করোনার তৃতীয় ঢেউ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

devi-in-1-20190304160701.jpg

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ভারতে প্রতিদিন ৩ লাখের বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। দ্বিতীয় ঢেউ শেষ না হতেই করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জানিয়ে উপমহাদেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি বলেন, তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে সব থেকে আশঙ্কা ছোটদের নিয়ে। কারণ, ততোদিনে বয়স্কদের টিকা নেওয়া হয়ে যাবে। অধিকাংশেরই ইমিউনিটি থাকবে। কিন্তু শিশুদের টিকাগ্রহণ তখনো হবে না। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বেশি। তাই এখন থেকেই জোর দিতে হবে কমবয়সী বাবা-মায়ের টিকা নেয়া জরুরি।

তিনি যোগ করেন, বয়স্ক মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সমস্যা কম। কেউ যদি অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকেন তা হলে চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাটেন্ডেন্ট লাগে না। কিন্তু কোনো কোভিড আক্রান্ত শিশু অক্সিজেন বেডে বা আইসিইউতে থাকলে সে সব সময়ে তার বাবা-বা মাকে পাশে চাইবে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে ভারতের নারায়ণ ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা আরো বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবেই কি না সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নন। মহামারি চরিত্র অনুযায়ী দ্বিতীয় ঢেউ সবসময়েই ভয়াবহ হয়। তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা কম থাকে।

দেবী শেঠি আরো বলেন, আমার সারাটা জীবন আমি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বানাতে লাগিয়ে দিয়েছি। হার্ট সার্জারির পর শিশুদের দেখভালের জন্য তা জরুরি। তাই শিশুরা কোভিড আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকলে কী বায়না করতে পারে, আমার থেকে ভালো কেউ জানে না। তাই ততোদিনে তার বাবা বা মায়ের টিকাগ্রহণ হয়ে যাওয়া উচিত। যাতে আইসিইউতে তারা সন্তানের পাশে থাকতে পারেন।

সাক্ষাৎকারে ডাক্তার দেবী শেঠি ভারতের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, তৃতীয় ঢেউ এলে আরও কয়েক লাখ ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক লাগবে। একটা বিষয় বুঝতে হবে—গত এক বছর ধরে কোভিড সামলাতে সামলাতে ডাক্তার-নার্সদের একটা বড় অংশ ক্লান্ত। আবারও বলছি বয়স্ক রোগীদের সামলাতে তাদের অতটা বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে শিশুরা আক্রান্ত হবে। তখন এই ক্লান্ত ওয়ার্কফোর্স দিয়ে তাদের সামলানো যাবে না।

করোনা থেকে বাঁচত টিকা নেওয়ার ওপরই জোর দিয়েছেন ডাক্তার শেঠি। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের আর ট্রায়াল দরকার নেই। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। শুধু দরকার উৎপাদন বাড়ানো। এ জন্য দেশ বিদেশের সব ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে এখনই কথা বলতে হবে। টাকা আগাম পেলে সবাই ভ্যাকসিন বানাতে রাজি হবে। আশা করি সমস্যা হবে না।

kader3321.jpg

করোনা বেগম খালেদা জিয়াকেও ছাড় দেয়নি, তাই সরকারের বিরুদ্ধে অবান্তর অভিযোগ না এনে বিএনপিকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় এই অদৃশ্য শক্তিকে মোকাবিলা করতে বিএনপিকে দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করতে আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত করোনা সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের স্মরণ করে দিয়ে বলেন, করোনা মোকাবিলায় মাস্ক সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাই সবাইকে শতভাগ মাস্ক পরিধান করার পাশাপাশি সারাদেশে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে বলেন। একই সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন বদনাম না হয় সেদিকে খেযাল রাখতে বলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর তৃতীয় ঢেউয়ের আঘাত আসতে পারে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়াবহ হতে পারে, তাই যতই সীমাবদ্ধতা থাকনা কেন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান আ ফ ম  রুহুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় ধানমন্ডি প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের বিভিন্ন নেতারা।

jahedmalek656u8.jpg

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ আমরা সফলভাবে সামলে নিয়েছিলাম। মানুষের স্বাস্থ্যবিধিতে ব্যাপক অনীহা ও অবহেলার কারণে দেশে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। এখন দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা কমে যাচ্ছে। তবে প্রথম ঢেউয়ের পর যেভাবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীন হয়েছিল সেটা আবার ঘটতে দিলে খুব দ্রুতই দেশে তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

র‌‌‌‌বিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ সব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাজেট অনেক কম। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ বিনিয়োগও বৃদ্ধি করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে। ভারত থেকে এই ভাইরাস আমাদের দেশেও চলে আসতে পারে। এ কারণে আগামীতে স্বাস্থ্যখাতের সকল পর্যায়ের কর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, যুদ্ধ করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে মানুষ । কিন্তু চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য মানুষ খুব বেশি ভাবেনি এবং স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে তেমন কোন পরিকল্পনাও নেয়নি। এবারের করোনা মহামারিতে বিশ্ব বুঝতে পেরেছে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ কতটা জরুরি একটি বিষয়।