আইসিসি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

mushfiq11.jpg

সুখবরটা পেয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম। আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার।

সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি জানিয়েছে, মে মাসের সেরা হয়েছেন মুশফিক।

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এ সম্মান পেলেন মুশফিক। মে মাসের সেরার লড়াইয়ে পাকিস্তানের হাসান আলি ও শ্রীলঙ্কা প্রবীন জয়াবিক্রমকে পেছনে ফেলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাঠে গত মাসে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৪ রান করেন মুশফিক। দ্বিতীয়টিতে ১২৫ ও শেষ ম্যাচে ২৮ রান।

সব মিলিয়ে ২৩৭ রান নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কারও পান এ তারকা ক্রিকেটার। এর স্বীকৃতি হিসেবেই ওই মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেলেন মুশফিক

fi4.jpg

ক্রিকেটে ফিক্সিং নিয়ে ২০১৮ সালের ২৭ মে ডকুমেন্টারি প্রচার করেছিল টিভি চ্যানেল আল জাজিরা। যেখান বলা হয়েছিল ২০১৭ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া রাচি টেস্ট ও ২০১৬ সালে ভারত-ইংল্যান্ড চেন্নাই টেস্টে স্পট ফিক্সিং হয়েছিল। আল জাজিরার এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর নড়েচড়ে বসেছিল আইসিসি।

যদিও দীর্ঘদিন তিন বছরের তদন্ত শেষে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হচ্ছে না। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন বছরের তদন্তের ইতি টেনেছে আইসিসি।

২০১৮ সালের ২৭ মে ‘ক্রিকেট’স ম্যাচ ফিক্সারস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। ওই ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা অভিযোগ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যেভাবে ওই ডকুমেন্টারির জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছিল সেই জিনিসগুলোর ওপর ভিত্তি করে তদন্ত পরিচালনা করেছে আইসিসি।

ফিক্সিংয়ের প্রমাণ সংগ্রহে আইসিসি চারজন স্বাধীন তদন্তকারীকে দায়িত্ব দিয়েছিল। যারা চারজনই কিনা বাজি ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। তবে ম্যাচের যে অংশগুলো নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল তাতে প্রমাণ পায়নি আইসিসির এই চার তদন্তকারী।

এ প্রসঙ্গে ইসিসির ‘ইন্টেগ্রিটি’ বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা অভিযোগগুলোর ভিত্তি মজবুত নয়। ক্রিকেটে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদনকে আমরা স্বাগত জানাই, কারণ খেলায় এসবের কোনো স্থান নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে হলে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রচারিত অনুষ্ঠানে যে দাবিগুলো করা হয়েছে, প্রতিটিরই মৌলিক ভিত্তি দুর্বল বলে দেখা গেছে আমাদের তদন্তে, যা অভিযোগগুলোকে অসম্ভাব্য করেছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি থেকে গেছে। আমাদের চার জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞও এমনটিই মনে করেন।’

bd-test-211187.jpg

বুধবার ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের সবশেষ র‌্যাংকিং প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

যেখানে দেখা যাচ্ছিল, টেস্টে টাইগারদের পেছনে ফেলে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বর পজিশনে উঠে এসেছে আফগানিস্তান। ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষে বাংলাদেশ।

এতে হতাশ হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা। ধারণা করা হচ্ছিল, ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশকে হারানোয় টাইগারদের পেছনে ফেলে ৯-এ উঠেছে আফগানরা।

কিন্তু এর একদিন পরেই জানা গেল অন্যকথা । তাহলো- আগের মতো ৯ নম্বরেই রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকা থেকে বাদ পড়ছে আফগানিস্তান।

তবে কি ভুল করল আইসিসি! নাকি ভুল শুনেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা।

জানা গেছে, সর্বশেষ টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বরেই আছে। বুধবার দেয়া র‌্যাংকিংটি ভুল ছিল। বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারেনি ২০১৮ সালে টেস্টে অভিষেক ঘটা আফগানিস্তান।

গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রনির করা এক মেইলের পর বিষয়টি ভাবনায় নেয় আইসিসি ।

ফিরতি বার্তায় রনিকে আইসিসি জানায়, বুধবারে প্রকাশিত টেস্ট র‌্যাংকিং তালিকায় ভুল ছিল। ৯ নম্বরে আফগানিস্তানের থাকার কথা নয়।

এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম রনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, যেহেতু এর মধ্যে আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি এখান থেকে আমার মধ্যে একটা সংশয় তৈরি হয়। তখন আমি ফেসবুকেও লিখি এবং আইসিসির কাছে একটি মেইল করি যে এই পরিবর্তন কী হিসাব করে হয়েছে? একটা ন্যুনতম সংখ্যক টেস্ট না খেললে র‌্যাংকিং বাড়ে কি করে? আর র‍্যাংকিং টেবিলে জায়গা পেতে ন্যূনতম যে ক’টি টেস্ট খেলা লাগে সেটাও আফগানিস্তান খেলেনি।

ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রনির এই ই-মেইলের পর ঘুম ভাঙে আইসিসির। মি. ইসলামকে ধন্যবাদ দিয়ে জানিয়েছে দ্রুত র‍্যাংকিং শুধরে নিয়ে আফগানিস্তানকে তালিকা থেকে বাদ দেয় আইসিসি।

আবারো র‍্যাংকিং শুধরে নিয়েছে আইসিসি।

এতে নেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। ফের নয় নম্বরে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাকিসব যথারীতি ঠিকই রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পজিশনে অস্ট্রেলিয়া, দুই পয়েন্ট কম নিয়ে তিনে ভারত। চার, পাঁচ, ছয়ে- ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকা।  সাতে পাকিস্তান আর আটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

sakib32.jpg

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দশক সেরা ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

দশক সেরা এই দলে জায়গা হয়নি ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দেয়া অধিনায়ক ইয়ন মরগানের। জায়গা হয়নি নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ও বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসনের।

দশক ওয়ানডে সেরা দলে জায়গা হয়নি শহীদ আফ্রিদি ও বাবর আজমসহ কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের। জায়গা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেলসহ কোনো ক্রিকেটারের। জায়গা পাননি জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কোনো ক্রিকেটার।

দশক সেরা এই দলে আছেন ভারতীয় তারকা ওপেনার রোহিত শর্মা, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। তিন নম্বর পজিশনে আছেন ভারতীয় বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চারে জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেট থেকে হঠাৎ অবসর নেয়া দক্ষিণ আফ্রিকান সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স।

পাঁচ নম্বর পজিশনে বাংলাদেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ছয়ে ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক ও দেশকে আইসিসির তিনটি শিরোপা উপহার দেয়া মহেন্দ্র সিং ধোনি। আইসিসির দশক সেরা ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে।

সাত নম্বর পজিশনে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। আট নম্বরে রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিসেল স্টার্ককে। নয় নম্বরে নিউজিল্যান্ডের তারকা পেসার ট্রেন্ট বোল্ট, দশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা লেগ স্পিনার ইমরান তাহির। একেবারে শেষ পজিশনে আছেন শ্রীলংকার তারকা পেসার লাসিথ মালিঙ্গা।

আইসিসির দশক সেরা ওয়াডে দল: রোহিত শর্মা, ডেভিড ওয়ার্নার, বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, সাকিব আল হাসান, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বেন স্টোকস, মিসেল স্টার্ক, ট্রেন্ট বোল্ট, ইমরান তাহির ও লাসিথ মালিঙ্গা।

litondas33.jpg

করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে হয়নি ক্রিকেটের সিংহভাগ ম্যাচ। করোনাভাইরাসের দখলে চলে গেছে অনেক অনেক সিরিজ।

তবু করোনার প্রকোপের আগে ও পরে সবমিলিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে ৪৪টি।

যার ৪২টিতে জয়-পরাজয়ের দেখা মিলেছে। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়েছে।

আর এই ৪৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র ৩টি। আর তিন ম্যাচ খেলেই বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের লিটন দাস।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক হয়েছেন তিনি। এ বছর লিটন দাস এক ইনিংসে করেছেন ১৭৬ রান।

যা বর্ষসেরার তালিকায় সবার উপরে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। ড্যাশিং ওপেনার ও বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

এক ইনিংসে তার সংগ্রহ ১৫৮ রান। চমক দেখিয়েছেন পল আয়ারল্যান্ড দলের স্টারলিং। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ১৪২ রান করে তৃতীয় স্থানটি নিজের করে নিয়েছেন।

ভারতের বিপক্ষে সদ্য অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে চতুর্থ স্থানে এসেছেন অসি তারকা স্টিভ স্মিথ।

পঞ্চম স্থানটিতে আরও একটি চমক রয়েছে। বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৯ রান খেলে তালিকার পঞ্চমে নাম লিখিয়েছেন নামিবিয়ার ক্রেইগ উইলিয়ামস।

সমান রান করে উইলিয়ামসের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জানেমান মালান। ২০২০ সালে লিটন-তামিম ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দেড়শ’ রানও করতে পারেনি।

চলতি বছরের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২০টি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কার মারে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। যা ছিল ওই দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।

এর পরের ম্যাচেই ১৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে তামিমের সেই রেকর্ড নিজের করে নেন লিটন দাস।

১৬টি চার ও ৮টি ছয়ের মার ছিল তার সেই ইনিংসে। তামিম ও লিটনের পরপর দুই ম্যাচে খেলা ইনিংস দুটিই ২০২০ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দুই ইনিংস হয়ে থাকল।

২০২০ সালে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস:

১/ লিটন দাস (বাংলাদেশ) – ১৭৬ রান (১৬*৪ ও ৮*৬ বনাম জিম্বাবুয়ে)

২/ তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) – ১৫৮ রান (২০*৪ ও ৩*৬ বনাম জিম্বাবুয়ে)

৩/ পল স্টারলিং (আয়ারল্যান্ড) – ১৪২ রান (৯*৪ ও ৬*৬ বনাম ইংল্যান্ড)

৪/ স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া) – ১৩১ রান (১৪*৪ ও ১*৬ বনাম ভারত)

৫/ ক্রেইগ উইলিয়ামস (নামিবিয়া) – ১২৯* রান (১৩*৪ ও ৬*৬ বনাম ওমান)
জানেমান মালান (দক্ষিণ আফ্রিকা) – ১২৯* রান (৭*৪ ও ৪*৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া)

চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ১৩টি ওয়ানডে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তাদের জয়জয়কার। ১৩ ম্যাচের সবকয়টি খেলেছেন অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটির সুবাদে ৫৬ গড়ে করেছেন ৬৭৩ রান।

সূত্র: ক্রিকইনফো।

ICC_logo.svg_-300x300.png

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য খেলোয়াড়ের ন্যূনতম বয়স নীতির প্রবর্তন করলো আইসিসি। বয়স অন্তত ১৫ বছর না হলে বিশ্ব ক্রিকেটে পা রাখতে পারবেন না কোনও খেলোয়াড়।

ছেলে, মেয়ে কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯- যে কোনও পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হলে ১৫ বছর বয়সী হতে হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এ নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে, ‘খেলোয়াড়দের সুরক্ষার উন্নতি করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ন্যূনতম বয়স নীতির প্রবর্তন নিশ্চিত করছে বোর্ড, যা আইসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট ও অনূর্ধ্ব-১৯ সহ সব ধরনের ক্রিকেটে প্রয়োগ করা হবে।

ছেলে, মেয়ে কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ যে কোনও ফর্মে খেলোয়াড়ের বয়স এখন থেকে অবশ্যই ন্যূনতম ১৫ হতে হবে।’

তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সেই দেশের সদস্য বোর্ডের আবেদনের ভিত্তিতে ১৫ বছরের চেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়কে খেলার অনুমতি দিলেও দিতে পারে আইসিসি।

এই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের খেলার অভিজ্ঞতা ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খাপ খাওয়ার সামর্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ সংস্থা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে কোনও ফর্মে এতদিন পর্যন্ত ক্রিকেটারের বয়স নিয়ে কোনও ধরাবাঁধা ছিল না।

পাকিস্তানের হাসান রাজা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ডানহাতি সাবেক এই ব্যাটসম্যান ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে প্রথম টেস্ট খেলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি সাত টেস্ট ও ১৬ ওয়ানডে খেলেছিলেন।

aftab4.jpg

একজন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরিচিতি পেয়েছিলেন আফতাব আহমেদ।

তবে বল হাতেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তিনি। আজ সেই তারকা ক্রিকেটারের ৩৫তম জন্মদিন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পিঞ্চ হিটারের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

আইসিসি তাদের অফিসিয়াল পেজে আফতাবের ছবিসহকারে এই শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

আফতাবের ছবিতে আইসিসি ক্যাপশনে লিখেছে, বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ৫ উইকেট আফতাবের।

২০০৪ সালে নিউজুল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানের ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আফতাব আহমেদ ঐ জাদুকরী বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন।

তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই একদম নিষ্প্রাণ, নির্জিব ও একপেশে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল আকর্ষণীয়, উপভোগ্য আর জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঠাসা।

ম্যাচে বাংলাদেশের পুঁজি ছিল মাত্র ১৪৬ রানের। ১৪৭ তাড়া করতে গিয়ে নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেটেই তুলে ফেলেছিল ৭২ রান (১৯.৫ ওভারে)।

কে জানতো, ঐ ম্যাচেই অপেক্ষা করছে বড়সড় চমক । নিশ্চিত পরাজয় দেখে বাংলাদেশের অর্ধেক সমর্থক মাঠ ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আফতাব বোলিংয়ে এসে এক দুই ওভারের মধ্যেই ব্রেক থ্রু আনেন।

ফিরিয়ে দেন অ্যাসলেকে। তারপর বদলে যায় ম্যাচে চিত্র।

স্কট স্টাইরিসের উইকেট উপড়ে দিয়ে আফতাব হঠাৎই কিউই ব্যাটসম্যানদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান।

১ উইকেটে ৭২ থেকে ১২৫ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। ঐ ৬ উইকেটের ৫ টিই নেন আফতাব।

পরে অবশ্য ক্রিস কেয়ার্নস এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাকক্যাপসরা পায় ৩ উইকেটের স্বস্তির জয়।

তবে বাংলাদেশে স্বস্তি ছিল আফতাবের ৫ উইকেট। সেই ১৯৮৬ সালে ওয়ানডে শুরুর ১৮ বছর পর কোনো বোলারের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব হয় অর্জিত।

বোলার না হয়েও বোলিং রেকর্ডের অধিকারী বনে যান আফতাব। তাতে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়ে গেছে।

তার পরে আরও অনেকেই ৫ উইকেট পেয়েছেন। সেরা বোলিংয়ের তালিকায় আফতাবের ঐ স্পেলটা ৯ নম্বরে।

মাত্র ২৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য দারুণ একটা ক্যারিয়ারের ইতি টানেন আফতাব। আজ এই অপূর্ণ প্রতিভার ৩৫তম জন্মদিন।

t-20-20190503140622.jpg

ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশকেই টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দেয়ার পর, খেলাটির বিশ্বায়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের ৮০ দলের র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। যাতে করে খেলুড়ে দেশগুলো আইসিসির মানদণ্ডে নিজেদের উন্নতি-অবনতির খোঁজ রাখতে পারে।

নতুন এই র‍্যাংকিংয়ের ফলে প্রথমবারের মতো আইসিসির আনুষ্ঠানিক র‍্যাংকিংয়ে উঠে এসেছ অস্ট্রিয়া, বৎসোয়ানা, লুক্সেমবার্গ, মোজাম্বিকের মতো দেশগুলোর নাম। এ র‍্যাংকিংয়ে নাম তোলার প্রধান শর্ত রাখা হয়েছিল মে ২০১৬ সালের পর থেকে অন্তত ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা।

আইসিসির প্রকাশিত এ র‍্যাংকিংয়ে নতুনদের যেমন ঠাই মিলেছে, তেমনি পুরনোরা বজায় রেখেছেন নিজেদের অবস্থান। যেখানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পাকিস্তান। পরিবর্তন আসেনি শীর্ষ পাঁচের মধ্যে। তবে নিজেদের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন করেছে দুইয়ে থাকা ভারত এবং পাঁচে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা।

এছাড়া একধাপ করে এগিয়েছে শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান। নিজেদের ইতিহাসের সেরা সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে আফগানরা। নয়ে নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ রয়ে গেছে দশেই। তবে ২২০ রেটিং থাকা বাংলাদেশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ২১২ রেটিং নিয়ে ১১তে থাকা নেপাল।

এক নজরে দেখে নিন ৮০ দলের টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিং

১. পাকিস্তান- ২৮৬
২. দক্ষিণ আফ্রিকা- ২৬২
৩. ইংল্যান্ড- ২৬১
৪. অস্ট্রেলিয়া- ২৬১
৫. ভারত- ২৬০
৬. নিউজিল্যান্ড- ২৫৪
৭. আফগানিস্তান- ২৪১
৮. শ্রীলঙ্কা- ২২৭
৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ২২৬
১০. বাংলাদেশ- ২২০
১১. নেপাল- ২১২
১২. স্কটল্যান্ড- ১৯৯
১৩. জিম্বাবুয়ে- ১৯২
১৪. নেদারল্যান্ডস- ১৮৭
১৫. আয়ারল্যান্ড- ১২
১৬. আরব আমিরাত- ১৮১
১৭. পাপুয়া নিউগিনি- ১৭২
১৮. ওমান- ১৫৫
১৯. হংকং- ১৫২
২০. নামিবিয়া- ১৪১
২১. কাতার- ১২৯
২২. সৌদি আরব- ১২১
২৩. সিংগাপুর- ১১৮
২৪. ডেনমার্ক- ১১৬
২৫. কানাডা- ১১১
২৬. জার্সি- ১০৬
২৭. কুয়েত- ১০৪
২৮. ঘানা- ১০০
২৯. কেনিয়া- ৯৫
৩০. বৎসোয়ানা- ৯৩
৩১. যুক্তরাষ্ট্র- ৮৪
৩২. অস্ট্রিয়া- ৭৩
৩৩. মালয়েশিয়া- ৭৩
৩৪. গার্নসি- ৬৮
৩৫. উগান্ডা- ৬৮
৩৬. জার্মানি- ৬৪
৩৭. সুইডেন- ৫৮
৩৮. তানজানিয়া- ৫৬
৩৯. নাইজেরিয়া- ৫৫
৪০. লুক্সেমবার্গ- ৫৫
৪১. স্পেইন- ৫৩
৪২. ফিলিপাইন- ৪৮
৪৩. ফ্রান্স- ৪৫
৪৪. বেলিজ- ৪২
৪৫. বেলজিয়াম- ৪০
৪৬. পেরু- ৪০
৪৭. বাহরাইন- ৩৭
৪৮. মেক্সিকো- ৩৬
৪৯. ফিজি- ৩৫
৫০. সামোয়া- ৩৪
৫১. ভানুয়াটু- ৩৩
৫২. পানামা- ৩২
৫৩. জাপান- ৩২
৫৪. কোস্টা রিকা- ৩২
৫৫. থাইল্যান্ড- ৩১
৫৬. আর্জেন্টিনা- ৩১
৫৭. হাঙ্গেরি- ৩০
৫৮. মোজাম্বিক- ২৯
৫৯. চিলি- ২৫
৬০. মালাবি- ২৫
৬১. ইসরায়েল- ২৫
৬২. ভুটান- ২৩
৬৩. ফিনল্যান্ড- ২২
৬৪. দক্ষিণ কোরিয়া- ২২
৬৫. আইসল অব ম্যান- ২১
৬৬. মাল্টা- ১৪
৬৭. বুলগেরিয়া- ১৪
৬৮. সিয়েরা লিওন- ১২
৬৯. ব্রাজিল- ১২
৭০. চেক রিপাবলিক- ৯
৭১. সেইন্ট হেলেনা- ৯
৭২. মালদ্বীপ- ৮
৭৩. জিব্রাল্টার- ৪
৭৪. মায়ানমার- ৩
৭৫. ইন্দোনেশিয়া- ০
৭৬. চায়না- ০
৭৭. গাম্বিয়া- ০
৭৮. সোয়াজিল্যান্ড- ০
৭৯. রুয়ান্ডা- ০
৮০. লেসোথো- ০

এছাড়াও আইসিসি সদস্যপদ পাওয়ার পর কায়ম্যান আইসল্যান্ড, সাইপ্রাস, এস্তোনিয়া, গ্রিস, ইতালি, নরওয়ে, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, তুর্কি, ক্যামেরুন এবং বারমুডাও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু পয়েন্ট টেবিলে নাম লেখানোর মতো যথেষ্ট ম্যাচ খেলা হয়নি তাদের।

ICC_logo.svg_-300x300.png

দুবাইয়ে আইসিসি’র বৈঠকে আলোচনা হয় যে আইপিএল সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ চলছে সেখানে এবার নজরদারি চালাবে আইসিসি। কিন্তু আইপিএলে আইসিসি’র এই হস্তক্ষেপের প্রস্তাবকে খারিজ করে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আইসিসিও জানিয়ে দিল, আইপিএলে হস্তক্ষেপ করবে না ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।

বিশ্ব জুড়ে অনুষ্ঠিত সব টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য একটা নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করতে চায় আইসিসি। দুবাইতে আইসিসির কোয়ার্টারলি বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হয়। সব লিগগুলিতে নজরদারি করতে ওয়াচডগ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও বৈঠকে জানায় আইসিসি। তখনই বিসিসিআই তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আইপিএল হল ভারতের একটি ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। আর এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে আইসিসির কোনও যোগাযোগ নেই। ঠিক যেমন ঘরোয়া ক্রিকেটে রঞ্জি ট্রফির সঙ্গে আইসিসির কোনও সম্পর্ক নেই।

এরপরেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের সিইও ডেভ রিচার্ডসন এক বিবৃতিতে জানান, আমরা খুবই ভাগ্যবান যে বেশ কয়েকটি ভালো মানের টি-টোয়েন্টি লিগ পেয়েছি। যার মধ্যে অবশ্যই আইপিএল রয়েছে। আইসিসি আইপিএলকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ যাতে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে সেটাই আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য।

সেই সঙ্গে তিনি বলেন, মিডিয়াতে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। আইসিসি, আইপিএল নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বিষয়টা ঠিক নয়। নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে ওয়ার্কিং গ্রুপ। আইসিসির ছয় সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপের অন্যতম সদস্য হলেন বোর্ড সিইও রাহুল জোহরি।

icet.jpg

বাংলাদেশ আগামী দুই (২০১৯-২০) বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ব্যুরো’র সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগ এ ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী রোম স্ট্যাচুটের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ১৭তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হয়।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য হিসেবে ২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ,দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশ,দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফিলিস্তিন ব্যুরোর প্রতিনিধিত্ব করবে।

২০১০ সালে আইসিসির সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যুরোর সদস্য হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছে। ১২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২১টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্যুরো’ আইসিসির শীর্ষ পরামর্শক পর্ষদ হিসেবে পরিগণিত।

সাধারণত ব্যুরো আইসিসির বাজেট চূড়ান্তকরণ, বিচারক, প্রসিকিউটর, ডেপুটি প্রসিকিউটর নির্বাচন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এ অধিবেশনে ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত চলবে।