জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

dt008727.jpg

একাদশ সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে শোবিজেও। এরই মধ্যে বেশ কজন তারকা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এবার জানা গেল দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় একঝাঁক তারকা শিল্পী অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ হাসান, রিয়াজ, শাকিল খান, ফেরদৌস, অরুণা বিশ্বাস, সাদিয়া ইসলাম মৌ ও শমী কায়সার। মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার উপকমিটির এক বৈঠকে হাজির হন তারা।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জাহিদ হাসান, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল খান, অরুণা বিশ্বাস, সাদিয়া ইসলাম মৌ ও শমী কায়সার। আগামী সপ্তাহ থেকে তারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন। এটা আজ আমাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।

dt008672.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। শুরুতেই ফেনী-১ আসনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে ফরম সংগ্রহের মাধ্যমে শুরু হয় মনোনয়নপত্র বিক্রি।

dtEC-2.jpg

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর দাবি করেছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পেছানো হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আজ।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চেয়েছিলাম। আমরা আপনাদের মাধ্যমে (গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর) জানতে পেরেছি, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তাদের কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে ইসিতে চিঠি দিয়েছে। সব দল আসুক। আমরা সোমবার বসে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।

dt008651.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।তবে এক মাস পিছিয়ে নতুন তফসিলের দাবি জানানো হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের তরফ থেকে।

এরআগে শনিবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন নির্বাচনের আসার বিষয়ে রোববার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এবারও দলটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। পাশাপাশি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার কারামুক্তিও দাবি বিএনপির।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তরফ থেকে তাদের এসব দাবি মানার বিষয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত মাসে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে দুই দফা সংলাপেও বসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

dt008649.jpg

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন পেছাবে কি পেছাবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পেছানোর এখতিয়ার সরকারের নেই।
আজ রোববার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনে যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তা যৌক্তিক। আমরা স্বাগত জানিয়েছি।
বিএনপি নির্বাচন পেছানোর দাবি বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন কমিশন একটি দলের দাবির মুখে নির্বাচনের তারিখ পেছাতে পারে না বলেও মন্তব্য করে তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে বহু দল অংশ নেবে। বিএনপি কিংবা তাদের জোটের বাইরেও আমরা আছি, ১৪ দল আছে, বিরোধী দল আছে; তাদের মতামতও ইসিকে বিবেচনায় নিতে হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ তফসিলকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল স্বাগত জানালেও বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি করেছে।

dt008628.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডে ম্যাচের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডি কার্যালয়ে আসবেন।

আজ শনিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান তাঁদের নিজ নিজ জেলা নড়াইল ও মাগুরার নির্বাচনী আসনে ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ মে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের নির্বাচন করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপের আগে সাকিব ও মাশরাফি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না।’

dt-cec-1.jpg

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (০৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে ভাষণের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
আজ বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতির উদ্দেশ্যে সিইসি কে এম নুরুল হুদার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত হবে।
এর আগে আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, আগামীকালই (৮ নভেম্বর) তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা এর আগেও সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের শুরুতে তিনি একথা বলেন।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ৮ নভেম্বর তফসিল দিয়ে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

mirza-fokrul-bnp.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংলাপ শেষে তিনি এ কথা বলেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপ পুরোপুরি ফলপ্রসূ হয়নি, আলোচনা ও আন্দোলন একসাথেই চলবে। তারা একগুয়েমি ছাড়েনি। তবে আরো আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ২টার কিছু পরে।
এদিকে সংলাপে সমঝোতার লক্ষ্যে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছন। এর মধ্যে রয়েছে- যে কোনো মূল্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনীকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্ট থেকে স্বরাষ্ট্রসহ চারমন্ত্রী, তফসিল ঘোষণা পেছানো এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও আসামিদের সংখ্যার তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে বিএনপি

dt008596.jpg

আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো সংলাপে বসেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজকের সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একজন উপদেষ্টা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টাবিশিষ্ট নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ হয়ে যায় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপে গণভবনে এসে লিখিতভাবে এই প্রস্তাব দেয়। আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়ে সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একমত হতে পারেনি।

বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন চায়। কিন্তু এটা হলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচন পেছানোর কথা না বলতে ঐক্যফ্রন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কাদের আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও ১০ জন উপদেষ্টার বিষয়ে প্রস্তাব মানা হবে না, কারণও নেই।

ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা সংবিধানসম্মত না। এই দাবি মেনে নিলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ৭টি দাবি আবারও জানিয়েছে।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা সংলাপ বেলা দুইটায় শেষ হয়। দুই পক্ষের পৃথক অবস্থানে কোনো পক্ষই ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গণভবন থেকে বের হন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর কথা বলেছে। তবে আওয়ামী লীগ বা সরকার বলেছে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন চাইছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাত দফার বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি না, জামিন চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা আদালতের বিষয়।

bandarban.jpg

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৩০০নং আসন। এ আসন আবারও ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে নিজেদের কোন্দল মিটিয়ে আওয়ামী লীগের দূর্গে হানা দিতে চায় বিএনপি। এছাড়াও আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিসহ অন্য সংগঠনগুলোও একক প্রার্থী দিয়ে ছিনিয়ে নিতে চায় বিজয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, আর কোন দল কাকে সমর্থন দিচ্ছেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বান্দরবানে রাজনৈতিক অঙ্গন জমে উঠেছে ।

সংসদীয় এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার ৬৯৩ জন। আর পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ জন ।

১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন সাচিং প্রু জেরী। পাল্টা হিসেবে রাজ পরিবারের আরেক অংশ তার বিপক্ষে মাঠে নামে। ২০০১ সালে সাচিং প্রু জেরী ও মাম্যাচিং দুজনই সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন এবং দুজনই আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুরের কাছে পরাজিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান মাম্যাচিং। তখন সাচিং প্রু নির্বাচন না করলেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ার কারণে মাম্যাচিং মাত্র ৮৫৩ ভোটে বীর বাহাদুরের কাছে হেরে যান।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচঙ্গ্যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে রাজনীতির মাঠে ক্লিন ইমেজের কারণে বীর বাহাদুর পঞ্চমবারের মতো তার ধারাবাহিক বিজয় অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পরেও বিএনপির অন্তঃকোন্দল এখনও থামেনি। দুই নেতাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত অবস্থায় বিএনপির কর্মীবাহিনী। কোন্দলে বান্দরবান জেলাজুড়ে নাজুক অবস্থা বিএনপির। সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী আর বর্তমান সভাপতি মাম্যাচিং সমর্থকরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো পালন করেন আলাদা আলাদাভাবে। একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য দুই পক্ষই জড়িয়েছে সংঘাত আর মামলায়। আর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে প্রকাশ্যে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে না পারলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

লামা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে কেন্দ্রে জানানো হয়েছে । দ্রুত উভয়কে নিয়ে বসে সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব।

এদিকে, বিএনপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মাম্যাচিং যেহেতু জেলা বিএনপির সভাপতি সেক্ষেত্রে ক্ষোভ প্রশমনে এবার সাচিং প্রু জেরীর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। যদিও সাচিং প্রু জেরী মনোনয়ন পান এরপরও মাম্যাচিং গ্রুপ বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে তার বিপক্ষে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা বলেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে যায় তাহলে প্রার্থী যাকেই দেয়া হোকনা কেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।

এদিকে, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর সংগঠন বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচঙ্গ্যাকে বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ দলীয় সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

আর ২০১৫ সালের জুন মাসে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলার অভিযোগে কাজী মুজিবুর রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর এই দুই নেতা দুই মেরুর হলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতারা ।

এই ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষী পদ দাশ বলেন, প্রসন্ন, মুজিব দলে থাকা অবস্থায় আমরা একটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি। তাদের যদি কেউ প্রার্থী হয় তাহলেও বীর বাহাদুরের আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে কোনো প্রভাব পড়বেনা।

বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি একে এম জাহাঙ্গীর বলেন, দলে কোনো সংকট নেই, অতীতে দলের সঙ্গে বেঈমানি করে অনেকে প্রার্থী হলেও তারা পারেনি। তারা সাকসেস হয়নি। সামনেও কেউ নির্বাচনে দাঁড়ালে হবে না এবং আগামী নির্বাচনে বীর বাহাদুর এই নির্বাচিত হবেন।

এ দিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ নেতা মংপ্রু মার্মা অপহরণ মামলায় বান্দরবান জেলা জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ঘরছাড়া হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জেএসএস। তবে জনসংহতি সমিতির বিরোধিতার কারণে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া আওয়ামী লীগের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জলি মং মার্মা বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমেছে।

অন্যদিকে, জেলায় জাতীয় পার্টি ও ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর রাজনীতি থাকলেও ইউপিডিএফ থেকে ছোটন কান্তি তংচঙ্গ্যাকে প্রার্থী হিসেবে আর জাতীয় পার্টি থেকে কেশৈঅং মার্মাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে ।

এদিকে, একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরা বীর বাহাদুরের ক্লিন ইমেজ, রুমা সাঙ্গু সেতু নির্মাণ, থানচি সাঙ্গু সেতু নির্মাণ ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহসহ স্থানীয়দের স্বপ্নের শত শত উন্নয়ন কাজগুলো এলাকার হোম টু হোম দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরে এখন থেকেই নির্বাচনে নিজেদের ঘাঁটি অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।