top5 Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

coronavirusmgn10.jpg

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া দুজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মারা যাওয়া দুজনের পরীক্ষা আজ হয়নি বলেও জানান তিনি।

jafrullah.jpg

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হলে নির্ভয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী দাফন-কাফন করার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অন্যেরাও নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্মের নিয়মানুযায়ী সৎকার করুন। কারণ মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাঁচতে পারে না, তার বৃদ্ধিও হয় না।

সোমবার (৬ এপ্রিল) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। মৃত ব্যক্তিকে ধর্মীয় মতে সাবান দিয়ে গোসল করালে করোনার প্রসার বন্ধ হয়।

তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ালে শরীয়তপুরের যেসব পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দাফন-কাফন করেছেন তাদের শরীরে করোনাভাইরাস ছড়াতো। এটা বিজ্ঞানসম্মত। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে জীবাণু ছড়ায় না।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩জন এবং মারা গেছে ১৩জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুধু জীবিত ব্যক্তিই নন, মৃত ব্যক্তির লাশ থেকেও এই ভাইরাসটি ছড়ায় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তিদের যথাযথ নিয়ম মেনে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা নিয়ে বাংলাদেশেও এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। কোনো কোনো এলাকায় কবরস্থানে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন না করার জন্য ব্যানারও টানিয়ে এবং বাধাও দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শরীয়তপুরে মৃত ব্যক্তির দাফন করতে স্বজনরাও অনীহা প্রকাশ করে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় পুলিশ এই ব্যক্তির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে।

PM3.jpg

ছোটখাটো অপরাধে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন এবং হত্যা, ধর্ষণ ও অ্যাসিড মামলার আসামি নয় কিন্তু ইতোমধ্যে বহুদিন জেল খেটেছেন এমন কয়েদিদের কীভাবে মুক্তি দেয়া যায়, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বানায় এমন কারখানাগুলো খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেসব অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত রোগী বেশি সেইসব অঞ্চল লকডাউন করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অতি জরুরি কারণ ছাড়া ঢাকার বাইরে কেউ যাবে না, আসবেও না- দেয়া হয় এমন নির্দেশনাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বন্দি আসামিদের মুক্তি দিতে একটি প্রক্রিয়া ঠিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে মোট ১২ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আরও ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৩ জন। গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে।

প্রথমে ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত করোনার বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ ছুটি বাড়ানো হয়েছে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বহিরাগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অফিস-আদালত থেকে শুরু করে গণপরিবহন সবই বন্ধ রয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে রয়েছে।

আর, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

boris3d.jpg

হাসপাতালে আইসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। এর আগে গত শুক্রবার আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন যে, তার শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি।

আইসোলেশনে থাকার ১০ দিন পরেও তার শরীরে করোনার লক্ষণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এক সপ্তাহের বেশি কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে তা থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বেশ কয়েকজন দাবি করেছেন যে, কনফারেন্স কলের সময় বরিস জনসনকে প্রচণ্ড কাশতে দেখা গেছে। ব্রিটেনের আবাসনমন্ত্রী রবার্ট জেনরিক জানিয়েছেন, করোনা পজেটিভ আসার পরেও গত কয়েক দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন জনসন।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন দোরিস প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। নাদিনের মতে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘুমানো প্রয়োজন এবং সুস্থ হওয়া দরকার। ১০ দিন আগে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ার পর থেকেই আইসোলেশনে ছিলেন জনসন।

তবে কয়েকদিন ধরে তার শরীরে ক্রমাগত করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ হলেও সরকারের প্রধান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র বলছে, রোববার রাতে হাসপাতালেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। আরও কয়েকদিন তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে করোনা পজেটিভ হওয়ায় আইসোলেশনে ছিলেন জনসন।

কিন্তু রোববার রাতে তার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলছেন যে, জনসনের আরও বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

রোববার ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার ১০ দিন পরে তার শরীরে করোনার লক্ষণ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ বরিস জনসনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে তিনিই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হন।

এরপর ডাউনিং স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টেই আইসোলেশনে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জনসন। এদিকে, বরিস জনসনের করোনায় আক্রান্তের কথা জানতে পেরে তাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে জনসনকে শক্ত মনোবলের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সব আমেরিকান তার জন্য (বরিস জনসন) প্রার্থনা করছেন। তিনি আমার বন্ধু, তিনি একজন ভদ্রলোক এবং মহান নেতা। আপনারা জানেন যে, তিনি আজ হাসপাতালে গেছেন। তবে আমি আশাবাদী যে, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

জনসনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও সেলফ আইসোলেশনে আছেন। তার অন্তঃসত্ত্বা হবু স্ত্রী ৩২ বছর বয়সী কেরি সিমন্ডসের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, আগের চেয়ে ভালো অনুভব করছেন।

coronappe.jpg

সারা বিশ্বেই এখন পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষাসরঞ্জাম) সংকট। করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই সংকটের এ খবর বারবারই সামনে আসছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

করোনার অন্যতম হটস্পট স্পেন-ব্রিটেনও এর ব্যতিক্রম নয়। যেভাবে দ্রুতগতিতে দেশ দুটিতে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, তাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যথেষ্ট মুশকিল হচ্ছে।

কিন্তু তারপরও থেমে থাকছেন না চিকিৎসকরা। ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে নিজেদের গা-মাথা-পা মুড়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন রোগীদের।

শুধু ব্রিটেন নয়, একই উপায়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্পেনের ডাক্তার-নার্সরাও। স্পেনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১৫ হাজার ডাক্তার-নার্স সংক্রমিত হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ শতাংশ।

ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। রোববার চিকিৎসক-নার্সদের ক্রান্তিকালীন স্বাস্থ্যসেবার এ দৃশ্য তুলে ধরেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

লন্ডনের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. রবার্টসের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালের আইসিইউ এখন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীতে পরিপূর্ণ।

তার কথায়, ‘এই অবস্থায় ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ (বিন ব্যাগ) দিয়ে বানানো পিপিই পরতে হচ্ছে আমাদের। অনেক হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অনেক ক্যান্সার ক্লিনিকও বন্ধ। শুধু যে হাসপাতালগুলোয় করোনার চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলোই খোলা। তারপরেও সেগুলোর বেশির ভাগেই স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব আছে। রয়েছে বেডের অভাব। একদম সাধারণ মানের ভেন্টিলেটরও সব জায়গায় নেই।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্রিটেনে বড় আঘাত হানবে করোনাভাইরাস। এই সময়টাকেই বিশ্লেষকদের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’।

আর চিকিৎসাকর্মীরা এখনই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, কী তীব্র সংকটময় সময় আসছে সামনে। এখনই প্রত্যেক চিকিৎসক ১৩-১৪ ঘণ্টা করে কাজ করছেন প্রতিদিন।

সেটাও করতে হচ্ছে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের এপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে। কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনা আক্রান্ত রোগীদের থেকে কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা।

যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে- ১ থেকে ২ মিটার ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখতে। চিকিৎসকদের তো তেমন উপায় নেই। এর ফলে যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তাদের জীবনে, সেটা এখনই ভাবাচ্ছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যকর্মীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তার তিনজন সহকর্মী ভেন্টিলেশনে আছেন, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

কিন্তু তাদেরও অবস্থা একই। ওই চিকিৎসকের কথায়, ‘আমরা অসুস্থ চিকিৎসকদেরও সেরা ভেন্টিলেটর দিতে পারছি না, সর্বোচ্চ নার্সিং কেয়ার দিতে পারছি না।

নার্সরাও অমানবিকভাবে খেটে চলেছেন, তারাও যে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’ ব্রিটেনের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ অবশ্য দাবি করেছে, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা করোনাভাইরাসে কর্মক্ষেত্রে সংক্রমিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে।

কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, সঠিক সুরক্ষার অভাবে অনেক কর্মীই ভুগছেন সংক্রমণে, মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ।

একই অবস্থা চলছে স্পেন-ইতালিতেও। ইউরোপে এ দুটি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্পেনে যেখানে সরকারি হিসেবে রোববার পর্যন্ত ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত করা হয়েছে।

এ সংখ্যা দেশটিতে মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ শতাংশ। এদিকে ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজারের বেশি স্বাস্থকর্মী। এরপরেই জীবনবাজি রেখে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

স্পেনে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ১২ হাজার ৪১৮ জন। ইতালিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ১৫ হাজার ৩৬২ জন।

zibril.jpg

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লিবিয়ার বিদ্রোহী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল মারা গেছেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি হাসাপতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

এই সংগঠনের সেক্রেটারি খালেদ-আল মিরিমি রোববার জিবরিলের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ মার্চ তিনি কায়রোর গানজৌরি স্পেশালাইজড হাসপতালে ভর্তি হন। এর তিনদিন পর তার দেহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক হিশাম ওয়াগদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‌গত পড়শুদিন তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও তারপর আবার তা খারাপ হতে থাকে। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন।

গাদ্দাফির সরকারের শেষ দিনগুলোতে জিবরিল ছিলেন তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে মাহমুদ জিবরিলের বিদ্রোহী সরকার।

এরপর ২০১২ সালে তিনি গঠন করেন ন্যাশনাল ফোর্সেস অ্যালায়েন্স। এরপর ন্যাটো জোট গাদ্দাফিকে হত্যার পর যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় তার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাহমুদ জিবরিল।

জিবরিলের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে লিবিয়ায় একজন মারা গেছেন। এছাড়া প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে দেশটিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন ১৮ জন।

Madaripur.jpg

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়ায় এক নারীসহ তিনজনকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মার্চ এই তিনজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদের সংস্পর্শে আসা ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে প্রশাসন।

এ ঘটনার পর রোববার বিকেলে এ তিনজনের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়। এর আগে দুপুর ১টার দিকে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভার্তি করা হয়। এরপর পুরো উপজেলা রাতেই লকডাউন করে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।

পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবচরজুড়ে টহল দিচ্ছে। এর আগে গত ১৮ মার্চ থেকে শিবচর উপজেলার ৪টি এলাকা কনটেইনমেন্ট ঘোষণা করলেও কার্যত উপজেলাজুড়ে অচল রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা তিনজন মধ্যে দুজন স্বামী-স্ত্রী। তারা শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের হাজীপুরের বাসিন্দা। অপরজন একই উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী ইতালি প্রবাসী।

আইসোলেশন থেকে মুক্ত হওয়ার পর বাড়িতে ফিরলে এ তিনজনসহ ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে আইইডিসিআর এ পাঠালে তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ পাওয়া যায়। এরপর দুুপুরে তাদের সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক ঘোস বলেন, এ তিনজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তাই তাদের পুনরায় আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সংস্পর্শে আসা ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

মাদারীপুরের সির্ভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এক নারীসহ তিনজন দুপুরে হাসপাতালে এসেছে। তাদের  ভালোভাবে চেকআপ করা হবে। প্রয়োজনে আবারও তাদের নমুনা নেয়া হতে পারে।

ওই তিনজনকে একবার আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন তারা সুস্থ ছিল। তাদের কোনো অসুবিধা ছিল না। তখন তাদের টেস্টে নেগেটিভ এসেছিল। তাই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল। শুনেছি তাদের করোনা পজিটিভ এসেছে। তাই তাদের আবার আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সেখানে আমাদের করোনা প্রতিরোধের জন্য নিয়োজিত মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে।

সির্ভিল সার্জন কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানায়, ওই তিনজনের মধ্যে একজনের বয়স ৭২ বছর। তাকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবে আইসোলেশনে থাকা বাকি দুজনই মোটামুটি ভালো আছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আইইডিসিআর মাদারীপুরের শিবচরকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দেয়ায় এ উপজেলার লকডাউনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকল যানবাহন বন্ধ থাকবে। জনগণকে ঘরে থাকতে হবে।

Dr.-Fousi.jpg

অ্যান্টনি স্টিফেন ফৌসি একজন আমেরিকান চিকিৎসক। তিনি একাধারে ইমিউনোলজিস্ট ১৯৮৪ সাল থেকে জাতীয় অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন।

ডা. অ্যান্টনি ফৌসি বলেছেন যে নতুন করোনভাইরাসটি ‘একটি মৌসুমী ফ্লু এর প্রকৃতি ধারন করবে’ কারণ এটি বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা খুব কমই রয়েছে।

ফৌসি জাতীয় অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগের ইনস্টিটিউটের পরিচালক। তিনি বলেছেন যে এই বছর করোনাভাইরাস এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরের ফ্লু মৌসুমে এই ভাইরাস আবার নতুন করে সূচনা দেখতে পাবে ।

ফৌসি বলেছেন, একটা সময় কমে আসলেও তা আবার যে পুনরুত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। এটা মৌসুমী ফ্লু হয়ে মানুষের মধ্যে বিচরণ করবার সম্ভাবনা থেকে যাবে। তবে হল আমেরিকা তার প্রস্তুতি পর্ব আগের চেয়ে ভাল করেছে। আমেরিকা করোনার পাওয়ার কমানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।

তিনি বলেছেন যে এর মধ্যে একটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ ও শেষ হয়েছে এবং এর ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ট্রায়াল শেষ হলেই নতুন ঔষধের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রকৃয়া হস্তান্তর পরিচালনা শুরু করা হবে।

sheikh_hasina_corona_speach_desh_rupantor_6.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হোক। রোববার (৫ এপ্রিল) গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী ।

সংবাদ সম্মেলনে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা থাকেন। এবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। কারণ আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে সংক্রমিত হোক।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। অনেকেই সীমান্ত বন্ধ করেছে। বাংলাদেশেও গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী গৃহীত পদক্ষেপগুলো অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এরমধ্যে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সেবা খাত, ক্ষুদ্র ‍ও মাঝারি উদ্যোগ ও পর্যটনের মতো খাতগুলো বেশি প্রভাবিত হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে এখনই সঠিকভাবে অনুমান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রভাবে জিডিপি’র প্রভাব হ্রাস পাওয়ার শঙ্কার রয়েছে। এছাড়া বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করার হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

56.jpg

মানব সভ্যতা এখন এক বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করছে।সম্ভবত এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট।বদলে গেছে পৃথিবীর গতিপথ। প্রতিদিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নতুন সংখ্যা সম্পর্কিত খবর মানুষের মনে আতঙ্ক যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। করোনায় পুরো বিশ্বের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন কার্যত থমকে গেছে।

শিশু থেকে তরুণ কিংবা গর্ভবতী নারী, করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই মিলছে না কারও। লন্ডনের বাঙালিপাড়াতেও বিরাজ করছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। মৃত্যুর দিক থেকে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৩৮৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪,৯৩২ জনের। অনেকেই মনে করেন, করোনা মোকাবিলায় বরিস জনসনের সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেজন্যই আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা এত বেশি।

প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় কাজ বেড়েছে কবরস্থানে কাজ করা কর্মীদের। প্রতিদিন খুঁড়তে হচ্ছে অসংখ্য কবর। বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কবরস্থানে আগে থেকেই কবর খুঁড়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে খুব দ্রুতই কবর দেওয়া হয়। তাই আগে থেকে নেওয়া হচ্ছে এই প্রস্তুতি।

যুক্তরাজ্যের মাউন্ট হক এবং সেন্ট অ্যাগনিস কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক ক্ল্যাইভ কালবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এই কবরস্থান কবর খুঁড়ি এবং সকল কিছু দেখাশুনা করি। আমি কখনোই আগে থেকে কবর খুঁড়ে রাখিনি। এটা ভাবতে খারাপ লাগে যে আমি যাদের জন্য কবর খুঁড়ছি তারা এখনও জীবিত।’

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২০৬টি দেশ-অঞ্চল ও ডায়মন্ড প্রিন্সেস ও এমএস জ্যান্দাম নামে দুটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ দুই হাজার ২৩৬।

এর মধ্যে ৬৪ হাজার ৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭ জন। তবে চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে।