ওয়াসা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

tibj.jpg

* ঢাকা ওয়াসার পানি নিম্নমানের
* সেবাগ্রহীতাদের ৯১% শতাংশ ফুটিয়ে পানি পান করেন
* ৯১% ওয়াসার পানি সিদ্ধ করে পানের উপযোগী করতে বছরে গ্যাস খরচ প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা
* এই পানি কারণে (জুলাই ২০১৭-জুন ২০১৮) ২৪.৬% মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত
* ৩৪.৫% বছরে সবসময় পানির গুনগত মান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন
* ঢাকা ওয়াসার পানির মান ৫১.৫% শতাংশ অপরিষ্কার। দুর্গন্ধযুক্ত পানি ৪১.৪%
* ২০.৬% গ্রাহক বছরে সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন
* বস্তি এলাকায় ৭১.৯% চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না।
* আবাসিক এলাকায় ৪৫.৮%, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪.৯%, শিল্প এলাকায় ১৯% চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না।
* সার্বিক সেবা গ্রহীতাদের ৪৪.৮% অনুযায়ী পানি পান না

ঢাকা ওয়াসার পানি নিম্নমানের হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ৯৩ শতাংশ বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পানি পান করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার ধানমন্ডি টিআইবি’র মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯১ শতাংশ ওয়াসার পানি সিদ্ধ করে পানের উপযোগী করতে বছরে গ্যাস খরচ আনুমানিক প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা।

আর এই পানি পানের কারণে (জুলাই ২০১৭-জুন ২০১৮) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আবাসিক ও এলআইসি এলাকায় ২৪.৬ শতাংশ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে ৩৪.৫ শতাংশ বছরে সবসময় পানির গুনগত মান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো দেশে পানি ফুটিয়ে পান করা হয় না। এশিয়ার কোনো দেশেও এমন নেই। ঢাকা ওয়াসাকে এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার পানির মান ৫১.৫ শতাংশ অপরিষ্কার। আর দুর্গন্ধযুক্ত পানির পরিমাণ হচ্ছে ৪১.৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন তৈরিতে টিআইবি ওয়াসার ১০টি জোনের ২ হাজার ৭ শত ৬৮ জন ওয়াসার সংযোগ গ্রহণকারী থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সেখানে ২০.৬ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পানির সংকটপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে, সূত্রাপুর, জুরাইন, মতিঝিল, কদমতলি, চকবাজার, হাজারিবাগ, ইসলামবাগ, নওয়াবপুর, সিদ্দিকবাজার, ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড, বড়বাগ, আহমেদ নগর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, রসুলবাগ, মাদারটেক, নন্দীপাড়া, মোহাম্মদবাগ, পলাশপুর, মুরাদপুর, জগন্নাথপুর, উত্তরা-৬, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত, মানিকদি, মিরপুর-১১, নাখালপাড়া, ভাসানটেক ও বস্তি এলাকাসমূহ।

টিআইবির প্রতিবেদনে চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি। বস্তি এলাকায় ৭১.৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এছাড়া আবাসিক এলাকায় ৪৫.৮ শতাংশ, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪.৯ শতাংশ ও শিল্প এলাকায় ১৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। সার্বিক সেবা গ্রহীতাদের ৪৪.৮ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না।

wasa-ctg.jpg

চট্টগ্রাম নগরীতে আবাসিক-অনাবাসিক ভবন তৈরির আগে ওয়াসার ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের মাধ্যমে ওয়াসার কাছ থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পর ভবন তৈরি করা যাবে। অন্যথায় এসব ভবনে ওয়াসা পানির সংযোগ দেবে না।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম ফজলুল্লাহ। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা সঠিক হলেও এতে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়বে এবং ঘুষ-দুর্নীতির আরেকটি ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫০ তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসা আবাসিক-অনাবাসিক খাতে পানির দামও ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মার্চ থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার এই কার্যক্রম চালুর চিন্তাভাবনা করছে ওয়াসা। তার আগে ফি নির্ধারণ করা হবে। আগামী বোর্ড সভায় ফি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ওয়াসা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘ঢাকায় ভবন নির্মাণ করতে হলে ওয়াসার ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রাম নগরীতেও আমরা এটা চালু করছি। কারণ শুধু ভবন বানালেই তো হবে না, সেখানে পানি সরবরাহ করা যাবে কি-না, সংযোগ লাইন নেওয়ার বিধান আছে কি-না, এসবও তো দেখতে হবে। আমরা ঢাকা ওয়াসার বিধান যাচাই-বাছাই করছি। তেবে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে, ওয়াসার ছাড়পত্র না নিলে আমরা পানির সংযোগ দেব না।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য (বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব) মহসীন কাজী বলেন, ‘বিলের মধ্যে ৪০ তলা বিল্ডিং একটা বানিয়ে রাখলেই তো হবে না, সেই বিল্ডিংয়ে পানির লাইন কীভাবে নেওয়া যাবে কিংবা আদৌ নেওয়া যাবে কি-না সেটা তো ওয়াসাকেই ভাবতে হবে। সুতরাং যদি ছাড়পত্র নিতে হয়, সেক্ষেত্রে ওয়াসা আগে যাচাইবাছাই করে নিতে পারবে যে, আদৌ সেখানে পানির লাইন দেওয়া সম্ভব কি-না। বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান এখনও আছে। নতুন করে আবাসিক-অনাবাসিক সব ভবনের জন্য এটা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সকল বোর্ড সদস্য একমত হয়েছেন।’

জানতে চাইলে ‘পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম’ এর মহাসচিব স্থপতি জেরিনা হোসাইন বলেন, ‘ওয়াসার ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। কিন্তু অন্যান্য দেশে ভবন নির্মাণকারীর জন্য সমন্বিত কর্তৃপক্ষ আছে। আমাদের দেশে সেটা নেই। এখন একজন ভবন নির্মাণকারীকে যদি ছাড়পত্রের জন্য একবার সিডিএ, একবার ওয়াসা, একবার পরিবেশ অধিদপ্তরে যেতে হয়, তাহলে ভোগান্তির মাত্রাটা যে কি হবে, কল্পনাও করা যায় না। এছাড়া ভোগান্তির পাশাপাশি স্পিডমানির নামে ঘুষ লেনদেনেরও একটা সুযোগ থেকে যাচ্ছে।’

সমন্বিত কর্তৃপক্ষ ছাড়া প্রত্যেক সংস্থার কাছ থেকে আলাদা আলাদা ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান কেবল হয়রানিই বাড়াবে, এমনটাই মনে করছে এই নগর পরিকল্পনাবিদ।

এদিকে ফেব্রুয়ারি থেকে পানির বাড়তি দাম কার্যকর করার কথা জানিয়েছে ওয়াসা। আর্থিক ক্ষতি কমানো ও বিভিন্ন প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ শোধের জন্য পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসা কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ জানান, পানির বিল আবাসিক ও অনাবাসিক খাতে প্রতি ইউনিট ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ছিল প্রতি ইউনিটপানির বিল ৯ টাকা ৪৫ পয়সা। এখন প্রতি ইউনিট পানির বিল পড়বে ৯ টাকা ৯২ পয়সা।

এদিকে পানির দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা বলেছেন, ওয়াসার সরবরহ করা পানির ৮৮ শতাংশ গ্রাহক হচ্ছেন আবাসিক গ্রাহক। আর ওয়াসা দিনে চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ পানি সরবরাহ করতে পারে। এ জন্য নগরীর অধিকাংশএলাকায় পানির জন্য এখনও হাহাকার। আর চট্টগ্রাম ওয়াসা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন নতুন প্রকল্পের কথা বলে নগরবাসীকে বারবার বিভ্রান্ত করছে এবং দাম বাড়ানোর কথা বলে প্রকারান্তরে ওয়াসার অভ্যন্তরে পানি চুরি, অপচয় ও মিটার রিডারদের কারসাজিকে উসকে দিচ্ছে। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় যেখানে পানির জন্য হাহাকার, সেখানে চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর পানির সমস্যা সমাধান নাকরে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিবৃতি দিয়েছেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু ও সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান।