ইউএস-বাংলা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

us-bangla-5caf647dc3001.jpg

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১৪ ফ্লাইটের টয়লেট থেকে ১৪ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। জব্দকৃত সোনার মূল্য আনুমানিক ৭ কোটি টাকা।

শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে শুল্ক গোয়েন্দারা এসব স্বর্ণ উদ্ধার করে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলার বিএস-২১৪ ফ্লাইটের টয়লেট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২০টি স্বর্ণের বার (১৪ কেজি) উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে কাস্টমস গোয়েন্দা দল জানতে পারে ব্যাংকক থেকে আসা ফ্লাইটের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হবে। এর প্রেক্ষিতে কাস্টমস গোয়েন্দা দল ওই বিমানের দিকে নজর রাখে। বিমান ল্যান্ড করার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমস গোয়েন্দারা বিমান তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়।

জব্দ করা সোনার বিষয়ে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান সহিদুল ইসলাম।

us-bangla-5caf647dc3001.jpg

বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হয়েছে আরও একটি নতুন এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এ নিয়ে দু’সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি উড়োজাহাজ সংস্থাটির বহরে যুক্ত হয়েছে।

ইউএস-বাংলার জিএম-মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পিআর জানান, দ্বিতীয় এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজটি ফ্রান্সের ব্ল্যাগনাক এয়ারপোর্ট থেকে মিসর, ওমান হয়ে গত বুধবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে একে গ্রহণ করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ। এ সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজে ৭২টি আসন রয়েছে, যা দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

তারা আরও জানান, ‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ৭৬ আসনবিশিষ্ট দুটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা-যশোর ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে নয়টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

এর মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, তিনটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ ও দুটি এটিআর ৭২-৬০০। অধিকতর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী মে মাসের মধ্যে আরও দুটি এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট সংস্থাটির বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইমরান আসিফ বলেন, যাত্রা শুরুর পর গত পাঁচ বছরে প্রায় ৬০ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সব রুটসহ আন্তর্জাতিক রুট কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে নিয়মিত এ সংস্থার ফ্লাইট চলছে।

us-bangla-20190320152714.jpg

চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যাওয়া বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য মেডিকেল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আগামী ৩১ মার্চ থেকে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে তিনদিন চলবে ফ্লাইট।

২০ মার্চ দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ।

তিনি বলেন, ‘শুধু ফ্লাইট চালু নয়, দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হেলথ প্যাকেজও থাকছে। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ৩ দিন ২ রাতের হেলথ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৯০ টাকা। আর কলকাতায় ২২ হাজার ৫শ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে হেলথ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৯০ টাকা। আর কলকাতায় ২৫ হাজার ৫শ টাকা।’

ইমরান আসিফ বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম-চেন্নাই-ঢাকা রুটে ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। যার মধ্যে ৮টি বিজনেস ক্লাস ও ১৫৬টি ইকোনমি ক্লাসের আসন ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চেন্নাইয়ে যাত্রী নিয়ে যাবে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হেলথ প্যাকেজে রিটার্ন এয়ার টিকিট, দুই জনের জন্য ২ রাত ৩ দিন থাকার ব্যবস্থা, সকালের নাস্তা, ফ্রি ভিসা ইনভাইটেশন লেটার, ফ্রি ডক্টরস অ্যাপয়নমেন্ট, ফ্রি এয়ারপোর্ট পিক-আপসহ অ্যাপোলো মাস্টার হেলথ প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোন সুদ ছাড়াই ৬ মাসের ইএমআই-এ টাকা পরিশোধ করার সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম ৩২ হাজার ৪৯০ টাকায় ৩ দিন ২ রাতের হলিডে প্যাকেজ সুবিধা থাকছে। হলিডে প্যাকেজে ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা রিটার্ন এয়ার টিকিট, ২ জনের জন্য ২ রাত ৩ দিন, সকালের নাস্তা, ফ্রি এয়ারপোর্ট পিক-আপ অন্তর্ভুক্ত।

nepalus.jpg

গত বছরের ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে তার জন্য পাইলটের ধূমপানকে দায়ী করেছে দেশটির দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন। কমিশনের রিপোর্ট বলছে, চলন্ত বিমানের ককপিটে বসেই সিগারেট খাচ্ছিলেন পাইলট।

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মার্চ মাসে ইউএস-বাংলা বোম্বারডিয়ার ইউবিজি-২১১ বিমানটি নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়। এতে মৃত্যু হয় পাইলটসহ ৫১ যাত্রীর। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিমানের ককপিটে পাইলটের ধূমপান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কমিশন সূত্র জানায় বিমানটির দায়িত্বে থাকা পাইলট ধূমপায়ী ছিলেন। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা সিভিআর থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক যেকোনো রুটে ধূমপান নিয়ে ইউএস-বাংলা কোম্পানির বিধি নিষেধ থাকলেও তা মানা হয়নি। দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ হয়তো এ বিষয়ে জানতেন না।

পাইলট তামাক ছাড়া অন্য কোন ‘নিষিদ্ধ’ দ্রব্য গ্রহণ করেননি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে কমিশনের রিপোর্টে।

কমিশন আরও জানায়, তাই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘পাইলট ও ক্রু’ সদস্যদের পর্যাপ্ত মনোযোগের অভাব।

তবে নেপালের দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশনের এই বক্তব্য মেনে নেয়নি ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ও ফ্লাইট ডাটা অনুসারে নেপালের তদন্ত কমিশনের দাবির সত্যতা নেই।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪ জন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হন ৯ জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও ১ জন মালদ্বীপের নাগরিক।

এর আগে, বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পাইলটের ‘ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ ও নির্ঘুম’ থাকাকে দায়ী করলেও ইউএস-বাংলা বলছে দুর্ঘটনা ঘটেছে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের ভুল বোঝাবুঝিতে।

trw.jpg

নতুন বছরে নতুন তিনটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর বিষয়ে পরিকল্পনা করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। রুটগুলো হচ্ছে, মালদ্বীপের রাজধানী মালে, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও ভারতের চেন্নাই।

তিনি বলেন, এছাড়াও ডিসেম্বর ও ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আরো তিনটি এয়ারক্রাফটও যুক্ত হচ্ছে বহরে। সবমিলিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আগামী বছর ১২টি এয়ারক্রাফট নিয়ে যাত্রীদের সর্বাধুনিক যাত্রীসেবা দিতে প্রস্তুত।

কামরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে যশোরে ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করে। গত চার বছরে ৫১ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।

তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর থেকে চীনের জুয়াংজু রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। চায়না সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

‘ডিসেম্বরই ইউএস-বাংলার বহরে সবশেষ প্রযুক্তির প্লেন ৭৩৭-৮০০ বোয়িং যুক্ত হবে। পরে মার্চের মধ্যে আরও দুটি যোগ হবে। তখন মোট প্লেন হবে ১২টি।’

কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সাতটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী বছরে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি এ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক বলেন, নেপাল দুর্ঘটনার প্রতিবেদন পেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দুঃসময়েও যাত্রীরা আমাদের পাশে ছিলেন, বর্তমানেও যাত্রীরা আস্থা রেখেছেন। তাই আগামীতেও পাশে থাকবেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সহকারী মার্কেটিং ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মুশফিকুর রহমান, মালয়েশিয়া অফিসের অ্যাকাউন্ট অ্যাসিসট্যান্ট আতিকুল ইসলাম ও জুনিয়র এক্সিকিউটিভ নাবিলা প্রমুখ।