top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

rohi555f.jpg

মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবী পল রাইখলার বলেছেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার প্রতারণা করছে। তারা আদালতে এ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তাতেও প্রতারণা রয়েছে জানিয়ে রাইখলার বলেন, মিয়ানমার নিজেই স্বীকার করেছে যে, খুব সামান্য সংখ্যকই ফিরেছে। মিয়ানমারের আইনজীবী মিস ওকোয়া প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ এবং চীন, জাপান ও ভারতের সহায়তার বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, সহায়ক দেশগুলো প্রত্যাবাসন চায়। কিন্তু, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির পুরোপুরি দায়িত্ব মিয়ানমারের। মিয়ানমার সেটি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ঐতিহাসিক এ মামলায় শুনানির শেষ দিনে গাম্বিয়ার পক্ষে আদালতে তিনজন আইন বিশেষজ্ঞ মিয়ানমারের দাবিগুলো খ ন করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রতি অন্যায়-অবিচারের কথা অস্বীকার করেনি। ওই সব আচরণ বা কার্যক্রমে গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল না বলে মিয়ানমার যে দাবি করেছে তা বিভ্রান্তিকর এবং আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যাখ্যা।

গাম্বিয়ার আইনজীবিরা আদালতের উদ্দেশে বলেন, বিজ্ঞ আদালত নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, সুচি আদালতে দেয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা বিশেষণটি ব্যবহার করেননি। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আরসা গোষ্ঠীর কথা বলার সময় ছাড়া তিনি তাদের মুসলিম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পল রাইখলার মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাসের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, সাবাস গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য সাতটি নির্দেশকের কথা বলেছেন। সেই সাতটি নির্দেশকগুলোর কথা গাম্বিয়ার আবেদনে রয়েছে এবং মিয়ানমার সেগুলো অস্বীকার করেনি। শুনানির আজকের চূড়ান্ত পর্বে দেয়া বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আববুবকর তামবাদু বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে গাম্বিয়া ওআইসি’র কাছে সাহায্য চেয়েছে। সার্বভৌম দেশ হিসেবে গাম্বিয়া একা এই আবেদন করেছে। গাম্বিয়া গণহত্যা সনদের রক্ষক হিসেবে আদালতের কাছে জরুরি অন্তবর্তী ব্যবস্থার নির্দেশনার দাবি জানাচ্ছে। তামবাদু বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জীবন হুমকির মুখে। গাম্বিয়া প্রতিবেশী না হতে পারে, কিন্তু গণহত্যা সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে গণহত্যা বন্ধ এবং তা প্রতিরোধে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।

গাম্বিয়ার আইনজীবী অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বলেন, অন্তর্বর্তী আদেশ, পরিস্থিতির জন্য সহায়ক হবে না, মিয়ানমারের এমন দাবির জবাব হচ্ছে, আমরা সে কারণেই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছি। বসনিয়ায় আদেশ দেয়ার পরও সেব্রেনিৎসায় যে গণহত্যা হয়েছিল সেই দৃষ্টান্ত দিয়েই আমরা বলেছি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন এবং তার বাস্তবায়নের সময় বেঁধে দেয়া জরুরি। অধ্যাপক সাবাস তার ২০১৩ সালের সাক্ষাৎকারে গণহত্যা প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেছিলেন সেগুলো যদি আদালত তার নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত করেন, তাতে আমরা আপত্তি করব না।

অধ্যাপক সাবাস শিক্ষাবিদ হিসেবে ২০১৩ সালে গণহত্যা কাকে বলে তার ব্যাখ্যায় আল-জাজিরাকে কী বলেছিলেন তা উল্লেখ করে অধ্যাপক স্যান্ডস বলেন, তিনি যে মত বদলাতে পারেন না সেকথা আমি বলব না। উল্লেখ্য মিয়ানমারের আইনজীবী হিসাবে অধ্যাপক সাবাস দাবি করেছিলেন, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু গণহত্যা নয়। গণহত্যার উদ্দেশ্য সেখানে অনুপস্থিত।

অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস আরও বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাস একটি নতুন আইনগত মান নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন, যেটি পরীক্ষিত নয়। কিছু কিছু কার্যক্রম গণহত্যার নির্দেশিকার ধারণা তৈরি করলেও সব কার্যক্রম গণহত্যার ধারণা প্রমাণ করে না এমন দাবি ঠিক নয়। তিনি বলেন, ১৯৪৮-এর গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে কিনা সে প্রশ্ন তোলার অধিকার গাম্বিয়ার অবশ্যই রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি অতীতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সনদের অংশীদার হিসেবে অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন করার অধিকার গাম্বিয়ার রয়েছে।

গাম্বিয়ার আরেক আইনজীবী পিয়েঁর দ্য আর্জেন বলেন, মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকার বলেছেন যে, কোনো অপরাধ যদি ঘটেও থাকে তাহলেও গাম্বিয়ার সে বিষয়ে মামলা করার অধিকার নেই। মামলা কূটনৈতিক ব্যবস্থায় তার আপত্তির কথা জানাতে পারে, কিন্তু আদালতে আসতে পারে না। স্টকারের এসব বক্তব্য সঠিক নয়। গাম্বিয়া সনদের স্বাক্ষরকারী হিসেবে সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনের অধিকার রাখে। গাম্বিয়া ওআইসি মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর মামলা করেছে বলে মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকারের দাবি বিভ্রান্তিকর। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ ওআইসি’র নয়, গাম্বিয়ার। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে গণহত্যার কথা বলেননি বলে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে ওআইসি’র সিদ্ধান্তের পরই গাম্বিয়া মামলা করেছে- কথাটি ঠিক নয়। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে বক্তব্য দেয়ার পর জাতিসংঘ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতেই গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে গাম্বিয়া আদালতে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরো বলেন, গাম্বিয়া স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এই মামলা করেছে। গাম্বিয়া ওআইসি’র প্রক্সি বা প্রতিভূ হিসেবে মামলা করেনি। গাম্বিয়া ওআইসি’র সাহায্য চাইতেই পারে। অন্যান্যদেরও সাহায্য চাইতে পারে। সুতরাং, গাম্বিয়া ওআইসি’র সহায়তা নেয়ায় বলা যাবে না যে, ওআইসি এই মামলার আবেদনকারী।

আইনজীবী পল রাইখলার রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতার মর্মস্পশী বর্ণনা তুলে ধরেন। কীভাবে নারী, শিশুদের হত্যা করেছে সেনাবাহিনী, ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তার বর্ণনা দেন তিনি। এ সময় তিনি মিয়ানমারের যুক্তি খণ্ডন করেন। বলেন, মিয়ানমার দাবি করেছে রাখাইনে ছিল তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান। সন্ত্রাসী বা আরসামুক্ত করতে তারা অভিযান চালিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে রোহিঙ্গা শিশুরা কি সন্ত্রাসী? নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নারী, মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। শত শত গ্রামে হাজার হাজার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বাদের ওপর। রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে এ কথা প্রমাণ করতে তিনি রাখাইনে সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, ২০১৭ সালে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরুর দুই সপ্তাহ আগে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করা হয়। তখন বলা হয়, বাঙালি সমস্যার সমাধান করা হবে। এ সময় ডিসপ্লেতে ওই সেনা মোতায়েনের ছবি দেখানো হয়।

আইনজীবী পল রাইখলা বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘাতকে গণহত্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যায় না। ওই অভিযানে প্রতিজন মানুষকে টার্গেট করা হয়েছিল। নারী, শিশু, পুরুষ কেউ রক্ষা পায়নি। মিয়ানমার গণকবরের কথা অস্বীকার করেছে। তিনি এ যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, কমপক্ষে ৫টি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে জাতিসংঘসহ অন্যদের দেয়া রিপোর্ট উদ্ধৃত করেন তিনি। বলেন, মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে নিশ্চয়তা মেলেনি, মামলার যুক্তিতর্কে তা উপস্থাপন করা হয়।

BNP-16.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  ঢাকায় থানা পর্যায়ে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

এ সময় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ করে দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রভাবের কারণে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই আদেশ দিয়েছে। সর্বােচ্চ প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাও কমে গেছে। আমরা এই আদেশে ক্ষুব্ধ। ন্যায় বিচার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। রবিবারের পর আবারো নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। মূলত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর করণীয় কী, সেটা ঠিক করতেই এ বৈঠক বসেছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া বৈঠকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনও উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান দলের মহাসচিব।

এর আগে এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।

সকাল ১০টা ৮ মিনিটে আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়। পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

এরপরই দুপুরে আদালতের আদেশের পরপরই বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। অবশ্য পুলিশের ধাওয়ায় মিছিল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এ সময় বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া বাংলামটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

joy-putul.jpg

আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে দলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইস্যুতে নানা আলোচনা হচ্ছে। দলে নতুন কে আসছেন, কে বাদ পড়ছেন এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা ছড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই সন্তান প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় ও অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। তারা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে আসতে পারেন।

আসন্ন কাউন্সিলে তারা দুজন না এলেও অন্তত একজন নেতৃত্বে এসে চমক সৃষ্টি করবেন বলে দলের একাধিক সিনিয়র নেতা মনে করলেও জয় এবং পুতুল নিজ থেকে এমন আগ্রহের কথা দলের কোনো মহলে এখনো জানাননি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি।

তবে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার উত্তরসুরি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামই বহুল আলোচিত। এর আগে, দলের সর্বশেষ ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তখনকার সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত সজীব ওয়াজেদ জয়কে ইঙ্গিত করে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মের নেতা, আগামী দিনের ভবিষ্যৎ আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত।’ সৈয়দ আশরাফের মতো দলের সব নেতাই একই মনোভাব পোষণ করেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় প্রজন্ম কাউকে না কাউকে দলের নেতৃত্বে প্রয়োজন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সবখানেই এই আওয়াজ রয়েছে। তবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে অনাগ্রহের ইঙ্গিত জয় আগে থেকেই দিয়ে আসছেন, যদিও শেখ হাসিনার সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে পরোক্ষভাবে দল ও সরকারের জন্য পরামর্শক হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

মাঠের রাজনীতিতে জয়ের সক্রিয়তা দৃশ্যমান না হলেও গত ১৭ নভেম্বর রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নতুন কমিটিতে এক নম্বর সদস্য হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন তিনি। পরে ২৬ নভেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শেষে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির এক নম্বর সদস্যও করা হয় জয়কে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই চান বঙ্গবন্ধুর এই দুই উত্তরসূরি দলের নেতৃত্বে আসুক। তারা বলছেন, জয় ও পুতুল দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলে দলের নেতৃত্ব আরও সংগঠিত হবে। এর সুফল ভোগ করবে আওয়ামী লীগই।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, এটি একান্তই পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। তবে তাদেরও ইচ্ছার ব্যাপার আছে। তারা রাজনীতিতে আসবেন কিনা সেটাও তো জানার ব্যাপার আছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শুধু আওয়ামী লীগের নয়, দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের মন জয় করেছেন। আমরা উন্মুখ হয়ে আছি কবে তাদের মতো উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও কর্মদক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগে এসে নেতৃত্ব দেবেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম হয়।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতক চক্রের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা শেখ হাসিনা এবং খালা শেখ রেহানার সঙ্গে লন্ডনে থাকায় বেঁচে যান জয়। পরে মায়ের সঙ্গে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় মেলে তার। শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতেই। পড়াশোনা করেন ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ ও তামিলনাড়ুর পালানি হিলেসর কোডাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। এর পর বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, পদার্থ এবং গণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি ব্যাচেলর ডিগ্রি অব সায়েন্স অর্জন করেন। সব শেষে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন। ২০০৭ সালে জয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার বিষয়টি নিয়ে আসেন জয়ই। পর্দার অন্তরালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে গোটা দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর জয়কে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে অবৈতনিক উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল মনস্তত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে স্কুল মনস্তত্বে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত হয়।

তিনি ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক ২০১৪ সালে ডব্লিউএইচও অ্যাক্সিলেন্স পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের একশজনের তালিকায়ও স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশে অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন। সেই সঙ্গে তার পরিচালিত ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। তার উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমের মতো অবহেলিত একটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী অংশ নেন।

তার অক্লান্ত চেষ্টায় বাংলাদেশে ‘নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজ্যাবিলিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০১৩’ পাস করা হয়। সেই সঙ্গে তার দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতেই জাতিসংঘ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যাবলীতে অটিজমের বিষয়টি তিনিই সংযুক্ত করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজম বিষয়ে ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) একজন ট্রাস্টিও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

assam555.jpg

ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল আসাম ও ত্রিপুরা। এ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন মানুষ। এতে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রাজ্যের গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার রাতে ভারতের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়। এ বিলের প্রতিবাদে আসামের অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (কেএমএসএস) বিক্ষোভের ডাক দেয়।

আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (কেএমএসএস)। সাধারণ মানুষকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথ দখলে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। বেলা ১১টায় গুয়াহাটির লতাশীল ময়দানে জমায়েতের ঘোষণা দেয়া হয়।। এ জন্য সবাইকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানায় তারা।

বিক্ষোভ থামাতে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গুয়াহাটি পুলিশের প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আসামের ১০ জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজ্যের অন্তত চারটি স্থানে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।

এদিকে আসাম ও ত্রিপুরার মধ্যে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। থমকে আছে আকাশপথও। গুয়াগাটি ও দিব্রুগড়গামী বিভিন্ন সংস্থার বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে আসামের ১০ জেলায় মোবাইল ইন্টার পরিষেবা আরও ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি-সহ একাধিক শাসকদলের নেতামন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

khaleda-10.jpg

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৮ মিনিটে আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদালতের প্রতিটি ফটকে নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মূল ফটকগুলো দিয়ে ঢোকার সময় আগত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্রও দেখাতে হয়েছে।

এই শুনানিকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এর মধ্যে গতকাল পৌনে ৫টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকার বাইরে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

জাতীয় ঈদগাহ, হাইকোর্ট মাজার গেট ও বার কাউন্সিল ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। মূল সড়কের পাশেই এসব ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় তখন প্রচুর যানবাহন ও মানুষের ভিড় ছিল। এর মধ্যে কীভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ঘটনাটিকে নাশকতা বলেই মনে করছেন তারা। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওই প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টটি সিলগালা অবস্থায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পৌঁছে দিয়েছে। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

hera.jpg

হেরা পাহাড় পবিত্র মক্কা নগরীর একটি ঐতিহাসিক স্থান। জাবালে নুর নামেই এটি বেশি পরিচিত। মসজিদুল হারামের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এ পাহাড় ৬৪২ মিটার উঁচু। পাহাড়ের চূড়ায় বিখ্যাত হেরা গুহা অবস্থিত। নবুয়তপ্রাপ্তির আগে প্রিয় নবী (সা.) এ গুহায় আল্লাহর ইবাদত করতেন। গুহার নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন থাকতেন তিনি।

মহানবী (সা.) এই গুহায় অবস্থানকালীন সময়েই সর্বপ্রথম সরাসরি ওহি বা আল্লাহর প্রত্যাদেশ লাভ করেন। ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে রাসুলকে (সা.) বলেন, ‘পড়ুন।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।’

জিবরাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-কে আলিঙ্গন করে পুনরায় বলেন, ‘পড়ুন।’ এভাবে তিন বার ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাকে আলিঙ্গন করেন। এরপর নবী করিম (সা.) পড়তে শুরু করলেন। সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত সেদিন অবতীর্ণ হয়।

হেরা পাহাড় ঘিরে নবীজির অনেক স্মৃতি রয়েছে। একবার নবীজি কয়েকজন সঙ্গীসহ এ পাহাড়ে আরোহণ করেন। তখন পাহাড়টি কাঁপতে শুরু করে। মহানবী (সা.) তখন বলেন, ‘শান্ত হও হে হেরা, তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও একজন শহীদ অবস্থান করছেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৪১৭)

হেরা গুহায় পৌঁছানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবুও প্রিয় নবীর স্মৃতিধন্য হওয়ায় হজযাত্রী-পর্যটকদের কাছে এটি একটি প্রিয় স্থান।

22-7.jpg

সর্বোচ্চ আদালতে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন শুনানি সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকেই রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির কার্যালয়ের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, যাদের সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশও রয়েছেন।

অন্যদিন এই সময়ে অফিসে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকলে এদিন পুলিশের বেষ্টনী ভেদ করে নেতা-কর্মীদের কাউকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়নি।

তবে সকাল ১০টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে নিজের চেম্বারে অবস্থান করছেন।

দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহিলা দলের ২০/২২ জন সদস্য ও অফিস কর্মীরা কার্যালয়ে রয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে। গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

কার্যালয়ের নেতারা জানান, তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকে নজর রাখছেন। তারা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসচিবকে শুনানির সর্বশেষ অবস্থা জানাচ্ছেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় মহিলা দলের একদল নেতা-কর্মী ফটকের ভেতরে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এসময়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীরা গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

fgnjftg.jpg

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। এরমধ্যে আদালত চত্বরে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও স্লোগান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ১০টা ৮ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে এনরোলমেন্ট তালিকা দেখে কিংবা পরিচয়পত্র যাচাই করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবীদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

এরমধ্যেই পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। মিছিলে বিএনপিপন্থী আইনজীবিদের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আইনজীবী নীলুফা ইয়াসমিন মনি। তারা স্লোগান দিচ্ছেন- বিচারের নামে টালবাহানা চলবে না, খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে।

এছাড়া খালেদা জিয়া স্লোগানে সুপ্রিমকোর্ট চত্বর মুখরিত করে রেখেছেন তারা।

অন্যদিকে আদালতে বিশৃঙ্খলা চলবে না, বহিরাগতদের আদালতে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আওয়ামীপন্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন।

Rohingya-1.jpg

রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান শুনানিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ আট নোবেলজয়ী।

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে গাম্বিয়ার করা মামলায় নেদারল্যাণ্ডের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানি শুরুর প্রাক্কালে সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে গণহত্যার জন্য সু চি ও মিয়ানমারের সেনা কমান্ডারদের জবাবদিহিতার আহ্বানও জানিয়েছেন এ নোবেলজয়ীরা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে আমরা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হওয়া গণহত্যাসহ অপরাধগুলো প্রকাশ্যে স্বীকার করার জন্য নোবেলজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, এই নৃশসংসতায় নিন্দা জানানোর পরিবর্তে সেটা অস্বীকার করেছেন সুচি।

এর আগে রোহিঙ্গাদের প্রতি নৃশংসতার অভিযোগে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’-এ (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

আন্তর্জাতিক আদালতে ৪৬ পৃষ্ঠার এক অভিযোগপত্র দেয় দেশটি। সেখানে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও উচ্ছেদের অভিযোগ আনে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হয় ওই মামলার শুনানি। যা চলবে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। মিয়ানমার ও গাম্বিয়া, দুই দেশের প্রতিনিধিদলই এতে অংশ নেয়। প্রথম দিনে (মঙ্গলবার) আদালতে হাজির ছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিও। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে মামলার শুনানি।

নোবেলজয়ীরা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ঘটনায় মিয়ানমারকে দায়ী করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা গাম্বিয়ার প্রশংসা করি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তির মানুষ হিসেবে আমরা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্য মোকাবিলা ও রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা, ভূমির মালিকানা, আন্দোলনের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। আমরা সু চিকে নৈতিক দায়িত্ব পালনের এবং তার নজরদারির অধীনে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি ও নিন্দা জানাতে অনুরোধ করছি।

বিবৃতিতে সই করেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের শিরিন ইবাদি, লাইবেরিয়ার লেমাহ গবোই, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কার্মান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইরেড মাগুয়ের, গুয়েতেমালার রিগোবার্টা মেনচ তুম, যুক্তরাষ্ট্রের জোডি উইলিয়ামস, ভারতের কৈলাশ সত্যার্থী ও বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মুখে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এরও আগে থেকে কয়েক ধাপে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে অভিযান চালায় সেটাকে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দেয় জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

kha3ccc.jpg

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) মুক্তি না দিলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মামলার জন্য নয়, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কারণেই কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে মুক্তি না দিলে বৃহস্পতিবার থেকেই সরকার পতনের কাউন্টডাউন শুরু হবে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) এলডিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন এলডিপি মহাসচিব।

রেদোয়ান আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি তা করে যাচ্ছেন। এখন যে তিনি কারাগারে রয়েছেন এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই। সরকার খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। তাকে কারামুক্ত করে উন্নত চিকিৎসা না করালে জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে। খালেদাকে নিয়ে আমরা চরম শঙ্কায় রয়েছি। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে, সরকারের কারসাজিতেই খালেদার জামিন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। তাকে বাঁচাতে হলে এখনই জামিন ও সুচিকিৎসা দরকার। তাই আমরা এলডিপির পক্ষ থেকে সরকারকে বলতে চাই খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে আর কোনো টালবাহানা না করে তাকে মুক্তি দিয়ে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।