ইলিশ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

illish-new.jpg

টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুধবার রাত থেকে উপকূলের নদনদী ও বঙ্গোপসাগরে ফের ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে।

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা মানতে ব্যাপক প্রচার, প্রশাসনিক কড়াকড়ি, জেল-জরিমানা সবকিছুরই ব্যবস্থা করা হয়। মৎস্য বিভাগ দাবি করছে, মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হওয়ায় উৎপাদন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

তবে অভিযানের সফলতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে। সরকারি সহায়তা বাড়লে এবং পাশের দেশগুলোতেও একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে মনে করেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা কেন:

ইলিশ গবেষকরা বলছেন, এই সময়ে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষা করা, যাতে তারা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ বিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র গত বছরই অন্তত সাত লাখ ৪০ হাজার কেজি ডিম ছাড়া হয়েছে।

এর অর্ধেক যদি নিষিক্ত হয় আর তার মধ্যে ১০ শতাংশও যদি বাঁচে, তাহলে ৩৭ হাজার কোটি ইলিশ পোনা বা জাটকা পাওয়া যায়। এবারের মা ইলিশ রক্ষার উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় এবার বেশি পরিমাণ ইলিশ নদীতে প্রবেশ করে ডিম ছাড়তে পেরেছে।

আশা করছি ইলিশ প্রচুর মিলবে। আর মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সময়টুকু বেশি পেয়েছে। ফলে এখন ধরা পড়া ইলিশের পেটে ডিম থাকবে কম। যা আমরা আশা করছিলাম, তা পেয়েছি।

তিনি বলেন, এখন ইলিশের রেনুপোনা এবং জাটকা রক্ষা নিয়ে শঙ্কা আছে। যদি কারেন্ট জাল ব্যবহার না হয় তাহলে ইলিশ উৎপাদন গত বছরের ৫ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টনের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণ উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশে ২০০৩-২০০৪ সাল থেকেই জাটকা রক্ষার কর্মসূচি শুরু হয়। ২০০৮ সাল থেকে প্রথম আশ্বিন মাসে পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে ১১ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

পরে পূর্ণিমার সঙ্গে অমাবস্যা মিলিয়ে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু হয়। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে জাটকা এবং নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করার কারণে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

শুধু তাই নয়, বেশি ওজনের ইলিশও এখন পাওয়া যাচ্ছে। দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তিন লাখ ৮৭ হাজার টন ইলিশ ধরা হয়েছিল, ২০১৮-১৯ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার টন। ইলিশের গড় ওজন গত তিন বছরে ৩৫০ গ্রাম বেড়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আসলে ইলিশ সারা বছরই ডিম দেয়।

তবে এই ২২ দিন ৬০-৭০ ভাগ ইলিশ ডিম দেয়। তাই উপযুক্ত সময় হিসেবে এই ২২ দিনকে ধরা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই ২২ দিন ঠিক আছে।

বেপরোয়া জেলেরা:

এবারের ইলিশ মৌসুমে যে অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা নদীতে ইলিশ ধরতে নেমে পড়েছেন। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলাও হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে পাঁচ হাজার ২১৩ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার মৎস্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০’-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৪ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত আট বিভাগে মোট দুই হাজার ৪১৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে।

এ সময়ে ৪১ টন ইলিশ এবং সাত টন অন্যান্য মাছ আটক করা হয়েছে। মোট ছয় হাজার ৫২৯টি মামলা করা হয়েছে। ৮৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে।

নৌকা ও জাল নিলামের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। ২২ দিনে এক কোটি ৩৬ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল, ২০৪টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের বোট ও ৮ হাজার ৪৬ কেজি অবৈধভাবে আহরিত মা-ইলিশ এবং ৫৬৮ জন জেলেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে আটক করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথেষ্ট নয়: মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হলে জেলেদের জীবিকায় টান পড়ে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের খরচ চালাতে তারা নিষিদ্ধ পথে পা বাড়ান।

অবশ্য দেশের ৩৬ জেলার ১৫২টি উপজেলায় মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২ জেলে পরিবারের জন্য ২০ কেজি হারে বরাদ্দ চাল দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সহায়তা অনেক জেলে সময়মতো পান না, কিংবা পেলেও পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া একেবারেই না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন এ পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকে।

তালিকা অনুযায়ী, জেলেদের বরাদ্দের চাল অপর্যাপ্ত বলে দাবি করেছে ঝালকাঠি জেলা মৎস্য বিভাগ। রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ কেজি করে। লক্ষ্মীপুরের মো. হোসেন, মো. আলী, সালাউদ্দিনসহ ১০-১২ জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করে বলেন, তালিকায় প্রকৃত জেলেদের নাম নেই।

জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের লোকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চাল দিচ্ছেন। অভাব ও দাদন ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ শিকারে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই হবে না, ইলিশ ধরা ও ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও পর্যাপ্ত সহায়তা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কঠোর হলেও ভারত-মিয়ানমার শিথিল: 

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কড়াকড়ি অবস্থানে থাকলেও ভারত ও মিয়ানমার সেই অবস্থানে নেই।

ফলে ইলিশ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত সোমবার নদী গবেষক সূর্য্যেন্দু দের বরাত দিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বহু চেষ্টাতেও যে নিষেধাজ্ঞা আমরা বাস্তবায়িত করতে পারিনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে বছরের পর বছর।

জেলেদের রুজিতে যাতে টান না পড়ে, সে জন্য ৪০ কেজি করে চাল দেয় বাংলাদেশ সরকার। যার নিট ফল উৎপাদন বেড়েছে।’

বাংলাদেশ উপকূলের একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গত কয়েক বছর হলো বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করে নিয়েছে।

এতে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। গত সপ্তাহে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় ‘মা ইলিশ রক্ষায় যৌথ সামুদ্রিক সহযোগিতা’ শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি অবস্থানরত সব ভারতীয় মাছধরা নৌকাকে ভারতীয় সীমানার দিকে পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নেতা রবীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, তিনটি দেশই যদি একসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তাহলে এটি ভালো ফল আনবে না।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এবার ইলিশের প্রজনন মৌসুমে আমাদের উদ্যোগ শতভাগ সফল হয়েছে। আমাদের অভিযানের মুখোমুখি যারা হয়েছেন, তাদের একটি স্বার্থান্বেষী মহল নদীতে পাঠিয়েছে।

এবার আমাদের পুলিশ ও কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে ছিল। ফলে পাশের দেশের জেলেরাও বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রজনন মৌসুমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান,  বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মৎস্য প্রজনন সময়ে নিষেধাজ্ঞা যাতে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে করতে পারে, সেই প্রস্তাব করেছি। প্রজনন সময়ে যৌথভাবে মাছ আহরণ বন্ধ রাখার বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে। আগামীতে মা ইলিশ আহরণ ও জাটকা আহরণ বন্ধে একই সময়ে আমাদের সাথে ভারতও ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া আমাদের সমুদ্র বা উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে যাতে অবৈধভাবে কোনো নৌকা বা জাহাজ মাছ ধরতে না পারে সেজন্য ভারতীয় কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে।

Fisherman.jpg

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের জন্য ১০ হাজার ৫৬৬.৮৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৬টি জেলার ১৫২টি উপজেলার ৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২টি জেলে পরিবার এ সহায়তা পাবে।

গত মৌসুমের তুলনায় এবার অতিরিক্ত আরো এক লাখ ২০ হাজার ২৬৩টি জেলে পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবার পাবে ২০ কেজি করে চাল।

আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফ চাল উত্তোলন ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

Elish-Peaj-1.jpg

গত বছর বাংলাদেশ থেকে ইলিশের প্রথম চালান পৌঁছানোর আগের দিন পেঁয়াজ বন্ধ করে ভারত।

বছর ঘুরতেই সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার ইলিশ পাঠানোর দিনেই পেঁয়াজ আটকে দিল।

এ বছর দুর্গা পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশের প্রথম চালান (সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর) পৌঁছেছে ভারতে।

আর এদিনই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এবারও আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

ফলে রপ্তানি বন্ধের খবর শুনে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কেজি প্রতি ১০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আগে থেকে কোনো কিছু না বলেই ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত।

এর পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইলিশের প্রথম চালান পাঠায় সেদেশে। সে সময় বেশ কয়েক মাস ধরে এ দেশের মানুষকে ভুগিয়েছে পেঁয়াজ।

পরপর দুই বছর পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ইলিশ পেয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনা।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালেও পূজা উপলক্ষে ভারতকে দেয়া হয় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ। এ বছর তা বাড়িয়ে দেশটিকে ১ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন করা হয়।

আমদানিকারকরা বলছেন, প্রতি বছর ভারত থেকে গড়ে ১০-১৫ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ।

যা বাংলাদেশের বাজারের চাহিদার সবচেয়ে বড় যোগান। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ভারতের এমন রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে গেল বছর দেশের পেঁয়াজ বাজারে তৈরি চরম অস্থিরতা। যার ফলে সেবছর ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে পেঁয়াজের দাম।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ আমদানিকারক খুলনার হামিদ এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি জনি ইসলাম জানান, পূজার সময় আমরা ভারতকে ইলিশ দিচ্ছি, অথচ তারা হঠাৎ করে এভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ না করে সময় দিতে পারতো।

এখন এমন অবস্থা আটকে পড়া পেঁয়াজে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, পেঁয়াজ আমদানি সহজ করতে দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল বন্দরে বৈঠক করে।

কিন্তু বিকেলের পর হঠাৎ করে ভারত থেকে আর পেঁয়াজ ঢুকছে না। তবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো চিঠি দেয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন, সকাল থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজ বোঝাই কোন ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশ করেনি।

তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করবে কি না সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে দেয়া হয়নি।

আমরা সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি পেঁয়াজের রফতানি স্বাভাবিক রাখতে।

হিলি স্থলবন্দরের কয়েকজন পেঁয়াজ আমদানিকারক জানান, ‘কিছুক্ষণ আগে ভারতীয় রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন যে ভারত কোনো পেঁয়াজ রফতানি করবে না।

এ বিষয়ে কোনো চিঠি না দিলেও ভারতীয় কাস্টমসের নিষেধ থাকায় সকাল থেকে পণ্যটি আমদানি বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে।

আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা তাদেরকে বলছি আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রফতানির জন্য।

আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয় তাহলে আমাদের এই সব পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে সেই চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতীয় কাস্টমসের সাথে কথা হয়েছে সরকারি নির্দেশনা থাকায় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে, ২০২০ সালে দেশের বাইরে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পূজা উপহার হিসেবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ১৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো যাবে।

২২ অক্টোবর, দুর্গাপূজার সপ্তমী। গতবার ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র মিলেছিল।

এবার মোট নয়টি সংস্থাকে কম করে ১৫০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা।

এরই ধারাবাহিকতায়, ভারতের সাথে ‘গভীর বন্ধুত্ব’ ও ‘বাণিজ্যিক সম্পর্কের’ কারণে নিষেধাজ্ঞার ভেতরেও এবার পূজায় ১ হাজার ৪৫০ মে.টন ইলিশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার অংশ হিসেবে এবার ১২ মে.টন ইলিশ ভারতে গেল।

elish6.jpg

মানিকগঞ্জের গোপাল হালদার নামের এক জেলের জালে পদ্মায় ধরা পড়েছে প্রায় সোয়া দুই কেজির ইলিশ। আজ রোববার ওই ইলিশটি ধরা পড়ে। এটি বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৬০০ টাকায়।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, রোববার সকাল নয়টার কিছু আগে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন গোপাল হালদার।

এ সময় জাল তুলে দেখেন, দুটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। যার মধ্যে একটির ওজন ছিল প্রায় ২ কেজি ২০০ গ্রাম। আরেকটি ইলিশের ওজন ছিল ১ কেজি ৩০০ গ্রামের কাছাকাছি।

জানা গেছে, মাছটি পেয়ে দ্রুত আসেন দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে। স্থানীয় কেছমত মোল্লার আড়তে মাছ দুটি নিলামে তুললে ঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ দুটি কিনে নেন।

২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি তিনি কেনেন ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৫ হাজার ৭০০ টাকায়। আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি কেনেন ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৬৯০ টাকায়।

পরে তিনি এটি ঢাকায় এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে বড় ইলিশটি ৩ হাজার টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ৬০০ টাকায় আর ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি করে ফেলেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা  জানান, ২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ গেলো দু-তিন বছরে আমি দেখিনি বা কিনতেও পারিনি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ জানান, আজই প্রথম জানতে পারলাম ২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কথা। এ মৌসুমে এটাই সর্বোচ্চ বলে আমার ধারণা।

ellish5.jpg

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় বৈশাখ মাসকে সামনে রেখে তিন মণ ধানের দামে বিভিন্ন হাটে বাজারে এখন ১ কেজি ওজনের একটি রূপালী ইলিশ কিনতে দেখা গেছে অনেকের মাঝে। পৌর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ ১৮শ’ থেকে এলাকা ভিত্তিতে ২২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বৈশাখ মাসে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ মাছ না থাকলে যেন ১লা বৈশাখের ঐতিহ্য থাকবে না, এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

মাছে ভাতে বাঙালির জাতীয় রূপালী ইলিশ এক সময় পান্তা ভাতের সাথী হয়ে থাকলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে তিন মণ ধানের বিনিময়ে। যা সবার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। ধামইরহাটে বর্তমানে প্রকার ভেদে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকায়।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) পৌর কাঁচা বাজারে আশা কৃষক ইসমাইলকে লক্ষ্য করে ইলিশ বিক্রেতা হাঁক দিলে সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন মণ ধান বিক্রি করে বৈশাখ মাসে ১ কেজি ইলিশ খাবার ইচ্ছে আমার নেই। তাই ১লা বৈশাখ বলে আমার মতো কৃষকের আনন্দ নেই। ফলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ১লা বৈশাখ পালনের দিন বাধ্য হয়ে জাটকা খেয়ে রূপালি ইলিশের স্বাদপূরন করবেন বলে অনেকে মনে করছেন।

পৌরসভার তিন নম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছানাউল ইসলাম বলেন, বৈশাখ মাসে ইলিশ মাছের দাম একটু বেশি তার পরও পান্তা ভাতে ইলিশ ছাড়া কি চলে।

illishs.jpg

পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রধান সাংস্বৃতিক উৎসব। এ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ ইলিশ। অনেকে দিনটি পান্তা-ইলিশেই সীমিত থাকেন। এই বৈশাখে ইলিশ মাছ দিয়ে অন্য কোনো মুখরোচক খাবারের কথা ভাবতে পারেন। ভোজনবিলাসী পাঠকের জন্য ইলিশের ৭টি আকর্ষণীয় রেসিপি দেওয়া হলো।

ইলিশ পোলাও

উপকরণ : ১. পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, ২. ইলিশের টুকরা ৬-৭টি (বড় ইলিশ), ৩. টকদই আধা কাপ, ৪. আদাবাটা ১ টেবিল-চামচ, ৫. কাঁচা মরিচ ৬-৭টি, ৬. তেল ২ টেবিল-চামচ, ৬. ঘি আধা কাপ , ৭. পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, ৮. লবণ পরিমাণমতো, ৯. পেঁয়াজকুচি কোয়ার্টার কাপ, ১০. পেঁয়াজবাটা কোয়ার্টার কাপ, ১১. দুধ আধা কাপ, ১২. লেবুর রস ২ টেবিল-চামচ।

প্রণালি : কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে নিন। এবারে আদা, দই, পেঁয়াজবাটা ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে কষিয়ে ইলিশ মাছ ও লেবুর রস দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন। ১০ মিনিট পর মাছের টুকরাগুলো ঝোল রেখে তুলে নিন। ঝোলের কড়াইতে ঘি এবং অর্ধেক বেরেস্তা দিয়ে একটু রান্না করে চাল দিয়ে কষিয়ে গরম পানি (৪ কাপ) ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে এলে কিছু পোলাও উঠিয়ে নিন। মাছের টুকরোগুলো পোলাওয়ের উপর বিছিয়ে দিন। এবার তুলে নেওয়া পোলাও, মাছের উপর দিয়ে বাকি বেরেস্তা ও দুধ দিয়ে ঢেকে দমে দিন। ১৫-২০ পর হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ কোফতা-কারি

উপকরণ : ধাপ -১ ১. ইলিশ মাছের সেদ্ধ কিমা ২ কাপ, ২. ডিম ফেটানো ১টি, ৩. পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, ৪. কাঁচা মরিচকুচি ১ টেবিল-চামচ, ৫. লবণ পরিমাণমতো, ৬. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ, ৭. ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল-চামচ, ৮. টমেটো সস ১ টেবিল-চামচ, ৯. টোস্টের গুঁড়া আধা কাপ, ১০. পাউরুটির (সাদা অংশ) ১ পিস, ১১. ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো

ধাপ -২ ১. পেঁয়াজবাটা পৌনে এক কাপ, ২. টকদই ২ টেবিল-চামচ, ৩. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, ৪. জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, ৫. আদাবাটা আধা চা-চামচ, ৬. টমেটো সস ১ টেবিল-চামচ, ৭. লবণ পরিমাণমতো, ৮. চিনি ১ চিমটি, ৯. তেল কোয়ার্টার কাপ,

প্রণালি :ধাপ -১ একটি পাত্রে সব উপকরণ ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। মাখানো উপকরণ ৮-১০ ভাগ করে গোলকার করে কোফ্তা বানিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে কোফ্তা বাদামি করে ভেজে নিন।

ধাপ -২ কড়াইতে তেল গরম করে সব মসলা কষিয়ে নেয়ার পর দই, সস ও সামান্য দিয়ে নেড়ে দিন। এবারে কোফ্তাগুলো দিয়ে হালকা আঁচে ঢেকে দিন। ঝোল মাখা মাখা হলে চিনি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ পাতুরি

উপকরণ: ইলিশ মাছ ৪ টুকরো, সর্ষে বাটা পরিমান মতো, কাঁচা লঙ্কা ৫টি ৬ টি, সর্ষের তেল, হলুদ গুঁড়ো, লবন স্বাদ অনুযায়ী, কলাপাতা, সূতো (কলাপাতা মোড়ার জন্য)।

প্রণালী প্রথমে একটি পাত্রে পরিমান মতো সর্ষে বাটা, পরিমান মতো তেল, লবন, হলুদ ও অল্প কিছু লঙ্কা কুঁচি দিয়ে ভালো করে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এবার আর একটি পাত্রে ইলিশের সাথে এই মিশ্রণটি ভালো করে মাখিয়ে নিন। এবার পাত্রটিকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার কলাপাতাটিকে চারটি বড়ো টুকরো করে কেটে নিন। এমন ভাবে কাটুন যাতে প্রতি টুকরো দিয়ে ইলিশ মাছের টুকরোগুলোকে মোড়ানো যেতে পারে। এবার কলাপাতাগুলোকে আগুনের তাপে রাখতে হবে যাতে ও গুলি নরম হয়ে যায় এবং সহজেই মোড়ানো যায়।

ইলিশ কোরমা

উপকরণ : ১. ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, ২. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, ৩. আদাবাটা ১ চা-চামচ, ৪. চিনি স্বাদমতো, ৫. বাদামবাটা ১ টেবিল-চামচ, ৬. কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, ৭. লবণ স্বাদমতো, ৮. তেল কোয়ার্টার কাপ, ৯. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ, ১০. গুঁড়া দুধ ১ টেবিল-চামচ

প্রণালি : কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ হালকা ভেজে নিন। সামান্য পানি দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। লবণ, চিনি, বাদামবাটা, গুঁড়া দুধ দিয়ে একটু নেড়ে, কাঁচা মরিচ ও ইলিশ মাছ দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন। ১০-১৫ মিনিট রান্না করে নামিয়ে নিন।

সরষে ইলিশ

উপকরণ : ১. ইলিশ মাছ বড় ১টি, ২. সরিষা বাটা কোয়ার্টার কাপ, ৩. সরিষার তেল আধা কাপ, ৪. হলুদ সামান্য, ৫. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, ৬. আস্ত কাঁচা মরিচ ফালি ৫-৬টি, ৭. লবণ পরিমাণমতো, ৮. লেবুর রস ২ টেবিল-চামচ

প্রণালি : সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এবারে আধা কাপ পানি মিশিয়ে চুলায় মৃদু আঁচে বসিয়ে ঢেকে দিন। মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।

ইলিশ কাবাব

উপকরণ :

১. ইলিশ মাছ আস্ত ১টি, ২. গোলমরিচগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, ৩. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, ৪. কাঁচা মরিচকুচি ১ টেবিল-চামচ, ৫. টমেটো সস ২ টেবিল-চামচ, ৬. আলু ম্যাশড্ ১ কাপ, ৭. ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল-চামচ, ৮. রসুন ২ কোয়া (কুচি), ৯. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ, ১০. লবণ স্বাদমতো, ১১. তেল আধা কাপ, ১২. পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, ১৩. লেবুর খোসা (গ্রেট করা) কোয়ার্টার চা-চামচ,

টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া ১ কাপ

প্রণালি : মাছের মাথা ও লেজ কেটে আলাদা করুন। সামান্য হলুদ, মরিচগুঁড়া ও পরিমাণমতো লবণ মাখিয়ে মাথা ও লেজ হালকা ভেজে নিন। এবার বাকি মাছ লবণ, লেবুর রস ও সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করে কাঁটা বেছে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে রসুন ও পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে মাছের কিমা দিয়ে নাড়তে থাকুন। দু-এক মিনিট পর সেদ্ধ আলু দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে, একে একে গোলমরিচগুঁড়া, কাঁচা মরিচকুচি, স্বাদমতো লবণ, টমেটো সস দিয়ে রান্না করে নামিয়ে ঠা-া করে নিন। অন্য একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে বিস্কুটের গুঁড়া বাদামী করে ভেজে নিন। এবারে রান্না করা কিমার সঙ্গে ধনেপাতাকুচি, লেবুর খোসা ও বেরেস্তা ভেঙে আলতো করে মাখিয়ে নিন। সার্ভিং ডিশে দুই পাশে ভাজা লেজ ও মাথা রেখে, মাঝখানে মাখানো কিমা সাজিয়ে আস্ত মাছের মতো বানিয়ে নিন। সাজানো কিমার ওপর ভাজা বিস্কুটের গুঁড়া ছড়িয়ে চেপে দিন। কিমার উপর চা-চামচ দিয়ে মাছের আঁশের মতো বানিয়ে পরিবেশন করুন।

দই ইলিশ

উপকরণ : ১. ইলিশ ৬ টুকরা (মাছের টুকরোগুলো লবণ মাখিয়ে ধুয়ে রাখুন) , ২. তেল কোয়ার্টার কাপ, ৩. পেঁয়াজবাটা আধা কাপ, ৪. হলুদগুঁড়া ১ চিমটি, ৫. কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, ৬. টকদই ২ কাপ, ৭. আদাবাটা আধা চা-চামচ, ৮. লবণ পরিমাণমতো, ৯. চিনি আধা চা-চামচ (বা প্রয়োজনমতো)

প্রণালি : কড়াইয়ে তেল গরম করে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার দই দিয়ে নেড়ে মাছের টুকরোগুলো দিন। চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে দিন। ১৫-২০ মিনিট পর তেল ভেসে উঠলে চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।