ট্রাম্প Archives - Page 2 of 12 - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

trump-biden22.jpg

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উত্তরসূরি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথগ্রহণ আনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ তথ্য জানান।

বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘জানুয়ারির ২০ তারিখের শপথগ্রহণ আনুষ্ঠানে আমি যাচ্ছি না।’

এর আগে, মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে নিজের সমর্থকদের হামলার সমালোচনা করে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

সেখানে তিনি বলেন, কংগ্রেস একটি নতুন প্রশাসনের অনুমোদন দিয়েছে, যা আগামী ২০ জানুয়ারি অভিষিক্ত হবে।

এখন আমার লক্ষ্য ক্ষমতার মসৃণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন হস্তান্তর নিশ্চিত করা। এখন ক্ষত নিরাময় এবং পুনর্মিলনের সময়।

গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর এটাই প্রথমবার প্রকাশ্যে ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।

অবশ্য ভক্তদের কিছুটা আশার বাণীও শুনিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তার সঙ্গে এই যাত্রা সবে শুরু হয়েছে, এখনো অনেকটা পথ বাকি

trump90.jpg

আবারো বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি একটি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে সিনেটে প্রতিরক্ষা বিলটি পাস হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল যখন তার দলের রিপাবলিকান সদস্যরাও তার মতামতকে অগ্রাহ্য করল। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে আরে আটবার বেশ কয়েকটি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রত্যেকবারই তার সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। সে হিসেবে যে কোনো বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই মেনে নেওয়ার কথা। এতদিন পর্যন্ত অন্তত তাই হয়ে এসেছে। কিন্তু এবার পুরোপুরি তার ব্যতিক্রম ঘটল।

নিউ ইয়ারের দিনে সিনেটে বিরল এক অধিবেশনের পর ভোটাভুটিতে ৮১-১৩ ভোটে ৭৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলটি পাস হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’ (এনডিএএ) বিলে গত বুধবার ভেটো দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

কিন্তু যে কোনো বিল নিয়ে প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করতে হলে বিলটিকে অবশ্যই কংগ্রেসের উভয়কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে।

এনডিএএ আগেই ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্টের ভেটোর বিরুদ্ধে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন পেয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুক্রবার প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে বিতর্ক শুরুর আগেই সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনল বলেন, তিনি ওই বিল পাস করাতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আমরা টানা ৫৯ বছর এই আইন পাস করেছি। এখন এভাবে হোক বা অন্যভাবে, আমরা ৬০তম বার্ষিক এনডিএএ সম্পন্ন করতে যাচ্ছি এবং আগামী রোববার কংগ্রেসের অধিবেশন বাতিল হওয়ার আগেই একে আইনে পরিণত করতে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বার্ষিক প্রতিরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের সেসব সাহসী নারী ও পুরুষদের সুরক্ষা দিতে হবে যারা ইউনিফর্ম পরে স্বেচ্ছায় আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ঘটনাকে বেপরোয়া আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

তিনি বলেন, এই বিলে ভেটো দেওয়া মানে আমাদের সেনাবাহিনীর ক্ষতি করা। এটা আমাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিবে এবং এটা দ্বিপক্ষীয় কংগ্রেসের ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করার সামিল।

donald-trump-corona-bill.jpg

করোনা রিলিফ ও স্পেন্ডিং প্যাকেজের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারের বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দেশটির আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে নানা নাটকীয়তার পর পাঁচ হাজারের বেশি পৃষ্ঠার এ বিল আইনে পরিণত করলেন তিনি।

দ্বিতীয় দফার এ করোনা প্রণোদনায় আয় অনুযায়ী জনপ্রতি ৬০০ ডলার করে পাবেন মার্কিন নাগরিকরা।

মহামারিতে যারা কর্মহীন হয়েছেন তাদের ১১ সপ্তাহের বেকার ভাতা ও সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩০০ ডলার দেয়া হবে।

এ ছাড়া ভাড়াটিয়া, বাড়ির মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে এ আইনে।

সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় রোববার রাতে করোনা রিলিফ বিলে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। এর আগে সই করা নিয়ে নানা ধরনের নাটকীয়তা চলে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত।

বিকেলে ট্রাম্প টুইট করে জানান, করোনা প্রণোদনা বিল নিয়ে সুসংবাদ আসছে সন্ধ্যায়। সে অনুযায়ী মার এ লাগো অবকাশ কেন্দ্রে বিলটি সইয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এমন ঘোষণার পর ট্রাম্প মত পাল্টান, এখনই বিলটিতে সই করবেন না বলে সন্ধ্যা ৭টায় জানান তার কর্মকর্তারা। তবে তিনি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবেন কিনা, তা স্পষ্ট করতে পারেননি তারা।

এমন ঘোষণায় একের পর এক কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে।

এর মধ্যেই আধা ঘণ্টা পর দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানায়, অবশেষে বিলটিতে সই করেছেন ট্রাম্প।

trump-salman.jpg

ক্ষমতা ছাড়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে যেতে চান।

কাতারভিত্তিক আলজাজিরা জানায়, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ খবর দিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসকে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি করতে একটি লাইসেন্স ইস্যু করতে যাচ্ছেন।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরব নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ও বিমান থেকে থেকে নিক্ষিপ্ত মারণাস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ যুদ্ধোপকরণ পাবে। যার মূল্য আনুমানিক ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার।

লাইসেন্স ইস্যু হয়ে গেলেই মার্কিন অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রায়থিওন টেকনোলজিস করপোরেশন সরাসরি সৌদিকে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে বলে ব্লুমবার্গ জানায়।

ওয়াশিংটন পোস্টও এক প্রতিবেদনে জানায়, চুক্তি অনুসারে সৌদিতেই ওই অস্ত্র বানানো হবে। এ ছাড়া ৯৭ মিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যুক্তরাষ্ট্র থাকে পাবে আরব দেশটি।

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের নীতিকে এগিয়ে নিতে মার্কিন-সৌদি সম্পর্কের ভিতকে আরও শক্ত করতে চান তিনি।

২০১৯ সালের শুরুর দিক থেকে এ চুক্তিটি আলোচনায় আসে। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড ইস্যু ও ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদিকে সমর্থন দেয়ার মধ্যে এ চুক্তি আনায় মার্কিন রাজনীতিবিদদের চরম সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

Donald-Trump-1.jpg

সামরিক আইন জারি করে মার্কিন মসনদ আঁকড়ে ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শেষমুহুর্তে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যে কোন কিছু করতে পারেন তিনি। একদিকে যেমন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছেন একের পর এক, অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার বেপরোয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন এখনও।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প নিজের বেয়াইসহ ৪১ জন অপরাধীকে ক্ষমা করে তাদের দণ্ড মওকুফ করেছেন।

এ তালিকায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা চার্লস কুশনারসহ প্রায় সবাই তার নিজের লোক।

প্রেসিডেন্টের নিজস্ব লোকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই পুরো বিশ্বেই নজিরবিহীন।

নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে ততই বাড়ছে শঙ্কা।

নির্বাচনে পরাজয় না–মানা ট্রাম্প ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ক্ষমতায় বহাল থাকতে কোন পথে হাঁটছেন? এ প্রশ্ন এখন সবার।

শেষ পর্যন্ত সামরিক আইন জারি করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ আশঙ্কা আরো বিশ্বাসযাগ্য করেছে সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে দেয়া ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লেনের বক্তব্য।

নিউজ ম্যাক্সকে ফ্লিন বলেন, তেসোরা নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটিং মেশিন বাজেয়াপ্ত করে ঝুলন্ত অঙ্গরাজ্যগুলো সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় নিয়ে অর্থাৎ মার্শাল ল জারি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারেন।

মাইকেল ফ্লিনের সামরিক আইন জারির পরামর্শের প্রতিবাদ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল লরেন্স উইলকারসনসহ অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।

এর প্রতিবাদে এমএসএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মেম্বার অবসরপ্রাপ্ত ফোর স্টার জেনারেল ব্যারি ম্যাক ক্যাফ্রে বলেন, সামরিক বাহিনীকে বেআইনি কোন নির্দেশ দেয়া হলে তা তারা মানবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ১৫ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

এর মধ্যে দুজন সাবেক আইনপ্রণেতা। দুজন ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

একজন তার নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক সহকারী। ব্যক্তিগত দীর্ঘ তালিকা থেকে অপরাধ ও দণ্ড মওকুফের ঘটনা প্রমাণ করে, সবদিক খোলা রাখছেন ট্রাম্প।

ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়ে ক্ষমতায় আরও চার বছরের জন্য থেকে যাওয়ার কথাও ট্রাম্প চালু রাখছেন জোরালোভাবে। বুধবার একযোগে আরো ২৬ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

সাধারণত এসব সাধারণ ক্ষমার তালিকা বিচার বিভাগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্প কতজনকে ক্ষমা করেন, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।এমনকি নিজের জন্যও তিনি ক্ষমাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে একসময় বলেছেন।

শেষ মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে ক্ষমতা প্রদান করে ট্রাম্প নিজের জন্য সাধারণ ক্ষমা গ্রহণ করতে পরেন, এমন কথাও বলা হচ্ছে।

২০ জানুয়ারির আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন ৬ জানুয়ারির দিকে। ইলেক্টোরাল কলেজ থেকে প্রাপ্ত ভোট কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে গ্রহণ করার সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এ দিনে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে এসব সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় কখনো বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি।

এবারের পরিস্থিতি ট্রাম্পের কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের যৌথ সভায় পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

trump556.jpg

ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের ক্ষমা করে দেওয়া মার্কিন ইতিহাসে নতুন ঘটনা নয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। যদিও তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে এখনো সরাসরি মেনে নেননি।

ক্ষমাপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তের সময় এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুজন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের সদস্য জর্জ পাপাডোপুলুস এবং অ্যাটর্নি অ্যালেক্স ভান ডের জাওয়ান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাধারণ ক্ষমার তালিকায় পড়েছেন।

এছাড়া ২০০৭ সালে ইরাকে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চারজন সদস্যকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

সামনের জানুয়ারিতে তিনি আরও অনেককেই ক্ষমা করে দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, নতুন প্রেসিডেন্টকে তিনি কিভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন কিংবা ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কী ধরনের হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সে কারণে, সামনের দিনগুলোতে ট্রাম্প আসলে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন এ নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

modi-trump-19.jpg

হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেয়ার আগ মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘Legion of Merit’ সম্মান প্রদান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দু’দেশের কৌশলগত পার্টনারশিপ বাড়িয়ে তোলা ও ভারতকে বিশ্বশক্তি হিসেবে তুলে ধরায় তার নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তুরস্কের দুই কোম্পানিতে গভীর রাতে পাকিস্তান পুলিশের অভিযান

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিং সাঁধু।

হোয়াইট হাউসে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন।

টুইটারে রবার্ট ও’ব্রায়েন লেখেন, ভারত-মার্কিন কৌশলগত পার্টনারশিপ বাড়িয়ে তোলার জন্যই এই সম্মান প্রদান।

trump90.jpg

এবার সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা বিচারপতিরাও রিপাবলিকানদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় ‘কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না’ বলে টুইটারে লেখে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ট্রাম্প।

নির্বাচন নিয়ে আর কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ নয়, ঠিক এমন বার্তাই এসেছে (১১ ডিসেম্বর) শুক্রবার।

বাইডেনের জয় পাওয়া চারটি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল বাতিলের জন্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন খারিজ করে দেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

ট্রাম্পের পক্ষে টেক্সাসের অ্যার্টনি জেনারেলের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া ও উইসকনসিনে ফলাফল বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।

মামলাটিতে রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ১২৭ জন রিপাবলিকান সদস্য সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হল না ট্রাম্পের।

এ অবস্থায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একাধিক টুইটে তিনি বলেন, কেউই তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিচ্ছে না।

গেল ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বাইডেন। ট্রাম্প পান ২৩২টি ইলেক্টোরাল ভোট।

trump55.jpg

আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও কয়েক কোটি ডলার আয়কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে তদন্ত করছে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স ব্রোকার এর কিছু কর্মীকে ম্যানহাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন রাজ্যের আইনজীবীরা।

জানুয়ারির ২০ তারিখে ক্ষমতা ছাড়ার পর এই ক্রিমিনাল কেস বা মামলার মুখোমুখি হতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ফেডারেল পার্ডনস বা রাষ্ট্রীয় অনুকম্পা হয়তো তার জন্য কোনো কাজে আসবে না। তবে ম্যানহাটন ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরিস আর ভেন্স জুনিয়র আসলেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন কি না তা এখনো অস্পষ্ট।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আয়কর বিষয়ে তথ্য পেতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনজীবীরা আদালতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যা তাদের অনুসন্ধানের মূল বিষয়। যদিও এটি এখন সুপ্রিমকোর্টের হাতে। ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি ভেন্স এর অফিস সনম জারি করে সাক্ষীদের জেরা করছে।

সাইরিস ভেন্স এর করা তদন্তের মধ্যে রয়েছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসা, তার পারিবারিক ব্যবসা, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে কোনো অন্যায় হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা।

প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চলা এটাই একমাত্র অপরাধ তদন্ত। গ্র্যান্ড জুরি এ তদন্তে গোপনীয়তা বজায় রাখতে বলায় আইনজীবীরা খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করছেন না। প্রেসিডেন্টর কর্পোরেট ব্যবসায় অসাধুতা বিষয়ে তারা তদন্ত করছেন।

ট্রাম্প বলছেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নিজেকে ক্ষমা করার ক্ষমতা তার রয়েছে। তবে তা শুধু ফেডারেল ক্রাইমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

স্থানীয় বা রাজ্য পর্যায়ে অপরাধের জন্য নয়। যেমনটি ম্যানহাটন ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরিস আর ভেন্স জুনিয়র এখন তদন্ত করছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

সাধারণ জীবনে ফিরে গেলে ট্রাম্প এ ব্যাপারে আইনি সুরক্ষা পাবেন না। যদিও ট্রাম্প এই তদন্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন তাকে বলি বানানো হচ্ছে।

ভেন্স এর মুখপাত্র ড্যানি ফরেস্ট তদন্তের গতিবিধি নিয়ে মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের জেনারেল কাউন্সিল অ্যালেন গার্টেন সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও তদন্তকে ‘মাছ খুঁজে’ বেড়ানো বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে তদন্তে সংশ্লিষ্ট ডচেস ব্যাংক ও এওএন জানিয়েছে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে তদন্ত বিষয়ে সমন পেয়েছিলেন। তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের কাছেও।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরিস আর ভেন্স গত দুই বছর তদন্ত করলেও তাদের তদন্তের বিষয় বদলেছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় দুই নারীকে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধ করার ব্যাপারে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ভূমিকা নিয়ে এই তদন্ত শুরু হলেও এখন প্রেসিডেন্টের আর্থিক অসঙ্গতিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

trump555.jpg

এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক স্পেস নিরাপত্তা প্রধান।

তার দাবি, এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে এবং তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগাযোগও হয়েছে।

এনবিসি নিউজ জানায়, গত শুক্রবার একটি হিব্রু পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান হাইম এশেদ এ মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ প্রকাশ করে জেরুজালেম পোস্ট। এরপর এ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করে।

সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন।

এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশও করতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মানুষকে আতঙ্কিত না করতে ট্রাম্পকে এটি করতে নিষেধ করে ভিনগ্রহের প্রাণীরা।

অধ্যাপক ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হাইম এশেদ বলেন, ‘ভিনগ্রহের প্রাণীরাও মানবসমাজ সম্পর্কে জানতে একইভাবে আগ্রহী।’

তিনি বলেন,‘মঙ্গল গ্রহের মাটির নিচে যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে।

আমাদের নিয়ে এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তারা একটি চুক্তি সই করেছে।’

এ বিষয়ে এনবিসি নিউজকে হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসার এক মুখপাত্র জানান, মহাবিশ্বের জীবন অনুসন্ধান করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। নাসা এখন পর্যন্ত কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান পায়নি।