জালিয়াতি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

vua232.jpg

নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

শনিবার অফিস সহায়ক নিয়োগ পরীক্ষার সময় পাঁচ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটককৃত পরীক্ষার্থীরা হলো নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার গরমা গ্রামের মো. আল মামুন তালুকদার, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেওলা শিবপুর গ্রামের মো. হামিম, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের মো. আকরাম হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মজলিশপুর গ্রামের মো. তাকরিম আহমেদ ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বিরই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা রাজধানীর ৮টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার এর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় এই পরীক্ষার্থীদের আচরণ এবং প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষকের সন্দেহ হয়।

এ সময় তাদের লিখিত পরীক্ষায় দেয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা করলেও তার জবাব তারা মৌখিক পরীক্ষার সময় দিতে ব্যর্থ হন।

এ সময় বোর্ডের সদস্যরা তাদের হাতের লেখা মিলিয়ে দেখেন উত্তরপত্রে উল্লেখিত হাতের লেখা তাদের নয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আল মামুন তালুকদার স্বীকার করেন, তার লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন জনৈক সৈকত জামান।

অপর পরীক্ষার্থী মো. হামিম স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মো. কেফায়েত উল্লাহ খন্দকারের ছেলে মো. সুমন খন্দকার।

পরীক্ষার্থী মো. আকরাম হোসেন জানায় লিখিত পরীক্ষায় তার পরিবর্তে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার হারুন মাতুব্বরের ছেলে জুয়েল মাতুব্বর অংশ নেয়।

পরীক্ষার্থী তাকরিম আহমেদ স্বীকার করে যে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে তার পরীক্ষা দিয়েছে জনৈক ওমর ফারুক।

অপর পরীক্ষার্থী মো. আনোয়ার হোসেন স্বীকার করেন বিআরডিবিতে চাকরিরত জনৈক আলমগীর কবির সরকারের মাধ্যমে একজনের সঙ্গে চুক্তি করেন। ঐ ব্যক্তি তার পরীক্ষা দিয়েছে।

Asma-Begum.jpg

ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার আবেদন করায় জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছমা বিবিকে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জয়পুরহাট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা মণ্ডল রীনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের পদে থেকে আছমা বিবি জন্ম সনদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সনদ তৈরিসহ অন্যান্য কাগজপত্র জালিয়াতি করে বীরাঙ্গনা হওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আছমা বিবি ছিলেন পাঁচ বছরের শিশু। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর তিনি ওই সময় ২১ বছর বয়সী তরুণী ছিলেন বলে দাবি করেন এবং এ ব্যাপারে একাধিক সনদ ও প্রত্যয়ন পত্র জাল করে বয়স বাড়িয়ে তিনি বীরাঙ্গনার জন্য আবেদনও করেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে। এনিয়ে গেজেটভুক্তির সুপারিশও করেন উপজেলার সরকারি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

কিন্তু এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার হলে ভেস্তে হয়ে যায় আছমার বীরাঙ্গনা খেতাবসহ অঢেল অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা।

এ ব্যাপারে আছমার প্রতারণার সত্যতা পাওয়ায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

bubly-vhi-2-20181120113944.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথমবারের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলীর ভাই জাহিদ হাসান আকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দ্বিতীয়বার আয়োজন করা হয় পরীক্ষার। তবে সোমবার ‘ঘ’ ইউনিটের এই পুনঃভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেননি জাহিদ হাসান আকাশ নামের ঐ শিক্ষার্থী।

গত ১৬ অক্টোবর ‘ঘ’ ইউনিটের ফাঁসকৃত প্রশ্নের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে ১১৪ দশমিক ৩০ পেয়েছিলেন জাহিদ হাসান আকাশ। এর আগে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার ইতিহাসে কখনো কেউ এত নম্বর পায়নি । ওই ফলাফলে এই শিক্ষার্থী বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০ পেয়েছিলেন। ব্যবসায় অনুষদ পড়ে আসা এই শিক্ষার্থী ‘ঘ’ ইউনিটে মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১৪.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকার বাণিজ্য শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এই স্কোর ছিল গত ২০ বছরের রেকর্ড।

অথচ নিজের ইউনিট ‘গ’ তে অংশ নিয়ে আকাশ বাংলায় ১০.৮, ইংরেজিতে ২.৪০সহ মোটা ১২০ এর মধ্যে ৩৪.৩২ পেয়েছিলেন। এজন্যই প্রশ্ন ওঠে তার সফলতা এবং মেধা নিয়ে।

পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ার পর পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি ওঠে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ১৬ নভেম্বর ‘ঘ’ ইউনিটে পুনঃভর্তি পরীক্ষা নেয়। কিন্তু জাহিদ সে পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার কথা শোনা গেছে। তবে কি জাহিদ পূরনো জালিয়াতি ধরা পড়ার ভয়ে পরীক্ষা দেয়নি। পুনঃভর্তি পরীক্ষায় ১৬ হাজার ১৮১ জন ভর্তিচ্ছু অংশ নেয়।

গত ১৭ অক্টোবর ‘সি‌নেমার গ‌ল্পের ম‌তো বুবলীর ভাইয়ের জালিয়াতি?’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যেমে। খবরটি হুবহু তওলে ধরা হল-

সময়ের আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলীর একমাত্র ছোট ভাই জাহিদ হাসান আকাশ সি‌নেমার গ‌ল্পের ম‌তোই হঠাৎ তু‌খোড় মেধাবী ছাত্র হ‌য়ে গেল। ইউনিটের পরীক্ষায় যে পাসই করেনি, আর ঘ ইউ‌নি‌টে প্রথম!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর)। এতে ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর আগে পরীক্ষার দিনই এই ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের মধ্যেই ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেখানে মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের দুই ইউনিটের ফলাফলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।

জাহিদ হাসান আকাশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর তিনি ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তির জন্য ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেন। সেখানে ব্যবসায় শাখা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এই শিক্ষার্থী বাণিজ্য অনুষদে ভর্তির জন্য দেওয়া গ ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন।

ঢাবির গ ইউনিটের পরীক্ষায় ফলাফলে দেখা যায় তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮, ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ২.৪০। অথচ এই শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০ পেয়েছেন। যা রেকর্ড বলা যায়।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আসা এই শিক্ষার্থী ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ৩৪.৩২। অথচ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১৪.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকার বাণিজ্য শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ বছরে ১২০ এর মধ্যে ১১৪.৩০ কেউ পায়নি। দ্বিতীয় স্থানে যিনি রয়েছেন তিনি ১২০ এর মধ্যে পেয়েছেন ৯৮.৪০। মেধাক্রমে যার ব্যবধান অনেক।

আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম বিন আলম ঢাবি ঘ ইউনিটে (বিজ্ঞান শাখায়) প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ বিজ্ঞান শাখার এই শিক্ষার্থী তার নিজের অনুষদ ক ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ৪৩.৭৫ পেয়ে ফেল করেছিলেন। সেই তিনিই ঢাবি ঘ ইউনিটে সে ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০৯.৫০ পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকার বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

kubi.jpg

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসময় জালিয়াতির অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৫টি কেন্দ্রে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযায়, ‘বি’ ইউনিটের নির্ধারিত সবগুলো কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রে ৫০১ নং কক্ষে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত শিক্ষক মিনহাজ নামে একজনকে আটক করে। একই অভিযোগে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্র থেকে মো. মিজানুর রহমান নামে আরেকজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, দুইজন শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে ঘষামাজার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে, তাদের পুলিশে সোর্পদের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটে (কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) আটটি বিভাগের অধিনে ৪৫০ টি আসনের বিপরীতে ২৪ হাজার ২৩২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। ‘বি’ ইউনিটে একটি আসনের বিপরীতে ৫৪ জন ভর্তিচ্ছু ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা এবং বিকাল ৩টা থেকে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।