অমিত শাহ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

amit-shah.jpg

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিজেপি কেন হারল তার কারণ জানতে চেয়েছেন অমিত শাহ। আজ রবিবার দুপুরে এই কথা জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। রবিবার ভোট গণনাপর্ব চলার সময়েই কৈলাস বিজয়বর্গীয় মেনে নিয়েছেন যে, বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র ভরাডুবি হয়েছে।

পাশাপাশি, টালিগঞ্জে বাবুল সুপ্রিয় এবং চুঁচুড়ায় লকেট চট্টোপাধ্যায়, হাবড়ায় রাহুল সিনহা-র পিছিয়ে থাকার ঘটনাকে ‘আশ্চর্যজনক’ বলেনও কৈলাস বিজয়বর্গীয় মন্তব্য করেছেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানান, ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়ার পর বিজেপি নেতৃত্বে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। বাংলার মানুষ হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চান, এটা আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে।

বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্বে রাজ্যে এসে একাধিক বার ২০০ আসনে জেতার দাবি করে গেছেন বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু ভোটগণনার গতিপ্রকৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে ১০০ আসনেও পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারবে না বিজেপি। যদিও ৩ বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে অনেকটাই হিসেব মিলিয়েছিলেন অমিত শাহ। ২০১৯-এর রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের অর্ধেক আসনে জেতার দাবি করেছিলেন তিনি। বিজেপি জিতেছিল ১৮টিতে।

তবে এর আগে দিল্লি সহ দেশের বহু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অমিত শাহের কথা মেলেনি। তাই অমিত শাহ যখন বলছিলেন ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বিজেপি রাজ্যে জিতবেন তখন একটা প্রশ্ন উঠছিল রাজনৈতিক মহলে। শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নই বাস্তব হতে চলেছে। আর এই ফলকে বিজেপি তাদের পরাজয় বলেই মেনে নিয়েছে।

আসলে বিজেপি এ রাজ্যে নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে আসা সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রীদের দলে জায়গা দিয়ে সঠিক কাজ করেনি বলে বিজেপি-র একটি অংশ বলছেন। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “নব্য বিজেপি, যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা এবং তাদের গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী করা এই পরাজয়ের কারণ হতে পারে।” এদিকে বিজেপি-র আরও এক নেতা সায়ন্তন বসু বলেছেন, “মানুষ যখন আমাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন তখন বুঝতে হবে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা রেখেছেন। তা ছাড়া বিজেপি-র প্রার্থী নির্বাচন সঠিক নাও হতে পারে।”

amitshah5.jpg

‘বাংলাদেশের গরীব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। তাতে অমিত শাহ জানান, ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে বিজেপি।

গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের তো আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তাও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে? এমন প্রশ্নে অমিত শাহ বলেন, এর দুটো কারণ আছে। এক, বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় নিচুতলায় পৌঁছায়নি। যে কোনও পিছিয়ে পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটা প্রথম কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছায়। গরিবদের কাছে নয়। এখন বাংলাদেশে সেই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সে কারণেই অনুপ্রবেশ চলছে। আর যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা যে শুধু বাংলাতেই থাকছে, তা নয়। তারা তো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

অমিত শাহের মতে, দ্বিতীয় কারণটি হলো প্রশাসনিক সমস্যা। তিনি বলেন, প্রশাসনিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে। সেটা পশ্চিমবঙ্গের সরকার করেনি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গড়তে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। সেই চেষ্টার অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অমিত শাহ। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ২০০র বেশি আসন পেয়ে সরকার গড়বে তারা। ক্ষমতা এসেই তারা পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে।

amitshah5.jpg

শীতলকুচিতে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালনার পিছনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহের চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করে শনিবার তার পদত্যাগ দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রোববার মমতার ওই দাবির জাবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘জনগণ চাইলে আমি পদত্যাগ করব।’

অমিত শাহের এই বক্তব্য ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

রোববার রাজ্যে ভোটপ্রচারে এসে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রে এক জনসভায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘মানুষ যখন চাইবে তখন আমি ইস্তফা দেব। তবে ২ মে আপনি ইস্তফা দেওয়ার জন্য তৈরি থাকুন।’

অমিত শাহ বলেন, ‘মমতা দিদির প্ররোচনামূলক বক্তব্যের জন্যই শীতলকুচিতে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভোট–চতুর্থীর সকালে রক্তাক্ত হয়েছে কোচবিহার। তার জেরে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। তাঁদের মধ্যে ৪ মুসলমানের নিহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে।

mamata-modi657.jpg

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তারা বাংলায় এসে শুধু মিথ্যা কথা বলছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখার সময় আজ সোমবার ওই মন্তব্য করেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে বলেন, মোদি বাবুরা বাংলায় এসে শুধু মিথ্যা কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রথমে কলকাতায় এক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পদযাত্রা শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মমতা। বলেন, আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো নারীদের অধিকার রক্ষা করা। নারীদের অসম্মান আমরা মানব না।

এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সমালোচনায় সোচ্চার হন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, দুই নেতা- একজন মোদি বাবু, আরেকজন শাহ বাবু। এরা সিন্ডিকেটের দুই নেতা। তারা বাংলায় আসছেন, আর শুধু মিথ্যা কথা বলছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু একটা প্রধানমন্ত্রী যে এত মিথ্যা কথা বলেন, সেটা তাজ্জবের ব্যাপার।

5amit-shah1.jpg

শুধু ভারতের সব প্রান্তেই নয়, বিজেপি নেতা অমিত শাহ প্রতিবেশী দেশ ‘শ্রীলঙ্কা আর নেপালেও’ তার দলের নেতৃত্বে সরকার গড়তে চান- এই মন্তব্য করে চমকে দিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক গণমাধ্যম ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে এ খবর প্রকাশ করেছে, বলা হয়েছে রোববার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এক সভাতেই তিনি অমিত শাহর এই ‘পরিকল্পনা’র কথা ফাঁস করেন।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১৮’র ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তৎকালীণ সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে তার কী কথোপকথন হয়েছিলো, সেটা বলতে গিয়েই তিনি এ প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

বিপ্লব কুমার দেব বলেন, রাজ্য অতিথিশালায় বসে আমরা অমিতজীর সঙ্গে সে দিন নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির ভারপ্রাপ্ত নেতা অজয় জামওয়াল-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

‘কথায় কথায় অজয় জামওয়াল বলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বহু রাজ্যেই এখন বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে।’

‘অমিতজী তখন মন্তব্য করেন, হ্যাঁ, এবার শ্রীলঙ্কা বা নেপালেও আমাদের পার্টিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেখানেও আমাদের দলের নেতৃত্বে সরকার গড়তে হবে।’ তবে অমিত শাহ এই মন্তব্য করে থাকলেও সেটা একান্তই রসিকতার ছলে বলা কি না, দেব তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও প্রকাশিত সংবাদের কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি, যা থেকে ধরে নেওয়া হচ্ছে বিপ্লব কুমার দেব মেনে নিচ্ছেন দলীয় কর্মীদের সামনে তিনি সত্যিই রোববার এ কথা বলেছিলেন।

তবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত তিন বছরে দেবের নানা মন্তব্য দলকে বারে বারেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। ‘বুঝেশুনে কথা বলার জন্য’ তাকে একাধিকবার দলীয় নেতৃত্ব সতর্ক করে দিয়েছেন বলেও বিজেপি সূত্রের খবর।

পাশাপাশি বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরও যে ‘ডিপ্লোম্যাটিক্যালি ইনকারেক্ট’ বা কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর কথাবার্তা বলার অভ্যাস আছে – ভারতের রাজনৈতিক মহলেও তা সুবিদিত।

এর আগে তিনি একাধিকবার ভারতে যে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা রয়েছেন, তাদের ‘ঘুসপেটিয়া’, ‘উইপোকা’ ইত্যাদি বলে আক্রমণ করেছেন।

আসামের এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নিয়েও তিনি বাংলাদেশকে জড়িয়ে এমন নানা মন্তব্য করেছেন, যা ঢাকা ও দিল্লির মধ্যেকার সম্পর্কে অস্বস্তি ডেকে এনেছে। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলঙ্কা আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপাল এতোদিন মোটামুটিভাবে অমিত শাহর নিশানার বাইরেই ছিলো।

কিন্তু বছরতিনেক আগে তিনি যদি সত্যিই ওই দু’টো দেশেও বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গড়ার কথা দলীয় সহকর্মীদের বলে থাকেন – তা থেকে অনুমান করা যায় ভারতের বাইরেও বিজেপির আদর্শিক সম্প্রসারণ দলীয় নেতৃত্বের একটা গোপন লক্ষ্য।

বিজেপির ওয়েবসাইটেও দলটিকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল’ হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবর: বিবিসি বাংলা।

amitshah4.jpg

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশের ইস্যুকে আবার খুঁচিয়ে তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কোচবিহার ও ঠাকুরনগরে দুটি জনসভা থেকে অমিত শাহ দাবি করেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে ‘কোনও মানুষ দূরে থাক- একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।’

বিবিসি বাংলা জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য দাবি করছে তাদের শাসনামলে অনুপ্রবেশ মদদ পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার যা বলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও অনেকেই মনে করছেন কথিত অনুপ্রবেশ ইস্যুর আড়ালে বিজেপি আসলে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাকেই সামনে আনতে চাইছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আর মাত্র মাসদুয়েক দূরে। রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জার বিজেপির প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই।

নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব ঘন ঘন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরেও আসছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সফরে রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে তিনি দুটো বড় জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন।

কোচবিহার ও ঠাকুরনগরে এই দুটো জনসভা থেকেই তিনি পরিষ্কার করে দেন, বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশের ইস্যু ভোটে বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে যাচ্ছে।

জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘অনুপ্রবেশ নিয়ে আপনারা বিরক্ত কি না বলুন? আর মমতা ব্যানার্জি কি আদৌ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারবেন?’

অমিত শাহ বলেন, ‘জেনে রাখুন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তবেই কেবল অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। বিজেপি সরকার গড়লে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে থাক – একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না দেখে নেবেন!’

কোচবিহার বা ঠাকুরনগরে অমিত শাহ যখন এ কথা বলছেন- ঘটনাচক্রে ঠিক তার আগের দিনই তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের তুলনায় পরের পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের ঘটনা ক্রমশ বিপুল হারে কমেছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের এমপি মানসরঞ্জন ভুঁইঞা জানান, অমিত শাহ এই বক্তব্য পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তার ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের, সেই বেড়া দেওয়ার কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তা ছাড়া বাইরের দেশ থেকে যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকবেন, তাদের বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর নজরদারি করার কথাও বিএসএফের – যারা কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী। ফলে কী করে তারা অনুপ্রবেশের জন্য রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারেন?’

কলকাতায় প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাবেক সাংবাদিক শিখা মুখার্জি মনে করছেন, এই অনুপ্রবেশের ইস্যু উসকে দেওয়ার পেছনে বিজেপির সাম্প্রদায়িক তাস খেলার চেষ্টাই আসলে কাজ করছে।

তার ভাষ্য, ‘অনুপ্রবেশের ভয় দেখিয়ে বিজেপি আসলে এটাই বলতে চায়, বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মুসলিমরা এসে পশ্চিমবঙ্গে কোনও এক প্রক্রিয়ায় হিন্দুদের সংখ্যালঘু বানিয়ে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘ফলে এটা একটা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বক্তব্য- আর এ কথাটা যাতে বলা যায় সে জন্যই অনুপ্রবেশের ইস্যুকে প্রক্সি বা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এদিকে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এনে ভারত সরকার পার্লামেন্টে যে নাগরিকত্ব আইন পাস করেছে, প্রায় সোয়া বছর পরও তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।

আর এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত হিন্দু, যারা অনেকেই সাবেক পূর্ব পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ থেকেও ভারতে এসেছেন – তাদের মধ্যে অসন্তোষও তীব্র হচ্ছে।

amitshah4.jpg

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, নির্বাচন এলে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার ভুয়া ভোটার নিয়ে আসে তৃণমূল।

তাই ভুয়া ভোটার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দিয়ে ভোটগ্রহণ করা হবে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউটাউনে হোটেল ওয়েস্টিনে মালদহ, নদীয়া ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

অমিত শাহ বলেন, যে কোনো উপায়ে বাংলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশাসন থেকে মুক্ত করতে হবে।

এর পরের নির্বাচনে আমরা এই রাজ্যে অন্তত ২০০ আসন চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে এখন থেকেই।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা যাতে রাজ্যে ঢুকে ভোট দিতে না পারে, সেদিকে তীক্ষ্ম নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ভুয়া ভোটার আনা হয়। এবার সীমান্তে নজরদারি চালাতে হবে, যাতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ভোট দিতে না পারে।

এমনভাবে নজরদারি চালাতে হবে যেন একটি মশা বা মাছিও সীমান্ত টপকে না আসতে পারে। এ সময় প্রয়োজনে সীমান্ত সিল করে দেয়া হবে।

বিজেপির এমন দাবি ‘হাস্যকর’বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরও ভারতের ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই দাবি করা হলো।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে বেশ কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। পশ্চিমবঙ্গে সেটা সম্ভব না হলেও সেখানে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাডি।

অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয়লাভ করে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস।

amitshah5.jpg

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুই দিনের রাজ্য সফরে এসে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন সকালে কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে করে বাঁকুড়ার কারকডাঙা হেলিপ্যাডে নামেন অমিত শাহ। পরে সেখান থেকে সড়ক পথে বাঁকুড়া জেলার পুয়াবাগান মোড়ে বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে মাল্যদান করে মমতা সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন ‘বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে মালা দিয়ে আমার দুই দিনের বাংলা সফর শুরু হল।

গতকাল (বুধবার) রাত থেকেই আমি বাংলায় আছি। যেখানে গিয়েছি, সেখানেই মানুষ আমায় ভালোবেসেছেন, স্বাগত জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মমতা সরকারের প্রতি জনরোষ দেখা গেছে। আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি মানুষের যে আশা-ভরসা ও শ্রদ্ধা দেখা গেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে বাংলায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই পরিবর্তন আসবে।’

মোদির অভিযোগ ‘গরীব মানুষের জন্য মোদি সরকার যাবতীয় প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, বাংলার মানুষের জীবন পরিবর্তনের জন্য ভারত সরকার যে ধরনের আশ্বাস দিয়েছে তা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

আদিবাসী, তফসিলি পরিবারের জন্য যে রুপি পাঠানো হয়েছে- তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি, কৃষকদের বার্ষিক ৬ হাজার রুপি করে পাওয়ার কথা ছিল সেটাও তারা পাচ্ছেন না। গরীবরের ৫ লাখ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা সেটাও দেওয়া হচ্ছে না।’

শাহ’এর দাবি ‘ভারত সরকারর ৮০ টির বেশি প্রকল্পের আওতায় দেশের গরীব, দলিত, আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের কাছে এর সুবিধা পৌছানোর কথা ছিল কিন্তু মমতার সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে।

আমি মমতা সরকারকে বলতে চাই যে আপনার মনে ভয় আছে, আপনি হয়তো ভাবছেন যে এই সব প্রকল্পগুলিকে বাধা দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আটকাতে পারবেন-কিন্তু সেই ধারনা ভুল।’

রাজ্যে বিজেপি কার্মকর্তাদের ওপর হামলার সমালোচনা করে বিজেপির সাবেক সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন ‘মমতা সরকার যেভাবে রাজ্যের মানুষদের ওপর বিশেষ করে বিজেপি কার্যকর্তাদের ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন নীতি চালাচ্ছে- তাতে আমি নিশ্চিত করে দেখতে পাচ্ছি যে মমতা সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে।

আগামী দিনে এরাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। আমি বাংলার মানুষের আবেদন করতে চাই যে দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে, বাংলার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ও গরীব মানুষদের দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দিতে এই সরকারকে উপড়ে ফেলে দিন।’

অমিত শাহের আর্জি ‘আপনারা বিজেপিকে একটা সুযোগ দিন, আমরা আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সোনার বাংলা তৈরি করবো।’

amit-20190424211248.jpg

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেত্রী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের সমর্থনে এবার মুখ খুললেন দলটির সভাপতি অমিত শাহ। সাধ্বীর সুরে অমিত শাহ বললেন, একজন হিন্দু কখনো জঙ্গি হতে পারে না।

মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা জামিনে মুক্ত। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে মামলা চলছে। তাকেই এবার মধ্যপ্রদেশের ভোপাল লোকসভা আসন থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

কিন্তু তার প্রার্থীপদ নিয়ে হইচই শুরু করেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, একজন জঙ্গিকে কীভাবে প্রার্থী করল বিজেপি। মঙ্গলবার বিরোধীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই মুখ খোলেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, একজন হিন্দু কখনো জঙ্গি হতে পারে না। কারণ হিন্দুধর্ম কাউকে আঘাত করার কথা শেখায় না। অমিত শাহর অভিযোগ, কংগ্রেস প্রজ্ঞাকে জঙ্গি বলে অভিযুক্ত করছে। তাই তাকে (প্রজ্ঞা) প্রার্থী করে বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহের রাস্তা নিয়েছে বলেই দাবি অমিতের।

একই সঙ্গে তিনি ভোপালে কংগ্রেসের প্রার্থী দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, মধ্যপ্রদেশের মানুষই ডিগ্গি রাজাকে (দ্বিগ্বিজয়) জবাব দেবেন। কারণ, দ্বিগ্বিজয়ই সবসময় হিন্দু সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে সরব হন। সেটারই জবাব তার বিরুদ্ধে ইভিএমে পড়বে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণেই অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা। তিনি এখন জামিনে মুক্ত। তবে তার বিরুদ্ধে মকোকা আইন প্রত্যাহার করে নিয়েছে এনআইএ। ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তারপরই ভোপাল থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বিরোধীদের প্রশ্ন, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত একজনকে বিজেপি কীভাবে প্রার্থী করে? যদিও সন্ত্রাসের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রজ্ঞা। তাকে জোর করে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তার দাবি।

প্রার্থী হওয়ার পর সাধ্বীও বিতর্ক বাড়িয়েছেন। প্রথমে জেলে থাকা অবস্থায় তার ওপর পুলিশি নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি সরব হন। কর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরদিন ওই একই সঙ্গে বলতে গিয়ে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের প্রধান হেমন্ত কারকারেকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গরু। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সৌজন্যে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনেও ফের আলোচনায় এসেছে ‘গোমাতা’।

সেই আলোচনায় এবার ঘি ঢেলে দেন ভোপাল কেন্দ্রের বিজেপির নারীপ্রার্থী সাধ্বী। সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, গো-মূত্র থেকে তার ক্যানসার রোগ সেরে গেছে। জিনিউজ।

amitshah.jpg

ভারতে থাকা অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে মারা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে হিন্দু জাতীয়তাবাদকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা হিসেবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এর আগেও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ ভারতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের উইপোকা বলে অভিহিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) লোকসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেদিন পশ্চিমবঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে অমিত শাহ বলেন, ‘অনুপ্রবশেকারীরা বাংলার মাটিতে উইপোকার মতো করে আছে। বিজেপি সরকার সেই অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে ধরে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে।’

তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখদের দেশটির নাগরিকত্ব দিতে বিজেপি যে উদ্যোগ নিয়েছে পুনরায় সেটি উল্লেখ করেন তিনি।

ভারত ইতোমধ্যে ৪০ হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।