top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

bal09.jpg

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় আওয়ামী লীগ থেকে দুই শতাধিক নেতা বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বহিষ্কার প্রক্রিয়া। দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর পরবর্তী সভায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সিদ্ধান্তের পর বহিষ্কৃতদের কয়েক ধাপে চিঠি দেয়া হবে। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হবে।

এর আগে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে (গণভবন) দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ওইসব নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গেল নির্বাচনীয় প্রার্থী হয়েছিলেন এবং ওইসব প্রার্থীদের সহায়তা করেছিলেন এমন নেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৪১, রাজশাহীতে ২০, সিলেটে ৩২, রংপুরে ২৬, বরিশালে ১৭, ময়মনসিংহে ২০, ঢাকায় ৪৫ জনের বেশি এবং চট্টগ্রামে ১৭ জনের বেশি।

এদের মধ্যে ২০০ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-

রাজশাহী:

১. গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান।

২. দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ সরদার।

৩. চারঘাট উপজেলা পরিষদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টিপু সুলতান।

নাটোর:

৪. বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু।

৫. গুরুদাসপুরে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

৬. জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী।

নওগাঁ:

৭. রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন হেলাল।

৮. বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামসুল আলম খান।

৯. পোরশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শাহ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী।

১০. সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হোসেন মন্ডল।

চাঁপাইনবাবঞ্জ:

১১. গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাচনে পার্বতীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার আলী খান।

পাবনা:

১২. ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মিন্টু।

১৩. চাটমোহর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার।

১৪. চাটমোহর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হায়াত মো. কামাল জুয়েল।

১৫. ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য গোলাম হোসেন গোলাপ।

সিরাজগঞ্জ:

১৬. তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান।।

১৭. বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাজেদুল।

১৮. পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

বগুড়া:

১৯. দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক।

খুলনা:

২০. পাইকগাছায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম।

২১. পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মোড়ল রশিদুজ্জামান।

২২. তেরোখাদা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম।

২৩. দিঘলিয়া উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শেখ মারুফুল ইসলাম।

২৪. দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মল্লিক মহিউদ্দিন।

২৫. দাকোপ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনসুর আলী খান।

২৬. রূপসায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ আকবর আলী।

যশোর:

২৭. চৌগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান

২৮. বাঘারপাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নাজমুল ইসলাম কাজল।

২৯. মনিরামপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন লাভলু।

৩০. ঝিকরগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম।

৩১. কেশবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম।

মাগুরা:

৩২. শালিখায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।

৩৩. শ্রীপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল গনি শাহিন।

বাগেরহাট:

৩৪. মোল্লাহাট উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোতাহার হোসেন মোল্লা। ৩৫. মোরেলগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান বাবুল।

নড়াইল:

৩৬. কালিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম হারুনার রশীদ।

৩৭. লোহাগড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিকদার আবদুল হান্নান রুনু।

৩৮. লোহাগড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফায়জুর আমীর লিটু।

ঝিনাইদহ:

৩৯. জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জেএম রশিদুল আলম।

৪০. শৈলকুপায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সোনা সিকদার।

৪১. হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

চুয়াডাঙ্গা:

৪২. জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।

৪৩. আলমডাঙ্গায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব হোসেন।

৪৪. দামুড়হুদায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আলী মনসুর বাবু।

৪৫. উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কুদ্দুস।

৪৬. জীবননগরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা।

৪৭. জীবননগরে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল মল্লিক।

কুষ্টিয়া:

৪৮. কুমারখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জয়নাল আবেদীন।

সাতক্ষীরা:

৪৯. সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম শওকত হোসেন।

৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ।

৫১. তালা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএম ফজলুল হক।

৫২. কলারোয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু।

৫৩. কালীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদি।

৫৪. উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেহেদি হাসান সুমন।

৫৫. আশাশুনিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পিন্টু।

৫৬. দেবহাটা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা।

৫৭. শ্যামনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জিএম ওসমান গনি।

মেহেরপুর:

৫৮. গাংনীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান।

৫৯. জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নুরজাহান বেগম।

৬০. জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।

সিলেট:

৬১. সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী।

৬২. কানাইঘাটে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশ।

৬৩. কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল বাছির।

৬৪. কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া।

৬৫. কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী।

৬৬. ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আহমদ।

৬৭. ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক।

৬৮. ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাহাফিজ মাসুম।

৬৯. গোয়াইনঘাটে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গোলাপ মিয়া।

৭০. যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ।

৭১. জৈন্তাপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামাল আহমদ।

৭২. বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন।

৭৩. দক্ষিণ সুরমায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল ইসলাম।

৭৪. ফেঞ্চুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম।

সুনামগঞ্জ:

৭৫. ছাতক উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।

৭৬. দিরাই উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর আলম চৌধুরী।

৭৭. উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন।

৭৮. শাল্লা উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস।

৭৯. ধর্মপাশা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী।

৮০. উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস।

৮১. জামালগঞ্জে জেলা আ’লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম।

মৌলভীবাজার:

৮২. বড়লেখায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ।

৮৩. জুড়ীতে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ মোঈদ ফারুক।

৮৪. কুলাউড়া উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান।

হবিগঞ্জ:

৮৫. সদরে পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম।

৮৬. লাখাই উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজ।

৮৭. জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিক আহমেদ।

৮৮. চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।

৮৯. বাহুবলে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির চৌধুরী।

৯০. আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন।

৯১. বানিয়াচং উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান।

৯২. মাধবপুরে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এহতেশামুল বার চৌধুরী লিপু।

৯৩. শায়েস্তাগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহমদ খান।

বরগুনা:

৯৪. আমতলী উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামসুদ্দিন সজু। ৯৫. আমতলী উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান।

পটুয়াখালী:

৯৬. সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম মৃধা।

৯৭. দুমকিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান সিকদার।

৯৮. মির্জাগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক।

৯৯. দশমিনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ বশার ডাবলু।

১০০. জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাখাওয়াত শওকত হোসেন।

১০১. উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী আবু বক্কর সিদ্দিক।

ঝালকাঠি:

১০২. সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম।

১০৩. সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।

১০৪. রাজাপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মিলন মাহমুদ বাচ্চু।

১০৫. কাঁঠালিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সিকদার।

বরিশাল:

১০৬. হিজলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন ঢালী। ১০৭. বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রিপন।

পিরোজপুর:

১০৮. সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। ১০৯. নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের সমর্থক অ্যাডভোকেট দিপ্তীশ হালদার।

ভোলা:

১১০. তজুমদ্দিনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মোশারফ হোসেন।

দিনাজপুর:

১১১. নবাবগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান।

১১২. নবাবগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নিজামুল হাসান শিশির।

১১৩. বিরামপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম রাজ।

১১৪. খানসামায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু হাতেম।

১১৫. চিরিরবন্দরে জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক।

১১৬. কাহারোলে সাবেক এমপি আবদুল মালেক সরকার।

১১৭. বীরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল।

১১৮. ফুলবাড়ীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সুদর্শন পালিত।

পঞ্চগড়:

১১৯. জেলার তেঁতুলিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোছা. ফরিদা আখতার হীরা।

১২০. আটোয়ারীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনিসুর রহমান।

১২১. দেবীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক চিশতী।

১২২. উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পরিমল দে সরকার।

১২৩. উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-উর রশিদ।

১২৪. উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোখলেছুর রহমান শাহ।

গাইবান্ধা:

১২৫. সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ সারোয়ার কবীর।

১২৬. সুন্দরগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খয়বর হোসেন।

১২৭. সাদুল্যাপুরে জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মতিয়ার রহমান।

১২৮. গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি ফেরদৌস আলম রাজু।

কুড়িগ্রাম:

১২৯. জেলার রাজারহাটে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক সোহরাওয়ার্দী বাপ্পি।

১৩০. ফুলবাড়ীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ গোলাম রব্বানী।

১৩১. রাজিবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন।

লালমনিরহাট:

১৩২: জেলার হাতীবান্ধায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলু। ১৩৩. জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সরওয়ার হায়াত খান।

ঠাকুরগাঁও:

১৩৪. জেলার বালিয়াডাঙ্গীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম। ১৩৫. পীরগঞ্জ উপজেলায় দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজেন্দ্র নাথ রায়।

রংপুর:

১৩৬. জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মেজবাহুর রহমান প্রধান।

নীলফামারী:

১৩৭. ডোমারে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া।

চট্টগ্রাম:

১৩৮. জেলার ফটিকছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু তৈয়ব।

১৩৯. লোহাগাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল।

১৪০. বাঁশখালী উপজেলায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম।

১৪১. বোয়ালখালীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের।

১৪২. উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটির সহসভাপতি শ্রমিক নেতা এসএম নুরুল ইসলাম।

কক্সবাজার:

১৪৩. সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নুরুল আবছার।

১৪৪. টেকনাফে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাফর আলম।

১৪৫. রামুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল।

১৪৬. মহেশখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরীফ বাদশা।

১৪৭. চকরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

১৪৮. সদর উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও।

১৪৯. নাসিরনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার।

১৫০. সরাইলে আওয়ামী লীগের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

১৫১. সরাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেছুর রহমান।

১৫২. আশুগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান।

১৫৩. নবীনগরে আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাসির উদ্দিন।

কিশোরগঞ্জ:

১৫৪. জেলার কটিয়াদীতে আওয়ামী লীগ নেতা লায়ন মো. আলী আকবর।

১৫৫. কটিয়াদীতে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ উদ্দীন।

১৫৬. কটিয়াদীতে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান।

১৫৭. তাড়াইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ভূঞা।

১৫৮. ভৈরব উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর।

১৫৯. ইটনা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান।

১৬০. বাজিতপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মোবারক হোসেন মাস্টার।

রাজবাড়ী:

১৬১. সদরে জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম নওয়াব আলী।

১৬২. পাংশায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ।

১৬৩. উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হাসান ওদুদ।

১৬৪. বালিয়াকান্দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

১৬৫. উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হাকিম সাধন।

শেরপুর:

১৬৬. জেলার নালিতাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু।

১৬৭. নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফারুক।

১৬৮. নকলা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. বোরহান উদ্দিন।

১৬৯. শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম।

১৭০. উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মতিন।

টাঙ্গাইল:

১৭১. জেলার কালিহাতীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী।

১৭২. টাঙ্গাইল সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম।

১৭৩. দেলদুয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ।

১৭৪. বাসাইল উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম।

ফরিদপুর:

১৭৫. জেলার ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক সাহাদাত হোসেন।

১৭৬. উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েত উল্লাহ সাকলাইন।

১৭৭. সদরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান।

১৭৮. সদরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী শফিকুর রহমান।

১৭৯. নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহজামান বাবুল।

১৮০. সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ মাতুব্বর।

১৮১. চরভদ্রাসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্লা।

গাজীপুর:

১৮২. জেলার শ্রীপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান।

১৮৩. কালিয়াকৈরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন সিকদার।

১৮৪. কাপাসিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন।

ময়মনসিংহ:

১৮৫. জেলার হালুয়াঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ।

১৮৬. ধোবাউড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. হাবিবুর রহমান।

১৮৭. ফুলপুরে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম রাসেল।

১৮৮. গৌরীপুর উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভী।

১৮৯. ঈশ্বরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বদরুল আলম প্রদীপ।

১৯০. ভালুকায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন।

জামালপুর:

১৯১. ইসলামপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিয়াউল হক। ১৯২. দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সোলাইমান হোসেন।।

শেরপুর:

১৯৩. শ্রীবরদী উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম।

১৯৪. উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মতিন।

১৯৫. উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সোহাগ।

নেত্রকোনা:

১৯৬. জেলার বারহাট্টায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাইনুল হক কাসেম।

১৯৭. দুর্গাপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাইদুল হোসেন আকুঞ্জি।

১৯৮. উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল পাশা।

১৯৯. কলমাকান্দায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুল হক ফজলু।

২০০. মদনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইফতেখার আলম খান চৌধুরী।

rifat4.jpg

বরগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কারণ সে নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ জন্য রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছিলো ছক।

সূত্র বলছে, ঘটনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কালক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সেজন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নির্লিপ্তভাবে হাটতে দেখা যায়। ভেবেছিলেন নয়ন বন্ডরা তাকে সামান্য শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ যখন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সাথে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনা সদরের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতারের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

এসময় তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার পর মিন্নিকে তার বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে আসে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। পরে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। দুর্বৃত্তরা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

hajj-biman-20190717212141.jpg

চলতি বছরের হজে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী বহন করবে। এ থেকে প্রায় ৮১৪ কোটি টাকার ওপরে আয়ের প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। প্রত্যাশা পূরণ হলে হজ আয়ে এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

এ বছর হজযাত্রীদের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ হিসাবে এবার ৮১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ওপরে আয়ের প্রত্যাশা করছে বিমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানের মুখপাত্র তাহেরা খন্দকার।

তিনি জানান, হজ ফ্লাইট শুরুর আগে এবারই প্রথম বিমান অগ্রিম ভিত্তিতে টিকিট বিক্রির টাকা আদায় করায় লাভের পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাহবুব জাহান খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর হজ ফ্লাইটে টিকিট বিক্রি থেকে আসা আয় ছাড়াও আপগ্রেডেশন, ডেট পরিবর্তন এবং শর্ট প্যাকেজ থেকে ৪ কোটি টাকার ওপরে আয় হতে পারে। সব মিলে এ বছর হজের আয় অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ ৪ জুলাই সকাল সোয়া ৭টায় ৪১৯ হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এ বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইট বিমানে যাবেন ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭ হাজার ১৯৮। অবশিষ্ট ৫৬ হাজার ৪০১ হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

সূত্র আরও জানায়, এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের চারটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ ছাড়াও স্বল্পমেয়াদি লিজে আনা হয়েছে দুটি এয়ার বাস। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা জেদ্দায় যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ডেডিকেটেড এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ’-এ মোট ১৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

karachi4.jpg

পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেইউ) বাংলা বিভাগের একমাত্র শিক্ষক অধ্যাপক ড. তৈয়্যব খান। বর্তমানে তার একার প্রচেষ্টায়ই ৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ।

বিভাগ বলতে শুধু একটি ছোট শ্রেণিকক্ষ আর একটা গ্রন্থাগার, যেখানে রয়েছে কয়েকশ বই। বইগুলোর বেশিরভাগই বাংলা সাহিত্যের। বইগুলোর ওপর পড়ে থাকা ধুলো দেখেই ধারণা করা যায় যে বহুদিন ধরেই এগুলোতে কেউ হাতও দেয়নি।

বাংলা বিভাগের ছোট এ গ্রন্থাগারে ঢুকলেই একজন গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনবোধ হয়। তবে বিগত কয়েক বছর এ গ্রন্থাগারের জন্য কোনো গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫১ সালে স্থাপিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৯৫৩ সালে। তবে বর্তমানে এ বিভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ছোট বিভাগ। বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও এ বিভাগটিকে টিকিয়ে রেখেছেন তৈয়্যব খান। এ বিভাগ থেকে স্নাতক, স্নাতোকত্তরসহ পিএইচডি ডিগ্রি পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে এ বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয়।

যদিও সব বিভাগকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়- এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি। তবে বাংলা বিভাগের বর্তমান অবস্থা দেখে সে দাবির বাস্তবিক রূপ বোঝা সহজ।

অর্ধয়নরত ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী দুইজন। তারা হলেন- হাসান মুহাম্মাদ উমার এবং ইয়াসমিন সিরাজ। এছাড়া বাকি চারজনের মধ্যে সেজাদ সিরাজ, জামিল আহমেদ ও আরিব আহমেদ স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর এ বছরই স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন মুহাম্মাদ ফুরকান। এদের মধ্যে ইয়াসমিন ও সেজাদ ভাই-বোন। তারা বাঙালি এবং বাংলাতেই কথা বলেন। বাকি চারজনের মধ্যে একজন সিন্ধি আর অপর তিনজন উর্দুতেই কথা বলেন।

করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের আওতায় প্রতি বছরই প্রায় ৮০টি আসন বরাদ্দ থাকে। পাশাপাশি পিএইচডি ডিগ্রির আওতায় বরাদ্দ থাকে পাঁচটি আসন। এছাড়া পিএইচডি ডিগ্রিতে অধ্যয়নরতদের তত্ত্বাবধানে একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অনুমোদনও দিয়েছে দেশটির উচ্চ শিক্ষা কমিশন। এতো সুবিধার পরও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা আশারও অনেক নিচে।

অধ্যাপক ড. তৈয়্যব খান জানান, বাংলায় পড়লে চাকরি পাওয়া যাবে না- এমন একটা ধারণা এখানকার মানুষের মধ্যে রয়েছে। এখন সবাই যে বিষয়ে পড়লে চাকরি পাওয়া যাবে, এমন বিষয়ে পড়তে চায়। অন্য কোনো ভাষা পড়ায় তাদের আগ্রহও কম। এছাড়া অন্য ভাষার লোকেরা বাংলা পড়তে আসবে- এমনটাও আশা করা যায় না।

তবে এখানে অনেক বাঙালিও থাকে, এমনটা উল্লেখ করে অধ্যাপক তৈয়্যব খান বলেন, এখানে যে বাঙালিরা থাকে তারা সুবিধাবঞ্চিত। তাদের অনেকের এখানে থাকার অনুমোদন পর্যন্তও নেই। ফলে তারা প্রাথমিক শিক্ষাও পায় না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠতো দূরের কথা।

পাকিস্তান মুসলিম লীগ শের-ই-বেঙ্গলের (পিএমএল-এসবি) প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন জানান, পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, করাচিতে প্রায় ১৬ লাখেরও বেশি বাঙালি বসবাস করে। তবে তার দাবি, করাচি শহরের বিভিন্ন বস্তিতে প্রায় ১৪ লাখের মতো অনিবন্ধিত বাঙালি বসবাস করে।

তাদের শিক্ষার ব্যাপারে আলাউদ্দিন বলেন, এখানে বসবাসরত বাঙালিদের স্কুলে ভর্তিরই সুযোগ নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠতো দূরের কথা।

তিনি আরও জানান, ষাট ও সত্তরের দশকে অনেকেই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়তে চাইতো। তবে এখন এখানে বাঙালি জনগোষ্ঠীর যে পরিচয় সংকট, তা তাদের (বাংলায়) পড়াশোনার উৎসাহকে দমিয়ে দিয়েছে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। আর পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের ভাষা ছিলো উর্দু। তাই পূর্ব ও পশ্চিম- এ দু্ই পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব দূর করতেই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ চালু করা হয়। একসময় অনেক শিক্ষাবিদই শিক্ষকতা করেছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

পরে পূর্ব পাকিস্তান ভাগ হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তাদের বেশিরভাগই করাচি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, অধ্যাপক মুহাম্মাদ ফারুক, অধ্যাপক সৈয়দ আশরাফ আলী, অধ্যাপক আবদুল গফুর ও মহিউদ্দিন চৌধুরী। সর্বশেষ ২০০২ সাল থেকে এ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক তৈয়্যব খান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী উমার জানান, তিনি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং বর্তমানে একটি স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করছেন। চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বাংলায় পড়ছেন না। বিদেশি ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহের কারণেই তিনি এখানে বাংলায় পড়ছেন।

ভিন্ন কথা জানালেন বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জামিল। তিনি বলেন, বাংলা পড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং এর সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। এছাড়া বাংলায় পড়লে চাকরি পাওয়া যায় না, আমি এ কথার সঙ্গে একমত নই। বাংলায় পড়াশোনা করে আমি বাংলা ভাষার শিক্ষক হতে চাই। করাচিতেই অনেক বাঙালি রয়েছে। অথচ তাদের পড়ানোর মতো কোনো শিক্ষক নেই। এই সংকটটা দূর হোক।

ajmot.jpg

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার পরেও বিনাদোষে আইনি জটিলতায় ১০ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন বৃদ্ধ শিক্ষক আজমত আলী। হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের নির্দেশের কপি হাতে পেয়ে জেল সুপার মকলেছুর রহমান মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় তাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত আজমত আলীকে পেয়ে বাবা-মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের ইজ্জতউল্লাহ সর্দারের ছেলে আজমত আলী টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি।

১৯৮৭ সালে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি হত্যা মামলায় ১৯৮৯ সালে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজমত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

এই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ ক্ষমার প্রার্থনা করে আজমত আলীর পরিবার। সেই আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আজমত আলী।

পরে ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আসামি আজমত আলীকে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। হাজির না হলে ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে আজমত আলীকে গ্রেফতার করে নিন্ম আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে বন্দি জীবনযাপন করছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন তার বাবার মুক্তি চেয়ে আইনি সহায়তা পেতে সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইডে আবেদন করেন। পরে সে আবেদন পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আপিল বিভাগের রায় পুর্ণবিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে নি:শর্ত মুক্তি দেওয়ার নিদের্শ দেন। আপিল বিভাগের নিদের্শে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেন।

আজমত আলীর কন্যা বলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশের পর আইনী জটিলতায় বিনা দোষে তার বাবা ১০ বছর কারাভোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এখন আমার বাবা জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া দশ বছর কি আমরা ফিরে পাবো? এই বলে বাবাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সদ্যমুক্তি পাওয়া আজমত আলী বলেন, আইনি জটিলতায় বিনাদোষে আমি বৃদ্ধ বয়সে কারাগারে ১০ বছর মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছি। কারো জীবনে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।

জামালপুর কারাগারের জেল সুপার মকলেছুর রহমান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিদের্শের কপি পাওয়ার মাত্রই তাকে মুক্তি দেয়া হলো। তার মুক্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট।

google-map-20190716165956.jpg

বাংলাদেশে রাইডারদের জন্য গুগল ম্যাপে কয়েকটি নতুন ফিচার চালু করেছে গুগল। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে নতুন এ ফিচারগুলো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উপস্থিত ছিলেন গুগল ম্যাপস-এর ডিরেক্টর প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ক্রিশ ভিতালদেভারা, গুগল ম্যাপস-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (দক্ষিণ এশিয়া) অনল ঘোষ, গুগল-এর বিজনেস অ্যান্ড অপারেশন্স লিড বিকি রাসেল এবং গুগল-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন্স জেসিকা বায়ার্ন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রায়নে গুগলের নিরলস প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় ভয়েস নেভিগেশন সেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযুক্ত করা এবং দেশের রাইড শেয়ারিং খাতের উন্নয়নে গুগল ম্যাপে বিশেষ মোটরসাইকেল মোড সংযুক্ত করার ফলে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সুফল পৌঁছে যাচ্ছে আর্থসামাজিক অবস্থান ভেদে সবার হাতে হাতে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম বিভিন্ন পরিষেবা উদ্ভাবনে সরকার ও গুগল একত্রে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।

নতুন ফিচারে রাইডাররা শুধু যাত্রার আনুমানিক সময়সীমাই জানতে পারবেন না, বাইকের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ নির্দেশিকাও পাবেন। এছাড়া গুগল ম্যাপস ব্যবহারকারীরা বাংলায় ভয়েস নেভিগেশন বা পথনির্দেশিকা শুনতে পারবেন। যেহেতু রাইড শেয়ারিং এখন বেশ জনপ্রিয়, তাই প্রত্যেক যাত্রী নিজেদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে কোন পথটি সবচেয়ে ভালো তা ডাবল-চেকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারবেন এবং তা পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। নির্বাচিত রুট বা পথ থেকে ০.৫ কিলোমিটার পরিমাণ বাইরে গেলেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য রয়েছে অডিয়েবল অ্যালার্ট।

এ বিষয়ে গুগল ম্যাপস-এর ডিরেক্টর প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ক্রিশ ভিতালদেভারা বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী আমরা স্থানীয় জনসাধারণকে সর্বোৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতা প্রদানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই বাংলা ভয়েস নেভিগেশন এবং উপযুক্ত পথ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ও তা শেয়ার করার ফিচার কমিউটার সেফটির মতো সংশ্লিষ্ট সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সর্বত্র যাত্রীদের পথযাত্রা হবে আরও সহজতর।

মোটরসাইকেল রাইডারদের জন্য গুগল ম্যাপস নিয়ে এসেছে নতুন নেভিগেশন মোড। মোটরসাইকেল রাইডারদেরও রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট চাহিদা। গাড়ি যেসব পথ দিয়ে চলাচল করতে পারে না, গুগল ম্যাপসের নতুন ফিচারের মাধ্যমে সেসব সরু পথ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন মোটরসাইকেল রাইডাররা। এছাড়া এমন অনেক রাস্তা বা হাইওয়ে আছে যেগুলোতে দুই চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচল নিষেধ, কারণ সেসব রাস্তায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের গতির পার্থক্য অনেক। এসব রাস্তায় না যাওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেবে গুগল ম্যাপস।

আগে হাঁটা ও গাড়ি ড্রাইভিংয়ের মিলিত সম্ভাব্য সময় ধরে নিয়ে মোটরসাইকেল রাইডাররা গন্তব্যে পৌঁছানোর আনুমানিক সময় হিসাব করতেন। কিন্তু এখন গুগল ম্যাপের নতুন মেশিন লার্নিং ফিচারের মাধ্যমে মোটরসাইকেল রাইডারদের যাত্রার সময় হবে আরও নির্ভুল, যার কার্যকরী প্রভাব পড়বে মোটরসাইকেলের গতি ও রুটের ওপর।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল ম্যাপসের নতুন সংস্করণটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নতুন সব ফিচার উপভোগ করতে পারবেন।

parliii.jpg

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে এবার সরকারি খরচে ৪৫ জন হচ্ছে যাচ্ছেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এ ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছাড়াও কমিটির আরো দুই সদস্য সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। জানা যায়, গত ১০ জুন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কমিটির প্রতি সদস্যের মনোনীত পাঁচজনকে সরকারি খরচে হজে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, কমিটির ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ৯। সেই অনুপাতে তাদের মনোনীত ৪৫ জন সরকারি খরচে হজ্জে যাচ্ছেন। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী টেকনোক্র্যাট হওয়ায় তিনি সংসদীয় কমিটির সদস্য নন।

প্রসঙ্গত, এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুশারিশের পর সরকারি প্রাথমিক স্কুলে দফতরি কাম নাইট গার্ড নিয়োগের সময় স্থানীয় এমপিদের সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের পর স্থানীয় এমপিদের সম্পৃক্ত করার ফলে দফতরি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সুপারিশে পাঁচজন করে হজ করার সুযোগ পাওয়ায় আমরা খুশি। এর বাইরেও এবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিনিধি দলে সংসদীয় কমিটির তিন সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন। তারা হলেন- কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও রত্মা আহমেদ।

কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এইচ এম ইব্রাহিম, জিন্নাতুল বাকিয়া, মোসা. তাহমিনা বেগম এবং রত্না আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ বৈঠকে অংশ নেন।

dt-ershad-2-3.jpg

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ায় তার রংপুরের সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ জুলাই সকালে সংসদ ভবনে এরশাদের জানাজা শেষ করার পরই বিকেলে তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয়ে তা ছাপা আকারে সংসদে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন আইন শাখা-২ এর উপ-সচিব নাজমুল হক।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জানা যায়, গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করায় তার সংসদীয় আসন রংপুর-৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবিধানের ১২৩ (৪) দফায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে)।’

প্রসঙ্গত, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে পল্লী নিবাসে এরশাদকে দাফন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিল। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা আসনের (সংসদীয় আসন ৩৩৪, মহিলা আসন ৩৪) সাংসদ রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে (বৃহস্পতিবার) ১১ জুলাই আসন শূন্য করে সংসদ সচিবালয়। মারা যাওয়ার পরদিনই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত গেজেট পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

ইসির যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, “সংরক্ষিত ৩৪ মহিলা আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের গেজেট আমরা পেয়েছি। বুধবারের মধ্যে রংপুর-৩ আসনের গেজেট হাতে পাব আশা করি। এ দুটোর উপ নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের উপস্থাপনের করা হবে।”

রংপুর-৩ আসনে অক্টোবরের মধ্যে ও সংরক্ষিত মহিলা রুশেমা বেগমের আসনের উপনির্বাচন আগস্টের মধ্যে করতে হবে।

minni77.jpg

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এ হত্যা মামলার বাদী ও নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফের অভিযোগ আমলে নিয়ে মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাতে মিন্নিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মিন্নি। তার বক্তব্য রেকর্ড ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা পুলিশ লাইনে আনা হয়। রাতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পুলিশের।

মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানোর পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন পুলিশ সুপার। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ও অন্যান্য সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তাই রাত ৯টার সময় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আলোচিত রিফাত রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণ ও আক্রোশের জন্য এই রোমমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি সরাসরি সম্পৃক্ত। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে পুলিশ লাইনে আনা হয়। সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্নিকে পুলিশ লাইনে আনার সময় তার সঙ্গে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও এসেছেন।

মোবাইল ফোনে পুলিশ লাইন থেকে তিনি বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করার জন্য মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। শনাক্তকরণ শেষ হলে মিন্নিকে আবার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আগে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিল। ওই বিয়ে গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করে সে। বিষয়টি আমাদের জানায়নি মিন্নি এবং তার পরিবার। কাজেই রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে মিন্নির মদদ রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজ আমার ছেলে হত্যার বিষয়ে কিছু কথা শেয়ার করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত এ পর্যন্ত ১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত মনে আমাকে বলতে হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। কীভাবে তারা বাইরে তা বলার জন্যই আমি আজ এখানে এসেছি।

দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি মিন্নি ও তার পরিবার সুকৌশলে গোপন করেছে। নয়ন বন্ডের স্ত্রী থাকা অবস্থায় আমার ছেলে রিফাতকে বিয়ে করেছে মিন্নি। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করতো। নিয়মিতভাবে নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করতো সে।

ershad-20190717001344.jpg

মৃত্যু মানুষকে মহান করে। দেহের সঙ্গে চাপা পড়ে যায় তার দোষও। মৃত ব্যক্তির ভালো দিকগুলো সামনে এনে চলে তার গুণকীর্তন। কিন্তু ইতিহাস কী আসলে সব ক্ষমা করে!

না। শাসকের সমস্ত বিধান মেনে নিলে মানুষের মাঝে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এত তীব্র থাকত না। শাসকেরা বেঁচে থাকেন ভালো এবং মন্দ উভয় কর্মের মধ্য দিয়েই।

সাবেক রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মধ্যেই। এরশাদের মৃত্যুতে শোক চলছে। শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীও। বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এরশাদের প্রিয় আবাসস্থল রংপুরের মাটিতেই দাফন হলো।

গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমেও এরশাদের জন্য শোক জানিয়ে লিখছেন অনেকে। অনেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক, উন্নয়নের রূপকার হিসেবে হাজির করছেন তাকে।

গণতন্ত্রের আড়ালে উন্নয়নকে বড় করে এরশাদের দৃশ্যমান সফলতাকে এগিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের সাক্ষ্য হিসেবে প্রমাণ দিচ্ছেন কেউ কেউ।

এর মধ্যে পল্লী উন্নয়নে এরশাদের প্রশংসা মিলছে ব্যাপকভাবেই। জনপ্রিয় হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে এরশাদ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তা হলফ করে বলা যেতেই পারে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণে এরশাদের আমলে যে বিশেষ পরিবর্তন এসেছিল, তা স্মরণীয়।

এরশাদ জামানার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল গ্রামের উন্নয়ন। গ্রামের উন্নয়ন আলোচনায় এনে এরশাদ পল্লীবন্ধু উপাধিও পেয়েছিলেন। উপজেলা নির্বাচনের প্রবর্তন করে তিনি মূলত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিলেন। বিচার ব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদের আমলেই গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্টসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে। এ সময় স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ভবনও নির্মাণ হতে দেখা যায়। তিস্তা সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে উত্তরবঙ্গের কৃষি উন্নয়নে আকাশসম স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সামরিক এই প্রশাসকই গ্রামে-গঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের প্রবর্তন করেন।

গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতায়নের সংযোগ ঘটে তার আমলেই। প্রশাসনের বিকেন্দীকরণের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে এরশাদ ২১টি জেলাকে ভেঙে ৬৪টি জেলায় করেছিলেন। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে গণপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা দেন, যার কেন্দ্রে ছিল পল্লীর উন্নয়ন।

পল্লীবন্ধু খ্যাত এরশাদ গ্রামের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদকে অধিক শক্তিশালী রূপ দেয়ার চেষ্টা করেন। তার সময়েই ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়।

তবে এসবের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রেই ছিল ক্ষমতাকে বৈধতা দেয়ার সরলীকরণ। প্রতিজন শাসকই এমন সরল পথে হাঁটতে চান। দৃশ্যমান জনপ্রিয় কর্মকাণ্ড সামনে এনে কর্তৃত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্যু’র মাধ্যমে হটিয়ে এরশাদও সে পথেই হেঁটেছেন।

সংবিধান সংশোধন করে এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন। এই ‘রাষ্ট্র ধর্ম’ ইসলামের যে কোনো উপকারে আসতে পারে না, তা যে কোনো মুসলমানই স্বীকার করবেন। বরং সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা দিয়ে ধর্মীয় রাজনীতিকে উসকে দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি অবস্মরণীয় ঘটনা। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় এরশাদ পুরোদস্তুর পাকিস্তান সেনাবাহিনী চাকরি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ফিরে আসেন দেশ স্বাধীন হওয়ার বেশ পরে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এরশাদের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল বরাবরই। অথচ দেশে ফেরার বঙ্গবন্ধু এই সৈনিককে পদোন্নতি দেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় ভারতে প্রশিক্ষণরত ছিলেন। অথচ এমন একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এরশাদের কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না। বরং ভারতে থাকা অবস্থাতেই তিনি পদোন্নতি পান। ক্ষমতায় থাকাকালে কর্নেল ফারুকের মতো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করেছিলেন।

বলা হয়, জিয়াউর রহমানের সময়ই সৈনিক এরশাদ সবচেয়ে বেশি সুবিধা গ্রহণ করেন। উপর্যুপরি পদোন্নতি দিয়ে জেনারেল জিয়া আরেক জেনারেল এরশাদকে সেনাপ্রধান করেন। অথচ জিয়া হত্যার নেপথ্যের নায়ক এরশাদকেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। যদিও জিয়া হত্যার তদন্ত নিয়ে রহস্যের অন্ত মেলেনি। তবে মঞ্জুর হত্যার অভিযোগ নিয়েই কবরে গেলেন এরশাদ।

উপরে ভালো মানুষি সেজে রক্তের সিঁড়িও কম মাড়াননি এই সেনাশাসক। এরশাদের জামানার রাজনৈতিক ইতিহাস টানলে নূর হোসেন, সেলিম-দেলওয়ার, বসুনিয়া-জয়নাল-জাফর-দীপালি সাহা, ডা. মিলনদের রক্ত আরও রঞ্জিত হয়। রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা এরশাদের ক্ষমতাকালে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে পুলিশ গুলি চালায়।

চট্টগ্রামের ওই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারায়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের রূপ দিয়ে শিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান কবিতা পরিষদের প্রতিবাদী মঞ্চে বসে এঁকেছিলেন ‘দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে’। আর এটিই ছিল এরশাদের চরিত্রের সঙ্গে যুৎসই চিত্রশিল্প।

এরশাদ রাজনীতি করেছেন, অথচ রাজনীতির ক্রান্তিকালে থেকেছেন নির্বিকার। রাষ্ট্র, সমাজের অনিয়ম, অসঙ্গতি নিয়ে এরশাদ শুধু রাজনীতিই করেছেন। আজ দুর্নীতির যে ভয়াবহতা সমাজে, তার গোড়া পত্তন এরশাদ আমলেই। দুর্নীতির দায়ে জেলও খেটেছেন এই সেনাশাসক।

রাজনীতির মাঠে এরশাদ অস্থির থেকেছেন তুরুপের তাস সেজে। যেখানে সুবিধা সেখানে নোঙর ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের কাছ থেকেই সুবিধা নিয়েছে, সুবিধা দিয়েছেন, যেখানে নীতির পরাজয় ঘটেছে বারবার।

সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলের মতোই এরশাদের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। অথচ এই রাজনীতিকের সঙ্গেই বারবার জুটি বেঁধেছেন মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো।

এক সময়ের দাপুটে স্বৈরশাসক এরশাদ তার জীবনকে বৈচিত্রময় করছেন রাজনীতির বাইরে হেঁটেও। নারী, প্রেম, কবিতা, গানে থাকা তেমনই সরলীকরণের সমীকরণ। অথচ গরল কখনও সরল হয় না।