক সাংগঠনিক সম্পাদক, দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতা, মহানগর উত্তরের শীর্ষ নেতা ও কাওরান বাজার এলাকার কাউন্সিলরসহ বহু নেতার বিরুদ্ধেই এসব অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছেন। সেখানে গিয়ে আপাতত রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। আবার কেউ কেউ গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন।

বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের আগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সিঙ্গাপুর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ আরো কয়েকজন সহযোগী তাদের সাথে ছিলেন।

তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সতর্কতার কথা শুনে তারা সেই চেষ্টায় ক্ষান্ত দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে অনেকে এখনো নানাভাবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের ব্যাপারে স্থল ও বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থা রয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, ‘সরকারের ইমেজ রক্ষায় শেখ হাসিনা যে কাউকেই ত্যাগ করতে পারেন। সে যত বড় ও প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন। তার তিলে তিলে গড়া সব অর্জন এসব নেতার অপকের্ম ম্লান হতে দেবেন না। সে জন্যই দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তিনি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

দলের সম্পাদকমণ্ডলীর দু’জন নেতা বলেন, ‘মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অবস্থান দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা এবং যুবলীগের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াকে দেশের আপামর জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছে।

এই দলে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ অপরিহার্য নন। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় বিতর্কিত কোনো নেতা বা এমপি মন্ত্রীকেও তিনি ছাড় দেবেন না।’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বিতর্কিত এসব নেতার কর্মকাণ্ড আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তাদের অপকর্মে আমরা আসলে বিব্রতবোধ করছি। দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় তাদের কাউকেই ছাড় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

gwealerlakantho_pic.jpg

প্রয়োজন হলে আমরা ঋণ নেবো। আবার সময়মতো পরিশোধও করবো। বাংলাদেশকে ঋণ দিতে বিদেশিরা ঢাকায় ব্রিফকেস নিয়ে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন,পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। মাথাপিছু আয় দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশকে ‘বিলিয়নস অব ডলার’ ঋণ দিতে চায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, চাইনিজ ব্যাংকসহ অন্যরা। তাহলে কেনো আমরা ডোনার ফান্ড চাইবো?

শনিবার চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবে ‘এসডিজি অর্জনে ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্র্যাকের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং সাবেক মূখ্য সচিব মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. আতিউর রহমান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ)

এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএনএম এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী, মমতার প্রধান নির্বাহী রফিক আহামদ, অন্তর সোসাইটি ফর ডেভলপমেন্টের প্রধান উপদেষ্টা এমরানুল হক চৌধুরী, ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান প্রমুখ।

এম এ মান্নান বলেন, দেশের মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠানসমূহের মাত্র ১ শতাংশ মূলধন ডোনার ফান্ড থেকে আসে। তাহলে এটা নিয়ে এতো কথা বলার কী আছে? ফান্ড যদি ইনসাফিসিয়েন্ট হয়, ভয়ের কিছু নেই। আমরা প্রয়োজনে ঋণ নেবো। তবে ডোনার শব্দটি ব্যবহার করা আমাদের জন্য অপমানজনক।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২, ৭৩ বা ৭৪ সালে অনেক ডোনেশন আসতো। আমরা সেগুলো নিতাম। এসব নিয়ে বিদেশিরা বাহাদুরি দেখাতো। কিন্তু এখন আর তাদের বাহাদুরি দেখার দরকার নেই। কেউ যদি বন্ধুত্বের হাত আমাদের প্রতি বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরাও হাত বাড়াবো। তবে প্রভুত্ব মেনে নেবো না।

এদিকে, সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রান্তিক পর্যায়ে মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রম চালাতে গিয়ে চাঁদাবাজি, হয়রানির অভিযোগ করেছেন। সার্ভিস চার্জ কমানোর এবং ঋণের সুদ সীমা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

Shasuzzaman-Dudu-2.jpg

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এস কে সাদী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত১৭ সেপ্টেম্বর ডিবিসি টিভিতে রাজকাহন নামে একটি টকশোতে আমরা কয়েকদিন উপস্থিত ছিলাম। সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম সারোয়ার মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল এবং আমি।

একজন উপস্থাপিকা ছিলেন এই মুহূর্তের নাম মনে পড়ছে না। ওই অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে একজন তার ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক। সেই বক্তব্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের যেভাবে পতন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেইভাবে পতন হবে’ এই বক্তব্য সঠিক নয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ভিন্নতা আছে এটা সত্য। তাই বলে আমার ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থান, সুদীর্ঘ একটি রাজনৈতিক পরিচিতি আছে। যা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ।

আমি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি দীর্ঘ নয়টি বছর। সেই আন্দোলনে রাজপথে ছাত্রলীগের অনেক বন্ধু আমার পাশাপাশি ছিলেন। তাদের সঙ্গে এখনো আমার সখ্যতা আছে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ওই অনুষ্ঠানে একাধিকবার আমি বলেছি একটি সরকারের পতন দুই ভাবে হয় ১. নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২. গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের বাইরে আর কিছু করেছি তার নজির নাই।

ওই টকশোতে আমার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগসহ কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। হয়তো এমন হতে পারে আমি যা বলতে চেয়েছি তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি নাই, এটা আমার ব্যর্থতা।