ঢাকা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

chittagong.jpg

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মাস্ক না পরায় গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে ৫০ জন এবং বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে সাতজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানগুলোয় জরিমানার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করে তুলতেও প্রচার চালানো হচ্ছে।

র‌্যাব-৪-এর সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ায় সাতজনকে মোট দুই হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ২০০ দিনমজুর ও রিকশাচালকের মধ্যে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি করোনার ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে। র‌্যাবের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মাস্ক না পরার অপরাধে চট্টগ্রামে ৪২টি মামলায় ৫০ জনকে জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরের কয়েকটি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ সময় নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেকের চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা এলাকায় বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান। তিনি ১৯টি মামলায় ২৭ জনকে দুই হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেন।

এ ছাড়া নগরের কাজীর দেউড়ির শিশুপার্ক, ডিসি হিল ও শিল্পকলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩টি মামলায় ১৩ জনকে দুই হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন।

অন্যদিকে পতেঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুখে মাস্ক না পরায় ১০টি মামলায় ১০ জনকে ৮৫০ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাস্ক না পরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে।

মানুষ এতই অসতর্ক যে, কোলের শিশুকেও মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে আনছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।

Air-Pollution.jpg

দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আবার শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে তথ্য এসেছে।

গতকাল সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে জনবহুল এ শহরের একিউআই স্কোর ছিল ১৮৮, যা বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে নির্দেশ করে।

একিউআই মান ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকা মানে প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

আর গুরুতর অসুস্থ বা বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে মারাত্মক।

পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লি যথাক্রমে ১৭৮ ও ১৭৬ স্কোর নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

সূচকে ৫০-এর নিচে স্কোর থাকলে বাতাসের মান ভালো। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়।

জনবহুল ঢাকায় মূলত নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা প্রভৃতি কারণে দূষণের মাত্রা বেশি। তবে বর্ষা মৌসুমে দূষণ কিছুটা কমে।

শুষ্ক মৌসুমে এই দূষণ চূড়ান্ত মাত্রায় ঠেকে। তারই প্রতিফলন দেখা যায় চলতি বছরের গোড়ার দিকের এক জরিপে।

ফেব্রুয়ারির এক দিনের জরিপে দেখা যায়, একিউআই স্কোর ৪১২ নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ঢাকা।

Dhaka-city-2.jpg

ঢাকায় এখন থেকে আর ব্যক্তি পর্যায়ে ৮ তলার ওপর ভবন নির্মাণ করা যাবে না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন অঞ্চল পরিকল্পনায় (ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ) এই প্রস্তাব করা হয়েছে। আসছে ডিসেম্বরে এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন ড্যাপের মেয়াদ হবে ২০ বছর।

ধানমন্ডিতে এতদিন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যেত। তবে এখন থেকে তা আর নির্মাণ করা যাবে না।

শুধু ধানমন্ডি নয়, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঢাকা শহরের সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে এই প্রস্তাবটি।

আর রাজউকের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌর এলাকায় আবাসিক ভবন হবে সর্বোচ্চ ৬ তলা।

রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা শহরের স্বার্থেই এই প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে ও নাগরিক সেবার মান বাড়বে।

নতুন ড্যাপের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে রাজউক। অনলাইনে রাজউকের ওয়েবসাইটে ও সরাসরি রাজউক কার্যালয়ে গিয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ড্যাপের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

এতে জনঘনত্ব অনুযায়ী ভবনের এমন উচ্চতা নির্ধারণের পাশাপাশি জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করা, ভূমির পুনরুন্নয়ন, ভূমি পুনর্বিন্যাস, উন্নয়ন স্বত্ব প্রতিস্থাপন পন্থা (জলাশয় রক্ষাসংক্রান্ত পরিকল্পনা), ট্রানজিটভিত্তিক (পরিবহনের স্টেশন) উন্নয়নসহ বেশ কিছু নতুন কর্মকৌশল যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো আগের কোনো পরিকল্পনায় ছিল না।

জনঘনত্ব অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা:

রাজধানীতে এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১০ সালের ড্যাপ ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে।

২০০৮ সালে করা এই বিধিমালায় জমির আয়তন অনুযায়ী কত তলা বা উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যাবে তা উল্লেখ আছে।

এই বিধিমালার কারণে বেশি উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন, এর আগের বিধিমালায় (১৯৯৬ সালের) ধানমন্ডিতে যে জমিতে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, ২০০৮ সালের বিধিমালায় সেই জমিতে ১৪ তলা ভবন হচ্ছে।

নতুন ড্যাপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাজউকের অন্তর্ভুক্ত ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মোট ৪৬৮টি (ব্লক) ভাগ করা হয়েছে।

পরে জরিপ করে প্রতিটি ব্লকের জনসংখ্যার ধারণক্ষমতা, সড়ক অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং সেখানে উন্নয়নের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আবাসিক ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যে ব্লকে নাগরিক সুবিধা ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ভালো, উন্মুক্ত স্থান বেশি, সেই ব্লকের ভবনের উচ্চতা বেশি ধরা হয়েছে। আর যেখানে বিপরীত চিত্র পাওয়া গেছে, সেখানে ভবনের উচ্চতা কম ধরা হয়েছে।

এই হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের খিলক্ষেত, কুড়িল, নিকুঞ্জ এলাকায় ৬ তলা; উত্তরায় ৭-৮ তলা; গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকা ৬-৮ তলা; মিরপুর এলাকায় ৪-৭ তলা; মোহাম্মদপুর-লালমাটিয়া এলাকায় ৫-৮ তলা উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যাবে।

অন্যদিকে, গাজীপুরের দু-একটি এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ এলাকারই আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা হবে ৪-৬ তলা।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পুরান ঢাকায় ৪-৬ তলা উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যাবে।

তবে যেসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেছে বা ভবন নির্মাণের অনুমোদন ইতিমধ্যে নেয়া হয়ে গেছে বা নতুন ড্যাপ চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্মাণ অনুমোদন নেয়া হবে সে ক্ষেত্রে উচ্চতার এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

নতুন ড্যাপ নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এই পরিকল্পনাকে সময় উপযোগী নয় বলে মনে করে রিহ্যাব। তারা বলছে, এই প্রস্তাব অযৌক্তিক।

এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ঢাকা শহরে জমির দাম অনেক বেশি।

অতি দামে কেনা জমিতে সর্বোচ্চ ৮ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা গেলে ফ্ল্যাটের দাম ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যাবে। তখন এই ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে।

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে এর আগে ২০১০ সালে প্রথম ড্যাপ পাস করে সরকার।

কিন্তু ড্যাপ পাসের পর আবাসন ব্যবসায়ীসহ প্রভাবশালীদের চাপে এটি চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় সরকার।

এই কমিটি গত ১০ বছরেও ড্যাপ চূড়ান্ত না করে উল্টো ড্যাপে দুই শতাধিক সংশোধনী আনে। এসব সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যত জলাভূমি ভরাটের বৈধতা দেয়া হয়। প্রথম ড্যাপের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত।

পরে আরো দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন বলা হচ্ছে নতুন ড্যাপ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের ড্যাপ কার্যকর থাকবে।

m-v-modhumoti-20190313204944.jpg

এবার জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যাবে। আগামী ২৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এমভি মধুমতি নামে যাত্রীবাহী জাহাজটি।

বুধবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিশা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব অত্যাধুনিক নৌযান দ্বারা সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে।

আগামী ২৯ মার্চ বিআইডব্লিউটিসির এমভি মধুমতি নারায়ণগঞ্জের পাগলা মেরিএন্ডারসন থেকে বরিশাল-মোংলা-সুন্দরবন-আন্টিহারা-হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

ঢাকা-কলকাতা কেবিন ভাড়া ফ্যামিলি স্যুট (দুজন) ১৫ হাজার টাকা, প্রথম শ্রেণি (যাত্রীপ্রতি) ৫ হাজার টাকা, ডিলাক্স শ্রেণি (দুজন) ১০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার (যাত্রীপ্রতি) ৮ হাজার টাকা এবং সুলভ শ্রেণি বা ডেক (যাত্রীপ্রতি) ১৫০০ টাকা।

আন্তঃদেশীয় প্রটোকল রুট (ইনল্যান্ড প্রটোকল রুট) ও উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের রুটের আওতায় এই পরিবহন চলবে। জাহাজ ও নৌযান কলকাতা থেকে হলদিয়া, বরিশাল ও ঢাকা হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলবে। টেকনিক্যাল ভাষায় এটি ১ ও ২ এবং ৩ ও ৪ প্রটোকল রুট। প্রতিবেশী দুই দেশের তিনটি নদী-ভারতের গঙ্গা এবং বাংলাদেশের যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রকে এই নৌপথে সংযুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী জাহাজ পরিবহনের বিষয়ে সম্মত হয় ভারত ও বাংলাদেশ। এ চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ ও ভারতের জাহাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব গোপাল কৃষ্ণ।

dhaka-city-02-big-20190304133258.jpg

বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৫ নম্বরে। এমন দুর্যোগ ঘটলে উদ্ধার কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় দেশের সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ২০ ভাগের মতো। এ ধরনের দুর্যোগে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে রাজধানী ঢাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা সংস্থাগুলোর অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ও পরস্পরের সমন্বয়হীনতার কারণেই রাজধানী ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে রাজধানী ঢাকায় তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত একটি কমিটি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের নেতৃত্বে সব সেবাসংস্থার সমন্বয়ে এই কমিটি কাজ করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় বিশ্বের ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১২ সালের ঝুঁকিপূর্ণ দেশের যে তালিকা (ওয়ার্ল্ড রিস্ক ইনডেক্স) তাতে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৫ নম্বরে। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সক্ষমতা ও অভিযোজিত (অ্যাডাপ্টিভ) সক্ষমতার যে দুর্বলতা রয়েছে সেই অবস্থানে বাংলাদেশ রয়েছে ঝুঁকির শীর্ষে। ভূকম্পনে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সক্ষমতার অভার রয়েছে প্রায় ৮৬ দশমিক ৮৪ ভাগ। আর অভিযোজিত সক্ষমতার অভাব রয়েছে ৬১ ভাগ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক প্রধান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. মহসিন উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়।

ভবিষ্যতে ভয়াবহ কোনো ভূমিকম্প হলে রাজধানীর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বোঝাতে তিনি উপস্থাপন করেন ১৯৭২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তথ্য।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজধানী ঢাকা আর ২৫৭ বছর আগের ঢাকার মধ্যকার পার্থক্যটা বোঝাতে তেমন কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই কারো কাছেই। তবে রাজধানীর নগরায়ণের যে ধারা তা বিশ্লেষণ করলে ওই সময়টায় ঢাকা ছিল বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের প্রত্যন্ত কোনো গ্রামের মতোই। সেদিনের ভূকম্পনটি রিখটার স্কেলে কত মাত্রার ছিল তা পরিমাপ করা বা সে সংক্রান্ত কোনো তথ্যও নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থার কাছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অনেকটা বর্ণনামূলক কিছু তথ্য রয়েছে বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের কাছে। ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, সেদিনের ভূকম্পনে ঢাকায় যে কয়েকটি অবকাঠামো ছিল তা ভূমিতে লুটিয়ে পড়েছিল ধুলার মতো।

আনুমানিক তখন ঢাকার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারায় ভয়াবহ সেই ভূকম্পনে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদী, খাল-ঝিলের পানি উপচে উঠেছিল ডাঙায়। আর পানি নেমে যাওয়ার পর ডাঙার মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল মাটি ফেটে বালু-কাদাসহ পানি ওপরে উঠে আসার কারণে, যাকে ভূকম্প বিশারদরা বলে লিকুফ্যাকশন (খরয়ঁবভধপঃরড়হ)।

তিনি জানান, বাংলাদেশের গত ২৬০ বছরের ইতিহাসে মাত্রার ভিত্তিতে মোট ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্পনের ঘটনা ঘটেছে।

অধ্যাপক মহসিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, গতিশীল তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে শতবর্ষের ভূমিকম্পের সার্কেলে রয়েছে বাংলাদেশ। যেকোনো মুহূর্তে বড় মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ভূকম্পনে সুনামি ও লিকুফ্যাশনের ঘটনা বেশি ঘটে। প্লেটের বিচ্যুতির কারণে ভূমিতে ফাটল এবং ভূ-অভ্যন্তরীণ পানি, বালু, কাদা ওপরে উঠে আসার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিকম্পের মাত্রার ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকা রয়েছে মধ্যম শ্রেণির অঞ্চলে। তবে শুধু লিকুফ্যাকশনের কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা হবে সবচেয়ে বেশি। ভূমিতে ফাটলের কারণে শুধু দুর্বল নয়, মধ্যম ক্যাটাগরির অবকাঠামোগুলোও ধসে পড়বে। আর ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় তা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।

মহসিন উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, রাজধানীর সেবাসংস্থাগুলোর অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আর তাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও রয়েছে বড় ধরনের দুর্বলতা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর একটা কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তারা বসে আছে কবে দুর্যোগ হবে তখন কীভাবে কী করা যায় সেই অপেক্ষায়ই। যদি কার্যতই তারা কোনো কাজ করত তাহলে ভূমিকম্পের রিস্কের জায়গাগুলোয় কারণগুলোর সমাধান করত। অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করত।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাশিম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে তা দুর্যোগের মাত্রা সব কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের দুর্যোগ ঘটলে আমাদের করণীয় কী সে সংক্রান্ত একটি জাতীয় কমিটি রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সেবা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, আবহাওয়া অধিদফতরসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এই কমিটিতে রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ঝুঁকি কমাতে ও মোকাবেলা করতে।

vote-rain-20190227224955.jpg

আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন উত্তর ও দক্ষিণে সম্প্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনসহ কয়েকটি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন/উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির এ নির্বাচনে মোট ৩২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত কয়েকদিন যাবত বিরূপ আবহাওয়ার কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজও (বুধবার) রাজধানীতে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। টানা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

স্বভাবতই রাজধানীবাসী তথা লাখও ভোটারের মনে প্রশ্ন ভোটের দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে। আজকের মতো কাল বৃষ্টি নামবে না তো? নামলে কোন সময় নামবে? সকালে, দুপুরে না বিকেলে? বৃষ্টি হলে কি হালকা না মুষলধারে হবে?

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বুধবার রাত ৯টায় জাগো নিউজকে বলেন, ভোটের দিন রাজধানীতে বিরূপ আবহাওয়া থাকবে। সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সকাল ৯টার পর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিপাত হবে না। থেমে থেমে কয়েক দফায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আজ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কিছু জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণসহ বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে রাতের ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্মৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় বাতাসের গতি ও বেগ সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়, দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার যা দমকা হাওয়াসহ পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টার শেষের দিকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে। রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ সময় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ফরিদপুরে ৫৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটির সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি, মোট ভোটকেন্দ্র এক হাজার ২৯৫টি এবং ভোটকক্ষ ছয় হাজার ৪৮২টি। এতে মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯১ জন।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর এ পদ শূন্য হলে তাতে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আতিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম।

ঢাকা উত্তর সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ৬ ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৪৩টি এবং ভোটকক্ষ এক হাজার ৪৭২টি। মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৭০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৯৮ হাজার ২৮৫ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৯২ হাজার ৪২০ জন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাধারণ ১৮টি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ৬টি ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৩৫টি এবং ভোটকক্ষ এক হাজার ২৫২টি। মোট ভোটার চার লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৪ হাজার ৪৯৭ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ২৩৮ জন।

school-20181215202907.jpg

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। এবার ঢাকা মহানগরে ৪১টি বিদ্যালয়ে ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। এসব বিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৩৬৬টি সিট রয়েছে। অর্থাৎ আসন প্রতি গড়ে এবার সাতজন ভর্তিযুদ্ধে নামছে।

সূত্র জানায়, ঢাকার ৪১টি হাইস্কুলের মধ্যে ১৭টিতে প্রথম শ্রেণিতে শিশু ভর্তি করা হবে। এই ১৭ প্রতিষ্ঠানে মোট এক হাজার ৯৬০টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২২ হাজার ১৭৯ শিশুর। প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ১২ ক্ষুদে শিক্ষার্থী লড়বে। এসব শিশুর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর। শেষ হবে ২০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে শেষদিন প্রথম শ্রেণির ভর্তি লটারি অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়ায় সারাদেশে ৪ শতাধিক সরকারি হাইস্কুলেও ভর্তির আবেদন পড়ে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বমোট আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪২টি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা জানা যায়নি।

এবার ঢাকার ৪১ হাইস্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। হাইস্কুলগুলো তিন গ্রুপে ভাগ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৪১টি হাইস্কুলের মধ্যে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপে ১৪টি করে এবং ‘গ’ গ্রুপে ১৩টি হাইস্কুল আছে। এর মধ্যে ৩৮টি হাইস্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন আছে।

১৭ হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণিতে এক হাজার ৯৬০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮৪৯টি, তৃতীয় শ্রেণিতে দুই হাজার ১২৬টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮২২টি, পঞ্চম শ্রেণিতে ৮৪৯টি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩ হাজার ৫৫৭টি, সপ্তম শ্রেণিতে ৭৩৮টি, অষ্টম শ্রেণিতে ৯৯৭টি এবং নবম শ্রেণিতে ৪৬৮টি আসন রয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠিত তিনটিতে আলাদা ভর্তি কার্যক্রম চলবে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি। স্কুল তিনটি হলো- হাজী এমএ গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শহীদ মনু মিঞা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে দেশের প্রায় চারশ’ সরকারি হাইস্কুলে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। পরীক্ষা ও লটারিতে শিক্ষার্থী বাছাই শেষ হলে নির্বাচনী কাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটিয়ে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি কাজ শেষ করা যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মোতাবেক এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার স্কুলগুলোতে ১০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষা কোটায়। বাকি ১০০ শতাংশের মধ্যে ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা কোটার এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় পূরণ করা হবে।

ভর্তির ক্ষেত্রে সহোদররা অগ্রাধিকার পাবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার ন্যূনতম শর্ত বা পাস নম্বর পেলেই চলবে। শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে।

দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তি কমিটির বাছাই করতে হবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০, এর মধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বর। ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-১০০। এর মধ্যে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে লটারিতে। প্রথম শ্রেণিতে রাজধানীর যে ১৭টি স্কুলে ভর্তি করা হবে, সেগুলো হলো- আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডি গভ. ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভ. বয়েজ উচ্চবিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভ. বয়েজ উচ্চবিদ্যালয়ের ফিডার শাখা, তেজগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুলের ফিডার শাখা, নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।

monisha-20181109172200.jpg

শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮’। গতকাল ৮ নভেম্বর বাংলা একাডেমিতে এ উৎসব শুরু হয়। এবারের উৎসবে অংশ নিলেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। শুক্রবার এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন তিনি। এই অভিনেত্রী তার জীবনের প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য বুক অব আনটোল্ড স্টোরিজ’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত এই বইয়ের সূত্র ধরেই লেখকদের সমাবেশে তার যোগদান।

গুনী এই অভিনেত্রী বাংলা একাডেমীতে ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮’ এর অনুষ্ঠানে এসে শুনিয়েছেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার এক অন্যরকম গল্প। শুক্রবার সকাল ১১টার সময় শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের লিট ফেস্ট। দুপুরে মনীষা আগত লেখক ও শ্রোতাদের শুনিয়েছেন তার গল্প।

ঢাকা লিট ফেস্টে মনীষা তার বই এবং জীবনের নানা গল্প নিয়ে দুই ঘণ্টার একটি সেশনে অংশ নিয়েছেন।এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন ‘রিকশা গার্ল’ বইয়ের লেখিকা ও অভিনেত্রী নন্দিতা দাস। বেশ জমে উঠে ছিল তাদের আড্ডা।

MONISHA-(2)

নেপালি কন্যা বলিউড নায়িকা মনীষা কৈরালা ‘১৯৪২ অ্যা লাভ স্টোরি’ ছবির মাধ্যমে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ক্যান্সারের সঙ্গে অনেক দিনে লড়াই করে জিতে ফিরে এসেছেন তিনি। রাজকুমার হিরানি নির্মিত সঞ্জয় দত্তের বায়োপিকে অভিনয় করেন মনীষা।

অন্যদিকে নন্দিতা দাস চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, পরিচালকই ও সামাজকর্মী। লিট ফেস্টে তিনি এসেছেন নিজের পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘মান্টো’ নিয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী দিনে ছবিটির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশ-বিদেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, প্রকাশক, চিন্তাবিদ, ইতিহাসবিদ প্রায় ১০০টি সেশনে অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনে। আয়োজনের বড় অংশ জুড়ে থাকছে দেশের সাহিত্যিকদেরও অংশগ্রহণ। লিট ফেস্ট শেষ হবে ১০ নভেম্বর।