তামিম Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

tamim-20190413213355.jpg

কাছের মানুষরা বলেন, তামিম যেন প্রয়াত পিতা ইকবাল খানের কার্বন কপি। ইকবাল খান ছিলেন প্রাণখোলা স্বভাবের মানুষ। ভোজনরসিক। নিজে ভালো খেতে পছন্দ করতেন। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ  ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়েও একসঙ্গে হৈ চৈ করা এবং অতিথি আপ্যায়ন ছিল তার বিশেষ গুণ।

ছোট ছেলে তামিমও তেমনি। সেই ছেলেবেলা থেকেই ভালো খাবারের প্রতি রাজ্যের আগ্রহ তামিমের। তবে ফিটনেসের কথা ভেবে আর মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে রসনা বিলাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হচ্ছে এখন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীর চাঙ্গা ও ফুরফুরে রাখতে খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন অনেকটাই। যে বিরিয়ানি, কাচ্চি, মোরগ পোলাও, হালিম, গরু ভুনা ছিল খুব পছন্দের খাবার, আজকাল তার ধারকাছ দিয়েও যান না তেমন।

নিজে রিচ ফুড খাওয়া কমিয়ে দিলেও আপ্যায়ন, বন্ধুদের নিয়ে কোন রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া, উৎসব-পার্বণে আপ্যায়নটা এখনো আছে আগের মতই।

দেশের বাইরে জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টে তামিম রীতিমত একটা বহর নিয়ে ডিনার বা লাঞ্চ করতে যান। বেশিরভাগ জুনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে নিয়ে মজা করে একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নামি ও প্রসিদ্ধ রেস্টুরেন্টে খাবার রেকর্ডটা খুব বেশি তামিমের। সেটা দেশের মাটিতেও চলে।

এর বাইরে ঈদ-পহেলা বৈশাখ ও অন্যান্য পার্বনেও তামিম আপনজনদের আপ্যায়ন করাতে পছন্দ করেন। বন্ধু স্থানীয় অনেকেই তামিমের আতিথ্য গ্রহণও করেন। ভালো মন্দ খাবারের পাশাপাশি জমজমাট নির্মল আড্ডা হয়। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তামিম যা খুব ভালোবাসেন।

মনে হচ্ছিলো এবারো সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। যেহেতু তিনি প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন না, তাই বাংলা ১৪২৬ উদযাপনটা হবে তার ঘটা করে। চট্টগ্রামের খান পরিবারের একটা প্রজন্মের কনিষ্ঠ সদস্য পরিবার পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ এবার বেশ আনন্দ-উল্লাসে পহেলা বৈশাখ পালন করবেন।

কিন্তু জানা গেছে তার উল্টো হবে এবার। ‘আপনি তো প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন না। মাত্র দেশের বাইরে থেকে ঘুরে এলেন। এবার নিশ্চয়ই খুব উৎসব হৈ চৈ করে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন?’

কাছ থেকে শনিবার রাতে এ প্রশ্ন শুনে খানিক্ষণ চুপ থাকলেন তামিম। তারপর যা বললেন, তার সারমর্ম হলো এবারের পহেলা বৈশাখে কোনোরকম আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠতে নারাজ তিনি। তার মনে এখনো ক্রাইস্টচার্চে ঘটে যাওয়া সেই সন্ত্রাসী হামলায় অকালে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি সমবেদনা।

সেই সাথে বাংলাদেশের যে ৫ জন ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি যারপরনাই সহানুভুতিশীল তামিম। এবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তাই কোনরকম আনন্দ উল্লাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন তিনি।

তামিমের কথা, ‘প্রতিবার অনেক মজা করি। খেলা না থাকলে, ফ্রি থাকলে পরিবার ও বন্ধু আপনজনের সাথে হৈ চৈ করে কাটাই। তবে এবার পহেলা বৈশাখটা আমি সাদামাটাভাবে পালন করতে চাই। অন্যবারের মত হৈ চৈ ও ঘটা করে পালনের ইচ্ছে নেই। আর সেটা মোটেই ভালো দেখাবে না। খুব খারাপ দেখায়, খানিক অমানবিকও হবে।’

পরক্ষণেই তামিম বলেন, ‘এইতো সেদিন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আমরা হারিয়েছি আমাদের দেশের ৫জন ভাইকে। তাদের পরিবারের কি অবস্থা এখন? দেশের বাইরে প্রবাসে সন্ত্রাসী হামলায় অকালে ঝড়ে গেছে ৫০টি তরতাজা প্রাণ। তাদের আপনজনদের কান্না থামেনি এখনো। তারা প্রতিনিয়ত সেই নিহত হওয়াদের অভাববোধ করছেন। সেখানে আমরা যদি বর্ষ বরণে উচ্ছাস-উল্লাসে মেতে উঠি, সেটা কেমন দেখায়? তাই আমি কোনরকম ঘটা করে বর্ষবরণে না গিয়ে যারা মর্মান্তিকভাবে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ তাদের পরিবারের ওপর দয়া বর্ষণ করুন- এটাই আমার নববর্ষের কামনা এবার।’

35-6-2.jpg

তামিম ইকবাল যে বিশ্বকাপে খেলছেন সেটা অন্তত শতভাগ নিশ্চিত। যদি না কোনও অঘটন ঘটে। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে। দেশের জার্সিতে দেশের জন্য লড়াই করার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম তো বিশ্বকাপের এই বিশ্বমঞ্চ। কতসব দিক বিবেচনায় এনে গঠন করা হয় দল। সেই দলে না থাকার ব্যথা তো সেই বোঝে যে বাদ পড়ে যায় শেষ পর্যন্ত।

বাদ পড়ার ঘোষণা শোনা পর্যন্ত আর গেল কই। জাতীয় দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে তো দল ঘোষণার অনেক আগেই বাদ পড়ার তালিকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের অনানুষ্ঠানিক দল ঘোষণার মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে খেলার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছেন ইমরুল কায়েস।

নাজমুল হাসান এও বলেছিলেন, দলে খুব একটা চমক বা পরিবর্তন থাকছে না। গত একবছর যারা নিয়মিত খেলছেন তারাই জায়গা করে নিবেন বিশ্বকাপের দলে।

এর মানে তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনীর তালিকায় আছেন লিটন কুমার দাস আর সৌম্য সরকার। তাহলে তো ইমরুল কায়েসও অনেকগুলা ম্যাচে খেলেছেন গত এক বছরে।

ইমরুল যদি বাদ পড়েই যান শেষ পর্যন্ত তাহলে এই দুইজনের মধ্যে যে কাউকে দেখা যাবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তামিমের সঙ্গে ওপেনিং করতে।

ইমরুল কেন থাকবে না বিশ্বকাপে? এই প্রশ্নের যুক্তি-তর্ক থেমে নেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তরাও। কেননা, বিশ্বকাপ তো আর দুই বা তিন দলের সিরিজ না যে এই সিরিজে খারাপ হইছে তো পরের সিরিজে অন্য কাউকে দলে নেয়া হবে।

দেখে নেয়া যাক এই তিনজনের সবশেষ ৫টি একদিনের ম্যাচের ইনিংসগুলো-

ইমরুল কায়েস

গত বছরের অক্টোবরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দুটি শত রানের ইনিংস (১৪৪ ও ১১৫) সহ আছে ৯০ রানের একটি ইনিংস। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে ৪ আর শূন্য রানের বেশি করতে না পারায় বাদ পড়তে হয়েছিল সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে।

এছাড়াও বলতে গেলে গত বছর আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপের দলে হঠাৎ ডাক পেয়েও অর্ধশতকের ইনিংস খেলে প্রমাণ করেছিলেন নিজেকে।

লিটন কুমার দাস
দীর্ঘ সময় ধরেই তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিং করে আসছেন লিটন কুমার দাস। গত এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত শতক হাঁকানোর পর যেন চুপসে গেছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। সবশেষ ৫টি একদিনের ম্যাচের ইনিংস দেখলে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে ৮ আর ২৩ রান। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচে ১,১,১ রান।

সৌম্য সরকার
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তামিম ইকবালের নিয়মিত উদ্বোধনী সঙ্গী হয়ে ওঠা সৌম্য সরকার যেন হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলেন। নিজের দিনে যেকোনও দলকে একাই শাসন করার ক্ষমতা রাখা সৌম্য শেষ পাঁচ ইনিংসে ৬ আর ৮০ রানের ইনিংস খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এছাড়া নিউজিল্যান্ড সফরে করেছেন ৩০, ২২ আর শূন্য রান।
বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১৮ এপ্রিল।

bd3s.jpg

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নুরে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টটি। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে হামলার সময় ঘটনাস্থলের খুব কাছে ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

শনিবারের ম্যাচের আগে নিজেদের অনুশীলন শেষে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদ আল নুরের উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিলেন টাইগার ক্রিকেটাররা। মসজিদের কাছাকাছি পৌঁছতে অজ্ঞাত এক নারী হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন তামিম-মিরাজদের।

সে নারীর সতর্কবার্তা পেয়ে দ্রুতই অদূরবর্তী হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে ফেরত যায় বাংলাদেশ দলের সদস্যরা। প্রথম মাঠের ড্রেসিংরুমে এবং পরে টিম হোটেলে অবস্থান নেয় ভীতশ্রদ্ধ বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা।

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম টুইট করেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্‌ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।’

দলের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ মারি ভিল্লাভারায়েন বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দেখেনি তবে গুলির আওয়াজ শুনে হাগলি পার্ক দিয়ে মাঠে ফিরে গেছে। কোচিং স্টাফের সবাই টিম হোটেলেই ছিলেন। খেলোয়াড়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে গিয়েছেন।’

tamim-20190311150131.jpg

বৃষ্টির বাগড়ায় ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দুই দিন ভেসে গিয়েছে, খেলা হয়নি তৃতীয় দিনের শেষের ২৫ ওভারও। তবু দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির বাঁধায় খেলা বন্ধ ঘোষণা করার পর টাইগার কোচ স্টিভ রোডস জানিয়েছিলেন তিনদিনেও ম্যাচে ফল আসা সম্ভব।

ম্যাচের তৃতীয় দিন খেলা শুরু হওয়ার পর চতুর্থ দিন শেষে আসলেই ঘটতে যাচ্ছে তা। তবে সেটা বাংলাদেশের পক্ষে নয়, স্বাগতিকদের দিকে। চতুর্থ দিন শেষে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় টাইগাররা। স্বাগতিকদের নেয়ার ২২১ রানের লিডের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮০ রান।

ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনো প্রয়োজন ১৪১ রান, যা করে এগুতে হবে নিউজিল্যান্ডকে লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়ার দিকে। এজন্য হাতে রয়েছে ৭ উইকেট, মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চমদিন খেলা হবে অন্তত ৯৮ ওভার। এই ৯৮ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ বাঁচানোর কাজটা করতে হবে বাকি থাকা ব্যাটসম্যানদের।

আপাতদৃষ্টিতে ম্যাচ বাঁচানো বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব কাজ। বৃষ্টিস্নাত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করছেন টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্টরা। তাদের বিপক্ষে পঞ্চম দিনে ৯৮ ওভার কাটিয়ে দেয়াটা বেশ দূরহ বটে।

তবু আশাবাদী দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তিনি নিজে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও ভরসা রাখছেন পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের ওপর। দিনের খেলা শেষে তামিম বলেন, ‘হয়তো কঠিন, তবে ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব। আমাদের হাতে এখনো ৭ উইকেট আছে এবং রিয়াদ ভাই ও লিটন ব্যাটিংয়ে নামবেন পরে। আমি মনে করি প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারানো কিংবা সর্বোচ্চ ১টি উইকেট হারালে আমাদের কাজ সহজ হবে। তাই আমি মনে করি ম্যাচ বাঁচানো কঠিন তবে অসম্ভব নয়।’

এসময় বোলারদের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যায় তামিম বলেন, ‘ইনিংসে বেশ কিছু ওভার ছিলো যেখানে আমাদের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছে। আবার কিছু ওভার ছিলো যেখানে আশা পূরণ হয়নি। এগুলো আসলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে আছে। দলের তিন পেসার কিন্তু একদমই নতুন। অথচ আমরা যাদের বিপক্ষে খেলছি তাদের দুইজনেরই আছে আড়াইশ টেস্ট উইকেট। এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আসে। আশা করছি তারা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখবে। তারা যদি শিখতে না পারে তাহলে সমস্যা হয়ে যাবে।’

iqbal-family-1030755852.jpg

২০১৩ সালের ২২ জুন বান্ধবী আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। বিয়ের তিন বছরের মাথায় এই তারকা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় ছেলে আরহাম ইকবাল খান।

২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা তামিম-পুত্রের বয়স এখন ৩ বছর ৬ দিন। এই বয়সেই সূরা ফাতিহা শিখে ফেলেছেন তামিম-আয়েশার একমাত্র পুত্র।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে তামিমপত্নী একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জিরাফ ও রং পেন্সিল নিয়ে খেলছে আরহাম। অবশ্য শুধু খেলছেই না, আরহাম একই সঙ্গে শিখছে সূরা ফাতিহা। আর তা শেখাচ্ছেন তামিমপত্নী আয়েশা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেলেকে সূরা ফাতিহা শেখানোর সেই ভিডিও পোস্ট করে তামিমপত্নী ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আল্লাহুমা বারিক লাহু।’

ভিডিওটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তামিম-আয়েশা দম্পতিকে। সমর্থকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে সহীহ ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছেন এই দম্পতি; যা দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয় ও আদর্শ। এর আগে ছোট্ট আরহাম জায়নামাজে বসে মোনাজাত ধরার ছবিও ছড়িয়েছিল মুগ্ধতা।

tamim907.jpg

বিপিএল ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে ৬১ বলে ১৪১ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলে এই ফরম্যাটে এক রাতেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তামিম ইকবাল।

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিপিএল ফাইনালে তার এই ইনিংসটিই তার দল কুমিল্লাকে দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ দেয়। এমন ইনিংসের জন্য ফাইনালের মঞ্চে ম্যাচ সেরা হয়ে পেয়েছিলেন ১০০০ ইউএস ডলার পুরস্কার।

তবে এবার তিনি পেয়েছেন ভিন্ন আরেক পুরস্কার। ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবাইদুল করিম তামিমকে উপহার দিয়েছেন একটি সুদৃশ্য হাতঘড়ি। সেই সাথে পাঠিয়েছেন একটি বার্তাও।

রোববার নিজের ইনস্টাগ্রামে সেই ঘড়ির ছবি পোস্ট করেছেন তামিম। প্যাকেট ফিলিপের ওই ঘড়ির ছবি নিচে তামিম লিখেছেন, ‘চিঠির কথাগুলো আমাকে ছুঁয়ে গেছে, যেটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ধন্যবাদ সালমান ভাই।’

 

tamim-bg-20190208232345.jpg

তামিম ইকবাল যা খেললেন! তারপর কি আর কেউ ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কারটি দাবি করতে পারতেন! সেই উপায় আসলে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ফাইনালসেরা হিসেবে ঘোষণা হলো তামিমের নামটি, অনুমিতভাবেই।

তামিমও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিলেন, কিন্তু তার সঙ্গে এটা কে? বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তামিমের কোলে ছিল তারই ছেলে আরহাম ইকবাল। বাবার সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তের সঙ্গী হলেন তামিম জুনিয়র।

৬১ বলে হার না মানা ১৪১ রান! টি-টোয়েন্টি ফরমেটে কোনো ব্যাটসম্যানের ইনিংস এটা? তিনিও আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী আন্দ্রে রাসেল কিংবা ক্রিস গেইল নন, নন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।

তিনি বাংলাদেশের ‘বুমবুম’খ্যাত ওপেনার তামিম ইকবাল। নিজের দিনে তামিম যে কি করতে পারেন, সেটিই যেন দেখিয়ে দিলেন আরও একবার।

কতটা ভয়ংকর হলে একজন সেঞ্চুরিয়ানের ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কা বেশি হতে পারে! তামিমের ১৪১ রানের ইনিংসটিতে বাউন্ডারির মার ১০টি। আর ছক্কা? ১১টি। এটিই বিপিএলের এক ইনিংসে বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড। ২০১৬ সালে ১২২ রানের ইনিংস খেলা সাব্বির রহমান ছক্কা মেরেছিলেন ৯টি।

তামিমের এই ইনিংসটি বিপিএলের ফাইনালের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহও। মাত্র ৫ রানের জন্য ২০১৭ সালের আসরে করা ক্রিস গেইলের ১৪৬ রানকে টপকে যেতে পারেননি বাংলাদেশের এ ড্যাশিং ওপেনার।

tamim-afridi-l-20190205201624.jpg

অধিনায়কত্ব করবেন না, বিপিএল শুরুর আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুমিকা রাখবেন এবং দলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবারের বিপিএলে ফাইনাল খেলবে ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষকে এমন কথা দিয়েছিলেন তামিম। সেই কথা রাখতে পেরে দারুন রোমাঞ্চিত বাঁহাতি ওপেনার।

গতবার কুমিল্লাকে তামিমই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফাইনালে ওঠার দুটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। এবার কুমিল্লার ম্যানেজম্যান্ট ফাইনাল খেলতে উদগ্রিব ছিল। তাদের নেতৃত্ব ভাবনায় তামিমই ছিলেন। তবে তিনি চেয়েছেন নেতৃত্ব না নিয়ে নিজেকে নিংড়ে দিতে। আর একটি চাওয়া ছিল সেটা হলো বিপিএলের ফাইনাল খেলা।

সেই চাওয়া পূরণ হওয়ায় দারুন খুশি তামিম,‘ মৌসুম শুরুর আগে দলকে কথা দিয়েছিলাম, এবার আমরা ফাইনাল খেলব। আমার নিজেরও একটা লক্ষ্য ছিল। মাশরাফি ভাই চারবার জিতেছেন, সাকিব দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, রিয়াদ ভাই দুবার ফাইনাল খেলেছেন। আমারও খুব ইচ্ছা ছিল বিপিএলের ফাইনাল খেলার। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় স্টেজ তো বিপিএল ফাইনালই। কালকে জিতে ফাইনালে ওঠার পর খুব ভালো লেগেছে। অনেককেই বারবার বলেছি, আমার প্রথম ফাইনাল। আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এক মাসের টুর্নামেন্টের ক্লান্তি ভুলে গেছি, ফাইনাল খেলতে মুখিয়ে আছি।’

কুমিল্লাকে শুরুর দিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ‘নিষিদ্ধ’ অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। চোট নিয়ে তিনি ফিরে যাওয়ার পর থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরুল কায়েস। তামিম কেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে এটাকে বড় করে দেখতে চান না তিনি,‘ অধিনায়ক হওয়াই বড় কথা নয়। আমি চেষ্টা করেছি মাঠের ভেতরে ও বাইরে যতটা সম্ভব সম্পৃক্ত থাকতে, দলকে সাহায্য করতে। আপনারা সবাই জানেন, নিজের প্রস্তুতি, পারফরম্যান্স নিয়ে আমি সবসময় কতটা খুঁতখুঁতে থাকি। কিন্তু এবার নিজেকে নিয়ে ভাবিনি। ভাবনার সবটা জুড়ে কেবল ছিল দল।’

ব্যাট হাতে এখনো তামিমকে সেভাবে বড় কোনো ইনিংস খেলতে দেখা যায়নি। রান সংগ্রহের তালিকায় রয়েছেন সেরা পাঁচে। ১৩ ম্যাচে ২৭.১৬ গড়ে ৩২৬ রান, তামিমের নামের পাশে একটু বেমানান। তামিম নিজেও সেটি মানছেন। বলছেন, ‘ প্রথম দুই বিপিএলে ইনজুরিতে বেশি ম্যাচই খেলতে পারিনি। তার পর থেকে বিপিএলেও অনেক রান করেছি। এবারের পারফরম্যান্সে আমি নিজে খুব খুশি নই। তবে নিজে খুব ভালো না করলে আমার যতটা খারাপ লাগে, এবার লাগছে না কারণ দল ফাইনালে উঠেছে।

কিন্তু নিজের পারফরম্যান্সের জন্য অজুহাত দিতে চাই না। অনেকগুলো ম্যাচে খুব ভালো শুরু করেছি। কিন্তু হয়তো একটা মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইনিংস বড় করতে পারিনি। এমনিতে তিনবার শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও ৩২৬ রান, সেরা পাঁচে থাকা কিন্তু খারাপ নয়। তবে নিজের কাছে আমার যা প্রত্যাশা, সেটির কথা ভাবলে বলব ব্যর্থতাই বেশি। অন্তত ৪০০ রান করা উচিত ছিল এই সময়ে। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, বেশ কিছু ম্যাচে ভালো শুরুর পরও টানতে না পারায়, যেমনটি এমনিতে এখন আমার হয় না।’

warnma.jpg

বিপিএলের এবারের আসরে যেন বিতর্কের শেষ নেই। একটা শেস হতে না হতেই আরেকটা এসে হাজির। তেমনই এক নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে তামিম ইকবাল ও ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে। সিলেট সিক্সার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচ শেষে একপেশে জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনা হয় তামিম ইকবাল ও ডেভিড ওয়ার্নারের স্নায়ুযুদ্ধ নিয়ে।

কুমিল্লা ব্যাটিং ইনিংসের ভূমিকাতেই ফেরেন এনামুল হক বিজয়। সেই রেশ না কাটতেই তামিম ইকবালকে আউট দিয়ে দেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ চান ড্যাশিং ওপেনার। তবে টেকনিক্যাল কারণে সেই ম্যাচে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) ছিল না।

বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি তামিম। ফলে মাঠ ছেড়ে বের হতে চাচ্ছিলেন না। এসময় তাকে বের হওয়ার ইঙ্গিত করেন ডেভিড ওয়ার্নার। এতে দুজনের মধ্যে লেগে যায়। মাঠে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অবশ্য তামিম ও ওয়ার্নারের কথার লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। একপর্যায়ে নিয়তিকে মেনে নিয়ে অগত্যা সাজঘরের পথে হাঁটা ধরেন তামিম। তিনি মাঠ ছেড়ে আসার পর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ার্নার।

সেই মুহূর্তে আসলে কী হয়েছিল তা দূর থেকে দেখে বোঝা যায়নি। তাই ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি তামিমকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয়া হয়। জবাবে সবাইকে আশ্বস্ত করেন কুমিল্লা ব্যাটার। তিনি বলেন, খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খেলার মধ্যে অনেক কিছুরই উদ্ভব ঘটে। ওয়ার্নারের সঙ্গে আমার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় গুরুতর কিছু নয়।

ওয়ার্নারের সঙ্গে তামিমের কথার লড়াই এবারই প্রথম নয়। এর আগে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচে দুজনের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়।

Tamim-iqbal.jpg

এশিয়া কাপের ইনজুরির কারণে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলতে পারেননি দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও খেলতে পারেননি। এবার সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানডে সিরিজে খেলার। ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই তামিম সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার। সঙ্গে সুযোগ পাচ্ছেন দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করার।

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তামিম ১২ হাজার রান স্পর্শ করার দরজায় কড়া নাড়ছেন। সেটি তিন ফরম্যাট মিলিয়ে। ১২ হাজার রানের মাইলফলকে স্পর্শ করতে তামিমের দরকার আর মাত্র ৫৯ রান। সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেই হয়তো ছুঁয়ে ফেলবেন এই টাইগার বাঁহাতি ওপেনার।

টেস্ট ক্যারিয়ারে তামিম খেলেছেন ৫৬ ম্যাচ, ওয়ানডে খেলেছেন ১৮৩টি আর টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৭২ ম্যাচ। যেখানে যথাক্রমে তামিমের রান ৪০৪৯, ৬৩০৭ এবং ১৫৮৫। সবমিলিয়ে তামিমের নামের পাশে আছে ১১ হাজার ৯৪১ রান।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তামিমের পরে আছেন সাকিব। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার তিন ফরম্যাট মিলিয়ে করেছেন ১০ হাজার ৬৫৭ রান। এরপর আছেন মিডলঅর্ডারের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে ওঠা মুশফিকুর রহিম। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি করেছেন ১০ হাজার ৩৫০ রান। তামিম-সাকিব-মুশফিকের পর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি করেছেন ৭ হাজার ১৮৫ রান।