তথ্যমন্ত্রী Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

ভুয়া অনলাইন নিউজ প্রোটালের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অনলাইন জার্নাল ‘রিপোর্টার্স ভয়েস’ উদ্বোধন ও ডিআরইউ সদস্য লেখকদের সম্মাননা-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যেসব অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, যেসব অনলাইন গুজবের সঙ্গে যুক্ত, সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আসছে বছরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করব।’

অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার পর এই ব্যবস্থা শুরু হবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি যেমন সমাজের চাহিদা, একইভাবে সাংবাদিক সমাজেরও চাহিদা।

যে অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো সত্যিকার অর্থে সংবাদ পরিবেশনের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা না করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘দেখা যায় কেউ একজন অনলাইন পোর্টাল খুলে যাকে-তাকে সাংবাদিকের কার্ড দিয়ে দিল।

তিনি আসলে প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক নন, কার্ডটির জন্যই সাংবাদিক সেজেছেন।

এগুলো বন্ধ করার জন্য রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিক ফোরামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কিছু কিছু সাংবাদিক নামধারীর জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজের বদনাম হতে পারে না।’

ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুর রহমান এবং ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪০ লাখ।

আজ সংখ্যাটি ১১ কোটির বেশি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে আজ সাড়ে ১৫ কোটির কাছাকাছি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী।

এই ব্যাপক পরিবর্তন জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল, দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য সম্ভব হয়েছে।’

hasan4f.jpg

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। আর এখন যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তখনও অব্যাহতভাবে গত ১২ বছর ধরে দেশকে অন্ধকারের দিকেই নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস ও আইন সম্পাদক আর এম ইউনুস রুবেল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে’—বিএনপির এই অভিযোগের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি শুধু গৎবাঁধা অভিযোগ করেই যায়।

বিএনপির সব বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম সবই নির্বাচন কমিশন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেন্দ্রিক, যা প্রমাণ করে তারা শুধু ক্ষমতা চায়, জনগণের কথা ভাবে না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির জন্মই হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে সেনা ছাউনির মধ্যে, সেনাবাহিনীর শত শত অফিসার এবং জওয়ানের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে। তাদের আমলে দেশ দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাওয়া ভবনে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা, আর খোয়াব ভবনে ছিল আমোদ-ফুর্তি।

তখন বাংলাভাই, শায়েখ আব্দুর রহমানসহ জঙ্গিদের উত্থান ঘটেছিল। দেশে আদালতে বোমা, রাজপথে বোমা, ৬৩টি জেলায় পাঁচশ’র বেশির স্থানে একযোগে বোমা ফেটেছিল।’

আওয়ামী লীগের অন্যতম এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য শুধু নির্বাচন বর্জনই নয়, নির্বাচন বানচালের জন্য পেট্রোলবোমা মেরে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাকে বোমা মেরে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

সে কারণে কানাডার আদালতের রায়ের মধ্যে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী দল বলা হয়েছে।

সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে আদালতে সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃত বিএনপি’র মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।’

শহীদ নূর হোসেন স্মরণে ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক জীবন্ত পোস্টার হিসেবে সবসময় নূর হোসেনের নাম রক্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

Hasan6.jpg

বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বরকে কালো দিন এবং সৈনিক ও অফিসার হত্যা দিবস বলে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এই দিনকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে অথচ প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল হুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল হায়দারসহ বহু সৈনিক ও অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল।

এমনকি যে কর্নেল তাহের বন্দীদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন, সেই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরকেও জিয়া পরবর্তীতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হত্যার রাজনীতির মাধ্যমেই বিএনপির অভ্যূদয়, তারা এদিনটি যেভাবে পালন করে, তাতেই প্রমাণ হয় এবং এদিনই আসলে জিয়াউর রহমান বহু সৈনিক ও অফিসারের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন’।

তিনি বলেন, ‘জিয়া প্রথমে তার মনোনীত বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে রাখেন কিন্তু উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা ছিলো তার হাতেই।’

তিনি বলেন, ‘জিয়া শুধু অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করাই নয়,সেই ক্ষমতা নিষ্কণ্টক রাখতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসার হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছিলেন’।

এ সময় সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ক্ষমতায় টিকে আছে’ এ মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার। আর পক্ষান্তরে বিএনপিই এদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে সেনা ছাউনিতে বিএনপি’র জন্ম। ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে তারা দল গঠন করেছে।

আজ যারা বড়বড় কথা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, মির্জা ফখরুল সাহেবসহ তারা সবাই সেই উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

আর গত একযুগ ধরে আমরা দেখছি, বিএনপি নির্বাচনকে বর্জন করছে, প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা এমনকি নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে চেয়েছে, কিন্তু জনগণ তা হতে দেয়নি।’

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায়ের মন্তব্যর জবাবে ড. হাছান বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিই এখন লাইফ সাপোর্টে।

কারণ তাদের নেতাদের ওপর কর্মীদের আস্থা নেই, আর নেতাদের মধ্যে ঐক্য নেই।

hasan68659.jpg

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে নবপ্রজন্মের মনন তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনন্য। প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকরা জাতিকে পথ দেখায়, মানুষের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে তাদের আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখা প্রদর্শনীর সমাপনী ও ডিআরইউ সম্মাননা প্রদান’অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য হচ্ছে একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করা, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা। এবং সেই উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হলে একটি উন্নত প্রজন্মেরও প্রয়োজন, যে প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। আর সেই নতুন প্রজন্মের মনন তৈরিতে, দেশকে সঠিকখাতে প্রবাহিত করতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তীতে দেশ গঠনে সাংবাদিকদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি, সমাজে তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়া, সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরা, দায়িত্ববানদেরকে আরো দায়িত্ববান করা, সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার সমালোচনাকে সমাদৃত করার সংস্কৃতি লালন করে স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, তবে যদি শুধুই সমালোচনা হয়, ভালো কাজের প্রশংসা না হয়, তাহলে যারা ভালো কাজ করে, তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে, সেজন্য সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসাও প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী এসময় ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানমালা সুন্দর ও সফলভাবে সম্পাদনা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখার ওপর সম্মাননা প্রদানের আয়োজনের জন্য ডিআরইউকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

hasanmms.jpg

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দুটিতেই জিয়াউর রহমান যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার জেলহত্যা দিবসে রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবি করেন তিনি।

হাছান মাহমুদ এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহতদের এবং ৩ নভেম্বর নিহত জাতীয় চার নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের আত্মার শান্তিকামনা করেন।

‘১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বরে জেলহত্যা এই দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন।

কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ তার একান্ত বিশ্বস্তজন বলেই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকারী সবাইকে পুনর্বাসিত করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করা, পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করা এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, তবে অনেক আসামি পলাতক।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন, ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে।

একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী অনেকের বিচার হয়েছে এবং অনেকের বিচার কার্যক্রম চলছে।

পলাতক অপরাধীদের ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করলেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের প্রতিকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালেও যে ক’টি দেশ উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।

এই করোনাকালেও ১৯শ’ ডলার থেকে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল বিধায় আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

এই পরিবেশ নষ্ট করার জন্য তারা নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও দেশ-বিদেশ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

গুজব রটনাকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনার জন্য জনগণকে অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যেকোনোভাবে যদি কেউ গুজব রটায় বা অসত্য তথ্য বা পোস্ট দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

hasanmms.jpg

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-কে অবমাননা করে কোনো কিছু, সেটি আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।

এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এজন্য যে প্রতিবাদ হচ্ছে। অতীতেও যখন এ ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে, তখন এই ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে। কোনো ধর্মের অনুভূতিতেই আঘাত দেয়া সমীচীন নয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে খুলনায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সমাপ্তি ও পার্ক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের শেষের দিকে দেশের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান মাহমুদ বলেন, আইএমএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন, একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আউটলুক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পৃথিবীর হাতেগোনো যে কয়েকটি দেশের ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে, এরমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

আইএমএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের শেষের দিকে আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর পুরো ভারতজুড়ে তোলপাড় পড়ে গেছে। ভারতের সমস্ত মিডিয়াতে এই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিভিন্ন সভা-সমিতিতে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বুদ্ধিজীবীরা আলোচনা করছেন। শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করছেন।

তিনি বলেন, শুধু ভারতে নয়, পাকিস্তানেও একই ঘটনা ঘটছে। সেখানেও তোলপাড় পড়ে গেছে।

পাকিস্তানের কোনো কোনো টেলিভিশনে আবার একটু স্তুতি গাওয়ার অর্থাৎ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বলা হচ্ছে, আমাদের ভাইরা এগিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে ভারত-পাকিস্তানে তোলপাড় পড়ে গেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু বাংলাদেশে যারা অর্থনৈতিক সমীক্ষা নিয়ে কাজ করেন, অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন, গবেষণা করেন, তাদের মুখে কোনো বক্তব্য আমরা দেখতে পাইনি।

আইএমএফ ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যদি কোনো নেগেটিভ প্রতিবেদন দিতো, তাহলে দেখতে পেতেন তারা এতদিন টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে ঝালাপালা করে দিতো।

তিনি বলেন, কিন্তু এ রকম একটি পজিটিভ প্রতিবেদন যেটি নিয়ে পুরো উপমহাদেশ জুড়ে তোলপাড় এতে তারা নিশ্চুপ।

এতে প্রমাণিত হয়, দেশের ভালো কিছু হলে তারা খুশি হন কি-না, এই প্রশ্নই দেখা দেয়। যেহেতু দেশের অগ্রগতিতে তারা নিশ্চুপ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, কিন্তু যখন দেশের কোনো নেগেটিভ প্রতিবেদনে কোনো জায়গায় ছিটেফোঁটা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কেন, কোনো একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায়ও যদি বের হয়, সেটি নিয়ে তারা খুব সরব হন।

আজকে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অনেক বিদগ্ধজন সেই প্রশ্ন করেছেন, আমি করছি না। অনেকেই প্রশ্ন করছে।

তারা আজকে যেহেতু নিশ্চুপ এতে অনেকেই প্রশ্ন করছে, তারা কি আসলে দেশকে খারাপভাবে উপস্থাপন করার জন্য গবেষণা করেন।

তিনি বলেন, দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য গবেষণা করেন।

কোনো ইতিবাচক প্রতিবেদন হলে তারা নিশ্চুপ থাকেন কেন? এটি অনেকেই প্রশ্ন রেখেছেন, সেই প্রশ্ন আমারও।

Hasan4f.jpg

করোনাকালীন সময়ে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টর থেকে শুরু করে কমবেশি প্রতিটি সেক্টরে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এরপরও বিএনপি অহেতুক আওয়ামী লীগ সরকারের বিষোদগার করছে।

এ দলটি (বিএনপি) সরকারের প্রশংসা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেশের চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসায় ভারত-পাকিস্তানসহ উপমহাদেশজুড়ে তোলপাড় হলেও দলকানা বিএনপির মুখে শুধু সমালোচনা।

বিএনপি শুধু বলে বেড়ায়, সরকার তাদের কথা বলতে দেয় না অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব সকালে একবার সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, বিকেলে আরেকবার করেন।

তারা শুধু অহেতুক বিষোদগারই করতে পারে, প্রশংসা করতে পারে না। তার মতে, এটি বিএনপির রাজনৈতিক ও চিন্তা-চেতনার দৈন্য। তারা যে দলকানা অর্থাৎ শুধু দল নিয়ে ভাবে, দেশ ও দশের কথা ভাবে না সেটিরই বহিঃপ্রকাশ।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল সংস্থা আইএমএফ এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসময় ড. হাছান বলেন, আইএমএফ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এবছরের শেষান্তে আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক, মানবিকসহ সমস্ত সূচকে আমরা পাকিস্তানকে বহু আগেই এবং অনেক সূচকে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি।

বিশেষ করে এখন অর্থনৈতিক সূচক যেমন ‘পার ক্যাপিটা জিডিপি’র ক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি।

‘শুধু আইএমএফ নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনা মহামারির এবছরে ভারত-পাকিস্তানসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক, সেখানে বাংলাদেশ সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের একটি যাদের প্রবৃদ্ধি ধনাত্মক’ উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

এসময় চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী চেতনায় এদেশে যে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে ইতোমধ্যেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

চলচ্চিত্রে অনুদানের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ দুই-ই বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিনেমা হল নির্মাণ, বন্ধ হল চালু ও সংস্কারের জন্য এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

hasanmms.jpg

নিজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

মন্ত্রীর সহকর্মীরা বলেন, প্রতিদিনই মন্ত্রণালয় এবং দলীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনসাধারণের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন।

তারা মনে করছেন, কাজ করতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নেয়ার ফলে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

রোববার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর ঘরবন্দী থাকেননি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

দল ও সরকারের সমান তালে কাজ করছেন। কখনো দলের নেতাকর্মী, কখনো মন্ত্রণালয়ের কাজে আবার কখনো নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। প্রতিদিনই মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তথ্যমন্ত্রী বর্তমানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। তিনি নিজে সুস্থতা বোধ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তথ্যমন্ত্রী। রোববার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে স্কয়ার হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম।

এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিট প্রধান ডা. রায়হান রাব্বানীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। তারাও তথ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা উন্নতি ঘটেছে বলে জানান।

সেদিন দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় মন্ত্রীকে। ফেইসবুকে নিজের পোস্টে তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিকদের নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে করোনাকালে সাংবাদিকদের প্রসংশা কুড়িয়েছেন তিনি।

মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি দলীয় কাজে হাছান মাহমুদ পূর্ণ মনোযোগী ছিলেন জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, করোনা পরিস্থিতি দলের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছিলেন অগ্রভাগে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন নিয়মিত। করোনাকালে চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনে সশরীরে চট্টগ্রামে উপস্থিত হন কয়েকবার।

তার একজন সসহযোগী বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকার মানুষকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণমুক্ত রাখতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

সরকারি ত্রাণ সহায়তা সুষম বণ্টনে নিয়েছেন কার্যকর পদক্ষেপ।

ব্যক্তিগতভাবেও করোনাকালে সুরক্ষা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষের মাঝে।

হাছান মাহমুদের নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলাসহ সমগ্র চট্টগ্রামে ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার দ্রুত ও সম্পূর্ণ  সুস্থতার জন্য প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে’।

Hasan6.jpg

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুগভীর, বহুমাত্রিক ও রক্তের অক্ষরে লেখা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে আসা ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। তথ্যসচিব কামরুন নাহার ও মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অকৃত্রিম ও অতুলনীয়, যার সাথে অন্য কোনো দেশের সম্পর্কের তুলনা চলে না।

আমাদের দু’দেশের সম্পর্ক রক্তের অক্ষরে লেখা। কারণ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সৈন্যরা রক্ত দিয়েছেন।

আমাদের এক কোটি মানুষকে ভারত সরকার আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন এই ইতিহাসের পাতায় এটি লিপিবদ্ধ থাকবে।

বৈঠকের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রকার শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি মুজিববর্ষের মধ্যেই সমাপ্ত করার পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশি পরিচালক ও ভারতীয় সহ-পরিচালকের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ওপরে যৌথভাবে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে বিটিভি এবং বাংলাদেশের প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখা গেলেও পশ্চিমবাংলাসহ সমগ্র ভারতে দেখার ব্যবস্থা করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, একইসাথে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে যাতে উভয় দেশ উপকৃত হয় বিশেষ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো যাতে চট্টগ্রাম বন্দর সহজে ব্যবহার করতে পারে। সেখানে সড়ক ও রেল সংযোগ যাতে দ্রুত চালু হয়, সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একইসাথে দু’দেশের মধ্যে সাংবাদিকদের সফর বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ আদান-প্রদানসহ গণমাধ্যম খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি নিয়েও আলোচনার কথা জানান ড. হাছান।

এসময় নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার খানিক বাংলাও বলতে পারেন, উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম এসময় সাংবাদিকদের বলেন, দু’দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়াই তার লক্ষ্য। ধর্ষণ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থানে সরকার।

সাংবাদিকরা এসময় ধর্ষণ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিধান রেখে আইন সংশোধনের বিষয়ে বিএনপি’র নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনার কথা অনুযায়ী বিএনপি যে বক্তব্য রেখেছে, তাতে প্রশ্ন জাগে- তাহলে কি আইন সংশোধনটা বিএনপি’র পছন্দ হয়নি! সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন সংশোধন করেছে এটি দমনের জন্য।

কারণ আপনারা জানেন বাংলাদেশে যখন এসিড নিক্ষেপ বেড়ে গিয়েছিল, তখন সেটির কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার পর তা আর প্রায় ঘটেই না।

শুধুমাত্র আইন সংশোধন করার মধ্যেই আমাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখবো না। বিচার যাতে দ্রুত হয়, সেটির ওপরও সরকার গুরুত্বারোপ করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বাস্তবতার নিরিখে বলেন, এসবের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিনোদন প্লাটফর্মগুলোতে আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং সমাজের মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো উপাদান যদি এই ব্যধি ছড়ানোতে ইন্ধন দেয়, সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Dr.-Hasan-Mahmud-1-1280x720.jpg

‘বিএনপি নেতারা তাদের নেতাকর্মীদের কাছে অপ্রিয়, তারা দেশের মানুষের কাছে কীভাবে প্রিয় হবে’- প্রশ্ন রেখেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত করোনাকালীন মৃত্যুবরণকারী চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় সাংবাদিকের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, ছয় প্রয়াত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের মন্তব্য- ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’ এবং ‘মির্জা ফখরুলের বাসায় পচা ডিম নিক্ষেপ’ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি তো আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই বলে আসছে- এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, এই সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না।

আর আমরা দেখছি, বিএনপি যখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছে, তখন তাদের দলের মধ্যেই আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।’ ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের বাসায় নেতাকর্মীরা ঢিল আর পচা ডিম ছুড়েছে, উত্তরবঙ্গে মিটিং করতে গিয়ে তাদের দু’পক্ষ মারামারি করে মিটিং পণ্ড করে দিয়েছে- এভাবে যারা নিজেদের দলই সামলাতে পারে না, যারা নিজেদের কর্মীদের কাছে অপ্রিয়, তারা দেশের মানুষের কাছে কীভাবে প্রিয় হবে?

এর আগে সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং আমন্ত্রিত বক্তারা চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় প্রয়াত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে গেদুচাচা নামে খ্যাত আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক খোন্দকার মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক প্রধান সম্পাদক ভাষাসংগ্রামী ডি পি বড়ুয়া, দৈনিক দেশবাংলার সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুস শহিদ, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদনা বিভাগের সাবেক প্রধান আবুল কালাম ও দৈনিক সময়ের আলোর সাবেক প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকনের সাংবাদিকতায় অবদান স্মরণ করে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও তাদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনায় অংশ নেন। তাদের স্মরণে সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।