তামিমা Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

tamima-w.jpg

আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি যেন বাংলাদেশ না ত্যাগ করতে পারেন সে জন্য সৌদি এয়ারলাইন্সকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাকিব হাসানের পক্ষে এ চিঠি দিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। ১০ মার্চ এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছে বলে ২২ মার্চ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ইশরাত।

সৌদি এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজারকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মহানগর হাকিম আদালতে মামলা রয়েছে। কেবিন ক্রু হিসেবে সে বাংলাদেশ ত্যাগ করে আর নাও ফিরতে পারে। যা মামলাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রাকিব হাসান বিশ্বাস করে মামলায় থাকা এ রকম একজনকে বাংলাদেশ ত্যাগে অনুমতি দেবে না সৌদি এয়ারলাইন্স।

রাকিব হাসান বাদী হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮/৫০০ ধারা অনুযায়ী নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

এর আগে সম্প্রতি দেশের একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠানে বিয়ের তালাকের কাগজপত্র নিয়ে কথা বলেন তামিমা তাম্মি। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে একজন সাইকো হিসেবে তুলে ধরেন এবং তাকে মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, গত মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমাকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

rakib-nasir-265276.jpg

দেশের আলোচিত ঘটনা ক্রিকেটার নাসির-তামিমার বিয়ে। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তারা। আগের স্বামীর অভিযোগের কারণে মিডিয়ার আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নাসির-তামিমার বিয়ে, যা আইনি লড়াই পর্যন্ত এগিয়ে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে আসেনি। নাসির-তামিমার বিয়ে নিয়ে কিছুদিন আলোচনায় না থাকলেও আবারও তামিমা তাম্মির একটি সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনায় আসে।

সম্প্রতি দেশের একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠানে বিয়ের তালাকের কাগজপত্র নিয়ে কথা বলেন তামিমা তাম্মি। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে একজন সাইকো হিসেবে তুলে ধরেন এবং তাকে মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

তালাকনামা নিয়ে রাকিব (আগের স্বামী) যেসব প্রশ্ন তুলেছেন সেই কাগজগুলো মিথ্যা কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তামিমা বলেন, আমি জানি যে তার (রাকিব) শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক কম। উনার (রাকিব) ছোট মস্তিষ্ক থেকে হয়তো এটা বের করে এনেছে। আমি কি জানতাম ২০২১ সালে নাসিরের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে? আর ২০১৬ সালের ওই তালাকনামার পেজ আমি খালি রাখব, ওখানে নাম বসানোর জন্য।

তিনি বলেন, রাকিব একজন সাইকো। কারণ সাইকোলজিক্যাল সমস্যা বলেই সে হাতের মধ্যে, গলায়, একেক জয়গায় বিশ্বাস করে তাবিজ পরে। আর আধ্যাত্মিক টাইপের কথাবার্তা বলে। আমি বলব, ওকে মেডিকেলে পাঠানো হোক। সে মেন্টালিভাবে একজন সাইকো।

তিনি বলেন, নাসির আমাকে বিয়ে করার আগেই তালাক নোটিশটা দেখেছে। তাকে তালাক দেয়ার সব পেপারস আছে। আমি বাসায় থেকে দেই আর যেখান থেকেই দেই উনাকে (রাকিব) আমি তালাক দিয়েছি কি না বলেও প্রশ্ন তুলেন তামিমা।

মেয়ে তুবার কথা তুলে ধরে তামিমা বলেন, আমি মা, আমার থেকে মনে হয় দুনিয়াতে আর কারো এত কষ্ট লাগার কথা নয়। তুবামনি রাকিবের জন্য একটা এটিএম কার্ড, কারণ যখন তার সঙ্গে আমার তালাক হয়ে গেছে, তখন রাকিব আমার কাছ থেকে কোনো রকম ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাকআপ পাচ্ছিল না। আমার বাচ্চা তার কাছে থাকা মানে আমার সবকিছু তার কাছে থাকা, মানে আমি তার হাতের মুঠোই।

উল্লেখ্য, গত মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমাকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি নাসিরের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসে। সকাল থেকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তামিমার আরেক স্বামী ও সন্তানের ছবি। রাকিব নামে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। সেই ঘরে কন্যাসন্তানের বয়স এখন নয় বছর।

নাসিরের সঙ্গে বিয়ের ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেন রাকিব। এ কথা নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস।

জিডিতে রাকিব উল্লেখ করেন, তামিমার সঙ্গে এখনো তার ডিভোর্স হয়নি। ডিভোর্স ছাড়া স্ত্রী কীভাবে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সেই প্রশ্ন তার। এ জন্য স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন তিনি।

পরে জিডির কপি ও তাদের বিয়ের কাবিননামাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জিডিতে রাকিব অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় তামিমা গোপনে আরেকজনকে বিয়ে করেন। সেখানে ছয় মাস সংসারও করেন।

জিডি সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা ছয় মাস যে ছেলের সঙ্গে সংসার করেছেন ওই ছেলের নাম অলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে এই ছেলের বিষয়েই নাসির ও রাকিবের মধ্যে কথোপকথনও শোনা যায়।

এদিকে রাকিব ও নাসিরের ফোন রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে রাকিবকে ফোন করে জিডি করার ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে বলেন নাসির।

কথোপকথনে রাকিবের প্রশ্ন ছিল, আপনি কি তামিমা সম্পর্ক সবকিছু জানেন? উত্তরে নাসির হোসেন বলেন, তার সবকিছু জেনেশুনেই আমি তাকে বিয়ে করেছি। তার বাচ্চা আছে, তার আগেও বয়ফ্রেন্ড ছিল সবকিছুই আমি জানি। আপনার বউ আপনার সঙ্গে ভালো থাকলে নিশ্চয়ই আপনার ১১ বছরের সংসার ভেঙে আমার কাছে চলে আসত না।

রাকিব হাসান ও তামিমার কাবিননামায় দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। রাকিবের দাবি, গত ১১ বছরে তার স্ত্রীর পড়াশোনা থেকে শুরু করে জব, সবক্ষেত্রেই তিনি সাহায্য করেছেন।

Nasir-Tamima.jpg

পাসপোর্ট ইস্যুতে ফেঁসে যেতে পারেন ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা তাম্মি। তামিমার দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালেই প্রথম স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক দেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, ২০১৮ সালে তার পাসপোর্ট আবেদনে দেখা যাচ্ছে তার স্বামী রাকিবের নাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাকিবকে তালাক দেওয়ার দিন-তারিখের সঙ্গে তামিমার ব্যক্তিগত তথ্যের গরমিল পেয়েছে পুলিশ। ডিভোর্সের এক বছর পরও স্বামীর নাম রাকিব হাসান লিখেছেন তামিমা। ডিভোর্সের পরও তামিমা কেন স্বামী হিসাবে রাকিবের নাম লিখেছেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এ জন্য শিগগির তামিমাকে পুলিশের জেরার মুখোমুখি হতে হবে।

গত মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে তামিমাকে বিয়ে করেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন। নতুন সংসার শুরু করতে না করতেই নাসিরের বিয়ে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তামিমার প্রথম স্বামী রাকিব হাসান দাবি করেন, তালাক না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন তামিমা ও নাসির।

এরপর সংবাদ সম্মেলন করে তামিমা তার প্রথম স্বামীকে তালাক প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। কিন্তু তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্য কোনোভাবেই মিলছে না। ফলে এখানে তালাকের বিষয়টি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। দুটি তথ্য সঠিক হওয়ার সুযোগ নেই।

পাসপোর্টে দেওয়া তথ্য সঠিক হলে তালাক সংক্রান্ত তথ্য অসত্য। আবার যদি তালাক দেওয়াকে সঠিক ধরে নেওয়া হয়, তাহলে পাসপোর্টে অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণে তার পাসপোর্ট বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থেকে যাচ্ছে। সূত্রমতে, পুলিশ এভাবেই তদন্তের গতিপ্রবাহ নির্ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।

পাসপোর্টে স্বামী হিসাবে রাকিবের নাম উল্লেখ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাসির-তামিমার আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তামিমার পাসপোর্টে তথ্যের যে গরমিলের কথা বলা হচ্ছে তা এখনো আমি দেখিনি। এটা দেখার পর মন্তব্য করতে পারব। একইসঙ্গে আদালতকেও জানাতেও পারব।’

tamima-w.jpg

ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের স্ত্রী তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিটে বিয়ে-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্মান রক্ষা করতে এবং পারিবারিক জীবন বাঁচাতে বিয়ে ও বিচ্ছেদ রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রিটকারী অন্যরা হলো- সোহাগ হোসেন, কামরুল হাসান ও এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) করা এ রিটে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এতে বিয়ে-ডিভোর্স সংক্রান্ত বিষয়ে সম্মান রক্ষায় প্রতারণার হাত থেকে বাঁচিয়ে (বিয়ে-ডিভোর্সের ক্ষেত্রে) সম্মান রক্ষা এবং পারিবারিক জীবন বাঁচাতে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশন করার নির্দেশনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

ক্রিকেটার নাসিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসানসহ তিন ব্যক্তি একটি সংগঠনের পক্ষ একটি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশনের আইনগত বিধান থাকলেও তা ডিজিটাল না করার ফলে অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, বিয়ে গোপন রেখে ডিভোর্স না দিয়ে বিয়ে করার ঘটনা অনেক ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে, সন্তানের পিতৃ-পরিচয় নিয়েও জটিলতা দেখা যাচ্ছে। বিয়ে সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে অসংখ্য মামলার জন্ম নিচ্ছে। তাই, বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল হওয়া একান্ত আবশ্যক। বিয়ে ও ডিভোর্স ডিজিটালাইজেশন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এতে প্রতারণার হাত থেকে অসংখ্য মানুষ রক্ষা পাবে।

অ্যাডভোকেট বলেন, বিয়ে ও ডিভোর্সের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল হওয়া জরুরি। বর–কনের ছবিসহ বিয়ে ও তালাকের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজ হলে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যাবে।

নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়। নোটিশ দেওয়ার পরও বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল করতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হাইকোর্টে এ রিট করা হয়।

বিয়ের পিঁড়িতে বসা ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রী তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই নাকি আবার বিয়ে করেছেন। উত্তরা পশ্চিম থানায় এমন অভিযোগ তুলে সাধারণ ডায়েরি করেছেন তামিমার স্বামী দাবি করা রাকিব হাসান। থানায় তামিমার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন রাকিব। তামিমার সঙ্গে রাকিবের ১১ বছরের সংসার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে জিডিতে। দুজনের ৮ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু সব ফেলে নাসিরকে বিয়ে করায় থানায় অভিযোগ করেছেন রাকিব। এবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন ভুক্তভোগী রাকিব হাসান।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। নাসিরের স্ত্রী পেশায় একজন কেবিন ক্রু। কাজ করেন বিদেশি একটি এয়ারলাইনসে।

Nasir8.jpg

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দেশের ক্রীড়াঙ্গন উত্তাল ছিল নাসির হোসেনের বিয়ে নিয়ে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বিমানের ক্রু তামিমা সুলতানাকে বিয়ে করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের এই অলরাউন্ডার।

এরপরেই নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার। যা নিয়ে মামলাও হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অবশ্য দু’দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ নিয়ে বেশ দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাসির।

তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভার্থী ও ভক্তবৃন্দ, আপনাদের সদয় অবগতির জন্য আমি পুনরায় বিশেষভাবে জানাচ্ছি, আমার এই ফেসবুক পেইজ ব্যতীত অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/পেইজ নেই। আমার স্ত্রী তামিমা সুলতানারও কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/পেইজ নেই। অত্র ফেসবুক পেইজটিই আমার অফিশিয়াল এবং একমাত্র ফেসবুক পেইজ। এই পেইজ ব্যতীত অন্য যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেইজ নকলভাবে/জালিয়াতির মাধ্যমে আমার বা আমার স্ত্রীর নামে তৈরি করা হয়েছে বা বর্তমানে বিদ্যমান আছে সেইগুলি সমস্তই নকল/জাল, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতারণার মাধ্যমে আমাদের লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করা। ’

নাসির আরো লেখেন, ‘আমাদের নামে সৃজিত সেই সমস্ত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইল/পেইজ থেকে যেসমস্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য/ স্ট্যাটাস আপনাদের কাছে প্রকাশ/শেয়ার করা হচ্ছে তার সমস্তই মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এমতাবস্থায় আমি আমার সকল বন্ধু, ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা অনুগ্রহপূর্বক সেই সমস্ত নকল/জাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইল/পেইজ থেকে প্রদানকৃত বিভ্রান্তিকর তথ্য/ স্ট্যাটাস বিশ্বাস করবেন না এবং উক্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য/স্ট্যাটাস শেয়ার করবেন না।

এই ফেসবুক পেইজ ব্যতীত আমাদের নামে সৃজিত সেই সমস্ত নকল/জাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইল/পেইজ থেকে প্রকাশকৃত/পরিবেশনকৃত কোনো বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন তথ্যের জন্য আমি অথবা আমার স্ত্রী দায়ী নই। আমি অথবা আমার স্ত্রী যদি কোনো তথ্য/সংবাদ আপনাদের নিকট প্রকাশ/পরিবেশন করতে চাই তবে আমরা এই ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে অথবা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানের মাধ্যমে তা প্রকাশ করবো। ’

সবার কাছে ভালোবাসা ও সমর্থন চেয়ে তিনি লেখেন, ‘এই সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য এবং আমাদের সহায়তা করার জন্য আমি আমার সকল ভক্ত, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি আপনারা সবাই আমাদের পাশে থাকবেন এবং আমাদের প্রতি আপনাদের ভালবাসা এবং সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। ’

nasir-tammi.jpg

সম্প্রতি বিয়ে করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন। তবে নাসিরের বর্তমান স্ত্রী তামিমা আগের স্বামী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেন প্রথম স্বামী রাকিব।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নাসির-তামিমা। সে সময় উপস্থিত ছিলেন তাদের আইনজীবী।

প্রেস ব্রিফিংয়ের পর ওই দিনই একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন নাসিরের স্ত্রী তামিমা। এ সময় নাসিরের বেশ কিছু গুণের কথা তুলে ধরেন তামিমা। এছাড়াও কিভাবে নাসিরের প্রেমে পড়েন সেটিও জানান তামিমা।

তামিমা বলেন, ‘নাসির শো-অফ করেনা। ও রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটা রিক্সাওয়ালার সাথে বসে কথা বলা শুরু করে দেয় যেটা সাধারণ সেলিব্রেটিরা করে না কখনো। ওই লোকের সাথে কথা বলা যাবেনা, এটা করা  যাবেনা, ওঠা করা যাবেনা- ওর ভেতরে সেগুলো কোনো কিছুই নেই।’

তামিমা আরও বলেন, ‘নাসিরকে নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলে থাকে। কিন্তু ওকে (নাসিরকে) যদি আবিষ্কার করা হয়, সে খুবই ভালো একজন মানুষ। ওকে যদি আবিষ্কার করা হয়, ও একদম পুরো বাচ্চাদের মতো। তার মাঝে কোনো জঠিলতা নেই। ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো কিছু নেই।’

এছাড়া তামিমার একটি বক্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় স্যোশাল মিডিয়ায়।

বক্তব্যের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নাসিরের খেলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তামিমা বলেন, ‘অ্যাকচুয়ালি খেলার বিষয়ে আমার তেমন কোন আইডিয়া নেই। ও (নাসির) খেলুক, মাঠে খেলুক, ও যেখানেই খেলুক না কেন বাট খেলুক।’

হাসতে হাসতে এমন মন্তব্য করেন নাসিরের স্ত্রী। সে সময় নববধূর সঙ্গেই ছিলেন নাসির। ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের সাক্ষাৎকার দেওয়া ওই ভিডিওটির একটি অংশটি কেটে অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করেন। যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নাসিরের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসে। সকাল থেকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তামিমার আরেক স্বামী ও সন্তানের ছবি। রাকিব নামে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। সেই ঘরে কন্যাসন্তানের বয়স এখন ৮ বছর।

এর আগে বুধবার নাসির হোসেন ও স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাম্মির আগের স্বামী মো. রাকিব হাসান। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে নতুন বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে রাকিব হাসান এ মামলা করেন।

রাকিবের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, মামলায় তামিমা সুলতানা তাম্মিকে এক নম্বর ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৯৪, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর সঙ্গে ১ নম্বর আসামি তামিমা সুলতানার ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহর ধার্যে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর থেকে বাদী ও ১ নম্বর আসামি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে বাদীর ১নং আসামির গর্ভে একজন কন্যাসন্তানের জন্ম হয়, যার নাম রাখা হয় তুবা হাসান, বয়স-৮ বছর। ১ নম্বর আসামি (তাম্মি) পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত। চাকরির সুবাদে তিনি গত ১০ মার্চ সৌদিতে গিয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন।

Nasir-Tamima.jpg

ডিভোর্স পেপার ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে গত কয়েকদিন ধরেই।

এরই মধ্যে নাসির ও তামিমা দাবি করেছেন, তাদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাসির।

পাঠকের উদ্দেশে তার সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো –

‘আমার প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভার্থী ও ভক্তবৃন্দ, আপনাদের  সদয় অবগতির জন্য আমি পুনরায় বিশেষভাবে জানাচ্ছি যে, আমার  এই ফেসবুক পেজ ব্যতীত অন্য কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেজ নেই।  আমার স্ত্রী তামিমা সুলতানারও  কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেজ নেই। অত্র ফেসবুক পেজটিই  আমার অফিশিয়াল এবং একমাত্র  ফেসবুক পেজ।  এই ফেসবুক পেজ ব্যতীত অন্য যে সমস্ত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেইজ  নকলভাবে/ জালিয়াতির মাধ্যমে আমার অথবা আমার স্ত্রীর নামে তৈরি করা হয়েছে বা বর্তমানে বিদ্যমান আছে সেইগুলি সমস্তই নকল/জাল, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতারণার মাধ্যমে আমাদের লাঞ্ছিত ও অপদস্ত করা।  আমাদের  নামে  সৃজিত  সেই সমস্ত  ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেজ থেকে যেসমস্ত  বিভ্রান্তিকর  তথ্য/ স্ট্যাটাস  আপনাদের কাছে প্রকাশ/শেয়ার করা হচ্ছে  তার সমস্তই  মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এমতাবস্থায় আমি আমার সকল বন্ধু, ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের  অনুরোধ  জানাচ্ছি যে আপনারা  অনুগ্রহপূর্বক  সেই সমস্ত নকল/জাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেজ থেকে প্রদানকৃত  বিভ্রান্তিকর  তথ্য/ স্ট্যাটাস বিশ্বাস করবেন না এবং  উক্ত  বিভ্রান্তিকর  তথ্য/ স্ট্যাটাস  শেয়ার করবেন না। এই ফেসবুক পেইজ  ব্যতীত আমাদের  নামে সৃজিত সেই সমস্ত নকল/জাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট/ প্রোফাইল/ পেইজ থেকে প্রকাশকৃত/পরিবেশনকৃত কোন বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন তথ্যের জন্য আমি অথবা আমার স্ত্রী দায়ী নই। আমি অথবা আমার স্ত্রী যদি কোন তথ্য/সংবাদ আপনাদের নিকট প্রকাশ/পরিবেশন করতে  চাই তবে আমরা এই ফেসবুক পেইজ এর মাধ্যমে অথবা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানের মাধ্যমে তা প্রকাশ করবে। ‘

এ অলরাউন্ডার আরো লেখেন, ‘এই  সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য এবং আমাদের সহায়তা করার জন্য আমি আমার সকল ভক্ত, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।  আমি আশা করি আপনারা  সবাই আমাদের পাশে থাকবেন  এবং  আমাদের প্রতি আপনাদের ভালবাসা এবং সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
সবাইকে  আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।’

tamima111.jpg

বর্তমানে সারাদেশে আলোচিত এক নাম তামিমা সুলতানা তাম্মি। ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিয়ের পর তাকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন রাকিব নামে এক যুবক। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তবে সারা দেশে তিনি তামিমা নামে পরিচিত হলেও নিজ গ্রামের লোকজন তাকে চেনেন শবনম নামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তামিমার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামে। ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে লোকেরপাড়া গ্রামের অবস্থান। সেখানে গিয়ে দেখা মিলে তামিমার চাচা জাহিদুর রহমান বিপ্লবের। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, তারা চার ভাই। তামিমার বাবা সহিদুর রহমান স্বপন সবার বড়। তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। মা সুমী আক্তার। এলাকাবাসী তামিমাকে চেনেন শবনম নামে।

বিপ্লব বলেন, গ্রামে তামিমার খুব একটা আসা-যাওয়া নেই। বছর দুয়েক আগে একবার এসেছিল। তবে ওর বাবা আসেন। তামিমা বড় হয়েছেন টাঙ্গাইল শহরে। টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। একই কলেজে ভূগোল বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত তিনি। সম্রাট (২৫) ও অভি (১৭) নামে তার ছোট দুই ভাই রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাকিব তামিমার প্রেমের বিয়ে শুরুতে ওর মা বাবা মেনে না নিলেও পরে মেনে নেন।

ডির্ভোসের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি পারিবারিকভাবেই তামিমা রাকিবকে তালাক দিয়েছে। পরে নাসিরকে বিয়ে করেছে।

অন্যদিকে, নাসির-তামিমার বিয়ে নিয়ে এতো কিছু হয়ে গেলেও এখনো তেমন কিছুই জানেন না তার নিজ গ্রামের মানুষ।

এদিকে তামিমা তার পাসপোর্টে ঠিকানা দিয়েছেন গ্রাম লোকেরপাড়া, পোস্ট অফিস সিঙ্গুরিয়া টাঙ্গাইল সদর। প্রকৃতপক্ষে এই ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব নেই টাঙ্গাইল সদরে। ওই ঠিকানাটি ঘাটাইল উপজেলায়।

পাসপোর্ট ও ডিভোর্স কাগজে ভুল ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে মোবাইল ফোনে তামিমার বাবা সহিদুর রহমান স্বপন বলেন, যখন তামিমার এয়ারলাইনসে চকরি হয় তখন জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট করতে হয়েছে। সে সময় হয়তো ভুল হয়ে থাকতে পারে।

তামিমার ভাই সম্রাট বলেন, ২০১৬ সালে রাকিবকে তামিমা তালাক দিয়েছেন এবং পাসপোর্টটা রি-ইস্যু করা হয়েছে ২০১৮ সালে। তালাকের প্রমাণপত্রও রয়েছে আমাদের কাছে। তারপরও তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, তামিমা সুলতানা ঢাকা থেকে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। পাসপোর্টটি ইস্যু হয়েছে ডেপুটি ডিরেক্টর নাদিরা আক্তারের স্বাক্ষরে।

nasir31.jpg

বধূ কার? ফয়সালা হবে আদালতে। দুই পক্ষই তদন্ত ও আদালতের ওপর আস্থা রাখতে চান। ক্রিকেটার নাসির হোসেনের আইনজীবী জানান, তারা মামলার বাদী রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর রাকিব হাসান জানান, তারাও আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুত। পিবিআই বলছে, আদালতের নির্দেশনা পেলেই শুরু হবে তদন্ত।

এক বধূ নিয়ে দু’জনের দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালতে। আদালতের বাইরেও চলছে দুপক্ষের বাকযুদ্ধ। ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য আসছে। তাহলে এই বিতর্কের অবসান কোথায়? দুপক্ষই বলছে, যা হবে আদালতে।

ক্রিকেটার নাসির হোসেনের আইনজীবী জানান, ডিভোর্স দেয়ার পরও অন্যের বউকে নিজের দাবি করায় মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তারা। সে বিষয়ে কাজ চলছে। এবং তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ পেশ করবো।

তামিমাকে নিজের বৈধ বউ দাবি করা রাকিব হাসান জানান, তারা মামলা করলে সেটিও আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, তারা যদি আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দেখাতে পারে ডিভোর্সের পেপার হাতে পেয়েছি। সেটা আমার উকিল কথা বলবে।

পুলিশ ব্যুবো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশ এখনো পাননি। পেলেই শুরু হবে তদন্ত। আগামী ৩০ মার্চ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

tamimaw.jpg

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘ব্যাড বয়’ খ্যাত নাসির হোসেন এবং তামিমা তাম্মির বিয়ের পর থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তামিমার আগের স্বামী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন বলে প্রথম অভিযোগ তোলেন রাকিব। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে আদালতে মামলাও করছেন তিনি।

এদিকে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বনানীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বিয়ে নিয়ে উদ্ভুত আলোচনা-সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা তাম্মি। ব্রিফিংয়ে নাসির ও তামিমা দাবি করেন, তারা দেশের আইন ও ধর্মীয় বিধান মেনে বিয়ে করেছেন। রাকিবের সঙ্গে তামিমার বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। ২০১৬ সালে তামিমা ডিভোর্সের আবেদন করেন এবং ২০১৭ সালে ডিভোর্স হয়।

কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্যখানে। সংবাদ সম্মেলনে তামিমা যে কাগজ উপস্থাপন করেছেন, তাতে দেখা যায় ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিজে রাকিব হাসানকে ‘তালাক নোটিশ’ দিয়েছেন। অন্যদিকে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলার ডকেটে পাসপোর্টের যে নথি সংযুক্ত করেছেন রাকিবের আইনজীবী ইশরাত হাসান সেটিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে করা পাসপোর্ট ইস্যুতে স্বামীর ঘরে রাকিব হাসানের নাম ‘উল্লেখ’ করেছেন তামিমা। একই সঙ্গে ইমার্জেন্সি কন্ট্রাকেও স্বামী রাকিব হাসানের নাম উল্লেখ রয়েছে।

২০১৮ সালের ৪ মার্চ পাসপোর্টটি প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৩ মার্চ এটির মেয়াদ শেষ হবে।

পাসপোর্টের ধরণ বলছে, এটি রি-ইস্যু করা। পাসপোর্টটির বর্তমান নম্বর বিআর দিয়ে শুরু হয়ে ৫৩ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে তার পুরাতন পাসপোর্টটি বিএ দিয়ে শুরু হয়ে ১১ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কোনটি সঠিক? ডিভোর্স পেপার না কি পাসপোর্ট?

এ বিষয়ে রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশারত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, তামিমা সুলতানা আমার মক্কেল রাকিবের স্ত্রী হয়েও তাকে তালাক না দিয়ে ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়। এখানে রাকিব হাসান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং তার মানহানি হয়েছে।

এ সংক্রান্তে পাসপোর্টের কপিসহ অন্যান্য নথি আমরা মামলার ডকেটে সংযুক্ত করেছি। এসব ডকুমেন্ট আদালত বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করে আগামী ৩০ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ইশরাত হাসান আরও বলেন, মামলায় তামিমা সুলতানা তাম্মিকে এক নম্বর ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৯৪, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর সঙ্গে ১ নম্বর আসামি তামিমা সুলতানার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৩,০০,০০১ (তিন লক্ষ এক) টাকা দেনমোহর ধার্যে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর থেকে বাদী ও ১ নম্বর আসামি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে বাদীর ঔরসে ১নং আসামির গর্ভে একজন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়, যার নাম রাখা হয় তোবা হাসান, বয়স-৮ বছর। ১ নম্বর আসামি (তাম্মি) পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত। চাকরির সুবাদে তিনি গত ১০ মার্চ সৌদিতে গিয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন।

গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। নাসিরের স্ত্রীর নাম তামিমা তাম্মি। পেশায় কেবিন ক্রু। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নাসিরের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সকাল থেকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তামিমার আরেক স্বামী ও সন্তানের ছবি। রাকিব নামে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। সেই ঘরে কন্যা সন্তানের বয়স এখন নয় বছর।

নাসিরের সঙ্গে বিয়ের ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ জিডিটি করেন বলে নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস।

জিডিতে রাকিব উল্লেখ করেন, তামিমার সঙ্গে এখনো তার ডিভোর্স হয়নি। ডিভোর্স ছাড়া স্ত্রী কীভাবে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সেই প্রশ্ন তার। এজন্য স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন তিনি।

পরে জিডির কপি ও তাদের বিয়ের কাবিননামাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জিডিতে রাকিব অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় তামিমা গোপনে আরেকজনের কাছে চলে যায়। সেখানে ছয় মাস সংসারও করেন।

জিডি সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা ছয় মাস যে ছেলের সঙ্গে সংসার করেছেন ওই ছেলের নাম অলক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে এই ছেলের বিষয়েই নাসির ও রাকিবের মধ্যে কথোপকথন হয়।

শনিবার রাকিব তামিমা ও তার সম্পর্কের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তামিমাকে তিনি দুইবার বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ তামিমার জীবনে তিন স্বামী (নাসির হোসেন, অলোক ও রাকিব) এলেও বিয়ে করেছেন চারবার।

রাকিব বলেন, প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। সে আসলে আমাকে চাপ দিয়েই বিয়ে করেছিল। প্রথমে আমরা টাঙ্গাইলে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলাম। পরে আমরা বিয়ে করি বরিশালে। আমার বউকেই দুইবার বিয়ে করেছি। এরপর সংসার শুরু করি।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter