নরেন্দ্র মোদি Archives - 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

10-19.jpg

ভারতে বুথ ফেরত জরিপের পর শপথ নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যদিও এখনও সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হবে ভোট গণনা।

ভারতের বেশিরভাগ বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট তিন শতাধিক আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসছে। জরিপ ফলাফল প্রকাশের পর খুশির জোয়ারে ভাসছে মোদির দল বিজেপি।

মঙ্গলবার শরিক দলের নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার, শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে, শিরমণি অকালি দল নেতা প্রকাশ সিং বাদল ও সুখবীর বাদল, এলজেপি থেকে রামবিলাস ও তার ছেলে চিরাগ পাসোয়ান।

নৈশভোজের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশাল ফুলের মালা পরানো হয়। পরে শপথ নিয়ে আলোচনা করেন জোটের নেতারা। পরে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মোদি।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জিনিউজ জানায়, কমপক্ষে আটটি বুথ ফেরত জরিপে এগিয়ে এনডিএ। সেখানে বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ও অন্যরা শত চেষ্টা করলেও নরেন্দ্র মোদির আগামী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে পারছে না।

এনডিটিভি বলছে, ১৪টি এগজিট পোলের মধ্যে বারোটির হিসেবই বলছে এনডিএ পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। সংখ্যাটা ঘোরাফেরা করছে ২৮২ থেকে ৩৬৫-র মধ্যে। সমস্ত এগজিট পোলের গড় হিসেব অনুযায়ী, বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট পাবে ৩০২টি আসন এবং কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা পাবে ১২২টি আসন।

mamata-modi-1.jpg

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, আমি মোদির মতো বাথরুম উদ্বোধন করতে যাই না।

বুধবার বেশকয়েকটি সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও নামফলক কর্মসূচিতে সাঁতরাগাছির আড়ুপাড়ায় গিয়ে মমতা এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাজের চেয়ে বেশি নিজের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন বলেও অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, একসঙ্গে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করে দিলেই তো হয়। আমি মোদির মতো বাথরুম উদ্বোধন করতে যাই না। এত পাবলিসিটি কেন?

এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মমতা। এ দিন ৩০টি হেলিপ্যাডসহ একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেই সঙ্গে জানান, নবান্নের পেছনে নতুন করে তৈরি হবে স্বাস্থ্যভবন। এর জন্য তিন একর জায়গা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে ফেলেছে সরকার।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নোটবন্দির পর দেশে দু’কোটি ছেলেমেয়ে কাজ হারিয়েছে। বাংলায় সেখানে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে। কর্মসংস্থান তৈরিতে বাংলা দেশের মধ্যে সেরা। এরপরই কেন্দ্রের দিকে খোঁচা দিয়ে মমতার প্রশ্ন, কাজ করলে প্রচারের কী দরকার?

পুলওয়ামা ঘটনা নিয়ে এ দিনও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে বলেন, জওয়ানদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, গুগলে গিয়ে সার্চ করে আমার ধর্ম দেখছে। আমার ধর্ম মানবতা। মানবতা জানো? আমি দাঙ্গা করতে দেব না। কিছুতেই না।

নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমিই প্রথম বলেছিলাম নোটবন্দি খারাপ। বলেছিল বিদেশে থাকা টাকা দেশে ফেরাবে। আর নোটবন্দি করে দেশের টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। সরকারি সভা হলেও, এ দিনও নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, মোদিবাবু আর অমিত শাহবাবুর সাইনবোর্ড উঠিয়ে দেবই।

তবে বাথরুম উদ্বোধন নিয়ে মোদির বিরুদ্ধে মমতার মন্তব্য নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের বাংলার এক শীর্ষ নেতার কথায়, আপনারা কেউ দেখেছেন মোদি কোথাও বাথরুম উদ্বোধন করতে গিয়েছেন? কিন্তু বাংলার রাস্তাঘাটে যে কোনও বাথরুমেও এ রাজ্যের মানুষ মমতার অনুপ্রেরণা দেখতে পান।

modi09.jpg

সন্ত্রাসবাদের জন্য কাশ্মীরের তরুণরা নানা ভোগান্তিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তাদেরকে আমাদের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কাশ্মীরিরা অমরনাথ মন্দিরকে দেখভাল করে রাখে। এক বছর আগে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাশ্মীরের মুসলিম জনগণই লাইন ধরে রক্ত দিয়ে আক্রান্তদের ( হিন্দু তীর্থযাত্রীদের) জীবন বাঁচিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের লড়াই কাশ্মীরের জন্য, কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা কাশ্মীরি ভাইবোনদের সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্তি দিতে লড়াই করছি। রোববার দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপির একটি র‌্যালি শেষে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোদি বলেন, কাশ্মীরি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের ভুক্তভোগী হয়েছে, এখন তাদের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমর্থন দেয়া।

মোদি বলেন, আমরা যদি যুদ্ধে বিজয়ী হতে চাই তাহলে ভুল করলে চলবে না। একজন সন্ত্রাসী শুধুই সন্ত্রাসী, এই সন্ত্রাসবাদের জন্যই কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে। ভারতের বিগত সরকারগুলো (কাশ্মীর নিয়ে) যে বীজ বপন করেছিল সেই স্বপ্নপূরণ করবে বর্তমান সরকার।

মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ। আমরা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দমন করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আমরা ভারতকে বাঁচাতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব। ভারত এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে কোনো ধরণের যন্ত্রণা সহ্য করা হবে না। আমরা জানি কীভাবে সন্ত্রাসবাদকে উচিত শিক্ষা দিতে হয়। এটাই আমাদের ভারতের নতুন নীতি।

modi.jpg

বিজেপির সময় ভালো যাচ্ছে না। সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির চরম পরাজয়ের পর দলের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। বিজেপি টের পেয়ে গেছে যে তাদের জনপ্রিয়তা কমছে।

পাঁচ রাজ্যের মধ্যে তিনটি বড় রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। এবার সেখানকার হাল ধরেছে কংগ্রেস।

বিজেপির শরিক দলের নেতারাও মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাওয়া এখন স্তিমিত হয়ে আসছে। মানুষ মোদির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

বিজেপি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো ফের ঝড় তুলে ক্ষমতায় যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ দলের অন্দরেই বিতর্ক আছে। ফলে, এখন যে হাওয়া বইছে, তাতে বিজেপির ফের ক্ষমতায় যাওয়া কঠিনই হবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম বলছে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক শিবসেনা আগেভাগেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে লোকসভা নির্বাচনে লড়বে না। শিবসেনা এককভাবে লড়বে।

শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র কার্যনির্বাহী সম্পাদক সঞ্জয় রাউত বলেছেন, এবার বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ বদলাক।

সঞ্জয় রাউতের কথা, এবারের নির্বাচনে যদি বিজেপি এককভাবে বা এনডিএ এককভাবে সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় আসন না পায় এবং পার্লামেন্ট যদি ত্রিশঙ্কু হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে বিজেপি নেতা ও বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নিতীন গড়কড়ির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসতে পারে। কারণ, বিজেপিতে তিনি এখনো একজন আদর্শ নেতা। তাঁর সঙ্গে বিজেপির চালিকা শক্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ভালো সম্পর্কও রয়েছে। এ ছাড়া তিনি এখন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই শিবসেনা মনে করে, মোদির পর যোগ্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নিতীন গড়কড়ি।

সঞ্জয় রাউত এমন কথাও বলেছেন, এ বছরের লোকসভা নির্বাচনে যদি ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হয়, সে জন্য দায়ী থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদিই।

সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, ২০১৪ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। কিন্তু বিজেপি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, দিন দিন বিজেপির জনপ্রিয়তা কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিতীন গড়কড়ির প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ, আরএসএস রামমন্দির নির্মাণের জন্য আইন করার পরামর্শ দিলেও মোদি সেই পথে না হেঁটে আদালতের রায়ের আশায় দিন গুনছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে আরএসএস। এ কারণে মোদির ওপর এখন আস্থা হারাতে বসেছে তাঁরই শরিকেরা।

নিতীন গড়কড়িও বলেছেন, পাঁচ রাজ্যে পরাজয়ের ভার নিতে হবে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে।

যদিও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ তাঁর ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের নেতৃত্বের ওপর।

আবার উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা ও আরএসএস ঘনিষ্ঠ গৌতম দাবি করেছেন, যোগী আদিত্যনাথকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। তাঁর স্থলে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করা হোক রাজনাথ সিংকে। আর ভারতের উপপ্রধানমন্ত্রী করা হোক নিতীন গড়কড়িকে।

অন্দর মহলের খবর, প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে নিতীন গড়কড়ির সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও।

bibek.jpg

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন বিবেক অবরয়। বলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে এবার দেখা যাবে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চরিত্রে।  ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ ছবিটি মোদির জীবনের উত্থান ও সফরের নানা দিক নিয়ে নির্মিত।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) ২৩ ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির ফার্স্টলুক পোস্টার। পোস্টারে নরেন্দ্র মোদি রূপে দেখা যাচ্ছে বিবেক অবরয়কে।

এদিন এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফদনাবিস পোস্টার উন্মুক্ত করেন। এছাড়া বিবেক তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ফার্স্টলুক শেয়ার করেন।

সর্বশেষ ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি’ সিনেমাতে অভিনয় করেন বিবেক। ছবিটি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই মুক্তি পায়। এরপর তাকে আর বলিউডের সিনেমায় দেখা যায়নি।

modi.jpg

ভারতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপির। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে লোকসভা নির্বাচন। তাই পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশের তিন দিনের মাথায় লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্যোগী হয়েছেন দলের বুথ পর্যায়কে মজবুত করতে।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন কেরালার কয়েকটি বুথের কর্মীদের সঙ্গে। এ সময় এক কর্মী তার নামে জয় ধ্বনি দিলে, তাকে থামিয়ে তিনি (মোদী) বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর জয় নয়, বলুন ভারতমাতার জয়।’

কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা শুনলে তারাও আমাদের কথা শুনবে, মানুষের কথা বুঝতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে।’

বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই কর্মীদের জয়ধ্বনি বেশ উপভোগ করতেন মোদী। কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি একই রকম ছিল।

কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পরই সুর বদলে গেছে। দলীয় নেতৃত্বও বুঝতে পারছেন, দলের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই তাদের ক্ষোভ দূর করতে উদ্যোগী হয়েছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি নিজেই।

Berlin-Wall-Fell.jpg

পাকিস্তান সীমান্তে কারতারপুর সাহিব করিডোর তৈরি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে ভারতের মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দেয়া হয়। পরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই করিডোরকে জার্মানির বার্লিন ওয়ালের পতনের সঙ্গে তুলনা করেন বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

১৯৮৯ সালে ভেঙে ফেলার আগ পর্যন্ত দুই জার্মানিকে বিভক্ত করে রেখেছিল ওই ওয়াল। বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলা সম্ভব হলে প্রস্তাবিত কারতারপুর করিডোরও ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন মোদি। ‘কেউ কি কখনও ভেবেছিল বার্লিনের দেয়াল ভাঙ্গা হবে? গুরু নানক দেবের আশীর্বাদে এই কারতারপুর করিডোরও হয়তো দু’দেশের মানুষের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করবে,’ দিল্লিতে গুরুপুরব উৎসবে অংশ নেয়ার সময় বলেন তিনি।

শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক প্রয়াত হন ১৫৩৯ সালে। প্রয়াণের আগে ১৮ বছর কারতারপুর সাহিবে ছিলেন তিনি। সে কারণেই কারতারপুর সাহিব শিখদের তীর্থস্থান। বর্তমানে এটি পাকিস্তানের পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার মধ্যে পড়েছে।

বহুদিন ধরেই ভারতের পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার ডেরা বাবা নানকের সঙ্গে কারতারপুর সাহিবকে একটি করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল শিখরা। ২০১৯ সালে গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কারতারপুর করিডোর খুলে দিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান সরকার। ১৯৬১ সালে নির্মিত বার্লিন ওয়াল ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে ভেঙে সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী জার্মানি একত্রিত হয়ে বর্তমান জার্মানির রুপ নেয়।

shrrs.jpg

ভারতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক অঞ্চলের নাম পরিবর্তনের হিড়িক পড়েছে। হিন্দুত্ববাদকে আঁকড়ে রাখতে এবং  সামনের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদকে আরও বেশি প্রচারে রাখার জন্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কাজ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশে শুরু হওয়া জায়গার নাম বদলের নয়া ট্রেন্ড এবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলেও শুরু হয়েছে। হায়দ্রবাদের নাম পাল্টে ভাগ্যনগর করার দাবি জানালেন তেলঙ্গানার এক বিজেপি নেতা। তার দাবি, মুসলিম শাসকেরাই এই শহরের নাম ভাগ্যনগর থেকে হায়দ্রবাদ করে দিয়েছিলেন।

আগামী ৭ ডিসেম্বরর তেলঙ্গানা বিধানসভায় নির্বাচন। দক্ষিণের এই রাজ্যে লড়াই এবার ত্রিমুখী। বিধানসভার দখল নিতে মরিয়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোট, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) এবং বিজেপি- এই তিনটি শক্তিই।  অনেকটা উত্তর প্রদেশের ধারা অনুসরণ করেই, ভোটের আগে তেলেঙ্গানাতেও নাম বদলের ইস্যু সামনে নিয়ে এল বিজেপি । আর এই প্রচারে তারা হাতিয়ার করল হায়দ্রবাদকেই।

তেলঙ্গানা বিজেপির অন্যতম নেতা রাজা সিং-এর দাবি, ষোড়শ শতাব্দীতে কুতুব শাহী নবাবেরাই এই শহরের নাম পাল্টে হায়দ্রবাদ করে দিয়েছিলেন। তার আগে দক্ষিণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের নাম ছিল ভাগ্যনগর। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রধান লক্ষ্যই হবে এই শহরের নাম পাল্টে ফের ভাগ্যনগর করে দেয়া।

অবশ্য শুধু হায়দ্রবাদই নয়, বিজেপির নজরে আছে সেকেন্দারবাদ এবং করিমনগরের মতো আরও বেশ কয়েকটি জায়গাও। ক্ষমতায় এলে একে একে সব বদলে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

শুধু তেলঙ্গানা বা উত্তর প্রদেশ নয়, ভারত জুড়েই এখন চলছে নাম বদলে দেয়ার ট্রেন্ড। উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর এলাহাবাদের নাম বদল করে রাখা হয় প্রয়াগরাজ। ফৈজাবাদ হয়েছে অযোধ্যা। গুজরাটের আহমেদাবাদের নাম বদলে কর্ণাবতী করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। আগ্রা শহরের নামও আগ্রাভন করার দাবি উঠেছে ইতিমধ্যেই। সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন এবার হায়দ্রবাদ।

ram-mandir.jpg

ভারতের  উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের ইস্যুটি আবারো সামনে আনছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন যে অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরির পরিকল্পনায় এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের ভেতরে স্থাপন করা সেই মূর্তিটিই ভবিষ্যতে অযোধ্যার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া ফৈজাবাদ শহরে নাম বদল করে অযোধ্যা রেখেছেন তিনি। একইসাথে ঘোষণা করেছেন রামচন্দ্রের নামে বিমানবন্দর হবে আর মেডিক্যাল কলেজ হবে রামচন্দ্রের পিতা দশরথের নামে। এমন ঘোষণার একদিন পর বুধবার তিনি ঘোষণা দেন- অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হবে, যেখানে থাকবে রামের একটি বিশালাকার মূর্তি।

তবে এটি বিতর্কিত ভূমিতে না হয়ে নতুন কোনো জায়গায় হতে পারে বলেই আভাস দিয়েছেন তিনি।   প্রায় তিনদশক আগে থেকে বাবরি মসজিদের চত্বরেই রাম মন্দির তৈরি করতে হবে, এই দাবী তুলে এসেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

এ বিষয়টি এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মনে করা হয়েছিল হয়ত দ্রুত সেই মামলার শুনানি শুরু করে দেবে শীর্ষ আদালত, কিন্তু জানুয়ারির আগে তার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একদিকে, অন্যদিক সাধু-সন্তরা নতুন করে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে আসছেন।

কেন রামমন্দির ইস্যুকে এখন নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো? এমন  প্রশ্নের জবাবে ওপার বাংলার এক সাংবাদিক জানান, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে ভারতের একজন ত্রাতা হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু চারবছর পরে দেখা যাচ্ছে বলার মতো সেরকম কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার হাতে নেই। সেজন্যই এতদিন পরে রামমন্দির ইস্যুকে তারা তুলে নিয়ে আসছে। যাতে সাধু-সন্ত, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ- সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় হিন্দু ভোট একত্র করা যায়।‘

গত সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির প্রচারের মূল স্লোগান ছিল উন্নয়ন। ক্ষমতায় আসার পরেও দীর্ঘ চার বছরের বেশী সময় ধরে মোদী এবং তার সরকারের মন্ত্রীরাও সেই উন্নয়নের কথাই বলে গেছেন। কিন্তু এতদিন পরে উন্নয়নের স্লোগান ছেড়ে কেন আবার সেই মন্দিরের ইস্যু তুলে আনছে বিজেপি- তার ব্যাখ্যা দিয়ে দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন,  ‘মূল উদ্দেশ্য লোকসভার ভোট। মোদি যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপরে খুব জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি ভাল নয়। সেজন্যই পুরনো, পরিচিত এবং পরীক্ষিত পথে হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের বৈতরণী পেরুতে চাইছেন।’

কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বিমল শঙ্কর নন্দ অবশ্য মনে করেন অযোধ্যা এবং রামমন্দির বহুদিন ধরেই বিজেপির মূল ইস্যু। সেই ইস্যু থেকে সরে এলে যেমন নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই এটা বিরোধী দলগুলি যেভাবে জাতপাতের রাজনীতি করছে নানা রাজ্যে, তারই পাল্টা হিসাবে ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল বিজেপির। কিছুটা পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার পরও যে ফের রামমন্দির ইস্যু প্রচারে নিয়ে আসা হচ্ছে নির্বাচনের দিকে নজর রেখে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে দ্বিমত নেই। সূত্র: বিবিসি

modi8.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ব্রাজিলের ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারকে, মিয়ানমারের গোল্ডেন জায়ান্ট আর চীনের গডেস ইন দ্য সি ভাস্কর্যকে পেছনে ফেলে বিশ্বের উঁচু ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারতে। ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ নামের এই ভাস্কর্যটি গুজরাট রাজ্যের নর্মদা জেলায় নর্মদা নদীর তীরে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামী সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের অবয়বে ৫৯৭ ফুট উঁচু ভাস্কর্যটি উন্মোচন হয়েছে গত ৩১ অক্টোবর। স্থানীয়ভাবে একতা মূর্তি নামে পরিচিত এ ভাস্কর্য নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। ভারতবাসীর গর্বের জন্য স্থাপন করে এ ভাস্কর্যটি এখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এখন গলার কাটা হয়ে উঠেছে।

ভাস্কর্যটি নিয়ে নির্মাণের আগেই মোদি সরকার ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে, আর উদ্বোধনের সময় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে কাঁপানো হয় দেশ। ভারতীয়দের গর্বের জন্য এই ‘একতা মূর্তি’ গড়ে এখন তোপের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। কারণ উন্নয়ণ তহবিল থেকে মোটা অংকের টাকা ব্যয় হয়ে গেছে সর্বোচ্চ উচ্চতার এই মূর্তি গড়ে। গর্বের বদলে এখন এই ভাস্কর্য না বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে আর কী কী করা যেত- তা নিয়ে দেশটির সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে হয়েছে ‘চুলচেরা’ আলোচনা।

জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে আলোচনা-সমালোচনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পৌঁছেছে। ব্রিটিশ এমপিরা অভিযোগ তুলেছেন, ব্রিটেনের জনগণের করের টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয় ভারতের গরীব মানুষের জন্যে। ভারত সেই টাকা ভাস্কর্য বানিয়ে খরচ করছে। ভারত যদি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভাস্কর্য বানাতে পারে, তবে ভারতের তো ব্রিটেনের অনুদান দরকার নেই। সুতরাং ভারতকে অনুদান দেওয়া বন্ধ করা হোক। উল্লেখ, গত কয়েক বছরে ব্রিটেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে ভারতকে।

এছাড়া ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীন জটিলতা তীব্র হয়ে উঠছে। গুজরাট রাজ্যের নর্মদা জেলার নর্মদা নদীতে বাঁধ দিয়ে সর্দার সরোবরে ভাস্কর্য বানানোর ফলে উদ্বাস্তু হওয়া আদিবাসীদের ঠিক মতো পুর্নবাসন না করার অভিযোগ সামনে উঠে আসছে। আর সেই সরোবরে বাঁধ দিয়ে বানানো হয়েছে ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাস্কর্য। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মহাত্মা গান্ধির আগে তার শিষ্য প্যাটেলের মূর্তি কেনো!

পদ্মভূষণ খেতারপ্রাপ্ত ৯৩ বছর বয়সী স্থাপত্যশিল্পী রামবন সুতার এর নকশায় তৈরি হওয়া ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৮২ মিটার যা একটি ৬০ তলা দালানের সমান। এখন এটিই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য। এটি তৈরি করতে ১৮ হাজার ৫০০ টন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৪ সালে এটি তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় চার হাজার ব্যক্তি প্রায় চার বছর পরিশ্রম করে ব্রোঞ্জের এই ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন। সর্দার সরোবরে বাঁধ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে এটি।

এখন ভাস্কর্য হিসেবে উচ্চতার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের ‘বসন্ত মন্দিরের বুদ্ধ মূর্তি’-টি। এর উচ্চতা ১৭৭ মিটারের একটু বেশি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপানের উশিকু দাইবুৎসু বুদ্ধ মূর্তিটি। এর উচ্চতা ১০০ মিটার। আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আমেরিকার বিখ্যাত ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ যার উচ্চতা ৯৩ মিটার।

সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ নামের বল্লভভাই প্যাটেল ভাস্কর্য তৈরির এই টাকায় দেশটির কৃষিক্ষেত্রের চেহারা বদলে দেওয়া যেতো। কৃষি প্রধান দেশটিতে এ টাকায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা যেতো। ১৬২টি ছোট সেচ প্রকল্প মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হত। তৈরি করা যেতো ৪২৫টি ছোট বাঁধ।

এ টাকায় ঢেলে সাজানো যেতো ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও। বানানো যেতো দুটি নতুন আইআইটি ক্যাম্পাস। একটা আইআইটি তৈরির খরচ প্রায় ১,১৬৭ কোটি টাকা। কিংবা বানানো যেত দুটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের (এইমস) ক্যাম্পাস। কারণ একটি ‘এইমস’ তৈরিতে খরচ প্রায় ১,১০৩ কোটি টাকা। একটি আইআইএম ক্যাম্পাস তৈরির খরচ প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা। ভাস্কর্য বানানোর টাকায় পাঁচটি নতুন আইআইএম ক্যাম্পাস তৈরি করা যেতো।

নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে আনা যেতে পারতো পরিবর্তনের জোয়ার। প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি নতুন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করা যেতো এই টাকায়। যেখানে একটি তৈরিতে খরচ প্রায় ৫২৮ কোটি টাকা।

ভারতের মহাকাশ গবেষণায় অভাবনীয় উন্নতি করার সুযোগ ছিলো এই টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে। কেননা, নেই খরচে চালানো যেতো ছয়টি মঙ্গল অভিযান। একটি অভিযানের খরচ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। একটি চন্দ্রাভিযানের খরচ মোটামুটি ৮০০ কোটি টাকা। তাই অনায়াসে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর অধীনে তিনটি চন্দ্রাভিযানও করা যেতো এই ভাস্কর্য তৈরির টাকায়।

বল্লভভাই প্যাটেলের ভাস্কর্য উন্মোচনকে ঘিরে নর্মদা জেলার আদিবাসী গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। আদিবাসী নেতাদের মতে, একটা সুযোগ এসেছে আদিবাসীদের একজোট হওয়ার। গুজরাত তো বটেই, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান রাজ্যে যেখানে যতো আদিবাসী গ্রাম রয়েছে, সেখান থেকে আরএসএস-বিজেপি-র সব ধ্যানধারণাকে নির্মূল করে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তারা। ক্ষুব্ধ স্থানীয় আদিবাসী ও কৃষকদের একটি অংশ বলছেন, ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না, চাষের পানি নেই- অথচ বিপুল অর্থ খরচ করে এই ভাস্কর্য বানানো হল।

ভাস্কর্যটির ব্রোঞ্জের পাতগুলো তৈরি হয়েছে চীনে এবং প্রায় ৩০০ চীনা কর্মী দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। ভারতীয় গরীব মানুষের প্রাপ্য অর্থ ভাস্কর্যের পেছনে খরচ করলেও, যা বানানোর সক্ষমতা ভারতের নেই। এনিয়ে রসিকতাও চলছে।