top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

govt-2.jpg

চলতি বছরেই ফের বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে এবার বেতন স্কেলের কোনো সামগ্রিক পরিবর্তন হবে না। এর পরিবর্তে বিদ্যমান স্কেলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় তাদের বেতন বেড়েছিল সর্বনিম্ন ৯১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০১ শতাংশ পর্যন্ত। মূল বেতনের পাশাপাশি আবাসান, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই।

বর্তমানে একজন সদ্য বিসিএস উত্তীর্ণ কর্মকর্তার মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য আবাসান ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন। ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার আগে তাদের মূল বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। বর্তমানে বিদ্যমান বেতন স্কেল অনুসারে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮২৫০ টাকা।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ পুনঃগঠন করা হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শিল্পমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষযক মন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটিকে সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিযর সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব/সচিব, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবরা।

কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে-বেতন বৈষম্যের প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলো নিস্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান। এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওই কমিটিও ৭ সদস্য বিশিষ্ট ছিল। তবে তখন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

তিনি কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে চলতি মন্ত্রিপরিষদে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী না থাকায় পুনঃগঠিত কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে নতুন কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে সার সংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন। জনপ্রশাসন বিভাগ থেকে খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হবে। সুত্র: বিডি জার্নাল

googlt5.jpg

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। মৃত্যুর উত্তাল সমূদ্রে পেরিয়ে এক টুকরো স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্নে বাঙালি মরণপণ লড়াই শুরুর দিন আজ। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ডুডল তৈরি করেছে বিশ্বের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল।

সোমবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই সার্চ ইঞ্জিন গুগল এই ডুডলটি চালু করেছে। ছবিতে তিন জন মাঝি তিনটি নৌকা বাইছে। এর মধ্যে দু’টি নৌকায় মাঝির সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য ও অপর নৌকাটিতে কেবল একজন মাঝিকে দেখা যায়।

কোনো কিছু খোঁজার জন্য আজ সারাদিন গুগল ডটকমে ঢুকলেই চোখে পড়বে না লাল-সবুজের ভেতরে নৌকায় মাঝিদের ছবি দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এই ডুডল। এতে মার্ক করলে লেখা উঠছে ‘বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে ২০১৯’। আর তাতে ক্লিক করলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস এবং এ সম্পর্কিত ওয়েবসাইটগুলো দেখাবে গুগল।

উল্লেখ্য, বিশেষ কোনো দিন, বিশেষ কোনো ব্যক্তি কিংবা আবিষ্কার নিয়ে সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগোর পরিবর্তে এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নকশার যে লোগো তৈরি করে গুগল, তাকেই বলা হয় ডুডল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে দৃষ্টিনন্দন ডুডল প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিন (গুগল)।

pma9.jpg

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল। পরে দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে আবারও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ এলাকা ছেড়ে গেলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভিড় করেছে সর্বস্তরের মানুষ।

development-20190325223138.jpg

অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক সূচকের অগ্রগতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারের দেশটি পরিণত হচ্ছে সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে। অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে আজকের বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

২৬ মার্চ, বাংলাদেশের ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি শাসক ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে। সেই সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন দুই লাখ মা-বোন। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় লাল-সবুজের এ বাংলাদেশ। সেদিনের সংগ্রাম শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার নয়, ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামেরও। কারণ ওই সময়ে অর্থনৈতিক শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্য ছিল চরমে। ক্ষুধা, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহীনতাসহ নানা কারণে আয়ুষ্কালও ছিল অনেক কম। শিক্ষার হার ছিল নিম্নপর্যায়ে। কর্মসংস্থানও ছিল না পর্যাপ্ত। এমন দশায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ একসময় ঘুরে দাঁড়াবে ভাবতে পারেনি অনেকেই। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অদম্য বাঙালির ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফলে উন্নয়নের বিস্ময় এখন বাংলাদেশ।

বেড়েছে মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক ডলারের রিজার্ভ। কমেছে শিশু মৃত্যুর হার। বেড়েছে গড় আয়ু ও মানবসম্পদের সূচকও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বেড়েছে অর্থনীতির আকার সমৃদ্ধশালী হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের বাজেটের আকার চার লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। যা স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেটের তুলনায় প্রায় ৬০০ গুণ বড়।

অর্থনীতির আকারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩৩ সাল নাগাদ বিশ্বের শীর্ষ ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ।

৪৮ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১৮ গুণ। ১৯৭১ সালের পর দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের মতো। এখন তা ১৯০৯ ডলার। শুধু মাথাপিছু আয় নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। আর দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ তিন হাজার ১৪৯ কোটি ডলার।

স্বাধীনতার বছর দেশের ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। সর্বশেষ হিসাবে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। ১৯৭১ সালে গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছরের একটু বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন গড় আয়ু ৭২ বছর। এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ৩, পাকিস্তানে ৬৬ দশমিক ৪, মিয়ানমারে ৬৬ দশমিক ৬, নেপালে ৬৯ দশমিক ২, আফগানিস্তানে ৬০ দশমিক ৫ বছর।

এদিকে আশানুরূপ অর্জন এসেছে রফতানি বাণিজ্যেও। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের মাত্র ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানি আয়ের বাংলাদেশ গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পৌঁছেছে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলারে।

এসব বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের অর্জন ও সম্ভাবনা অনেক। গত ৪৮ বছরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বহুদূর এগিয়েছে দেশ। গড় আয়ুর পাশাপাশি বেড়েছে মাথাপিছু আয়। এগুলো বড় প্রাপ্তি। তবে স্বাধীনতার পর যে ধারাবাহিকতায় অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছিল- তা একসময় স্লো হয়ে যায়। তাই বলবো, এ অর্জন আরও বেশি হতে পারতো। আশির দশকে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল তিন শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ শতাংশে। সামাজিক অনেক সূচকেই ভালো করেছে বাংলাদেশ। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়েও এগিয়েছে। তবে এখনও আরও ভালো করতে হবে।

এ জন্য শ্রমের দক্ষতা ও সরকারি বিনিয়োগের গুণগত মান বাড়াতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি হলেও এর হারটা ক্রমশ কমে আসছে। তাই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যের লাগাম টেনে ধরতে হবে বলে জানান প্রবীণ এ অর্থনীতিবিদ।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রথমে দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আমাদের দেশে যার অভাব রয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক পরিবেশ বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে ব্যবসাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

7-15.jpg

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং বলেছেন, বিশ্বের তিনজন মানবতাবাদী নেতার মধ্যে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা একজন । তিনি ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

রোববার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ইনস্টিটউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে গণহত্যা: ১৯৭১’ -শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিস। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং।

সেমিনারে জাতিসংঘের এ বিশেষ উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের মানবতাবাদী তিনজন রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে শেখ হাসিনা অন্যতম। অপরজন দুইজন হলেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

অ্যাডামা ডিয়েং গণহত্যা বিষয়ক বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেল মার্কেল সিরিয়ার লাখ লাখ শরণার্থীদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছেন।

বিপন্ন সিরিয়ানদের আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। আর এদিকে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে নৃশংস হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা মুসলিমদের প্রতি যেভাবে সংহতি প্রকাশ করেছেন, তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মফিদুল হক, বিস চেয়ারম্যান মুন্সী ফায়েজ আহমদ, বিস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমান এনডিসি।

yqx.jpg

২০১৭ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৫শে মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তবে স্বাধীনতার পর গত ৪৮ বছরে এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় চেষ্টা করলেও তাতে সফল হয়নি। বিবিসি বাংলা।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‌‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করে বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৮ বছর পরও কেন এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশের ২৫শে মার্চের গণহত্যা?

ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিন জানান, যে দেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তারা ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন ঐ গণহত্যার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে স্বীকার করে নেয় তখনই কেবল ঐ ঘটনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিবেচনায় আসে।

তিনি বলেন, একটা গণহত্যাকে তারা (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) যখন স্বীকার করে নেয়, সেটা সংসদের মাধ্যমেই হোক বা নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই হোক, তখন বলা যায় সেটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আবার কোনো গণহত্যার ঘটনাকে যদি জাতিসংঘ গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলেও সেটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বলা হবে।

আহমেদ জিয়াউদ্দিন বলেন, গণহত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনা মনে করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও পূর্ব ইউরোপে ইহুদি নিধনের ঘটনাকে। সে সময়ের গণহত্যার ঘটনাটিকে বোঝানোর জন্য ‘হলোকস্ট’ নামে নতুন একটি শব্দও তৈরি হয়েছে।

এছাড়া গত শতাব্দীর প্রথমদিকে আর্মেনিয়ার গণহত্যাসহ রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়ার গণহত্যা জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের ২৫শে মার্চের গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে জিয়াউদ্দিন বলেন, এই গণহত্যাটিকে সেভাবে স্বীকৃতি পাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়নি। আর্মেনিয়ার গণহত্যাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ানোর জন্য আর্মেনিয়ানরা ১০০ বছর ধরে চেষ্টা করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আর্মেনিয়ান গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো কার্যক্রম পালন করা হয়েছে বলে মনে করি না আমি।

সরকারের একক প্রচেষ্টায় এই স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন জিয়াউদ্দিন। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মানুষ ও প্রবাসী জনগোষ্ঠী এর সাথে যুক্ত না হচ্ছে, এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা না হচ্ছে, প্রামাণ্য দলিল তৈরি না হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ক্রমাগত প্রচারণা না হচ্ছে ততক্ষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব না।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

রোববার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব এবং গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আডামা ডিয়েং। তখন তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত হওয়া গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবেন তিনি।

ডিয়েং বলেন, কিছু দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে, কিন্তু আমরা পাকিস্তানিদের দ্বারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় চালানো গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে উপস্থাপন করবো।

Hanif.jpg

‘১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এলো, ১৯৯৩ সালে সাবমেরিন ক্যাবলের কানেকটিভির জন্য বিনা পয়সার অফার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ।’

খালেদার শিক্ষাগত অজ্ঞতায় ফ্রি সাবমেরিন ক্যাবল নিতে পারেননি। খালেদা তখন বলেছিলেন গোটা বিশ্বের সঙ্গে যদি আমরা সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করি তাহলে বাংলাদেশের সব গোপন তথ্য পাচার হয়ে যাবে।’

রোববার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

‘ইনোভেশন অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন ইন দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন পার্সপেকটিভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটি।

তিনি বলেন, ‘এই যে অজ্ঞতা আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল। সেই সাবমেরিন ক্যাবল কানেকশন নিতে হয়েছিল ১৯৯৬ সালে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই তিনি এটার গুরুত্ব অনুধাবন করে সাবমেরিন ক্যাবল কানেকশন নিয়েছিলেন।’

‘প্রথমে বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা পয়সায় দেয়ার অফার ছিল। পরে আমাদের অনেক অর্থ ব্যয় করে এই কানেকশনটা নিতে হয়েছিল। আজকে প্রমাণ হয়েছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সেই সময়ের সিদ্ধান্তটা দেশের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। (খালেদা জিয়া) শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তার একটা জ্ঞানের ঘাটতি ছিল সেই কারণে এটা সে নিতে চায়নি।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইনের শাসন বলবেন আবার বিচার হলে বিচার মানবেন না- এ ধরনের দ্বৈতনীতি থেকে সরে আসতে হবে।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি থাকলে একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। পশ্চিমা দেশে কোনো নির্বাচনে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি ভোট কাস্ট হয়? ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হলে তাদের ওখানে অনেক ভোট হিসাব করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনমুখী সেহেতু এখানে ভোট কাস্টিংটা একটু বেশি হয়।’

সেই হিসাবে ৪৫ শতাংশ যথেষ্ট। আমরা বিএনপিকে বলতে চাই, আপনারা নির্বাচনে অংশ নেননি কেন? আপনারা নির্বাচনে অংশ নিলেই তো ভোটের কাস্ট আরও বেড়ে যেত। আপনারা চান অধিকসংখ্যক ভোটার আসুক আবার নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

তিনি বলেন, আপনারা একদিকে বলেন আইনের শাসনের কথা, আরেক দিকে যখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে থাকেন আপনারা তখন বলেন তাকে মুক্ত করা হবে। আপনাদের আসলে কথা এবং কাজের মধ্যে মিল নেই। কি চান আপনারা সেটা নিজেরা জানেন না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের দেশে বিএনপি-জামায়াতের মতো নেতিবাচক রাজনৈতিক দল না থাকতো, তাদের কর্মকাণ্ড না থাকলে আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আজকে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভালো কাজকে বাধাগ্রস্ত করে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করাই হচ্ছে এই দলটির কাজ। আজকে তারা একটি দিশাহীন রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে। নেতা সঠিক যদি না থাকে, নেতৃত্ব যদি সঠিক না থাকে তাহলে সেই দল বা দেশ কখনো ভালোভাবে এগুতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের কারণে কারাগারে এবং দেশের বাইরে পলাতক। নেতৃত্বহীন এই দল। ব্যর্থ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ নেতাদের দিয়ে আর যাই হোক সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। যার কারণে বিএনপি নামক দলটি আজকে অন্ধকারের গর্তের দিকে চলে গেছে। তারা আজকে রাস্তায় নেই। তারা রাস্তা হারিয়ে অন্ধকার গর্তের দিকে চলে যাচ্ছে।’

হানিফ বলেন, ব্যর্থতা থেকে সরকারের দিকে আক্রমণাত্মক কথা বলে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। আমাদের দেশের জনগণ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। জনগণ এখন এই ধরনের সন্ত্রাসের, এই ধরনের দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বের কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের মানুষ চায়, যে দুর্নীতি করেছে সেই দুর্নীতিবাজরা কারাগারে থাকুক। যে সন্ত্রাস করেছে সেই সন্ত্রাসীরা কারাগারে থাকুক তাদের বিচার হোক এটা এই দেশের মানুষ দেখতে চায়।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশের মানুষ একবারই স্বপ্ন দেখেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আস্থা রেখে। দ্বিতীয়বার জাতি আবার স্বপ্ন দেখছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে। সেই স্বপ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত সোনার বাংলার।’

তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা ওঠে। যেমন ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে অনেক কথা উঠছে। আমাদের ইলেকশন কমিশন বলেছেন, ইভিএম পদ্ধতি চালু করবেন। আমরা কিন্তু ইভিএম পদ্ধতি চালু করতে বলেছিলাম। কেন বলেছিলাম? বাংলাদেশে যদি গত ১০০ বছরের নির্বাচনের ইতিহাস পযালোচনা করে দেখা যায় প্রত্যেকটা নির্বাচনের পরেই পরাজিত প্রার্থী বা পরাজিত দল অভিযোগ করে, ব্যালট পেপার জাল, ব্যালট পেপার চুরি হয়- এই ধরণের অভিযোগ কিন্তু সব সময় উত্থাপন করে আসছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতি যদি ব্যবহার করা যায় এখানে ব্যালট পেপারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। যার ফলে এই ধরনের অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন করা সম্ভব। আমরা সেই কারণেই নির্বাচনের জন্য ইভিএম পদ্ধতি দাবি করেছিলাম।’

‘আমাদের নির্বাচন কমিশন যখনই ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ নিলো আজকে দেখেন ওই রাজনৈতিকভাবে যারা দেউলিয়া হয়ে আছে বা জ্ঞানের কারণে যারা বার বার দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে সেই রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন ইভিএমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।’

হানিফ বলেন, ‘এইটা বিরোধিতা করার দুটি কারণ থাকতে পারে। একটা হচ্ছে যে কোনো ভালো কাজের বিরোধিতা করাই এদের অভ্যাস নৈতিবাচক রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার কারণে। আরেকটা হতে পারে তাদের যে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সব সময় এই ধরনের বিরোধিতা করে আসছে।’

‘আমরা আশা করি, যুগ পাল্টেছে। আমরা জনগণের দৌরগোড়ায় সব কিছু পৌঁছাতে চাই। জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার হওয়া উচিত। আমরা আশা করি এক সময়ে এটা কাযকর হবে।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হোসন মনসুরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহফুজুল ইসলাম প্রিন্স।

35-6-1.jpg

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে রেল ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, টিকিটসহ সব সেবা পেতে শিগগিরই চালু হচ্ছে রেলওয়ে অ্যাপস। এর মাধ্যমে যাত্রীরা পছন্দের সিট, টিকিটের মূল্য পরিশোধ এবং ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন। এছাড়া যাত্রা শেষে সেবার মান সম্পর্কেও রেটিং দিতে পারবেন যাত্রীরা।

মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে টিকেটিং সেবা সহজ করতে এবং যাত্রীদের ঝামেলাহীনভাবে সব সেবা দিতে এ অ্যাপস চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই অ্যাপসটি উদ্বোধন করা হবে। অ্যাপসের কারিগরি কাজ শেষ হয়েছে; এখন চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। এরপরই এটি চালু করা হবে।

অ্যাপস প্রস্তুতকারকরা জানান, অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটার সময় যাত্রীরা সিট দেখতে পাবেন। কোন দূরত্বে টিকিটের মূল্য কত তাও অ্যাপসে দেখা যাবে। জানা যাবে ট্রেনের বর্তমান অবস্থানও। যাত্রা শেষে একজন যাত্রী সেবার মান সম্পর্কেও রেটিং দিতে পারবেন।

অ্যাপসের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের কতগুলো টিকিট অবশিষ্ট আছে বা কতগুলো সিট এখনো ফাঁকা সে তথ্যগুলো জানা যাবে। পাশাপাশি ট্রেনের লিস্টগুলো দেখা যাবে কোন ট্রেন কোথায় যাবে।

ভিসা, মাস্টার, বিকাশ জাতীয় ওয়ালেটের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, একসময় মানুষের যাতায়াতে শুধু রেল এবং নদীপথ ছিল। এখন সড়ক, নৌ, রেলপথ এবং আকাশ পথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। যাতায়াতের এ চার পথকেই আরও যুগোপযোগী করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

একটি কথা প্রচলন রয়েছে, যে দেশের রেলব্যবস্থা যত উন্নত সে দেশ তত বেশি উন্নত। আমরা রেলের সেবা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। রেলের প্রতি মানুষের ব্যাপক আস্থা আনতে যা যা করা দরকার সবই করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাকে সব মানুষ খুব সাধুবাদ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা দুটি ট্রেনে এ ব্যবস্থা চালু করেছিলাম। পরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় সাতটি ট্রেনে এ সেবা চালু হয়।

সর্বশেষ এখন পর্যন্ত ১৬টি ট্রেনে ন্যাশনাল আইডি ছাড়া কাউকে টিকিট দেয়া হচ্ছে না। আগামীতে সব ট্রেনের টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ঈদের আগেই এ ব্যবস্থা চালু হতে পারে।

সভায় রেলে কর্মকর্তা ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সিএনএস-এর পক্ষে জিয়াউর রহমান, আনিন্দসেন গুপ্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

y3a.jpg

মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল হত্যা মামলায় আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের সাবেক স্ত্রী সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।

রোববার (২৪ মার্চ) বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে মামলায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারি অফিসার জেলা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. ছরোয়ার জাহান সরকার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

নীলাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান।

২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ আজিবপুর গ্রাম থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর জানতে পারে লাশটি নোয়াখালি জেলার মাসুমপুর গ্রামের ফিরোজ খানের ছেলে খায়রুল ইসলাম জুয়েলের (৩০)।

আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে, জুয়েল হত্যা মামলায় কিলার লঞ্চো সোহেল, কালা সোহাগ ও মনা ডাকাত গ্রেফতার হয়। তারা এই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে পৃথক জবানবন্দি প্রদান করেছিলেন। জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছিলেন, মাদক ব্যবসার দেনা পাওনা নিয়ে নীলার সঙ্গে জুয়েলের বিরোধ ছিলো। এর জেরে নীলার নির্দেশে খায়রুল ইসলাম জুয়েলকে গলা কেটে হত্যা করে দেহ ও মাথা পৃথক দুটি স্থালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৮জনকে অভিযুক্ত করলেও নীলাসহ ১৭জনকে হত্যার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন জেলা সিআইডির পরিদর্শক মো. নূরুন নবী। তবে, এই ১৭জনের মধ্যে ১৩ জনের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ছিলো। এতে অধিকাংশ আসামীকে কেন অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে এর ব্যাখ্যা চার্জশীটে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিস্তারিত উল্লেখ করেনি। আদালত মনে করেছেন এ চার্জশীটটি স্পষ্ট নয় এবং দাখিলকৃত চার্জশীট সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয় না।

সূত্রটি আরও জানায়, আসামীদের জবানবন্দি ন্যায় বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ন দলিল হওয়ায় ২০১৬ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

vt53.jpg

পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেহরক্ষী পুলিশ কনরেস্টবল মামুন ফকির সাংসদের ছেলের সাথে অস্ত্র নিয়ে কক্সবাজার তিনদিন অবস্থান করার অভিযোগে তাকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলবে।

সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ডিআই টু এর (মিডিয়া) ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা কনস্টেবল মামুন ফকিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে প্রমাণ পান এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে কিশোরগঞ্জ বদলির আদেশ দেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে বলে নির্দেশ দেন।

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নিরাপত্তায় গানম্যান দেওয়া যাবে। তবে সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র তাঁর নিজ সংসদীয় এলাকায় দেহরক্ষীর নিরাপত্তা পাবেন। সাংসদ তার নির্বাচনী এলাকার বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেহরক্ষী নিজ ইউনিটে রিপোর্ট করবেন। এই নিরাপত্তা শুধু সাংসদরাই পাবেন। তাঁদের স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের আর কেউ পাবেন না বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের ক্ষেত্রে এ আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। পরে এ বিষয়টি ব্যাপাক আলোচনা সমালোচনায় আসে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় সাংসদ শামীম ওসমানের নিরাপত্তায় দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কনস্টেবল মামুন ফকির। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন না করে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানের সঙ্গে ১৪ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত গুলিসহ অস্ত্র সাথে নিয়ে এই তিনদিন কক্সবাজার অবস্থান করেন। এটি চাকরিবিধি আইনের পরিপন্থী। ওই সময় সাংসদ শামীম ওসমান দেহরক্ষী ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করেছেন। এটা সাংসদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ঘটনা তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহাকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সুবাস চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে জানান, কনস্টেবল মামুন ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামুন সাংসদ শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হলেও তাকে বিভিন্ন সময়ে অয়ন ওসমানের দেহরক্ষী হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া কনস্টেবল মামুন প্রায়ই সাংসদের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার বাইরেও অবস্থান করেছেন।

জেলা পুলিশ লাইনস সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল মামুন ২০০৭ সালের ২২ আগস্ট পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর থেকে তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এর আগে কনস্টেবল মামুন এপিবিএন চট্টগ্রামে ছিলেন। কনস্টেবল মামুন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে পুলিশ লাইনসে কোনো রিপোর্ট না করে চলাফেলা করেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিউটিতে থাকা ছাড়া বাকি সময় পুলিশ লাইনসে হাজির থাকার নিয়ম। শামীম ওসমানের দেহরক্ষী হওয়ার পর থেকে কনস্টেবল মামুন কোনোদিন পুলিশ লাইনসে রিপোর্ট করেননি বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে কনস্টেবল মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশের ওয়্যারলেস সেট (বেতারবার্তার যন্ত্র) ব্যবহার করে পুলিশের গতিবিধি ও গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে বেতারযন্ত্রটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter