জাকারবার্গ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

facebook-1.jpg

বিগত তিন বছর ধরে অফিসিয়ালি ফেসবুকের কাছ থেকে ১ ডলার করে বেতন নেন ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ।

তবে জাকারবার্গ তার নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জন্যই ফেসবুক গত বছর খরচ করেছেন ২.৬ কোটি মার্কিন ডলার।

শুক্রবার ফেসবুকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর সিএনএনের।

জাকারবার্গ নিরাপত্তার জন্য ২০১৭ সালে ফেসবুক খরচ করেছিল ৯০ লাখ ডলার। আর নিজের প্রয়োজনে বেসরকারি বিমান ব্যবহার করার জন্য গত বছর ফেসবুক আরও ২৬ লাখ ডলার খরচ করেছে জাকারবার্গের জন্য।

ফেসবুকের তরফে বলা হয়েছে, ওই খরচটাও মূলত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক।

সম্প্রতি বছরগুলোতে বেশ সমালোচনার মধ্যেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিকমাধ্যমটি।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য কেলেঙ্কারিসহ অনেকবার তথ্য ফাঁস নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

facebook-1.jpg

প্রযুক্তি দুনিয়ার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর পদচারণা। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্ক জাকারবার্গ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এর গ্রাহক সংখ্যা ১০০ কোটি।

আর এ ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের তথ্য সারা দুনিয়ার সাথে শেয়ার করার বিষয়টিকে আজকাল আর মোটেও ফ্যাশন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।বরং অচেনা দুনিয়ার সামনে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য উদোম করে দেয়াটিকে আজকাল সেকেলেই ভাবা হচ্ছে।

তাই, সেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জায়গা থেকেই ফেসবুকের ‘ফেস রিগকনিশান’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চেহারা চিনে ফেলার প্রযুক্তির সমালোচনা চলছে।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটিকে ব্যক্তির মুখ চিনে ফেলার বিষয়টিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছেন ক্যাম্পেইনার বা প্রচারণাকারীরা।

তাই সব মিলিয়ে পরিস্থিতির চাপে ফেসবুকের গোপনীয়তার নীতিতে সামনেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি নিজের একটি ব্লগ পোস্টে এই বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন মার্ক জাকারবার্গ।

মি. জাকারবার্গের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ফেসবুকের আলাপচারিতাকে আরো বেশি ইনক্রিপশান বা গোপনীয়তার নীতিতে আনতে চাচ্ছেন।

দুইজন ব্যক্তি যখন ফেসবুকে চ্যাট করবেন বা বার্তা আদান-প্রদান করবেন তখন সেগুলো, ভবিষ্যতে এনক্রিপটেড থাকবে বলে জানিয়েছেন মি. জাকারবার্গ।

এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের কিংস কলেজের মিডিয়া, কমিউনিকেশন এন্ড পাওয়ার বিভাগের ড. মার্টিন মুর বলেছেন, মি. জাকারবার্গ হয়তো চীনের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

স্টিকার কমেন্ট কি ফেসবুক আইডি বাঁচাতে পারে?

যেভাবে ফেসবুক বা ইউটিউবে নজরদারি করবে সরকার

ফেসবুক ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্কতা: কী আছে সরকারি নীতিতে?

দুইজন ব্যক্তি যখন ফেসবুকে চ্যাট করবেন বা বার্তা আদান-প্রদান করবেন তখন সেগুলো, ভবিষ্যতে এনক্রিপটেড থাকবে বলে জানিয়েছেন মি. জাকারবার্গ

ড. মুর বলছিলেন যে, চীনে উইচ্যাট বলে যোগাযোগের যে অ্যাপটি রয়েছে সেটির ব্যবহার করতে হলে এখন একটি নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। উই চ্যাটের এখন গ্রাহক ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি।

বিজ্ঞাপন না নিয়েও যে এই পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জন করা যায় সেই বিষয়টিই এখন হয়তো ফেসবুককে আকর্ষণ করছে বলে মনে করছেন ড. মার্টিন মুর।

তবে, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক চলছে। চেহারায় বা চুলে খুব সামান্য একটুখানি হেরফের আনলেই ফেসবুক রিকগনিশন প্রযুক্তিকে খুব সহজেই ফাঁকি দেয়া যায় বলেও মত তুলে ধরেছেন অনেকে।

এই বিষয়ে প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল এর ফ্রেডরিক কালটিওনার বলছেন, নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি দুই ধরণের প্রশ্নের জন্ম দেয়। এরমধ্যে এই ধরণের প্রযুক্তি ব্যাবহার কতখানি বিশ্বাসযোগ্য সেটি হচ্ছে একটি প্রশ্ন। আর আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার আদৌ যথার্থ কিনা?

এসব প্রশ্নের কারণেই ফেসবুক রিকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে এখন সাধারণের মাঝেও বিতর্ক চলছে। ফেসবুক এমন একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যার ফলে সারা বিশ্বকে সবার হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। মানুষকে এমন একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে ফেসবুক যা সামাজিক যোগাযোগকে সহজ থেকে অতি সহজ করে দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

facebook.jpg

পনেরো পেরিয়ে ষোলো বছরে পা রেখেছে ফেসবুক। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এটি যার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। তবে এই অবস্থায় আসতে কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি ফেসবুককে।পনেরো বছরের দীর্ঘ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে মার্ক জাকারবার্গের। একসময় তার কাছে লোভনীয় সব অফার আসে ফেসবুক বিক্রি করে দেয়ার জন্য। কিন্তু দূরদর্শী হওয়ার কারণে তিনি সেটা করেননি।

ডেভিড কার্কপ্যাট্রিক তার ‘দ্য ফেসবুক ইফেক্ট’ বইটিতে ফেসবুক সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ওই বইটিতেই জাকারবার্গের দূরদর্শিতার বিষয়টি উঠে আসে।শুরুর দিক থেকে ফেসবুক বেশ জনপ্রিয় এবং অন্যান্য কোম্পানির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে ডেভিড কার্কপ্যাট্রিক তার বইয়ে উল্লেখ করেন। ফলে তারা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে বিভিন্ন অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিক্রি করে দিতে প্রলোভন দেখান। অবশ্য জাকারবার্গ বারবারই সফলতার সঙ্গে এসব প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছেন।অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় ফেসবুককে কিনতে আগ্রহী ছিল। এরকম কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হলো-

  • শুরুর দিকে, ২০০৪ সালে ফেসবুক যখন ‘দ্য ফেসবুক ডট কম’ নামে পরিচিত ছিল তখনও এটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। ফলে তখনই এটা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে নিউইয়র্কের একটি প্রতিষ্ঠান। চালুর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফেসবুককে কেনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করে। এসময় ফেসবুকের বয়স ছিল মাত্র ৪ মাস।
  • ফ্রেন্ডস্টার নামক প্রতিষ্ঠান ফেসবুককে কেনার চেষ্টা করেছিল। তারা বিভিন্ন প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে সেগুলোতে কাজ হয়নি।
  • ২০০৪ সালের গ্রীষ্মে ফেসবুককে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে গুগল। এসময় গুগলের বেশ কয়েকজন এক্সিকিউটিভ ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সে আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।
  • ২০০৫ সালের মার্চে ভিয়াকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুককে কিনতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এসময় তারা ফেসবুককে ৭৫ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করে।
  • ফেসবুককে কেনার চেষ্টা থেকে বাদ যায়নি ইয়াহু-ও। ২০০৬ সালে তারা ফেসবুককে কেনার জন্য বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠে। তখন ইয়াহু ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দেয়। তবে ফেসবুক তাতে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে আবারও তারা ফেসবুককে কেনার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অংকের অর্থ প্রস্তাব দেয়। ফেসবুক সেই প্রস্তাবেও সাড়া দেয়নি।

এগুলো ছাড়াও মাইস্পেস, এনবিএল, এওএল, মাইক্রোসফট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান ফেসবুককে কিনতে বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জাকারবার্গ এসব প্রস্তাব সফলতার সঙ্গে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন।