ডায়াবেটিস Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

diabetes-02082018-1847639895.jpg

বর্তমান বিশ্বে প্রায় কোটি কোটি মুসলিম রমজান মাসে রোজা পালন করেন। রমজানে খাদ্য ও পানীয়ের পরিমাণ এবং সময় সূচির পরিবর্তনের কারণে একজন ডায়াবেটিস রোগী বেশ কিছু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন: হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তের শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়া, হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা রক্তের শর্করা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, রক্তের অম্লত্ব বেড়ে যাওয়া, পাণিশুন্যতা

♦রমজানে রোজা পালনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ডায়াবেটিস রোগী কারা?

রমজান শুরু হওয়ার পূর্বের তিন মাসের মধ্যে রক্তের শর্করা অতিরিক্ত কমে গেলে, প্রায়ই রক্তের শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে, রক্তের শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার বিষয়টা রোগী নিজে বুঝতে না পারলে, রক্তের শর্করা অনেক বেশী থাকলে এবং রমজান শুরু হওয়ার পূর্বের তিন মাসের মধ্যে রক্তের অম্লত্ব বেড়ে যাওয়ার অতীত ঘটনা থাকলে রোজা পালন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া রমজান শুরু হওয়ার পূর্বের তিন মাসের মধ্যে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গেলে কিংবা গর্ভাবস্থা হলে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত কায়িক শ্রম যারা করেন যেমন শ্রমিক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, কিডনী রোগী- যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয়, অসুস্থ এবং বৃদ্ধ রোগীর ডায়াবেটিস জটিলতা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে, শারীরিক অসুস্থতা- জ্বর, ডায়রিয়া ইত্যাদি থাকলেও রোজা পালন ঝুঁকিপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজানে রোজা পালন না করাই উত্তম। কেউ যদি রোজা রাখতে চায় তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হবে।

♦রমজান শুরু হওয়ার পূর্বে করণীয়:

চিকিৎসক কর্তৃক রক্তের শর্করা, রক্তচাপ ও রক্তের চর্বির পরিমাণ পরিমাপ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে। রমজানের খাবারের পরিমাণ ও সময়সূচী এবং ওষুধ ও ইনসুলিনের পরিমাণ চিকিৎসকের কাছ থেকে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।

♦ রমজানে করণীয়:
ডায়াবেটিস রোগীর রমজানে খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। রমজানে সাধারণত তিনবার খাওয়া হয়। তা হলো ইফতার, রাতের খাবার ও সেহেরী।

ইফতার: পাণিশুন্যতা রোধ এবং শরীরে বিভিন্ন ক্রিয়ার জন্য শরবত একটি অপরিহার্য পানীয়। বিকল্প চিনি দিয়ে ইসুবগুল, তোকমা, লিচু, কাঁচা আম কদবেল তেঁতুলের শরবত খাওয়া যেতে পারে। অথবা একটি কচি ডাব খাওয়া যেতে পারে। ইফতারের খাবারের পরিমাণ পরিমাণ হবে সকালের নাস্তার সমপরিমাণ। ইফতারে ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত যেভাবে ইফতার নিতে পারে তা হলো:
ক. ছোলা ভাজা – ১/২ কাপ,
খ. পেঁয়াজু -২ টা,
গ. বেগুনি – ২ টা,
ঘ. মুড়ি দেড় কাপ,
ঙ. খেজুর ১টা,
চ. শসা, গাজর ইত্যাদি ইচ্ছামতো,
ছ. পানি পরিমাণ পর্যাপ্ত।

সন্ধ্যারাতে যা খাওয়া যেতে পারে:
ক. ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সন্ধ্যার খাবার একেবারেই বাদ দেওয়া উচিত নয়।
খ.অন্যান্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ হবে এ খাবার।
গ.সন্ধ্যারাতে ভাত খাওয়া যাবে। তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ বরাদ্দ অনুযায়ী খাবাারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ঘ. সন্ধ্যারাতে হালকা মসলায় রান্না করা যে কোনো ছোট-বড় মাছ এবং সবজি থাকলে ভালো হয়।

সেহেরী খাওয়ার নিয়ম: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সেহরীর কিছু পূর্বে খাওয়া সেহেরী খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এতে করে দিন শেষে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমবে।
ক.সেহরীতে রুটি অথবা ভাত পছন্দ অনুযায়ী গ্রহণ করা যাবে।
খ. সেহেরীতে খেতে হবে অন্যান্য দিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ খাবার।
গ.মাংসের পরিবর্তে ডিমও খাওয়া যেতে পারে।
ঘ.সেহরীতে এক কাপ দুধ খাওয়া যাবে।

লেখক: ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল।

diabetes-02082018-1847639895.jpg

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন। কিন্তু আক্রান্তদের ৫৭ শতাংশই তাদের এই রোগের কথা জানেন না বলেও জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হয়েছেন সেটা জানতে পারলে কি করবেন? এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য কিছু পরামর্শ।

খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
বিবিসি বাংলাকে ডা. ফজলে রাব্বী খান বলেন, কতটুকু খাদ্য গ্রহণ নিরাপদ আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেটি বুঝতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেগুলো সুষম হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষজন খাবারের পরিমাণটা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারে না। এটি বাংলাদেশের মানুষের চর্চার মধ্যে নেই। চিকিৎসকরা আরও বলেন ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে ।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে
শুধু খেলে বসে থাকলে চলবে না। অবশ্যই নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সেটা যেকোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রম হতে পারে। দিনে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অবশ্যই কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত। সবচেয়ে সহজ পরিশ্রম হল হাঁটতে পারা।

মিষ্টি খাওয়া যাবে, তবে.. 
সাধারণের একটি ধারণা হল ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খাওয়া যাবে না। চিকিৎসকরা বলছেন, মিষ্টিও খেতে পারবেন তবে অবশ্যই পরিমিত হতে হবে। একবারে এক কেজি খেয়ে ফেললেই হবে না। আর মনে রাখতে হবে মিষ্টিতে গ্লুকোজ আছে। ভাতেও কিন্তু সেটি আছে। অন্য আরও অনেক খাবারেও রয়েছে। তবে মিষ্টিতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি সেটিই হল সমস্যা। মিষ্টি খাওয়া যাবে কিন্তু অল্প পরিমাণে। খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তবেই ডায়াবেটিস ঠিক হবে।

জীবনাচরণ পরিবর্তন
প্রতিদিন কি খাচ্ছেন আর কতটা পরিশ্রম করছেন সব কিছু জীবনাচরণের অংশ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত কতটুকু কাজ করা দরকার, কী ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, কতটুকু খেতে হবে, কয় বার খেতে হবে, কার জন্য কতটুকু খাবার দরকার ইত্যাদি সবই এর অংশ। সর্বদা শরীরের ওজন কমিয়ে রাখতে হবে।

আক্রান্ত রোগীর ওষুধের ব্যবহার
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরও যদি রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের দেয়া নির্দেশিত ঔষধ সেবন করতে হবে।

বংশগত কারণে ডায়াবেটিস
ধরুন আপনার বংশে আগে কারো ডায়াবেটিস ছিল। বংশগত কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু তার মানে অন্য কারো হবে না সেটি ভাবার কোন কারণ নেই।

ডায়াবেটিসের কারণে যেসব রোগ হতে পারে
ডায়াবেটিস হলে কিডনি রোগ, চোখের রোগ, হার্টের সমস্যা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে এসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হৃদযন্ত্রের বড় সমস্যা বা অন্ধত্ব পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ডায়াবেটিস সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেয়া
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি খুব সহজ বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তথ্যও খুব সহজেই পাওয়া যায়। সেগুলো জেনে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কারণ তথ্য জানা থাকলে অনেক কিছুই সহজ মনে হয়।

diabetes-1-20190404115741.jpg

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। দিনে দিনে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। একবার ডায়াবেটিস ধরা পড়লে পছন্দের প্রায় সব খাবারই বাদ পড়ে খাদ্য তালিকা থেকে। বিশেষ করে মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার। তবে শুধু মিষ্টি নয়, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও বেশ কিছু খাবার-দাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। জেনে নিন রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিষ্টি ছাড়া আর কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি-

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার চাপে রান্নার সময় বাঁচাতে ফাস্ট ফুডেই বেশি ভরসা রাখছেন বেশির ভাগ মানুষ। বার্গার, চাউমিন, এগ বা চিকেন রোল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইতেই পেট ভরাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই খাবারগুলো খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়বে হু হু করে।

বাজারে এখন অনেক রকমের ‘রিফাইনড’ তেল পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে এগুলি সম্পর্কে দাবি করা হচ্ছে, এই তেলে ভাজা খাবার স্বাস্থ্যকর। কিন্তু তা মোটেই সঠিক নয়। জানেন কি, এই সব তেলে ভাজা চিপস বা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার রক্তে ক্ষতিকর কলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরই সঙ্গে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে কোনো প্যাকটজাত পানীয়, যেমন ফ্রুট জুস বা সফট ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলা জরুরি। এই পানীয়গুলির মধ্যে, বিশেষ করে ফ্রুট জুসে রয়েছে ‘ফ্রুকটোজ’ যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পেস্ট্রি, আইসক্রিম শুনলেই অধিকাংশ মানুষেরই জিভে জল আসে। জানেন কি, কাপকেক, পেস্ট্রি, কুকিজ আপনাকে তৃপ্তি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে!

রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এড়িয়ে চলুন ভাত, হোয়াইট ব্রেড, পাস্তা। কারণ, এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ব্রাউন ব্রেড, ওটমিল বা এই জাতীয় খাবার খান যেগুলিতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রা কম আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দই খেতে হলে ঘরে পাতা দই খান। বাজার থেকে কেনা নানা রকম ফ্লেভার যুক্ত দই না খাওয়াই ভালো। পুষ্টিবিদদের মতে, এগুলি ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই।

দোকান থেকে কেনা মধু, জ্যামে ‘আর্টিফিশিয়াল সুগার’ থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য চিনির মতোই ক্ষতিকর!

অতিরিক্ত তেল বা মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট ইনসুলিনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

food-20190308100032.jpg

তিন মাস প্রতিদিন ৮৫০ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে এবং তাতে ওজন কমাতে পারলে অন্তত দুই বছর টাইপ-টু ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। ইংল্যান্ডে বেশ কিছু রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে জানানো হয়েছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে।

তারা বলছেন, ডায়াবেটিসের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়া বন্ধ রাখতে এবং রোগ ঠেকিয়ে রাখতে এই পদ্ধতি একটা সমাধানের পথ। আগে ধারণা করা হতো টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সেই রোগে সারা জীবন ভুগতে হবে এবং দিনে দিনে তা আরও খারাপের দিকে যাবে। নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে।

স্কটল্যান্ডে ১৪৯ জন ১২ থেকে ৩০ সপ্তাহ কম ক্যালরির খাবার খাওয়ার এক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ওজন কমানোর জন্য তাদের কম ক্যালরির শুধু তরল খাবার এবং পানীয় খেতে হতো। ওজন কমার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের ধীরে ধীরে আবার সাধারণ খাবার খেতে দেয়া হয়। এক বছর পর এদের মধ্যে ৬৯ জন রোগমুক্ত হন। মাত্র ৪ শতাংশ রোগীকে শর্করা কমাতে ওষুধের সাহায্য নিতে হয়। আর দু’বছর পর এদের মধ্যে ৫৩ জন রোগমুক্ত থেকে যান এবং তাদের কোনোরকম ওষুধ খেতে হয় না।

এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত একজন অধ্যাপক রয় টেইলর বলছেন, এই ফলাফল ডায়াবেটিনে আক্রান্ত রোগীদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। এতদিন মনে করা হতো টাইপ-টু ডায়াবেটিস একবার ধরলে আর ফেরার পথ নেই, সেই যুগের ওপর এবার যবনিকা ফেলার পথ খুলে গেছে।’

তারা বলছেন, যারা ওজন কমিয়ে এই রোগ ঠেকানোর কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তারা গড়ে ১০ কেজির মতো ওজন কমিয়েছেন এবং তা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু লন্ডনে কিংস কলেজের ড. নিকোলা গেস বলছেন ওজন কমানোটাই যে একমাত্র পথ তা এখুনি বলা যাবে না। কারণ, খুব কম সংখ্যক হলেও কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে এই রোগ আবার ফিরে এসেছে। সেটা কেন হয়েছে তা বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। হয়তো এমনটা হয়ে থাকতে পারে, ওজন কমানো তাদের জন্য একশভাগ করেনি যারা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন অনেকদিন ধরে অথবা তাদের বংশগত জিন এক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রেখেছে।

diabetis.jpg

যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভূগছেন চিকিৎসকরা সবসময় তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।কারণ এটি নিয়ন্ত্রণে চোখের রেটিনা, নার্ভ, কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া হৃদরোগ ও স্ট্রোকেরও ঝুঁকি থাকে।

দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাসের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। যেমন-

বিকল্প মিষ্টি : অনেক ডায়াবেটিস রোগী চিনির পরিবর্তে চা বা কফিতে বিকল্প চিনি বা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার ব্যবহার করেন। ২০১৪ সালে ‘ন্যাচার’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বাজারে যেসব জিরো ক্যালরি নামের বিকল্প চিনি পাওয়া যায় তার প্রায় সবগুলোতেই অতিরিক্ত সোডা পাওয়া গেছে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফ্যাটি ফুড : যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভূগছেন তাদের কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া উচিত। এছাড়া যেকোন ধরনের প্রক্রিয়াজাত কিংবা ফাস্টফুড খাওয়া তাদের এড়িয়ে চলা উচিত।

সকালের নাস্তা না খাওয়া : সকালের নাস্তা দিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ডায়াবেটিস রোগী সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের রক্ত শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সকালের নাস্তায় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত ডিম, মাশরুম , টমেটোর মতো কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।

রাতে বেশি খাওয়া : গবেষণা বলছে, শুধু রাতে বেশি খাওয়া নয় কোন সময়ে খাচ্ছেন সেটা উপরও রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ রাতে খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে গেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।  গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তা কম খান অন্যদিকে রাতের খাবার বেশি খান তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।

শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয় থাকা : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমে, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

চাপে থাকা : পারিবারিক জটিলতা, অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শিখুন। খুব বেশি মানসিক চাপে থাকলে কিছুক্ষন হাঁটাহাটি করুন অথবা লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস করুন।

দাঁতের সমস্যা : গবেষকরা বলছেন, দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেয়া উচিত। দাঁত সুস্থ রাখতে দিনে দুইবার ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কম ঘুম : ন্যাশনাল স্লিপ ফাউণ্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘুম কম হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এ কারণে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত।

fecbv.jpg

দেশের মোট জনসংখ্যার ৭-১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, সারা বিশ্বে আজ কোটি কোটি মানুষ ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট মানুষের ৭ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর ৫০ হাজার মানুষ ডায়াবেটিক রোগে মারা যাচ্ছে। দেশে এই মরণব্যাধি রোগের আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

তবে পূর্ব প্রস্তুতি নিলে ৮০ শতাংশ মানুষকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মায়ের পেট থেকে ডায়াবেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের সরকারিভাবে সারাজীবন ইনসুলিন বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকার উদ্যোগ নেবে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় কিডনি ও হৃদ রোগের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে এই ডায়াবেটিস কমিয়ে আনা এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, বুধবার (১৪ নভেম্বর) ছিল বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস। তাই বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের ৮৫০ জনের মাঝে ডায়াবেটিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে সাড়ে ৮ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। ফলে এটা পরিস্কার যে, আজ বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে পড়েছে।