ট্রাম্প Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Ruhani.jpg

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় মানেই হলো ইরানের বিজয়।

দেশটির মন্ত্রিসভায় বুধবার এক ভাষণে রুহানি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প প্রশাসন গত তিন বছর ধরে অন্যায়ভাবে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে অন্যায়ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে দাবি করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।  খবর তাসনিম নিউজের।

তিনি আশা করেন, বাইডেন প্রশাসন মার্কিন ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে মিথ্যা অভিযোগে ট্রাম্পের আমলে আরোপ করা সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

হোয়াইট হাউসে বাজতে শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের ঘণ্টা। নাটকীয় নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গত চার বছর প্রায় প্রতিদিন প্রেসিডেন্ট ভবন মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

এমন কম দিনই গেছে, যেদিন সংবাদের শিরোনাম হননি। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এই সত্য ও বাস্তবতা এড়াতে পারছেন না।

পরাজয় না মানলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষমতা ছাড়ার। এখন বিদায় নেয়ার পালা। হোয়াইট হাউসে তাই বিদায়ের করুণ আবহ বিরাজ করছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। অনেকটাই শান্ত হয়ে পড়েছে ওয়েস্ট উইং নামে সবসময় গমগম করা এলাকাটিও।

এদিকে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পুনরুত্থান হয়েছে। অন্যের দ্বারা পরিচালিত হতে নয়, বিশ্বকে এখন নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’ মঙ্গলবার ডেলাওয়ার রাজ্যের উইলমিংটনে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

এ ছাড়া মহামারী করোনাভাইরাস ও জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আটলান্টিকসহ সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে তার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করবেন বলেও জানান বাইডেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরো চিত্রটা পাল্টে ফেলেছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র সর্বাগ্রে একাই রয়েছে।

আমরা একে এমন জায়গায় নেব, যেখানে আমাদের মিত্ররাও সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারে।’

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রায় তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। ভোট গণনা ও বুথফেরত জরিপে পরাজয় স্পষ্ট হলেও তা মানতে অস্বীকার করতে থাকেন ট্রাম্প।

Donald-Trump-1.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তার সমর্থকদের বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দিতে তাদেকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত করতে এ নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছে।

পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে টেলিফোনে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

এ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে বাইডেনের জয়লাভের তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর ট্রাম্প তার সমর্থকদের প্রতি এমন আহ্বান জানালেন।

ট্রাম্প বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ নির্বাচন জালিয়াতিপূর্ণ ছিল।

এদিকে যুক্তিহীন এসব ষড়যন্তের অভিযোগ নিয়ে দেশের আদালতে গেলে বিচারক সেগুলো নাকচ করে দেন। সূত্র : এএফপি

maradona-trump.jpg

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অসম্মান’ করে কথা বলার জন্য তখন ম্যারাডোনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি।

ম্যারাডোনা ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য ভিসার আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে সাবেক স্ত্রীর মামলা মোকাবিলার জন্য এখানে আসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিলে ম্যারাডোনার।

ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাটিয়াস মরলা আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তার মক্কেলের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা না পাওয়ার কারণ তুলে ধরেছিলেন।

ম্যাটিয়াস মরলা জানিয়েছিলেন, ভিসা সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার জন্য তিনি ম্যারাডোনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার কাছে দ্বিতীয় প্রশ্নই ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে তোমার কী ধারণা?

জবাবে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্পকে তিনি একজন চিরোলিটা (পুতুল) মনে করেন।

চিরোলিটা শব্দটি আর্জেন্টিনার আঞ্চলিক ভাষায় তুচ্ছার্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।

তার আগে রাশিয়ান টিভি আরটির এক অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্প তার কাছে এক কৌতুকের মতো।

তাকে কার্টুনের মতো মনে হয়। যখনই তিনি টেলিভিশনে ট্রাম্পকে দেখেন, চ্যানেল বদল করে ফেলেন।

ম্যারাডোনাকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি। দেশটির সঙ্গে আগে থেকেই ম্যারাডোনার সম্পর্ক ভালো ছিল না।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাদক গ্রহণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

তাছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রকাশ্য সমালোচক ছিলেন ম্যারাডোনা।

trump90.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় অস্বীকার ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নিজেকে বিজয়ী দাবি করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প যদি এভাবে নিজেকে বিজয়ী দাবি করে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান তাহলে শেষ পর্যন্ত কী হবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে গত ৭ নভেম্বর।

শুধু অস্বীকারই না, তিনি বরং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে যাচ্ছেন এবং একের পর এক মামলা করেছেন। অবশ্য এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণই হাজির করতে পারেননি ট্রাম্প। তাই মামলাগুলোতেও একের পর এক মার খেয়ে যাচ্ছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক জন প্রার্থীকে জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয় ২৭০ ইলেকটোরাল ভোটের। মার্কিন গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬ ভোট। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ভোট।

কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোতে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প ক্ষমতা ধরে রাখতে ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেন। সংবিধান অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। সেই বিষয়টি সামনে রেখেই নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে ইলেকটর বাছাই করতে রিপাবলিকান নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প।

এর অংশ হিসেবে শুক্রবার মিশিগানের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে তার সেই চেষ্টা গুড়েবালি। মিশিগানের সিনেট সংখ্যগরিষ্ঠ নেতা মাইক শিরকি এবং রাজ্যের হাউজের স্পিকার লি চ্যাটফি ওই দিনই জানিয়ে দেন তাদের রাজ্যে বাইডেনেরই জয় হয়েছে। একই দিন জর্জিয়ায় জো বাইডেনের জয়ের সার্টিফিকেট দিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

ট্রাম্পের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে বাকি ছিল পেনসিলভানিয়া। এই রাজ্যে ৮০ হাজার ভোটে ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন বাইডেন। ডাকযোগে আসা এই রাজ্যের লাখ লাখ ভোট বাতিলের দাবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের করা মামলা শনিবার খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বাইডেনের জয় উল্টে দিতে ট্রাম্পের চেষ্টা এই রায়ের মধ্য দিয়ে মরণ ধাক্কা খেল।

এতোকিছুর পরও ট্রাম্প তার গোয়ার্তুমি ছাড়ছেন না। শনিবারও তিনি নিজেকে বিজয়ী দাবি করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প যদি এভাবে নিজেকে বিজয়ী দাবি করে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান তাহলে শেষ পর্যন্ত কী হবে।

মার্কিন সংবিধানে বলা আছে, অভিশংসন কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অপরাগ হলে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা যায়। তবে কেউ মেয়াদের অতিরিক্ত সময় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তার কোনো বিধান সংবিধানে নেই। কারণ মেয়াদ অতিক্রান্তের পর তিনি আর প্রেসিডেন্ট হিসেবেই গন্য হবেন না।

মার্কিন সংবিধানের ২০তম সংশোধনী অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে নির্বাচনে পরাজিত প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়। আর দুপুর ১২টায় শুরু হয় নতুন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ। ওই সময় শপথ নিতে হয় তাকে। বাইডেন ওই দিন শপথ নিলে স্বাভাবিকভাবে তিনি হবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। আর ট্রাম্প হবেন একজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।

এরপরও ট্রাম্প ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করলে কিংবা হোয়াইট হাউজ থেকে বের হতে না চাইলে নতুন কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বাইডেন সেনাবাহিনী কিংবা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তলব করতে পারেন। এরাই ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ থেকে বের করার কাজটি করবেন।

সুতরাং ট্রাম্প যতোই হম্বিতম্বি করুক না কেন বাইডেন শপথ নিলে তাকে বাক্সপেটরা বগলদাবা করে হোয়াইট হাউজ ছাড়তেই হবে।

putin66.jpg

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এখনও অভিনন্দন না জানানোর কারণ জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বাইডেন বিজয়ী হওয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বিশ্বের অন্যতম পরমাণু শক্তিধর দেশ রাশিয়া।

রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ট্রাম্প এখনও বাইডেনকে বিজয়ী হওয়ার স্বীকৃতি দেননি।

বিরোধীরা তার জয়ের ব্যাপারে বৈধতা না দেয় আমরা এখনও প্রস্তুত নই।

বিরোধীপক্ষ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তার জয়ের বিষয়টি স্বীকার করেনি।  খবর ব্লুমব্লার্গ ও দ্য সানের।

পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের আস্থা রয়েছে এমন যে কারো সাথে আমরা কাজ করবো। কিন্তু সেই বিশ্বাস কেবল এমন প্রার্থীর ওপরই রাখা যায় যার বিজয় বিরোধী পক্ষ দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে অথবা নির্বাচনের ফলাফল বৈধ এবং আইনী উপায়ে নিশ্চিত হওয়ার পর।

তিনি বলেন, বাইডেনকে অভিনন্দন না জানানোর সিদ্ধান্তটি একটি ‘আনুষ্ঠানিকতা’, এর পেছনে অন্য কোন ‘সুপ্ত’ উদ্দেশ্য নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক তাকে অভিনন্দন  জানিয়েছিলেন পুতিন।

ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পেছনে পুতিনের হাত রয়েছে বলেও অনেকে মনে করে থাকেন।

অন্যদিকে মস্কোর সমালোচক বাইডেন নির্বাচনের কয়েকদিন আগেও রাশিয়ার নাম নিয়ে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে চিহ্নিত করেন।

Donald-Trump-1.jpg

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মামলা করেছিলেন ট্রাম্প। তার প্রায় সব মামলাই খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

এবার নির্বাচনের ফল অনুমোদনে বারবার বাধা দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) মিশিগান রাজ্যের ডেট্রয়েট শহরের একটি সংগঠন ও তিনজন ভোটার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জেলা আদালতে এই মামলা করেন।

মিশিগান ওয়েলফেয়ার রাইটস অর্গানাইজেশন নামের ওই সংগঠন ও তিন ভোটার মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিশিগানে নির্বাচনের ফল অনুমোদনে বাধা দেওয়ায় এবং আইনপ্রণেতাদের চাপ দেওয়া থেকে ট্রাম্পকে বিরত থাকতে আদালতকে আদেশ দিতে অনুরোধ করেন।

সেইসঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বঞ্চিত করা বিশেষ করে ওয়েইন কাউন্টির ভোটারদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্প ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের ১১ (বি) ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়,  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিশিগানের ভোটের ফল অনুমোদনে তাঁর দল, রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা মূলত কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত শহরগুলোকে টার্গেট করে ভোটে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ বারবার করছেন এবং এসব অভিযোগ আদালত থেকে খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

এর আগে মিশিগানে ট্রাম্প শিবিরের করা মামলা খারিজ করে দেন স্থানীয় আদালতের এক বিচারক।

গত ৬ নভেম্বর ওই আদালতের বিচারক সিনথিয়া স্টিফেনস মামলাটি খারিজ করে দেন।

trump-biden22.jpg

নির্বাচন নিয়ে, নির্বাচন পরবর্তী গণনা নিয়ে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আস্ফালন করেছেন, একের পর এক মিথ্যে দাবি করেছেন, অপপ্রচার চালিয়েছেন বিরোধী দলকে নিয়ে, তা গণতন্ত্রের কাঠামোকেই ক্ষতবিক্ষত করে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করলেন সদ্যনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্প সবচেয়ে অযোগ্য প্রেসিডেন্ট।

বাইডেন বলেন, ‘সারা পৃথিবীর কাছে গণতন্ত্র নিয়ে মারাত্মক বিকৃত একটা বার্তা দিলেন ট্রাম্প। অথচ আমি নিশ্চিত, যে তিনি নিজে জানেন, তিনি হেরে গেছেন।’

মিশিগানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান বাইডেন। সেখানে মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের।

নির্বাচনে হারা নিয়ে ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা যে রীতিমতো হইচই পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তা নিয়ে সেখানেই মন্তব্য করেন তিনি।

বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্প যে সবচেয়ে অযোগ্য প্রেসিডেন্ট, তার আচরণই তার প্রমাণ।

উনি যে কী ভাবেন নিজেকে আমি জানি না। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, যে উনি নিজে খুব ভাল করে জানেন যে উনি জেতেননি, জিততে পারেন না।

অথচ নিজের হার স্বীকার করা ওর ধাতে নেই।’

সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে যখন ট্রাম্পের আসন টলোমলো হয়ে ওঠে, তাকে হারিয়ে জিততে চলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বিডেন, এমনই সময় কার্যত কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলতে শুরু করেছিলেন, ভোট গণনা পদ্ধতিতে কারচুপি চলছে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের এই অভিযোগের পরে আরও দাবি করা হয়, ভোট ‘চুরি’ করছে ডেমোক্র্যাটরা।

নির্বাচনের গণনা যত এগিয়েছে, একের পর এক প্রদেশে ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী জো বাইডেন যত এগিয়েছেন, রিপাবলিকানদের দাঙ্গা-হাঙ্গামাও তত দ্রুত ছড়িয়েছে। অবশ্য এমনটা যে হতে পারে, সে ইঙ্গিত আগেই ছিল।

কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঠিক হওয়ার সময় থেকেই ট্রাম্প আস্ফালন করতে শুরু করেছিলেন, নিজের হার সহজে মেনে নেবেন না তিনি।

জো বাইডেনের মতে, ট্রাম্প যে জেতেননি, তা তিনি জানতেন, তবু এই সবটাই ট্রাম্প গায়ের জোরে করে গেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।

us-robert-o-brien.jpg

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ও সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছেন বলে মনে করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ ব্রায়ান। পাশাপাশি তিনি বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন বলেও জানিয়েছেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবার্ট ও’ ব্রায়ানের মন্তব্যটি এমন সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জো বাইডেনের জয় মেনে নেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভায় রবার্ট ও’ ব্রায়ান বলেন, বিজয়ী বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের সঙ্গেও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে। এটা স্পষ্ট এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বাইডেন টিম জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলে পদ গ্রহণের জন্য খুব পেশাদার লোক আনার পরিকল্পনা করছে।

যাদের মধ্যে অনেকে কাজটি বোঝে এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে, যোগ করেন ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নিবেন।

তার আগ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজে থাকবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে ইতোমধ্যেই নিজের প্রশাসন গুছিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন বাইডেন-হ্যারিস জুটি।

যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বহিস্কৃত লোকদেরও জায়গা দিচ্ছেন।

trump774.jpg

বাইডেন জালিয়াতি করে জয় পেয়েছেন দাবি করে পরাজয় মেনে নেবেন না বলে আবারও জানালেন ট্রাম্প।

নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে রোববারও (১৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অব্যাহত ছিল ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভ, র‌্যালি।

একই সময়, বিক্ষোভ করেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরাও। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে।

এর মধ্যেই, এক টুইট বার্তায় নির্বাচনে বাইডেন জয়ী হয়েছেন বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে, বাইডেন জালিয়াতি করে জিতেছেন দাবি করে পরাজয় মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।

এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, নির্বাচনে কোন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়নি।

এমনকি গণমাধ্যমগুলোও ভোট কারচুপির বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামীতে কে ক্ষমতায় আসবে তা এখনি বলা যাচ্ছেনা।

এদিকে, টুইট বার্তা দেয়ার পর এদিনও ট্রাম্পকে গল্ফ খেলে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, আগামী দিনগুলোতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় কোভিড মোকাবিলায় জরুরি অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেনের শীর্ষ উপদেষ্টা রন ক্লেইন।

রোববার, এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই, কোভিড মোকাবিলায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে চান।

trump555.jpg

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক নেতা জো বাইডেনের সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও পরাজয় স্বীকার করে নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শুক্রবার করোনা টিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা ‘খেই’ হারিয়ে ফেলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন করতে চাননি। কিন্তু ‘সময় বলবে’ যদি জানুয়ারিতে অন্য প্রশাসন এসে তা করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বাইডেনকে তার উত্তরসূরি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইউরোপের দেশগুলোর মতো যুক্তরাষ্ট্রেও ফের করোনার দৈনিক রেকর্ড সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গেই কোভিড ভ্যাকসিনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন ট্রাম্প। এসময় তিনি মার্কিনিদের আশ্বস্ত করে বলেন, ২০২১ সালের এপ্রিলের মধ্যেই দেশের সবার জন্য করোনার টিকা চলে আসবে।

ট্রাম্প বলেন, আদর্শগতভাবে, আমরা কোনও ধরনের লকডাউনে যাবো না। আমি তো যাবোই না।

এই প্রশাসনই কোনও লকডাউনে যাবে না, আশা করি, ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটুক- কে জানে কোন প্রশাসন হবে! আমার ধারণা, সময়ই বলবে!

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দেশটির সব অঙ্গরাজ্যের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ঘোষিত এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন ৩০৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন।

আর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২ ইলেকটোরাল ভোট।

এর আগে বাইডেনের কাছে নিশ্চিতভাবে পিছিয়ে পড়েও নিজেকে ‘বৈধ বিজয়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প।

ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে কারচুপিরও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি ভোট গণনা বন্ধ, পুনর্গণার জন্য একাধিক অঙ্গরাজ্যে মামলাও করেন ট্রাম্প।