এফআর টাওয়ার Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

fr-tower-20190506191529-1.jpg

রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাইদুজ্জামান শরীফের আদালতে তার আইনজীবী লাকী আক্তার জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রকিবুল হাসান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ১১ এপ্রিল ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি এখন জামিনে রয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাসভির ও ফারুককে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জালাল উদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৩১ মার্চ তাসভির উল ইসলাম ও প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

৩০ মার্চ বারিধারার নিজ বাসা থেকে টাওয়ারের নকশাবহির্ভূত ও বর্ধিত অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৭৩ জন। পরে ৩০ মার্চ এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর জোগসাজশে মানুষের জানমালের ক্ষতি, অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে অপরাধজনক অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানি, মারাত্মক জখমসহ সম্পদের ক্ষতিসাধন করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলাম, জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান। এছাড়া এফআর টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

te3c.jpg

বনানীর এফআর টাওয়ার নির্মাণের ঘটনায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে ভবন নির্মাণের ঘটনায় রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডকে সাড়ে ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর।

বুধবার (১০ এপ্রিল) অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সন্টে উইং থেকে এ জরিমানা করা হয়।

এছাড়াও পাহাড় কাটার দায়ে মৌলভীবাজারের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ২২ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সালশা চৌধুরী শাওন জানান, পরিবেশের ক্ষতি করায় এ টাকা জরিমানা করা হয়।

এর আগে, পরিবেশ দূষণ ও বাংলাদেশ পরিবশে সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের কারণে বুধবার অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেকে শুনানি করেন।

শুনানিতে ঢাকা ও মৌলভীবাজারের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩ লাখ ৭১ হাজার ১৭৩ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

শুনানি শেষে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে ভবন নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যাক্রমে ব্যবহারের দায়ে বনানীর এফ আর টাওয়ারের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেডকে ৬২ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৩ টাকা এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বারহাল এলাকার আলহাজ্ব মছকন্দ আলীকে এক লাখ ২২ হাজার ২৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন। ক্ষতিপূরণের এ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধের জন্য আদেশ দেওয়া হয়।

rftower.jpg

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও বেআইনি কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলছে ভবনের মালিকদের খোঁজ। জানা গেছে, জমির মূল মালিকসহ এফ আর টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী মোট ২৪ জন।

ভবনটিতে ফ্লোর আছে মোট ২৩টি। প্রতিটি ফ্লোরে জায়গার পরিমাণ ছয় হাজার স্কয়ার ফুট। নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সাইজের দোকান বানিয়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় তলায় রয়েছে একটি কনভেনশন সেন্টার, যার নাম রোজডেল ব্যানকুয়েট হল। এই হলের মালিক এবং নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দোকানগুলোর মালিক একই ব্যক্তি, তিনি হলেন ভবনের জমির মূল মালিক এস এম এইচ ফারুক।

ভবনটির ডেভেলপার কোম্পানি হচ্ছে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। সেই হিসেবে যৌথভাবে ভবনের নাম রাখা হয় ফারুক- রূপায়ণ টাওয়ার (এফ আর টাওয়ার)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। তখন ভবনের মালিকানা ছিল অর্ধেক-অর্ধেক। ২০০৭ সালে জমির মালিক এস এম এইচ ফারুক ভবনটি বুঝে পান। এফ আর টাওয়ারের চতুর্থ তলা থেকে ওপরের দিকে ২৩ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে জায়গার পরিমাণ ১৫০০ স্কয়ার ফুট। ডেভেলপার কোম্পানি রূপায়ন ওই ভবনে তাদের অংশ বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই হিসাবে বর্তমানে ভবনটির মালিক মোট ২৪ জন।

মালিকরা আবার কেউ কেউ তাদের ফ্লোরগুলো ভাড়া দিয়েছেন। বর্তমানে ভবনটিতে ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কাশেম ড্রাইসেল নামে একটি কোম্পানি তিনটি ফ্লোরের মালিক, ‘আমরা টেকনোলজিস’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের আছে চারটি ফ্লোর, ডার্ড গ্রুপের রয়েছে পাঁচটি ফ্লোর।

wdewrw.jpg

বনানীর এফআর টাওয়ারটি একাধিকবার পরিদর্শন করে এর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এজন্য কিছু সুপারিশও করা হয়েছিল। তবে পরপর দু’বার নোটিশ করেও কাজ হয়নি। ভবনের ফায়ার সেফটি ইস্যুতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

বনানীর ফারুক-রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভবনমালিকদের গাফিলতির প্রমাণ স্পষ্ট বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা কিংবা সংকীর্ণ জরুরি বহির্গমন পথের প্রমাণও এর আগে পাওয়া যায়। এছাড়া ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা করার কারণ হিসেবে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি ভবন কর্তৃপক্ষ।

এজন্য ডেভলপার কোম্পানির গাফিলতি ও ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে দায়ী করছেন মালিকপক্ষ। মালিকপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। তিনি ১৯৯৫ সালে ভবনের নকশার জন্য রাজউকে আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রূপায়ন গ্রুপকে ভবন বানানোর জন্য জমি দেয়া হয়।

২০০৫ সালে কাজ শুরু হওয়া ভবনটি চালু হয় ২০০৭ সালে। তখন থেকে ভবনের প্রায় অর্ধেক অংশের মালিকানা ফারুকের, বাকি অর্ধেক রূপায়ন গ্রুপের। ফারুক পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হলেও এফআর টাওয়ারের তৃতীয় তলায় কনভেনশন সেন্টার ও ১৮ তলায় অফিস স্পেস নামে একটি বিজনেস সেন্টার রয়েছে। ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাসবিরুল ইসলামের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। ফারুকের পক্ষ থেকে তার ম্যানেজার কামাল হোসেন ভবনটি দেখাশোনা করতেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল। এ বিষয়ে তাদেরকে একাধিকবার নোটিশ করা হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দেবাশিষ বর্ধন জানান, এর আগে আমরা এফআর টাওয়ারটি একাধিকবার পরিদর্শন করি। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটিসহ সেগুলো সমাধানে কিছু সুপারিশও করা হয়। এ বিষয়ে তাদের দুবার নোটিশও করা হয়। কিন্তু ভবন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে ভবনটির ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, ভবনে অগ্নিনির্বাপণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। ফায়ার স্টিংগুইসার থাকলেও আগুনের পর সেগুলো খোলা হয়নি। ইমার্জেন্সি এক্সিট পয়েন্ট রয়েছে এবং সেটা সবসময় খোলা থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের নোটিশ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ধরনের নোটিশের বিষয়ে আমার জানা নেই। অনুমোদনের বাইরে উপরের পাঁচ তলা তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার কামাল বলেন, ১৮ তলার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ২৩ তলা করার বিষয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবন পরিচালনা সোসাইটির সভাপতি তাসবিরুল ইসলাম বলেন যে, সমস্যা নাই। তার ইচ্ছাতে এটি নকশার বাইরে পাঁচ তলা বাড়ানো হয়।

শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ভবনটির ১৮ তলার অনুমোদন ছিল, কিন্তু এটি কীভাবে ২৩ তলা হলো! এর অনুমোদনের সময় রাজউক চেয়ারম্যান কে ছিলেন সেটিও খুঁজে দেখা হচ্ছে। এ কাজে যাদেরই অবহেলা রয়েছে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। যেগুলো ছিল সেগুলো ইউজঅ্যাবল ছিল না। এমনকি যে পাইপটি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার হয় সেটিও পুড়ে যায়। ফলে তাৎক্ষনিক ফায়ার ফাইটিং করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ভবনমালিক ফারুকও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, এফআর টাওয়ারের মালিকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী, নিহতদের স্বজনরা মামলা করবেন। তারা যদি না করেন তবে রাষ্ট্রপক্ষ অর্থাৎ পুলিশ বাদী মামলা হবে। যেসব ধারায় মামলা করলে নন বেইলেবল (অজামিনযোগ্য) হবে সেসব ধারা পর্যালোচনা করে মামলা করা হবে।

আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ ভবনের মালিককে শনাক্ত করেছে। মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেছেন, ইমারত কোড অমান্য করে ভবনটি ১৮ তলার বিপরীতে ২২ তলা করা হয়েছে। সুতরাং সেটা আইনের ব্যত্যয়। এখানে যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের জীবনের মূল্য ও বাঁচার অধিকার রয়েছে। সেটার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারের অবস্থান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ ভবনে আগুন লাগে। এতে ২৫ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

wdewrw.jpg

রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ।

তিনি বলেন, এফআর টাওয়ারে আর কোনো লাশ নেই। আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

দমকল বাহিনীর সিনিয়র স্টেশন অফিসার খুরশীদ আনোয়ার জানান, আগুন রাতে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়, তবে আবার যেন আগুন ছড়িয়ে পরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সারারাতই ঘটনাস্থলে ছিল।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন এত সময় লাগলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি বহুতল ভবনের জন্য যেরকম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার কথা, সেরকম আমরা দেখতে পাইনি।

এছাড়া বহুতল ভবনে আগুন নেভানোর জন্য যেসব গাড়ি প্রয়োজন সেগুলো দূর থেকে নিয়ে আসার কারণে এবং রাস্তায় যানজট থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরী হয় বলে জানান খুরশীদ আনোয়ার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগে এফআর টাওয়ারে। ভবনের ৯ম তলায় আগুনের সূত্রপাত। পরে ছড়িয়ে পড়ে ২৩তলা ভবনের বেশ কয়েকটি তলায়। আগুন লাগার চার ঘণ্টার বেশি সময় পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে এ কাজে দমকল বাহিনীর ১৭টি ইউনিট কাজ করে। সেই সঙ্গে যোগ দেয় অন্যান্য বাহিনীও। পরে তাদের সাথে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করে। সাথে স্থানীয় মানুষেরাও যোগ দেন।

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।