top5 Archives - Page 2 of 467 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

s-boia-20191021222227.jpg

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অপরাধ জগত, ব্যক্তিগত জীবন, জুয়া খেলা ও রাজনীতি সম্পর্কে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে চলেছেন তিনি।

আর এবার ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক নেত্রীর সঙ্গে প্রেম ছিল বলেছেন সম্রাট। আর তার নামে ঢাকায় একাধিক দোকানও কিনেছেন সম্রাট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুনমুন নাহার বৈশাখী এর আগে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। যশোরের ঝিকরগাছার কায়েমকোলা গ্রামের মেয়ে মুনমুনের পরিবার জামায়াত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছিল। ক্যাসিনো কিং সম্রাটের অর্থ-সম্পদের একটি লম্বা ফিরিস্তি পাওয়া গেছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে টাকা জমা রেখেছেন সম্রাট। তার ভাই বাদলের নামে রাজধানীর আশপাশে কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন তিনি।

সূত্র বলছে, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রী মুনমুন নাহার বৈশাখী সঙ্গে সম্রাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৈশাখীর নামে পুলিশ প্লাজায় একাধিক দোকান কিনেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাকা জমা রেখেছেন ক্যাসিনো সম্রাট। আর ওই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড। এছাড়া তার ভাই বাদলের নামে রাজধানীর আশেপাশে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও প্লট কিনে রেখেছেন ক্যাসিনো কিং সম্রাট।

র‌্যাবের ওই সূত্র জানিয়েছে, যুবলীগ নেতা খালেদ ও আরমানের বিপুল অংকের টাকা আছে থাইল্যান্ড, দুবাই ও সৌদি আরবে। জুয়ার টাকায় আরমান সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেন। দেশবাংলা চলচিত্র নামে একটি প্রডাকশন হাউস খোলেন তিনি। সিনেমা জগতে নাম লেখানোর পর আরমানের সঙ্গে শিরিন শিলা নামের জনৈক চিত্রনায়িকার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে শিলার সঙ্গে আরমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় শিলার নামে একাধিক ফ্ল্যাট কেনেন আরমান।

আর সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম রোববার বলেন, ‘আমরা সম্রাটের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সম্রাটই ঢাকার ক্যাসিনো জগতের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মাধ্যমেই প্রভাবশালী মহলে বিপুল অংকের অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়েছে। আপনারা জানেন, যেখানেই অঢেল অর্থ সেখানেই অবধারিতভাবে অস্ত্র, মাদক ও নারী সম্পৃক্ততা চলে আসে। সম্রাটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।’

বিষযটি নিয়ে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সম্রাটের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সম্রাট ঢাকার ক্যাসিনো জগতের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন। তার মাধ্যমেই প্রভাবশালী মহলের মধ্যে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়েছে। আপনারা জানেন, যেখানেই অঢেল অর্থ সেখানেই অবধারিতভাবে অস্ত্র, মাদক ও নারী সম্পৃক্ততা চলে আসে। সম্রাটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

আর এর মধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে। দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।

omarfaruk4cc.jpg

দেশে চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেকেই। গ্রেফতারের পরপরই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে সংগঠন থেকে।

স্বভাবতই যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভার বর্তায় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ওপর। পরে গ্রেফতারকৃত নেতাদের বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সম্পৃক্ততাও বেরিয়ে আসে।

অবশ্য এ অভিযান শুরুর দিকে ‘পুলিশ কি এতদিন বসে বসে আঙুল চুষেছে?’, ‘বিপদে পড়লে বউ ছাড়া কেউ থাকবে না’- এমন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন দাপুটে এ নেতা। একপর্যায়ে দৃশ্যপট থেকে আড়ালে চলে যান তিনি।

সর্বশেষ রোববার (২০ অক্টোবর) ক্যাসিনোকাণ্ড ও দুর্নীতির দায়ে যুবলীগের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যদিও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারী ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো কিন্তু এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আর সংবাদ মাধ্যমে আমার বিচার চলছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমে যা ছাপা হচ্ছে মানুষ এখন সেটাই বিশ্বাস করবে। আমি যাই বলি না কেনা তা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি তো শাস্তি পেয়েছি-ই। কয়েক দিন ধরে গৃহবাস এবং কাল (সোমবার) দল থেকে গেট আউট। কষ্ট যা পাওয়ার পেয়েছি। সর্বোচ্চ কষ্ট পেয়েছি। এখন তো আর রাজনীতি করতে পারব না, নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে। এখন ব্যবসা করব।

এদিকে পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তারা কোনো টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নানা বিষয়ে আমার নামে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে সব কিছুরই একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদি তাদের মনে হয় ক্যাসিনোর টাকা আমার ব্যাংকে ঢুকেছে তাহলে তারা আমাকে নোটিশ দেবে, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড), দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) পাঠাবেন। তারা তদন্তে প্রমাণ পেলে উচ্চ আদালতে জানাবেন। আমি সেখানে যাব।

আপনাকে যে কোন সময় গ্রেফতার করা হতে পারে এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিষয়টি তো বিচার প্রক্রিয়ায় গেছে। এখানে গ্রেফতারের বিষয়টি আসছে কেন। আবার গ্রেফতার করতে চাইলে করতেও পারে।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির অঙ্গ-সংগঠন যুব সংহতির রাজনীতি করে আসা ওমর ফারুক ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সাল থেকে টানা সাত বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের অনুগতদের স্থান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর ও দেশব্যাপী জেলা কমিটিগুলোও হয়েছে তার পকেটের লোক দিয়ে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি অনেক নেতাকে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন তিনি।

TEAAA-1.jpg

বাংলাদেশে চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এবং উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষে চা উৎপাদনের পরিমাণ ৯ কোটি কেজি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি)।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর মো. আল মুস্তাইদুর রহমান জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চায়ের উৎপাদন ছিল ৮ কোটি ২১ লাখ কেজি। ওই বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ২৩ লাখ কেজি। তবে সে বছর মোট অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল ৯ কোটি ৪৫ লাখ কেজি। বাকি চা অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, এ বছর চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৪১ লাখ কেজি। তবে আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছর চায়ের গড় উৎপাদন ৯ কোটি কেজি ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি জানান, এই মুহূর্তে সারা দেশে চায়ের উৎপাদন (আগস্ট পর্যন্ত) লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি আছে। ওই সময়ের মধ্যে দেশে ৫ কোটি ২৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। গত বছর একই সময়ে উৎপাদিত হয় ৪ কোটি ২০ লাখ কেজি।

এছাড়া দেশে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের বছর ২০১৬ সালে একই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ কেজি। ওই বছর ১৬২ বছরের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে ৮ কোটি কেজির বেশি।

চা বোর্ড বলছে, চায়ের জন্য উপযোগী পরিবেশ, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সঠিক ও সুষম তাপমাত্রাই উৎপাদনের সফলতার নেপথ্যে। এছাড়া চা বাগানের জমির সম্প্রসারণ, পুরাতন গাছ তুলে উচ্চ ফলনশীল জাতের চা গাছ প্রতিস্থাপন, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদির পর্যাপ্ততা, সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রাপ্তি, ক্লোন চা গাছের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সর্বোপরি বাংলাদেশ চা বোর্ডের নজরদারির কারণে দেশে চা শিল্পে সাফল্য ফিরে এসেছে।

biman-20190829214153.jpg

বিমানের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা গচ্চার পর অবশেষে বিদায় নিল মিসর (ইজিপ্ট এয়ালাইন্স) থেকে ভাড়ায় আনা দুই ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট। ১৬ জুলাই প্রথম উড়োজাহাজটি মিসর পাঠানো হলেও দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি বিদায় নিচ্ছে আজ।

উড়োজাহাজটি এখন ফিলিপাইনের একটি মেরামত শপে রয়েছে। এটি ফেরত পাঠাতে এরই মধ্যে বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন (ডিএফও) ক্যাপ্টেন এবিএম ইসমাইল ও ক্যাপ্টেন ইসহাকের নেতৃত্বে একটি টিম ফিলিপাইন পৌঁছেছে। আজ সকালে তারা উড়োজাহাজটি নিয়ে মিসরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

যাওয়ার সময় বাংলাদেশের আকাশসীমা স্পর্শ করে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিমান চালিয়ে তাদের মিসর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি তারা ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে পৌঁছে দিয়ে অন্য এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে ঢাকায় ফিরবেন। এসব তথ্য বিমান সূত্রে জানা গেছে। দুটি উড়োজাহাজই দীর্ঘদিন ফিলিপাইনে ওভারহোলিংয়ের কাজে হ্যাঙ্গারে পড়ে ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া নেয়ার সময় উড়োজাহাজ দুটি যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, ফেরত দেয়ার সময় সে অবস্থা করে দিতে হবে। এ কারণে প্রায় ৬ মাস উড়োজাহাজ দুটি ফিলিপাইনের একটি ওভারহোলিং শপের হ্যাঙ্গারে রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের ‘গলার কাঁটা’ নামে পরিচিত এ দুটি এয়ারক্রাফট নেয়ার সময় অসম চুক্তি করায় ফেরত দিতে এ বিশাল অঙ্কের টাকা গুনতে হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ও বর্তমান বিমান এমডি মোকাব্বির হোসেনের অক্লান্ত চেষ্টায় অবশেষে বিমানের এ কলঙ্ক মোচন সম্ভব হয়েছে।

বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটি লিজ চুক্তিতে আনা হয়েছিল মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যে কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়েছে বেশি। মাসে ১১ কোটি টাকা হারে পাঁচ বছরে ৬৫০ কোটি টাকার ওপরে মাশুল গুনতে হয়েছে। দুটি উড়োজাহাজ লিজের নামে হাতি পুষেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ কারণে বছরে বিমানকে গচ্চা দিতে হয়েছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চে ও অন্যটি একই বছরের মে মাসে।

কিন্তু উড়োজাহাজ দুটি এতটাই লক্কড়ঝক্কড় ছিল ১১ মাস পার হতে না হতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই বিকল হয়ে পড়ে একটির ইঞ্জিন। ওই উড়োজাহাজটি মেরামত করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। অপরদিকে দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও।

আবারও চড়া দামে ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে নষ্ট হতে থাকে উড়োজাহাজ দুটি। একপর্যায়ে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। এরপর ইঞ্জিনগুলো মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শপে পাঠানো হয়।

কারণ ইঞ্জিনগুলো এমনই দুষ্কর মডেলের ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের ওই শপ ছাড়া বিশ্বের আর কোনো কারখানায় মেরামত সম্ভব ছিল না। এতে মোটা অঙ্ক হাতিয়ে নেয় ওই শপ। মেরামত করতে পাঠানোর কারণে বিমানকে উড়োজাহাজ না চালিয়ে ভাড়ার ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে প্রতিমাসে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লিজে আনা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটির কারণে বিমানের ৬৫০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিমানের গলার কাঁটা হয়ে যুক্ত ছিল এ দুটি উড়োজাহাজ।

দীর্ঘদিন পরে হলেও বিমান কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, অসম চুক্তির জন্য দায়ী বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ। তার মতে, বিমানের পরিকল্পনা বিভাগে ভালো মানের কোনো কর্মকর্তা নেই। বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো যেভাবে চুক্তির খসড়া তৈরি করে দেয়, পরিকল্পনা বিভাগ সেটা বাস্তবায়ন করে। এখন সময় হয়েছে বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ ঢেলে সাজানোর।

parliaament16-20191021205249.jpg

টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে যথাযথ মনিটরিংয়ের আওতায় এনে লাইসেন্স ফি আদায় করা গেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয় বাড়বে।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার সুপারিশ করা হয়। কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টেলিভিশন সেটের ওপর লাইসেন্স ফি পুনঃধার্যের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রস্তাব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। বিক্রেতাদের বিক্রয়ের সময় গ্রাহকদের থেকে দামের সাথে গ্রহণ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোষাগারে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে লাইসেন্স ফি গ্রহণের আইন কার্যকর থাকলেও সেই অর্থে বাস্তবায়ন নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

জানা যায়, আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি আদায়ে ব্রিটিশ আমলের ‘দ্য ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি অ্যাক্ট, ১৯৩৩’ আইনের অধীনে ‘দ্য টেলিভিশন রিসিভিং অ্যাপারেটাস (পজেশন অ্যান্ড লাইসেন্সিং) রুলস, ১৯৭০ প্রণীত হয়। এই বিধিমালার অধীনে আবাসিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত টেলিভিশন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত টেলিভিশনের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে টেলিভিশন, ভিসিআর ও স্যাটেলাইট টিভি রিসিভারের ফি নির্ধারণ করে তা আদায় জোরদার করা হয়। এ সময় এক শ্রেণির প্রতারক চক্র আবাসিক টেলিভিশনের মালিকদের বাড়িতে গিয়ে ফি আদায়ের নামে প্রতারণা শুরু করে। পরে বিষয়টি সরকারের নজরে আসায় বার্ষিক ফি আদায়ের এই কার্যক্রমের পরিবর্তে টেলিভিশন কেনার সময় এককালীন তিন বছরের আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে এটিও ফলপ্রসূ হয়নি। এদিকে লাইসেন্স ফি আদায় কার্যক্রম জোরদার না হলেও ২০১৪ সালে সরকার আরেক দফায় লাইসেন্স ফি বাড়িয়ে পুনঃনির্ধারণ করে। ওই সময় সরকার আবাসিক ভিত্তিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরন ও পরিমাপের টিভি সেটের পুনঃনির্ধারিত এককালীন আবাসিক টেলিভিশন লাইসেন্স ফি সাদাকালো টিভি ৬০০ টাকা, সাধারণ রঙিন টিভি ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা, সাধারণ রঙিন টিভি ২২ ইঞ্চি বা তদূর্ধ্ব ১ হাজার ৮০০ টাকা, এলসিডি/এলইডি টিভি ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ টাকা, এলসিডি/এলইডি টিভি ২২ থেকে ৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং এলসিডি/এলইডি টিভি ৩৭ ইঞ্চি বা তদূর্ধ্ব ৩ হাজার টাকা পুননির্ধারণ করে।

কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে বৈঠকে তথ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সদস্য কাজী কেরামত আলী, আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), খঃ মমতা হেনা লাভলী ও সালমা চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান অংশ নেন।

soudi-20191021204012.jpg

ঢাকায় সৌদি এয়ারলাইন্সের গুয়াংজু থেকে আসা একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। চীনের গুয়াংজু থেকে সৌদি আরবের রিয়াদগামী সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে সেটি। উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ায় এটি জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চীনের গুয়াংজু থেকে ২৯৯ জন যাত্রী নিয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের এসভি ৮৮৫ ফ্লাইটটি ছেড়ে আসে। ফ্লাইটটি রিয়াদে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কাছাকাছি আসার পর বিমানের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে পাইলট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্র।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত জানানোর পরই আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই সৌদিয়ার বিমানটি অবতরণ করে। ফ্লাইটে পাইলট, কেবিন ক্রু, যাত্রীসহ ২৯৯ জন আরোহী ছিলেন। সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।

sahidul-haque-20191021103218.jpg

একই পদে প্রায় ১০ বছর ধরে আছেন তিনি। চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষে চারবার নিয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। দীর্ঘ সময় একই পদে থাকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক।

তার বিরুদ্ধে সুবিধা নিয়ে ভেটিংয়ের সময় তামাক নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিধিবিধানে তামাক কোম্পানির পক্ষে বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে গাড়ি ব্যবহার, বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণে সিদ্ধহস্ত শহিদুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়াকালীন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সহকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও শহিদুল হক লেজিসলেটিভ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হননি। তিনি কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন না, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ ও লেখাপড়া করতেও যেতে দিতে চান না।

লেজিসলেটিভ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে কোনো সচিবের দায়িত্ব পালনের নজির বাংলাদেশে নেই। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ব্যারিস্টার মওদুদ তার আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় মতাদর্শের কর্মকর্তাদের এ বিভাগে নিয়োগ দেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর লেজিসলেটিভ আলাদা বিভাগ হলে বিচার ক্যাডারের কর্মকর্তা শহিদুল হককে সচিব নিয়োগ দেয়া হয়। একটা সময় পর্যন্ত তার থাকা যৌক্তিক ছিল।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিশেষায়িত ও কারিগরি পদের ক্ষেত্রে যেখানে দক্ষ লোকের সংখ্যা খুবই কম সেখানে শুধু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার নিয়ম। শহিদুল হক মূলত অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েছেন, আর বঞ্চনার দুঃখ নিয়ে অনেক কর্মকর্তাকে অবসরে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় একই পদে থাকার সুযোগে শহিদুল হক স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন, জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়মে।

শহিদুল হক খুলনার আওয়ামী লীগের খ্যাতিমান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম সালাউদ্দিন ইউসুফের মেয়ে তাহমিনা হকের স্বামী। তিনি তার শ্বশুরের নাম ব্যবহার করে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকেন। চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে তার সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ। তিনি পঞ্চম দফায় চুক্তি নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে জোর তদবিরে নেমেছেন বলেও জানা গেছে।

তবে শহিদুল হককে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলে লেজিসলেটিভ বিভাগের কর্মকর্তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু লোক নানা দোষারোপ করে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগ এর বাইরের কিছু নয়।’

লেজিসলেটিভ সচিবের একই পদে ১০ বছর ধরে থাকা প্রসঙ্গে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাউকে চুক্তি দেয়ার বিষয়টি সরকারের এখতিয়ার। তবে পৃথিবীতে কোনো পদের জন্য কেউ অপরিহার্য নয়। যোগ্য অন্যদেরও কাজের সুযোগ দিতে হবে।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ যোগ্য ব্যক্তির কাজের সুযোগ করে দেয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়। এতে অনেকে পদোন্নতির জন্য যোগ্য হওয়ার পরও তাদের পদোন্নতি দেয়া যায় না, দেখা যায় প্রণোদনার ঘাটতি। সরকারের বিষয়টি খেয়াল করা উচিত।’

একের পর এক চুক্তি পেয়েছেন

১৯৯৮ সালে লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং উইং করা হয়। ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ নামে দুটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওইদিন থেকেই চলতি দায়িত্বে সচিব হন তিনি। ২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পান শহিদুল হক। পূর্ণ সচিব হন ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।

চাকরির মেয়াদ শেষে ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) বাতিল করে চুক্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয় শহিদুল হককে। এরপর ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর লেজিসলেটিভ সচিব হিসেবে শহিদুল হকের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়। চুক্তিতে থাকার সময় ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সচিব হন তিনি। সিনিয়র সচিব হওয়ার পর লেজিসলেটিভ বিভাগেই ওই বছরের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তিতে নিয়োগ পান শহিদুল হক।

এরপর ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে শহিদুল হকের চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ আগামী ৩১ অক্টোবর শেষ হবে।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরে জন্ম নেওয়া শহিদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে মুন্সেফ পদে যোগদান করেন। মুন্সেফ ছাড়াও সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, সাব-জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল হক।

দীর্ঘদিন একই পদে থাকার বিষয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘সরকার আমাকে প্রয়োজন মনে করেছে তাই এতদিন রেখেছে। আমি যদি দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিতে না পারতাম তাহলে সরকার কেন এতদিন আমাকে রেখেছে?’

তিনি বলেন, ‘আমি কখনও তদবির করি না। এবারও তদবির করছি না। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তবে রাখবে। সরকার না রাখতে চাইলে আমি এক ঘণ্টাও থাকতে পারব না।’

১৯৮০ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় শহিদুল হক ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্র ছিলেন। অভিযোগ আছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিতে ছিলেন।

তবে ছাত্রদলের কমিটিতে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি কোন ধরনের রাজনীতি করতাম তা প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানেন। তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।’

২ সন্তান বিএটিতে, তামাক কোম্পানির পক্ষে বিধিবিধান

‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ বাস্তবায়নে এ সংক্রান্ত বিধিমালায় সিগারেট কোম্পানির পক্ষে বিধান যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে লেজিসলেটিভ সচিব শহিদুল হকের বিরুদ্ধে।

কারণ শহিদুল হকের ছেলে তাসদীকুল হক প্রতীক ও মেয়ে সামিহা হক প্রমা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কোম্পানিতে চাকরি করেন।

‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা’র খসড়ায় বলা হয়েছিল, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ করা রঙিন ছবি ও লেখা সমন্বিত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী অবিকল ছাপতে হবে।

বিধি কার্যকর হওয়ার সর্বোচ্চ নয় মাস পর থেকে সতর্কবাণীযুক্ত মোড়ক ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত বা বিক্রি করা যাবে না বলেও বলা হয় খসড়া বিধিমালায়। এ অবস্থায় এটি লেজিসলেটিভ বিভাগে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগ সতর্কবাণীযুক্ত করার সময় নয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করার প্রস্তাব দিয়ে বিধিমালার খসড়াটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়।

২০১৪ সালের ২৯ মে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস- ২০১৪’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তখনকার স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় সতর্কবাণীযুক্ত করার সময় ১৮ মাস করার কথা বলেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ পরে অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাধার মুখে সতর্কবাণী যুক্ত করার সময় ১২ মাস করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয় সাধারণত ভেটিংয়ের সময় কোনো আইন বা বিধি বহাল, অন্য কোনো আইন বা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না, তা দেখে থাকে। এর বাইরে আইন বা বিধিমালায় কোনো সংশোধন আনার এখতিয়ার না থাকলেও তখন শহিদুল হক সিগারেট কোম্পানিগুলোর পক্ষে সংশোধন এনেছিলেন বিধিমালায়।

এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন’ অনুযায়ী তামাক পণ্যের সচিত্র সতর্কবার্তা প্যাকেটের উপরিভাগের ৫০ শতাংশে রাখার বিধান থাকলেও সেটা বদলে তামাক কোম্পানির দাবি অনুযায়ী নিচের অংশে ওই সতর্কবার্তা ছাপানোর সুযোগ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর পেছনেও হাত ছিল লেজিসলেটিভ সচিবের।

২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ওই গণবিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কোঅর্ডিনেটরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল তখন।

তামাক কোম্পানির পক্ষ নেয়ার বিষয়ে সচিব বলেন, ‘সতর্কবাণী যুক্ত করা হয়েছে। নতুন একটা সিস্টেমে যাচ্ছি, এ কারণে পক্ষ-বিপক্ষ বিবেচনা করে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পরে মন্ত্রণালয় যেটা এগ্রি করেছে আমরা তো সেটাই রেখেছি। এর মধ্যে আমার দোষের কী দেখছেন? আমরা তো বলিনি লাগবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে কি ওই কোম্পানিতে চাকরি করতে পারবে না? আমার সন্তানরা তাদের যোগ্যতায় সেখানে চাকরি করছে, তারা ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছে, তারা মেধাবী।’

অবৈধ গাড়ি ব্যবহার

সচিব হয়েও ‘প্রমোশন অ্যাকসেস টু জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হন শহিদুল হক। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও তিনি সেটি পরিবহন পুলে জমা দেননি। দাতা সংস্থা ইউএনডিপির অর্থায়নে এ প্রকল্পের গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩৭৮২৬) শহিদুল হক তার পারিবারিক কাজে ব্যবহার করেছেন।

২০১৫ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটি শেষ হয়। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কেনা কোনো গাড়ি আছে কিনা- তা লেজিসলেটিভ বিভাগের কাছে জানতে চাওয়া হয়। শহিদুল হক তখনও গাড়িটি জমা না দিলেও ১ ফেব্রুয়ারি লেজিসলেটিভ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৬ শামীম আহম্মেদের কাছে লেখা চিঠিতে জানিয়ে দেয়া হয়, বিভাগের কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো গাড়ি নেই। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছিল।

এ বিষয়ে শহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘গাড়িটি গত বছরের ১৮ জুলাই পরিবহন পুলে জমা দেয়া হয়েছে।’

একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট-জমি

ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শহিদুল হকের নামে-বেনামে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর শ্যামলীর আদাবরে বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে (বাড়ি নং- ৮১৭, রোড নং-৪) একটি বাড়ি রয়েছে।

রাজউকের মিরপুর পল্লবী ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের পল্লবী দ্বিতীয় পর্বের প্রকল্পে তার স্ত্রী তাহমিনা হকের নামে একটি পাঁচ কাঠা প্লট রয়েছে (কে-মেইন রোড, প্লট নম্বর কে-২৬)।

এছাড়া শহিদুল হকের পূর্বাচলে নিজ নামে ১০ কাঠার প্লট, পূর্বাচলে তথ্য গোপন করে স্ত্রীর নামে সাত কাঠার প্লট, ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজ নামে চার কাঠার প্লট, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পেছনে বহুতল বিশিষ্ট নির্মাণাধীন একটি বাড়ি, ঢাকার সার্কিট হাউজ রোডে ইস্টার্ন হাউজিংয়ে একটি ফ্ল্যাট, সাভারের ভাটপাড়া হাউজিং সোসাইটিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিক প্লট রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন আইন, বিধিমালাসহ বিভিন্ন আইনগত দলিল ভেটিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘পূর্বাচলে প্লট নেই প্রশাসনের এমন একটা সিনিয়র লোক আমাকে দেখান। আমি সরকারের একাধিক প্লট নেইনি। ভাটপাড়ার প্লটটি আমার ভাইয়ের ছিল, পরে তিনি আমার নামে লিখে দেন।’

‘আমার স্ত্রী আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান নেতা সালাউদ্দিন ইউসুফের মেয়ে। এমন একটা ফ্যামিলির মেয়ের ছোটখাট প্রপার্টি থাকতে পারে না?’

সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ

সচিবালয় নির্দেশিকা ও মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অমান্য করে শহিদুল হক স্বেচ্ছাচারীভাবে সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিভাগের বেশির ভাগ কর্মকর্তা।

বর্তমানে লেজিসলেটিভ বিভাগে প্রথম শ্রেণির ১০৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৪ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিজে বেশির ভাগ সময় বিদেশে পড়ে থাকলেও অন্যদের বিদেশে প্রশিক্ষণ ও লেখাপড়ার সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত রক্ষণশীল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

১৩তম ব্যাচের উপ-সচিব মালেকা বাহার শামসী মাল্টায় পিএইচডির সুযোগ পেলেও শহিদুল হক তাকে যেতে অনুমতি দেননি। পরে তিনি অনেকটা অভিমান করেই অনুমতি ছাড়া বিদেশে পিএইচডি করতে চলে যান। অননুমোদিতভাবে বিদেশে যাওয়ায় পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

গত ১০ বছরে ১৫০ বারেরও বেশি বিদেশ সফর করেছেন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তার দুই বছর সময় বিদেশে কেটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তিনি অনুরোধের মাধ্যমে অন্য মন্ত্রণালয়ের জিও’র (আদেশ) জারি করে বিদেশে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং কর্মকর্তাদের পদোন্নতিজনিত বিরোধ মেটাতে মামলা-মোকদ্দমা শেষে দুটি পৃথক বিভাগ হয়। কিন্তু শহিদুল হকের কারণে কর্মকর্তাদের বঞ্চনার দুঃখ রয়েই যায়।

শহিদুল হকের দফায় দফায় চুক্তির কারণে কমপক্ষে চারজন অতিরিক্ত সচিব, সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে মনোকষ্টে চাকরি থেকে বিদায় নেন। এটা জুনিয়র কর্মকর্তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। এবার তার চুক্তির মেয়াদ আবারও বাড়ানো হলে কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই বিদায় নিতে হবে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে শহিদুল হককে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয়া হলে তখন বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিল।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং তখনকার লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ইসরাইল হোসেনের (বর্তমানে অবসরে) সভাপতিত্বে সভাশেষে ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দীর্ঘ আট বছর এ বিভাগের সচিব পদে শহিদুল হক অধিষ্ঠিত থাকার পরও সার্ভিসের ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, এমনকি এসব বিষয়ে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এতে সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে উপস্থিত সকল সদস্য একমত পোষণ করেন যে, সার্ভিসের উন্নয়নসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে কর্মসম্পাদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বিভাগে সবপ্রকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ করা আবশ্যক।

এবারও শহিদুল হককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একজোট হয়ে উচ্চ আদালতে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন।

সহকর্মীদের বিদেশে প্রশিক্ষণ বা লেখাপড়ার করতে যেতে বাধা দেয়ার বিষয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘এ বিভাগের অনেক কাজ, কিন্তু লোকবল কম। ২/৩ জনের গ্রুপ ৭/৮টি মন্ত্রণালয়ের (আইন, বিধিবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম) দেখে। এর মধ্যে লোক না থাকলে কাজ কীভাবে চলবে? আমি সরকারের স্বার্থ দেখব নাকি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের স্বার্থ দেখব?’

তবে দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় নিচের দিকের কেউ কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন- স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি কাউকে নিয়োগ দেয়, সেটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’

নিজের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এ বছর এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিদেশে গেছি। এমন একটা পদে থেকে পাঁচবার বিদেশ যাওয়া কি বেশি হয়ে গেছে, বলুন?’

যা করে লেজিসলেটিভ বিভাগ

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ প্রধানত সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য সব আইন প্রণয়নের প্রস্তাব বা বিল ইত্যাদির খসড়া প্রস্তুত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ জারি এবং পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে তা জাতীয় সংসদে উথাপন করাও এ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সকল অধঃস্তন আইন, যেমন- বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন, প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি এবং সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইনগত ভিত্তি আছে এমন সকল আইনগত বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল চুক্তি ভেটিংয়ের (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) কাজও এ বিভাগ করে থাকে।

এছাড়া এ বিভাগ সংবিধান ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের আইন, বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন, সমঝোতা স্মারক, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সন্ধি ইত্যাদির ক্ষেত্রে আইনগত মতামত দিয়ে থাকে। সকল আইন ও আইনানুগ দলিল বিশেষ করে ইংরেজী থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা এ বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। আইন সংকলন, সংহতকরণ, অভিযোজন এবং এর কারিগরি সংশোধন লেজিসলেটিভ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বিদ্যমান সকল আইনের পর্যায়বৃত্ত মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং প্রকাশনার কপিরাইট নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের কাজটিও এ বিভাগের কার্যপরিধিভুক্ত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং আইন কমিশনের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ হিসেবে এ বিভাগ যাবতীয় কাজ করে থাকে।

rice22.jpg

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ১০ টাকা কেজি চালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে মাঠ পর্যায়ে। খোদ স্পিকারের নির্বাচনী আসন রংপুরের পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেই দুর্নীতির মডেল। এখানে এক ব্যক্তির আইডি কার্ড বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহার, ব্যক্তি না থাকলেও নাম ব্যবহার, মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ, ভূয়া আইডি কার্ড নম্বর ব্যবহার, কখনও আইডি কার্ড নম্বরের ডিজিট বেশি কখনও কম, আইডি কার্ড নম্বর বিহীন ব্যক্তি, সম্পদশালীদের বরাদ্দ, নাম একজনের আইডি কার্ড নম্বর অন্যজনের, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ডসহ অন্তত ১৯ ধরনের অনিয়মের সত্যতা মিলেছে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। আর জেলা প্রশাসন বলছে, অনিয়মের ঘটনায় কেউ পার পাবে না। সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নজিরবিহীন অনিয়মের এই চিত্র।

২০১৬ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ৩৫০ জনের নামে ১০ টাকা দরে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রত্যেক উপকারভোগী বছরে ৫ দফায় ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু শানেরহাট ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু ১৯ ধরনের নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে পুরো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ১০ টাকার চালের অনিয়মের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অনিয়মে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দিয়ে সেই চাল তুলে পুরো টাকাটাই আত্মসাত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ১ নং ওয়ার্ডের পার্বতীপুর গ্রামের রহিম মন্ডল (কার্ডনং ১১৯০), শহিদুল (১০), সৈয়দ আলী (২৮), সামাদ (২১২), রহিম (১৯৮), দামোদারপুরের আনারুল (১১৭), ৩ নং ওয়ার্ডের ঘোষপুরের মহির(৩৩৩), ৪ নং ওয়ার্ডের মেস্টাগ্রামের রাশেদুল (৪৪৮), মিঠু (৩৫০), বারি মন্ডল (৪০২), রওশন আরা (৪৭৬), গোলাপ (৪৬১), এন্তাজ (৪৮২), লাবলু (৪৫৪),  ৫ নং ওয়ার্ডের রাউতপাড়ার রাজেকা (৪৯৩), ৬ নং ওয়ার্ডের পবন পাড়ার হক মন্ডল (৬৮২), পালানু সাহাপুরের সাত্তার মিয়া (১২৯৪) ও সপুর (৫৭৭), ৭ নং ওয়ার্ডের ধরলাকান্দির শিবধারী রাম(৮৫২), ৮ নং ওয়ার্ডের  প্রথম ডাঙ্গা গ্রামের জোহরা (৯৭৩), মনুছর (৯৮৮), ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ফুলমতি (৮৬৩),৯ নং ওয়ার্ডের বড়পাহারপুর গ্রামের ছাবাত (১০৮৮), মনোরঞ্জন (১১২৩), পাহারপুর গ্রামের সাহা (৯৪৮) ও সুখি চন্দ্র(১০৬১) অন্যতম। এসব মৃত ব্যক্তির নামে গত তিন বছর ধরে ১০ টাকার চাল ১১ টন ৭০০ কেজি চাল বরাদ্দ নিয়ে এবং তা তুলে আত্মসাত করা হয়। যার বাজার মূল্য (১০ টাকা দরে ক্রয় মূল্য বাদে) প্রায় ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান এসব মৃত নামের জায়গায় নতুন নাম প্রতিস্থাপন করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউনিয়নটির ১৭টি গ্রামেই ভুয়া নাম ও আইডি ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করে তা আত্মসাত করা হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুল মান্নান মন্ডল জানান, “মৃত ব্যক্তির নামের তালিকা আমার কাছে আসার পর আমি সেসব তালিকা ফেরত দিয়েছিলাম। সেই তালিকায় চাল দেই নি। কিন্তু পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সুপারিশ করে আমাকে বাধ্য করেছে মৃত ব্যক্তির নামে চাল দিতে। সেকারণে আমি গত তিন বছর থেকে মৃত ব্যক্তির নামেও চাল দিতে বাধ্য হয়েছি।”

দামোদারপুর গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী ফজিলতা জানান, “আমি কোনো দিনও ইউনিয়ন পরিষদে আমার এনআইডি কার্ড ও ছবি জমা দেইনি। তারপরেও তালিকায় আমার এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে চারজন তিন বছর ধরে ১০ টাকার চাল উত্তোলন করছেন। বিষয়টি অমার্জনীয় অপরাধ। আমার আইডি কার্ড দিয়ে কেন একাধিক মানুষ চাল পাবে। এই ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি।”

৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কলিম উদ্দিন জানান, “আমার দিগদাড়ি গ্রামে যে ১৮ জনের নাম দিয়ে চাল তোলা হচ্ছে। ওইসব নাম ভুয়া। এই গ্রামে ওই নামে কোনো ব্যক্তি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করতেই ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিটি গ্রামেই ভুয়া নাম দিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা তৈরি করে তা আত্মসাত করছেন। এ বিষয়ে এখনই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।”

শানেরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেজবাহুর রহমান জানান, “বর্তমান চেয়ারম্যান আমার রাউৎপাড়া গ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির যে তালিকায় বরাদ্দ দিচ্ছেন, সেই তালিকার ১৮ জন ব্যক্তি আমার গ্রামের নন। ওই নামে আমার গ্রামে কিংবা ভোটার তালিকায় কোনো নাম নেই। সম্পূর্ণ ভুয়া নাম ব্যবহার করে এসব ব্যক্তির নামে চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন। বিষয়টি এলাকায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইডি কার্ড এবং ব্যক্তি সঠিক থাকলেও তারা চাল পায় না।”

ধরলাকান্দি গ্রামের সালামের স্ত্রী জোড়বানু (৭৭৭) জানান, “আমার নামে ৩ বছর ধরে চাল তোলা হয়েছে। আমি জানি না। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক আমার বাড়িতে আসলে ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোড় করে ভিডিও করে নেয়।”

শানেরহাট ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আব্দুল বারী জানান, “আমার চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভুয়া এনআইডি, এনআইডির ডিজিট কম ও বেশি দেখিয়ে ১০ টাকার চাল আত্মসাত করে আমার প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করেছেন। এধরনের দুর্নীতিবাজ মানুষ যদি থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি ভালো কাজ বিতর্কের মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও দামোদারপুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন জানান, “খাদ্যবান্ধব তালিকায় নাম আছে ১ হাজার ৩৫০ জনের। এর মধ্যে যদি ২৩১ জন ব্যক্তির আইডি কার্ড ব্যবহার করে চাল উঠানো হয়, কিন্তু ওই আইডিকার্ডধারী ব্যক্তি চাল পান না। বিষয়টি ইউনিয়নে ওপনে সিক্রেট। এটা নজিরবিহীন দুর্নীতি। কিন্তু তার পরেও আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে থাকেন কিভাবে। যিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছেন। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

ইউনিয়নের সাবেক রিলিফ চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন জানান, “এনআইডি নম্বর ছাড়া তালিকা তৈরি করা, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও বিধি ভেঙে বরাদ্দ তালিকায় নাম দেয়া, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড বরাদ্দ দেয়া এবং খাদ্যবান্ধব ও কর্মসূচিতে একই ব্যক্তির নাম দেয়ার মাধ্যমে ইউনিয়নে ১০ টাকার চাল নিয়ে হযবরল পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সুনাম এখানে দারুণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের আসন পীরগঞ্জেই যদি একজন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেন, তাহলে আমরা কোথায় যাবো। সেই ব্যক্তি আবার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী।” তিনি বলেন, “আশা করি আওয়ামী লীগের চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিষয়টি নজরে আসবে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের।”

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হরিরাম সাহাপুর গ্রামের মন্টু জানান, “আমি রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করি। আমি ১০ টাকার চাল তো দূরের কথা, সরকারি কোনো সুবিধাই পাই না। অথচ চেয়ারম্যান সাহেবের ভাই কোটিপতি ব্যবসায়ী, তার এনআইডি দিয়ে চাল তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।”

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম সরদার জানান, “ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সকল বরাদ্দে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কথা আমার কাছে এসেছে। কিছু কিছু বিষয়ে আমিও সত্যতা পেয়েছি। বিষয়গুলোর তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা দরকার।”

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান মন্টু জানান, “আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য আমার নামে এসব কুৎসা রটাচ্ছে। এসব অভিযোগ সঠিক নয়, তবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মৃত, একাধিক ভোক্তা, ঢাকায় অবস্থান, স্বচ্ছল এধরনের ৬৬ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সেখানে প্রকৃত দুস্থদের নাম তালিকাভুক্ত করে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। যদি আরো পাওয়া যায়, সেটাও সংশোধন করা হবে।”

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, “ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত রিপোর্ট আসেনি।” তিনি বলেন, “এর আগেও আমি পীরগঞ্জ অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভায় ওই চেয়ারম্যান সাহেবকে বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে বলেছিলাম।”

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, “যেহেতু এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সরকারি বরাদ্দে যদি কেউ অনিয়ম করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

ershad4.jpg

এবার ভারতের ঐতিহ্যবাহী অসমীয়া ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মজীবনী ‘আমার কর্ম আমার জীবন’। এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদেরের সম্মতিতে আসামের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. সৌমেন ভারদীয়া ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দের উদ্যোগে গ্রন্থটি প্রকাশ করছে ভারতের আসাম রাজ্যের শিল্প-সাহিত্য গ্রুপ ব্যতিক্রম সাহিত্য। আগামী বিজয় দিবসের আগে আসামের গৌহাটিতে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের। এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ‘কারাগারের রোজনামচা’ অসমীয়া ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল।

এ ব্যাপারে গ্রন্থটির প্রকাশক ড. সৌমেন ভারদীয়া জানান, আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় আমার প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ‘কারাগারের রোজনামচা’ প্রকাশ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আমাদের বন্ধু সাংবাদিক সুজন দে-এর সহযোগিতায় এবার আমরা বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মজীবনী ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ অসমীয়া ভাষায় প্রকাশ করছি। প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি ছাপার কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করছি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের আগে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করতে পারব।

এ বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, আসামের উদ্যোক্তারা আমার কাছে এসেছিলেন। তারা আমার ভাইয়ের আত্মজীবনী অসমীয়া ভাষায় প্রকাশ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি  হয়ে যাই। তিনি বলেন, ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ গ্রন্থটি অসমীয়া ভাষায় প্রকাশিত হলে দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

আমার কর্ম আমার জীবন গ্রন্থটির বাংলাদেশের প্রকাশক আকাশ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, স্যারের (এরশাদ) আত্মজীবনীটি অসমীয়া ভাষায় প্রকাশের সিদ্ধান্তে আমরা গৌরবান্বিত বোধ করছি। আশা করছি এই প্রকাশনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সাহিত্য চর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে।

pirrc.jpg

চট্টগ্রামে বাড়ছে পরকীয়া। আর তার জেরে বাড়ছে সাংসারিক তিক্ততা। হচ্ছে একের পর এক খুন, জখম। এতে করে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। সাম্প্রতিক সময় পরকীয়ার জের ধরে লোমহর্ষক বেশকিছু হত্যাকা- হয়েছে। কেউ কেউ আবার বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ। গত শনিবার যার সর্বশেষ বলি হন বন্দর থানাধীন নিমতলার আবু তাহের ও তার শিশুকন্যা ফাতেমা খাতুন।

প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের মতে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে পরকীয়ার মতো অনৈতিক সম্পর্কগুলো বাড়ছে। যার ফলে খুনের মতো জঘন্য অপরাধের দিকে পা বাড়াচ্ছে পরিবারের অতি আপনজনরা। তাই সবার উচিত ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুশাসন মেনে চলা। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়- পারিবারিক কলহের জের ধরে যত অভিযোগ থানায় আসে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনার নেপথ্য কারণ থাকে স্বামী কিংবা স্ত্রীর পরকীয়া। এর জের ধরেই সংসারে তিক্ততা শুরু হয়। এরপর তা রক্তারক্তিতে পরিণতি লাভ করে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনে প্রতি মাসে কয়েকশ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়ে। যার মধ্যে বেশির ভাগই স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের কারণ উল্লেখ করে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন।  উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর নগরীর বন্দর এলাকায় হাসিনা আক্তার ও তার প্রেমিক মাঈনুদ্দীনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার কারণে প্রথমে শিশু ফাতেমা খাতুন পরে স্বামী আবু তাহেরকে গলা কেটে খুন করা হয়।

১৯ মার্চ পরকীয়া প্রেমের দ্বন্দ্বের জের ধরে নগরীর হালিশহর এলাকায় খুন হন লাকী আকতার নামে এক ব্যবসায়ী। ৩১ জানুয়ারি চান্দগাঁও স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে একাধিক পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মোস্তাফা মোরশেদ আকাশ নামে এক চিকিৎসক। এ ঘটনার পর স্ত্রী মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।