খালেদা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

pm-14.jpg

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়ে এখনই মন্তব্যের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রুনাই সফর নিয়ে শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্যারোলের জন্য সাধারণত আবেদন করতে হয়। এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি। যেহেতু এ বিষয়ে আবেদনই করা হয়নি, তাই আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করছি। এ হামলায় আমার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের মেয়ের ছেলে আমার নাতি ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছে। জায়ানের বাবা মশিউর হক চৌধুরী এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমি ব্রুনাইয়ের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর এই মর্মান্তিক হামলার খবর শুনতে পাই। আমাদের প্লেনটা যখন আকাশে উড়ছিল তখন খবর আসলো এ ধরনের হামলা হয়েছে। পরবর্তীতে ওখানে নেমে বিস্তারিত খবরটা পাই। জায়ানের মৃত্যুর খবর পাই। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে একটি শোক বার্তা পাঠাই। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলকে কার্যকর এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সজাগ আছি। গোয়েন্দারা চমৎকার কাজ করছে। গতকালও আমি আমাদের গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা একাজে জড়াচ্ছে। আমার প্রশ্ন- তারা এই আত্মঘাতী হামলা করে কী পাচ্ছে।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে কী হলো? একজন মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে গুলি করার মুহূর্ত সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কী বীভৎস! কী বীভৎস মানসিকতা! সে একজন খ্রিস্টান। আর এখানে (শ্রীলঙ্কায়) যারা শনাক্ত হয়েছে, তারা মুসলমান।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ২১ এপ্রিল তিন দিনের সরকারি সফরে ব্রুনেইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে পৌঁছান। সফরে তিনি ব্রুনেইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসহ সুলতান ও রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ-ব্রুনেই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু কর্মসূচিতে যোগ দেন।

ব্রুনেইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন নুরুল ইমানে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং এলএনজি সরবরাহ-সংক্রান্ত সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাতটি চুক্তির মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি বিনিময় নোট।

এগুলো হচ্ছে কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড়সংক্রান্ত বিনিময় নোট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সকালে ব্রুনেইয়ের রাজধানীতে কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবানজাসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি রয়েল রিগালিয়া মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময় রোহিঙ্গা সংকটের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

khaleda-wheel-chair-20190319153146.jpg

দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে দলটি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটিও। পাশাপাশি তাদের দুটি রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তাও কিছুটা সঙ্কুচিত হয়েছে।

বিএনপির সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, খালেদার মুক্তির দাবিতে দলটি হঠাৎ সক্রিয় কেন? প্যারোল ইস্যুতে কি এই সক্রিয়তা? জবাবে দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলন চলমান এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের দলীয় প্রধানকে মুক্ত করবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। কারাবন্দির পর থেকে বিভিন্ন সময় বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন, বিবৃতি, অবস্থান কর্মসূচি, কালো পতাকা প্রদর্শন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন খালেদার মুক্তির দাবিতে রাজপথে বিএনপিকে সেভাবে দেখা যায়নি। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রচণ্ড ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে। তোপের মুখে পড়তে হয়েছে সিনিয়র নেতাদের।

সম্প্রতি এ ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করছে দলটি। গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি এবং ৮ এপ্রিল ২০ দলের শরিকদের নিয়ে বৈঠক করে তারা। ইতোপূর্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে দূরত্ব দেখা গেলেও গণঅনশন কর্মসূচিতে জামায়াত ছাড়া দুই জোটের উল্লেখযোগ্য নেতারা অংশ নেন।

বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করতে ইতোমধ্যে মৎস্যজীবী দল, কৃষক দল, মহিলা দল, তাঁতী দলসহ বেশ কয়েকটি দলের পূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য সংগঠনও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও বিএনপির জেলা কমিটিও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াধীন।

বিএনপির অন্দর মহলে গুঞ্জন রয়েছে, খালেদা জিয়ার প্যারোলের মুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং দুই জোটকে পাশাপাশি রেখে আন্দোলন চাঙ্গার চেষ্টা করছে।

সূত্র মতে, নেতাকর্মীরা যেকোনো উপায়ে খালেদার মুক্তি চায়, তার সুচিকিৎসা চায়। প্যারোল বিষয়টি নিয়ে যখন আলোচনা, তখন নেতাকর্মীরা মনে করছেন বিষয়টি হয়তো ভেতরে ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। সম্ভবত শিগগিরই খালেদা মুক্ত হবেন। প্যারোল মুক্তি হলে সেটা বিএনপি তথা খালেদার জন্য এক প্রকার রাজনৈতিক পরাজয় হবে। খালেদার মুক্তি দাবির আন্দোলনে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন, যাতে প্যারোল ইস্যুটা ধামা চাপা দিয়ে বলা যায় আন্দোলনের কারণে খালেদার মুক্তি হয়েছে, প্যারোলে নয়। এটা হলো রাজনীতি। বিএনপি সেটাই করছে।

প্যারোলে মুক্তি ইস্যুর বিষয়টি সামনে আসার কারণে কি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির আন্দোলন চাঙ্গার চেষ্টা হচ্ছে- জানতে চাইলে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আউয়াল খান বলেন, ‘না, প্যারোল ইস্যুর জন্য নয়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন আগে থেকেই চলছিল, নির্বাচন উপলক্ষে কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। নির্বাচনের পর দলকে সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করতে তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমাদের অঙ্গসহযোগী সংগঠনসমূহ গোছানোর কাজ চলছে এবং নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন চাঙ্গা হচ্ছে। এর সঙ্গে প্যারোলের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর আমরা তো ন্যায়বিচার চাই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আদালত যদি তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে তাহলে খালেদা জিয়া জামিন পেতে পারেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের আন্দোলন।’

প্যারোল ইস্যুর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আন্দোলন চলছে। অপেক্ষা করতে হবে গণঅভ্যুত্থানের জন্য। যেহেতু গণতন্ত্র, আইনের শাসন নেই, অভ্যুত্থানের জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে। সেটা দিনক্ষণ ঠিক করে হবে না। কবে হবে বলা মুশকিল। তবে হবে! কারণ সব কন্ডিশন হওয়ার মতো অবস্থায় চলে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার প্যারোল দেয়ার জন্য পাগল হয়েছে। কোন মামলাটা জামিন অযোগ্য? সরকার প্যারোল দিতে চাইলে জামিন দেবেন না কেন? সরকার প্যারোল দিতে এত পাগল কেন? কোন উদ্দেশ্যে? আমাদের কথা স্পষ্ট দেশনেত্রী প্যারোলে যাবেন না। জামিন নিয়ে বের হতে চান, সেই আইনের শাসনটা নিশ্চিত করতে হবে।’

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো কিছু বলতে রাজি হননি।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে খালেদার মুক্তি দাবির আন্দোলন স্তিমিত ছিল। প্যারোল ইস্যুটা সামনে আসার কারণে কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে, সে রকম কিছু না। ম্যাডামের মুক্তির দাবিতে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম ছিল, এটা বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্নভাবে চলছিল। কখনও একটু জোরদার, কখনও একটু কম ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন উনি অনেক অসুস্থ। উনার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং ওনার পছন্দমত হাসপাতালে চিকিৎসা হওয়া দরকার, সেটা দেশেই হোক আর দেশের বাইরেই হোক, এ সিদ্ধান্ত উনিই নেবেন। তো আমাদের দাবি হলো ওনাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। কারণ যেসব মামলায় উনি আবদ্ধ এসব মামলায় তার জামিন হতে পারে এবং মুক্ত হতেই পারেন।

khaleda-20190204124344.jpg

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। এ জন্য বিচারক মামলার শুনানি আজকের মতো মুলতবি রেখে আগামী নতুন করে এ দিন ধার্য করেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন।

khaleda-wheel-chair-20190319153146.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে রাজি নয়, তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি পেতে চান। এমনটাই জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার একাধিক আইনজীবী।

শারীরীক অসুস্থতার কারণে গত ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমইউ্‌এইচ) আনার পরে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বিএনপি নেতা ও আইনজীবীদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে প্যারোলে বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে ন্যূনতম সায় নেই তার। বাংলা নববর্ষের দিন বিএনপি চেয়ারপারনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দলের নীতিনির্ধারক ফোরামের তিন সদস্য। তাদের কাছে আবারও প্যারোলের ব্যাপারে অনাগ্রহের বিষয়টি জানিয়ে দেন খালেদা জিয়া।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিএসএমএইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান দেখা করেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি ওঠে।

এ সময় তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, আমি কেন প্যারোলে মুক্তি নেবো? আমি তো আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়ার অধিকার রাখি। প্যারোল মানে হচ্ছে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি।

বিএসএমএইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে আসা নাম প্রকাশে অনাগ্রাহী এক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমাকে বিরুদ্ধে করা মামলার সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আদালতে আপিল করা আছে। জামিনে মুক্তি পাওয়া আমার ন্যায় সঙ্গত অধিকার। মামলাগুলোতে জামিন পেতেই যা করার করবো। প্যারোলে মুক্তি নেবো কেন।’

ওইনেতা আরও জানান, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। আলাপের সময় কখনো কখনো তিনি হাত তুলে বা নেড়ে কথা বলতে পারছিলেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যথার কারণে তিনি পা নাড়াতে পারছিলেন না। কখনো কখনো তার মুখের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। তবে তার প্রতিটি বাক্য ছিল গোছালো। নিজে অসুস্থ হলেও দলের কয়েকজন নেতার মৃত্যু ও অসুস্থতার ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হওয়া ৬ জনের সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে যে গুঞ্জন রয়েছে সেটা নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার পরিবার বা দলের নেতাকর্মীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে যে কোনো মূল্যে নেত্রীর মুক্তি চাইছেন। তাই বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সামনে এনেছেন। কিন্তু যেখানে জামিনে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের ন্যায় সঙ্গত অধিকার, সেখানে প্যারোলের মতো শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি চান না তিনি। কিছুদিন আগে একবার প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তার কড়া ধমক খেয়েছেন কয়েকজন আইনজীবী। খালেদা জিয়া অনাগ্রহী হওয়ায় হালে পানি পায়নি প্যারোলের মুক্তির আয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছর সাজা দেন খালেদা জিয়াকে। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির আবেদন (রিভিশন) করে দুদুক। দুদুকের আবেদন গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সাজা দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। এটিও শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

khaleda-wheel-chair-20190319153146.jpg

বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তিনি ‘অত্যন্ত অসুস্থ’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বেশ অসুস্থ, অত্যন্ত অসুস্থ। উনি খেতে পারছেন না এখনো। এখনো তিনি পা বেন্ড করতে পারেন না। তার বাম হাত সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। অর্থাৎ বাম হাতটায় কাজ করতে পারছেন না। এই অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ আছেন। আগের চেয়ে খুব বেশি ইম্প্রুভ করেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বার বার যেটা বলেছিলাম যে, তার স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট দরকার সে ট্রিটমেন্ট এখনো শুরু হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। আজকেও আমরা বলছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো হোক। এটা জরুরি।’

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডাম দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বলেছেন যে, দেশবাসী যেন সচেতন হয় এবং এরজন্য কাজ করে।’

প্যারোলে মুক্তি ও সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘না এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। আমরা তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে আসছিলাম, তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকে প্রবেশ করেন। বিকেল ৫টায় তারা বেরিয়ে আসেন।

গত ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া এই ব্লকের ৬ তলায় ৬২১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই হাসপাতালে আসার পর এটিই নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাত।

সাক্ষাতের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম তাঁর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করার জন্য। তো আমাদেরকে এর আগে অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রত্যেকবার বাই নেম দিয়ে দেয়। এটা আজকে দিয়েছে।’

khalada-01-20190403221229.jpg

উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ঈদের আগেই কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন- দলটির অন্দরমহলে এমনই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

দলীয় সূত্র জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ঈদের আগেই সৌদি আরব অথবা যুক্তরাজ্য যাবেন খালেদা জিয়া। সরকারের সঙ্গে বিএনপির এ নিয়ে একটা সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে।

গত ১৫ মার্চ বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে এ প্রস্তাব দেন। তাদের একজন দলের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়, অন্যজন সিনিয়র নেতাদের খসড়া লেখক হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে গত ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। ওই বৈঠকে দলীয় নেতারা চেয়ারপারসনের প্যারোল নিশ্চিত করতে কূটনীতিকদের সহায়তা চান।

সূত্র বলছে, সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তথা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডা. মামুনকেও রাখা হয়েছে। এখান থেকেই তাকে বিদেশে পাঠানো হবে।

অপর একটি সূত্রের খবর, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে যারা অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তারা এক পরিচ্ছন্ন নেতাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে সমঝোতার মাধ্যমে প্যারোল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাইছেন। সংগঠন শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় যেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় সেখানে তারা আপস করে খালেদা জিয়ার আপসহীন উপাধিকে ম্লান করতে চাইছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের কাছ থেকে মর্যাদাবঞ্চিত সিনিয়র নেতারা এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া বাইরে না থাকলে শেষ বয়সে রাজনীতিতে তাদের করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সনকে সামনে রেখে বাকি জীবন তারা রাজনীতিতে টিকে থাকতে চান। এজন্য প্যারোলের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে যে প্রতিবেদন পাওয়া যায় তা ছিল স্বাভাবিক। পুরনো অসুস্থতাজনিত ছাড়া খালেদার অন্য কোনো সমস্যা উল্লেখ করার মতো ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। খালেদা জিয়াকে হাসপতালে আনা সম্পূর্ণ লোক দেখানো। খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে চাপা আলোচনা চলছে। দলের মধ্যম সারির একটি সূত্র বলছে, দলে গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা আছেন যিনি প্রায়ই ম্যাডামের (খালেদার) মুক্তির দাবিতে গর্জন তোলেন। সেই নেতা ইদানিং নতুন পোশাকে, শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে চড়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যান। তার মুখে এক, অন্তরে আরেক বুলি রয়েছে কিনা- সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ে।

এছাড়া চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার জন্য যেখানে বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি করা হচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করে কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হলো- বিষয়টি অনেককে ভাবাচ্ছে।

খালেদা জিয়া প্যারোল নিয়ে বাইরে গেলে তখন দলের জন্য কী কী ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। তবে সবার ওপরে চেয়াপার্সনের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া যেটা চাইবেন, সেটা হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি হবে। তবে কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কেউ সংশ্লিষ্ট থাকলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। এটা আমি কোনো দিন শুনিনি।’

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমরা জানি না। দল থেকে আমরা এটা কখনও বলিনি। আমাদের দাবি, প্রাইভেট বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন ম্যাডামের চিকিৎসা হয় এবং সর্বোত্তম চিকিৎসা হয়। এটা কীভাবে হবে, কীভাবে করবে- তা একান্তই সরকারের। কারণ তিনি (খালেদা জিয়া) সরকারের কাস্টডিতে আছেন, তাই দায়িত্বটাও সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্টি থেকে সরকারের কাছে কখনও প্যারোলে মুক্তির জন্য দাবি বা অনুরোধ করা হয়নি। এটা কোথা থেকে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে আমরা জানি না!’

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘প্যারোলের বিষয়ে আমরা অবগত নই। প্যারোল তো ম্যাডাম চাননি। সরকার প্যারোল দেবে- এমন কোনো প্রস্তাবও আমরা পাইনি।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমিও জানি না।’

kha32.jpg

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬২১ নম্বর কেবিনে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বিএসএমএমইউ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে খালেদার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া। এই মেডিকেল বোর্ডে আরো রয়েছেন রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একে মাহবুবুল হক।

এদিন সকালে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে রাজি হন। এরপর খালেদা জিয়ার ব্যবহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এ তথ্য জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা নিতে রাজি হয়েছেন।

গত মাসের শুরুর দিকেও খালেদা জিয়াকে একবার বিএসএমএমইউয়ে নেয়ার কথা উঠেছিল। তবে খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় তাকে শেষ পর্যন্ত সেবার হাসপাতালে নেয়া হয়নি।

এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হলেও খালেদাকে বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে তারা খুব একটা আগ্রহী নয়। বরং বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির কথা বলা হয়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের এমন চাওয়ার বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আবার খুব একটা আগ্রহ দেখানো হচ্ছে না।

khaleda-20190204124344.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চাইলে সরকার যদি অনুমতি দেয় তা হলে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

সাম্প্রতিক সময়ে খালেদার মুক্তি ও প্যারোলের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে তার চেম্বারে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দণ্ডিত কিংবা হাজতে থাকা যেকোনো ব্যক্তি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মাহবুব।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বেও দেখেছি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিনিও কিন্তু প্যারোলে গিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করে এসেছেন। আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্যারোলে গিয়েই চিকিৎসা নিয়েছেন। অতঃএব প্যারোল সম্পর্কে এ ধরনের বিভ্রান্তি থাকার জন্যই আজকে আপনাদের কাছে এমন বক্তব্য দিচ্ছি।’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্যারোল চাইবেন কি না সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন কারাগারে থাকা দণ্ডিত বা হাজতি যেকোনো ব্যক্তি প্যারোল চাইলে সরকার যদি তাকে প্যারোল দেয় তা হলে যেকোনো আসামিই মুক্তি পেতে পারেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলের প্রসঙ্গে বলছি না, সকল আসামির বিষয়ে আইনমন্ত্রী এক বক্তৃতায় বলার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলছি।’

বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার অন্যতম এই আইনজীবী বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নীতিমালা করা হয় প্যারোলের ব্যপারে। ২০০৭ সালের যে নীতিমালা ছিল সে নীতিমালা বাতিল করে দিয়ে সরকার নতুন নীতিমালা করে। সে নীতিমালা অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি; কয়েদি যাকে বলা হয় বা হাজতি আসামি; যারা সাজাপ্রাপ্ত না হয়েও কারাভোগ করছেন, সবাই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারোলে পেতে পারেন। মৃত্যু, জানাজায় অংশ নেয়া ইত্যাদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকেনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা হাজতি আসামিকে বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারোলে দিতে পারেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, এখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং দিন-তারিখও ঠিক নেই। যতদিন সরকার মনে করবে ততদিন দিতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যে জেলায় আসামি থাকেন, সেই জেলা কর্তৃপক্ষও প্যারোলে দিতে পারেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে যেকোনো ব্যক্তিকে যেকোনো দিন যতদিন খুশি প্যারোল দিতে পারেন।

এ সময় অতীতে প্যারোলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ প্যারোলে মুক্তির কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর আমলে দালাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের জন্য গঠিত আইনজীবীদের চিফ প্রসিকিউটর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ইদানিং আমরা কয়েকটি সংবাদপত্রে কয়েকজন আইনজীবীকে বলতে দেখেছি, সাজাপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না। এ বক্তব্য সঠিক না। তাদের আমি অনুরোধ করব তারা যেন ২০১৬ সালের যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, সে নীতিমালাটা যেন তারা দেখেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকরা যদি তাকে পরামর্শ দেন, স্ট্যান্ডিং কমিটি যদি তাকে পরামর্শ দেয়, সে পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্যারোলে যাবেন কি যাবেন না, এটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যেহেতু খালেদা জিয়া সাধারণ কোনো ব্যক্তি নন, তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক অঙ্গনের শতকরা ৮০ ভাগ লোকের সমর্থনপুষ্ট। অতঃএব তার সিদ্ধান্ত অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে।

খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কি প্যারোলের চিন্তা করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, না, সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমরা তার মামলা করি মামলার ক্ষেত্রে …করি। প্যারোলটা মামলাসংক্রান্ত কোনো ব্যাপার না। এটা একটা বিশেষ বিধান। যখন একটি লোক চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন তার চিকিৎসা দরকার, আর আইন অনুযায়ী আদালতে জামিন পেতে তার অনেক সময় লেগে যেতে পারে। বা অনেক ক্ষেত্রে তারা সাজা বহাল রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইচ্ছা করলে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য দিতে পারেন। বিশেষ কারণে দিতে পারেন। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিকার সংরক্ষণ করা আছে। যেকোনো সময়ের জন্য প্যারোল দিতে পারেন।

খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নীতিনির্ধারক আছেন তাদেরও সিদ্ধান্ত দরকার হবে, যার জন্য তারও সিদ্ধান্ত দরকার হবে। স্ট্যান্ডিং কমিটি যদি তাকে পরামর্শ দেন, সে পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্যারোলে যাবেন কি যাবেন না এটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে টানা এক মাস দুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

khaleda-10.jpg

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীনদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার সব আয়োজনই মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

আর স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে দিনরাত কাটাতে হয় কীট-পতঙ্গে ভরা ধূলিধূসরিত অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। দেশের ভেতরে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত, বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকা এক অসহায় নারী। মনে হয়, এভাবে তাকে তিলে তিলে হত্যারই ষড়যন্ত্র করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘দেশ এক ব্যতিক্রমী দুঃশাসনের মধ্যে নিপতিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধ্বংসধারীরা মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডারের সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের আলোবাতাসহীন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রেখেছে। আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জাতীয় সংসদে অনুগত বিরোধী দলীয় নেতা বানানো হয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রীকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারের স্যাঁতসেঁতে কারা প্রকোষ্ঠে। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার রিক্রুটমেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ডিসিকে করা হয়েছে নানাভাবে পুরস্কৃত।

তাকে কখনও মন্ত্রী বা কখনও এমপি বানানো হয়েছে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের স্ত্রীকে প্রতিহিংসাবশত সাজা দেয়ার জন্যই মিথ্যা মামলা বানিয়ে এখন কারাগারে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেও শুধু ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের আত্মীয় হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন মন্ত্রী ও এখনও এমপি করা হয়েছে একাধিক জনকে।

অথচ বীর সেক্টর কমান্ডারের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাকে কারাগারে যাপন করতে হচ্ছে দুর্বিষহ জীবন।
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন,‘প্যান্ডোরার বাক্স থেকে এখন আসল ঘটনাগুলো বের হতে শুরু করেছে।

থলের বিড়ালকে আর বেশিদিন আটকে রাখতে পারলেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। আসলে সত্যকে ঢেকে রাখলেও তাতে লাভ হয় না। সত্য কুহেলিকার আচ্ছাদন ভেদ করে বের হবেই। মিডনাইট নির্বাচনে আসল সত্যটি এখন সিইসি মুখ ফসকেই বলে ফেলেছেন।

জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া দস্যুতারই নামান্তর। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে সেই দস্যুতারই আচরণ করেছেন সিইসি। ইভিএম চালু হলে নাকি ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির ঝুঁকি কমবে-এমন কথা বলেছেন সিইসি।

জনগণের হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কমিশনে ইভিএম মেশিন প্রকল্প অপরিহার্যতা প্রতিপাদন করার জন্যই কি সিইসি ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? একটি প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণের জন্যই আপনি কি সারাদেশের ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিলেন?

আপনার ব্রেইন চাইল্ড প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের আমানতকে আপনি কেড়ে নিলেন। আজ আপনার এবং আপনার সহচরদের মুখ দিয়েই আসল সত্যটি প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। অথচ আপনি ৩০ ডিসেম্বরের রাত থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের ঝুড়ি ঝুড়ি গালগল্প শুনিয়েছেন মানুষকে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন,’মিডনাইট নির্বাচনের হোতা আপনি। আদর্শগত শূন্যতার কারণে আপনি এতবড় অন্যায়টি করেছেন জনগণের বিরুদ্ধে। এটি অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতি বাস্তবায়ন করতেই আপনি মহাভোট কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করলেন।

আপনার এ বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকল জাতির কাছে। আপনি ২৯ ডিসেম্বর রাতে স্বচ্ছ জালিয়াতি ও মহাকারচুপির ভোট সেরে ফেলেছেন। তবে মনে রাখবেন-পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। আমজনতার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতেই হবে।

সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে এমন অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন,’গত পরশু দিন ঢাকা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন নজিরবিহীন।

ব্যাপকভাবে জালভোট প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সাত দিনের ব্যবধান করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপি প্যানেলের কমিশনার, যে ভোট গণনার দায়িত্বে থাকে, তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে।

তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে একজন কট্টর আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাদলকে। নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা জেলা বার সমিতির নির্বাচন।

সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সাধারণ জনগণের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এখন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত। প্রহসনের পর প্রহসন এবং তামাশার নানা অভিনবত্ব অবলোকন করছে দেশবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সুকোমল বড়ুয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

khaleda-20190204124344.jpg

নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১২টা ৩২ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে হুইল চেয়ারে করে তাকে হাজির করা হয়। এ কারাগারেই সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন। আজ খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার অপর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন। এরপর তিনি সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অপর আসামি শহিদুল হকের পক্ষে অপর এক আইনজীবী আংশিক শুনানি করে সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।