top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের

(বিআইটিআইডি) ল্যাবরেটরি ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদের করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার তিনি নিজেই ল্যাবরেটরিতে তার নমুনা পরীক্ষা করেন এবং জানতে পারেন যে তিনি করোনা পজিটিভ।

গত শনিবার থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন ডা. শাকিল।

কিন্তু এই কর্তব্যপরায়ণ চিকিৎসক এই অসুস্থতাকে তেমন একটা আমলে না নিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করে যাচ্ছিলেন।

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ফেইসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,

‘ঘড়ির কাঁটায় রাত বারোটা বেজে এইমাত্র ঢলে পড়লো।

ক্লান্ত কিন্ত সাহসী মনোবল নিয়ে নিজেই নিজের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট সাইন করলাম।

দপ্তরগুলোতে মেইল করার পর কম্পিউটার অফ করে

রুমের বাতি নিভাতে গিয়ে একটু থমকে গেলাম। অফিস ছেড়ে যাচ্ছি।’

‘কবে আবার আসা হবে জানি না। অল্প সংখ্যক সহকর্মী ঘিরে ছিলো।

আবার অফিসের চেয়ারে বসে পড়লাম একটা ছবি তুলতে বল্লাম। তারা তুলে দিলো।

নিজেরাও সাহসের সাথে গ্রুপছবি তুলতে চাইলো।

বন্ধ করে বেরিয়ে এসে বাহিরের দরজায় দাড়ালাম।

সবাই ঘিরে ছিলো। আবার ছবি তুলতে চাইলো। না করিনি।’

‘অনেক পেয়েছি এখান থেকে। বিনিময়ে কিছু দিতে পেরেছি কি না জানি না।

সকল সহকর্মীদের ভীষণ মিস করবো। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন’ লিখেন ডা. শাকিল।

hydroxi.jpg

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় বিতর্কিত ও ‘ক্ষতিকর’

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ফ্রান্স সরকার।

চলতি সপ্তাহে ওষুধটি নিয়ে ফ্রান্সের দুটি পরামর্শ সংস্থা ও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করার পর নিষিদ্ধের নির্দেশনা জারি করল দেশটি।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সাধারণত ম্যালেরিয়া, বাত বা ত্বকে সংক্রমণজাতীয় রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

করোনাভাইরাসের এই ওষুধ কার্যকরী বলে কেউ কেউ দাবি করলে

মহামারি রূপ পাওয়া এ ক্ষেত্রে তা প্রয়োগের অনুমতি দেয় অনেক দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওষুধটিকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

করোনামুক্ত থাকতে নিজে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন গ্রহণ করেন বলেও জানান তিনি।

ওষুধটির সাফাই গাইতে দেখা গেছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোসহ আরও অনেককে।

এর মধ্যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়,

কভিড-১৯ চিকিৎসায় ওষুধটির তেমন কার্যকারিতা নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ওষুধ গ্রহণে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।

সবশেষ শুক্রবার স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল দ্য লেনসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়।

এমন অবস্থায় সোমবার কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানায় ডব্লিউএইচও।

এসব প্রেক্ষাপটে বুধবার করোনা চিকিৎসায় ওষুধটি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা

পরীক্ষা করার ক্ষেত্রেই কেবল ওষুধটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে, অন্যথায় না।

corona467.jpg

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২ জন। এর মধ্যে ১৫ জনেরই বয়স ৫০ বছরের বেশি।

আর মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও দু’জন নারী রয়েছেন।

আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক

নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ০ থেকে ১০ থেকে বছর বয়সী একজন,

২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দু’জন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী দু’জন, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী দু’জন,

৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী সাতজন,

৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে দু’জন।

হাসপাতালে মারা গেছেন ২১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১ জন।

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীতে পাঁচজন, ঢাকা জেলায় তিনজন,

মুন্সীগঞ্জে একজন, নরসিংদীতে একজন, চট্টগ্রামে দুজন, নোয়াখালীতে তিনজন,

কুমিল্লায় দুজন, কক্সবাজারে একজন, চাঁদপুরে দুজন, সিলেটে একজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮ হাজার ২৯২ জনে।

এছাড়া এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৪৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন।

weathenew.jpg

সারা দেশে আগামী পাঁচদিন বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের

কারণে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের এই সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের

অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা

হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সময়ে সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে। এছাড়া আগামী দুইদিন সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে, বুধবার রাতভর বৃষ্টি শেষে ভোরের আলো ফোটার পরই আবার কালো মেঘে রাত নেমে আসে রাজধানীর বুকে।

kobutor-215856.jpg

সীমান্তে নানা রকম চাপের মুখে আছে ভারত।

লাদাখ সীমান্তে চীন, নেপালের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে গোলযোগ আর কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা পুরনো।

এসব উত্তেজনার মধ্যেই কাশ্মীর সীমান্তে সন্দেহভাজন ‘গুপ্তচর’ কবুতর আটক করেছে ভারত।

ধারণা করা হচ্ছে, কবুতরটি পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা বরাবর কাঠুয়া জেলা থেকে আটক করা কবুতরটিকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে উড়ে আসা কবুতরটিকে হিরানগরের মানিয়ারি গ্রামের বাসিন্দারা আটক করে।

তার কাছে একটি আংটিসহ কোড বার্তা পাওয়া গেছে।

নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা বলছেন, কোড বার্তায় কি আছে তা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

কাঠুয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শিলেন্দ্র মিশরা বলেন, গ্রামবাসী পুলিশের কাছে এ কবুতরটি দিয়ে গেছে।

দেখা যাচ্ছে এর পায়ে একটি আংটি পরানো। তাতে কিছু সংখ্যা লিখা। এ নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।

তবে কবুতরটি পাকিস্তান থেকে এসেছে কিনা বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যদিও পাখির কোন দেশ নেই।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা বরাবর অনেক পাখিই আসে যায়।

কিন্তু এটির বিষয়টা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে কারণ তার পায়ে কোড বার্তা সংবলিত একটি আংটি পাওয়া গেছে।

সাধারণ কবুতরের গায়ে এটা থাকে না।

hajj-20200402070845.jpg

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব।

এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছুর পাশাপাশি হজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব।

যদিও এ নিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যেতে পারে, এর আগে কতবার হজ বাতিল হয়েছিল এবং কী কারণে।

৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ:

প্রথমবার হজ বাতিল হয়েছিল ৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।

হাজিরা অনেকেই জমায়েত হয়েছেন আরাফাতের ময়দানে, বাকিরা আসছেন।

এমন সময় হজের কিছুদিন আগে হঠাৎ করে হাজিদের ওপর আক্রমণ চালান আরব নেতা ইসমাইল বিন ইউসুফ।

তিনি আল সাফাক নামে সর্বাধিক পরিচিত।

বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার সঙ্গে শত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হয়।

ফলে ওই বছর বন্ধ হয়ে যায় পবিত্র হজ।

৯৩০-৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ:

‘কারামাতি’ নামে কট্টর একটি শিয়া গ্রুপ হামলা চালায় মক্কা শরীফে।

ইতিহাস বলছে, সেসময় প্রায় ৩০ হাজার হাজিকে হত্যা করা হয়।

লুটতরাজ করা হয় মসজিদে হারাম ও তার আশপাশের এলাকায়।

ঐতিহাসিক কালো পাথরটি নিয়ে যাওয়া হয় বাহরাইনে।

প্রায় ১০ বছর পর মক্কায় ফিরিয়ে আনা হয় সেই পাথর। ওই দশ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ:

বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ তে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯৬৮ সালে মক্কায় একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় অনেক লোকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজিরাও মারা যান ওই মহামারিতে।

শুধু তাই নয়, হাজিরা যে উটগুলো নিয়ে মক্কায় এসেছিলেন, পানির অভাবে সেগুলোও মারা যায়।

এসব কারণে ওই বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

৯৮৩-৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ:

এই ৮ বছর হজ না হওয়ার পেছনে দায়ী ছিল তখনকার রাজনীতি।

সেসময় ইরাক ও সিরিয়ায় ছিল আব্বাসীয় খিলাফত এবং মিশরে ছিল ফাতেমীয় খিলাফত।

এই দুই খিলাফতের শাসকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠায় হজ বাতিল হয়ে যায় এবং কাবা শরীফের কপাট বন্ধ থাকে ৮ বছর ধরে।

১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ:

এ বছর বাগদাদ আক্রমণ করেন হালাকু খান।

সেই আক্রমণ ছিল ভয়ংকর, বাগদাদ শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

খলিফাসহ হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষকে। এই আক্রমণের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম বিশ্বে।

কোনো মুসলমানই ওই বছর হজে যাননি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হজ ও ওমরার কার্যক্রম।

১৮১৪ ও ১৮৩১ সাল:

এই দুই বছরই হজ বাতিল করা হয় মহামারি প্লেগের কারণে।

১৮১৪ সালে প্লেগের সংক্রমণে সৌদি আরবের হেজাজ প্রদেশে মারা যায় ৮ হাজার মানুষ।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই শঙ্কায় হজ বাতিল করা হয়।

১৮৩১ সালে আবারও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ।

সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, হাজীদের চারভাগের তিনভাগই মৃত্যুবরণ করেন।

ফলে সে বছরও হজ বাতিল করা হয়।

এছাড়া ১৮৩৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে প্লেগ ও কলেরার কারণে মোট সাতবার হজ বাতিল করার ঘটনা ঘটেছে।

তবে এসময় বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ হজ পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।

trump555.jpg

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনসুলিন নিজে ব্যবহার করবেন কিনা সে

ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে রোজ গার্ডেনে এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেন।

পরে অবশ্য ট্রাম্প বলেন, আমি ইনসুলিন ব্যবহার করি না।

আমার কী হবে? আমি এসব নিয়ে ভাবি না, কিন্তু আমি জানি বহু মানুষ খুব খারাপভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।

একজন সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, যদি কারো ডায়াবেটিস না হয়ে থাকে,

সে ক্ষেত্রে তার ইনসুলিন নেয়ার মতো কোনো কারণ বা উপকারিতা আছে?

সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য

বহু অর্থভোগ করা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখানে আছে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, সম্মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আপনি কিংবা আমি ইনসুলিন ব্যবহার করি না ঠিকই,

তবে আমাদের শরীর ইনসুলিন তৈরি করে। আমাদের নিজস্ব ইনসুলিন আছে।

তখন ট্রাম্প বলেন, অহ!

lockdown5.jpg

একদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে শিথিল অঘোষিত লকডাউন- এরই মধ্যে শেষ হচ্ছে সাধারণ ছুটি।

তাহলে এরপরে কি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে পুরোপুরি সুফল মিলছে না অঘোষিত লকডাউনের।

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, ঈদের পরের সময়ে মন্থর অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে হতে পারে কঠোর লকডাউনের উত্তম সময়।

আর কর্তৃপক্ষের সোজা জবাব অবস্থা বুঝেই নেয়া হবে ব্যবস্থা।

করোনাকালের ৮০ দিন পেরিয়ে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে হয়ে গেল ঈদ।

অচেনা এই ঈদের আগেও ঢল ছিলো বাড়ি ফেরায়। এই ঈদটা বাড়িতে থাকার কথা থাকলেও অনেকেই রাখেননি সেই কথা।

আবার উদাসীনতা স্বাস্থ্যবিধি মানতে কিংবা মানাতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রোগীর হার বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

২২ মে থেকে ২৪ মে শনাক্তের হার ছিল ১৭ শতাংশ আর সব শেষ মঙ্গলবার(২৬ মে) এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ২১.৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ছয় দফায় বাড়িয়ে সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ মে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এত কিছুর পরে হিসাবের খাতায় কি জমা হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই মাসের ছুটির সুফল ঘরে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। পরিকল্পনায় দরকার আরো দূরদর্শিতা।

অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত অনেক সুপরিকল্পিত এবং

যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক সেটা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।

অধ্যাপক ডা. রিদওয়ান বলেন, অঘোষিত লকডাউন দিয়ে দু’মাস যে আমরা নষ্ট করেছি।

কিন্তু স্ট্রিকলি এর ফল আমরা পাইনি।

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, ঈদের পরের এই সময়টাতে এমনিতেই কিছুটা মন্থর থাকে অর্থনীতি,

তাই এই সময়টা কাজে লাগিয়ে হতে পারে কঠোর লকডাউনের উত্তম সময়।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি কর্মকাণ্ড ১৫ দিন একেবারেই

কম রেখে তারপর থেকে এই কর্মকাণ্ড কিভাবে যাবে এসব ভাবতে হবে। এই পরিস্থিতিতে।

জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের কথা ভেবেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, মানুষের কল্যাণে

সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে সকলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

সেই সিদ্ধান্ত আমাদের জানালে আপনাদের জানাবো।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার ঘোষণা আসতে পারে পরবর্তী সিদ্ধান্তের।

jhor-215864.jpg

ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়।

ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় উপড়ে গেছে গাছপালা।

ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

আবহাওয়া অফিস ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

যার মধ্যে সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দিনগত রাত এবং বুধবার (২৭ মে) ভোরে তীব্র গতিতে এ ঝড় আঘাত হানে।

ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব কিছুটা আঁচ করা যায়

রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কের পাশের বিশাল বিশাল গাছের অবস্থা দেখে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঢাকার রমনা, ধানমন্ডি, হাতিরঝিল, হাইকোর্ট ও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে।

ভোর থেকেই এসব গাছ অপসারণ করে রাজপথ সচল করতে তৎপর হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনসহ সেবা সংস্থাগুলো।

আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক কাওসার পারভীন বলেন, সমুদ্রে বায়ুচাপের তারতম্য থাকায় এ মুহূর্তে বাতাসের তীব্রতা বেশি।

তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।

একইসঙ্গে অমাবস্যার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ২ থেকে ৪ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে।

দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া

বয়ে যেতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদফতর।

ঈদের দিন অর্থাৎ ২৫ মে থেকে তিন দিন চার সমুদ্র বন্দরে দেখাতে বলা হচ্ছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।’

আবহাওয়ার আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয় ময়মনসিংহ, বরিশাল,

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ও খুলনা

বিভাগের দু‘এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসাথে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য দেয়া ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

nasima235.png

দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২২ জন।

এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৪৪ জন।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪১ জন।

এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৯২ জনে।

এছাড়া এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৪৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন।

আজ বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস

বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে বলা হয়, মোট ৪৮টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বের কিছু নমুনাসহ মোট ৮ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৮৪৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি।

নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৫৪১ জনের দেহে।

নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে

সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে আইইডিসিআর।

তার ১০ দিন পর দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় একজনের।

এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর

খবর মিললেও গত কয়েকদিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা।