ক্যামেরা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

camera22.jpg

স্মার্টফোন কেনায় মানুষ এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেন ক্যামেরায়। কে কত বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা বাজারে ছাড়তে পারে, তা নিয়ে বেশ একচোট প্রতিযোগিতা হয় ফোন তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে।

যখন আপনি শুনবেন এই ক্যামেরা এত মেগাপিক্সেলের, তখন বুঝবেন ক্যামেরাটির ছবিতে লাখ লাখ পিক্সেলের ছবি তোলা যায়। ডিজিটাল স্ক্রিনের সব ছবি ছোট ছোট বিন্দুর সমন্বয়ে তৈরি হয়। একেই বলে পিক্সেল। ১০ লাখ পিক্সেলে ১ মেগাপিক্সেল হয়।

তবে মেগাপিক্সেল বেশি মানেই কি ক্যামেরা ভালো বা ছবি ভাল আসবে? মেগাপিক্সেল কোয়ালিটিকে ধারণ করে না, এটি মূলত সাইজকে বোঝায়। সাধারণ হিসাবে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় তোলা ছবির চেয়ে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় তোলা ছবি ভালো হবে। তবে এখানে দেখতে হবে সেন্সরের আকার। কারণ, দুটি ক্যামেরার সেন্সর যদি একই আকারের হয়, তবে ১২ মেগাপিক্সেলেই বরং খারাপ ছবি আসবে।

সেন্সরের আকার একই রেখে মেগাপিক্সেল বাড়ানোর সমস্যা হলো, তখন প্রতিটি পিক্সেলের আকার ছোট হয়ে যায়। আর পিক্সেল ছোট হলে নয়েজ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সেন্সরের আকার যত বড় হয়, ছবি তৈরির জন্য ক্যামেরায় তত বেশি আলো প্রবেশ করতে পারে। আর আলো যত বেশি, ছবি তত ভালো। কারণ, এই আলোই ক্যামেরার এক্সপোজার ব্যালান্স, ডাইনামিক রেঞ্জ, এমনকি শার্পনেস ঠিক করে দেয়। আর সে কারণেই ২০ মেগাপিক্সেল ডিএসএলআর ক্যামেরায় তোলা ছবি সাধারণত স্মার্টফোনের ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় তোলা ছবির চেয়ে ভালো হয়। তবে স্মার্টফোনের আকার ছোট রাখাও তো জরুরি।

প্রযুক্তিবিদরা বলে থাকেন, প্রোসেসর যদি স্মার্টফোনের প্রাণ হয়, তাহলে সেন্সরকে বলা হয় ক্যামেরার হৃৎপিণ্ড। সেন্সর ভালো কাজ করলে ভালো ছবি তোলা সম্ভব। সেন্সর বুঝতে হলে ক্যামেরার লাইট পরখ করে দেখতে হবে। যে সেন্সর বেশি লাইট সরবরাহ করতে পারে, সেই ক্যামেরাটি কেনা উচিত।

nasa-268239.jpg

মহাকাশচারীর ক্যামেরায় তোলা এক ছবিতে পৃথিবীর দুই মহাদেশের এক অসাধারণ ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সেই ফ্রেমেই ধরা পড়েছে দুই কৃত্রিম উপগ্রহ সয়্যুজ ক্যাপস্যুল এবং ক্যানাডার্ম২। ভূমধ্যসাগরের ওপর ছবিটি তোলা হয়েছে মহাকাশ থেকে। দুই কৃত্রিম উপগ্রহ ছাপিয়ে দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ছবি। এই ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ছবিটি তুলেছেন মহাকাশচারী অন্ড্রু মরগ্যান। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে ছবিটি তোলা। সেই ছবিই প্রকাশ করেছে নাসা।

১৬ মিলিমিটারের ফিস আই লেন্স সচরাচর ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু এই ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ছবিতে দুটি মহাদেশের চিত্রও ধরা পড়েছে। একটি আফ্রিকা, অন্যটি এশিয়া। আফ্রিকার নাইল ডেল্টা ও সিনাই উপদ্বীপ যেমন দেখা যাচ্ছে ছবিতে, তেমনই দেখা যাচ্ছে এশিয়ার লেভান্ট। উত্তরে বাহিত নীল নদ ভূমধ্যসাগরে মেশার আগে একটি ব-দ্বীপ তৈরি করেছে। সেটিই ধরা পড়েছে ছবিতে। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে গাছপালাও রয়েছে। আশেপাশের মরুভূমির সঙ্গে এই অঞ্চলের তীব্র বৈপরীত্য রয়েছে। এই অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে কৃষিকাজ হয়। অন্যদিকে সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে সেতুর কাজ করে। সিনাইয়ের দক্ষিণে লাল সাগর আরব উপদ্বীপকে মিশর থেকে আলাদা করে।

মহাকাশচারীর এই ছবি ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট তোলা। নিকন ডি৫ ডিজিটাল ক্যামেরার ১৬ মিলিমিটার লেন্স ব্যবহার করে ছবিটি তুলেছিলেন তিনি। ৬০ জনের একটি দল মহাকাশে গিয়েছিল সেই সময়। তখনই ছবিটি তোলা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাসা একটি নীলাভ মোহময়ী গ্যালাক্সির ছবি পোস্ট করেছে। এটি পৃথিবী থেকে ১০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। ছবিতে দেখা গেছে ছায়াপথটির সর্পিল বাহু অজস্র নতুন নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত। গোটা ছায়াপথ থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে মোহময়ী নীল আলো। এই ছায়াপথের মধ্যভাগে রয়েছে একটি পুরনো নক্ষত্র। এর রং লালচে। লালচে নক্ষত্রের চারপাশে নীল আভা ছড়িয়ে থাকায় গোটা ছায়াপথকে অত্যন্ত সুন্দর করে তুলেছে। এই নীল রং মূলত নবীন নক্ষত্র থেকে আসছে। এই ছায়াপথের নাম দেওয়া হয়েছে এনজিসি ২৩৩৬। আপাতত মোহময়ী ছায়াপথের এই নামই রেখেছে নাসা। এক দশকেরও আগে জার্মানের জ্যোতির্বিদ উইলহেম টেম্পেল এটি প্রথম আবিষ্কার করেন।